Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচিত গল্পসংগ্রহ

    লেখক এক পাতা গল্প1108 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বাগানের তাজা গোলাপ

    আজকাল কোনো অনুষ্ঠানে আমার যেতে ইচ্ছে হয় না। তবু যেতে হয়। এমন সব কাছের মানুষজন আসে অনুরোধ নিয়ে, যাদের শেষ পর্যন্ত কিছুতেই ‘না’ বলতে পারি না। অনেক সময় উপরোধে ঢেঁকিও গিলতে হয়।

    এই উপরোধের ঢেঁকি গিলতে আজ যাচ্ছি। নতুন লাইব্রেরি ভবনের উদবোধন। ফিতে কাটতে হবে। আমি এবং আমার এক লেখক-বন্ধু প্রধান অতিথি, বিশেষ

    অতিথি। স্টেশন থেকে গাড়ি করে নিয়ে গেল। অনুষ্ঠানে মানুষজনের সমাগম বেশ ভালোই হয়েছে। যদিও এই গল্পের জন্য এগুলো বাড়তি কথা, তবে গল্পের তো শুরু থাকে–শুরুটা এভাবেই করা গেল।

    অনুষ্ঠান শেষে অটোগ্রাফের কিছুটা ব্যস্ততা থাকে। একজন বিশ-বাইশ বছরের মেয়ে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করল। আজকাল পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম বড়ো কেউ করে না। করলেও আমার অস্বস্তি হয়। বললাম, আমি তো তোমার বাবা-কাকা হই না। প্রণাম কেন? যাকে-তাকে প্রণাম করতে নেই।

    মেয়েটি একদম ঘাবড়াল না। বলল, তার চেয়েও বেশি।

    খুবই দমে গেলাম কথাটাতে।

    মেয়েটি দুটো তাজা গোলাপ আমার হাতে দিয়ে বলল, আমার বাগানের।

    তুমি বাগান করো?

    ওই আর কী! আপনাকে দেবো বলে এনেছি।

    তারপরই মেয়েটি ভিড়ের মধ্যে কোথায় যে হারিয়ে গেল!

    কে যে কখন নিজের পৃথিবী আবিষ্কার করে ফেলে, বুঝি না। অনুষ্ঠানের মঞ্চেই রজনীগন্ধার মালা কিংবা ফুলের স্তবক ফেলে রেখে আসি। অথবা যে বালিকা মালা পরায়, তাকে পরিয়ে দিই। কিশোর হলে, তাও পারি না। কোথায় যে সংস্কারে বাধে। অবশ্য এ-সবও গল্পের জন্য লিখছি না গল্পটি এখনো শুরুই হয়নি।

    আমার এই হয়। গল্প শুরু করতে সময় লাগে, গল্প শেষ করতে সময় লাগে না।

    অনুষ্ঠানের মাতব্বর ব্যক্তিরা এই প্রাচীন লাইব্রেরির বার্ষিক অনুষ্ঠানে যে-সব রথী মহারথীদের নিয়ে এসেছিলেন গত একশো বছর ধরে, তাঁদেরও বিস্তারিত বর্ণনা দিলেন। আমার মতো চুনোপুঁটিকেও কিছু বলতে হল। লাইব্রেরিতে শরৎচন্দ্রও এসেছিলেন—তিনি আসতেই পারেন। জায়গাটা থেকে শরৎচন্দ্রের বাড়ি বেশি দূরও না। একটা জংশন স্টেশন থেকে মাইল দেড়েক হেঁটে গেলেই তাঁর বাড়ি।

    এমন সব কথার মধ্যেই আমাকে নতুন ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হল। ছাদটি অতি বিশাল, সামনে বর্ষার গঙ্গা কলকল ছলছল।

    নদী থেকে ভারি মনোরম ঠাণ্ডা বাতাস উঠে আসছে। সামনে নিরন্তন আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে মেয়েটির মুখ কেন যেন মনে পড়ে গেল। সে তার বাগানের দুটো তাজা গোলাপ দিয়ে গেছে। অবহেলায় গোলাপ দুটো অনুষ্ঠানের মঞ্চে যদি পড়ে থাকে, তবে তাকে খাটোই করা হবে। সে জানবেও না—গোলাপ দুটো ফেলে এসেছি। ভাবলাম, গোলাপ দুটো যত্নকরে নেওয়া দরকার। ব্যাগে রাখলে—গোলাপ দুটো নষ্ট হয়ে যেতে পারে ভেবে, একজনকে বললাম, ভাই, সামান্য কলাপাতায় গোলাপ দুটো একটু জড়িয়ে দেবে।

    এবারে গল্পটা শুরু করা যাক।

    হাওড়া স্টেশনে নেমে ট্যাক্সি পাওয়া গেল না। আচমকা ট্যাক্সি ধর্মঘট। কোথায় যেন ট্যাক্সি ডাইভারের খুনখারাবির খবর পাওয়া গেল।

    আমার লেখক-বন্ধুটি থাকে দক্ষিণে। আমি থাকি উত্তরে। রাত প্রায় দশটা বাজে। আমাদের দিকের বাস-টাস কিংবা মিনি রাত দশটার পর বিরল হয়ে আসে। শেষে বিপদে না পড়ি—এই ভেবে, একটা মিনিবাস ধরার আশায় সাবওয়ের দিকে এগোতে থাকি।

    বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখলাম আমাদের দিকের একটা বাসও নেই।

    আর একটু এগিয়ে দেখা দরকার, মিনি যদি থাকে। ভাগ্য প্রসন্ন, পেয়েও গেলাম। উঠে দেখি, ভেতরের দিকে একটি সিট-ই খালি আছে। তবে বসা মুশকিল। একজন সাত-আট বছরের বালিকা সিটের অধিকাংশ জায়গা দখল করে রেখেছে।

    কী যে বলি!

    মেয়েটির পাশে একটি সুন্দর প্লাস্টিকের ব্যাগ। কোলে প্ল্যাস্টিকের একটি হরিণ-শিশু। একপাশে তার ছোট্ট খেলনার রেলগাড়িও আছে। সে তার লটবহর নিয়ে বেশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে আছে।

    বললাম, আমাকে একটু জায়গা দেবে? বসব।

    মেয়েটি আমাকে দেখে মুখ তুলে, তারপর জানালার দিকে তাকিয়ে বলল, না। আমি সরে বসব না।

    সুন্দর প্লাস্টিকের ব্যাগটি সে জানালার দিকেই রেখেছে। আর আশ্চর্য, ব্যাগটি সুরক্ষার জন্যই হোক, অথবা অন্য কোনো কারণেও হতে পারে, সে বেশ দু-সিটের অনেকটা জায়গাই দখল করে বসে আছে। ও সরে না-বসলে, আমার বসার জায়গা হয় না।

    বললাম ব্যাগটা কোলে নাও, তাহলেই জায়গা হয়ে যাবে।

    ছোট্ট মেয়েটি খুবই গম্ভীর হয়ে গেল।

    পেছনের সিট থেকে কেউ তখন বলছে, অ্যাই, সরে বস না। ওনাকে বসতে দে। তুই কী রে?

    আমার দিকে তাকিয়ে ভদ্রলোক বললেন, সারা রাস্তায় জালাচ্ছে। কাউকে বসতে দিচ্ছে না পাশে। কিছুতেই সরে বসবে না।

    অবশ্য বাসে অন্য উত্তেজনা প্রবল।

    কেউ বলছে, এতদিনে সরকার একটা কাজের কাজ করেছে!

    কেউ বলছে, আগেই করা উচিত ছিল। সুরক্ষা বলে কথা!

    কিছুদিন ধরেই মানুষজন বড়োই উত্তেজনায় ভুগছে। এখন সুরক্ষা ছাড়া মানুষের মাথায় যেন সব কিছুই ভোঁতা হয়ে গেছে।

    পেছনের সিটে বসা ভদ্রলোক মেয়েটির হয়তো কেউ হবে। বাবা হতে পারে। মামা কাকা যে-কেউ হতে পারে।

    ওঁর কথায় আমি কেমন বিব্রত বোধ করলাম।

    মেয়েটি আমার দিকে আর তাকাচ্ছে না। জানালার চোখ রেখে সেতু পার হবার সময় নদীর জল দেখছে। বাসে যে সুরক্ষা নিয়ে এত উত্তেজনা চলছে—কীসের সুরক্ষা, কেন সুরক্ষা সে কিছুই বুঝছে না। তার নিজের জায়গাটির সুরক্ষা ছাড়া, সে বেশি কিছু যেন বোঝেও না।

    বাধ্য হয়ে বললাম ঠিক আছে। না বসলেও চলবে। আমার দাঁড়িয়ে যেতে অসুবিধে হবে না। আপনি ওকে প্লিজ, কিছু বলবেন না।

    আসলে মিনি কিংবা বাসে বসতে পাওয়া গেলে, সৌভাগ্যবান হতে হয়। এখন তো আবার সুরক্ষার আবেগে মানুষজন ভাসছে। একজন বলেই ফেলল, আপনি এখানটায় বসুন। আমি দাঁড়িয়ে যেতে পারব। কোনো অসুবিধা হবে না।

    না না, আপনি বসুন। আপনি দাঁড়িয়ে যেতে পারলে আমিও পারব।

    লোকটির কথায় কিছুটা যে আহত, মেয়েটি আমাকে দেখেই তা টের পেয়েছে। সে কী ভেবে জানালার দিকে সামান্য সরে বসল। তার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কিছু খেলনাপাতি গুছিয়ে, প্লাস্টিকের ব্যাগে তুলেও রাখল।

    আমি তবু বসছি না দেখে মেয়েটি বলল বোসো না। জায়গা হয়ে যাবে।

    আমি হাসলাম।

    মেয়েটি এত চঞ্চল আর সুন্দর যে তাকে ভারি আদর করারও ইচ্ছে হল। শিশুরা আছে বলে পৃথিবীটা যে এত সুন্দর তাও টের পেলাম।

    মেয়েটি আরও চেপে, আরও একটু সরে বলল, কী হবে না?

    আমি না বসলেও স্বস্তি পাচ্ছে না যেন মেয়েটি—তবু সুন্দর প্লাস্টিকের ব্যাগটি কোলের উপর রাখবে না।

    কী আছে ওই ব্যাগে? এত সতর্ক ব্যাগটি নিয়ে। ব্যাগের মধ্যে এমন কোনো কোমল বস্তু থাকতেই পারে, কোলে তুলে রাখলে হাতের চাপে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

    যাই থাকুক, আমার বসে পড়া ছাড়া আর উপায় নেই।

    আর বসতেই মেয়েটি বলল, তোমার নাম কী গো?

    এতটুকুন মেয়ে চোখ দুটো ভারি সুন্দর—আবার কখনো সব কিছু তার মনে হয় ভারি রহস্যে ভরা, সে আমার পাশে বসে আছে, পেছনে কেউ আছে তার—কত সহজে সে আমার নাম জানার আগ্রহ প্রকাশ করল।

    তার দিকে তাকিয়ে হেসে দিলাম। বললাম, আমার নাম দিয়ে কী হবে?

    বলোই না। জানো, বাবা আমাকে আববু বলে ডাকে। জানো, আমার না, বাবার, বাবা আছে। তাঁর বাড়িতে আমরা যাচ্ছি।

    মেয়েটির কথাবার্তা এত আন্তরিক যে কেবল আদর করতে ইচ্ছে হয়। কী পাকা পাকা কথা অথচ নিষ্পাপ।

    এমন জীবন তো আমরাও পার করে দিয়ে এসেছি।

    বললাম, বাবার বাবা তোমার কে হয়?

    বা রে, তুমি তাও জানো না! নানাজি হয়।

    তাহলে দাদুর বাড়ি যাচ্ছ?

    হ্যা। জানো, আমার দাদুর খুব অসুখ। বাঁচবে না। তারপর পেছনে ঘাড় ফিরিয়ে বলল, আমার বাবা। আমার মা। কোলে দ্যাখো আমার ভাই।

    পেছনে চেয়ে দেখলাম—ভাইটির বয়স বছরখানেকও নয়।

    ওর বাবা আমার দিকে তাকিয়ে বলল, পাশে তো বসলেন, সারা রাস্তা জ্বালিয়ে মারবে।

    আমি কিছু বললাম না। ঘণ্টাখানেকের রাস্তা এবং এরা জানে না, আববুর কথা আমি কত আগ্রহ নিয়ে শুনছি।

    আমার ছেলেমেয়েরা বড়ো হয়ে গেছে, তারা উড়েও গেছে—আমি আর আমার স্ত্রী এখন বাড়িতে, আমরা বড় নিঃসঙ্গ মানুষ। কাজের লোক ছাড়া আমাদের দেখারও কেউ নেই। অফিস ছাড়া কথা বলারও লোক নেই। কাগজের অফিসে কাজ, বিকালে যাই, রাতে ফিরি। আর এ-সময়ে এমন সবুজ তাজা প্রাণের স্পর্শ, কে না পেতে চায়।

    আববু এবার কী বুঝে, খুব যত্নের সঙ্গে সুন্দর প্লাস্টিকের ব্যাগটি কোলে তুলে, জানালার কাছে ঘেসে বসল। তারপর আমাকে দেখল। শেষে কী ভেবে বলল, ঠিক হয়ে বোসো না। এত জড়ভরত হয়ে বসলে হয়!

    ঠিক হয়ে বসতে না বসতেই বলল, এতে কী আছে, বলো তো?

    এবারে ধাঁধা শুরু।

    বললাম, এতে তোমার সব খেলনা, রেলগাড়ি, পুতুল উড়োজাহাজ, প্লাস্টিকের ঘরবাড়ি সব।

    কিছু বলতে পারলে না। কী মজা। তুমি খুব বোকা আছো।

    আমি বোকার মতো তাকিয়ে থাকলাম।

    আববু বলল, এতে আছে আমার ভাইয়ের ফিডিং বোতল। জানো তো, ভাইকে আমি দুধ খাওয়াতে পারি।

    কত কাজের মেয়ে পৃথিবীতে এ-কাজটি সে ছাড়া যেন আর কেউ করতে পায়ে না।

    আমি ততোধিক বিস্ময়ের গলায় বললাম, বলো কী! এত কাজের মেয়ে তুমি?

    জানো, আমার বাবা রোজ অফিসে যায়। মা তো একা, ভাইকে নিয়ে পেরে ওঠে না।

    আর কী কাজ করো।

    ঘর ঝাঁড় দিতে পারি। জানো, মা আমাকে তখন বকে। ঝাঁটা হাত থেকে কেড়ে নেয়।

    তাই নাকি? তোমার মার এটা ভারি অন্যায়।

    মার সঙ্গে বাসনকোসন মাজতে বসলেও বকে। কেবল বলবে—যা, পড়তে বোস। আমার পড়তে ভালো লাগে না।

    কাজ করতে গেলেই, মা রেগে যায়।

    খুব অন্যায়।

    আমাদের কাজের দিদি না খুব ফাঁকি দেয়।

    তুমি বকে দিতে পারো না?

    মুখে তার আশ্চর্য হাসিটুকু লেগেই আছে। কেউ বোধহয় এত গুরুত্ব দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলে না।

    আমার দিকে তাকিয়ে ফের মুখ তুলে বলল, তুমি অফিস যাও না?

    হুঁ। যাই।

    তোমার বাড়িতে কে আছে?

    আমার কেন যে সহসা গলায় কথা আটকে গেল! কী বলি! সবাই আছে অথচ কেউ নেই।

    একসময়, সে যেন কবেকার কথা—মা বাবা ভাই বোন, আত্মীয়স্বজনও কম ছিল না। একে একে আলগা হয়ে যেতে থাকল। স্ত্রী-পুত্র-কন্যা সম্বল করে ফ্ল্যাটবাড়ি। তারপর নিজের বাড়ি। তারপর সব ফাঁকা। পুত্র-কন্যারা সময়ই পায় না! বছরে, দু-বছরে বাড়ি ঘুরে যায় ঠিক, তবে কোথায় যেন সেই আন্তরিকতা আর নেই। এককালে এক বিছানায় সবাই শুয়েছে, বড়ো হয়েছে। তারপর কখন যে সব আলগা হয়ে গেছে।

    কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললাম, তুমি মার সঙ্গে শোও, না বাবার সঙ্গে?

    বা রে, আমরা তো এক বিছানায় শুই। একসঙ্গে না শুলে আমার ঘুমই হবে না।

    তুমি কাকে বেশি ভালোবাস? মাকে, না বাবাকে?

    আমি সবাইকে ভালোবাসি।

    তারপর থুতনিতে আঙুল রেখে কী ভাবল, যে আমার প্রশ্নের সে সঠিক জবাব দিতে পারেনি।

    জানো, আসলে আমি ভাইকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।

    মা-বাবাকে?

    সমান-সমান।

    ভাই তোমাকে ভালোবাসে?

    মোটটেও না। দ্যাখো না, আমার হাত কামড়ে দিয়েছে সকালে।

    খুব অন্যায়। তুমি এত ভালোবাসো, ভাই জানে না?

    জানবে না কেন। মা বলেছে—নতুন দাঁত উঠেছে তো, তাই কামড়াবে। ওর তো কোনো দোষ নেই। ছেলেমানুষ, বোঝে না—কামড়ালে লাগে।

    মিনিবাসটা মানিকতলার মোড়ে এসে, সামান্য জ্যামে পড়ে গেছে।

    চুপচাপ বসে থাকলে যা হয়, গোলাপ দুটোর কথা মনে পড়ে গেল। খুবই যত্নের সঙ্গে কলাপাতায় মুড়ে ব্যাগে রেখেছি। ফুল দুটো কেন যে কিছুটা মায়ায় জড়িয়ে আছে, তাও ঠিক বুঝছি না। মেয়েটির মুখ মনে পড়ে গেলে যা হয়—সে দিয়েছে, সে দিয়েই খুশি তার প্রিয় লেখককে। সে কিছু আর চায়ও না। দু-দণ্ডের জন্য হলেও, আমার ফুলদানিতে ফুল দুটো শোভা পেল, তার যে খুশির অন্ত থাকবে না, তাও বুঝি।

    ব্যাগে ঠিকঠাক আছে কি না, চেপ্টে না যায় সেজন্য সতর্কতার শেষ নেই।

    হাত দিয়ে দেখলাম-না ঠিকই আছে।

    তবে এই ফুলের জন্য বাড়ির কারও কোনো যে আগ্রহ নেই, টেবিলে রেখে দিলে পড়েই থাকতে পারে, আর কাজের লোকের দায়ই বা কতটা। সুমিত্রার অফিসে কাজের চাপ, তার শরীরও বিশেষ সুস্থ না, যেন কোনোরকমে জীবনযাপন।

    কেন জানি মনে হল—ফুলদানিতে নিজেই গোলাপ দুটো রেখে দেবো। যে ক দিন তাজা থাকে। মেয়েটি আমাকে প্রণাম করার কেন যে সহসা ক্ষেপে গেছিলাম, তাও বুঝতে পারছি না। বরং এখন মেয়েটির সেই করুণ মুখের কথাও ভেবে আমার খারাপই লাগছিল।

    আমার কোনো গল্প কিংবা উপন্যাস পাঠের পর মেয়েটির হয়তো মনে হয়েছিল —যদি কোনো দিন তার সঙ্গে আমার দেখা হয়, তবে এই গোলাপ দুটি তার ইচ্ছের প্রতীক হয়ে থাকবে।

    তখনই আববু বলল, তোমাকে কে বেশি ভালোবাসে?

    এ ভারি কঠিন প্রশ্ন।

    শিশুদের প্রশ্ন এত কঠিন হয়, জানা ছিল না। মিছে কথাও বলতে পারছি না। সবাই আমাকে ভালোবাসে বলতে পারলে, খুশি হতে পারতাম। কিন্তু মিছে কথা হয়ে যাবে। এই মুহূতে কে আমার নিজের, তাও বুঝতে পারছি না। এমন নিষ্পাপ শিশুর সঙ্গে ছলনাও করা যাবে না।

    বললাম, আমি ঠিক জানি না, এ-মুহূর্তে কে আমাকে বেশি ভালোবাসে।

    আমার মুখ কেমন হতাশায় ভরে গেছে দেখে আববু বলল, জানো, আমার নানাজির ভারি কঠিন অসুখ। আমি ফুল নিয়ে যাচ্ছি। নানাজি ফুল খুব ভালোবাসে।

    দাদুর জন্য ফুল নিয়ে যাচ্ছ? কোথায় থাকেন তিনি?

    বা রে, হাতিয়াড়ায় পীরের দরগা আছে না, দরগার পাশে থাকেন।

    তোমরা কোথায় থাকো?

    তারকেশ্বরে। আমাদের কোয়ার্টারের পাশে সবুজ ধানখেত। যতদূর তাকাবে না….. কেবল ধানের খেত। কোয়ার্টারের পাশে ডোবা আছে। কত জল। কত কচুরিপানা। মা আমাকে যেতে দেয় না। ডোবার পাড়ে জঙ্গল। জানো, জঙ্গলে একটা ভূত থাকে।

    ভূতের সঙ্গে কথা হয়।

    হবে না! আড়ি দিয়ে রেখেছি। আবার ভাব হলে কথা বলব। ভূতটাই তো এসে বলল—দাদুর বাড়ি যাবি, ফুল নিবি না?

    তারপর আববু কী ভেবে বলল, কী ফুল নিই, কোনো ফুলই নেই—যা গরম পড়েছে! তখনই কচুরিপানার ফুল মনে পড়ে গেল। লুকিয়ে জলে নেমে গেছি— কেউ জানে না, দুটো ফুল ডোবা থেকে তুলে এনেছি।

    ভূত না বলে বন্ধু বলো।

    আববু বলল, বন্ধুই তো। আমি কি বলেছি, বন্ধু নয়?

    এ-সব কথাবার্তার মধ্যেই আববু তার ব্যাগ থেকে কচু পাতায় মোড়া ফুল দুটো বড়ো সন্তর্পণে বের করে আনল।

    সে তারপর কচুর পাতা খুলে যা বের করল অবাক না হয়ে পারলাম না।

    সত্যি, দুটো কচুরিপানার ফুল।

    জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সে ফুল দুটো বোধহয় তুলে এনেছে। সামান্য দুটো কচুরিপানার ফুল নীল-সবুজ পাপড়ি মেলে, এক বিশাল ফোয়ারার মতো আববুর দু-আঙুলের ফাঁকে দাঁড়িয়ে আছে।

    আববু বলল, কী সুন্দর না! বাবা জানে না—ব্যাগে লুকিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

    আমি বললাম, আমারও কেউ জানে না। ব্যাগে লুকিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

    বারে, বড়োরা আবার কিছু লুকিয়ে নিয়ে যায় নাকি?

    আমি বলতে চাইলাম, যায়। বড়রাই যায়।

    আববু বলল, কী লুকিয়ে নিয়ে যাচ্ছ?

    তোমার মতো দুটো ফুল।

    দেখি কোথায় ফুল?

    ব্যাগ থেকে কলার পাতা খুলে দেখাতেই আববু লাফিয়ে উঠল।

    কী সুন্দর ফুল! আমাকে একটা দেবে?

    আমার ফুল দুটো কলাপাতায়, ওর দুটো কচুর পাতায়।

    তুমি দুটোই নাও। দুটোই বাগানের তাজা গোলাপ।

    বাড়িতে তোমাকে বকবে না? সব দিয়ে দিচ্ছ।

    হাসলাম। শেষে বললাম তোমার দাদুকে দিও। দাদুকে বলবে—রাস্তার একটা লোক…. জানো, ফুল দুটো তোমাকে দিতে বলল। ……. আর কী বলবে, বলো তো?

    বা রে, আর কী বলব, জানব কী করে? আমি কি তোমাদের মতো বড়ো?

    বলবে—আমিও তোমার দাদুর বাড়ির দিকে হাঁটছি। আগে থেকেই তাঁকে আমার প্রিয় ফুল দুটো পৌঁছে দিলাম।

    তুমি যাবে আমাদের বাড়ি?

    যাবো।

    কবে যাবে?

    বাস থেকে নেমে যাবার সময় হাত তুলে বললাম যাবো। ঠিক একদিন চলে যাবো। যে-কোনও দিন।

    আববু বাসের জানালার হাত নাড়ল।

    টা টা।

    আববুর মুখে দুরন্ত হাসি। যতক্ষণ দেখা যায় বাসের জানালায় দাঁড়িয়ে আববু। আমাকে দেখল। আমি হাত নাড়ছি। হাঁটছি।

    বাসটা চলে যেতেই কেমন ঝুপ করে যেন সব অন্ধকার হয়ে গেল। চোখে যেন কিছু আর দেখতে পাচ্ছি না।কে যে কখন কার প্রিয়জন হয়ে যায়, কেউ বোধহয় জানে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনানা রসের ৬টি উপন্যাস – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ৩০০ বছরের কলকাতা : পটভূমি ও ইতিকথা – ডঃ অতুল সুর

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }