Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচিত গল্পসংগ্রহ

    লেখক এক পাতা গল্প1108 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাদা বিছানা

    সুদক্ষিণা মুখে ক্রিম ঘসছিল। জানালা খোলা। চৈত্রের ঝড়ো হাওয়া কদিন থেকেই বেশ জোর বইছে। কেমন সব অগোছালো করে দেয় গাছপালা, জানল বিছানার চাদর। সকালের দিকে থমকে থাকে। বেলা যত বাড়ে হাওয়ার জোর তত বাড়ে। মাঘ-ফাল্গুনে মশার উৎপাতাটা ঝড়ো হাওয়ায় এক সময় উড়িয়ে নিয়ে যায়। সন্ধ্যায় বারান্দায় বসে আকাশ দেখার অবসর মেলে। কনকেন্দু বিছানায় শুয়ে সুদক্ষিণার ক্রিম ঘসা দেখছিল। সুদক্ষিণার এগুলো সহবাসের আগেকার প্রস্তুতি। ভোজে বসার আগে কলাপাতা ধুয়ে নেওয়ার মতো। শরীরে তার এখন কেমন জ্বর জ্বর লাগছে। বোধ হয় সুদক্ষিণা আগে থেকে এ-সব করে জানিয়ে দেয়, আমি কিন্তু রেডি হচ্ছি। তুমি নিজেকে ঠিকঠাক করে নাও। আজ আমার পৃথিবী আবার নতুন হয়ে গেছে।

    কনকেন্দু হাসল।

    অফিস থেকে তার ফিরতে আজ একটু দেরিই হয়েছে। রাস্তাঘাট ভালো না। সে ফিরে না আসা পর্যন্ত বাড়িটা কেমন অস্বস্তির মধ্যে থাকে। সে ফিরলেই একটা রাতের মতো সুদক্ষিণা কেমন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। যাক কারো জন্য আর আশঙ্কা নিয়ে বারান্দায় পায়চারি করতে হয় না, অথবা খুট করে গেট খোলার আওয়াজের জন্য তাকে বসেও থাকতে হয় না। সুদক্ষিণা তখন যেন বাড়ির সব কাজ বড়ো নিখুঁত ভাবে সেরে ফেলতে পারে।

    আয়নায় মুখ দেখছিল সুদক্ষিণা।

    পর্দা সরিয়ে পাপু ডাকল, মা।

    তোমরা এখনও ঘুমাওনি! বিছানা থেকে নেমে এলে কেন!

    পাপু পর্দা সরিয়ে মাকে দেখছিল।

    পেছনে আর একটা মুখ। ঝুমকি।

    মা, দাদা আমার বালিশ দিচ্ছে না।

    সুদক্ষিণা নিজেকে সামলাচ্ছিল। এবং যেন একটু ক্ষোভও সৃষ্টি হয়েছে সুদক্ষিণার ভেতর। এটা কার উপর কনকে জানে। মা বুড়ো মানুষ, সুদক্ষিণা বোঝে না এই দুটো দৈত্যকে সামলানো কত দায় একজন বুড়ো মানুষের পক্ষে।

    কনকেন্দু বলল, চল দেখছি। সে পাপুকে বলল, তোরা শান্তিতে তোর মাকে একটু ঘুমোতে যেতে দিবি না! ওর বালিস দিচ্ছিস না কেন!

    ও আমারটা নিয়েছে। নিজেরটা কী করেছে কে জানে! বা

    রান্দা পার হয়ে ডানদিকের ঘরটায় দুটো খাট। একটাতে মা, পাশেরটাতে পাপু আর ঝুমকি। মার চোখে চশমা, সামনে বই। বোধ হয় কোনো ধর্মগ্রন্থ হবে। রাত করে মার এ-সব পড়ার অভ্যাস। সাদা থান, সাদা বিছানা, সাদা বালিসে মার বিছানাটা তার আজ কেন জানি সহসা আদ্ভুত ঠেকল। সে ডাকল, দেখ মা এদের কাণ্ড।

    কখন নেমে গেলি! কী হয়েছে!

    কনকে দেখল, তার মা উঠে বসেছে। তারপর বইয়ের ভাঁজে চশমাটা রেখে নীচে নেমে এল। দরজা থেকে দুজনের হাত ধরে টেনে নেবার সময় বলল, তোদের চোখে ঘুম নেই! কখন থেকে খটাখটি করছিস। বিছানায় ওঠ।

    পাপু উঠে গেল। ঝুমকি উঠল না।

    ঝুমকি বলল, আমার বালিশ পাচ্ছি না ঠাকুমা। দাদা কোথায় লুকিয়ে রেখেছে।

    মারব, আমার নামে মিছে কথা বললে।

    কনকেন্দুর দিকে তাকিয়ে মা বলল, তুই যা। দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে যাস। আমি দেখছি।

    কনকেন্দুর কেমন লজ্জা লাগছিল মার দরজা বন্ধ করে দেওয়া দেখতে। দরজাটা খোলাই থাকে। ও-ঘর দিয়ে রাতে বাথরুমে যেতে হয়। বাবা প্ল্যানে ওই একটা মস্ত ভুল করেছিলেন বাড়িটা করার সময়। তখন অবশ্য বাড়িতে দুই কাকা থাকতেন। জ্যাঠামশাই থাকতেন। এক একটা ঘর ছিল এক একজনের জন্য। এ ঘরটা খাবার ঘর হিসাবে ব্যবহার হত। ওরা বাড়ি করে উঠে যাবার পর, নীচের তলাটা বাবা ভাড়া দিয়ে দেন। এতগুলো ঘরের সত্যি দরকার হয় না। ওপরে তিনখানা ঘর। একটা বসার। ওটা সিঁড়ির মুখে পড়ে। মার ঘরটা কড়িডোরের মুখে। তাদের ঘরটা একেবারে দক্ষিণ ঘেঁষে। জানলায় দাঁড়ালে আগে বড়ো মাঠ দেখা যেত। এখন মাঠও নেই—সেইসব গাছপালাও নেই। কেমন ঘিঞ্জি। মাঝে মাঝে মনে হয় এটা আর বড়ো শহরের উপকণ্ঠ নয়। বরং মূল শহরটাই যেন এখানে উঠে এসেছে।

    কনকেন্দু করিডোর ধরে হাঁটার সময় এ-সব ভাবছিল। কারণ কনকে জানে মা দরজায় ছিটকিনি তুলবে না। রাতে বাথরুম যেতে হলে মাকে ডেকে তুলতে হবে। এসব কারণে মা আর দরজায় ছিটকিনি তুলে দেয় না। সে বলতেও পারে না, আজ তুমি ছিটকিনি তুলে দাও। নীচের তলায় আলগা একটা বাথরুম আছে। বাড়িতে লোজন বেশি হলে ওটা খুলে রাখা হয়। এমনিতে বন্ধ থাকে। নীচের তলায় ভাড়াটেরা নাহলে সেটাও দখল করে নেবে। এই একটা ভয় আছে কনকেন্দুর।

    সুদক্ষিণার মাঝে মাঝে কী হয়। সহবাসের ব্যাপারে কেমন ওর শরীরে এক ধরনের জোয়ারভাটা আছে। সুদক্ষিণা আসার পর তার এটা মনে হয়নি। কিন্তু সাত-আট বছরের অভিজ্ঞতায় এটা মনে হচ্ছে তার। মাসখানেক সুদক্ষিণার জোয়ার থাকে, মাসখানেক ভাটা চলে। পুরুষ মানুষের বোধ হয় এটা থাকে না। তার কাছে একজন নারী সব সময়ই উষ্ণতা ছড়িয়ে রাখে। তবে একই ভাবে কতদিন আর এক জানলায় বসে গভীর নীল আকাশ দেখা যায়। মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় জানলাটা বন্ধ থাক। কিন্তু জোয়ারের সময় সুদক্ষিণা, জানলাটা নিজেই খুলে দেবে। তার ভালো লাগা মন্দ লাগা নিয়ে যেন সুদক্ষিণার কিছু আসে যায় না। তখন এক ধরনের ক্লান্তিকর আকাশের নীচে সে বসে আছে এমন মনে হয়। পাশ ফিরে চুপচাপ শুয়ে থাকার চেষ্টা করেও পারে না। সুদক্ষিণা, ঠিক এক সময় না এক সময় তাকে অস্থির করে তুলবেই।

    ঘরে ঢুকতেই সুদক্ষিণা বলল, দরজাটা বন্ধ করে দাও।

    দরজাটা বন্ধ করে দিতে কনকেন্দুর অস্বস্তি হচ্ছিল। পাপু কিংবা ঝুমকি যে কোনো সময় এসে দরজা ধাক্কাতে পারে। কারণ ওরা যে একটা বালিশ নিয়ে পড়েছে, সেটা মার পক্ষে বের করা কতটা কঠিন সুদক্ষিণা বোঝে না। ঝুমকি ও ঘরে এমনিতেই শুতে চায় না। সে ফাঁক পেলেই উঠে এসে মার পাশে শুয়ে থাকে। বছর খানেক আগেও ওকে ঘুমোলে মার ঘরে তুলে দিয়ে আসতে হত। এখন অবশ্য বুঝেছে, কী বুঝেছে জানে না, তবু আর মার সঙ্গে শোবে, বাবার পাশে শোবে এমন বায়না ধরে বসে থাকে না।

    সুদক্ষিণা এ বাড়িতে বেশ কম বয়সেই এসেছিল। কুড়িও পার হয়নি। কনকেন্দু বাবার একমাত্র সন্তান। পাসটাশ করে যাবার দৌলতে সে দামি চাকরিও পেয়ে গেছিল। ওকে বেকার থাকতে হয়নি। একদিনও। বাবা কম বয়সে ছেলের বিয়ে দিয়ে যেন একটা জীবনের বড়ো কাজ করে ফেলেছেন—যেটা অনেক বাবাদের পক্ষেই সম্ভব হয় না, এ-কারণে সে, দেখেছে, বাবার যাদুবিদ্যা আছে কোনো, কিংবা বাবা ঠিক টের পেয়েছিলেন, কম বয়সে বিয়ে দিলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রগাঢ়তা বাড়ে। তা না হলে, সে এই বয়সেই এত সংসারী হয়ে উঠবে কেন। যেন সুদক্ষিণাকে খুশি রাখা ছাড়া পৃথিবীতে তার আর অন্য কোন দায়িত্ব নেই।

    কনকেন্দু দেখল, সুদক্ষিণা নতুন পাট ভাঙা শাড়ি পরছে। সে যে দরজাটা বন্ধ করেনি, সাজগোজের বহরে সুদক্ষিণার সেটা খেয়াল নেই। নাকে নথ পরেছে। নথ পরলে সুদক্ষিণার কাছ থেকে সে আর কিছুতেই দূরে সরে থাকতে পারে না। কিংবা, শাড়ি পেঁচিয়ে পরার সময় স্তন আলগা, সুদক্ষিণা তখন চুমো খাবার বড়ো আগ্রহ বোধ করে। চুমোর সঙ্গে রোজকার সেই অভ্যেসের কথাটাও বের হয়ে আসে—তুমি সুদক্ষিণা এখনও সুইট সিকসটিন। কবে টুয়েন্টি হবে।

    সুইট সিকসটিন বললেই যেন এক ঝড় উঠে যায়—চোখ অলস হয়ে আসে। সারা আকাশময় ঘন গভীর বিদ্যুতের ছটা মুহুর্মুহু জ্বলে ওঠে। নারী বড়ো সুধাময়ী, এত সুধাময়ী যে সে তখন আর স্থির থাকতে পারে না। সুদক্ষিণার কাছে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়, হাত ধরে। দুজন হাঁটে পাশাপাশি। এবং আঁচল খসে পড়ে। চোখের কাজল চিক চিক করতে থাকে। সারা শরীরে সুঘ্রাণ ওঠে। সুদক্ষিণার নারী মহিমা বড়ো রহস্যজনক হয়ে উঠে তখন।

    দরজাটা বন্ধ করলে না।

    কনকেন্দু বলল, দিচ্ছি।

    সুদক্ষিণা ব্লাউজের নীচে এবং বগলে পাউডার ছড়াচ্ছে।

    কনকেন্দু বলল, আমার ঘুম পাচ্ছে।

    সুদক্ষিণা বলল, শুয়ে পড় না। কে তোমাকে জেগে থাকতে বলেছে।

    এ সময় কনকে একবার সকালের সুদক্ষিণাকে ভাবল। সকাল হলে কে বলবে, এই সুদক্ষিণা রাতে যাত্রার সখির মতো সহবাসে যাবার জন্য সাজতে বসেছিল। সংসারে সে মা, তার আর তখন কোন পরিচয় থাকে না যেন। এই পাপু ওঠো। এই ঝুমকি ওঠ মা। হাত মুখ ধুয়ে নে। স্কুলের গাড়ি চলে আসবে। ওঠ ওঠ। এক মুহূর্ত বিশ্রাম নেই। বাথরুমে যাবার আগে কনকেন্দুর চা, বাথরুম থেকে এলে কনকেন্দুর দাঁত মাজার ব্রাশ, আবার চা, ছেলেমেয়ের জলখাবার, সুদক্ষিণা কোন সকালে ওঠে তার স্নান বাথরুম কখন সব শেষ, কেউ টের পায় না। স্নান সেরে কাজের মেয়ের হাতে সব কাচাকাচির ভার দিয়েই রান্নাঘরে এবং এক হাতে তখন সে অতি আয়াসে সব করে যাবে।

    সুদক্ষিণা পর্দাগুলো ভালো করে টেনে দিচ্ছে। বিকালে আলতা পরেছে।

    কনকেন্দু জানে এমন তার মাসখানেক কী দু-মাস। কনকেন্দু তখন রাজার মতো। নিজেকে যাত্রার সখা সাজতে হয় না। সে নিজে থেকে কিছু না বললেও দেখা যায় এ সময়টায় সুদক্ষিণার মধ্যে প্রবল বাতাস যেন সব উড়িয়ে নিয়ে যেতে চায়। কনকে ইচ্ছে করলে বলতে পারে, শরীর ভালো নেই। যেমন, ভাটার সময়। সুদক্ষিণা প্রায় এমন কথা বলেই এড়িয়ে যায়। ভাটার সময়টাও মাস দু-মাসে। একবার তো মাস চার পাঁচ। তখন সে কিছুতেই সুদক্ষিণার শরীরে হাত দিতে পারে না। তখন অভিমান এবং যতরকমের ভালোবাসাবাসির কথা। কিন্তু সুদক্ষিণার এক কথা, পেটের নীচটায় ব্যথা।

    ডাক্তার দেখালে হত না।

    না, আর না। যা সব ডাক্তার-হাত দিতে পারলেই বাঁচে। আর ও-মুখো হচ্ছি। এমনিতেই সেরে যাবে। ঠিক যায়ও সেরে। জোয়ার এলে রক্তকোশে কোনো কীট বাসা বাঁধলে তার আর নিস্তার নেই বুঝি। দু-পার ভাঙার মতো, নতুন দ্বীপ সৃষ্টি করার মতো, অথবা সবুজ বনভূমি—যা কিছুই হোক না, সুদক্ষিণা তখন সহজেই নিজে থেকে আরোগ্য লাভে উন্মুখ হয়ে ওঠে। অবেলায় সে খোঁপা বাঁধে। উচ্ছল হয়ে পড়ে অতি সহজে। এসব দেখলেই কনকেন্দু টের পায়, নদীর দু-পাড় আবার ফুলে ফুলে ভরে উঠবে। তখন সেও কেমন সকাল সকাল অফিস থেকে ফিরে আসতে বড়ো বেশি আকর্ষণ বোধ করে। দু-চার দিন, তারপর একজন পুরুষ মানুষের যা হয়, ক্লান্তিকর। কারণ তার শরীরে যে রক্ত প্রবাহ সেখানে বোধ হয় অত শুক্রকীটের জন্ম হয় না। অথবা রোজ রোজ সরবরাহ করা একটা বড়ো রকমের শারীরিক দায় হয়ে ওঠে।

    সুতরাং কনকেন্দুর কেন জানি ইচ্ছে হল, আজ সে সুদক্ষিণার ডাকে সাড়া দেবে না। সুইট সিকসটিন, কিংবা টুয়েনটিও বলবে না। তোমার ইচ্ছে সব আমি পূরণ করে যাব, আমার উষ্ণতার দাম দেবে না। দীর্ঘকাল এটা চলতে পারে না। সে এ ভাববার সময়ই দেখল, সুদক্ষিণা নিজেই দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে।

    এই বাড়িতে সিঁড়িতে ওঠার মুখে দোতালায় কলাপসিবল গেট আছে। মাত্র তারা পাঁচজন মানুষ। মা তাদের ঘরে কখনোই আসে না। তাদের ঘরটায় মাত্র দুজন আসে। পাপু আর ঝুমকি। তার ঘরটায় আছে বড়ো ড্রেসিং টেবিলের আয়না। সুদক্ষিণা চায় না তার এই ঘরে কেউ এসে বসুক। সে যত নিজের আত্মীয় কিংবা মা-মাসি হোক। কনকেন্দু বুঝে উঠতে পারে না সুদক্ষিণার এত জেদ কেন। পাপু ঝুমকি বাদে কেউ তার ঘরে ঢুকলেই রাগ করে। এই ঘরটায় কী আছে? একটা লকার, বড়ো একটা ড্রেসিং টেবিল এবং তার চেয়েও বড়ো বেলজিয়াম কাচের আয়না। ঘরের যে, কোনো জায়গায় দাঁড়ালেই আয়নাটা প্রতিবিম্ব ভাসিয়ে রাখে। আসলে কী সুদক্ষিণা জানে এই দর্পণে তার এবং কনকেন্দুর নগ্ন শরীরের নানারকম ভঙ্গিতে ডজন ডজন অ্যালবাম রাখা আছে। আত্মীয়-অনাত্মীয় যে কেউ আসুক বড়ো আয়নাটা দেখলেই টের পায়, অথবা খুলে দেখতে পারে নরনারীর মধ্যে বীজ বপনের ক্ষেত্রটি কত সরস।

    অবশ্য কনকে সুদক্ষিণার এই গোপন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কোনোদিন কোনো প্রশ্ন করেনি। প্রশ্ন করে জানতে চায়নি, এই বেডরুমে কেউ ঢুকলে সে এত রাগ করে কেন। ছোটো শ্যালক এলে একদিন কনকে তাকে নিয়ে এসে এই ঘরে বসিয়েছিল। সেই নিয়ে সুদক্ষিণার কী মুখ ভার। বলেছিল, তোমার বড়ো বুদ্ধিসুদ্ধির অভাব। আর কোনোদিন কাউকে এ-ঘরে এনে বসাবে না।

    কী বলছ! সানু তোমার ছোটো ভাই।

    সে যাই হোক। বসাবে না বলেছি। শুধু এইটুকু মনে রেখো।

    এসব সহস্যের সে কিনারা করতে পারত না। বলত, বসালে কী হয়।

    কী হবে আবার। তুমি বুঝবে না, তোমাকে বোঝাতে পারব না।

    সেই জন্যই তো বুঝিয়ে বলার দরকার।

    বারে, ঘরে ঢুকলে টের পাবে না।

    কী টের পাবে।

    তোমার মুণ্ড। তারপর খিল খিল করে হেসে দিয়েছিল। বড়ো আয়নাটায় দুজনের প্রতিবিম্ব ভাসছে। চোখ ছিল সুদক্ষিণার সে-দিকে। দেখ তোমার হাত!

    হাতে কী আছে!

    কী লোম হাতে।

    তাতে কী হয়েছে।

    আয়নায় বড়ো বেশি প্রকট।

    প্রকট কথাটাই সুদক্ষিণা বলেছিল। কেমন সাধু বাংলায় কথাটা বলে যেন বোঝাতে চেয়েছিল, আয়নাটা বড়ো নির্লজ্জ। কোনো কিছু গোপন করতে জানে না।

    অ এই! কনকে বুঝতে পেরে বলল, সত্যি এটা মনে হবার কথা। শচীন বিশ্বাসের বাড়িতে এক রবিবার তারা দুজনই আমন্ত্রিত হয়েছিল। আলাদা বসার ঘর তাদের নেই। শচীন তাকে এবং সুদক্ষিণাকে টেনে নিয়ে একেবারে নিজেদের বেডরুমে বসিয়েছিল। সুদক্ষিণা দেখেছিল তেমনি ওদের ঘরে একটা বড়ো আয়না। মুচকি হাসছিল। শচীনের বৌ বলে উঠেছিল, না ভাই তুমি কেন মুচকি হাসলে বলতে হবে। এমন করে ধরেছিল যে সুদক্ষিণার চোখ মুখ কেমন সব গোপন করতে গিয়ে লাল হয়ে গেছিল।

    বাস-স্টপে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেছিল, কী হয়েছিল বলতো? শচীনের বৌ তোমাকে এমন করে জানতে চাইল কেন?

    বোঝ না!

    কী বুঝব!

    দেখলে না শচীন ঠাকুরপো উঠে চলে গেল। ঘরে লোকে এত বড়ো একটা আয়না কেন রাখে সবাই বোঝে। মা-বাবারা তো বোঝে সব। সঙ্গে আর কিছু না দিন আসবাব পত্রের মধ্যে এই একখানা বড়ো আয়না দরকার।

    বা, সাজগোজ করতে হলে মেয়েদের তো বড়ো আয়নার দরকার হতেই পারে।

    বেডরুমে তাই বলে থাকবে কেন?

    কোথায় থাকবে! সাজগোজ তো সবাই বেডরুমেই করে থাকে। কার কটা আলাদা ঘর আছে। এটা অজুহাত। আসল উদ্দেশ্য অন্য।

    সুদক্ষিণা খোলামেলা কথা বলতে ভালোবাসে না। আড়ালে আবডালে সব বুঝিয়ে দিয়েছিল। সানুকে কেন, সে আর এখন নিজেকেও এই ঘরে নিয়ে আসতে সংকোচ বোধ করে।

    সুদক্ষিণা বুঝিয়ে দেয়, এই দর্পণে যে প্রতিবিম্ব আছে তা নরনারীর স্বপ্নের পৃথিবী। অথবা রাজকন্যার সেই ভ্রমরের কৌটার মতো। একমাত্র কোনো রাজপুত্রই তা খুলে দেখতে পারে।

    তারপর বলেছিল, তবে বল, অন্য কেউ এলে তোমার লজ্জা হয় না। আমার তো হয়।

    কনকেন্দুর মনে হয়েছিল, সুদক্ষিণার এই ভাবনা মিছে নয়। তারও হয়েছে। বিয়ের আগে সম্পর্কে এক দাদার বাড়িতে গেলে ঠিক এমনি একটি দর্পণের মুখোমুখী হয়েছিল। দর্পণে সে উলঙ্গ ছবি দেখেছে। মানুষের মগজে যে তরল পদার্থ থাকে তার মধ্যে কত আদ্ভুত সব ছবি যে ভেসে বেড়ায়। দর্পণে বৌদি এবং অন্য কেউ, বৌদিটি তার সমবয়সী, সুন্দরী, ছিমছাম, ঠিক অতসী ফুল ফুটলে যে লাবণ্য থাকে, তার গায়ে ছিল সেই লাবণ্য। সে আয়নার দিকে যতবার তাকিয়েছে এমন ছবি ভেসে উঠেছে। সে মনে করেছিল, এমন সে শুধু একলাই ভাবে। সান কিংবা যে কেউ ভাবতে পারে এটা তার মনে হয়নি। সুদক্ষিণার কথায় টের পেয়েছিল, বাথরুমে কিংবা বেডরুমে আয়না সত্যি বড়ো অশোভন। অথচ এটা সরিয়ে ফেললে কোথায় যেন জীবনের প্রতি একটা বড় অবিচার করা হয়।

    কনকেন্দুর এই হয়—একটা থেকে আর একটা। সুদক্ষিণা বিছানায় উঠে হাত পা ছড়িয়ে শুল।

    কনকেন্দু বলল, জান শরীরটা ভালো নেই। ঘুম পাচ্ছে।

    ঘুমোও না। পাশে শুয়ে ঘুমোও। আমিতো কিছু করছি না।

    পাপু যদি এসে ডাকে।

    আমরা ঘুমিয়ে পড়েছি। ডাকবে কেন!

    জান আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, আজ ওরা ডাকবে।

    ডাকলে উঠবে না। দরজা খুলবে না বলছি।

    কেন দরজা খোলা যাবে না কনকেন্দু বোঝে। আলোটা না নিভিয়ে শুয়ে পড়েছে যখন তখন তার নিস্তার নেই। নিস্তার কথাটাই মনে এল। কারণ, ক-দিন থেকে রোজ রোজ এই যাত্রার সখিটি তাকে নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছে। রোজ সাজা এবং মঞ্চে উঠে আসা। তারপর সায়ার দড়ি আলগা করে রাখা। তার কপালে বড়ো টিপ, সিথিতে চওড়া সিঁদুর—সতীলক্ষ্মী কিংবা সীতা-সাবিত্রীর মতো মুখ। সায়ার দড়ি টেনে খোলার একটা বিশেষ শব্দ হয়। কনকেন্দু তখন যতই অন্যমনস্ক থাকার চেষ্টা করুক, শব্দ রক্তের মধ্যে সহসা ঝড় তুলে দেয়। সে দেখেছে, কখনও যদি আগে শুয়ে পড়ে এবং ঘুম লেগে আসে, বিছানায় ওঠার নামে তাকে ডাকবে।–এই একটু পা দুটো সরাও না। আমি উঠব।

    এইসব কথা বলে তাকে জাগিয়ে দেওয়া এমন সব অজুহাতে তাকে সতর্ক করে দেওয়া—যেন যতই ঘুমাও আমি তোমাকে রেহাই দিচ্ছি না।

    কনকেন্দু বলল, জান আজ অফিসে একটা কাণ্ড হয়েছে।

    কী কাণ্ড!

    আমাদের রাধাবাবুর বিরুদ্ধে নালিশ দিয়েছে নীলিমা।

    সুদক্ষিণা দুজনকেই চেনে। বিবাহ বার্ষিকীতে একবার তারা এসেছিল। মুখরোচক একটা খবর তখনই সুদক্ষিণা পেয়ে গেছিল।

    সুদক্ষিণা পাশ ফিরে শুল। অফিসের কোনো মজার খবর তার এখন শুনতে ভালো লাগছে না। পাশ ফিরে শুয়ে কনকেন্দুর বুকের উপর হাত রাখল।

    কনকেন্দু বলল, নীলিমার নালিশ….

    সুদক্ষিণা ধীরে ধীরে কনকেন্দুর হাতটা তুলে নিচ্ছে।

    কনকেন্দ্র আয়নায় দেখছে, সুদক্ষিণা হাতটা নিয়ে খেলা করছে। উঠে বসেছে। চোখ অলস।

    ঝুমকি তখনই দরজায় হুমড়ি খেয়ে এসে পড়ল, ডাকল—মা মা! দাদা আমাকে বিছানায় উঠতে দিচ্ছে না।

    সুদক্ষিণা তাড়াতাড়ি শাড়ি দিয়ে শরীর ঢেকে বলল, এই রা করবেন না।

    মা শুনছ।

    সুদক্ষিণা কনকেন্দুর হাত চেপে ধরছে।

    ঝুমকি দরজা ধাক্কাচ্ছে।–মা মা।

    কনকেন্দু কী করবে বুঝতে পারছে না। একটা চাদর টেনে সুদক্ষিণার শরীর ঢেকে বলল, কী হল তোদের!

    মার গলা তখন, দেখ, পাপু ঝুমকি কী শুরু করেছে!

    ঝুমকি বলছে, দাদা আমাকে মেরেছে। আমি দাদার সঙ্গে যোব না। কিছুতেই শোব না।

    কনকে উঠে প্রথমে আলোটা নিভিয়ে দিয়ে দরজা খুলল। অন্ধকার ঘরে কনকেন্দু ফিস ফিস করে বলল, চিৎকার করে না। মা ঘুমোচ্ছে। তোমাদের মাকে কত সকাল সকাল উঠতে হয়—এমন করলে চলে। আসলে কনকেন্দু মজা পাচ্ছে। প্রতিশোধটা জববর নেওয়া হচ্ছে। কারণ সুদক্ষিণা এখন কূট কামড়ে পাগল। শরীর তার অলস হয়ে পড়ে আছে। রাগ দুঃখ ক্ষোভ অভিমান সব একসঙ্গে নড়ে চড়ে বেড়াচ্ছে শরীরে। কনকেন্দু মজাটা উপভোগ করতে থাকল। আমার বেলায় একই কষ্ট যেন বলতে চাইল। তখন তুমি অনায়াসে পেট ব্যথা কিংবা ঘুম পাচ্ছে–কখনও হাই তুলে, ইমা—কত রাত হয়ে গেছে, ঘুম না আসতেই সকাল হয়ে যাবে, হাজারটা তোমার অজুহাত। হাত দিলেই তখন তোমাকে বিরক্ত করা হয়। আমার শরীরে তখন এই একই হাজার জোনাকি দপ দপ করে জ্বলে। তুমি সেটা কিছুতেই বুঝতে চাও না।

    মা বৌমাকে এ-ব্যাপারে খুব ভয় পায়। বৌমাটির কাঁচা ঘুম ভেঙ্গে গেলে সংসারে সেদিন নানা রকমের অনর্থ সৃষ্টি হয়। মাথা ধরে। বমি পায়। মা তার নাতনিকে বগলদাবা করে, এই চুপ, তোমাদের মা ঘুমোচ্ছে—কথা বলিস না, লক্ষ্মী সোনা বলে টানতে টানতে দরজার ভেতরে ঢুকিয়ে নিতেই কনকেন্দু ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখল, কেমন বেপরোয়া ভঙ্গি পাপুর।-না আমার সঙ্গে শোবে না।

    কোথায় শোবে।

    আমি কী জানি। আমাকে ও লাথি মারে। ঘুমোতে দেয় না।

    কী সব বাজে বকছিস কনকে ধমকে উঠল।

    ওর আলাদা বিছানা করে দাও। আমার সঙ্গে ও শোবে না। ও শুলে মাটিতে শুয়ে থাকব আমি।

    কনকে অন্য সময় হলে কড়া ধমক দিতে পারত। কিন্তু ওর মা তো ঘুমোচ্ছে। ওর মা সোনার কৌটা খুলে শুয়ে আছে। সে পাপুর সঙ্গে মিছে কথা বলছে মা ঘুমোচ্ছে, আস্তে কথা বল। সবটাই বানানো—নিজের দুর্বলতা টের পেয়ে কনকে কেমন ছেলের সামনে অসহায় ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকল। এবং নিজের মধ্যে যেন কোনো অনুশোচনা, অনুতাপ—সন্তানকে এত ছোটো বয়েস থেকে আলগা করে দিলে বোধ হয় ব্যবধানটা খুব তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে যায়। সে দেখল মা, ঝুমকিকে নিজের খাটে তুলে নিচ্ছে তখন। তার দিকে তাকিয়ে মা বলছে, ঠিক আছে, ঝুমকি আমার সঙ্গে শোবে।

    মার সাদা বিছানা, মার শরীরে সাদা থান, ধর্মগ্রন্থের মাঝখানে নিকেলের চশমা–মা কি টের পায়, বৌমা ঘুমোয়নি। বৌমা মটকা মেরে শুয়ে থাছে। নিজের সন্তানের কথাও তার এখন মনে পড়ে না! কেমন বিচলিত হয়ে পড়ছে কনকেন্দু।

    ঘরে এসে ঢুকতেই সে সুদক্ষিণার ফিসফাস গলা পেল।—এই এস। দরজাটা বন্ধ কর।

    বদলা নেবার কথা কনকেন্দুর আর মনে নেই। সুদক্ষিণার আচরণে কেমন এক বেহায়া মেয়েমানুষের আভাস পাচ্ছে। শরীরে কেমন তার বমি বমি ভাব। শরীরটা যে সত্যি মুহূর্তে চুপসে যাচ্ছে। মার সাদা বিছানা, সাদা থান, ধর্মগ্রন্থের মাঝখানে নিকেলের চশমা। মা ঝুমকিকে বুকে জড়িয়ে শুয়ে আছে। তার কিছু ভালো লাগছিল না। ঝুমকিকে বুকে নিয়ে শুতে পারলে আজ যেন তার বেশি আরাম বোধ হত।

    কী হল দরজাটা বন্ধ করলে না।

    করছি।

    সে দরজা বন্ধ করে জল খেল। তারপর খাটে উঠতেই আবার সুদক্ষিণার আবদার, লক্ষ্মী আলোটা জ্বেলে নাও।

    কনকেন্দুর চিৎকার করে উঠতে ইচ্ছে হল। না না, আলো না, আমার ভাল্লাগে রোজ রোজ। কিন্তু সে কিছু বলতে পারে না। যেন বললে সুদক্ষিণাকে অপমান করা হবে। নারী মহিমাকে অপমান করা হবে। নারীর যে আসল রহস্য এবং সরস উর্বরা জমি সে তো কটা বছর—তারপর, সাদা বিছানা, সাদা থান, ধর্মগ্রন্থের মাঝখানে নিকেলের চশমা। সে এসব ভেবেও জোর পাচ্ছে না। তার কোনো ইচ্ছে জাগছে না। আলোটা জ্বালতেও দ্বিধা করছে। যেন আলোটা জ্বালালেই সুদক্ষিণার শরীর বড়ো কুৎসিত দেখাবে। সে কিছুতেই আজ সেটা দেখতে চায় না। সে শুয়ে পড়ে বলল, আজ থাক।

    মুহূর্তে সুদক্ষিণা কেমন ক্ষেপে গেল। সে উঠে বসল। নিজে উঠে আলোটা জুেলে, জল খেল। শরীর ঢেকে ঢুকে বলল, আমিতো তোমার কেউ না। আমার জন্য আর তোমার টান নেই। সব বুঝি। আমাকে তুমি একদম ভালোবাস না।

    ভালোবাসব না কেন!

    না, না, তুমি আমাকে একদম ভালোবাস না!

    কনকে আয়নায় সুদক্ষিণার মুখ দেখতে পাচ্ছে। ফুঁসছে সুদক্ষিণা।

    কনকে পাশ ফিরে শুয়ে বলল, আস্তে মা শুনতে পাবে। আয়নায় নিজেকে দেখ।

    কী দেখব!

    দেখই না।

    সুদক্ষিণা আয়নায় নিজেকে দেখতেই কেমন ঘাবড়ে গেল। বাইজি মেয়ের মতো তার সাজ গোজ। কনকেন্দুর ঠাট্টা বুঝতে পেরে তার মাথা কেমন আরও গরম হয়ে গেল। সে কাঁপছে। তাকে এত নীচ ভাবে কনকেন্দু। সে ক্ষোভে দুঃখে অপমানে জলের গ্লাসটা পাগলের মতো আয়নায় ছুঁড়ে মারল।

    ঝন ঝন শব্দ। কনকেন্দু হকচকিয়ে উঠে পড়ল। এসে জড়িয়ে ধরল সুদক্ষিণাকে। এই ছিঃ কী করলে! কী হয়েছে তোমার। মা, ঝুমকি পাপু ছুটে এসেছে—বাবা বাবা!

    মা মা!

    কনকেন্দু বলল কিছু হয়নি। হাত থেকে পড়ে কাচের গ্লাসটা ভেঙ্গে গেল। জল খাচ্ছিলাম।

    কনকে যখন টের পেল দরজার ও পাশে কেউ নেই, তখন হাত ধরে বলল, ছি এই পাগলামি করার অর্থ কী বলত! তোমার কী হয়েছে।

    আমার কিছু হয়নি। আমি তো বাজারে মেয়ে। আমার কী হবে। বলে হাউ হাউ করে কেঁদে দিল।

    কনকে আহাম্মক। সে এত বুঝে কিছু করেনি। জড়িয়ে ধরে বলল, এস। ভেতরে তুমি এত ভেঙে পড়বে সত্যি বুঝতে পারিনি।

    ছাড় তুমি আমাকে। বাজারে মেয়েকে ছুঁলে তোমার পাপ হবে।

    সে এবার নিজেই সুদক্ষিণার বসন আলগা করে দিতে থাকল। জড়িয়ে ধরে বলল, তুমি আমার সতী লক্ষ্মী। তারপর সহবাসে মগ্ন হবার সময় ভাঙা আয়নায় দেখল, তাদের শরীর বড়ো তেড়া-বেতেড়া। এ শরীর যেন কোন এক কালে সুঠাম থাকে—ধীরে ধীরে কাল তাকে এক সময় হরণ করে নেয়।

    সকালে ভাঙা আয়নাটা আজ প্রথম সুদক্ষিণা একটা কালো পর্দায় ঢেকে দিল। তারপর চলে গেল মার ঘরে। ঝুমকিকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে এল বাথরুমে। হাত মুখ ধুইয়ে দিল। মুখ মুছিয়ে দিল। যেমন করে একজন মায়ের স্বভাব পড়তে বসানো, টাসক দেখা, চা, দাঁত মাজার ব্রাশ সব ঠিক ঠাক করে দেওয়া, দিনমানের কাজ এ ভাবে সকাল থেকে সুদক্ষিণার শুরু হয়ে গেল।

    নারীর অন্য আর এক রূপ আছে। সে জননীই হোক, আর চটুল বাজারে মেয়েই হোক। এটুকু আছে বলেই কনকেন্দুর মনে হয় নারী পুরুষের কাছে এত রহস্যময়ী। চা দিতে এসে সুদক্ষিণা ভাঙা আয়নাটায় দিকে তাকাল না আজ। চোখ টেনে শুধু বলল, তুমিই তো আমাকে ক্ষেপিয়ে দিয়েছিলে। আমার কী দোষ। কেমন সংকোচে এবং লজ্জায় কথাটা বলে বের হয়ে গেল সুদক্ষিণা!আয়নার কালো পর্দাটা তুললেই যেন কনকে আজ এই ঘরে একটা সাদা থান, সাদা বিছানা, ধর্মগ্রন্থের মাঝে নিকেলের চশমা দেখতে পাবে। কনকেন্দুর কেমন একটা ভয় ধরে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনানা রসের ৬টি উপন্যাস – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ৩০০ বছরের কলকাতা : পটভূমি ও ইতিকথা – ডঃ অতুল সুর

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }