Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভূতুড়ে কাণ্ড

    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প16 Mins Read0

    ভূতুড়ে কাণ্ড

    যে কাজ যুক্তি দিয়ে বোঝানো যায় না, কিংবা যে কাজ আশ্চর্যজনকভাবে ঘটে যায়, তাকে আমরা বলি ভূতুড়ে কাণ্ড। আবার ভূতরা নিজে যে কাজ করে তাকে তো ভূতুড়ে কাণ্ড বলেই।

    আমাদের পরিবারে এমনই এক ভূতুড়ে কাণ্ড ঘটেছিল। পরীক্ষা দিয়ে মামার বাড়ি বেড়াতে গেছি। দিদিমা আর মামাদের আদরের সঙ্গে প্রচুর আম, জাম, জামরুল খাচ্ছি। তোফা আনন্দে সময় কাটাচ্ছি।

    তিন মামা। বড়ো মামা রেল অফিসে কাজ করতেন। বউ ছেলেমেয়ে নিয়ে শহরের বাসাবাড়িতে থাকতেন। মাসে একবার বাড়িতে আসতেন।

    তিনি মেজো মামাকে তারই অফিসে চাকরি করে দেবার কথা বলেছিলেন। কিন্তু মেজো মামা রাজি নন। ছেলেবেলা থেকে মেজো মামা একটু ভিন্ন প্রকৃতির। সব ব্যাপারে বেপরোয়া।

    তিনি বলেছিলেন, ‘চাকরি বাকরি আমার ধাতে পোষাবে না। আমি স্বাধীন ব্যাবসা করব।’

    তা মেজো মামা স্বাধীন ব্যাবসাই শুরু করেছিলেন। পাঁচ মাইল দূরের মাছের ভেড়ি থেকে মাছ কিনে গঞ্জের হাটে ব্যাপারীদের কাছে সেই মাছ বিক্রি করত। পরিশ্রমের কাজ, কিন্তু ভালো টাকাই হাতে থাকত।

    ছোটো মামা কিছু করত না। মামাদের চাষবাসের জমি দেখত আর অবসর সময়ে জাল দিয়ে পাখি ধরত, কাঠি দিয়ে খাঁচা করত আর তাতে পাখিগুলোকে রাখত। তবে বেশিদিন নয়। হঠাৎ একদিন খাঁচা খুলে পাখিগুলোকে উড়িয়ে দিত। এক নম্বরের খেয়ালি লোক।

    আমাদের গল্প অবশ্য মেজো মামাকে নিয়ে। গল্পই-বা বলি কেন, একেবারে আমার চোখে দেখা ঘটনা।

    মেজোমামা ভোরে উঠে সাইকেলে রওনা হয়ে যেতেন। খুব ভোরে, তখন ভালো করে আলোও ফুটত না। রাস্তাটা অনেকটা পাকা নয়। মানুষের পায়ে চলে সরু একটু রেখা। বেশ কিছুটা যাবার পর ইউনিয়ন বোর্ডের পাকা রাস্তা।

    একদিন ভোরেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। থেকে থেকে বিদ্যুতের ঝিলিক আর মেঘের গর্জন। বোঝা যাচ্ছে, একটু পরেই ঝড়জল শুরু হয়ে যাবে।

    মেঘের ডাকে আমি ভোর ভোর উঠে পড়েছি। উঠে মেজোমামার যাওয়ার তোড়জোড় দেখছি। দিদিমা বললেন, ‘ওরে, এই আবহাওয়ায় আজ না-হয় নাই বেরোলি, আকাশের অবস্থা ভালো নয়, এখনই জোর তুফান উঠছে।’

    ঝড়কে দিদিমা তুফান বলতেন।

    মেজোমামা হাসলেন। ‘তাহলে বর্ষাকালে বাড়ির বাইরে যাওয়া যায় না। আমার কাছে বর্ষাতি আছে। কোনো অসুবিধা হবে না।’

    মেজোমামা যখন বের হলেন, তখন ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি আরম্ভ হয়েছে। বাতাসও বেশ জোর। আধ ঘণ্টার মধ্যে দারুণ ঝড় উঠল। চারিদিক অন্ধকার। বাজের শব্দে কান পাতা দায়। সেইসঙ্গে তুমুল বর্ষণ। এধারে-ওধারে বড়ো বড়ো গাছ মড়মড় করে ভেঙে পড়ল কী বাড়ির চালা উড়ে গেল। ধসে পড়ল মাটির দেয়াল। দিদিমার কথাই ঠিক। তুফানই বটে!

    আমি জানলার ধারে চুপচাপ বসে প্রকৃতির তাণ্ডব দেখছি। একটু পরেই দিদিমা এসে আমার পাশে বসলেন।

    বসেই অপেক্ষা করতে লাগলেন, ‘এই দুর্যোগে বাড়ির কুকুর বেড়াল বাইরে বের হয় না, আর এত করে বারণ করা সত্ত্বেও ছেলেটা রাস্তায় বের হল!’

    সত্যিই চিন্তার কথা। এই ঝড়জলে বর্ষাতি আর মেজোমামাকে কতটুকু বাঁচাতে পারবে। হাওয়ার দাপটে সাইকেল চালানোই মুশকিল। সাইকেল থেকে নেমে যে কোনো গাছের তলায় আশ্রয় নেবেন, তাও নিরাপদ নয়। মাথার উপর গাছের ডাল ভেঙে পড়লেই হল।

    সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা ঝড়বৃষ্টি চলল। দিদিমা খাওয়াদাওয়া ছেড়ে বিছানা নিলেন। মেজোমামার নাম করে অঝোরে কান্না।

    মেজোমামা ফিরলেন রাত আটটা নাগাদ। সাইকেল নেই। হেঁটেই এসেছেন। হাঁটু পর্যন্ত কাদা। পরনের জামাকাপড় ছিন্নভিন্ন। বর্ষাতির খোঁজ নেই।

    দিদিমা মেজোমামাকে জাপটে ধরলেন। কিছুতেই ছাড়বেন না। শুধু কী জাপটে ধরা, ভেউ ভেউ করে কান্না। মেজোমামা বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘আঃ ছাড়ো! জাপটাজাপটি ভালো লাগে না। আমি মরছি নিজের জ্বালায়!’

    আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘মেজোমামা তোমার সাইকেল?’

    ‘বট গাছ চাপা পড়ে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে গেছে।’

    ‘বট গাছ চাপা!’

    ‘হ্যাঁ কাঞ্চনতলার কাছে দারুণ ঝড় উঠল। বট গাছের ডাল মড়মড় করে ভেঙে পড়ল আমার ওপর। সাইকেল চুরমার হয়ে গেল। আমি ছিটকে পড়লাম মাটির ওপর। এই দেখ না।’

    মেজোমামা চুল সরিয়ে দেখালেন। মাথার এক জায়গায় রক্ত জমে কালো হয়ে গেছে।

    তারপর থেকে মেজোমামা কেমন বদলে গেলেন। মাছের ব্যাবসা বন্ধ।

    সারাটি দিন ঘুমিয়ে কাটাতেন। রাত্রে বেরিয়ে যেতেন। কখন ফিরতেন কে জানে!

    দিদিমা অনেক বলতেন, কিন্তু মেজোমামা নির্বিকার।

    শেষকালে দিদিমার নির্দেশে আমি শুতাম মেজোমার সঙ্গে। অবশ্য আলাদা খাটে। একদিন খুব ভোরে মেজোমামার ডাকে ঘুম ভেঙে গেল।

    ‘এই, এক কাপ চা খাওয়াতে পারিস?’

    ঘরের কোণে স্টোভ ছিল, তাকের ওপর চা চিনি কাপ ডিস। আগে আগে ভোরে বের হবার সময় মেজোমামা নিজে চা করে খেতেন।

    ঘুম জড়ানো গলায় বললাম, ‘তুমি নিজে করে খাও না।’

    মেজোমামা যেন ভয় পেয়ে গেলেন, ‘না, আমি আগুনের কাছে যেতে পারব না, ভয় করে।’

    ভয় করে কথাটা মেজোমামার মুখে নতুন শুনলাম। মেজোমামা চিরকাল দুর্দান্ত প্রকৃতির। দারুণ সাহস।

    সেই দুর্ঘটনার পর থেকে মেজোমামা যেন কুঁকড়ে গেছেন। কারও সঙ্গে ভালো করে কথাও বলেন না। কেউ ডাকতে এলে বলে দেন, বল আমি বাড়িতে নেই।

    আরও আশ্চর্যের কাণ্ড, মাথার একদিকের রক্ত জমে থাকাটা একইরকম হয়ে গেল। ওষুধপত্র মালিশ কিছুতে কিছু হল না।

    অগত্যা উঠে চা তৈরি করে দিলাম। নিজেও খেলাম এক কাপ।

    আর এক রাতে এমন এক ব্যাপার ঘটল, তাতে একটু ভয়ই পেয়ে গেলাম। কদিন গুমোট গরম পড়েছে। হাতপাখা নেড়ে নেড়ে পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছি। কিছুতেই ঘুম আসছে না। বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছি।

    বহুকষ্টে যাও-বা ঘুম এল, সেটা পেঁচার কর্কশ আওয়াজে ভেঙে গেল।

    ভয় পেয়ে উঠে বসলাম। জানলা দিয়ে ঘরের মধ্যে চাঁদের আলো এসে পড়েছে। কোথাও একটু অন্ধকার নেই।

    মেজোমামার দিকে চোখ ফিরিয়েই চমকে উঠলাম। আমার মামার বাড়ির সবাই বেশ একটু খর্বকায়। মেজোমামা আবার বেঁটে।

    সেই মেজোমামাকে দেখলাম, বিরাট চেহারা। দেহ খাটের বাইরে গিয়ে পড়েছে! দুটো চোখ রগড়ে নিয়ে আবার দেখলাম একই দৃশ্য।

    খাট থেকে নেমে পালাবার চেষ্টা করতেই দৃশ্য বদলে গেল। মেজোমামা যেন নিজের সাইজে ফিরে এলেন।

    মনকে বোঝালাম, ঘুম চোখে নিশ্চয় ভুল দেখেছি। না হলে এমন ব্যাপার হতে পারে নাকি!

    একথা কাউকে কোনোদিন বলিনি, জানি কেউ বিশ্বাস করবে না।

    কিন্তু পরে যা ব্যাপার ঘটল, তাতে আমি রীতিমতো ঘাবড়ে গেলাম।

    এক রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখি, মেজোমামা বিছানায় নেই। ভাবলাম প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গেছেন এখনই ফিরবেন, কিন্তু অনেকক্ষণ কেটে গেল, মেজোমামা ফিরলেন না। উঠে পড়লাম। জানলা দিয়ে বাইরে চোখ পড়তেই বুকের রক্ত হিম হয়ে গেল। মেজোমামা রোয়াকে বসে আছেন। জানলার দিকে পিছন ফিরে। একটু দূরে গোটা দুয়েক গাছ পার হয়ে একটা জাম গাছ আছে, ছোটোমামা জাল পেতে রেখেছে পাখি ধরবার জন্যে। জালের একজায়গায় ফুটো ছিল, ছোটোমামা বোধ হয় লক্ষ করেনি। সেই ফুটো দিয়ে আটকে থাকা পাখিগুলো ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ করে বেড়িয়ে যাচ্ছে।

    মেজোমামা বসে বসেই হাত বাড়ালেন। কী বিরাট হাত! রোয়াক থেকে জাম গাছটার দূরত্ব কমপক্ষে ত্রিশ কজ দূরে তো হবেই।

    হাতটা সোজা গাছের ওপর চলে গেল। যেখানে জালের ফুটো সেখানে। মেজোমামা আঙুল দিয়ে জাল গিঁট বেঁধে দিলেন। পাখিদের পালানো বন্ধ হল।

    আমি বুকের ওপর হাত চেপেও দুপদুপ শব্দ বন্ধ করতে পারলাম না। মনে হল এখনই অজ্ঞান হয়ে যাব। কোনোরকমে কাঁপতে কাঁপতে খাটের ওপর শুয়ে পড়লাম।

    কখন ঘুমিয়ে পড়েছি, জানি না। ভোরে উঠে দেখি, মেজোমামা খাটে শুয়ে অঘোরে ঘুমোচ্ছেন। আশ্চর্য কাণ্ড, দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। কাল রাতে মেজোমামা যখন রোয়াকে বসে তখন লক্ষ করেছি দরজায় ছিটকানি।

    তাহলে মেজোমামা বাইরে গেলেন কী করে? বন্ধ দরজা দিয়ে ঘরের মধ্যেই বা কী করে ঢুকলেন? ঠিক করে ফেললাম, আর মামার বাড়ি নয়। কোনো একটা অছিলায় বাড়ি পালাব।

    এটাও কি চোখের ভুল? দু-দু-বার এরকম চোখের ভুল হতে পারে কখনো।

    দুপুর বেলা কিন্তু মত বদলে গেল। ছোটোমামা জালে আটকানো পাখিগুলো নিয়ে খাঁচায় পুরছিল। আমি বসে মসে দেখছিলাম। মেজোমামাও বসেছিলেন।

    বেশিরভাগই মনুয়া আর টুনটুনি পাখি। একটা শুধু বড়ো আকারের টিয়া। গাঢ় সবুজ রং, লাল চোখ। কিছুতেই ধরা দেবে না। ছোটোমামার হাতে ঠুকরে রক্ত বের করে দিল।

    আমি তখন দেখছিলামই, আরও একটা জিনিস লক্ষ করছিলাম, আড়চোখে দেখছিলাম উঠানে মেজোমামার ছায়া পড়েছে কিনা।

    দেখে হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। উঠানের ওপর মেজেমামার রীতিমতো ছায়া পড়েছে আর তাঁর পায়ের আঙুলগুলো একেবারে স্বাভাবিক।

    তার মানে রাত্রে নিশ্চয় আমি বিদঘুটে স্বপ্ন দেখেছি। পেট গরম হলে যা হয়। পেট ঠান্ডা করার জন্য রোজ সকালে একটা করে ডাব খেতে হবে।

    আর বাড়ি ফিরে যাওয়ার বিপদও আছে। এখানে দিব্যি হেসেখেলে বেড়াচ্ছি, আর ওখানে বাবা রোজ পাঁচ পাতা হাতের লেখা আর দশটা অঙ্ক কষাবে।

    বেশ কিছুদিন অলৌকিক কিছু চোখে পড়ল না। বুঝতে পারলাম নিজের ভয়ের বিকৃত রূপটাই দেখেছি।

    মেজোমামা যে মাছের ব্যাবসা ছেড়ে দিয়েছেন তাতে দিদিমা খুব খুশি। তাঁর দুশ্চিন্তার অবসান হয়েছে। কিন্তু আমি ভাবি মেজোমামার চলবে কী করে! একদিন জিজ্ঞাসাই করে ফেললাম, ‘হ্যাঁ মেজোমামা, তুমি যে মাছের ব্যাবসা ছেড়ে দিলে, কী হবে?’

    মেজোমামা চুল আঁচড়াচ্ছিলেন, ফিরে বললেন, ‘কেন? তোর অসুবিধাটা কী হচ্ছে?’

    মুশকিলে পড়ে গেলাম। সামনে গিয়ে বললাম, ‘না, অসুবিধা আর কী! আগে তুমি মাঝে মাঝে বড়ো বড়ো মাছ আনতে—’

    আমাকে থামিয়ে দিয়ে মেজোমামা বললেন, ‘ও, এই কথা। তোকে আজই বড়ো মাছ খাওয়াচ্ছি।’ মেজমামা বেরিয়ে গেলেন। ফিরলেন, হাতে একটা প্রকাণ্ড রুই মাছ নিয়ে।

    আমি তো অবাক।

    ‘হ্যাঁ, মেজোমামা, এর মধ্যে এত বড়ো মাছ পেলে কোথায়?’

    মেজোমামা হাসলেন, ‘একজন জেলের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। মাছের ঝুড়ি নিয়ে হাটে যাচ্ছিল। আমার তো সবই চেনা, বলতেই দিয়ে দিল।’

    দিদিমার আনন্দ আর ধরে না। বঁটি নিয়ে এসেই মাছ কুটতে বসলেন। আমি কাছে দাঁড়িয়ে রইলাম।

    রোজ ছাই-রঙা একটা উটকো বিড়াল এ বাড়িতে আসত। আহারের সন্ধানে। সেদিনও সে এসে হাজির।

    বঁটির পাশে আঁশের স্তূপ। বেড়ালটা এগিয়ে এসে আঁশে মুখ দিয়েই বিকট স্বরে ম্যাও করে উঠল। অস্বাভাবিক স্বর। কেউ যেন তার গলা টিপে ধরেছে।

    তারপর ল্যাজটা খাড়া করে সোজা পাঁচিলের ওপর গিয়ে উঠল। দিদিমাও ব্যাপারটা লক্ষ করেছিলেন।

    তিনি বললেন, ‘বেড়ালটার কী হল বলতো? ওভাবে চেঁচিয়ে উঠল। গলায় কাঁটা ফুটল না কি?’

    কিন্তু আমি স্পষ্ট দেখেছি বেড়ালটা একটা আঁশও মুখে তোলেনি। খাওয়া তো দূরের কথা। কেবল শুঁকেই ওইরকম চিৎকার করে উঠল। সব ব্যাপারটা কেমন যেন অদ্ভুত মনে হয়েছিল।

    এমনকী, দিদিমা যখন একটা কলাপাতায় বড়ো মাছের টুকরো ভেজে আমাকে খেতে ডাকলেন তখন একটু ইতস্তত করেছিলাম।

    তারপর মনে সাহস এনে মাছের টুকরো মুখে দিয়ে আশ্বস্ত হয়েছিলাম। না, কোনো গোলমেলে ব্যাপার নেই। দিব্যি সুস্বাদু মাছ।

    কত অল্পেতে আমরা ভয় পেয়ে যাই। বেড়ালটার ওভাবে চিৎকার করে ওঠার হাজার কারণ থাকতে পারে।

    তবে সেদিন থেকে বেড়ালটাকে আর ধারে-কাছে দেখতে পাই না। বোধ হয় অন্য বাড়িতে আস্তানা গেড়েছে।

    এতদিন কথাটা দিদিমা কিংবা ছোটোমামাকে বলিনি কারণ প্রথমত, সব ব্যাপারটা নিজেই ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারিনি। হয়তো আমারই চোখের ভুল কিংবা ভয়ের ছায়াটা রূপ ধরে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল।

    দ্বিতীয়ত, প্রয়োজন হলে এই অলৌকিক কাণ্ড যে কাউকে দেখাতে পারব, এমন সম্ভাবনা কম।

    তা ছাড়া দিদিমাকে নিজের ছেলের সম্বন্ধে কী করে এসব কথা বলি!

    তবে আমি মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলাম আর একবার বীভৎস দৃশ্য চোখে পড়লেই মামার বাড়ি থেকে পালাব। এখানে আদরযত্নের লোভে তো আর বেঘোরে প্রাণ দিতে পারি না।

    বেশ কিছুদিন সব স্বাভাবিক। কোথাও কোনো গোলমাল হল না। মেজোমামা অবশ্য মাছের ব্যবসায়ে আর গেলেন না। বাড়িতেও বিশেষ থাকতেন না। কোথায় কোথায় ঘুরে বেড়াতেন কে জানে!

    দিদিমা জিজ্ঞাসা করলে বলতেন, ‘একটা কিছু করবার চেষ্টায় আছি। কতদিন আর চুপচাপ বসে থাকব।’

    তারপরই অঘটন ঘটল। মাঝরাতে বাথরুমে যাবার প্রয়োজনে বাইরে বেরিয়ে দেখি, ছোটোমামা রোয়াকের এককোণে দাঁড়িয়ে। একেবারে পাথরের মূর্তির মতন নিস্পন্দ, নিশ্চল।

    আমি কাছে যেতেই আঙুল দিয়ে বাগানের দিকে দেখাল। যা দেখলাম তাতে আমার মাথা ঘুরে গেল।

    একটা গাছের ডালে মেজোমামা পা ঝুলিয়ে বসে। মেজোমামা মানে মুখটা মেজোমামার কিন্তু দেহটা বিরাট! মাথাটা প্রায় গাছের মগডালে ঠেকেছে। পা দুটো মাটির অল্প ওপরে।

    কী খেয়ে খেয়ে বাগানের দিকে ছুড়ে ফেলছেন। একটা ছিটকে এসে রোয়াকের ওপর পড়তে নীচু হয়ে দেখেই চমকে উঠলাম। রক্তমাখা হাড়ের টুকরো!

    সমস্ত শরীর থরথর করে কেঁপে উঠল। মনে হল এখনই বুঝি অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়ব। ছোটোমামা আমার অবস্থাটা বুঝতে পেরে আমার হাতটা শক্ত করে ধরে ঘরের মধ্যে নিয়ে এসেছিল।

    তারপর দিন পনেরো কী হয়েছে আমি জানি না। দারুণ জ্বরে আমি প্রায় বেহুঁশ। দিদিমা চেয়েছিলেন আমার বাবাকে খবর দিতে, কিন্তু ছোটোমামা অনেক বুঝিয়ে তাঁকে নিরস্ত করেছিল। ছোটোমামা বলেছিল, শুধু ভয় পেয়ে আমার এই জ্বর। ডাক্তারেরও তাই মত। এর মধ্যে বাবাকে টেনে নিয়ে এলে আমার ব্যাপারটা তাঁকে জানাতে হবে।

    স্বাভাবিকভাবেই কথাটা বাবা বিশ্বাস করবেন, এটা আশা করা যায় না।

    অথচ তার পরের দিন সকালে দিদিমার পোষা ছাগলটা নিখোঁজ, খুঁজতে খুঁজতে বাগানের মধ্যে তার ছিন্ন মুণ্ডটা পাওয়া গিয়েছিল। চারদিকে রক্তমাখা যেসব হাড়ের টুকরো পাওয়া গেল সেগুলো যে ছাগলেরই হাড় সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

    কিন্তু এমন কথা কে বিশ্বাস করবে? বিশেষ করে শহরের লোক।

    মেজোমামা নাকি আশ্চর্যজনকভাবে শান্ত হয়ে গিয়েছিলেন। হাঁটুর ওপর মাথাটা রেখে চুপচাপ বসে থাকতেন ঘরের মধ্যে। হাজার ডাকে সাড়া দিতেন না। খেতে ডাকলে রুক্ষকণ্ঠে উত্তর দিতেন, খিদে নেই শরীর খারাপ।

    দিদিমা যে মেজোমামাকে এত ভালোবাসতেন, সেই দিদিমা ছোটোমামার কাছে সব শুনে মেজোমামার ধারে-কাছে ঘেঁষতে চাইলেন না।

    আমি যখন সেরে উঠলাম, তখন ব্যাপারটা অনেক দূর এগিয়েছে।

    শোবার ব্যবস্থা পালটে গেছে। একঘরে আমরা তিনজন শুতাম। একপাশে দিদিমা, অন্যপাশে ছোটোমামা, মাঝখানে আমি। সারারাত ঘরে আলো জ্বলত।

    ছোটোমামা দরজার ভিতর থেকে ডবল তালা লাগিয়ে দিত। আমরা সবাই জানতাম অলৌকিক শক্তির পক্ষে এ তালা কোনো বাধাই নয়, কিন্তু তবু বারণ করতে পারিনি।

    ছোটোমামা আর আমি ওই দৃশ্য দেখার পর, আমি আগে যা দেখেছি সব দিদিমা আর ছোটোমামাকে বলেছি। ছোটোমামা বলল, ‘কথাটা আগেই তোমার বলা উচিত ছিল, তাহলে আরও আগে ব্যবস্থা নিতে পারতাম।’ কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তাও ছোটোমামা বলল।

    বদনপুর এখান থেকে আড়াই মাইল। সেখানকার ভৈরব রোজা খুবই বিখ্যাত। তার খড়মের আওয়াজে ভূতপ্রেত থরথর করে কাঁপে।

    তাকে পাওয়া খুবই মুশকিল। লোকের ডাকে প্রায়ই ভিনগাঁয়ে চলে যায় আর দক্ষিণাও এক মুঠো টাকা।

    দিদিমাকে ছোটোমামা অনেক কষ্টে রাজি করাল। দিদিমা সব বুঝেও একটু ইতস্তত করলেন। হাজার হোক ছেলে তো।

    ছোটোমামা বোঝাল, ‘বেশ তো, ভৈরব রোজা এলেই সব বোঝা যাবে।’

    খুব ভোরে ছোটোমামা বেরিয়ে পড়ল। বদনপুরে ভৈরবকে যদি না পাওয়া যায়, তাহলে অন্য গাঁ থেকে তাকে ধরে আনতে হবে।

    ছোটোমামা যখন বের হল তখন মেজোমামা বাড়ি ছিলেন না। আধঘণ্টা পরে কোথা থেকে ফিরে এলেন।

    চেহারা দেখে মনে হল অনেক দূর থেকে যেন ছুটতে ছুটতে আসছেন। হাঁটু পর্যন্ত কাদা, সারা দেহ ঘামে ভিজে গেছে। তাড়াতাড়ি আসতে গিয়ে ফতুয়াটা গাছের ডালে লেগে ছিঁড়ে গেছে।

    দিদিমা রোয়াকে বসে তরকারি কুটছিলেন। আমি পাশে বসেছিলাম।

    মেজোমামা সামনে এসে দাঁড়ালেন। ঠোঁটের দু-পাশে ফেনা। লাল চোখ পাকিয়ে দিদিমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ছোনে কোথায় গেছে?’

    ছোনে ছোটোমামার ডাকনাম।

    আমার বুকের দুপদাপ শব্দ আমি স্পষ্ট শুনতে পেলাম। ভয় হল অবশ হয়ে বঁটির ওপর না পড়ে যাই!

    দিদিমা কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন, ‘নিজের কী-একটা দরকারে গেছে!’

    ‘নিজের দরকারে না ছাই!’ মেজোমামা দাঁত কিড়মিড় করে উত্তর দিলেন, ‘ভাই তো নয়, শত্রুর শত্রুর, আচ্ছা ঠিক আছে।’

    কথাগুলো বলেই মেজোমামা জোরে জোরে পা ফেলে বাড়ির চারপাশে ঘুরতে লাগলেন, দুটো হাত পিছনে, কেবল মাথা নাড়ছেন, থুতু ফেলছেন আর ঘুরছেন।

    ব্যাপারটা দেখে দিদিমা আর সাহস পেলেন না। আমার হাত ধরে ঘরের মধ্যে ঢুকে দরজায় খিল তুলে দিলেন।

    দিদিমার দিকে চেয়ে দেখি তাঁর দু-চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। তাঁর মনের কথাটা বুঝতে পারলাম।

    যতক্ষণ মেজোমামা বাড়ির চারদিকে ঘুরতে লাগলেন, ততক্ষণ আমি আর দিদিমা ঘরের এককোণে চুপচাপ বসে রইলাম।

    কিছুক্ষণ পর মেজোমামাকে আর দেখা গেল না। দিদিমা উঠে জানলা দিয়ে দেখে যখন নিঃসন্দেহ হলেন যে মেজোমামা ধারে-কাছে কোথাও নেই, তখন আমাকে খেতে দিলেন।

    নিজে কিছু খেলেন না। ছোটোমামা এলে একসঙ্গে খাবেন।

    আমি খাব কী! তখনও শরীর থরথর করে কাঁপছে। মনে হচ্ছে কিছু খেলেই বমি হয়ে যাবে। মনে মনে ঠিক করে ফেললাম, কোনোরকমে আজকের রাতটা কাটিয়ে কাল সকালেই বাড়ি রওনা হব। এখানে এভাবে ভয়ে কুঁকড়ে থাকলে শীঘ্রই শক্ত অসুখে পড়ে যাব।

    ছোটোমামা ফিরল বেলা আড়াইটা নাগাদ। সাইকেল-রিকশায়। সঙ্গে ভৈরব রোজা।

    আমি জানলা দিয়ে দেখতে লাগলাম।

    ভৈরবের পরনে লাল টকটকে কাপড়। গায়ে কোনো জামা নেই। গলায় অনেকগুলো রুদ্রাক্ষের মালা। দু-হাতে রুদ্রাক্ষের তাগা। লাল দুটি চোখ। কপালে সিঁদুরের ফোটা। ঝাঁকড়া পাকা চুল কাঁধ পর্যন্ত এসে পড়েছে।

    ভৈরব নেমে ঢুকতে গিয়েই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। বাতাসে কী যেন শুঁকল তারপর ছোটোমামার দিকে ফিরে বলল, ‘কেউ গৃহবন্ধন করেছে।’

    ছোটোমামা অবাক।

    ‘গৃহবন্ধন কী?’

    ‘কেউ মন্ত্র পড়ে গৃহবন্ধন করে দেয়, তাতে এই গৃহের মধ্যে কোনো কাজকর্ম করলে তা ফল দেয় না।’

    ‘কে এ কাজ করবে?’

    ‘যাকে তাড়াতে চাও সেই করবে।’

    ‘কিন্তু তার পক্ষে তো কিছু জানা সম্ভব নয়!’

    ছোটোমামার কথায় ভৈরব খুব জোরে হেসে উঠল।

    ‘প্রেতাত্মার পক্ষে সবকিছু জানতে পারাই সম্ভব। মানুষের চেয়ে তারা অনেক বেশি শক্তির অধিকারী হয়।’

    ‘তাহলে উপায়?’

    ‘উপায় আছে বই কী! তুমি আগে সাইকেল-রিকশাকে বিদায় করো।’

    ছোটোমামা সাইকেল-রিকশার ভাড়া মিটিয়ে দিল। ভৈরব পাশে রাখা ঝোলা থেকে একটি মাটির সরা বের করল। তার ওপর চারটে পাকা লঙ্কা, একমুঠো সরষে, কতকগুলো কুশের ডগা রাখল। তারপর রাস্তার ওপরই বসে পড়ে বিড়বিড় করে মন্ত্র পড়তে লাগল।

    মন্ত্র পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই লঙ্কা, সরষে আর কুশের ডকা আমাদের বাড়ির দিকে ছুড়তে লাগল।

    পিছনে নিশ্বাসের শব্দ হতে ফিরে দেখলাম দিদিমা এসে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর চোখে তখনও জল।

    আধ ঘণ্টা পরে ভৈরব উঠে দাঁড়াল। ‘ঠিক আছে। এবার বাড়ির মধ্যে চলো।’

    ভৈরবের কাণ্ডকারখানা দেখে ইতিমধ্যেই রাস্তার ওপর গাঁয়ের কিছু লোক জড়ো হয়েছিল। ভৈরবের পিছনে তারা বাড়ির মধ্যে এসে ঢুকল। উঠানে মাটি দিয়ে বেদি করা হল। তাতে কাঠ, শুকনো ডালপালা দিয়ে আগুন জ্বালানো হল। ভৈরব সেই অগ্নিকুণ্ড প্রদক্ষিণ করতে করতে মাঝে মাঝে কাঠি করে ঘি ছিটিয়ে দিতে লাগল। সঙ্গে সঙ্গে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠতে থাকল।

    ততক্ষণে সাহস পেয়ে আমি রোয়াকে গিয়ে বসেছি। দিদিমা আমার পাশে। ছোটোমামা ভৈরবের কাছে। তার ফাইফরমাশ খাটছে।

    আধ ঘণ্টা কিছু হল না। সব নিস্তব্ধ। শুধু ভৈরবের রুক্ষ গলায় মন্ত্র পাঠের শব্দ শোনা গেল। হিং টিং ছট— অদ্ভুত ভাষা।

    আমি তখন ভাবতে শুরু করেছি যে সবটাই বুজরুকি, তখন হঠাৎ শোঁ শোঁ আওয়াজ। ঠিক অনেক দূর থেকে ঝড় এলে যেমন হয়।

    পশ্চিমদিকের গাছপালাগুলো ভীষণভাবে দুলতে লাগল। গাছের ডালে বসা কাকের দল চিৎকার করে আকাশে পাক খেতে লাগল।

    একটু পরেই গাছপালার পিছন থেকে মেজোমামা এসে হাজির। দুটি চোখ বনবন করে ঘুরছে, ফুলে উঠেছে নাকের পাটা। মুখে একটা মুরগি। বেচারি মরণযন্ত্রণায় পাখা ছটফট করছে! মেজোমামার দু-কষ বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে!

    মেজোমার সেই মূর্তি দেখে আমি ভয়ে দিদিমাকে জড়িয়ে ধরলাম। দেখলাম উত্তেজনায় দিদিমাও ঠকঠক করে কাঁপছে।

    মেজোমামা এসে দাঁড়াতে ভৈরবেরও চেহারা বদলে গেল। সে আরও জোরে জোরে মন্ত্র পড়তে লাগল। আগুনে মুঠো মুঠো কী ফেললে, তাতে আগুন আরও দাউদাউ করে জ্বলে উঠল।

    মেজোমামা এগোতে পারল না। গাম গাছের তলা পর্যন্ত এসে দাঁড়িয়ে পড়লেন। বিশ্রীভাবে ভৈরবকে গালাগাল দিতে লাগলেন। আধ-খাওয়া মুরগিটা ছুড়ে দিল তার দিকে। মুরগিটা এসে পড়ল আগুনের মধ্যে।

    ‘কে তুই?’ ভৈরব চেঁচিয়ে উঠল।

    ‘আমি দয়াল বাঁড়ুজ্জে!’ মেজোমামা আরও চিৎকার করে বললেন।

    ‘না, তুই দয়াল নস। ঠিক করে বল, কে তুই?’

    দয়াল বাঁড়ুজ্জে মেজোমামার নাম। ডাকনাম টোনা।

    ‘বলব না।’

    মেজোমামার সে কী গর্জন! ঠোঁটের দু-পাশে ফেনা এসে জমল।

    ‘বলবি না? আচ্ছা দেখি বলিস কিনা?’ ভৈরব পাশে পড়ে থাকা ঝাঁটাটা তুলে নিয়ে ঘটের ওপর মারতে লাগল। সঙ্গে সঙ্গে মেজোমামা আর্তনাদ করে উঠলেন। মনে হল ঝাঁটার প্রত্যেকটা ঘা যেন তাঁর দেহেই পড়ছে।

    ‘বলছি, বলছি, আর মারিসনি!’

    মেজোমামা গাছতলায় বসে পড়লেন।

    ‘বল।’ ভৈরব ঝাঁটা আছড়ানো শব্দ করল।

    ‘আমি মহিন্দর ডোম।’

    ভৈরব দিদিমার দিকে চোখ ফেরাল, ‘চেনেন মহিন্দর ডোমকে।’

    দিদিমা একটু ভেবে নিয়ে বললেন, ‘আমি কখনো দেখিনি। বাবার কাছে শুনেছি মহিন্দর পুজোর সময় ঢাক বাজাত। বিষয় সম্পত্তি নিয়ে শরিকদের সঙ্গে গণ্ডগোল হওয়াতে তারা পিছন দিক থেকে মাথায় লাঠি মেরে লোকটাকে শেষ করে দিয়েছে।’

    মেজোমামা আর বলব না। মহিন্দরই বলি। মহিন্দর চুপচাপ সব শুনল। দিদিমার কথা শেষ হতে বলল, ‘মাঠাকরুন ঠিক বলেছেন। শিবে আমার মাথায় লাঠি মেরেছিল। আমিও শোধ নিয়েছি। শিবের গুষ্টির ঘাড় মটকে পগারে ফেলে দিয়েছি। ওর বংশে বাতি দিতে আর কেউ নেই।’

    ‘তুই দয়ালের দেহে এলি কী করে?’

    ‘সেদিন খুব ঝড়জলের সময় দয়াল সাইকেল চেপে বট গাছের তলা দিয়ে যাচ্ছিল। ওটাই আমার আস্তানা। হঠাৎ মোটা একটা ডাল ভেঙে দয়ালের মাথার ওপর। দয়াল খতম। তার সাইকেল চিঁড়েচ্যাপটা। আমি দেখলাম এমন সুযোগ আর পাব না। অমাবস্যায় বামুনের মড়া। অনেক বছর দেহহীন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। সুড় সুড় করে ঢুকে পড়লাম।’

    ‘এ দেহ তোকে ছাড়তে হবে।’ ভৈরব বলল।

    ‘মাথা খারাপ! আমি ছাড়ব না!’

    ‘তবে রে!’

    আবার ঘটের ওপর ঝাঁটার আছড়ানি।

    মাটির ওপর গড়াগড়ি দিয়ে মহিন্দর যন্ত্রণায় কাতরাতে লাগল।

    একটু পরে বলল, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, যাব, যাব।’

    ‘কী করে বুঝব তুই গেছিস?’

    ‘কী করতে হবে বল?’

    ভৈরব এদিকে-ওদিকে দেখল। উঠানের একপাশে মরচে-ধরা একটা বরগা পড়েছিল। সেইদিকে আঙুল দেখিয়ে ভৈরব বলল, ‘ওটা দাঁতে করে তুলে নিয়ে যেতে হবে। আর একটা কথা।’

    ‘বল।’

    ‘গাঁ থেকে পঞ্চাশ মাইল দূরে চলে যেতে হবে।’

    ‘ঠিক আছে। কাসুন্দিপুরের শ্মশানে আস্তানা বাঁধব। এদিকে আর আসব না।’

    ‘যা তবে।’

    লোহার ভারী বরগা যেটা তুলতে অন্তত জন চারেক লোকের দরকার, সেটা মহিন্দর অবলীলাক্রমে দাঁতে করে তুলে নিল।

    আবার সেই ঝোড়ো হাওয়া। গাছপালার মধ্য দিয়ে বরগা নক্ষত্রবেগে কোথায় অদৃশ্য হয়ে গেল।

    এদিকে নজর পড়তে দেখলাম মেজোমামার প্রাণহীন দেহটা গাব গাছের তলায় পড়ে আছে। দেহ থেকে বিশ্রী পচা গন্ধ বের হচ্ছে।

    ভৈরব বলল, ‘এখনই দেহটা সৎকারের ব্যবস্থা করো। অনেক দিনের বাসি মড়া।’

    দুম করে একটা শব্দ। দিদিমা অজ্ঞান হয়ে রোয়াকের ওপর ঢলে পড়লেন।

    এসব অনেক দিনের কথা।

    দিদিমা কবে মারা গেছেন। মামারাও কেউ বেঁচে নেই। মামাতো ভাইবোনেরা কে কোথায় ছিটকে পড়েছে খবর রাখি না।

    আমারও বেশ বয়স হয়েছে।

    খুব ঝড় জল শুরু হলে সব ঘটনাটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

    মাঝে মাঝে মনে হয় সত্যিই এসব অবিশ্বাস্য ব্যাপার ঘটেছিল?

    কিন্তু চোখের সামনে দেখা সবকিছু অস্বীকার করি কী করে?

    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভূতচরিত
    Next Article তারানাথ তান্ত্রিকের গল্প

    Related Articles

    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    ধীরেন্দ্রলাল ধর ভৌতিক গল্প

    তান্ত্রিক

    March 13, 2025
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ভৌতিক গল্প

    হাসি

    February 26, 2025
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ভৌতিক গল্প

    রহস্য

    February 26, 2025
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ভৌতিক গল্প

    রঙ্কিনীদেবীর খড়গ

    February 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }