Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অপারেশন ওয়ারিস্তান – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    ইন্দ্রনীল সান্যাল এক পাতা গল্প166 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. কাহিনি (অপারেশন ওয়ারিস্তান)

    স্থান ও কাল…অজানা।

    .

    প্রথমে এল দর্শনের অনুভূতি। চোখ খুলে প্রথমা দেখল, উলটে রাখা জামবাটির মতো আকাশ। আকাশের রং কুচকুচে কালো। ওড়নার গায়ে যেভাবে লেগে থাকে সলমা-চুমকির ঝিকিমিকি, জামবাটির গায়ে তেমনই ঝিকোচ্ছে অজস্র তারা। আজ যত তারা, সব আকাশে? আগে কখনও দেখেনি প্রথমা। আকাশ বলে চিনতে না-ও পারত। নেহাত পায়ের দিকের আকাশ থেকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রয়েছে পূর্ণিমার চাঁদ, তাই সুবিধে হল।

    দর্শনের পরে এল শ্রবণের অনুভূতি। আশ্চর্য নীরবতা চারিদিকে। সেই নৈ:শব্দ্য ভাঙছে কুকুরের ডাক আর চড়চড় শব্দ। ওটা কীসের আওয়াজ? কিছু পুড়ছে নাকি? পোড়া পোড়া গন্ধও আসছে!

    গন্ধের সঙ্গে এল একাধিক অনুভূতি। বন্যার মতো তারা প্রথমাকে ভাসিয়ে দিল। ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে প্রথমা বুঝতে পারল তার ভয়ানক শীত করছে, মাথা থেকে পা পর্যন্ত ব্যথা, সে একটা মাঠের মাঝখানে শুয়ে রয়েছে। তার সারা গায়ে জল, কাদা আর রক্ত মাখা, তার কিছু মনে পড়ছে না।

    শীত করছে কেন? এটা কী মাস? মনে করতে পারল না প্রথমা। আজ কত তারিখ? কী বার? কোন সাল? মনে নেই। তার নাম প্রথমা। পদবি মনে নেই। বাবার নাম? ওহ! তার তো বাবা-মা নেই। সে অনাথ আশ্রমে থাকে। অনাথ আশ্রমের কী নাম? মনে নেই। স্কুলের খাতায় তার নাম প্রথমা। কী স্কুল? মনে নেই। সে পড়ে ক্লাস টেনে। ক্লাসে ফার্স্ট হয়। আর…আর…আর…না:! আর কিসসু মনে নেই।

    স্মৃতি নিয়ে ভাবনাচিন্তা পরে করলেও চলবে। শরীর নিয়ে ব্যস্ত হল প্রথমা। শীতের অনুভূতি দ্রুত কমছে। কাঁপুনি আগের মতো নেই। ভোর হবে বলে পরিবেশের তাপমাত্রা বাড়ছে বোধ হয়। পায়ের দিকের আকাশে চাঁদ আর নেই। গাঢ়, কালো আঁধার নিজেকে বদলে ধূসর হচ্ছে। একটু বাদে আকাশে লালের ছোঁয়া পড়বে।

    শীত কমার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা বাড়ছে। সারা শরীর জুড়ে যন্ত্রণা শেকড় চারিয়ে দিচ্ছে। উহ। বাবাগো! কী কষ্ট! শুয়ে শুয়ে প্রথমা খেয়াল করল তার সারা শরীরে ব্যথা। ডান হাত অনেক কষ্টে নেড়ে মাথা আর বাঁ-হাত স্পর্শ করে প্রথমা। চ্যাটচ্যাটে তরলে ডান হাতের তালু ভিজে যায়। চোখের সামনে তালু এনে প্রথমা বুঝতে পারে, রক্ত লেগে রয়েছে। নীল শার্টে রক্ত মুছে উঠে বসার চেষ্টা করে সে।

    অনেকক্ষণ পরিশ্রমের শেষে বসে প্রথমা। আকাশ এখন ধূসর। সূর্যোদয় না হলেও দেখতে অসুবিধে হচ্ছে না। কেন না তার মাথার দিকে, ফুট বিশেক দূরে রয়েছে অন্য এক আলোর উৎস। শুয়ে থাকার কারণে দেখতে পায়নি। উৎস দেখে নিজের অবস্থা সম্পর্কে খানিকটা ধারণা হল প্রথমার।

    আলোর উৎস একটি অ্যাম্বুল্যান্স। চারচাকা ওপর দিকে। ড্রাইভারের আসনসহ সামনের দিকটা তুবড়ে চ্যাপটা হয়ে গেছে। বাতানুকূল, হাইটেক অ্যাম্বুল্যান্স অনেকক্ষণ ধরে জ্বলছে। চড়চড় আওয়াজ এখান থেকেই আসছে। নীল আর হলুদ আগুন, কালো আর সাদা ধোঁয়া, উলটোনো গাড়ির জ্বলন্ত কঙ্কালের পটভূমিতে পড়ে রয়েছে দু’টো মৃতদেহ। নীল শার্ট, নীল পাজামা পরা দুজন মানুষ অনেক আগেই মারা গেছে। পোড়া গন্ধ ওদের শরীর থেকে আসছে। তিন-চারটে কুকুর সবকিছু শুঁকছে আর ঘেউ ঘেউ করে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করছে।

    প্রথমার পেট গুলিয়ে উঠল। গলায় আর জিভে টোকো স্বাদ। বসে থাকা অবস্থায় ডানদিক ফিরে গলগল করে বমি করল। অম্ল ঝাঁঝে নাক-মুখ জ্বলে উঠল। উফ! বাবাগো!

    ডানদিকে ফিরল বলেই ট্রাকটা দেখতে পেল। এর চাকাগুলো আকাশমুখো। ট্রাকের আশেপাশে ছড়ানো, কফিনের সাইজের দুটো কন্টেনার। ধাতুর তৈরি। একটার ডালা খোলা। সেটা থেকে হিশহিশ করে সাদা ধোঁয়া বেরোচ্ছে। অন্যটা গুঁড়িয়ে চিঁড়েচ্যাপটা হয়ে ট্রাকের তলায় মাথা গুঁজে পড়ে রয়েছে। নীল রঙের কন্টেনার দুটোর গায়ে লেখা, ‘রি-লাইফ’। চকচকে রুপোলি রঙের ওপরে লাল দিয়ে লেখা। পাশে লোগো। নীল রঙের গোল বৃত্তের মধ্যে লাল রঙের রক্তের ফোঁটা।

    রি-লাইফ? পুনর্জন্ম? না পুর্নজীবন? পুর্নজীবন বলে কোনও শব্দ হয়? কে জানে! তবে রি-লাইফ শব্দটা প্রথমার জানা। ওই শব্দটা একটা ক্লু। আশেপাশে ছড়িয়ে রয়েছে আরও ক্লু। কফিনের মতো দেখতে পাত্রের নীল রং, দুটি মৃতদেহের নীল শার্ট আর পাজামা, তার নিজের নীল শার্ট—এগুলো ক্লু। মাথা ঝুঁকিয়ে নিজের পোশাক দেখে প্রথমা। সে পরে আছে বোতামবিহীন নীল ফুলহাতা শার্ট আর নীল পাজামা। পায়ে নীল হাওয়াই চপ্পল। শার্টের বুকের বাঁ-দিকে রি-লাইফের নাম ও লোগো। চপ্পলেও রি-লাইফের লেগো।

    সে যে অনাথ আশ্রমে থাকে তার নাম রি-লাইফ। এই লোগোটা অনাথ আশ্রমের লেগো।

    কন্টেনার দুটো তাহলে অ্যাম্বুল্যান্সে ছিল। সে-ও কি অ্যাম্বুল্যান্সে ছিল? ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগায় বাকিরা মরে গেছে আর সে একা বেঁচে রয়েছে?

    তাই হবে। নিজের থিয়োরিকে সত্যি প্রমাণ করার জন্যে উঠে দাঁড়ায় প্রথমা। ওহ কী কষ্ট! সারা শরীর ঝনঝন করে উঠল। সমস্ত মনোবল এক জায়গায় করে প্রথমা খোঁড়াতে খোঁড়াতে মৃতদেহ দুটির কাছে যায়। একটি দেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে নীল শার্ট আর প্যান্টের অস্তিত্বটুকু বোঝা যাচ্ছে। লোগো দেখা যাচ্ছে না। অন্য মৃতদেহটি দেখে প্রথমা নিশ্চিত হল। হ্যাঁ। সেই রি-লাইফের লোগো। যা তার শার্টে অ্যাম্বুল্যান্সের গায়ে, চপ্পলে, কন্টেনারের গায়ে আঁকা রয়েছে।

    ট্রাকে কারা ছিল? খোঁড়াতে খোঁড়াতে উলটানো ট্রাকের কাছে যায় প্রথমা। সামান্য ঝুঁকে দেখার চেষ্টা করে ড্রাইভারের আসনে যে ছিল, তার কী অবস্থা।

    ওয়াক! আবার বমি করে প্রথমা। মাথায় পাগড়ি পরা পাঞ্জাবি ট্রাক ড্রাইভার আর রোগা পাতলা খালাসির মৃতদেহ দুমড়ে মুচড়ে মাংসের তাল হয়ে গেছে। কাটা হাত-পা ছড়িয়ে রয়েছে এদিকে-ওদিকে।

    বমি করে ফতুয়ার হাতায় মুখ মুছতে গিয়ে থমকায় প্রথমা। আশেপাশে যা যা পড়ে আছে, তার মধ্যে একটা খবরের কাগজ দেখা যাচ্ছে। ফতুয়ায় মুখ না মুছে কাগজে মোছা যাক।

    ‘আজ সকাল’ পত্রিকা। ১ অক্টোবর, বুধবার, ২০১৪। কাগজে মুখ না মুছে শার্টের হাতায় মুখ মোছে প্রথমা। এই কাগজ মুখ মুছে নষ্ট করা যাবে না। কাগজটায় অদ্ভুত সব কথা লেখা রয়েছে।

    যেমন, সাল। লেখা রয়েছে, ২০১৪ সাল? কিন্তু এটা তো ২০০৯ সাল। কনফিউজড হয়ে প্রথমা ঠিক করল, খবরের কাগজটা নষ্ট করা যাবে না। এই কাগজ তাকে হেল্প করবে। মাথার মধ্যে যেসব শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে, কাগজের নানা তথ্য সাজিয়ে প্রথমা সেগুলো পূর্ণ করবে। মাথায় একটা কিছু হয়েছে। সে অনেক জিনিস ভুলে গেছে। ভুলে যে গেছে, এটা যখন বুঝতে পারছে তখন খুব বড় চোট লাগেনি। মাঠে পড়ে থাকা ওই চারজনের থেকে সে ভাগ্যবান।

    কাগজ পড়া যাচ্ছে মানে সূর্য উঠেছে। পূর্ব দিকে তাকায় প্রথমা। ওই দিকে মাথা করে পড়েছিল, তাই খেয়াল করেনি যে একটু দূরে পাকা রাস্তা রয়েছে। রাস্তা দিয়ে কিছুক্ষণ বাদে বাদে লরি বা ট্রাক হুশহাশ করে চলে যাচ্ছে।

    আজ বোধহয় দু’তারিখ। কেন না, কাগজটা গতকালের। এত ভোরে, দুমড়োনো মুচড়োনো চেহারায় আজকের কাগজ পাওয়া সম্ভব নয়। আবার কাগজটা অতটা দুমড়োনো নয় যে মনে হবে আরও পুরোনো। যাই হোক, হেডলাইনে চোখ রাখে প্রথমা। ‘সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে হবে, বললেন, রাষ্ট্রপতি।’ খবরে মনোনিবেশ করে প্রথমা। ‘গাঁধী জয়ন্তীর প্রাক্কালে আমদাবাদের বণিকসভার এক ভাষণে রাষ্ট্রপতি অরুণ চ্যাটার্জি জানিয়েছেন যে প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্র ওয়ারিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার পাশাপাশি সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে হবে। ওয়ারিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মায়া মল্লিকের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার শেষে দুই রাষ্ট্রনায়কই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’ এই অবধি পড়ে থমকাল প্রথমা। ভারতবর্ষের রাষ্ট্রপতি পুরুষ? সে তো জানত, মহিলা। খবরের কাগজ ভালো করে উলটে পালটে দেখে সে। কোথাও একটা গণ্ডগোল হচ্ছে।

    নাহ। কোথাও কোনও গণ্ডগোল নেই। ১ অক্টোবর, বুধবার, ২০১৪। ‘আজ সকাল’ পত্রিকার এটা মেদিনীপুর সংস্করণ। ভেতরের পাতায় জেলার নানান খবর রয়েছে।

    জেলার খবর? মেদিনীপুর? প্রথমা তাহলে এখন কলকাতায় নেই? কলকাতা থেকে এখানে এল কী করে?

    এত ধাঁধার সমাধান একসঙ্গে করা যাবে না। হাল ছেড়ে দিয়ে প্রথমা কাগজের পাতা উলটোয়।

    বিদেশের খবরে চোখ বোলায় প্রথমা। ‘লন্ডনে বসবাসকারী অনাবাসী ভারতীয় মেয়েদের পনেরো-ষোলো বছরে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। কম বয়সে বিয়ে লন্ডনে বেআইনি বলে মেয়ের বাড়ির লোক জোর করে তাদের ভারতে নিয়ে যাচ্ছে। এই প্রবণতা রুখতে লন্ডন পুলিশ মেয়েদের পরামর্শ দিয়েছে, তারা যেন প্লেনে ওঠার আগে অন্তর্বাসের মধ্যে স্টিলের চামচ লুকিয়ে রাখে। সিকিয়োরিটি চেকিঙের সময় ধাতব চামচ স্ক্যানারে দেখা যাবে। তাহলেই দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বুঝে যাবে যে মেয়েটিকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে পাচার করা হচ্ছে।’

    স্থানীয় খবরে বলছে, ‘জগন্নাথ ঘাটে ফুলব্যবসাকে আধুনিক করার জন্যে চারতলা এসি ফ্লাওয়ার মল হবে। এই নিয়ে আজ মুখ্যমন্ত্রী অন্তরা দেবনাথের সঙ্গে হল্যান্ডের ফুল কোম্পানির বিশেষ চুক্তি সাক্ষর অনুষ্ঠান আছে।’

    ধুস! আজেবাজে খবর। কাগজ রেখে প্রথমা এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখে। পাশের মাঠে অজস্র কাশফুল ফুটে রয়েছে। একসঙ্গে এত কাশফুল কখনও দেখেনি প্রথমা। না-না! দেখেছে। রেসকোর্সের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে দেখেছে ভিতরে কাশফুলের বন্যা।

    রেসকোর্সের পাশ দিয়ে সে কীভাবে যেত? মাথায় একটা ছবি তৈরি হচ্ছে। ট্যাক্সি করে সে যাচ্ছে। সঙ্গে তার বয়সি একটা ছেলে আর একটা লোক। ওরা কারা? মনে নেই। তবে হঠাৎই অন্য কয়েকটা কথা ঝুপ করে মনে পড়ল। একনম্বর, তার পদবি লাহিড়ি। দু’নম্বর, সে হেস্টিংসের কর্পোরেশানের স্কুলে পড়ে। তিন নম্বর, ক্লাস টেনের সে ফার্স্ট গার্ল।

    আকাশের দিকে তাকাল প্রথমা। সবে সুযযিমামা উঁকি দিয়েছেন। ভোর হতে দেরি নেই। কাশফুলের এই সমারোহের মধ্যে দুটো গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট করে পড়ে আছে, চারজন লোক মৃত—এই খবর এখনও কেউ জানে না।

    ট্র্যাকের আশপাশ দেখল প্রথমা। ভাঙা কাচের বোতল পড়ে রয়েছে। একটা গামছা, বলিউডের হিরোইনের ছবি, ভাঙা সিডি প্লেয়ার, কৃপাণ ও কড়া ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। প্রথমার মনে পড়ল, ট্রাক ড্রাইভারটি শিখ সম্প্রদায়ের ছিল। কৃপাণ ও হাতের কড়া ওরই। কীরকম দুর্ঘটনা ঘটলে হাত থেকে কড়া খুলে বেরিয়ে আসে সেটা ভেবে শিউরে উঠে প্রথমা নিজের কবজি চেপে ধরে।

    তার কবজিতে একটা কিছু রয়েছে। বালা বা চুড়ি। ফুলহাতা শার্টের জন্য এতক্ষণ বুঝতে পারেনি। তাড়াতাড়ি হাতা গুটিয়ে দেখে প্রথমা। সূর্যের প্রথম আলোয় বাঁ-কবজিতে ঝলমল করছে একটা চুড়ি। সোনালি রঙের চুড়ির গায়ে লেখা, ‘প্রথমা। রি-লাইফ।’

    যাক! আত্মপরিচয় নিয়ে নিশ্চিন্ত হল প্রথমা। যতই মাথায় আঘাত লাগুক না কেন, যতই স্মৃতি প্রতারণা করুক না কেন, সে কয়েকটা ব্যাপারে নিশ্চিত। তার নাম প্রথমা লাহিড়ি, সে থাকে কলকাতার রি-লাইফ অনাথ আশ্রমে, কর্পোরেশানের স্কুলের ক্লাস টেনের সে ফার্স্ট গাল। আজ ২ অক্টোবর। মেদিনীপুরের কোথাও কোনও হাইওয়ের ধারে অ্যাম্বুল্যান্সের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষের পরে সে-ই একমাত্র জীবিত।

    প্রথমা অ্যাম্বুল্যান্সের চারদিকে ঘুরপাক খায়। বিড়ির বান্ডিল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে প্যাক করা খাবারের বাক্স, ফার্স্ট এড কিট…

    ফার্স্ট এড কিট হাতে নেয় প্রথমা। কী আছে দেখা যাক।

    ওব্বাবা! এতে সব কিছু আছে। তুলো, গজকাপড়, জীবাণুনাশক তরল, ছুরি, কাঁচি, চিমটে, ওষুধপত্তর। স্কুলে ফার্স্ট এড শিখেছে প্রথমা। নিজের শুশ্রূষা নিজে করে নিতে পারবে।

    জীবাণুনাশক তরলে তুলো ডুবিয়ে সে বাঁ-হাত, বাঁ-পা আর মাথার বাঁ-দিকের ক্ষত পরিষ্কার করে। উরেব্বাবা! কী জ্বালা করছে! দাঁতে দাঁত চিপে কষ্ট সহ্য করে প্রথমা। জীবাণুনাশক ক্রিম ক্ষতস্থানে বুলিয়ে তার ওপরে তুলো লাগায়। গজকাপড়ে ক্ষতস্থান ঢেকে দেয়। এবার ডাক্তারখানা যেতে হবে।

    ডাক্তারখানা? কোথায় পাবে? পরিস্থিতির জটিলতা এতক্ষণে প্রথমার মাথায় অল্প অল্প করে ঢুকছে। প্রাণের ভয় কেটে যাওয়ার পরে আনুষঙ্গিক সমস্যাগুলো মাথায় কিলবিল করতে শুরু করেছে।

    তার বাবা মা নেই। ভাইবোন নেই। এ জগতে তার আপন কেউ নেই। আজ যদি সে এখানে মরে পড়ে থাকত, তাহলে কেউ কাঁদত না। এরকম বেঁচে থাকার মানে কী? সে যে বাড়ি ফিরছে না, এই নিয়ে অনাথ আশ্রমের অন্য সদস্যরা কি চিন্তিত? কী যেন নাম ওদের? মনে পড়েছে! মেয়েদের ডরমিটরিতে প্রথমার পাশের খাটে শোয় তিন্নি। ছেলেদের ডরমিটরিতে প্রথমার বেস্ট ফ্রেন্ড হল ষষ্ঠীচরণ। ষষ্ঠী কি তার জন্য কাঁদছে?

    প্রথমা জানে না। জানতে চায়ও না। তার জীবনীশক্তি খতম হয়ে গেছে। হাইওয়েতে পৌঁছে হাত নেড়ে ট্রাক বা লরি থামানোর মতো শক্তিও শরীরে নেই। আবার বসে পড়ে প্রথমা। দু’হাটু এক করে, মুখ গুঁজে হাউহাউ করে কাঁদতে থাকে। কাঁদতে কাঁদতে ক্লান্ত হয়ে একসময় ঘুমিয়ে পড়ে…

    ৪

    কোলাঘাট থেকে দেউলটি। ২ অক্টোবর।

    ভোর ছ’টা থেকে সকাল দশটা।

    .

    ‘অ্যাই মেয়ে, এখানে কী করছিস?’ কড়া গলার প্রশ্ন ভেসে এল প্রথমার দিকে। সে ধড়মড় করে উঠে বসল।

    প্রথমা বেশিক্ষণ ঘুমোয়নি। সে যখন ঘুমিয়ে পড়েছিল তখন আকাশে আলো সবে ফুটছে। এখনও ভালো করে সকাল হয়নি। চোখ মুছতে মুছতে সে প্রশ্নকর্ত্রীর দিকে তাকাল।

    পানপাতার মতো মুখ, কপালে সিঁদুরের টিপ, টানাটানা চোখ, কানে দুল, নাকে নথ। একমাথা চুল পিছন দিকে টেনে খোঁপা করা। জংলাডুরে শাড়ি গাছকোমর করে পরা। বছর চল্লিশের মহিলার কাঁখে একটা ঝুড়ি। ঝুড়ি ভরতি পদ্মফুল। জংলাডুরে শাড়িটির কোমর পর্যন্ত ভিজে সপসপ করছে। প্রথমা বলে, ‘তুমি ফুল তুলে ফিরছ?’

    প্রথমার পাশে বসে, ঝুড়ি মাটিতে নামিয়ে বউটা বলে, ‘কী করে বুঝলি?’

    ‘ভিজে শাড়ি আর পদ্মফুলের ঝুড়ি দেখে।’ বলে প্রথমা।

    বউটা বলে, ‘কোলাঘাটের এইখানটায় খুব অ্যাক্সিডেন্ট হয়। ড্রাইভারগুলো আজেবাজে জিনিস খেয়ে গাড়ি চালায়।’

    এই জায়গাটার নাম তাহলে কোলাঘাট। সে কোথায় রয়েছে, এটা জেনে খুশি হল প্রথমা। বউটা জিজ্ঞাসা করল, ‘তোর নাম কী?’

    ‘প্রথমা। তোমার কী নাম?’

    ‘আমার নাম জেনে তুই কী করবি?’ ধমক দেয় বউটা, ‘বাড়ি কোথায়?’

    ‘আমার বাড়ি নেই। অনাথ আশ্রমে থাকি।’

    ‘অনাথ আশ্রম? তোর বাবা-মা নেই?’ প্রথমার মাথায় হাত বুলোয় বউটা।

    ‘না।’

    ‘অনাথ আশ্রম কোথায় সেটা মনে আছে?’

    ‘কলকাতায়। আচ্ছা, এখান থেকে কলকাতা কত দূরে?’

    ‘রূপনারায়ণ পেরোলেই তো হাওড়া। ট্রেনে দেড় ঘণ্টার রাস্তা।’

    ‘তোমার নাম কী? তোমার বাড়ি কোথায়?’ পুরোনো প্রশ্নের সঙ্গে এবার নতুন একটা প্রশ্ন যোগ করেছে প্রথমা।

    বউটা প্রথমার মাথায় চাঁটি মেরে বলে, ‘আমার নাম ধুয়ে জল খাবি? বাড়ি ফেরার ইচ্ছে নেই নাকি? কাজের কথা বল। তা না…’ প্রথমার বাচনভঙ্গি নকল করে বউটা বলে, ‘ ”তোমার নাম কী? তোমার বাড়ি কোথায়?” কেন রে? তোর কী দরকার? কলকাতার মেয়েগুলো বেঁড়েপাকা হয়। এত বড় হলি, নিজের ভালোমন্দ বোঝার ক্ষমতা হয়নি?’

    প্রথমা জানে কেন সে ক্রমাগত প্রশ্ন করে যাচ্ছে। আসলে সে তথ্য সংগ্রহ করছে। স্মৃতির ভাঁড়ার শূন্য। কিছুটা হলেও ভরতি করার জন্য এই প্রশ্নমালা।

    ‘আমার নাম উমা। এবার প্রাণে শান্তি হল? তুই আমায় উমামাসি বলে ডাকিস।’ পদ্মফুলের ঝুড়ি কাঁখে নিয়ে দাঁড়িয়েছে উমা। ‘আমার বাড়ি চল। এই শ্মশানপুরীতে বসে থাকতে হবে না। এক্ষুনি গাঁয়ের লোকজন এসে পড়বে। তারা তোকে পুলিশের কাছে নিয়ে যাবে।’

    ‘পুলিশ কেন?’

    ‘তোর খোঁজপাত্তা লাগানোর জন্য থানায় নিয়ে যাবে। জেরা করবে। ওই জন্যই বলছি, চল, এখান থেকে পালাই।’

    উমার পিছন পিছন খোঁড়াতে খোঁড়াতে প্রথমা হাঁটা লাগাল। পুলিশকে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। সে কোনও অন্যায় করেনি! কিন্তু থানাপুলিশ শুনলেই বুকের ভেতরে ধড়ফড় করে।

    কাশফুলের ঝাড়ের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে উমা বলল, ‘বাড়ি গিয়ে খাওয়াদাওয়া কর। তারপর কথাবার্তা হবে।’

    আধঘণ্টা হাঁটার পরে বাড়ি পৌঁছোল উমা। একতলা, পাকা বাড়ি। সামনে একফালি বাগান। কলা, বাতাবিলেবু, বেল—এইসব গাছ রয়েছে। রয়েছে রঙ্গন, দোপাটি, জবা, টগর, গন্ধরাজের মতো ফুলগাছ। প্রথমাকে বাড়িতে ঢুকিয়ে চ্যাঁচাবেড়ার গেট টেনে উমা বলল, ‘সবে সাড়ে ছ’টা বাজে। এখনও লোকজন বাড়ির বাইরে বেরোয়নি। চটপট ঢুকে পড়। তোকে কেউ দেখে ফেললে আমাকে হাজার কৈফত দিতে হবে।’

    উমার বর লুঙ্গি আর জামা পরে দুটো ঝুড়ি নিয়ে বাইরের তক্তপোষে বসে পা দোলাচ্ছিল। উমাকে ঢুকতে দেখে বলল, ‘এত দেরি করলে হয়? মেচেদা লোকাল মিস হয়ে গেল।’

    ‘শশশ!’ ঠোঁটের ওপরে তর্জনী রেখে স্বামীকে চুপ করায় উমা। প্রথমাকে ঘরে ঢুকিয়ে বলে, ‘ফুলের কথা পরে হবে। তুমি ভেতরে এসো।’

    উমার বর চোখ গোল গোল করে তক্তপোষ থেকে উঠে ভেতরে এল। দরজা বন্ধ করে উমা বলল, ‘কোথায় কোথায় লেগেছে দেখি।’

    লাল সিমেন্টের মেঝেতে বসে প্রথমা বলল, ‘মাথায়, হাতে আর পায়ে। আমিই ব্যান্ডেজ করেছি।’

    উমা ব্যান্ডেজ খুলে মাথা, হাত-পা দেখে বলল, ‘সামান্য কেটেছে। আর ব্যান্ডেজ না করলেও চলবে। চান করে আয়।’

    ‘চান করে উঠে কী পরব?’ কাঁদোকাঁদো গলায় বলে প্রথমা।

    উমা বলে, ‘গেল পুজোয় শখ করে একটা সালোয়ার কামিজ কিনেছিলাম। পরা হয় না। ওইটে তোকে দেব।’

    ‘তোমার সালোয়ার কামিজ আমার ঢলঢল করবে।’ আপত্তি করে প্রথমা।

    তোরঙ্গ থেকে হলুদ-সবুজের আঁকিবুঁকি কাটা পোশাক বার করে প্রথমার দিকে ছুড়ে উমা বলে, ‘তুই আর কচি খুকিটি নেই। কুড়ি-একুশ বছর বয়স হল।’ অন্তর্বাস হাতে গুঁজে বলে, ‘এইগুলো দিব্যি ফিট করবে।’

    ‘আমার বয়স ষোলো।’ আপত্তি করে প্রথমা, ‘আমি ক্লাস টেনে পড়ি।’

    ‘আগে চান করে আয়। পরে বিদ্যে ফলাবি।’ প্রথমাকে বাড়ির পিছনদিকের কুয়োতলায় পাঠিয়ে দেয় উমা।

    অ্যাসবেস্টসের ছাদওয়ালা বাথরুম। লাল সিমেন্টের মেঝে। টিনের দরজা। নীল শার্ট আর পাজামা খুলে সাবান রগড়ে গা থেকে কাদা আর রক্ত তুলল প্রথমা। উমার দেওয়া পোশাক গলাল। সব কিছু ফিট করে গেছে। প্রথমা দেখে নিল, কামিজের হাতার আড়ালে চুড়িটা ঢাকা পড়েছে কি না। উমা যতই তার প্রাণ বাঁচাক না কেন, এটা ওকে দেখানো যাবে না।

    কুয়োতলা থেকে বেরিয়ে প্রথমা দেখল, উমা তার বরের সঙ্গে শোওয়ার ঘরে বসে রয়েছে। এতক্ষণে নির্ঘাত তাকে নিয়ে আলোচনা হয়ে গেছে। উমার বর ভুরু কুঁচকে প্রথমাকে দেখে বলল, ‘চোট তেমন নেই। একে টিকিট কেটে ট্রেনে তুলে দিলেই হয়। একা চলে যেতে পারবে।’

    উমা বাটিতে দুধমুড়ি মেখে রেখেছে। এক চামচ মুখে দিতেই প্রথমার গা গুলিয়ে উঠল। মনে হল সব বমি হয়ে যাবে। ওয়াক তুলল সে। উমা ধমক দিল, ‘কাল কখন খেয়েছিলি?’

    গতকাল কখন প্রথমা খেয়েছিল? মনে পড়ছে না। গতকাল তার জীবনে এসেছিল কি না, সেটাই স্মৃতিতে নেই। প্রথমা কথা না বলে দুধমুড়ি খেতে থাকে। একটু পরে গা গুলোনো ভাব চলে যায়। আসে সর্বগ্রাসী খিদের অনুভূতি। হাপুসহুপুস শব্দে পুরোটা শেষ করে উমার বরকে জিজ্ঞাসা করে, ‘তোমার নাম কী?’

    লোকটা এক ছড়া কলা এগিয়ে দিয়ে বলে, ‘কৃষ্ণকান্ত।’

    কলার খোলা ছাড়াতে ছাড়াতে কৃষ্ণকান্তকে আড়চোখে দেখে প্রথমা। লম্বা-চওড়া চেহারা। মাথার চুল পাতলা হয়ে আসছে, তবে পাকেনি। পুরু গোঁফের জন্য গেরামভারি লাগছে। ঠোঁটের আর চোখের কোণে হাসি লেগে রয়েছে। উমার মতোই তার বর কৃষ্ণকান্তকেও ভরসা করা যায়।

    ‘তুই রি-লাইফে থাকিস? ওখানকার ফোন নম্বর মনে আছে?’ জানতে চায় কৃষ্ণকান্ত।

    প্রথমা বলে, ‘তুমি রি-লাইফ চেনো?’

    ‘রি-লাইফের মেঘনাদ লাহিড়ি বিরাট নামকরা ডাক্তার। তার নাম সবাই জানে।’

    কৃষ্ণকান্তর মুখে মেঘনাদ লাহিড়ির নাম শুনে প্রথমার মাথায় স্মৃতির ফ্লাডগেট খুলে গেল। একগাদা ছবি, দৃশ্য, সংলাপ, ঘটনা—যা এতক্ষণ ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল, হুড়মুড়, করে আছড়ে পড়ল চেতনায়। প্রথমা গড়গড় করে বলল, ‘মেঘনাদ লাহিড়িকে আমরা বাবা বলে ডাকি। রি-লাইফ অনাথ আশ্রম আর রি-লাইফ মেডিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট—দুটোই হেস্টিংসের মোড়ে। ফোন নম্বর মনে আছে।’

    মোবাইল ফোন বার করে কৃষ্ণকান্ত বলে, ‘নম্বর বল।’

    কলা খেতে খেতে প্রথমা নম্বর আওড়ায়।

    সেই নম্বরে ফোন করে, কানে মোবাইল দিয়ে কিছুক্ষণ শোনে কৃষ্ণকান্ত। ফোন কেটে বলে, ‘বলছে, এই নম্বরের কোনও অস্তিত্ব নেই।’

    ‘তাই আবার হয় নাকি?’ বিরক্ত হয়ে বলে প্রথমা, ‘গতকাল ওই নম্বর থেকে ষষ্ঠীকে ফোন করা হয়েছিল।’

    ‘ষষ্ঠী কে?’ জানতে চায় কৃষ্ণকান্ত।

    সম্মোহিতের মতো প্রথমা বলতে থাকে, ‘ষষ্ঠী আমার বেস্টফ্রেন্ড। আমার সঙ্গে অনাথআশ্রমে থাকে। আমাদের ওয়ার্ডেন গণেশদার সঙ্গে গত রাতে আমি বাবার চেম্বারে গিয়েছিলাম। চেম্বারের ফোন থেকে আশ্রমের নম্বরে ডায়াল করে গণেশদা বলেছিল যে আমাদের ফিরতে দেরি হবে। আজ নম্বরটার অস্তিত্ব নেই? এ আবার হয় নাকি?’

    ‘দ্যাখ প্রথমা,’ হাত বাড়িয়ে চুল ঘেঁটে দিয়ে কৃষ্ণকান্ত বলে, ‘আমি জানি যে তোকে থানায় নিয়ে যাওয়া উচিত। কিন্তু থানাপুলিশে আমার বডডো ভয়।’

    ‘আমারও খুব ভয়।’ কলা খাওয়া বন্ধ রেখে কামিজের হাতা টানাটানি করছে প্রথমা। চুড়িটা ঢাকা আছে তো!

    কষ্ণকান্ত বলে, ‘তোর হাতে কী হল?’

    ‘কিছু না!’ কথা ঘুরোতে প্রথমা বলে, ‘উমামাসি ফুল বিককিরি করে। তুমি কী করো?’

    ‘আমি কোলাঘাট শ্যামাচরণ বিদ্যাপীঠের সায়েন্সের মাস্টারমশাই।’ প্রথমার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কৃষ্ণকান্ত পালটা প্রশ্ন করে, ‘তোদের আশ্রমে আর কে কে থাকে?’

    ‘মেয়েদের দিকটায় আমি আর তিন্নি। ছেলেদের দিকটায় ষষ্ঠীচরণ, দু’কড়ি, সাত্তার, চার্বাক আর পাঁচু।’

    ‘ষষ্ঠীচরণ কি খেলার ছলে হাতি লুফত?’ মুচকি হেসে প্রশ্ন করে উমা।

    ‘হাতি? কই, না তো।’ সিরিয়াসলি জবাব দেয় প্রথমা। উমা অবাক হয়ে বলে, ‘তুই আবোলতাবোল পড়িসনি।’

    প্রথমা ঘাড় নাড়ে। ‘কার লেখা বই? তোমার কাছে আছে? আমায় দেবে?’

    উমা মাথা নীচু করে বলে, ‘বইটা আছে। কিন্তু দেব না! ওটা আমার ছেলের বই।’

    ‘আহ।’ এখন পুরোনো প্রসঙ্গ তোলার কী দরকার? কৃষ্ণকান্ত বিরক্ত। ‘আমাদের কাজ হল টিকিট কেটে মেয়েটাকে ট্রেনে তুলে দেওয়া।’

    প্রথমা উমাকে বলে, ‘তোমার ছেলে কোথায়?’

    ‘ ”সে আর নেই রে! হার্টের অসুখ নিয়ে জন্মেছিল। চিকিৎসার খরচ আমাদের সামর্থের বাইরে। চোখের সামনে কষ্ট পেয়ে পেয়ে মারা গেল। আবোলতাবোল ওর মুখস্থ ছিল। ‘খেলার ছলে ষষ্ঠীচরণ, হাতি লোফেন যখন তখন…” ‘ হাউহাউ করে কাঁদছে উমা।

    কৃষ্ণকান্ত ধরা গলায় বলল, ‘প্রথমার পুরোনো পোশাক একটা ঝোলায় ভরে দাও। আমি ওকে ট্রেনে তুলে দিয়ে আসি। আর দেরি করলে, গাঁয়ের লোক পাঁচরকম কথা বলবে।’

    পলিথিনের প্যাকেটে নীল শার্ট আর পাজামা ঢুকিয়ে উমা বলল, ‘সাড়ে ন’টা বাজে। স্টেশান পৌঁছোতে পৌঁছোতে দশটা বাজবে। তখন আপিস টাইমের ভিড় কমে যাবে। তুই ফাঁকা ট্রেনে বসে বসে যেতে পারবি।’

    ‘তোমার ফুল সাপ্লাইয়ের কী হবে?’ উমাকে বলে কৃষ্ণকান্ত।

    প্রথমার কামিজের পকেটে দশটা দশ টাকার নোট গুঁজে উমা বলে, ‘ভেন্ডার কামরায় চেনা লোক থাকবে। তার হাতে তুলে দেব।’

    ‘আমাকে টাকা দিচ্ছ কেন?’ নোটগুলো উমাকে ফেরত দেয় প্রথমা।

    উমা বলে, ‘পাকামি করিস না। রাস্তায় টাকা লাগবে। আর এই কাগজটা রাখ। এতে ওর মোবাইল নম্বর আছে। অসুবিধে হলে ফোন করিস।’

    কাগজ আর টাকা কামিজের পকেটে ঢুকিয়ে, কৃষ্ণকান্তকে টাটা করে বাড়ি থেকে বেরোল প্রথমা। উমার সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে বলল, ‘ট্রেন থেকে কোথায় নামব?’

    ‘সাঁত্রাগাছি স্টেশনে নেমে জিগ্যেস করবি, হেস্টিংস যাবার বাস কোথা থেকে ছাড়ে। যে-কেউ বলে দেবে। ওখান থেকে হেস্টিংস বাসে করে পনেরো মিনিটের রাস্তা।’

    রাস্তায় দু’একজন লোক প্রথমাকে দেখলেও কেউ কিছু বলল না। স্টেশানে এসে সাঁত্রাগাছির টিকিট কাটল উমা। টিকিট প্রথমার হাতে ধরিয়ে দু’নম্বর প্ল্যাটফর্মের সামনের দিকে দাঁড়াল। হাওড়া যাবার ট্রেন আসছে।

    মেচেদা লোকাল ফাঁকা। ভেন্ডার কামরায় একটা লোকের হাতে পদ্মফুলের ঝুড়ি ধরিয়ে উমা বলল, ‘বাজারে দিয়ে দিয়ো। টাকাপয়সার কথা কাল হবে।’ তারপর প্রথমাকে নিয়ে লেডিস কামরার দিকে দৌড় দিল।

    প্রথমার পায়ে ব্যথা। সে দৌড়োতে পারছে না। ট্রেন ছেড়ে দিল।

    হাতের কাছে যে দরজাটা পেল, তার হাতল ধরে ট্রেনে উঠে পড়ল প্রথমা। পিছন ফিরে দেখল, কোলাঘাট স্টেশান হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে উমা। গলার কাছটা দলা পাকিয়ে ওঠে প্রথমার। চোখ জ্বালা করতে থাকে। ফাঁকা কামরায়, জানলার ধারে বসে, রডে মাথা দিয়ে সে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশেষ নাহি যে – ইন্দ্রনীল সান্যাল
    Next Article ইন দ্য হ্যান্ড অব তালেবান – ইভন রিডলি

    Related Articles

    ইন্দ্রনীল সান্যাল

    শেষ নাহি যে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 10, 2025
    ইন্দ্রনীল সান্যাল

    মধুরেণ – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }