Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অদ্বিতীয় সত্যজিৎ : সত্যজিতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী – মঞ্জিল সেন

    মঞ্জিল সেন এক পাতা গল্প319 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বংশ পরিচয়

    সত্যজিৎ রায়ের পিতামহের আসল নাম কামদারঞ্জন। কামদারঞ্জনের বাবার নাম কালীনাথ রায়, মায়ের নাম জয়তারা, পিতামহের নাম লোকনাথ। বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার বড়ো মসুয়া গ্রামে তাঁদের আদি বাড়ি। কালীনাথের পূর্বপুরুষ নদিয়া জেলা থেকে পূর্ববাংলায় এসে বসতি স্থাপন করেছিলেন। কালীনাথের আরেক নাম ছিল শ্যামসুন্দর। তাঁর দ্বিতীয় পুত্র কামদারঞ্জনকে তাঁদেরই এক জ্ঞাতি জমিদার হরিকিশোর রায় চৌধুরি পুষ্যি নিয়েছিলেন। সেই পোষ্যপুত্রের নাম রেখেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর। উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরি, বাংলা শিশুসাহিত্যের এক কীর্তিমান পুরুষ।

    হরিকিশোরের পরে এক পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করেছিল, তাঁর নাম নরেন্দ্রকিশোর। হরিকিশোরের মৃত্যুর পর উপেন্দ্রকিশোর আর নরেন্দ্রকিশোর জমিদারি ভাগ করে নিয়েছিলেন। তবে বিষয়সম্পত্তির ব্যাপারে উপেন্দ্রকিশোর তেমন পাকাপোক্ত মানুষ ছিলেন না, নরেন্দ্রকিশোরের উপর সব দায়দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে সৃজনশীল কাজের মধ্যেই ব্যাপৃত রেখেছিলেন নিজেকে।

    উপেন্দ্রকিশোরের পিতামহ লোকনাথ ছিলেন সাধু প্রকৃতির। সাধন-ভজন নিয়েই থাকতেন। তিনি ছিলেন তন্ত্রসাধক। আবার পাণ্ডিত্যে তিনি ছিলেন সে কালের একজন কৃতী পুরুষ। যেমন ছিল তাঁর বিভিন্ন ভাষা-জ্ঞান, তেমন ছিল অঙ্কে অসাধারণ মেধা। জরিপের কাজে তাঁর ছিল অসাধারণ দক্ষতা, কিন্তু সাংসারিক জীবনে তাঁর মোটেই আকর্ষণ ছিল না। বিয়ের পরেও তাঁর মনোভাবের পরিবর্তন হল না দেখে তাঁর বাবা রামকান্ত ছেলের তন্ত্রসাধনার পুঁথিপত্র, সব উপকরণ নদীর জলে ভাসিয়ে দিলেন। দুঃখে শোকে লোকনাথ শয্যা নিলেন, আহার-নিদ্রা ত্যাগ করলেন। তিনদিন পর মাত্র বত্রিশ বছর বয়সে তাঁর জীবনের অবসান ঘটল। তিনি নাকি মৃত্যুর আগে স্ত্রী কৃষ্ণমণিকে বলে গিয়েছিলেন দুঃখ না করতে, তাঁর যে সন্তান আসছে তার বংশধররা কীর্তিমান হবে।

    ছোটোবেলা থেকে জমিদার বাড়িতে প্রাচুর্যের পরিবেশে মানুষ হলেও উপেন্দ্রকিশোরের মধ্যে জমিদারি চালচলনের প্রভাব পড়েনি, বরং তাঁর পিতামহ লোকনাথের প্রতিভার স্ফুরণই দেখা দিয়েছিল বেশি। অঙ্ক আর বিজ্ঞানে তাঁর যেমন মেধা ছিল, সাহিত্য ও শিল্পকলার অনুরাগ ছিল ততোধিক।

    ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করে কলকাতায় প্রেসিডেন্সি কলেজে এসে ভরতি হলেন উপেন্দ্রকিশোর। মসুয়ার পাট এখান থেকেই ইতি। এই সময় তাঁর বাবা কালীনাথের মৃত্যু হয়। উপেন্দ্রকিশোরের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা সারদারঞ্জন উনিশ বছর বয়সেই অঙ্ক আর সংস্কৃতে ডবল এম এ হয়েছিলেন। পরে তিনি মেট্রোপলিটন, এখনকার বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যক্ষের পদ অলংকৃত করেছিলেন। অত্যন্ত তেজস্বী ছিলেন তিনি।

    সারদারঞ্জনের নাম আরও এক ব্যাপারে বিখ্যাত হয়ে থাকবে। তিনি ছিলেন ক্রিকেটের এক মস্ত অনুরাগী। ভারতবর্ষে ওই খেলা জনপ্রিয় করে তোলার ব্যাপারে তাঁর ভূমিকা এবং অবদান অবিস্মরণীয়। উপেন্দ্রকিশোরই একমাত্র ব্যতিক্রম, সারদারঞ্জনের অন্য সব ভাইরা ক্রিকেটে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। উপেন্দ্রকিশোর কিন্তু ক্রিকেট ব্যাটের বদলে হাতে তুলে নিয়েছিলেন রঙের তুলি আর লেখনী। এখানে কালীনাথের পুত্র-কন্যাদের নামের তালিকা দেয়া হল :

    কালীনাথ (স্ত্রী জয়তারা)

    সারদারঞ্জন (স্ত্রী-শশীমুখী); গিরিবালা (স্বামী-দীননাথ); কামদারঞ্জন (উপেন্দ্রকিশোর) (স্ত্রী-বিধুমুখী); ষোড়শীবালা (স্বামী-শম্ভুনাথ আইচ রায়); মুক্তিদারঞ্জন (স্ত্রী-কুণ্ডলিনী); কুলদারঞ্জন (স্ত্রী-স্বর্ণলতা); প্রমদারঞ্জন (স্ত্রী-সুরমা); মৃণালিনী (স্বামী-হেমেন্দ্রমোহন বসু)।

    সারদারঞ্জন কলকাতায় এসে বাসা বেঁধেছেন, তাঁর ছোটো ভাইরা লেখাপড়ার জন্য তাঁর কাছে আছেন। শুধু কুলদারঞ্জন উপেন্দ্রকিশোরের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে ছবি আঁকা, ফোটোগ্রাফি, লেখা ইত্যাদিতে কুলদারঞ্জন হাত পাকিয়ে ছিলেন। মসূয়ার সঙ্গে রায় পরিবারের যোগাযোগ ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এখানে বলে রাখা ভালো, সারদারঞ্জন ও উপেন্দ্রকিশোরের সবচেয়ে ছোটোভাই ছিলেন প্রমদারঞ্জন, বন-জঙ্গলের গল্প বলতে তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না বললেই চলে। ‘সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’র কাজে তাঁকে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল, এমনকি শ্যামদেশ ও বর্মা মুলুকেও যেতে হয়েছিল। ওখানকার রোমাঞ্চকর ঘটনা নিয়ে তিনি সুন্দর বই লিখেছেন। তাঁর হাসিটি ছিল দরাজ, প্রাণখোলা। সত্যজিতের হাসি বোধ হয় তাঁর কাছেই পাওয়া। তাঁরই মেয়ে হলেন লীলা মজুমদার— যাঁকে বলা শিশুসাহিত্যের সম্রাজ্ঞী। সুকুমার রায়ের তিনি খুড়তুতো বোন, সত্যজিতের পিসি।

    কলেজে পড়ার সময় ব্রাহ্ম ধর্মের প্রতি উপেন্দ্রকিশোর আকৃষ্ট হলেন এবং পরে ওই ধর্ম গ্রহণ করলেন। সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের একজন সমাজকর্মী দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম কন্যা বিধুমুখীকে তিনি বিয়ে করেছিলেন। এই নিয়ে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কিছুটা অবনতি ঘটেছিল। তিনি ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করায় তাঁর পালিত পিতা হরিকিশোর মনে ব্যথা পেয়েছিলেন, তবে তিনি কিন্তু উপেন্দ্রকিশোরের স্বাধীন মতামতের বিরোধিতা করেন নি। সারদারঞ্জনও ভাইয়ের ধর্মান্তর সুনজরে দেখেননি, তবে পরবর্তীকালে তাঁদের মধ্যে এ নিয়ে আর ভুল বোঝাবুঝি ছিল না।

    দ্বারকানাথের দ্বিতীয়া পত্নীর নাম কাদম্বিনী। বিয়ের আগে তিনি ছিলেন কাদম্বিনী বসু। যেমন ছিলেন সুন্দরী তেমন বিদুষী। ১৮৮২ সালে সমগ্র ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে তিনি প্রথম দুজন মহিলা গ্রাজুয়েটের একজন (অন্যজন চন্দ্রমুখী বোস)। পরে তিনি ডাক্তারি পাশ করেছিলেন। ভারতবর্ষে তিনিই প্রথম গ্রাজুয়েট মহিলা ডাক্তার— ডা. (মিসেস) কাদম্বিনী গাঙ্গুলি। তিনি বিলেতেও গিয়েছিলেন, সেখান থেকে ডাক্তারি শাস্ত্রে আরও পাশ করে এসেছিলেন। সেই যুগে অমন অসাধারণ মহিলার কথা চিন্তা করতেও আশ্চর্য লাগে।

    কর্নওয়ালিস স্ট্রিটের তেরো নম্বরের মস্ত বাড়ির দোতলার একটা অংশ ভাড়া নিয়ে উপেন্দ্রকিশোর সংসার পাতলেন। ওই বাড়িরই ঠিক ওপরের তলায় ছিলেন বিধুমুখীর বাবা দ্বারকানাথ, আর তাঁর তরুণী স্ত্রী কাদম্বিনী। আলাদা সংসার হলেও অনেকটা যেন যৌথ পরিবার। কাদম্বিনী ছিলেন বিধুমুখীর সৎ মা। বিয়ের আগে বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয়ে তিনি ছিলেন দ্বারকানাথের প্রিয় ছাত্রী। দ্বারকানাথ তখন বিপত্নীক এবং প্রৌঢ়। ১৮৭৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ট্রান্স পরীক্ষার জন্য তিনি সুন্দরী ও সাহসিকা কাদম্বিনীকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলেছিলেন। মজার কথা, সেই সময় খাস ইংরেজ দুহিতাদের কাছেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা বন্ধ ছিল।

    ক্রমে সাতটি সন্তানের জন্ম দিলেন কাদম্বিনী, আর বিধুমুখীর কোল জুড়ে এল ছটি সন্তান। তেরোটি কচিমুখের কলহাসিতে মুখর হয়ে উঠল তেরো নম্বর কর্নওয়ালিস স্ট্রিটের প্রকাণ্ড বাড়ি।

    উপেন্দ্রকিশোর ও বিধুমুখীর প্রথম সন্তান হলেন সুখলতা। সুলেখিকা সুখলতা রাও নামেই তিনি বেশি পরিচিত। ছোটোদের জন্য লেখা তাঁর গল্পের ও ছড়ার বই আজও সমান আদৃত।

    দ্বিতীয় হলেন সুকুমার, সত্যজিতের বাবা। মাত্র ছত্রিশ বছর বয়স বেঁচেছিলেন। কিন্তু তার মধ্যেই তিনি সমৃদ্ধ করে গেছেন শিশু সাহিত্যকে।

    তৃতীয় হলেন পুণ্যলতা— পুণ্যলতা চক্রবর্তী, তিনিও সুন্দর লিখতে পারতেন। তাঁর দুই মেয়ের প্রথমজন কল্যাণী কার্লেকর, আর দ্বিতীয়জন সন্দেশ পত্রিকার ছোটো সম্পাদিকা নলিনী দাশ, কবি জীবনানন্দ দাশের ভ্রাতৃবধূ এবং অশোকানন্দর স্ত্রী।

    পুণ্যলতার পর সুবিনয় রায়। বিজ্ঞানভিত্তিক গল্প ও প্রবন্ধ লিখে তিনি নাম করে ছিলেন। তারপর মেয়ে শান্তিলতা আর সবার ছোটো সুবিমল। তিনি ছিলেন স্বাস্থ্য সম্বন্ধে খুব সজাগ; ভাত খেতে সময় লাগত ঝাড়া এক ঘণ্টা। খুব আস্তে আস্তে চিবিয়ে খেতেন, তা না হলে নাকি হজম হয় না। তাঁর লেখা আজগুবি গল্পের জুড়ি নেই।

    এখানে উল্লেখযোগ্য উপেন্দ্রকিশোরই ভারতবর্ষে প্রথম হাফটোন ব্লক প্রিন্টিংয়ের প্রবর্তন করেন। এ ব্যাপারে তিনি নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইউ রায় অ্যান্ড সন্স-এর ছাপাখানায় শিশুসাহিত্যের এক যুগান্তকারী গোড়াপত্তন হয়েছিল, এ কথা অনস্বীকার্য। ১৯০০ সাল থেকে বাইশ নম্বর সুকিয়া স্ট্রিটে উপেন্দ্রকিশোর সপরিবারে বাস করতে থাকেন, একতলায় ইউ রায় অ্যান্ড সন্স-এর ছাপাখানা। উপেন্দ্রকিশোরের চতুর্থ ভাই কুলদারঞ্জন রায় তাঁর মেজোদাদার সঙ্গে সুকিয়া স্ট্রিটে থাকতেন।

    কুলদারঞ্জন ক্রিকেট খেলায় নাম করেছিলেন। তিনি সুলেখকও ছিলেন। স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের যে সব বই তিনি বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন, যেমন ‘অজ্ঞাত জগৎ’, ‘বাস্কারভিলের কুক্কুর’, ‘শার্লক হোমসের কীর্তিকলাপ’ ইত্যাদির তুলনা হয় না।

    আগেই বলা হয়েছে, সারদারঞ্জন ক্রিকেটের একজন মস্ত অনুরাগী ছিলেন। তাঁকে নাকি অনেকটা ক্রিকেটের জনক ডব্লু জি গ্রেসের মতো দেখতে লাগত। সেজো ভাই মুক্তিদারঞ্জনও খেলাধুলায় পারদর্শী ছিলেন। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, উপেন্দ্রকিশোরের ছোটো বোন মৃণালিনীর স্বামী হেমেন্দ্র মোহন বসু ছিলেন ময়মনসিংহের বিখ্যাত আনন্দমোহন বসুর ভাইয়ের ছেলে। হেমেন্দ্রমোহন কুন্তলীন তেল আর দোলখোস এসেন্স আবিষ্কার করে বিখ্যাত হয়েছিলেন। তাঁর ছিল গন্ধদ্রব্যের ব্যবসা। তাঁরাও কিন্তু ব্রাহ্ম ছিলেন।

    মৃণালিনী হলেন সুকুমার রায়ের পিসি, সত্যজিতের সোনাঠাকুমা। তাঁর চোদ্দোজন ছেলে-মেয়ের মধ্যে একজনের নাম নীতিন— তিনিই বিখ্যাত ক্যামেরাম্যান আর চলচ্চিত্র পরিচালক নীতিন বসু। আরেকজন হলেন মুকুল বসু। সিনেমা লাইনে সাউন্ড রেকর্ডিস্ট হিসাবে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। সত্যজিৎ যে পরবর্তীকালে বিশ্ববিখ্যাত সিনেমা পরিচালক হয়েছিলেন তাতে আর আশ্চর্য কি! প্রতিভা এমনই জিনিস, চারদিকে যা কিছু পড়ে থাকে তাই কুড়িয়ে বাড়িয়ে নেয়, কিছুই ফেলে না। সত্যজিৎ শুধু বাপ-ঠাকুরদার গুণই পাননি, ঠাকুমা-দিদিমা-পিসিমা, এক কথায় বংশের সব ধারা থেকেই তিনি আহরণ করেছেন শ্রেষ্ঠ সম্পদ বা গুণ।

    নীতিন বসুর আরও তিন ভাইয়ের নাম কার্তিক, গণেশ আর বাপী। কার্তিক বসু, গণেশ বসু আর বাপী বসুর নাম জানে না এমন ক্রিকেট অনুরাগী বোধ হয় বিরল।

    এই বইটির প্রথম প্রকাশ যখন আসন্ন, সেই সময় ১৩ এপ্রিল ১৯৮৬ নীতিন বসু ৮৯ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। তিনি ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। বাংলা এবং হিন্দি মিলিয়ে প্রায় পঞ্চাশটির মতো ছবি তিনি করে ছিলেন। ‘ভাগ্যচক্র’ ছবিতে তিনিই প্রথম প্লে-ব্যাক পদ্ধতি প্রয়োগ করে সারা দেশে আলোড়ন তুলেছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবিগুলির মধ্যে ‘দেশের মাটি’, ‘দিদি’, ‘দীদার’, ‘ওয়ারিশ’, ‘গঙ্গা-যমুনা’, ‘মশাল’ ইত্যাদি স্মরণীয়।

    উপেন্দ্রকিশোরের লেখা ‘ছেলেদের রামায়ণ’, ‘ছোটোদের মহাভারত’, ‘টুনটুনির বই’, ‘আকাশের কথা’, ‘গুপী গাইন ও বাঘা বাইন’ ইত্যাদি শিশুসাহিত্যে অমর হয়ে থাকবে। আজ সত্যজিৎ রায়, লীলা মজুমদার আর নলিনী দাশের সম্পাদনায় ছোটোদের জন্য যে মাসিক পত্রিকা সন্দেশ প্রকাশিত হয়, তার সূচনা কিন্তু করেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর। ১৯১৩ সালে (বাংলা ১ বৈশাখ ১৩২০) সন্দেশ-এর প্রথম আত্মপ্রকাশ— শিশুসাহিত্যে সেটা একটা সুবর্ণ ক্ষণ। রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ, জগদীশচন্দ্র বসু, যোগীন্দ্রনাথ সরকার, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, কুমুদরঞ্জন মল্লিক, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, প্রিয়ংবদা দেবী সবাই লিখেছেন ছোটোদের এই মনভোলানো পত্রিকায়। আগেই বলা হয়েছে, বিষয়-আশয়ের প্রতি উপেন্দ্রকিশোরের তেমন আসক্তি ছিল না, শিল্প ও সাহিত্যকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল তাঁর স্বপ্ন আর সাধনা।

    উপেন্দ্রকিশোরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের একটা প্রীতির সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তিনি মাঝে মাঝে উপেন্দ্রকিশোরের বাড়ি আসতেন। পুণ্যলতা চক্রবর্তীর ‘ছেলেবেলার দিনগুলি’ থেকে আমরা জানতে পারি, একদিন রবীন্দ্রনাথ উপেন্দ্রকিশোরের সঙ্গে দেখা করে জগদীশচন্দ্র বোসের বাড়ি যাচ্ছিলেন। বাড়িটা কাছেই ছিল, তাই হেঁটেই যাচ্ছিলেন। খানিকটা গিয়েই তিনি ফিরে এসেছিলেন। পথে একটা মরা ইঁদুর তাঁর চোখে পড়েছিল। তখন আবার কলকাতায় প্লেগের আতঙ্ক। মরা ইঁদুরটার আশেপাশে, ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েরা খেলা করছে। ইঁদুর থেকে যদি তাদের প্লেগের ছোঁয়াচ লাগে এই চিন্তায় আকুল হয়ে উঠছিল কবির মন। ফিরে এসেই উপেন্দ্রকিশোরকে তিনি বলেছিলেন একটা বিহিত করতে। উপেন্দ্রকিশোর লোক দিয়ে মড়া ইঁদুরটার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেবার পর কবি নিশ্চিন্ত হয়েছিলেন।

    সামান্য ব্যাপার থেকেই মহৎ প্রাণের পরিচয় পাওয়া যায়। ওই রাস্তা দিয়ে কত লোক তো হাঁটছিল। কই কারও মনে ও প্রশ্নটা তো জাগেনি। কিছু ছোটো ছেলেমেয়েরা ওখানে খেলা করছে দেখে কবির নরম মন ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল।

    সুকুমার রায়কে কবি খুব স্নেহের চোখে দেখতেন, তাঁর প্রতিভাকে উৎসাহ দিতেন। উপেন্দ্রকিশোরের নাতি, সুকুমারের ছেলে সত্যজিৎকে রবীন্দ্রনাথ স্নেহের চোখে দেখবেন তাতে আর আশ্চর্য কি! সত্যজিতের যখন দশ বছর বয়স, কবি তাঁর অটোগ্রাফের খাতায় চমৎকার একটা কবিতা লিখে দিয়েছিলেন। সত্যজিৎ রায়ের লেখা ‘যখন ছোটো ছিলাম’ বইয়ে এই কবিতার উল্লেখ আছে:

    বহুদিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে
    বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে
    দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা
    দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু।
    দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
    ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
    একটি ধানের শিষের উপরে
    একটি শিশির বিন্দু।

    সত্যজিতের বাবা সুকুমার রায়ের জন্ম ইংরাজি ১৮৮৭ সালে। মাত্র আট বছর বয়স থেকেই তিনি সুন্দর ছবি আঁকতে আর ছড়া লিখতে শুরু করেন। তাঁর প্রথম কবিতা ‘নদী’। পরের বছর সুকুমারের সেই ছড়া ছাপা হল ছোটোদের পত্রিকা মুকুল-এ। ন-বছর বয়সেই ছাপার অক্ষরে স্বরচিত লেখায় তাঁর হাতেখড়ি। পয়ার ছন্দে ষোলো লাইনের কবিতা ‘নদী’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৯৬ সালের জ্যৈষ্ঠ মাসে।

    প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ার সময় সুকুমার ‘ননসেন্স ক্লাবের’ গোড়াপত্তন করেছিলেন। মজার মজার গল্প, ছড়া আর কৌতুক অভিনয়ে যারা পারদর্শী, তাদের জন্যে এই ক্লাবের সদস্যপদ ছিল অবারিত। বাবার মতো গায়ের রং না হলেও সুপুরুষ ছিলেন, মাথায় বেশ বেড়েছিলেন সুকুমার। মুখে মুখে ছড়া বানাবার অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন তিনি। লুই ক্যারল আর এডোয়ার্ড লীয়রের মতো ছোটোদের জন্য মজার গল্প আর ছড়া লেখাতেই তাঁর ছিল আনন্দ।

    ১৯০৬ থেকে ১৯০৮-এর মধ্যে গড়ে উঠেছিল ননসেন্স ক্লাব। ওই ননসেন্স ক্লাবে সমবয়সি আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে আমোদ করার জন্য সুকুমার দুটি কৌতুক নাট্য রচনা করেছিলেন, ‘ঝালাপালা’ ও ‘লক্ষ্মণের শক্তিশেল’। এমন চমৎকার ভাঁড়ামিবিহীন কৌতুকরসোচ্ছল নাটক বাংলা সাহিত্যের সম্পদ। এ কথা এখন স্বীকৃত যে, ননসেন্স ক্লাবের আমন্ত্রণপত্রের জন্য আঁকা ছবিতেই ইলাস্ট্রেটর হিসাবে সুকুমার রায়ের প্রথম আত্মপ্রকাশ।

    সুকুমার রায় বিলেত চলে যাবার পর ননসেন্স ক্লাব বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বিলেত থেকে ফিরে আসার পর ওই ক্লাব আবার প্রাণ ফিরে পায়। তবে প্রতি সোমবার ওই ক্লাবের অধিবেশন বসত তাই নামটা বদলে হয়ে গেল ‘মনডে ক্লাব’। অনেকে ঠাট্টা করে বলতেন ‘মণ্ডা ক্লাব’। কালিদাস নাগ, প্রশান্ত মহলানবিশ, সুনীতি চট্টোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং পরবর্তীকালের অনেক বিখ্যাত মানুষ ওই ক্লাবের সদস্য ছিলেন, তবে তাঁদের মধ্যমণি ছিলেন সুকুমার রায়। শিশিরকুমার দত্ত ওরফে খোকনবাবু ছিলেন সম্পাদক। মাসিক চাঁদা চার আনা। সভার আমন্ত্রণপত্রগুলো মজার ঠাট্টায় সুকুমারই রচনা করতেন। সম্পাদক মাঝে মাঝে কলকাতা থেকে উধাও হতেন, তাই একবার চিঠিতে লেখা হল:

    সম্পাদক বেয়াকুব তাই বলি, সোমবারে
    কোথা যে দিয়েছে ডুব মদগৃহে গড়পারে
    এদিকেতে হায় হায় দিলে সবে পদধূলি
    ক্লাবটিত যায় যায়। ক্লাবটিরে ঠেলে তুলি
    রকমারি পুঁথি কত
    নিজ নিজ রুচিমত
    আনিবেন সাথে সবে
    কিছু কিছু পাঠ হবে
    করজোড়ে বার বার
    নিবেদিছে সুকুমার।

    আরেকটি চিঠি [সম্পাদক ফিরে আসার পর]

    শুভ সংবাদ
    সম্পাদক জীবিত আছেন
    আগামী সোমবার
    ২৫ নং সুকিয়া স্ট্রিটে
    ৬।। ঘটিকার সময়
    তাঁহার শ্রীমুখচন্দ্র দর্শনার্থ
    ভক্ত সমাগম হইবে।

    সম্পাদক ফিরে এসে সভ্যদের আমন্ত্রণপত্রে লিখলেন:

    আমি অর্থাৎ সেক্রেটারি,
    মাস তিনেক কলকেতা ছাড়ি
    যেই গিয়েছি অন্য দেশে
    অমনি কি সব গেছে ফেঁসে।।
    বদলে গেছে ক্লাবের হাওয়া,
    কাজের মধ্যে কেবল খাওয়া!
    চিন্তা নেইক গভীর বিষয়—
    আমার প্রাণে এ সব কি সয়?
    এখন থেকে সমঝে রাখ
    এ সমস্ত চলবে নাকো,
    আমি আবার এইছি ঘুরে,
    তান ধরেছি সাবেক সুরে।
    শুনবে এস সুপ্রবন্ধ
    গিরিজার ‘বিবেকানন্দ’,
    মঙ্গলবার আমার বাসায়…
    (আর থেক না ভোজের আশায়)।
    ১৪ মে :২৫ নং সুকিয়া স্ট্রিট।

    বলা বাহুল্য, ক্লাবের অধিবেশনে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারটা সদস্যদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

    সুকুমার বি এস সি পাশ করে ১৯১১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গুরুপ্রসন্ন বৃত্তি নিয়ে ফোটোগ্রাফি করে প্রিন্টিং সম্বন্ধে পড়াশোনা করতে বিলেত গিয়েছিলেন। প্রথমে লন্ডন স্কুল অফ ফোটো এনগ্রেভিং অ্যান্ড লিথোগ্রাফি ও পরে ম্যাঞ্চেস্টার স্কুল অফ টেকনোলজিতে প্রিন্টিং টেকনোলজি শিখলেন। ১৯১৩ সালে রয়েল ফোটোগ্রাফিক সোসাইটির ফেলোশিপ নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন।

    সুকুমার বিলেত যাত্রা করার কয়েক মাস পরেই ১৯১২-র জুন মাসে রবীন্দ্রনাথ পুত্র ও পুত্রবধূসহ লন্ডনে গিয়েছিলেন। বিলেতে রবীন্দ্রনাথের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এসেছিলেন সুকুমার। উপেন্দ্রকিশোরের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ আসতেন, তাই ছোটোবেলা থেকেই রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। পরবর্তীকালে দুজনের মধ্যে একটা মধুর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। রবীন্দ্রনাথের প্রতি সুকুমারের ছিল অপরিসীম শ্রদ্ধা। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর বোলপুরে যাতায়াত ছিল। রবীন্দ্রনাথের তিনি ছিলেন ‘যুবক বন্ধু। সুকুমারের বিয়ের সময় রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে ছিলেন। কিছুদিন আগেই তাঁর নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির কথা ঘোষিত হয়েছে। সেই উপলক্ষে অভ্যর্থনার প্লাবনে এবং সভা-সমিতিতে উপস্থিত থাকার ফলে রবীন্দ্রনাথ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন, শিলাইদহে গিয়ে নির্জনতা-সুখ উপভোগ করছিলেন। কিন্তু সুকুমারের বিয়েতে তিনি না এসে পারেননি।

    বিলেতে থাকার সময় রবীন্দ্রনাথের বাড়িতে প্রায়ই দুজনের সাক্ষাৎ হত। বিলেতে এক সভায় সুকুমার ‘দ্য স্পিরিট অফ রবীন্দ্রনাথ’ এই শিরোনামে একটি প্রবন্ধ পাঠ করেছিলেন। বিলিতি একটি কাগজে সেটি ছাপা হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি কবিতার তিনি ইংরেজি অনুবাদও করেছিলেন। যেমন—

    মাথায় পড়িছে পাতা, পড়িছে শুকনো ফুল,
    পড়িছে শিশিরকণা, পড়িছে রবির কর—
    পড়িছে বরষা-জল ঝরঝর ঝরঝর…
    বসিয়া বসিয়া সেথা, বিশীর্ণ মলিন প্রাণ
    গাহিতেছে একই গান, একই গান, একই গান।
    [‘সন্ধ্যাসংগীত’ গ্রন্থের ‘হৃদয়ের গীতধ্বনি’ থেকে]
    Round thee fall the faded leaves and
    Flowers shed their petals,
    The dewdrops sparkle on the grass and
    Vanish, the sunlight plays with shadows,
    The rainpatters on leaves.
    And there in the midst of all, thy wasted
    Weary soul
    Sings the same, the same, the same
    Unchanging time.

    বিলেত থেকে উপেন্দ্রকিশোরকে লেখা সুকুমারের একটা চিঠি থেকে জানা যায় Rothenstein এবং স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ তাঁর কয়েকটি ইংরেজি অনুবাদের সুখ্যাতি করেছিলেন। দু-তিনজন প্রকাশক রবীন্দ্রনাথের কবিতার ইংরেজি অনুবাদ ছাপতে আগ্রহী ছিলেন এবং সুকুমার সেই উদ্দেশ্যে অনেকগুলো কবিতার অনুবাদও করেছিলেন।

    একটা কথা হয়তো অনেকেরই জানা নেই, রবীন্দ্রনাথ বেতারের নাম ‘আকাশবাণী’ দেবার আগেই সুকুমার ওই নামটি ব্যবহার করেছিলেন। সন্দেশ পত্রিকায় ১৩২৯-এর ভাদ্র সংখ্যায় ‘বেতার’ নিয়ে তিনি লিখেছিলেন ‘আকাশবাণীর কল’।

    বিলেত থেকে ফিরে এসে তিনি সন্দেশ পত্রিকার কিছুটা ভার নিলেন। মজার মজার গল্প, কবিতা আর দারুণ দারুণ সব ছবি এঁকে একটা আলোড়নের সৃষ্টি করে ফেললেন তিনি। উপেন্দ্রকিশোর নিশ্চয়ই উপযুক্ত হাতেই সন্দেশ-এর দায়িত্ব পড়বে ভেবে নিশ্চিন্ত হয়েছিলেন।

    ১৯১৪ সালে উপেন্দ্রকিশোর সুকুমারের বিয়ে দিলেন। পাত্রী ঢাকার মেয়ে। ঢাকার বিখ্যাত সমাজসেবক কালিনারায়ণ গুপ্তর নাতনি, নাম সুপ্রভা। তাঁর মাসতুতো ভাই ছিলেন লখনৌয়ের বিখ্যাত গীতিকার অতুলপ্রসাদ সেন। সুপ্রভা ছিলেন দীর্ঘাঙ্গী, আর ভারী মিষ্টি ছিল তাঁর গানের গলা। আগেই বলা হয়েছে, রবীন্দ্রনাথ সেই বিয়েতে এসেছিলেন।

    ওই বছরই একশো নম্বর গড়পার রোডে তিনতলা বাড়িতে উঠে এলেন উপেন্দ্রকিশোর। সাদা রঙের বাড়ি, মাথায় পদ্মফুলের নকশা, পেছনের জমিতে ফল-ফুলের বাগান। উপেন্দ্রকিশোর মনের মতো করে বানিয়েছিলেন ওই তিনতলা বাড়ি।

    উপেন্দ্রকিশোরের আরেক ভাই মুক্তিদারঞ্জন বড়ো ভাই সারদারঞ্জনের সঙ্গে থাকতেন। আমার এক নিকট আত্মীয়, অর্থশাস্ত্রের অধ্যাপক এবং পরে বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যক্ষ মিহির কুমার সেনের মুখে শুনেছি, মুক্তিদারঞ্জন অঙ্কে পণ্ডিত ছিলেন। তিনি ওই কলেজে অঙ্কের অধ্যাপনা করতেন। ছাত্রদের তিনি প্রাঞ্জলভাবে নানান নিয়মে অঙ্ক শেখাতেন। তিনি ছিলেন খুব স্নেহশীল। একবার কলেজের অধ্যাপকরা আবদার ধরেছিলেন তাঁদের খাওয়াতে হবে। সেটা ছিল পৌষ মাস। তিনি বাড়ি থেকে প্রায় এক-শো জনের মতো লোকের জন্য পায়েস, পিঠে বানিয়ে এনে কলেজের প্রোফেশার্স রুমে সহকর্মীদের পেট পুরে খাইয়েছিলেন। তিনি বেশ শক্তিধরও ছিলেন। কারও সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হলে জামার আস্তিন গুটিয়ে বলতেন, ‘পারবে তুমি আমার সঙ্গে?’ রীতিমতো ব্যায়ামচর্চা করতেন তিনি।

    ছোটো ভাই প্রমদারঞ্জন সরকারি জরিপ বিভাগে কাজ করতেন, কর্মস্থল ছিল বিভিন্ন জায়গায়, শিলংয়েও ছিলেন। তাঁদের মা জয়তারা কিন্তু মসুয়া ছাড়েননি, স্বামী-শ্বশুরের ভিটে আগলে ছিলেন। ১৯২০ সালে বিরাশি বছর বয়সে সারাজীবন ময়মনসিংয়ে কাটিয়ে বড়ো ছেলে সারদারঞ্জনের কলকাতার বাড়িতে তিনি চোখ বুজেছিলেন।

    উপেন্দ্রকিশোরের যখন বাহান্ন বছর বয়স, তাঁর শরীরে ভাঙন ধরল। সন্দেশ-এর ভার তিনি দিলেন সুকুমার আর সুবিনয়ের উপর। আগেই বলা হয়েছে, সুবিনয়ও সুলেখক ছিলেন। তিনি প্রেসের কাজটাই বেশি দেখাশোনা করতেন, আর সুকুমার ভার নিলেন সন্দেশ সম্পাদনার।

    ১৯১৫ সালে ২০ ডিসেম্বর, তিপ্পান্ন বছর বয়সে উপেন্দ্রকিশোরের কর্মবহুল জীবনের অবসান ঘটল। মৃত্যুর আগেও তাঁর সৃজনীশক্তি থেমে থাকেনি। তাঁর শেষ দিনটাও রূপকথার গল্পের মতো। ভোরবেলা শোবার ঘরের জানালার সামনে একটা পাখি কয়েকবার ডেকে ফুড়ুৎ করে উড়ে গেল।

    ‘পাখিটা কি বলল, শুনলে?’ উপেন্দ্রকিশোরের পাশে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের তিনি বলেছিলেন, যেন ছোটোদের জন্য আরেকটা গল্প বলতে যাচ্ছেন, ‘বলল, পথ পা, পথ পা।’

    ১৯২১ সালে ২ মে সুপ্রভার কোল জুড়ে এল একটি ছেলে, উপেন্দ্রকিশোরের নাতি, নাম রাখা হল সত্যজিৎ। শুনতে হয়তো মজা লাগবে, আজকের এই বিরাট পুরুষ জন্মেছিলেন খুব ছোট্টখাট্টো।

    ১৯২৩ সালে সত্যজিতের যখন দু-বছর বয়স, কালাজ্বরে ভুগে মাত্র ছত্রিশ বছর বয়সে পরলোক গমন করলেন সুকুমার। ওই অল্প বয়সেই শিশুসাহিত্যকে তিনি সমৃদ্ধ করে গেলেন ‘আবোল তাবোল’, ‘হ-য-ব-র-ল’, ‘পাগলা দাশু’, ‘হেঁসোরাম হুঁসিয়ারের ডায়রি’ ইত্যাদি অসাধারণ কয়েকটি বই লিখে।

    সুকুমারের অকালমৃত্যুতে সুবিনয়ের ঘাড়ে এসে পড়ল ইউ রায় অ্যান্ড সন্সের সব ভার। কিন্তু ভাগ্য তখন বিরূপ। ওদিকে জমিদারি চলে গেল, এদিকে পাওনাদারদের তাগাদা। বিপদ যখন আসে সবদিক দিয়েই আসে, ছাপাখানা রক্ষা করা গেল না। তবু সন্দেশ পত্রিকাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টায় বিরাম ছিল না সুবিনয়ের। ১৯২৫ সালে সন্দেশ বন্ধ হয়ে যায়, তারপর আবার ১৯৩২ সালে যাঁরা ইউ রায় অ্যান্ড সন্স কিনে নিয়েছিলেন, তাঁদের আর্থিক আনুকূল্যে সুবিনয় ওটা প্রকাশ করেছিলেন। বছর দুই চালিয়েছিলেন।

    শৈশবের দিনগুলিতে, সত্যজিৎ
    শৈশবের দিনগুলিতে, সত্যজিৎ

    সন্দেশ পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাবার পর সুবিনয় রায় ভারত সরকারের জিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার চাকরি নিয়েছিলেন। সুবিনয় রায় কিন্তু লেখা ছাড়েননি। ছোটোদের নানান পত্রিকায় গল্প, ধাঁধা আর বিজ্ঞানভিত্তিক রচনা লিখে চলেছিলেন। ১৯৪৫ সালে বাহান্ন বছর বয়সে তিনিও পরলোকগমন করলেন।

    ১৯৬১ সালে সত্যজিৎ রায় সন্দেশ পত্রিকাকে আবার বাঁচিয়ে তুললেন। তখন যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন সুভাষ মুখোপাধ্যায় আর সত্যজিৎ রায়। ১৯৬৪ থেকে লীলা মজুমদার আর সত্যজিৎ রায়ের সম্পাদনায় নতুন চিন্তাধারায় সন্দেশ প্রকাশিত হতে থাকে। নলিনী দাশের নাম তখনও পর্যন্ত সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও সিংহভাগ কাজ কিন্তু তাঁকেই দেখতে হত এবং এখনও সেই ব্যবস্থা চলছে। ১৯৭৫ থেকে তাঁর নামও যুক্ত হল সম্পাদনার সঙ্গে।

    সত্যজিতের ছোটো কাকা সুবিমল রায় কলকাতার সিটি কলেজ স্কুলের শিক্ষক ছিলেন, তিনি কিন্তু শিক্ষকতা ছাড়েননি। অবসর নেবার পর লেক টেম্পেল রোডের বাড়িতে সত্যজিতের সঙ্গে শেষদিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন। সত্যজিৎ তখন স্বাবলম্বী, সন্দেশ-কে আবার বাঁচিয়ে তুলেছেন। ছোটোকাকা সুবিমলও ওই পত্রিকায় লিখেছেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleন হন্যতে – মৈত্রেয়ী দেবী
    Next Article ভয় সমগ্র ২ – মঞ্জিল সেন

    Related Articles

    মঞ্জিল সেন

    ভয় সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    November 10, 2025
    মঞ্জিল সেন

    উপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    November 10, 2025
    মঞ্জিল সেন

    ভয় সমগ্র ২ – মঞ্জিল সেন

    November 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }