Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অন্ধকারের গল্প – অভীক সরকার

    লেখক এক পাতা গল্প133 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ও যখন ডাকে

    [Robert Bloch এর লেখা Enoch গল্পটির অনুবাদ]

    ব্যাপারটা সচরাচর এইভাবেই আরম্ভ হয়।

    প্রথমটা শুরু হয় মাথার ভেতরে কারও একটা হেঁটেচলে বেড়াবার অনুভূতি দিয়ে। মনে হয় কে যেন শীতল ধাতব পায়ে খুলির ওপরে হাঁটছে। ওঠানামাটা শুরু হয় অবশ্য ঘাড়ের কাছ থেকে। তারপর দু-খানা ছোটো ছোটো পা মাথার মধ্যে এদিক থেকে ওদিক চলেফিরে বেড়াতে থাকে। অস্বস্তিটা বাড়তে বাড়তে অসহ্য হলে আমি মাথার চুলগুলো আঁকড়ে ধরে ঝাঁকাতে থাকি। ভাবি এই বুঝি ধরতে পারব ওকে।

    কিন্তু না। ও খুব চালাক, আর সেরকমই ধূর্ত ওর গতিবিধি। অনায়াসে আমার মুঠির নাগাল এড়িয়ে ও নেমে আসে আমার ঘাড়ের কাছে।

    আর কথা বলে। ফিসফিস করে। আমার কানের মধ্যে ভাবছেন আমি মিথ্যে কথা বলছি? আমিও তাই ভাবতাম, যদি না ঘাড়ের কাছে ওর ধারালো নখের আঁচড়গুলো বুঝতে পারতাম। প্রথমে মনে হয় বরফের ছোটো ছোটো ছুরির মতো আঙুল দিয়ে কে যেন আমার কানের পাশের চামড়াগুলো খিমচে দিচ্ছে। এতই শীতল সেই আঙুল, আর এতই ধারালো সেই নখ, যে প্রথমে মনে হয় আমার ঘাড়ে আর মাথায় কোনো সাড় নেই। পরে অবশ্য ধীরে ধীরে একটা জ্বলুনিভাব ফিরে আসতে থাকে ওখানে। তখন আয়নার সামনে দাঁড়াতেই হয়। আর বুঝতে পারি যে ও আবার কিছু একটা বলবে আমাকে।

    বলবে ধীরে ধীরে, প্রায় না শোনার মতোই। আর আস্তে আস্তে সেই স্বর আমাকে গ্রাস করে ফেলবে। এতই অমোঘ সেই স্বর যে আমি তার হাত এড়াতে পারি না, সে যেন আমার মাথার মধ্যে এক মসৃণ, হিমশীতল জাল বুনে চলে।

    আর তখন আমি বুঝতে পারি, ফের সেই সময় এসেছে।

    লোকে আমাকে পাগল ভাবে। শুধু পাগল নয়, বদ্ধ উন্মাদ। সেইজন্যই আমি জলাভূমির লাগোয়া ঘরটা ছেড়ে রাস্তায় প্রায় বেরোই না। অবশ্য লোকের কথায় আমি যে খুব কেয়ার করি, তা নয়। কারণ আমি জানি এই লোকগুলো আমার কেউ না। এদের আমার কোনো প্রয়োজন নেই। এই জায়গাটাই আমার নয়। আমি আসলে অন্য দুনিয়ার লোক। ওর দুনিয়া।

    এই পৃথিবীর বাইরে যে দুনিয়াটা আছে, ওর কথা শুনলে সেখানে আমাকে নিয়ে যায় ও। আমাকে রাজা করে দেয় কয়েকদিনের জন্য। সেখানে আমার ইচ্ছেই সব। সেখানে ও আমার গলায় ঢেলে দেয় দামি মদ, ভোগ করার জন্য এনে দেয় সুন্দরী বেশ্যাদের। আমি তাদের ঊরুসন্ধিতে রক্তের মতো লাল মদ ঢেলে চেটে চেটে খাই। তখন এই দুনিয়াটা ফালতু মনে হয়। তখন মনে হয় এই নোংরা পৃথিবীতে যা যা করছি সব মিথ্যে। এমনকি খুন করাটাও।

    কী, চমকে উঠলেন নাকি?

    হ্যাঁ, খুন। আমি খুন করি। ও আমাকে দিয়ে খুন করায়। ঘাড়ের কাছে ফিশফিশ করে ও আমাকে বলে সে ওর রক্ত চাই। আর তার বদলে… সে তো বললামই।

    এমনটা নয় যে আমি স্বেচ্ছায় কাজটা করি। প্রথমে আমি প্রবল আপত্তি জানাই। নিজেই নিজের মাথার চুল ধরে ঝাঁকাতে থাকি। তারপর ধরার চেষ্টা করি ওকে, নিজের নখগুলো গেঁথে দিই চামড়ার ভেতরে। ফালাফালা করে দিই নিজের গাল। জুলপি বেয়ে নেমে আসে রক্তের স্রোত।

    কিন্তু না, আজ অবধি নাগাল পাইনি ওর। ও আমার পাগলামি দেখে খিলখিল করে হাসে। আমি আমার মাথার ভেতর সেই হাসি শুনতে পাই। তারপর যখন ভাঙা আয়নাটার সামনে দাঁড়িয়ে হাঁপাতে থাকি, চোখায় কোনায় রক্ত জমে আসে, তখন ও কথা বলতে শুরু করে।

    তারপর আমি শান্ত হয়ে যাই। একদম শান্ত। আমার মাথার ভেতরে ওর কথাগুলো কোকেনের নেশার মতোই ছড়িয়ে পড়ে। আমার কোনো উপায় থাকে না ওর কথা শোনা ছাড়া।

    কথা মানে রক্তের কথা। খুন করার কথা।

    তাই বলে সবসময় যে ও আমাকে খুন করতে বলে তা নয়। ধরুন বেশ কয়েকদিন হয়তো ওর পাত্তাই নেই। আমি বাইরে যাই, চলেফিরে বেড়াই। রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া বেওয়ারিশ বেড়ালের বাচ্চা গলা টিপে মারি, স্মিথের দোকান থেকে শুকনো রুটি আর মুরগির স্যুপ কিনে খাই। ভাবি এইবার বোধহয় ও আর আসবে না।

    আর ঠিক তখনই ও আসে। আর ব্যাপারটা সচরাচর ঠিক এইভাবেই শুরু হয়।

    ও ডাকে আমাকে। কানের কাছে ফিসফিস করে বলে, “একটা ভবঘুরে। এলসওয়র্থ রোড দিয়ে হাঁটছে। বেঁটে, মোটা, মাথায় টাক। ওর নাম মাইক। পরনে বাদামি সোয়েটার আর নীল রঙের কোট। সূর্য ডুবে যাওয়ার ঠিক দশ মিনিট বাদে ও এই জলাভূমির দিকে আসবে। ময়লার গাদাটার পাশে যে গাছটা আছে, তার নীচে দাঁড়াবে। ঠিক দশ মিনিট। গলার কাছটায়, ঠিক গলার কাছটায়….”

    আর আমি আমার বহুদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী, ছ-ইঞ্চির মাংস কাটার ছুরিটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। মাথার মধ্যে টিকটিক করতে থাকে, দশ মিনিট, ন মিনিট, আট মিনিট…

    আর ও আমার মাথার মধ্যে ফিসফিসিয়ে বলে যেতে থাকে, “গাছের আড়ালে যাও। এইবার, এইবার, ওকে নীচু হতে দাও। ঝাঁপাও, ঝাঁপিয়ে পড়ো….”

    আমি জানি ওর কখনও ভুল হয় না। এই ডাক অমোঘ, অব্যর্থ। আমি জানি ও আমাকে কখনও বিপদে ফেলবে না। ফেলতে পারে না। ও আজ অবধি আমাকে কোনোদিন বিপদে ফেলেনি।

    শুধু এবারেরটা ছাড়া।

    সেদিন আমার ঘরে বসে রাতের খাওয়ার সারছি, এমন সময় ও এল।

    “একটা মেয়ে এদিকেই আসছে। তোমার সঙ্গে দেখা করবে বলে। কালো রঙের পোশাক। ভালো দেখতে। গাড়ি নিয়ে শহরে যাচ্ছিল। এই রাস্তাটা নিয়েছিল শর্টকাট হবে বলে। গাড়ির টায়ার ফেঁসে গেছে। তোমার সাহায্য চাইবে। ও আসছে।”

    আমার শরীর টানটান হয়ে গেল। মাথার মধ্যে তখনও বলে চলেছে ও, “তোমার সাহায্য চাইবে মেয়েটা। তুমি যাবে। ছুরিটা সাবধানে নিও। খুনটা কিন্তু ছুরি দিয়ে করবে না। গাড়িতে একটা রেঞ্চ আছে। ওটা দিয়েই…

    “না,” আমি প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলাম এবার, “আমি পারব না, পারব না।”

    সেই সরু খিলখিলে হাসিটা ভেসে এল, “তুমি করবে না? তাহলে তো আমাকেই করতে হবে। তুমি কী চাও আমি করি? নাকি তোমাকেই….”

    “না, না”, আমি আর্তচিৎকার করে উঠি, “করব, আমি করব। যা বলবে তাই করব।”

    “কী করব বল?” চুক চুক করে ও, “আমার যে দরকার হয়। আমার যে খিদে পায়। না খেলে দুর্বল হয়ে পড়ব না? আর আমি দুর্বল হয়ে পড়লে তোমার জন্যে কে এনে দেবে মদ? কে তোমার বিছানায় এনে দেবে সুন্দরী মেয়েদের? তুমি কি চাও না ওসব?”

    “করছি, আঃ!” সজোরে নিজের মাথা চেপে ধরি আমি, “চুপ করো, চুপ করো। বলছি তো আমি করছি, করছি।”

    ঠিক তক্ষুনি দরজায় ঠকঠক আওয়াজ করে কেউ। বুঝলাম, সে এসেছে।

    একে মেয়েটাকে মারকাটারি সুন্দর দেখতে, তার ওপর একমাথা সোনালি চুল। আমার আবার সোনালি চুল খুব পছন্দ, তাই রেঞ্চটা মেয়েটার মাথায় মারিনি, যদি রক্তে অমন সুন্দর চুল নষ্ট হয়ে যায়?

    আঘাতটা করলাম ঘাড়ে। একবারই যথেষ্ট ছিল। মেয়েটা আওয়াজ করার সময়ই পায়নি।

    বডি কোথায় লুকোতে হবে সেটা অবশ্য বেশি ভাবতে হয় না আমাকে। প্রথম বারে খুন করার সময়েই ও দেখিয়ে দিয়েছিল চোরাবালিটা, এবারেও তাই। এমনকি পায়ের ছাপ মুছে ফেলার বুদ্ধিটাও ওরই।

    মুশকিল হচ্ছিল গাড়িটা নিয়ে। শেষে ওর কথামতোই একটা পাইন গাছের লজ্‌ঝড়ে গুঁড়ি দিয়ে গাড়িটাকে চোরাবালিটায় ফেললাম। এটা বরঞ্চ মেয়েটার থেকে তাড়াতাড়ি ডুবল। গাড়িটার শেষ চিহ্নটুকু মুছে যেতেই রেঞ্চটারও একই গতি করলাম।

    সব শেষ করে যখন বেশ নির্ভার হয়ে ঘুমোতে যাচ্ছি, তখন বুঝলাম যে ও নেই, মাথা থেকে নেমে গেছে। জলাটার দিকেই গেছে নিশ্চিত। ভাবতে ভাবতেই গুটিশুটি মেরে ঘুমিয়ে পড়লাম। যাক, দিনকয়েকের জন্য ওর হাত থেকে মুক্তি।

    কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলাম জানি না। যখন জেগে উঠছি, বুঝতে পারলাম যে ও আবার আমার কাছে ফিরে এসেছে। একবার খিদে মেটাবার পর সচরাচর দিন কয়েক ও আমার ধারেকাছে ঘেঁষে না। তাই বুঝলাম কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে কোথাও।

    তারপরেই আমি হুড়মুড়িয়ে উঠে বসলাম। কে যেন আমার দরজা ধাক্কাচ্ছে জোরে জোরে।

    বুঝতে পারছিলাম না এখন আমার কী করা উচিত। এসব ক্ষেত্রে সচরাচর ওই আমার কানে কানে বলে দেয় কী করতে হবে। কিন্তু বুঝতে পারলাম যে ও এখন চুপ। অনেক বার ডেকেও ওর কোনো সাড়া পেলাম না।

    এদিকে দরজাটার ওপর গুম গুম আওয়াজটা বেড়েই যাচ্ছিল। আর থাকতে না পেরে আমি গিয়ে দরজাটা খুলে দিলাম।

    বাইরে দাঁড়িয়ে এই শহরের শেরিফ, বুড়ো শেলবি!

    “ওঠ রে সেথ, তোর খেলা এবার শেষ। চুপচাপ আমার সঙ্গে আয়।” বিনা ভূমিকায় কথাটা বলে আমার ঘরের কোণায় কোণায় ইতিউতি তাকাতে শুরু করল লোকটা। মনে হল যেন তন্নতন্ন করে কী একটা খোঁজার চেষ্টা করছে ও।

    আমার পা দুটো কে যেন মাটিতে গেঁথে দিয়েছিল, মাথাটা ভোঁ ভাঁ করতে শুরু করে। শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে যাচ্ছিল একটা চিনচিনে আতঙ্কের স্রোত। প্রথমে ভয় হল, শেরিফ ওকে দেখতে পাচ্ছে না তো? পরমুহূর্তেই অবশ্য আমার ভুল ভাঙে। আমিই ওকে দেখতে পাইনি আজ অবধি, শেরিফ কী করে পারবে? তবে বুঝতে পারছিলাম যে ও আছে। আমার ব্রহ্মতালুর ঠিক নীচে। রক্তমাংস আর শিরার ওমে মজাসে ঘুমিয়ে আছে ব্যাটা। মাথার চুলে একটা আলতো টানও অনুভব করছিলাম যেন।

    “এমিলি রবিন্স”, ঠান্ডা গলায় বলল শেরিফ শেলবি, “প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী হাইওয়ে ছেড়ে এই জলার ধার দিয়ে আসছিল, শর্টকাট হবে বলে।” বলে থামল বুড়ো লোকটা, তারপর কুতকুতে চোখ দুটো আমার চোখে রেখে বলল, “টায়ারের দাগ বলছে মহিলা এদিকে এই জলার দিকেই এসেছিলেন। তারপর?”

    ইস্, একটা মস্ত ভুল হয়ে গেছে দেখছি! টায়ারের দাগটা মোছার কথা মাথাতেই আসেনি। এটা বোধহয় ও-ও ভাবেনি যে বুড়ো শেলবি টায়ারের দাগ ধরে এতদূর চলে আসবে। কুকুরের মতো নাক লোকটার!

    “যা বলবি ভেবেচিন্তে বলবি। কারণ মনে রাখিস, আইন মোতাবেক কিন্তু তোর কথা তোর বিরুদ্ধেই আদালতে ব্যবহার করা হতে পারে।” আমার হাতে হাতকড়া পরাতে পরাতে বলল বুড়ো শেলবি। “চল এখন। তোর কপালে বিস্তর দুঃখ আছে দেখছি।”

    পুলিশের গাড়িটা জলার বাইরে রাস্তার ওপর রাখা ছিল। গাড়িটা যখন আমাকে নিয়ে যাচ্ছে, দেখি রাস্তার পাশে লোকজন ভিড় করে আছে। তাদের চোখে যেটা দেখলাম সেটাকে ঘেন্না ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। বখাটে ছেলেরা খিস্তি করতে শুরু করল, কয়েকজন আবার সবাইকে উসকাচ্ছিল, যাতে আমাকে টেনে বার করে এনে পিটিয়ে মেরে ফেলা যায়।

    তবে শেলবি শক্ত লোক। সে ঠিক আমাকে এদের হাত থেকে বাঁচিয়ে এনে শহরের থানার ভেতরে একটা সেলে পুরে দিল। থানায় তিনটে সেল থাকলে কী হবে, বাকি দুটো খালি। ফলে এখন আর কেউ রইল না আমার সঙ্গে।

    শুধু একজন ছাড়া। ও।

    আমি ভেবে আশ্চর্য হচ্ছিলাম, এই যে এত কাণ্ড ঘটে গেল, এর মধ্যে কিন্তু একটিবারের জন্যও ও জাগেনি। ওর যেন কোনো আগ্রহই নেই এই ব্যাপারে। আমার মাথার ভেতরে, রক্তমাংস আর স্নায়ুর মধ্যে একটা ডেলার মতো শুয়ে ছিল ও। নির্জীব, নিস্পন্দ।

    তখন সবে সকালটা শুরু হয়েছে। শেরিফ শেলবি আরও কয়েকজনকে নিয়ে বেরিয়ে গেল জলার দিকে। বোঝাই যাচ্ছিল যে ওরা জলাটা তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখবে। যদি চোরাবালি থেকে মেয়েটার বডি পায় ওরা, তাহলে আমার যে কী হবে ভেবে আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছিল।

    যে হাবিলদারটা আমাকে সকালের খাবার দিতে এল তাকে আমি চিনি। ওর নাম চার্লি পটার। বুড়ো শেলবি ওকেই এই জেলখানার দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে। ছোকরাকে আমার কোনোদিনই খুব একটা খারাপ লাগেনি। তবে বড়ো বেশি প্রশ্ন করছিল বলে বিরক্ত লাগছিল খুব। বলা বাহুল্য ওর বকবকানির উত্তর দেওয়ার কোনো প্রয়োজনই বোধ করিনি। কারণ আমি জানি যে আমি যা বলব তার একবর্ণও ও বিশ্বাস করবে না। উলটে আমাকে পাগল ঠাওরাবে। যেমন থানার বাইরে দাঁড়িয়ে আমাকে ক্রমাগত খিস্তি করে যাওয়া লোকগুলো আমাকে পাগল ভাবে। যেমন আমার মাকেও ওরা পাগল ভাবত, জলার ডাইনি বলে ডাকত!

    চার্লিকে দেখে অবশ্য মনে হল না আমার চুপচাপ থাকাটা ও লক্ষ করেছে বলে। ও বলেই যেতে থাকল, শেরিফ শেলবির মত হচ্ছে এমিলি রবিন্সের কেসটার সঙ্গে আরও বেশ কিছু লোকের উধাও হওয়ার একটা যোগসূত্র আছেই। ওর মতে, একটা বেশ বড়োসড়ো কেসে আমি ফাঁসতে চলেছি। কারণ ইতিমধ্যেই নাকি জেলার সরকারি উকিলকে এত্তেলা দেওয়া হয়েছে আমাকে জেরা করার জন্য। এমনকি একজন ডাক্তারকেও নাকি ডাকা হয়েছে আমাকে পরীক্ষা করে দেখবে বলে।

    বলতেই বলতেই ডাক্তার সাহেব দর্শন দিলেন। দেখে মনে হল থানার বাইরে আমার মুণ্ডু চেয়ে স্লোগান দেওয়া বজ্জাতগুলোর ভিড় সরিয়ে এতদূর আসতে ভদ্রলোককে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। উনি এসেই অবশ্য একটা ভালো কাজ করলেন, বকবকে চার্লিকে বললেন থানার সামনে গিয়ে ভিড় সামলাতে।

    ডাক্তারবাবুকে অবশ্য আমি ভালো করেই চিনি। ডক্টর সিলভার স্মিথ তাদের মধ্যে একজন যারা আমার মা প্রথমবার ধরা পড়ার পর আমাকে অনাথাশ্রমে পাঠাতে চেয়েছিলেন। মানুষটি আকারে ছোটোখাটো, থুতনিতে সাদা কালো ছাগুলে দাড়ি। আমাকে দেখেই প্রথম প্রশ্ন করলেন ভদ্রলোক, “তোমার মা এখনও বেঁচে আছে? এখনও ওইসব করে বেড়াচ্ছে?”

    শুনে কেমন যেন মনে হল লোকটা বেশ ভালো, ভরসাযোগ্য। এ আমাকে চেনে, আমার মাকে চেনে। এমনকি আমার মা কী কী করত সেসবও জানে। একে সব কথা খুলে বলাই যায়, তাই না?

    ফলে আমার পক্ষে আর লোকটাকে সবকিছু খুলে বলার ক্ষেত্রে কোনো বাধাই রইল না। সব কিছু বেশ গুছিয়েই বললাম ছাগলদেড়েটাকে। আমার কথা, আমার মায়ের কথা, মায়ের ওই তুকতাক, জড়িবুটি এসবগুলোর কথা। মায়ের বিছানায় নীচে রাখা ছেঁড়াখোঁড়া বইগুলোর কথা, তাকের ওপর রাখা শিশি-বোতলগুলোর কথা।

    এমনকি অমাবস্যার রাতে মা যে আমাদের কুঁড়েঘরটা ছেড়ে জলার পাশের জঙ্গলটায় চলে যেত, আর সেখান থেকে অদ্ভুত সব সুরেলা আওয়াজ ভেসে আসত, সেসব কথাও খুলে বললাম ডাক্তারটাকে।

    অবশ্য এতকিছু বলার দরকার ছিল না। আমার মাকে লোকে ডাকত জলার ডাইনিবুড়ি বলে। ফলে মায়ের ব্যাপারে অনেকেই অনেক কিছু জানত। এমনকি স্যান্টো ডিনোরেলির কুমারী মেয়ে যে মায়ের দেওয়া ওষুধ খেয়ে পেট খসাতে গিয়ে মরে যায়, আর সেই রাগে স্যান্টো আমার মাকে আমার সামনেই কুপিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলে, সে কথাটাও জানত ডাক্তার। তারপর থেকে আমি যে ওই কুঁড়েঘরে একা একাই থাকি, সেটাও।

    ফলে একবার ভাবলাম লোকটাকে ওর ব্যাপারে ও সবকিছু খুলে বলব কি না। মানে বলাটা ঠিক হবে কি না। তারপর আগুপিছু ভেবে সবকিছু খুলে বলাই সাব্যস্ত করলাম। সবকিছু বলতে এই যে আমি খুন-টুন করি, মানে সেসবই যে আসলে ওই করে, অর্থাৎ কি না ও আমাকে দিয়ে করায়, এসবই। এমনকি মা যেদিন আমার জন্য ওকে কিনতে গেছিল সেদিনকার কথাও। সেদিনের পুরো ব্যাপারটা অবশ্য ভালো বলতে পারলাম না। কারণ জঙ্গলে যাওয়ার সময় মা সঙ্গে নেয়নি আমাকে। শুধু একটা জিনিসই নিয়ে গেছিল মা।

    আমার রক্ত। একটা ছোটো শিশিতে।

    মা সেদিন একা ফেরেনি। আর-একজনকে সঙ্গে নিয়ে ফিরেছিল।

    ওকে নিয়ে।

    আসার পর মা আমাকে ফিসফিস করে বলেছিল যে, এবার থেকে ওই আমার দেখভাল করবে, যা চাই তাই এনে দেবে, বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করবে।

    মা বোধহয় সেই রাতে বুঝতে পেরেছিল কিছু একটা। কারণ পরের দিন সকালেই স্যান্টো আমাদের কুঁড়েঘরে হানা দেয়। তারপর একটা মাংস কাটার ছুরি দিয়ে… ও… তারপরের ব্যাপারটা তো জানেনই আপনারা।

    আমি ডাক্তার স্মিথকে ওর ব্যাপারটা খোলাখুলিই বললাম। এতদিন ধরে ও আমাকে কীভাবে আগলে আগলে রেখেছে, আমাকে সব বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করে এসেছে, এমনকি প্রতিটা খুন করার সময় কী করে আমাকে ও সবদিক দেখেশুনে কাজ করতে শিখিয়েছে। মা যেমন ভেবেছিল, ঠিক তেমনই। কথাটা বলতে বলতে আমার বেশ হালকাই লাগছিল। হাজার হোক ডাক্তার সিলভার স্মিথ মান্যগণ্য লোক, ব্যাপারটা বুঝবেন নিশ্চয়ই।

    কিন্তু কথাগুলো বলা শেষ করে লোকটার চোখে চোখ পড়তেই থমকে গেলাম। লোকটার ধূর্ত চোখ দুটো আমার ওপর ঘুরে বেড়াচ্ছিল, সেই দৃষ্টিতে অবিশ্বাস ছাড়া কিছুই ছিল না। বুঝতে পারলাম যে এতক্ষণ ধরে যা যা ভেবেছি লোকটার ব্যাপারে, সব ভুল।

    আমি থেমে যেতেই লোকটা যতসব অদ্ভুত প্রশ্ন করতে শুরু করল। যেমন ও কোথায় থাকে। যদি ওকে দেখতেই না পাই তবে ওর কথা শুনতে পাই কী করে। মাঝেমাঝেই আমি এইরকম অদৃশ্য বাণী-টানী শুনতে পাই কি না। এমনকি এমিলি রবিন্সকে খুন করার সময়… না না ওসব কথা আমি বলব না, একদম না। আমি কি পাগল নাকি?

    তবে লোকটাকে যতটা চালাক ভেবেছিলাম, লোকটা দেখলাম তার থেকেও অনেক বেশি ধূর্ত। ওকে না চেনার ভান করে করেই আমার পেট থেকে বেশ কিছু কথা টেনে বের করে নিল। যেমন আরও কতজনকে খুন করেছি, এমনকি তাদের মুণ্ডুগুলো কোথায় রেখেছি, সেসব অবধি! কী বদমাশ মাইরি। আমিও অবশ্য কম সেয়ানা নই। ব্যাপারটা বুঝতে পেরেই স্রেফ শামুকের মতো গুটিয়ে গেলাম। উঁহু, হতচ্ছাড়াটাকে আর একটা কিছু যদি বলেছি।

    অনেক চেষ্টাচরিত্র করার পর লোকটা হাল ছেড়ে দিয়ে মাথা নাড়তে নাড়তে উঠে যেতেই ফিকফিক করে হেসে ফেললাম। বেশ জব্দ হয়েছে ব্যাটাচ্ছেলে। ওর সব জানা চাই, না? আমার ব্যাপারে, আমার মায়ের ব্যাপারে, ওর ব্যাপারে। চল ফোট বে, কোথাকার কে রে!

    এর পরে আমার বিশেষ কিছুই করার নেই দেখে একটা টেনে লম্বা ঘুম দিলাম।

    ঘুম যখন ভাঙল তখন বেশ বেলা গড়িয়ে গেছে। আমি আড়মোড়া ভেঙে উঠেই দেখি আমার সামনে আর-একটা লোক দাঁড়িয়ে। এটা আবার ডাক্তারটার মতো বাঁটকুল নয়, বেশ লম্বাচওড়া মোটাসোটা লোক। মুখে একটা গ্যালগ্যালে হাসি লেগে আছে।

    “হেঁ হেঁ, অসময়ে ঘুম ভাঙিয়ে দিলাম নাকি?” মিষ্টি করে বলল লোকটা।

    আমি চট করে একবার মাথার ওপর হাত বুলিয়ে নিলাম। ও আবার এই ফাঁকে কোথাও চলে-টলে যায়নি তো?

    নাহ, ওখানেই আছে ও, যেখানে ছিল। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।

    “আরে অত চমকাবার মতো কিচ্ছুটি হয়নি। হেঁ হেঁ, আমাকে তোমার বন্ধুই ভাবতে পার ভায়া।”

    “ডাক্তারটা পাঠাল নাকি তোমাকে?” সন্দিগ্ধ স্বরে প্রশ্ন করলাম আমি।

    “আরে ধুর,” মাছি তাড়াবার ভঙ্গিতে প্রশ্নটা উড়িয়ে দিল লোকটা, “আমার নাম ক্যাসিডি, এডউইন ক্যাসিডি। আমি হলাম গিয়ে এই জেলার সরকারি উকিল, বুঝলে কি না। বলি বসতে-টসতে বলবে না?”

    “এটা আমার বাড়ি না যে অতিথিকে বসতে বলব,” নীরস কণ্ঠে বললাম আমি।

    “হেঁ হেঁ, সে তো বটেই, সে তো বটেই। তবে তোমার বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করতেই এসেছি ভায়া।” বলতে বলতেই চাবি দিয়ে সেলের দরজা খুলে ভেতরে চলে এল লোকটা। বসল আমার পাশেই, বেশ জুত করে।

    “ভয় লাগছে না তোমার?” প্রশ্ন করলাম আমি, “মানে আমি খুন-টুন করেছি কি না, তাই বলছি।”

    “আরে ধুর পাগল, ভয় কীসের?” বলতে বলতে বেশ স্নেহের সঙ্গেই আমার কাঁধে নিজের ভারী হাতটা রাখল লোকটা। খেয়াল করলাম যে লোকটার হাতে বেশ বড়োসড়ো একটা হিরের আংটি। রোদ্দুরের আলো সেই হিরের ওপর ঝিকিয়ে উঠে মেঝেতে চিত্রবিচিত্র নকশা তুলছিল।

    “তারপর সেথ, তোমার ও কেমন আছে?”

    আমি লাফিয়ে উঠলাম। মানে? এ কী করে জানল ওর কথা?

    “আহা, আহা,” লোকটা প্রায় হাঁ হাঁ করে উঠল, “অমন চমকে ওঠার মতো কিছু হয়নি ভায়া। বোকা ডাক্তারটার সঙ্গে রাস্তার মোড়ে দেখা হয়েছিল কি না, সেই জানাল আমাকে ওর কথা। তবে ব্যাটা বেকুবের হদ্দ। আমি তো শোনামাত্র বুঝে গেছি কেসটা কী। আর ব্যাটার মাথায় নির্ঘাত গোবর পোরা, ব্যাপারটা ধরতেই পারেনি।” এই বলে লোকটা ভুঁড়ি দুলিয়ে খ্যা খ্যা করে হাসতে লাগল।

    লোকটার দিকে তাকিয়ে আমি শুকনো গলায় বললাম, “ডাক্তার নিশ্চয়ই এও বলেছে যে আমি পাগল।”

    “ডাক্তারকে দোষ দিয়ে লাভ নেই ভায়া, প্রথম প্রথম আমি নিজেও বিশ্বাস করিনি। তবে আমি এখন জলার ধার থেকেই আসছি কি না। স্বচক্ষে দেখে এলাম চোরাবালি থেকে এমিলি রবিন্সের বডি টেনে তোলা হচ্ছে। এমনকি শেরিফ তো ওই জলা আর চোরাবালি তোলপাড় করে ফেলছে আরও হারিয়ে যাওয়া লোকের খোঁজে। আমি নিজেই তো আরও তিনটে বডি দেখে এলাম, একটা বেঁটে মতো লোকের, একটা বাচ্চা ছেলের আর শেষেরটা বোধহয় একটা ইন্ডিয়ানের। চোরাবালির মধ্যে থাকলে বডি পচে যায় না, জানোই তো, হেঁ হেঁ।”

    আমি স্থির ভাবে লোকটার হাসি হাসি মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। না। এও ডাক্তারটার মতো আমাকে পাগল ভাবছে না তো?

    আরও কাছে ঘনিয়ে এল লোকটা, “ওদের সঙ্গে বাজি ধরেছি, বুঝলে ভায়া, যে চোরাবালিটা ভালোভাবে খুঁজে দেখলে আরও বেশ কিছু বডি পাওয়া যাবে। কি, ঠিক বলিনি?”

    মাথা নাড়লাম। পাওয়া যে যাবে তাতে আর সন্দেহ কি? “একদম। আর যেই না সেটা বুঝেছি, অমনি টক করে মাথায় খেলে গেছে যে তার মানে তোমার ওই ওর কথাটা নিয্যস সত্যি। ওইই তোমাকে দিয়ে এইসব করিয়েছে, ঠিক কি না?”

    “হুঁ”, ছোট্ট করে জবাব দিলাম আমি।

    “বেশ বেশ,” উত্তেজনায় হাতে হাত ঘষল লোকটা। “আজ অবধি ঠিক তোমাকে দিয়ে ঠিক ক-টা খুন করিয়েছে তোমার ওই ও?”

    “ন-টা,” নির্জীব স্বরে বললাম আমি।

    “আর সবকটাকেই ওই চোরাবালির মধ্যেই পাওয়া যাবে, তাই তো?” ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল ক্যাসিডি।

    “হ্যাঁ।”

    “সবার নাম বলতে পারবে?”

    “ধুর, তাই হয় নাকি? ও কি আমাকে নাম বলে দিয়ে খুন করতে বলত নাকি? এই ধরো বলে দিল কেমন দেখতে, বা কোথায় আছে, বা কী করছে….”

    লোকটার চোখেমুখে উত্তেজনা ফেটে পড়ল, “তুমি বড়ো কাজের লোক ভায়া, বড়োই কাজের লোক। তোমার সঙ্গে আমার একটা কথা আছে, বুঝলে। তার আগে একটা কথা বলো, সরকারি উকিল বলতে কী বোঝায় জান তো?”

    “ওই যে কালো কোট পরে আদালতে দাঁড়িয়ে সওয়ালজবাব করে।” নিস্পৃহ স্বরে জবাব দিলাম আমি 1

    “শাব্বাশ। এবার বলো তো বাপু, তুমি কি চাও যে তোমাকে ভরা কোর্টরুমে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে সওয়ালজবাব করা হোক?”

    “একদম না মিস্টার ক্যাসিডি, একদম না। শালারা কুত্তার মতো খেপে আছে। আমাকে দেখলেই আদালত থেকে বার করে পিটিয়ে মারবে। আমি কিছুতেই কাঠগড়ায় উঠব না,” আমি আঁতকে উঠলাম।

    “হুম তাহলে ভায়া, তোমায় যে একটু সাহায্য করতে হচ্ছে তোমার এই দাদাটিকে। তুমি তোমার ওই ওর কথা আমাকে খুলে-টুলে বলো, আমি না হয় তোমাকে যাতে কাঠগড়ায় না দাঁড়াতে হয় সেটা দেখছি। কী বল?”

    মাথা ঠান্ডা করে ব্যাপারটা একবার ভাবলাম। আমার তো প্রস্তাবটা ভালোই লাগল, ফলে গলা ঝেড়ে বলে ফেললাম, “বেশ, আমি রাজি।”

    তারপর সব খুলে বললাম ওকে। সব কিছু। মানে একদম প্রথম দিন থেকে যা যা ঘটেছে তার সব কিছু।

    আমার কথা বলার শেষদিকে লোকটা আর হাসছিল না। বরং গম্ভীর মুখে খুব মনোযোগ দিয়ে আমার প্রত্যেকটা কথা শুনছিল।

    আমার বলা শেষ হলে খানিকক্ষণ চুপ করে রইল লোকটা, তারপর আমার দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় বলল, “সবই তো শুনলাম আর সবই বুঝলাম। শুধু একটা কথা খোলসা হল না ভায়া।”

    আমি সপ্রশ্ন চোখে চেয়ে রইলাম লোকটার দিকে।

    “ডেডবডির মাথাগুলো কোথায়?”

    আমি মুখ ঘুরিয়ে নিলাম, “জানি না, বলতে পারব না।”

    “জান না, নাকি বলতে পারবে না? কোটা?”

    “জানি না। ওগুলো তো আমি ওকে দিতাম। তারপর ও মাথাগুলো নিয়ে কী করত সে আমি কী করে বলব?” বেশ বিরক্তই হলাম আমি।

    ক্যাসিডিকে দেখে মনে হল বক্তব্যটা বোধহয় ঠিকঠাক হৃদয়ঙ্গম হয়নি তার।

    “আরে বুঝলে না?” সহজ ব্যাপারটা বোঝাবার চেষ্টা করি

    লোকটাকে, “খুন করার পর লোকগুলোর মাথা কেটে আমি বডিগুলো চোরাবালিতে ডুবিয়ে দিতাম। তারপর মাথাগুলো ওখানেই রেখে আমি চলে আসতাম আমার ঘরে। তারপর আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিত ও, সে বড়ো শান্তির ঘুম। শুধু এটুকু জানি যে তারপর ও সেই মাথাগুলোর কাছে যেত। গিয়ে কী করত সে নিয়ে আমার কোনোদিনই কোনো মাথাব্যথা ছিল না, আজও নেই। যেত এইটুকু মাত্র বলতে পারি।”

    “কিন্তু… কিন্তু…” লোকটা প্রায় তুতলে গেল, “তুমি

    এসব করতে কেন ওর জন্যে?

    “আরে মর! যন্ত্রণা!” খুব বিরক্ত হলাম আমি, “বললাম যে, আমি এসব না করলে ও আমার সঙ্গেই কাজটা করত, মানে করবার ধমকি দিত! এর পরেও ওর কথা শুনব না, আমার ঘাড়ে কি একটার বেশি মাথা?”

    লোকটা আমার দিকে হাঁ হয়ে চেয়েছিল দেখে একটু মায়াই হল ওর প্রতি। “তুমি আবার এসব বলার জন্য আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে না তো?”

    “না। একদম না।” লোকটা ওর বিশাল শরীরটা নিয়ে আমার ওপর ঝুঁকে এল প্রায়, “ওর কথা কেউ বলবে না, আমিও না, তুমিও না। তোমার বিচারের সময় ওর কথা যাতে না ওঠে তার সব ব্যবস্থা করব আমি।”

    “কিন্তু কেন?” এবার আমার একটু সন্দেহ হতে লাগল, “ওর কথা উঠবে না কেন শুনি?”

    “কারণ তুমি ওকে ভয় পাও, তাই না সেথ?” আমার মুখের ওপর বড়ো বড়ো লালচে চোখ দুটো মেলে বলল ক্যাসিডি, “তুমিও চাও না যে ওর কথা সবাই জানুক, তাই না?”

    আমি এত ঘাবড়ে গেছিলাম যে প্রথম প্রথম কিছু বলতেই পারলাম না।

    “শোনো সেথ। এই জেলহাজত থেকে বাঁচবার একটাই রাস্তা, “বলে একবার থামল লোকটা, তারপর আমার চোখে চোখ রেখে বলল, “তোমার ওই ওকে আমাকে দিয়ে দাও।”

    আমি হাঁ করে চেয়ে রইলাম লোকটার দিকে। ব্যাটাচ্ছেলে বলে কী? ওকে দিয়ে দেব মানে? লোকটার মাথার ঠিক আছে তো?

    ক্যাসিডি বোধহয় আমার দিকে তাকিয়ে আমার মনের কথা বুঝতে পারল। আমি কিছু বলে ওঠার আগেই তড়িঘড়ি বলে উঠল সে, “কথাটা ভালো করে বোঝো ভায়া। যদি ও তোমার কাছে না থাকে, তবে তো ওর ব্যাপারে তোমার কিছু না বললেই চলে, তাই না? আর সবাইকে যে ওর ব্যাপারে বলে বেড়ানো হচ্ছে সেটা তো ও নাও পছন্দ করতে পারে। আর ও যদি কোনোকিছু অপছন্দ করে তবে তার ফল কী হয়, সে তো তুমি জানোই।”

    ঘাড় নাড়লাম। সে কথা আমার থেকে বেশি ভালো আর কে জানে?

    “কিন্তু… কিন্তু ও যদি তোমার কাছে যেতে না চায়?” ক্যাসিডি এসে ওর মোটা হাতটা আমার কাঁধে রাখল। তারপর গাঢ় স্বরে বলল, “সেটা তুমি দেখবে। এত বড়ো একটা বিপদ থেকে তোমাকে বাঁচাচ্ছি, এইটুকু আমার জন্য করবে না তুমি? আমি ওকে যথেষ্টই যত্নআত্তি করব, সেটাই বা কম কী?”

    কথাটা আমার খুব একটা খারাপ যে লাগল তা নয়। যে দ’য়ে মজেছি তার থেকে উদ্ধার পাওয়ার এর থেকে ভালো উপায় আর কী আছে? বিশেষ করে ও যখন একেবারেই চুপচাপ, এখান থেকে আমাকে উদ্ধার করার কোনো ইচ্ছাই ওর মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।

    আমার দিকে সাগ্রহে তাকিয়েছিল লোকটা। আমাকে প্রশ্ন করল, “ও এখন কোথায়?

    নিজের মাথায় একবার হাত বুলিয়ে নিলাম, “এই যে এখানে, আমার তালুতে।”

    ক্যাসিডি আমার দিকে তাকাল একবার, তারপর ফিক করে হেসেই ফেলল, “তাই নাকি?”

    হাসিটা দেখে আমার বেশ সন্দেহ হল খানিকটা, লোকটাকে বিশ্বাস করা যাবে তো? তাই প্রশ্ন করলাম, “ওকে নেওয়ার মানে জান তো? মানে ওকে কাছে নেওয়ার কী কী ঝক্কি আছে সে নিয়ে ধারণা আছে কিছু?”

    “আছে বইকি”, খিকখিক হাসি চাপতে চাপতে বলল লোকটা।

    “ও যা চায়, তা না পেলে কিন্তু ও সেটা জোর করে আদায় করে, জান তো?” সন্দিগ্ধ স্বরে প্রশ্ন করলাম আমি।

    “হুঁ, সেও জানি হে ভায়া।” বেশ চকচকে মুখে বলল লোকটা, “এবার কথা না বাড়িয়ে ওকে আমার কাছে দাও দিকি।”

    আমি খানিকক্ষণ চুপ করে রইলাম। তারপর ফিসফিস করে বললাম, “আছ?”

    কোনো সাড়াশব্দ নেই।

    “শোনো, উনি তোমাকে নিতে এসেছেন। উনি তোমাকে খুব ভালো রাখবেন, বুঝলে? যাবে নাকি?”

    ও কিছুই বলল না। আমি তাকিয়ে দেখলাম ক্যাসিডি আমার সামনে মোটা ব্যাঙের মতো থেবড়ে বসে চোখের কোণ দিয়ে বিচ্ছিরি ভাবে হাসছে।

    আমি আবার নিজের ভেতরে মনোযোগ দিলাম, আলতো আদরে বললাম, “যাও, উনি তোমাকে চাইছেন।”

    ও চলে গেল।

    ব্যাপারটা বুঝতে একটু সময় লাগল আমার। কিন্তু যখন বুঝলাম যে মাথাটা খালি খালি লাগছে, নিশ্চিত হলাম যে ও গেছে। আমার ঘাড় থেকে পুরোপুরি ভাবে বিদেয় হয়েছে ব্যাটা।

    কথা নেই বার্তা নেই, ক্যাসিডি হঠাৎ করে উঠে দাঁড়াল। আমি সাগ্রহে জিজ্ঞেস করলাম, “গেছে? ও তোমার কাছে গেছে? বুঝতে পারছ কিছু?”

    ক্যাসিডি কেমন যেন অদ্ভুত ভাবে তাকাল আমার দিকে। তারপর বলল, “হ্যাঁ, ও এসেছে। ইয়েস, ইয়েস… মাথার ভেতরটা… হ্যাঁ…”

    ওকে অন্য কারও ঘাড়ে বিদেয় করেছি ভেবে যে বেশ উৎফুল্ল লাগছিল সে কথা অস্বীকার করব না। গদগদ স্বরে বললাম, “ওর কিন্তু ভালো যত্নটত্ন নিও, বুঝলে। নইলে কিন্তু ও…”

    কথাটা ক্যাসিডির কানে গেল কি না বুঝতে পারলাম না। কারণ তখন ও লম্বা লম্বা পায়ে থানার দরজা পেরিয়ে চলে যাচ্ছিল। দৌড়াচ্ছিল বললেই চলে। আমি অবশ্য সেদিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারিনি। ওকে ঘাড় থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর মাথাটা হালকা হালকা লাগছিল কি না! তাই এবার আমি একটা জমাটি ঘুম দিলাম সেলের মেঝেতে শুয়ে।

    ঘুমটা ভাঙল রাতের দিকে, সেলের দরজায় জোরদার ধাক্কা শুনে। জেগে উঠে দেখি আমার সুহৃদ, শ্রীমান চার্লি পটার আমার জন্যে রাতের খাবার এনেছে। আমি উঠে বসতেই প্ৰায় লাফিয়ে উঠল চার্লি।

    “শুয়োরের বাচ্চা নরকের কুত্তা,” খিস্তি করতে লাগল চার্লি, “ন-খানা বডি তুলেছে ওরা চোরাবালি থেকে, ন-খানা! শয়তান, এতগুলো লোক খুন করেছিস তুই?” চার্লির স্বরে ঘৃণার বদলে উপচে পড়ছিল বিষ।

    আমি তো অবাক! বলার চেষ্টা করলাম, “এ কি চার্লি, খিস্তি করছ কেন? তোমাকে তো আমার বন্ধু বলেই জানতাম।”

    থুতু ছেটাতে ছেটাতে দূরে সরে গেল চার্লি, “আমাকে তোর বন্ধু বলে ডাকার হিম্মত হল কী করে? তোকে রাস্তার কুত্তার মতো পিটিয়ে মারা উচিত। শেরিফ যে কেন লোকগুলোকে থানার বাইরে আটকে রেখেছে কে জানে। তোর মতো নরকের কীটদের ওদের হাতেই ছেড়ে দেওয়া উচিত। ওটাই তোর উচিত শাস্তি।” বলতে বলতে থানার তালা লাগাচ্ছিল চার্লি। বন্ধ হয়ে যাওয়া দরজার ওপার থেকে ছিটকে আসছিল ওর উগরে দেওয়া কথাগুলো।

    থানার দরজাটা বন্ধ হয়ে গেলে অনুভব করলাম যে আমি একা। সারা জীবনে এই প্রথম। এমনকি ও-ও নেই আমার সঙ্গে।

    মাথায় একবার হাত বুলিয়ে দিলাম। কেউ কোত্থাও নেই। কিচ্ছু নেই।

    জানালার গরাদের ফাঁক দিয়ে চাঁদের বিষণ্ণ আলো এসে পড়ছিল সেলের মেঝেতে। বাইরে রাত আরও গভীর হয়ে এসেছে। আমি স্থির তাকিয়ে ছিলাম মেঝের ওপর আলোর কাটাকুটি খেলা দেখার জন্য। ও চাঁদের আলো খুব পছন্দ করত, পূর্ণিমার রাতে যেন পাগল হয়ে যেত। তখন আমার মাথার ভেতরে ওর সেই উন্মত্ত ফিসফাস বিষের মতো খেলা করে বেড়াত।

    ও কেমন আছে এখন? ক্যাসিডির সঙ্গে?

    জানি না কতক্ষণ ওভাবে বসেছিলাম। আমার সারা শরীরে, শিরায় উপশিরায় কেমন যেন একটা অলস, ভোঁতা বিষাদ ছড়িয়ে পড়ছিল।

    আমার সাড় ফিরে এল একটা শব্দে। কে একজন যেন থানার দরজাটা খুলছে।

    আমি উঠে দাঁড়ালাম, ওরা আসছে না তো? চার্লি লোকজন নিয়ে আসছে না তো আমাকে পিটিয়ে মেরে ফেলবে বলে?

    না, চার্লি না। আবছায়ার মধ্যেই বুঝলাম দ্রুত পায়ে কে এসে আমার সেলের দরজাটা খুলল।

    ক্যাসিডি।

    “ও… ও… ওকে নামাও, নামাও আমার মাথা থেকে, ত্রস্ত স্বরে বলল ক্যাসিডি, “এক্ষুনি ফিরিয়ে নাও ওকে, এক্ষুনি।” আশ্চর্য হলাম আমি, এই তো এইমাত্র ওকে নিয়ে গেল লোকটা। এর মধ্যেই কী হল?

    “কী হয়েছে? ওরকম করছ কেন?”

    “নিয়ে যাও, নিয়ে যাও ওকে।” হাঁপাতে হাঁপাতে বলল ক্যাসিডি, “আমি ওকে চাই না, একমুহূর্তের জন্যও না।”

    “কেন? আমি তো বলেই ছিলাম ও কেমন, কী করে, কী চায়…”

    “ও রক্ত চাইছে, রক্ত,” বিস্ফারিত স্বরে বলল ক্যাসিডি, “আ… আ…আমি শুনতে পাচ্ছি ওর কথা। আমার ঘাড় বেয়ে উঠছে ও… উফফফ্…. কী যেন একটা বলছে আমার কানে কানে..,”

    “আমি তো বলেছিলাম তোমাকে”, ঠান্ডা স্বরে বললাম আমি, “বলেছিলাম যে ও কী চায়। ও যা চায় এবার তো ওকে সেটা দিতে হবে তোমায়।”

    “না না, পারব না,” আর্তনাদ করে উঠল ক্যাসিডি, “আমি কিছুতেই মানুষ খুন করতে পারব না। ওকে নিয়ে যাও। দোহাই, পায়ে পড়ি তোমার, ওকে নিয়ে যাও…”

    “ঠিক আছে, যখন বলছ, আমি না হয় ফিরিয়েই নিচ্ছি।”

    ডাকলাম ওকে। একবার। দুবার। তিনবার। কিন্তু ওর কোনো সাড়া পেলাম না।

    ক্যাসিডির দিকে তাকালাম। দরদর করে ঘামছে লোকটা, মুখটা আতঙ্কে আর ভয়ে বেঁকে গেছে। মনে হল কে যেন গলা টিপে ধরেছে ওর।

    শ্বাসরুদ্ধ স্বরে বলল ক্যাসিডি, “না, কিছুতেই না। আমি কিছুতেই ওর কথা শুনব না।”

    আমার মুখটা ক্যাসিডির কানের কাছে নিয়ে এলাম, ফিসফিস করে বললাম, “এ ছাড়া যে উপায় নেই মিস্টার ক্যাসিডি। ও যা চায়, সেটা ও আদায় করেই ছাড়ে। মায়ের সঙ্গে সেই চুক্তিই করেছিল ও। তোমার যে আর ফেরবার পথ নেই।”

    “না না না…” একটা চাপা আর্তচিৎকার ভেসে এল ক্যাসিডির গলা থেকে।

    তারপর লোকটা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল।

    আমার আর কীই বা করার ছিল। গুটিশুটি মেরে সেলের এক কোণায় গিয়ে বসলাম। চাঁদের ম্লান আলো গরাদের ফাঁক বেয়ে নেমে এসে মৃত্যুর মতো বিছিয়ে যাচ্ছিল ক্যাসিডির মুখের ওপর। আস্তে আস্তে গুটিয়ে যাচ্ছিল অত বড়ো শরীরটা।

    আর ঠিক তখনই একটা বোবা আতঙ্কের কান্না, একটা চাপা গোঙানির আওয়াজ উঠে এল ক্যাসিডির গলা থেকে।

    আমি জানি কী ঘটতে চলেছে এবারে। বোকা ক্যাসিডি জানত না যে ও যা চায়, সেটা আদায় করেই ছাড়ে।

    হাত দিয়ে কান দুটো চাপা দিয়ে হাঁটুর মধ্যে মাথাটা গুঁজে দিলাম। কী লাভ ওসব দেখে?

    কতক্ষণ ওভাবে বসেছিলাম খেয়াল নেই। চাঁদের আলো সরে গেলে আবার মাথা তুলে তাকালাম সামনের দিকে।

    সেলের ঠিক মাঝখানে ক্যাসিডি শুয়েছিল। নিশ্চল। নিস্পন্দ। নিথর। নিঃশব্দ।

    না, নিঃশব্দ নয়। যেখানে ক্যাসিডি শুয়েছিল, সেখান থেকে একটা ঘরঘর আওয়াজ উঠে আসছিল। মৃদু, আরামের ঘরঘরানির আওয়াজ। ভোজ খাওয়ার পরে যেরকম তৃপ্তির শব্দ ভেসে আসে শিকারি বেড়ালের থেকে, ঠিক সেরকম।

    তারপরেই ক্যাসিডির মাথার ভেতর থেকে একটা আঁচড়ানোর শব্দ ভেসে এল।

    আমি জানি ওটা কীসের আঁচড়ানি।

    ওটা কার নখের আওয়াজ।

    ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালাম। আমার মুখে একটা মৃদু হাসি এসেই পড়ল।

    সেলের দরজা খোলা। থানার দরজা খোলা। আমার আর এখানে থাকার মানে আছে কোনো?

    সেলের দরজা খুলে বাইরে পা রাখলাম। তারপর ঘুরে দাঁড়ালাম ক্যাসিডির দিকে। মৃদু স্বরে বললাম, “আসবে না?”

    ঠিক পরমুহূর্তেই একটা শীতল নখের আঁচড় আমার ঘাড় বেয়ে উঠে এল। চেনা ছোঁয়া।

    থানার দরজা খুলে রাস্তায় নেমে এলাম। চারিদিকে নিস্তব্ধতা ছড়িয়ে আছে মৃত্যুর মতো। কেউ কোত্থাও নেই। শুধু রয়েছে মাথার ওপর নিকষ কালো আকাশ। আর আছি আমি, আমার মাথার মধ্যে, রক্তমাংসের ডেলার মধ্যে লুকিয়ে থাকা সেই হিংস্র, ধাতব অনুভূতিটাকে নিয়ে।

    ও।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleডাইনিবুড়ি ও অন্যান্য – অভীক সরকার
    Next Article মিত্তিরবাড়ির গুপ্তধন – অভীক সরকার

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }