Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অগ্নিনিরয় – কৌশিক মজুমদার

    কৌশিক মজুমদার এক পাতা গল্প336 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নবম পরিচ্ছেদ— গণপতির বাক্স

    কাকভোরে বৃষ্টি আরম্ভ হয়েছিল। সারা সকাল একভাবে বৃষ্টি হয়ে দুপুরের দিকে একেবারে বন্ধ হয়ে গেল। কিন্তু রাস্তাঘাট জলে জলে একাকার। আকাশে জল ভরা মেঘ মুখ ভার করে রয়েছে। বেলা একটু পড়তেই গণপতি দর্জিপাড়ার দিকে পা বাড়াল। এই পথ তার হাতের তালুর মতোচেনা। কিন্তু আজ তার পা টানছে না। ভেবেছিল কোনও দিন আর এইমুখো হবে না। পালাতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দারোগা প্রিয়নাথের জন্য পালাতে পারল না। তারিণীর জন্য পালাতে পারল না। কাল হাসপাতালে সাইগারসন সাহেব তাদের যা যা বললেন, তা যদি সত্যি হয়, তবে ঘোর বিপদ। এই বিপদে পালানো চলে না। কিন্তু জেনেশুনে সাপের গর্তে হাত ঢোকানোর ফল কী হতে পারে সেটাও হাড়েহাড়ে জানা আছে তার। একটু সন্দেহ হলেই এরা শত্রুর শেষ রাখে না। সেখানে গণপতিকে ছেড়ে দেবে, ভাবাটাই হাস্যকর।

    তবে গোপন বার্তা দিয়ে তাকে যখন ডাকা হয়েছে, তখন নিশ্চিত তাদের কোনও মতলব আছে, যাতে গণপতিকে কাজে লাগতে পারে। সাহেবও সেটাই বললেন। গতকাল সবকিছু খুলে বলার পরে দারোগাবাবু আর সাহেব তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এককালে তারিণী নিজে এই কাজ করত। খোচড়ের কাজ। এই কাজ করেই ড্রিসকল সাহেবের নেকনজরে এসেছিল সে। কিন্তু গণপতি মাতাল-দাতাল মানুষ। সে কি পারবে এই কাজ করতে? এমনই নানা চিন্তা করতে করতে আনমনে পথ হেঁটে কখন চৌরাস্তা পেরিয়ে এসেছে মনে নেই। সেখানে এসে দেখল গোটা পঞ্চাশ খোট্টা বেজায় ভিড় করে এক দোতলা বাড়ির দিকে চেয়ে আছে। তাদের একদল চাতক পাখির মতো ছাদের দিকে, অন্য দল পাশেই নর্দমার দিকে তাকিয়ে। শহরে এ এক নতুন জুয়াখেলার আমদানি হয়েছে। এদের কেউ কেউ বাজি রাখে, তিন ঘণ্টার মধ্যে এমন বৃষ্টি হবে যে বাড়ির নর্দমা দিয়ে হুহু করে জল পড়বে। অন্যরা এর উলটোটা বলে। বাজির দর দুই আনা থেকে পাঁচশো টাকা অবধি ওঠে। এবার দুই দলই ট্যাঁকঘড়ি হাতে রাস্তা জুড়ে দাঁড়িয়ে মহা হল্লা করছে। তাদের কোনওমতে এড়িয়ে সোনাগাজির দরগা পাশে রেখে গণপতি মসজিদবাড়ি স্ট্রিটের ঠিকানায় পা বাড়াল। মেঘ গুড়গুড় করছে। বৃষ্টির আর খুব দেরি নেই। সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে ভিজে একশা হতে হবে। গণপতির হাঁফ ধরে গেল। একে দ্রুত হাঁটা, অন্যদিকে চাপা উত্তেজনা। লখনের দল কি কিছু জানতে পেরেছে? যদি পেরে থাকে, আজ তবে তার আর রেহাই নেই।

    একশো বছর আগেও সোনাগাজির দরগায় চারদিকে শ্যাওলাধরা দেওয়ালে কাক-শালিকের বাসা ছিল। এ রাস্তায় সন্ধে হতে না হতে কেবল শিয়াল কুকুর ছাড়া কারও আওয়াজ পাওয়া যেত না। এখন সেই রাস্তাতে এই বৃষ্টির দিনেও আতর, গোলাপ, ফুলেল তেল বিক্রি হচ্ছে। দোকানের সামনে ফুলুরি, চিংড়ি, তোপসে মাছ ভাছা, হাঁসের ডিম সিদ্ধ, পেঁয়াজ দিয়ে ছোলাভাজা সাজানো। দুই একটা মিঠাইয়ের দোকান-ও আছে। মিঠাইওয়ালা হাঁক পাড়ছে “মজাদার নকোলদানা, এই বেলা নে আর পাবি না” কিংবা “ক্ষীরের ছাঁচ, ক্ষীরের আঁচ, ক্ষীরপুলি চা-আ-ই।” খানদানি লম্পটরা আজ বিকেল না হতেই বিভিন্ন বাড়িতে ঢোকা শুরু করে দিয়েছে। মোড় ঘুরতেই রামকৃষ্ণ শুঁড়ির দোকান। দোকানের সামনে এক বেশ্যা মদ দিতে বলছে। আরও দুই-তিনজন ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে। শুঁড়িকে দেখেই গা ঢাকা দিয়ে অন্য পথে যাবার ধান্দায় ছিল গণপতি। শুঁড়ি সে সুযোগ দেবে কেন? গণপতিকে দেখেই হাঁক পাড়লে, “ও চক্কোত্তির পো! আজকাল এই পথে দেখি না যে বড়ো?”

    “নানা কাজে ব্যস্ত থাকি কিনা…” গণপতি এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করল।

    “অ। তার মানে কাজকম্মো জুটচে। আয় হচ্চে। ভালো ভালো। কিন্তু ভালোমানুষের পো, এই গরিব শুঁড়ির কাচে মদ খেয়ে যে গোটাগুটি সাড়ে সাত টাকা ধার করেচিলে, সেটা দিতে গেলেই বুজি পরাণে ব্যাতা লাগে? বলি টাকাটা কি পাব?” দোকানের সামনে বেশ্যারা উচ্চস্বরে অশ্লীল হাসি হেসে উঠল। যেন কতই না মজা হয়েছে। একজন আবার ছড়া কাটল-

    “কাপ্তেনগিরি কি ঝকমারি।
    কেঁদেকেঁদে শেষে চোখে পড়ে বারি”

    আবার সবাই একসঙ্গে হেসে ওঠে। গণপতি দ্রুত পা চালায়। দর্জিপাড়া পেরোতেই রাস্তা সরু হয়ে এল। এদিকে বাড়িগুলো আরও কাছাকাছি ঘেঁষা প্রায় প্রতিটি বাড়ির একতলাতেই নানা অদ্ভূত জড়িবুটি, সারসাপ্যারিলা, আর অদ্ভুত সব পেটেন্ট কেমিক্যালের দোকান। বাইরের বোর্ডে চোখ বুলালে অনায়াসেই “মদনানন্দ মোদক”, “রতিবর্ধক রসায়ন”, “শঙ্কর শক্তি সালসা”-র মতো বিচিত্র সব নাম দেখা যায়। গণপতি যে ঠিকানায় যাবে, বাস্তবে তার কোনও অস্তিত্ব নেই। ৭ নং মসজিদবাড়ি স্ট্রিটের পরের বাড়িটিই ৮ নং। ৭/১- এর সন্ধান শুধু বিশেষ কিছু লোক ছাড়া জানে না।

    ৭ নম্বরের সামনে এসে দাঁড়াতেই গণপতির ভয় করা শুরু হল। এতক্ষণ একটা ঘোরের মধ্যে ছিল। প্রথমেই যা মনে এল, তা হল গঙ্গার ঘাটে পিণ্ডারী বাবার ছিন্নভিন্ন দেহ, আর শৈলর পরিণতি। কে জানে, এই সন্ধেই তার জীবনের শেষ সন্ধে কি না!

    ইষ্টনাম জপ করে ঘরের ভিতরে ঢুকে গেল গণপতি। বাইরে আচমকা ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামল। দূরে প্রবল চিৎকারে বোঝা গেল বাজিতে জেতা খোট্টারা উল্লাসে ফেটে পড়েছে। ঘরের ভিতর এখনই এত অন্ধকার যে তেমন কিছু ঠাহর করা যায় না। দেওয়াল জুড়ে বড়োবড়ো কাঠের ক্যাবিনেট। কাচ ঢাকা। তাতে সারি সারি অদ্ভুত নামের সব বোতল সাজানো। এক বুড়ো মুসলমান ক্যাবিনেটের সামনে বড়ো কাঠের টেবিলে লণ্ঠন জ্বালিয়ে খুব নিচু হয়ে কিছু একটা পড়ছিলেন। গণপতি তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়াল। বুড়ো বই থেকে মুখ তুলে তার দিকে তাকিয়ে খুব নম্রস্বরে জিজ্ঞাসা করলেন, “জি জনাব?”

    গণপতির বুকের ধুকপুকানি যেন বাইরে থেকে শোনা যাবে। তবু সে অম্লানবদনে বলল, “আজ সন্ধেছটায় আমাকে আসতে বলা হয়েছিল।”

    বুড়োর চোখে সন্দেহ ঘনীভূত হয়।

    “আজ? কিসনেবুলায়া?”

    এবার গণপতি ফ্যাসাদে পড়ল। এর আগে এখানে সে বার দু-এক এসেছে। দুইবারই সঙ্গে শৈল ছিল। তাই ঢুকতে সমস্যা হয়নি। এই বড়োবড়ো ওষুধের আলমারি আসলে পুরোটাই ধোঁকা। পিছনে আর-একটা ঘর আছে। সেটার গোপন নামই ৭/১। গণপতি জানে। খানিক আমতা আমতা করে সোজা সেই আলমারির দিকেই আঙুল দেখিয়ে বলল, “ওই কামরায় আমাকে ডেকেছে।”

    বুড়ো মুসলমান এবার উঁচু টুল থেকে নেমে এলেন।

    “আপ কেয়া কহ রহে হ্যায়, কুছ সমঝমে নেহি আ রহা।”

    গণপতি খেয়াল করে দেখল বুড়ো লম্বায় গণপতির চেয়েও আধা হাতখানেক বড়ো। বইটা সযত্নে মুড়ে রেখে পিছনের টেবিলের ওপাশ থেকে বেরিয়ে এল সে। দাঁড়াল গণপতির ঠিক পাশটাতে। একনজরে বইটার নাম খেয়াল করল গণপতি। বটতলার মুসলমানি বই “মোক্তল হোছেন প্রণীত জঙ্গনামা।” হাজিপাড়া ঝোয়তঝরি প্রেসে ছাপা

    এই দেখাই কাল হল গণপতির। হুল ফোটার মতো তীব্র এক যন্ত্রণায় ঘাড়ের কাছটা জ্বলে যেতে লাগল। তার অন্যমনস্কতার সুযোগে ঘাড়ের কাছে সজোরে কিছু একটা ফুটিয়ে দিয়েছে লোকটা। এত দ্রুত, গণপতি নিজে জাদুকর হয়েও আন্দাজ করতে পারেনি। এখন একটা বিচ্ছিরি জ্বালাধরা ভাব ছড়িয়ে যাচ্ছে ঘাড় থেকে সারা দেহে, সঙ্গে সঙ্গে অবশ হয়ে যাচ্ছে গোটা দেহ। গণপতির চোখে গোটা ঘর যেন দুলে উঠল, বীরুৎজাতীয় উদ্ভিদের মতো সে টলেপড়ে যেতে থাকল মাটিতে। পড়েই যেত, যদি না একেবারে শেষ মুহূর্তে সেই বুড়ো তাকে সযত্নে ধরে মাটিতে শুইয়ে দিত।

    এরপর খানিকক্ষণ গণপতির কিচ্ছু মনে নেই। যখন জ্ঞান ফিরতে শুরু করল, মনে পড়ল ঠিক এমনটাই হয়েছিল তার সঙ্গে। অনেক বছর আগে। যেদিন পিণ্ডারী বাবার খুনের দিন কালঘুমে ধরেছিল। সেদিনের মতো আজকেও কানে আসছে একের পর এক গলার আওয়াজ। সেই ঘোরের মধ্যেও একটা গলা চিনতে পারল সে। নরকে গেলেও সে এই গলা ভুলবে না। লখন। লখন চেঁচিয়ে নির্দেশ দিল। গণপতি বুঝতে পারল তার হাতের শিরায় আবার একটা কিছু ফুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে। তার শিরা উপশিরায় ছড়িয়ে পড়ছে প্রচণ্ড জ্বলুনি। সারা গা দিয়ে ঘাম হচ্ছে। তারপর আচমকা যেন এক ধাক্কায় সম্পূর্ণ চেতনায় ফিরে এল গণপতি।

    একটা খালি ঘর। তাতে ইতস্তত ছড়িয়ে আছে বেশ কয়েকটা চেয়ার। ঘরে এক কোনায় টেবিলে একটা লণ্ঠন জ্বলছে। তারই হলুদ আলোতে ঘরের সবাইকে দেখা যাচ্ছে। মাঝের চেয়ারটাতে লখন নিজে বসে। বাকিগুলোতে আরও তিন-চারজন। এদের দুজন স্পষ্টতই সাহেব কিংবা অ্যাংলো। বাকিরা নেটিভ। গণপতি মাথা উঠানোর চেষ্টা করতেই লখন কেটে কেটে বলল, “কোথায় পালিয়েছিলি?”

    গণপতির মাথা ঘোরাচ্ছে। তবুও সে একটু অবাক হবার ভান করে বলল,”পালাব কোথায়? পালাইনি তো।”

    “পালাসনি? কাল মঞ্চ থেকে ভ্যানিশ হয়ে কোথায় গেছিলি? মল্লিকবাড়ি কাল সারারাত আমার লোক তোকে খুঁজেছে। পায়নি। এমনকি তুই ম্যাজিক শেষে কার্টেন কলেও আসিসনি। কোথায় গেছিলি?”

    গণপতি দেখল তার বুদ্ধি একেবারে ঠিকঠাক কাজ করছে।

    “পালাব কেন? কাল স্পেশাল শো ছিল। ওই পালিয়ে যাওয়াটাই চমক। কার্টেন কলে সেটা নষ্ট হয়ে যেত।”

    “কাল এলি না কেন? এখানে তো কাল আসার কথা ছিল।”

    এবার গণপতি যে অভিনয়টা করল, অমৃতলাল উপস্থিত থাকলে তাকে পরের নাটকে নায়কের পার্ট দিতেন। চোখ বড়োবড়ো করে বলল, “গতকাল? আসার কথা তো ছিল আজকে! সেইরকমই তো হ্যান্ডবিলে ছিল।”

    “সেইরকম ছিল? কোথায়, দেখি হ্যান্ডবিল?”

    “আমি পুড়িয়ে ফেলেছি। তুমিই তো বলেছিলে প্রমাণ রাখতে নেই।”

    লখন একটু দমে গেল।

    “তবুও, কী লেখা ছিল মনে আছে?”

    “হ্যাঁ। দুই স্তনে তিনবার করিয়া পাঁচদিন মাত্র…”

    “হ্যান্ডবিল কবে পেয়েছিলি?”

    গণপতি কড় গুণে কীসব যেন হিসেব করে। তারপর জিভ কেটে বলে, “এ হে! বড্ড ভুল হয়ে গেছে। অঙ্কে আমি বড়ো কাঁচা। একদিন এদিক ওদিক হয়ে গেছে”, হাসার চেষ্টা করল গণপতি। হাসি ফুটল না।

    “কাল কোথায় ছিলিস সারারাত?”

    “গঙ্গার ঘাটে।”

    “কোন ঘাট?”

    “আহিরীটোলা।”

    “কেন?”

    অদ্ভুত বিষন্ন গলায় গণপতি বলল, “কাল মায়ের মৃত্যুদিন ছিল। মাকে পুড়িয়ে অস্থি ওই ঘাটেই ছড়িয়ে দিয়েছিলাম। তাই মায়ের কথা খুব মনে পড়ছিল……”

    লখনের গলা যেন একটু নরম হল, “মা কত বছর হল মারা গেছেন?”

    “অনেকদিন। হিসেব নেই।”

    “শোন, যে কারণে কালকে তোকে ডাকা হয়েছিল, আগেই বলেছিলাম সংঘের কাজে ডাক পেলেই আসতে হবে। আসবি তো?”

    “অবশ্যই। দরকার হলে ম্যাজিক দেখানো ছেড়ে দেব।”

    “না না। একেবারেই না। বরং এই ম্যাজিকটাই তোকে দেখিয়ে যেতে হবে। শুনেছি ইদানীং নাকি খুব নামডাক হয়েছে তোর?” গণপতি মৃদুস্বরেজানায়, “সামান্য।”

    “তুই নাকি যে-কোনো বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারিস? মঞ্চে আত্মাকে আহ্বান করতে পারিস?”

    “তা অল্প পারি বটে।”

    বলতে না বলতে লখন চোখ দিয়ে ইশারা করতেই তিন-চারজন লোক ঝাঁপিয়ে পড়ল গণপতির উপরে। দুজন পুলিশি হ্যান্ডকাফ দিয়ে তার দুই হাত পিছমোড়া করে বেঁধে দিল। তারপর একটা কাপড় দিয়ে বেঁধে দিল মুখ। বাকি দুজন সে কিছু বোঝার আগেই তার পা দুটো মোটা দড়িতে বেঁধে ভরে দিল কাপড়ের বস্তায়। তারপর গোটা দেহ আগাগোড়া বেঁধে ছুড়ে ফেলে দিল ঘরের একদিকে অন্ধকার কোণে। লখন এতক্ষণ কিচ্ছু বলছিল না। শুধু তাকিয়ে দেখছিল। এবার বাকিদের দিকে ফিরে চোস্ত ইংরেজিতে বলল, “এই ঘরটা তালা দিয়ে বাইরে একজন দাঁড়িয়ে থাক। আমি আধঘণ্টা বাদে ফিরব। দেখি,

    যতটা শোনা যায়, সেটা সত্যি না মিথ্যে। কে থাকবে পাহারায়?” একজন রাজি হল। লখন তার সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে বেরোতে যাবে, এমন সময় গণপতির গলার আওয়াজ ভেসে এল, “কোথায় যাচ্ছ হে লখন? আমাকেও নিয়ে যাও।”

    ভূত দেখার মতো চমকে সবাই দেখল কোমরে এক হাত দিয়ে হাসিমুখে গণপতি দাঁড়িয়ে আছে। দড়িদড়া বস্তা সব পায়ের কাছে শীতের ঝরা পাতার মতো পড়ে। অন্য হাতের তর্জনীতে দুলছে তালাখোলা স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসনের আসল পুলিসি হ্যান্ডকাফ। বলা হয় এই হ্যান্ডকাফ থেকে স্বয়ং শয়তানও নাকি মুক্ত হতে পারেন না।

    এতক্ষণে লখনের মুখে হাসি ফুটল। “জিও বাচ্চা!” পিণ্ডারী বাবা এই কথাটা প্রায়ই বলত, খুব খুশি হলে।

    লখন এবার গণপতির দিকে এগিয়ে দিল একটা চেয়ার। স্থিরদৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে বলল, “তোকে যে কাজটা দেব, বড়ো কঠিন কাজ। দেবার আগে তাই পরীক্ষা করা দরকার। প্রথম পরীক্ষায় পাশ করেছিস। এবার দ্বিতীয়। তুই নাকি মঞ্চে ভূত নামাতে পারিস? কেমন করে?”

    “নামাতে হয় না। আমি নিজেই আসি গণপতির কাছে”, সবাইকে চমকে দিয়ে যেন অশরীরী কেউ কথা বলে ওঠে। ঘরের সবাই তাকায় গণপতির দিকে।

    তার ঠোঁটটুকুও কাঁপছে না। শুধু ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি। সেই অশরীরী কন্ঠ আবার বলল, “বল, কী জানতে চাস?”

    হো হো করে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল লখন। “ধুসস! এই ভেন্ট্রিলোকুইজম দিয়ে তুই লোক ভোলাস? এসবে চলবে না। সত্যিকারের ভূত নামাতে পারবি?”

    “তাও নামিয়েছি। বন্ধ ক্যাবিনেটে।”

    “ওসব নেটিভদের সঙ্গে চলে। সাহেবদের কাছে ওইসব জারিজুরি ফাঁস হয়ে যাবে। সত্যিকারের ভূত নামবে মঞ্চে চলে ফিরে বেড়াবে, কিন্তু ধরতে গেলে হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে। পারবি এমন ভূত নামাতে?”

    প্রায় মিনিট পাঁচেক চুপ করে বসে রইল গণপতি। কী যেন ভাবছে, তারপর তার চোখ জ্বলে উঠল, “পারব। তবে খরচা হবে।”

    “কীসের খরচা।”

    “একটা কাচ লাগবে। বিরাট বড়ো কাচ।” শুনেই লখন নিজেও ভাবতে শুরু করল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সমাধান এসে গেল তার মাথায়।

    “সাব্বাস”, বলে প্রায় লাফিয়ে উঠল লখন।

    “তোর হবে। তোকে দিয়েই হবে। শুধু শেষ পরীক্ষা।”

    লখনের আদেশে দ্রুত দুই-তিনজন মিলে গণপতির চোখ আবার বেঁধে দিল। তবে এবার টকটকে লাল একটা কাপড়ে। একজন তার ডান পায়ের কাপড় উঠিয়ে গার্টার দিয়ে বেঁধে দিল হাঁটুর কাছে। অন্যজন তার দুই হাত ডুবিয়ে দিল বরফঠাণ্ডা জলে। গণপতি বুঝতে পারল এবার কী হবে। না চাইলেও নীবারসপ্তক তাকে গ্রাস করতে চলেছে। অন্য সময় হলে সে হয়তো আপত্তি করত। কিন্তু সাইগারসন সাহেব যা বললেন, এর পরে সে মানা করা মানে শেষ সূত্র অবধি হাতের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া।

    গণপতি কানে শুনতে পেল, লখন বাদে বাকি সবাই মৃদু স্বরে মন্ত্রের মতো কী যেন আওড়াচ্ছে। একটু খেয়াল করতেই বুঝল একটানা এক লয়ে সবাই বলে চলেছে, “ওরিজেন ওরিজেন ওরিজেন।” জাবুলনদের উপাস্য সাধু। যে-কোনো কাজ শুরুর আগে এই ওরিজেনের নাম নিয়ে কাজ শুরু হয়। যাতে সবাই টের না পায়, তাই সাঁটে Origen-কে উলটে পালটে লেখে ignore। “ইগনোর করিবেন না।” এসব গণপতি জানে। শুধু জানে না এবার ঠিক কী হতে চলেছে।

    লখনের গলা ভেসে এল। তবে এবার আর তুই না, তুমি।

    “আজ থেকে জাবুলনদের এই ভ্রাতৃসংঘ তোমাকে আপন করে নেবে। আমাদের ঈশ্বর জাবুলনের JAH মানে স্বর্গ, আমাদের অভীষ্ট অক্ষর G। এই G থেকেই সব। Geometry, God, Grand Architect of Universe, Grand Master। হিব্রু বর্ণমালা অনুযায়ী আমাদের স্বর্গীয় সংখ্যা তাই ১০+১+৫, অর্থাৎ ১৬। আর ১ ও ৬ থেকে পাই ৭। বুঝতে পারলে হ্যাঁ বলো।”

    “হ্যাঁ”, গণপতি মাথা নাড়ল।

    “আজ থেকে আমি তোমার মাস্টার। তুমি সেটাই করবে আমি যা আদেশ করব। রাজি?”

    “রাজি।”

    “বলো হ্যাঁ, রাজি মাস্টার।”

    “হ্যাঁ, রাজি মাস্টার।”

    “তোমার পণ কী?”

    “আমার জীবন।”

    “তুমি কী দেবে?”

    “ভক্তি।”

    “যদি তাই হয় আমার কথা শোনো। আমার কাছে এসো। প্রতিবার এক পা, এক পা করে।” গণপতি এক পা এগোল।

    “এসো।”

    পা বাড়াতেই গণপতির দুই চোখে তীব্র চাপ অনুভূত হল। শক্ত লোহার সরু কিছু ঠিক চোখের পাতার উপরেই ধরা। এক পা কেন, আর এক চুল নড়লেই চোখে বিঁধে যাবে সেই শলাকা। এইসবই কি তবে তাকে ফাঁদে ফেলার উপায়? সাহেবের কথা শুনে সে ভুল করেছে। হয়তো এরা সব জানে। শৈলর মতো আগামী কাল তার দেহও পড়ে থাকবে সোনাগাজির কোনও এক আস্তাকুঁড়ে।

    “এসো”, লখনের গলার স্বর আরও কঠিন হল। গণপতি জানে ফেরার উপায় নেই। যা থাকে কপালে ভেবে পা এগিয়ে দিল সে। সঙ্গে সঙ্গে চোখের উপরের চাপ উধাও হল। চোখ থেকে কাপড় খুলে ফেলা হল। লখন তাকে জড়িয়ে ধরেছে।

    “ব্রাদারহুডে স্বাগত”, হাসিমুখে বলল লখন।

    বাকিরা আবার মৃদুস্বরে ওরিজেনের নাম জপ করছে।

    এরপর সবাই একে একে বেরিয়ে গেল। ঘরে লখন আর গণপতি। আর কেউ নেই। লখন বলল, “আমরা ব্রাদারহুডের সবাই মিলে এক চরম পরীক্ষার সামনে এসেছি। এত বছর ধরে মুক্তির যে প্রচেষ্টা আমরা চালাচ্ছিলাম, অবশেষে তার একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি সবাই। এখানেই তোমার সাহায্য লাগবে।”

    “কিন্তু কীভাবে?”

    “সব বুঝিয়ে বলব। একটু অপেক্ষা করো।”

    লখন ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। গণপতি বসে রইল। বুঝতে পারছে, আজ থেকে সে-ও ষড়যন্ত্রের অংশীদার। খানিক বাদেই লখন ঢুকল। তবে একা না। লখনের সঙ্গে যে ঢুকল তাকে গণপতি চেনে। লখন তাকে পরিচয় দিয়েছিল নিজের দিদি বলে। লাল চুল, গোলাপি ত্বকের সেই মেয়েটা আজ ইউরোপীয় গাউন পরায় তাকে একেবারে অন্যরকম লাগছে।

    ময়নার হাতে অদ্ভুত একটা বাক্স। সিসের লাইনিং দেওয়া। লখন বাক্সটা ময়নার থেকে নিয়ে গণপতির হাতে দিল।

    “কী আছে এতে?”

    “নিজেই খুলে দ্যাখো, তুমি তো বড়ো ম্যাজিশিয়ান।”

    নানাভাবে চেষ্টা করল গণপতি। বাক্সে কোনও তালাচাবি নেই। এমন বাক্স ম্যাজিকের দুনিয়ায় অনেক আছে। গণপতির কোনোটা খুলতেই এক মিনিটের বেশি লাগে না। এদিকে দশ মিনিট হয়ে গেল। ঘেমেনেয়ে গেল গণপতি। কিন্তু এই অদ্ভুত বাক্সটা কিছুতেই খুলতে পারল না।

    “পারছি না। অসম্ভব। এমন বাক্স আগে কোনও দিন দেখিনি।”

    “আমাকে দাও”, হেসে হাত বাড়াল লখন, “এই বাক্সে ভূত আছে। তোমায় দেখাচ্ছি কীভাবে এই ভূতকে পুষতে হবে।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজু – অৎসুইশি
    Next Article নীবারসপ্তক – কৌশিক মজুমদার

    Related Articles

    কৌশিক মজুমদার

    আতঙ্ক সমগ্ৰ – কৌশিক মজুমদার

    January 3, 2026
    কৌশিক মজুমদার

    নোলা : খাবারের সরস গপ্পো – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    সূর্যতামসী – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    আঁধার আখ্যান – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    নীবারসপ্তক – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }