Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অথ সাঁওতাল কথা – বুদ্ধেশ্বর টুডু

    বুদ্ধেশ্বর টুডু এক পাতা গল্প143 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সামাজিক অনুষ্ঠান

    নিত্যদিনের একঘেয়েমি জীবনে বৈচিত্র আনার জন্যেই মেলার পরিকল্পনা বা পালাপার্বণের সূচনা। আজকে এই একবিংশ শতাব্দীতে বিনোদনের কত রকমের উপকরণই না প্রত্যেকটা পরিবারেই দেখতে পাওয়া যায়, কিন্তু সুদূর অতীতে এসব ছিল না। তখন মানুষের জীবনে মেলাই ছিল সব। মেলাকে সাঁওতালি ভাষায় বলে পাতা। মেলা বলতে যেমন বোঝায় অসংখ্য বা অনেক, পাতা বলতেও তাই। মেলা বলতে যেমন অসংখ্য লোকের সমাগমকে বোঝায়, পাতা বলতেও তেমনি বোঝায় এমন একটা অনুষ্ঠান যেখানে সহজে কারওর পাতা বা হদিশ পাওয়া সহজ নয়। সাঁওতালদের প্রায় সব পাতাই ছিল গ্রামকেন্দ্রিক অর্থাৎ গ্রামকে কেন্দ্ৰ করেই অনুষ্ঠিত হত বিনোদনের জন্য অনুষ্ঠান। এবং এই সব সামাজিক অনুষ্ঠান প্রায় এক সঙ্গে অনুষ্ঠিত করার বিধান থাকায় নিজের গ্রাম ছেড়ে অন্য গ্রামে কেউ খুব একটা যেতেন না। নিমন্ত্রিতদের কথা আলাদা, তাদের কথা বাদ দিলে আমজনতার অংশগ্রহণ ছিল না বললেই চলে।

    ৩৬৫ দিনে মিৎ সেরমা বা এক বছর। গণনার সুবিধার জন্য সেরমাকে বারো মাস বা চাঁদয় ভাগ করা হয়েছে। সেগুলি হল চাইত, বাইশাখ, ঝেট, আসাড়, শান, ভাদর, দাঁশায়, সহরায়, আঁঘাড়, পুস আর ফাগুন। সূর্যের দিক পরিবর্তনের ফলে বারো মাস একরকমের হয় না। কখনো বেজায় রোদ লাগে আবার কখনো প্রচণ্ড শীত, তাই বারোটা মাসকে ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে। বাংলায় ঋতুর সংখ্যা ছয় যেমন, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত এবং বসন্ত। কিন্তু ইংরেজীতে ‘ঋতুর’ সংখ্যা চার। সেগুলি হল, (Summer) গ্রীষ্ম, (Rainy) বর্ষা, (Autumn) শরৎ এবং (Spring) বসন্ত। সাঁওতালী ভাষায় মাস এবং দিনের মত ‘ঋতুর ও নিজস্ব নামকরণ আছে। তবে সাঁওতালি ভাষায় বাংলার মত ছয় ঋতু নেই, আছে ইংরেজীর মত চারটে ঋতু। আমি এখানে তিনটের কথা উল্লেখ করলাম একটার কথা জোর দিয়ে বলতে পারছি না তাই উল্লেখ করলাম না। পরে নিশ্চিত হলে তারও উল্লেখ করব। সেই ঋতুগুলি হল নিরন (গ্রীষ্ম), জাপুৎ (বর্ষা) এবং রাবাং (শীত)। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনেও পরিবর্তন আসে তাই মানুষের ভাষা, গানের সুর পালটে যায় বলেই বারো মাসে তেরো পার্বন অনুষ্ঠিত হয়। আমি প্রথমে দুটো মূল অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে অন্যদের কথা বলব। সেই দুটোর একটা হল সহরায় এবং অন্যটা বাহা। প্রথমে আসছি সহরায় পরবের কথায়। সাঁওতাল পরগণার কথা বাদ দিলে সাঁওতালি সহরায় বঙ্গা বা কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে এই মহোৎসব সংঘটিত হয়। নীচে উল্লেখিত সহরায় গান কেথাই সমর্থন করে :

    নি চাঁদ কুনামী
    দারায় চাঁদ আসাবাইশা।
    হাতি লেকান সহরায় দাই না সেটেরেনারে।

     

     

    (গানটির রচয়িতা সম্ভবত গোমস্তা প্রসাদ সরেন।)

    সাঁওতালদের সমাজ জীবনে সহরায় পরবের গুরুত্ব যে কতখানি তা এই দু লাইনের সহরায় সেরেঞ (গান) থেকে পরিষ্কার ভাবে ফুটে উঠেছে। এখানে সহরায় পরবকে হাতির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। স্থলচর প্রাণীদের মধ্যে হাতি যেমন সবার বড়, তেমনি সাঁওতাল আদিবাসীদের জীবনে বারো মাসে তেরো পার্বণ ত আছেই—দং আছে, কারাম, লাঁগড়ে, ডাণ্টা রিনঝা আছে। এছাড়া আরো অনেক আছে কিন্তু সহরায়?—তার গুরুত্বই আলাদা।

    হেমন্তের নীল আকাশে বর্ষার ঘনঘটা থাকে না। মাঠের চতুর্দিক তখন সবুজ চাদর দিয়ে মোড়া থাকে। ঘাসের ডগায় বিন্দু বিন্দু শিশির সকালে সূর্যের আলোয় চিক চিক করে ওঠে আর ঠিক তখনই সাঁওতাল পল্লীতে পল্লীতে মাদলের ধিতাং তিং আর নাগড়ার দ্রিমি দ্রিমি আওয়াজে ছেলে মেয়ে বুড়ো বুড়ি সবাই মাদলের তালে তালে হাতে হাত জড়িয়ে কোমর দোলাতে থাকে আর সুর করে গাইতে থাকে :

    বারো বছর সহরায় আয়ো
    গ(অ)চ সারেচ জিউঙ্গতিঞ
    কুলহি দাঁড়ান দগ আয়ো
    আলম মানাঞা।

     

     

    (প্রচলিত)

    বছর দিনের সহরায় পরব মাগো
    বাঁচা মরা জীবন মোর গ্রামের রাস্তায় যেতে মাগো
    বারণ কর না।

    হ্যাঁ। সাঁওতাল আদিবাসীদের জীবন দর্শন এটাই। মাত্র কটা দিনের ত জীবন। তার মধ্যে আবার অসুখ বিসুখ আছে। অতএব মানুষে মানুষে বিভেদ নয়। সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে হানাহানি নয়। খাও, পিয়ো আর মোজ ওড়াও। এই সঙ্গে স্মরণ যোগ্য এই গানটা।

    রাহা-দং
    জম আবন, ঞই আবন
    রা(ই)স্কা রেবন তাঁহেনা
    নওয়া হাসা হড়ম বারসিঞ লাগিৎ।।

     

     

    (প্রচলিত)

    খাব দাব স্ফূর্তিতে থাকব
    এই মাটির দেহ দুদিনের জন্য।।

    পাঁচ দিনের উৎসব সহরায়। কালীপুজোর দিন এই মহোৎসবের শুভ সূচনা হয়। তবে কালীপুজোর সঙ্গে সহরায়ের মৌলিক পার্থক্য আছে। উদ্বোধনের দিন গ্রামের প্রত্যেকটা বাড়ি থেকেই মুঠো চাল ও একটি করে মুরগী সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত হয়ে গেলে ছেলে বুড়ো সবাই গ্রামের শেষ প্রান্তে গ্রামের পুরোহিতকে সঙ্গে নিয়ে জড়ো হয়। সেখানে পুরোহিত মারাং বুরুর উদ্দেশ্যে মুরগি উৎসর্গ করেন। তারপরে মুঠো চাল দিয়ে উৎসর্গীকৃত মুরগীদের খিচুড়ি রান্না করা হয়। সেই খিচুড়ি উপস্থিত সকলের মধ্যে সমান ভাবে ভাগ করা হয়। বয়স্করা হাঁড়িয়াও পান করে। পুজো সমাপ্ত হয়ে গেলে সমবেতদের মধ্যে একদল পুরোহিতকে বাড়ি পৌঁছে দেয় এবং অন্য দল মাদল এবং নাগড়া নিয়ে গোয়ালের গরু জাগাতে চলে যায়। স্থানীয় ভাষায় এদের ধেঁগুয়ান বলে। এরা প্রত্যেকটা বাড়িতে যায় এবং গোয়ালঘরের সামনে অহিরা গান পরিবেশন করে :

     

     

    আশ্বিন যাইতে
    কার্তিক পড়ইতে বাবু হো
    আজই তো লাগো গেল
    আমাবস্যার রাত।
    না কাঁন্দ, না খিজ
    সিরমনি গাইয়া গো
    তোরী গুলিন দেয় ত দুবো ধান।।

    (গানটি প্রচলিত এবং স্থানীয় কথ্য ভাষায় রচিত। জলধর কর্মকারের সৌজন্যে)

    বিনিময়ে এরা বাড়ির মালিকের কাছ থেকে সামান্য কিছু পয়সা এবং যদি থাকে তবে গুঁড়ির তৈরি পিঠে পায়।

    গ্রামের পুরোহিত এই পাঁচদিনের উৎসবের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনের দিন কোনো নাচগান হয়না। সেদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেবল অহিরা গান পরিবেশন করা হয়। দ্বিতীয় দিন থেকে ঐ যে শুরু হয় নাচ গান, উৎসবের শেষ দিন পর্যন্ত সেটা মোটামুটি অব্যাহত থাকে। এই চারটে দিন আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়। এই কটা দিন নাওয়া, খাওয়া ভুলে সবাই

     

     

    গ্রামের রাস্তায় পড়ে থাকে। তখন ছেলেমেয়েরা নাচতে নাচতে একবার গ্রামের রাস্তা ধরে উপরে উঠে যায় আবার নাচতে নাচতে নীচে নেমে আসে। উৎসবে হয়ত কারো গায়ে নতুন কিছু ওঠে আবার অনেকের গায়ে ওঠে না কিন্তু তার জন্যে আনন্দে কোন ভাঁটা পড়ে না।

    ঠিক কতদিন আগে সহরায় পরবের সূচনা হয়েছিল সেটা বলা মুস্কিল। সহরায় সম্বন্ধে কথিকাগুলি থেকে জানা যায় যে :

    সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় কৃষিকাজই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মূল উপজীবিকা। এই কৃষিকাজের ক্ষেত্রে আবার গরু মহিষের অবদান ছিল অপরিসীম। ট্রাকটর, পাওয়ার টিলার তখনও আবিষ্কৃত হয়নি। নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করে জল সেচের ব্যবস্থার সরকারি প্রচেষ্টাও তখন ছিল না। তখন আকাশের মেঘ থেকে বৃষ্টির জলে গরু মহিষের লাঙ্গল দিয়ে কৃষিকাজ হত। এর ফলেই মাঠে সোনা ফলত। চাষীর ঘরে গোলাভর্তি ধান উঠত। কৃষিকাজে গরুমহিষের এই অসীম অবদানের কথাই বছরের কটা দিনে স্মরণ করা হয়।

     

     

    সহরায় সম্বন্ধে প্রচলিত আর একটি কথিকা থেকে জানা যায়।

    সাঁওতালরা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করবার আগে যাযাবরের মত ঘুরে বেড়াত। ঘুরতে ঘুরতে তারা সপ্তসিন্ধুর দেশ চাই চাম্পায় উপস্থিত হল। এই চাই চাম্পায় অবস্থান কালে তাদের মহারাজা আদেশ জারি করলেন যে, মেয়ে জামাই, ভগ্নী এবং ভগ্নীপতিকে বছরে একবার নেমন্তন্ন করে খাওয়াতে হবে। মেয়ে জামাই, ভগ্নী এবং ভগ্নীপতিকে নেমন্তন্ন করতে করতেই অনেকটা সময় কেটে গেল এবং কালক্রমে এই উৎসবটাই সহরায় রূপান্তরিত হল এবং এটা চাষীর গোলায় ধান উঠে যাবার পর অনুষ্ঠিত হতে লাগল।

    এ প্রসঙ্গে ডাবলিউ. ডাবলিউ হান্টারের কথা বিশেষভাবে প্রণিধান যোগ্য :

    ‘The santal rejoices and sacrifices to his gods when he commits the seed to the ground (the Ero-Sim festival) when the green blade has sprouted (the Hariar Sim) When the ear has formed (the Horo) gathering of the rice crop forms the occasion of the crowning festival of the year (sohorai)’.

     

     

    অর্থাৎ, সাঁওতাল যখন মাঠে ধান বোনে দেবতার (এরঃকসিম) উদ্দেশ্যে মুরগী উৎসর্গ করে এবং আনন্দ করে, যখন ধানের চারায় নবোদগম (হারিয়াড় সিম) হয় এবং যখন ধান পাকে (হুডু), যখন ধান গোলায় তোলে তখন বছরের বড় উৎসব (সহরায়) উদযাপন করে।

    তিনি আরো মন্তব্য করেছেন :

    “The staple food of the Beerbhoom highlanders in Indian corn (Santali Janora), and three small inferior grains called Janhe, gundli and iri which I have not seen cultivalid by the low land Hindus. The Beerbhoom Santal looks upon rice the universal food of the lowlanders, as rare luxury; but he successfully rears the small hardy barly (bajra) which is common through out Bengal. In the sounthern country, the word Janhe is used to designate a wild grass.”

     

     

    অর্থাৎ, ‘বীরভূমের পার্বত্য উপজাতির প্রধান খাদ্য ভারতীয় শস্য (সাঁওতালি জঁড়রা) এবং তিনটি নিকৃষ্ট শস্য যাদের বলা হয় জানহে, গুঁদলি এবং ইড়ি নিম্ন- বঙ্গের হিন্দুর মধ্যে যাদের চাষ আমি দেখিনি। নিম্নবঙ্গের অধিবাসীদের প্রধান খাদ্য চালকে সাঁওতালরা মোটামুটি বিলাস দ্রব্য হিসেবেই দেখে, কিন্তু তারা বার্লির মত ছোট দানা বিশিষ্ট শস্য (বাজরা) দক্ষতার সঙ্গে চাষ করে, যা বাংলার সর্বত্র পাওয়া যায়। দক্ষিণ দেশে জানহে বন্য ঘাস হিসেবেই পরিগণিত হয়।’

    এ কথা থেকে এই সিদ্ধান্তেই উপনীত হতে হয় যে বাংলায় যাকে নবান্ন বলা হয় সাঁওতালি ভাষার সহরায় নব্বান্নের অবিকল প্রতিমুর্তি। এবং সহরায় কার্তিক মাসেই অনুষ্ঠিত হবার কথা কারণ উপরোক্ত শস্যগুলি তার আগেই চাষীর গোলায় উঠে যায়। নিম্নে বর্ণিত এল. এস. এস. ও. ম্যালির মন্তব্য আমার আশঙ্কাকেই সত্য বলে প্রমানিত করে :

    ‘In the Santal villages there is a succession of festivals throughout the year, nearly all, connected with agricultural operations The chief of these is the saharae of harvest festival, celebrated in Pus (December-January) after the rice crop of the tear has been harvesyed. It used to be celebrated in the month of Asin formerly they had gathered their principal crop by that time. The Santals indeed still call Asin the month of Soharae a name probably corrupted from Dasahara.’

     

     

    অর্থাৎ, ‘সাঁওতাল গ্রামগুলিতে সারা বছরই কোনো না কোনো উৎসব সংঘটিত হয়। যাদের অধিকাংশই কৃষির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সহরায় বা ধান কাটার উৎসব পৌষ-মাঘে (ডিসেম্বর-জানুয়ারী)-র বছরের শেষে ধান কাটার অব্যবহিত পরেই অনুষ্ঠিত হয়। পূর্বে এই উৎসব আশ্বিনে তাদের প্রধান শস্য সংগৃহীত হবার পরেই অনুষ্ঠিত হত। সাঁওতালরা সম্ভবত আশ্বিন মাসকে সহরায় চাঁদ বলে ডাকে—যা কিনা দশহরারই বিকৃত রূপ।’

    সাঁওতালদের জীবন জীবিকার একটা বড় অবলম্বন ছিল বন জঙ্গল পাহাড় ডুংরি ইত্যাদি। সেখান থেকে কাঠ লতা পাতা এবং দাঁতন সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করত। অপর দিকে জঙ্গলে ছিল বিভিন্ন রকমের ফলের গাছ। তাই খাবার চিন্তা তাদের ছিল না। বর্তমানে অনেক জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সামান্য যেটুক জঙ্গল অবশিষ্ট আছে সেখানে জঙ্গল রক্ষার নামে গার্ড, ফরেস্টাররা আছে। তারা ট্রাকের পর ট্রাক মাল রাতের অন্ধকারে পাচার করে দিচ্ছে। সাঁওতালদের বেলায় যত সব বাধা নিষেধ। অরণ্য রক্ষার নামে সাঁওতালদের ধরে নিয়ে জেলে পুরে দিচ্ছে। মোটা টাকা জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। এতসব বাধা ডিঙিয়ে যারা সামান্য কিছু নিয়ে যাচ্ছে তারা দাম পাচ্ছে না। কারণ এখন লোকে কাঠের পরিবর্তে কয়লা পোড়াচ্ছে। লতা পাতার পরিবর্তে কাগজের ঠোঙ্গা এবং প্লাস্টিক ব্যবহৃত হচ্ছে। দাঁতনের পরিবর্তে ব্রাশ কলগেটের ব্যবহার হচ্ছে। অপরদিকে আবার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষি জমি সামান্য যা কিছু ছিল তাও মদ হাঁড়িয়া খাইয়ে চালাক লোকেরা ঠকিয়ে নিয়েছে। লেখাপড়ার ক্ষেত্রেও খুব বেশি কিছু করতে পারেনি। তাই এদের মধ্যে দারিদ্রতা এখন তীব্র আকার নিয়েছে। এই সব কারণে পাঁচ দিনের সহরায় উৎসবকে বর্তমানে নমঃ নমঃ করে কোনো রকমে দু একদিনে পার করে দিচ্ছে।

     

     

    রেডিয়ো, টিভি এবং সিনেমার দৌলতে লাড়েলাপ্পা সংস্কৃতি এখন সাঁওতাল পল্লীতেও ঢুকে পড়েছে। সাঁওতাল ছেলেমেয়েরা এখন হিন্দি সিনেমার নায়ক নায়িকাদের অনুকরণ করছে। এখন ছেলেরা মেয়েদের মত লম্বা চুল রাখছে এবং ঢোলা জামা প্যান্ট পরছে। অপরদিকে আবার মেয়েরাও হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের অনুকরণ করছে। এইসব ছেলেমেয়েরা নিজেদের ঐতিহ্যমণ্ডিত নাচগানের পরিবর্তে হিন্দি সিনেমার সস্তা চটকদারি গান গাইছে আর ঢংয়ে ঢংয়ে নাচছে।

    সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে করতে পৃথিবী দূরে সরে যায় আবার এক সময় কাছাকাছি চলে আসে বলে পৃথিবীতে দিন রাতের তারতম্য ঘটে। আষাঢ় মাসের ৭ তারিখে পৃথিবী সূর্যের খুব দূরে চলে যায় বলে সেদিন দিন সব থেকে বড় হয়। পরদিন থেকে দিন বদলাতে থাকে অর্থাৎ ছোট হতে থাকে। এইভাবে ক্রমশ ছোট হতে হতে পৌষমাসের ৭ তারিখ দিন সব থেকে ছোট হয় এবং রাত্রি বড় হয়। তারপরে দিন আবার ক্রমশ বড় হতে থাকে সঙ্গে সঙ্গে হাড় কাঁপানো শীত বা ঠাণ্ডা কমতে থাকে। ইতিমধ্যে ঋতু পরিবর্তিত হয়। শীত চলে যাবার সঙ্গে সঙ্গেই ঋতুর রাজা বসন্তের আগমন ঘটে। অঙ্গ, বঙ্গ এবং কলিঙ্গর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সাঁওতাল অধ্যুষিত গ্রামগুলির চতুর্দিকে অবস্থিত বিশ্বপ্রকৃতির বাহ্যিক গঠনেও আসে পরিবর্তনের ঢেউ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শরৎ’ কবিতার অংশবিশেষ ধার করে বলি :

     

     

    আমলকী বন কাঁপে যেন তার
    বুক করে দুরু দুরু,
    পেয়েছে খবর পাতা খসানোর
    সময় হয়েছে শুরু।।
    শিউলির ডালে কুঁড়ি ভরে এল
    টগর ফুটিল মেলা,
    মালতী লতায় খোঁজ নিয়ে যায়
    মৌমাছিরা দুই বেলা।।

    বসন্তের আগমনে গাছের ডাল পালা থেকে পুরোনো বিদায় নিয়ে নতুন পাতা গজায়, ফুল ফোটে। শাল পলাশের রঙে রাঙ্গা হয়ে ওঠে প্রকৃতির অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। ফুলের সৌরভ ভ্রমরের গুঞ্জন সাঁওতালদের মনের মণিকোঠায় মদিরতা জাগায় তাই সাঁওতাল পরগণার গ্রামগঞ্জে বাহা (ফুল) অর্থাৎ বসন্ত উৎসবের ধূম পড়ে যায়। দিন ধার্য হয়। তার পরে নির্ধারিত দিনে সন্ধ্যায় মাঝি রাচা অর্থাৎ পুরোহিতের বাড়ির উঠোনে সবাই জড়ো হয়। সমবেত জনতার মধ্যে থেকে তিনজনকে বাছা হয়। তারা উঠোনে পাতা পাটিয়া বা মাদুরে গিয়ে বসে অর্থাৎ আসন গ্রহণ করে। পুরোহিত তাদের তিনজনের জন্য বেতের বোনা ধামা কুলোয় করে আতপ চাল এবং দুব্বো ঘাস এনে তাদের সামনে রাখে। তারা আতপ চাল এবং দুব্বো ঘাস হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে আন্দোলিত হয়ে ওঠে। পুরোহিত তখন তাদের গায়ে ঘটির ঠাণ্ডা জল ছিটিয়ে দেয়। ঠাণ্ডা জলের সংস্পর্শে এসে তাদের আন্দোলন থামে তবে স্বাভাবিক হয় না। পুরোহিত এক্ষণে তাদের পরিচয় জিজ্ঞেস করে। তাঁরা কেউ মারাং বুরু ত কেউ জাহের এরা আবার কেউ মড়েক তুরুইক বলে পরিচয় দেয়। তাঁদের পরিচয় জানার পরেই পুরোহিত তাঁদের মর্ত্যে আসার হেতু বা কারণ জিজ্ঞেস করে। পুরোহিতের কথায় বঙ্গারা পুনরায় আন্দোলিত হয়ে ওঠে এবং মর্ত্যে অবতরণের কারণ দর্শায়। এখানে যেটা বিশেষভাবে উল্লেখনীয় সেটা হচ্ছে গ্রামে যাই কিছু ঘটুক না কেন তার পেছনে কারণ থাকে। কার্যকারণ ছাড়া কোনা কিছুই সংঘটিত হয় না। গ্রামের যারা হর্তা কর্তা বিধাতা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তাদেরই। যদি তারা ব্যবস্থা নিয়ে থাকে তাহলে কথাই নেই, কিন্তু যদি না নেয় তাহলে তার কৈফিয়ত তলব করে, রীতিমত জবাব দিহি করতে হয়। সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারলে বলার কিছু নাই। কিন্তু না পারলে পরবর্তী কালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পেলে তবেই মুক্তি। স্বাভাবিক হওয়ার আগে বঙ্গারাই ঐ দিনের জন্য একজনকে কুডাম নায়কে (সহকারী) হবার জন্য ধরে নিয়ে আসে। তারপরেই স্বাভাবিক হয় এবং ভিড় ভাঙ্গে। সাঁওতালদের রীতি নীতি কিন্তু সব জায়গায় সমান নয়। তাই এটাকে সার্বজনীন বলে দাবী করা বাতুলতা মাত্র। বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কোনো এক বিশেষ অঞ্চলে এটা প্রচলিত আবার কোথাও কোথাও দেখেছি জনগণ রাত্রে ডিনার খাওয়া দাওয়ার পর মাঝির উঠোনে জড়ো হয়। বঙ্গা বা দেবতাদের উদ্দেশ্যে স্তব স্তুতি করে। উদাহরণ হিসেবে এখানে দু একটির কথা উল্লেখ করছি। গান দুটি গুরু মাদরাজ মাড্ডির কাছ থেকে সংগৃহীত। রাহা–বাহা

    (১) তেহেঞ দব উম আকান হো,
    তেহেঞ দব নাড়কা আকান।।
    তেহেঞদ নায়কে রাচাবণ,
    দুডুস আকান।।
    তোহঞদ নায়কে রাচাবন
    সিদুপ আকান।।

    (২) নায়কে মায় উম আঁড়গন
    সুচ দাঃকরে।
    নায়কে এরায় নাড়কা হসর
    ডাডি দাঃক রে।।
    নায়কে মায় উম রাকাপ এন
    সোস ঘাটিরে।
    নায়কে এরায় বহেল রাকাপ
    মেরাল ঘাটিরে।।

    (১) আজ আমরা স্নান করেছি
    সাবান দিয়েছি গায়।
    কাল নববর্ষরেভাই
    জড়ো হয়েছি তাই।।
    পুরোহিতের আঙিনায়
    আমরা সবাই।।

    (২) নায়কে ঠাকুর নাইতে যাবে
    সঙ্গে যাবে কে?
    পুরোহিতের (নায়কে) পত্নী যাবে
    আবার যাবে কে?
    স্নান করবে কাপড় ধোবে
    কাজল কালো জলে।
    কাপড় ছেড়ে উঠবে ঘাটে
    সোসঘাট আর মেরাল ঘাটে
    নাওয়া ধোওয়া সারা হলে
    উঠবে হেলে দুলে।।

    এইভাবে ক্রমশ চলতে থাকে। ক্রমে রাত গভীর থেকে গভীরতর হয়। মানুষের কোলাহল একসময় সম্পূর্ণরূপে থেমে যায়। নিস্তব্ধ নিশীথে একসময় বঙ্গারা তড়ে সুতাম বেয়ে ইহ জগতে নেমে আসে। তারা সবাই নিজের নিজের হাতিয়ার হাতে নিয়ে পূজাবেদীর উদ্দেশ্যে ছুটতে ছুটতে রওনা হয়। তাদের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত পূজা বেদী পরিদর্শনের জন্য। পরিদর্শন শেষে পুনরায় পুরোহিতের বাড়ির উঠোনে ফিরে আসে। পুরোহিত তাঁদের পা ধুইয়ে দেয় তখন তাঁরা স্বাভাবিক হয়। সমবেত জনতা তখন উঠোন ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে, মাদল এবং নাগড়ার তালে তালে নাচ গানে মশগুল হয়ে ওঠে। সকালের অপেক্ষায় থাকে। তারপর একসময় ভোর হয়, মোরগ ডাকে। পুরোহিত তৈরি হয়, আয়োজন শুরু করে। তারও পরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে নায়কে বা পুরোহিত ডান হাতে ঘটি জল এবং বাঁ হাতে বেতের বোনা নতুন ধামা কুলোয় পুজোর সামগ্রী নিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়ায়। সে এক অপূর্ব দৃশ্য। বাদ্যের তালে তালে মেয়েরা নাচতে নাচতে শোভাযাত্রা সহকারে নায়কে বা পুরোহিতকে পথ দেখিয়ে জাহেরে নিয়ে যায়। জাহেরে পৌঁছেই নায়কে পুজোয় বসেন। পুজোর বেদীতে গোবর দেন, চালের গুঁড়ি দিয়ে খুঁড় তৈরি করেন, সেই খঁড়ের ভিতরে বলি দেবার উদ্দেশ্যে আনা মুরগীকে খাওয়াবার জন্য আতপ চাল রাখে। তারপরে মুরগীকে চরিয়ে মারাং বুরু, জাহের এরা এবং মড়েক তুরুইকর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে। ওদিকে জাহেরে ভিড় করে থাকা লোকজন নাচগানে জায়গাটাকে আন্দোলিত করে তোলে। সমবেত জনতার মিলিত আওয়াজ এবং বাদ্যযন্ত্রের ঢক্কা নিনাদ গ্রাম ছাড়িয়ে দূরে বহু দূরে চলে যায়। ইতিমধ্যে মুরগি বলি দেওয়া হয়ে গেলে মুরগীর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করা হয়, সেই খিচুড়ি উপস্থিত সকলের মধ্যেই ভাগ করে দেওয়া হয়। ততক্ষণে মাঝ আকাশের সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ে, অস্ত যায়, তখন পুনরায় ডান হাতে ঘটি জল এবং বাঁ হাতে বেতের বোনা ধামা কুলো নিয়ে গ্রামের শেষ প্রান্তের শেষ বাড়িতে এসে দাঁড়ায়। বাড়ির মেয়েরা ঘটিতে করে জল আনে, পিঁড়ি মাটিতে পেতে পা ধুইয়ে দেয় এবং এইভাবে নায়কে একের পর এক বাড়িতে যেতে থাকে এবং বাড়ির মেয়েরা পিঁড়ি মাটিতে পেতে পা ধুইয়ে দিতে থাকে। অবশেষে নিজের বাড়ি পৌঁছোয়। নায়কে এরা অর্থাৎ বুড়ি নায়কে হাড়ামকে পা ধোওয়ার পর বরণ করে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যায়। অনুষ্ঠান তখনকার মত এখানেই শেষ। নাচগান সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর পুনরায় শুরু হয় রাত্রে, খাওয়া দাওয়ার পর। তবে ইদানীং বাহা নাচ আর সেরকম ভাবে দেখতে পাওয়া যায় না, এখন বেশির ভাগ গ্রামেই যেটা হয় সেটা হল লাঁগড়ে, যে লাঁগাড়ের নির্দিষ্ট কোন দিন তারিখ নাই। যেটা নাগাড়ে বা লাগাড়ে হয় তাকেই বলে লাঁগড়ে।

    বাহা শুরু হওয়ার দিনকে বলে উম। উম নাড়কা অর্থাৎ তেল, সাবান দিয়ে স্নান করা অর্থাৎ পবিত্র হওয়া। সংস্কৃত ওঁ শব্দের সঙ্গে ‘উম’ এর কোথায় যেন একটা সাদৃশ্য আছে। দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ যে দিন পূজা পাঠ হয় সেদিনকে বলে ‘সারদি’ অর্থাৎ জোয়ার। জোয়ারের পরে ভাঁটা তাই শেষ দিনকে বলে বাসকে অর্থাৎ বাসি। এই বাসকে থেকেই বাসকেয়া:ক (Baskeyak) কথাটা এসেছে। যার অর্থ পান্তা ভাত। এ থেকে সহজেই বোঝা যায় যে পাত্তা খাওয়ার রেওয়াজ সাঁওতালদের মধ্যে আদি থেকেই ছিল। এই বাসকে দিনেই সাঁওতালদের মধ্যে রং খেলার রেওয়াজ একসময় চালু ছিল, এখন সে সব পাট উঠে গেছে। আগেকার দিনে ফুলের নির্যাস দিয়ে রং তৈরি হত এবং রং খেলা হত। এখন বেশীর ভাগ লোকই রং খেলে না, যারা খেলে তারা গোবর গোলা জল, কাদা অথবা হাঁড়ির কালো রং দিয়ে মুখ কালো করে দেয়। ‘বাহার’ মতন মহৎ উৎসব এখন ভাঁড়ামোয় পরিণত হয়েছে।

    সাঁওতালদের সব উৎসবই ছিল গ্রামকেন্দ্রিক এবং যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল জাহের। প্রকাশ্য কোনো ময়দানে উৎসবের আয়োজন সাঁওতালদের মধ্যে আদিতেও প্রচলিত ছিলনা এখনো নাই। সাঁওতাল অধ্যুষিত অঞ্চলে যে সব পাতা বা ছাতা দেখা যায় তাদের সব কটারই প্রধান পৃষ্ঠপোষক তাদের বিজাতীয় মুরুব্বিরা। মধ্য যুগে সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা উদ্ভবের সঙ্গে সঙ্গে এক বিশেষ সুবিধাবাদী শ্রেণীর উদ্ভব হয়, যাদের জমিদার, ঘাটোয়াল ইত্যাদি বলা হত। এদের অধীনে নির্দিষ্ট এলাকার খাজনা আদায়ের দায়িত্ব ছিল। সেই দায়িত্ব এরা অধীনস্থ কর্মচারীর ঘাড়ে চাপিয়ে নিজেরা বিলাস ব্যসনে দিন যাপন করতেন। এদের বিশেষ কিছু কাজ ছিল না, জীবনের সবটাই এদের অবসর ছিল। এইসব সুবিধাবাদী শ্রেণী বিনা পরিশ্রমেই প্রচুর ধন সম্পদের মালিক হয়ে গেলেন। নাচনী নাচ, বাঈজি নাচের পেছনে দু হাতে পয়সা উড়িয়েও এরা শেষ করতে পারতেন না। সাঁওতাল অধ্যুষিত অঞ্চলের পাতা এবং ছাতা এদেরই মস্তিষ্ক প্রসুত। এ সব তাদের অবসর বিনোদনের মধ্যেই পড়ে। উদাহরণ হিসেবে শিখর ভুঁই এর অন্তর্গত চাকোলতোড় ছাতা পরবের কথা উল্লেখ করা যায়। এখানে পশ্চিম বাঙলার বরাহভূম, মানভূম বাঁকুড়া, মেদিনীপুর ছাড়াও সিংভূম থেকে বহু লোকের সমাগম হয়ে থাকে, এখনও হয়। কিন্তু এত সব করেও তাদের মন ভরত না, অবসর বিনোদন সর্বাঙ্গ সুন্দর হয়ে উঠত না, তাই ছাতা এবং পাতাকে সর্বাঙ্গ সুন্দর করে তুলবার জন্য প্রতিবেশী সাঁওতালদের ডাক পড়ল। তারাও অপেক্ষায় ছিল, তৈরি হয়েই অপেক্ষা করছিল। ডাক পাবার সঙ্গে সঙ্গেই বউ, ছেলে মেয়ে নিয়ে মাদল বাজাতে বাজাতে গান গাইতে গাইতে পাতা দেখার উদ্দেশ্যে রওনা দিল। কিন্তু গোল দেখা দিল এক জায়গায়, তাদের মাতৃভাষা সাঁওতালি কিন্তু তাদের পৃষ্ঠপোষক, মুরুব্বি তাদের স্বজাতি নয়, বিজাতীয়। সাঁওতালি ভাষার গান তিনি ত বুঝতে পারবেন না তাই তাকে বোঝাবার জন্য স্থানীয় কথ্য ভাষায় গান রচিত হল। এই কারণেই আগেকার দিনের পাতা এবং লাঁগড়ে গানের অধিকাংশই স্থানীয় কথ্য ভাষায় রচিত। আমি এখানে উদাহরণ হিসাবে দু একটার কথা উল্লেখ করব :

    রাহা—পাতা
    ই বছর যেমন তেমন
    আ(ই)সছে বছর নামাল চলিব।

    বাংলা নাবাল থেকেই সাঁওতালি নামাল শব্দের উৎপত্তি। নাবাল কথার অর্থ নীচু জমি। বর্ধমান, মেদিনীপুরের কিছু অংশ, দুই চব্বিশ পরগণার প্রায় সবটাই সমতল ভূমি হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশ নীচু। পশ্চিম- বঙ্গের দক্ষিণে অবস্থিত পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার অর্ধাংশ, পশ্চিম মেদিনীপুর, অধুনা ঝাড়খণ্ডের অন্তর্গত সিংভূম, সাঁওতাল পরগণার দুমকা অঞ্চলে বসবাসকারী সাঁওতালি আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন বছরের দুটো মরশুমে বাসে চেপে অথবা গাড়ীতে বোঝাই হয়ে নামালে আসে জন মজুর খাটতে। উপরে উল্লেখিত পাতা সেরেঞ সেই বাস্তব সত্যকেই তার বিষয় বস্তু করেছে। দুটো মরশুম নামালে কাটিয়ে মজুরি নিয়ে পুনরায় যে যার দেশে চলে যায়। সাঁওতালদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মরশুমে ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই সব ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠানের নাচগানও ভিন্ন ভিন্ন রকমের। পাতা নাচ এবং গান কেবলমাত্র পাতা উপলক্ষেই গাওয়া হয় তবে লাঁগড়ের যেহেতু নির্দিষ্ট কোনো দিন তারিখ নেই, মরশুম নেই তাই মেলায় লাঁগড়ে নাচগান নিষিদ্ধ নয়। আর মেলায় লাঁগড়ে নাচগান হয় বলেই লাঁগড়ের কিছু কিছু গান স্থানীয় কথ্য ভাষায় রচিত। যেমন এই গানটির কথা উল্লেখ করা যায় :

    রাহা-লাঁগড়ে
    আখাড়া হি গে ধনি ঝাঁট দে
    আখাড়া হি গে ধনি
    গোবর দে
    আর পাবি গে ধনি এমন সময়?

    লাঁগড়ে নাচের জন্য প্রত্যেকটা গ্রামেই আসর নির্দিষ্ট করা থাকে। কিন্তু লাঁগড়ে নাচের জন্য নির্দিষ্ট কোন দিন তারিখ নেই। অবসর পেলেই লাঁগড়ে নাচের আসর বসে তার জন্য উপলক্ষ্যের দরকার হয় না। আবার সাঁওতালদের প্রত্যেকেই বাড়িতে এবং বাড়ির উঠোনে প্রায় দিনই গোবর দিয়ে থাকে। গোবর দিয়ে বীজানুমুক্ত করে। সাঁওতাল লোককবিদের রচিত আলোচ্য লাঁগড়ে সেরেঞ বা গান আমাদের সেই কথাই বলে। রচনার মান বেশ উন্নত। তাই তাদের দক্ষতা সম্বন্ধে কোন সংশয় থাকা অনুচিত। তবে, এসব গান এখন অচল। এখনকার ছেলেমেয়েরা এ সব গান গায় না। পরিচর্যার অভাবে যেমন কোনোকিছুই বাঁচে না, এদের অবস্থাও তাই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাউলকবি রাধারমণ গীতি সংগ্রহ
    Next Article বৃহজ্জাতকম্ – বরাহমিহির
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }