Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচিত গল্পসংগ্রহ

    লেখক এক পাতা গল্প1108 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ফুল ফলের জন্য

    জানালা খুলতেই রোদ এসে পড়ল ঘরে। শীতে সারারাত কষ্ট পেয়েছে সনাতন। ঠান্ডা, হিম ঠান্ডায় ওর হাত পা ক্রমে যেন স্থবির হয়ে আসছিল। কুকুরছানা বুকে নিয়ে শুয়েছে। এত ঠান্ডা যে, কুকুরটা পর্যন্ত বুকের কাছে কুঁই কুঁই করেছে সারারাত। এই রোদ ওকে সামান্য উত্তাপ দিল শরীরে।

    মা রাতে আজ ফেরেনি। ফিরলে কুকুরটাকে বুকে নিয়ে শুতে পারত না। জানালাতে এখন শীতের সূর্য উঁকি মারছে। কিছু পাখি উড়ছিল আকাশে। ঘর থেকে তাড়াতাড়ি বের হবার জন্য জানালায় শীতের সূর্য দেখল, আকাশে কিছু পাখি উড়তে দেখল। এই সব দেখলেই ওর সেই মানুষটার কথা মনে হয়। সামনে একটা ঘোড়ার মুখ, পেছনে লেজ, মাঝখানে মানুষটা বহুরূপী সেজে আছে। তখন ঢোল বাজে। নটবর ঢোল বাজায়। দুপাশের দরজা জানালা খুলতে থাকে। মা শুধু জানালাটা বন্ধ করে রাখবে। সনাতনকে বের হতে দেবে না। বের হলেই তিরস্কার করবে—কোথাকার কোন এক মানুষ, তুমি সেখানে যাবে না সনাতন। ওরা ভালো লোক নয়। ওরা তোমাকে নিয়ে দেখবে কোথাও একদিন চলে যাবে।

    কুকুরটাকে সে পথ থেকে কুড়িয়ে এনেছে। শীতের ঠান্ডায় কুকুরটা মরে যাচ্ছিল। সে ওকে সামান্য উত্তাপ দিয়ে বাঁচিয়ে তুলেছে। মা বাড়ি না থাকলে শীতের রোদে সে কুকুর নিয়ে বসে থাকে। বুড়ি দিদিমা সনাতনকে শুকনো রুটি করে দেয়। রোদে বসে সনাতন কুকুরের সঙ্গে রুটি ভাগ করে খায়। মা আজ রাতে ফেরেনি। কোনো কোনোদিন মার এমন হয়। সেই যে শীতের মানুষটা খেলা দেখিয়ে চলে গেল আর আসেনি। আগে মানুষটা প্রায়ই আসত খেলা দেখাত। মানুষটা যেন এক হ্যামেলিনের বাঁশিয়ালা—যায় যায় নদীতে নেমে যায়। কোথায় যেন কোন গল্পে সনাতন মার কাছে শুনেছে কত হাজার লক্ষ ইঁদুর নিয়ে মানুষটা চলে গেল। তারপর কি এক কারণে হাজার লক্ষ সহরের ছেলেমেয়ে নিয়ে পাহাড় ফাঁক করে ভিতরে ঢুকে গেল। মানুষটাকে দেখলেই মার বুঝি এমন কিছু মনে হয়। তখন মা সাজতে গুজতে বসে যায়। উঁচু করে খোঁপা বাঁধে। বড়ো করে কপালে টিপ দেয়। কপালে টিপ পরলেই মাকে খুব ভালো লাগে, তখন সে মাকে ছুঁতে পারে। মার সঙ্গে কথা বলতে পারে। কিন্তু আতর মাখা শাড়ি পরলেই মাকে যেন আর চেনা যায় না। বড়ো দূরের মনে হয়। মা তখন বোকা সনাতনকে কাছে ঘেসতে দেয় না। যেন মার সারা শাড়ি ব্লাউজে ছুঁয়ে দিলে দাগ লেগে যাবে। সে মাকে কিছুতেই আর ছুঁতে সাহস পায় না। কেবল মনে হয় এ শীতে ঠিক মানুষটা জাদুর ঘোড়া নিয়ে চলে আসবে। ঘোড়ার খেলা দেখাবে। সে ঘোড়ার চড়ে নিরুদ্দেশে চলে যাবে।

    সনাতন তার কুকুরটার জন্য বাবুদের বাড়ি থেকে একটা শেকল চুরি করে এনেছে। সে আর ভয়ে ওমুখো হচ্ছে না। গেলেই বাবুদের বড়ো ছেলে ওর হাত পা বেঁধে মারবে। সে শেকলটাকে কুকুরের গলায় পরিয়ে চুপি চুপি বের হয়ে গেল। বস্তির পথ সদরে গিয়ে পড়েছে। সে সদর রাস্তায় পড়ে ট্রাম বাস দেখতে পেল। এই বড়ো রাস্তায় এসে পড়লেই সনাতনের মন প্রসন্ন হয়ে ওঠে। বড়ো রাস্তায় দাঁড়ালে সে মন্দিরের চূড়া দেখতে পায়। মন্দিরের চূড়ায় রোদ নামলে সব কিছুই নির্মল মনে হয়। ওর তখন ভিতরে ভিতরে একটা পবিত্র ভাব জাগে। বাবুদের শেকলটা সে ফিরিয়ে দিয়ে আসবে—এমন ভাবে।

    সে রাস্তা ধরে কুকুরটাকে নিয়ে ছুটবে ভাবল। ছুটলে শীত কমে যায়। রাস্তা পার হলে মন্দির, খোলা মাঠ, মাঠ কত বড়ো, কতদূরে চলে গেছে, সে মন্দিরের চাতালে চুপচাপ বসে থাকতে ভালোবাসে। সে ভাবল আজ আর মন্দিরে গিয়ে হাত পাতবে না। কুকুরটাকে নিয়ে চাতালের একপাশে বসে খোলা আকাশ দেখবে। বস্তির ঘরে থেকে সে বড়ো আকাশ দেখতে ভুলে গেছে। যখন ওর কিছুই ভালো লাগে না, যখন মা বাড়ি ছেড়ে নিরুদ্দেশে যায়, বুড়ি দিদিমা কেবল, সনাতন মন্দিরে যা, মন্দিরে যা করে তখন ওর সেই মানুষটার মতো কোথাও চলে যেতে ইচ্ছা করে। ফুল ফল পাখি দেখার ইচ্ছা হয়। অথবা মন্দিরের ও-পাশে যে বড়ো মাঠ আছে সেখানে চুপচাপ বসে আকাশে পাখি ওড়াতে ইচ্ছা যায়। কবে যে সেই মানুষ আসবে, নটবর ঢোল বাজাবে-ঢোল বাজালে সে পাছায় হাত রেখে মার জানালার সামনে ঘুরে ঘুরে নাচতে পারবে।

    বের হবার মুখে সে দেখে এসেছে, বুড়ি দিদিমা বারান্দায় একপাশে ছেড়া কাঁথার ভিতর কেমন গুটিশুটি দলা পাকিয়ে আছে। অন্যদিন বুড়ি সকাল সকাল উঠে সনাতনকে ডেকে দেয়। মন্দিরের পথে পুণ্যর্থীরা যায়। সনাতন তাদের কাছ থেকে দু-পয়সা এক পয়সা মেগে আনে। মেগে আনলে ওরা দুজনে মাকে লুকিয়ে চানা ভাজা অথবা বাদাম ভাজা এবং সুদিনের সময় ফুচকা খেতে খেতে বুড়ি বসে বসে টবকা টবকা কথা কয়। বুড়ি যেন আরে-ঠারে মার সম্পর্কে কী বলতে চায়। সনাতন বড়ো হয়ে যাচ্ছে, বুড়ি বুঝি বুঝতে পারছে। ওর বাবার কথা বুড়ি কিছুতে বলে না। বাবাকে সে কোনোদিন দেখেনি। পৃথিবীতে মার একমাত্র রাগ সেই মানুষটার ওপর। শীতের দেশ থেকে যেন মানুষটা মা-র জানালার কাছে এসে দাঁড়িয়ে থাকে। বাবার কথা বুড়িকে শুধালে তর তর করে বুড়ি অন্য কথা টেনে আনে। তখন মনে হয় বুড়ি বড়ো সেয়ানা। মা বাড়ি থাকলে, কোনোদিন সাহস পায় না বলতে, যা একবার মন্দিরে যা, মা লক্ষ্মীরা যাচ্ছে। গিয়ে হাত পেতে দাঁড়িয়ে থাক।

    মার কেন জানি ইচ্ছা সনাতন ছোটোলোকের মতো হাত পেতে ভিক্ষা করবে। সনাতন মানুষ হবে। সনাতনকে বিদ্যাশিক্ষার জন্য মা দোয়াত কলম কিনে দিয়েছে।

    রোদের ভিতর ওর হাঁটতে ভালো লাগছিল। কুকুরটা আগে আগে যাচ্ছিল। বড়ো মাঠ, খোলা আকাশ, দেখতে পেলেই ওর মনে নানা রঙের ফুলঝুরি ফুটতে থাকে। হাতে তার শেকল, সামনে তার পোষা কুকুর। মা, আজ রাতে ফিরে আসেনি। রাতে মা না ফিরলে সে জানে তার প্রাপ্য মায়ের কাছে সেদিন বেশি। মা পাউরুটি কিনে আনে, কলা কিনে আনে। মাকে বড়ো ক্লান্ত দেখায়। চোখ মুখ বিষণ্ণ। যেন মা সারারাত পথ হেঁটেছে। সারারাত মার চোখে ঘুম ছিল না। মা তখন কত ভালো কত সুন্দর। বুড়ি দরজার ও-পিঠে বসে থাকে। আর চুপি দিয়ে দ্যাখে, মা তাকে কী খাওয়াচ্ছে। এই ভালো খাওয়াটুকু দেখলে বুড়ির জিভে জল আসে। বুড়ির চোখ বড়ো বড়ো হয়ে যায়। সনাতন রে, সনাতন—তোর মা তোকে কত ভালো খেতে দেয়। তার মা চলে গেলে মন্দিরে যা সনাতন, আমার জন্য কিছু চেয়ে নিয়ে আয়?

    বুড়ির কথা মনে হলেই শীতের কথা মনে আসে। এখন এই শীতে গাছে গাছে পাতা ঝরার সময়। পাতা ঝরার সময় হলেই মানুষটা তার সাদা ঘোড়া নিয়ে চলে আসবে। সহসা ঢোল বাজলে মনে হবে ঘোড়াটা পথের ওপর নাচছে। বাঁশের কঞ্চিতে কাপড় দিয়ে তৈরি ঘোড়া, সাদা ঘোড়া—ঘোড়ার মুখে রংবেরঙের লাল নীল হলুদ রঙের রাঙতা, মাঝখানে তার জাদুকর, যেন ঘোড়া তাকায় না কেবল ঘুমায়, ঘোড়ার পিঠে জাদুকর, মাথায় রাঙতার টুপি, ছুটছে তো ছুটছেই। মানুষটা ঘোড়া নিয়ে খেলা দেখায়, জাদুর খেলা। চিঁহি চিঁহি করে ডাকে, আর দু-পয়সা এক-পয়সা যার যা সাধ্য দিয়ে দ্যাও চোখে মুখে এমন একটা হাসি লেগে থাকে।

    ঘোড়ার খেলা আরম্ভ হলেই দরজা জানালা সব খুলে যাবে। ছেলে-ছোকরারা চারপাশে ভিড় করবে। ঘোড়াটার চারপাশে, যেন এই ঘোড়ার দিগন্ত জোড়া খ্যাতি —ঘোড়া এই সব দুঃখী মানুষদের জন্য কত কিছু নিয়ে এসেছে—খেলনা, ফুল পাতা পাখি, যা কিছু তোমার ইচ্ছা। তুমি ফুল হতে চাও, পাখি হতে চাও? তোমাকে সে সব দিয়ে থুয়ে চলে যাবে। সেই মানুষটা এলেই সে এবার বলবে, তুমি আমাকে সেই বড়ো মাঠে নিয়ে যাবে? মাঠের পাশে নদী থাকবে, কাশফুলের বন থাকবে আর নীল আকাশ থাকবে। একবার মার সঙ্গে ট্রেনে তেমন একটা দেশে আমরা চলে গিয়েছিলাম। বড়ো রাস্তা ধরে হাঁটলেই ওর কেবল সেই দেশটার কথা মনে হয়।

    মা যখন বাড়ি থাকে না, দিদিমাই তার সব। সনাতনের তখন মনে হয় সংসারে তারা তিনটি মাত্র জীব। সে, দিদিমা এবং বুলি। মা তখন দূরের মানুষের মতো। তখন মনে হয় মা কেবল সাজতে খুঁজতে ভালোবাসে। আকাশে পাখি হয়ে উড়তে ভালোবাসে। সনাতন যেন সেই বিদেশি মানুষটার মতো অপরিচিত। দেখলেই রাগ হয়, মুখের ওপর জানালা বন্ধ করে দেবার মতো চোখে মা তাকিয়ে থাকে শুধু। সাজগোজের সময় সে কাছে থাকলে মা রাগ করে। বরং তার বুড়ি দিদিমাই তার তখন আপনার জন। মা সেজে গুঁজে বের হলে কে বলবে, এই হচ্ছে সনাতনের মা। সনাতন, দুই বাই একের এ নবীনচন্দ্র লেনের সনাতন-পরনের ইজের ছেড়া, পা ফাটা, চোখে পিচুটি এবং মুখের দুকষে ঘা। আগে আগে রাতে মা না ফিরলে সে বিছানায় বসে কাঁদত, বুড়ি তাড়াতাড়ি লম্ফ জ্বেলে সনাতনের মুখ দেখতে দেখতে ছড়া কাটতমা গেছে বনবাদাড়ে,-বাপ গেছে জাদুর দেশে, লক্ষ্মী ছেলে আমার রাজপুত্র, ঘোড়ায় চড়ে যা উড়ে যা। আরও কী সব সুর ধরে বলত। ছড়া কেটে অন্ধকারে বুড়ি দিদিমা ঘুম পাড়াত। ইদানীং কি হয়েছে, শীতের জন্য হতে পারে—কিংবা দুরারোগ্য ব্যাধি এই বুড়ির শরীরে, যার জন্য সনাতনকে মা বুড়ির সঙ্গে শুতে দেয় না। কাঁথা বালিশের ভিতর সারারাত বারান্দায় খোলা ঠান্ডায় কেবল গোঙায়। শীতে কষ্ট পায়। মা বুঝি ইচ্ছে করেই এবার শীতে, বুড়িটাকে মেরে ফেলবে।

    রোদ খেয়ে কুকুরটার এখন তাজা প্রাণ। সনাতনের তাজা প্রাণ। কী সুন্দর রোদ। কী উত্তাপ। শরীরের সব ঠান্ডা মরে গেল। কেবল এখন দিদিমার ছড়া মনে আসছে। নিজেকে সুখী রাজপুত্র ভাবতে ভালো লাগে। তার জন্য ছোট্ট একটা আকাশ থাকবে, নদী থাকবে, ফুল ফল থাকবে, সেই মানুষটা এলেই সে সেইসব ফুল ফল পাখির জন্যে নিরুদ্দেশে চলে যাবে।

    সে রোদের ভিতর কিছুক্ষণ বসে থাকল। খুপরি ঘরে আর ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে না। রোদ আসে না ঘরে, মাথার ওপরে প্রাসাদের মতো অট্টালিকা। ছায়া ছায়া ভাব সব সময়। সূর্য আকাশে উঠতে না উঠতেই মরে যায়। মা সেই ঘরকে কতরকমের ছবি দিয়ে সাজিয়ে রেখেছে। একটা ছবিতে সে দেখেছে, এক পদ্মফুল–নীচে জল, জল কালো। পাশে লম্বা পাহাড়। নীচে রেললাইন। ছোটো ছোটো লাল নীল কাঠের ঘর। সাদা মাঠ, ঠান্ডায় বরফ পড়েছে। রেললাইন দেখলেই একটা ট্রেনের কথা মনে আসে। মা তাকে একবার সুন্দর জামাকাপড় পরিয়ে তারকেশ্বর নিয়ে গিয়েছিল। যাবার সময় সে দূরে একটা গাড়ি দেখেছিল, গাড়িটা থেমে আছে। মা বলছিল, ওটা মালগাড়ি। ওটা চলবে না। থেকে থেকে কেবল ঘণ্টা বাজাচ্ছিল, টংলিং টংলিং। টংলিং টংলিং ঘণ্টা ধবনি শুনলেই তার কেন জানি বাবার কথা মনে হয়। বুকের ভিতরটা ওর কেমন করতে থাকে তখন।

    বড়ো পথ ধরে মেয়েরা সব স্কুলে যাচ্ছে। শীতের রোদে ওদের পোশাক কেমন ঝলমল করছে। নীল রঙের বাসে একদল ফুটফুটে মেয়ে বের হয়ে গেল। একটা কাক ডাকছে। দুটো শালিখ উড়ে গেল। দূরে কারখানায় ঘণ্টা পেটার শব্দ। সনাতনের বিস্বাদ লাগছিল—এক্ষুনি আবার ফিরে যেতে হবে। মা রাতে না ফিরলে একটু বেলা করে ফিরে আসে। মা এসে ওকে ঘরে না পেলে মারধোর করে। এমন খোলামেলা পথ, ফুটফুটে মেয়ে, রঙিন সব গাছ ফুল পাখি ছেড়ে ভিতরে নর্দমার মতো একটা অন্ধকার ঘরে ফিরে যেতে খুব খারাপ লাগছিল। ভাবাই যায় না। এত বড়ো একটা সদর রাস্তায় পিছনে দুই বাই একের এ বলে একটা খুপরি ঘর আছে। সেখানে তার বুড়ি দিদিমা কাঁথা বালিসের ভিতর ঠান্ডায় শক্ত হয়ে আছে।

    ঘরে ফেরার মুখে সনাতন বুলিকে চাদরের তলায় লুকিয়ে ফেলল। যেন এই বুলির সঙ্গে সনাতনের একটা গোপন সলাপরামর্শ আছে। মা ঘরে আছে টের পেলেই চাদরের নীচে বুলি ভালো মানুষ হয়ে যায়। সন্তর্পণে সে বুলিকে ভাঙা তক্তপোষের নীচে হাড়িকুড়ির ভিতর লুকিয়ে ফেলে। মুখে একটা মালসা চাপা দিয়ে রাখে। মা যতক্ষণ বাড়ি থাকে ততক্ষণ সে বুলিকে লুকিয়ে লুকিয়ে শুকনো রুটি পাঁউরুটির অংশ, ছোলা ভাজা অথবা মুড়ি যা কিছু ওর ভাগে আসে, তার অংশ দেয়। বুলি চুপচাপ অন্ধকারে—যেন সে মৃত এক জীব, এই সংসারে তার অস্তিত্ব আছে বোঝাই দায়। মা ঘরে ফিরলেই দেখতে পায় সনাতন ভালো ছেলের মতো দোয়াত কলম নিয়ে বসেছে। সে অ আ ই ঈ লিখছে। মা তখন টেরই পায় না, এ-ঘরে একটা কুকুরছানা আছে।

    রাস্তা পার হবার মুখে সনাতন বুলির মুখে চুমু খেল। তারপরই মনে হল কে যেন যায় গাড়িতে। বুঝি মা এবং সঙ্গে কে যেন। সে তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে ঘরে ফিরে এল। কিন্তু আশ্চর্য ঘরে ফিরে দেখল ফেরেনি। বারান্দায় কাঁথা বালিশের ভিতর বুড়ি তেমনি পুঁটলি পাকিয়ে আছে। ওর খিধে পেয়েছে, বুলির খিধে পেয়েছে। বুড়ি দিদিমা উঠে এখনও শুকনো রুটি করতে বসছে না। সে ক্ষেপে গেল। ক্ষুধায় কাতর। গলা শুকনো। মা নেই ঘরে। মানুষটা কবে আসবে-শীতের পাতা ঝরতে আরম্ভ করছে অথচ মানুষটা আসছে না। হতাশায় ওর কান্না পাচ্ছিল। সে ডাকল, দিদি, ও দিদি। ওঠ। উঠে খেতে দে। কোনো সাড়া-শব্দ নেই। শীতে কান ভোতা। সনাতনের এবার খিস্তি করতে ইচ্ছা হল-অ দিদি ওঠ। উঠে খেতে দে। না কোনো লক্ষণ নেই ওঠার। সে ক্ষোভে দুঃখে লাথি মারল কাঁথা বালিশে। তার পায়ের সঙ্গে সরে এল। দেখল, একটা মুখ, চোখে ঘোলা দৃষ্টি, নির্জীব, হা আমার সনাতন রে বলে ভ্যাঁক করে কেঁদে দেবার মতো মুখ করে রেখেছে বুড়ি। সনাতন ভয় পেয়ে ছুটবে ভাবল, আর তক্ষুনি গাড়ির শব্দ। মা একা ট্যাকসি থেকে নেমে আসছে। তাড়াতাড়ি সনাতন কি করবে কিছু ভেবে পেল না। কোথায় রাখবে বুলিকে, তাড়াতাড়ি কিছু করতে হয়। মা এসে যাচ্ছে। মার পায়ের শব্দ। সে কেমন হকচকিয়ে গেল। তাড়াতাড়ি সে প্রতিদিনের মতো ঘরের অন্ধকার জায়গাটায় একটা হাড়ির ভিতর বুলিকে ঢুকিয়ে দিল। মালসা সে পেল না। লাফ মেরে বুলি বের হয়ে আসতে পারে। সে অগত্যা বুড়ির কাঁথা টেনে হাড়ির মুখটা জোরজার করে বন্ধ করে দিল। তাড়াতাড়ি করার জন্য কি যে হয়ে গেল কুকুরটার কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। মা এসে বারান্দায় তখন হাউ মাউ কাঁদছে। বিকালে শ্মশানে কারা যেন গেল। মা টাকা গুণে দিলেন। দুবার তিনবার সে ভেবেছে, দুবার তিনবার কেন, সে বার বার ভেবেছে একবার সন্তর্পণে উঁকি দিয়ে দেখে তার সেই প্রিয় বুলি কেমন আছে। কিন্তু মা। আজ ঘর থেকে কিছুতেই বের হচ্ছে না। নোংরা ঘরদোর সব পরিষ্কার করছে। ধুয়ে পাকলে সব সাফসোফ করছে। হাড়ি পাতিল টানতেই ভিতর থেকে মরা কুকুরছানা বের হয়ে এল। মা কেমন বিরক্ত গলায় বলল হারে এই কুকুরছানা! সনাতন দেখল মার হাতে বুলি একটা মরা ইঁদুরের মতো দোল খাচ্ছে। ঠিক বুড়ি দিদিমার মতো চোখ উলটে আছে।

    সে নিজেকে বড়ো নিঃসঙ্গ ভাবল। সে বড়ো একা। সে নিঃশব্দে বুলিকে নিয়ে বের হয়ে গেল। আর তখনই দেখল, সেই জাদুকরের দেশ থেকে মানুষটা এসে গেছে। মার জানালায় দাঁড়িয়ে কী তার প্রাপ্য ছিল, তা এখন ফিরে পেতে চাইছে। মা জানালা বন্ধ করে দিয়েছে। তখন মানুষটা পাগলের মতো চাবুক উড়িয়ে দিল বাতাসে। ঘোড়া ছুটিয়ে দিল। সে পথের ওপর হেলেদুলে ঘোড়া ছুটিয়ে নাচছিল। নটবর ঢোল বাজাচ্ছিল। বস্তির সব ছেলেছোকরারা ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে। মানুষটা সনাতনকে ডাকল। সনাতন বুলিকে বগল তলায় রেখে মানুষটার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। সে যেন বলল, তুমি যাবে সেই ফুল ফলের দেশে? তুমি যাবে, যেখানে মানুষ দূরের সাগরে পানসী নাও ভাসায়। তোমাকে আমি নিয়ে যাব। বলে সে ফের নাচতে নাচতে, দুলতে দুলতে ঘোড়ার চড়ে যেতে থাকল। সনাতন পিছনে পিছনে নাচতে নাচতে, দুলতে দুলতে চলে যেতে থাকল। তার অ আ ক খ, দোয়াত কলম, স্বপ্ন দেখা সব পড়ে থাকল ঘরের অন্ধকারে। সে ফুল ফলের জন্য মানুষটার সঙ্গে বড়ো মাঠের উদ্দেশ্যে হাঁটতে থাকল।

    সনাতনের মনে হল মৃত বুলিকে, মানুষটা—সেই যে বলে না কোথায় এক জাদুর পাহাড় আছে, পাহাড়ের মাথায় ঝরনা আছে, ঝরনার জলে যাদুর মানুষটা যত দুঃখ আছে পৃথিবীর দূর করে দেবে, বুলির বুকে প্রাণপাখি—সে প্রাণপাখির আশায় মানুষটার পেছনে হাঁটতে থাকল। জাদুর মানুষ বহুরূপী, সাদা কাপড়ের

    ঘোড়া আর সনাতন, বগলে তার মরা কুকুরছানা, সকলে তারা বড় একটা মাঠে নেমে গেল। নটবর মাঠে নেমেই জোরে জোরে ঢোল বাজাতে থাকল। যেন সে সকলকে বলে বলে চলে যাচ্ছে, শীতের শেষে সূর্য উঠলে আবার আমরা এ-শহরে তাজা কুকুর নিয়ে চলে আসব।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনানা রসের ৬টি উপন্যাস – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ৩০০ বছরের কলকাতা : পটভূমি ও ইতিকথা – ডঃ অতুল সুর

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }