Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অবাঞ্ছিত উইল – কাসেম বিন আবুবাকার

    কাসেম বিন আবুবাকার এক পাতা গল্প136 Mins Read0
    ⤷

    অবাঞ্ছিত উইল – ১

    ১

    ইয়াসিন সাহেব বেশ গম্ভীর স্বরে বললেন, আপনার ভাগিনার সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে দেব না। আপনারা চলে যান।

    আরমান সাহেব খুব আশ্চর্য হয়ে বললেন, কি বলছেন বেয়াই সাহেব, কিছুই যে বুঝতে পারছি না?

    না বোঝার কি আছে? যারা খেসী করতে এসে আমাদেরকে বিশ্বাস করে না, তাদের বাড়িতে মেয়ে দেব না।

    ইয়াসিন সাহেবের প্রতিবেশী মাহফুজ সাহেব তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, কথাটা চিন্তা করে বলেছেন?

    চিন্তা না করে আমি কোনদিন কোন কথা বলি না বা কাজ করি না।

    পাত্রের বাবা আনসার সাহেব অপমান বোধ করে খুব রাগের সঙ্গে বললেন, মেয়ের বাবার মুখে একথা শোভা পায় না। এখনও সময় আছে, কথাটা ফিরিয়ে নিন।

    না, যাদের মন এত নীচ, তাদের সঙ্গে সম্বন্ধ করব না, এটাই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

    এমন সময় একজন বয়স্ক চাকর এসে ইয়াসিন সাহেবকে বলল, একটা ছেলে আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাচ্ছে।

    কোথা থেকে এসেছে জিজ্ঞেস করেছ?

    জি করেছি, কুষ্টিয়া থেকে।

    ঠিক আছে তাকে ড্রইংরুমে বসাও, আমি আসছি। তারপর পাত্র পক্ষকে বললেন, আপনারা এখন আসতে পারেন।

    আনসার সাহেব ও আরমান সাহেব রাগে ও অপমানে লাল হয়ে আর কোনো কথা বলে বিয়ের মজলিসে এসে সবাইকে মেয়ের বাবার কথা বলে বর ও বরযাত্রীদের নিয়ে চলে গেলেন। বরযাত্রীদের মধ্যে অনেকে অপমানের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য গোলমাল সৃষ্টি করে মারামারি করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারল না। কারণ এই রকম ঘটনা যে ঘটতে পারে, তা ইয়াসিন সাহেব অনুমান করেছিলেন। সেইজন্যে আগে থেকে মহল্লার কয়েকজন পাণ্ডা ধরণের ছেলেদের মজলিসে থাকার ব্যবস্থাও করেছিলেন। বরযাত্রীরা তাদের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে না পেরে বর নিয়ে চলে গেল।

    মহল্লার লোকজনদের বিদায় করে ইয়াসিন সাহেব ড্রইংরুমে এসে ঢুকলেন।

    ছেলেটা দাঁড়িয়ে সালাম দিল।

    ইয়াসিন সাহেব সালামের উত্তর দিয়ে ছেলেটার আপাদমস্তক লক্ষ্য করলেন, তেইশ চব্বিশ বছরের সুন্দর স্বাস্থ্যবান ছেলেটাকে চিনতে না পেরে বললেন, তোমাকে তো চিনতে পারছি না, দাঁড়ালে কেন বস।

    ছেলেটা একটা বড় খাম ওনার হাতে দিয়ে বলল, আব্বা খামটি আপনাকে দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন। এগুলো আপনার খুব দরকারি কাগজ পত্র।

    ইয়াসিন সাহেব খাম থেমে কাগজপত্র বের করে দেখে বললেন, হ্যাঁ দরকারি, তারপর বেশ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তা হলে রেদওয়ানের ছেলে?

    জি।

    তোমার আব্বা আম্মা ভাল আছেন?

    জি, আল্লাহ পাকের রহমতে ভাল আছেন। তবে আব্বা প্রায় এক বছর হল বিছানায় পড়ে আছেন। হঠাৎ স্ট্রোক হয়ে পুরো বাম সাইডটা অবশ হয়ে গেছে।

    তাই নাকি? ডাক্তার কি বলেছে?

    ডাক্তার বলেছেন একেবারে নরমাল না হলেও কিছুটা ভাল হবে। তবে সময় লাগবে।

    তোমার নাম কি?

    শাকিল আহমদ।

    তুমি এখন কি করছ?

    গ্রামের স্কুলে মাস্টারী করছি।

    লেখাপড়া কতদূর করেছ?

    বি.এ. পাশ করেছি।

    আমি যখন আমার আম্মাকে আনতে দেশে গিয়েছিলাম তখন তোমাকে খুব ছোট দেখেছিলাম, তাই চিনতে পারি নি। আচ্ছা, তোমার আব্বা কি আমার কথা তোমাকে কিছু বলেছে?

    তেমন কিছু বলেন নি। তবে মাঝে মাঝে যখন আব্বা চুপচাপ বসে চিন্তা করেন তখন জিজ্ঞেস করলে বলেন, “কি আর চিন্তা করব বাবা, আমার বন্ধুর কথা ভাবছি। সে এখন ঢাকার একজন বিরাট বড় ব্যবসায়ী। অনেক দিন তাকে দেখিনি। দেখতে খুব ইচ্ছা করে। আমি তখন বলি, চলুন না আপনাকে ওনার কাছে নিয়ে যাই। আব্বা বলেন, না আমি যাব না। সে যদি আমাকে না দেখে থাকতে পারে, তা হলে আমি। পারব না কেন?

    ইয়াসিন সাহেব দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, তোমার আব্বা ঠিক কথা বলেছে। আমার একটা ভুলের জন্য তোমার আব্বা মনে খুব দুঃখ পেয়েছে। তোমার আব্বা আর আমি যে কি রকম বন্ধু ছিলাম, তা সময় মতো তোমাকে একদিন বলবো। তুমি কি বিয়ে করেছ?

    লজ্জা পেয়ে শাকিল মাথা নিচু করে বলল, জি না।

    আমার মেয়ের আজ বিয়ে হতে যাচ্ছিল। পাত্র পক্ষের ব্যবহারে তাদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছি। তা বোধ হয় তুমি বুঝতে পেরেছ। এখন আমি তোমার সঙ্গে তার বিয়ে দিতে চাই। এ ব্যাপারে তুমি কি কিছু বলবে?

    শাকিল নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারল না, মাথা নিচু করে চিন্তা করতে লাগল, যে নাকি একটা গ্রাম্য স্কুলের সামান্য মাস্টার, তাকে কিনা শহরের এক বিরাট ধনী ব্যবসায়ী তার একমাত্র মেয়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছেন। কথাটা চিন্তা করে সে। ঘামতে শুরু করল।

    ইয়াসিন সাহেব তাকে মাথা নিচু করে ভাবতে দেখে বললেন, কিছু বলছ না কেন?

    শাকিল মাথা তুলে ওনার মুখের দিকে একবার চেয়ে দৃষ্টি নামিয়ে নিয়ে বলল, বেয়াদবি মাফ করবেন, এ ব্যাপারে আব্বা-আম্মা যা করবেন তাই হবে। এখন আমাকে যাবার অনুমতি দিন।

    ইয়াসিন সাহেব আবার দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, তুমি ঠিক কথা বলেছ। আমারই সে কথা ভাবা উচিত ছিল। কিন্তু এত রাতে কোথায় যাবে? এখানেই থাক।

    আমি এক আত্মিয়ের বাসায় উঠেছি, না গেলে ওরা খুব চিন্তা করবে। তা হলে খেয়েদেয়ে তারপর না হয় যেও।

    ইয়াসিন সাহেব মেহেরপুর চৌধুরী স্টেটের মালিকের বংশধর। ওনার দাদা গাফফার চৌধুরী জমিদার না হলেও জমিদারের মতো তার সব কিছু ছিল। মেহেরপুরের আশপাশের কয়েকটি গ্রামে ওনার প্রচুর জমি-জায়গা, আগান-বাগান এবং তিন চারটে জলমহল ছিল। এখন অত কিছু না থাকলেও যা আছে তা কম না। মালিকের উদাসীনতার সুযোগে কর্মচারীরা নিজেদের আখের গুছিয়ে চলেছে। তাই বর্তমানে যিনি মালিক, তিনি দাদার আমলের ঠাট বজায় রাখলেও চৌধুরী স্টেটের সেই ঐতিহ্য আর নেই। গাফফার চৌধুরীর দুই ছেলে। বড় ছেলের নাম আব্দুল বাসেত। আর ছোটর নাম আব্দুল আলিম। বাসেত কিছুটা উচ্ছঙ্খল হলেও আলিম বেশ ধার্মীক।। বাসিতের এক ছেলে। নাম মেসবাহ উদ্দিন। আব্দুল আলিমের এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলের নাম ইয়াসিন আর মেয়ের নাম জেবুন্নেছা। জেবুন্নেছা খুব সুন্দরী ছিলেন। কিন্তু বোবা। মেসবাহ উদ্দিন ও ইয়াসিন দু’চাচাতো ভাইয়ের মধ্যে বেশ সখ্যতা ছিল। ইয়াসিনের আব্বা আব্দুল আলিম গাফফার চৌধুরী বেঁচে থাকতেই মারা যান। ইয়াসিন ও মেসবাহ উদ্দিন তখন ইন্টারে পড়ে। মেসবাহ উদ্দিন আই.এ. পাশ করে পড়াশুনা বন্ধ করে দেন। সেই সময় প্রথম যৌবনের তাড়নায় ও শয়তানের প্ররোচনায় মেসবাহ উদ্দিন চাচাতো বোন জেবুন্নেছার সাথে অবৈধ মেলামেশা করে। ফলে জেবুন্নেছা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। আব্দুল আলিমের স্ত্রী ফারজানা বেগম জানতে পেরে ভাসুর বাসেতকে ঘটনাটা জানিয়ে তাদের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু উনি ও ওনার ছেলে মেসবাহ উদ্দিন কেউই রাজি হলেন না। বরং এই ব্যাপার নিয়ে বাসেত ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া ঝাটি করেন। আলিম মারা যাওয়ার তিন মাস পর গাফফার চৌধুরীও মারা যান। তাই জেবুন্নেছার বিয়ের কথা বলতে এলে বাসেত রাগারাগি করতে করতে এক সময় বললেন, আলিম আব্বা বেঁচে থাকতে মারা গেছেন, তুমি বা তোমার ছেলে এই সম্পত্তি থেকে কিছুই পাবে না। দয়া করে যে থাকতে ও খেতে পরতে দিচ্ছি, সেটাই যথেষ্ট।

    সেখানে ইয়াসিন ছিলেন, তিনি আম্মাকে ঘরের ভিতর নিয়ে এসে বললেন, এ ব্যাপারে তুমি আর চাচার সঙ্গে কথা কাটাকাটি করো না। জেবুন্নেছার তকদ্বীরে যা আছে হবে।

    ভাসুরের কথা শুনে ফারজানা বেগম নির্বাক হয়ে গিয়েছিলেন। ছেলের কথা শুনে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বললেন, না বাবা আর কোনো ব্যাপারেই কিছু বলব না।

    জেবুন্নেছা বোবা কালা হলেও সব কিছু বুঝতে পারলেন। সেই রাত্রেই গলায় শাড়ী পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

    এই ঘটনায় ফারজানা বেগম ও ইয়াসিন প্রচণ্ড দুঃখ পান। বছর দই পর আব্দুল বাসেত মারা যান। বাবা মারা যাবার পর মেসবাহ উদ্দিন আরো বেশি উচ্চুঙ্খল হয়ে পড়েন। ইয়াসিন তাকে অনেক বোঝান। কিন্তু কোনো কাজ হয় নাই। আরো কিছু দিন পর মেসবাহ উদ্দিনকে মদ ও মেয়ে মানুষ নিয়ে মেতে উঠতে দেখে ইয়াসিন খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন। একদিন চাচি আম্মা জাহানারা বেগমকে কথাটা জানালেন।

    জানাহারা বেগম দেওরের ছেলেকে খুব ভালবাসতেন। ধার্মিক দেখে তিনি আল্লাহপাকের কাছে ছেলের হেদায়েতের জন্য কেঁদে কেঁদে দোয়া চাইতেন। এখন তার কথা শুনে বললেন, আমি ওকে অনেক বুঝিয়েছি। আমার কথায় কান দেয় না। তোর সঙ্গে তো আগে খুব ভাব ছিল। তুই ওকে বোঝাবার চেষ্টা কর।

    চাচি আম্মার কথা ইয়াসিন সেদিন তাকে কুরআন হাদিসের কথা বলে বোঝাতে গেলে মেসবাহ উদ্দিন রেগে গিয়ে তার সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেন। এমন কি বলেন, আমি যা ইচ্ছা তাই করব, তুই বলার কে? তোর আব্বার টাকায়ততা করছি না। তোর আব্বার যেমন এই সম্পত্তিতে কোনো হক ছিল না, তেমনি তোরও নেই। বেশি বাড়াবাড়ি করলে এ বাড়ি থেকে বের করে দেব। এই কথা শুনে ইয়াসিন চোখের পানি ফেলতে ফেলতে মায়ের কাছে এসে মেসবাহ উদ্দিনের কথাগুলো বলে বললেন, আমরা আর এ বাড়িতে থাকব না। আজই যেখানে চোখ যায় সেখানে চলে যাব।

    ফারজানা বেগমের চোখেও পানি এসে গেল। বললেন, তাই চল বাবা আমারও আর এখানে থাকতে ইচ্ছা করছে না।

    ইয়াসিন তখন বি.এ. পরীক্ষা দিয়েছেন। মেহেরপুরে তখন ভালো কলেজ ছিল না। তাই কুষ্টিয়া কলেজ হোস্টেলে থেকে মেসবাহ উদ্দিন ও ইয়াসিন পড়েছেন। সেই সময়ে সেখানকার রেদওয়ান নামে একটা ধার্মিক ছেলের সঙ্গে ইয়াসিনের বন্ধুত্ব হয়। দু’জনে এক সঙ্গে বি. এ. পরীক্ষা দিয়েছেন। ইন্টারে পড়ার সময় থেকে উভয়ে উভয়কে ধার্মিক জেনে বন্ধুত্ব করেন। অনেকবার তাদের বাড়িতেও গেছেন। রেদওয়ানের আম্মা ফৌজিয়া খাতুন তাকে নিজের ছেলের মতো দেখতেন। রেদওয়ানের আব্বা রেদওয়ানকে ছোট রেখে মারা যান। মেসবাহ উদ্দিন অন্য স্বভাবের ছিলেন বলে রেদওয়ানের সঙ্গে পরিচয় থাকলেও তার সঙ্গে মিশতেন না।

    ইয়াসিন মাকে নিয়ে চৌধুরী বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা চিন্তা করতেই বন্ধু রেদওয়ানের কথা তার মনে পড়ল। মায়ের কথা শুনে বললেন, আজ হোক কাল হোক একদিন না একদিন আমাদেরকে এ বাড়ি ছাড়তে হবে। এই বাড়িতে, এই সম্পত্তিতে আমাদের যখন কোনো হক নেই, তখন আমি চলে যাবার জন্য মনস্থির করেছি।

    ফারজানা বেগম চোখের পানি মুছে বললেন, তুই শুধু এই বাড়ি, এই বিষয় সম্পত্তির কথা বলছিস কেন? প্রত্যেক মানুষকেই তো একদিন না একদিন এই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে হবে। আমার এখান থেকে যেতে কোনো অমত নেই। আমি বললাম তো, তুই যেখানে নিয়ে যাবি। সেখানেই যাব।

    কয়েকদিন পর ইয়াসিন কুষ্টিয়ায় এসে বন্ধু রেদওয়ান ও তার আম্মাকে সব কথা জানিয়ে তাদের কাছে পরামর্শ চাইলেন।

    রেদওয়ানের আম্মা ফৌজিয়া খাতুন বললেন, ঐ পাপপূরীতে তোমাদের থাকার দরকার নেই। তোমার আম্মাকে নিয়ে তুমি আমাদের বাড়িতে চলে এস। তুমি আমার রেদওয়ানের মতো। আল্লাহ চাহে তো একটা না একটা ব্যবস্থা হবেই।

    কুষ্টিয়া থেকে ফিরে এসে ইয়াসিন আম্মাকে নিয়ে রেদওয়ানের বাড়িতে চলে আসেন। ফারজানা বেগম আসবার সময় স্বামীর জমানো অনেক টাকা-পয়সা ও সোনাদানা সঙ্গে এনেছিলেন। তা থেকে রেদওয়ানদের বাড়ির কাছে জায়গা কিনে দুটো ঘর উঠিয়ে বাস করতে থাকেন। কিছু বাগান এবং আবাদি জমিও কেনেন। সব কিছু রেদওয়ানই ব্যবস্থা করে দেন।

    এর মধ্যে রেদওয়ান গ্রামের হাইস্কুলে মাস্টারি করতে শুরু করেছেন। তিনি ইয়াসিনকে দরখাস্থ করতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি স্কুল মাস্টারী করতে চান নাই। ফারজানা বেগম ছেলেকে কিছু একটা করার কথা বললেন। ইয়াসিন বললেন, আমি। ব্যবসা করার চিন্তা ভাবনা করছি।

    ফারজানা বেগম বললেন, বেশ তো তাই কর। টাকা যা লাগে আমি দেব। ইয়াসিন মায়ের কাছ থেকে হাজার বিশেক টাকা নিয়ে ঢাকায় এসে ছোট খাট ব্যবসা শুরু করেন। তারপর ভাগ্যগুনে ও কর্মদক্ষতায় আজ ঢাকায় একজন বড় ব্যবসায়ী। গ্রীণ রোডে বিরাট ছয়তলা বাড়ি। ব্যবসায় উন্নতি করে বাড়ি গাড়ি করার আগে একবার কুষ্টিয়ায় গিয়ে মাকে নিয়ে আসেন। আর কোনো দিন কুষ্টিয়া যান নাই। সেখানে যা কিছু ছিল, আসবার সময় বন্ধু রেদওয়ানকে দেখাশুনার ভার দিয়ে চলে আসেন। রেদওয়ান প্রতি বছর তার জমির ও বাগানের ফসল বিক্রি করে সব টাকা ঢাকায় তার কাছে পাঠিয়ে দেন।

    রেদওয়ান তার ফুপাতো বোন সুরাইয়াকে ছোট বেলা থেকে ভালবাসতেন। যখন তিনি ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন তখন রেদওয়ানই ওনাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যেতেন আসতেন। শেষ পরীক্ষার দিন ফেরার পথে রেদওয়ান তাকে ভালবাসার কথা জানালে সুরাইয়া ডিনাই করেন। তারপর বন্ধু ইয়াসিনের সঙ্গে পরিচয় হবার পর ওনাদের দুজনকে দু’জনের দিকে এগোতে দেখে রেদওয়ান মনের কষ্ট মনে চেপে রেখে আল্লাহপাকের কাছে সাহায্য চেয়ে সবর করে নেন।

    সুরাইয়াদের বাড়ি তাদের বাড়ি থেকে অল্প দূরে। কথাটা দু ফ্যামিলির মধ্যে জানাজানি হবার পর কথাবার্তা ঠিক হয়, ইয়াসিন কিছু একটা করলেই বিয়ের কাজ সম্পন্ন হবে।

    কিন্তু আল্লাহপাকের ইচ্ছা অন্য রকম। তাই ইয়াসিন ঢাকায় এসে উন্নতি হতে দেখে তিনি আরো বড় হবার জন্যে পিছনের দিকে তাকাবার সময় পেলেন না। সুরাইয়ার কথাও মনে রাখলেন না। একদিনের জন্যে এসে সেই যে মাকে নিয়ে ঢাকায় চলে এলেন, আজ পর্যন্ত আর কুষ্টিয়ায় যান নাই। বাড়ি গাড়ি করার পর ঢাকার এক বড় লোকের শিক্ষিত মেয়ে মাহমুদাকে বিয়ে করেছেন। অবশ্য স্ট্যাবলিস্ট হবার পর এবং বিয়ের সময় কয়েকটা চিটি দিয়ে রেদওয়ানকে আসতে বলেছিলেন। কিন্তু রেদওয়ান বন্ধুর ব্যবহারে খুব আঘাত পেয়ে আসেন নাই। ফারজানা বেগম ছেলের ব্যবহারে অসন্তুষ্ট হয়ে প্রায় রাগারাগি করতেন।

    এদিকে যখন সুরাইয়ার বয়স দিন দিন বেড়ে যেতে লাগল তখন তার আব্বা ও রেদওয়ান ইয়াসিনকে অনেকবার চিঠি দিয়ে কোনো উত্তর পান নাই। শেষে সুরাইয়ার আব্বা একদিন ঢাকায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।

    ইয়াসিন তখন বলেছিলেন, আমি স্ট্যাবলিস্ট না হয়ে বিয়ে করব না। আপনার মেয়ের বিয়ে অন্যত্র দেয়ার ব্যবস্থা করুন।

    সুরাইয়ার আব্বা ফিরে এসে মেয়ের বিয়ে দেয়ার জন্য পাত্র খুঁজতে লাগলেন। সুরাইয়া শুনে যেমন দুঃখ পেলেন তেমনি রেদওয়ানও পেলেন। সুরাইয়ার আব্বা পাত্র খুঁজলে কি হবে। ইয়াসিন ও সুরাইয়ার ভালবাসার কথা এবং তাদের বিয়ের কথা গ্রামের ও আশপাশের গ্রামের অনেকে জেনে গিয়েছিল। ফলে সুরাইয়ার বিয়ে হওয়া খুব মুস্কিল হয়ে পড়ল। শেষ মেষ রেদওয়ানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। রেদওয়ান সে কথা পত্রের দ্বারা বন্ধু ইয়াসিনকে জানিয়েছিলেন। তাদেরই ছেলে শাকিল। শাকিলরা দুই ভাই বোন। বোনের নাম আনিসা। আনিসা ম্যাট্রিক পাশ করার পর রেদওয়ান ছেলের বন্ধু গুলজারের সঙ্গে তার বিয়ে দেন। গুলজারদের বাড়ি পাশের গ্রামে। তার বাবার অবস্থা মোটামুটি ভালো। স্কুল-লাইফ থেকে দু’জনে বন্ধু। দুজন দুজনের বাড়িতে অনেকবার গিয়েছে। গুলজারের স্বভাব চরিত্র খুব ভাল। তার আব্বা আম্মা শাকিলকে খুব ভালবাসেন। তাই যখন গুলজার বি.এ. পাশ করার পর ঢাকায় অগ্রণী ব্যাংকে চাকরি পেল তখন মনে মনে ভেবে রাখল, আনিসা ম্যাট্রিক পাশ করলে তার সাথে বোনের বিয়ে দেবে। সেকথা শাকিল আব্বাকে জানিয়ে রেখেছিল। আনিসা পরের বছর ম্যাট্রিক পাশ করার পর ছেলের বন্ধুর সঙ্গে রেদওয়ান মেযের বিয়ে দেন। রেদওয়ান নিজে যেমন ধার্মিক তেমনি ছেলে মেয়েকেও সেই ভাবে মানুষ করেছেন। গুলজার স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় থাকে।

    শাকিলের এম.এ পড়ার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু রেদওয়ান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অনেক দিন থেকে ভুগছেন। তিনি চলাফেরা করতে পারেন না। শরীরের বাম সাইড প্যারালাইজড হয়ে গেছে। তাই শাকিলের এম.এ পড়া হল না। চাষের ধানে টেনে টুনে তাদের ছমাস চলতো। বাকি ছমাস রেদওয়ান স্কুলের বেতনের টাকায় এবং প্রাইভেট পড়িয়ে যা পেতেন তাতে চালিয়ে নিতেন। ছেলের লেখাপড়ার পিছনেও খরচ করতেন। অনেক দিন বিছানায় পড়ে থাকায় চাকরি চলে যায়। রেদওয়ান যেমন ধার্মিক ছিলেন তেমনি আদর্শবান শিক্ষক ছিলেন। ওনার আদর্শের কথা নিজেদের গ্রাম ছাড়াও অন্যান্য গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছিল।

    শাকিল বি.এ. পাশ করে অভাবের সংসারে অনেক দিন বেকার রয়েছে জেনে স্কুল কমিটি তাকে মাস্টারি করার জন্য বলে। শাকিলের মাস্টারি করার ইচ্ছা না থাকলেও সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে মাস্টারি করতে হল। কিছুদিন পর শাকিল আব্বার কথামতো ইয়াসিন সাহেবের জমি জায়গার দলিল ও কাগজপত্র নিয়ে ঢাকায় ওনাকে দিতে এসেছিল।

    শাকিল চলে যাবার পর ইয়াসিন সাহেব বন্ধু রেদওয়ানের কথা ভাবতে ভাবতে চাচাতো ভাই মেসবাহ উদ্দিনের কথা মনে পড়ল। সেদিন মনের কষ্টে মাকে নিয়ে চলে এলেও আগের জীবনের কথা মনে পড়লে খুব অস্থিরতা অনুভব করেন। মেসবাহ উদ্দিনও অনেক দিন পর তার নিজের ভুল বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি লোক পরস্পরায় শুনেছিলেন, ইয়াসিন তার মাকে নিয়ে কুষ্টিয়ায় বন্ধু রেদওয়ানদের ওখানে আছেন। সে সময় লজ্জায় সেখানে যেতে না পারলেও পরে যখন জানতে পারলেন, ইয়াসিন ঢাকায় ব্যবসা করে সেখানে গাড়ি বাড়ি করেছেন তখন কয়েকবার তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য গিয়েছিলেন। উনি যখন যেতেন তখন ফারজানা বেগম ভাসুরের ছেলের সঙ্গে দেখাও করতেন না। বছর তিনেক হল ফারজানা বেগম মারা গেছেন। মেসবাহ উদ্দিন নিয়ে যেতে এলে ইয়াসিন সাহেবের মনে হয়েছে, আজ সে ধনী হয়েছে বলে তাকে ফিরিয়ে নিতে এসেছে। বছর খানেক আগেও একবার মেসবাহ উদ্দিন এসে যখন বললেন, তোর তবু একটা মেয়ে আছে, আমার তাও নেই। আমাদের বিশাল সম্পত্তি কে ভোগ দখল করবে? তখনও ইয়াসিন সাহেবের মন গলে নি। বলেছিলেন, যেখান থেকে আমার মা অপমানিত হয়ে এসেছে, সেখানে আমি যেতে পারব না। মেসবাহ উদ্দিন অশ্রুভরা চোখে ফিরে গেছেন।

    ইয়াসিন সাহেবের কোন পুত্র সন্তান নেই। একটা মাত্র মেয়ে। তার নাম শাকিলা। সে এ বছর বাংলায় অনার্স পাশ করেছে। ইয়াসিন সাহেব লালবাগের এক ধনাঢ্য লোকের ইঞ্জিনিয়ার ছেলে নাদিমের সঙ্গে মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করেন। তার আগে পাত্রের সঙ্গে শাকিলার বার তিনেক এ্যাপয়েন্টমেন্ট হয়েছে। কেউ কাউকে অপছন্দ করেনি। মেয়ের মত নিয়েই ইয়াসিন সাহেব বিয়ের দিন ঠিক করেন। বিয়ের পাকা কথাবার্তা হবার সময় পাত্রের মামা আরমান সাহেব, উনিও একজন ব্যবসায়ী, লেনদেনের কথা তুলেছিলেন। তখন ইয়াসিন সাহেব বলেছিলেন, বিয়ের সময় লেনদেনের কথা বলা ইসলামে নিষেধ। স্বেচ্ছায় সামর্থ অনুসারে যে যা দেয়, তা খুশী মনে সবাইকে মেনে নিতে হয়।

    আরমান সাহেব বললেন, উভয়েরই সামর্থ আছে। আমরা যদি তা করি, তাতে কোন দোষ হবে বলে মনে হয় না।

    ইয়াসিন সাহেব বললেন, আমাদের কি মনে হবে, না হবে তা নিয়ে ইসলামের কোন আইন তৈরী হয়নি। স্কুল মাখলুকাতের যিনি মালিক, একমাত্র তিনি যা মনে করবেন বা ইচ্ছা করবেন তাই হবে। আপনারা এ ব্যাপারে আর মুখ খুলবেন না। আল্লাহপাক আমাকে যতটা দেয়ার সামর্থ দিয়েছেন, ততটা দেব। তিনি বিয়েতে মেয়েকে দেবার জন্য ওনার আম্মার বিশ ভরী সোনার গহণা না ভাঙ্গিয়ে শুধু পালিশ করে এনেছেন। মেয়েকে সাজাবার আগে সেগুলো পাত্র পক্ষকে দেখাবার জন্য বিয়ের মজলিসে পাঠিয়েছিলেন।

    পাত্রের মামা আরমান সাহেব খুব কূটীল লোক। ভাগিনা যে এক সময় তার শ্বশুরের সবকিছু পাবে তা জেনেও সোনাতে কতটা খাদ আছে জানার জন্য একজন স্যাকরাকে সঙ্গে করে এনেছিলেন। আপ্যায়ণ ও খাওয়া দাওয়ার পর ইয়াসিন সাহেব বিয়ে পড়াবার কথা তুললে আরমান সাহেব বললেন, তার আগে আপনি মেয়েকে যে সব সোনার গহনা দিচ্ছেন, সেগুলো আমরা পরীক্ষা করতে চাই।

    ইয়াসিন সাহেব শুনে খুব রেগে গেলেন। কিন্তু বাইরে তা প্রকাশ করলেন না। গম্ভীর স্বরে বললেন, বেশ তা হলে ভিতরে চলুন।

    আরমান সাহেব পাত্রের বাবাকে ও স্যাকরাকে নিয়ে ভিতরে গেলেন। ইয়াসিন সাহেব একজনকে মজলিস থেকে গহনার বাক্সগুলো নিয়ে আসতে এবং পাত্রকেও সঙ্গে করে আনতে বললেন।

    আরমান সাহেব বললেন, পাত্র আবার এখানে আসবে কেন?

    ইয়াসিন সাহেব বললেন, আসলে জিনিসগুলোর মালিক তো সে-ই। অতএব কতটা আসল আর কতটা নকল জিনিস সে পাচ্ছে, তা নিশ্চিয় তার দেখা উচিত? তারপর লোকটাকে বললেন, যা বললাম তাড়াতাড়ি কর। লোকটা সোনার বাক্সগুলো ও বরবেশী নাদিমকে নিয়ে ফিরে এল। ইয়াসিন সাহেব নাদিমকে বসতে বলে স্যাকরাকে বললেন, পরীক্ষা করুন।

    স্যাকরা দু একটা বাক্স খুলে গহনাগুলো উল্টে পাল্টে দেখে বললেন, এগুলো দেখছি সাবেক কালের খাঁটি জিনিস। কষ্টি পাথরে ঘষে আর পরীক্ষা করা লাগবে না। কথা শেষ করে তিনি নিজেই আবার সেগুলো বাক্সে রাখার সময় বললেন, এ যুগে এরকম সোনা পাওয়া দুষ্কর। তারপরের ঘটনা যা ঘটেছিল, তা পাঠক পাঠিকারা কাহিনীর শুরুতেই পড়েছেন।

    শাকিলার বান্ধবীরা তাকে সাজাবার জন্য এসে সোনার গহনার খোঁজ করতে গিয়ে যা শুলন, তাতে তারা খুব অবাক হয়ে গেল। পাত্রপক্ষ গহনা পরীক্ষা করায় শাকিলার আব্বা তাদেরকে অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছেন। বান্ধবীরা বিস্ময় কাটিয়ে উঠে ফিরে এসে শাকিলাকে জানাল।

    শাকিলা ধর্মশীলা মেয়ে না হলেও ফরয নামায, ফরয রোযা করে। তবে পর্দা মেনে চলে না। বাইরে বেরোবার সময় চাদর বা বোরখা ব্যবহার করে না। শুধু একটা প্রচলিত সরু ওড়নার দুই প্রান্ত দুই কাঁধের উপর দিয়ে পিছনে ঝুলিয়ে মাঝখানটা টেনে বুকের ওপর দেয়। আযান শুনলে ওড়নার একদিকটা নিয়ে মাথায় দেয়। পরে নামিয়ে ফেলে। কখনো কখনো রুমাল দিয়ে মাথা চুলসহ বেঁধে রাখে। খুব সুন্দরী না হলেও সুন্দরী। গায়ের রং ফর্সা ও কালর মাঝামাঝি। স্বাস্থ্য মোটামুটি ভাল। যে কোনো ছেলের দৃষ্টি তার দিকে পড়লে ফিরিয়ে নেয়া শক্ত। ধনী ব্যবসায়ীর একমাত্র মেয়ে হিসাবে যতটা অহংকার থাকা উচিত ততটা নেই। হয় তো সে অপরূপ নয় বলে, না হয় তার মধ্যে কিছু ধর্মীয় জ্ঞান আছে বলে। বান্ধবীদের কাছে বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার কথা শুনে শাকিলা স্তব্ধ হয়ে কিছুক্ষণ বসে রইল। তারপর তার চোখ দুটো পানিতে ভরে উঠল। বান্ধবীদের কেউ কেউ তাকে প্রবোধ দিতে থাকলে শাকিলা তাদেরকে বলল, তোরা এখন যা। আমাকে একটু একলা থাকতে দে। বান্ধবীরা চলে যাওয়ার পর সে ভাগ্যের কথা চিন্তা করে নিজেকে সামলে নিল। তারপর মায়ের রুমে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করল, বাবা কোথায়?

    মাহমুদা বেগম বললেন, কুষ্টিয়া থেকে কে একটা ছেলে এসেছে, তার সঙ্গে দেখা করতে ড্রইংরুমে গেছে।

    শাকিলা ড্রইংরুমের দরজার কাছে এসে পর্দা ফাঁক করে দেখল, বাবা একা চুপ করে বসে আছে। ভিতরে ঢুকে বাবা বলে ডেকে তার কাছে এসে দাঁড়াল।

    ইয়াসিন সাহেব ততক্ষণ আগের জীবনের কথা চিন্তা করছিলেন। মেয়ের ডাকে সম্বিত ফিরে পেয়ে তার একটা হাত ধরে পাশে বসিয়ে গায়ে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললেন, আমার ওপর তোর খুব মনে কষ্ট হয়েছে না?

    শাকিলা কোন কথা বলতে পারল না। বাবার বুকে মাথা রেখে ফুঁপিয়ে উঠল।

    ইয়াসিন সাহেবের চোখেও পানি এসে গেল। ভিজে গলায় বললেন, আমার ওপর তুই মনে কষ্ট আনিস না। আল্লাহপাকের ইচ্ছা হয়তো অন্যরকম, তাই এ রকম হল। তারপর তিনি হাতের উল্টোপিঠে চোখ মুছে বললেন, বাপ হয়ে তোর কাছে ক্ষমা। চাইছি।

    শাকিলা বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল, এ তুমি কি বলছ বাবা। আর কখনো এমন কথা বলবে না। তোমার ওপর আমার কোন মনো কষ্ট নেই। তুমি যা ভাল বুঝেছ করেছ। বাবাকে আবার চোখ মুছতে দেখে বলল, তুমি অত ভেঙে পড়ছ কেন? আল্লাহ আমার তকৃদিরে যা রেখেছেন তা হবেই।

    ইয়াসিন সাহেব বললেন, আমার কেবলই মনে হচ্ছে, তোর প্রতি অবিচার করে ফেললাম।

    শাকিলা বলল, না বাবা তুমি কোনো অবিচার করনি। আল্লাহর ইচ্ছাতেই সব কিছু হয়েছে। এখন আর ওসব কথা চিন্তা করো না। মা বলল, কুষ্টিয়া থেকে কে যেন এসেছিল?

    ইয়াসিন সাহেব টেবিলের ওপর থেকে খামটা নিয়ে মেয়ের হাতে দিয়ে বললেন, আমি আর তোর দাদি যখন মেহেরপুর থেকে এসে কুষ্টিয়ায় এক বন্ধুর বাসায় ছিলাম তখন সেই বন্ধু কিছু জমি জায়গা কিনে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। সেই সব জমি জায়গার দলিলপত্র এতদিন বন্ধুর কাছেই ছিল। তারই ছেলে এসে দিয়ে গেল। জানিস মা, আমার ঐ বন্ধুটা যেমন ধার্মিক তেমন আদর্শবান শিক্ষক ছিল। তার ছেলের কাছে শুনলাম, তার বাম সাইডটা এক বছর হতে চলল অবশ হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। সে যে আমার কি রকম বন্ধু ছিল, তা তোকে বোঝাতে পারব না।

    শাকিলা বলল, এ সময় ওনাকে একবার তোমার দেখতে যাওয়া উচিত।

    যাওয়া তো একান্ত উচিত, কিন্তু মা যাওয়ার রাস্তা যে আমি নিজেই বন্ধ করে দিয়েছি।

    সেই রাস্তা আবার কি খোলা যায় না বাবা?

    আল্লাহ রাজি থাকলে সেই চেষ্টা করব মা। কয়েক সেকেণ্ড চুপ করে থেকে আবার বললেন, তার ছেলেকে তার বাবার মত মনে হল। ছেলেটা বি.এ. পাশ করে স্কুল মাস্টারি করছে।

    তাকে আজ এখানে থাকতে বললে না কেন?

    বলেছিলাম, সে তার এক আত্মিয়ের বাসায় উঠেছে। না গেলে তারা চিন্তা করবে, তাই চলে গেল। তারপর আবার বললেন, যে সময় আমাদের পূর্ব পুরুষদের বাড়ি ছেড়ে ওদের বাড়িতে চলে আসি তখন তোর দাদি ও আমি চোখের পানিতে বুক। ভাসিয়েছিলাম। কথা শেষ করে তিনি আবার চোখ মুছলেন।

    তোমাকে না সেইসব পুরনো কথা ভাবতে নিষেধ করেছি। ওসব চিন্তা আর কখনও করো না। আল্লাহ কি তোমাকে সে সবের চেয়ে কম কিছু দিয়েছেন?

    না মা তা দেন নি। বরং তার চেয়ে অনেক বেশি দিয়েছেন। সে জন্য তাঁর পাক দরবারে লাখ লাখ শুকরিয়া জানাই।

    আমি দাদীর কাছে তোমাদের পূর্ব পুরুষদের অনেক কথা শুনেছি। আমার কি মনে হয় জান বাবা, আল্লাহ পাকের ইশারায় ঐ রকম ঘটনা ঘটেছিল বলে আজ তুমি এত উন্নতি করতে পেরেছ। আর তারই ঈশারায় আবার আজ আমার বিয়েতেও এই বিপর্যয় ঘটল। তার কথা স্মরণ করে তোমাদেরকে সবর করে থাকতে হবে।

    তুই খুব দামী কথা বলেছিস মা। তোর কথা শুনে আমার দুশ্চিন্তা দূর হল। চল মা এশার নামায পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইব।

    এমন সময় মাহমুদা বেগম এসে বললেন, বাপ মেয়েতে সারারাত গল্প করবে, না নামায পড়ে খাওয়া দাওয়া করবে?

    শাকিলা বলল, তুমি যাও মা, আমরা এক্ষুনি আসছি। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে বাবার একটা হাত ধরে বলল, চল।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকামিনী কাঞ্চন – কাসেম বিন আবুবাকার
    Next Article বিয়ের খোঁপা (গল্পগ্রন্থ) – কাসেম বিন আবুবাকার

    Related Articles

    কাসেম বিন আবুবাকার

    ক্রন্দসী প্রিয়া – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    জানি তুমি আসবে – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    কি পেলাম – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    কালোমেয়ে – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    একদিন অপরাহ্নে – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    কে ডাকে তোমায় – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Our Picks

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }