Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অচেনা অজানা বিবেকানন্দ – শংকর

    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়) এক পাতা গল্প280 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. সন্ন্যাসীর চা পান

    সন্ন্যাসীর চা পান

    চা বনাম কফি! যেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বনাম হরিদাস পাল! তুলনার যোগ্যই নয়। কিন্তু ঢাকঢোল নিরন্তর বাজাতে পারলে একুশ শতকের বাজারে সব অসম্ভবই সম্ভব হয়ে ওঠে! যেমন ধরুন আমরা মিষ্টি দইকে ছেড়ে দিয়ে আইসক্রিমের দিকে ঝুঁকে পড়লাম এই ক’বছরে। রসনার রণাঙ্গণে স্বয়ং স্বামী বিবেকানন্দের দেশবাসীরা এমন বেরসিক কাজ কিভাবে করে ফেলেলেন তা খোঁজবার জন্যে কমিশন বসানো যেতে পারে–মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় অবসরপ্রাপ্ত বিচারকগণ হুশিয়ার!

    সারাজীবন চা-প্রেমী, আমাদের হাওড়া ইস্কুলের সিনিয়র পটলাদা সেবার আমাকে বলেছিলেন, “দূরদর্শী সাহেবরা অনেকদিন আগেই কিন্তু সাবধান করে দিয়েছেন, নিরেস জিনিস সব সময়ই সরেসকে বাজার থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। এইটাই ভবিতব্য, এইটাই গ্রেশাম সাহেবের আইন। প্রথমে তিনি টাকা সম্বন্ধে একথা বলেছিলেন, পরে দেখা গেল জীবনের সর্বক্ষেত্রে একই আইনের অমোঘ শাসন চলছে!”

    পটলাদা উঁচু ক্লাসে হাওড়া বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউশনে পড়তেন তা আপনাদের অজানা নয়। খাওয়াদাওয়া সম্বন্ধে তার যে একটু বাড়তি কৌতূহল ছিল তাও আপনারা জানেন। ইস্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পটলাদার ব্রেক ফেল করতো, নির্ধারিত কোটার একটু বেশি খেয়ে ফেলতেন; তাই ছাত্রমহলে একটু বদনামও ছড়িয়েছিল। আমার ভাবমূর্তিতেও কালিমা লেপন উচিত ছিল, কিন্তু পটলাদা বলতেন, তুই মুখুজ্যে বামুন, অতিভোজনে তোর তো জন্মগত অধিকার! মুশকিল হলো, তোর লোভ আছে কিন্তু সাহস নেই, তাই ইস্কুলের কোন অনুষ্ঠানে একাধিক প্রসাদ প্যাকেট তুই তুলে নিতে পারিস না, ফলে তোর নোলার নিবৃত্তি হয় না। আমি ক্ষত্রিয় তেজে যা প্রাণ চায় তা করে ফেলি। মাঝে মাঝে বিপদে পড়ে যাই।

    পটলাদা ও আমার মধ্যে সেই স্কুলজীবন থেকে অবিচ্ছেদ্য ভালবাসা গড়ে উঠেছিল। পটলাদা তখন থেকেই স্বামী বিবেকানন্দের জীবনের নানা দুষ্প্রাপ্য ঘটনাবলী নিয়ে খোঁজখবর করে বলতেন, এই একটা লোকই দুনিয়ার সমস্ত অনাহারী অর্ধাহারী লোকদের মুখে অন্ন তুলে দিতে ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন। পটলাদার মন্তব্য, শুধু কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ, ভক্তিযোগ এটসেটেরা নয়, মানুষটা দুনিয়ার সবাইকে খাওয়াতে ভালবাসতেন। পটলাদাই আমাকে বলেছিলেন, এ-সংসারের কিছু স্বার্থপর লোক চিরকাল কণ্ঠা-থেকে কুঁচকি পর্যন্ত খাবারে বোঝাই করেছে, কিন্তু ভুলেও অপরের খিদের কথা একটু ভাবেনি।

    পটলাদার শব্দ প্রয়োগে একটু কর্কশভাব রয়েছে বলতে গিয়ে ধাক্কা খেলাম। পটলাদাই জানালেন, কণ্ঠা-থেকে কুঁচকি শব্দটি স্বামী বিবেকানন্দই সানন্দে সৃষ্টি করেছেন।

    বিমুগ্ধ আমি পটলাদাকে যে নোট বই উপহার দিয়েছিলাম, সেই বইতেই বহু বছর নিষ্ঠার সঙ্গে ধরে তিনি ভোজন, অতিভোজন ও অনাহার সম্বন্ধে নানা তথ্য সংগ্রহ করে যাচ্ছেন।

    অনাহার ও অর্ধাহার সম্বন্ধে ভাবনা-চিন্তা করে অর্থনীতিতে নোবেল পাওয়ার জন্য আমাদের সমবয়সী একজন ভারতীয় যে সেই পঞ্চাশের মন্বন্তর থেকে কাজ করে যাচ্ছেন তা জানা থাকলে পটলাদা কোনোসময়ে তার নোটবইটা অমর্ত্য সেনের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতেন। অসুবিধাও ছিলো না, কারণ স্বয়ং পটালাদাও ভাগ্যচক্রে এন আর আই হয়েছেন, নিজের এবং পরিবারের অন্নসমস্যার সমাধান করেছেন, কিন্তু বিবেকানন্দের খাওয়া-দাওয়া এবং খাওয়ানো দাওয়ানো সম্পর্কে নানা তথ্য তিলে তিলে ইউরোপে, আমেরিকায় এবং ভারতীয় উপমহাদেশে সংগ্রহ করে চলেছেন।

    পটলাদা মাঝে মাঝে অল্প সময়ের জন্য বিদেশ থেকে হাওড়ায় এসে আমার সঙ্গে ভাব বিনিময় অব্যাহত রেখেছে। ইদানীং তিনি লক্ষ্য করেছেন রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সন্ন্যাসীরা উদার হস্তে অতিথিদের চা-পানে আপ্যায়িত করেন। তার থেকেই পটলাদার সাজেশন, “আমাদের চা এবং চায়ের আমরা–এবিষয়ে আমিও একটু মাথা ঘামাই।”

    উত্তম প্রস্তাব। উনিশ ও বিশ শতকের শ্রেষ্ঠ বাঙালিরা প্রায় সবাই চা বলতে অজ্ঞান, এমন কি যাঁরা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে ‘চা-পান না বিষপান’ এই প্রশ্ন তুলতে বাধ্য হয়েছে তারাও প্রাণভরে চা খেতে থেকে তাদের চা বিরোধী বক্তব্য পেশ করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ও বিবেকানন্দ দুজনেই চা-পান থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করেছেন, যদিও দু’জনের চানুরাগের মধ্যে তাদের নিজস্ব ব্যক্তিত্বের ছাপ রেখে গিয়েছেন। চাইনিজ চা, জাপানী চা, ভারতীয় চা ইত্যাদির সমন্বয়ের মধ্যে বিশ্বকবি তাঁর বিশ্বপথিকের দৃষ্টিভঙ্গি অক্ষত রেখেছেন আর স্বামী বিবেকানন্দের কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতার কারণ, তিনি যথেষ্ট চা-কে মাদকাশক্তির কালিমা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। মুক্তিসন্ধানী সন্ন্যাসীদের কাছেও কোনোক্রমে নিষিদ্ধ পানীয় নয় এই চা। যদিও এ বিষয়ে উচ্চতম স্তরে সরসিকতা করেছেন রামকৃষ্ণানুরাগী মহাকবি গিরিশচন্দ্র ঘোষ। নিজের পানাসক্তির দুর্বলতাকে লুকিয়ে না রেখে তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, বিশ্ব সংসারে ‘মোদোমাতাল’-এর মতো ‘চেয়োমাতাল’ও আছেন অনেক। বিবেকানন্দ-ভ্রাতা দার্শনিক ও সুরসিক মহেন্দ্রনাথ দত্ত নিজেকে চেয়োমাতাল বলে মেনে নিতে লজ্জাবোধ করেননি।

    শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ লীলাপ্রসঙ্গের যশস্বী লেখক স্বামী সারদানন্দ ছিলেন চায়ের প্রবল ভক্ত। চায়ে টান না থাকলে অত শক্ত শক্ত বিষয় নিয়ে অমন জলের মতো সহজ বই লেখা যায় না।

    বিবেকানন্দ-ভ্রাতা মহেন্দ্রনাথ একবার সারদানন্দকে প্রশ্ন করেছিলেন, “তুমি এতো চা খেতে শিখলে কোথা থেকে?”

    এবার একটি বৃহৎ বিস্ফোরণ। স্বামী সারদানন্দের উত্তর: “তোমার ভাইয়ের পাল্লায় পড়ে। তোমাদের বাড়িতে যে চায়ের রেওয়াজ ছিল সেইটা বরাহনগর মঠে ঢুকিয়ে দিলে, আর আমাদের চাখোর করে তুললে। তোমরা হচ্ছে একটা নার্কটিকের ফ্যামিলি।”

    মহেন্দ্রনাথের জন্ম ১৮৬৮ সালে। তার লেখা থেকেই দেখা যাচ্ছে, বঙ্গ জীবনের অঙ্গ হিসেবে চায়ের স্বীকৃতি মাত্র সেদিনের। “আমরা যখন খুব শিশু তখন একরকম জিনিস শোনা গেল–চা, সেটা নিরেট কী পাতলা কখনও দেখা হয়নি। আমাদের বাড়িতে তখন আমার কাকীর প্রসব হইলে তাহাকে একদিন ঔষধ হিসেবে চা খাওয়ানো হইল। একটি কালো মিসে (কেটলী) মুখে একটি নল দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর তার ভিতর কুঁচো পাতার মোন কি দিলে, গরম জল দিলে, তারপর ঢাললো। একটু দুধ চিনি দিয়ে খেলো।” মহেন্দ্রনাথ এরপরই জানিয়ে দিয়েছে তখন চীন থেকে চা আসতো, “ভারতবর্ষে তখন চা হয়নি।”

    পটলাদা বললেন, “শেষ কথাটা ঠিক সত্যি নয়। কারণ আমরা এর আগেই দেখেছি কলকাতার দূরদর্শী বাঙালি ব্যবসায়ীরা এবং স্বয়ং প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর এর আগেই চায়ের ব্যবসার জন্যে বিখ্যাত আসাম কোম্পানির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। একদা ভুবনবিদিত এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠা ১৮২০ সালে। আরও দেখা যাচ্ছে, স্বয়ং বিবেকানন্দর বয়স যখন এক তখন এদেশ থেকে তিরিশ লক্ষ পাউন্ড মূল্যের চা লন্ডনের মিনসিং লেনের নীলামে বিক্রির জন্য পাঠানো হচ্ছে।

    তবে মহেন্দ্রনাথ যা বলেছেন, প্রথম পর্বে এদেশের সব চা ছিল দেবভোগ্য, অতএব তাদের গন্তব্যস্থল সোজাসুজি লন্ডনের মিনসিং লেনে।”

    চায়ের গল্পে বাড়তি চিনি মেশালেন পটলাদা। বললেন, নরেন্দ্রনাথ যে অল্পয়বয়সে পাকা চাখোর হয়ে উঠছেন তার সাক্ষীও মহেন্দ্রনাথ। দ্যাখ, বড়দা একবার নিলামে ফিরিঙ্গিপাড়া থেকে পাঁচ আনা দিয়ে কেটলি কিনে আনলো। উপরটা কালিঝুলি মাখা, যেন অচ্ছেদ্দা, অবহেলার জিনিস। ওমা, ভুসোগুলো চাচতে চঁচতে দেখি, ভিতরটা খাঁটি রুপো।”

    যখন নরেন্দ্রনাথের পিতৃবিয়োগের পর পরিবারে প্রবল অর্থাভাব তখনও দত্তবাড়িতে আমরা চায়ের মস্ত ভূমিকা দেখতে পাচ্ছি!– বন্ধু কালী (পরে স্বামী অভেদানন্দ)-কে নিয়ে রামতনু বসু লেনের বাড়িতে এসেছেন নরেন্দ্রনাথ। অভাবের সংসার, কিছু খাওয়ার সুযোগ জুটলো না। এদিকে প্রবল ঠাণ্ডা। গভীর রাতে ক্ষুধার তাড়নায় এবং শীতে

    অতিথির প্রাণ ওষ্ঠাগত। তখন নরেন্দ্রনাথ শীত ও ক্ষুধাকে একই সঙ্গে বিতাড়নের জন্য কোথা থেকে কেটলি যোগাড় করে এনে চা বানালেন, তখনকার মতন সঙ্কট কাটলো। মনে রাখতে হবে তখন এল পি জি বা বিদ্যুৎ কোনটাই কলকাতায় আসেনি, সুতরাং মাঝরাতে চা বানানো খুব সহজ ব্যাপার ছিল না।

    পটলাদা চা নিয়ে যে বিশেষ গবেষণা চালিয়েছে তাতে কিছু বিশেষ খবরও পাওয়া যাচ্ছে। পরবর্তীকালে স্বামী সারদানন্দ বলছেন, “ওহে! শিবরাত্রির উপোস করে আমাদের চা খেতে কোনও দোষ নেই। কেন জান?”

    যেদিন কাশীপুরে শ্রীরামকৃষ্ণের দেহত্যাগ হয় (১৮৮৬, ১৬ আগস্ট) সকলেই বিষণ্ণ, খাওয়া-দাওয়া কিছু হলো না। কেই বা উনুন জ্বালে? আর কেই বা রান্না করে। অবশেষে দরমা জ্বালিয়ে কেটলি করে জল গরম করে চা করা হলো, আর ঢকঢক করে খাওয়া গেলো। অমন শোকের দেহত্যাগের দিনেও চা খেয়েছিলুম তো শিবরাত্রির সামান্য উপোস করে চা কেন খাওয়া চলবে না বলো?”

    পটলাদা বললেন, “গয়া থেকে ফিরে স্বামীজির এক গুরুভাই চা-কে এমনই গুরুত্ব দিয়েছিলেন যে, চা দিয়ে তর্পণ করলে কেমন হয় তার এক্সপেরিমেন্টও করেছিলেন। স্বয়ং স্বামীজির পাশে বসে বরানগরে স্বামী শিবানন্দ মন্ত্রপাঠ করলেন, অনেন চায়েন।”

    কিন্তু প্রশ্ন উঠলো চা স্ত্রীলিঙ্গ কিনা? সেক্ষেত্রে তো বলা উচিত, অনয়া চায়য়া!

    বরানগরে ভাত জুটুক না জুটুক ত্যাগী সন্ন্যাসীদের চা খাওয়ার ধুম ছিল, গুঁড়ো চা কিছুটা সবসময় থাকতো, আর ছিল তলায় খুরো দেওয়া কয়েকটা গোল চীনামাটির বাটি। তখনকার কাপে আজকের কাপের মতন হাতল থাকতো না, এটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে!

    আর একজন সন্ন্যাসী পরিব্রাজক আসাম ভ্রমণে বেরিয়ে চায়ের নতুন গুণাবলী আবিষ্কার করেছিলেন। “আমরা যেমন ভাতের সঙ্গে ঝোল খাই, তেমন কোথাও কোথাও ঝোলের বদলে ভাতের সঙ্গে চা মেশায়।”

    আর এক পরিব্রাজক সন্ন্যাসী আরও দুঃসাহসী হয়ে তিব্বতে গিয়েছিলেন। তিব্বতীরা চা নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। তারা একটি হাঁড়িতে জল দেয়, তাতে ব্রিক-টি বা জমাট করা চা খানিকটা ফেলে দেয়। তারপর শুকনো মাংসের গুঁড়ো দেয়, তারপর ছড়িয়ে দেয় ছাতু। সবটা টগবগ করে ফুটলে দেয় মাখন। ভারি রসিক জাত এই তিব্বতী, হাড়ে হাড়ে বুঝেছে চায়ের কদর, তাই সর্বদা সঙ্গে রাখে একটা গরম করার পাত্র, যার নাম ‘সামবার। খানদানি তিব্বতী যেখানে বসবে সেখানে একটু চা তৈরি হবেই।

    এতো সব অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেও চায়ের কাহিনী যে শেষ হয় না তা আমরা দেখতে পাচ্ছি লন্ডনে স্বামী বিবেকানন্দের জীবনযাত্রার মধ্যে। সময় ১৮৯৬ সাল, বিবেকানন্দের সঙ্গে লন্ডনে দেখা হয়ে গেল ভ্রাতা মহেন্দ্রনাথের। তিনি ওখানে হঠাৎ গিয়েছেন ব্যারিস্টারি পড়বার বাসনা নিয়ে।

    উনিশ শতকের শেষ দশকে বিলেতে সাহেব-মেমদের চা-বিলাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য এবং অত্যন্ত উপাদেয় বর্ণনা আমরা মহেন্দ্রনাথের কলম থেকে পেয়েছি।

    বিবেকানন্দ তখন বিশিষ্ট সাহেবদের আতিথ্যে বেলা চারটার সময় চা খেয়ে নানা আলাপ-আলোচনায় মগ্ন হতেন।

    মহেন্দ্রনাথ, স্বামীজির ক্ষিপ্রলিপিকার গুডউইন, ফক্স ও স্বামী সারদানন্দ একদিন সাড়ে চারটের সময় চা-পানে বসলেন। “বাটিতে একজন বুড়ি ঝি বা হাউস-কিপার ছিল, সে চা লইয়া আসিল। একটা টি-পট করিয়া চা, একটি ছোট জা-এ করিয়া কাঁচা দুধ, পিচ বোর্ডের মতো পাতলা পাতলা মাখন দেওয়া পাউরুটি কাটা ও লাম্প সুগার! আর একটা বড় জাগ-এ গরম জল থাকে; যিনি পাতলা চা খান, তাকে গরম জল দেয়। সাধারণত ইংরেজরা পাতলা চা খায়, বাঙালিদের মতো কড়া চা খায় না। খালাসিরা কড়া চা খায় বলিয়া সেইজন্য তাহাকে ‘সেলার্স টি’ বলিয়া থাকে।”

    মহেন্দ্রনাথ আরও লিখেছেন, “গুডউইন কর্তা হইয়া সকলের বাটিতে চা ঢালিয়া দিলেন–সকলেই চা ও রুটি দু’টুকরা করিয়া খাইলেন। ইংরেজের দেশে দুধ গরম করিয়া খায় না, সর্বদা কঁচা থাকে। একবার বর্তমান লেখক গরম দুধ খাইয়াছিলেন কিন্তু এত লবণ বোধ হইতে লাগিলো যে, খাইতে কষ্ট হইতে লাগিলল। গোরুকে ইহারা অতিরিক্ত লবণ খাওয়ায়। ইহারা দুধ কাঁচা খায় বলিয়া বাংলাদেশে যাহাকে দুধের সর বলে তাহা তথায় নাই। সেইজন্য দুধের সরের কোন ইংরাজি কথাও নাই।”

    মহেন্দ্রনাথের পরবর্তী ব্যাখ্যা, “চিনি হইতেছে বিট সুগার, অর্থাৎ বিট পালঙের চিনি। এক ইঞ্চি স্কোয়ার এবং তিনখানা রাখিলে কিউব হয়। ইহাকে বলে লাম্প সুগার।…লাম্প সুগার লইবার প্রথা হইতেছে যে, একটি জার্মান-সিলভার বা ঐরূপ কোন সাদা ধাতুর বাহারি চিমটার দুই দিকটা ডগাতে সরু সরু আঙুলের মতো কাঁটা দেওয়া আছে–চিনির টুকরো সেই কাটা দিয়া টিপিয়া ধরিয়া ইচ্ছামতো চায়ের বাটিতে দিতে হয়। হাত দিয়া চিনি তুলিয়া লওয়া নিষিদ্ধ।”

    লন্ডনে স্বামী বিবেকানন্দ “একদিন প্রায় বেলা চারটার সময় ফিরিয়া আসিলেন এবং চায়ে দুধ না দিয়া লেবু দিয়া খাইতে লাগিলেন। সিট্রন বা গোঁড়া লেবুর মতো গোল গোল একরকম বড় লেবু হয়, তাহাকে দু’ভাগ করিয়া কাটিয়া জাপানী চার বাটিতে চা ঢালিয়া সেই লেবুর রস ও অল্প পরিমাণে চিনি দিয়া (লাম্প সুগার) স্বামীজি ধীরে ধীরে এক বাটি চা খাইতে লাগিলেন এবং বলিতে লাগিলেন, চা ভাল লাগে না খেতে। আর দুধ দিয়ে চা খাওয়া ঠিক নয়, উহাতে পেটের গোলমাল হয়। আমেরিকায় অনেকে লেবু দিয়া চা খায় সেটা বেশ।”

    বিবেকানন্দ এরপর বললেন, “আরে, আমেরিকানদের সব বাড়াবাড়ি। চা খাবে লেবু দিয়ে, তাতে আবার এক চাপ বরফ দেবে। গরমকালে তারা আইস টি খুব খায়। আরে খাবে তত এইটুকু কিন্তু থালায় নেবে এতটা। ওদের সব বেয়াড়া।”

    আর এক বিদেশিনী মহিলার লন্ডনে বসে তরিবৎ করে চা পানের বর্ণনা আমাদের হাতের গোড়ায় রয়েছে লেখক মহেন্দ্রনাথের দাক্ষিণ্যে। “মিস মুলার একটি জাপানী বাটিতে গরম জল ঢালিলেন এবং ঝাজরিওয়ালা ছোটদের ঝুমঝুমির মতো হাতলওয়ালা একটি জিনিস লইলেন না। ঝুমঝুমির যেখানে কৌটা থাকে তার ঢাকনি খুলিয়া দিয়া জাপানী চা বা ‘গ্রীন টি’ ভরিয়া দিয়া ঢাকনিটা আবার টিপে বন্ধ করিলেন। সেই জিনিসটি রূপার ছিল, হাতলটি ধরিয়া জাপানী চায়ের বাটিতে গরম জলে ডুবাইয়া মাঝে মাঝে নাড়া দিতে লাগিলেন। খানিকক্ষণ পর বাটির সমস্ত জল বেশ লাল হইয়া উঠিলো এবং তাহাতে দুধ চিনি মিশাইয়া খাইতে লাগিলেন এবং যন্ত্রটা অন্যত্র রাখিলেন।”

    চিনি ছাড়া যারা চায়ের কথা ভাবতেও পারেন না তাদের জন্যও সেকালের লন্ডনের বেশ কিছু খবরাখবর আমাদের কাছে রয়েছে। সমসাময়িক কালের জীবনযাত্রার সুনিপুণ ভাণ্ডারী স্বামীজির সঙ্গী এই মহেন্দ্রনাথ! “ভারতবর্ষের চিনি, সাদা বা কালো হইলেও, সবই গুড়া চিনি। আর আমরা যাকে মিছরি বলি, ওরূপ পদার্থ ইংল্যান্ডে নাই। ইংল্যান্ডের চিনি লাল্‌চে–উহাকে ব্রাউন সুগার বলে। সাদা দোব্‌রা চিনিও পাওয়া যায়, কিন্তু কম।…আর একরকম চিনি আছে, উপর দিকে মোটা ও নিম্নদিকে সরু–একরকম চোঙ্গার মতো। ইহাকে বলে লোফ সুগার। এই চিনিও যথেষ্ট ব্যবহৃত হয়। লবণের ন্যায় ইহাও জল হইবার আশঙ্কায় চাপ দিয়া চাকা চাকা টুকরা বা ডেলা করিয়া রাখা হয়।”

    পটলাদা জিজ্ঞেস করলেন “চিরঞ্জীব বনৌষধির অবিস্মরণীয় লেখক পণ্ডিত শিবকালী ভট্টাচার্যকে চিনতিস তুই?”

    “চেনা মানে! আমি তার স্নেহধন্য ছিলাম। স্রেফ ভালবেসে প্রাচীন ভারতের কত খবরাখব্ব দিয়ে গিয়েছেন এই অধমকে। সেসব তথ্য যোগ্য পাত্রে পড়লে সারা বিশ্বে হৈ চৈ পড়ে যেত। শিবকালীই তো বলেছিলেন, একটা নয়, চায়ের পাঁচ-পাঁচটা খাঁটি সংস্কৃত নাম আছে, যা প্রমাণ করে চীনাদের প্রসাদ পেয়ে আমরা চেয়োমাতাল হইনি। এই পঞ্চ নাম আমি মুখস্থ করে রেখেছি, যদি কখনও চায়ের নতুন টি ব্রান্ড চালু করার সময়ে কেউ এই অধমের পরামর্শ চায়–শ্লেষ্মরী, গিরিভিৎ, শ্যামপর্ণী, অতন্দ্রী ও কমলরস! চা প্রসঙ্গে আর একটা শব্দ আমাকে শিখিয়েছিলেন শিবকালীবাবু—‘ফান্ট’।

    বেশ উত্তেজিত হয়ে উঠলেন পটলাদা। “সাহেবরা যে ফান্টা’ পানীয় বার করেছে তার একটা প্রাচ্যদেশীয় উৎস সূত্র তাহলে পাওয়া যাচ্ছে।”

    শিবকালী ভট্টাচার্যমশায় বলেছিলেন, “ওরে বাবা, গরম জলে কোনো জিনিসকে ভিজিয়ে ভালোভাবে চাপা দিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর গরম থাকতে থাকতে হেঁকে নিলে যে গরম পানীয় পাওয়া যায়, তাকেই প্রাচীন ভারতে বলতো ফান্ট! এদেশের গিরি পর্বতবাসীরা এইভাবেই চা উপভোগ করতেন। এর সঙ্গে দুধ-চিনির কোনো সম্পর্ক ছিল না।”

    তা হলে দুধ-চিনির ব্যাপারটা কি আমরা সাহেবদের কাছ থেকে শিখে চায়ের ব্যাপারে অধঃপতিত হলাম?

    পটলাদা বললেন, “চায়ের ব্যাপারে ইংরেজ এমন দেমাকী ভাব দেখায় যেন লিপটন ব্রুকবন্ড এঁরাই ইন্ডিয়াকে চা খাওয়াতে শিখিয়ে পতিত জনকে উদ্ধার করলেন। অথচ ১৬৫৯ সালের আগে খোদ লন্ডনেই কোনো চায়ের দোকান ছিল না।

    একটু থেমে পটলাদা বললেন, “চায়ের ব্যাপারে আমরা হাওড়ার লোকরাও একটু স্পেশাল গর্ব করতে পারি। শিবপুরের কোম্পানিবাগানেই পলাশির যুদ্ধের তিরিশ বছর পরে কিড সাহেব ভারতের প্রথম চা গাছের পত্তন করেছিলেন।”

    “কিন্তু পটলাদা, কিড সাহেব তো জানিয়েছিলেন এ জায়গা চায়ের উপযুক্ত নয়।”

    পটলাদা বললেন, “সময় কীভাবে এগিয়ে চলে! এখন আই আই টির প্রচেষ্টায় খোদ খড়গপুরেও চায়ের চাষ হচ্ছে। সেই চা আমিও খেয়েছি, খারাপ লাগেনি!”

    শিবকালীবাবু বলতেন, “চায়ের পাতা তিন থেকে পাঁচ মিনিটের বেশি ভেজাতে নেই, তাহলে চায়ের ট্যানিন বেশি আসবে না, কিন্তু বেশি ভেজালেই বা সেদ্ধ করলেই দ্বিগুণ মাত্রায় ট্যানিন ফান্টে চলে আসে।”

    অতন্দ্ৰী নামটি নিয়েও সামান্য সন্দেহ থেকে যায়। চা কি মানুষের ঘুম কেড়ে নেয়?

    শিবকালী ভট্টাচার্য আমাকে বকুনি লাগিয়েছিলেন। “ওটা তো কফির কথা হয়ে গেল। যাদের ঘুম হয় না তারা রাতে কফিকে বাঘের মতো ভয়। পায়। কিন্তু অতন্দ্রী যখন চা, তখন তার অর্থ হলো, অসময়ের ঢুলু ঢুলু ভাবটা চা পান করলে কেটে যাবে, অথচ শরীরের বিন্দুমাত্র ক্ষতি হবে না।”

    অতন্দ্রী না হয় বোঝা গেল, কিন্তু ওই শ্যামপর্ণী ব্যাপারটা? পর্ণ তো আমরা জানি পাতা, কিন্তু কৃষ্ণের নামকেই একটু ভদ্রভাবে শ্যাম বলা?

    শিবকালীবাবুর ব্যাখ্যা, শ্যান ঠিক সবুজও নয় আবার কালোও নয়, তারপরই নতুন সারপ্রাইজ দিয়েছিলেন শিবকালীবাবু। “ব্রাদার, সংস্কৃত অভিধান খুললে দেখবে, শ্যাম একটি অতি গোলমেলে শব্দ, এর মানে উজ্জ্বল গৌরও হতে পারে।”

    পটলাদার ফান্ট শব্দটি খুব ভাল লেগেছে। “হাজারখানেক বহু ব্যবহৃত সংস্কৃত শব্দকে গরম জলে চুবিয়ে ঢেকে রেখে তৈরি করে রাখলে পাঠক ও লেখক দুই পার্টির খুব উষ্কার হবে।”

    পটলাদা আবার স্বামী বিবেকানন্দ প্রসঙ্গে ফিরতে আগ্রহী হয়ে উঠলেন। “মস্ত মানুষ, সবসময় সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ সাধ-আহ্লাদের কথা ভাবতেন। চায়ের ভক্ত হয়েই বুঝেছিলেন, সারা দেশকে এই পানীয় যথার্থ আনন্দ দিতে পারবে। মনে রাখতে হবে, সেই সময় পণ্ডিতরা চারদিকে চায়ের বদনাম ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন, বলছেন, শরীর স্বাস্থ্যের সর্বনাশ করবে এই নেশা। বিবেকানন্দ উলটোপথের বিপ্লবী, নিজের মঠে মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধ করলেও চা-কে সম্মান ও স্বীকৃতি দিলেন। বেদ-বেদান্ত-উপনিষদ পাঠ করো, সেই সঙ্গে চা খাও কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু আমাদের এই হাওড়া সন্ন্যাসীর সঙ্গে এবিষয়ে ভালো ব্যবহার করেনি। বেলুড় মঠের উপস্থিতি যেখানে সেই বালি মিউনিসিপ্যালিটির তঙ্কালীন চেয়ারম্যান মঠের ট্যাক্সো প্রচুর বাড়িয়ে দিলেন, যুক্তি এটা নরেন দত্তের তো বাগানবাড়ি, যেখানে ঘন ঘন চা খাওয়া হয়।”

    “অ্যাঁ!”

    “অ্যাঁ নয়, স্বামী বিবেকানন্দও অন্যায় সহ্য করবার পাত্র নন, পুরসভার বিরুদ্ধে দিলেন মামলা ঠুকে চুঁচড়ো জেলা কোর্টে। সেই মামলায় মঠে চা পানের ব্যাপারে সাক্ষী-সাবুদ নেওয়া হলো, সাক্ষীরা অস্বীকার করনে না তারা চা খান। জজ সাহেব আধুনিকমনস্ক, বুঝলেন ব্যাপারটা, আলতী নির্দেশে সাহেব ম্যাজিস্ট্রেট ঘোড়ায় চড়ে বেলুড় মঠে তদন্ত করতে এলেন, এবং চা পানের অভিযোগকে পাত্তা দিলেন না।”

    “তদন্ত করতে এসে গোরাসাহেব কি বেলুড় মঠে চা পান করেছিলেন?”

    “ঠিক জানি না, তুই এ-বিষয়ে বেলুড় বাজারে খোঁজখবর নিয়ে, নথিপত্তর দেখে আলোকপাত করতে পারিস। তবে এটা জেনে রাখ, সেকালের কলকাতায় মণ্ডামিঠাই, কচুরি-জিলিপি-গজার অসংখ্য দোকান ছিল, কিন্তু ছিল না কোনো চায়ের দোকান, ছিলো না ডবল হাফ, ছিলো না ভড়। কিন্তু দূরদ্রষ্টা বিবেকানন্দ সেই কবে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন, একদিন পাড়ায় পাড়ায় চপ কাটলেটের দোকান হবে। এবং বুঝতেই পারছিস, চপ কাটলেট টোস্ট এটসেটরার পর চা আসতে বাধ্য, এর উল্লেখ পর্যন্ত প্রয়োজন হয় না। সাহিত্যে এবং শিল্পে একে বলে পরিমিতিবোধ, ঠিক জায়গায় থেমে যেতে পারলে ইঙ্গিতে অনেক বেশি বলা হয়ে যায়।”

    পটলাদার সংযোজন, “শুধু আদালতে মামলা করা নয়, চা নিয়ে এদেশে এতো চিন্তা-ভাবনা বিবেকানন্দর মতো কেউ করেননি। লেখার মধ্যে যেখানেই পেয়েছে চায়ের কথা ঢুকিয়েছেন, দুনিয়ার যেখানে গেছেন সেখানে চা-কে মন দিয়ে স্টাডি করেছেন। পরিব্রাজক বইতে স্বামীজি দুঃখ করছেন, চায়ের চল–ইংল্যান্ড ও রাশিয়া ছাড়া অন্যত্র বড়ই কম।…চা পানের ধুম রাশিয়াতে অত্যন্ত–বেজায় ঠাণ্ডা, আর চীন-সন্নিকট। চীনের চা খুব উত্তম চা–তার অধিকাংশ যায় রুশে। রুশের চা-পানও চীনের অনুরূপ, অর্থাৎ দুগ্ধ মেশানো নেই। দুধ মেশালে চা বা কফি বিষের ন্যায় অপকারক। আসল চা-পায়ী জাতি চীনে, জাপানী, রুশ, মধ্য এশিয়াবাসী বিনা দুগ্ধে চা পান করে..তবে রাশিয়ায় তার মধ্যে এক টুকরো পাতি লেবু এবং এক ডেলা চিনি ফেলে দেয়।”

    পটলাদা বলে চললেন, “এরপর মারাত্মক কয়েকটা লাইন রয়েছে। বিবেকানন্দ জানাচ্ছেন, গরিবরা এক ডেলা চিনি মুখের মধ্যে রেখে তার উপর দিয়ে চা পান করে এবং একজনের পান শেষ হলে, আর একজনকে সে চিনির ডেলাটা বার করে দেয়। সে ব্যক্তিও সে ডেলাটা মুখের মধ্যে রেখে পূর্ববৎ চা পান করে।”

    পটলাদা আর একটা পয়েন্ট তুললেন। “ভাল চা ভালভাবে পান করবার লোক সংসারে কম নেই। তারা যে ভাল লোক তাও মেনে নিচ্ছি, কিন্তু ক’জন নামীদামী লোক নিজেই চা তৈরি করতে পেরেছেন? রবীন্দ্রনাথ চা রসিক, কিন্তু তাঁকে রান্নাঘরে ঢুকে চা করতে দেখা গিয়েছে এমন বর্ণনা আজও আমার নজরে পড়েনি। বিবেকানন্দের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, যিনি হাঁড়ি হাঁড়ি খিচুড়ি বা পলান্ন রাঁধতে পিছপা নন তার পক্ষে চা তৈরি তো নস্যি! এর ভূরি ভূরি বর্ণনা রয়েছে, মাঝরাতেও এইসব বাই উঠেছে, কিন্তু লোকশিক্ষকরা নিজেরা কিছু করেই হাত গুটিয়ে নেন না, অন্যদেরও মাঠে নামান।

    আমি বললাম, “পুণাতে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এই কাণ্ডটা করেছিলেন। স্বহস্তে শ্যামপর্ণী প্রস্তুত করে এই অধমকে খাইয়েছেন, তারপর শিষ্যকেও সুযোগ দিয়েছে পরের রাউন্ডটা খেলবার। আমার উইকেট পতন হয়নি, এই কারণে যে, ছাত্রাবস্থায় ইস্কুলের হেডমাস্টারমশাই বিবেকানন্দ-পাগল হাঁদুদা ওরফে সুধাংশুশেখর ভট্টাচার্যের বাড়িতে অভ্যাগতদের জন্য বহুবার চা তৈরি করতে হয়েছে। তবে ফুল মার্কস পাওয়া সম্ভব নয়, কারণ প্রেসার স্টোভ জ্বালানোর দক্ষতা আমি শত চেষ্টাতেও অর্জন করতে পারিনি। হায়, তখন যদি এল পি জি গ্যাস থাকতো তা হলে একশ’র মধ্যে একশ আমিও পেতাম।”

    পটলাদা বললেন, “বিখ্যাত লেখক শরদিন্দু একজন অখ্যাত লেখককে দয়াপরবশ হয়ে চা তৈরির ঘরানা দিলেন, এটা প্রমাণ করে যে তিনি ছিলেন স্নেহপ্রবণ, দয়ার শরীর তার। কিন্তু চাপ্রেমী বিবেকানন্দর মধ্যে ছিল মিশনারি মনোবৃত্তি। শোন, স্বয়ং বালগঙ্গাধর তিলককে স্বামীজি আসরে নামিয়ে দিয়েছিলেন। রেকর্ডে রয়েছে, বেলুড় মঠে এসে ‘মোগলাই’ চা প্রস্তুত করে লোকমান্য তিলক সকলকে চা খাইয়েছিলেন। জায়ফল, জয়ত্রী, ছোট এলাচ, লবঙ্গ, জাফরান ইত্যাদি একসঙ্গে সিদ্ধ করিয়া ঐ সিদ্ধ জলের কাথে চা, দুধ, চিনি মিশাইয়া এই চা প্রস্তুত হইয়াছিলো।”

    ভীষণ ব্যাপার! বেলুড় মঠে টিবয়ের ভূমিকায় স্বয়ং তিলক। “কিন্তু পটলাদা, ঐ মোগলাই ব্যাপারটায় একটু খটকা লাগছে। মোগলসম্রাট আকবর কি কখনও চা খাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন? আইন-ই আকবরিতে তো কোন চায়ের উল্লেখ নেই। চাকফি-কোকো এবং সেই সঙ্গে লঙ্কা এটসেটরা এদেশের আসর আলোকিত করলো মোগলসম্রাট শাজাহানের আমল থেকে। তার আগে আমাদের নোলাতে ছিল অবিশ্বাস্য অপূর্ণতা। সপ্তদশ শতকে এক সাহেব (ওডিংটন) সুরাটের বেনেদের আসরে চা-পানের বর্ণনা দিচ্ছেন। সেই চায়ে চিনি নেই, কিন্তু আছে মাথাধরা ছাড়াবার জন্যে নানারকম মশলা ও কণেক ফোঁটা লেবুর রস।

    পটলাদা বললেন, “ইতিহাসে একটু-আধটু উল্লেখ যেখানেই থাকুক, বিশ শতকটাই চায়ের শতক–চেয়ো বাঙালি প্রাণভরে চায়ের সায়রে ডুব দিলো, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের উপদেশ সে কানেই নিলো না। ভাড়ে চা, কাপে চা, রুপোর সরঞ্জামে চা, কাগজের পাত্রে চা, প্লাস্টিকের আধারে চা। শুনেছি এক-আধজন রসিক মাঝে মাঝে সাবেকি বাঙালি কায়দায় বেলের। খোলাতেও চা পানের এক্সপেরিমেন্ট করেছে।”

    একটু থেমে পটলাদা বললেন, “অনেকে বদনাম দিয়েছে, বাঙালির বদহজম, ডিসপেপসিয়া ইত্যাদির পিছনে চায়ের অবদান নিতান্ত কম নয়। খালি পেটে চা-খাওয়ার এমন দুঃসাহস পৃথিবীর খুব কম জাতই দেখাতে পেরেছে। কিন্তু আমার মনে হয়, চা আমাদের মস্ত উপকার করেছে, আমাদের চেয়ে মাতালরা এদেশের মোদো মাতালদের সবসময় দাবিয়ে রেখেছে। মাদকতার প্রসার যতটা হতে পারতো এই বঙ্গভূমে ততটা হয়নি স্রেফ এই চায়ের জন্যে।”

    “টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি শেষ হয়ে গিয়েছে। একবিংশ শতকেও আমাদের এই কলকাতায় চা যুগ যুগ জিও!”

    পটলাদা এবার কিন্তু মোটেই উৎসাহ দেখালেন না। “অনেকদিন পরে এলাম, পরিস্থিতি মোটেই সুবিধের নয় মুখুজ্যে। কলকাতার পুরনো চায়ের দোকানগুলো আরও মলিন হয়ে ধুকছে–চায়ের সঙ্গে তারুণ্যের সম্পর্কটা খালি চোখে ধরা পড়ছে না। মনে হচ্ছে, কফির অভাবনীয় অনুপ্রবেশ ঘটছে।”

    “সে তো পঞ্চাশ বছরের ওপর চলছে পটলাদা, কফি হাউস ইনটেলেকচুয়ালরা তো সব বাহাত্তুরে হতে চললো।”

    “ওরে সে তো মাত্র দু’খানা কফি হাউসে কলেজ স্ট্রিটের অ্যালবার্ট হলে আর চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউতে কটা আর তোক ধরতো, বাকি সবাই তো চায়ের খদ্দের। জেনুইন বাঙালি তো বাড়িতে কখনও কফি ঢুকতে দেয়নি, কফি বোর্ডের প্রাণান্ত প্রচার সত্ত্বেও। এবার তো পদে পদে দুঃসংবাদ, পাড়ায় পাড়ায় বারিস্তা, কাফে কফি এটসেটার সমারোহ শহরের ছেলেমেয়ে, বুড়োবুড়ি সবাই ওইসব জায়গায় দ্বিগুণ-ত্রিগুণ দামে কফি পান করতে বদ্ধপরিকর। চায়ের বাঙালি এবং বাঙালির চা মস্ত চোট খেতে চলেছে।”

    “বাঙালির রক্তে চায়ের লিকার রয়েছে, কেউ কিসসু করতে পারবে না পটলাদা, পোড়া শালপাতার গন্ধওয়ালা কফি এবং দার্জিলিঙের শ্যামপেনসম চা যে এক বস্তু নয় তা বাঙালির পক্ষে ভোলা সম্ভব নয়।”

    “চোখ বুজে থাকাই আমাদের জাতীয় স্বভাব। বিয়েবাড়িতে মিষ্টি দই উঠে গেল। নিমন্ত্রিতরা আইসক্রিম চাখছে এটাও তো ভাবা যেতো না, শেষ হয়ে গেল মিষ্টি দইয়ের সাংস্কৃতিক আধিপত্য। মাটির খুরিকে দাবড়াচ্ছে প্লাস্টিক কাপ, ভাবা যায় না! রসনার রাজত্বেও সংখ্যালঘু হবার দুঃখ কি তা তোরা এখনও বুঝতে চেষ্টা করছিস না।”

    পটলাদা বললেন, “বিশেষ একটা লবি তিনশ বছর ধরে কফিকে জাতে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে, অথচ এঁরা জানতেন সুরসিক সম্রাট চতুর্দশ লুই প্রথমে কফি পান করে মোটেই সন্তুষ্ট হননি। অথচ ফ্রান্সে প্রচারের ধাক্কায় কফির এমন প্রমোশন হলো যে লেখা হলো, ইংরেজের চা, জার্মানদের বিয়ার, স্প্যানিয়ার্ডের চকোলেট, তুর্কের আফিম আর ফরাসির কফি এক জিনিস। এই পানীয়কে জনপ্রিয় করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন প্যাস্কাল নামে এক ভদ্রলোক, যাঁকে কফি মিশনারি বলা যেতে পারে। প্যারিসের এক মেলায় উর্দিপরা ওয়েটাররা গরম কফি ফেরি করতে লাগলো। মেলা শেষ হয়ে যাওয়ার পর প্যাস্কাল এক কফি বুটিক খুলেছিলেন। খরিদ্দারের ভিড় থাকায় প্যাস্কালকে পাড়ায় পাড়ায় গরম কফির ফেরিওয়ালা পাঠাতে হতো। তারপর ডাক্তাররা কফির গুণে মোহিত হয়ে নাকি রোগীদের বলতে লাগলেন কফি খাও।”

    পটলাদার দুঃখ চায়ের প্রচারের জন্য কেউ কিছু করে না, কলকাতার চায়ের দোকানগুলোর সঙ্গে কফির দোকানগুলোর তুলনা করলেই ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। “বাঁচতে হলে বিবেকানন্দর প্রদর্শিত পথে তোদের ফরাসী সাহায্য ভিক্ষা করতে হবে। জপল স্টেশনের কাছে একটা টি সালো আছে যেখানে কুড়িটা দেশের তিনশো রকম চা মজুত থাকে, আর আছে দুশ রকমের টি-পট, রসিকের মর্জি অনুযায়ী চা পরিবেশন করবে ফরাসী সুন্দরীরা। আমাদের এই শহরে চা আছে, টি-পট আছে, দোকান আছে, সুন্দরীরাও অঢেল, নেই শুধু আইডিয়া এবং উদ্যম, ফলে দার্জিলিঙের এতো কাছে থেকেও আমরা বিবেকানন্দের শহর কলকাতাকে চায়ের ওয়াটারলু করে তুলেছি।”

    বললাম, “এক সময় ব্যান্ডেল স্টেশনেই দশ রকম গরম চা পাওয়া যেতো, রসিকরা জানতেন কোন্ ভেন্ডারের কেটলিতে কি জিনিস আছে।”

    “কলকাতার কপালে অনেক দুঃখ! ভড়কে চায়ের প্রচারে নিয়োগ না করে তা দিয়ে পূজামণ্ডপ বানানো হচ্ছে,” পটলাদার খেদোক্তি।

    “তা হলে কিংকর্তব্যম, পটলাদা?”

    “খোদ কলকাতায় কফির হাতে চায়ের পরাজয় হবার আগেই যেন আমার কলকাতায় আসা বন্ধ হয়। কফির সঙ্গে পাঞ্জা লড়া, প্রয়োজনে কফির দোকানের সামনে অবস্থান প্রতিবাদ করা, লোককে বলা, কলকাতার সেরা মানুষরা কখনও কফিকে প্রশ্রয় দেননি, বড়জোর নিষিদ্ধ পানীয় হিসেবে নমাসে ছ’মাসে একবার কফি হাউসে পদার্পণ করেছেন। অমন যে অমন স্বামী বিবেকানন্দ তিনিও খোদ প্যারিসে সূর্যাস্তের পর কফি পান করতেন না, ওতে ওঁর ঘুমের বারটা বেজে যায়।”

    আমি পটলাদার পয়েন্টগুলো নোট করে নিচ্ছি। পটলাদা বললেন, “বাঙালির বাঙালিত্ব বলতে ওই চটনা ওঠা চায়ের কাপটুকুই পড়ে আছে, ওটা কিছুতেই আমরা ছাড়বো না, আমাদের চূড়ান্ত দাবি, কফি দূর হটো! বিবেকানন্দের চা, যুগ যুগ জিও। যুগ যুগ জিও।” এই বলে পটলাদা উঠে পড়লেন। এন আর আই মানুষ, কলকাতা ছাড়বার আগে ক্যামেরায় কলকাতার বিলুপ্তপ্রায় চায়ের দোকানগুলোর ছবি তাকে তুলে নিতে হবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅবিশ্বাস্য বিবেকানন্দ – শংকর
    Next Article জন-অরণ্য – শংকর

    Related Articles

    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    জন-অরণ্য – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    অবিশ্বাস্য বিবেকানন্দ – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    আশা-আকাঙ্ক্ষা – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    চৌরঙ্গী – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরি – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    কত অজানারে – শংকর

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }