Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অন্তর্জলী যাত্রা – কমলকুমার মজুমদার

    কমলকুমার মজুমদার এক পাতা গল্প166 Mins Read0
    ⤶

    ৭. জলের আয়নার প্রতিবিম্ব

    এখনও জলের আয়নার প্রতিবিম্ব বৃদ্ধের অঙ্গে খেলিয়া উঠিতেছিল। যশোবতী খোলামকুচি দিয়া অন্য মনে নির্লিপ্ত ভাবে এতল-বেতল খেলিতেছিলেন। বৃদ্ধকে এই ক্রীড়া উৎসুক করিয়াছিল, তিনি নিবিষ্ট মনে তাহা লক্ষ্য করিতেছিলেন, তদবস্থায় কহিলেন, “মানুষ এমন ঘুরে ঘুরে আসে…” একটি শ্বাসের শব্দ শোনা গেল, শূন্যতা সৌখীন হইল। যশোবতী নিমেষের জন্য খেলা স্থগিত রাখিয়াছিলেন, পর মুহূর্তেই আরম্ভ করিলেন।

    বৃদ্ধ খেলা দেখিতে দেখিতে প্রস্তাব করিলেন, “এস এস আমরা বাঘবন্দী খেলি…”। খেলিবার কালে কতবার যশোবতাঁকে, “জুয়াচোর, এ খুঁটি কি করে এল” ইত্যাকার দোষারোপ করিয়াছিলেন। এমত সময় ঘোর হরিধ্বনি শোনা গেল। বৃদ্ধ কর্ণে হস্তপ্রদান করিলেন।

    “তুলা দি…”

    “না…”

    “ধর আমি যদি যাই, তুমি…” বলিয়া বৃদ্ধ একটি চাল দিলেন।

    যশোবতী একদৃষ্টে স্থির থাকিয়া স্মিতহাস্য করত মস্তক আন্দোলিত করিয়া আপনার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করিলেন, “জাল ছিঁড়ে যাবে, পুকুর ছেড়ে ত যাবে না।”

    “না, ওটা দিও না তোমার খুঁটি মার খাবে…ভয়…করবে না।”

    “তুমি আছ আমার ভয় কি…আমি যে তোমার মধ্যেই সরলভাবে যশোবতী একান্ত নির্ভরতা প্রকাশ করিলেন।

    তথাপি বৃদ্ধের মন মানিল না, খুঁটি ধরিয়া কহিলেন, “টক্কা না ফক্কা…”

    “টক্কা…”

    দেখা গেল বৃদ্ধের হাতে খুঁটি রহিয়াছে; বৃদ্ধ আনন্দে আটখানা, “তাহলে বাঁচবো গো…আবার মড়া পোড়ার গন্ধ আসছে, বাঁচবো? তুমি ধর।”

    যশোবতীর ক্ষেত্রে দেখা গেল সেখানেও একই ফল। উল্লাসে বৃদ্ধ বলিলেন, “আর ভাবনা নেই…আমি কিন্তু পাল্কীতে যাবো…তুমি আমার কাছে…বড্ড খিদে পাচ্ছে গো।”

    “চিঁড়ে ছাড়া…”

    “দ্যুৎ–দুধ”

    “কোথায় পাব গো…”

    “আমার বাড়ীতে কত গোরু…তুমি উঠে দেখ না, মাঠে কত…চণ্ডালকে ডাক না…”

    “আমি ডাকবো কি করে?” বলিয়াই যশোবতী আপন অন্তরে শিহরিত হইলেন।

    “তাতে কি…”

    ক্রমে বৃদ্ধ অবোধ হইয়া উঠিলেন। “একটু দুধ তা-ও” হুঁ হুঁ করিয়া কান্নার শব্দ আসিল। যশোবতীর তাঁহাকে বুঝানোর চেষ্টা বিফল। তবু বৃদ্ধ পুনঃ পুনঃ আবৃত্তি করিতে লাগিলেন, “দুধ না হলে জোর পাব কি করে? তুমি যোগাড় কর…”

    যদিও স্বামীর জন্য নববধূ কাতর হইয়াছিলেন, তথাপি কহিলেন, “আমি বউ মানুষ…তারা এখুনি আসবে, তখন নয়…লক্ষ্মীটি অমন ক’র না…”

    “আমি আমি…”

    যশোবতী অগত্যা উঠিলেন, ভেড়ীপথের উপর হইতে দেখিলেন অনতিদূরে বুনোদের বাড়ী, কিছু উত্তরে। তিনি ভেড়ীপথ ধরিয়া গিয়া দাঁড়াইলেন, এখান হইতে বুনোদের গৃহপ্রাঙ্গণ দেখা যায়। যশোবতী ভেড়ীপথেই–তাহাদের গৃহসম্মুখে দাঁড়াইয়া, একটি স্ত্রীলোককে তিনি ইঙ্গিত করিয়া ডাকিলেন, তাঁহার ক্ষুদ্র কলসটি দেখাইয়া কহিলেন, “একটু দুধ দেবে…” বলিয়া তাহার দিকে একটি সিক্কা পয়সা ফেলিয়া দিলেন। স্ত্রীলোক সিক্কা পয়সা কুড়াইয়া লইয়া দুধ আনিয়া দিল, দুধ তিনি কাঁখে লইতে শুনিলেন, “কি কনে বউ?”

    যশোবতী কিঞ্চিৎ বিচলিত হইলেন। যাহা কিছু ঘটিয়াছে তাহা এতক্ষণ মনেই ছিল না, এবং তাহার কোন কিছুই তাঁহার স্মরণ ছিল না। চণ্ডালকে আপাদমস্তক দেখিয়া চিনিতে পারিলেন, গুণ্ঠন টানিয়া চলিতে শুরু করিলেন।

    “দুধ আনতে এসেছিলে…হে হে আমি ছিলাম ঠায়, আমাকে বললে না কেনে, পাঠিয়ে দিতাম গো…তুমি বউ মানুষ,– চণ্ডাল কহিল।

    “এলাম…”

    “এখন বুড়ার গায়ে গত্তি লাগবে বটে…এ হে হে এখানে লামছ কেনে গো…”

    তাহার কথা শেষ হওয়ার পূর্বেই যশোবতী ভেড়ীপথ ভাঙ্গিয়া নামিয়া পড়িলেন। অল্প দুধ ছলকাইল, চণ্ডাল পিছু ছাড়িল না।

    এক্ষেত্রে যশোবতী তাহাকে কিছু বলিতে চাহিলেও লজ্জায় বলিতে পারিতেছিলেন না। কখনও তাঁহার গতিকে দ্রুত করিয়াছিলেন, কিন্তু তথাপি চণ্ডাল তাঁহার পিছু পিছু আসিতেছিল।

    “কয়েক প্রহর বাদে গো, এসব মাটি নিয়ে খেয়োখেয়ি হবে গো”–বৈজুনাথ নিজের দিকে চাহিয়া বলিল।

    যশোবতী চলিতে লাগিলেন।

    “হে গো আমার কথার উত্তর দাও না কেনে…”

    “এখন যাও…”

    “আহা” বলিয়া বৈজুনাথ কিঞ্চিৎ সহজ হইবার চেষ্টা করিল।

    “চণ্ডাল…”

    “তোমার কথায় কনে বউ আমার জন্মান্তর হল, আমি এখন…”

    “এখন যাও…”

    চণ্ডাল বৈজুনাথ স্থির হইল; তাহার পর, তিনি অগ্রসর হইলেন। এ সময় সত্বর চণ্ডাল তাঁহাকে অনুসরণ করিতে গিয়া পিছলাইয়া পড়িতে যশোবতী এ শব্দে সচকিত হইয়া ঘুরিয়া হাস্য সম্বরণ করিতে পারিলেন না।

    বৃদ্ধের কর্ণে একটি হাস্যের শব্দ আসিল। তিনি কোথা হইতে হাস্যধ্বনি আসিতেছে তাহা অনুধাবন করিবার চেষ্টা করিয়া, বক্রদৃষ্টিতে দেখিলেন; দেখিলেন, যশোবতী এবং চণ্ডাল। সীতারাম অসম্ভব চঞ্চল হইয়া উঠিলেন, শিরা-উপশিরা স্ফীত হইল, অভ্যন্তরে কে যেন ধূম্রজালের সৃষ্টি করিল, আপনকার মাড়ি ঘর্ষণ করিলেন, ইহার শব্দ শয্যার খড়ে প্রতিধ্বনিত হইয়াছিল। যুগপৎ বিস্ময়ে ঈর্ষায় বার্ধক্য যেন যৌবদশা প্রাপ্ত হইল। তিনি ক্ষিপ্ত হইয়া উঠিলেন। ভাবিলেন, আমার আকাশই ভাল; কিন্তু সহস্র ধিক্কার তাঁহাকে মাটিতেই ধরিয়া রাখিল। চক্ষুর্ঘয় কোনক্রমেই বন্ধ রাখিতে পারিলেন না। আক্ষেপে ক্ষোভে অভিমানে তিনি পুড়িতে লাগিলেন। একবার মাত্র কহিলেন–”তুমি না বামুনের বউ, ছিঃ” বলিয়া, ক্ষোভে দুঃখে অন্যদিকে মুখ করিয়া রহিলেন, তাঁহার শরীর তরঙ্গায়িত, সম্মুখে শ্মশান।

    যশোবতী স্বভাবসুলভ স্থিরভাবে, দুধের কলস রাখিয়া নিকটে ভেড়ীর খাঁজনে, ঝিক্ করিয়া পালা দিয়া, তুষের মালসা হইতে অগ্নিসংযোগ করত দুধ গরম করার পর বৃদ্ধের নিকট আসিয়া বলিলেন, “দুধ পাওয়া গেল” বলিয়া স্বামীর প্রতি দৃষ্টিনিক্ষেপ করিয়া দেখলেন, তিনি যেমত বা মৃগী রোগাক্রান্ত। তিনি তাঁহার গায় ব্যাকুল চিত্তে হস্তপ্রদান করিবামাত্র বৃদ্ধ মহারোষে তাঁহাকে নিবৃত্ত করিতে চেষ্টা করিলেন। যশোবতীর তাহাতে কোনরূপ মান হইল না। স্বামীর জন্য চিন্তাকুল হইয়া পুনরপি সস্নেহে তাঁহার সেবা করিবার জন্য তৎপর হইবামাত্র বৃদ্ধ যেন রাগতস্বরে এক কালেই অজস্র কথা বলিয়া গেলেন–কহিলেন, “কোথা মরতে গিয়েছিলে?”

    “দেরী হয়ে গেল বড়, না গো…”

    পত্নীর সরল কণ্ঠস্বর তাঁহাকে, বৃদ্ধকে, অতিমাত্রায় কুপিত করিল। “খাব না ও দুধ…”

    “সে কি…”

    “না” বলিয়া আরবার মুখ ফিরাইলেন।

    “আর দেরী হবে না…লক্ষ্মীটি…তুমি যদি রাগ কর তাহলে আমি যাই কোথা…রাগ ক’র না…।” বৃদ্ধ স্বামীর রাগের কারণ বুঝিয়া, অভাগিনী তাঁহাকে তুষ্ট করিবার মানসে যত্নবান হইলেন। অঙ্গুলিপ্রদান করত বুঝিলেন, দুধ প্রায় ঠাণ্ডা হইয়া যায়।

    “দুটি পায়ে পড়ি…দেরী…”

    “ফেলে দাও দুধ…”

    যশোবতী তাঁহার পদদ্বয় ধরিয়া অনেক কাকুতি মিনতি করিতে লাগিলেন। বৃদ্ধ কহিলেন, “মরণকালে আমার এই ছিল! ছুঁয়ো না আমাকে…হারামজাদী নষ্ট খল খচ্চর মাগী…”

    হরিণনয়না যশোবতী, পবিত্র যশোবতী স্বামীর পদদ্বয় হইতে মস্তক তুলিয়া বিস্ময়াবিষ্টের মত তাকাইলেন। তাঁহার চক্ষুদ্বয় যেন কাঁচে রূপান্তরিত হইল। যেন দ্রুতগতি অসংখ্য পতঙ্গ তাঁহার কানে গুঞ্জন করিতে লাগিল। সত্ত্বরজস্তম গুণাবলী হইতে কে যেন তাঁহাকে অব্যাহতি দিল।

    বিকৃত মুখব্যাদান করত কহিলেন, “রাক্ষুসী ন্যাঙনী মাগী-লেথিয়ে তোর মুখ ভাঙ্গি…”অনেকবার তাঁহার কুৎসিত মাড়ি বাহির হইল, যাহা বন্যবরাহের মুখগহ্বরসদৃশ রেশমী, অনেকবার তাঁহার গাল-চোষার বিকৃত আওয়াজ শোনা গেল।

    ভগবান! তুমিও বোধ করি অদ্যাবধি এত গঞ্জনা শোনো নাই। এ হেন অশ্রাব্য ঘৃণাসঞ্জাত কুকথায় বাত্যাক্ষুব্ধ লতিকার মতই যশোবতী থরহরি। অধর দুটি আপনাদের আকর্ষণ অমান্য করত মুক্ত হইতে চাহিতেছে, কে যেন বা তাঁহার কর্ণে, ‘তোমরা আমাকে কি পেয়েছে, তোমরা কি!’ বাক্যাবলী বলে।

    সম্মুখে উৎক্ষিপ্ত বৃদ্ধ সরলরেখা। ক্রোধে হস্ত মস্তকের নিকটে–এবং কেশ বর্তমান এরূপ জ্ঞানে আকর্ষণ করিয়া ফিরিতেছিল। মধ্যে মধ্যে ‘ওহো হো হো’ শব্দ।

    .

    নদীসৈকত, শ্মশান, অশরীরী মায়া এই নির্মমতা পর্য্যবেক্ষণ করিতেছিল!

    যশোবতী স্বামীর দুর্বল একটি পা, বক্ষে স্থাপন করত কি যেন বলিতে চাহিয়াছিলেন, ইহাও সত্য তাঁহার মধ্যে কে যেন একটি শ্লোক জপ করিতেছিল—’ন পতিঃ সুখমেধত যা স্যাপি শতাত্মজা।’ পরক্ষণেই বিশুদ্ধস্বভাবা, নিষ্কলুষ, পাপবিরহিতা যশোবতী ইত্যাকার শ্লোক শ্রবণ কালে, আপনার অভ্যন্তর বিহ্বল লোচনে নিরীক্ষণ করিয়াছিলেন, সেখানে অল্পবয়সী ঘুম ছিল, সেখানে ঘোর জটাজাল আবৃত মধ্যরাত্র। কোন এক দুবৃত্ত তস্কর ছিদ্র করিতে যত্নবান, ক্রমাগত খর খর শব্দ। তাঁহার শিরাসমূহ টঙ্কার দিয়া উঠিল। স্বামীকে তিনি তবু শুধু মাত্র বলিলেন, “বাঁচাও বাঁচাও…” কিন্তু শোনা গেল “ওগো ওগো…”

    বৃদ্ধ তখনও ক্ষান্ত হন নাই।

    “আমায় আর কষ্ট দিও না–আমার…” একদা তিনি শ্মশানের দিকে ভয়ঙ্করভাবে চাহিলেন। সেখানে আবছায়া চণ্ডাল, বুক যেন তাহার অধিকতর স্ফীত, যেন ব্যাঘ্ৰ খেলিয়া ফেরে, যেখানে চালোক উৎসবে লতাপত্রের ছায়া ছিল।

    সীতারামের পদদ্ধয় অশ্রুসিক্ত, তবু, তাঁহার ক্রোধে যেমন বা নূতন করিয়া দন্তপাতি দেখা দিয়াছে। তিনি পৈতা ছিঁড়িয়া অভিশাপ দিতে গেলেন। দুগ্ধপাত্র স্থানচ্যুত হইল। এখন কাক আসিয়া সেই দুগ্ধ পানে ব্যাপৃত।

    অভিশাপের উত্তরে যশোবতী বলিলেন, “আর জন্মে যেন তোমাকে পাই…” আপনার সত্ত্বগুণকে রক্ষার নিমিত্ত এ আপকালেও ক্রমাগত অনেক কথার মধ্যে এই কথা বলিয়াছিলেন যে, “সমুদ্র যেমন তীরভূমিকে লঙ্ঘন করে না, তেমনি আমিও আপনাকে কখনই লঙঘন করিব না।”

    “মাগী…পটানি ফাজিল–গঙ্গা ডুবে মর গা–”

    এসময় বৃদ্ধের মুখের কষের পাশেই মাড়ি, কিছুটা নাসা-গহ্বর এবং অদূরে সুন্দর পবিত্র মুখোনি দেখা গেল।

    “বেশ আমি যাচ্ছি…তাই যাব…”

    “মর মর…মরগে…”

    স্খলিত জড়িত পদে যশোবতী কয়েক পদ বায়ুতাড়িত–গঙ্গাতীর ঢাল বশে–তাঁহার গতি দ্রুত হইল। হাহাকার করত গঙ্গার দিকে ছুটিয়া গেলেন।

    সীতারামকে এই দৃশ্য প্রবুদ্ধ করে। শায়িত দেহ যেন ঊর্ধে লক্ষ্যপ্রদান করিল–চক্ষে উল্কার বেগ, তিনি উচ্চৈঃস্বরে থমকাইয়া বলিলেন, “বউ বউ চণ্ডাল চণ্ডাল” বলিয়াই মুখ হাঁ করিয়া আপনার সহধর্মিণী যশোবতীর নীতিজ্ঞানহীন সংকল্প দেখিতে লাগিলেন।

    এবম্প্রকার দৃশ্যে চণ্ডাল বৈজুনাথ স্থির, তর্জ্জনী তুলিয়া দিনির্ণয় করিতেছিল, না হিসাব করে তাহা প্রমাণসাপেক্ষ, এখন সে স্বর-বৈষম্য শুনিল, গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়া এক দমে দুঃখিনী যশোবতীর নিকটে গিয়া পড়িল। যশোবতী তখন ডুবিতে গিয়া ক্রমাগতই ভাসিয়া উঠিতেছেন।

    “কনে বউ…লাও চল…তুমি কি আর গঙ্গায় ডুবতে পার গো? গঙ্গা যে তোমার মধ্যে ডুববেক…হে হে গো…লাও চিৎ সাঁতার দাও গো-কেঁদে কেঁদে দম নাই তোমার যে,– বৈজুনাথ কহিল।

    অসহায়ভাবে চণ্ডালের প্রতি চাহিয়া কহিলেন, “না আমি কি খেলা…”

    “এ যে গঙ্গার জল বাড়ান কথা গো, জমি-হাঁসিল কথা বটে তোমার মুখে…কনে বউ, ড্যাঙায় দাঁড়িয়ে বল, লাও চল…”

    “না আমি মরব…”

    “কোন দুঃখে! মরতে পারলে তুমি বাঁচতে…”

    তাঁহাকে প্রদক্ষিণ করত কহিতে লাগিল, “এখন খ্যান (ক্ষণ) আসে নাই…বললেই হল হে–চল চল-হরগৌরী দেখে আমাদের পাপ যাবেক গো…”

    “না…”

    “শেষ মেষ কি আমায় ধরতে হবে হেবামুনের মেয়ে আমার পাপ বাড়িও না। লাও মাথা খাও তোমার পায়ে পড়ি, চল…”

    দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করিয়া ঝটিতে উল্টাইয়া সাঁতার কাটতে লাগিলেন। তীরে উঠিয়া অবনতমস্তকে স্বামীর নিকটে আসিলেন।

    যশোবতী সিক্তবসনে দণ্ডায়মানা, আপনকার অঙ্গুলিতে তাঁহার দৃষ্টি, নিম্নেই বৃদ্ধ স্বামী। বৃদ্ধ অন্যদিকে চাহিয়া অনুযোগ করিলেন, “তুমি না আমায় ছেড়ে যাবে না…ছোট ছেলে মাকে হয়ত মারলে…তাতে মা তাকে ছেড়ে যাবে…আমি বুড়ো…” বলিয়া সীতারাম দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করিলেন, ইহার পর কহিলেন, “তা ছাড়া এই শ্মশানে মড়ার গন্ধে আমি কি আর আমি আছি বউ…”

    যশোবতী ইত্যাকার কথায় ব্যথিত হইলেন, তিনি ক্ষণেকের জন্য চারিদিকে অনুভব করিলেন, নিজের চিতা-চিহ্নের দিকে নজর পড়িল, তথাপি স্বামীর জন্য ব্যাকুলতা ছাড়া আর কোন ভাবান্তর আসিল না।

    “তুমি রাগ করলে গো, সীতাকে কিন্তু তুমি ত জান…”

    “জানি…”

    “তবে? রাম তাকে দুষ্ট বললেন, তবু তিনি…আমার কথা…দেহের বিকার গো…”

    যশোবতীর দেহলগ্ন বস্ত্র শুকাইতেছে, মনোবেদনা ক্ষয় হইতেছিল, পুনরায় সমলোষ্ট্ৰাশ্মকাঞ্চন বুদ্ধির প্রত্যাবর্তন হইল; কেবলমাত্র নাসার বেসর চমকিত, নিঃশ্বাসে কম্পিত। তিনি যে দেহ বহিয়া বেড়াইতেছিলেন, সে দেহ শূন্য কলসের মত–তবুও তাহার গুরুভার ইদানীং জ্ঞান হইতেছিল– ক্লান্তিতে তাঁহার আঁখিপক্ষ্ম নামিয়া আসিতেছিল। মধ্যে মধ্যে ভিজা চুল এলো করিয়া দিয়াছিলেন।

    “বউ কিছু খাও…”

    “ভাল লাগছে না…”

    “কেউ ত এল না–তাহলে তুমি চাট্টি ভাত খেতে…তারা কখন আসবে…”

    “কি জানি…”

    “তুমি রাগ করছো…”

    “না গো…”

    “আমায় ছুঁয়ে বল।”

    “সত্যি …”

    “তুমি আমার কে জান না…তুমি এই আকাশ ঢেকে দাঁড়াবে…তুমি শ্মশানকে…”

    যশোবতী সনাথ হইলেন। বৃদ্ধের পার্শ্বেই ঘুমাইয়া পড়িয়াছিলেন।

    .

    বেলা যখন প্রায় লাল হইয়াছে, তখন যশোবতীর নিদ্রা ভঙ্গ হইল। চক্ষু মেলিয়া সহসা কি জানি কেন গাছ পাতা নদী জলকে তাঁহার বড় পরিচিত বোধ হয়। ইহা সেই বৃদ্ধের দেখা পৃথিবী মনে হইল, তাহাদের তিনি যেন নিঃশ্বাস দান করিতেছেন। শ্মশানের বহু কিছুই তাঁহাকে বিকল করিল না, আবালবৃদ্ধবনিতা যেরূপ এ শ্মশানকে মহৎ বোধে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে, সেইরূপ শ্মশানকে, তাঁহার, মহৎ বোধ হইল না–এই তিনি শ্মশান দেখিলেন, আর এক প্রসূতিগৃহে যাহা কূট গতিস্পন্দনে অধীর, যাহা মৃচ্ছকটিকসদৃশ ওঙ্কার, যাহা জাতিস্মর স্তব্ধতা।

    তবু মাত্র চঞ্চল পদধ্বনি শ্রুত হয়, অষ্টসাত্ত্বিক বিকার সম্ভব মহাপ্রসাদের গন্ধ নরবসার গন্ধে, ভরপূর বহু মেঘমালার সখেদ ক্রন্দনধ্বনি, কভু, এ ক্ষেত্রে, সবুজতা আনিতে সক্ষম হইবে না। স্বাহাবিরহী লেলিহান শিখা দিণ্ডলে পরিব্যাপ্ত, লক্ষ মায়া ছাই হইয়া গিয়াছে, লক্ষ ক্রোড় খার হইয়া যায়–শোণিতস্রাবী বজ্রযান অন্ধকার। এ শ্মশানে শিব শব হইয়া আছেন, মহাবিদ্যা–আলুলায়িত। কেশরাশি যাঁর, তিনি আনন্দে শিহরিত। কারণ সলিল বাষ্প হইয়া যায়–শ্মশানকে মণ্ডলাকারে অমর হ্লাদিনী শক্তি পরিক্রমণ করিতেছে। ঘুম মৃত্যুর নির্জন প্রতিবিম্ব–মৃত্যুর ভালবাসা, ঘুমই সে-ভালবাসা বিলায়, জীবনে ফুলকারী সোহাগ আনে। যশোবতী ঘুম চোখে দেখিলেন, যেখানে তিনি অমর।

    সহজেই যশোবতীর মনে হইয়াছিল, এ দেহসকল দৃশ্য–আমি তাহার সাক্ষীস্বরূপ।

    তিনি সন্ন্যাসিনীর ন্যায় সকল কিছুই আলো এবং অন্ধকার দেখিলেন। সদ্য নিদ্রোখিতা হওয়ায় তাঁহার ভ্রম হয়, ইদানীং অপরাহুকে তাঁহার অকারণেই মনে হইল যে, পুনরপি ভোর হইল। যেমন বা তাঁহার জন্মান্তর আসন্ন, বহু প্রাচীনতম ‘আমি’ ক্রমে ক্ষীয়মাণ হইতেছে। যশোবতী বৃদ্ধের দিকে চাহিলেন।

    “বউ ঘুম ভাঙল…”

    যশোবতী অল্প হাসিলেন। “বউ আমার উপর রাগ নেই ত?”

    “না গো তুমি আমায় অন্যায় কিছু ত বলনি” বলিতে বলিতে এতক্ষণ পরে তাঁহার শ্মশান দর্শনের ভীতি হইল।

    “আমায় দুঃখু দিও না” দীর্ঘশ্বাসকে সংযত করিতে করিতে বৃদ্ধ বলিলেন, “তুমি আমায় ছেড়ে যাবে না ত?”

    সঙ্গে সঙ্গে যশোবতী তাঁহার মুখ চাপিয়া ধরিলেন। কিন্তু পরক্ষণেই তাঁহার চম্পকসদৃশ হস্তকে ক্রমে ক্রমে ঠেলিয়া কয়েকটি কথা আসিল, “আমার কেউ নেই।”

    “আমি আছি কৰ্ত্তা তুমি ছাড়া আমি কই” বলিয়া পুনৰ্ব্বার যশোবতী সেই অব্যবহিত অহৈতুকী অবিচ্ছিন্ন মনে বৃত্তি লাভ করিলেন। ললাটে স্বেদবিন্দু দেখা দিল। দেহের রুক্ষতাকে চমকিত করিয়া যৌবন চঞ্চল হইল।

    অনুক্ষণ ডাক ছাড়িয়া কে যেন বলিতেছিল, “আমি আছি–” মধ্যরাত্রে সে স্বর ধৈবতে দুঃখিত হইয়া, গান্ধারে কাঁদিয়া পুনরায় বিদ্যুৎ রেখাব দেখিয়া শুদ্ধ স্বরে ফিরিয়াছিল।

    বৃদ্ধের চোখে জল আসিল। আপনাকে সম্বরণ করিয়া কহিলেন, “বউ চুল বাঁধবে না…”

    “হ্যাঁ…”

    বৃদ্ধ কি যেন বলিতে গিয়া থামিলেন।

    “কি গো…”

    “তুমি ভুলে গেছ…”

    যশোবতী ভ্রূ কুঞ্চিত করিলেন।

    “তুমি ভাবছ বুড়ো বরের আবার অতশত…”

    “আহা বল না কেনে…”

    “ফুলশয্যা…”

    যশোবতী জিব কাটিয়া গণ্ডস্থলে অঙ্গুলিপ্রদান করত কহিলেন, “আই গো, দেখেছ…মরণদশা, আমার একেবারে খেয়াল নেই গো…ছিঃ…”

    “চুলটা বেঁধে লাও”,বৃদ্ধের স্বর গদগদ হইল।

    “না, সন্ধ্যে হয়ে এল, গাছে হাত দেওয়া যাবে না…কৰ্ত্তা আমি দুটো ফুল নিয়ে আসি।”

    “কি ফুলই বা পাবে…”

    “তোমার পূজার ফুল সব ঠাঁই জন্মায় গো, কেনে আকন্দ। তুমি ত শিব…। না পাই বেলপাতা।”

    বৃদ্ধ আচম্বিতে তাঁহার হস্তধারণ করিয়া আপনার কম্পন অনুভব করিয়াই স্থির, এই মুহূর্তে আসন্ন সন্ধ্যায় দুজনে দুজনের প্রতি গভীরভাবে দেখিলেন। দুজনে দুজনকেই পান করিলেন। সম্বিৎ ফিরিয়া আসিল। নববধূ আর দেরী করিলেন না।

    যশোবতীর দেহ যেমত জ্বরে উষ্ণ; গায়ে জল বসিয়াছিল অথবা যোগনিদ্ৰাপ্রসূত দেহ ভারাক্রান্ত। তিনি ধীর পদক্ষেপে ভেড়ীপথে উঠিলেন, চারিদিক প্রেক্ষণ নিমিত্ত লক্ষ্য করিলেন, সম্মুখে চারিদিকে শ্মশান, শায়িত স্বামী, নিম্নে গঙ্গা। অন্যত্রে ধান্যক্ষেত্র, বহুদূরে গ্রাম, রাখাল গোরুসকল লইয়া ফিরিতেছে, এমত সময়ে তাঁহার শ্রবণে আসিল ক্রমাগত ‘আয় আয়’ ধ্বনি। সম্ভবত বুনো স্ত্রীলোকেরা তাহাদের পালিত পশুপক্ষীকে প্রত্যাবর্তন করিতে বলিতেছে। এই ‘আয় আয়’ ধ্বনি তাঁহার দেহের নিকটে আসিয়া পরিক্রমণ করিতে লাগিল। তিনি আপনার দেহের উষ্ণতা অনুভব করিলেন। অধৈৰ্য্য হইয়া ভেড়ীর ঢাল বাহিয়া দ্রুতপদে নামিলেন, নামিবার কালে তিনি বৃক্ষাদি ধরিয়াছিলেন, যাহাতে অসাবধানতাবশতঃ পদস্খলন না হয়। এবং ঝটিতি একটি কচু পাতা লইয়া ফুল চয়নে ব্যাপৃত হইলেন। এখনও শুনা যায় ‘আয় আয়’ ধ্বনি।

    ফুল লইয়া আসিয়া মালা গাঁথিলেন–চাঁদোয়ার খুঁটি মালার হারে সজ্জিত হইল। সীতারাম যশোবতাঁকে দেখিলেন, আর তিনি দেখিলেন পিছনে লাল চাঁদ। মিলনের অভিলাষে নববধূ পূর্ণাঙ্গ। ফুল অনটন হইল। ফলে, যশোবতাঁকে পুনরায় ফুল আনিতে যাইতেই হইল। এই সেই লতাবিতান পরিমণ্ডিত উৎকৃষ্ট কানন, এখানে নববধূ আরবার ফুলচয়নে ব্যাপৃতা।

    ‘আয় আয়’ ধ্বনি তাঁহার গাত্রে যেমত লাগিয়া যাইতেছে, তিনি বিরক্ত একারণে যে, বড়ই তাঁহার অসোয়াস্তি হইতেছিল, এবং ঠিক এই সময়ই কাহার গলার স্বর, ক্রমাগত কথার স্রোত শুনিয়াই সচকিত হইয়া প্রথমে নির্লিপ্ত, পরে আগ্রহের সহিত অনুধাবন করিতে সচেষ্ট হইলেন, তাঁহার কর্ণমূল রক্তিম হয়। দেখিলেন, চণ্ডাল বৈজুনাথ, মনে হয় শায়িত, গাছে গাছে অনেকটা অদৃশ্য, কিন্তু তাহার মুখমণ্ডল সম্পূর্ণ দেখা যায়, হস্তদ্বয় উত্তোলিত। ইহাতে মনে হয় কাহাকে যেন ঊর্ধ্বে ধারণ করত সে এ-সকল কথা কহিতেছে। এখন বৈজুনাথ বলিল, “তুমি কি গো, তোমার মন কি গো; মোষের শিঙে সরষে দাঁড়ায় না, তার বেহদ্দ গো ধনি।”

    যশোবতী ইত্যাকার বাক্যে অন্ধ হইয়া গেলেন, নথ কম্পিত হয়, তাঁহার রাশ আন্দোলিত।

    বৈজুনাথ ছড়া কাটিল–

    “হেই বড়াই, হে বড়াই মেরো না আমলার ছড়ি,
    কাটান কাটায়ে দিব খাজনার কড়ি,
    ঘরকে ঠায় নিমগাছটি নিম ঝুরঝুর করে,
    সদাই বিড়ালী বিটি লিওলিয়াই করে,
    ফল লিবি না কোদাল লিবি সত্যি করে বল,
    নয়ত ভাশুর ভাতার ধর”

    ইহার সহিত তাহার উচ্চ হাস্যধ্বনি শোনা গেল।

    “কুত্থাকে ছিলে হে ধনি এতে কাল, মনের মানুষকে ভুলে, কত আকাশ গেল, বাতাস গেল, এতদিন পরে–তবু ভাল হে, তবু ভাল হে–বিনিসুতোর মালা গাঁথুনী মালিনী গো।”

    এক একটি কথা এমন যেন বা উহা কর্দমের ঢেলা, ক্রমাগত তাঁহার দিকে আসিতেছে, আর যে, তিনি, যশোবতী, কোনক্রমে আত্মরক্ষা করিতেছেন। কখনও বা গাছের সঙ্গে মিশিতেছেন; এখন হস্তচ্যুত ফুলগুলি কুড়াইতে বসিয়া মুখ ঘুরাইয়া যাহা দেখিলেন, তাহা বীভৎস এবং পলকের জন্য জ্ঞানশূন্য হইলেন।

    এ সময় চণ্ডাল বৈজুনাথ ঝটিতি আপনার মুখের সম্মুখে একটি নরকপাল আনিল, যাহার সহিত এতাবৎ কথা কহিতেছিল।

    চণ্ডাল নরকপাল লইয়া মহা আদর করিতেছিল, কাকুতি মিনতি করিতেছিল, বাক্যের দাসখত দিতেছিল। “তুমি ত আমার সব গো–এখন এত কথা বলছি? বেঁচেছিলাম কি করে? কেনে? ডিমের মত নড়ন নাই চড়ন নাই, ধুক ধুক নাই…পায় পড়ি গো…প্রত্যয় যাও–ওমা”, অতঃপর সহসা সে মুখ ঘুরাইয়া কপট আশ্চর্য সহকারে কহিল, “ওমা, কনে বউ যে!”

    এই ডাকই তাঁহার সম্ভ্রম নষ্ট করিল, তিনি আত্মরক্ষায় প্রয়াসী হইলেন।

    “দে দে, ঘোমটা দে লোলোকে বলবে কি? হায়া নাই সরম নাই, কোথাকার খড়মপেয়ে, খোয়াড়ে লিয়ে যাবে হে…কনে বউ…” বলিয়া উচ্চৈঃস্বরে কহিল, “আমার বউ এসেছে গো এতদিন বাপের ঘরে হাঁড়ি ঠেলত, ধান ভানত…লে লে শালী আবার হায়া কি গো–ই ছি ছি তোমায় দেখি সরমাইছে, হারে কপাল বৃষভানুনন্দিনীর আবার সরম–মেয়েমানুষ শালী পুরুষের হাড় লিয়ে খেল মাঠে বসি যখন, ডুগডুগি বাজাতে যখন, এত হায়া কোথায় থাকে…হে হে…বিবাহ এক রক্তের লেশা–” বলিয়া নরকপালে ঠোনা মারিল, নাচাইল।

    যদি নির্ম্মাল্যবৎ যশোবতীর অনেক অভিজ্ঞতা হইয়াছিল, চৈত্র প্রান্তরের ঘূর্ণি হাওয়ার ন্যায় সোজা হইয়াছিলেন, এরূপ কাণ্ড তিনি আশা করেন নাই, সংক্রান্তির সাগরসঙ্গমের হিম হাওয়া তাঁহার গায়ে বিষক্রিয়া করিতেছিল। চণ্ডালের হস্তে নিঃসঙ্গ চালোকে মধ্যরাত্ৰ খেলিতেছিল।

    “সুন্দরী তুমি” নিশির ডাকের মত আওয়াজ আসিল “চন্দন চাঁদ তোমার কাছে পোড়া কাঠ…গো…তুমি সত্যই সুন্দর, তুমি ত্রিলোকেশ্বরের ঘরণীর থেকে সুন্দর…তুমি…”। বৈজুনাথ এখন প্রায় যশোবতীর নিকটে আসিয়া পড়িয়াছিল। তাহার আর পিছু হটিবার পথ নাই, আকন্দ বৃক্ষ তাহা রোধ করিয়াছে, আর অল্প দূরে ঢাল-নিম্নে খালের মত, যাহা জলাশয়।

    যশোবতী উন্মাদ কণ্ঠস্বরে ভাঙ্গিয়া পড়িলেন, “চণ্ডাল”–

    “ওলো! ওলো! সরে আয়, ওলো, তোকে দেখে কনে বউ ভয় পাচ্ছে লো” বলিয়া এক হাতে নরকপালকে লইয়া প্রায় স্কন্ধের কাছে স্থাপন করিয়া কিঞ্চিৎ ঘুরিয়া দাঁড়াইল।

    “তুমি কে?” ‘কি’ বলিতে গিয়া যশোবতী ‘কে’ প্রয়োগ করিলেন। তাঁহার কণ্ঠে ক্রন্দন ছিল।

    “বড় আধ্যাত্মিক প্রশ্ন গো কনে বউ…শেষ নিঃশ্বাস নিয়ে যে জীব বেঁচে থাকে, আমি সেই জীব বটে গো…”

    “পথ ছাড়…”

    “কনে বউ, একে দেখে…কঙ্কাল দেখে ভয় পাচ্ছ কেনে? এ তো তোমার ভিতর আছে, তোমাকে খাড়া রেখেছে। একটু চেয়ে দেখ কত সুন্দর, কত মায়া, আকাশ বাতাস গঙ্গার থেকে এ বড় সুন্দর বটে…তুই খুব সুন্দর না রে,– বলিয়া তাহার চিবুক ধরিল।

    যশোবতী বুঝিলেন, বৈজুনাথ মাতাল। তাহার গাত্র হইতে নরবসার গন্ধ, তাহার মুখে প্রকৃতির গন্ধ।

    “চণ্ডাল ওটা ফেলে দাও…”

    “সে কি গো আমার ঘরণী যে বটে, আমি গেরস্থ…ঘরণীকে ফেললে মহাপাতক হব যে…”

    “চণ্ডাল!” এ স্বরে যশোবতীর ইহকালের প্রতি বাসনা ছিল।

    “অমন কথা তুমি ব’ল না, তুমি কে? না সতী। তোমার নামে কুট সারবে…লে লে সতী মাকে গড় কর, সেবা দে বউ” বলিয়া তাঁহার পায়ের নিকটে নরকপাল রাখিতে গেল।

    যশোবতীর ভয়ে যেন গায়ে কাঁটা দিল, “পিশাচ চাঁড়াল!”

    বৈজুনাথ উঠিয়া দাঁড়াইয়া হাসিল, “ওগো সতী হুজুর, আমি মড়া পোড়াই, চাঁড়াল বটে, তবু পুরুষ মানুষের জান বটে, পুরুষের হৃদয়, এখানটা পুড়তে সময় লেয়, তোমার এখানটা পুড়তে সময় লেয়” বলিয়া আপনার উদর দেখাইয়া কহিল, “তুমি এখানের কথা কি জান, মনের জন্য পিশাচ আমি হই– এই আমার ঘরণী, তুমি যদি…বুড়ো যদি তোমার ইহকাল পরকাল হয়, এই বা কি দোষ করলে গো কনে বউ। লে লে বউ গড় কর, সবই মায়া বটে।”

    “না না…” যশোবতীর কণ্ঠস্বরে যেন আকাশ বিদীর্ণ হইল।

    “একটুক সিন্দুর দাও গোতোমার নামে এর গায়ে মাংস লাগবে…এই আবার ভাতে কাঠি দিবে, বিয়োবে, মাই দিবে গো। টুকুন সিন্দুর, সতীর সিন্দুর মেঙ্গে লে বউ…”

    “চণ্ডাল…আমাকে কেন ভয় দেখাচ্ছ?”

    “ভয় দেখাব কেনে, বউ দেখাই, সিন্দুর মাঙ্গি, এ শ্মশানে আর আমি পাব কোত্থাকে? এ শ্মশানে এক সিদ্ধ ছিল, মেয়েদের চুলের পৈতা ছিল, এক কঙ্কালকে ‘ওগো ভৈরবী গিন্নী’ বলে ডাকত যে হে…”।

    যশোবতীর চর্ম লোল, জিহ্বা শুষ্ক হইয়াছিল। নরমুণ্ডের দিকে চাহিয়া রহিলেন। তিনি অনাদি অনন্তকালের দৃশ্য দেখিয়াছিলেন।

    চণ্ডাল কহিল, “অনেক ভেবে চিন্তে আমি একে ঘরে তুলোম…আমি…তোমাকে কনে বউ, আগে বাঁচাতে চেয়েছিলাম…তুমি গালমন্দ করলে, তখন ভাবলাম এ আমি কি ভুল করছি। তোমাকে না বাঁচাবার সুকৃতি ফলে তুমি যে যে ঘরে জন্মাবে আমিও কাছে জন্মাব–এটা কি বেশী চাওয়া?”

    যশোবতীর মনে, নিশ্চয় একথা সত্য যে, যিনি মায়া বহির্ভূতা তাঁহার মনে, তপোবন-বিরোধী বিকার উপস্থিত হইল।

    বৈজুনাথ নরকপালে সস্নেহে হাত বুলাইতে বুলাইতে বলিল, “না, সতাঁকে পেলে হনুমানের মত আয়ন ঘোষ হয়ে থাকতে হবে, বুড়ো তখন কেলে ছোঁড়া হয়ে” বলিয়া নরকপাল বংশীর ন্যায় ধরিয়া কহিল, “বাঁশী বাজাবে, তুমি জল আনতে ছুটবে–তার থেকে এই ভাল…”

    যশোবতী এ ইঙ্গিত বুঝিতে পারেন নাই, একারণ যে তাঁহার ভীতি তখনও ছিল।

    যশোবতী ইতিমধ্যে ক্ষিপ্রবেগে নরকপাল তাহার হাত হইতে ছিনাইয়া লইয়া উর্ভে ধারণ করিলেন,চণ্ডাল তাঁহাকে ধরিতে গেল, হাত দিয়া কঙ্কাল লইতে গেল। কোন মতে যশোবতী আকন্দ গাছ অতিক্রম করত পলায়ন করিতে গিয়া সহসা পড়িয়া গেলেন; এক হাতে নরকপাল জলাশয়ের করের মধ্যে প্রতীয়মান।

    চণ্ডাল পশুর মত হাতে ভর দিয়া, হামাগুড়ি দিয়া স্থির।

    উন্মাদহাস্যে কহিলেন “না”…তাঁহার একটি হাত নরকপালের কাছে যেখানে কর, যেখানে জলজ লজ্জাবতী, তাহার উপর অদ্ভুতভাবে আন্দোলিত হইল, লজ্জাবতী লতা ব্রীড়াবনত হয়।

    চণ্ডাল তাঁহার একটি হাত ধরিয়াছে, সহসা কিসের শব্দ হইল।

    .

    বায়ু স্থির, পাখীরা উড়িয়া গেল, ধরিত্রীর বক্ষে কে যেন হাঁটু ডলিতেছে। ত্রিলোক এক হইয়াছে। ওজস্বিনী বিশাল তরল সমতল শ্মশান দাম্ভিকভাবে আসিতেছে, মহাব্যোমে স্ফুলিঙ্গ উদ্ধত।

    চণ্ডালের ঘরণী করের মধ্যে ডুবিয়াছিল, ইন্দ্রিয়াসক্ত, সমগুণপ্রধাণা যশোবতী বেপথুমানা; মহা আবেগে মুষ্ঠিতে দূর্বাদল আকর্ষণ করিয়াছিলেন। নিঃশ্বাসে অজাগর ঠিকরাইতেছে। নীহারধূমাকানিলনলান খদ্যোৎ বিদ্যুৎ স্ফটিক শশীসম্ভব আলো আপনার কপালে খেলিতে লাগিল।

    “কনে বউ…কোটাল।”

    কপাল কুঞ্চিত করিলেন, সুখশয্যা ত্যাগ করিবার তাঁহার ক্ষমতা নাই। “কোটাল কোটাল” বলিয়া যেমন সে উঠিতে যাইবে, কনে বউ তাহার হাত বজ্রজোরে ধরিলেন। তিনি দেহাভিমানিনী, কেননা সম্ভবত অষ্টপাশ ছিন্ন হয়।

    “কোটাল বান হে আসছে হে বুড়ো…”

    “কনে বউ এসো…বুড়ো…তোমার বর।”

    “মরুক…”

    .

    একটি নিঃশ্বাসের পরেই তিনি, যশোবতী, পরিশ্রান্ত ঘর্মাক্ত অশ্বের মত ছুটিয়া আসিলেন। ভেড়ী পথে উঠিলেন। এক দিকে বিগলিত লৌহের মত, জল-পৰ্বত আসিতেছে, নিম্নে ফুলশয্যা, আর অপেক্ষমাণ বৃদ্ধ স্বামী। ফুলহার সকল দোলায়মান, যাহা দূর হইতে বিছানা, ফুলহার, যেমন বা গোলাপশীতল পোম্পাইয়ের আতিশয্য।

    সহসা বৃদ্ধের সঙ্গে কে যেন বিশ্বাসঘাতকতা করিতে আসিতেছে। বাণবিদ্ধ পাখীর মত কর্কশ করুণ স্বরে ডাকিলেন–”বউ…”

    বিস্ফারিতনেত্রা যশোবতী দুর্দশা দেখিলেন, তাঁহার পদদ্বয় ঘর্মাক্ত হইল, তাঁহার কর্তব্যবুদ্ধি ফিরিয়া আসিল। তিনি ছুটিতে গিয়া দেখিলেন তাঁহার হাত এখনও চণ্ডাল ধরিয়া আছে। তিনি শিশুর মত আপনকার পা মৃত্তিকায় ঠুকিতে লাগিলেন, গগন শঙ্কিত হইল। আর যে, হঠাৎ তিনি চণ্ডালের হস্তে কামড় দিতেই বৈজুনাথ হাত ছাড়াইয়া লইল। এত জোরে তিনি কামড়াইয়াছিলেন যে বৈজুনাথের হাতের চুল ছিঁড়িয়া মুখে আসিয়াছিল। থুথু করিতে করিতে তিনি তড়িৎবেগে ভেড়ীপথেই ছুটিতে লাগিলেন, কখন আপনার হস্ত দংশন করিলেন, কখনও আবার দেখা গেল আপনার গণ্ডে চপেটাঘাত করিতে করিতে ছুটিতেছেন।

    গুপ্তঘাতকের হস্তে বৃদ্ধ সীতারাম আহত। জল আলোড়নে, বৃদ্ধদেহ চক্ৰ দিয়া উঠিল, মৃত্তিকা তৈজস ছত্রাকার হইল। এতৰ্দশনে যশোবতী জলে নামিয়া পড়িলেন। একটি বৃষকাষ্ঠ ধরিলেন, ক্রমাগত “কৰ্ত্তা কৰ্ত্তা” চীৎকারে হাত ছাড়িয়া গেল! বান…সহসা তাঁহাকে লইয়া গেল। কোনক্রমে একটি প্রতিমার কাঠামো ধরিলেন। পরমুহূর্তে বানের তোড়ে প্রতিমার কাঠামো তাঁহাকে লইয়া খাড়া হইয়া দাঁড়াইল।

    একবার বৃদ্ধকে দেখিলেন।

    অল্পবয়সী ষড়ৈশ্বৰ্য্যশালিনী পতিপ্রাণা “কৰ্ত্তা-কৰ্ত্তা” বলিয়া প্রতিমার কাঠামো ছাড়িয়া জলে লাফ দিলেন। ক্রন্দন করিতে করিতে সন্তরণের বৃথা চেষ্টা করিলেন, দু’একবার ‘কা” ডাক শোনা গেল।

    ইহার পর শুধুমাত্র রক্তিম জলোচ্ছ্বাস! কেননা চাঁদ এখন লাল।একটি মাত্র চোখ, হেমলকে প্রতিবিম্বিত চক্ষুসদৃশ, তাঁহার দিকেই, মিলন অভিলাষিণী নববধুর দিকে চাহিয়াছিল, যে চক্ষু কাঠের, কারণ নৌকাগাত্রে অঙ্কিত, তাহা সিন্দুর অঙ্কিত এবং ক্রমাগত জলোচ্ছাসে তাহা সিক্ত, অশ্রুপাতক্ষম, ফলে কোথাও এখনও মায়া রহিয়া গেল।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপিঞ্জরে বসিয়া শুক – কমলকুমার মজুমদার
    Next Article কিচির মিচির – কমলকুমার মজুমদার

    Related Articles

    কমলকুমার মজুমদার

    গোলাপ সুন্দরী – কমলকুমার মজুমদার

    July 17, 2025
    কমলকুমার মজুমদার

    কিচির মিচির – কমলকুমার মজুমদার

    July 17, 2025
    কমলকুমার মজুমদার

    পিঞ্জরে বসিয়া শুক – কমলকুমার মজুমদার

    July 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }