Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচিত গল্পসংগ্রহ

    লেখক এক পাতা গল্প1108 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    স্বর্ণমুকুট

    শনি, রবিবারই তার পক্ষে প্রশস্ত সময়।

    শনিবারেই প্রিয়তোষ অফিস থেকে সোজা শীতলকুচিতে চলে যায়। বাসে ঘণ্টাখানেক, তারপর কিছুটা কাঁচা রাস্তায় তাকে হাঁটতে হয়। গ্রাম জায়গা, ঠিক গ্রাম জায়গা বললেও ভুল হবে, ঘরবাড়ি প্রায় নেই বললেই চলে। কাশের জঙ্গল কিংবা মাঠ পার হয়ে খাল, খালের পাড়ে পাড়ে কিছুটা পথ, তারপর ঝোপ জঙ্গলের মধ্যে কাঠাপাঁচেক জমি তার। জমিটা এক লণ্ঠনওলার। সে জমিটা বেশিদাম পাওয়ায় ছেড়ে দিচ্ছে। তার কুঁড়েঘরটি আছে। প্রিয়তোষের জায়গাটা পছন্দ হয়ে যাওয়ার পর এই কুঁড়েঘরটায় সে শনি, রবিবার গিয়ে থাকে।

    এবারে সে বেশ মুশকিলেই পড়ে গেছে। পানু প্রায়ই বলবে, বিশেষ করে শনিবার সকালে, বাবা, তুমি আজ যাচ্ছ।

    যেতেই হবে। জঙ্গল সাফ করে ইট বালি পড়ার কথা। কতটা কী হল না গেলে বুঝব কী করে।

    তুমি যে বলছিলে আমায় নিয়ে যাবে। ডাহুক পাখি দেখাবে।

    প্রিয়তোষের এই স্বভাব। সোমবার অফিস করে বাড়ি ফিরলেই, নমিতা, পানু, এবং মা নানা প্রশ্ন করবেন। তারাও দু-একবার গেছে। নমিতা জমিটা কেনার আগে একবার গিয়েছিলেন, তাঁর খুব পছন্দ হয়নি। বরং কিছুটা ক্ষুব্ধই বলা চলে। শহরের কোনো সুবিধেই নেই, পানুর স্কুল, অসুখবিসুখে ডাক্তার এইসব অসুবিধের কথা উঠেছে। তবে এটাও ঠিক প্রিয়তোষের ক্ষমতাই বা কতটুকু, তার সামান্য চাকরি, এবং কিছু টিউশনি ছাড়া অর্থ উপার্জনের বড়ো আর কোনো উপায় নেই। সামান্য সঞ্চিত টাকায় বাস-রাস্তা থেকে এত কাছে জমি পাওয়াই কঠিন। জায়গাটার উন্নতি কবে হবে তাও ঠিক বলা যায় না। তবু কেন যে প্রিয়তোষের এত পছন্দ! আসলে গাছপালা এবং কিছু গরিব মানুষজন, যেমন লণ্ঠনওলার কথাই ধরা যাক, সে নিজের বাড়িতে বসেই ঝালাই করে, কুপিলক্ষ তৈরি করে এবং ঝুড়িতে বয়ে নিয়ে যায় গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। কোনো ছকবাঁধা জীবন নয় তার। প্রিয়তোষের মনে হয়েছিল লোকটি একেবারে স্বাধীন। ঝোপজঙ্গলের ডাহুক পাখি, তা ছাড়া কাশের জঙ্গল পার হয়ে ঘাস এবং মাঠ সহ কিছু সাদা বকের ওড়াউড়িও তার পছন্দ। খুবই নিরিবিলি জায়গা। কোনো ব্যস্ততা নেই। কেমন এক নৈঃশব্দ্য রাতে বিরাজ করে। খাল পাড় হয়ে একটা শালের জঙ্গল আছে, সেখানে শেয়ালেরা রাতে হু ক্কাহুয়া করে ডাকে।

    আসলে প্রিয়তোষেরা তিন পুরুষ ধরে ভাড়াবাড়ির বাসিন্দা। তাঁর বাবা শ্যামবাজারের এঁদোগলিতে সেই যে দেশ ভাগের পর এসে উঠেছিলেন আর নড়ার নাম করেননি। রাস্তায় ছিটকাপড়ের ব্যবসা, যার নাম হকারি, এই করে দিনযাপন। যাই হোক, প্রিয়তোষও এই বাসায় শৈশব থেকে বড়ো হয়েছে। ঘুপচিমতো ঘরে এত অন্ধকার যে, দিনের বেলাতেও আলো জ্বেলে রাখতে হয়। চারতলা বাড়ির একতলার স্যাঁতসেঁতে ঘরে তার শৈশব যৌবন কেটেছে, কোনোরকমে পাশটাশ দিয়ে সরকারি অফিসের আবহমানকালের কেরানিগিরিতে ঢুকে যাওয়া ছাড়া উপায়ও ছিল না তার। তার ছেলে পানুও জন্মেছে হাসপাতালে, বড়ো হচ্ছে এ বাড়িতে। টাউন স্কুলে পড়ছে। কাজেই যুক্তির কোনও স্বাদ সে জায়গাটায় গিয়ে আবিষ্কার করে ফেলতেই পারে।

    বাড়ি কবে হবে সে অবশ্য জানে না। আর হলেও, এমন একটা জনশূন্য মাঠের মধ্যে থাকা খুব সহজ কথা নয়। তবে স্বপ্ন, পাঁচ কাঠা জমির সবটাই তার। পানু সবসময়ই চঞ্চল স্বভাবের। ভূতের গল্প গোয়েন্দা গল্পের মতো কোনো ঘ্রাণ সে সেখানে না গিয়েও যেন পায়। বাবা কেন যে কিছুতেই নিয়ে যেতে চান না, সে তাও বুঝতে পারে না।

    কবে যাবে, বায়না ধরলে, বাবার এক কথা, অতটা রাস্তা হেঁটে যেতে পারবি না। মাঠের মধ্যে একটা কুঁড়েঘরে থাকতে তোর একা ভয় করবে। আমার তো কত কাজ!

    কেন, তোমার লণ্ঠনওলা!

    আরে সে কখনো ফেরে, কখনো ফেরে না। তার কোনো ঠিক আছে? তাকে আমি থাকতে বলেছি বলে থাকে। সংসারে সে একা মানুষ, বেশিকিছু তার লাগেও না। বয়সেরও গাছ পাথর নেই। খোকাবাবুর জন্য সে একটা জাদুর লণ্ঠন বানিয়ে দেবে, ওটা হয়ে গেলেই সে দেশ ছেড়ে চলে যাবে।

    কোথায় যাবে বাবা?

    কোথায় যাবে, তা অবশ্য কিছু বলেনি।

    তারপরই কী ভেবে প্রিয়তোষ বলেছিলেন, ওর অবশ্য নদীর পাড়ে বাড়ি করার খুব ইচ্ছে। এই যেমন বলে, একটা গাছ, তার নীচে কুঁড়েঘর, সামনে নদী, নদীর জলে স্বর্ণমুকুটের প্রতিবিম্ব।

    স্বর্ণমুকুট। তার মানে!

    ওর এইরকমেরই কথা। হয়তো বলতে চেয়েছে, নদীর জল কলকল ছলছল। কলকল ছলছলই ওর কাছে স্বর্ণকুট হয়ে গেছে। জলে তার স্বর্ণমুকুট ভেসে যাচ্ছে সে দেখতে পায়।

    লোকটা খুব তাজ্জব কথা বলে। তোমার বন্ধু না বাবা?

    তা ওইরকমের। নামটাও ভারি মজার। তালেব সরকার। সে অবশ্য বলেছে, কর্তাঠাকুর আমাকে তালেব বলেই ডাকবেন।

    তোমাকে কর্তাঠাকুর বলে কেন?

    আমার গলায় পৈতে আছে না! পৈতে থাকলে কর্তাঠাকুর ছাড়া সে কিছু ভাবতে পারে না। আমি গেলে তার কাজ বাড়ে। সে আমাকে কিছুই করতে দেয় না। জল তুলে আনা, কাঠকুটো জোগাড় করা, উনুন গোবরে লেপে একেবারে নিরামিষাশী বামুনের আহারের সুবন্দোবস্ত। মাচানে শিম, লাউ, খেতে বেগুন, গাছের কাঁচালঙ্কা তার জমিতেই হয়। কাঠাখানেক জমিতেই প্রচুর ফলন।

    তালেব গাছ লাগায় বাবা?

    লাগায়। তবে ওই শিম, লাউ, বেগুনের চারা। সেখানে গেলে দেখতে পাবে গাছ লাগালে বড়ো হয় কী করে।

    পানুর অবশ্য একটা ফুলের টব আছে। টবে সে গাছ লাগায়। তবে বাঁচে না। রোদ না পেলে গাছ বাঁচবে কেন! সে একটা ভুইচাঁপা লাগিয়েছিল, গাছটা বাঁচেনি। সে রথের মেলা থেকে দোপাটি ফুলের চারা এনেছিল, বাঁচেনি। স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার ঘরে গাছ বাঁচতে চায় না। মেলা রোদ সে রাস্তায় গেলে দেখতে পায়, অথচ বাড়িটায় তাদের রোদই ঢোকে না। বাবা খোলামেলা জায়গায় জমি কিনেছে, রোদ অহরহ এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়ায়, আর রাজ্যের পাখপাখালি, অর্থাৎ প্রাণীজগতের সাড়া পাওয়া যায়, এমন একটা জায়গায় সে না গিয়ে থাকে কী করে!

    বাবা সব বলেন না। সেখানে গেলে সে যেন ঠিক একটা ছোট্ট টিলা আবিষ্কার করে ফেলবে। এবং জন্তু-জানোয়ারেরাও ঘুরে বেড়াতে পারে, সে কাঠবেড়ালি, খেঁকশেয়াল গেলেই দেখতে পাবে, সোনালি হয়ে সে ঘুরে বেড়াতে পারবে—কী মজা! সে তো কার্টুন ছবির যম। সুপারম্যান, স্পাইডার ওম্যান, টিনটিনরা বোধ হয়। সেইসব ঝোপজঙ্গলেই লুকিয়ে থাকে। টিভিতে সে যা দেখে, সবই সেখানে ঝোপজঙ্গলে লুকিয়ে আছে এমন মনে হয় তার। বাবা যায়, মাও ঘুরে এসেছে, ঠাম্মা যায়নি, সেও যায়নি। তার খুবই রাগ হয়। রাগ হলে নানা ঝামেলা পাকাতে ওস্তাদ। সে না খেয়ে রাস্তায় দৌড়ে চলে যায়। ফুটপাথ ধরে দৌড়য়।

    বাবা পড়ে যান মহাফাঁপরে। সে রাস্তাতেই হাত-পা ছুঁড়তে থাকে, বাজারের সামনে ফুল বিক্রি করে কদম ঠাকুর, সেই বলবে, নিয়ে গেলেই পারেন। ছেলেমানুষ, অলিগলিতে কাঁহাতক ঘুরে বেড়াতে পাবে!

    পানু একদিন বলেই ফেলল, বাবা সেখানে ভালুক আছে?

    না নেই। ‘বাঘ, হরিণ, টিয়া?

    টিয়া আছে। বাঘ, হরিণ নেই।

    আছে। তুমি দেখতে পাও না। তালেবকাকা সব জানে। তালেবকাকার কুকুর আছে?

    তা আছে। নেড়ি কুকুর। কুকুরটা তালেবের সঙ্গে সঙ্গে ঘোরে।

    কথা শোনে?

    কথা শুনবে না কেন?

    দু’পা তুলে নাচতে পারে?

    তুই থামবি পানু?

    কবে নিয়ে যাবে, আমাকে কবে জাদুর লণ্ঠন দেবে তালেবকাকা। আমি খাব না বলে দিলাম। আমার রাগ হয় না! দেখবে একদিন আমি নিজেই বের হয়ে যাব। জায়গাটা খুঁজে দেখা দরকার। ঘুরতে ঘুরতে ঠিক জায়গায় চলে যাব!

    এই রে! বের হয়ে যেতেই পারে পানু। স্কুলের নীচু ক্লাসে পড়ে। মা তাকে দিয়ে আসে, নিয়ে আসে। এক দুপুরে গিয়ে যদি দেখে পানু স্কুলে নেই, না বলে না কয়ে স্কুল থেকে পালিয়েছে, তা হলেই সমূহ সর্বনাশ।

    বাধ্য হয়ে প্রিয়তোষ না বলে পারলেন না, তুমি যাবে। নমিতাকেও বললেন, ওকে জায়গাটা ঘুরিয়ে দেখাব। জায়গাটা নিয়ে পানু নানা আজগুবি চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছে। কার্টুনের সব চরিত্র সেখানে পালিয়ে আছে কখন কী করে বসবে তার চেয়ে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া ভাল। শনি, রবিবার থাকব। প্যান্ট-শার্ট আলাদা দিয়ে দেবে। পানুর উদ্ভট চিন্তাভাবনা আমার একদম পছন্দ না।

    তুমি ছেলেটাকে নিয়ে শেষে জঙ্গলে রাত কাটাবে! আমার কিন্তু ভালো লাগছে না।

    তোমার ভালো লাগছে না, কিন্তু ছেলেটা সেখানে একা চলে গেলে তোমার ভালো লাগবে!

    নমিতা অগত্যা নিমরাজি না হয়ে পারল না।

    পানু যাবে শুনেই ঘরের মধ্যে ছুটে বেড়াতে থাকল। রাস্তায় ছুটে গেল। ফুল বেচে খায় লোকটাকে বলল, বাবা আমাকে নিয়ে যাবে বলেছে।

    এক সকালে প্রিয়তোষ, পানুকে নিয়ে বের হয়ে পড়লেন। তাকে নিয়েই অফিসে যেতে হল। শীতলকুচিতে যান বলে অফিসের কাজ আগেই হালকা করে রাখেন। অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বের না হলে দিন থাকতে জায়গাটায় পৌঁছনো অসম্ভব।

    তাঁকে লাউহাটির বাস ধরতে হবে। অফিস ছুটি হলে বাসে জায়গা পাওয়াই মুশকিল। ঘণ্টাখানেক আগে এসেও জায়গা পেল না। দুটো বাস ছেড়ে দিতে হল। পরের বাসে সামনের দিকে জায়গা পেয়ে গেলেন! সঙ্গে একটা ব্যাগ, একটা ওয়াটার বটল। মাঝে-মাঝেই পানু চুক চুক করে জল খাচ্ছে। কোনো উত্তেজনায় পড়ে গেলে এটা তার হয়।

    বাসটা এয়ারপোর্ট থেকে জানদিকে ঘুরে গেল। পানু এতক্ষণ একটা কথাও বলেনি। চারপাশে যা দেখছে—পাকা বাড়ি, হাইরাইজ বিল্ডিং, এবং প্রশস্ত রাস্তা সবই তার চেনা। এসব দেখে তার বিন্দুমাত্র কৌতূহল সৃষ্টি হয়নি। এমনকী এয়ারপোর্টের উড়োজাহাজও তার কোনো আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারেনি। ক্রমে বাড়িঘর কমে আসতে থাকলে, বড়ো বড়ো গাছ এবং দুটো-একটা বাংলো টাইপের বাড়ি দেখে কিঞ্চিৎ সে উৎফুল্ল হল। বাস কিংবা অটোরও উৎপাত নেই। দুটো ভ্যানে কিছু লোকজন যাচ্ছিল সে বলল, বাবা দ্যাখো দ্যাখো, ওদিকে তাকাও না!

    প্রিয়তোষ দেখলেন, দু-পাশে নয়ানজুলি, দুটো ভ্যান, তারপরই যতদূর চোখ যায় মাছের ভেড়ি—জল আর জল। এবং কিছু ধানের জমি। আসলে সামনেই তাদের নামতে হবে। তারপর হাঁটা। এবং কিছুটা ধানের জমি। কিছুটা রিকশায় গিয়ে নামতে পারে। তবে ঘুরপথ হয়ে যাবে। পানু একবার নুয়ে ব্যাগ খুলে কী দেখল!

    কী খুঁজছিস?

    সে টেনে বের করল।

    প্রিয়তোষ দেখলেন পানু তার এয়ারগান লুকিয়ে সঙ্গে নিয়ে এসেছে।

    পানুর বড়োমামা জন্মদিনে এয়ারগানটা দিয়ে গেছেন কবে যেন। এমন একটা স্যাঁতসেঁতে বাড়িতে পানু এয়ারগান দিয়ে কী করবে! টিকটিকি, বড়োজোর দুটো একটা ইঁদুরকে তাড়া করতে পারে। রাস্তার কুকুরকে অবশ্য একবার তাড়া করতে গিয়ে পানুর খুবই ভোগান্তি হয়েছিল। কুকুরের কামড়ে যে জলাতঙ্কের বিষ থাকে সেবারে সুচ ফোঁটাতে ভালোই টের পেয়েছিল পানু। তারপর বোধহয় সে তার এয়ারগানটার কথা ভুলেই গিয়েছিল—সে জঙ্গলে যাচ্ছে, এয়ারগানটা খুবই জরুরি এখনও মনে হতে পারে তার।

    পানু তার বাবার সঙ্গে হাঁটছিল। রাস্তার ডানপাশের ভেড়ি ফেলে তারা মাঠের দিকে নেমে গেল। মানুষের কিছু ঘরবাড়িও পার হয়ে গেল তারা। বেড়ার ঘর, নিকোনো উঠোন এবং মানুষজনের সাড়াও পাওয়া গেল। দুটো গোরুর গাড়ি আসছে বাঁশ বোঝাই হয়ে। প্রিয়তোষ একপাশে ছেলের হাত ধরে সরে দাঁড়াল। বাঁশের গাড়ি দেখে পানুর আবার জলতেষ্টা পেল। সে জল খেয়ে ছুটল বাবার পিছু পিছু।

    তারপরেই ধানের মাঠ। এবং আল ধরে হাঁটা। কোনো আর রাস্তাই নেই। সে দখল, ধানগাছের গোড়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে। দুটো হলুদ রঙের পাখি উড়ে গেল। কিউ কিউ করে ডাকছে। আশ্চর্য এক জগৎ ক্রমে যেন উদ্ভাসিত হচ্ছে। দিগন্ত দেখা যাচ্ছে। এর পরে বোধ হয় নির্জন খাঁ খাঁ প্রান্তর। খুবই রোমাঞ্চ বোধ করছে পানু। বাবা সঙ্গে থাকায় তার বিন্দুমাত্র ভয়ডর নেই। সেই স্বর্ণমুকুটের লোকটাকেও সে এবার ঠিক দেখে ফেলবে। হাতে জাদুর লণ্ঠন নিয়ে হাজির।

    তারপর তারা কাশের জঙ্গলেও ঢুকে গেল। যেদিকে তাকায় পানু, কিছুই আর দেখতে পায় না। কাশের জঙ্গলে তার মাথা ঢেকে গেছে। কিছুটা যেন পাতাল প্রবেশের মতো মনে হচ্ছিল পানর। যদি এ-সময়ে স্বর্ণকুটের লোকটা জঙ্গলের ভেতর থেকে সহসা হাত ধরে টানে, তবে সে নির্ঘাত চিৎকার করে উঠবে। তার যে ভয় ভয় করছিল। এতটা রাস্তা হেঁটে সে খুবই কাহিল হয়ে পড়েছে। ঘামে জবজবে হয়ে গেছে শার্ট-প্যান্ট। ফেব্রুয়ারির মনোরম ঠান্ডা হাওয়াতেও পানু দম পাচ্ছে না। কেবল থেকে থেকে বলছে, বাবা আর কতদূর!

    দ্যাখ পানু, এটুকু হেঁটে আর কতদূর বললে কিন্তু সেখানে গিয়ে কোনো মজা পাবি না। এই যে হেঁটে যাচ্ছিস, দু-পাশে মাঠ এবং সূর্যাস্তের কাছাকাছি সময়কার পৃথিবীকে দেখতে পাচ্ছিস, এ বড়োই বিরল দৃশ্য। তুই ছেলেমানুষ, এসব বুঝতে শেখ।

    এমন কথায় পানুর খুবই অভিমান হল। আবার ভাবল, বাবা তাকে বোধ হয় গুরুত্ব দিতে চান না। সে তা একবারও বলেনি, বাবা, আমি একটু বসব। এসো গাছটার নীচে বসে একটু জিরিয়ে নিই। বললেই যে সে বাবার কাছে ছোট হয়ে যাবে। বাবা ঠিক বলবেন, জানিস পানু, এজন্যই তোকে নিয়ে আসি না। সে তো শুধু বলেছে, আর কতদূর?

    সঙ্গে সঙ্গে মনে হল কাশের ঝোপ ফাঁকা হয়ে গেছে। সামনে সেই মাঠ এবং খালপাড়ের দৃশ্য। একটা লোকও দেখা যাচ্ছে, পায়ের কাছে একটা কুকুর লেজ নাড়ছে। যদিও এত দূর থেকে সব স্পষ্ট নয়, কারণ সূর্যাস্ত হচ্ছে, লাল রঙিন এক জগৎ। এবং তার ভেতর একটা মানুষ আর কুকুর কী যে সুমহান কাব্যগাঁথা। সে তার স্যারের ভাষায় দৃশ্যটাকে উপভোগ করার চেষ্টায় চোখ মেলে তাকাতেই মনে হল লোকটা পরে আছে একটা ঢোলা কালো হাফপ্যান্ট, গায়ে ফতুয়া, মাথায় যেন সত্যি স্বর্ণমুকুট। লোকটা এগিয়ে আসছে, কুকুরটা এদিক ওদিক ছুটছে। লাফাচ্ছে। লেজ নাড়ছে।

    প্রিয়তোষ বললেন, ওই আসছে তালেব। আজ বোধহয় ফেরি করতে বের হয়নি। তুই যে আসবি তালেব জানে।

    কিন্তু পানু কী বলবে! এমন নিঃসঙ্গ প্রান্তরে একজন মানুষ রাজার মতো দাঁড়িয়ে থাকলে সে কী করতে পারে! মাথায় যে ওটা কী! কখনও মনে হয় নীল কাপড়ের ফেটি, তারপরই সূর্যাস্তের রঙে কেন যে চিকমিক করে উঠতে উঠতে হিরে-জহরত মণিমাণিক্যে ভরা মনে হয়। মনে হয় স্বর্ণমুকুট। এমন একজন মানুষ নদীর পাড়ে বাড়ি করবে ভেবে জমি-জায়গা বিক্রি করে চলে যেতেই পারে। তার যে চাই স্বর্ণমুকুট।

    সে নদীর জলে স্বর্ণমুকুট ভেসে যেতে দেখে মাঝে-মাঝে। আর হাতে ওটা কী! কাছে যেতে যেতে সে বুঝল, ওটা লণ্ঠন। জাদুর লণ্ঠন কি না জানে না, কারণ তখন সাঁঝবেলা, আকাশে দুটো-একটা নক্ষত্র ভাসমান, আর হাতে জাদুলণ্ঠনে সে দেখল একটা নক্ষত্র তালেব চুরি করে কাচের ভেতর ভরে রেখেছে। নক্ষত্রটা মিটমিট করে জ্বলছে এবং আলো দিচ্ছে।

    সে কেমন মুগ্ধ বিস্ময়ে তালেবের কাছে আসতেই অবাক চোখে দেখল-হাতের লণ্ঠন দুলছে। আলো দিচ্ছে। অন্ধকার চরাচরে লণ্ঠনের এই আলো পানুকে পৃথিবীর অন্য এক প্রান্তে সত্যি যেন হাজির করে দিয়েছে।

    তালেব, তুমি আজ ফেরি করতে বের হওনি দেখছি।

    বের হয়েছিলাম। রাস্তার মনে পড়ে গেল, খোকাবাবু আসবেন। আমার আর যেতে ইচ্ছে করল না।

    পানুর দিকে তাকিয়ে বোধ হয় মনে হল মুখখানা ভাল দেখতে পাচ্ছে না, লণ্ঠন তুলে কাছে নিয়ে দেখতে দেখতে বলল, কী গ খোকাবাবু, চোখে যে আপনার স্বপ্ন ঝোলে-মাকে ছেড়ে এলেন। থাকতে কষ্ট হবে না?

    পানু বলল, তুমি টায়ারের স্যান্ডেল পরে আছ কেন? মাথায় নীল কাপড়ের ফেটি কেন?

    হা হা করে হাসল তালেব। পানু বুঝতে পারল না দূরে সূর্যাস্তের সময় লণ্ঠনওলার নীল রঙের পাগড়ি কেন তার চোখে স্বর্ণমুকুট হয়ে দেখা দিল। এ এক আশ্চর্য অবলোকন, অথবা কোনো ঘোর থেকে সে দেখে ফেলেছে, লণ্ঠনওলার মাথায় স্বর্ণমুকুট।

    সে বলল, তুমি স্বর্ণমুকুট পরেছিলে?

    পরেছিলাম।

    এখন দেখছি নীল কাপড়ের ফেট্টি তোমার মাথায়!

    সে আবার আগের মতোই হা হা করে হাসতে হাসতে মাথা থেকে নীল পাগড়ির কাপড়টা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে প্যাঁচ খুলে মাথা নুইয়ে দেখল।

    এ মা, তোমার এক্কে!যারে টাক মাথা।

    ‘হাত দিন মাথায়’ বলে লণ্ঠনওলা পানুর হাত তুলে মাথায় ঘষে দিতে দিতে বলল, মানুষের যে চাই স্বর্ণমুকুট। কর্তাঠাকুরকে আমার জমি বিক্রি করে দিলাম, সেই লোভে, নদীর পাড়ে বাড়ি, আর নদীর জলে স্বপ্ন দেখা, আপনি বড় হতে হতে টের পাবেন।

    এতসব ভারি কথা পানু বোঝে না। সে বলল, একটা নক্ষত্র যে তুমি চুরি করেছ আমি জানি।

    আপনি জানবেন না হয়!

    তুমি সত্যি তবে চুরি করেছ?

    তা করেছি।

    লণ্ঠনের কাচের ভেতর ওটা রেখে দিলে কেন?

    তা না হলে আলো যে জ্বলে না।

    পানু ভেবে পেল না, লণ্ঠনওলা, মানুষ না অপদেবতা।

    সে বলল, তুমি কি ভূত!

    এবারে প্রিয়তোষ ধমক না দিয়ে পারল না।

    পানু, এমন বলতে হয় না।

    তারপর তালেবের দিকে তাকিয়ে বলল, আরে তোমরা যে এখানেই জমে গেলে। আরও যে হাঁটতে হয়।

    তালেব বলল, চলেন। খোকাবাবুকে আমি কাঁধে নিচ্ছি। কতটা রাস্তা, খোকাবাবু পারবে কেন।

    পানু এক লাফে সরে দাঁড়াল। বলল, না, না, আমি হেঁটেই যেতে পারব। কাঁধে নিয়ে তালেব যদি হেঁটে চলে যায়, তাকে নিয়ে ফেরি করতে বের হয়ে যায়—সে হয়তো আর কোনোদিনই তার মায়ের কাছে ফিরে যেতে পারবে না।

    তালেব আগে লণ্ঠন দুলিয়ে হাঁটছে।

    কুকুরটা আরও আগে দুলকি চালে ছুটছে।

    পানু খুবই কাহিল, সে হাঁটতে পারছে না। পায়ে খুব লাগছে, সে বলতেও পারছে না, তার কষ্ট হচ্ছে, বললেই বাবা বলবেন, এজন্যই তোমাকে নিয়ে আসতে চাই না। সে কিছুটা খুঁড়িয়ে হাঁটছে। অন্ধকারে কেউ টের পাচ্ছে না।

    তার তালেবকে এখন নানা প্রশ্ন।

    এখানে একটা টিলা আছে?

    তা আছে।

    ভালুক আছে?

    তাও আছে।

    টিনটিন। টিনটিন। তালেব আর কিছু বলতে পারল না। টিনটিন বলে কোনো জন্তু জানোয়ার আছে সে জানেই না। তালেবের মুখে রা নেই।

    কী হল, কথা বলছ না তালেব?

    এই, কী হচ্ছে অসভ্যতা! তোমাকে বলেছি না, তালেবকাকা ডাকবে। প্রিয়তোষ পানুকে ধমক দিলেন।

    সে তালেবকাকা ডাকবে কী করে! তালেব অপদেবতা না ভূত, কিছুই বুঝতে পারছে না, তাকে সে তার খুড়োমশাই ভাবে কী করে। সেও কেমন চুপ মেরে গেল। সে বলতে পারল না, জঙ্গলে বাঘ নেকড়ে পুষে রেখেছে তালেব আমি জানি।

    এখন সবাই চুপচাপ! তালেব টিনটিন নিয়ে ধন্দে পড়ে গেছে। তার পৃথিবীতে ঝোপজঙ্গল জোনাকি, জনমনিষ্যিহীন এক প্রান্তর, প্রান্তর ঠেলে দিগন্তে সব প্রায় মাঠ। মানুষের বসতি, সে ফেরি করতে করতে দু-দিনের রাস্তা হেঁটে চলে যায়, ফেরার পথে গঞ্জ থেকে চাল ডাল তেল নুন কেরোসিন কিনে তার জঙ্গলের ঘরে ফিরে আসে, কোথাও সে টিনটিন কিনতে পাওয়া যায় কি না জানে না। কিংবা টিনটিন জঙ্গলে থাকলে তার চোখে একবার অন্তত পড়ত না, হয় না। সে খোকাবাবুর কথায় এমন জব্দ যে, আর তার রা সরল না।

    প্রিয়তোষ জঙ্গলে আঙুল তুলে বলল, আমরা এসে গেছি।

    আসলে তালেব খোকাবাবুর সব কথাতেই সায় দিয়ে যাচ্ছিল। থাকুক না থাকুক, খোকাবাবু খুশি হলেই সে খুশি। কিন্তু টিনটিন সম্পর্কে সে কিছুই জানে না। টিনটিন বাস না উড়োজাহাজ, টিনটিন বিষয়টি বড়ই গোলমালে ফেলে দিয়েছে তাকে। যে নক্ষত্র চুরি করতে সাহস পায়, মাথায় যার স্বর্ণমুকুট থাকে, সে বলেই বা কী করে, এত খবর রাখি খোকাবাবু, তোমার টিনটিন বিষয়টি আদৌ বুদ্ধিগ্রাহ্য হচ্ছে না আমার! এখন কথা বললেই সে খোকাবাবুর কাছে একেবারে বুন্ধু বনে যাবে। সে শুধু বলল, সকাল হলে আমরা খুঁজে দেখব টিনটিন কোথায় আছে।

    এতে পানু বড়োই আহ্লাদ বোধ করল।

    জঙ্গলের ভেতর দিয়ে একফালি রাস্তা। পাশাপাশি দু-জনে হাঁটা যায় না। ঝোপজঙ্গলের লতাপাতা গায়ে লাগছে পানুর। সে বাবার প্রায় গা ঘেঁষে হাঁটবার চেষ্টা করছে। এত অন্ধকার চারপাশে যে, লোডশেডিং না হলে এমন অভিজ্ঞতা হওয়াও কঠিন। পানু দেখল, সামনে উঠোন, কুঁড়েঘরের বারান্দাও দেখতে পেল। একপাশে বাঁশের মাচান, মাচানে ব্যাগ, ব্যাগের ভেতর ঝালাইয়ের যন্ত্রপাতি, কাটা টিনের পাত দলাপাকানো। কাঠের তিন-চার রকমের হাতুড়ি। সে বারান্দায় উঠে যাওয়ার সময় সহসা কী এক আর্তনাদে চমকে গেল।

    প্রিয়তোষ বললেন, ডাহুক পাখিরা ডাকছে।

    কেমন এক কলরব, পাশে একটা জলা আছে, জলাজঙ্গলে ডাহুক পাখিরা ডাকে, এবং পানু আসায় ওরা যে আহ্লাদে আটখানা, প্রিয়তোষ তাও জানিয়ে দিলেন। ডাহুকেরা একসঙ্গে ডেকে উঠলে আর্তনাদের মতো শোনায়, তাও বুঝিয়ে বললেন প্রিয়তোষ। পানু কিছুটা নিজের মধ্যে ফিরে আসায় ঝিঝি পোকা ও কীটপতঙ্গের আওয়াজ শুনতে পেল।

    আর তখনই একটা কুপি ধরিয়ে তালেব বাইরে রেখে দিল। দুটো পাথর, পাশে এক বালতি জল, পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে প্রিয়তোষ হাতমুখ ধুলেন, পানুকে হাতমুখ ধুয়ে নিতে বললেন। রাতে বেশ ঠান্ডা পড়ে। পানুকে জামা-প্যান্ট সোয়েটার বের করে দিয়ে বললেন, ধুলো ময়লায় সব নোংরা হয়ে গেছে, সব পালটে নাও।

    তালেব এখন আর একটা কথাও বলছে না। তার যে মেলা কাজ। কাঠকুটো ধরিয়ে চা আর চিড়েভাজা কাঠের সরাতে সাজিয়ে দিল। প্রিয়তোষ গামছায় মুখ মুছতে মুছতে বলল, শ্যামলাল আর এসেছিল?

    তালেব বলল, জি, শ্যামলাল মিস্ত্রির সঙ্গে দেখা হয়েছে। সে তো আপনার বাড়ি যাবে বলেছে। ইট বালি নৌকোয় খালে-খালে নিয়ে আসবে বলল, কত ইট ফেলবে, তা তো বলে যাননি।

    শোনো তালেব, এই একটা থাকার ঘর, কিচেন আর একটা বাথরুম—এই হলেই চলবে। তবে সব একসঙ্গে করার ক্ষমতা আমার নেই। শেষ পর্যন্ত কী হবে তাও বলতে পারব না। একটা স্বপ্ন বুঝলে, নিজের ঘরবাড়ি, তবে বাড়িটা শেষ পর্যন্ত যে ভণ্ডুলমামার বাড়ি হয়ে যাবে না, তাও বলতে পারব না। একদিকে তুলব, আর একদিকে পড়ে যাবে। হাতে এত টাকা কোথায়! মাঠ ভেঙে সরকারি টিউকল থেকে জল আনারও অনেক হ্যাপা। তুমি না থাকলে কে করবে সব! এ-জীবনে আর তোমার নদীর পাড়ে বাড়ি নাই বা হল।

    পানুর এসব বিষয়ী কথাবার্তা একদন পছন্দ না। সে ঘরের ভেতর মাটির মেঝেতে মাদুরে বসে চিড়েভাজা আর রসগোল্লা খাচ্ছে। টিফিন ক্যারিয়ারে মা আসার সময় ভরে দিয়েছেন।

    ঘরে সেই জাদুর লণ্ঠনটা জ্বলছে। বাবা জলচৌকিতে বসে আছেন তার। দারান্দায় উনুনে মুগের ডাল ভাজা হচ্ছে। মুগের ডাল, বেগুনভাজা, আর গরম ভাত—পানুর যে খুব খিধে পেয়েছিল, তার খাওয়া দেখেই বোঝা যাচ্ছিল।

    তালেব কাজও করছে, কথাও বলছে, বাবা এটা-ওটা এগিয়ে দিচ্ছেন, যেন কতকালের এই সখ্য।

    তালেব বলল, এবারে জল ঢেলে দিন। প্রিয়তোষ উঠে কড়াইয়ে জল ঢেলে দিতেই ছ্যাঁক করে উঠল। প্রিয়তোষ ডাল, বেগুনভাজা নামিয়ে রাখলে তালেব বলল, বড়ো ধন্দে পড়ে গেলাম কর্তাঠাকুর।

    তোমার আবার কিসের ধন্দ।

    ওই যে খোকাবাবু বলল, তিনতিন না টিনটিন-ওটা খায় না ওড়ে, ঠিক বুঝতে পারছি না।

    প্রিয়তোষ হেসে ফেললেন, আরও ওসব হচ্ছে ছবিতে গোয়েন্দা সিরিজ। মাথায় টাক যখন আছে দাড়ি থাকলে জাহাজের কাপ্তান হয়ে যেতে পারতে। টিনটিন খোকাবাবুর মতো একটা বাচ্চা ছেলে। তোমার মতো বয়সের একজন বন্ধু আছে তার। টিনটিনের কাছে কোনো অপরাধীরই ক্ষমা নেই। টিনটিন চোর ধরে বেড়ায়। পানু ছবির গল্প পড়তে পড়তে ভাবে সে নিজেই টিনটিন।

    টাকমাথা, উসকোখুসকো একগাল দাড়ি নিয়ে তালেব কিছুক্ষণ বসে ছিল। টিনটিন চোর ধরে বেড়ায়, কথাটাতে সে খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে। সে যে চুরিচামারি করত, তাও ধরে ফেলতে পারে। এই জঙ্গলের মাটির নীচে সে সব পুঁতে রেখেছে। জেল-হাজতও সে খেটেছে। জেল থেকে সে পালিয়ে এই জঙ্গলের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছিল। সামনের একটা জলায় ডুব দিয়ে আসার সময় এসব মনে হচ্ছিল তার। স্বর্ণমুকুটের কথাও জেনে গেছে মনে হয়। তারপর মনে হল তার, সে নিজের ঘোরেই এসব ভাবছে। কথাটা যাচাই করে দেখলে হয়!

    তালেব বলল, কর্তাঠাকুর, স্বর্ণমুকুটের কথা কী যেন একখানা বললেন?

    প্রিয়তোষ একেবারে হাঁ।

    আমি বললাম, না তুমি বললে!

    আমি আবার কবে বললাম?

    তুমি একদিন বললে না, নদীর পাড়ে চলে যাবে। নদীর জল কলকল ছলছল, নদীতে স্বর্ণমুকুট ভাসে।

    আমি একথা বলিনি।

    না বললে পানু বলল কেন, দেখছ তালেব সোনার মুকুট পরে যাচ্ছে।

    কখন বলল?

    যখন কুকুরটাকে নিয়ে কলপাড়ে দাঁড়িয়ে ছিলে।

    আরও বিমর্ষ হয়ে গেল তালেব।

    তারপর ইনিয়ে বিনিয়ে বলল, আমি চলে যাব নদীর পাড়ে বাড়ি করে। এখানে কিছুতেই থাকব না। বলে যদি থাকি, সেভাবে কথাটা বলিনি, জলে কখনও কি স্বর্ণমুকুট ভাসে!

    প্রিয়তোষ বললেন, ভাসে না প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়।

    সে যাই হোক, কথাটা যদি বলেই থাকি, তবে আপনার বাড়িঘরের কথা ভেবেই বলেছি। সবারই চাই স্বর্ণমুকুট। এই ঘরবাড়ি সংসার মানুষের যে সেই স্বর্ণমুকুট লাভের আশায়। জমি কিনলেন, খোকাবাবু বড়ো হতে হতে শহরের ধস এদিকটাতেও নেমে আসবে। পাঁচ কাঠা জমি সোজা কথা! কী অমূল্য দাম হবে তখন। সেই ভেবেই কথাটা বলা।

    ঠিক আছে, তোমার কাছে স্বর্ণমুকুট নেই। এখন পানুর একপাশে বসে যাও। তোমাদের খেতে দিয়ে আমি খেতে বসে যাব। সকাল হলে পানুকে নিয়ে একবার জঙ্গলটা ঘুরে আসবে। ছেলেমানুষ যত্তসব আজগুবি চিন্তার ডিপো। সব ঘুরিয়ে দেখালে জঙ্গল নিয়ে আর কোনো রহস্য থাকবে না। বাড়িতে তোমার বউদিকে যা জ্বালায়!

    তারপর প্রিয়তোষও খেতে বসে গেল। খাওয়া হলে বাড়তি ডাল-ভাত কুকুরটাকে দিয়ে সে ঘরে ঢুকে গেল। তালেব বাসনকোসন ধুয়ে সব এঁটো সাফসোফ করে বারান্দার সামনে কাঁথা গায়ে শুয়ে পড়ল। শুয়ে পড়ল ঠিক, তবে তার ঘুম এল না। খোকাবাবু ঠিক টের পেয়ে গেছে, সে ভালোমানুষ না। তার চুরি চামারির স্বভাব ছিল, না হলে নক্ষত্র চুরি করার কথা উঠত না। তারপর কেন যে ভাবল সে যা খুঁজে পাচ্ছে না, খোকাবাবু তা ঠিক খুঁজে বের করতে পারবে। টিনটিনের বন্ধু। নিখোঁজ জিনিসের উদ্ধারে খোকাবাবু তাকে সাহায্য করতে পারে। সে তো আর লোভে পড়ে নেই, তার মনেও থাকে না। এই কাশের জঙ্গলে সে তার চুরি করা ধনসম্পত্তি সব মাটির নীচে পুঁতে রেখেছিল। খোকাবাবু আসায় আবার তার সব মনে পড়ে গেছে। সেখানে দিঘাপতিয়ার রাজার মুকুটটিও যে আছে, শতবার বললেও কেউ বিশ্বাস করবে না।

    সকালে উঠে চিড়ে মুড়ি দিয়ে পানুর আহারপর্ব ভালোই হল বলা চলে। বাবা খালপাড়ে যাবে, নৌকোয় যদি শ্যামলাল থাকে, এবং তারা যাবে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে। পানু তার এয়ারগানটা নিতে ভুলল না। কিছু ঘুঘু পাখি উড়ে যাচ্ছিল, কিছু শালিখ পাখি, খালপাড়ে উঠে পানু দেখল, তালেবকাকা কাশবনের দিকে অপলক তাকিয়ে আছে।

    সে ডাকল, তালেবকাকা কী দেখছ?

    তালেব কেমন উদাসীন গলায় বলল, একখানা কথা আছে আমার।

    কী কথা!

    আপনি টিনটিন, সব রহস্যভেদের ওস্তাদ। ওই যে কাশের জঙ্গল দেখছেন, তার ভেতর মেলা ধনসম্পত্তি লুকনো আছে। লোকটা খুবই আহাম্মক, পুলিশের তাড়া খেয়ে এদিকটায় এসে থমকে গেল। সে ভাবল, এমন নির্জন জায়গায়, তার ধনসম্পত্তি লুকিয়ে রাখলে কেউ টের পাবে না। যেই না ভাবা, সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু। তখন উরটি মাঠ। বৈশাখ মাস, লু বইছে, গোপনে মাথাসমান মাটি খুঁড়ে সে তার ধনসম্পত্তি সব লুকিয়ে ফেলল। ত্রাসে পড়ে গেলে মানুষের যে মাথাও ঠিক থাকে না খোকাবাবু।

    পানু হাঁ করে সব শুনছে।

    তারপর।

    তারপর লোকটা ক-বছর বিবাগী হয়ে থাকল। ওই যে নাম, ঠিক হয়ত পুলিশ টের পেয়ে গেছে, সে এদিকটায় এলেই তাকে ধরে ফেলবে, এইসব ভেবেই লোকটা চার বছর তিন মাস কুড়ি দিন বাদে যখন এল, দেখল শুধু কাশের জঙ্গল। যতদূর চোখ যায় শুধু কাশফুল। কোথায় তার লুকানো ধনসম্পত্তি টেরই পেল না। কাশের জঙ্গলে জায়গাটা ভারি মনোরম হয়ে আছে।

    তারপর?

    তারপর লোকটা শ্রীপদ বাগুইয়ের কাছ থেকে জমি কিনে বসবাস শুরু করে দিল। দিনে লণ্ঠন ফিরি করতে বের হয়, রাতে কোদাল কাঁধে জঙ্গল কোপায়। ওই কোপানোই সার। এভাবে মাস যায়, বছর যায়, শেষে তার কেন যে একদিন মনে হল, জঙ্গলেরও সৌন্দর্য আছে। সে কোদাল কুপিয়ে তাও বিনষ্ট করে দিচ্ছে। ওপরওলার কাছে সে কী জবাব দেবে! সেই থেকে এই মাঠ, শীতলকুচির মাঠ ঠান্ডা মেরে আছে। তার আর রূপ বদলায় না। সেই থেকে সে শুধু ভাবে, নদীর পাড়ে বাড়ি করে সে চলে যাবে। বলে লণ্ঠনওলা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

    সব শুনে পানুর কেন যে মনে হল, লণ্ঠনওলা বড়ই দীর্ঘকায় মানুষ। তাকে সে আর ছুঁতে পারবে না—ক্রমে উঁচু লম্বা হতে হতে আকাশের দিকে তার মাথা উঠে যাচ্ছে।পানু শুধু তার বাবার মতোই বলল, তুমি আমাদের ফেলে চলে যেও না। নদীর পাড়ে বাড়ি আর তোমার নাই বা হল। নদীর জলে স্বর্ণমুকুটের প্রতিবিম্ব দেখার জন্য চলে গেলে আমরা যে খুব একা হয়ে যাব কাকা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনানা রসের ৬টি উপন্যাস – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ৩০০ বছরের কলকাতা : পটভূমি ও ইতিকথা – ডঃ অতুল সুর

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }