Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অতীত একটা ভিনদেশ – মোজাফ্‌ফর হোসেন

    মোজাফ্‌ফর হোসেন এক পাতা গল্প154 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সুখ অসুখ

    সেদিন টিফিনের ঘণ্টা শেষ হলেও আমরা আর ক্লাসে যাইনি। হাসু বলল, ‘লোটাসের নানা মারা গেছে, ওরা সব ওখানে। চল, ওদের গাছে ডালিম পেকে ফাটি ফাটি, খেয়ে আসি। আমি চললাম ওর পিছু পিছু। লোটাস আমাদের খুব কাছের বন্ধু। যাবার পথে অলিলকে সাথে নিলাম। সর্দিজ্বর হওয়ার কারণে আজ ও স্কুলে আসেনি। বাঁশবাগানের ভেতর দিয়ে প্রাচীর টপকে লোটাসদের বাড়িতে প্রবেশ করলাম। শরীর ভারী হলেও হাসু প্রাচীর টপকানোতে ওস্তাদ। অলিল লম্বা তাই ওর খুব একটা সমস্যা হলো না। প্রাচীরের হাইট মিডিয়াম, কিন্তু আমার হাইটে ঘাটতি থাকার কারণে বেশ কয়েকবার লাফিয়েও প্রাচীরের প্রান্ত হাতের নাগালে পেলাম না। বরাবরের মতো হাসু আমাকে টেনে ওঠাল। ভেতরে গিয়ে দেখি বাড়ির সদর দরজা আলগা। যা বাবা, এত কষ্ট করে প্রাচীর টপকালাম কী জন্যে!’ অলিল বলল। বাড়িতে বোধ হয় কেউ আছে, চল কেটে পড়ি। হাসুকে উদ্দেশ্য করে বললাম আমি। এসেছি যখন, একটা ডালিম না ছিঁড়ে যাচ্ছি না! আমাদের মধ্য থেকে হাসু এগিয়ে গেল উঠানের উত্তর দিকে দাঁড়িয়ে থাকা ডালিম গাছটিকে তাক করে। ভেতর থেকে দরজা খোলার শব্দ, হাসু তখন উঠানের মাঝখানে, আমি আর অলিল কলের বিপরীতে দাঁড়িয়ে গা ঢাকা দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করছি। আরে তোরা, কখন আসলি? যাক, বাঁচলাম!’- অলিল ফিসফিস করে বলল। আমরা লোটাসের দিকে এগিয়ে গেলাম। শুনলাম, তোর নাকি নানা মারা গেছে, তাই…! তাই তোকে দেখতে আসলাম।’ হাসু আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বলল। ভালো করেছিস। মারা যায়নি, স্ট্রোক করেছে।’ শ্যালা হাবু, এত বড় ভুল সংবাদ দিয়েছিস! আজ তোর রক্ষা নেই!’ হাসু ফিসফিস করে বলল। আমরা বিকেল পর্যন্ত লোটাসদের বাড়িতে ছিলাম। লোটাস ওদের ফ্রিজ থেকে আয়েশ করে খাচ্ছিলাম। ডালিম খাওয়ার কথা কি আর তখন মনে থাকে! গ্রামে এই একটাই দোতলা বাড়ি। তাই সুযোগ পেলেই আমরা ছাদে উঠে আশপাশের বাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে ভেংচি কাটি। সেদিন আরও একটা কাজ আমরা করেছিলাম। লোটাসের বাড়ির পেছন দিকে ছিল মিলাদের বাড়ি। মিলা তখন ক্লাস ফাইভে পড়ে আমাদের দু’ক্লাস নিচে। তবে ঘটনার পাত্রী মিলা না, মিলার ভাবি। ডুমুরগাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে লোটাসদের বাড়ির দিকে মুখ করে ভেজা শাড়ি পাল্টাচ্ছিল মিলার ভাবি। সেদিনই আমরা প্রথম উদোম মেয়ে মানুষ দেখেছিলাম। সে এক অন্যরকম অনুভূতি!

    তারপর আমরা যা করলাম, হাসুই বলল প্রথম, ‘আমি জানি এখন আমাদের কী করা উচিৎ। আমাদের চোখে-মুখে রাজ্যের বিস্ময়। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি দু’একবার করেছি। শুনেছি, বড়রা তো প্রতিদিনই করে। আমরা চারজন ছাদে একসঙ্গে বসে মাস্টারবেট করেছিলাম। সে এক অন্যরকম অনুভূতি!

    বিকেলে আমরা আর খেলতে গেলাম না। পশ্চিমের মাঠে একটা বিল ছিল। যখন আমরা কোনো বিষয় নিয়ে পরিকল্পনা আঁটতাম, তখন ওই বিলের ধারে চলে যেতাম। মাঝেমধ্যে চাম-গুলতি নিয়ে পাখি মারতে, কিংবা ছিপ-বঁড়শি নিয়ে মাছ ধরতেও গেছি। তবে আমরা কোনো দিনই পাখি কিংবা মাছ কোনোটাই ধরতে পারিনি। একবার নোটাসের গুলতি একটা বকের লেজে লেগেছিল, শেষ পর্যন্ত ওইটাই ছিল আমাদের সম্মিলিত সর্বোচ্চ সাফল্য। আর একবার আমরা একটা পানির সাপ মেরেছিলাম এপিটিয়ে। তবে সাপের রেসপন্স দেখে মনে হয়েছিল, হয় সে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল, আমাদের প্রথম আঘাতটা এত জোরে ছিল যে ঘুম থেকে জেগে ওঠার আগেই সে মারা গিয়েছিল, নচেৎ আমাদের আগেই কেউ সাপটাকে মেরে রেখে গিয়েছিল। সেদিন বিকেলে আমরা কোনো পাখি কিংবা মাছ মারতে যাইনি। নতুন কোনো পরিকল্পনাও ছিল না মাথায়। আমরা কিছুক্ষণ আগে যে ঘটনাটা ঘটিয়েছি সেটা নিয়েও কেউ কথা বলতে চাইছিলাম না। কোনো কথা না বলেই আমরা বিলের ধারে হাঁটাহাঁটি করে যে যার বাড়ি চলে এসেছিলাম।

     

    আরও দেখুন
    উপন্যাস সংগ্রহ
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    Library
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বাংলা কমিকস
    বই পড়ুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স

     

    তার পর থেকে ছাদে ওঠা আমাদের নেশায় ধরে গেল, টিফিন পালানোটা অভ্যাস হয়ে দাঁড়াল।

    .

    খ.

    বাড়ি বলতে আমাদের যা ছিল তা হলো চৌচালা টিনের ঘর। দুইখানা ঘর আর লম্বা একটি বারান্দা। একটি ঘরে মা-বাবা আর ছোট বোন কুমকুম থাকত। আর অন্য ঘরে আমি আর আমার বড় দু’ভাই থাকতাম। এক কোণায় আটি বাঁধা থাকত গরু-ছাগলের জন্য কেটে আনা ঘাস। ঘুমের ঘোরে আমি মাঝেমধ্যে সবুজের গন্ধ পেতাম। শ্যামা ঘাসের গন্ধ ছাড়া ঘুম হতো না কিছুতেই। বাবা ছিলেন গরুর ব্যাপারি। বড় দুই ভাই মাঠে কাজ করত। উঠানের এক কোণে ছিল গরুর নাদা বসানো, অন্য দিকে ছিল গোয়ালঘর। নাদার চারপাশজুড়ে কাদা আর গোবরে খ্যাঁতখ্যাঁত করত। উঠোনের মাঝখানের এক ঢিবিতে বসে রান্না করত মা। ওখানে বসেই আমরা খেতাম। মাঝেমধ্যে গরুর চুনা এসে ছিটকে পড়ত খাবারে। একবার আমাদের একটি গাভি বাছুর প্রসব করতে গিয়ে মারা যায়; তারপর মা সেই বাছুরটিকে মাতৃস্নেহে বড় করে তোলে। তার নাম রাখা হয়েছিল কুমকুম। মা কুমকুম বলে ডাক দিলে উত্তর নিত সে। আমার ছোটবোন কুমকুমের জন্মের সময় মাকে অপারেশন করতে হয়, সেই টাকা জোগাড়ের জন্য বাবা বাধ্য হন কুমকুমকে বিক্রি করে দিতে। বাবা-মা তাদের নতুন সন্তানের নাম রাখেন কুমকুম। মা প্রায়ই বলতেন, “আল্লাহ আমার এক মেয়ি নি আরেক মেয়ি দি’ছে। অভাবের সংসার হলেও বাবা আমাকে কোনো কাজ করতে দিত না। এর অন্যতম কারণ ছিল আমাকে দিয়ে কোনো কাজ হতো না। বাবা স্বপ্ন দেখত, আমি লেখাপড়া শিখে ডাক্তার হয়ে গ্রামে ফিরছি। আর প্রতিবারই আমার পরীক্ষার ফল শুনে হতাশ হত। ‘আমি রক্ত দেখতে খুব ভয় পাই, মানুষের পেট-বুক কাটব কী করে? একদিন ভাত খেতে খেতে মাকে বললাম। বাবার স্বপ্নের বিষয়বস্তু পরিবর্তন করাটা খুব জরুরি হয়ে পড়েছিল। মা জানাল, বাবা চায় আমি পশুর ডাক্তার হই; মানুষের ডাক্তারের তো অভাব নেই। লোটাস, হাসু আর অলিলকে এই কথা বলার পর থেকে ওরা আমাকে দেখা মাত্রই ‘হাম্বা’ বলে ডাকত। আমি ক্ষ্যাপতাম না বলে অবশ্য ওদের এই মজাটা বেশি দিন টেকসই হয়নি।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা অডিওবুক
    Books
    বাংলা ভাষা
    Library
    বাংলা গল্প
    অনলাইন বই
    বাংলা লাইব্রেরী
    বইয়ের
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স

     

    দক্ষিণ পাড়াতে ছিল হাসুদের বাড়ি। যতদূর জানি, হাসুর মা মারা গেছে যখন ও খুব ছোট ছিল। তারপর হাসুর ছোট খালাকে ওর বাবা আবার বিয়ে করেছে। বিয়ের পরপরই হাসুর বাবা নাকি বলে বেড়াত, ‘বিয়ে-টিয়ে আর করবার ইচ্ছা ছিল না, হাসুর কথা ভেবেই ওর খালাকে ঘরে তুললাম। লোকমুখে এ কথাও শুনেছি হাসুর বাবার সাথে ওর ছোট খালার অবৈধ সম্পর্ক ছিল। হাসুর মা সে কথা জেনে ফেলায় হাসুর বাবা তাকে বালিশচাপা দিয়ে মেরে ফেলেছে। যখন মারে তখন হাসু নাকি তার মার বুকের দুধ খাচ্ছিল। আহা, বেচারা! হাসুর বাবা মেম্বার, বেশ কিছু জমিজমা আছে। হাসুর নামেও আছে এক বিঘা, ওর মা মারা গেলে নানা ভবিষ্যতের কথা ভেবে ওর নামে লিখে দিয়েছে। হাসুর ছোট এক ভাই ও বোন আছে। অবশ্য সৎ ভাই-বোন। সংসারে হাসুর কোনো কদর ছিল না। কদর যা ছিল তা ওই জমিটার। ও যতটা সম্ভব বাড়ির বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়াত।

    অলিলের বাড়ি গ্রামের উত্তর পাড়ায়। ওর বাবা মসজিদের ইমাম আর একটা মাদ্রাসায় আরবি পড়ায়। বাড়িতে ওদের সাথে ওর এক বিধবা ফুপু থাকেন। ওদের বাড়িতে আমি খুব বেশি যাইনি। ও খুব কম কথা বলে। খালি কী যেন ভাবে! ভাবতেই থাকে। মাঝেমধ্যে অদ্ভুত অদ্ভুত সব কথা বলে, শুনতে খুব ভালো লাগে, যদিও তার কিছুই বুঝি না আমি। পরে জানতে পেরেছিলাম, ওগুলো সব কবিতা- কিছু ওর লেখা, কিছু অন্যদের।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    বাংলা কবিতা
    পিডিএফ
    বাংলা বই
    PDF
    বইয়ের

     

    আর লোটাসের বাড়ি ছিল আমাদের পাড়াতেই। কথাটা এভাবে না বলে যদি বলি লোটাসের পাড়াতেই আমাদের বাড়ি ছিল, তাহলেই ভালো শোনাবে। ওর বাবা ছোটখাটো একটা জমিদার বললে ভুল বলা হবে না। ওরা এক ভাই, এক বোন। বিশাল বাড়ি, কাজের লোকে ভরা। আমাদের যখন খুব অভাব ছিল, তখন নাকি মা ওদের বাড়িতে কাজ করেছে। কাজ করেছে বলতে কাঁথা সেলাই করে দিয়েছে, পাটি বুনে দিয়েছে, কুমড়োর বড়ি দিয়ে দিয়েছে, ধান সিদ্ধ করে দিয়েছে এই সব। ছোটবেলায় আমি লোটাসের ব্যবহার করা পোশাক অনেক পরেছি। লেখাপড়াতেও ও খুব ভালো। ছবিও আঁকত বেশ। আরও অনেক কিছু পারে ও। আমাদের মধ্যে ওই ছিল সবচেয়ে সুখী। অনেক সুখী।

    .

    গ.

    দেখতে দেখতে আমাদের মেট্রিক পরীক্ষা শেষ হয়ে গেল। দেশের অবস্থা তখন ভালো না। ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান চলছে। আমরা একটু একটু করে দেশ নিয়ে ভাবতে শুরু করেছি। এসব ব্যাপারে হাসু আর লোটাসই বেশি কথা বলত। আমি খালি শুনতাম। আর বরাবরের মতো অলিল কী যেন একটা ভাবনায় ডুবে থাকত। কবিতার নেশা ওকে আরও পেয়ে বসেছিল। মেট্রিক পরীক্ষা শেষ করে লোটাস চলে গেল আমেরিকায়, মামার কাছে। যেকোন সময় যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে ভেবে ওর বাবা ওকে দেশে আর রাখল না। হাসু চলে গেল ঢাকায়, মামার বাড়ি। অলিলের মামার বাড়ি পাশের গায়ে, আমার এ গাঁয়েই। কাজেই আমরা পড়ে রইলাম। শহরের কলেজে ভর্তি হলাম। লোটাস আর হাসু চলে যাওয়ার পর আমার আর অলিলের মাঝে আর দেখা হতো না বললেই চলে। সবাই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি গেলাম অলিলের কাছে। ও তেমন কিছুই বলল না। আমিও কিছু ভেবে পাচ্ছিলাম না। যুদ্ধ শুরু হলে বাবা মা, কুমকুম ও আমাকে ভারতের শরণার্থী শিবিরে রেখে গেলেন। আমাকে আলাদা করে বললেন, ‘জানি নে আমাদের কী হবে, আর দেখা হবে কি না! ওদের দায়িত্ব এখন তোর হাতে। আমি আর কিছুই বলিনি। শরণার্থী শিবির থেকেই যুদ্ধের খোঁজখবর নিতাম। হাসু আর অলিল কোথায়, কী করছে, কিছুই জানি না।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা অডিওবুক
    বইয়ের
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বই
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা সাহিত্য
    অনলাইন বুক
    গ্রন্থাগার

     

    দেশ স্বাধীন হলো। আমরা ফিরে এলাম। বাবার খবর কেউ দিতে পারল না। বড় দুই ভাই যুদ্ধে মারা গেছে। মেজো ভাই নাকি গ্রামের মৌলানার প্ররোচনায় রাজাকারদের সাথে হাত মিলিয়েছিল। এর বেশি জানতে পারিনি। আমি পড়াশোনা ছেড়ে শহরের পোস্ট অফিসে চাকরি নিলাম।

    .

    ঘ.

    পোস্ট অফিসে একদিন অলিলের সাথে দেখা। প্রথমটাই ওকে চিনতে পারিনি। মুখভর্তি দাড়ি। লম্বা পাঞ্জাবি। কাঁধে কাপড়ের ব্যাগ। অলিলের মুখে শুনলাম, হাসু যুদ্ধে বীরের মতো লড়াই করে প্রাণ দিয়েছে। আর ও অল্পের জন্যে বেঁচে এসেছে, গুলিটা বাম পায়ে লেগেছিল। আমি ওকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদেছিলাম। অনেকক্ষণ। বাবা, ভাইদের মৃত্যুসংবাদ শুনেও এতটা কাঁদিনি। কারণ হয়ত, ওটার জন্যে আস্তে আস্তে নিজেকে প্রস্তুত করে তুলেছিলাম। হাসুর মৃত্যু আমি মেনে নিতে পারিনি। এখনো। অলিল হনহন করে চলে গেল। বলল, আবার আসবে। তার পর থেকে মাঝেমধ্যেই আসত। ও তখন ফুলটাইম কবি। পেপারে ওর কবিতা আসত। আমি কবিতা বুঝি না, ওর নামটার ওপর বেশ কয়েকবার চোখ বুলিয়ে রেখে দিতাম। পিয়নকে দেখিয়ে গর্ব করতাম। অলিল তখন একাই থাকত। শরণার্থী শিবিরেই মারা যায় তার বাবা আর ফুফু। আমরা সময় পেলে সেই বিলের ধারে চলে যেতাম। দু’জন পাশাপাশি হাঁটতাম; খুব কম কথা হতো আমাদের। যুদ্ধ অনেক কিছুই পাল্টে দিয়েছিল।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    Books
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    বাংলা ইসলামিক বই
    বইয়ের
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    গ্রন্থাগার
    উপন্যাস সংগ্রহ

     

    একদিন এক ঘন বর্ষায় আমি আর অলিল ছিপ হাতে বেরিয়ে পড়লাম উদ্দেশ্য, মাছ ধরার বৃথা চেষ্টায় কাটিয়ে দেব সারাটা বেলা। বছরের অন্যান্য সময় বিলে পানি না থাকলেও এই সময় বেশ খানিকটা পানি এদিক ওদিক থেকে জমা হয়ে একটা ছোটখাটো নদীর আকার ধারণ করে। এবারেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ছিপ ফেলে আমরা বসেছিলাম। বৃষ্টি পড়ছিল হালকা বাতাসে ধুলোবালি উড়বার মতো করে, আস্তে আস্তে আমাদের মাথাটা ভিজে উঠছিল। বর্ষা নিয়ে একটি কবিতা আবৃত্তি করল অলিল। বোধ হয় খুব ভালো কবিতা। তুই লিখেছিস? আমি জানতে চাইলাম। হুম, না। রবীন্দ্রনাথ। অলিল, তুই কবিতা লিখে সুখ পাস? ‘পাই বৈকি। কবিতাই তো আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আচ্ছা, সুখ পেতে হলে কি মানুষকে কিছু করতেই হয়? কোনো কারণ ছাড়া বেঁচে থাকতে ভালো লাগবার কথা না, তাই না?–আমি প্রশ্ন করলাম। সুখ পেতে কোনো কারণ লাগে না। লাগে বিশ্বাস! তাহলে কি আমিও সুখী হতে পারব? আমার কথায় হো হো করে হাসতে হাসতে ও বলল, “হ্যাঁ, পারবি যদি ওই ধুমড়ি বউকে ছেড়ে আমার মতো একা হতে পারিস। সাথে তোর আল্লাহকেও ছাড়তে হবে। আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না, অলিল মজা করছে নাকি সত্যি সত্যিই বলছে। আল্লাহ তোর না? তুই কি তাঁকে ছাড়তে পেরেছিস?’–ঐ প্রথমবারের মতো আমরা যে যার বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম।

     

    আরও দেখুন
    বইয়ের
    বাংলা বই
    উপন্যাস সংগ্রহ
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বই পড়ুন
    বাংলা ভাষা
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা শিশু সাহিত্য

     

    কবেই। বুঝতে শেখার পর থেকে ওই যুদ্ধটাই তো করে আসছিলাম। আমি এখন মুক্তিযোদ্ধা। অলিলের কথাগুলো আমার ভালো লাগছিল না। মনে হলো ভয়ংকর কিছু একটা এসে আমাকে আঘাত করছে। আমার রূপ পরিবর্তন করে দিতে চাইছে। যে বিশ্বাসটা আমি মা-বাবার রক্ত থেকে সঞ্চয় করেছি, তাকে আমি যুক্তির কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাই না। আমি চাইছিলাম অন্য বিষয়ে আমরা কথা বলি। অলিল বলেই চলে, জানিস, আমি খুব করে ভাবতাম। বাবা যখন সুরা পড়তেন, আমার মনে হতো ওগুলো কবিতা। চমৎকার চমৎকার সব কবিতা। কবিতা বিশ্বাস হতে পারে না। আমিও মানতে পারছিলাম না তিনি নেই। বেরিয়ে পড়লাম সন্ধানে, খুব করে খুঁজলাম- গাছের ডালে ডালে, পাখির চোখে চোখে, প্রতিটা বৃষ্টি ফোঁটায়, প্রতি ধূলিকণায়, প্রতি আলোকচ্ছটায়। তন্ন তন্ন করে হাতড়ালাম নিজের ভেতরেও। কোথাও পেলাম না। তবুও তার না থাকাটাকে আমি মানতে পারছিলাম না। তিনি না থাকলে যে আমার কবিতা গন্তব্য খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে লীন হয়ে যাবে শূন্যে। তাঁকে যে আমার বড় দরকার! যুদ্ধের মাঝেও আমি অনেক খুঁজেছি। অস্ত্র হাতে যখন সবাই ধেয়ে যেত পাক হানাদারদের দিকে। পশুর মতো তেড়ে আসত ওরা। আমি গুলি মারতাম শূন্যে। বিশ্বাস কর এই দেশ স্বাধীন হওয়াতে আমার বিন্দুমাত্র অবদান নেই। আমার যুদ্ধ তখন অন্যখানে। একদিন এক গ্রামে ঢুকে দেখি- গ্রামের নারী, শিশু, বৃদ্ধ সকলকে…! একটি শিশুর দেহ ঝুলছে বাঁশগাছে। বকুলগাছে ঝুলছে একটি মেয়ে- শরীরের বস্ত্র নিয়ে টানাটানি করছে কয়েকটি কুকুর।

     

    আরও দেখুন
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    গ্রন্থাগার সেবা
    বাংলা ভাষা
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা ইসলামিক বই
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বাংলা সাহিত্য
    Library

     

    আমাদের যোদ্ধারা সেদিন মাতালের মতো টলতে টলতে উড়িয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানের মস্ত একটা ক্যাম্প। ওরা কেউ বাঁচতে পারেনি। সেদিন রাতে আমি প্রচণ্ড জ্বরে থর থর করে কাঁপছিলাম। স্বপ্নে দেখছিলাম- একটা কুকুর এসে আমার পা ধরে টানাটানি করছে, কিছুক্ষণ পর কুকুরটার পা ধরে টানছি আমি। একটু পরে দুটো কুকুর একটা ছিন্নভিন্ন অণ্ডকোষ নিয়ে মারামারি করছে। অণ্ডকোষটা আমার, কুকুর দুটোর একটি আমি। তার পর থেকে রাতে ঘুমানোর সাহস পেতাম না। মহাকাশের প্রতিটা গ্রহ-নক্ষত্র তন্ন তন্ন করে খুঁজতাম সৃষ্টিকর্তাকে। একদিন গভীর এক অন্ধকার থেকে উদয় ঘটল তার। দেশ তখন স্বাধীন হবার পথে। আমি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলাম তাকে। হাত ঢুকিয়ে দিলাম ভেতরে। গভীর থেকে গভীরে। সব শূন্য, বাকওয়াস!”

    আমি অনেক চেষ্টা করেও ওর কথাগুলোর মাথামুণ্ডু কিছুই উদ্ধার করতে পারলাম না। অবশ্য না বুঝতে পেরেই আমার ভালো হয়েছিল।

    সেদিন আমরা অনেকক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম। আমি প্রসঙ্গ পরিবর্তন করার জন্যে এটা-ওটা নিয়ে পাগলের মতো বকে যাচ্ছিলাম। অলিল একটা কথাও বলেনি।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ভাষা
    বুক শেল্ফ
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা অডিওবুক
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    অনলাইন বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ

     

    .

    ঙ.

    আমার দুই সন্তান, আরও একটা পৃথিবীর পথে। অলিল একটা বেসরকারি কলেজে বাংলা পড়ায়। বিয়ের কথা বললে বলত, কবিতা-টবিতা নিয়ে এই তো বেশ আছি, আবার ঝামেলা বাড়িয়ে লাভ কী বল! বিয়ে করা যে একপ্রকার ঝামেলাই, সেটা আমি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছিলাম। তাই আর ওকে বেশি জোরাজুরি করতাম না। আমার বেতনের তুলনায় সংসারটা বেশ বড়। তার ওপর আমার বউ একাই দু’তিনটা মানুষের সমান। দিন দিন যেন বর্ষার নদীর মতো ওর পেট ফুলে ফেঁপে উঠছে। একদিন এ কথায় সে কথায় বরকত আমাকে লোটাসের কথা বলল। ওর মুখ থেকেই জানতে পারলাম, লোটাস এখন দেশে। একটা নামকরা কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর। সে দেশে আসার পর থেকেই আমাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে। অলিল পাত্তা দেয়নি। আমি জানি, একধরনের অভিমান বশতই ও এই কাজটি করেছে। আমি কোনো কথা বলিনি। সত্যি বলতে, আমার খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল লোটাসকে। মনে হচ্ছিল সেই আগের দিনগুলোতে ফিরে যেতে। হাসুকে আর পাব না। লোটাস ফিরে এসেছে। আমরা কি আর আগের মতো হতে পারি না? আমার কথা শুনে অলিল বলল, ‘ও এখন বিরাট বড় কোম্পানি চালায়। ঢাকায় ফ্ল্যাট বাড়ি, গাড়ি- সবই আছে। যত কাছেই আসুক না কেন, ও অনেক দূরে চলে গেছে।’

     

    আরও দেখুন
    পিডিএফ
    Books
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা ভাষা
    বইয়ের
    বাংলা কমিকস
    PDF

     

    ও বরাবরই অনেক সুখী। আমি বিড়বিড় করে বললাম।

    কিছুদিন পর অলিলের স্কুলের পিয়ন এসে আমাকে ডেকে নিয়ে গেল। অলিলের জরুরি তলব। গিয়ে দেখি অলিলের পাশে বসা সাহেব গোছের এক ভদ্রলোক। আমি একটু অপ্রতিভ হয়ে গেলাম। পিয়ন হারামজাদা যদি বলত শহর থেকে এক ভদ্রলোক এসেছে তাহলে তো বগলঘেঁড়া এই পাঞ্জাবিটা চেঞ্জ করে আসতে পারতাম। বৌটাও যেমন হয়েছে, কত করে বললাম ছেঁড়াটা বুজিয়ে দিতে, কে শোনে কার কথা! খালি খায় আর ঘুমায়। আর একটু জড়িয়ে ধরলেই পেট ফুলিয়ে ফেলে! ভদ্রলোক উঠে আসলেন আমাকে তাক করে। যেন সাতসমুদ্র পাড়ি দিয়ে উনি আমাকেই দেখতে এসেছেন। কাছে এসে বললেন, তুই তো দেখছি একটুও বড় হসনি। আগের ততটুকুই আছিস! বরকত যে বলল তোর আবার ছেলেপুলেও হয়েছে। তা কী করে হলো রে? আমি এতক্ষণে বুঝতে পারলাম। কেউ না বলে দিলে কারও বাপেরও সাধ্যি হবে না বোঝার যে, এটা আমাদের লোটাস। কী যে দেখাচ্ছিল না মাইরি! আমাদের সাথে সারা দিন কাটিয়ে সন্ধ্যায় চলে গেল। বলে গেল পরের বার আসবে আমাদের নিতে। হাসুর কথা শুনে ও কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলল, “ও নিশ্চয়ই পাকিস্তানি ক্যাম্পে ডালিম চুরি করতে গিয়েছিল! এত দিনে বুঝতে পারলাম–সেই দিন আমরা ঠিকই ধরা পড়ে গিয়েছিলাম। আমি হো। হো করে হাসছিলাম। লোটাসের চোখের কোণায় জল ছলছল করছিল। আমার পিয়নগিরি শুনে বলল, “দেশে গরুর ডাক্তারের অভাবটা তাহলে আর ঘুচল না! আহা! গো বেচারি!’ বুঝলাম এত দিনে ও কিছুই ভোলেনি। ওকে পেয়ে আমরা সেই বিকেলেই ছুটে গিয়েছিলাম আমাদের গ্রামে, ফেলে আসা দিনগুলোতে। বিলের ধারে যাওয়ার সময় হয়নি। লোটাস বলল, পরের বার এসে যাবে। অবশ্য গেলেও খুব একটা লাভ হতো না। সেই বিল আর নেই। এখন ওখানে ধান চাষ হয়। দেখে বুঝবার জো নেই, এইখানে একসময় প্রবাহিত হতো ছোটখাটো একটা নদী। আমাদের জন্যে সেটা নদীই বটে। গ্রামও আর সেই গ্রাম নেই। খুব কষ্ট করে চিনে নিতে হয়। সেদিন খুব করে মনে হচ্ছিল, সময়কে থামিয়ে রাখতে পারতাম কিংবা সমস্ত আগামী দিয়ে যদি ফেলে আসা একটা দিন কিনতে পারতাম!

     

    আরও দেখুন
    গ্রন্থাগার
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    পিডিএফ
    বই
    PDF
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বইয়ের
    বাংলা সাহিত্য
    অনলাইন বই
    বই পড়ুন

     

    আচ্ছা, সব পরিবর্তন কি সুখের? ফেলে আসা দুঃখগুলোকেও এত আপন মনে হয়

    কেন, এত সুখ কেন তাতে! আমরা ফিরে আসলাম মেহেরপুর শহরে। মনে হলো এতক্ষণ কাদা ঘেঁটে ঘেঁটে শুধু শুধু গন্ধটাই পেলাম, যে জিনিসটা হারিয়ে ফেলেছিলাম, তা কিছুতেই পেলাম না।’–আসতে আসতে গাড়িতে লোটাস বলল।

    বুকের ভেতরটা বড় দগদগে, ওখানে খুঁজে দেখ, ঠিকই পেয়ে যাবি।’ অলিলের কথায় সাহস ফিরে পেলাম। তাহলে একেবারে হারায় না, পৃথিবীর কোথাও না কোথাও ঠিকই রয়ে যায় হয়তো সবচেয়ে মূল্যবান জায়গাটাতেই রয়ে যায়।

    একদিন হঠাৎ করে লোটাস এসে আমাদের ঢাকায় নিয়ে গেল। আমি গেলাম মূলত ঢাকা শহরটা দেখতে। বাবা স্বপ্ন দেখতেন, একদিন আমি এই শহর থেকে গরুর ডাক্তার হয়ে গ্রামে ফিরছি। ডাক্তার না হতে পারলেও শহরটা তো দেখে যায়। পরকালে তাও তো বাবাকে বলতে পারব! আর অলিল গেল বিদেশি মদ খেতে। দেশি মদে নাকি আজকাল ওর কবিতা বেরোয় না। আমরা প্রথমে গেলাম ওর অফিসে, পরে ফ্ল্যাটে। এত সুন্দরভাবে গোছান সব কিছু, মানুষ নিজ চোখে না দেখলে কল্পনাও করতে পারবে না। লোটাসের ফ্ল্যাট দেখে আমার স্বর্গ দেখার স্বাদ যেন মিটে গেল, আর ওর বৌয়ের কাছে হুররাও ফেল মারবে। ভদ্রমহিলা যতক্ষণ আমাদের সঙ্গে ছিল, আমি যেন হ্যাংলার মতোন ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে ছিলাম। যেন বাপেরকালে কোনো মেয়েলোক দেখিনি। নারী আমি দেখেছি খুব নেড়েচেড়ে দেখেছি। কিন্তু হুরদের গল্প শুনেছি মাত্র, মসজিদের ইমাম বলতেন, আয়তলোচন আঁখি, নূরের আলো ঝড়ে পড়ে দেহ থেকে। স্বর্গ মর্ত্যের কেউ স্পর্শ করেনি। মসজিদে বসে তিনি এর বেশি বলতে পারতেন না, বাকিটা আমি কল্পনা করার চেষ্টা করতাম, মিলার ভাবির নগ্ন শরীর এসে সব ভেস্তে দিত।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্য
    PDF
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    সেবা প্রকাশনীর বই
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা কবিতা
    বইয়ের
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য

     

    অলিল মাতাল হয়ে পড়ে রইল। লোটাস দরজা বন্ধ করে বিরাট একটা টিভিতে সিনেমা খাটাল। “দেখ, তোদের দারুণ একটা জিনিস দেখাব। বাপের কালেও দেখিসনি। শুরু হলো চারটা মেয়ের নগ্ন হওয়ার দৃশ্য। একটা সুইমিং পুলে একটা ছেলেকে নিয়ে তারা যা-তা করছে। অলিল মাতাল হয়ে আবোলতাবোল বকছে। ‘সব মিথ্যে। কিছু নেই। এই দুটো শব্দ বোঝা যাচ্ছে। মিথ্যে হবে কেন রে? এগুলো ইউরোপে সত্যি সত্যিই হয়।’–লোটাস ওকে বোঝাবার চেষ্টা করছে। আমার মন তখন অন্যখানে পড়ে।

    আমরা দুই দিন থেকে চলে আসলাম। লোটাস বারবার করে অলিলকে থেকে যেতে বলছিল। ওসব কবিতা-টবিতা ছেড়ে চলে আয়, বিলভর্তি বিদেশি মদ পাবি, চাইলে সাথে টদও পাবি। অলিল রাজি হয়নি। ও কবিতা ছেড়ে কোথাও থাকতে পারবে না। আমার বৌ-বাচ্চা আছে শুনে হয়ত থাকতে বলার সাহস পায়নি। লোটাসের এক ছেলে, এক মেয়ে। ছেলেটা আমেরিকায়, মেয়েটা কানাডায় পড়াশোনা করছে। ওরাও নাকি লোটাসের মতোই মেধাবী। বাপকা বেটা, বাপকা বেটি। আর আমার ছেলেটা দুইবার দিয়েও ম্যাট্রিক পাস করতে পারল না। বড় মেয়েটা এইটে পড়াকালীন এক রিকশাচালকের সাথে ভেগে গেল। ছোট মেয়েটাও শুনছি নাকি প্রেম করছে কোনো এক ফেরিওয়ালার সাথে। সত্যিই, বাপকা বেটা!

    তার পর থেকে আমরা মাঝেমধ্যেই লোটাসের বাড়িতে যেতাম। অলিলের বিদেশি মদে নেশা ধরে গিয়েছিল। আমাকে টানত অন্য কিছু একটু একটু করে আমি লোটাসের সুখে ভাগ বসাতে শুরু করেছিলাম। লোটাস মাঝেমধ্যে অলিলকে খ্যাপানোর জন্য বলত, “শালা, গুলি খেয়ে দেশ স্বাধীন করল। দেশের অবস্থা দেখেছিস বঙ্গবন্ধু গেল, জিয়া গেল, জাতীয় নেতারা গেল। ক্রমেই ইটস টার্নিং ইনটু অ্যা পারফেক্ট হেল। নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা দাবি করতে লজ্জা লাগে না? রাসকেল, সামলাতে পারবি না তো যুদ্ধে গেলি কেন? অলিল কিছুই বলত না। আজ হাসু থাকলে হয়ত আরও কত বিষয় নিয়ে জমে উঠত আড্ডা। আমরা পদে পদে হাসুকে খুব মিস করতাম। কিন্তু কখনোই আমরা ওকে নিয়ে আলোচনা করতাম না। আমরা তিনজনই অতীত থেকে পালাতে চাইতাম। ওদের হয়ত একটা ভবিষ্যৎ ছিল, আমার তো তাও ছিল না। আমার ছিল একটা বর্ণহীন বর্তমান–এজন্যই একেক সময় একেকটা রং এসে রাঙিয়ে যেত।

    কিছুদিন আগে আবার আমার একটা ছেলে হয়েছে। বৌয়ের বয়স কম হলেও আমার বয়স পঞ্চাশ পেরিয়ে গেল। এই বয়সে সন্তান হবার কথা না। তবুও হয়েছে। ভেবেছিলাম এইটা অন্তত দেখতে আমার মতো হবে। কিন্তু হয়নি। অন্যদের মতোই বেশ লম্বা, চওড়া আর ফর্সা হয়েছে। আমাকে যখন ওরা বাবা বলে ডাকে বড্ড বেমানান ঠেকে। সংসারের কোনো কিছুই আপন মনে হয় না-না বৌ, না সন্তান; বাড়িটাও ভীষণ অচেনা মনে হয়। একবার বিলের ধার থেকে একগুচ্ছ শ্যামা ঘাস তুলে এনে বিছানার তলে লুকিয়ে রেখেছিলাম। খুব শান্তিতে ঘুমিয়ে ছিলাম দুই দিন। তৃতীয় দিন বৌ বলল, দুই দিন ধরে বিশ্রী গন্ধ আসছে কোথা থেকে? খুঁজে খুঁজে শ্যামা ঘাসগুলো বের করে ময়লার ভেতর ফেলে আসল। গরু কেনার সাহস আর হয়নি। মাঝেমধ্যে গোহাটে গিয়ে পায়চারি করতাম। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে বৌ বলেছিল, তোমার গরুরোগ ধরেছে। কুকুরের পেটে কি আর ঘি ভাত সহ্য হয়!

    .

    চ.

    একদিন দুপুরবেলা লোটাসের গাড়ি এসে আমাদের উঠিয়ে নিয়ে গেল। খাঁ খাঁ রৌদ্রে যেন পৃথিবী পরিশ্রান্ত কুকুরের মতো জিহ্বা বের করে শ্বাস নিচ্ছে। লোটাসের এসি গাড়িতে ঢুকে মনে হলো যেন সময়কে ছয় মাস পিছিয়ে আমরা জানুয়ারিতে পৌঁছে গেছি। আমেরিকায় পৌঁছানোর কথাও চিন্তা করতে পারতাম, কিন্তু সেটা অতি উচ্চাভিলাষী ভাবনা হয়ে যেত। ঢাকায় পৌঁছেই আমরা আবার রওনা হলাম কক্সবাজারের উদ্দেশে। লোটাসকে জোরাজুরি করলে বলল, “অনেক দিনের ইচ্ছে মধ্যরাতে সমুদসৈকতে বসে পান করার, তাই ওখানে যাচ্ছি। তোদের ইচ্ছে না হলে যাস না। আমি চুপ করে থাকলাম। অলিলও কোনো কথা বলল না। মৌনতাই সম্মতির লক্ষণ। সমুদ্র দেখার কথা আমার কোনো দিনই মাথায় আসেনি। বিলের ধারে গল্প করতে করতে হাসু একবার বলেছিল চল, সমুদ্র থেকে কিছু জল এনে বিলে ছেড়ে দিই। দেখি শালা কত ভাব নিতে পারে! শালা, বিলের ধারে বসে খুব ভাব নিচ্ছ। সমুদ্রের একটা ডাক শুনলেই ভয়ে জানটা শুকিয়ে কিশমিশ হয়ে যাবে!’ নোটাসের কথা শুনে বুঝেছিলাম, ওটা বিশাল কিছু। আমার ওসব নিয়ে না ভাবলেও চলবে। আজ সমুদ্রে যাচ্ছি। গ্রামের বিলটা থাকলে সত্যি সত্যি ওখান থেকে কিছু জল এনে ছেড়ে দিতাম।

    রাত দশটার পর কয়েক বোতল মদ নিয়ে বিচে চলে গেলাম। খুব কাছের একটা হোটেলে আমরা উঠেছি। আমি আর অলিল অনেকটা সময় সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম ঠায়। অলিল বিড়বিড় করে কী যেন বলছিল। কোনো কবিতা-টবিতা হবে হয়ত। লোটাস আমাদের থেকে খানিকটা দূরে বসেছিল। থেকে থেকে সমুদ্রের ডাকে চমকে চমকে উঠছিলাম। মধ্যবিত্তের গণ্ডি পেরিয়ে আজ যেন আমি আসমানে উঠে গেছি, ভয় তো একটু লাগবারই কথা। রাত বাড়তে থাকে। আমি আর অলিল পান করতে করতে মাতাল হয়ে পড়ি। আমার মদ খাওয়ার অভ্যেস নেই; তাই একটুতেই মাতলামি শুরু করে দিই। আর অলিল মাতাল হওয়ার জন্যেই পান করে। লোটাস আমাদের মদ ঢেলে ঢেলে দিচ্ছিল। হোটেলে বলা আছে মধ্যরাতের দিকে আমাদের উঠিয়ে নিয়ে যাবে। আমি বেশ ঘোরের মধ্যে ছিলাম। লোটাস বলল, এই অলিল, আমাকে একটা কবিতা দিবি, সমুদ্রের বুকে লিখে আসব, আজ খুব কবিতা লিখতে ইচ্ছে করছে। বিনিময়ে, এই নে আমার গোল্ড-ওয়াস, গাড়ির চাবি, ক্রেডিট কার্ড সব দিয়ে দিলাম। আমি হাসতে হাসতে বললাম–শ্যালা, বোধ হয় একটু বেশিই খেয়ে ফেলেছে। জীবনে এই প্রথম আমি লোটাসকে শ্যালা বললাম। আমার বেশ মনে আছে। অলিল মুখে হাত রেখে বলল—‘চুপ, একদম চুপ! সমুদ্র এখন ঘুমাবে। যাহ্, তোকে আমার সব কবিতা দিয়ে দিলাম। পৃথিবীর সমস্ত কবিতা এখন তোর, যা সমুদ্রের বুকে লিখে একেবারে পাকিয়ে ফেল!’ তারপর আমরা আরো কী কী যেন বলেছিলাম। মাতলামি করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম ভাঙল পুলিশের গুঁতোগুতিতে। ভোর হতে তখনো খানিকটা বাকি। আমাদের সব কিছু বুঝে উঠতে বেশ কিছুটা সময় লেগেছিল। খানিকটা দূরে দেখি কিছু মানুষের জটলা। আমার আর বুঝতে বাকি রইল না কিছুই।

    .

    ছ.

    এক সপ্তাহ হলো থানায়। লোটাসের বৌ থানায় এসে আমাদের বিরুদ্ধে কেস ডায়েরি করে গেছে। লোটাসের আত্মহত্যা নিয়ে অলিল অনেকগুলো সম্ভাবনা দাঁড় করিয়েছে : বউয়ের সাথে বনিবনা ছিল না, অথবা, সন্তানদের সাথে ভালো সম্পর্ক ছিল না, কিংবা ব্যবসায় খুব খারাপ সময় যাচ্ছিল–এইসব। প্রকৃত সত্যটা ওর মাথায় এখনো আসেনি। আমি জানি, বেশ ভালো করেই জানি, অতিরিক্ত সুখই ওর আত্মহত্যার কারণ!

    ধুমড়ি বৌকে ছেড়ে এখন আমি অলিলের সাথে আছি, সৃষ্টিকর্তাকে ছাড়তে পারিনি। অলিল কবিতা লেখা ছেড়ে দিয়েছে। জেলখানায় নাকি কবিতারা আসতে চায় না। আমরা এখন মাঝেমধ্যে বিলের ধারে বসে লোটাস আর হাসুর সাথে প্রচণ্ড আড্ডায় মেতে উঠি। বিলের ধারের পাকুড়গাছটার মগডালে বসে আমাদের আচ্ছা শোনে একঝাক কবিতা। অলিল ওদের সাথে কী যেন ফিসফাস করে! জেলখানার কনস্টেবল এসে আমাদের ঘরে ফেরার কথা মনে করিয়ে দেয়। লোটাস আর হাসু ভেসে যায় মেঘে, আমরা ডুব দিই জলে। আর কবিতারা সবুজের সাথে লেপ্টে যায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমধ্য বয়সের সঙ্কট – মিনা ফারাহ
    Next Article অক্ষয় মালবেরি – মণীন্দ্র গুপ্ত
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }