Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচিত গল্পসংগ্রহ

    লেখক এক পাতা গল্প1108 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিপ্রটিকুরী যাত্রা

    বিপ্রটিকুরী যাত্রা নিয়ে বাড়ি গরম—সকাল থেকেই কথা বললেই জয়ন্ত চটে যাচ্ছে। বিরক্ত।

    আরে বিপ্ৰটিকুরী কোথায়, কোন স্টেশনে নামতে হবে, সেখান থেকে কোন বাস ধরতে হবে সেসবের বিন্দুবিসর্গ জানা নেই! এরা কী ভাবে! তুই গেছিস, তোর বাবাকে বল দিয়ে যেতে। না, আমায় তিনি যেতে লিখেছেন। মেলোমশাই আমাকে নিয়ে যান। আমি কি বসে আছি। বাড়ির লোকজনও হয়েছে তেমনি! মাসিমা ফোন করেছে ভাগীরথীকে নিয়ে আসতে। মাসিমার সঙ্গে যাবে, আবার চলে আসবে। চলে আসবে যখন আসবে। আমি যেতে পারব না। আমার কি বাড়িতে দাসখত দেওয়া আছে!

    ভিতর থেকে জবাব আসছে, মাথা গরম করছ কেন বুঝি না। অফিস থেকে উপরতলার মাসিমাকে ফোন কর না? ফোন করলেই জানতে পারবে। বলে দেবে সব।

    –ফোন করেছি। মাসিমা নেই। কবে আসবেন তাও বলেননি। মেয়ে না কার বাড়ি গেছেন। না আমি বুঝি না, তুই গেলি মাসিমার সঙ্গে, চলে এলি না কেন! কোথায় বিপ্ৰটিকুরী সেখানে যেতে হবে। বাড়ি অচল—বোঝ! বাড়ি থাকলে তো তুই ভাগীরথী এটা করলি না, ওটা করলি না, না তোকে দিয়ে হবে না! হবে না, হবে না করেও তো পাঁচ বছর কাটিয়ে দিলে। দু-এক হপ্তার জন্য গেলে মাথা গরম। এত করে বলি—পেছনে লেগ না, গেলে আর আসবে না। নাও ছোটো বিপ্রটিকুরী।

    –ও তো আসতেই চাইছে। ওকে না নিয়ে এলে আসবে কী করে! তোমার কথাবার্তা শুনে তো মনে হয় বিপ্রটিকুরী এ গ্রহের নয়। অন্য কোনো গ্রহে। বাড়ি অফিস করলে এই হয়। কোথাও যাবার কথা হলেই মাথায় বাজ পড়ে। মাসিমা তো একবার বলেছিল, বিপ্রটিকুরী যেতে হলে বোলপুরে নামতে হয়। সেখান থেকে বাসে। বোলপুর গেলেই খবর পেয়ে যাবে।

    জয়ন্ত অফিস বের হবার মুখে জুতোর ফিতে বাঁধছিল। সে রা করছে না। সত্যি একটা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে তার মধ্যে বিপ্রটিকুরীর নামে। বাড়িতে আর কেউ নেই যে যাবে। বড়োছেলে চাকরি নিয়ে বাইরে। ছোটোমেয়ের পরীক্ষা—যেন পরীক্ষা না থাকলে মাধুই যেত ভাগীরথীকে আনতে। তুমি পুরুষমানুষ পার না, দেখ আমি মেয়ে হয়ে পারি কি না।

    জয়ন্ত ভেবে দেখল, অশান্তি করে আর লাভ নেই। সময়ে চা, সময়ে জলখাবার, চানের গরম জল। পাঁচ-সাত বছর থেকে ভাগীরথী সংসারে কার কী দরকার সব এত জানে যে রাগ করে ছেড়ে দিলেই আর এক ফাঁপরে। ভাগীরথী মতিলালের মাসির সঙ্গে ফিরে না আসায় ধরেই নিয়েছিল ওর বাবা বিয়ের ব্যবস্থা করছে। মেয়েটি বড়ো ঠান্ডা মেজাজের। কথা কম বলে, এত কালো যে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকলেও তাকে দেখা যায়। কালোর মধ্যে আরও গভীর কালো ছাপ মানুষের।

    আর এও আশ্চর্য ভাগীরথী অন্ধকার বড়ো ভালোবাসে। অন্ধকারে চুপচাপ বসে থাকারও একটা নেশা আছে। কিছু চাইতে জানে না। বাড়ি থেকে তার চিঠি এলে পড়ে শোনানো হয়, ওতে সে খুশি না অখুশি ঠিক বোঝা যায় না। একটাই দোষ, বেশি খায়। পাঁচ-সাত বছর শহরে থেকেও বেশি খাওয়ার অভ্যাস পালটাতে পারেনি। বিশ-বাইশ দিনে টের পেয়ে গেছে ভাগীরথী না থাকলে সবাই বিশ বাঁও জলে। জয়ন্ত নিজেও। আজই সে অফিসে জেনে নেবে বোলপুর কোন ট্রেনে গেলে সবিধা। কতক্ষণ লাগে। ফিরে আসা যাবে কি না, না বোলপরে হল্ট করতে হবে। কোথাও না বের হয়ে কখন কোথাকার কোন ট্রেন ছাড়ে কিছুই জানে না। অফিসে এসে সে জানল, শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেসেই সুবিধা। ন-টা চল্লিশে ট্রেন। বারোটার মধ্যে পৌঁছে গেল, ঘণ্টাখানেক বাসে—এই আড়াইটে ধরে নেওয়া যাক, বোলপুরে ফিরতে চারটে। পাঁচটা সাড়ে-পাঁচটায় ট্রেনে, না হয় বাসে বর্ধমানে–তারপর কলকাতা। কলকাতা মানেই নিশ্চিন্তি। শেষে পৌঁছে যাওয়া।

    সকালে সেদ্ধ ভাত খেয়ে জয়ন্ত বের হয়ে পড়ল। আসলে সে ভীতু স্বভাবের। রওনা হবার সময় মাধু বলল, চাদর নিয়েছ তো! এখানে শীত নেই, গাঁ-জায়গায় শীত লাগতে পারে। বাইরে বের হচ্ছ, সঙ্গে বেশি টাকা রেখো।

    জয়ন্ত মুখ ব্যাজার করে রেখেছে! যেন সে নির্বাসনে যাচ্ছে। কে বলবে এই সে এক মানুষ, গাঁয়ে জন্মেছে গাঁয়ে বড়ো হয়েছে। শহরে এসে বাড়িঘর করার পর নিজের গাঁয়ে ছাড়া আর কোথাও যেতে ভালো লাগে না—এমনই স্বভাব তার—আর তারই মধ্যে ফ্যাসাদের মতো বিপ্রটিকুরী হাজির-ঝকমারি আর যাকে বলে! খুব সে মিশুঁকেও নয়। একা একা সারাটা দিন-না, ভাবতে গেলেই মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে। তবু যাবে, মরণ হয় সেও ভালো, বুঝবে নিজেদের কাজ নিজেরা করে নিতে না পারলে কী বিপাকে পড়তে হয়। হাতের কাছে জল, গ্যাস, ফ্রিজ এতসব আছে তবু কেউ কুটোগাছটি নাড়বে না। এই ভাগীরথী, বিছানা করেছিস? এই ভাগীরথী জামা-প্যান্ট ভিজিয়ে দে। এই ভাগীরথী জুতো পালিশ করে দে। সবার ফরমাস। আর পারেও মেয়েটা। মুখে রা নেই। চুপচাপ সবাইকার ফাইফরমাস খেটে দুপুরের খাওয়া হলে ওর বিশ্রাম। তখন সে বাথরুমে অনেকক্ষণ ধরে চান করবে, অনেকক্ষণ ধরে রান্নাঘরে বসে খাবে—তারপর ছাদে উঠে রোদে চুল শুকোবে। চুলও বটে, কালো আর ততোধিক ঘন। খোঁপা বাঁধলে বিশাল। অবসর সময়টায় সারাক্ষণ চুলের যত্ন। চুলই তার গর্ব। যা দেখবার মতো চুল—এই অহংকার ভাগীরথী করতেই পারে।

    মাঝে মাঝে জয়ন্ত ভাবে, এই ভাগীরথী তাহলে সংসারটা ধরে রেখেছে। পাঁচ বছরে দুবার গেছে, দুবারই মতিলালের মাসির সঙ্গে ফিরে এসেছে। এবারেও বলেছিল, চলে আসবে। এল না বলে দুশ্চিন্তা—তা বিয়ে-টিয়ে দিলে খবর দিতে বলা হয়েছিল। খবর এসেছে, আমাকে নিয়ে যান।

    জয়ন্ত একবার ভেবেছিল টাকা মানিঅর্ডার করে দেবে। ওর বাবা যেন দিয়ে যায়। কিন্তু মাধুর এক কথা—না, অভাবী মানুষ, টাকা পাঠালেই খরচ করে ফেলবে। তাছাড়া ওর বাবা গাঁয়ের বাইরে যেতে চায় না। কলকাতায় এলে হারিয়ে যাবে, আর তার ফেরা হবে না, এমনও নাকি আতঙ্ক আছে। ভাগীরথীর অসুখের সময় এটা জয়ন্ত আরো বেশি বুঝেছে। শত হলেও পরের মেয়ে—সে জানিয়েছিল, ভাগীরথী হাসপাতালে। এপেনডিসাইটিস অপারেশন। তবু কেউ আসেনি। খবর নেয়নি। এই পরের মেয়ে এমন যে সে নিজের পুরো নামটাও বলতে পারে না। বলবে—আমার নাম ভাগু।

    ভাগু কী?

    ভাগু কী এই কথায় ভাগীরথী চেয়ে থাকে। তার বাবার ঠিকানা মাধুর কাছে আছে। মাধুই মাসে মাসে ওর বাবার নামে টাকা পাঠিয়ে দেয়। বাবার নাম মোহন দাস। সুতরাং ভাগু দাসী। ভাগু যে আসলে ভাগীরথী বিপ্রটিকুরী না গেলে জয়ন্ত জানতেই পারত না। সেই ভাগু গ্যাসে রান্না করে। মাধু তাকে হাতে ধরে সব শিখিয়েছে। রান্না, ঘরমোছা থেকে সব। কাপড় কাচাও। ভাগু মোটামুটি সব কাজ একাই সামলাতে পারে। অথচ ভাগু কিছু চাইতে জানে না।

    জয়ন্ত হাওড়ায় এসে শুনল, শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস যাবে না। বুধবার শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস ছাড়ে না। কেমন মাথা গরম হয়ে গেল। অফিস ছুটি করে বের হয়ে পড়েছে। বোলপুরে আর কোন ট্রেনে যাওয়া যায়। সে খোঁজ নিতে, থাকল। বাইরে বের হলে সে টের পায়, সেও আর এক ভাগু। এত লোকজন, এত কাউন্টার, এত গাড়ি যে, কোনটায় উঠে শেষে কোথায় গিয়ে উঠবে ভাবতেই কেমন আতঙ্কে পড়ে গেল। সে একজন চেকারকে সামনে পেয়ে খুবই বিনয়ের সঙ্গে বলল, স্যার একটা অ্যাডভাইস চাইছি।

    জয়ন্ত মধ্যবয়সী মানুষ, এবং অভিজাত চেহারা। অ্যাডভাইস চাইছে! চেকার ভদ্রলোকও গলে গেল।বলুন।

    –বোলপুর যাব। শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস ছাড়ছে না—কোন ট্রেনে গেলে সুবিধা হবে।

    –দানাপুর এক্সপ্রেসে যেতে পারেন।

    –কটায় ছাড়বে।

    –এগারোটা ত্রিশে।

    মাথায় বাজ। সে বলল, কতক্ষণ লাগবে?

    –ঘণ্টা তিনেক।

    তাহলে আজ আর ফেরা যাবে না। আসলে সে যতক্ষণ ফিরে আসতে না পারছে, ততক্ষণ ভূতের মতো ফেরার আতঙ্কটা মাথায় চেপে বসে থাকবে। অজানা অচেনা জায়গায় থাকারও বিড়ম্বনা। নিজের ঘর-বাথরুম ছাড়া সে কিছু বোঝে না। বাইরে বের হলে এই অস্বস্তিগুলি আছে। এত রাগ হচ্ছিল মাধুর উপর যে সে আর কোনো কথা বলতে পারছে না।

    মাধুর জন্যই ভাগু মাঝে মাঝে বাড়ি যাবার তাড়া বোধ করে। বোকা বলে অপমান বুঝবে না কেন!-তোকে দিয়ে হবে না। এখন কেন ছুটতে হচ্ছে! ভাগুকে বোকা অচল বললে রাগ করে যখন, বলতে যাও কেন! সে বলল, এর আগে কোনো ট্রেন নেই? আমি আজই ফিরতে চাই।

    চেকার ভদ্রলোক বললেন, তুফানে চলে যান। বর্ধমান নেমে কোনো লোকাল পেয়ে যেতে পারেন। এক্ষুনি ছাড়বে।

    যেন কিছুটা অস্বস্তি কেটে গেল। গাড়িতে উঠে দেখে তিলমাত্র জায়গা নেই। ইস দুঘণ্টা এইভাবে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে! কত ধানে কত চাল। এ-সময় সে যেন নিজেকে কষ্ট দিয়ে বাড়ির উপর প্রতিশোধ নিচ্ছে। ভাবছে ফিরে গিয়ে এক চোট নেবে।

    ট্রেন ছেড়ে দিল। একটুও হাওয়া ঢুকছে না। সে হাঁসফাঁস করছে। বিপ্রটিকুরী যাত্রা এমন একটা মারাত্মক বিষয় আগে যদি জানত! দুর্ভাগ্য কাকে বলে।

    বর্ধমানে নেমে শুনল, না কোনো লোকাল নেই। সেই দানাপুর এক্সপ্রেসের জন্যই বসে থাকতে হবে।

    প্রচণ্ড খিদে পেয়েছে। রাস্তার জলটল সে খায় না। জন্ডিস থেকে উঠেছে বছরও পার হয়নি। রেলের ক্যান্টিনে খেয়ে নিলে হয়। আর খাওয়া জুটবে কিনা তাও জানে না। একা কোথাও বের হলেই সে বড়ো অসহায় বোধ করে। সে কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। তবু রেলব্রিজ পার হয়ে ক্যান্টিনে খেতে গিয়ে বুঝল, এত মোটা চালের ভাত তার সহ্য হবে না। এত বিশ্রী রান্না যে সে কোনোরকমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কিছুটা খেল, বাকিটা সে ফেলে রাখল। জোড়া ডিমের ঝোল। বোঁদা লাউয়ের ঘন্ট। নেড়েচেড়ে উঠে পড়ল। জীবনে একটা সময় সব সহ্য হত, আর এক জীবনে সবই অসহ্য। মানুষের শরীরে যে এত বিশ্রী গন্ধ থাকে ভিড়ের ট্রেনে সে টের পেয়েছে। গাঁয়ের মানুষজন, গরিব, জনমজুর—সব যেন কাক-চিল হয়ে চারপাশে উড়ছে। দানাপুর এক্সপ্রেস কখন আসবে!

    তার পাশে এত মানুষজন, তবু এত একা কেন বুঝছে না। আসলে অভ্যাস মানুষকে খুবই আলগা করে দেয়। এই ভিড়ের মানুষজনের সঙ্গে সে নিজেকে যেন মেলাতে পারছে না। কারো সঙ্গে কথা বললে হয়—কী নিয়ে বলবে! রাজনীতি, না কারো কোনো আগ্রহ নেই। ক্রিকেট টেস্ট চলছে। কেউ ট্রানজিস্টার কানে লাগিয়ে শুনছে না। সব মানুষকে মনে হচ্ছে সত্যি আলাদা গ্রহের।

    দানাপুর এলে মাথায় হাত। কোনো কামরায় সে উঠতে পারছে না। ঠেলা খেয়ে নেমে আসছে। গাড়ি ছেড়ে দেবার সময় হাতল ধরে ঝুলে পড়ল। কপালে যা আছে। গুসকরায় গিয়ে মনে হল সে আর পারছে না। যে-কোনো মুহূর্তে কিছু একটা হতে পারে। পাশের লোকটা বলল, আর একটা স্টেশন! সামনে বোলপুর। জয়ন্ত আবার লাফিয়ে হাতল চেপে ধরল। মাঠের ভেতর দিয়ে হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন যাচ্ছে। সে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। হুহু করে হাওয়া বইছে। যেন তাকে

    উড়িয়ে দেবে। সে চোখ বুজে ছিল।

    —বিপ্রটিকুরী কতদূর।

    —কেউ জানে না কতদূর।

    জয়ন্ত বলল, কে জানে?

    –এগিয়ে যান। তারপর কে যেন বলল, বাসস্ট্যান্ডে যান—খোঁজ নিন।

    –বিপ্রটিকুরীর বাস কটায়?

    —এই আসে এই যায়, একজন বলল।

    —কোথায় পাওয়া যাবে?

    —এখানে না। দূরপাল্লার বাস এখান থেকে ছাড়ে।

    সন্ধ্যা হয়ে গেল। চায়ের দোকানদারকে সে বলল, তুমি জান ঠিক সকাল পাঁচটায় বিপ্রটিকুরীর বাস!

    -তাই তো মনে হয় স্যার।

    –ঠিক কটায় বলতে পার না?

    –না স্যার। ঠিক বলা যাবে না। বাসের মর্জি।

    আর যাই করা যাক, আজ আর যাওয়া হবে না। চেনাজানা নেই, অজ্ঞাত পরিচয় একজন মানুষকে কে আশ্রয় দেবে! বিপ্রটিকুরী থেকে হাঁটা পথে ক্রোস খানেক। কেউ বলল, মশায়ের মাথা খারাপ। ফিরে যান। দেখছেন না, যেখানে সেখানে খুনখারাবি হচ্ছে, অচেনা লোক দেখলেই সন্দেহ। জয়ন্ত তাড়াতাড়ি একটা রিকশাকে ডেকে বলল, কাছে কোথাও কোনো ভালো হোটেল আছে ভাই।

    —আছে স্যার। যোগমায়া হোটেল। চলুন। ফাস্ট ক্লাস!

    আর ফাস্ট ক্লাস, এখন বলির পাঁঠা—কী যে রাগ হচ্ছে। জয়ন্তর মুখ থমথম করছে। হোটেলে ঢুকে ঘরভাড়া ত্রিশ টাকা, খাওয়া খরচ আলাদা। হোটেলের ভিতরের দিকে উঠোনে গাছপালা, গোরু-মোষ। ঘরটার লাগোয়া মেয়েদের বাথরুম। সারারাত দরজা খোলা-বন্ধ করার শব্দ। এটাচড বাথ বলতেই হোটেলওয়ালা কেমন ঘাবড়ে গেছিল। লোকটা বলে কী!

    কিছু করার নেই। সারা রাত অনিদ্রায় কাটাতে হবে। বিছানায় চাদরে দুর্গন্ধ। জয়ন্ত কোনোরকমে বলল, এক গ্লাস জল খাওয়াতে পারো ভাই। হোটেল বয় জল আনল, ঘোলা। যা হয় হবে। সে আর পারছে না। এ-সময় দেখল উঠোনে একটা বড়ো মোষ চড়াচ্ছে, ছর ছর করে শব্দ। কোনোরকম রাতটা কাটিয়ে শেষ, পর্যন্ত জীবন নিয়ে বিপ্ৰটিকুরী রওনা হতে পারলে হয়। ভাগীরথী তোর কী যে এত দরকার পড়ল বুঝি না। থেকে গেলি। মতিলালের মাসির সঙ্গে ফিরে গেলে তোর মেসোর এই ভোগান্তি হয় না। রাতে সেই মোটা চালের ভাত। কাঁকর মেশানো। দাঁত আস্ত থাকছে না। আসলে জয়ন্ত বুঝতে পারছে, বিশ-বাইশ বছর আগের জয়ন্ত আর সে নেই। নিশ্চিন্ত চাকরি, স্ত্রীর চাকরি, বাড়িঘর বানিয়ে হালফ্যাসানের মানুষ সে। পূজার ছুটিতে বের হলে বার্থ রিজার্ভ করা ট্যুরিস্ট লজ বুক করা অথবা কোনো বনে-জঙ্গলে ঢুকে গেলে সঙ্গে ফরেস্ট অফিসারের গাড়ি। টিফিন, জল সব সঙ্গে। রাগ করে সে কিছুই সঙ্গে নেয়নি। যাবে কী করে জানে না, কোথায় যাচ্ছে জানে না, সবই যখন অনিশ্চিত, তখন আর টিফিন কতটা নিশ্চয়তা দেবে!

    হোটেলওয়ালাকে সে বলল, দেখুন পাঁচটায় বাস-আপনার জানাশোনা কোনো রিকশা আছে, আগে বলে রাখলে বাস ঠিক ধরিয়ে দেবে? টাকার জন্য ভাববেন না।

    —এই গোদা! শোন বাবু কী বলছে! গোদা হাজির।

    -বাবু পাঁচটার বাস ধরবে। ধরিয়ে দিবি। পারবি কি? গোদা ঘাড় কাত করে চলে গেল। আর চারটেয় উঠে হাতমুখ ধুয়ে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বের হতেই দেখি করিভোরে গোদা বসে আছে। কোলাপসিবল গেট খুলে রিকশা বের করে বলল, কোথায় যাওয়া হবে বাবুর?

    এইরে! কোথায় যাওয়া হবে। সে বলল, বিপ্রটিকুরীর বাস ধরব পাঁচটায়।

    –রাত থাকতে বাস ছাড়ে! কার বাস?

    ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ভোর পাঁচটায় কতটা অন্ধকার থাকে তার জানা নেই। তবু পাঁচটার বাস না ধরতে পারলে জীবনেও বোধহয় বিপ্রটিকুরী বাস সে আর ধরতে পারবে না। ভয়, কৌতূহল এবং অস্বস্তি নিয়ে সে রিকশায় উঠে বসল। গোদা ঠিকই বলেছে। রাস্তায় একটা লোক নেই। কুকুর বাদে কিছু দেখা যাচ্ছে না। সে সাড়ে-চারটেয় বের হয়েছে। সে বলল, গোদা ভাই, তুমি জান বিপ্রটিকুরী কোথায়? গোদা মাথা-কান গামছায় ঢেকে নিয়েছে। আর ঠান্ডা হাওয়ায় শুনতেও পাচ্ছে না বোধহয়। সে বলল, এই গোদা কোথায় নিয়ে যাচ্ছ! তার মনে হল গোদা ঠিক পথে যাচ্ছে না। গোদার কি কোনো কু-মতলব আছে। এখনো রাত, অন্ধকার, সব নিঝুম।

    ইতস্তত জোনাকির মতো আলো, ঘরবাড়ি কোথাও স্পষ্ট, কোথাও আবছা। গোদা এত নীরব যে সে সওয়ারি নিয়ে যাচ্ছে, না মরা কুকুর নিয়ে যাচ্ছে বোঝা যাচ্ছে না। জয়ন্ত কেমন ভয় পেয়ে চিৎকার করে ডাকল, এই গোদা কোথায় ছুটলি বাবা!

    -এই যে এসে গেছেন বাবু।

    সত্যি সে এসে গেছে। কাল সাঁঝবেলাতে কী ভিড়, মানুষজন খুরিতে চা খাচ্ছে। এখন একেবারে ফাঁকা। লম্বা বেঞ্চগুলি আর ভেঁড়া ত্রিপল ছাড়া কিছু নেই, মাথার উপর গাছটা অশ্বত্থ হবে, পাখির কলরব, দুটো কুকুর উনুনের ভিতর থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বের হয়ে এল। আর কোনো কাক-প্রাণী নেই—গাড়ি নেই, রিকশা নেই, কেমন এক মৃত শহরে দাঁড়িয়ে আছে যেন জয়ন্ত। গোদা বলল, বাস এলেই উঠে পড়বেন। বাস এলেই উঠে পড়তে বললে কেন। গোদা দাঁড়াল না। আসলে সে নিজের মধ্যে আছে তো! অচেনা জায়গায় ভূতুড়ে অন্ধকার তাকে কেমন গ্রাস করছিল। শুধু কুকুর দুটো আছে। ঘড়ি দেখে সে আরো মুষড়ে পড়ল। বের হবার সময় সাড়ে-চারটে দেখেছে, এখন চারটে। এ কিরে বাবা, কাঁটা পেছনে ঘুরছে! ঘড়ি পর্যন্ত বিভ্রাট করছে! না কি চারটেয় বের হয়েছে, মাথা গরম বলে, অনিদ্রা গেছে বলে চোখের ভুল। এইসময় গা-টা তার কাঁটা দিয়ে উঠল।

    বুধবার শান্তিনিকেতন বন্ধ সে জানত না। বুধবার দেরিতে রাত শেষ হয় এখানে—সে জানত না। বুধবার ঘড়ির কাঁটা পেছনের দিকে হেঁটে যায় জানত না। গোদা পাঁচটা টাকার বিনিময়ে তেমাথায় দাঁড় করিয়ে দিয়ে চলে গেছে। এখন যে কেউ এসে তাকে বলতে পারে, যা আছে দিন। সে ঠিকই করেছে, সব দিয়ে দেবে। কোট খুলে দেবে। হাতঘড়ি খুলে দেবে। বেশি টাকা যা আছে দিয়ে দেবে। রাত এত নিশুতি হয়, রাত এত নির্জন হয়, রাত এমন বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে এর আগে সে টের পায়নি। তেমাথা জায়গা কোনোদিন ভালো হয় না। ছেলেবেলার সংস্কার আবার মাথায় পোকা হয়ে ঢুকে গেছে।

    রাস্তার আলো, দূরে মাঠ পার হয়ে বাড়ি-ঘরের আলোর রহস্য ক্রমেই ভূতুড়ে হয়ে উঠছে। গাছপালার পাতা ঝরছে। সামান্য ঘূর্ণিঝড় উঠল। না—আর এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে সে পড়ে যেতে পারে। ঠকঠক করে কাঁপছে। ঘড়ি দেখবে, তাও ভয় হচ্ছে। যদি দেখতে পায় কাঁটা সাড়ে-তিনটের ঘরে ঢুকে গেছে। আধঘণ্টা হয়ে গেল, তবু আকাশ ফর্সা হচ্ছে না। সে রাস্তার আলোতে আবার ঘড়িটা দেখবে ঠিক করল। যা হয় হবে। বের হবার সময়ই মনে হয়েছে, বিপ্রটিকুরী বড়ো বেশি অচেনা জায়গা। আর তখনই দেখল, দুটি জীব দুলতে দুলতে এদিকে এগিয়ে আসছে। ঘোড়া, গোরু না কুকুর, না ঘোড়া নয়, ঘোড়া এভাবে হাঁটে না, গোরুও নয়, গোরু এভাবে হাঁটে না। কুকুর অত যদি বড়ো হয় তবে তার যাও সাহস অবশিষ্ট আছে সেটুকু নীল হয়ে যাবে। মানুষজন যদি কখনো এখানে আসেই দেখতে পাবে কেউ ভয়ে মরে পড়ে আছে।

    ধীরে ধীরে বেশ চালে আসছেন। যত আসছেন, তত জয়ন্ত বড়ো বড়ো চোখে দেখছে। ও-তেনারা দুজন গাধা। রাত থাকতেই বের হয়ে পড়েছেন। সব জোড়ায় জোড়ায়। এক জোড়া কুকুর উনুন থেকে উঠে পথ শুকতে শুকতে চলে গেল। একজোড়া গাধা চলে গেল। তারপরই গেল একজোড়া ঢাকি। চোখের উপর দিয়ে চলে গেল। সে ডাকল, তারা সাড়া দিল না।

    সে বোধহয় ভিরমি খেত। আর তখনই পাশের একটা দোকানের ঝাঁপ উঠে গেল। লোকটা বের হয়ে তার সামনেই পেচ্ছাপ করতে বসল। গাছের অন্ধকারে তোকে দেখতে পাচ্ছে না। সে ডাকল, ও দাদা—আপনি কি আবার ঘুমোতে যাচ্ছেন? লোকটার ঘুমের ঘোর কাটেনি বোধহয়। বলল, কে?

    –বিপ্রটিকুরীর বাস ধরব আশায় বসে আছি। কটা বাজে।

    লোকটা বিন্দুমাত্র দাঁড়াল না। দৌড়ে ঘরে ঢুকে গেল। ঝাঁপ বন্ধ করে দিল। ঘড়ি দেখতেই হয়। যা হয় হবে। ঘড়িটা চলছে। অথচ ঘড়ির কাঁটা পেছনের দিকে ঘুরছে। আবার যদি তাই দেখে! হয় হোক ভেবে তবু সে যা দেখল। চলছে সামনে চলছে। সাড়ে চারটে—এবারে সে কিছুটা সাহস পেয়ে গেছে। আসলে উদ্বেগ, দুর্ভাবনা এবং ভয় তাকে সারারাত জাগিয়ে রেখেছে। সে আসলে বের হয়েছে চারটের আগে। ঘড়িতে সাড়ে-তিনটে দেখতে সাড়ে-চারটে দেখেছে। এখন আর তার ভয় লাগছে না। ভাগীরথীকে নিতে এসে এটা সে কত বড়ো ধৈর্যের পরীক্ষা তার বাড়ির লোক যদি বুঝত।

    পাঁচটায় বাস এল সাড়ে-সাতটায়। একজন বলল, পাঁচটায় বাস বিপ্রটিকুরী থেকে ছাড়ে। সাড়ে-ছটায় আসে। সাড়ে-সাতটায় রওনা হয়।

    -একখানা বাস।

    –আজ্ঞে হ্যাঁ।

    তা শেষ পর্যন্ত বাসে সে সামনের দিকে সিট পেয়ে গেল। একটা ব্রিজ পার হয়ে বাসটা থেকে নেমে সামনে কিছু ঘরবাড়ি পার হতেই দুপাশে শীতের মাঠ। তার ভালো লাগছিল। এখন ভাগীরথীকে নিয়ে ঠিক ঠিক ফিরতে পারলে হয়। ভাগীরথীর আঁচলে তার ঠিকানা লিখে একটা কাগজে গিঁট মেরে দিতে হবে। এত হাবা কিছুতেই বাপের নাম, নিজের নাম, তার নাম মনে রাখতে পারে না। নিয়ে যাবার সময় পথে হারিয়ে গেলে আর এক কেলেঙ্কারি। পরের মেয়ে নিয়ে কত দায় মাধু যদি বুঝত।

    শেষ পর্যন্ত বিপ্রটিকুরী পৌঁছোন গেল। জয়ন্ত রাস্তাতেই মতিলালের বাড়ির খবর নিতে গিয়ে জানল, ওরা ওখানকার জমিদার বাড়ির বৌ। জমিদারি যাবার পর সব এখানে ওখানে ছিটকে পড়েছে। দু-চার শরিক এখনো আছে—জয়ন্তর এ যেন আর এক তেলেনাপোতা আবিষ্কার। সে পরিচয় দিতেই একজন তরুণ বের হয়ে এল। বেশ ছিমছাম যুবক। গালে দাড়ি সবে উঠেছে। চেহারা বেশ মার্জিত। গাঁয়ে এইরকমের চেহারা বড়ো একটা দেখা যায় না। আসলে অভিজাত পরিবারের ছেলে। জয়ন্ত তার পরিচয় দিলে সে বলল, ভেতরে আসুন!

    জয়ন্ত এখানে তেলেনাপোতা আবিষ্কারের মতো এক যুবতীকেও আবিষ্কার করে ফেলল। দোতলা বাড়ি, ভাঙা ঘর-দালান, পলেস্তারা খসা, চুন-সুরকি ঝুর ঝুর করে খসে পড়ছে। কোথাও দেয়ালের সামান্য রসটুকু নিঠুর বটের চারা শুষে নিচ্ছে। বাড়িতে ঢুকতে তার ভয় করছিল। দোতলায় উঠে বুঝল, সে হাঁটলে বাড়িটা কাঁপে। ভাগীরথীর খবর এদের কাছ থেকেই তার জেনে নেবার কথা। যুবতী গা ঢেকে বারান্দায় এসে উঁকি দিয়ে চলে গেল। প্রৌঢ়া মহিলা এসে বললেন, আমার জা হয়। দারিদ্র্য এবং হতাশা আড়াল দেবার জন্য শাড়ি-সায়া পালটে এসেছেন বোঝা যায়। কিন্তু মুখে-চোখে দুশ্চিন্তার আভাস টের পাওয়া যায়।

    জানলা দিয়ে গ্রামটা দেখা যায়। এককালে বর্ধিষ্ণু গ্রাম ছিল বোঝা যায়। এখন চারপাশে ছোটো ছোটো সব কুঁড়েঘর, দূরে স্কুলবাড়ি, পিছনে দাওয়া। কোনো ভগ্নস্তূপের ভিতর থেকে সে একটা মন্দিরও দেখতে পেল।

    সে বলল, বসব না। ভাগীরথীর চিঠিটা সে দেখাল।

    তরুণের নাম বাদল। সে চিঠিটা হাতে নিয়ে উলটেপালটে দেখল। তারপর

    বলল, ওর তো বিয়ে হয়ে গেছে।

    -বিয়ে! তবে যে চিঠি লিখল।

    –হ্যাঁ। বিয়ে মানে—বলে আমতা আমতা করতে থাকল। প্রৌঢ়াই বললেন, ও আর বিয়ে। ওর মা-বাবা ওকে আসলে বেচে দিয়েছে। হপ্তাখানেক আগে এলে পেতেন।

    -কী বলছেন!

    –এদিকটায় হামেশা এমন হচ্ছে। অভাবের তাড়না!

    জয়ন্ত হতবাক। সে তাকিয়ে আছে।

    —কী করবে! বড়ো গরিব। খেতে পায় না। বেচে না দিয়েও উপায় ছিল না। একসঙ্গে এত টাকা কে দেয়!

    —কিন্তু।

    -কিন্তু আর কী! আপনি তো কাগজের লোক। গ্রামটা ঘুরে দেখে যান না। লিখুন। গরিব চাষাভুষো মানুষের কী অবস্থা দেখে যান।

    জয়ন্ত সহসা কেমন ক্ষিপ্ত হয়ে গেল। আপনারা থাকতে–সে তোতলাতে থাকল, একটা নিরীহ মেয়েকে, না আমার মাথায় আসছে না। এখানে পার্টির লোকেরা কিছু বলে না?

    —কী বলবে? এটা তো গণতান্ত্রিক ব্যাপার। বাবা-মা তার মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছে, তার কী বলার আছে!

    -বিয়ে?

    –ওই শো একটা। তারপর মেয়েগুলির আর খোঁজ পাওয়া যায় না। ইস সে যে কী ভুল করেছে! প্রথম চিঠিটাতেই ছিল—মেসোমশাই, আমাকে নিয়ে যান। বিয়ে-টিয়ে কিছু না। এলে জানতে পারবেন। তাড়াতাড়ি আসবেন। কাউকে দিয়ে সে চিঠিটা লিখিয়েছিল। জয়ন্তর এখন নিজের হাত কামড়াতে ইচ্ছে হচ্ছে। কোথায় কে নিয়ে গেল ভাগীরথীকে। আসলে পাঁচ-সাত বছরে ভাগীরথী তার বাড়িরই কেউ হয়ে গেছিল। ঘরে কুকুর-বেড়াল থাকলেও মায়া পড়ে যায়, আর এ তো মানুষ। তার চোখ সহসা ঝাপসা হয়ে গেল। সে সারা রাস্তায় শুধু নিজেকে নিয়ে ভেবেছে। ভাগীরথীর কথা একবারও মনে হয়নি তার।

    সারা রাস্তায় নিজের অস্তিত্ব নিয়ে দুশ্চিন্তার ছিল, ভাগীরথীর অস্তিত্ব নিয়ে তার কোনো দুশ্চিন্তা ছিল না। সেই ভাগীরথী বিক্রি হয়ে গেছে। রাস্তায় নেমে এবার বোলপুরের বাস ক-টায় কাউকে তার জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হল না। সে হেঁটে যাচ্ছে। রোদের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। কেমন বেহুঁশ।

    চারপাশে খাঁ খাঁ মাঠ। গাছপালাহীন এক দাবদাহ ক্রমে তাকে গ্রাস করতে থাকল। সে নিজেকে এই প্রথম নির্যাতন করে যেন সবার উপর প্রতিশোধ নিচ্ছে। যে জানেই না কোথায় যাচ্ছে–কেন যাচ্ছে। ক-টায় বাস, কখন ট্রেন, তার যেন আর জানার দরকার নেই। গরমে সে হাঁসফাঁস করছিল। কোটটা ছুঁড়ে ফেলে দিল, মাফলার ছুঁড়ে ফেলে দিল, জলের বোতল—সব। তারপর সে হাঁটতে হাঁটতে কখন ক্লান্ত হয়ে গাছের ছায়ায় ঘুমিয়ে পড়েছিল জানে না। জেগে দেখল, আকাশে অজস্র নক্ষত্র। এই নক্ষত্রের ভেতর সে শীতের রাতে আবার কোনদিকে রওনা হয়ে গেল। সে এত আত্মপর এই প্রথম টের পেয়ে কোনো নিষ্ঠুর জীবনের স্বাদ গ্রহণের ইচ্ছায় উন্মত্তের মতো হাঁটছে। তার এ আর-এক যাত্রা—কে জানে এ-যাত্রার শেষেও আবার কোনো বিপ্রটিকুরী তার জন্য অপেক্ষা করছে কিনা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনানা রসের ৬টি উপন্যাস – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ৩০০ বছরের কলকাতা : পটভূমি ও ইতিকথা – ডঃ অতুল সুর

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }