Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অন্ধকারের গল্প – অভীক সরকার

    লেখক এক পাতা গল্প133 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঝিমলির সবুজ চোখ

    বরাদ্দ মাংসটা ব্যাগে নিয়ে বেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এমনিই একটু শীত করে উঠল ভজনের। এমনিতেই হেমন্তের শেষ, শীত আসি আসি করছে, ফলে শীত না করার কোনো কারণ নেই। তবে কিনা আধঘণ্টা আগেও একবার বেরিয়েছিল ভজন, তখন কিন্তু এত ঠান্ডা ছিল না।

    ছেঁড়া শালখানা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ব্যাগের মধ্যে মাংসের টুকরোটা জড়িয়ে বগলের দিকে চেপে রাখল ও। পাক, একটু ওম পাক ব্যাটা। সিদ্ধ হতে সুবিধাই হবে। এটার সুরুয়া নাকি তন্দুরই বেস্ট হবে হরিয়ার হাতরুটির সঙ্গে? দোনামনা করতে করতে নিজের মনেই সুরুয়ার ওপর ভোট দিয়ে ফেলে ও।

    হরিয়ার দোকান সামনেই, ফাঁকাই ছিল আজ। “কী বে চুতিয়ে, তোর দুকান বিলকুল ফাঁকা দেখছি যে আজ?” বলে হরিয়ার দোকানের সামনে রাখা বয়াম খুলে একটা বাসি নিমকি তুলে চিবোতে থাকে ভজন। আড়চোখে সেদিকে তাকায় হরিয়া, মনে মনে খিস্তি করে একটা। এই শুয়োরের বাচ্চা খোট্টাটা ব্যাবসা দেয় বটে, তবে ওর খাল খিঁচে নেয় এইভাবেই। ভেবেই মেজাজটা ফের টকে যায় হরিয়ার এমনিতেই শীতের সময় একঝটকায় কাস্টমার প্রায় আদ্ধেক হয়ে যায়। তার ওপর দোকানের এটা সেটা ফ্রি-তে খেয়ে গেলে কারই বা ভালোলাগে?

    .

    “ভালো মাল পেয়েছিস কিছু আজ?” বিরসবদনে রুটি সেঁকতে সেঁকতে প্রশ্ন করে হরিয়া।

    “হাঁ বে, বিলকুল চুজ্জা মাল পেয়েছি একটা। একেবারে টাটকা।” বলেই কী একটা ভেবে ফিক করে হেসে ফেলে ভজন।

    .

    “হাসছিস কেন বে?” কীসের যেন একটা গন্ধ পায় হরিয়া, “ঘরে মেয়ে-ফেয়ে আনছিস নাকি আজ?” বলেই গলাটা নীচু করে, “আসব নাকি? পাঁচশোর পাত্তি চলবে তো?”

    .

    “চল ফোট বে ভিখারি কে অওলাদ,” খিস্তি করে ভজন, “গাঁড় ধোনে কা পানি নেহি, চুতিয়া চলে গঙ্গা নাহানে।” সামান্য টলতে টলতে খিস্তিটা দিয়ে ফেলেই বেশ ফ্রেশ ফিল করে ভজন। বাংলুর নেশাটা ভালোই চড়েছে তাহলে। ভালো দেশি দারুতে তামার পয়সা ঘষে আর ঝুল মিশিয়ে এই ইসপেসাল মালটা তৈরি করে ভজন। এর এক এক গেলাসে অনেক রথী মহারথীকে জমিন ধরিয়েছে ভজন।

    .

    আজ দোকানে মুরগিটা আসা মাত্তর পছন্দ হয়ে গেছিল ভজনের। অ্যাসিস্ট্যান্ট রহমানকে বলেছিল মালটা ভালো করে ড্রেসিং করে রাখতে, যেন অন্য কাস্টমারকে পয়সা দেখে গছিয়ে না দেয়। শুয়োরের বাচ্চাটা একনম্বরের হারামি, আগেরবার এরকমই ভজনের দেখে রাখা একটা ভালো মুরগা খদ্দের দেখে বেচে দিয়েছিল। সেই রাতে খানকির ছেলেটাকে ল্যাংটো করে বেল্ট দিয়ে চাবকেছিল ভজন। শালা বসের কথা শুনবি না কাস্টমারের?

    হরিয়া একটা কাগজের ঠোঙায় চারটে রুটি প্যাক করে দেয়, হাতে তুলে দেওয়ার সময় বেজার মুখে বলে “আড়াইশো টাকা হল তোর। এবার অন্তত একটা পঞ্চাশের পাত্তি ছাড়।”

    ফের খিস্তি করে ভজুয়া, “পালিয়ে যাচ্ছি না কি বে? শালা যার সোঙ্গে কোথা বোলি শুধু টাকা টাকা টাকা…” বলেই হরিয়ার দিকে সরু চোখে তাকায় সে।

    .

    সেই চোখের দিকে একবার তাকিয়ে চুপ করে যায় হরিয়া, চোখ সরিয়ে নেয় সে।

    .

    ভজন যে মারপিট খুনখারাপি করে তা নয়, সে এমন কিছু লম্বাচওড়া লোকও নয়। কম কথা বলা ঠান্ডা মাথার লোক সে। এক হরিয়া আর রহমান ছাড়া কারও সঙ্গে তার বিশেষ সখ্য নেই। যত চোটপাট খিস্তিখেউড় এদের ওপরেই। তা ছাড়া সারাদিন চুপচাপ নিজের কাজের জায়গায় বসে থাকে সে। লোকজন আসে, ঠান্ডা উদাসীন মুখে কাজকম্ম সারে সে। তারপর বরাদ্দ মাংসের খণ্ডটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। চেঁচামেচি ঝগড়াঝাঁটি খুব একটা করে না, বিরক্ত হলে একটাই কাজ করে ভজন। অপলক চোখে সোজা তাকিয়ে থাকে সামনের দিকে। ঠিক একটা ফণা তোলা কেউটের মতো।

    ওই ঠান্ডা চোখ দুটোর মধ্যে এমন কিছু একটা আছে যে সেদিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলে লোকের অস্বস্তি হতে থাকে। মনে হয় যেন শিরদাঁড়ায় গুঁড়ো গুঁড়ো বরফ পড়ছে যেন। লোকের মাথার মধ্যে অজান্তেই একটা ভয় চারিয়ে যেতে থাকে। অজানা এক ভয়।

    .

    ভজনকে লোকে ভয় পায়, খুব ভয় পায়। ভজনের চোখের রং সবুজ।

    .

    ভাঙা ল্যামব্রেটা স্কুটারটা কাত করে নেয় ভজন, তারপর কিক মেরে স্টার্ট করার চেষ্টা করে। এ বহুত পুরোনো মাল, ভজনের বাবা যখন এখানে চাকরি করত তখনকার। বুড়ি হলে কী হবে, জওয়ানি যায় যায় করেও যায়নি শালির। দু- বার ফলস মারার পর দাঁত চিপে একটা খিস্তি করে ভজন। খুব সম্ভবত সেই অশ্রাব্য খিস্তিটা শুনেই তিনবারের বার চালু হয়ে যায় ইঞ্জিন। পায়ের কাছে একটা ছোটো মতো ক্যারিয়ার বানানো আছে, মাংসের ব্যাগটা সেখানে রেখে ভুটভুট আওয়াজ তুলে বেরিয়ে যায় সে।

    .

    এই এলাকায় এমনিতেই লোকজন খুব একটা আসে না, তার ওপর শীতের শুরুয়াত। একটু একটু করে কুয়াশা নেমে আসছে রাস্তার ওপর। রাস্তা বিলকুল ফাঁকা। গলি থেকে মিনিট দুয়েক স্কুটার চালালে বড়ো রাস্তা শুরু। মোড়ের মাথার সর্দারজির টায়ার টিউবের দোকানটা সচরাচর রাত দশটা অবধি খোলা থাকে, আজ সেটাও বন্ধ। শুধু পাশের লছমনের পানের দোকানটা খোলা ছিল। টেমির টিমটিমে আলোয় দেখা যাচ্ছিল যে চুপচাপ পাথরের মূর্তির মতো বসে আছে লছমন আর ট্রানজিস্টরে গান ভেসে আসছে ‘তুম ইতনা জো মুসকুরা রহে হো…’

    .

    মাসখানেক আগে লছমনের বউ দুলারি বাচ্চা হতে গিয়ে মরে গেছে। মহিলার চরিত্র নিয়ে বাজারে কম গুজব উড়ত না, যার বেশিরভাগটাই সত্যি। লছমনের ঘরের মধু অবরে-সবরে ভজনও কম চাখেনি। শেষবারেও তো… আহা… মালটা তোফা ছিল… ভেবেই শীতের মধ্যেও চেগে উঠল ভজন। যেমন নরম তেমনই রসালো ছিল বটে দুলারি।

    .

    শীতের রাতে স্যাঁতসেঁতে হাই রোড ভজনের স্কুটারে চাকার নীচে সাঁইসাঁই পিছলে যাচ্ছে ক্ষুর ধার দেওয়ার চামড়ার বেল্টের মতো। রাস্তার দু-পাশের ফসলকাটা জমি বাঁজা মেয়েমানুষের ফাঁকা কোলের মতো এলিয়ে শুয়ে আছে। থেকে থেকে একটা ঠান্ডা হাওয়ার ঝলক এসে হাড় কাঁপিয়ে দিচ্ছিল ভজনের, বাংলুর ওমটা কমে আসছিল তার। চারিদিকে অন্ধকার রাত নেমে এসেছে কালো চাদরের মতো। ভজনের স্কুটারের আলোটা মরা মানুষের ঘোলাটে হলদে চোখের মতো রাস্তার ওপর ছলকে ছলকে উঠছিল। রাস্তায় দূর দূর অবধি মানুষ কেন, একটা প্রাণীর চিহ্নমাত্র নেই। সচরাচর এসময় এই রাস্তা কাঁপিয়ে মস্ত মস্ত পাঞ্জাব লরি ছুটে যায়। কিন্তু আজ তাদেরও চিহ্নমাত্র নেই। দু-ধারে ঠান্ডা কালো আকাশ নেমে এসেছে দিগন্ত জুড়ে, আকাশে উজাগর হয়ে রয়েছে কালপুরুষ। তারই মধ্যে ঘটঘট শব্দ করে তারার আলোয় পথ চিনে চিনে চলছিল ভজনের স্কুটার।

    .

    হালকা একটা শিস দিতে দিতে স্কুটার চালাচ্ছিল ভজন। প্রায় অর্ধেক রাস্তা চলে এসেছে ও। সামনে ফাঁসিবটের মোড় মোড়টা পেরিয়ে জংলাবুড়ির বিল, তার পাশের আলপথ বেয়ে স্কুটার চালালেই আর মিনিট পঁচিশেকের রাস্তার পর ওর বাড়ি।

    মনটা প্রফুল্ল হয়েছিল ভজনের, খুব সম্ভবত বহুদিন বাদে এমন চুজ্জা মুরগি পাওয়ার জন্যই হয়তো। সেই প্রফুল্লতায় ডুবে থাকার জন্যই হঠাৎই কোথা থেকে যেন ক্যাঁওওওও আওয়াজ পেয়ে জোর চমকে যায় সে। ক্যাঁঅ্যাঅ্যাঅ্যাচ করে সজোরে ব্রেক কষে ভজন। আওয়াজটা যেন পাশের কালভার্টের নীচ থেকে আসছে কি?

    মুহূর্ত খানেকের পরেই ব্যাপারটা বুঝতে পারে ভজন। আওয়াজটা ওর চাকার তলা থেকেই আসছে।

    .

    স্কুটারটা দাঁড় করিয়ে একটু ঝুঁকে দেখল ভজন। কী একটা যেন ওর চাকার তলায় ছটফট করছে। দ্রুত স্কুটারটা

    ৫০

    পিছিয়ে আনে সে। তারপর স্ট্যান্ড লাগিয়ে উবু হয়ে দেখার চেষ্টা করে কেসটা কী। একটা বেড়ালের বাচ্চা। ওর স্কুটারের নীচে চাপা পড়েছে।

    কেমন যেন একটু হতভম্ব হয়ে যায় ভজন। যতই অন্ধকার হোক, একটা বেড়াল বাচ্চা রাস্তা পেরিয়ে ওর গাড়ির চাকার তলা অবধি চলে এল, আর সেটা ওর নজরে পড়ল না? চোখ দুটোর মাথা খেয়েছে নাকি ও? আর-একটু নীচু হল ভজন। আর এইবার নজরে না পড়ার কারণটা নজরে এল ওর।

    .

    বেড়াল বাচ্চাটা কালো। কালো মানে কুচকুচে কালো। এমন কালো বিড়াল জন্মে দেখেনি ভজন। তবে যেটা দেখে একটু থমকে গেল ও সেটা হচ্ছে বিড়ালটার চোখ।

    বিড়ালটার চোখ সবুজ। ঘন সবুজ। ওর চোখের মতোই।

    .

    সেই অন্ধকার রাতে ক্ষীণ তারার আলোয় জীবনে প্রথমবারের জন্য গা-টা শিরশির করে উঠল ভজনের। তখনও দাঁত খিঁচিয়ে খাবি খাচ্ছিল বেড়ালের বাচ্চাটা। সামনের থাবা দুটো থরথর করে কাঁপছিল ওর, আর গাঢ় সবুজ চোখ দুটো মেলে চেয়ে ছিল ভজনের দিকে।

    .

    ভজনকে কিছু কি বলতে চাইছিল বেড়ালছানাটা?

    .

    মাথাটা একবার ঝাঁকিয়ে নেয় ভজন। আজকে মালটা একটু বেশি হয়ে গেছে মনে হচ্ছে। নইলে এসব বেফালতু ভাবনাচিন্তা ওর মগজে আসার কথাই নয়। বেড়াল মানে বিল্লি, আর কালো বেড়াল মানে কালি বিল্লি। মালের নেশা ছাড়া এই ছটফটানো কালি বিল্লি দেখে ওর এত বিচলিত হওয়ার আর কোনো কারণ থাকতে পারে নাকি?

    সোজা হয়ে দাঁড়ায় ভজন। তারপর জুতোর ডগা দিয়ে দলা হয়ে যাওয়া বেড়াল বাচ্চার দেহটা ফুটবলের মতোই দূরে ছুড়ে দেয় ও। ফালতু ঝঞ্ঝাট যত। এসব চুদুরবুদুরে আটকে না গেলে এতক্ষণে বাড়ির কাছাকাছি চলে যাওয়ার কথা ওর।

    .

    স্কুটারের ক্যারিয়ারে একটা জলের বোতল রাখাই থাকে ভজনের। সেটা বার করে জুতোর ডগাটা ধুয়ে নেয় ও। কুলকুল করে রক্ত ধোওয়া কালো জলের স্রোত রাস্তার ওপর দিয়ে বয়ে যায়। দেখে মনে হয় কেউ যেন পেচ্ছাপ করেছে ওখানে। হি হি করে হাসে ভজন। তারপর ওর মনে পড়ে যে ওরও পেচ্ছাপের বেগ পেয়েছে প্রবল। রাস্তার মধ্যিখানে স্কুটারটা দাঁড় করিয়ে আলের ধার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে প্যান্টের চেনটা খোলে সে।

    শেষ হয়েছে কাজ, চেনটা টেনে বন্ধ করবে ভজন, ঠিক এমন সময় একটা কান্না শুনে ঘাড়ের রোঁয়া দাঁড়িয়ে গেল ওর। এখান থেকে ঠিক একটু দূরে একটা মা বেড়ালের কান্নার শব্দ ভেসে এল না? কে যেন ইনিয়েবিনিয়ে সেই খোলা মাঠে কেঁদে বেড়াচ্ছে?

    গা-টা শিরশির করে উঠল ভজনের। চেনটা টেনে দ্রুত স্কুটারে চেপে বসে কিক মারল ও। ওর মন বলছিল যে এখানে যেটা ঘটছে সেটা একদম ঠিক নয়। একদম নয়।

    .

    স্কুটারটা ফুল স্পিডে ছোটাচ্ছিল ভজন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়ি ফিরতে হবে ওকে। জংলাবুড়ির বিলের পাশের রাস্তা ধরে প্রায় উড়েই যাচ্ছিল ওর স্কুটারটা। ডানপাশ থেকে বিলের জল ছুঁয়ে আসা ঠান্ডা হাওয়া ওর কপালের ঘামের ফোঁটায় খিলখিল করে হেসে উঠছিল যেন। শিরশিরানিটা আরও জমে যাচ্ছিল ওর বুকের মধ্যে।

    বিলটা শেষ হয়ে এসেছে প্রায়, কুয়াশা আরও ঘন হয়ে এসেছে, এমন সময় হঠাৎ প্রতিবর্ত ক্রিয়াতেই ক্যাঁঅ্যাঅ্যাঅ্যাচ করে ব্রেক কষতে বাধ্য হল ভজন।

    .

    বাঁদিক থেকে ডানদিকে রাস্তা পার হচ্ছে একটি যুবতী মেয়ে। সে তার ডান হাতে একটি বাচ্চা মেয়ের হাত ধরে আছে। বাচ্চাটার ডান হাতে আবার পুতুল-টুতুল কিছু একটা হবে, বুকের কাছে জড়িয়ে ধরে আছে। রাস্তার প্রায় মাঝখানে চলে এসেছিল দুজনে, আর-একটু হলেই ভজন ওদের ওপর ভিড়িয়ে দিচ্ছিল প্রায়। স্কুটারের চাকাটা একটু স্কিড করে যেতে খিস্তি দিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে ভজন।

    আর বোধহয় সেই শুনেই ডানদিকে ঘাড়টা ঘুরিয়ে তাকাল মেয়েটি। সেইদিকে তাকিয়ে পাথর হয়ে যায় ভজন।

    এমন বীভৎস কুচকুচে কালো রং যে কোনো মানুষের গায়ের হতে পারে সে কোনোদিনও ভাবেনি ভজন। তার মনে হল কেউ যেন একদলা পিচ পিটিয়ে পিটিয়ে তৈরি করেছে এই মেয়েটার শরীর। মাথার মধ্যে সেই পিচের দলা পেটানোর শব্দটাও শুনতে পাচ্ছিল ভজন। যেটুকু তারার আলো চুঁইয়ে পড়ছিল আকাশ থেকে, সেসব শুষে নিচ্ছিল মেয়েটির অবয়ব। তবে তাতেও ভয় পায়নি ভজন, ভয় পেল যেটা দেখে সেটা হচ্ছে মেয়েটার চোখ দুটো।

    .

    মেয়েটার চোখের জায়গায় চোখ আছে বটে, কিন্তু সে দুটো মাটির সমান্তরাল নয়।

    সে দুটো লম্বালম্বি বসানো!

    আর কপাল থেকে গাল অবধি নেমে আসা সেই চোখে ভেতর দুটো খালি! একেবারে খালি!

    .

    ভেতরে ভেতরে কাঁপুনি শুরু হয়ে গেছিল ভজনের। সেইদিকে অপলক চোখে তাকিয়ে ছিল সে। তার মধ্যেই বাচ্চা মেয়েটাও ডানদিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল তার দিকে।

    আর কেন জানি না ভজনের মনে হল যে ঘাড়টা ঘুরল না, শুধু মাথাটা এদিকে ঘুরে গেল! বাচ্চাটার চোখ দুটো অবশ্য ঠিকঠাকই ছিল, কিন্তু সে দুটোর ভেতরেও একমুঠো অথই অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেল না ভজন।

    যেতে যেতে দাঁড়িয়ে পড়ল বাচ্চাটা, আর তারপর তার ফেটে যাওয়া রক্তমাখা ঠোঁট দুটো হাসির ভঙ্গিমায় দু-দিকে বেঁকে গেল। বাচ্চাটা হাসছে!

    সেই হাসি যেন ঠান্ডা করে দিল ভজনের প্রতিটা রক্তবিন্দু। থরথর করে কাঁপছিল তার হাত-পা। বিন্দু বিন্দু ঘাম নেমে আসছিল সারা শরীর জুড়ে। বুকের মধ্যে হাপর টানছিল কেউ আর হাজার ড্রাম বাজছিল। আর তাকিয়ে থাকতে পারল না ভজন, চোখের পাতা দুটো ভারী হয়ে নেমে এল ওর।

    ভজনের মনে নেই কতক্ষণ চোখ দুটো বুজেছিল সে। কিছু পরে চোখ খোলে ভজন।

    কেউ নেই। কেউ কোত্থাও নেই।

    .

    কাঁপা কাঁপা হাতে পকেট থেকে রুমাল বার করে ঘাম মোছে ভজন। বুঝতে পারে যে রগের শিরা দপদপ করছে তার। কান দুটো গরম হয়ে আছে আগুনের মতো। বুকের ভেতর ড্রাম পেটানোর আওয়াজটা তখনও কমেনি তার। হাত- পা তখনও একটু একটু কাঁপছে। কোনোমতে জলের বোতলটা তুলে মুখে চোখে জলের ঝাপটা দেয় ভজন।

    ঠান্ডা জলের ঝাপটায় খানিকটা প্রকৃতিস্থ লাগে তার। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই কিছুক্ষণ বিড়বিড় করে ভজন, তারপর নিজের গালে নিজেই দুটো থাপ্পড় মারে। নাহ, এত নেশা আর কখনোই করবে না ভজন। ঘাট হয়েছে তার। টাটকা লিভার ফ্রাইয়ের লোভে লোভে ফুল বোতল খালি করে দেওয়াটা একদমই উচিত হয়নি। তার ওপর কী যেন একটা ফুঁকছিল আজ?

    আহ, এইবার বুঝল ভজন। রহমান ওর কোনো দেশোয়ালি ভাইয়ার কাছ থেকে ভালো কোয়ালিটির গাঁজা গেঁড়িয়েছিল কিছু। দুটো মিলেমিশেই আজ এই অবস্থা। সেই জন্যই চোখে এইসব ভুলভাল দেখছে ও।

    .

    নিজেকে বোঝালো বটে ভজন, কিন্তু কোথাও যেন একটা ধন্ধ তার মনের মধ্যে কাঁটার মতো খচখচ করতে লাগল।

    বাচ্চা মেয়েটাকে খুব চেনা চেনা লাগছিল ভজনের। কোথায় যেন দেখেছে ও?

    .

    গাড়ি চালাতে চালাতে ভাবছিল ভজন। কোথায় যেন সদ্য দেখেছে বাচ্চাটাকে? নেশার ঘোরে স্মৃতিটা একটু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল তার। মুখটা তাকে বিব্রত করছিল খুব। ভজন কোথায় দেখেছে এই মুখ?

    .

    বাড়ির সামনে স্কুটারটা স্ট্যান্ড করার সময়েও কথাটা ভাবছিল ভজন। অস্বস্তিটা ক্রমশই বেড়ে উঠছিল তার। কোথায় যেন… কোথায় যেন… কোথায় যেন…

    .

    পাড়ার এককোণে একটা নতুন চারতলা বিল্ডিং, তার একতলাটা ভাড়া করে থাকে ভজন। বাকি বিল্ডিং-এর পুরোটাই ফাঁকা। অন্য ফ্লোরে কেউ আসেনি এখনও। তবে সেসব নিয়ে বিশেষ চিন্তা করে না ভজন। চিরকালই নির্জন নিরিবিলি পছন্দ করে এসেছে ও, তাতে ওর কাজের সুবিধাই হয়। স্কুটারটা স্ট্যান্ড করায় দরজার সামনে। তারপর চাবি দিয়ে দরজা খোলে ভজন। পাল্লা দুটো হাট করে খুলে যায় আর, ঠিক সেই সময়েই মেঝের ওপর পড়ে থাকা জিনিসটা নজরে পড়ে ওর। ওটা আবার কী?

    টলতে টলতে ঘরে ঢোকে ভজন। ঝুঁকে পড়ে জিনিসটা তুলে নেয়।

    জিনিসটা একটা পুতুল, আরও ভালো করে বলতে গেলে একটা মেয়ে পুতুল। বাচ্চারা যেমন পুতুল নিয়ে খেলে তেমনই আর কী। বাঁহাতে পুতুলটা নিয়ে সেটাকে খুঁটিয়ে দেখতে দেখতে ডানহাতে লাইটের সুইচ অন করে ভজন। মাথার ওপর একটা ষাট পাওয়ারের বাল্‌ব ক্লান্তভাবে দুলতে থাকে। অন্যমনস্ক ভাবে সেটা নিয়ে কিচেনে ঢোকে ভজন। তারপর ভালোভাবে দেখতে থাকে।

    পুতুলটা কাপড়ের তৈরি, প্রায় আধহাত লম্বা। বুকের জামাটার ওপর বাচ্চাদের হাতের লেখায় বড়ো বড়ো করে ডটপেনের কালিতে লেখা ‘ঝিমলি’। তাতে পুতুলটাকে কিউট দেখানোর কথা, এখন ভীষণ নোংরা দেখাচ্ছে। মনে হয় কে যেন থেঁতলে পিষে কামড়ে বীভৎস অত্যাচার করেছে পুতুলটার ওপর। একটা হাত মোচড়ানো। একটা পা ছিঁড়ে নেওয়া। সারা গায়ে এখানে-ওখানে খোবলানো আর কামড়ানোর দাগ। মাথার একদিকটা ফাটা। মনে হচ্ছে কেউ একটা ডাস্টবিনে ফেলে গেছিল পুতুলটা, আর কুকুর বিড়ালে নিয়ে সেটা নিয়ে কামড়া- কামড়ি করেছে। নোংরা ঘিনঘিনে পুতুলটা দেখে বিরক্ত লাগল ভজনের। কিচেনের জানলাটা খুলল সে, আর তারপর গায়ের সমস্ত জোর দিয়ে যত দূরে সম্ভব ছুড়ে ফেলল পুতুলটাকে।

    তারপর জানলাটা বন্ধ করতে যাবে, এমন সময় মনে পড়ল ভজনের, এই যাঃ, মাংসের প্যাকেটটা গাড়িতেই রয়ে গেল যে!

    টলতে টলতে সদর দরজা খুলে দু-ধাপ সিঁড়ি নেমে স্কুটারের কাছে এল ভজন। তারপর ঢাকনাটা খুলে ক্যারিয়ারের মধ্যে হাত চালিয়ে দিল সে। খড়মড় করে তার আঙুলগুলো ক্যারিয়ারের চারিদিক ঘুরে চলে এল।

    ক্যারিয়ার খালি। কিচ্ছু নেই সেখানে। মাংসের প্যাকেট উধাও!

    এইবার মাথাটা গণ্ডগোল হয়ে যায় ভজনের। মাংসের প্যাকেট উধাও হয় কী করে? ঢাকনা দেওয়া ক্যারিয়ার। যতই ঝাঁকুনি লাগুক, সেখান থেকে প্যাকেটটা রাস্তায় পড়ে যেতে পারে না। যেটুকু সময়ের জন্য ভজন বাড়ির ভেতর ঢুকেছিল তার মধ্যে কুকুর বেড়ালের পক্ষেও সেটা নিয়ে যাওয়া অসম্ভ। তাহলে মালটা গেল কোথায়?

    প্যান্টের বাঁ পকেটে রামের একটা ছোটো কোয়ার্টার সবসময়ই থাকে ভজনের, বিপদ-আপদের সঙ্গী। এতক্ষণ সেটার কথা মনেই ছিল না ওর। এইবার সেটার কথা মনে পড়াতে বোতলটা বার করে ছিপিটা খুলে পুরো বোতলটা গলায় ঢেলে দেয় ও।

    নেশাটা নিভে আসছিল তার। কিন্তু হঠাৎই এই ইন্ধন পেয়ে যেন দাউ দাউ বেগে দ্বিগুণ জ্বলে উঠল তার আচ্ছন্নতা।

    .

    কিচেনে থুপথাপ করে ফিরে আসছিল ভজন। মাংসের প্যাকেটটা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় মাথাটা দাউ দাউ করে জ্বলছিল তার। এবার কী করবে সে? আজকের রাতটা কী করে চলবে তার? তার ওপর তখনও তার অবচেতনে একটা অস্বস্তি অনবরত তাকে খুঁচিয়ে যাচ্ছিলই। বাচ্চাটার মুখ তার এত চেনা লাগছিল কেন? কোথায় দেখেছে সে এই বাচ্চার মুখ? সেই বেড়াল বাচ্চাটার চোখ এমন সবুজ দেখাচ্ছিল কেন? যে পুতুলটাকে ছুড়ে ফেলে দিল সে, তার চোখই বা…

    হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎই থেমে গেল ভজন। যেটা তার নেশাগ্রস্ত মাথায় ধরা পড়েনি, সেটা কিন্তু তার সদাসতর্ক অবচেতনে ছাপ ফেলতে ভুল করেনি একেবারেই!

    ওই ঝিমলি লেখা পুতুলটার, যেটা কিচেনের বাইরে ছুড়ে ফেলেছে ভজন, তারও চোখদুটো সবুজ। ঘন সবুজ! ঠিক ভজনের মতো!

    .

    সেই বেড়াল বাচ্চাটার মতো!

    .

    ভজনের স্নায়ু আর নিতে পারছিল না। দেরাজ খুলে একটা আধখাওয়া বাংলার বোতল বার করে আনে সে। তারপর একটা গ্লাসে ঢেলে হাফগ্লাস নিট বাংলু গলায় চালান করে দেয় সে!

    .

    মদটা তার গলা জ্বালিয়ে বুকে নামতে নামতেই কিচেনের দিকে হাঁটা দেয় সে। শালা, মালটা রাস্তায় পড়ল কোথায়? আহা, অমন কচি মাংস অনেকদিন জোটেনি ভজনের। আজ ভেবেছিল আয়েশ করে খাবে। একটা ব্যর্থতার রাগ ভেতরে ভেতরে চিতিসাপের বিষের মতো ছড়িয়ে পড়তে থাকে তার মস্তিষ্কের কোশে কোশে।

    কিন্তু কিচেনে পৌঁছাতেই চমক! এই তো মাংসের প্যাকেটটা! কিচেন বেডের ওপর!

    .

    দেখেই ধক করে একরাশ নিশ্চিত খুশি নেমে আসে ভজনের বুকে। যাক বাবা, অনেকগুলো ঝামেলার হাত থেকে রেহাই পাওয়া গেল। আজ রাতে আর অন্য কিছু করে খেতে হচ্ছে না! ভজনের মনে হয় খুশিতে এবার নেচেই উঠবে ও। বাপ রে বাপ, কী টেনশনেই না পড়ে গেছিল সে।

    ধীরে ধীরে কিচেন বেডের কাছে এসে দাঁড়ায় ভজন। একটা ট্রে এনে রাখে প্যাকেটটার সামনে। তারপর প্যাকেটটার গার্ডার খুলে ভেতরের মাংস খণ্ডগুলো সড়াৎ করে ট্রে-র ওপর এনে ফেলে।

    বাহ বাহ, কাট দেখে মুগ্ধ হয়ে যায় ভজন। রহমানটা দিন দিন হারামি হয়ে উঠলে কী হবে, মাংস কাটাটা ভালোই শিখেছে ওর কাছে। গুরুর যোগ্য চ্যালাই বটে।

    মাংস কাটার বড়ো চপারটা সবে হাতে নিয়েছে ভজন, এমন সময়ে দপ করে লোডশেডিং হয়ে যায়।

    এই শালা এক মুসিবত এই ব্যহেনচোদ টাউনের, চাপা দাঁতে খিস্তি করে ভজন, থেকে থেকে বিজলি চলে যায়। হাতড়ে হাতড়ে কিচেনের ড্রয়ার থেকে মোমবাতিটা বার করে প্রথমে, তারপর পকেট থেকে লাইটারটা বার করে মোমবাতি জ্বালায় সে।

    মোমবাতির আলোয় ভূতুড়ে দেখায় ভজনের দীর্ঘ ছায়া। মাথার ঝাঁকড়া চুলগুলো সাপের লেজের মতো উড়তে থাকে। হাতের চপারটা অনাবশ্যক রকমের দীর্ঘ দেখায়। আর সেই ছায়ার মধ্যে দপদপ করতে থাকে তার লাল লাল চোখ দুটো। ঢুলুঢুলু চোখে খানিকক্ষণ নিজের ছায়ার দিকে চেয়ে থাকে ভজন। বড়ো মোহময় লাগছিল তার নিজের ছায়াছবি। একটা শিরশিরে অনুভূতি ঠান্ডা কেঁচোর মতো তার শিরদাঁড়া বেয়ে বেয়ে নীচের দিকে নামছিল।

    চপারটা তুলে নিয়েছিল ভজন, ট্রে-র ওপর রাখা মাংসখণ্ডের ওপর নামিয়ে আনবে। ঠিক তার আগের মুহূর্তে একটা কথা তার মাথায় যেন হঠাৎ হাউইয়ের মতোই জ্বলে উঠে তাকে হতভম্ব করে দিল।

    ছায়ার চোখ জ্বলে কী করে? ছায়ার চোখ থাকে নাকি?

    প্রশ্নটা এক লাথি মেরে তার মাথার দরজাটা হাট করে খুলে দেয়। অনেকগুলো প্রশ্ন, যেগুলো এতক্ষণ তার মনের অন্ধকার কোণে ঘাপটি মেরে পড়েছিল সেগুলো হুড়মুড়িয়ে তার মাথার মধ্যে ছায়ার মতো ভিড় করে আসে।

    ঘরের দরজাটা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ঘরের মধ্যে পুতুলটা এল কোথা থেকে?

    পুতুলটা আজকেই কোথায় একটা দেখল না ভজন? কোথায় দেখল যেন?

    মাংসের প্যাকেটটা কিচেনে নিজে নিজে এল কী করে? সেই বিড়ালছানাটা থেকে শুরু করে বাচ্চা মেয়েটা, মায় এই পুতুলের চোখ অবধি, সবার চোখ অমন সবুজ হয় কী করে?

    বাচ্চা মেয়েটাকে কোথায় দেখেছে ভজন? কোথায়?

    হাঁ করে নিজের ছায়ার দিকে চেয়েছিল ভজন। তার ছায়ার চোখ দুটো যেন ক্রমশ আগুনে কয়লার মতো জ্বলে উঠছিল, ঠোঁট দুটো বেঁকে গেছিল অর্ধবৃত্তাকারে।

    ছায়াটা তার দিকে তাকিয়ে হাসছিল।

    হাসছিল সেই বাচ্চা মেয়েটার মতো!

    ঠিক সেই সময়েই কিচেন বেডের ওপর পড়ে থাকা মোবাইলটা খড়খড় করে উঠে তাকে চমকে দেয়। স্ক্রিনের দিকে তাকায় ভজন, সেখানে কোনো নাম্বার নেই। কলটা অ্যাক্সেপ্ট করে মোবাইলটা কানে তোলে ভজন। সতর্কভাবে প্রশ্ন করে, “কে?”

    ওপারে কিছুক্ষণের নৈঃশব্দ। তারপর লাইন বেয়ে একটা বাচ্চা মেয়ের ধাতব ক্যানক্যানে গলায় খিলখিল হাসি ভেসে এল, “ও আঙ্কেল, আমাকে বাইরে ফেলে দিলে কেন গো?”

    ঘাড়ের রোঁয়া দাঁড়িয়ে গেল ভজনের। ফোনটা ঝট করে কেটে দিল সে। তারপর বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে রইল ফোনের দিকে। কার ফোন ওটা? কে কল করল তাকে?

    তার আতঙ্কিত চোখের সামনে ফের বেজে উঠল সেই ফোন।

    স্ক্রিনে কোনো নাম্বার নেই।

    নিজের সমস্ত ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার হাত যন্ত্রচালিতের মতো এগিয়ে গেল সামনের মোবাইলের দিকে। কল অ্যাক্সেপ্ট করে ঠান্ডা হাতে মোবাইলটা কানে নেয় সে। কপাল থেকে ঘামের ফোঁটা তার গাল বেয়ে নামতে থাকে।

    .

    “কী হল আঙ্কেল, আমার সঙ্গে খেলবে না? দরজাটা খোলো না আঙ্কেল, আমি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে যে।”

    .

    দরদর করে ঘামতে থাকে ভজন। সেই ধাতব স্বর যেন তার শরীরের সমস্ত রক্তকণা ঠান্ডা করে দেয়। তার মাথার সমস্ত বোধবুদ্ধি জমে যেতে থাকে মৃত মানুষের বরফ ঠান্ডা ঘিলুর মতো।

    ঘোরের মধ্যে হেঁটে হেঁটে দরজার কাছে যায় সে। যন্ত্রের মতো বোধহীন হাতে দরজাটা খোলে সে, দু-হাট করে দেয় পাল্লা।

    দরজার বাইরে কেউ নেই। কিছু নেই। হুহু করে হেমন্তের হাওয়া খেলে যায় ভজনের বুকে।

    .

    দরজা বন্ধ করে ফের কিচেনে আসে সে। বাংলুর বোতলটা গলায় উপুড় করে দেয় প্রায় আদ্ধেকটা। রোমে রোমে অশ্লীল উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে গোপন পাপের মতো। চপারটা থরথর হাতে ফের তুলে নেয় সে। কিমা করতে হবে ।মাংসের টুকরোগুলোকে।

    আবার বেজে ওঠে ফোন। তখন বোধহয় ভজনের মস্তিষ্কের সমস্ত কোশগুলো আতঙ্কে আর ভয়ে মৃতপ্রায় হয়ে গেছে। অনুভূতিহীন হাতে মোবাইল তুলে নেয় সে। মোবাইলের ওপার থেকে খিল খিল করে টিনের খেলনার মতো শব্দে হেসে ওঠে কেউ, “ও আঙ্কেল, কোথায় গেলে? আমি তোমার বাড়ির ভেতরেএএএ।”

    ফোনটা হাত থেকে পড়ে যায় ভজনের। এদিকে- ওদিকে ছড়িয়ে যায় ফোনের স্ক্রিন আর ব্যাটারি। পাথরের মতো সেদিকে তাকিয়ে থাকে ভজন। তার সাহস হয় না সেগুলো কুড়িয়ে তুলতে। মদের নেশায় চারপাশের সবকিছুই ঝাপসা দেখাচ্ছিল তার কাছে, ছায়া খেলে যাচ্ছিল প্রতিটি বস্তুর চারিপাশে। কিছুই আর স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল না তার কাছে। চপারটা কোথায় আছে সেটা নজরে আসেনি তার। পুরো কিচেন বেডটাই শ্মশানের চুল্লির মতো গলে গলে পড়ছিল যেন ভজনের চোখের সামনে।

    দৌড়ে দৌড়ে সারা বাড়ি ঘুরতে থাকে ভজন। কোথায় লুকিয়ে আছে শুয়ার কি বাচ্চি! বেডরুমে যায় ভজন। খোলা জানালা থেকে আদ্ধেক জাগা রাতের আলো চুঁইয়ে এসে পড়ছিল বিছানার ওপর। সেই আলোয় ভজন দেখল সেখানে কেউ নেই! সেখান থেকে বাথরুম। বসার ঘর। পিছনের উঠোন। সোফার নীচে। বিছানার নীচে। বাইরের বারান্দা। উঠোনের বাইরের মাঠ।

    ভয়ে আর আতঙ্কে বিচলিত ভজন দাঁতের ফাঁক দিয়ে থুতুর মতো খিস্তি ছেটাতে থাকে। থুতু ছেটাতে ছেটাতে সারা ঘর ঘুরে বেড়াতে থাকে প্রেতের মতো। ভয় আর অসহায় ক্রোধ ছড়িয়ে পড়ে সেই অন্ধকার মোমবাতি জ্বলা ঘরের মধ্যে। কোথায় সেই স্বর? কে বারবার কল করছে তাকে? কেন কল করছে?

    ক্লান্ত হয়ে শেষে কিচেনে ফিরে আসে ভজন। ব্যর্থ শিকারি কুকুরের মতো হাঁপাতে থাকে সে। তার মধ্যে মিশে থাকে আতঙ্ক, মিশে থাকে রাগ, মিশে থাকে চোরা ভয়।

    ওই তো কিচেন বেডের ওপর মাংসের টুকরোগুলো। পায়ে পায়ে সেদিকে এগিয়ে যায় ভজন। আজ বিকেল থেকে কীসব হচ্ছে তার সঙ্গে? কেন? এতদিন ধরে তো কিছুই হয়নি তার!

    .

    মাংসের ট্রে-টার সামনে এসে দাঁড়ায় ভজন। তারপর ডানহাতটা বাড়ায় চপারটার জন্য।

    .

    তার হাতটা খালি ঘুরে আসে সেখান থেকে। চপারটা নেই, উধাও।

    .

    চপারটা কোথায় গেল, কোথায়? কোথাও ফেলে এল নাকি? খালি জায়গাটার দিকে তাকিয়ে থাকে ভজন। মাথার ভেতরটা খালি হয়ে গেছিল তার।

    ঠিক সেই সময় মোবাইলটা ফের বেজে ওঠে মেঝের ওপর থেকে। স্থির চোখে সেদিকে তাকিয়ে থাকে ভজন। মোবাইলটার ব্যাটারি এখনও পড়ে আছে অন্যদিকে। তবুও মোবাইলের নীলাভ স্ক্রিনে ইনকামিং কলের ছবি ভেসে উঠছে, কিন্তু কোনো নাম্বার নেই।

    পাথরের মূর্তির মতো নীচু হয়ে মোবাইলটা তোলে ভজন, কল অ্যাক্সেপ্ট করে কানে লাগায় সে।

    .

    সেই ধাতব খিলখিল হাসি যেন গরম সিসের মতো ভজনের কানে নেমে আসতে থাকে, “কী গো আঙ্কেল, আমাকে ঘরে নিয়ে যাবে না? ঘুরে দেখো, আমি তোমার পেছনেই যে!”

    ধীরে, অতি ধীরে পেছনে ঘোরে ভজন।

    .

    কিচেনের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে একটা বাচ্চা মেয়ে। তার বাঁহাতে একটা কাপড়ের পুতুল ধরা, আর ডানহাতে ধরা একটা মাংস কাটার চপার। ভজনের চপারটা।

    .

    ডানহাতে চপারটা ধরে, রক্তমাখা ফাটা ঠোঁট দুটো দু- পাশে বাঁকিয়ে হাসতে হাসতে ভজনের দিকে টলটলে পায়ে এগিয়ে আসতে থাকে সেই বাচ্চা মেয়েটা। তার সবুজ চোখ চিনতে ভুল হয় না ভজনের, ভুল হয় না পুতুলটা চিনে নিতে, ভুল হয় ন তার স্কুটারের চাকার নীচে চাপা পড়া বেড়াল বাচ্চাটির চোখের রং চিনে নিতে।

    শুধু যেটা দেখে মরণান্তিক ভয়ে স্থির হয়ে যায় ভজন, সেটা হচ্ছে যে এতক্ষণে বাচ্চাটার মুখ মনে পড়ে গেছে তার।

    যে রক্তাক্ত মুখের শিশুটি তার দিকে চপার হাতে টলোমলো পায়ে হেঁটে আসছে, সেই এখন বসন্তপুর মর্গের কেয়ারটেকার ভজন দুসাদের বাড়ির কিচেন বেডের ওপর রাখা ট্রেতে শুয়ে আছে খণ্ড খণ্ড মাংসের টুকরো হয়ে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleডাইনিবুড়ি ও অন্যান্য – অভীক সরকার
    Next Article মিত্তিরবাড়ির গুপ্তধন – অভীক সরকার

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }