Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অনশ্বর – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    উপন্যাস বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প62 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪. শ্যামলাল পেছনে পেছনে চললো

    ৪

    শ্যামলাল ওঁদের পেছনে পেছনে চললো। স্টেশন থেকে বেরিয়েই সামনে বাজার, খোলার চালার নিচে চায়ের দোকান, ঘেঁষাঘেঁষি বসতি, নোংরা রাস্তা, হনুমানজীর মন্দির, শ্যামলাল অবাক হয়ে চেয়ে চেয়ে দেখতে লাগলো। বাজার ছাড়িয়ে একটা ফাঁকা জায়গা, বড় একটা গাছের ছায়ায় একটা বাংলো ঘর, সামনে হিন্দীতে একটা কাঠের তক্তার গায়ে লেখা আছে, রেঞ্জ অফিস, করমপদা রেঞ্জ ধুরুয়াডিহি। এই বাংলো ঘরের পেছনেই একটা গির্জাঘর এবং আর একটা ভালো সাহেবী ধরনের ছোট বাড়ি। শ্যামলালের মনে হল গির্জার পাদ্রি সাহেবের থাকবার বাসা। গির্জার পরেই একটা বড় দোতলা বাড়ি, তার সামনে ফুলবাগান, ছোট্ট একটা পুকুর। পেছনে অনেকখানি জায়গা উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা, অনেক ফলের গাছ তার মধ্যে। এমন জায়গায় ও ধরণের একখানা শৌখিন বাগানবাড়ি কাদের? প্রশ্নটা শ্যামলালের মনে উঠলেও সাহস করে জিগ্যেস করতে পারলে না মামাবাবুকে।

    এইবার বাঁক ঘুরেই পথের পাশে বড় একটা খোলার বাড়ি পড়লো, নিচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। শরৎকালী বাবু বললেন—এই গরীবের কুঁড়েঘর ভায়া। এসো এসো। ও পিন্টু, পিণ্টু—

    একটি গিন্নীবান্নি ধরনের মহিলা রামলালের সামনে এসে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে বললেন—কি, এত কাল পরে মনে পড়লো? ঠাকুরঝি ভাল আছে? এ কে? খোকন বুঝি? এসো এসো বাবা, বেঁচে থাকো, দীর্ঘজীবী হও—চলো বাড়ির মধ্যে। বড্ড গরম। আগে নেয়ে-ধুয়ে ঠাণ্ডা হয়ে নাও, এসো ঠাকুরজামাই।

    অবস্থা যে বেশ সচ্ছল এদের, শ্যামলালের বুঝতে দেরি হল না, ঘরের আসবাবপত্র দেখে। খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা খুবই ভালো। দেশের বাড়িতে এ ধরনের খাবার কালেভদ্রেও জোটে না। রামলাল বললে—দাদা, এ ঘি আমাদের দেশে চক্ষেও দেখবার জো নেই! বড় চমৎকার ঘি—

    শরৎকালীবাবু বললেন—এখানকার ঘি নয় ভায়া। আমার এক রুগীকে দিয়ে দেহাত থেকে আনিয়েচি—একেবারে খাঁটি—চার টাকা সের।

    —এ সব বাংলাদেশে চক্ষে দেখবার উপায় নেই আজকাল দাদা—

    —বাড়িতে গরুও আছে আমার। সের-তিনেক দুধ হয়। একটু করে গাওয়া ঘি করেন তোমার বৌদিদি—আসল কথা, এদেশে আছি একরকম মন্দ নয়।

    —বাংলা দেশের জন্যে মন-কেমন করে না?

    —করে বইকি ভায়া। কিন্তু ছেলেমেয়েদের এদেশেই জন্ম, ম্যালেরিয়ার দেশে গেলে ওদের শরীর একদিনও টিকবে না। সেই জন্যেই যাওয়া হয় না। বিষয়-সম্পত্তি যা আছে, খুড়তুতো ভাই শচীন আর যামিনী খাচ্চে। খাক গে। এতকাল পরে যামিনী জমি বিক্রির দরুণ দেড়শোটি টাকা দয়া করে পাঠিয়েছিল। সে তার দয়া, না পাঠালেই বা কি করচি? পাকিস্তান থেকে নাকি বহু লোক এসে পড়েচে গ্রামে, তাদের কাছে জমি বিক্রি করেচে।

    —এখানে আসেনি পাকিস্তানের লোক?

    —না। এতদূরে এ জঙ্গলের দেশের সন্ধান পায়নি। কিন্তু এলে ভালো করতো। এখানে মাথা খাটালে পয়সা রোজগার হয়। বাংলাদেশ থেকে আজকাল বেরিয়ে পড়া দরকার, দেশে মাটি আঁকড়ে থাকলে আর অন্ন হবে না। বহুৎ লোক বেড়ে গিয়েচে।…একে বলে বোম্বাইয়ের কলা, রং দেখতে খারাপ কিন্তু খেয়ে দ্যাখো। বাড়িতে ছ’সাত ঝাড় লাগিয়েচি পেছনদিকে। এ মাটিতে খুব ভালো ফলে—

    খাওয়া-দাওয়া শেষ হল। রোদ বড্ড চড়েচে। বাংলাদেশের চেয়ে অনেক গরম। ওদের ট্রেনে ভাল ঘুম হয়নি। দুপুরে লম্বা ঘুম দিয়ে বিকেলের দিকে বাইরের বারান্দায় বসে চায়ে চুমুক দিতে দিতে দেশের খুঁটিনাটি গল্প করতে লাগলো রামলাল। শরৎকালীবাবুই নানারকম প্রশ্ন করতে লাগলেন ওকে, দেশের সংবাদ বড্ড ভালো লাগছিল বাংলা দেশ থেকে সদ্য আগন্তুক একজন লোকের মুখে। কতদিনের তৃষ্ণা, এমন টাটকা জল আকণ্ঠ পুরে পান করেও আশা মেটে না। বলো বলো, শুনি! মহাভারতের কথা অমৃত সমান!

    রামলাল বললে—যতই যা বলি, আজ এয়েচি আজই মন-কেমন করচে দেশের জন্যি।

    শ্যামলাল বললে—আমারও।

    শরৎকালীবাবু হেসে উঠে বললেন—সব সেরে যাবে ভায়া, পয়সার মুখ দেখবে যেদিন থেকে, সেদিন থেকে সব সেরে যাবে। আমার হত না ভাবচো? ভেবে দেখলাম আমার মত সেকেলে কোয়ালিফিকেশন নিয়ে দেশে ফিরে খাবো কি? না খেয়েই মরে যেতে হত। কাজেই রয়ে গেলাম।

    —আপনি আমার সম্বন্ধে কিছু ভেবেছেন?

    —কিছু ভাবচি বইকি। নইলে কি আর আসতে লিখি?

    —কি বলুন না? একটু শুনে মনটা ঠাণ্ডা করি। এই বাজার, তার ওপর চাকরিটা গেল। সংসার চালাই কি করে সেই হল ভাবনা! বিদেশে কি আর ইচ্ছে করে কেউ আসে দাদা!

    —এসেচ খুব ভাল করেচ। ঘরবোলা হয়ে না থেকে তুমি যে এ বয়সে বেরিয়ে পড়েচ এটাই মস্ত কথা। শ্যামলালকেও বলি, তোমার বয়েস কম, এই খাটবার বয়েস—লেগে যাও কাজে।

    —কাজটা কি দাদা?

    —সে আমি জানিনে। তোমরা দেখে নাও। আমি সাহায্য করবো পেছন থেকে। এখানে হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারি চলে, কাঠের ব্যবসা চলে, কোনো কাঠের আড়তে কেরানীগিরি করা চলে।

    রামলাল যেন একটু দমে গেল। শ্যালকের কাছে এসেচে সে অনেকখানি আশা নিয়ে। এ ধরনের কথাবার্তা তার ভালো লাগলো না।

    শ্যামলাল বললে—মামাবাবু ঠিকই বলেচেন বাবা। আমাদের জিনিস আমাদের নিজেদের ঠিক করে নিতে হবে বইকি। আচ্ছা মামাবাবু, একটা বাগানবাড়ি ওখানে কাদের?

    —ও হল কলকাতার জগৎ চৌধুরী বলে এক বড়লোকের।

    —কেউ থাকে এখানে ওঁদের?

    —থাকে।

    হঠাৎ যেন এ প্রসঙ্গকে চাপা দেবার জন্যেই শরৎকালীবাবু বললেন—তা হলে এইবার একটু বেড়াতে যাওয়া যাক, কি বলো?

    রামলাল বললে—যা বলেচেন, চলুন।

    শরৎকালীবাবু ওদের নিয়ে কিন্তু বেশিদূর গেলেন না। স্টেশনের উল্টোদিকের উঁচু টিলা মতো জায়গায় গিয়ে খানিকটা বসলেন। শ্যামলাল মুগ্ধ দৃষ্টিতে পশ্চিম দিগন্তের নীল পর্বতমালার দিকে চেয়ে বললে—ওটা কি পাহাড়? ওতে বাঘ আছে? ভালুক আছে?

    শরৎকালীবাবু হেসে বললেন—নাঃ, বাবাজী এখনো দেখচি নিতান্ত ছেলেমানুষ! কথাবার্তাও ছেলেমানুষি! এখানকার সব পাহাড়ে বুনো হাতী, বাঘ, ভালুক আছে, হরিণ আছে, বাইসন আছে।

    রামলাল বললে—বাইসন কি?

    —একরকমের বুনো মোষ। তা ছাড়া বড় বড় সাপ আছে।

    —কি সাপ?

    —পাহাড়ী ময়াল সাপ যাকে বলে। বিষাক্ত সাপ-আছে।

    —এদেশে থাকতি ভয় করে না দাদা?

    —সাহস না করলে লক্ষ্মীলাভ হয়? এক-একজন মাড়োয়ারি—

    শ্যামলাল এসব কিছু শুনছিল না। সে একদৃষ্টে চেয়ে ছিল দূর পূর্বদিগন্তে। এখান থেকে অনেক দূর তাদের দেশ। তার মা নিশ্চয় তার কথা ভাবচে। এতদূরে সে এসে থাকতে পারতো না বাবা সঙ্গে না এলে। বই পড়ে পড়ে দূর বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন কত দেখে এসেচে এতদিন! কিন্তু বিদেশ ভালো জায়গা নয়। বিদেশে এলে বাড়ির জন্যে মন-কেমন করে। পরের বাড়ি ভালো জায়গা নয়। যতই তারা আদর করুক, যত্ন করুক, তবু সেখানে আড়ষ্ট-আড়ষ্ট লাগে। পরের বাড়িতে থাকতে না হলে বোধ হয় বিদেশ খানিকটা ভালো লাগতো।

    শুক্লপক্ষের চতুর্থীর এক ফালি চাঁদ উঠেচে মাথার ওপরে। ছোট্ট টিলাটার গাছপালায় ক্ষীণ জ্যোৎস্না পড়েচে। সেইটুকু মাত্র জ্যোৎস্নায় সমস্ত জায়গাটা যেন মায়াময় হয়ে গিয়েচে। বড় অদ্ভুত দেশ। একে পাহাড় বলে? দূরের ঐ বড় পাহাড়গুলোতে কি আছে? শ্যামলাল ও সব পাহাড়ে উঠে দেখবে কি আছে।

    শ্যামলাল বললে—পাহাড়টা কত দূরে মামাবাবু?

    —তিন মাইলের কম নয়। পাথরগাঢ়া বলে একটা ফলস আছে ঐ বনের মধ্যে, মাইল তিনেক দূরে। একদিন দেখিয়ে আনবো।

    —কবে যাবেন?

    —দু-একদিন যাক। তাড়াতাড়ি কি? নিয়ে যাবো। এসব দেখতে ভালো লাগচে?

    —ওঃ, কি চমৎকার! আমি কখনো ভাবিনি যে এমন জায়গা আছে। ঐ সমস্ত আমি একা একা বেড়াবো।

    —বেড়িও বাবা। তার আগে দু-পয়সা রোজগার যাতে হয়, তার চেষ্টা পেতে হবে।

    শ্যামলাল খুব বুঝেচে। এই বাজারে দুটি প্রাণী একজনের ঘাড়ে বসে বসে খাবে, হলই বা সে আপন মামা, এতে বড় বাধ-বাধ ঠেকে। অবিশ্যি মামাবাবু খুব ভালো লোক, তিনি কিছু মনে করবেন না। কিন্তু তাদের তো একটা বিবেচনা আছে। নাঃ, সে চলবে না।

    .

    দু-তিন দিন পরে শ্যামলাল বিকেলের দিকে একা বেড়াতে বেরিয়েছে, স্টেশনের ওপারে একটি বৃদ্ধ লোককে নিচু হয়ে কি খুঁজতে দেখে কাছে গিয়ে বললে—কিছু হারিয়েচে আপনার?

    বৃদ্ধ লোকটির গায়ে মেরজাই, মোটা থান পরনে, পায়ে নাগরা জুতো। মুখ তুলে বললে—হাঁ বাবুজী, একঠো রূপেয়া গির গিয়া। আভি গিরা—

    শ্যামলাল হিন্দী না জানলেও আন্দাজে ব্যাপারটা বুঝলে। একটু খুঁজবার পরে শ্যামলালই একটা পাথরের তলা থেকে টাকাটা পেলে। বৃদ্ধ হেসে ওর দিকে চেয়ে বললে—বহুৎ আচ্ছা বাবুজী। আপকো তো নেহি দেখা ইঁহা পর? আপ, নয়া আয়া?

    —আমি শরৎকালীবাবুর বাড়ি এসেছি।

    —আচ্ছা! শরৎবাবুকা মকান মে? আপ চলিয়ে না মেরা গরীবখানাপর!

    শ্যামলাল শেষ কথার অর্থ ভালো রকম বুঝতে না পারলেও কোথাও যেতে বলচে, এ কথাটা বুঝলে। সে বললে—চলুন।

    —চলিয়ে বাবুজী, আপকা কৃপা।

    শ্যামলাল দেখলে, চলতে চলতে ওরা সেই দোতলা বাড়িটার সামনে এসে দাঁড়িয়েচে। বৃদ্ধ বিনম্র হেসে বললে—মেরা গরীবখানা। আপ পধারিয়ে—

    এত কেতাদুরস্ত বিনয় শ্যামলাল সহ্য করতে পারছিল না। একে সে আদৌ হিন্দী জানে না, তার ওপর তার বাবা-মামার বয়সী একজন বৃদ্ধ লোকের এতটা বিনয়পূর্ণ কেতাকায়দা! বাড়িতে ঢোকবার তার ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু গরীবখানা শব্দের অর্থ না বুঝে সে যখন একেবারে বুড়োর বাড়ির সামনে এসে পড়েচে, তখন আর ফেরা চলে না। কি বিপদেই পড়ে গেল আজ! মামাবাবু শুনে হয়তো বকবেন!

    বৃদ্ধ শ্যামলালের হাত ধরে বৈঠকখানায় নিয়ে ঢোকালে। জোড়া তক্তপোশের ওপর জাজিম আর সাদা চাদর পাতা, বড় বড় গোটা-পাঁচ-ছয় তাকিয়া, দু-তিনখানা চেয়ার ছোট একটা টেবিল। দেওয়ালে একটা ক্লকঘড়ি টক টক করচে। একটা অদ্ভুত ধরনের সেকেলে বনিয়াদি আবহাওয়া ও পুরনো মরচে-পড়া গন্ধ ঘরের মধ্যেটায়। শ্যামলাল কখনো এমন দেখেনি। তার ভারি ভালো লাগলো।

    ওকে বসিয়ে রেখে বৃদ্ধ বাড়ির মধ্যে ঢুকেই মিনিটখানেক পরে বার হয়ে এসে ওর পাশে বসলো।

    বললে—আপকা নাম বাবুজী?

    নাম শুনে বললে—শরৎবাবু আপকো কৌন লাগতা?

    —কোথায় থাকেন?

    —না না, আপনার উনি কে আছেন?

    —ও, উনি আমার মামা।

    —তব তো ঠিকহি হ্যায়। হামিও আপনার মামা হোয়ে গেলো। শরৎবাবুসে বহুৎ দোস্তি আছে হামার।

    —আজ্ঞে!

    —হামার নাম আছে রামজীবন পাঠক। হামার কারবার আছে টিম্বারকা। সমঝা? সাড়ে দশ টাকা লিয়ে কছসে আয়া থা বাবুজী, আজ সোই ছত্তিষ বরষ বীত গিয়া—সমঝা? আজ পরমাত্মাকো কৃপা সে আউর আপলোগোকা কৃপা সে—

    এই সময় একজন চাকর একখানা কানাউঁচু পিতলের বগিথালার ওপরে দুটো কাঁচের গ্লাস ভর্তি চা এবং চিনেমাটির প্লেটে নিমকি গজা জাতীয় কি খাবার নিয়ে ঘরে ঢুকলো। বৃদ্ধ কথা বন্ধ করে বললে—বাবুজী, থোড়া চা পিজিয়ে কৃপা করকে—

    বৃদ্ধ শুধু চা খেতে লাগলো, খাবারের প্লেট শ্যামলালের সামনে ধরে দিলে। নিমকি-গজাগুলো ভারি সুন্দর খাস্তা, বাজারে এমন চমৎকার ঘিয়েভাজা খাবার আজকাল—উঁহু— এ এই বুড়োর বাড়ির তৈরী, হাজার হোক বড়লোক তো! সত্যিকার বড়লোক। চায়ের সঙ্গে দারচিনি সেদ্ধ করেচে কেন? আর এত চিনি খাওয়া যায় চায়ের সঙ্গে? চা নয়, এ এক ধরনের গরমমশলার শরবৎ!

    —বাবুজী আউর থোড়া নমকী—

    শ্যামলালের চটকা ভেঙে গেল। ওকি, আর এক প্লেট গরম নিমকি-গজা ভাজা এনেছে যে চাকরটা! না না, অতগুলো নিমকি-গজা এই অবেলায়—

    —থোড়া খাইয়ে বাবুজি। আপকো উমর তো আভি বহুৎ কম হ্যায়। এ সময় খাবেন না তবে কি হামার মত বুডঢা হোলে তবে খাবেন? খান খান—থোড়া দহি খাবেন?

    —আজ্ঞে না না। চায়ের সঙ্গে দই খেলে বাঁচবো না!

    রামজীবন পাঠক হো হো করে হেসে উঠে বললে—নেহি বাঁচিয়েগা! একদম মরিয়ে যাবেন! নেহি, তব রহনে দিজিয়ে। পান মাগায়েঙ্গে?

    —আজ্ঞে, পান খাইনে।

    —বিড়ি সিগ্রেট?

    —আজ্ঞে, মাপ করবেন। ও সব খাইনে কখনো।

    রামজীবন পাঠক সন্ধ্যের পর পর্যন্ত ওকে বসিয়ে প্রধানত বলতে লাগলো নিজে সে কি করে বড় ব্যবসাদার হয়েচে। কেমন করে পিটহেড সাহেবের আমলে তিন হাজার টাকায় সত্তর একর জমির শালবন নিলাম ডেকে সাতষট্টি হাজার টাকায় বিক্রি করে!

    —ও বখত জঙ্গল কোই নেহি লেতা।

    —কেন?

    —আরে বাবুজী, জঙ্গল ইসসে বহুৎ ঘন থা, জানোয়ার ভি বহুৎ কিসিম থা!

    —জানোয়ার কি এখন নেই?

    —বহুৎ হ্যায়। আজকাল হাঁথি বড় গয়া, বাইসন কমতি হুয়া। শের ইধারসে উড়িষ্যা স্টেট ফরেস্ট মে ঘুষ গিয়া—শের সমঝালেন? বাঘ উঘ—

    —বুঝেচি। শের মানে বাঘ ইতিহাসে পড়েছিলাম, শের শার কথা পড়বার সময়।

    —ঠিক হ্যায়। ইলিমদার আদমিয়েঁানে সব কুছ সমঝতা। আপনি এখানে কেতোদিন আছেন?

    —কিছু কাজ করবো বলে এসেছি।

    —কৌন কাম?

    —যে কোনো কাজ হয়। বাবা ইস্কুলে মাস্টারি করতেন। ষাট বছর বয়েস হল বলে রিটায়ার করতে হল। এখন দেশে কি করে চলবে? তাই মামাকে চিঠি লেখা হল, মামা আসতে লিখলেন, এসেও পড়লাম। আজ চারদিন হল। কি করবো এখনো ঠিক হয়নি।

    —আপনি আংরেজি লিখাপঢ়া জানেন জরুর?

    —হুঁ।

    —চিট্টি-উট্টি আনেসে পঢ়নে সেক্তা?

    —খুব। তবে খুব শক্ত ইংরিজি জানিনে। মোটামুটি জানি মন্দ নয়। অনেক বই পড়েচি। খবরের কাগজ পড়ে বুঝতে পারি।

    কথা শেষ করে শ্যামলাল সলজ্জ হাসল।

    —ঠিক হ্যায় বাবুজী। আপনি এখনো বহুৎ ছেলেমানুষ আছেন। আচ্ছা, আমার গরীবখানায় কাল কৃপা করকে থোড়া আইয়ে গা? এহি সময় পর? ইঁহা পর চা পিজিয়ে গা। বাৎ হ্যায় আপকো সাথ। বৈঠিয়ে বৈঠিয়ে—

    শ্যামলাল বিদায় নিতে বাধ্য হল। তার বেশ লাগছিল এই বৃদ্ধের সঙ্গ। বেশ সরলপ্রাণ লোকটি। কিন্তু অনেকক্ষণ সে বাড়ি থেকে বার হয়েচে। পরের বাড়ি, কে কি মনে করবে হয়তো! মামাবাবু লোক ভালো বলেই মনে হচ্ছে, কিন্তু মামীমা যেন তেমন নয়। ওরা এসে পড়তে মামীমা যে খুশিতে উপচে পড়চেন এমন মনে করবার কারণ নেই।

    বাড়ি ঢুকতেই তার কিঞ্চিৎ পরিচয়ও পাওয়া গেল। ওর বাবা ও মামাবাবু কোনদিকে বোধহয় বেরিয়েছিলেন, বাইরের ঘরে ওঁদের দেখা গেল না। মামীমা রান্নাঘর থেকে বললেন—কে?

    —আমি শ্যাম।

    —এসো বাবা। দু-দু’বার চা করলাম, দুবারই তুমি বাড়ি নেই। যেখানে যাবে, সময়মতো এসো বাবা। চায়ের কেটলি আর ভাতের হাঁড়ি গলায় পড়েচে বিয়ের রাত্তির থেকে—সে তো আর নামলো না! দিন দিন কোথায় হালকা হবো, না ঝঞ্ঝাট বেড়েই চলেচে—এখন চা চড়াবো?

    —আমি মামীমা চা খেয়ে আসচি রামজীবন পাঠকের ওখান থেকে। রাস্তায় বেড়াতে বেড়াতে বুড়োর সঙ্গে দেখা। ধরে নিয়ে গেল তার বাড়িতে। এতক্ষণ বসিয়ে বসিয়ে শুধু গল্প করছিল—ছাড়ে না। কালও গিয়ে চা খেতে বলেচে বিকেলে।

    —রামজীবনবাবুর সঙ্গে আলাপ হয়েচে! বেশ, বেশ। মস্ত বড় ধনী এদিককার। তা যেও বাবা, ওদের সঙ্গে আলাপ রাখা খুব ভালো। দাঁড়াও, চা করে আনচি। ভাতের হাঁড়িটা নামিয়ে দিচ্ছি করে। একবার খেয়েচ তাই কি, আর একবার খাও। আমিও একটু খাই তোমার দৌলতে।

    মামীমা আদর করে চা খেতে দেওয়ার একটু পরেই বাইরের ঘর থেকে শরৎকালীবাবু ডাক দিলেন—ও শ্যামলাল—

    শ্যামলাল চায়ের পেয়ালা হাতে করেই বাইরের ঘরে গেল। রামলাল ছেলেকে বেশীক্ষণ না দেখে থাকতে পারে না। ওকে দেখে খুশী হয়ে বললে—কোথায় গিয়েছিলে বাবা? আমার ভাবনা হয়েছিল। পাহাড়-জঙ্গলের রাজত্বে বেশিদূর কোথাও যেও না।

    শ্যামলাল রামজীবন পাঠকের ঘটনা বলাতে শরৎকালীবাবু বললেন—কাল যেতে বলেচে? যেও। লোক বেশ ভালো। ওর সঙ্গে আলাপ রাখা দরকার।

    তারপর দুই বুড়োতে গল্পের আড্ডা বসে। অনেকদিন পরে শ্যালক ভগ্নিপতির পরস্পর মিলন। বাঙালীর মুখ দেখা যায় না এদেশে। তার ওপর রামলাল একজন গল্প-বলিয়ে লোক। শরৎকালীবাবু এমন লোক অনেকদিন পাননি। সন্দেবেলাটা আগে আগে কাটতে চাইতো না। পোস্টমাস্টার রঘুবীর সহায় এসে মাঝে মাঝে বক বক করতো বটে—কিন্তু রামলাল খাঁটি বাংলায় পাড়াগাঁয়ের একশো ঘটনা রসান দিয়ে দিয়ে যেমন বলতে পারে—এমন শরৎকালীবাবু আর কোথাও কখনো শোনেননি। কাল থেকে তিনি ভাবচেন, এদের এখানে রেখে দিতে হবে, দুটো কথা বলবার লোক নেই, সন্দেবেলা কোথাও গিয়ে একটু বসি সে জায়গা নেই। বাঁচা গিয়েচে এরা এসে!

    শরৎকালীবাবু বললেন—বাবাজী, দু-পেয়ালা চা আনতে পারো বাড়ির মধ্যে থেকে?

    —আনচি মামাবাবু।

    মনে মনে প্রমাদ গুনলো শ্যামলাল। চা নিয়ে এইমাত্র এক গোলযোগ হয়ে গিয়েচে, আবার চা! যাই হোক মামীমার অপ্রসন্ন মুখে তৈরি করা চায়ের পেয়ালা নিয়ে কিছুক্ষণ পরেই সে বৈঠকখানায় আবার ঢুকলো। বাবাকে গরম চা দিয়ে সুখ। আর এমন সুন্দর চা! দেশের বাড়িতে বাবা চা খেতে পেতো না—না জোটে দুধ, না জোটে এ বাজারে চিনি। কনট্রোলে মাসে তাদের সংসারে আধসের চিনি বরাদ্দ। কে কত চা খাবে! ভেলিগুড়ও আট আনা সের। গরীব ইস্কুল-মাস্টারের সংসারে দিনে ক’বার চা খাওয়া চলে? বাবা চা খেয়ে বাঁচলো এখানে এসে।

    শ্যামলাল ওদের কাছেই বসে। রামলাল সামান্য একটু চা খেয়ে পেয়ালাটা ছেলের সামনে দিয়ে বললে—খাও বাবা।

    শ্যামলাল বললে—তুমি খাও না? বাঃ, আমি মামীমার কাছ থেকে খেয়ে এসেচি যে! তুমি ভালো করে খাও না।

    রামলাল এবার আষাঢ়ে গল্প ফাঁদলো। সে পল্লীগ্রামের মানুষ, অনেক খুঁটিনাটি ঘটনা জানে পল্লী অঞ্চলের। সামান্য একটা বেগুনের ক্ষেত নিয়ে এমন অদ্ভুত গল্প ফাঁদবে, লোকে হাঁ করে শুনবে নাওয়া-খাওয়া ফেলে। শ্যামলাল বাবার এই গল্প বলার ক্ষমতার উত্তরাধিকারী এবং বাবাকে সে কত ভালবাসে তার এই ক্ষমতার জন্যে। ছেলের মতো মুগ্ধ শ্রোতা ও ভক্ত একজনও নেই রামলালের গল্পের।

    পাহাড়ে পাহাড়ে অন্ধকারময়ী রাত্রি মুখর হয়ে উঠেচে বনচর শৃগাল ও পক্ষীদের ডাকে। কি সুন্দর ঠাণ্ডা বাতাস রাত্রির! এমন রাত্রে গল্প বলেও সুখ, শুনেও সুখ। এক অতিথিপরায়ণ গরীব গেরস্ত অতিথিদের রুই মাছ আর সন্দেশ খাইয়ে কি করে সর্বস্বান্ত হয়ে গেল সে গল্প শুনে শরৎকালীবাবুর চোখে জল এল। বললেন———এমন লোকও আছে আজকালকার বাজারে ভায়া!

    —না থাকলি আজও আকাশে চন্দ্রসূর্যি্য উঠবে কেন দাদা?

    শ্যামলাল বাবার উত্তরে খুশী হল। সে কি আর এমনি কবি হয়েচে? বাবার মধ্যে, ঐ গরীব ইস্কুল-মাস্টারের মধ্যে এই দৃষ্টিভঙ্গীর এই চৈতন্যের বীজ সুপ্ত না থাকলে ছেলের মধ্যে আসে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅনুবর্তন – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article অথৈজল – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    ছোটগল্প বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    কাদা kada

    August 11, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    নগ্ন নির্জন – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    কোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ

    May 23, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রবার্টসনের রুবি – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    বোম্বাইয়ের বোম্বেটে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }