Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প211 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অন্ধকার সিঁড়ি

    ম্যানেজারের ছেলের জন্মদিনের পার্টি ছিল। বিরাট ধুমধাম। প্রত্যেকবার এসব পার্টিতে শুধু বাচ্চাদেরই ডাকেন রায়-দম্পতি। সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ দু চারটি পরিবার। এবারের জাঁকজমক একটু চোখে পড়ার মতো। দুই মালিক পরিবার পর্যন্ত উপস্থিত। নরম পানীয়ের পাত্র হাতে করে প্রত্যেক অতিথিকে আলাদা করে আপ্যায়ন করছেন পরমার্থ রায়। মাঝে মাঝে ছোটখাটো বক্তৃতাই দিয়ে ফেলছেন— ‘এমনি করে আমরা যখন মাঝে মাঝে মিলিত হবো বুঝলেন, তখন ভুলে যাবার চেষ্টা করব আমাদের সম্পর্কটা কর্মক্ষেত্রের। আসল কথা কর্মক্ষেত্রকে উপলক্ষ্য করে আমরা তো এখানে একটা পরিবারই গড়ে তুলেছি। ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখের ব্যাপারেও কি আমরা পরস্পরের পরামর্শ নিতে পারি না? তাতেও কিন্তু অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।’

    বুদ্ধিমান ব্যক্তিমাত্রেই চোখ চাওয়া-চাওয়ি করছেন। রায় কি বলতে চাইছেন এবং হঠাৎ ছেলের জন্মদিন উপলক্ষ্যে এত বয়স্কদের জড়ো করেছেন কেন বুঝতে অসুবিধে হয় না। সেনগুপ্তর আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় ফ্যাক্টরির শান্তিপূর্ণ জীবনযাত্রায় একটা মস্ত ঢিল পড়েছিল। আপাতদৃষ্টিতে এখন সমান হয়ে গেছে সব। কিন্তু ভেতরে ভেতরে অস্বস্তি, প্রশ্ন, বিস্ময়, ভয় এখনও কাজ করে যাচ্ছে। পরমার্থ বুঝি সবাইকে বলতে চাইছেন ব্যক্তিগত দুঃখ যত বড়ই হোক না কেন, তাকে গোপন রেখে এ রকম একটা অশুভ কাণ্ড ঘটানোর আগে এ কলোনির বাসিন্দারা যেন বন্ধু-বান্ধবের পরামর্শ নেয়। আর কেউ না হোক পরমার্থ নিজে আছেন। তিনিই তো এ-কলোনির সবাইকার ভালোমন্দ শুভাশুভের জন্যে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তবে ওসব ঝামেলায় দরকার কি? হিন্দু শ্রাদ্ধানুষ্ঠান শেষ হয় নিয়মভঙ্গ নামে আচার দিয়ে। নির্দিষ্ট সময়ব্যাপী শোকপালনের পর উৎসব। নতুন জামা-কাপড়, লোভনীয় খাদ্যবস্তু, আত্মীয়-বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে একত্রে পানভোজন। এইভাবেই ভুলতে হয় মৃত্যুশোক। পরমার্থ যেন সে কথা মনে রেখেই আজকের এই জাঁকজমকপূর্ণ উৎসবের আয়োজন করেছেন। মুছে ফেলতে চাইছেন ভয়ানক এক অমঙ্গলের স্মৃতি।

    জয়ন্তী রায় মভ রঙের একটা দারুণ জমকালো তানচোই পরে একবার ভেতরে একবার বাইরে যাওয়া-আসা করছেন। ভেতরের ঘরে বাচ্চাদের হুল্লোড়ের ব্যবস্থা হয়েছে। বেলুন, পুতুল, বল, খেলা এইসব নিয়ে জমেছে সেখানে মিমি আর মিন্টুদের আসর। চিৎকারে কান পাতা যায় না। বাইরে বাগানে গাছের মধ্যে আলো জ্বেলে বড়দের পার্টি। পরমার্থ বললেন, ‘জয়ন্তী তুমি একটু এদিকে এসো।’ ঘোষাল গিন্নি আর মিসেস মহাপাত্র, রায়চৌধুরী আর মিসেস সিং, অরোরা এবং মিসেস চ্যাটার্জি, জয়ন্তী হাসিমুখে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, আধো-অন্ধকার ঝাউতলা থেকে উচ্চারিত হল— ‘মিসেস রায়, আমরা অধমরাও আছি কিন্তু এদিকে!’ সাদা ধবধবে ধুতি-পাঞ্জাবি পরা দোহারা ভদ্রলোককে চিনতে পারলেন না জয়ন্তী রায়। তাঁর পাশের নেভি-ব্লু স্যুট পরা বেঁটেমতো ভদ্রলোকটিকেও না। পরমার্থ তাড়াতাড়ি এসে আলাপ করিয়ে দিলেন— ‘এখানকার থানার ও· সি· দ্বারিকা মৈত্র, ইনি ইন্সপেক্টর ঘোষদস্তিদার।’

     

     

    জয়ন্তী এগিয়ে যেতে গিয়ে বাগানের মাটিতে একটা আধলা ইটে হোঁচট খেলেন। পরমার্থ বললেন— ‘আহা, দেখে চলবে তো!’ যন্ত্রণায় বিকৃত মুখে জয়ন্তী বললেন— ‘ঠিক আছে, এক্ষুনি ঠিক হয়ে যাবে, ব্যস্ত হবার দরকার নেই।’

    ইন্সপেক্টর ঘোষদস্তিদার দৌড়ে গেলেন বরফ আনতে।

    দ্বারিকা মৈত্র বললেন— ‘পুলিশের এই মুশকিল, বুঝলেন মিঃ রায়, কেউ-ই তাদের দেখে খুশি হতে পারে না। পুলিশি খোলস ছেড়ে ফেললেও না। কেমন সুন্দর জমেছিল আপনাদের পার্টি। খামোখা মিসেস রায় হোঁচট খেলেন। যাই হোক, আমার কিন্তু আপনার সঙ্গে পরিচিত হবার লোভ ছিল খুব।’

    ঘোষদস্তিদারের আনা বরফের টুকরোটা পরমার্থ রুমালে করে জয়ন্তীর পায়ে চেপে ধরেছেন ততক্ষণে, জয়ন্তী ঈষৎ রুক্ষ স্বরে বললেন, ‘আমার সঙ্গে পরিচিত হবার লোভ? কেন বলুন তো?’

    —‘বাঃ, আপনার কত রকম সমাজসেবামূলক অ্যাক্টিভিটি, লোকমুখে শুনি কান্তিভাই ভুলাভাইয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার নাকি আপনিই!’

     

     

    কি মশাই রাগ করলেন না তো?’ পরমার্থর দিকে তাকিয়ে কথা শেষ করলেন দ্বারিকা মৈত্র।

    পরমার্থ হাসলেন। মনে মনে বললেন— ‘যতই পুলিশি খোলস ছেড়ে আসো। যে চোয়াড়ে ছিলে সেই চোয়াড়েই আছো।’

    জয়ন্তী বললেন— ‘মাপ করবেন, আমি একটু ওদিকে যাই।’

    —‘নিশ্চয়, নিশ্চয়। আপনি অন্য অতিথিদের দেখুন!’

    পরমার্থ বললেন—‘তুমি চলতে পারবে তো?’

    —‘একটু ধরো আমাকে। ভেতরে গিয়ে আরেকটু বরফ দিই। ঠিক হয়ে যাবে।’

    রায় ধরে ধরে জয়ন্তীকে বাড়ির ভেতর নিয়ে গেলেন পেছনের দরজা দিয়ে। দুজনে একা হওয়া মাত্র জয়ন্তী ফিরে দাঁড়ালেন, ক্রুদ্ধ স্বরে বললেন— ‘ও লোকদুটোকে নেমন্তন্ন করতে তোমায় কে বলেছিল?’

     

     

    —‘ওরা নিজেরাই বলেছিল। কাউকে জানাতেও বারণ করেছিল, পরমার্থ ভাবিত গলায় বললেন।

    —‘তাই বলে আমাকেও জানাবে না!’

    —‘তোমাকে জানাতে বিশেষ করে বারণ করে দিয়েছিল যে, তুমি জানলে নাকি আরও অনেকে জেনে যাবেই····’

    —‘কি চায় ওরা?’

    —‘বুঝতে পারছি না ঠিক। সেনগুপ্তর মৃত্যুর ব্যাপারটাতে ওদের মনে একটা খটকা লেগে আছে। আজ দেড় মাস ধরে আমাকে ক্রমাগত ফোন করে পার্টি থ্রো করতে বলছে। খুব সন্দেহজনক ওদের হাবভাব। কিছুই বুঝতে পারছি না।’

    জয়ন্তী নিচু গলায় বললেন— ‘টাকা-কড়ি কিছু যদি চায়, দিয়ে বিদায় করো!’

    —‘খেপেছো? কি কারণে, কার ওপর সন্দেহের বশে এভাবে ঘোরাঘুরি করছে কিছুই জানি না, মাঝখান থেকে আমি টাকা-কড়ি অফার করে বিপদে পড়ি আর কি।’

     

     

    রাত প্রায় দশটা হল অরণ্যদের বাড়ি ফিরতে। মৃদু আলো-জ্বলা স্নিগ্ধ রাতের রাস্তা বেয়ে, শিশির মাড়িয়ে বাড়ি ফেরা। দূর থেকে দেখা যায় ভূতের মতো অন্ধকার মেখে দাঁড়িয়ে আছে ওদের বাড়িটা। চুড়োর ওপর একটুখানি আলো। বেশ চাঁদের রাত। সেই আলোই পড়েছে বাড়ির মাথায়। বাকিটুকু গাছপালার ঝুপসি অন্ধকারে কালো হয়ে আছে। ওপরের ফ্ল্যাটটা এখনও ফাঁকাই আছে। নতুন এঞ্জিনিয়ার নিয়োগ হয়ে গেছে। কিন্তু তিনি ওখানে থাকতে রাজি হননি। তালা খুলে ভেতরে ঢুকল ওরা। ব্রততী জানালা খুলল। অরণ্য চমকে বলল— ‘কেউ কি ওপরে জানলা খুলল?’

    ব্রততী বলল—‘না গো। আমাদের জানালা খোলার শব্দেরই কেমন একটা প্রতিধ্বনি হয়। অন্য সময়েও আমি দেখেছি, হয়ত জানলা বন্ধ করলুম একটু পরে মনে হল ওপরেও কে খোলা জানলা বন্ধ করে দিচ্ছে।’

    ঠাণ্ডা জলের একটা বোতল বার করল ব্রততী। অরণ্য বলল

    —‘আবার বেশ করে পান খেয়েছো তো? নাও, এবার সারা রাত ধরে জল খেতে থাকো।’

    —‘কি করব, রিচ ফুড খেলেই আপনা থেকেই পানের দিকে হাত চলে যায়’— গ্লাসে জল গড়িয়ে অরণ্যর দিকে এগিয়ে দিল ব্রততী। নিজের গ্লাসটা নিয়ে উল্টোদিকের সোফাটায় গিয়ে বসলো।

     

     

    হঠাৎ বলল— ‘জানো, ব্যাপারটা খুব সম্ভব জয়ন্তীদি যা অনুমান করেছেন তাই।’

    —‘কিসের ব্যাপার?’

    —‘ওই ওদের’, ব্রততী ওপর দিকে ইঙ্গিত করল।

    —‘অনুমানটা কি?’

    —‘ওদের সম্পর্ক ভালো ছিল না।’

    —‘এরই মধ্যে বুঝি তোমার জয়ন্তীদির সঙ্গে এক পক্কড় হয়ে গেছে।’

    —‘আজ নয়।’

    —‘কবে আবার গিয়েছিলে?’

     

     

    ‘আমি যাইনি, জয়ন্তীদিই এসেছিল।’

    এই আরেকটি ভদ্রমহিলা, অরণ্যর খুব কম অপছন্দের মানুষদের মধ্যে যিনি অন্যতম। যদিও ওঁর সুবাদেই অরণ্যর এখানকার চাকরি, এবং সে হিসেবে ওঁর প্রতি কৃতজ্ঞই থাকা উচিত ছিল অরণ্যর। ও তখন ম্যানিলায়। রোজগারপাতি করছে ভালোই। কিন্তু ব্রততী কাছে নেই। তখন ব্রততীর মা বেঁচে। দু ভাইয়ের সংসার, তার মধ্যে একজন ওই রকম অচল। কে দেখবে অসুস্থ ভদ্রমহিলাকে? ব্রততী-ই, সেই দেখাশোনার ভারটা মূলত বহন করত। ও ম্যানিলা যায়নি। অরণ্যের জোর করবার অধিকার ছিল না। সে অধিকার খাটানো চলবে না এই শর্তেই বিয়ে। ব্রততী তো বিয়ে করতেই চায়নি। সৌম্যর জন্যই ব্যাপারটা সম্ভব হয়েছিল শেষ পর্যন্ত।

    ম্যানিলাতেই রায়ের সঙ্গে আলাপ। ব্রততী একবার বেড়াতে গেল তখনই জানা গেল জয়ন্তী রায় অর্থাৎ পরমার্থ রায়ের স্ত্রী ব্রততীর পরিচিত। সেই সূত্রেই এখানকার চাকরি।

    ব্রততী বেশি যায় না। কিন্তু মিসেস রায় প্রায়ই ওদের বাড়ি আসেন। ব্রততীর চাকরিটা ওর মেলামেশা না করার একটা কৈফিয়ত হিসেবে খাড়া করা যায়। কিন্তু অরণ্য মনে মনে একেবারেই চায় না ব্রততী ম্যানেজারের বাড়ি বেশি যাক। প্রথমত বেশি গেলে অফিসার মহলে কানাকানি হবে। মার্কেটিং ম্যানেজার তো প্রকাশ্যেই হাসি-ঠাট্টা করে এ নিয়ে। দ্বিতীয়ত অরণ্য জানে, ব্রততী জানে না জয়ন্তী রায় ওপর ওপর খুব আদিখ্যেতা করলেও মনে মনে ব্রততীকে দারুণ হিংসে করেন। খুব সূক্ষ্ম কিন্তু নির্ভুল ভদ্রমহিলার এই হিংসার ব্যাপারটা। অনেকের মাঝখানে হঠাৎ ব্রততীকে অপদস্থ করে উনি ওঁর এই প্রবৃত্তিটা চরিতার্থ করেন। ব্রততী খুব সাদাসিধে সাজগোজ করতে ভালোবাসে। তাতে ওকে দেখায়ও ভালো। জয়ন্তী আবার অত্যন্ত উগ্র। হাল্কা চাঁপা রঙের চান্দেরি শাড়ি, এলোখোঁপা আর সামান্য একটা টিপেই ব্রততীকে অসাধারণ দেখায়, যাদের দেখবার চোখ আছে, তাদের কাছে অবশ্য। পাশে ঝকমকে ব্রোকেড বা সিল্ক শাড়ি, চোখে আই শ্যাডো, ঠোঁটে গালে গাঢ় মেক-আপ জয়ন্তী যেন বিপরীত মেরু। হঠাৎ জয়ন্তী উচ্চকণ্ঠে বলে ওঠেন— ‘আরে ব্রততী, তুই কি স্কুল থেকে সোজা এলি? নাঃ, মুখার্জি তোকে আর হাত খরচটা কিছুতেই দিল না।’

     

     

    ব্রততী নিজের ভাবে এমনই মগ্ন যে এইসব কথার ইঙ্গিত, অপমান ও বোঝেও না, খেয়ালও করে না। স্নিগ্ধ হেসে বলে— ‘কই না তো জয়ন্তীদি, রীতিমতো ঘণ্টাখানেক বিউটি-স্লিপ দিয়েছি। তাতেও হয়নি?’ এটা তো কিছুই না। এর চেয়েও মারাত্মকভাবে ব্রততীকে অনেক সময় আক্রমণ করেন ম্যানেজার-গিন্নি।

    —‘তুই আর কি বুঝবি ব্রততী, বাড়িতে ছোট ছেলেমেয়ে থাকার যা জ্বালা!’

    কিংবা—‘তুই টিপটপ থাকবি না কেন? আমাদের মতো কি? মিন্টু এসেই গায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। হাউস-কোট কি আর সাধে পরি! নইলে ও সব নকল মেমসাহেবিতে আমার বিন্দুমাত্রও মোহ নেই।’

    এসব সময়ে ব্রততী সাদা হয়ে যায় একেবারে। অরণ্য ওকে রক্ষা করতে চায়, যতটা পারে করেও। কিন্তু এইসব আঘাত অথবা সুরক্ষা কোনটাই ব্রততীকে শেষ পর্যন্ত স্পর্শ করে কিনা সন্দেহ আছে। দু দিন পরই হয়ত দেখা যাবে জয়ন্তী রায় বিভোর হয়ে গল্প করছেন ব্রততীর সঙ্গে। ব্রততীর মুখে মেঘভাঙা রোদ্দুরের মতো হাসি। বিবাহপূর্ব দিনগুলোতে যেমন দেখা-না-দেখায় মেশা ছিল, আজও তেমনি আছে ও। রহস্যময়ী।

     

     

    —‘কি বাণী দিলেন ম্যানেজার সাহেবা!’ জিজ্ঞেস করল ও।

    ব্রততী সামান্য হাসল, বলল— ‘জয়ন্তীদি এমনিতে খারাপ মানুষ না। শুধু নারীসুলভ কৌতূহলটা বরাবরই একটু বেশি। একটু বেশি মেয়েলি মেয়ে। যাই হোক ওই একই কারণে জয়ন্তীদির ইন্সটিংটটা অনেক সময়ে ঠিক কথা বলে।’

    —‘যেমন?’

    —‘মনে আছে পারমিতা আসতে সেদিন আমি এগিয়ে গিয়ে ওকে ধরলুম!’

    —‘হ্যাঁ। তোমার গায়ের ওপর টলে পড়ে গেল।

    —‘সম্পূর্ণ ভান।’

    —‘কোনটা?’

     

     

    —‘ওই পড়ে যাওয়াটা। ইচ্ছে করেই সমস্ত ওয়েটটা আমার গায়ের ওপর ছেড়ে দিল। আসল আর নকলের তফাত ঠিকই বোঝা যায়। ও খুব সম্ভব ফেস করতে পারছিল না কাউকে।’

    অরণ্য চিন্তিত গলায় বলল—‘সেটা কিন্তু স্বাভাবিকই। এরকম পরিস্থিতিতে লোকে সবচেয়ে আগে স্ত্রীকেই দোষ দেয়। ফেস করতে পারা কঠিন।

    —‘কি যে বলো!’ অসহিষ্ণু গলায় ব্রততী বলল, — ‘স্বামী হঠাৎ মারা গেছে, এ অবস্থায় কোনও স্ত্রীর ওসব ভাববার সময় থাকে নাকি? দিশেহারা হয়ে যাবার অবস্থা তখন। আমি কিন্তু সেরকম কিছু দেখলুম না। অজ্ঞান হবার ভান করে ওর চোখে যে এতটুকু জল নেই, এটাই ও লুকোলো।’

    —‘হঠাৎ মারা যাওয়া আর সুইসাইড কিন্তু এক নয় ব্রততী। চোখের জল এ অবস্থায় শুকিয়ে যাওয়াও বিচিত্র নয়। আফটার অল যে মানুষটা আত্মঘাতী হচ্ছে সে তার সমস্ত প্রিয়জনকে রিজেক্ট করছে। তোমরা পারোনি, আমায় সুখী করতে পারোনি, তাই আমি বিনাশের পথ বেছে নিচ্ছি— এই ধরনের একটা মেসেজ আত্মঘাতের পেছনে থাকে।’

     

     

    ব্রততী চুপ করে রইল। একটু পরে অরণ্য বলল— ‘শ্মশানে পারমিতার বাবা আর সুমন্তর দিদির কথাবার্তাও অবশ্য আমার ঠিক স্বাভাবিক লাগেনি।’

    —‘কিছু বলোনি তো?’

    —‘বলব আর কি! তুমি যেরকম আপসেট সেদিন!’

    —‘আপসেট আবার কি? ওরকম ভয়াবহ দৃশ্য হঠাৎ দেখলে যে কেউ হার্টফেল করতে পারে।’

    অরণ্য শ্মশানের ঘটনাটা বিশদ করে ব্রততীকে বলল।

    —‘দেনা-পাওনা নিয়ে একটা মন কষাকষির ব্যাপার আছে, মনে হয়। কিন্তু সুমন্তর দিদিও কি সব দেওয়া-টেওয়ার কথা বলছিলেন বলে ব্যাপারটা কিরকম ধোঁয়াটে হয়ে গেল।’

    ব্রততী বলল— ‘সেদিন ট্রেনে দুজন ভদ্রলোকের আলোচনা হঠাৎ কানে এলো।’

     

     

    —‘কি আলোচনা?’

    —ভুলাভাই কান্তিভাইয়ের চীফ এঞ্জিনিয়ারের ব্যাপারটা শুনেছেন? একজন বললেন, আর একজন বললেন— না তো! কি ব্যাপার? সুমন্ত সেনগুপ্ত ছিল না? —হ্যাঁ, সুইসাইড করেছে, একেবারে মাথা টিপ করে গুলি।

    —হাউ স্যাড। দারুণ ব্রাইট চ্যাপ। বিয়েও তো করেছিল! বি.ই-তে আমার দু বছরের জুনিয়র ছিল, প্রচণ্ড র‍্যাগ করেছিলুম। সব অত্যাচার সইল। খালি গেঞ্জি খুলে ফেলতে বলতেই টপ টপ করে জল পড়তে লাগল চোখ দিয়ে। বিদেশ গেল একেবারে হঠাৎ। ফিল্মস্টারের মতো বউ নাকি? —তা তো বলতে পারবো না। তবে ওই কোর্টেই গোলমাল।

    —কি রকম? —স্ত্রীর সম্ভবত বিবাহ-পূর্ব কোনও ব্যাপার ছিল, দেশে ফিরে সেটাই কনটিনিউ করছিল···এরপর দুজনেরই গলার স্বর খুব খাদে নেমে গেল···’

    অরণ্য বলল—‘পারমিতার ব্যবহারে এসব কোনদিন মনে হয়নি তো!

    ব্রততী বলল—‘এসব কি ব্যবহারে মনে হওয়ার জিনিস! একটু আড়ো-আড়ো ছাড়ো-ছাড়ো ভাব কিন্তু আমি সেন্স করেছি।’

    —‘অমনি তুমি সেন্স করে ফেললে? একটা বাজে গুজবের ওপর ভিত্তি করে। মাথার খুলি টিপ করে গুলি? হুঁঃ। মানুষ দেখো কেচ্ছার গন্ধ পেলে আর কিছু পায় না।’

    —‘অত বাপের বাড়ি থাকত কেন?’

    —‘অত আর কই? শনি-রবি তো? তার একটা কারণও তো ছিল। তোমরা মেয়েরা কোথায় মেয়েদের ডিফেন্ড করবে, তা···না···।’

    ব্রততী বলল—‘বেশ তো, পারমিতাকে তুমি কখনও গান গাইতে শুনেছো?

    —‘কি করে শুনবো? আমাদের এখানে তো এসে দশ মিনিটও বসত না। হয় চাবি রাখতে, নয় দিতে, আর নয় তো কিছুর জন্য থ্যাঙ্কস দিতে।’

    —‘তা নয়। যারা গান-টান শেখে, তাদের অভ্যাসই হল যখন-তখন গুন গুন করা। এরকম গুন গুন বা রেওয়াজ মাঝে মাঝেই আমাদের কানে আসা উচিত ছিল কিনা বল। আমি কিন্তু কোনদিন শুনিনি।’

    অরণ্য হেসে বলল— ‘এটা একটা কথা বটে। গুড গুড। তোমার তো দেখছি ক্রমেই একটা টিকটিকি-সদৃশ সিক্সথ-সেন্স গ্রো করছে। হেডলি চেজ-টেজ পড়ছ নাকি আজকাল? তুমি কি বলতে চাইছ গান শেখার ব্যাপারটা হোক্স? কিন্তু এরকম ধাপ্পা প্রতিবেশীকে দেওয়া গেলেও স্বামীকে কি দিনের পর দিন দেওয়া যায়?’

    —‘যায় না-ই তো? তাই জন্যেই···’

    —‘দুম করে একটা জ্বলজ্যান্ত যুবক আত্মঘাতী হয়ে গেল। ননসেন্স।’

    ব্রততী বলল—‘সবার মেজাজ তো আর এক রকম হয় না!’

    অরণ্য উঠে পড়ে বলল—‘তুমি যা-ই বলো, মেয়েটাকে আমার কোনদিনই এমন ক্যাড মনে হয়নি। বরং মনে হত খুব প্র্যাক্টিকাল, জীবন সম্পর্কে একটা ডেফিনিট কনসেপশন নিয়ে কাজ করে। তুমি কি জানো, ও অ্যাকাডেমিতে একটা কিসের এগজিবিশন করেছিল!’

    —‘কই শুনিনি তো! বলোনি তো আমাকে?’

    —‘আমার মনে ছিল না। সেনগুপ্ত কার্ড দিয়ে গেল অফিসে, যাবার জন্য রিকোয়েস্ট করে। কিন্তু সেইদিনই তোমার পিসতুত বোনের বিয়ে ছিল। যাওয়াও হয়নি। তোমায় বলাও হয়নি। তারপর তো বেমালুম ভুলে গেছি। অনেক গুণ মেয়েটির। ব্যস্ত থাকত খুব।’

    দুজনে অনেকক্ষণ চুপচাপ বসে রইল। শেষে অরণ্য বলল— ‘ভালো কথা। দ্বারিকা মৈত্রকে দেখেছিলে?’

    —‘কে দ্বারিকা মৈত্র?’

    —‘এখানকার ও.সি. গো? যে ভদ্রলোক সেদিন এসেছিল। আজ তুলসী বনের বাঘের মতো ধুতি-পাঞ্জাবি পরে ঘাপটি মেরে বসেছিল।’

    ব্রততীর চোখ দুটো সতর্ক হয়ে উঠল। বলল—‘কেন’?

    অরণ্য বলল—‘পরমার্থদার খেয়াল! আলাপ-সালাপ হয়েছে, হাতে রাখতে চাইছেন হয়ত!’

    ব্রততী বলল—‘আমি শুতে চললুম। তুমি কি আরও বসবে?’

    —‘বসি আরেকটু!’

    ব্রততী চলে গেলে, একটা সিগারেট ধরিয়ে অরণ্য দরজা খুলে বাইরে এসে দাঁড়াল। মৃদু একটা ঠাণ্ডা হাওয়া দিচ্ছে। দূরে কোথাও জীপের গর্জন শোনা গেল। মোপেডের বিকট আওয়াজ। তারপর সব চুপচাপ। চাঁদটা বাড়ির পেছনে চলে গেছে এখন, অস্ত যাচ্ছে। এদিকটা একেবারেই অন্ধকার, রাস্তার আলোগুলো ছাড়া। ওদের বাড়ির কাছাকাছি একটা আলো আবার জ্বলছে না। হঠাৎ অরণ্যর মনে হল পাশ দিয়ে হাল্কা পায়ে কে চলে গেল, মৃদু একটা গন্ধ আফটার-শেভ লোশনের— ভাসছে হাওয়ায়। সাদা রুমাল একটা আটকে আছে কি বাঁ দিকের ঝোপে! ফিসফিস করে কে যেন বলল

    —‘হ্যাল্লো মুখার্জি? এখনও জেগে? ‘ঘুমোতে যান। গুড নাইট।

    গুড নাইট। গুড না···ই···ট।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু
    Next Article ছোটোগল্প – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    যখন চাঁদ এবং – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }