Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অতল জলের শহর – অদ্রীশ বর্ধন

    লেখক এক পাতা গল্প155 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অতল জলের শহর – ৩

    (৩)

    ঘুম ভাঙবার পর মনে হয়েছিল যেন জ্ঞানহীন অবস্থা থেকে সংজ্ঞা ফিরে পেলাম। কোথায় যে রয়েছি, এই ধারণাটাই প্রথমে আনতে পারিনি কল্পনার মধ্যে। গতদিনের ঘটনাগুলোকে মনে হচ্ছিল সারবন্দি আবছা ঘটনার ছায়া, প্রকৃত ঘটনা হিসেবে মন মেনে নিতে চাইছিল না কিছুতেই। ফ্যালফ্যাল করে হতভম্ব চোখে তাকিয়ে ছিলাম জানলাবিহীন মস্ত ঘরটার ম্যাড়মেড়ে রঙের দেওয়ালগুলোর দিকে, কার্নিশের কাছ থেকে ঠিকরে আসা কম্পমান বেগুনি আলোক ধারার দিকে, ইতস্তত ছড়ানো আসবাবপত্রের দিকে, সবশেষে অন্য দুটো বিছানার দিকে— যে দুটোর একটা থেকে ভেসে আসছিল কেঁপে কেঁপে ওঠা অদ্ভুত নাক ডাকার শব্দ— সে শব্দ যে ম্যারাকটের, সে অভিজ্ঞতা হয়েছিল ‘স্ট্র্যাটফোর্ড’ জাহাজে থাকবার সময়েই। সবই যেন অতিশয় কিম্ভূতকিমাকার মনে হয়েছিল, যেন সত্যি হতে পারে না কিছুতেই, যাচাই করে নেওয়ার জন্যে বিছানার চাদর খামচে ধরে লক্ষ করলাম চাদরের কাপড় কোনও সমুদ্র উদ্ভিদের শুকনো তন্তু বুনে তৈরি হয়েছে। হাড়েহাড়ে টের পেলাম সত্যিই কল্পনাতীত এক অ্যাডভেঞ্চারের মধ্যে এসে পড়েছি। ব্যাপারটা নিয়ে যখন মস্তিষ্ক ঘর্মাক্ত করছি, তখন অট্টহাসির উচ্চকিত বিস্ফোরণ ত্যাগ করে শয্যায় উঠে বসল বিল স্ক্যানলান।

    আমার ঘুম ভেঙেছে দেখে শুষ্ক কাষ্টহাসির ফাঁকে ফাঁকে বললে, ‘মর্নিং, বো।’

    চিবিয়ে চিবিয়ে জবাবটা দিলাম, ‘খুব মেজাজে আছেন দেখছি। এত হাসির কী আছে?’

    ‘প্রথমে আপনার মতো আমিও ভড়কে গেছিলাম, তারপর মাথায় এল খাসা একটা আইডিয়া। হাসিটা সেই কারণেই।’

    ‘আইডিয়াটা কী?’

    ‘ওই যে সিসের ওজনটা জলের গভীরতা মাপতে নেমে এসেছিল, ওই দড়িতে নিজেদেরকে বেঁধে দিলেই তো পারতাম। ওই যে সব কাচের ছদ্মবেশগুলো পরিয়ে দিয়েছিল, ওই সবের মধ্যেই তো নিঃশ্বেস নিয়ে যেতে পারতাম। বুড়ো ক্যাপ্টেন হোয়ি রেলিং ধরে ডেক থেকে হেঁট হয়ে দেখত, দড়িতে বাঁধা তিনখানা বান্ডিল উঠে আসছে জল থেকে। হাঃ হাঃ হাঃ!’

    হেসেছিলাম আমিও। দু-জনের হাসির আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেছিল ডক্টরের। চোখে মুখে বেশ খানিকটা বিমূঢ় ভাব নিয়ে উঠে বসেছিলেন বিছানায়— ঠিক এই রকম বিমূঢ়তা দেখিয়েছিলাম আমি নিজেও চোখ মেলবার সঙ্গে সঙ্গে। নিজের বেহাল অবস্থা ভুলে গিয়ে বেশ মজার সঙ্গে শুনে গেছিলাম তাঁর ছাড়া ছাড়া মন্তব্য— কখনও উল্লসিত, কখনও বিমর্ষ… উল্লসিত এমন সুগভীর পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাওয়ায়… বিমর্ষ এই বার্তা মর্তের বিদগ্ধ বৈজ্ঞানিকদের কাছে পাঠানোর সুযোগ না থাকায়— যা কিনা এই মুহূর্তে খুবই দরকার।

    নিজের ঘড়ির দিকে নেত্রপাত করে বললেন, ‘এখন বাজে ন-টা। কিন্তু রাত ন-টা, না দিন ন-টা সেটা বোঝা যাচ্ছে না।’

    তারপরেই বললেন, ‘নিজেদের ক্যালেন্ডারের হিসেব রাখতে হবে এখন থেকে। অবতরণ করেছিলাম তেসরা অক্টোবর। এখানে পৌঁছেছিলাম সেই দিনই সন্ধে নাগাদ। ঘুমিয়েছি তাহলে কতক্ষণ?’

    স্ক্যানলান বললে সকৌতুকে, ‘মাসখানেক বলেই তো মনে হচ্ছে।’

    সভ্য ভব্য থাকার জন্যে হাতের কাছে যা-যা মজুদ ছিল, তা-ই দিয়ে মুখ-টুখ ধুয়ে ফিটফাট হয়ে নিলাম। দরজা কিন্তু বন্ধই রইল। বেশ বুঝলাম, আপাতত আমরা সবাই কয়েদখানায় আছি। বাতাস যাতায়াতের ব্যবস্থা আছে কি না বোঝা না গেলেও, বাতাস কিন্তু সুখাবহ। একটু পরেই লক্ষ করলাম, বাতাস আসছে দেওয়ালের অনেকগুলো ছোট ছোট ফুটোর মধ্যে দিয়ে। পুরো জায়গাটা উষ্ণ রাখবার কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা নিশ্চয় কোথাও আছে, যদিও স্টোভ দেখতে পাচ্ছি না, কিন্তু টেম্পারেচার বেশ সুখাবহ। একটু পরেই দরজার ওপর দেখলাম একটা উঁচু বোতাম। টিপে ধরতেই হলুদ রঙের জামাকাপড় পরা কালচে চেহারার একটা লোক ফোকর পথে দেখা দিল। তার বড় বড় চোখের রং বাদামি, সে চোখে ভাসছে আপন করে নেওয়া চাহনি। চেয়ে রইল আমাদের দিকে নির্নিমেষে।

    ম্যারাকট বললেন, ‘আমাদের খিদে পেয়েছে। খাবারদাবার কিছু আনা যাবে?’

    মাথা নেড়ে হাসল লোকটা। বেশ বোঝা গেল, শব্দগুলোর মানে বুঝতে পারেনি।

    স্ক্যানলান তখন চালিয়ে গেল ওর আমেরিকান স্ল্যাং। প্রত্যুত্তরে দেখলাম সেই নীরব হাসি। কিন্তু আমি যখন হাঁ করে আঙুল দিয়ে মুখের ভেতরটা দেখালাম, লোকটা সজোরে মাথা নেড়ে ত্বরিত পদে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।

    দশ মিনিট পরেই খুলে গেল দরজা। হলদেটে চামড়ার দু-জন পরিচারক এল ঘরের মধ্যে। ঠেলে নিয়ে এল একটা টেবিল। বাল্টিমোর হোটেলে বসেও এমন খানা পেতাম কি না সন্দেহ। কফি, গরম দুধ, রোল, সুস্বাদু চ্যাপটা মাছ, আর মধু। আধঘণ্টা মুখে কথা না বলে হাত চালিয়ে গেলাম। আধঘণ্টা পরে ফের এল পরিচারক দু-জন, ট্রে সমেত টেবিল ঠেলতে ঠেলতে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে, সন্তর্পণে বন্ধ করে দিল দরজা।

    স্ক্যানলান বললে, ‘চিমটি কেটে কেটে নিজের গাল নীল আর কালো করে ফেলেও বুঝতে পারছি না ব্যাপারটা কী! স্বপ্ন দেখছি নাকি? ডক্টর, আপনি যখন আমাদের নিয়ে এসেছেন, তখন আপনিই বলুন, এ সবের মানে কী?’

    মাথা নাড়তে নাড়তে ডক্টর বললেন, ‘মনে তো হচ্ছে স্বপ্ন দেখছি। তবে বড় মধুর স্বপ্ন! বড় সোনালি স্বপ্ন! মর্তের মানুষদের কাছে যদি পৌঁছে দিতে পারতাম এখানকার এই কাহিনি, তাহলে চক্ষুস্থির হয়ে যেত জগৎ জনের।’

    আমি বললাম, ‘একটা ব্যাপার কিন্তু বিলকুল পরিস্কার, আন্টলান্টিক নিয়ে কিংবদন্তী তাহলে কুহক কল্পনা নয়— আদতে সত্যি আছে। সেই মহাদেশেরই কিছু মানুষ চমকপ্রদ কোনও পন্থায় সমুদ্রের তলায় বসবাসের উপযোগী করে নিয়েছে নিজেদের।’

    বুলেট মাথা চুলকোতে চুলকোতে বিল স্ক্যানলান বলেছিল, ‘তা-ই যদি হয়, বুঝতে পারছি না বাতাস, টাটকা জল আর এলাহি বিশ্রামের ব্যবস্থা করেছে কেমন করে। দাড়িওয়ালা যাকে গতকাল দেখেছিলাম, সে এলে ফয়সালা হতে পারে এই রহস্যের।’

    ‘কিন্তু সেটা হবে কী করে? ভাষা তো আলাদা।’

    ম্যারাকট বললেন, ‘নিজেরাই বরং পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাই। একটা ব্যাপার এর মধ্যেই বোঝা হয়ে গেছে। বুঝলাম ব্রেকফাস্টের মধু থেকে। সংশ্লেষিত মধু নিঃসন্দেহে মৌচাকের খাঁটি মধু নয়। সিন্থেটিক মধু বানানোর কায়দা তো মর্তের মানুষও শিখে গেছে। সিন্থেটিক মধু যদি বানানো হয়, তাহলে সিন্থেটিক কফি আর ময়দাই বা বানানো যাবে না কেন? মৌল পদার্থের মলিকিউলগুলোতো ইটের মতো, আর এরকম ইট ছড়ানো রয়েছে আমাদের চতুর্দিকে। শুধু জানতে হবে বিশেষ ইটদের বের করা যায় কী করে— কখনও কখনও একটা মাত্র ইটকে— টাটকা বস্তু বানানোর জন্যে। চিনি স্টার্চ হয়ে যাচ্ছে, অথবা অ্যালকোহল হয়ে যাচ্ছে তো শুধু এই ইটদের নড়ানো সরানোর ফলে। কিন্তু তাদের নড়াচ্ছে কোন শক্তি? তাপ, বিদ্যুৎ! হয়তো আছে আরও অনেক কিছু যা আমাদের জানা নেই। তাদেরই কেউ কেউ নিজেরাই নড়ে সরে যায়, রেডিয়াম হয়ে যায় সিসে, অথবা ইউরেনিয়াম হয়ে যায় রেডিয়াম— তাদেরকে না ছুঁয়েই।’

    ‘বলতে চান, এরা তাহলে এগিয়ে থাকা রসায়ন বিদ্যা রপ্ত করেছে?’

    ‘আমি অন্তত সুনিশ্চিত সে ব্যাপারে। অবশ্যই সব রকমের মৌলিক পদার্থ রয়েছে এদের ভাঁড়ারে। অজানা নয় কিছু। সাগরের জল থেকে সহজেই পেয়ে যাচ্ছে হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন। সামুদ্রিক উদ্ভিদ দুনিয়ায় রয়েছে দেদার নাইট্রোজেন আর কার্বন। গভীর সমুদ্রের তলানি খনিতে রয়েছে প্রচুর ফসফরাস আর ক্যালসিয়াম। পর্যাপ্ত জ্ঞান আর দক্ষ পরিচালনা থাকলে এসব থেকে কী না বানানো যায়?’

    এই বলে যখন কেমিক্যাল লেকচার শুরু করেছেন ডক্টর, দরজা খুলে গেল সেই সময়ে, ঘরে ঢুকল ম্যান্ডা, মুখমন্ডলে বন্ধুত্বসূচক আপ্যায়ন ভঙ্গিমা। তার সঙ্গে এল সম্মানিত চেহারার সেই বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি— যাকে দেখেছিলাম আগের রাতে। নিশ্চয় বিদগ্ধ পুরুষ! কেননা, বেশ কয়েকটা বাক্য উচ্চারণ করে মহড়া দিয়ে গেল— যদি আমরা বুঝতে পারি। নিশ্চয় বিভিন্ন ভাষা, কিন্তু কোনওটারই মাথামুণ্ড কিসসু বুঝতে পারলাম না। বয়োবৃদ্ধ পুরুষ তখন মাথা নেড়ে কথা বলে গেল ম্যান্ডা-র সঙ্গে। ম্যান্ডা হুকুম দিল হলুদ পোশাক পরা দুই পরিচারককে। দু-জনেই তখনও দাঁড়িয়েছিল দরজার কাছে। দু-জনেই অদৃশ্য হয়ে গেল তৎক্ষণাৎ, একটু পরেই ফিরে এল অদ্ভুতদর্শন একটা স্ক্রিন নিয়ে— দু-পাশে দুটো খুঁটির ওপর খাড়া করা অবস্থায়। দেখতে অবিকল আমাদের সিনেমার পর্দার মতো, কিন্তু ওপরে রয়েছে ঝিকিমিকি একটা পদার্থের প্রলেপ, আলো পড়লেই ঝিকমিক চিকমিক করছে। জিনিসটাকে রাখা হল একটা দেওয়ালের গা ঘেঁষে। বৃদ্ধ তখন মেপে মেপে পা ফেলে পেছিয়ে এল একটু পর্দার সামনে থেকে, দাগিয়ে দিল সেখানকার মেঝে। ঠিক সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ম্যারাকটের দিকে ফিরে কপালে হাত রেখে আঙুল তুলে দেখাল পর্দা।

    স্ক্যানলান বললে, ‘যাচ্চলে! এটা আবার কী মশকরা?’

    ম্যারাকট মাথা ঝাঁকিয়ে বুঝিয়ে দিলেন আমাদের প্রত্যেকের হতভম্ব থতমত অবস্থাটা। একই অবস্থা চকিতের জন্যে দেখা গেল বৃদ্ধের মুখাবয়বে। মাথায় খেলে গেল একটা আইডিয়া! আঙুল তুলে দেখাল নিজেকে। তারপর ঘুরে দাঁড়াল পর্দার দিকে, স্থির চোখে চেয়ে রইল সেইদিকে। মুহূর্তমধ্যে তার প্রতিফলন দেখা গেল আমাদের সামনেকার স্ক্রিনে। তারপরেই আঙুল তুলে দেখাল আমাদেরকে, এক লহমা যেতে না যেতেই তার প্রতিচ্ছবির জায়গায় এসে গেল আমাদের সকলের প্রতিচ্ছবি। হুবহু আমাদের মতো নয়। স্ক্যানলানকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম কমিক চিনেম্যানের মতে, ম্যারাকটকে বিশীর্ণ পচনপ্রাপ্ত মড়ার মতো, কিন্তু আমরাই বটে, অপারেটরের চোখে যেমন আমরা— তেমনি।

    সবিস্ময়ে বলেছিলাম, ‘চিন্তার প্রতিফলন?’

    ‘তা-ই বটে,’ বললেন ম্যারাকট, ‘আশ্চর্য আবিষ্কার— পিলে চমকে দেওয়ার মতো! টেলিপ্যাথি আর টেলিভিশনের কম্বিনেশন— পৃথিবীতে যা নিয়ে ভাবনা চলছে আবছাভাবে।’

    স্ক্যানলান বললে, ‘সিনেমায় আমাকে এই রকম দেখায় নাকি? কী আশ্চর্য! ‘লেজার’ দৈনিকের সম্পাদকের কানে খবরটা পৌঁছে দিতে যদি পারি, তাহলে বাকি জীবনটা পায়ের ওপর পা তুলে কাটিয়ে দেওয়া যাবে। যদি এখান থেকে বেরোতে পারি।’

    ‘মুশকিলটা সেইখানেই,’ বলেছিলাম আমি, ‘গোটা দুনিয়াকে ঝাঁকিয়ে দেওয়া যেত শুধু এই একখানা খবর বাজারে ছেড়ে দিয়ে। কিন্তু ইশারা করছে কেন? কী বলতে চায়?’

    ‘ডক্টর, আপনাকে দিয়ে ট্রায়াল দিতে চায় বৃদ্ধ বৈজ্ঞানিক।’

    ম্যারাকট তক্ষুণি গিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন দেখিয়ে দেওয়া জায়গায়। তাঁর শক্তিশালী মগজ চিন্তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন জাগ্রত হল স্ক্রিনের ওপর। আমরা দেখলাম ম্যান্ডা-কে, তারপরেই দেখলাম ‘স্ট্র্যাটফোর্ড’ জাহাজকে— যে অবস্থায় ছেড়ে এসেছিলাম, সেইভাবে।

    ম্যান্ডা আর বৃদ্ধ বৈজ্ঞানিক দু-জনেই বিষম সন্তুষ্টির ভাব প্রকাশ করে গেল জাহাজের ছবি দেখবার পর, ম্যান্ডা দ্রুত ভঙ্গিমায় হস্ত সঞ্চালন করে প্রথমে দেখাল আমাদের কে, তারপর পর্দার দিকে।

    সোল্লাসে বলেছিলাম আমি, ‘বুঝলেন কী বলতে চায়? যা বলতে চান, সব বলে যান। গুড আইডিয়া! ছবির মাধ্যমে জানতে চায় আমরা কে, এ চুলোয় এলাম কী করে?’

    ম্যারাকট ঘাড় দুলিয়ে ম্যান্ডা-কে বুঝিয়ে দিল, অনুরোধটা তাঁর মাথায় ঢুকছে, বক্তব্য বোধগম্য হচ্ছে। সমুদ্র যাত্রার খুঁটিনাটি বিবরণ প্রক্ষেপণ করতে যখন শুরু করেছিলেন, হাত তুলে ম্যান্ডা তাঁকে আটকে দিল। হুকুম দিতেই দুই পরিচারক সরিয়ে নিয়ে গেল স্ক্রিনটা, তারপরেই আটলান্টিসবাসী দু-জন ইশারায় আমাদেরকে বললে তাদের পেছন পেছন আসা হোক।

    বাড়িটা বিরাট। গলিপথের পর গলিপথ পেরিয়ে গেলাম, এসে গেলাম প্রকাণ্ড একটা হল ঘরে, ধাপে ধাপে সাজানো আসন— যেমনটা থাকে লেকচার কক্ষে। একদিকে রয়েছে একটা বড় স্ক্রিন, যেরকম স্ক্রিন একটু আগে দেখেছি, সেই রকম। স্ক্রিনের দিকে মুখ করে গ্যালারিতে বসে আছে কমসে-কম এক হাজার মানুষ, আমরা ঘরে ঢুকতেই অভিনন্দন জানালো মৃদু গুঞ্জন ধ্বনি দিয়ে। স্ত্রী আর পুরুষ উভয়ই আছে সেই সম্মেলনে, সব রকম বয়সের, পুরুষদের গায়ের রং গাঢ়, গালে দাড়ি; মেয়েরা সুন্দরী, বয়স যাদের একটু বেশি তাদের চোখে মুখে চাপা গাম্ভীর্য। এদের সবাইকে খুঁটিয়ে দেখবার সময় পেলাম না আমাদেরকে ঝটপট সামনের সারির আসনে বসিয়ে দেওয়ায়, তারপর ম্যারাকটকে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হল স্ক্রিনের সামনে। বিশেষ এক কায়দায় কমিয়ে দেওয়া হল আলোর তেজ, তারপরেই ওঁকে সংকেতে বুঝিয়ে দেওয়া হল— এবার শুরু হোক চিন্তা প্রক্ষেপণ।

    দারুণভাবে সেই কর্মটি করে গেলেন ম্যারাকট। ব্রেন বটে একখানা। প্রথমে দেখলাম, টেমস নদী থেকে রওনা হয়েছে আমাদের জাহাজ, সত্যিকারের আধুনিক লন্ডন শহরের ছবি দেখে গুঞ্জন ধ্বনিতে ঘর ভরিয়ে তুলল দর্শকবৃন্দ— যারা ভীষণ উদ্বেগে কাঠ হয়ে বসেছিল এতক্ষণ। তারপরেই দেখা গেল একটা মানচিত্র— কোন কোন পথ দিয়ে এগিয়েছে জাহাজ। তারপরেই দেখা গেল বিবিধ কলকবজা লাগানো ইস্পাত কক্ষ— দেখেই গুঞ্জন মারফত দর্শকরা বুঝিয়ে দিল, জিনিসটাকে তারা চিনতে পেরেছে। ফের দেখতে পেলাম আমাদের জলে নামবার অভিযান, পৌঁছেছি খাদের একদম কিনারায়। তারপরেই দেখা গেল বিশাল কলেবরের সেই দানবটাকে যে আমাদের বারোটা বাজিয়ে ছেড়েছে। দর্শকরা তাকে দেখেই ‘ম্যারাক্স! ম্যারাক্স!’ বলে চেঁচিয়ে উঠল। বুঝলাম, অতিকায় এবং নৃশংস দানবের সঙ্গে তাদের পূর্ব পরিচয় আছে। ভয় পায় বিলক্ষণ। আমাদের কাছি নিয়ে দানবটার টানাটানি পর্ব শুরু হতেই আতঙ্কের গুঞ্জন জাগ্রত হল বিরাট হল ঘরে। আতঙ্ক গুঞ্জন বেড়ে গেল কাছি ছিঁড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, ইস্পাত কক্ষ তলিয়ে যাচ্ছে অতলে। পরবর্তী আধঘণ্টায় যা দেখানো হয়ে গেল, তা মুখে বলতে গেলে পুরো একটা মাস সময় লাগত। ব্রেনের ছবি তথা মনের ছবি দেখানো সাঙ্গ হতেই সমবেত দর্শকরা সহানুভূতির গুঞ্জন ছড়িয়ে ঘিরে ধরল আমাদের, পিঠ চাপড়ে স্বাগতম জানাল। আমাদের হাজির করা হল জনাকয়েক দলপতির কাছে। দেখেশুনে বুঝলাম জ্ঞানবৃদ্ধ তাপসিক যারা, দলপতি হবার অধিকার আছে শুধু তাদেরই। জ্ঞানের জোরে বড়, গায়ের জোরে নয়। প্রত্যেকেই একই সামাজিক মাপকাঠির মানুষ, পোশাক পরিচ্ছদও একই রকমের। পুরুষদের শ্রীঅঙ্গে হাঁটু পর্যন্ত ঝোলানো গেরুয়া আলখাল্লা, কোমরে বেল্ট পায়ের উঁচু বুট কোনও সামুদ্রিক জীবের শক্ত চামড়া দিয়ে তৈরি। মেয়েদের পোশাকের ছাঁটকাট সুন্দর— সেকেলে স্টাইলে। লুটিয়ে পড়া পরিচ্ছদ গোলাপি, নীল, সবুজ রঙের, মুক্তো অথবা অস্বচ্ছ ঝিনুকের কারুকাজের ফলে বেশ নয়ন সুন্দর। বেশিরভাগ মেয়েদের লাবণ্য পৃথিবীর মেয়েদের রূপলাবণ্যের চেয়ে ঢের বেশি, বিশেষ করে একজনের। কিন্তু… জনসমক্ষে আমার এই ধারাবিবরণী পেশ করতে গিয়ে নিজের ব্যক্তিগত ব্যাপার তার মধ্যে মিশিয়ে ফেলছি কেন? যার কথা বলছিলাম, তার নাম মোনা, ম্যান্ডা-র একমাত্র কন্যা, প্রথমদিনের সেই পরিচয়ের মুহূর্তেই তার দু-চোখে যে প্রশংসা, সমবেদনা এবং মনপ্রাণ দিয়ে আমাদের দুর্দশা আর ভোগান্তি অনুভব করার ছাপ দেখেছি, তা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছিল, কৃতজ্ঞতায় মন আমার টইটুম্বুর হয়ে গেছিল। সর্বসেরা এই লেডি সম্পর্কে বেশি কথা এখন আমি বলতে চাই না। শুধু এইটুকু বললেই যথেষ্ট বলা হবে— আমার সারা জীবনে খুবই জোরদার আর নতুন ধরনের একটা প্রভাব এসে পড়েছিল এর পর থেকেই। আমাদের এহেন বিয়োগান্তক পরিণতির মধ্যেও যে একটা মনোরম ভাব থেকে গেছে, তা বুঝতে পারছিলাম, যখন দেখছিলাম বিশেষ এক মহীয়সী মহিলার সঙ্গে হাত মুখ নেড়ে কথা বলার চেষ্টা করছেন ম্যারাকট, আর একদল হাস্যমুখরা মেয়েদের মাঝে বিষমভাবে মূক অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছে বিল স্ক্যানলান। ট্র্যাজেডির মধ্যে সে এক বিচিত্র কমেডি! মর্ত জগতে আমরা মৃত হয়ে যেতে পারি, কিন্তু পাতাল জগতে আমরা যে পরিমাণে অভিনন্দিত হয়েছিলাম গ্রেট অ্যাডভেঞ্চারের পুরস্কার স্বরূপ, তাতেই ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে যাওয়ায় আমাদের মন মেজাজ প্রসন্ন হয়ে উঠেছিল।

    সেইদিনই একটু বেলার দিকে ম্যান্ডা আর অন্যান্য বন্ধুবর্গ আমাদের ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখিয়েছিল সুবিশাল ইমারতের নানান অংশ। সমুদ্রতলে সেই ইমারত এমনভাবে গেঁথে বসে গেছে যে তার ভেতরে ঢুকতে হয় ছাদের দরজা দিয়ে, সেখান থেকে অজস্র অলিগলি দিয়ে নেমে আসতে হয় একদম নিচের তলার মূল প্রবেশ পথের মস্ত ঘরটার মধ্যে। মেঝের ওপরেও চালানো হয়েছে বিস্তর খনন কাৰ্য, তাই দেখতে পেলাম সব দিকের অলিগলিই ঢালু হয়ে নেমে গেছে পৃথিবীর গর্ভে— পাতালে। বাতাস তৈরির মেশিন দেখানো হয়েছিল আমাদের, যে বাতাসকে পাম্পের সাহায্যে চালান করা হচ্ছে ইমারতের সর্বত্র। ম্যারাকট ভীষণ বিস্মিত হয়েছিলেন, প্রশংসায় মুখর হয়েছিলেন অক্সিজেনের সঙ্গে নাইট্রোজেনকে মিশিয়ে দেওয়ার অভিনব যন্ত্রপাতি দেখে, অবাক হয়েছিলেন ছোটখাটো কলকবজার মধ্যে দিয়ে কীভাবে যাচ্ছে অন্যান্য গ্যাস, বাতাসের অন্যান্য উপাদান— আরগন, নিয়ন, ইত্যাদি বহুবিধ ব্যবস্থা প্রকরণ দেখে। সেসব গ্যাস এমনই যাদের নামটুকুই শুধু জেনেছে মর্তের মানুষ, তাদের হালচাল এখনও বুঝে ওঠেনি। সুপেয় জল পাতিত অর্থাৎ ডিসটিল করার প্রকরণ দেখে চমৎকৃত হয়েছিলেন। সুবিশাল বৈদ্যুতিক কলকবজা দেখে চক্ষু ছানাবড়া করে ফেলেছিলেন। এ ছাড়াও রয়েছে আরও অনেক যন্ত্রপাতি— যা এতই জটিল আর সূক্ষ্ম যে বিশদ ব্যাপারটা মাথায় ঢোকাতে অক্ষম হয়েছি। আমি যেটুকু বুঝেছি চোখে দেখে আর জিভ দিয়ে চেখে, তা এই: বিপুল জটিল এই সব কলকবজার মধ্যে দিয়ে তরল, গ্যাসীয় উপাদানরা ছুটোছুটি করছে। তাপ, চাপ আর বিদ্যুৎ প্রবাহের মধ্যে দিয়ে এবং বানিয়ে দিচ্ছে ময়দা, চা, কফি অথবা সুপেয় সুরা।

    একটা প্রতীতি সুস্পষ্টভাবে জাগ্রত হয়ে গেছিল আমার মনের মধ্যে এইসব এলাহি কাণ্ডকারখানা দেখবার পর। সমুদ্রের তলায় প্রবেশ ঘটার ব্যাপারটা এখানকার প্রাচীন মানুষরা অবধাবন করেছিল অনেক আগে থেকেই, প্রস্তুতিও নিয়েছিল সেইভাবে। জলের তলায় তলিয়ে যাওয়ার অনেক আগেই আটঘাট বাঁধা হয়ে গেছিল। বিশালকায় এই ইমারতটাকেই তো নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে জলতলে দিব্বি থেকে যেতে পারে। বিশাল বিশাল আধার, বানানো হয়েছে বাতাস, খাবার আর পানীয় জল সঞ্চয়ের পরিকল্পনা নিয়ে। আরও অনেক দরকারি জিনিস মজুদ রাখবার ব্যবস্থাও করা হয়েছে নানাভাবে। সবই তৈরি হয়েছে দেওয়ালের মধ্যে ইমারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসাবে। ঠিক একইভাবে নির্মিত হয়েছে বাইরে যাওয়ার দরজা, সিলিকা দিয়ে তৈরি মুখোশ আর গাত্রাবরণ, জল নিয়ন্ত্রণের বিশাল পাম্প। আসন্ন বিপর্যয়ের সংকেত বহু আগেই পেয়েছিল দূর অতীতের সেই বিপুল শক্তিধর মহামানবরা— যাদের এক হাত প্রসারিত ছিল মধ্য আমেরিকা পর্যন্ত, আর এক হাত মিশর পর্যন্ত— সেইসব জায়গাতেই রেখে গেছে তাদের কৃষ্টি আর সংস্কৃতির কিছু কিছু ছাপ— নিজেদের দেশটা কিন্তু তলিয়ে গেছে আটলান্টিকের অতলে। তাদেরই বংশধরেরা আজও রয়েছে সাগরের অতলের এই সাম্রাজ্যে, খুব সম্ভব অতটা মহীয়ান হতে না পেরে, বেশ কিছুটা ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় পতনের পথে গড়িয়ে গিয়ে, যা খুবই স্বাভাবিক, তারপরে অবশ্য স্খলন রোধ করে ধরে রাখতে পেরেছে দূর অতীতের প্রবুদ্ধ পূর্বপুরুষদের কিছুটা জ্ঞান আর বিজ্ঞান— নতুন করে তাতে সংযোজন করার মতো এনার্জি আর না থাকায়। যারা এখন থেকে গেছে, সেই উত্তর পুরুষদের মধ্যে অত্যাশ্চর্য শক্তি, বংশ পরম্পরায় পাওয়া বংশানু সংকেতবাহী অবস্থায়, কিন্তু নতুন করে সেই বিদ্যার বহরে সংযোজন করতে পারেনি কিছুই। আমার বিশ্বাস, এই যে জ্ঞান ম্যারাকট এখান থেকে আহরণ করে নিয়ে যাচ্ছেন, একে কাজে লাগিয়ে তিনি অচিরেই জগৎজনের শীর্ষে পৌঁছে যাবেন। স্ক্যানলানের কিন্তু মাথা চলে বিদ্যুৎ গতিতে, যান্ত্রিক দক্ষতাও অবিশ্বাস্য— তাই কারিগরদের সঙ্গে দিব্যি ভাব জমিয়ে যা পারছে, তা-ই শিখে নিচ্ছে। অতলে তলিয়ে যাওয়ার আগে ইস্পাতের ঢোকবার সময়ে পকেটে করে এনেছিল একটা মাউথ অরগ্যান। পাতাল কারিগরদের জমিয়ে রেখে দিয়েছে সেই বাজনা দিয়ে। মোজার্ট সঙ্গীত শুনতে পেলে আমি আর ম্যারাকট খুশি হতাম। স্ক্যানলান কিন্তু মাতিয়ে রেখেছে সবাইকে ওর মার্কিনী গিটকিরি বাজিয়ে।

    পুরো অট্টালিকাটা যে আমাদের দেখাশুনোর আওতার মধ্যে ছিল না, সে কথা আমি আগেই বলেছি। এ বিষয়ে আরও কিছু বিশদে আমি যেতে পারি। টানা লম্বা অলিন্দ পথ দেখেছিলাম সব সময়েই লোকজনের যাতায়াতে সরগরম। কিন্তু কিছুতেই আমাদেরকে সেদিকে নিয়ে যেত না আমাদের গাইডরা। খুবই স্বাভাবিক, এর ফলে বৃদ্ধি পেয়েছিল আমাদের কৌতূহল। এক সন্ধ্যায় ঠিক করলাম, নিজেরাই অভিযান চালাব সেদিকে। সরে পড়েছিলাম ঘর থেকে, চলে গেছিলাম অজানা সেই অঞ্চলে— যে সময়ে সেদিকে লোকজনের ভিড় থাকে কম। থাকে না বললেই চলে।

    গলিপথ বেয়ে গিয়ে পৌঁছেছিলাম একটা খুব উঁচু খিলেনওলা দরজার সামনে— মনে হয়েছিল সেই দরজা আগাগোড়া সোনা দিয়ে তৈরি। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে দেখেছিলাম রয়েছি একটা বিশাল ঘরের মধ্যে। চৌকোনা হল ঘর। এক-একদিকের মাপ দু-শো ফুট। চারদিকের দেওয়ালে জ্বলজ্বলে রং দিয়ে আঁকা অনেক অসাধারণ ছবি, ছবি ছাড়াও রয়েছে বিস্তর কিম্ভূত দর্শন প্রাণীদের মূর্তি। তাদের মাথার মুকুটগুলোর সাইজ প্রকাণ্ড— আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের রাজমুকুটের মতো। সুবিশাল সেই হলঘরের এক প্রান্তে বসা অবস্থায় রয়েছে বিরাট এক মূর্তি, বুদ্ধমূর্তির মতো পা মুড়ে, কিন্তু বুদ্ধমূর্তিতে যে প্রশান্তি থাকে, তার তিলমাত্র নেই। রয়েছে ঠিক তার উলটো মুখভাব— প্রচন্ড ক্রোধ যেন ফেটে ফেটে পড়ছে মুখাবয়বে। মুখবিবর ঈষৎ হাঁ করা। চোখের মধ্যে যেন অগ্নিকণা। লাল চোখ। আরও গনগনে দেখাচ্ছে ভেতরের দিকে দুটো বিদ্যুৎবাতি থাকার জন্যে। কোলের ওপর রয়েছে একটা উনুন, ছাইভরতি।

    ম্যারাকট বললেন, ‘মোলোক! অথবা, বাল। ফিনিসিয়ানদের প্রাচীন দেবতা।’

    প্রাচীন কার্থেজ-এর ছবি আমার মনের চোখে ভেসে উঠেছিল। বলেছিলাম ভীষণ বিস্ময়ে, ‘যাচ্চলে! এরা কি তাহলে নরবলি দেয়!’

    উদ্বিগ্ন স্বরে বলেছিল স্ক্যানলান, ‘আমাকে বলি দিতে এলে মজাটা টের পাইয়ে দেব।’

    আমি বলেছিলাম, ‘সে চেষ্টা আর করে না বলেই মনে হয়। যথেষ্ট শিক্ষা হয়ে গেছে। দয়া আর করুণার মাহাত্ম্য বুঝেছে সেই শিক্ষার পর থেকেই।’

    ম্যারাকট বললেন, ‘ঠিক।’ বলেই, ছাই ঘাঁটতে লাগলেন, ‘এ দেবতা বংশ পরম্পরার দেবতা। তবে এদের ধর্মবোধ এখন অনেক শান্ত। এ সবই রুটি পোড়ানো ছাই। একটা সময়ে কিন্তু— ’ চিন্তাভাবনায় বাধা পড়েছিল, পেছন দিক থেকে কঠিন কঠোর এক ধমকে। দেখেছিলাম, বেশ কয়েকজন এসে গেছে আমাদের পেছনে। মন্দিরের পুরুত। মাথায় উঁচু টুপি, গায়ে হলুদ বসন। তাদের রক্তচক্ষু আর ভয়াল মুখচ্ছবি দেখেই বুঝলাম, ‘বাল’ বিগ্রহের সামনে আর একটু হলেই বলি হয়ে যাচ্ছিলাম আমরা। একজন তো কোমরের খাপ থেকে ছোরা বের করে ফেলেছিল। রক্তজল করা চিৎকার ছেড়ে বাকি সবাই আমাদের খেদিয়ে দিল বেদীর সামনে থেকে।

    তারস্বরে বলেছিল স্ক্যানলান, ‘গায়ে হাত দিলেই খতম করে দেব। এই সরে যা… হাত ছেড়ে দে?’

    মুহূর্তের জন্যে মনে হয়েছিল, এই বুঝি তিনজনকেই আহুতি দেওয়া হবে রক্ত পিপাসু সেই বিগ্রহের সামনে। কোনও রকমে রেগে চন্ডাল মেকানিককে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে এলাম আমাদের থাকবার জায়গায়। তবে ম্যান্ডা আর অন্যান্য বন্ধুবান্ধবদের ভাবসাব দেখে বুঝলাম, আমাদের এই অভিযান তারা ভালো চোখে দেখেনি।

    এই মন্দির ছাড়া ছিল আর একটা জায়গা। সেখানে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কোনও রকম নিষেধের ঘেরাটোপ না থাকায়। অপ্রীতিকর অপ্রত্যাশিত কিছুই ঘটেনি সে জায়গায়। জায়গাটা আমাদের থাকবার জায়গা থেকে সঙ্গীদের জায়গায় যেতে গেলে যাতায়াতের পাশেই পড়ে। সেটা একটা ঘর, দেবালয়ের নিচের ঘর। ঘরের দেওয়ালে টেওয়ালে কোথাও কোনও কারুকাজ বা উৎকীর্ণ মূর্তি বা হরফ নেই। ঘরের প্রান্তে রয়েছে একটা হাতির দাঁতের মূর্তি— মহাকাল তাকে হলদেটে করে দিয়েছে। সে মূর্তি এক রমণীর, হাতে বর্শা, কাঁধে বসে একটা প্যাঁচা। ঘরের গার্জেন হিসেবে ছিল অতি বৃদ্ধ এক পুরুষ; বয়স তার যথেষ্ট হওয়া সত্ত্বেও আমাদের মনে হয়েছিল, এই যে যাদের মধ্যে এসে পড়েছি, এদের সমগোত্রীয় নয় এই অতি বৃদ্ধ— অন্য প্রজাতির মানুষ, মন্দিরে যারা আছে তাদের চেয়ে কৃষ্টি সংস্কৃতিতে উন্নততর, আকৃতিতে বড়। আইভরি স্ট্যাচুর সামনে দাঁড়িয়ে আমরা যখন স্থির দৃষ্টিতে মূর্তি দেখে যাচ্ছি, তখন ম্যারাকট আর আমার দু-জনেরই মনে হয়েছিল, এরকম মূর্তি আগেও যেন কোথায় দেখেছি।

    অতিবৃদ্ধ বিপুলকায় সেই ব্যক্তি তখন বলেছিল, ‘থিয়া।’ সচমকে বলেছিলাম আমি, ‘আরে সর্বনাশ! এ যে দেখছি গ্রিক বলছে!’

    ‘থিয়া? এথেনা?’ ফের গ্রিক শব্দ ত্যাগ করেছিল অতিবৃদ্ধ।

    নিঃসন্দেহে দেবী এথেনার কথা বলছে সেই বৃদ্ধ। ম্যারাকটের ওয়ান্ডারফুল ব্রেন বিবিধ জ্ঞানে সমৃদ্ধ থাকায় তৎক্ষণাৎ জেরা শুরু করে দিয়েছিলেন ধ্রুপদী গ্রিক ভাষায়— যার কিছুটা বোঝা গেছিল, কিছুটার উত্তর এসেছিল এমনই প্রাচীনতর সংলাপের মধ্যে দিয়ে যার মাথামুণ্ড কিস্‌সু বোঝা যায়নি। এতদ্‌সত্ত্বেও বেশ কিছু জ্ঞান আহরণ করতে পেরেছিলেন ম্যারাকট এবং আবছাভাবে আমাদের বোধগম্য হওয়ার মতো কিছু জ্ঞানও পরিবেশন করতে পেরেছিলেন।

    সেইদিনই সন্ধ্যায় ক্লাসে লেকচার দেওয়ার ভঙ্গিমায় উঁচু গলায় আমাদের বলেছিলেন, ‘অত্যাশ্চর্য একটা প্রমাণ পাওয়া গেল। এতদিন যা স্রেফ কিংবদন্তী বলেই মনে হয়েছিল, তার যে একটা ভিত আছে, সত্যতা আছে, তা জানা গেল। সব কিংবদন্তীর মূলে একটা না একটা ঘটনা থাকে, কালপ্রবাহে তা বিকৃত অস্পষ্ট হয়ে আসে। হয় তো জানা আছে, অথবা আদৌ জানা নেই— (‘জানছেন কী করে?’ স্ক্যানলানের ফুটুনি)— আটলান্টিস দ্বীপ যখন ধ্বংস হয়ে যায় তখন একটা যুদ্ধ চলছিল আদিম গ্রিক আর আটলান্টিয়ানদের মধ্যে। সোলন এর বিবৃতির মধ্যে আছে সেই ঘটনার বর্ণনা— উনি জেনেছিলেন সাইস-এর পুরুতদের মুখে। ধরে নিতে পারি, সেই সময়ে আটলান্টিয়ানদের হাতে তখন বন্দি অবস্থায় ছিল কিছু গ্রিক কয়েদি, তাদের কেউ কেউ সেবা দিয়ে যেত মন্দিরে, এরাই সেখানে বহন করে নিয়ে এসেছিল স্ব-ধর্ম। এই যে বুড়োটার সঙ্গে আলাপ জমে গেল, আমার বিশ্বাস প্রাচীন সেই ধর্মের উপাসকদের বংশধর সে— এদের আরও অনেকের সঙ্গে পরে আমাদের আলাপ জমে যেতেও পারে।’

    স্ক্যানলান বললে, ‘সেটা ভালো মনে করলেই ভালো। প্লাস্টার ভগবানকেই যদি পুজো করতে হয়, তাহলে সে লালচোখো আর কোলের ওপর কয়লার ছাই নিয়ে বসে থাকা দেবতা না হয়ে ফাইন একটা মেয়ে মানুষ হলেই ভালো।’

    আমার মন্তব্য, ‘আপনার কপাল ভালো এসব কথা ওদের কানে পৌঁছোচ্ছে না। পৌঁছে গেলেই খ্রিস্টান শহীদ হয়ে যেতে হবে।’

    ‘দূর মশায়, এমন জাজ বাজাব, শুনে ঠান্ডা মেরে যাবে। মনে তো হয় আমাকে পছন্দ করে ফেলেছে— আমি ছাড়া ওদের চলবেই না।’

    তা বটে। ফুর্তিবাজ মানুষগুলোকে নিয়ে দিন কাটিয়ে দিচ্ছিলাম ভালোভাবেই। মাঝে মধ্যে অবশ্য মন কেমন করত দেশের জন্যে। মনের চোখে দেখতে পেতাম চারদিকে প্রাঙ্গণ দিয়ে ঘেরা চতুর্ভুজ অক্সফোর্ড, অথবা হার্ভাড-এর অতিপ্রিয় চত্বর আর সুপ্রাচীন এলম বৃক্ষরাশি। সেই সময়টায় মনের এই দৃশ্যগুলোকে মনে হত বুঝি চাঁদের প্রকৃতি-সুন্দর প্রান্তর, আর ঠিক তখনই আবার সেই সব জায়গায় ফিরে যাওয়ার জন্যে ছটফটিয়ে উঠত মনটা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআদিম আতঙ্ক – অদ্রীশ বর্ধন
    Next Article শার্লক হোমস সমগ্র ২ – অনুবাদ : অদ্রীশ বর্ধন

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }