Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অন্ধকারের গল্প – অভীক সরকার

    লেখক এক পাতা গল্প133 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জীবনদাতা

    ১৪ এপ্রিল, ৩০১৬:

    আজ অনেকদিন পর আমার মায়ের সঙ্গে খেলতে এলাম পার্কে। তোমরা জিজ্ঞেস করতেই পারো, অনেকদিন পরে কেন? আমার মতন দশ বছরের বাচ্চার তো রোজই পার্কে আসা উচিত, তাই না? আসলে মা আমাকে নিয়ে আসতে লজ্জা পায়, তাই আর রোজ আসা হয় না। মা অবশ্য মুখে কিছু বলে না, বলতে পারার কথাও নয়। কিন্তু আমি সব বুঝতে পারি, তাই তো মা বলে আমার হেবি ব্রেইন, কোনো ইনডিউসড ইন্টেলিজেন্স এর কোর্স ছাড়াই। অবশ্য বেরোলে কেউ তেমন কিছু বলে না, সবাই সভ্য ভদ্র মানুষ, কিন্তু আমি জানি যে আমার মা চট করে বাইরে বেরোতে খুব অপ্রস্তুত বোধ করে, সে একলাই হোক বা আমাকে নিয়ে।

    অবশ্য মায়ের কিন্তু-মিন্তুর কারণটা আমি জানি।

    আমি আর আমার মা, আমরা কেউই কথা বলতে পারি না। শুনতে পারি, বুঝতে পারি। কিন্তু বলতে পারি না। আমরা বোবা।

    এই যুগে এটা যে ভাবাই যায় না সে তো তোমরা বোঝোই। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর কোর্স তো আমাদের মতন বাচ্চাদের এখন থেকেই পড়ানো হয়। আমি অবশ্য স্কুল যাই না। মা-ই ঘরে পড়ায়। যা বলছিলাম, জেন্ট-ইঞ্জের কল্যাণে এখন কানা, খোঁড়া, অন্ধ বাচ্চা জন্ম নেয়ই না। যাদের পয়সা আছে, তারা তো কাস্টমাইজড বাচ্চা নেয়। এই তো পাশের সোসাইটির নিলসিয়েন কাকু, ডাক্তার বাচ্চা নিল। যদিও স্যামাঞ্জন মোটে জেন্ট-ইঞ্জ বোঝে না, আর মেড-লাইফ পড়ে না, তবুও। ও শুধু মেন্টালটিউবে গান শোনে।

    আমি আর মা কী করে বোবা হলাম বোঝা খুব শক্ত, জান? আসলে মানুষের ডিএনএ-র সব মিস্ট্রি এখনও জানা যায়নি নাকি, মা একদিন বলছিল। খুব অল্প কিছু পার্সেন্ট মতন নাকি এখনও ডিকোড করা বাকি আছে। তাই হঠাৎ করে দু-একটা আমাদের মতন এরকম বায়োলজিক্যালি ডিফেক্টিভ ইউনিট জন্মে যায়। তা ধরো সারা পৃথিবীতে এই মুহূর্তে ছ-জন পোলিও, এগারো জন থ্যালাসেমিয়া, জনাদশেক অন্ধ (মানে ব্লাইন্ড, সরি, মা অন্ধ বলতে বারণ করেছিল, ভুলে গেছি, হিহি), প্রায় পঞ্চাশ জন মতন অটিস্টিক বা ইমোশনালি আনস্টেবল (উফ, কী শক্ত শব্দ বাবা) লোক আছে, আর বোবা লোকজন আছে দুইজন।

    আমি আর মা।

    মা জানত যে আমিও ওইরকম হব, জান? আজকাল জিনম্যাপিং করানো থাকে তো সবার। তাই তো মা বিয়ে- টিয়ে করেনি। কিডস ফ্যাকটরি থেকে আমাকে বানিয়ে নিয়ে এসেছিল। সেখানে নাকি আমার বাবার ভালোবাসা ডিপকোল্ডস্পেসে ছিল, ছোট্ট একটা টিউবে। সেটাকে মায়ের পেটে বসিয়ে দিতেই নাকি আমি হই, হিহি। কি কিউট না স্টোরিটা? তবে মা কিছুতেই বাবার সঙ্গে দেখা করতে দেয় না। বলে বাবা নাকি হারিয়ে গেছে, মিথ্যে বলে মা, তাই না?

    ও, একটা মজার কথা তো বলাই হয়নি তোমাদের। আমি আর মা নিজেদের মধ্যে কী করে কথা বলি বলো তো? হাত আর ঠোঁট নেড়ে, কী মজা না? অবশ্য অন্য লোকেদের জন্যে হ্যান্ডট্যাব থাকেই, তাতেই নিজেদের মনের কথা বাঁ হাতের চামড়ার স্ক্রিনে ফুটে ওঠে, আর সামনের লোকের কথাও ফুটে ওঠে। তবে ওরকম একটা গ্যাজেট হাতে বেঁধে ঘোরাটা ব্যাড লাগে না? বোবা লোকও আর দেখা যায় না, তাই এসবের ব্যবহার উঠেই গেছে। আমার জন্যে তো হ্যান্ডট্যাব পাওয়াই যাচ্ছিল না। শেষে সায়েন্স অ্যান্ড টেক মিউজিয়ামের কিউরেটর অনেক পুরোনো ফাইল রিডিকোড করে, হিস্টরিলিসিস করে এটা বানিয়ে দিয়েছেন। এটা অন করে বেরোলেই লোকে বোঝে যে আমরা কথা বলতে পারি না। আর কেমন করে যেন তাকায়, এইসান রাগ ধরে না। কিছু বলে না যদিও, ভদ্রসভ্য লোক সব্বাই। আর বেশি অবাক হওয়াটা ব্যাড ম্যানার্স, মা বলেছে। তবুও লজ্জা লাগে না? তাই তো মা বেশি বেরোয় না। না একা, না আমাকে নিয়ে।

    আগেই বলেছি না, যে আমি আমার মা বাড়িতে হাত আর ঠোঁট নেড়ে কথা বলি? অ্যানশিয়েন্ট টাইমে যারা আমাদের মতন ছিল, তারা নাকি এই ভাবেই কথা বলত। একে বলে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ, প্রিহিস্টোরিক যুগে নাকি এসব শেখাবার স্কুল ছিল। হ্যান্ডট্যাবের যুগে সেসব বন্ধ হয়ে যায় আগেই। মা অনেক অ্যানশিয়েন্ট স্ক্রিপচার ডেটামেমরিড করিয়ে এগুলো শিখেছে, আর আমাকে শিখিয়েছে। আমরা ছাড়া এই ল্যাঙ্গুয়েজ আর কেউ জানে না। সমস্ত ওল্ড স্ক্রিপচার্স মায়ের কাছেই। আর কেউ শিখতেও পারবে না, হিহিহি, মজার না?

    ওই দ্যাখো মা ডাকছে, লিলিতা আন্টি হেসে হেসে কী যেন বলছে মাকে। যাই দেখে আসি।

    .

    ৩০ জুলাই, ৩০১৬:

    আজ আমার মনখারাপ। মা বকেছে। স্কুলে ভরতি করতে যেতে কে বলেছিল বল? বাড়িতেই পড়ছিলাম তো দিব্যি। স্কুল থেকে যদি বলে যে ডিফেক্টিভ চাইল্ডদের জন্যে ওরা সিলেবাস পালটাতে পারবে না, সেটা কি আমার দোষ? মা-টাও কী বোকা দেখো। উইন্ডোশিল্ড খুলে বৃষ্টি দেখছে আর কাঁদছে। মা কাঁদলে আমার ভালো লাগে, বল? যাই, মাকে একটু আদর করে আসি কেমন?

    .

    ১ জানুয়ারি, ৩০২২:

    আর-একটা ক্লান্তিকর নিউইয়ার। আবার সেই একঘেয়ে ননসেন্স নাচগান, চেঁচামেচি, হেঁড়ে গলায় হল্লা। আজকাল একটু বিরক্তিকরই লাগে। তাও নিজেরা আয়োজন করলে বুঝতাম। এখন সব উৎসবই কান্ট্রি, স্টেট বা লোকাল এরিয়া কমান্ডের আয়োজনে হয়। সেখানে লোকজন হাস্যকর রকমের লোক দেখানো আনন্দ করে। দেখে রাগও ধরে, হাসিও পায়।

    হিস্ট্রিতে পড়েছি যে পাঁচশো বছর আগের বিশ্বযুদ্ধে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবারই কথা ছিল। এই ছোট্ট গ্রহটাকে উড়িয়ে দিতে কী লাগে, দু-তিনটে ট্রাইনিট্রিয়াম বোমা ছাড়া? সৌভাগ্যবশত যারা যুদ্ধ করছিল, রুশেশিয়ান কনফেডারেট আর ইউরোমেরিকা অ্যাক্সিস, কেউই অতদূর যায়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়নি, পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি লোক মারা যায়। তারপর না খেয়ে আর মহামারিতে উজাড় যায় আরও বেশ কিছু দেশ। আর ততদিনে সমুদ্রের জল বেড়ে আইসল্যান্ড আর গ্রিনল্যান্ড জলের তলায়, দক্ষিণ ইউরোপিয়ান ল্যান্ডপ্লেস ও তাই। তবে রুশেশিয়ারও ক্ষতি কম হয়নি। সাউথ-ইস্ট এশিয়ার প্রায় পুরোটাই জলের তলায় ভেসে যায়, শুধু তাতেই সত্তর কোটির কাছাকাছি লোক মারা গেছিল। সব মিলিয়ে বড়ো কর্তাদের বড়ো ধরনের টনক নড়ে। ফলে তখন সব বড়ো বড়ো নামকরা রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের মধ্যে বসে এই সেন্ট্রাল কমান্ডের ব্যাপারটা চালু করতে বাধ্য হয়।

    এই সেন্ট্রাল কমান্ডের হেডকোয়ার্টার প্রাচীন শহর জেরুজালেম।

    সেই থেকে সারা পৃথিবীজুড়ে এখন শাসন করে সেন্ট্রাল কমান্ড। তাদের বিপুল প্রতাপ, ঈশ্বর বললেই চলে। তার অধীনে কন্টিনেন্ট কমান্ড, আবার কন্টিনেন্ট কমান্ডের অধীনে কান্ট্রি কমান্ড। এই হতে হতে শহর জুড়ে সিটি কমান্ড আর তাদের অধীনে কয়েকটা করে লোকাল কমান্ড। দেশবিদেশ বলে কিছু নেই, তাই সেনাবাহিনী বলে কিছু নেই। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী আছে, লোকপ। তাদের দাপট দেখলে অবশ্য মাঝেমধ্যে বেশ রাগই ধরে।

    মজাটা হল কী, সেই থেকে জীবনযাত্রার বেশ কিছু অংশ আর আমাদের হাতে রইল না, কমান্ডের হাতে চলে গেল, যেমন বিভিন্ন উৎসব, জীবনযাত্রার ন্যূনতম উপকরণ ইত্যাদি।

    আর পৃথিবীর সবাইকে আয়, সামর্থ্য, ক্ষমতা, কমিউনিটিতে তাদের অবদান ও প্রয়োজন ইত্যাদি দেখে চার ভাগে ভাগ করে ফেলা হল, সাবনর্মাল, নর্মাল, প্রিভিলেজড আর সুপার। প্রত্যেকের কাছে সেই অনুযায়ী কার্ড আছে। এই ডিজিটাল কার্ড ছাড়া বেঁচে থাকাই মুশকিল। এটাই এখন সবার আইডেন্টিটি, সবার পরিচয়।

    যেমন ধরুন আমি আর মা, আমাদের কার্ড সাবনর্মাল। আমাদের কি আর সাধ্য আছে যে দোকানে গিয়ে ইচ্ছেমতন যা কিছু কিনব? না হোটেলে গিয়ে খাব? আমরা হলাম সাবনর্মাল কার্ড হোল্ডার, সাবহিউম্যানদের মতোই প্রায়। নর্মাল কার্ড হোল্ডার আর আমরা, আমরা কেউ ই-র‍্যাশনের বাইরে কেনাকাটা করতে পারি না। নিজেদের পছন্দমতো কিছুই কিনতে পারি না, সে পছন্দের বডিক্লিন জেল হোক বা সোলসাইকেল, কি হোভারকার। আমাদের পড়াশোনা লোকাল এডুসেন্টারে, মেডিসার্ভিস হয় লোকাল হেলথ পয়েন্টে। জামা জুতো থেকে শুরু করে র‍্যাশনড খাবার, বেডর‍্যাপার, বডিক্লিন জেল, সবই কমান্ড থেকে সাপ্লাই দিয়ে যায়। এমনকি খাওয়ার জল অবধি।

    একদিক দিয়ে অবশ্য ভালো, না খেয়ে কাউকে মরতে হয় না।

    আর যাদের প্রিভিলেজড বা সুপার কার্ড আছে? আহা তারা হল গিয়ে সমাজের মাথা। তাদের জন্যেই তো সব সুবিধা গো! ইচ্ছেমতন দামি স্টাডিভার্সিটিতে পড়াশোনা করার সুবিধা, ইচ্ছেমতন খাবার সুবিধা, স্পেশ্যাল মেডিসার্ভিস, ফিবছরে স্পেশাল দামি হোভারকার, দামি জামা, জুতো, স্পেশাল সুগন্ধি বডি ফ্র্যাগ….

    মাঝেমধ্যে খুব রাগ হয় কার্ডবন্দি এই দুনিয়ার ওপর। গত সপ্তাহেই আমার ষোলো বছরের জন্মদিন গেল। মা গেছিল পাশের বিল্ডিং-এর সুসাহনি ভাই এর কাছে, যদি চুপিচুপি ওর প্রিভিলেজড কার্ডটা নিয়ে আমার জন্যে একটা সস্তা মেন্টালকল কেনা যায়। এখনকারটা দশ বছরের পুরোনো কিনা!

    এই নোংরা লোকটার কি অবিশ্বাস্য স্পর্ধা, মাকে বলেছে বোবা মায়ের বোবা ছেলে মেন্টালকল দিয়ে কী করবে? বরং লোকাল কমান্ডকে বলে আরও দুটো ফ্রি হ্যান্ডট্যাব চেয়ে নিই না কেন?

    সারারাত মা আমাকে জড়িয়ে কেঁদেছিল। বিশ্বাস করুন, বোবা মায়ের কান্নাও আপনাদের মায়ের কান্নার মতন।

    .

    ৫ জুন, ৩০২৬:

    অবিশ্বাস্য! অভূতপূর্ব! অসাধারণ!

    খবরটা পেলাম আজ লোকাল লাইব্রেরিতে আমার কোর্স করতে গিয়ে। লাইব্রেরিতে লোকাল এডুকম থেকে আমার জন্যে একটা থ্রিডির‍্যাক্টিভ কিউবিকল বানিয়ে দিয়েছে। কনসোলটা মাথা গলিয়ে পরে নিলেই হল। সব কোর্স হ্যান্ডট্যাব হয়ে ফ্যামিলি এডুমেম-এ জমা হয়ে যায়। কোর্সওয়ার্কও ওইভাবেই জমা নেয়।

    আজ থ্রিডি এনক্লোজারে ঢুকতেই সে কী হইহট্টগোল! সবাই চেঁচাচ্ছে, হাসছে, লাফাচ্ছে, একে অন্যের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছে, সে এক অনবদ্য দৃশ্য! মনোকেল চালিয়ে আসার সময়েই অবশ্য দেখেছিলাম সব জায়গায় একটা খুশি খুশি ভাব। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষী, মানে লোকপগুলোর পাথুরে মুখে অবধি মৃদু হাসি। ব্যাপারটা এবার বোঝা গেল!

    পুরো ব্যাপারটা শুনে অবশ্য আমিও সবার মতোই খুব উত্তেজিত। আহা, জেন্ট-ইঞ্জিনিয়ার ইয়ুয়ানচন্দ্রার জয় হোক। এই যুগের তিনিই শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক।

    শুনেছি আজ থেকে হাজার বছর আগের সায়েন্সোলজাররা, যেমন আর্থার সি ক্লার্ক বা আইজাক আসিমভরা, বলেছিলেন মানুষের অন্য গ্রহে পাড়ি জমানোর কথা, সমুদ্রের তলায় থাকার কথা। যদিও এখন সেটা আমরা চাইলেই পারি, কিন্তু দরকার হয়নি। পরপর তিনটে বিশ্বযুদ্ধের ফলে এখন পৃথিবীর জনসংখ্যা দুশো কোটির বেশি না। ল্যান্ডমাস গত পাঁচশো বছরে অনেক কমে গেলেও দুশো কোটি লোকের জন্যে যথেষ্ট যথেষ্ট ফরেস্ট প্লেসও বাঁচিয়ে রাখা আছে। মানুষ সবাই ছোটো ছোটো শহরে থাকে, সিটিসেন্টার বলি আমরা, ভিলেজগুলোতে শুধু রোবট দিয়ে চাষবাস হয়, সেন্ট্রাল কমান্ডের এগ্রিডিটি ডিপার্টমেন্টের কড়া নজরে। আগেই বলেছি, প্রায় সব রিসোর্সই র‍্যাশনড। ফলে না খেয়ে কেউ মরে না।

    শুধু একটা জিনিস মানুষ পারত না।

    চিরযৌবন। ইচ্ছেমতন একটা বয়সে অনেকদিন আটকে থাকা। মৃত্যুকে পিছিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা।

    এইবার সেটা পারবে!

    ভাবতেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। মা চিরদিনই আমার কাছে এইরকম থাকবে? ইয়াহুউউউউ। যত দামিই হোক, যতই পাউরোই লাগুক, আমাকে এই টেকনোলজি পেতেই হবে পেতেই হবে, পেতেই হবে!

    .

    ১০ জুন, ৩০২৬:

    নাহ, যতটা ভেবেছিলাম, ততটা আনন্দের খবর নয়।

    জেন্ট-ইঞ্জিনিয়ার ইয়ুয়ানচন্দ্রা যেটা আবিষ্কার করেছেন, সেটা এক ধরনের ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল কমপাউন্ড। একটা প্রেশারাইজড কিউবিকলে ঢুকে একটা শট নিতে হয়। এক একটা শটে মানুষ তার বর্তমান অবস্থায় একশো বছর বাঁচতে পারে। একশো বছর পর আর-একটা শট, আরও একশো বছর। মানে যে কেউ চাইলে প্রতি একশো বছর অন্তর শট নিয়ে নিয়ে আদি অনন্তকাল বেঁচে থাকতে পারে।

    এতটা অবধি ঠিক ছিল, কিন্তু এরপরেই যেটা শুনলাম তার জন্যে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।

    প্রচুর পাউরো ছাড়াও আরও একটি জিনিস লাগে এই লাইফশটের জন্যে

    আর-একটি মানুষের প্রাণ!

    আর-একজন জীবিত মানুষের শরীর থেকে তার ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল লাইফজিস্ট বার করে সেই নিয়েই লাইফশট তৈরি হয়। বৃদ্ধ, যুবক, পুরুষ, মহিলা, সুস্থ, নীরোগ সব চলবে, শুধু জীবিত হওয়া চাই। বলাবাহুল্য যে লাইফজিস্ট বার করে নেওয়ার পর কারও বেঁচে থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। মানে একটি প্রাণ সংহার না করে কেউ একশো বছরের বেশি তার জীবন বাড়াতে পারবে না। কেউ যদি পাঁচশো বছর বাঁচতে চাও তো পাঁচটা প্ৰাণ!

    ল অফ কনজার্ভেশন অফ লাইফ!

    আশা করি সেন্ট্রাল কমান্ড এইসব শোনা মাত্র এই সর্বনাশা আবিষ্কারের অ্যাপ্লিকেশন অ্যাপ্রুভাল প্রত্যাখ্যান করবেন। একজন মানুষের জীবনের বিনিময়ে আর-একজনের বেশিদিন বেঁচে থাকার মতন ঘৃণ্য টেকনোলোজিতে কোনো সভ্য মানুষেরই সায় থাকা উচিত নয়।

    .

    ৫ অগাস্ট, ৩০২৬:

    খারাপ খবর। সারা দুনিয়া জুড়ে এত অনুরোধ উপরোধ সব বিফলে গেল। সেন্ট্রাল কমান্ডের টেকঅ্যাড কমিটি পৃথিবীজোড়া অসন্তোষ উপেক্ষা করে লাইফশটকে বৈধ ঘোষণা করেছে! লেখাটা লিখে আমি নিজেই বিশ্বাস করতে পারছি না। অন্যের প্রাণ কেড়ে নিজের বিলাসী জীবন কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে ভোগ করার এই জঘন্য বর্বর স্বার্থপর আবিষ্কার এরা অ্যাপ্রুভ করল কী করে? মানবতাবাদ বলে কি আর কিছুই অবশিষ্ট নেই?

    ইঞ্জিনিয়ার চন্দ্রাকে দোষ দিই না, উনি বৈজ্ঞানিক, বোধহয় গত হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক। ওঁর কাজ আবিষ্কার করার, আবিষ্কার করেছেন। সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিনিস্ট্রেটররা কী করছেন? তাঁরা না বিশ্বনেতা? ফার্স্ট কমান্ডেন্ট গোয়েলস্কাইন কী করছেন? তিনি তো আক্ষরিক অর্থেই পৃথিবীর দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। তাঁকে তো ভালো লোক বলেই জানতাম। তিনিও চুপ করে আছেন?

    সোশ্যালপ্লেস মাইন্ডবুক ভেসে যাচ্ছে ছিছিক্কারে, বিদ্রুপে আর কমিকস্ট্রিপে। সারা দুনিয়া জুড়ে মাইন্ডবুকে ঝড় উঠেছে বুঝতে পারছি। যাই, একবার কলইন করে দেখি, কেসটা কী?

    .

    ২৯ সেপ্টেম্বর, ৩০২৬:

    ব্যাপার আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে।

    আজ খবরে প্রকাশ দুনিয়ার সবচেয়ে বড়ো ওষুধের কোম্পানি মেড্রাগন এই আবিষ্কার কিনে নিয়েছে। আরও বড়ো খবর হল যে সই করার পর থেকেই ইঞ্জিনিয়ার চন্দ্রাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। না তাঁর বিলাসবহুল লাইভমেন্টে, না তাঁর ওয়ার্কস্পেসে। লোকপবাহিনীর টপঅপস ডিভিশন নামানো হয়েছে ওঁর খোঁজে।

    এদিকে মাইন্ডবুকে ছিছিক্কারে আর কান পাতা যাচ্ছে না। প্রায় সবাই মনে করছে মেড্রাগন আর সেন্ট্রাল কমান্ড মিলে গুম করেছে লোকটাকে। বিপুল পাউরো ঢেলেছে নাকি মেড্রাগন, এই লাইফশট টেকনোলজি কেনার জন্যে। যাতে করে ম্যাজিশিয়ান চন্দ্রা পরে আর কোনোভাবেই না বাগড়া দিতে পারেন, তার এরা আর ঝুঁকি না নিয়ে লোকটাকে হাপিস করে দিয়েছে।

    ওদিকে মা ডাকছে, ওয়ার্ল্ডভিশনে সেন্ট্রাল কমান্ডের নতুন কী সম্প্রচার শুরু হবে যেন। যাই, শুনে আসি।

    .

    ৩০ সেপ্টেম্বর, ৩০২৬:

    সারা দুনিয়া স্তব্ধ। এরকমও হয়? ছিঃ। নিজেকে মানুষ বলতে আর ইচ্ছে করছে না।

    মেড্রাগন ঘোষণা করেছে যে তারা সেন্ট্রাল কমান্ডের সমস্ত কমান্ডেন্টদের ফ্রিতে লাইফশট দেবে। তারপর সমস্ত সিটিজেনদের জন্য এই ‘সুবিধা’ দেওয়া শুরু হবে। তবে যথারীতি প্রিভিলেজড আর সুপার কার্ড প্রাপ্তদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তারা কোথা থেকে জীবনদাতা আনবে সেটা তাদের ব্যাপার। কী নির্লজ্জ ঘুষখোরদের কাজকারবার!

    এতেই শেষ নয়।

    সেন্ট্রাল কমান্ড ঘোষণা করেছে তাদের কমান্ডেন্টদের জন্যে লাইফজিস্ট নেওয়া হবে মৃত্যুদণ্ডাজ্ঞা পাওয়া আসামিদের থেকে! এবং এখানেই আমার তীব্র আপত্তি আছে। এদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল এদের অপরাধের শাস্তি হিসেবে। এদের প্রাণ কি সেন্ট্রাল কমান্ডের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নাকি? কী নৃশংস, কী নির্মম, কী হৃদয়হীন পাষণ্ড এরা!

    তবে এর বিনিময়ে নাকি সেই অভাগাদের পরিবার পরিজনদের এককালীন কিছু পাউরো ধরিয়ে দেওয়া হবে। আহা, কর্তাদের দয়ার প্রাণ!

    মাইন্ডবুক পুরো ফুঁসছে, দিকে দিকে এই সেন্ট্রাল কমান্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়া চলছে। ওয়ার্ল্ডভিশনেও ইতিউতি বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে। লোকপগুলো অবশ্য বিরামহীন ভাবে পেটানোর জন্যে বিখ্যাত।

    .

    ১৫ নভেম্বর, ৩০২৬:

    আজ লাইফশটের প্রথম সার্থক প্রয়োগ হল। নিলেন ফার্স্ট কমান্ডেন্ট গোয়েলস্ফাইন। তাঁকে অবশ্য খুবই অসুস্থ ও কৃশ দেখাচ্ছিল। লাইফশট নেওয়ার পর উনি পৃথিবীর সবার শুভ বুদ্ধির উপর আস্থা রেখে এবং বিজ্ঞানের বিপুল অগ্রগতি কামনা করে ভাষণ দিলেন।

    অসুস্থ লাগছে। মা আজ সারাদিন কিছু খায়নি, চুপচাপ শুয়ে আছে। দেখি কিছু খাওয়ানো যায় কিনা। আমারও খেতে ইচ্ছে করছে না যদিও।

    আজকের দিনটা মানবসভ্যতার ইতিহাসে নিশ্চিত ভাবে একটা কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

    .

    ১৫ নভেম্বর ৩০৩১:

    আজ লাইফশট টেকনোলোজির পাঁচ বছর হল। প্রতি সপ্তাহে একজন করে কমান্ডেন্টকে দিয়ে দিয়ে প্রায় আড়াইশো জনের সেন্ট্রাল কমান্ডেন্টবাহিনী আজ সম্পূর্ণ ভাবে লাইফশটেড। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিও আর কেউ নেই। তাদের ‘স্যাক্রিফাইটার’ উপাধি দেওয়া হয়েছে।

    নাহ। কোথাও কোনো ঝুটঝামেলা নেই। মাইন্ডবুক এখন অন্য কিছু নিয়ে চঞ্চল। ওয়ার্ল্ডভিশনে এখন স্ট্রোবো খেলার নতুন সিজনের কম্পিটিশন সম্প্রচার চলছে।

    আকাশ নীল। মৃদু হাওয়া বইছে। নীচে বাচ্চারা খেলছে। মা বোধহয় কার সঙ্গে কথা বলছে। অনেকদিন পর মাকে হাসতে দেখলাম। আকাশে-বাতাসে পরম শান্তি।

    ইঞ্জিনিয়ার চন্দ্রাকে আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

    আজ রাতে ওয়ার্ল্ডভিশনে সেন্ট্রাল কমান্ডের নতুন কী একটা ঘোষণা আছে। দেখি কী বলে।

    .

    ১৬ নভেম্বর, ৩০৩১:

    সারা পৃথিবী রাগে ফুঁসছে। কাল রাত থেকেই বিভিন্ন জায়গায় বিপুল পরিমাণে লোকপ মোতায়েন করা হয়েছিল, কিন্তু তাতেও আটকানো যাচ্ছে না। লেজারশক, লাইটক্যানন, উইন্ডব্লাস্ট, কিছুতেই আটকানো যাচ্ছে না উগ্র হয়ে পড়া প্রতিবাদীদের।

    কাল রাতে সেন্ট্রাল কমান্ড জানায় যে এবার থেকে সমস্ত সুপার কার্ড হোল্ডারদের লাইফশট দেওয়া হবে। এবার থেকে আর সপ্তাহে একজন নয়। রোজই দেওয়া হবে। আপত্তি তাতেও ছিল না। ঘোষণার পরবর্তী অংশ শুনেই আগুন জ্বলে ওঠে।

    সেন্ট্রাল কমান্ড ঘোষণা করেছে যে এবার থেকে সুপার কার্ড হোল্ডারদের জন্যেও জীবনদাতা সেন্ট্রাল কমান্ডই জোগাড় করে দেবে। আর জীবনদাতা জোগাড় হবে যেসব লোক ডেথ উইশলিস্টে নাম লিখিয়েছেন, বা যাঁদের আর বাঁচার আশা নেই এমন লোকেদের মধ্যে থেকে। পরে আর কাদের কাদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায় তা বিবেচনা করে দেখা হবে!

    মানে পাঁচ বছর আগে যা ঘোষণা করা হয়েছিল তা আর বৈধ রইল না! সুপার কার্ড হোল্ডাররা কমিউনিটির বড়ো বড়ো মাথা, তাঁদের জীবনদাতা খুঁজে বেড়াবার মতন তুচ্ছ কাজে ব্যস্ত থাকলে চলে? সদাশয় সেন্ট্রাল কমান্ডই সেই গুরুদায়িত্ব নিজেদের ঘাড়ে তুলে নিয়েছেন!

    ব্যক্তিগত স্বার্থে কমিউনিটির সার্বিক ক্ষমতা ব্যবহার করার এরকম নির্লজ্জ অপচেষ্টা শেষ কবে হয়েছে কে জানে! সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডান্টদের লাইফশট দেওয়ার জন্যে জীবনদাতা খুঁজে দেওয়াটা তাও মানা যায়, হাজার হোক তাঁরা সিটিজেন কমিউনিটির মাথা। সেন্ট্রাল কমান্ড কারও একার নয়, সবার। কিন্তু এটা কী? কীসের খেলা চলছে পর্দার আড়ালে?

    .

    ৩১ মার্চ, ৩০৩৯:

    কাল রাতে পিতরসেফাস এসেছিল, রেজিস্টেন্সের একজন মেম্বার। অনেক কোডেড আলোচনা হল। হ্যান্ডট্যাবে নয়, লিখে। সেন্ট্রাল কমান্ডের নজর এড়িয়ে এখন কোনো ডিজিকমে এইসব আলোচনা চলতেই পারে না। অগত্যা প্রাগৈতিহাসিক পদ্ধতিই ভরসা।

    গত আট বছর ধরে সেন্ট্রাল কমান্ড আরও বিভিন্ন আইনকানুন জারি করেছে, যার মূল উদ্দেশ্য খুব স্পষ্ট। এই বর্তমান সেন্ট্রাল কমান্ড আজীবন এই ক্ষমতা ভোগ করে যেতে চান, লাইফশট ছিল তার প্রথম পদক্ষেপ মাত্ৰ। এর পরপরই সেন্ট্রাল কমান্ডকে অপরিবর্তনীয় ঘোষণা করা হয়েছে, ভোটাভুটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গ্লোবাল অ্যাডভাইজরি কমিটিতে শুধুমাত্র কর্তাভজা কিছু সুপার কার্ড হোল্ডারদের নেওয়া হয়েছে। বাকিদের সমস্ত প্রকার ভোটাধিকার নিষিদ্ধ।

    এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় সেন্ট্রাল কমান্ডের বিরুদ্ধে গোপনে বিদ্রোহীরা সংগঠিত হতে শুরু করেছে। কয়েক জায়গায় বিক্ষিপ্ত হামলাও হয়েছে। জবাবে আরও প্রতিশোধপরায়ণ হয়েছে সেন্ট্রাল কমান্ড, আরও হিংস্র। সেন্ট্রাল কমান্ডের চোখে এখন যাবতীয় অবাধ্যতা আর বিদ্রোহের একটাই শাস্তি, মৃত্যুদণ্ড!

    এইসব মৃত্যুদণ্ড যাতে দ্রুত কার্যকর করা যায় তার জন্যে বিশেষ জাস্টিস কোর্টও বসানো হয়েছে। কে না জানে, মৃত্যুদণ্ডাজ্ঞা প্রাপ্ত আসামিদের তো একটাই ভবিতব্য, অনিচ্ছুক জীবনদাতা হওয়া।

    আমাদের এই এলাকার রেজিস্টেন্সে আমাকে বাদ দিয়ে আরও বারো জন আছে। যেমন এই পিতরসেফাস, তারই ভাই আঁদ্রুসেফাস, আলফাপুত্ত, ইয়ুদাসিওট ইত্যাদি।

    পিতরসেফাস বেরিয়ে যাচ্ছিল আলোচনা শেষে। এমন সময় ওর মেন্টালকলে মেরিডিলিওনের ফোন, “এক্ষুনি ওয়ার্ল্ডভিশন খোলো, সেন্ট্রাল কমান্ডের নতুন আদেশ”, বলেই ফোন কেটে দিল।

    দ্রুত হাতে ওয়ার্ল্ডভিশন অন করল পিতরসেফাস।

    দশ মিনিটের একটা মেসেজ। বুঝে গেলাম, আমার আর আমার মায়ের বেশিদিন আর নেই।

    .

    ১৪ এপ্রিল, ৩০৩৯:

    আমি আর মা চুপ করে বসে আছি। ঘর অন্ধকার করে। মা আমার হাত ধরে আছে। মায়ের এই ছোঁয়াটা আমি চিনি। মা বলতে চাইছে খোকা ভয় পাস না, আমি আছি তো। কিন্তু আমি জানি এবার শুধু মা কেন, কারও পক্ষেই কিছু করা আর সম্ভব না।

    গতকালের ঘোষণায় সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে যে এবার থেকে সমস্ত জন্মগত ভাবে শারীরিক ত্রুটিযুক্ত লোকজনকে “সমাজের পক্ষে অবাঞ্ছনীয় বলে ধরা হল এবং তাদের জীবনদাতাদের সম্ভাব্য লিস্টে গণ্য করা হবে”। মানে একক ধাক্কায় আমাদের মতন সত্তর-আশি জন জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী লোকজন জীবনদাতা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেলাম আর কী! কারণ আমরা সমাজের বোঝা! আমাদের থাকা না থাকার কোনো মূল্যই নেই, আর যদি থাকেও বা, তাতে কার কী এসে যায়?

    .

    ১ জুন, ৩০৩৯:

    তিরিশ জন, তিরিশ জন মানুষ। জোয়ান-বুড়ো, ছেলে- মেয়ে, ওয়েস্টার্ন হেমিপ্লেসের কি ইস্টার্ন হেমিপ্লেসের। এদের মধ্যে দুটোই মিল। এক, এরা সবাই শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন, আর দুই আজ এঁরা কেউ বেঁচে নেই।

    লোকাল রেজিস্টেন্সের সবাই অবশ্য অনেকবার বুঝিয়েছিল। সারা পৃথিবীজোড়া সেফআউটস আছে ওদের। বলেছিল পালিয়ে যেতে, যদ্দিন এই রাক্ষসদের হাত এড়িয়ে থাকা যায়। আমি শুনেই নাকচ করে দিয়েছি। মায়ের বয়স হয়েছে, এই পলাতকের জীবন বেশিদিন সহ্যই করতে পারবে না। আর আমারও তেত্রিশ বছর বয়স হল। এই বোবা জীবন নিয়ে কতদিন আর পালিয়ে বেড়াব? আর এই দুই বোবা মা- ছেলের জন্য রেজিস্টেন্সকে এত ঝুঁকির মধ্যে ফেলাটাও কোনো কাজের কথা নয়।

    দরজায় কেউ সিগন্যাল দিচ্ছে। দেখি কে এল।

    .

    ১৩ জুন, ৩০৩৯:

    সেদিন আলসেবিদিয়াস এসেছিলেন, ইস্ট ইন্ডিয়ানা ল্যান্ডের লোকপ বাহিনীর হেডকপ।

    এমনিতে লোক ভালো। মুখে যেন মধু ঝরছে সবসময়। এসে আমি কেমন আছি, মা কেমন আছেন, ইত্যাদি দু-একটা খেজুরে আলাপের পর দ্রুত আসল প্রসঙ্গে ঢুকে গেলেন। প্রসঙ্গটা অবশ্য আন্দাজ করতে আমার অসুবিধা হয়নি। শুধু ভাবছিলাম এত সাবধানতা নেওয়া সত্ত্বেও এরা জানল কী করে?

    এনার কথাতেই অবশ্য উত্তরটা পেয়ে গেলাম। সেদিন যে কাগজের টুকরোটায় আমি আর পিতরসেফাস কথা লিখে রাখছিলাম, সেটা পোড়ানোর বদলে ছিঁড়ে ময়লা ফেলার ব্যাগে ফেলা হয়েছিল, সেটাই কাল হল। এরা অনেকদিনই তক্কেতক্কে ছিল, কাগজের টুকরোটাকরাগুলো নিয়ে পাজল ডিকোড করতে ওদের কম্পিউটার বোধহয় সেকেন্ডের ভগ্নাংশের বেশি সময় নেয়নি।

    অনেক ধানাইপানাই করে যখন বুঝলেন যে এতে চিঁড়ে ভিজবে না, তখন একটা টোপ ফেললেন, যদি রেজিস্টেন্সের বাকি মেম্বার্সদের নামঠিকানা বলে দিই, তবে আমার আর আমার মায়ের নাম জীবনদাতার লিস্ট থেকে বাদ দেওয়া হবে!

    আমি বোধহয় একটু জোরেই হেসে ফেলেছিলাম। তেত্রিশ বছর বয়সি একটা ছেলে এইরকম শিশুভোলানো কথা বিশ্বাস করে দলের সঙ্গে বেইমানি করবে, এটাও যে উনি ভাবতে পেরেছেন দেখে হাসিই পাচ্ছিল। মাকে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে বললাম কথাটা। মা সাইন ল্যাঙ্গুয়েজেই জবাব দিল,

    “এই জন্তুটাকে যেতে বল, ঘরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।”

    ভদ্রলোক খানিকক্ষণ জুলজুল করে দেখলেন, তারপর জিজ্ঞেস করলেন যে হাত-পা-ঠোঁট নেড়ে আমরা কী করছি? আমিও সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের কথাটা বলে দিলাম। ইনি বোধহয় সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের নামই শোনেননি, শোনার অবশ্য কথাও নয়। খানিকক্ষণ ভ্রূ কুঁচকে থেকে ফের স্বাভাবিক গলায় সেই একই প্রশ্নে ফিরে গেলেন। আমার এবার বেশ বিরক্ত লাগছিল। ফলে একটু কড়া করেই বলতে হল যে কোনো ধরনের রেজিস্টেন্সের সঙ্গে আমার কোনোদিনই কোনো সম্পর্ক ছিল না। ওই কাগজের টুকরো ওঁরা কোত্থেকে পেয়েছেন সে নিয়ে আমার কোনো আইডিয়া নেই। আমি কোনোরকম ভাবে কোনো হেল্প করতে পারব না।

    ভদ্রলোক চলে গেলেন বটে, কিন্তু যে চাউনিটা দিয়ে গেলেন, সেটা সুবিধার নয়।

    .

    ২৯ জুন, ৩০৩৯:

    অনেক্ষণ পর বহুকষ্টে বাঁ চোখটা খুলতে পারলাম। সারা শরীরে ব্যথার ছোবলে টাটিয়ে আছে। হাঁটু আর কনুইগুলোতেই মেরেছে বেশি, সামান্য নড়াচড়াতেই মনে হচ্ছে মরে যাব। ঠোঁটের বাঁ-দিকটা ফেটেছে বিশ্রী ভাবে, সে বুঝতেই পারছি। জিভে নোনা ঠেকছে এখনও।

    মাকে ওরা কাল নিয়ে গেছে, কোনো এক বড়োলোক ট্রেডিং মাস্টারের স্ত্রীর লাইফশটের জন্যে। আমরা অবশ্য তৈরিই ছিলাম, কিন্তু ঘটনাটা এত দ্রুত ঘটবে, বুঝিনি। আমি সাধ্যমতো মারপিট করেছিলাম অবশ্য, ফলাফল তো সারা শরীরে। ষোলোজন সশস্ত্র লোকপের সঙ্গে পেরে ওঠার কথাও ছিল না।

    শুধু মাথার পেছনে লেজারশকটা খেয়ে যখন পড়ে যাচ্ছি, তখন অজ্ঞান হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে মায়ের চোখে চোখ পড়ে গেছিল। দেখলাম, সেই চোখে নিজের জন্যে মায়ের একটুও ভয় নেই, শুধু আমাকে মার খেতে দেখার কষ্ট আর আতঙ্কটা আছে।

    তোমাকে আর দেখতে পাব না, তাই না মা? এতক্ষণে বোধহয় তুমি মরেও গেছ, তাই না? খুব কষ্ট হয়েছিল গো মা? ব্যথা লেগেছিল?

    দুঃখ কোরো না মা, আমিও আসছি। বেশিদিন আর নেই।

    .

    ১ জুলাই, ৩০৩৯:

    আজ মাকে শেষবারের মতন দেখলাম, ক্রিমেশন স্টেশনে। সাদা ডেথস্যুটে ঢাকা শরীরে শুধু মুখটুকু জেগে আছে আমার বুড়ি মায়ের। অসীম প্রশান্তির চিহ্ন সারা মুখে। আহা, কত কথাই না বলার ছিল মায়ের সঙ্গে, কত কথাই আর বলা হল না। আর কখনও বলা হবেও না।

    একটু পরেই মায়ের বডিটা জ্বলন্ত ক্রিমেশন ওভেনে ঢুকে যাবে। ছাই হিসেবে যেটুকু থেকে যাবে উড়িয়ে দেওয়া হবে কাছের কোনো ফরেস্টপ্লেসে।

    আজ আমি কাঁদছিলাম, হাউহাউ করে কাঁদছিলাম। লোকপগুলো পাথরের মতন মুখ করে দাঁড়িয়েছিল। বোবা মানুষের কান্না, কেই-বা আর শোনে?

    .

    ১০ সেপ্টেম্বর, ৩০৩৯:

    এরা বোধহয় ভেবেছে আমি পালিয়ে যাব। চারিদিকে লোকপ বসিয়ে রেখেছে পাহারা দিতে। র‍্যাশন কালেক্ট করতে গিয়ে সেটা টের পেলাম।

    র‍্যাশন নিয়ে ফিরে আসছি, দেখি উত্তরের আকাশ কালো হয়ে আসছে। মেঘ নয়, মানে মেঘের কালো নয়। যেন আকাশটাই কেউ দখল করে নিচ্ছে। কী জানি কী বিষয়বৃত্তান্ত।

    .

    ১৫ সেপ্টেম্বর, ৩০৩৯:

    অ্যালিয়েন অ্যাটাক! পৃথিবীর ওপরে! আতঙ্কে থরথর কাঁপছে সারা পৃথিবী।

    সেদিন উত্তরের আকাশ যে কালো হয়ে উঠতে দেখেছিলাম, ওটা আর কিছু নয়। অ্যালিয়েন স্পেসশিপ আস্তে আস্তে দৃশ্যমান হচ্ছিল। টাইমস্পেস বাঁকিয়ে ওয়র্মহোল তৈরি করা, যা আজ অবধি আমাদের কাছে সায়েন্স ফিকশন হয়েই থেকে গেছে, সেই টেকনোলজি কাজে লাগিয়ে এরা হঠাৎ করে পৃথিবীর দোরগোড়ায় এসে হাজির! এত অল্প সময়ে ওজোন স্তরের ওপর অদৃশ্য জালের মতন ছেয়ে থাকা প্রোটেক্টিং স্যাটেনেট পেরিয়ে এরা যেভাবে চক্ষের নিমেষে হানা দিয়েছে তাতে আরও বোঝা যায় যে এদের টেকনোলজি আমাদের থেকে বহু গুণে উন্নত।

    এতদিনে সারা পৃথিবী জুড়েই ওদের কয়েক হাজার ইনটারগ্যালাক্টিক স্পেস শিপ। সারা আকাশ জুড়েই, যেদিকে তাকাও না কেন সেদিকেই। বিষণ্ণ অমোঘ নিয়তির মতো তারা জুড়ে আছে এই গ্রহের সমস্ত আকাশ, সমস্ত ব্রহ্মাণ্ড। যেন অসহায় এই পৃথিবীকে দেখে ঠাট্টা তামাশা করতে এসেছে।

    মানে এরা যদি চায় আমাদের নির্মূল করে বসতি গড়তে, আমাদের চান্স খুবই কম। যাক, তাতে আমার আর কী। যত তাড়াতাড়ি মায়ের সঙ্গে দেখা হয় ততই মঙ্গল। আমার এতে আর কিছু এসে যায় না।

    .

    ২০ নভেম্বর, ৩০৩৯:

    সারা পৃথিবী জুড়ে চাপা দমবন্ধ করা একটা আবহাওয়া। এদের টেকনোলজি যে আমাদের থেকে বহু গুণে উন্নত, সে আর বলে দিতে হয় না। পৃথিবীর সমস্ত মারণাস্ত্র লঞ্চ করার সিস্টেম এরা মুহূর্তে লক করে দিয়েছে। পৃথিবীর যাবতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন ঘুঁটো জগন্নাথ

    মুশকিল হচ্ছে এদের কী দাবি, কেন এসেছে, কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। সেন্ট্রাল কমান্ডের আধুনিকতম কমিউনিকেশন সিস্টেম অনেক চেষ্টা করেও কোনো যোগাযোগ করতে পারছে না। কোনো উত্তর, কোনো সিগন্যাল, কিছুই নেই। মনে হচ্ছে কয়েক হাজার পাহাড় যেন নির্বাক নিয়তি নির্দিষ্ট অভিশাপের মতোই এই পৃথিবীর আকাশ জুড়ে জমে আছে।

    যাক, আমার কী, গোল্লায় যাক এই পৃথিবী, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।

    .

    ৩০ নভেম্বর, ৩০৩৯:

    আজ নাকি তেনাদের কেউ প্রথম বারের জন্য দর্শন দিলেন। সারা পৃথিবীর সমস্ত নিউজ ফিড আজ জেরুজালেমের রাস্তায়। স্বাভাবিক, পৃথিবীর এই এত হাজার বছরের ইতিহাসে প্রথম বার কোনো ভিনগ্রহের জীব এই মাটিতে পা রেখেছে। তাদের দেখতে কেমন এই নিয়ে মানুষের কৌতূহল হওয়াটা স্বাভাবিক। দুনিয়ার বোধহয় আজ এমন মানুষ একটিও নেই যে ওয়ার্ল্ডভিশন খুলে বসেনি।

    যদিও শেষে বোঝা গেল সেগুড়ে বালি। স্পেসশিপ থেকে তারা নেমে এসেছিল অদ্ভুত দর্শন এক যানে। জেরুজালেমের রোবোটিক্স ফিল্ডের মাঠে নেমে তারা ঢুকে পড়ে তাদের জন্যে বিশেষ ভাবে নির্মিত কালো কাচ ঢাকা হোভারকারে। তারপর সেই হোভারকার সোজা ঢুকে যায় কোর কমান্ড অফিসে। পুরো ব্যাপারটা এত গোপনীয় রাখা হয় যে কেউই তাদের টিকিটিরও দেখা পায়নি।

    এদিকে আলোচনা কী হল, কী এদের চাহিদা, কী পেলে এরা বিদায় হবে, বা আদৌ বিদায় হবে কি না এই নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই সবাই খুবই উত্তেজিত। লোকপগুলোকেও দেখছি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে। সমস্ত এডুসেন্টার, স্টাডিভার্সিটি, হেলথপয়েন্ট, ওয়ার্কক্লাউড সব বন্ধ। সারা পৃথিবী জুড়ে একটা ফিসফিসে ভয়ের আবহ ছড়িয়ে আছে যেন। হাজার হাজার গুজবে মাইন্ডবুক ছেয়ে যাচ্ছে, প্রত্যেকটার বিবরণ আগেরটার চাইতে অনেক ভয়াবহ।

    আজ রাতে স্বয়ং গোয়েলস্ফাইন ওয়ার্ল্ডভিশনে ভাষণ দেবেন। ওই শুরু হল বোধহয়। দেখি কী বলে।

    .

    ২ ডিসেম্বর, ৩০৩৯:

    কিংকর্তব্যবিমূঢ় বলে একটা শক্ত শব্দ শিখিয়েছিল মা, ছোটোবেলায়। সারা পৃথিবীর এখন সেই দশা। এরপর কী করা হবে কেউই কিছু বলতে পারছে না।

    সেদিন ভিনদেশিদের সঙ্গে কোনো কথাই হয়নি সেন্ট্রাল কমান্ডের। না, অন্য কোনো কারণ নয়, ভাষার অভাব। মানে পৃথিবীর কোনো মাইন্ড রিডার, লিঙ্গুইস্টিকা কোনো কিছু দিয়েই তাদের সঙ্গে কমিউনিকেট করা যাচ্ছে না। ফলে বিফল মনোরথ হয়ে তারা কাল চলে গেছে এবং তার আগে শরীরী ভাষায় যেটা প্রকাশ করে গেছে, তার মানে আর যাইহোক বন্ধুভাবাপন্ন তাকে কিছুতেই বলা চলে না।

    অজান্তেই আমার মুখে হাসি চলে এল। আমার মাকে ওরা টেনে নিয়ে গেছিল না দীর্ঘজীবন লাভের জন্য? আরও কত লোকের মা, বাবা, সন্তান, আত্মীয়পরিজন, ভালোবাসার লোককে এই সেন্ট্রাল কমান্ড মেরে ফেলেনি যাতে করে সমাজের কিছু মুষ্টিমেয় ক্ষমতাশালী লোক যেন অনেক অনেক বছর বাঁচে? কোথায় গেল এতশত ষড়যন্ত্র, এত নিবিড় নিষ্পেষণ, অসহায় লোকের এত কান্না? আজ তোমাদের নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে কে বাঁচাবে সেন্ট্রাল কমান্ড? কোন্ লাইফশট?

    হাহা করে সেই অন্ধকার ঘরে বসে আমি হাসতেই লাগলাম, হাসতেই লাগলাম।

    .

    ২৫ ডিসেম্বর, ৩০৩৯:

    দুপুরবেলা যখন কান্ট্রি কমান্ডের লাইটজেট থেকে জেরুজালেমে নামলাম তখন বেশ লালচে মিঠে ঠান্ডা চারিদিকে। নেমেই দেখি একটা দামি হোভারকার দাঁড় করানোই আছে, তাতেই চারজন টপঅপসের অফিসার আর আমাকে নিয়ে কোর কমান্ড অফিসের দিকে রওনা আলসেবিদিয়াস, ইস্ট ইন্ডিয়ানাল্যান্ডের লোকপবাহিনীর হেডকপ।

    আজ সকালে যখন ভদ্রলোক প্রায় জোর করেই আমার অ্যাপার্টমেন্টে ঢোকেন, চারজন গাঁট্টাগোঁট্টা চেহারার লোকপ নিয়ে তখনও আমার ব্রেকফাস্ট শেষ হয়নি। ঢুকেই ধরেবেঁধে সোজা গাড়িতে চালান করার সময় আমি তো যেমন অবাক তেমন বিরক্ত। আজকেই কারও জীবনদাতা হতে হবে জানি, তা ধরেবেঁধে নিয়ে যাওয়ার কী আছে? আরও আশ্চর্যের কথা যে তোরা দু-দিন পর বাঁচবি কি বাঁচবি না তার ঠিক নেই, এখন আবার কার লাইফশট নেওয়ার বাই উঠল?

    ।একবারই শুধু জিজ্ঞেস করেছিলাম যে যাচ্ছি কোথায়। উত্তর এসেছিল, “জেরুজালেম”, এবং তাতে বেশ অবাকই হয়েছিলাম।

    কোর কমান্ড বিল্ডিংটা দেখতে গোল গম্বুজের মতন, আর বেশ ঠান্ডা। ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলাম এখানেই কি অপারেশন? সেন্ট্রাল কমান্ডের সবারই তো লাইফশট সেই কবেই নেওয়া। তবে?

    ভুলটা যখন ভাঙল, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তখন আমি অবাক হওয়ার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছি।

    বিল্ডিংয়ের একদম টপ ফ্লোরে যে বিশাল ঘরটায় আমাকে এনে হাজির করা হল, একঝলক দেখলেই বোঝা যায় যে এটাই সর্বোচ্চ কমান্ডান্টদের মিটিং রুম। রুমের চারিদিকে থ্রিডি ভিশনস্পেস, যে-কোনো ঘটনার, যা চারিদিকে ঘটছে, তার ক্ষুদ্র ত্রিমাত্রিক প্রতিচ্ছায়া ফুটে ওঠে। দেয়ালে বিশাল স্ট্রিংস্ক্রিন, পৃথিবীর বাইরের যাবতীয় খবর ধরার জন্যে। এখন অবশ্য সেই স্ক্রিন জুড়ে শুধু…

    ঘরের মধ্যিখানে ভাসমান টেবল। তার চারিধার ঘিরে পৃথিবীর দণ্ডমুণ্ডের কর্তারা, সবারই মুখে উদ্‌বেগ আর উৎকণ্ঠার ছাপ স্পষ্ট।

    টেবিলের একদম মাথায় যে লোকটাকে দেখছি, তাঁকে আমি অনেকবার ওয়ার্ল্ডভিশনে দেখেছি।

    কমান্ডান্ট-ইন-চিফ গোয়েলস্কাইন।

    আমি সত্যি বুঝে উঠতে পারলাম না, আমাকে কেন এখানে আনা হয়েছে।

    শুরুটা গোয়েলস্ফাইনই করলেন, ওঁর সেই বিখ্যাত ওজস্বী কিন্তু সামান্য সানুনাসিক স্বরে,

    “মাই বিলাভেড সিটিজেন, আমাদের মধ্যে আজ আপনাকে স্বাগত।”

    আমি হতচকিত অবস্থায় শুনতে লাগলাম, “আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে? কী বিপুল বিপদের মধ্যে আমরা সবাই এই মুহূর্তে বাস করছি?” মাথা নাড়তে নাড়তে প্রথম বার খেয়াল করলাম যে ভদ্রলোকের ভাষার উপর দখল অসামান্য।

    “আপনি নিশ্চয়ই এও অবগত আছেন যে কয়েকদিন আগে আমাদের মধ্যে আর ভিনগ্রহীদের মধ্যে যে আলোচনার সূত্রপাত হয় তা শুরুতেই ভেঙে যায়?”

    মাথা নাড়লাম। জানি তো বটেই।

    “আপনি কি জানেন তার কারণ কী?”

    “দুই পক্ষেরই বোধ্য এমন ভাষার অভাব”, বলে নিজেই চমকে গেলাম। এমন শুদ্ধ ভাষায় শেষ কবে কথা বলেছি আমি? এটা আমারই হ্যান্ডট্যাব তো?

    “চমৎকার। এবার বলুন তো, মাননীয় নগরসভ্য, আপনার কাছে যদি আপনার এই মাতৃভূমি, এই পৃথিবী কিছু সাহায্য চায়, আপনি কি সেই সুযোগ প্রত্যাখ্যান করবেন? আপনি কি চান না মানবসভ্যতার উদ্ধারকারী হিসেবে পৃথিবীর ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকতে?”

    আর-একটু হলেই হাততালি দিয়ে ফেলছিলাম। অসামান্য বাকপটু এই ভদ্রলোক। তবে বক্তৃতা যতই ভালো দাও, তোমাদের বিন্দুমাত্র সাহায্য করতে আমার বয়ে গেছে। তবুও নিছক কৌতূহলে জিজ্ঞেস করি, মানে হ্যান্ডট্যাবে ফুটে ওঠে “কী ধরনের সাহায্য, মাননীয় কমান্ডান্ট-ইন-চিফ?”

    ভদ্রলোক থামলেন। তারপর হাতের ইশারায় বাকি কমান্ডান্টদের যেতে বললেন। খানিকক্ষণ বাদে ঘর খালি হলে খর্বকায় কৃশ ভদ্রলোকটি আমার কাছে এগিয়ে এলেন। তারপর ফিসফিস করে বললেন, “মাননীয় নগরসভ্য, এই ভিনজাতীয় হানাদারেরা একটা ভাষাই বোঝে, যেটা একমাত্র আপনি ছাড়া এই পৃথিবীর দুশো কোটি জনগণের মধ্যে আর কেউ জানে না।”

    উত্তরোত্তর আশ্চর্য হচ্ছিলাম আমি, “মাননীয় চিফ, আমার জ্ঞানত এমন কোনো ভাষা আমি জানি না, যা আর কেউ…”

    “সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ”, প্রায় চাপা ভূতুড়ে গলায় বললেন কমান্ডান্ট-ইন-চিফ, “দে অনলি স্পিক অ্যান্ড আন্ডারস্ট্যান্ড সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ, যেটা এই মুহূর্তে আপনি ছাড়া আর কেউ জানে না আমাদের মধ্যে, মাননীয় নগরসভ্য।”

    মুহূর্তের মধ্যে মাথাটা ঘুরে গেল। তাই এত তোড়জোড় আমাকে এখানে নিয়ে আসা। সেদিন থেকেই এরা জানত, আর খোঁজাখুঁজি চলছিল। আলসেবিদিয়াস দেখেছিলেন আমাকে আর মাকে…

    চোখ দুটো জ্বালা করে উঠল মায়ের কথা মনে পড়তেই। নাহ, এদের সাহায্য করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে আমার নেই।

    “মাননীয় চিফ। আশা করি অবগত আছেন যে এই পৃথিবীতে আমার নিজের বলতে একজনই ছিলেন, আমার মা। শুধুমাত্র বোবা বলে…”

    গোয়েলস্ফাইন দ্রুত এসে আমার হাত ধরলেন, “জানি নগরসভ্য। এ ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণ

    অবহিত। কিন্তু আমাদের, কয়েকজন মুষ্টিমেয় লোকেদের পাপের জন্য সমগ্র মানবসভ্যতাকে কি আপনি ধ্বংসের মুখে ফেলে দিতে চান? চারিদিকে তাকিয়ে দেখুন নগরসভ্য, এরা কি আপনার কেউ নয়?”

    গোয়েলস্ফাইনের হাতের ইশারায় মুহূর্তে জ্বলে উঠল চারিদিকের সমস্ত থ্রিডি ভিশনস্পেস। সেখানে দেখলাম অগুনতি মানুষের মুখ, আফ্রিকানাস, ইউরোমেরিকান, রুশেশিয়ান। বৃদ্ধ অধ্যাপক, তরুণ চাকুরে, সাবনর্মাল প্রৌঢ় বাপ, প্রিভিলেজড আদুরে মেয়ে, দোকানদার থেকে শিক্ষক, লোকপ থেকে দরিদ্র হোভারকার চালক সবাই যেন আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চুপ হয়ে, নিঃস্তব্ধ হয়ে, আমারই মতন বোবা হয়ে। যেন লক্ষ লক্ষ চোখ বলতে চাইছে….

    মিটিংরুমের কাচের দেয়াল ভেদ করে বিকেলের শেষ রোদ এসে যেন লুটিয়ে পড়ল আমার পায়ে। প্রায় শেষ হয়ে আসা দিনের আলোয় যেন এক অলৌকিক মন্ত্রের মতন গোয়েলস্ফাইনের কথা আমার হ্যান্ডট্যাবে ফুটে উঠল, “ইসরপুত্ত, আজ এদের দিকে তাকাও, এই লক্ষ মানুষের দিকে তাকাও। দেবে না, দেবে না তুমি এদের জীবন ফিরিয়ে? প্রতিশোধ কি তোমার বিবেক অন্ধ করে ফেলবে ইসরপুত্ত…”

    আমি আর কিছু বুঝতে পারছিলাম না। আমি, মরিয়মের সন্তান ইসরপুত্ত, মায়ের আদরের জিশু, কী করব? কী করব আমি? প্রতিশোধের যে আগুন বুকে দাউদাউ করে জ্বলছে তাতে এদের ছারখার হতে দেব? নষ্ট হয়ে যেতে দেব এই গ্রহকে? নাকি এই ইসরপুত্ত জিশু হয়ে উঠবে দুশো কোটি লোকের শেষ ভরসা, একমাত্র আশ্রয়, মহত্তম মানুষ?

    শেষ জীবনদাতা!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleডাইনিবুড়ি ও অন্যান্য – অভীক সরকার
    Next Article মিত্তিরবাড়ির গুপ্তধন – অভীক সরকার

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }