Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প211 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কুয়াশা কঠিন বাসর

    দিনটা বুধবার। দুপুর গড়িয়েছে। ক্যান্টিন থেকে লাঞ্চ সেরে সবে নিজের অফিসে ফিরেছে অরণ্য। বেয়ারা এক কাপ কফি আর একটা টেলিফোন মেসেজ রেখে গেল। বসে বসে কাজ। কফি না হলে এই সময়টায় কেমন একটা ঢুল আসে। কফিতে চুমুক দিতে দিতে বাঁ হাতে আলতো করে টেলিফোন মেসেজটা তুলে নিল অরণ্য। কে এক মিস বিশ্বাস হেড অফিসে এসেছিলেন তার সঙ্গে দেখা করতে। ফোন করে জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার অর্থাৎ পরের দিন সাড়ে এগারটা নাগাদ আবার আসবেন।

    দু চারবার উল্টেপাল্টে দেখল অরণ্য কাগজটা। কোনও কাস্টমারের লোক কিনা বোঝা যাচ্ছে না। মেসেজে সেরকম কিছু লেখা নেই। সুদ্ধু মিস বিশ্বাস। মহিলা ব্যবসায়ী নাকি? কিছুদিন আগে এই রকম একজন উদ্যোক্তা মহিলা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ট্রেডিং করেন, ম্যানুফ্যাকচারিং-এ নামতে চান, নানান পরামর্শ চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর নাম তো যদ্দুর মনে পড়ছে বিশ্বাস নয়। বিরক্ত বোধ করল অরণ্য। দ্বিতীয় কোনও মত প্রকাশের সুযোগ রাখেনি। একেবারে স্থান-কাল ঠিক করে ফোন করছে। যেন গরজটা অরণ্যরই। অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করল অরণ্য।

    —‘ভদ্রমহিলা কোনও নম্বর-টম্বর দিয়েছেন?’

    —‘না তো সার। তবে খুব আর্জেন্ট মনে হল। বললেন বিষ্যুৎবার তো উনি হেড অফিসে আসেনই, নিশ্চয়ই অসুবিধে হবে না।’

    মাসে একটা বৃহস্পতিবার অরণ্যকে হেড অফিসে যেতে হয়। সেটা জেনেই তা হলে ফোন করেছেন ভদ্রমহিলা। শুধু এটা জানেন না যে, এ মাসে তার হেড অফিসে হাজিরা দেওয়ার কাজটা সারা হয়ে গেছে।

    গিয়েই দেখা যাক। হাতে যে সময়টা থাকবে তাতে সোমদের খবর নেওয়া চলবে। ব্রততীকে তুলে নিয়ে পদ্মপুকুর হয়ে ফেরা যেতে পারে। ইদানীং ব্রততীর চেহারা আর শরীর অত্যন্ত খারাপ হয়ে গেছে। কম্পানির গাড়ি বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছতে রোজ বর্ধমানে আসা-যাওয়া করে। সেই গাড়িতেই ও বর্ধমান পর্যন্ত যায়, তারপর ট্রেন ধরে। ফেরবার সময়েও মোটামুটি তাই। খুবই পরিশ্রম হয়। সম্প্রতি যেন মনে হচ্ছে পরিশ্রমটা ওর সইছে না। একটা দিনও যদি সোজা কলকাতা থেকে লিফট্‌ পায়···।

    সন্ধেবেলা বাড়ি ফিরে আগেই কথাটা ওকে বলল অরণ্য।

     

    আরও দেখুন
    একটা
    কমিউনিকেশন
    যোগাযোগ
    একয়া
    যাবে
    নতুন বই
    গ্রন্থাগার
    রেসিপি বই
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড

     

    ব্রততী বলল—‘বেশি দেরি করবে না কিন্তু। ওই রাস্তায় হাঁ করে দাঁড়িয়ে থাকা আমার পোষাবে না।’

    ড্রাইভার নিল না অরণ্য। সত্যি সত্যি যদি সোমদের দেখে আসতে হয়, তো দেরি হবে। কম্পানির ড্রাইভারকে অতক্ষণ ধরে রাখা ঠিক হবে না। সোমদের কাছে যাবার কথাটা অবশ্য ব্রততীকে বলা হয়নি।

    মাসে দ্বিতীয়বার হেড-অফিসে যাচ্ছে শুনে ম্যানেজার রায় খুব খুশি। বেশ কয়েকটা কাজ গছিয়ে দিলেন। এটা ভদ্রলোকের একটা দুর্বলতা। কেউ হিসেবের অতিরিক্ত কাজ করছে জানলে আপাদমস্তক খুশি হয়ে যান। মার্কেটিং ম্যানেজার চৌধুরি এই দুর্বলতার সুযোগ প্রায়ই নেয়। ব্রততীর কাছে এসে হাসতে হাসতে বলে— ‘সাইকো এসেছে। বিভীষিকার ছবি আবার আমি একদম মিস করতে চাই না জানোই তো। বললাম সাহেবকে—কলকাতা যাচ্ছি পার্টির সঙ্গে দেখা করতে। ব্যস, সাহেব অমনি গাড়ি-ফাড়ি দিয়ে একেক্কার।’

    ফ্যাক্টরি গেট দিয়ে বাঁ দিকে বেঁকে একটা মেঠো রাস্তা আছে। শর্ট-কাট হয়। কিন্তু সেদিকে গেল না অরণ্য। কাঁচা রাস্তা, কোন কারণে যদি গাড়ি বিগড়োয়, কি গাড্ডায় পড়ে আর দেখতে হবে না। সোজাসুজি জি· টি· রোডে গিয়ে পড়ল। এদিকে ভিড় এখনও কম। শ্রীরামপুরের কাছাকাছি এসে বড্ড সরু হয়ে গেছে রাস্তাটা। বাস এবং ট্রাক চলাচলও খুব। বর্ধমান থেকে কলকাতা পৌঁছতে লাগে দু ঘণ্টার মতো। অরণ্য ডালহৌসী পৌঁছে গেল দু ঘণ্টায়। গাড়ি পার্ক করে ঢুকতে যাবে, আড়াল থেকে কে যেন বেরিয়ে এলো।

     

    আরও দেখুন
    একয়া
    কমিউনিকেশন
    একটা
    যোগাযোগ
    যাবে
    বুক শেল্ফ
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    অনলাইন বুকস্টোর

     

    অরণ্য দেখল সবুজ ঝিলিক। কেমন একটা চেনা-চেনা সুগন্ধ ভাসছে হাওয়ায়। আরে, পারমিতা সেনগুপ্ত না!

    —‘কি ব্যাপার? আপনি এখানে?’

    —‘আপনার সঙ্গে একটু দরকার আছে। জরুরি।’

    —‘চলুন। ভেতরে চলুন।’

    —‘ওখানে না।’

    —‘ঠিক আছে। একটু বসবেন। একজনের আসবার কথা আছে, কাজটা সেরে নিই।’

    —‘আমিই কাল আপনার সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করেছি’, মুখ নামিয়ে বলল পারমিতা, গোলাপি নখগুলো চোখের সামনে এনে দেখতে মনোযোগী হয়ে পড়ল হঠাৎ।

     

    আরও দেখুন
    একয়া
    যোগাযোগ
    যাবে
    একটা
    কমিউনিকেশন
    বাইশে শ্রাবণ
    পিডিএফ
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন

     

    অরণ্য আশ্চর্য হয়ে বলল—‘মিস বিশ্বাস?’

    —‘হ্যাঁ। আমার বাবার পদবী। এমনিতে আমি বিশ্বাস সেনগুপ্ত লেখা পছন্দ করি। খুব সামান্য একটু মিথ্যের আশ্রয় নিয়েছি। অপরাধ নেবেন না। জরুরি দরকার এবং প্রাইভেসির প্রয়োজন না হলে নিতাম না। কোনও একটা নিরালা রেস্তোরাঁয় চলুন, প্লীজ।’

    —‘কোথায় যাবেন, বলুন!’

    —‘পিপিং-এ চলুন না হয়, লাঞ্চের আগে খুব নিরিবিলি থাকে।’

    গাড়ির দরজা খুলে ধরল অরণ্য।

    —‘আমি পেছনে বসছি।’ পারমিতা বলল।

    উত্তরোত্তর আশ্চর্য হচ্ছিল অরণ্য। মাসখানেক আগে বাবার সঙ্গে ও অফিসে গিয়েছিল। সুমন্তর পাওনাগণ্ডা যা ছিল চুকিয়ে নিয়ে গেল। ম্যানেজার বলছিলেন ভদ্রলোকের ধরনধারন একেবারে মিলিটারি। পারমিতার সানগ্লাস পরা চোখ। কোনদিকে তাকিয়ে আছে বোঝবার জো ছিল না। তারও দিন কুড়ি আগে অরণ্য অনেক সাধ্য সাধনা করে ব্রততীকে এবং জয়ন্তী রায়কে নিয়ে ওদের পার্ক সার্কাসের বাড়ি যায়। পারমিতা বাড়ি ছিল না। ওর বাবাও না। বয়স্ক চাকরশ্রেণীর লোক ছিল একটি। প্রায় এক ঘণ্টা পনের মিনিট মতো বসে থেকে ওরা চলে এসেছিল। ফিরতি পথে রাগে ফেটে পড়েছিলেন জয়ন্তী রায় —‘কি দরকার ছিল আসবার? মুখার্জি, আপনার ভদ্রতার এই সব ভালোমানুষি ধরনধারন সবার জন্য নয়। বুঝলেন?’ ব্রততী শান্ত করবার চেষ্টা করেছিল ওঁকে— ‘আঃ জয়ন্তীদি, ওরা কি করে জানবে আমরা আজ আসবো? ইচ্ছে করে তো আর···’ জয়ন্তী রায় ফুঁসছিলেন— ‘ওর স্বামীর মৃত্যুর জন্য কি আমরা দায়ী নাকি? একটা কাপুরুষ। নিশ্চয় চরিত্রহীন। কাপুরুষ না হলে কেউ আত্মহত্যা করে না। চোরা লম্পট। ডুবে ডুবে জল খায়। আমি ঠিক লোক চিনতে পারি, ব্রততী। সবাই তোর মতো ভালোমানুষ নয়। আই ওন্ট টেক ইট লাইং ডাউন।’

     

    আরও দেখুন
    যাবে
    কমিউনিকেশন
    একটা
    যোগাযোগ
    একয়া
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    নতুন বই
    লাইব্রেরি
    গ্রন্থাগার
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই

     

    অরণ্য বলেছিল—‘কি হচ্ছে বউদি? আফটার অল মানুষটা মারা গেছেন। তাঁর সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। আর এঁদের দোষ কি বলুন! আমরা কি জানান দিয়ে এসেছি?’

    কিন্তু পিতাপুত্রী যেদিন অফিসে এলেন ওদের যাওয়ার প্রসঙ্গ একবারও তুললেন না। কাজের লোকটি যদি বলতে ভুলে গিয়ে থাকে তা হলে ভালো, নইলে জয়ন্তী রায়ের কথা মেনে নিয়ে বলতেই হয়, ওঁরা অস্বাভাবিক রকমের আত্মম্ভরি।

    সেই পারমিতা সেনগুপ্ত এতো রকম ছলছুতো করে আজ ডেকে এনেছে অরণ্যকে। মিস বিশ্বাস? এটা একটা নাটক বটে!

    পিপিং-এ ঢুকে অরণ্য বাঁ দিকের কোণের টেবিলগুলোর দিকে পা বাড়াচ্ছিল। পারমিতা কাউন্টারে বসা চীনে ভদ্রলোকটির দিকে সতর্ক চোখে চেয়ে বলল—‘মিঃ মুখার্জি, যদি মাইন্ড করেন তো কেবিনে যাওয়া যাক। আমার কথাগুলো খুব গোপনীয়।’

    চেয়ার টেনে বসতে বসতে অরণ্য বলল—‘সোজাসুজি আপনাদের বাড়ি যেতে বললেই তো হত। এতো কষ্ট করবার কোনও দরকার ছিল না।’

     

    আরও দেখুন
    যোগাযোগ
    যাবে
    কমিউনিকেশন
    একয়া
    একটা
    বাংলা বই
    অনলাইনে বই
    স্বাস্থ্য টিপস
    কৌতুক সংগ্রহ
    বই ডাউনলোড

     

    পারমিতার চোখে সেই মস্ত গোল কালো সানগ্লাস। সেটাকে ও টেবিলে নামিয়ে রাখল। পারমিতার চোখের চারপাশ ঘিরে গাঢ় কালি। চোখ দুটো ঈষৎ বসে গেছে। লাল। ও চোখ নামিয়ে বলল— ‘বাবা প্রচণ্ড শক্‌ খেয়েছেন। আপনাদের “কান্তিভাই ভুলাভাইয়ের” ওপর একেবারে ক্ষিপ্ত। ওঁর সামনে কোনও কথা বলা যাবে না।’

    অরণ্য বলল—‘ওঁর কি ধারণা, কর্মস্থলের সঙ্গে ব্যাপারটার কোনও যোগাযোগ আছে? ক্ষিপ্ত কেন?

    ‘তা বলতে পারব না’— পারমিতা বলল—‘তবে আমাদের বাড়িতে ওখানকার কারুর সঙ্গে নিভৃতে কথা বলবার সুযোগ নেই। বয়স হয়েছে বাবার। আনরীজনেবল হতেই পারেন! আমি বাবার একমাত্র সন্তান। মাতৃহীন। বাবা তো এ বিয়ে কিছুতেই দিতে চাননি! আমার জেদে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়েছিল।’

    বেয়ারা ফ্রায়েড প্রন-এর দুটো প্লেট নিয়ে ঢুকল। পারমিতা বলল—‘প্লীজ নিন। না হলে বসব কি করে? বসতে হবে অনেকক্ষণ। জানেন বাইশে রাত থেকে আর ঘুমোতে পারছি না। হাই ডোজে ওষুধ খেলে কাজ হয়। কিন্তু তাতে সারাদিন বিশ্রী একটা হ্যাঙ্‌-ওভার চলতে থাকে। তাই যথাসম্ভব না খেয়েই থাকতে চেষ্টা করি। নিজের মনের সঙ্গে যুদ্ধ করে যাচ্ছি। সুমন্তর সঙ্গে আমার সম্পর্ক নিয়ে নানা মহলে গবেষণা চলছে— ভিন্ন ভিন্ন সোর্স থেকে কথাগুলো আমার কানে আসছে।’

     

    আরও দেখুন
    একটা
    যোগাযোগ
    একয়া
    যাবে
    কমিউনিকেশন
    লাইব্রেরি
    Books
    নতুন বই
    PDF বই
    বুক শেল্ফ

     

    অরণ্য বলল—‘মিসেস সেনগুপ্ত। এসব ক্ষেত্রে এ রকম একটু-আধটু আলগা কথা হবেই। আপনি বুদ্ধিমতী মেয়ে, আপনি কেন সেগুলো নিয়ে মাথা ঘামাবেন?’

    পারমিতা অন্য দিকে তাকিয়ে বলল—‘বাড়িতে শুধু আমি আর বাবা। মা মারা গেছেন পাঁচ-ছ বছর। আই ওয়জ দেন জাস্ট আ স্লিপ অফ আ গার্ল। পরের বারে ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা দেবো। একটা গাড়িতে শুয়ে শুয়ে ও এলো। ড্রাইভার শম্ভুদা আর বাড়ির কম্বাইন্ড হ্যান্ড শ্রীপতিকাকু মিলে ওকে ধরে ধরে দোতলায় তুলল। তখন অনেক রাত। আওয়াজে আমার ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। উঠে এসেছিলাম তাই। বাবা বলেছিলেন—‘মিতু এ আমাদের দেশের ছেলে, খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে হস্টেলে, কিছুদিন বিশ্রাম নিতে হবে ওকে, তুমি একটু দেখাশোনা করো। কদিন পরই ও বিদেশ চলে যাবে। সবাই ছিল, তবু আমি সে সময়ে ওর সেবা করেছি। তিন বছর পর ইংলন্ড থেকে যখন এলো, মিঃ মুখার্জি, আমিই ওকে পাগলের মতো প্রোপোজ করি। এই তিন বছর আমি অন্য কিছু ভাবিনি।···’

    পারমিতার কথা আটকে গেল; একটু পরে সামলে নিয়ে ধরা ধরা গলায় বলল—‘বাবা কিছুতেই বিয়েটা দিতে চাননি। বয়সের ডিফারেন্স অনেক। এখন শুনতে পাই ওর দিদি প্রচুর দাবি-দাওয়া করেছিলেন, বাবাকে সে সব মেটাতে হয়···’

     

    আরও দেখুন
    একয়া
    একটা
    কমিউনিকেশন
    যাবে
    যোগাযোগ
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বইয়ের
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বুক শেল্ফ
    বই

     

    অরণ্যর অস্বস্তি হচ্ছিল, বলল—‘আমার কাছে মন খুলে আপনি যদি হালকা হতে চান, আলাদা কথা। কিন্তু এসব কথা আমাকে বলে কি লাভ? আমি তো আপনাদের সম্পর্কে কোনও গুজবকে প্রশ্রয় দিইনি, বিশ্বাস করা তো দূরের কথা।’

    পারমিতা হঠাৎ ঝুঁকে পড়ল, ওর লম্বা হারের লকেটে সুমন্তর ছবি, লুটোপুটি খাচ্ছে রুইতনের মতো লকেটটা টেবিলের ওপর। দম বন্ধ, কান্না আটকানো গলায় ও বলল— ‘আমি বারো বছর ওর সঙ্গে এক দেশ থেকে আরেক দেশ ঘুরে ঘুরে সংসার করেছি মিঃ মুখার্জি, এখন মনে হচ্ছে সমস্তটা খেলা, তামাশা। বিশ্বাস করুন, আমার কাছেই ব্যাপারটা সবচেয়ে রহস্যময়। আর কিছু না, আপনি যদি একটা যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখাতে পারেন এ ব্যবহারের তা হলেও সান্ত্বনা পাবো। কি পায়নি বলুন তো ও জীবনে? রূপকথার রাজপুত্রের মতো জীবন— বুদ্ধি, মেধা, রূপ···সারা পৃথিবী ঘুরে ঘুরে চাকরি। যেখানে যায় সাকসেস্ আর হিরো ওয়রশিপ। আচ্ছা বলুন, আমিই কি স্ত্রী হিসেবে ওর খুব অযোগ্য ছিলাম!’

    —‘এভাবে চিন্তা করছেন কেন?’

    —‘স্ত্রীকে বিন্দুমাত্র ভালোবাসলে কেউ এ রকম করে? যখন ছুটি-টুটিতে এখানে এসেছি, থেকেছি ওদের গ্রামে আমাদের সঙ্গে কালচ্যারাল অ্যাফিনিটি কোথাও নেই তবু ওই দিদির সঙ্গে সমান তালে কোমর বেঁধে গ্রামের পার্বণের খাটুনি খেটেছি। ও নিজে তো দেশে কখনও আসত না। আসতুম আমি আর ববি, আমার ছেলে। এতো কথা আপনাকে বলছি শুধু আপনাকে বোঝাতে যে আমার জন্য ওকে কখনও কোনও সমস্যায় পড়তে হয়নি, উত্তেজনায় থমথমে গলা পারমিতা বলল—‘আমি তো বলব সম্পূর্ণ বিবেকহীন ক্রিমিন্যাল ও। সমাজ-ব্যবস্থার চূড়ান্ত সুখ-সুবিধেগুলো সমস্ত ভোগ করেছে।

     

    আরও দেখুন
    যাবে
    যোগাযোগ
    কমিউনিকেশন
    একয়া
    একটা
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বুক শেল্ফ
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা কৌতুক বই

     

    এমনিতে রেডিমেড কেরিয়ার। বিদেশে পাঠানো, সংসার পেতে দেওয়ার দায়িত্ব শ্বশুরের। সামাজিক মর্যাদারক্ষার দায় স্ত্রীর। ওই বিধবা দিদি, যিনি ওকে মানুষ করেছেন, তাঁর প্রতিও বিশেষ কোনও কর্তব্য পালন করতে ওকে হয়নি। লাখে কটা মেলে বলুন তো এইরকম লাইফ! তবু এরা চুপি চুপি অন্যের সুখ-শান্তির পুরো স্ট্রাকচারটার তলা থেকে মাটি সরিয়ে নেয়। আমি জেদ করে সুখী হবার চেষ্টা করতে পারি কিন্তু এই স্মৃতি কি আমায় কোনদিন সুস্থ হতে দেবে? আমি তো কারও কোনও ক্ষতি করিনি। আমার জীবনে কি এই দুঃস্বপ্নের একান্তই প্রয়োজন ছিল?’ টপটপ করে চোখ বেয়ে জল পড়তে লাগল, পারমিতা একবারও মোছবার চেষ্টা করল না।

    অরণ্য খুব কোমল গলায় বলল—‘আপনি এভাবে ভাববেন না। জানেন তো ডাক্তাররা বলে সুইসাইড এর পেছনে টেমপোর‍্যারি ইনস্যানিটি থাকে।’

    হঠাৎ পারমিতা মুখ ফেরাল, ওর গালে একটা নীল শিরা দপ্‌দপ্‌ করছে। চোখের কোণ দিয়ে কেমন করে যেন অরণ্যর দিকে তাকাল, বলল—‘আপনি কি সত্যিই কিছু জানেন না, মিঃ মুখার্জি?’

     

    আরও দেখুন
    একয়া
    কমিউনিকেশন
    যাবে
    একটা
    যোগাযোগ
    বইয়ের
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বইয়ের তালিকা
    স্বাস্থ্য টিপস

     

    —‘আমি?’

    —‘হ্যাঁ, আপনি! আপনার স্ত্রীকে যে ও দারুণ অ্যাডমায়ার করত। কতটা করত, আগে এভাবে বুঝিনি।’

    —‘ব্রততীকে? সেনগুপ্ত? কি বলছেন?’

    অরণ্যর চোখে চোখ রেখে পারমিতা বলল—‘ও বলত মিসেস মুখার্জি রিমাইন্ড্‌স্ মি অফ ইটারনিটি। কথাটা ওকে একাধিকবার বলতে শুনেছি। খুব চাপা স্বভাবের বলে বোঝা যেত না, কিন্তু সুমন্ত বোধহয় খুব ইমোশন্যাল ছিল, দার্শনিক এবং প্রচ্ছন্ন কবি, আপনার কিন্তু ব্রততী মুখার্জির স্বামী হিসেবে ব্যাপারটা বোঝার কথা।’

    অরণ্য স্তম্ভিত হয়ে পারমিতার শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ও তখনও বলছে—‘মিসেস মুখার্জি কিছু রেঁধে পাঠালে মুখে দেবার অনেক আগেই ও বুঝতে পারত জিনিসটা কোথা থেকে এসেছে। খেতে খেতে চোখ মুখ জ্বলজ্বল করত যেন প্রসাদ-ট্রসাদ খাচ্ছে। এতো গভীর কমিউনিকেশন, আর আপনিই তার খোঁজ রাখেন না? আমি অত্যন্ত আনরোম্যান্টিক। কিন্তু এখন সব কিছু বারবার চিন্তা করে আমার এই ধারণা ক্রমে বদ্ধমূল হচ্ছে সুমন্ত দ্যাট পুওর ফেলো, ফেল হোপলেসলি ইন লাভ উইথ ইয়োর ওয়াইফ। ইন ডেড আর্নেস্ট। অ্যান্ড শী ফেড ইট। পারপাসলি।’

     

    আরও দেখুন
    কমিউনিকেশন
    যাবে
    একয়া
    যোগাযোগ
    একটা
    ই-বই পড়ুন
    অনলাইনে বই
    PDF বই
    বাংলা অডিওবুক
    বই ডাউনলোড

     

    অরণ্য অনেক কষ্টে আত্মসংবরণ করে উঠে দাঁড়াল, বলল—‘আপনার মাথা একেবারে খারাপ হয়ে গেছে।’

    পারমিতা সেই একই রকম চোখে চেয়ে বলল—‘উনি তাহলে ওকে বাইরে মীট করতেন না?’

    —‘কি বলতে চান, আপনি?’

    —‘দিনটা সুদ্ধু আমার মনে আছে। সতেরই আগস্ট। সুমন্তর ডবলিউ এম এফ থ্রি জিরো নাইন থ্রি আপনার স্ত্রীর স্কুলের কাছাকাছি পার্ক করা ছিল, জানেন? আমি গানের স্কুল ফেরৎ লোয়ার সার্কুলার রোডে মার্কেটিং করতে গিয়ে দেখতে পাই। ছুটে গিয়ে কি ব্যাপার জিজ্ঞেস করতে টকটকে লাল মুখে বলল—অফিসের কাজে এসেছে। অফিসের কাজে এসে কেউ গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে চুপচাপ বসে থাকে?’

    অরণ্য গম্ভীর গলায় বলল—‘আপনার স্বামী কেন ওই সময়ে ওই জায়গায় গিয়েছিলেন, আমি জানি না। জানতে চাইও না। ব্রততী এসব ব্যাপারের বিন্দুবিসর্গ জানে না বলে আমার বিশ্বাস। আজেবাজে সন্দেহের বশে নিজেকে শুধু শুধু কষ্ট দেবেন না। যান। বাড়ি যান।’

     

    আরও দেখুন
    একয়া
    একটা
    যোগাযোগ
    যাবে
    কমিউনিকেশন
    গ্রন্থাগার
    বই ডাউনলোড
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বই পড়ুন
    বইয়ের তালিকা

     

    সুইং ডোর ঠেলে বাইরে এলো অরণ্য। চীনে খাবারের চাপ চাপ গন্ধ ঠেলে পার্ক স্ট্রীটের উন্মুক্ত হাওয়ায়। উঃ। মাথাটা গরম হয়ে গেছে। দেখতে শুনতে আধুনিকা। গান-বাজনা আর্ট এগজিবিশন করে, এখনও স্বজাতি-বিদ্বেষ আর ঈর্ষার সনাতন কালে পড়ে আছে?

    ঘড়িতে মোটে দেড়টা। এখনও হাতে অনেক সময়। পরমার্থদার দেওয়া কাজ সারতে ডালহৌসি ফিরতে হবে। মাথার মধ্যে বিছে কামড়াচ্ছে। ডালহৌসি হয়ে, আবার ঘুরে বেন্টিংক স্ট্রীট, ধর্মতলা, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, ক্যামাক, ল্যান্সডাউন হয়ে দেশপ্রিয় পার্ক। অনেকক্ষণ গাড়ি পার্ক করে বসে বসে জনতা দেখা। আবার ঘুরে রাসবিহারী, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড ধরে সোজা চলে এসে লোয়ার সার্কুলার রোড।

    ব্রততী আসছে। আকাশনীল শাড়ি। সাদা সাদা ঘন বুটি। কালো ব্লাউজ। কপালে কুচো চুল। মাথা ঝাঁকিয়ে বিনুনিটা সামনে থেকে পেছনে পাঠিয়ে দিল। ঘড়ি দেখছে। মৃদু হাসি। স্বচ্ছ, নির্মল। রোগা হয়ে গেছে ইদানীং। কেমন ক্লান্ত দেখায়। পেছনে আরও তিনটি মহিলা। এগিয়ে এসে ব্রততী বলল— ‘মঞ্জু, শিবানীদি আর উত্তরা, ওদের এসপ্লানেডে নামিয়ে দিতে হবে।’

    মুখে জোর করে হাসি টেনে এনে নমস্কার সারল অরণ্য। গাড়ির দরজা খুলে ধরল। তিন মহিলা পেছনের সীটে বসে শালিখ পাখির মতো কিচিরমিচির করছেন। ব্রততী সামনের সীট থেকে ঘাড় ঘুরিয়ে মাঝে মাঝে যোগ দিচ্ছে। প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে ব্রেক কষল অরণ্য। আরেকটু হলেই মিনিবাসটার সঙ্গে ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ হত। মুখ নিচে নামিয়ে বোধহয় চিৎকার করে গালাগাল দিচ্ছে ড্রাইভারটা। ভয়ার্ত গলায় পেছন থেকে মন্তব্য হল—‘আপনি কি সবসময়েই এরকম ড্রাইভ করেন মিঃ মুখার্জি? না আজ আমাদের ভাগ্যে বা দুর্ভাগ্যে করলেন!’

    অরণ্যর জিভ শুকিয়ে গেছে। বলল—‘যা বলেন।’

    পেছন থেকে আবার মন্তব্য হল—‘এতো কথা বলিস কেন? কনসেনট্রেশন নষ্ট হয়ে যায়।’

    এসপ্লানেডে তিনজন নেমে গেলে ব্রততী বলল—‘কিছু হয়েছে?’

    —‘কি হবে?’

    —‘না, কেমন অন্যমনস্ক দেখাচ্ছে?’

    হঠাৎ আলটপকা মেজাজ খারাপ হয়ে গেল, সংযম নষ্ট হয়ে গেছে, ভুরু কুঁচকে সামনের রাস্তার দিকে তাকিয়ে অরণ্য বলল—‘তুমি যখন-তখন অন্যমনস্ক উদাস হয়ে যেতে পারো, অ্যাক্‌টিং মিস্টিরিয়াস। আমার বেলাই যত দোষ।’

    ব্রততী অবাক হয়ে বলল—‘ওমা, ছোট ছেলের মতো ঝগড়া করছ কেন? দোষ, আমি বলেছি? অন্যমনস্ক হওয়ার জন্য গাড়ি ঘোড়ার রাস্তা বাছলে অ্যাকসিডেন্ট হতে পারে না?’

    অরণ্য আড়চোখে চেয়ে দেখল খুব স্নিগ্ধ মুখ। রোগা হয়ে গেছে বলেই কি একটু করুণও। বলল—‘শীর্ষদের দেখতে যাবে?’

    ব্রততী খুব খুশি হয়ে বলল—‘সময় হবে? তবে চলো না। সোমকে বলব— ‘খিঁচুড়ি চাপাতে, আমাকে আর বাড়ি ফিরে রান্না-টান্না করতে হবে না।’

    —‘সুদ্ধু রান্নার ভয়ে ভাইয়েদের কাছে এসেছো, জানলে কি ওরা খুশি হবে?’

    —‘কারণ যাই হোক, ফলাফল যদি দিদি-অরণ্যদা, হয় খুশি হতে বাধ্য।’

    —‘তাহলে ভালো মিষ্টির দোকান টোকান দেখলে বলো, কিছুমিছু নিয়ে যাওয়া যাবে।

    ব্রততী হেসে ফেলল—‘কিছুমিছু কিনতে হলে তো সবজি-বাজারে যেতে হবে।’

    অরণ্য স্টিয়ারিং-এ চোখ রেখে একই ছন্দে বলল—‘সুমন্ত সেনগুপ্তর গাড়িতে তুমি কতো দিন চড়েছ?’

    দারুণ চমকে ব্রততী বলল—‘মানে? হঠাৎ?’

    —‘বলোই না।’

    ‘কোনদিন না,’ ব্রততী শক্ত মুখে, জেদী গলায় বলল—‘যদিও তোমার এ প্রশ্নের কোন অর্থই বুঝতে পারছি না।’

    —‘সত্যিই বুঝতে পারছো না? কেউ কেউ তোমাকে আর সুমন্ত সেনগুপ্ত গাড়িকে কাছাকাছি দেখেছে কিন্তু।’

    —‘কে?’

    —‘যে-ই হোক না কেন!’

    —‘বললুম তো না। আমি মিথ্যে বলতে পারি না।’

    —‘মিথ্যে বলতে হয়ত পারো না, কিন্তু সত্য গোপন করতে তো পারো?’

    ব্রততী পাশে আস্তে আস্তে আড়ষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অরণ্য বুঝতে পারল। ক্রোধে, বিস্ময়ে না ভয়ে কে জানে! তূণ থেকে একটার পর একটা বিষাক্ত তীর আপনা থেকে তার সম্মতি ছাড়াই কি করে নিক্ষিপ্ত হয়ে গেল সে জানে না। কিন্তু শরসন্ধান মনে হচ্ছে অব্যর্থ। পাশে নারী নির্ভুলভাবে বাণবিদ্ধ। সামনে শীতের মলিন বিকেল। যানজটের মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ মনখারাপের পথ। সোম কি শীর্ষর মুখ আর দেখা যাচ্ছে না সঙ্কল্পের আয়নায়। গাড়ির মুখ আস্তে আস্তে ঘুরে গেল। ব্রততী কোনও প্রশ্ন করল না। বিরাট একটা বাদুড়ের পাখার মতো শেষ নভেম্বরের অন্ধকার কবলিত করে ফেলছে হাইওয়ে। অন্যমনস্ক অ্যামবাসাডর ছুটে চলেছে। কিছু দেখছে না। কিছু শুনছে না। ভেতরে নিঃশব্দ আর্তনাদ। সম্পর্কের মধ্যে বিন্দু বিন্দু রক্তক্ষরণ হচ্ছে। অ্যামবাসাডরের যুগল আসন থেকে আর্ত রক্তবিন্দু পারার দানার মতো লাফিয়ে লাফিয়ে ছিটকে যাচ্ছে পথে। মাঠে, ডোবায়, জলায়, দোকানে। ধান ক্ষেত আর গাছ-গাছালির অভ্যন্তর থেকে ছুটে আসছে দলা দলা অন্ধকার।

    ঘ্যাঁচ করে গাড়ি থামল ফ্যাকটরি গেটের কাছে। প্রায় আটটা। দারোয়ান গেট খুলে অরণ্যর হাতে একটা মেসেজ দিল। মেসেজেরই দিন আজ। পরমার্থদা অফিসে দেখা করতে বলেছেন একবার। বাড়ির সামনে ব্রততী নেমে গেল নিঃশব্দে। গাড়ি গ্যারাজে তুলে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ম্যানেজারের অফিস। পরমার্থ রায়ের সামনে অরণ্যর দিকে পেছন ফিরে কেউ একজন বসে। অরণ্যর দৃষ্টি সোজা রায়ের দিকে। উদ্বিগ্ন মুখে রায় বললেন—‘মিঃ মৈত্র তোমার জন্য অনেকক্ষণ বসে আছেন, মুখার্জি। কি সব জিজ্ঞাস্য আছে ওঁর।’ রায় উঠে দাঁড়ালেন, যদিও কেউ বলেনি, তবুও বাইরে চলে গেলেন। অরণ্য এতক্ষণে দেখল। ইউনিফর্ম পরে দ্বারিকা মৈত্র। রিভলভিং চেয়ার ঘুরিয়ে অরণ্যর মুখোমুখি হলেন মৈত্র—‘বসুন মিঃ মুখার্জি।’ হাতের একটা নোটবইয়ের দিকে চোখ রেখে প্রশ্ন করলেন—‘বিবি কার নাম?’

    —‘জানি না।’

    —‘জানেন, কিন্তু বলবেন না।’

    বিরক্ত গলায় অরণ্য বলল—‘আর কিছু বলবেন?’

    —‘কাজটা ঠিক করছেন না মিঃ মুখার্জি। জানবার অন্য সোর্স আছে আমাদের।’

    —‘অন্য সোর্সের কাছে যাচ্ছেন না কেন? যা আমি জানি না তার জন্য আমাকে মিছিমিছি বিরক্ত করে কি লাভ?’

    —‘আপনার স্ত্রীর নাম তাহলে বিবি নয়?’

    নিস্পন্দ হয়ে গেল অরণ্য। একটু পরে বলল—‘আমার স্ত্রীকে আমি বরাবর ব্রততী বলেই জানি।’

    হাসলেন দ্বারিকা মৈত্র—‘আপনার উত্তরটা কি উকিলের শিখিয়ে দেওয়া?’

    তারপর গম্ভীর স্বরে বললেন—‘অন্য কিছু না। “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়” চিরকুটটার পেছনে বারবার লিখে বারবার কাটা হয়েছে একটা নাম আমাদের এক্সপার্ট উদ্ধার করেছেন নামটা বিবি। বিশ্বস্তসূত্রে জানলাম আপনার স্ত্রীর ডাকনাম বিবি।’

    —‘আমিও সেটা আজ, এখনই জানলাম।’

    —‘কতদিন বিয়ে করেছেন?’

    —‘বছর নয়েক।’

    —‘কোথায় পড়াশোনা আপনার?’

    —‘স্কুলজীবন কলকাতায়। তারপর কাশী।

    —‘ওখানকারই বাসিন্দা নাকি?’

    —‘হ্যাঁ। আর কিছু দরকার আছে?’

    —‘নাঃ। কিচ্ছু না। বিশ্বস্তসূত্রে আরও জানলাম, ক্যালকাটা এবং বেঙ্গল পুলিশের খাতায় বিবি নামে একটি সাঙ্ঘাতিক নকশাল মেয়ের নাম, ছবি, ফিঙ্গার প্রিন্ট অর্থাৎ পুরো একটা ডসিয়ারই রক্ষিত আছে। বিখ্যাত এক কলেজের সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্রী এই মেয়েটির কাছে তার সহযোদ্ধারা তাদের যাবতীয় আর্মস অ্যান্ড অ্যামিউনিশন জমা রাখত। লালবাজারে মেয়েটির নিকনেম ছিল অগ্নিকন্যা।’

    —কপালে অজস্র ভাঁজ পড়তে চাইছে। অরণ্য প্রাণপণে সেগুলোকে টেনে টেনে সমান করছে। হিমালয়ের তুষারগলা রাত। ভেসে আসছে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নির্বাক মহিলার কণ্ঠস্বর—‘বিবি, বিবি, বিবিরে।!’

    সমগ্র যাত্রাপথে ওই একবারই মুখ খুলেছিলেন ভদ্রমহিলা। কাকে ডাকছেন, কেন ডাকছেন তলিয়ে বোঝবার চেষ্টা করেনি কেউ। হাতজোড় করে নমস্কার করল দীঘল চেহারার মেয়েটি। লম্বা, কালো বিনুনি। সোজা ভুরু। চোখ দুটো কোমল, গভীর, গম্ভীর।

    —‘আমার নাম ব্রততী চক্রবর্তী। কলকাতা থেকে আসছি।’

    দ্বারিকা মৈত্র বললেন—‘আপনাকে কষ্ট দিলাম মিঃ মুখার্জি। কিন্তু আপনার শ্যালক সৌম্য আর শীর্ষ চক্রবর্তী যে দুর্ঘটনার রাতে উপস্থিত ছিল, আপনার বাড়িতে যে সুমন্ত সেনগুপ্তর ফ্ল্যাটের ডুপ্লিকেট চাবি থাকত, ইনভেস্টিগেশনের সময়ে যে আপনার শ্যালকদ্বয় চুপিচুপি পালিয়ে যায়, এসব কথা গোপন করে আপনি অযথা নিজেকে সন্দেহভাজন করে তুলেছেন।’

    অরণ্য নিঃশ্বাস ফেলে বলল—‘আপনার আর কিছু বলবার আছে? থাকলে আমাকে স্বভাবতই উকিলের মাধ্যমে কথা বলতে হবে।’

    —‘অতটা বোধহয় দরকার হবে না। তবে আরও কিছু বলবার ছিল। আপনার শ্যালকদ্বয়ের আঙুলের ছাপ সুমন্ত সেনগুপ্তর ফ্ল্যাটের নানান জায়গায় পাওয়া গেছে। এবং এরা দুজন সত্তর-বাহাত্তরের নোটোরিয়াস নকশাল। শীর্ষ চক্রবর্তী ওরফে বাচ্চু সি পি এম মিনিস্ট্রি না হলে ছাড়া পেতো না আজও। ডেনজারাস চ্যাপ। আপাতদৃষ্টিতে এখন কোনও অ্যাকটিভিটি নেই যদিও। আপনার কিছু জানা থাকলে যদি বলেন উপকৃত হবো।’

    —‘আমার কিছু বলার নেই। তবে আমার স্ত্রী এবং কাজের লোকটি ডেডবডি আবিষ্কার করে যখন ভয়ে চিৎকার করে ওঠে, আমি এবং সৌম্য চক্রবর্তী দুজনেই ছুটে ওপরে উঠে যাই। আমাদের দুজনেরই ফিঙ্গার প্রিন্ট ওই ফ্ল্যাটের নানান জায়গায় পাওয়া যেতেই পারে।’

    দ্বারিকা মৈত্র মৃদু হেসে বললেন—‘অবশ্যই। কিন্তু শীর্ষ চক্রবর্তী। দ্যাট ডেঞ্জারাস ফেলো? সে-ও কি আপনাদের সঙ্গে সঙ্গে ওপরে দৌড়েছিল?’

    ঘৃণায় জবাব দিল না অরণ্য। দ্বারিকা মৈত্র বললেন—‘তার আঙুলের ছাপও পাওয়া গেছে। মিসেস সেনগুপ্তর বাবা রিটায়ার্ড ডিএস পি আমাদের নিজেদের লোক। তিনি ইনভেস্টিগেশনের জন্য চাপ না দিলে আমরা হয়ত এতোটা করতাম না। রুটিন চেক করে সুইসাইড কেস বলে ছেড়ে দিতাম। যাক, ঘাবড়াবেন না মিঃ মুখার্জি, পুলিশ কাউকে শুধু শুধু ফ্রেম করবার জন্য তথ্য ম্যানুফ্যাকচার করে না। শুনলে আশ্চর্য হবেন সুমন্ত সেনগুপ্তও সত্তর বাহাত্তরের নামকরা নকশাল-লীডার ছিল। ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র-ছাত্রীদের একটা বিরাট গ্রুপ ওর কথায় উঠত বসত। আপনার স্ত্রীর সঙ্গে রিলেশন খুব ক্লোজ ছিল। আচ্ছা, আপনি এবার যেতে পারেন।’ সতর্ক চোখে একদৃষ্টে তাকিয়ে কথা শেষ করলেন দ্বারিকা মৈত্র।

    দুজনে দুপাশে। মাঝখানে রাত। নির্জন। নীল। ঘুম নেই। ঘুম আসে না। রাতের কোটরে ঢুকে পড়ছে আস্তে আস্তে। নিস্পন্দ, নির্বাক। শেষ রাতের অস্তগামী চাঁদ কপালে টর্চ ফেললে ব্রততী মৃদুস্বরে বলল—‘আমি তো তোমায় বলেইছিলুম আই অ্যাম এ উওম্যান উইথ এ পাস্ট। বলিনি?’

    অরণ্য বলল—‘সে অতীতের প্রকৃতিটা যদি একটু বুঝতে দিতে।’

    —‘আমার কথা বলা যে বড় কঠিন! সোমদের কথা তো সবই জানো। তাতেও বোঝনি?’

    —‘না।’

    ব্রততী বলল—‘অতীত যা-ই হোক আমার বর্তমানটা পুরোপুরিই তোমার হাতে, এ নিয়ে কোনও সংশয় রেখো না। জানি না, ভবিষ্যতটা হয়ত আমার একলার। অরণ্য বলল— ‘তুমি কি খুব ভয় পেয়ে গেছো?’ ব্রততী বলল— ‘আমার জীবন নিয়ে ভয় এমন ছিনিমিনি খেলা খেলেছে যে সজ্ঞানে আমি আর ভয় কাকে বলে জানি না।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু
    Next Article ছোটোগল্প – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    যখন চাঁদ এবং – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }