Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচিত গল্পসংগ্রহ

    লেখক এক পাতা গল্প1108 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পৃথিবী তারপর শব্দগন্ধহীন

    ছুটির দিনে সুবিনয় অন্যরকমের। অন্য দিনগুলোর মতো সে সেদিন কিছুতেই তাড়াহুড়ো করে না। ঘুম থেকে উঠতে তার দেরি হয়ে যায়। বিছানায় এপাশ ও পাশ করার স্বভাব। সে সকালে সেদিন বাজারে পর্যন্ত যায় না। নিবারণ বাজার করে আনে। ওর তখন সারাটা সকাল কেবল চিৎকার চেঁচামেচি। সিগারেটের প্যাকেটটা কোথায় গেল। বুক পর্যন্ত চাদর টেনে শুসে থাকার স্বভাব। ছ-দিনের খাটাখাটনি একদিনে সে পুষিয়ে নিতে চায়। সে সেদিন কুটোগাছটি পর্যন্ত নাড়তে চায় না।

    আর যখন মা থাকে না, পলু থাকে না তখনও সে এ-ভাবে জীবন কাটাতে ভালবাসে। ছুটির দিনে সে বাড়িতে খায় না। নিবারণকে খাবারের পয়সা দিয়ে দেয়। সে কোনো হোটেলে খেয়ে নেয়। সন্ধ্যা সকাল বিকেল এখন শুয়ে থাকা। কোনো গল্পের বই পেলে কথা থাকে না। গল্পের বই পড়তে পড়তে কখনও মনে হয় আজকাল কেউ তাকে ডাকছে।—বিনুদা, দরজা খোল। আমি অপু। আর তখনই এক আশ্চর্য বিষণ্ণতা। মাথার ভেতর মনে হয় গির্জার ঘণ্টা বাজছে। অথবা মনে হয় রেলগাড়ি চলে যাচ্ছে দূরে। অথবা কোনো প্রপাতের শব্দ। সে তখন চুপচাপ শুয়ে থাকতে ভালোবাসে। আসলে কেউ তাকে ডাকে না—সে এটা বুঝতে পারে।

    তারপর যা হয়, বিকেল গড়িয়ে গেলেই বিনু আর শুয়ে থাকতে পারে না। জানালা খুলে দিলে বুঝতে পারে বিকেলের সূর্য রেল-ইয়াডের ও-পাশে নেমে গেছে, গাছের ছায়া লম্বা হয়ে যাচ্ছে। ছোটো ছোটো সব ফুলের সমরোহ চারপাশে। ফুলগুলো সব সে ঠিক চেনে না। শহরে এদিকটাতে কোথাও কোনো সবুজ মাঠে সব সুন্দর সুন্দর বাড়ি। লনে কোথাও মেয়েরা টেনিস খেলছে। সে জানালা খুললে এসব দেখতে পায়। মেয়েরা টেনিস খেললে ওর দেখতে ভীষণ ভালো লাগে।

    সে কখনও কখনও এ-ভাবে বিকেলটা কাটিয়ে দেয়। সামনে অ্যাসফালটের কালো রাস্তা কোথায় চলে গেছে সে যেন সঠিক জানে না। রাস্তার দু-পাশে কোথাও কলের চিমনি, কখনো সাইরেনের শব্দ, আর কখনো সব গাড়ি হুসহাস বের হয়ে যাচ্ছে। তখন নিবারণ আসে, হাতে এক কাপ চা। দাদাবাবু চা আপনার।

    সে চোখ তুলে তাকায়। নামটা মনে করতে পারে নিবারণ। নিবারণ অনেকদিন ওর সঙ্গে থেকে গেল। অনেকদিন কোনো মানুষ একসঙ্গে থেকে গেলে আপনি মায়া গড়ে ওঠে। অপু তার সঙ্গে অনেকদিন ছিল। ছুটির দিনগুলো তখন এত একঘেয়ে মনে হত না। বড় সহজে ছুটির দিনগুলো তার শেষ হয়ে যেত। তারপর কেমন রাখতে হয়—এই এতটা অ্যান্টি লিখব, নইলে পাবলিক নেবে না, কিন্তু লাইনটা খুব মোটা করে টানা আছে, দাস ফার অ্যান্ড নো ফাদার।

    রাত্রি আর একটু গভীর হয়ে এসেছে, কলধবনি এখন শান্ত, আর সেই শান্ত পরিবেশে নক্ষত্রখচিত আকাশের নীচে উঠেছে সেতারের মদ ঝঙ্কার। কার্পেটের ঠিক মাঝখানে বসেছেন আলি সাহেব, তার চোখ বোজা আর শীর্ণ আঙুলগুলো ওঠানামা করছে সেতারের গা বেয়ে—কোমল মৃদু সেই স্পর্শ, যেন অভিমানী প্রিয়ার কপট ঘুম ভাঙানোর জন্যে প্রেমিকের ভীরু সঞ্চার।

    আশে পাশে ছড়িয়ে আছে অনেক সুশ্রী তনু। অনেক কোমল মুখশ্রী নরম আলোয় আরও স্নিগ্ধ দেখাচ্ছে। অন্ধকারে হঠাৎ ঝিলিক দিয়ে উঠেছে কোনো নাকছাবি বা কর্ণভূষণ। তালে বা বেতালে মাথা নাড়ছেন লম্বাচুলের কোনো কোনো পুরুষ, আর্টক্রিটিক তারা বা কোনো সংস্থার কর্ণধার, কবি বা চিত্রাভিনেতা-তারা সকলেই বিশিষ্ট এবং বুদ্ধিজীবী।

    একটু দূর থেকে লক্ষ্য করছিল জয়তী কার্পেটে না বসে সে বসেছে কোণের একটা হেলানো চেয়ারে। পরনে তার রূপোলি পাড়ের গোলাপি বেনারসি, হাতে কানে গলায় হিরের ঝিলিমিলি। মুখে তার তৃপ্তি মাখানো—সবাই এসেছে, সবাই এমনকী জয়ন্ত ভৌমিক অবধি। কি মায়াবী এই রাত্রি, কি মধুর এই সেতার, কী মোহন এই পরিবেশ… কিন্তু কিছু কি এতো ভালো লাগত যদি না এরা সকলে উপস্থিত থাকত? উষ্ণ ঘন মদের মতো এই উৎসবের প্রতিটি মুহূর্ত নিঃশেষে পান করছিল সে। এই পরিমণ্ডল রচনা করতে পারার ক্ষমতা তাকে নেশা ধরিয়ে দিচ্ছিল। স্বপ্নালু চোখ তুলে আকাশের দিকে তাকালো জয়তী।

    সেতারের ঝঙ্কার দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে। প্রিয়ার ঘুম ভেঙেছে বুঝি, প্রেমিকের আবেশ নিবিড় হয়েছে, অভিলাষ তীব্র থেকে তীব্রতর। তারারা আলো আরও উজ্জ্বল, সুরের মূৰ্ছনা ঢেউয়ের মতো উঠছে আকাশপানে। নূপুর পরা কচি পদপল্লব ছন্দে ছন্দে মূদু স্পন্দিত হচ্ছে। নিঃশব্দচারী বেয়ারারা স্ন্যাকস আর ড্রিংকস বদলে বদলে দিয়ে যাচ্ছে।

    আপনার গ্লাস যে খালি, সোমনাথ আস্তে বলল। আরে না-না, আপনি ব্যস্ত হবেন। সে কী কথা, সোমনাথ গ্লাস নিয়ে উঠল, আর তক্ষুনি তার মাথা ঘুরে গেল। দু-এক সেকেন্ড সব অন্ধকার, তারপর কোণের বার-এর দিকে এগিয়ে গেল। আজকাল প্রায়ই এরকম হচ্ছে। ডাক্তার দেখিয়ে চেক-আপ করব তারই বা সময় কই? ব্যাঙ্গালোর যাবার আগে একবার—ভিড় গোলমাল আর সহ্য হয় না। জয়তী জানে সব, তবু কিছুমাত্র বিবেচনা নেই। সেতারটা কিন্তু সত্যি সুন্দর বাজাচ্ছে, সোমনাথের কপাল মুহূর্তের জন্যে মসৃণ হল, সহসা তাকে তরুণ দেখাল।

    …তীব্র গভীর উন্মাদনা… তারপর মধুর মধুর ক্লান্তি। ধীরে ধীরে লীয়মান হল সুরের রেশ সেই প্রশান্তির বক্ষে। নিঃশ্বাস পড়ল টেবিলে টেবিলে আলো উজ্জ্বল হল, আর সুগন্ধী সুসজ্জিত এই সমাবেশ উজ্জীবিত, চঞ্চল, মুখর হয়ে উঠল।

    মফতলালের শেয়ার সম্বন্ধে কী বলছিলেন তখন? ওহে, বুলু সেনকে জিজ্ঞেস করো তো রাজাধ্যক্ষ সত্যি কাজ ছাড়ছে নাকি? ওই তো জয়ন্ত ভৌমিক, বাঃ হ্যান্ডসাম সত্যি। মিসেস সিং, এতো দামি প্রেজেন্ট কেন? কিছু না কিছু না, মেনি হ্যাপি রিটার্নস—

    চিকেনটা একটু দেখি, জয়তী আজ তুমি দেখছোই না আমাকে, আমি কিন্তু সেই তখন থেকে–আঃ ছাড় না, কি যে করো সন্দীপ, ডাকছি তোমার গিন্নীকে, ইটস হার্ড অন আস, উই পুওর ইন্টেলেকচুয়লস–

    আচ্ছা—খুব এনজয় করলুম, আবার নেকসট ইয়ার, সত্যি চমৎকার কপল। যাই বলো জয়তী যেন একটু—মানে সবই ভালো—তবু যেন একটু, ডোন্ট বি ক্যাটি ডার্লিং–

    রাত্রি আরো গভীর, লনের আলো নিভে গেছে। বিশাল হলে ছড়িয়ে আছে সিগারেটের টুকরো, ফুলের পাপড়ি আর রঙিন কাগজ। তাপ-নিয়ন্ত্রিত শোবার ঘরে রাত্রির পোশাক পরে ঢুকল সোমনাথ, বিছানা থেকে জয়তী হাত বাড়িয়ে স্বামীকে কাছে ডাকল।

    তোমার জন্যে কী এনেছি বলো তো? জয়তী কৌতুকভারে—ব্রীড়াভরে হাসল, তারপর সিল্কের চাদরের তলা থেকে একটা প্যাকেট বের করে আনল।

    সোমনাথ খুলল মোড়কটা, ঝকমকে পিতলের একটা পাত্র বের করল।

    কি এটা?

    আইস টাম্বলার।-সুন্দর না?

    আইস রাখবে কী করে এতে? মুখ তত খোলা, বরফ গলে যাবে না?

    গলে যাবে?-আচ্ছা যদি মুখটা ঢেকে দেওয়া যায়?

    তবুও গলে যাবে, দেখছ না চারিদিকে পার্ফোরেটেড?

    ও–।

    আর কোনো কথা হল না। নিঃশব্দ ঘরে এরার কন্ডিশনারটার একঘেয়ে গুজন স্পষ্ট হয়ে উঠল।

    দুটো একটা শব্দ, হাসি, রিনরিন করে বাজনার মতো যেন কার গলা ভেসে আসে। এই ওঠো। আর না। প্লিজ ওঠ না।

    -এত তাড়াতাড়ি উঠবে।

    –মাকে বলেছি পুনুর সঙ্গে সিনেমায় যাব। এখন না ফিরলে ভীষণ ভাববে। তারপরই কানে কানে ফিসফিস করে কথা বলার মতো শব্দ ভেসে আসে তিনটের শো কটা অবধি থাকে মশাই।

    তখন বিনু ঘড়ি দেখত। কানের কাছে এনে দেখত, ঘড়ি ঠিক চলছে, না চলছে না। তারপর বলত, আর একটু বসি। সাতটা মাত্র বাজে। তুমি চলে গেলে ভারি একা হয়ে যাব আমি।

    অপু আর কিছু বলতে পারত না তখন। সে তার সব জোর হারিয়ে ফেলত বুঝি। ঘাসের ভেতর সে পা আরও ডুবিয়ে দিত। শাড়ি টেনে আরও পা ঢেকে বসত। অস্পষ্ট আলো থাকত তখন চারপাশে। মাঠের এ-দিকটা ভারি নিরিবিলি মনে হত তাদের। সামান্য ঝোপ-জঙ্গল পাশে। ওরা বেশ সুন্দর করে ছেলেমানুষের মতো কখনো আইসক্রিম খেত, কখনো চা, অথবা কখনো বেলুন উড়িয়ে দিতে ভালোবাসত আকাশে। এবং মাঠের গাছপালার ভেতর ওরা হেঁটে যেতে যেতে কখনও ভারি অন্যমনস্ক হয়ে যেত।

    —এই বিনুদা, কী ভাবছ!

    –কিছু না।

    –তা হলে দাঁড়িয়ে পড়লে কেন!

    –দ্যাখো দ্যাখো অপু কি সুন্দর নীল আকাশ! আর কত বড়ো।

    অপু বলত, ও আবার দেখার কি আছে।

    বিনু বুঝি বলতে পারত, আকাশ মানুষের কাছে সব সময় নীল থাকে না। সব সময় এত বড়ো দেখায় না। অপু তোমার সঙ্গে হাঁটলে, আকাশটাকে ভীষণ নীল মনে হয়, আকাশটা মনে হয় ভীষণ বড়। ইচ্ছে করে তখন আমরা আকাশটা ছুঁয়ে দি। তারপর সহসা ভীষণ সতর্ক গলায় বলত—তোমার আকাশ ছুঁতে ইচ্ছা করে

    অপু। অপু পায়ের নোখে তখন মাটি খুঁড়ত। ওর মুখ দেখা যেত না। স্যাম্পু করা চুলে ওর মুখ ঢেকে থাকত। বিনুর বার বার ইচ্ছে হত চুল সরিয়ে ওর সুন্দর মুখ দেখবে। ওর ইচ্ছে হলেও সে সেটা কিছুতেই পারেনি।

    বিনু তখন ভয়ে ভয়ে বলত, তুমি কিছু মনে করলে?

    অপু তেমনি মুখ না তুলে বলত, না।

    -তবে বল ছুঁতে ইচ্ছে করে কি না?

    আপু বলেছিল করে।

    আর বিনুর কি যে হত তখন। মাথার ভেতর আবার সেই রিনরিন বাজনা। যেন সে দু-হাতে তখন চারপাশের যা কিছু আছে সব লুটেপুটে নেবে। সে যেন লাফিয়ে লাফিয়ে ছুটবে। সে আর অপু। অপুর শাড়ি তখন বাতাসে উড়বে। আর সুন্দর সব গাড়ি ঘোড়া চারপাশে। তখনও সে আর অপু। কেবল কোথাও কেউ ক্ল্যারিওনেট বাজাবে—তখনও সে আর অপু। পৃথিবীতে শুধু সে আর অপু। আর কিছু সে ভাবতে পারত না। আর কিছু তার মনে থাকত না।

    অপু বলত, আমরা তারপর কি করব বিনুদা?

    বিনু বলত, আমরা কিছু করব না, শুধু ফুল ছিঁড়ে খাব।

    অপু বলত, তুমি ভারি খারাপ কথা বলতে পার বিনুদা।

    এ-ভাবে ওরা চুপচাপ কথা বলত। ছুটির দিনগুলো সে অপুকে নিয়ে এভাবে ঘুরত। সে জানত না, অপুরা কখনও প্রবাসী হয়ে যেতে পারে। সে বুঝতে পারত না অপুর বাবা এটা পছন্দ করবেন না। আর অপুর স্বভাবতে ভীষণ নরম। অপু কষ্ট পাবে, কিন্তু কেউ তার জন্য কষ্ট পাক অপু তা চায় না। বিনুর মনে হয় দিনগুলো একইভাবে কেটে যাবে। তার তখন অফিসে সামান্য কাজ, সামান্য বেতন, সে বড়ো বলে দায়দায়িত্ব বেশি। ছোটো ফ্ল্যাট ছোটো সংসার মা আর পুনু। পুনুর সঙ্গে অপুর ভীষণ ভাব অপু পুনুর কলেজের বন্ধু। পুনুই প্রায় এক সন্ধ্যায় অপুকে টানতে টানতে নিয়ে এসেছিল তার কাছে। বলেছিল দাদা এই হচ্ছে আমাদের অপর্ণা রায়। আমরা কলেজের বন্ধুরা ওঁকে অপু ডাকি। ভারি মিষ্টি দেখতে না দাদা।

    অপুর দু চোখ ভারি। অপু সেদিন কিছুতেই মুখ তুলে তাকাতে পারেনি। ওকে খুব সুন্দর বলে পুনু কি যে বিপদে ফেলে দিয়েছে। শিরশির করে রক্তচাপ সারা শরীরে তার। সে তো আগেই দেখেছে বিনুদাকে। বিনুদার লম্বা গড়ন, ঘন চুল আর সহজ কথাবার্তা এত বেশি আকর্ষণ করেছিল যে সে একটা কথা বলতে পারেনি।

    অপু একদিন বলেছিল, বিনুদা তোমাকে একটা কথা বলা দরকার।

    বিনু মুখ তুলে তাকিয়েছিল। ওর মুখে মটন-ওমলেট। সে কথা বলতে পারছিল না।

    অপু আবার বলেছিল, বাড়িতে সবাই টের পেয়েছে।

    –কী বলছ। প্রায় বিষম খাবার মতো। আর তো তোমাদের বাড়ি আমার যাওয়া হযে না। ভাববে ভীষণ ধূর্ত আমি। বড়লোকের মেয়েকে ফুসলে নিয়ে যাচ্ছি।

    অপু খুব গম্ভীর। খাবার নিয়ে নাড়াচাড়া করছে। কথা বলছে না। বিনুও কেমন ভয় পেয়ে গেল। বলল, এই।

    —বিনুদা সব কিছু নিয়ে তুমি ঠাট্টা করতে পার। আমি পারি না। ভেবেছি মাসিমাকে বলে তোমার কাছে চলে আসব।

    অপুকে ভীষণ সাহসী দেখাচ্ছিল। অপু সেদিন পরেছিল, লালপেড়ে মুর্শিদাবাদ সিল্ক গায়ে নীল রং-এর ব্লাউজ—সাদা রং-এর জমিন ছিল ওর শাড়ির, আর কী যে স্নিগ্ধ লাগছিল ওকে দেখতে। কপালে বড়ো করে আলতার টিপ। সারা মুখ ছিল পবিত্রতায় ভরা। বেশ স্থির গলায় বলেছিল, তুমি তো বিনুদা ভীতুগোছের মানুষ। তোমার সব কিছু জোর করে না নিলে আমি কিছু পাব না।

    বিনুর মনে হয়েছিল, অপু ঠিকই বলেছে। অপু এবং সে আলাদা স্বভাবের। অপুর বাবা এটা সহজে মেনে নেবেন না। অপু যত কথা বলতে বলতে গম্ভীর হয়ে যাচ্ছিল তত তার ভয়। ভেতরে যেন খচখচ করে সংশয়ের কাঁটা ফুটছে। প্রাণের ভেতর থেকে কেমন সে আর সাড়া পাচ্ছিল না।

    বিনু বলেছিল অপু একটু অপেক্ষা করতে হবে। পুনুর বিয়ে হয়ে যাক। মা শুনলে খারাপ ভাববেন। সংসারে আমি ভীষণ তা হলে স্বার্থপর হয়ে যাব।

    অপু বলেছিল, বাবা দিল্লিতে বদলি হয়ে যাচ্ছেন।

    –হঠাৎ।

    তোমার হাত থেকে বোধ হয় আমাকে বাঁচাবার জন্য। অপু এমন বলতে পারত। সে কিছু বলল না। এ-সব বলে তার বাবাকে বিনুদার কাছে ছোটো করে দিতে পারে না। সংসারে যে অপুকে নিয়ে চাপা অশান্তি চলছে, কিছুতেই কেন জানি মুখ ফুটে কোনোদিন অপু বলতে পারল না। কোথায় যেন এতে ওর পারিবারিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছিল।

    আর বিনু এটা কখনও বুঝতেই পারিনি। সে অপু এবং তার বাবা মাকে স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিল। অপু তেমনি হাসিখুশি ছিল। সে বুঝতেই পারেনি, অপুকে নিয়ে তার বাবা মা দূরে চলে যাচ্ছে। আর এদিকে সহজে ফিরছে না। সে স্টেশনে গাড়ি ছাড়ার সময় বলেছিল, গিয়েই চিঠি দেবে অপু। তোমার চিঠি পেলে ছুটি নিয়ে চলে যাব।

    অপু বলেছিল, আচ্ছা।

    তারপর আর অপু তাকে চিঠি দেয়নি। কতদিন হয়ে গেল। সে একটা চিঠির আশায় কতদিন জানালায় দাঁড়িয়ে থেকেছে। চিঠি আসেনি।

    তারপর একদিন রোজ দশটা চিঠির মতো একটা চিঠি—তাও মার নামে। অপুর বিয়ে। সরল সহজ নিমন্ত্রণের চিঠি। আর কিছু না। কেয়ার অফ শুধু সুবিনয় মজুমদার। সে অপুকে যে একটা চিঠি লিখবে ভেবেছিল তাও আর পারল না।

    এবং এ-ভাবে যখন বিনুর ছুটির দিনগুলো ভীষণ লম্বা হয়ে যেত তখন বার বার মনে পড়ত অপুকে। জানালায় দাঁড়ালেই মনে হয় অপু যেন বার বার তার হাত ধরে আকাশ ছুঁয়ে দেখবে বলছে, সে কিছুতেই পারছে না।

    আর এ-ভাবে জানালায় দাঁড়িয়ে সে বুঝতে পারল ক্রমে সূর্য রেল-ইয়ার্ডের ও পাশে অস্ত যাচ্ছে। গাড়িগুলো টংলিং টংলিং শব্দ করে চলে যাচ্ছে। ক্রমে আকাশ অন্ধকার হয়ে উঠছে। নিবারণ ঘরের আলো জ্বেলে দিচ্ছে এক এক করে। আশ্চর্য শূন্যতার ভেতর সে এখন বেঁচে আছে। পুনুর বিয়ে হয়ে গেছে। মা মাঝে মাঝে তীর্থে চলে যান। এত বড়ো ফ্ল্যাটে সে আর নিবারণ। আর কেউ না। অপু এ-সব একেবারে জানে না। ওর তখন শুধু অপুর নামে একট চিঠি লিখতে ইচ্ছে হয়–তোমাকে পাওয়ার মতো সব কিছু হয়েছে আমার অপু। সুন্দর ফ্ল্যাট, বিশ্বস্ত চাকর ছোট্ট পুলের বাগান, দুটো নীর রং-এর বেতের চেয়ার, একটা ছোট্ট সাদা রং-এর গাড়ি। সবই হয়েছে। তবু ছুটির দিনে আর কোথাও যাই না। বাসাতেই শুয়ে বসে সারাটা দিন কাটিয়ে দিই। কোথাও বেড়াতে বের হলে নিজেকে বড় একা মনে হয় অপু। আমার কিছু ভালো লাগে না তখন।

    তারপর মনে হয়ে বিনুর অপুকে সে যেন প্রতিদিন এ-ভাবে একটা চিঠি লিখতে পারে। প্রতিদিন একটা করে নীল রং-এর খাম ডাকবাকসে ফেলে দিয়ে আসতে পারে। কোনো ঠিকানা থাকবে না। শুধু নাম লেখা থাকবে অপু। চিঠিটা অপু পেল কি পেল না আসে যায় না। সে চিঠি অপুকে লিখেছে, তার নিজের কাছে এর চেয়ে বেশি দামি আর কিছু নেই। আর যদি কেউ এসে দেখতে পায়, ওর টেবিলে, বালিশের নীচে, ড্রয়ারে সেলফে সর্বত্র, এমন অনেক চিঠি, চিঠি লিখে রাশি রাশি কাগজ সারা ঘরে ছড়িয়ে রেখেছে—অবিশ্বাস করার কিছু নেই। বিনু সময় পেলেই অজস্র চিঠির বেলুন আকাশে উড়িয়ে দিতে ভালোবাসে। আসলে মানুষ বোধ হয় দুঃখ নিয়ে বেঁচে থাকতে ভালোবাসে। সবাই কিনা বিনু জানে না, তার তো বেশ ভালো লাগে।

    আর তখনই মনে হয় মার মুখ অভিমানে ফেটে পড়ছে। বিনু, তুই আর বিয়ে-থা করবিনে। বয়স তোর জন্য বসে থাকছে!

    সে হেসে বলত মা বিয়ে বিয়ে করছ, হয়ে গেলেই তো শেষ। সে কখনও ঠাট্টা করে বলত ইস আমার বিয়ে, ভাবতে কি মজা লাগে না। বিয়ের কথা ভাবলেই আর ঘুম আসতে চায় না মা। তারপর সে মায়ের মুখের কাছে মুখ নিয়ে বলত, আচ্ছা মা, বাবার সঙ্গে যখন তোমার বিয়ের কথা হল, ঘুম আসত তোমার?

    মা তখন ছোট্ট মেয়েটির মতো ফিক করে হেসে দিত। বলত, নাক ডাকিয়ে ঘুমোতাম।

    -মা তুমি সত্যি কথা বলছ না।

    –হ্যাঁরে সত্যি কথা। তোর বাবাতো আমার দাদার বয়সি। দাদার সঙ্গে একই স্কুলে পড়ত। আমাদের বাড়িতে বিয়ের আগে কত এসেছে।

    –মা–আ, তুমি ভালোবেসে বাবাকে বিয়ে করেছ। সব্বাইকে বলে দেব।

    বিনু ভা…ল হ…চ্ছে…না।

    তখনই নিবারণ এসে বলল, দাদাবাবু আপনাকে কে ডাকছে। বিনুর চিন্তাভাবনা সহসা ভেঙে খানখান হয়ে গেল। সে বুঝতে পারল, যেমন সে প্রতিদিন ছুটির দিনে বিকেলে জানালায় দাঁড়িয়ে থাকে, আজও তেমনি ছিল। কত কিছু মনে হচ্ছিল তার। নিবারণকে ডেকে বলল, বলতে বল। যাচ্ছি।

    পার্লারে ঢুকে সে হতবাক। অপু চুপচাপ বলে আছে। পাশে ছোট্ট অ্যাটাচিকেস। ওর কপালে খুব ছোটো সিঁদুরের টিপ। সে পরেছে মুগা রং-এর মণিপুরী শাড়ি। পায়ে আলতা। আর আশ্চর্য সৌরভে সারা ঘর ম ম করছে। বিনু বলল, অপু, অপু, তুমি।

    অপুর চোখ ভারি চঞ্চল। সতেজ। নতুন অভিজ্ঞতা অপুর শরীরে। বিনু আনন্দে চিৎকার করে ডাকল নিবারণ তুই ওকে চিনিস না।

    নিবারণ বলল, অন্ধকারে ভালো দেখতে পাইনি বাবু।

    বিনু বলল, অপু তুমি এখানে ভাবতে পারছি না।

    অপু শুধু বলল, এলাম। তুমি কেমন আছো?

    —আমি ভালো আছি অপু।

    অপুর বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল, তুমি ভালো নেই বিনুদা। তুমি মিথ্যে কথা বলছ। সে এসব কিছুই বলল না। শুধু বলল, মাসিমা, পুনু।

    -মা তো এখানে নেই। পুনুর বিয়ে হয়ে গেছে।

    –তুমি একা।

    –না। বিনু ফের একটু থেমে বলল, আমি আর নিবারণ।

    অপু বলল, দাঁড়িয়ে থাকলে কেন? বোস। একা বেশ ভালোই আছ দেখছি।

    -এই চলে যাচ্ছে। বিনু কথাবার্তায় কেন জানি আর সহজ হতে পারছে না। সে ঘাবড়ে গেছে।

    -তোমার মতো মানুষের চলে গেলেই হল।

    তারপর কেউ কিছু বলছে না। চুপচাপ। দূরবর্তী কোনো বনে টুপটাপ পাতা ঝরে পড়ছিল বোধ হয়।

    বিনুর তখন মনে হল, অপুর আর আগের স্বভাবে নেই। খোঁচা দিয়ে কথা বলতে শিখে গেছে। অভিজ্ঞতায় ভীষণ সতেজ এবং দু-পাড় ভরে আছে বর্ষার নদীর মতো।

    অপু বলল, ভাবলাম যখন কলকাতায় এলাম মাসিমা পুনুর সঙ্গে দেখা করে যাব। কেউ নেই। তুমি একা।

    বিনু আবার মনে করিয়ে দিল,, নিবারণ আছে।

    —নিবারণ আছে, আমাকে মনে করিয়ে না দিলেও চলবে।

    বিনু বলল, চল তাহলে ভিতরে গিয়ে বসি।

    আমি আর একদিন না হয় আসব।

    ভিতরে নাই গেলাম।

    -–আমার সব দেখে যাবে না! আমি কিভাবে বেঁচে আছি দেখে যাবে না!

    অপু চারপাশের দেয়াল দেখছে। মানুষটার রুচি আছে। সোফা, ডিভানে। কারুকার্যময় কভার বিদেশি রেকর্ডপ্লেয়ার গমগম করে যেন এক্ষুনি রেকর্ড বেজে উঠবে। আসলে সে কি করবে ভাবছিল। আসলে সে যে গোপনে এখানে চলে এসেছে। কথাবার্তায় এতটুকু বুঝতে দিল না।

    বিনু বলল, কবে এলে, কোথায় উঠেছ, তোমার কোনো খবরই আমি জানি না। অপু চোখ তুলে এক পলক দেখে নিল মানুষটি তেমনি আছে। এতটুকু স্বভাবে পরিবর্তন নেই। তার মানুষের সঙ্গে এ-মানুষের স্বভাব একেবারে আলাদা। জোরজার করে নিতে জানে না।

    বিনু ফের বলল, একটু বসে গেলে তুমি খারাপ হয়ে যাবে না। আমারও ভালো লাগবে।

    -সত্যি বলছ! অপুর চোখে সামান্য বিদ্যুৎ খেলে গেল।

    –জানি না অপু। তুমি কত বদলে গেছ। এবার অপু কেমন সাহসী মেয়ের মতো হেঁটে যেতে থাকল বিনুর পাশাপাশি। লম্বা করিডোরে আশ্চর্য সব সুন্দর ছবি, জানালায় মানিপ্ল্যান্ট। বারান্দা পার হয়ে ওরা ডাইনিং রুমে ঢুকে গেল। পাশে দুটো ছোটো ব্যালকনি। ব্যালকনির পাশে বিনুর শোবার ঘর। সেন্টার টেবিল। বাতিদানে সবুজ ঝালরের ঢাকনা। ফুলদানিতে একটা তাজা পলাশের ডাল। ফুলগুলো লাল টকটক করছে। জানালাগুলো সব বন্ধ।

    অপু কেমন সহজভাবে নিঃশ্বাস ফেলার জন্য এক এক করে জানালাগুলো খুলে দিতে থাকল। এখন মনেই হবে না, সে এ-বাড়ির কেউ নয়। জানালা খুলে দেবার সময় একবার ঘাড় ঘুরিয়ে বিনুদাকে দেখল। বিনুদা ভীষণভাবে ওকে দে কেউ নেই। নিবারণ কোথাও গেছে। ওর শরীরে সেই রক্তপ্রবাহ ফের ঝিমঝিম করছে। বিনুদার সঙ্গে আকাশ ছুঁতে ইচ্ছে করছে।

    অপু বলল, কি সুন্দর ফ্ল্যাট তোমার বিনুদা। জানালাগুলো বন্ধ করে রাখো কেন! তুমি ভীষণ দেখছি অন্ধকারে থাকতে ভালোবাস।

    বিনুর মনে হল জানালা খুলে দিয়ে অপু সবটাই খোলামেলা করে দিল। যদি কোনো ইচ্ছের কথা থাকে, বাইরের মাঠ, দূরের রেলগাড়ির শব্দ এবং বড় আকাশ কখনো তাদের ছোটো হতে দেবে না। বিনু না হেসে পারল না। ওর কেবল বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল অপু বিয়ের পর তুমি আরও সুন্দর হয়েছ। বর্ষার নদীর মতো তোমার এখন পাড়ে পাড়ে কাশফুল। আমাকে সামান্য ফুল তুলতে দেবে না অপু?

    অপু কেমন ছেলেমানুষের মতো হাত পা ছড়িয়ে বিনুর বিছানায় বসে পড়ল। বলল বিনুদা, এখানে কখনো আসব, তোমার সঙ্গে কখনো পালিয়ে দেখা করতে পারব স্বপ্নেও ভাবিনি।

    বিনু জানালার পাশে দাঁড়িয়ে এখন সিগারেট খাচ্ছে। মাঝে মাঝে চুরি করে দেখছিল অপুকে। অপু কত কথা বলে যাচ্ছে! কিছু শুনছে, কিছু শুনছে না। অপু কেন এখানে এসেছে। তার স্বামী এখন কোথায়, কবে তাকে নিতে আসবে, তার বাবার খবর কী, সে কবে চলে যাচ্ছে ফের, তার কিছুই বলছে না।

    বিনু বলল ঠিকানা কী করে পেলে?

    —সব খবর রাখি মশাই।

    –পুনুর বিয়ে হয়ে গেছে জানতে?

    —সব জানতাম।

    —সব জেনে এভাবে চলে এসেছ! এটা ঠিক করনি।

    অপু আদৌ পাত্তা দিচ্ছে না তার কথা। সে তার খুশিমতো এখানে পালিয়ে এসেছে। সে বলে আসতে পারত, তবু কি যে থেকে যায়, গোপনে কোথাও চলে যেতে এখনও তার ভীষণ ভালো লাগে। এ শহরে এসে সে এক দণ্ড দেরি করতে পারেনি।

    বিনু বলল, কী খাবে?

    —কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না।

    –কিছুই খেতে ইচ্ছে করছে না। বিনু সামান্য দুষ্টুমি করতে চাইল।

    –এই খারাপ কথা একদম বলবে না।

    –কবে এসেছ এখানে? বিনু সামান্য ঘুরিয়ে দিল প্রসঙ্গ।

    —আজই।

    —কবে যাবে?

    —জানি না।

    —মানুষটি কোথায়?

    –বাইরে গেছে।

    —কবে আসবে?

    —বেশি হলে ছ-মাস।

    –অনেকদিন গেছে?

    –গত মঙ্গলবার। এখন থেকে পুরো ছ-মাস বাবার কাছে।

    –খুব কষ্ট তবে!

    -আবার! একটু থেমে বলল, বাড়িতে যাবার আগে, তোমার এখানে হয়ে গেলাম। তোমাকে না দেখে যেতে পারলাম না।

    -মেসোমশাই তাহলে এখানে।

    —বাবা সল্ট লেকে বাড়ি করেছেন।

    –তাই!

    অপু বলল, এভাবে পালিয়ে দেখা করে গেলাম বলে রাগ করছ না তো! তুমি যা মানুষ। বলেই আগের মতো হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়ল অপু। আর আশ্চর্য অপু, বিনুদা ঘরে নেই। সে বলল, তুমি কোথায় বিনুদা?

    -এখানে।

    –কী করছ?

    –চা।

    –কেন তোমার নিবারণ?

    –ওর চা তুমি খেতে পারবে না।

    –আমি বুঝি চা করতে জানি না? বলেই এক লাফে উঠে বসল। বিনুর পাশে গিয়ে বলল, তুমি সরো। কোথায় কী আছে বল। করে আনছি। চা না খাওয়ালে তোমার কিছুতেই যখন চলছে না…

    ওরা দুজন-যখন সামনা-সামনি বসে চা খাচ্ছিল ঘরে সামান্য সবুজ আলো, অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে দুজনের মুখের ছায়া তখন বিনু না বলে পারল না, তুমি না এলে ভালো করতে।

    অপু চায়ের কাপ নীচে নামিয়ে রাখল। বলল, তার মানে।

    –তুমি খারাপ হয়ে যাও, আমি চাই না অপু।

    অপু কেমন বিস্মিত গলায় বলল, খারাপ! খারাপ আবার কী জিনিস!

    —তুমি বুঝতে পারছ সব। দোহাই আর ব্যাখ্যা করতে বল না।

    অপুর হাসি পাচ্ছিল। ভীষণ, হাসি পাচ্ছিল। বোধ হয় হেসে বলত, তুমি কি বোকা না বিনুদা! কিন্তু সে হাসল না। বরং খুব গম্ভীর হয়ে গেল। বলল, বাজে কথা রাখ।

    আর বিনু কত সহজে যে বুঝে ফেলল, অপু আর আগের অপু নেই। অভিজ্ঞতা অপুকে ভীষণ বদলে দিয়েছে। সে শুধু আকাশ ছুঁয়ে দিলেই খুশি না, আরও কিছু চায়। অপুর মুখে চোখে ক্রমে উষ্ণতা জমে উঠছে। বিন্দুমাত্র শিথিলতা উভয়কে গ্রাস করবে। সে বলল, আমি ফুল ছিঁড়ে খেতে ভালবাসি। তুমিও। তবু আমার কাছে তুমি আগের অপু হয়ে যাও।

    অপু বলল, আমরা সবাই। তারপর কিছু বলল না। যেন নিজের বাড়ি, নিজের ঘর, এমনভাবে দরজা জানালা সব ফের বন্ধ করে দিচ্ছে। অপুর অহমিকায় লাগছে। তুমি চিরদিন ভালো মানুষ থাকবে, ভারি মজা! আমি ব্যবহারে ব্যবহারে পুরোনো হয়ে যাই, তোমার তাতে বুঝি কিছু আসে যায় না। এসব সে বলতে পারত। ভাবো শুধু ঐশ্বর্য তোমারই আছে, আমার ঐশ্বর্য কিছু নেই! সে এবার বিনুর পাশে দাঁড়িয়ে বলল, নিবারণ কোথায়?

    বিনু বলল, অপু নিবারণ রাতে বাইরের ঘরে থাকে। প্লিজ তুমি ছেলেমানুষী কর না।

    অপু যে এখন কী করে। সে অপমানে মুখ লুকিয়ে রেখেছে বিনুর পিঠে। এবং বিনু বুঝতে পারলে, এতদিন পর অপু ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।

    আর তখনই বিনুর কি হয়ে যায়। আবার সেই রিনরিন বাজনা মাথার ভেতর। যেন সে তেমনি অপুকে কাছে পেয়ে দুহাতে সব লুটেপুটে নেবে। সে আগের মতো ফের লাফিয়ে লাফিয়ে ছুটবে—সে আর অপু। পৃথিবীতে সে আর অপু। আর কিছু লাগে না।

    বিনু একটা শাদা চাদরে এবার শরীর ঢেকে দিল। নীল রঙের সামান্য বাতিটা জ্বলছে। দূরে সেই রেল-ইয়ার্ডের ঘটাং-ঘটাং শব্দ। ক্রমে নিশীথের সব শব্দ মুছে গেলে শুধু নীল আলোটা জেগে থাকল পৃথিবীতে। অনেক দুরে বনের গভীরে হায়েনারা যেন ডাকছে। আর কিছু না। পৃথিবী তারপর শব্দ গন্ধহীন এক আশ্চর্য পারাবারে নিথর হয়ে আছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনানা রসের ৬টি উপন্যাস – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ৩০০ বছরের কলকাতা : পটভূমি ও ইতিকথা – ডঃ অতুল সুর

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }