Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচিত গল্পসংগ্রহ

    লেখক এক পাতা গল্প1108 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ফেরা

    এক একটি খণ্ড দৃশ্যে জীবনকে উপভোগ করার জন্য এই জীবনমালা। যেমন পুষ্পবতী। বাসে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে স্বামীর ফেরার আশায়। বিকেল হয়ে গেল, ফিরছে না। কেউ কোনো খবরও দিয়ে যায়নি। কেউ বলেনি তিতলিপুরের বাসে উঠে যেতে দেখলাম। যেমন সেই লোকটা, কী যেন নাম! পঞ্চায়েতের বাবু। বগলে ছাতা, সে ঘুরে ফিরে চলে আসে, চশমার আড়ালে পুষ্পবতীকে খোঁজে। নানা ধান্দার খবর দিয়ে যায়। আর বিপ্রদাস তাকে দেখলেই কেন যে খেপে যায়। লোকটাকে দেখলে পুষ্পবতীর মানুষটা আড়ালে থু থু ফেলে। গরমেন্টের লোক, দালাল, শালাকে সুযোগ মতো হাতে পাই—পোঁদে বাঁশ ঢুকিয়ে ছাড়ব। থু থু! লোকটা নেমকহারাম। পঞ্চায়েতের বাবু, প্রভাবশালী মানুষ। জ্যাংরার মোড়ে পেল্লাই বাঁশের আড়ত, সেখানে বাঁশ কেনাবেচা চলে, পেল্লাই সব ফ্ল্যাট বাড়ি উঠছে–বাঁশের ঝাড় সাফ হয়ে যাচ্ছে।

    পাজামা পাঞ্জাবি গায়, কখনো তিনি ভোটের বাবুও হয়ে যান—কখনো একা হাঁটেন না, সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে হাঁটেন—বিপ্রদাস আছে। বিপ্রদাস।

    কেউ সাড়া দেয় না।

    পুষ্পবতী লোকটাকে কেন যে ভয় পায়। কাজের ধান্দায় মানুষটা কোন সকালে বের হয়ে গেছে, অনু বাসে উঠে স্কুলে গেছে—বাড়িটা ফাঁকা। লোকজন নিয়ে হারুবাবু তার উঠোনে, বসতে বলতে হয়, না হলে যে বাড়িঘরের মান থাকে না। পুষ্পবতী মাথায় ঘোমটা টেনে থামের আড়ালে গিয়ে দাঁড়ায়।

    বিপ্রদাস কি বাড়ি নেই।

    আজ্ঞে কাজে বের হয়েছেন।

    ও কী স্থির করল, কিছু তো জানাল না।

    জমিন আর মেয়েমানুষ নাহলি পুরুষের জীবন চলে না, এইসব অঞ্চলে বাঁশের খোঁজে এলে হারুবাবু টের পান। বিপ্রদাসের বাঁশবাগানটি তার নজরে পড়েছে। এত দারিদ্র্য তবু কেউ একটি বাঁশে হাত দিতে পারছে না।

    হারুবাবু বললেন, ওকে বলবে আড়তে যেন দেখা করে। ও কীসের আশায় যে বাঁশবাগান আগলাচ্ছে বুঝি না। আরে সময় থাকতে বিক্রি করে দে। বাঘা সরকারের থাবা ঝুলছে—ও কি কিছু টের পায় না।

    বারান্দায় পুষ্পবতী আসন পেতে দেয়।

    হারুবাবু তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে আর এগোয় না। শোনো বউ মা, কিছু থাকবে না। বাঁশের দর চড়ছে, এই বেলায় বাঁশ বিক্রি না করলে বিপ্রদাসের কপালে দুঃখ আছে বলে দিও। আমরা বসব না। বিপ্রদাস কোনো নোটিশ পায়নি?

    আজ্ঞে না। নোটিশ নিয়ে বহু কথা ওড়াউড়ি হয়। আজ্ঞে না বলে সে বোধহয় ঠিক কাজ করেনি।

    আরে আজ্ঞে না বললেই হল। সরকারের নোটিশ ফিরিয়ে দিলেই হল! সাধ্য আছে, ফিরিয়ে দেবে, সরকারের লোক এসে ফিরে গেলে কী হয় জান না!

    পুষ্পবতী থামের আড়ালেই দাঁড়িয়ে থাকে—সে আর কথা বলে না। কারণ সে তো ঠিক জানেও না, মানুষটা নোটিশ পেয়েছে না পায়নি। তবে মাসখানেক ধরে গুম মেরে আছে।

    শোনে বউ মা, দুবার ফিরিয়ে দেবে, টাকা দিলে নোটিশ না ধরিয়ে দিয়েও যেতে পারে গরমেন্টের লোক। তবে কথা একখানা-রেহাই নেই। সই করে নিলে সরকারের ক্ষতিপূরণ সহজেই পেয়ে যাবে। দু-হাজার টাকা কাঠা, বাপের জন্মে শুনেছ, জমির দাম এত মাঙ্গা হয়। নোটিশ না নিলে, দেয়ালে সেঁটে দিয়ে যাবে— তখন তোমার জমিও যাবে, টাকাও যাবে।

    পুষ্পবতী কী যে বলে!

    নীলু কি এদিকটায় এসেছিল।

    পুষ্পবতী নীলুকে ঠিক চেনে না। তবে শুনেছে, কে একজন মাঠচাষিদের উসকাচ্ছে। রোগাপটকা মানুষটার খুবই তেজ। বিপ্রদাসই খবর দিয়েছে। জমি বাঁচাও কমিটি গড়েছে নীলু দত্ত।

    হারু হাজরা বলল, বিপ্রদাসকে বলল, নীলুর সঙ্গে যেন ঘোরাঘুরি না করে। সব খবরই পাই। যত সব চ্যাংরামি। আরে বুঝিস না সরকার ময়দানের ঘোড়া ছেড়ে দিয়েছে। নীলুর সাধ্য কী জমি বাঁচাও আন্দোলন করে চাষের জমি রক্ষা করে। বাধা দিতে গেলে জমিও যাবে, মানুষও যাবে।

    পুষ্পবতী ভাবল, মানুষটা যে সারাদিনই প্রায় বিবাগি হয়ে থাকে, নীলু দত্তের পাল্লায় পড়ে না কাজে কামের ধান্দায়—সে কিছুই জানে না। চাপা স্বভাবের মানুষ হলে যা হয়।

    সে চোখের আড়ালে দাঁড়িয়ে শুধু শুনছে।

    শোনো বউ মা, বাঁশের বাগানটিও কম মূল্য ধরবে না। সরকার জমি দখল করার আগে, পোক্ত বাঁশগুলি বেচে দাও। ওকে তুমি বোঝাও। এলাকার বাঁশের সুনাম আছে বলেই না বিপ্রদাসের বাবা সুরদাস তাঁর উরাট এলাকাতে বাঁশের ঝাড় বসিয়ে দিল। নারকেল গাছ, তালগাছ, লিচু, আম যা আছে বেচে দাও। সরকারের দখলে চলে গেলে সব যাবে বলে গেলাম। কেউ রক্ষা করতে পারবে না।

    সব তো যাবেই। ময়দানের ঘোড়া ছুটিয়ে দিলে মানুষ তো মানুষ। পাখি প্রজাপতিও দেশ ছাড়া হবে। এই জমি মাটি যে আত্মার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কে বোঝে। পৈতৃক ভিটা, বাবা ঠাকুরদার জমি, কত গাছপালা, কত পাখি উড়ে আসে, সামনের সড়ক পার হলে যতদূর চোখ যায় ধানের জমি, ফুলের চাষও আছে, কেউ কেউ ফুল চাষ করে—তাদের জমি নেই, পৈতৃক ভিটা সম্বল—আর আছে ভিটা সংলগ্ন দুখানা বাঁশ ঝাড়।

    পুষ্পবতী বারান্দায় থামে হেলান দিয়ে চুপচাপ বসে থাকে—কেমন একা হয়ে যাচ্ছে।

    সে হঠাৎ লাফিয়ে উঠল, ভবা গেল কোথায়!

    ভবা, ভবারে।

    আর তখনই মনে পড়ে গেল, সকাল বেলায় ভাদুর মা এসে ভবার হাত ধরে নিয়ে গেছে।

    বউ মা ছেলে যে ছাড়ছে না।

    এই, কী হচ্ছে। পিসিকে দেখলেই তোর কী হয়।

    ভবা খিল খিল করে হাসে। আর পিসির পেছনে দৌড়ায়।

    ঠিক আছে বউ মা, তুমি যাও, আমি তাকে দিয়ে যাব। ভবার কোনো দৌরাত্ম্য নেই, বারান্দায় এক বাটি মুড়ি মোয়া দিয়ে বসিয়ে দিলেই খুঁটে খুঁটে খাবে। এত গাছপালা জঙ্গল, ভবার কি তোমার কোনো অভাব আছে।

    তা ঠিক—

    এই এক আশ্চর্য পৃথিবী, যে বাঁচে, যে থাকে সেই জানে কী মজা আছে এই বেঁচে থাকার।

    হারু হাজরা কেমন তরাসে ফেলে দিয়ে গেল তাকে—একে চৈত্র-মাস।

    জল নেই।

    ঝিল্লি দেখা যায় প্রান্তরে।

    খাল বিল পার হয়ে তাড়িপোতার অন্নপূর্ণার মন্দিরের ত্রিশূলটিও দেখা যায়। সকাল হলে পুষ্পবতী প্রথমেই সেই দূরবর্তী ত্রিশূলটির শরণাপন্ন হয়। ভবার বাবা, ভবারে ভালো রেখো ঠাকুর—মেয়েটা ফ্রক পরে স্কুলে গেছে, স্কুলে গেলেও চিন্তা। যা দিনকাল—মানুষ মানুষকে সুযোগ পেলেই কামড়ে দেয়। রাস্তায় মেয়েটাকে বাস থেকে কেউ যদি জোর করে নামিয়ে দেয়, হারু হাজরা চলে যাবার পরই এসব চিন্তা মাথায় আসে। জমিদারদের কাল কবেই গেছে—ঠাকুরদার মুখে জমিদারদের জবরদস্তির মেলা খবর সে রাখে, এখন পলিটিকসের বাবুরা জমিদার। বাড়িতে এসে না হলে হারু হাজরা হুমকি দিতে পারে—নীলু দত্ত কি তোর ব্যাটা নাক কামড়ে দিয়েছে। নীলু দত্তের সঙ্গে মিশলে কি পুতনা রাক্ষসি তারে গিলে খাবে। এত রোয়াবি, ছিলি তো যোগলের ব্যাটা—পলিটিকস করে বাবু হয়ে গেলি!

    পলিটিকসের বাক্স, বিপ্রদাসের কথাবার্তায় লোকটার প্রতি অতি বিষম উক্তি শুনে শুনে পুষ্পবতীও বোঝে পলিটিকসের বাক্সে কী থাকে—বড়ো বড়ো কথা বলে জাগয়া দখলের কথা থাকে, এলাকা দখলের কথা থাকে, পলিটিকস থাকলেও মানুষ বাঁচে, পলিটিকস না থাকলেও মানুষ বাঁচে। মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টির অনিষ্টকারীদের পুষ্পবতী দু-চক্ষে দেখতে পারে না।

    বিপ্রদাসের মুখেই শোনা।

    বুঝলি পুষ্প, আমরা এই ধূর্ত লোকগুলোর পণ্য।

    পণ্য।

    পণ্য বুঝিস না, আমাদের বেচাকেনা করে বাবুরা। আমাদের লোভ দেখিয়ে ফুলটুসি বানায়। কর্তার ইচ্ছায় কর্ম হয়। ভাগের ভাগ বাবুরাই খায়। আমরা খাই উচ্ছিষ্ট।

    এটা ঝোঝে পুষ্পবতী, মানুষটার মাথা গরমের কারণও বোঝে। উচ্ছেদ। এই একটি কথাই এলাকার মানুষজনের ঘিলু গলিয়ে দিচ্ছে। বিপ্রদাস বাড়ি থাকলে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকে। উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিমে যতদূর চোখ যায়, যত বসত আছে সব উড়বে বাতাসে। হাওয়ায় পাতা উড়ে যাবার মতো উড়ে যাবে সব। যত এইসব বিপ্রদাস ভাবে, তত চণ্ড ক্রোধ তাকে পাগল করে দেয়।

    বিপ্রদাস বাঁশঝাড়ের তলায় কখনো বসে থাকে, কখনো বাপঠাকুরদার লাগানো আম জাম গাছের দিকে তাকিয়ে বসে থাকেকেমন এক ঘোর সষ্টি হয় ভিটে মাটির জন্য। শুধু নীলুদাই তাদের বল ভরসা। মানুষটা কাগজে উচ্ছেদকারীদের হয়ে খবর ছাপছে। বলে গেছে, শোনো বিপ্রদাস, এই জলাভূমি টাউন হলে সব হবে। নীলুদা মউজা দাগ নম্বর দেখিয়ে তাকে বুঝিয়েছে, সোজা না, সড়ক যাবে লম্বা সড়ক, জল জঙ্গল থাকবে না, সরকার কেনা-বেচায় মেতেছে।

    ভাদুই ঠিক বলে, কার জমি কে বেচে। আমরা দাদা বলির পাঠা। মালা গলায় পরিয়ে সাজিয়ে দেবে—কিছুই চিহ্ন থাকবে না, যাদের যূপকাষ্ঠে ফেলে ঘ্যাচাং।

    এইসব ভাবলেই বিপ্রদাসের শরীর নিথর হয়ে আসে। তার কিছু ভালো লাগে। চৈত্র মাস। চাষ আবাদের জমি পার হয়ে জলাভূমি শুকিয়ে কাঠ।

    জল নেই। সেই কবে শীতে বৃষ্টিপাত, তারপর আর মেঘের দেখা নেই। আকাশ তামার বাসনের মতো চকচকে হয়ে আছে। দিন যায়, মাস যায় আকাশ আর ঘোলা হয়ে ওঠে না। মাঠ খাঁ খাঁ করছে। কিছু শকুন উড়ছিল। দূরে অদূরে বাঁশের জঙ্গল—নিশিতে থেকে বিশ্রী শব্দ ওঠে। কে যেন হেঁকে যায়। তোমার সব হে বিপ্রদাস। তুমি অবেলাতেই রওনা হয়ে যাও, আশায় আশায় বসে থেকো না।

    আসলে তার কী মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

    দু-দিকের মাঠ ফেলে ছাল চামড়া ওঠানো পাকা সড়ক আটখরার দিকে চলে গেছে। সেখানে গেলেই শহর, সেখানে স্কুল সিনেমা ভি আই পি রাস্তাটা অজগরের মতো চারপাশের বৈভব যেন নিচ্ছে। সেখানে এই সড়ক ধরে বাস যায়, সাইকেল যায়। বাঁশবোঝাই হয়ে যায় গোরুর গাড়ি। মানুষজন নামে ওঠে। রাস্তার পাশে কোথাও টালির কারখানা। আবার দূরে গেলে মাছের ভেড়ি, আরও দূরে গেলে ইটের ভাঁটা। ভাঁটাগুলির পাশ দিয়ে পাকা রাস্তার মেলা ডালপালা বের হয়ে গেছে। কোনওটা হাসনাবাদ যায় কোনওটা বারাসতের দিকে—আবার বসিরহাটের রাস্তাও তার চেনা। কিংবা সাইকেলে কিছুটা গেলেই হাসনাবাদ যাবার রেলে উঠে পড়া যায়।

    এইসব রাস্তার বিপ্রদাসকে যাওয়া আসা করতেই হয়—সেই জনম ইস্তক সে রাস্তার দোকানপাট, মানুষজন, গাছপালা পার হয়ে সুমার প্রকৃতির বনজঙ্গলে, যত রকমের গরিব পুরুষের বসতি দেখে দেখে বড়ো হয়েছে। কেউ ফিরি করে, কেউ মাছ ধরে, কেউ ফুরনে প্লাম্বার মিস্ত্রি, ইটভাঁটাতেও কাজের মানুষ মেলা—যতদূর চোখ যায়, সবার মধ্যেই আছে প্রিয়জন, প্রিয় ভূমি, গেরস্থ মানুষও মেলা, ইটের কোঠাবাড়ি, টালির ঘর, ছনে ছাওয়া বাহারি ঘর, হাল গোরু গোয়ালে-কুকুর বেড়ালও চেনা যায় তারুলিয়ার ঘোষবাড়িতে গেলে—একটি মহাবিশ্ব নিয়ে যে তার বাস। উচ্ছেদ করলেই হল—যত ভাবে তার মাথা গরম।

    সেই সে বছর তার লায়েক পুত্রটির মৃত্যুদৃশ্যও চোখে ভেসে ওঠে। স্মৃতির শেষ নেই–গাছপালায় তার সব স্মৃতি মাখামাখি হয়ে আছে। সে গাছ বেচে না, বাঁশ সহজে বেচে না, পাকা বাঁশঝাড়ের পুষ্টি হবে ভেবেই বেচে তার আটান্ন শতক জমির মধ্যে কী নেই—একটা সফেদা গাছ পর্যন্ত আছে। লিচ গাছটায় ঝেপে লিচ হয়, লাল হয়ে থাকে গাছের ডালপাতা। ফুলের গন্ধেই সে টের পায় কোন গাছের কোন ফুল। আমের মুকুলের গন্ধ উঠলে আধা আধা হয়ে যায় পাতা ডাল। কত কিছুর যে স্মৃতি—সে ভেবে ভেবে শেষ করতে পারে না। যেন এক জন্ম এবং জন্মান্তরের অস্তিত্ব গাছপালার মধ্যে এবং আটান্ন শতক জমিতে লেপ্টে আছে।

    সে ডাকল, বউ এক গ্লাস জল দে।

    মানুষটা তার এই রকমের—বের হলে বাড়ি ফিরতে চায় না।

    বাড়ি থাকলে বের হতে চায় না।

    তার শুধু অপেক্ষা।

    এই অপেক্ষাও যে ঘরবাড়ি গাছপালায় জড়িয়ে থাকে।

    পুস্পবতী এক গ্লাস জল দিয়ে বলল, কাল খেতি ঘুরে গেছে। বলল, দাদা বাড়ি নেই।

    খেতি তার বাড়ির লাউ, কুমড়ো, সিমের মাচান করলে সিম, পালং শাক, ঢেরস, ঝিঙে, যে দিনকার যা কিনে নিয়ে যায়। আমের দিনে আম, লিচুর দিনে লিচু, কাঁঠাল গাছ দুটোও কম যায় না। উঁচর থেকে বিক্রি শুরু। পাকা কাঁঠালে শেষ। চৈত্র মাস। বৃষ্টি নেই, লাউ-এর মাচানে ফুটো লাউ ঝুলছে, খেতি তারই লোভে ঘুরছে, সে বোঝে। একেবারে কচি, আরে বাড়তে দে।

    আসলে খেতি যেন তার চেয়ে বেশি টের পায়। বাড়িটায় সে সওদা করতে আসে। বিপ্রদাস বসে থাকে না। সারাদিন কোদাল মেরে জমি সরেস করে রাখে। জায়গায় জায়গায় সিম, লাউ-এর বিচি লাগিয়ে রাখে। যেদিনকার যা। খেতি জানে কোথাও কিছু না পেলেও বিপ্রদার জমিতে কিছু না কিছু ফলন থাকে। ওই তো মোচা ঝুলছে।

    ওই তো লেবু গাছের, লেবুর ফলন—দিন দাদা।

    তারপর দামদর হয়।

    খেতি মাথার ঝাঁকা নামিয়ে বসে। তারপর ফাঁকা ঝাঁকা দেখিয়ে বলবে, আপনারা আছেন বলে আমরাও বাঁচি। দাদা আপনার গন্ধরাজ লেবুর বড় সুখ্যাতি।

    বাড়ি এবং জমির এখানে সেখানে কত রকমের যে জীবনের উৎস। কাঁচালংকার গাছও আছে। বারোমাসই লংকার ফলন হয়। আট-দশটা গাছ কি বাড়ন্ত, ফুল ফুটছে তারপর লংকা, তারপর এই ধানি লংকার বাজারও খুব ভালো–সপ্তাহের এক দু-দিন। এই বাড়িটায় তার কিছু না কিছু সওদা হয়ে যায়।

    সে বলে, তোমার ঘরে লক্ষ্মী বাঁধা। যাতে হাত দেও তাতেই সোনা ফলে। বউদি যে তোমার অন্নপূর্ণা দাদা।

    এইসব সোহাগি কথায় পুষ্পবতীও গলে যায়। কিছু না কিছু খেতিকে খেতে দেয়। যখন যা হয়, কখনো মুড়ি, না হয় রুটি, আলুর হেঁচকি। খেতে পেলে সে আরও সোহাগি হয়ে যায়। তবে সে দাদাকে ঠকায় না, ন্যায্য দাম দেয়। পুষ্পবতী আজও বারান্দার খুঁটিতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেই মানুষটা কোন সকালে বের হয়েছে ফেরার নাম নেই। ঘুরে আসছি বলে বের হল।

    কিন্তু ফিরছে না।

    সকাল গেল, দুপুর গেল ফিরে এল না।

    এই এক বাতিক। বের হলে আর ফিরতে চায় না।

    কোথায় যে গেল মানুষটা! বলেও গেল না। তবে এমন যে হয় না, কতবারই দেখেছে, অনেক রাত হয়ে গেছে ফিরতে। তবে কেউ না কেউ খবর দিয়ে গেছে, কাকা হাসনাবাদের রেলে উঠে গেল। খবরটা দিতে বলল। চিন্তা করবে না কাকি। রাত হবে ফিরতে।

    মানুষটার বাঁধা মাইনের কোনো কাজ নেই। রাস্তার মোড়ের হাসুর চায়ের দোকানেও মাঝে মাঝে বসে থাকে। রোজগারের ধান্দায় মানুষজনের সঙ্গে মিশে থাকতে ভালোবাসে। বাড়িতে ফিরলেই মাথা গরম করে ফেলে।

    তখন পুষ্পবতীর ভয় হয়।

    আরে ছ্যাঁচড়া জীবন আমার। বউ তুমি বোঝ না। মানুষটার মাথা গরম হলে জীবন সম্পর্কে ধিক্কারেরও শেষ নেই। গাছের ফলন, মাচানের ফলন কিংবা চাষের ফলনে তার যে জীবন নির্বাহ হয় না।

    সে জীবন নির্বাহের জন্য ঠেকও খাটে।

    কখনো মাছের ভেড়িতে, কখনো বাঁশের জঙ্গলে অথবা ইটের গাড়িতে উঠে তেঘরিয়া, বাগুইআটি, জ্যাংরা যেখানে যখন সুবিধা পায়, চুন সুরকি বালি ফেলে দিয়ে আসে।

    কোথায় যে গেল!

    কত কাজ। অনুর স্কুল থেকে ফেরার সময় হয়ে গেল। ভবা ফড়িং-এর পেছনে ধাওয়া করছে। সে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে। কাউকে দেখলেই এই মলয়।

    আমায় ডাকছেন কাকি?

    তোর কাকাকে দেখেছিস।

    না কাকি।

    কোথায় যে গেল। কিছু বলেও গেল না।

    কেমন তরাসে পড়ে যাচ্ছে পুষ্পবতী। তরাস থেকে আত্মরক্ষার জন্য ছুটে গিয়ে ভবাকে কোলে নিয়ে বাড়ি থেকে নেমে গেল। ভবা কোলে থাকলে সে সাহস পায়। কেউ তার কোনও ক্ষতি করতে পারবে না, সে সহজেই দরজায় শেকল তুলে এ-বাড়ি সে-বাড়ি যেতে পারে। মানুষের সঙ্গে কথা বললেও সে জোর পায়। রাস্তার। দাঁড়িয়ে অচেনা লোকের সঙ্গে কথাও বলতে পারে। এবং এভাবে সে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে দেখতে পায়, মানুষটা ফিরছে। এই ফেরা যে জীবনে কত মাধুর্য তৈরি করে পুষ্পবতীকে না দেখলে বোঝা কঠিন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনানা রসের ৬টি উপন্যাস – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ৩০০ বছরের কলকাতা : পটভূমি ও ইতিকথা – ডঃ অতুল সুর

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }