Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচিত গল্পসংগ্রহ

    লেখক এক পাতা গল্প1108 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঝুমির দুঃখ

    সকালবেলায় যে কী হয়, কিছুতেই ঘুম থেকে উঠতে চায় না ঝুমি। বিরক্ত বিরজা সুন্দরী। গজগজ শুরু সক্কালবেলাতেই।

    নে ঝুমি। যত পারিস ঘুমিয়ে নে। বেলা কত হল টের পাস না। জীবনেও পাবি না। দ্যাখ তোর কপালে কী লেখা আছে। সোমও মেয়ে, ঘুম তোর ভাঙে না। কবে ভাঙবে। আমি মরলে!

    ঝুমি লেপ-কাঁথায় মুখ ঢেকে পড়ে আছে। বুড়ির চোপা শুরু হয়ে গেছে। সে কিছুতেই সাড়া দেবে না। চেঁচাক, চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় করুক তবু সাড়া দেবে না।

    বিরজা সুন্দরী সাতসকালে উঠে কে কী করছে, সে চোখ বুজেও টের পায়। আকাশ পরিষ্কার না হতেই উঠে পড়ার অভ্যাস। এক সঙ্গে এক তক্তপোশে শোয়। কাক ডেকে গেলেই, দুগগা দুগগা শুরু হয়ে যায়। উত্তুরে হাওয়ায় দরজা খুললেই ঠান্ডায় টাল মেরে যায় ঘরটা। দরজা খুলে কখন বের হয়েছেন তাও সে জানে। উঠোনে নেমে হাত জোড় করে সূর্যপ্রণাম। তারপর ঘটি নিয়ে কলতলায়। তারপর একখানা বালতিতে গোবর জল। সারা বাড়ি গোবর ছড়া। ঘর থেকে এঁটো বাসন কলতলায় নিয়ে যাওয়ার সময় একবার ডেকে গেছেন, ঝুমি ওঠ। হাত মুখ ধো। তোর মেশোর বাড়ি যেতে হবে। গোছগাছ করে না দিয়ে গেলে এক হাতে পারি। সে সাড়া দেয়নি।

    চালাঘরটা গোবর জলে লেপে দেওয়ার সময় আবার ডেকেছে, কত বেলা হল। একটু চা করে আমাকে দে! তুই খা। সাইকেলটা মেরামত না করলে যাবি কী করে। অধরকে বলেছি, ঝুমির সাইকেলটা পাচার হয়ে গেছে। মেরামত করে দিস, খোকার টাকা এলে দিয়ে দেব। ও ঝুমি, কী বলছি, কানে কী যাচ্ছে তোর!

    ঝুমি সারা দেয়নি।

    সে বলতে পারত, এত সকালে উঠে কী করবটা শুনি। রোজ একই কথা কাঁহাতক ভালো লাগে। কিছুই করতে দেবে না। হাত-পা নোংরা হবে। শরীরে গোবরের গন্ধ লেগে থাকবে। সকালবেলায় জল ঘাঁটাঘাঁটি করলে হাতে, পায়ে হাজা হবে। পাত্রপক্ষ দেখতে এলে পছন্দ হবে না।

    ঝুমির তখন মরে যেতে ইচ্ছে হবে। পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে শুনলেই তার মাথা গরম হয়ে যায়। কাল রাত থেকেই পাত্রপক্ষর আসা শুরু হয়েছে। সকালে উঠতে হবে। বড়ো মাসিকে খবর দিতে হবে। কত কথা বুড়ির পারব না। তার এক কথা।

    তোর ঘাড় পারবে। পারবে না। ঘরের খুঁটি হয়ে থাকতে চান। বলবি, কৃপানাথ খোঁজ দিয়েছে পাত্রের। লেবুতলায় বাড়ি। পাত্রের বাজারে চালের দোকান আছে। একটু বয়স বেশি, দোজবর। তাতে কী কিছু কমতি থাকে পুরুষ মানুষের?

    আমি কোথাও যেতে পারব না। খুঁটি হয়ে থাকি আর বাঁশ হয়ে থাকি, পারব না।

    এত ভালো পাত্র হাতের কাছে কোথায় পাব। কৃপানাথ বলেছে ঝুমি মাথা। পাতলে হয়ে যাবে।

    দিদা, তুমি চুপ করবে।

    আমি চুপ করব কেন। কী খারাপ কথা বলছি। পাত্র কী খারাপ কথা!

    আবার পাত্রপক্ষ চেঁচিয়ে দ্যাখ কী হয়।

    বিরজা সুন্দরী ঘাবড়ে গিয়ে বলেছিলেন, পাত্রপক্ষ বললে তোর এত মাথা গরম করবার কী আছে বুঝি না। চেষ্টা তো কম করছি না। কাকে না ধরেছি। কেউ মাথা পাতে। তোর মামারা তো হাত ধুয়ে বসে আছে। বাপের খবর নিতে গেলে গোপের বাগে যেতে হয়। কে যায়। তার কী মাথায় আছে, মা মরা মেয়েটার হিল্লে করা দরকার। সে কী মানুষ! মরেছি, কী বেঁচে আছি তারও খবর নেয় না।

    ঝুমি চুপচাপ চা না খেয়ে বের হয়ে যেতে পারে। মদনের বউর ঘরে গিয়ে বসে থাকতে পারে, কথায় কথায় খাওয়ার ওপর এত রাগ যে, দিদা তখন জলে পড়ে যায়। সে গুম মেরে গেলে তাকে বেশি ঘাঁটায় না।

    এই সেদিন ফের আর এক নতুন পাত্রপক্ষ হাজির। সাঁজবেলায় কোথা থেকে হন্তদন্ত হয়ে ফিরে এসেই বলেছিলেন, ছেলেটার সঙ্গে তোর যদি হয় রাজযোটক হবে। বি এ পাস। কিছুদিন মাথা খারাপ ছিল। কেবল বসে বসে কাগজ ছিড়ত। থুতু ছিটাত। খুব মেধা। বি এ পাস সোজা কথা। পড়তে পড়তে মাথা খারাপ। শহরে কোঠাবাড়ি আছে। টাকাপয়সা বাপ যা রেখে গেছে তোদের চলে যাবে। ছেলেটি দেখতেও বেশ। লম্বা দশাসই চেহারা। তোর সঙ্গে মানাবে ভালো। তারপর কেন যে বলেছিলেন, এক গ্লাস জল দে। এতটা রাস্তা, হেঁটে কী আসা যায়! রিকশাওয়ালারা সব নবাব। এটুকু রাস্তা বলে কী পাঁচ টাকার কমে হবে না দিদিমা। তোদের মুণ্ডু, দ্যাখ বুড়ি পারে কী না। হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম। কৃপানাথ নিয়ে গেছিল—শহরে কাজ আছে বলে সঙ্গে ফিরতে পারেনি।

    জল সে দেয়নি। তার মাথা গরম। পাগল ছাগল বা যা পাওয়া যায়। ভেবেছে কী! সে গুম হয়ে বলেছিল কিছুক্ষণ। তারপর বলেছিল, জল নিয়ে খাও। কে বলেছিল যেতে।

    ঝুমির সঙ্গে পাত্রপক্ষের কথাবার্তায় বিরজা সুন্দরী কখনও মাথা গরম করেন। অনেক সময় ঝুমির সামনে পাত্রপক্ষের কথা তুলতেও আতঙ্ক বোধ করেন। কত যে সম্বন্ধ এল। ঝুমি সামান্য প্রতিবন্ধী। একটু খুঁড়িয়ে হাঁটার স্বভাব। বিরজা সুন্দরী আর কী খুঁত আছে বোঝেন না। লোক আসে, দেখেও যায়, কী সুন্দর চোখ ঝুমির। হাতে পায়ে লাবণ্য ঝরে পড়ছে। সেই ঝুমি এক গ্লাস জল না দিলে যে পাপ হবে, তাও বোঝে না। বিরজা সন্দরী সব সয়ে গিয়ে, নিজেই জল ভরে খেয়েছিলেন। ঢকঢক করে জল খেয়ে বলেছিলেন, মাথাখান তার তো ঠিকই আছে দেখলাম। আমার সঙ্গে কী সুন্দর কথা বলল। মাথার দোষ সেরে গেছে। একটাই দাবি—আইন পাস করলে বিয়ে।

    ঝুমি চৌকাঠে হেলান দিয়ে শুনছিল। ঘরে একখানা হ্যারিকেন জ্বলছে। দাওয়ায় কুকুরটা শুয়ে আছে। চালাঘরটায় একটা কুপি জ্বলছে। বাড়িটা অন্ধকারে ডুবেছিল। তারকের মার গলা পাওয়া যাচ্ছে। দিদার খবর নিতে এসে সেও বসে গেছে। ঠিক, বুড়ি পাত্রের খবর নিতে যাওয়ার সময় সাত কাহন করে সবাইকে বলে গেছে। সম্বন্ধ এলেই বুড়ির যেন বেশি দুটো হাত-পা গজায়।

    তারকের মা এক মুখ জর্দা মুখে পান চিবাচ্ছিল। আর চর চর কথা বলছিল।

    কথা হল!

    হল রে মা! আমার হলে তো হবে না। ওর মেসো মামারা দেখুব বলে কথা, সাত মণ ঘি না পুড়লে হয়!

    কোনো দাবি দাওয়া!

    দাবি দাওয়া আর কী করবে? বললাম, মা মরা মেয়েটাকে উদ্ধার করেন। ঝুমি আমার শরীর দিয়ে পুষিয়ে দেবে।

    থামবে! চেঁচিয়ে উঠেছিল ঝুমি।

    শরীর দিয়ে পুষিয়ে দেবে কথাটা কত অশ্লীল, দিদা বোঝেন না। ঝুমার জ্বালা ধরে যায়। তারকের মা সবিধের নয়, সম্বন্ধ না হলে কেচ্ছা ছড়াবে। দিদা কেন যে বোঝেন না। তার ঘর থেকে বের হয়ে যেতে ইচ্ছে হচ্ছিল। কোথায়ই বা যাবে। মদনদা বউকে নিয়ে বেথুয়াডহরি গেছে। দুই মামির বাড়ি জমি পার হলে। ইলেট্রিকের লাইট এয়েছে এই গরিমাতেই মামিদের পা পড়ে না মাটিতে। সেজমামি টিভি কিনেছে, আগে সন্ধ্যা হলেই ছুটে যেত। এখন আর তার তাও যেতে ইচ্ছে করে না।

    তুই ঝুমি ফোঁস মনসা—কোনও কথা বলা যায়! কথায় তোর এত বিষ, ওঝার খোঁজে আছি, আসুক, বিষ কী করে নামাতে হয় তখন টের পাবি।

    সে উঠে পড়েছিল। উঠোনে কাঁঠালগাছ, তার ছায়ায় একা দাঁড়িয়ে ছিল কিছুক্ষণ।

    তুই আবার কেথায় গেলি! আলো নিয়ে উঠোনে বের হয়ে এসেছিলেন বিরজা সুন্দরী। তারকের মাও বের হয়ে এসেছে। তারকের মা বলল, যা ঘরে যা। অশান্তি করিস না। খোঁজখবর না নিয়ে তো আর কথা পাকা হচ্ছে না।

    ছেলে কী করে কাকিমা?

    বিরজা সুন্দরী বললেন, কিছু করে না। আইন পড়তে চায়। একটাই দাবি কলকাতায় রেখে আইন পড়াতে হবে। তা আমার খোকাকে লিখলেই হবে। দুটো তো বছর, দেখতে দেখতে কেটে যাবে। আইনটা পাস করিয়ে দিতে লিখব। থোকা আমার কথা ফেলতে পারবে না।

    তারকের মা সব খবরই নিয়ে চলে গেল। মাঝে মাথা খারাপ ছিল। এখন ভালো আছে। সুস্থ আছে। বি. এ. পাস। ঝুমি কিছু পাস না করা মেয়ে, বি, এ, পাস ছেলে পাওয়া কত কঠিন, তাও স্বীকার করে চলে গেল!

    দেখুন মেয়েটার ভাগ্য যদি খোলে। নিয়তি বলে কথা। উঠোনে দাঁড়িয়েই বিরজা সুন্দরী আর তারকের মার কথা হচ্ছিল। ঝুমি ঘরে ঢুকে, ঠাকুরের ফটো থেকে ফুল বেলপাতা সরিয়ে সিল্কের কাপড় দিয়ে তারকেশ্বরের ফটো ঢেকে দিল। এই কাজগুলি করলে মনে সে শান্তি পায়। জ্বালা থাকে না। কে কী বলছে শুনতেও তার ভালো লাগে না। রাতে সামান্য ভাত করে নিলেই হয়। দিদা দুধ রুটি খান। সে চালাঘরটায় ঢুকে আটা মাখতে বসে গেল।

    বিরজা সুন্দরী তারকের মাকে কিছুটা রাস্তা এগিয়ে দিতে গেছেন। কুকুরটা দিদার পিছু নিয়েছে। সে একা। পাটকাঠি জ্বেলে খড়কুটো আখায় ঢুকিয়ে দু-হাঁটুর মাঝে মুখ গুঁজে দিয়েছিল।

    বিরজা সুন্দরী ঢুকতেই সে টের পেল, দিদার কথা শেষ হয়নি। নিজে নিজেই বকছেন। বয়স হলে এই বুঝি হয়। সারাদিন প্যাচাল ছাড়া থাকতে পারেন না। তা রাজি হয়ে এলাম। বলে এলাম, আমার বড়ো পুত্র খুবই বিবেচক মানুষ, মার কথা ফেলতে পারবে না। আপনার ছেলে আমাদেরও ছেলে। একটা চিঠি লিখতে হবে, তোর মেসোকে দিয়ে। বুঝলি ঝুমি, সকালে তোর বড়ো মাসিকে খবর দিবি। ওরা দুজনে যেন চলে আসে। তোর সেজমামাকেও আসতে বলবি। সবাই পরামর্শ করে একখানা চিঠি লেখা দরকার। আমার বড়ো পুত্রের কোনও অভাব আছে! ঠাকুর চাকর, মেলা ঘর। দোতলার একখানা ঘর না হয় ছেড়ে দেবে। দুটো তো বছর। বুঝিয়ে লিখলে ও মাথা পাবে। ওর তো এক কথা, সব করব মা, কিন্তু পণ দেব না। আরে বাবা, পণ ছাড়া বিয়ে হয়! পণ না দিলে মেয়ের ইজ্জত থাকে—তা তুই তোর কথাও রাখ, মার কথাও রাখ। পণ চায়নি, আইন পড়তে চেয়েছে। পরের ছেলেকে পড়ালে পুণ্য হয়। খোকা নিজেও তো পরের বাড়িতে মানুষ। তোর রাঙাকাকা না নিয়ে গেলে, তোর রবরবা থাকত কোথায়! পরের ছেলে লোকে মানুষ করে না! ঝুমির ভবিষ্যৎ বুঝবি না।

    ঝুমি কোনও কথা বলেনি। যায় কথা ফুরিয়ে যাওয়ার কথা, তারই এখন কত রাজ্যের কথা। সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুরু হয়েছে, সকালে উঠে সাইকেলটা অধরের দোকানে নিয়ে যাবি। পানচার ঠিক করে নিবি। আমার হাতের কাজ এগিয়ে চলে যাবি মেসোর কাছে। থেকে যাস না আবার। বড়ো মাসির কী! বোঝে, আমার কষ্ট বোঝে। আদর করে পাঁচ পদ খাওয়ালে, এটা ওটা দিয়ে ভরে রাখলেই কী শরীর বোঝে!

    ঝুমি আর পারে!

    সে লেপ কাঁথা সরিয়ে কথা এড়িয়ে উঠে গেল। কলপাড়ে গিয়ে হাতমুখ ধুল। যাপার গায়ে জড়িয়ে বারান্দায় নেমে বলল, দিদা তুমি কী আরম্ভ করলে সকালে উঠে বলত।

    কী আবার আরম্ভ করলাম।

    এমন মুখে তাকিয়ে থাকলেন বিরজা সুন্দরী যে ঝুমি কী বলবে আর ভেবে পেল না। চোখে এক অপার্থিব শূন্যতা—যা দেখলে বড় কষ্ট হয় তার। কতদিন থেকে সে যেন সত্যি দিদার গলার কাঁটা হয়ে আছে। এত উচাটনে থাকে যে, মাঝে মাঝে মনে হয়, বুড়ির না শেষে মাথা খারাপ হয়ে যায়। হয়ে যে যায়নি তাই বা কে বলবে—তা না হলে বড়ো মামাকে চিঠি লিখবে ভাবতে পারে! কে না কে— তার স্বভাব চরিত্র কেমন, সেখানে গিয়ে ফের পাগলামি শুরু হতে পারে। মামি পছন্দ করবেন কেন! কোনও অপরিচিত লোককে, কেউ বাড়িতে রেখে জামাই আদরে খাওয়াবে দিদাই ভাবতে পারে।

    তা দিদার কথা ভেবে হাসিও পাচ্ছিল, আবার কেন যে কান্না পাচ্ছে।

    সে আখায় খড়কুটো জ্বেলে চা করে দিল দিদাকে। চা খেয়ে দিদার মাথা ঠান্ডা হয়। ঠান্ডায় কুঁকড়ে আছে। আগুনের পাড়ে বসে বিরজা সুন্দরী তার স্বপ্নের কথা শুরু করে দিল।

    তোর দাদু, বুঝলি, তোর দাদুর বাবা, মানে আমার শ্বশুর, আমাকে কোথায় দেখেছিলেন জানিস?

    কোথায়!

    আমাদের এক শিষ্য বাড়ি। দেখেই পছন্দ। বাবা আমার সেকেলে মানুষ, শিষ্য বাড়িতে দেখলে তো হবে না। বাড়ি গিয়ে দেখতে হবে। শ্বশুরমশাই তাতেও রাজি। কোনও বরপণ দিতে পারবেন না, তাতেও রাজি। আমার গরিব বাবার কন্যাদায়, কী বুঝে যে তোর দাদুর বাবা বলে ফেললেন, দেখুন বেয়াইমশাই, কন্যাটি আমাদের রত্ন—যদি দোষ না ধরেন বলি, তুলে নিয়ে না হয় স্বগ্রামে নিয়ে যাব। সেখানেই বিয়ে হবে। ব্যাণ্ড পার্টি বাজিয়ে একটা মিছিল বুঝলি, পালকিতে আমি আর আমার ছোটো বোন সরণি। অচেনা জায়গা, অদেখা মানুষ তারাই তো শেষে নিজের হয়ে গেল! তুই এত ঘাবড়ে যাস কেন বল তো, খোকাকে বুঝিয়ে বললে, ও বুঝবে না মনে করিস।

    আমি কিছু জানি না।

    এটা তোর রাগের কথা ঝুমি। ইস চায়ে মিষ্টি দিসনি! মাথা দেখছি তোরও ঠিক নেই।

    তোমার পাল্লায় পড়লে কারও মাথা ঠিক থাকে! তুমি কৃপাদাকে নিয়ে চলে গেলে। বড়োমাসি বলেছে না, ও একটা ঠক জোচ্চোর—ঘটকালি করে খায়, ওর পাল্লায় পড়বে না।

    আরে নিজ চোখে বাড়িঘর দেখে এলাম, মিছা কথা হবে কেন।

    সে যা ভালো বোঝ করো।

    তুই তবে চলে যা। কল থেকে দু-বালতি জল তুলে রেখে যাস। সাইকেলে চলে যাবি। এক ক্রোশ রাস্তা কতক্ষণ লাগে বল। তোর ঠেটা স্বভাব, যেখানে যাবি উঠতে চাস না। আসার সময় বাজার হয়ে আসিস। ভালো মাছটাছ পেলে আনবি। কৃপানাথকে খেতে বলেছি। গরিব মানুষ, এক ডাকে সাড়া দেয়। আমার আর কে আছে বল! সত্যি দিদার কেউ নেই। শেষে সেই পালকি সুন্দরী আজকের বিরজা সুন্দরী। সবাই উড়ে চলে গেছে। খোঁজখবরও বড়ো একটা কেউ রাখে না। দুই মামা, পাশেই বাড়ি করে আলাদা থাকে, তাদের যে দিদা পেটে ধরেছে এখন দেখলে, তাও মনে হয় না। তাকেও উড়িয়ে দেবার মতলবে কত ফন্দি মাথায় নিয়ে যে ঘুরছে।

    বড়োই কাতর অনুরোধ। যা দুটো রুটি করে দিচ্ছি, খেয়ে চলে যা। আমার কী কষ্ট আর কেউ বোঝে।

    ঝুমি এখানটাতেই বড়ো দুর্বল বোধ করে। কিন্তু তার তো ইচ্ছে হয় না যেতে। কোনো মেয়ে কবে তার পাত্রপক্ষের খবর দিতে মাসির বাড়ি যায়, সে জানে না।

    সে সাইকেলে বড়ো মাসির বাড়ি রওনা হলেই টিটকারি, কী রে ঝুমি মাসির বাড়ি যাচ্ছিস?

    সে সাড়া দেয় না।

    কী রে ঝুমি কোনও খবর বুঝি এসেছে!

    সে সাড়া দেয় না।

    সাইকেল চালিয়ে যায় ঠিক, সবাই জানে সে মাসির বাড়ি যাচ্ছে পাত্রপক্ষের খবর দিতে।

    দিদা বোঝেই না, একটা মেয়ের পক্ষে এটা কত অসম্মানের কথা! লজ্জার কথা।

    সে সাইকেলে উড়ে যেতে থাকলেই টের পায়, দিদা খবর দিয়ে বেড়াচ্ছে।

    ও ঠানদি ঝুমি কোথায়!

    আর কোথায় রে ভাই। পাত্রপক্ষের একটা খবর পেলাম। ওর মাসি-মেসোকে খবর দিতে বললাম। সেখানে গেছে। আমার আর কে আছে, যাবে। তার তখন শুধু কান্না পায়। সাইকেলে সে যায় ঠিক, তবে সে গোপনে কাঁদেও। আজ তার কী যে মনে হল, সে কিছুতেই খবরটা দেবে না ঠিক করল। দিদার মাথা খারাপ হতে পারে, তার তো মাথা খারাপ হয়নি।

    কিছুটা রাস্তা গিয়ে মনে হল, না গেলে অথর্ব শরীর নিয়েই বুড়ি হাঁটা দেবে। সে আর কী করে। মাসি-মেসোকে খবর দিয়ে সোজা চলে এল। বড়ো মাসি গেল, মেসো গেল পাত্রপক্ষের বাড়ি। তারাও ঝুমিকে দেখে গেল।

    খুবই পছন্দ।

    তার কিছু ভালো লাগে না। সে যে কী করে!

    চিঠিটাও লেখা হয়ে গেল। ইনল্যান্ডে ইনিয়ে বিনিয়ে দিদা বড়ো মামাকে লিখেছে, এটা আমার শেষ কাজ বাবা। অমত করিস না। চিঠিটাও ঝুমিকে ডাকবাক্সে ফেলে দিয়ে আসতে হবে। ক্ষোভে দুঃখে তার চোখে জল এসে যায়।

    চিঠিটা পেলেই মামির মুখ গোমড়া হয়ে যাবে। চিঠিটা পড়লেই ক্ষেপে যাবে মামি। মামা বেচারা মুখ গোমড়া করে বসে থাকবে। কিছু বলতে পারবে না।

    গাছপালার ছায়া পার হয়ে অন্তহীন এক পথ চলে গেছে মনে হল তার। চিঠিটা দুবার বের করল ব্লাউজের ফাঁক থেকে। মনটা তার ভার হয়ে আছে। মামিমা ঠিকই টের পাবে, চিঠি ঝুমিই ডাকবাক্সে ফেলেছে। এত বেহায়া মেয়ে—ভাবতেই পারে। তার জন্য দিদা খাটো হয়ে যাবে। সে চিঠিটা দেখল। চারপাশে তাকাল। খালি মাঠ। স্কুল ছুটি। অদূরেই আছে ডাকবাক্স। ফেলার আগে কেন যে মনে হল, এ চিঠি মরে গেলেও ডাকবাক্সে ফেলতে পারবে না। দিদার করুণ মুখখানিও ভেসে উঠল। চিঠিটা ছিঁড়ে হাওয়ায় উড়িয়ে দিতেই তার সমস্ত ভার যেন লাঘব হয়ে গেল।

    বাড়ি ফিরে এলে দিদার এক কথা, ঠিকমতো ডাকবাক্সের ভিতর ফেলেছিস ততা। ঠিকমতোই তো ফেললাম। ঠিকমতোই যাবে। এক গ্লাস জল দাও। খুব তেষ্টা। মিছে কথা বললে কী জলতেষ্টা পায়। তার এত তেষ্টা কেন!

    দিদা যত্ন করে এক গ্লাস জল দিল। সে জলটা খেতে গিয়ে বিষম গেল। সারা ঘর জলময় হয়ে গেল। সে শুধু কাশছে। এত প্রবল কাশি যে মুখ ফুটে আর একটা কথা বলতে পারল না। সরল সাদাসিধে এই বৃদ্ধাকে মিছে কথা বলতে গেলে এত কষ্ট হয়, আগে জানত না। আজই সে তা টের পেল। তার চোখ ফেটে জল আসছে। কী নিশ্চিন্ত মুখ। প্রশান্ত চাউনি দিদার। সে সহ্য করতে না পেরে উঠোনো বের হয়ে গেল। মাথার ওপর আকাশ। না হলে দিদার কাছে ঠিক ধরা পড়ে যাবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনানা রসের ৬টি উপন্যাস – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ৩০০ বছরের কলকাতা : পটভূমি ও ইতিকথা – ডঃ অতুল সুর

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }