Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অভিজাতক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প69 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. সোমনাথের ঘোড়া কেনা হয়েছে

    সোমনাথের ঘোড়া কেনা হয়েছে, দুধের মত সাদা টাট্টুঘোড়া। সহিসের ব্যবস্থাও হয়েছে। ঘোড়ার পিঠে জিন চড়িয়ে মুখের লাগাম ধরে সহিস দাঁড়িয়ে আছে, আর যোধপুরী ব্রিচেস পরে চাবুক হাতে নিয়ে সোমনাথ ঘোড়ায় চড়বার চেষ্টা করছে।

    ঘোড়ার পিঠে চড়া কিন্তু সহজ কাজ নয়, তা হোক না সে টাট্টুঘোড়া।

    যতবারই সোমনাথ ঘোড়ার পাশে গিয়ে লাফ মেরে পিঠে চড়বার চেষ্টা করছে, ততবারই সে সরে সরে যাচ্ছে। বাড়ির কয়েকজন গোমস্তা ও চাকর দাঁড়িয়ে ঘোড়ায় চড়া দেখছে ও নানা রকম মন্তব্য করছে।

    গোবর্ধন বলল–ঘোড়াটা দেখছি ভারি দুষ্টু। ছোটবাবু, আমি বরং তোমাকে কোলে করে ওর পিঠে তুলে দিই।

    না, আমি নিজেই চড়ব। সোমনাথ আবার লাফ দিল, কিন্তু ঘোড়া আবার সরে গেল।

    একজন গোমস্তা বুদ্ধি দিল—একটা টুল আনলে ভাল হয়, টুলে চড়ে সহজে ওঠা যাবে।

    দ্বিতীয় গোমস্তা বলল-ছোটবাবুর হাতের চাবুক দেখেই ঘোড়া ভয় পাচ্ছে। ওটা ফেলে দিলেই তো ল্যাটা চুকে যায়।

    সোমনাথ রাগ করে বলল—তোমাদের আর বুদ্ধি দিতে হবে না, আমি যেমন করে পারি উঠব।

    গোবর্ধন বলল–আমি বলি কি, ঘোড়ার পাগুলো চেপে ধরলে হয় না?

    গোমস্তা বলল-ঘোড়ার পায়ে ধরতে চাও তুমিই ধর না বাপু।

    সকলে হেসে উঠল।

    দোতলায় নিজের জানলা থেকে একনাথ সব দেখছেন আর অসহিষ্ণু হয়ে উঠছেন। যত সব অপদার্থ। একটা ছেলেকে ঘোড়ায় চড়াতে পারে না।

    তিনি হাঁক দিয়ে বললেন— দাঁড়া সোমনাথ, আমি আসছি—

    তিনি বকতে বকতে দোরের দিকে চললেন।

    নীচের বারান্দায় ললিতা একটি কাঠের ঘোড়ায় চড়ে দোল খাচ্ছিল, একনাথ সিঁড়ির রেলিং ধরে আস্তে আস্তে নীচে নেমে এলেন; পা ঠিক পড়ছে না। একটু খোঁড়াচ্ছেন। বারান্দা পার হয়ে তিনি বাগানের দিকে চলে গেলেন। ললিতা হাঁ করে চেয়ে রইল। সে আগে কখনো একনাথকে নীচের তলায় নামতে দেখেনি।

    ওদিকে কুসুম ঠাকুরঘর থেকে পুজোর ফুল সাজিতে নিয়ে একনাথের ঘরে গেল। বিছানার পাশে সাজি রেখে সে চারদিকে তাকিয়ে দেখল, ঘরে একনাথ নেই। সে আশ্চর্য হয়ে ভাবল— বাবা আবার কোথায় গেলেন! ঘর ছেড়ে কোথাও তো যান না। জানলা খোলা দেখে সে গিয়ে নীচে উঁকি মারল।

    একনাথ বাগানে পৌঁছে গেছেন, সোমনাথকে লক্ষ্য করে তিনি বলছেন— দাঁড়া, ওরকম করে ঘোড়ায় চড়ে না—এই দ্যাখ, আমি শিখিয়ে দিচ্ছি।

    কুসুম গালে হাত দিয়ে জানলা থেকে সরে এল—ওমা কি হবে, বাবা একেবারে নীচে নেমে গেছেন! মা চণ্ডী, রক্ষে করো।

    কুসুম ছুটতে ছুটতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

    বাগানে চাকর-গোমস্তারা একনাথকে আসতে দেখে যে-যার সরে পড়ল। একনাথের কোনদিকে দৃষ্টি নেই, তিনি গিয়ে সহিসের হাত থেকে লাগাম নিয়ে সোমনাথকে বললেন— অমন করে ঘোড়ায় চড়ে না। এদিকে আয়, আমার কাঁধে ভর দেহ্যাঁ-এবার ডান হাতে জিনের মুঠ ধরে লাফিয়ে ওঠ—এই তো ঠিক হয়েছে।

    ঘোড়া মানুষ চেনে, সে এবার সরে গেল না। সোমনাথ রেকাবে পা দিয়ে ঘোড়ার পিঠে উঠে বসল। একনাথ তার হাতে লাগাম দিয়ে বললেন— লাগামে বেশি ঢিল দিস না। হ্যাঁ, এবার। বাগানের মধ্যে চক্কর দে; প্রথমেই ছুট দিস না— ধীর কদম

    সন্তুষ্ট বিচারকের দৃষ্টিতে অশ্বারূঢ় নাতিকে পরিদর্শন করে একনাথ বাড়ির দিকে ফিরে চললেন।

    বারান্দার সিঁড়ির মুখে ডাক্তার পাণ্ডের সঙ্গে দেখা। পাণ্ডে বাইরে ফটকের দিক থেকে আসছিলেন, একনাথকে নীচের তলায় দেখে হন্তদন্ত হয়ে এগিয়ে গেলেন– আরে এ কি কাণ্ড! আপনি একেবারে নীচে নেমে এসেছেন।

    কেন আমি কি নীচে নামতে পারি না! তাঁর মনে যতই তেজ থাক শরীরের শক্তি কমে গিয়েছিল, তিনি ক্লান্তভাবে সিঁড়ির প্রথম ধাপে বসে মুখে বিক্রম দেখিয়ে বললেন–তুমি ভেবেছ কি? আমি অক্ষম অকর্মণ্য?

    ডাক্তার তাড়াতাড়ি বললেন—না না, বাবুসাহেব, কিন্তু আপনার পায়ের ব্যথাটা

    কে বলে আমার পায়ে ব্যথা। তিনি তড়াক করে উঠে দাঁড়িয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠবার উপক্রম করলেন, কিন্তু এক ধাপ উঠেই তাঁকে দাঁড়িয়ে পড়তে হল, মুখ বিকৃত করে পায়ের যন্ত্রণা দমন করলেন। সিঁড়ি দিয়ে নামা যত সহজ, ওঠা তত সহজ নয়।

    ঠিক এই সময় কুসুম দ্রুতপদে নেমে এল। সে কোন কথা না বলে একনাথের একটা বাহু তুলে নিয়ে নিজের কাঁধের ওপর রাখল, বলল–এবার আমার কাঁধে ভর দিয়ে উঠুন আস্তে আস্তে উঠুন—

    একনাথ গলার মধ্যে একটা হুম শব্দ করলেন, কোন আপত্তি করলেন না। ডাক্তার পিছন থেকে বললেন–আমিও আসব নাকি? দুদিক থেকে দুজন ধরলে আরো সহজে উঠতে পারবেন।

    একনাথ কড়া সুরে বললেন—না না, তোমাকে দরকার নেই।

    সিঁড়ির মাথায় উঠে একনাথ দাঁড়ালেন, কুসুম তাঁকে ছেড়ে দিল। ডাক্তারও পিছন পিছন উঠছিলেন, একনাথ তাঁর পানে বিজয়গর্বিত চোখে চেয়ে বললেন–দেখলে তো, পাখির মত উড়ে চলে এলাম।

    ডাক্তার মিটি মিটি হেসে বললেন–হাঁ বাবুজি, একেবারে বাজপাখির মত। এবার চলুন, বিছানায় শুয়ে একটু বিশ্রাম করবেন।

    আমার পা কিন্তু ঠিক আছে।

    ডাক্তার আশ্বাস দিয়ে বললেন–তাতে কোন সন্দেহ নেই। চলুন— চলুন—

    নিজের ঘরে ঢুকে নিজের বিছানায় শুলেন, ডাক্তার ও কুসুম খাটের দুপাশে। একনাথের মেজাজ আবার চড়ে গেল, তিনি ডাক্তার পাণ্ডের পানে কটমট চক্ষে চেয়ে বললেন—তোমার অত্যাচার আর আমি সহ্য করব না। রাতদিন একটা ঘরের মধ্যে আমাকে আটক করে রেখেছ। আমি কি জেলখানার কয়েদী? তুমি যাও, নিজের চিকিৎসা আমি নিজেই করতে পারব— ফের যদি তুমি এসে আমার পিছনে লাগো, হুলস্থুল কাণ্ড বেধে যাবে

    পাণ্ডে প্রসন্ন স্বরে বললেন-না না বাবুজি, আর আমি আপনাকে বিরক্ত করব না। কথা দিচ্ছি, আপনি ডেকে না পাঠালে আর আমি আসব না। কেমন, তাহলে হবে তো? আচ্ছা, আজ চলি। কুসুমের দিকে চেয়ে একটু হেসে তিনি বিদায় নিলেন।

    ডাক্তার চলে যাবার পর একনাথ একটা হাঁটু তুলে সন্তর্পণে হাত দিয়ে অনুভব করলেন, মনে হল বাতে আক্রান্ত হাঁটুটা ফুলেছে। তিনি হাঁক ছাড়লেন—গোবর্ধন।

    কুসুম খাটের আরো কাছে এসে বলল–বাবা, গোবর্ধনকে ডেকে দেব? কি দরকার আমাকে বলুন না।

    মুখ গোঁজ করে একনাথ বললেন–হাঁটুর ব্যথা বেড়েছে। ডাক্তারের ওই দুর্গন্ধ ওষুধ আর লাগাব না। গোবর্ধনকে বল একবাটি তেল গরম করে এনে হাঁটুতে মালিশ করে দিক।

    কুসুম বলল–আমি এক্ষুনি গরম তেল এনে মালিশ করে দিচ্ছি, আপনি চুপ করে শুয়ে থাকুন।

    একনাথ উঠে বসার উপক্রম করে বললেন— কিন্তু

    কুসুম তাঁকে আবার শুইয়ে দিয়ে বলল— আপনি শুয়ে থাকুন, আমাকে আপনার পদসেবা করতে দিন। সে দ্রুতপদে চলে গেল।

    একনাথ বাষ্পাকুল চোখে ঊর্ধ্বে চেয়ে রইলেন।

    .

    বাগানে একটা গাছের ছায়ায় ঘোড়ার পিঠে বসে সোমনাথ বিশ্রাম করছে; সহিস পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সে-ও ঘোড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৌড়েছিল।

    সহিস কপালের ঘাম মুছে বলল—এইবার নামুন ছোটসাহেব। আবার বিকেলে চড়বেন।

    সোমনাথ বলল— আর এক চক্কর দেব। তোমার সঙ্গে যাবার দরকার নেই, তুমি এখানেই থাকো। পনেরো মিনিটের মধ্যেই আমি ফিরে আসছি।

    লাগাম নেড়ে সে ঘোড়াকে চালু করল।

    .

    একনাথ পূর্ববৎ বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন। একটি বাটিতে সর্ষের তেল এবং লম্বা এক টুকরো ফ্ল্যানেল কাপড় নিয়ে কুসুম ঘরে ঢুকল, তার পিছনে জ্বলন্ত কাঠকয়লার আংটা নিয়ে গোবর্ধন। কুসুম ইশারা করল, গোবর্ধন একটি টিপাইয়ের ওপর আংটা রেখে টিপাই খাটের পাশে এনে রাখল। কুসুম আঁচের ওপর তেলের বাটি বসিয়ে একটি ছোট প্যাকেট খুলে অল্প কর্পূর তেলের মধ্যে ফেলে দিল, গোবর্ধনকে বলল—গোবর্ধন, বাবুসাহেবের হাঁটুর নীচে বালিশ দাও।

    একনাথ এতক্ষণ ঘাড় ফিরিয়ে দেখছিলেন, বিরক্ত মুখে বললেন—এসব কি হচ্ছে?

    কুসুম বলল— গরম তেল কর্পূর দিয়ে হাঁটুতে মালিশ করব।

    কী হবে মালিশ করে?

    ব্যথা সেরে যাবে। খাটের কিনারায় বসে কুসুম গরম তেলে আঙুল ড়ুবিয়ে মালিশ করতে শুরু করল, অনুযোগের সুরে বলল— এই শরীরে কি বাড়াবাড়ি সহ্য হয়। আমি জানতে পারলে হরগিস্ নীচে নামতে দিতুম না। – গোবর্ধন, বাবুসাহেবের কপালে ঘাম হচ্ছে দেখতে পাচ্ছ না? পাখা দিয়ে মাথায় বাতাস কর।

    একনাথ বকুনি খেয়ে চোখ বুজে শুয়ে রইলেন। গোবর্ধন তাঁর মাথায় বাতাস করতে লাগল।

    কুসুম তেল মালিশ করছে আর আংটায় ফ্ল্যানেল তাতিয়ে সেঁক দিচ্ছে। সে কতকটা যেন নিজ মনেই বলতে লাগল বাতের ব্যথা কি সহজ ব্যথা, অনেক যত্ন নিলে তবে সারে। তারপর সেরে গেলে যা ইচ্ছে করা যায়। ব্যথা কি একটু কম মনে হচ্ছে?

    একনাথ হাঁটু একটু নাড়াচাড়া করে বললেন–হুম, আর তেমন চিড়িক মারছে না। তুমি যাও, আর সেঁকের দরকার নেই।

    কুসুম বলল— সে কি বাবা, আরো আধঘণ্টা সেঁক দিতে হবে। আজ সারা দিন বিছানা থেকে উঠতে পাবেন না। গোবর্ধন, যাও, আরো কাঠকয়লা নিয়ে এস।

    গোবর্ধন চলে গেল। একনাথ মুখ গোমড়া করে বললেন—বেশ, লাগাও মালিশ, তোমারই কষ্ট, আমার কি! আমি দশদিন বিছানা থেকে উঠব না।

    এই সময় গোবর্ধন ছুটতে ছুটতে এসে বলল— সর্বনাশ হয়েছে, ছোটবাবু ঘোড়া থেকে পড়ে গেছেন!

    একনাথ খাড়া উঠে বসলেন কি বললি, সোমনাথ ঘোড়া থেকে পড়ে গেছে! কি করে পড়ল! কোথায় পড়ল?

    গোবর্ধন বলল–তা তো জানি না হুজুর, সহিস ছুটে এসে বলল, ছোটবাবু ঘোড়া থেকে পড়ে গেছেন।

    একনাথ বিছানা থেকে নামতে নামতে বললেন-যত সব অপদার্থের দল

    কুসুম বাধা দিয়ে বলল— বাবা, আপনি খাট থেকে নামবেন না। আপনার পা—

    চুলোয় যাক পা! ছেলেটা বাঁচল কি মরল কেউই দেখছে না, কেবল চেঁচাচ্ছে— একনাথ বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ালেন।

    কুসুম ছুটে এসে বাধা দিল বাবা, আপনি ঘরে থাকুন, আমি নীচে গিয়ে দেখছি কী হয়েছে। দেখেই আপনাকে খবর দেব। ছেলেরা কত পড়ে যায়, কত হাত-পা ভাঙে, তার জন্য এত ভাবনার কী আছে।

    কোন কথায় কান না দিয়ে একনাথ বললেন–গোবর্ধন, লাঠিটা দে। —কোন কথা শুনতে চাই না আমি নীচে যাচ্ছি। ছেলেটার যদি কিছু হয়ে থাকে কাউকে আস্ত রাখব না লাঠি ধরে একনাথ খোঁড়াতে খোঁড়াতে ঘর থেকে বেরুলেন।

    কুসুম তেলের বাটি ইত্যাদি তুলে নিতে নিতে বলল—গোবর্ধন, তুমি ওঁর সঙ্গে সঙ্গে যাও, নইলে হয়তো পড়ে যাবেন। আমি আসছি।

    গোবর্ধন ছুটে বেরিয়ে গেল।

    একনাথ তখন সিঁড়ির রেলিং ধরে আস্তে আস্তে নামছেন। গোবর্ধন তাড়াতাড়ি নেমে এসে তাঁর অনুগামী হল।

    সিঁড়ির নীচে কাঠের ঘোড়ায় চড়ে ললিতা দোল খাচ্ছিল, একনাথ সেখানে নেমে এক গর্জন ছাড়লেন শম্ভু! গজাধর। রঘুয়া। কোথায় গেল হতভাগারা! দৌড়ে যা, দ্যাখ সোমনাথ কোথায়?

    গর্জনের প্রথম ধাক্কাতেই ললিতা ঘোড়া থেকে উল্টে পড়ে গেল। একনাথের সেদিকে লক্ষ্য নেই, তিনি পা টেনে টেনে বাগানের দিকে চললেন। তিন-চার জন চাকর তাঁর দিকে ছুটে আসছে দেখে তিনি আবার চিকুর ছাড়লেন— এদিকে আসছিস কেন রে অলপ্পেয়ের দল, সোমনাথ কোথায় আগে দ্যাখ

    চাকরেরা পাকসাট খেয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল।

    ওদিকে কুসুম তাড়াতাড়ি নেমে এসে দেখল ললিতা কাঠের ঘোড়া উল্টে সিঁড়ির নীচে চুপটি করে পড়ে আছে, সে তাকে হাত ধরে তুলে একনাথের কাছে গিয়ে দাঁড়াল।

    একনাথ হতাশ স্বরে বললেন–ভগবান জানেন কোথায় পড়ে আছে ছেলেটা! সহিসটাই বা কেমন

    এই সময় ঘোড়র ক্ষুরের টগবগ আওয়াজ শোনা গেল। একনাথ কথা থামিয়ে সেইদিকে তাকালেন। কদম-চালে ঘোড়া চালিয়ে সোমনাথ আসছে। একনাথ মহা উল্লাসে দু হাত তুলে বললেন–আরে এই তো সোমনাথ। তবে যে হতভাগারা বলল ঘোড়া থেকে পড়ে গেছে!

    সোমনাথ এসে একনাথের সামনে ঘোড়া থামাল, একমুখ হাসি নিয়ে ঘোড়ার পিঠ থেকে নামল, বলল–হ্যাঁ দাদু, ঘোড়াটা আমায় ফেলে দিয়েছিল। এই দ্যাখো গায়ে ধুলো লেগেছে। কিন্তু আমি তখনি আবার উঠে এক লাফে তার পিঠে চড়ে বসলাম। কি করে ঘোড়ার পিঠে চড়তে হয় এখন আমি শিখে নিয়েছি, আর আমাকে ফেলতে পারবে না।

    আনন্দে আত্মহারা হয়ে একনাথ সোমনাথকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন, বললেন—শাবাশ! এই তো পুরন্দরপুরের সিংহ বংশের ছেলে। বৌমা, দেখেছ, ছেলে কাকে বলে!

    কুসুম দেখবে কী, তার দুই চোখে তখন কান্নার বান ডেকেছে।

    ব্যস্তসমস্তভাবে ডাক্তার পাণ্ডে এসে উপস্থিত হলেন—এ কি, আবার আপনি নেমে এসেছেন। পায়ের ব্যথাটা কি সারতে দিতে চান না?

    যাও যাও ডাক্তার, তোমার ডাক্তারি আর আমার দরকার নেই। তোমার চেয়ে ঢের ভাল ডাক্তার আমি পেয়েছি। একনাথ সগর্বে কুসুমের পানে চাইলেন–হাঁটুতে অ্যায়সা গরম তেল মালিশ করেছে যে ব্যথা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

    একনাথ নাতির কাঁধে হাত রেখে প্রায় স্বাভাবিক চালে সিঁড়ির দিকে চললেন, কুসুম তাঁদের পিছন পিছন গেল। ডাক্তার কিছুক্ষণ নির্বাক দাঁড়িয়ে রইলেন, তারপর তাঁর মুখ পরম তৃপ্তির হাসিতে ভরে উঠল।

    .

    মানুষের জীবনে দশটা বছর অল্প কাল কী দীর্ঘ কাল তা নির্ণয় করা কঠিন। সুখী দম্পতির জীবনের দশটা বছর চক্ষের পলকে কেটে যায়, আবার কয়েদীর জীবনে দশ বছর কেটেও কাটতে চায় না। সবই আপেক্ষিক।

    পুরন্দরপুরের জমিদারবাড়িতে সকলের বয়স দশ বছর বেড়ে যাওয়া ছাড়া বিশেষ কোন পরিবর্তন ঘটেনি। পুরোহিতমশাই গৃহদেবীর পূজা করেন, স্তোত্রপাঠ করেন। গোবর্ধনের কানের কাছে চুলে পাক ধরেছে, তবু সে মাঝে মাঝে তারা-ঝির হাত ধরে হঠাৎ নাচতে আরম্ভ করে, কর্তা অনেকদিন তাকে গালমন্দ করেননি।

    কর্তা রোজ সকালবেলায় নীচের তলায় দপ্তরখানার চৌকিতে এসে বসেন। পিছনে ও দুপাশে মোটা-তাকিয়া, হাতে গড়গড়ার নল। নায়েব হিসেবের খাতা খুলে আয়ব্যয়ের বয়ান শোনায়। একনাথের বয়স এখন সত্তর, কিন্তু তাঁর শরীরে বার্ধক্যের শিথিলতা আসেনি; মুখের উগ্র গাম্ভীর্য যেন একটু নরম হয়েছে। দশটা বছর তাঁর শরীরের ওপর দিয়ে অতি লঘুপদে চলে গেছে, কোথাও পদচিহ্ন রেখে যায়নি। ছেলেকে হারিয়ে তিনি যে মানসাগ্নিতে দগ্ধ হচ্ছিলেন, নাতিকে পেয়ে সে-দাহ শীতল হয়েছে।

    বিকেলবেলা কুসুম ললিতার চুল বাঁধতে বসে। ললিতার বয়স এখন পনেরো-যোলো; চেহারাটি ভারি স্নিগ্ধ। কৈশোরের উপকূলে দাঁড়িয়ে সে আসন্ন যৌবনের সোনার তরীর অপেক্ষা করছে।

    চুলবাঁধার সময় ললিতা প্রশ্ন করে—বৌমা, বাবু কবে ফিরে আসবে?

    কুসুম বলে-কলেজের ছুটি হলেই আসবে।

    এবার তো একবারে ছুটি, পড়া শেষ, আর কলেজে ফিরে যেতে হবে না?

    না, আর ফিরে যেতে হবে না।

    ললিতা কুসুমকে বৌমা বলে বাড়ির অন্য সকলের দেখাদেখি। সোমনাথকেও ছোটবাবু বলত, এখন শুধু বাবু বলে।

    চার মাস পরে পরীক্ষা দিয়ে সোমনাথ বাড়ি ফিরে এল।

    ডাক্তার পাণ্ডে তাকে তিন মাইল দূরের রেলস্টেশন থেকে আনতে গিয়েছিলেন। জমিদার বাড়িতে একজন স্থায়ী রোগীর অভাবে ডাক্তার পাণ্ডে এখন আর আসেন না, তবে জরুরী ফাইফরমাস খাটায় সময় তাঁর তলব পড়ে।

    ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে সোমনাথ উপস্থিত হল। একনাথ সদর ফটকের সামনে ছাতা মাথায় দিয়ে পরিজন বেষ্টিত হয়ে অপেক্ষা করছিলেন। সোমনাথ একলাফে গাড়ি থেকে নেমে একনাথকে প্রণাম করল, একনাথ তাকে বুকে জড়িয়ে নিলেন।

    সোমনাথের দেহে স্বাস্থ্যভরা যৌবনের দীপ্তি, মুখে নির্ভীক আনন্দের হাসি। একনাথ তার মুখের পানে সগর্ব চোখে চেয়ে গলার মধ্যে একটা শব্দ করলেন–হুঁ। পরীক্ষা কেমন হল?

    সোমনাথ প্রফুল্ল স্বরে বলল–ভাল হয়নি দাদু। তবে পাস করে যাব বোধহয়।

    একনাথ আবার গলার মধ্যে শব্দ করলেন— খালি হকি আর ফুটবল খেলেছ। যাও, এখন মুখহাত ধুয়ে খাও গিয়ে, তোমার মা খাবার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

    সোমনাথ একদৌড়ে বাড়ির দিকে চলে গেল। একনাথ ডাক্তারের দিকে ফিরে বললেন— তুমিও এস ডাক্তার। আজ এখানেই মধ্যাহ্নভোজন করবে।

    .

    কুসুম আর ললিতা দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়েছিল, সোমনাথ এসে মাকে প্রণাম করল। তারপর ললিতার পানে চেয়ে কেমন যেন ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেল। চার মাস আগে সে যে ললিতাকে দেখে গিয়েছিল, এ যেন সে ললিতা নয়। তার বুকের স্পন্দন একটু দ্রুত হল, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম ফুটে উঠল। কিন্তু সে চট্‌ করে নিজেকে সামলে নিয়ে কুসুমকে বলল–মা, এ মেয়েটা কে? একে তো আগে কখনো দেখিনি।

    কুসুম একটু হেসে ঘরের দিকে পা বাড়াল, বলল–খাবার সাজিয়ে রেখেছি, খাবি আয়।

    ললিতাও সোমনাথকে দেখে হঠাৎ জড়সড় হয়ে পড়েছিল, তার মুখে একটু ভীরু হাসি ফুটে উঠেছিল। কিন্তু সোমনাথের কথায় তার হাসিটুকুও শুকিয়ে গেল। সোমনাথ যে মনের উচ্ছাস চাপা দেবার জন্যে ঠাট্টা-তামাশার আশ্রয় নিয়েছে তা সে বুঝতে পারল না। সে ভাবল সোমনাথ সত্যিই তাকে চিনতে পারেনি।

    বাবু। তুমি আমায় চিনতে পারলে না?

    না। তোমার নাম কি?

    ললিতার চোখ জলে ভরে উঠল, সে চোখে আঁচল দিয়ে দ্রুতপদে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে গেল।

    এই ললি— ব্যগ্রভাবে সোমনাথ তার অনুসরণ করতে গেল, কিন্তু ঘর থেকে মায়ের ডাক এল-সোমনাথ।

    সোমনাথ সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে থেমে গেল, মায়ের আহ্বানে খাবার ঘরে গিয়ে ঢুকল।

    .

    বাগানে একটা গাছের তলায় পাথরের বেদি, ললিতা সেই বেদির ওপর বসে উদাস চোখে অদূরে ফোয়ারার পানে চেয়ে আছে। অভিমানে তার বুক ফুলে উঠছে। বাবু তাকে চিনতে পারল না! চার মাসে ভুলে গেল!

    পিছন থেকে সোমনাথ নিঃশব্দে এসে তার চোখ টিপে ধরল। ললিতা প্রথমে চমকে উঠল, তারপর চুপ করে বসে রইল। সাড়াশব্দ নেই।

    সোমনাথ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে বলল–আমি কে!

    ললিতা ভারী গলায় বলল— জানি না।

    চোখ ছেড়ে দিয়ে সোমনাথ ললিতার পাশে বসল, বলল—রাগ হয়েছে?

    ললিতা উত্তর দিল না, অন্যদিকে চেয়ে রইল। সোমনাথ তখন বলল–সত্যিই কি আমি তোমাকে চিনতে পারিনি! তুমি এই কমাসে এতবড় হয়ে গেছ যে আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম।

    তবে কেন আমায় ভয় দেখালে? জল-ভরা চোখ সোমনাথের পানে ফিরিয়ে ললিতা তার কাঁধে মাথা রাখল। সোমনাথ তার কাঁধ জড়িয়ে নিয়ে স্বলিত স্বরে বলল–আর ভয় দেখাব না।

    তাদের মন গঙ্গা-যমুনার মত সঙ্গমের পানে ছুটে চলেছে। ছেলেবেলার সহজ সাহচর্যের প্রীতি অন্যরূপ ধারণ করেছে। স্থির সমুদ্র সহসা উত্তাল হয়ে উঠেছে।

    দপ্তরখানার চৌকিতে বসে বিকেলবেলা একনাথ তাকিয়ায় ঠেস দিয়ে তামাক খাচ্ছেন। সামনে ডাক্তার পাণ্ডে। পাণ্ডের সামনে রুপোর রেকাবিতে পান, তিনি মাঝে মাঝে পান তুলে মুখে দিচ্ছেন। অলসভাবে গাল-গল্প হচ্ছে। জল-হাওয়া চাষবাসের অবস্থা এইসব নিয়ে আলোচনা।

    গোবর্ধন আফিমের কৌটো আর জলের গেলাস নিয়ে এল। একনাথ আফিমের গুলি পাকিয়ে মুখে দিলেন, একঢোঁক জল খেলেন, তারপর আবার গড়গড়ার নল তুলে নিলেন। গোবর্ধন কৌটো গেলাস নিয়ে চলে গেল।

    তারপর এলেন দেওয়ান। তাঁর হাতে কয়েকটা চিঠি। একনাথ প্রশ্ন করলেন— জরুরী চিঠি কিছু আছে?

    দেওয়ান বললেন–আজ্ঞে দুখানি চিঠি জরুরী বলা চলে। ছোটবাবুর জন্যে পাত্রীর খবর আছে।

    একনাথ বললেন— ও…কারা খবর দিয়েছে? কেমন লোক? ইদানীং যেসব সম্বন্ধ আসছে আমার তেমন পছন্দ নয়। বংশমর্যাদা না থাকলে তো মেয়ে আনা যায় না। কারা চিঠি লিখেছে?

    দেওয়ান বললেন–আজ্ঞে পড়ে শোনাচ্ছি। এটি লিখেছেন তেজপুরের নরোত্তম সিংহ, পাত্রী তাঁর তৃতীয়া কন্যা

    একনাথ চিন্তা-মন্থর স্বরে বললেন-তেজপুরের নরোত্তম সিংহ…তাদের বরাবরই জানি, আমাদের সমান ঘর বলা যায়। কিন্তু জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে মামলা-মোকদ্দমায় প্রায় সবই গেছে। (দেওয়ানকে) যতদূর মনে পড়ে ওদের একটা সম্পত্তি আমাদের কাছে বন্ধক আছে, তাই না? (দেওয়ান ঘাড় নাড়লেন) বড়ই দুঃখের কথা, কিন্তু এমন ভাঙনধরা ঘর থেকে সোমনাথের বৌ আনতে পারি না।

    দেওয়ান চিঠিখানা সরিয়ে রেখে অন্য চিঠি নিলেন এটি লিখেছেন রায় গোপীকিশোর, ও বি ই, কে সি আই ই।

    ইনি কে? নাম তো কখনো শুনিনি।

    পাণ্ডে বললেন— খুব বিখ্যাত লোক, দিল্লীর একজন বড় ব্যাংকার। অনেকগুলো কাপড়ের কলের মালিক, প্রচুর টাকা করেছেন।

    একনাথ বললেন— তা না হয় হল। কিন্তু বংশ কেমন? বংশের কথা কিছু আছে?

    চিঠির ওপর চোখ বুলিয়ে দেওয়ান বললেন— বংশের কথা কিছু দেখছি না। কেবল লিখেছেন মেয়েটি তাঁর একমাত্র সন্তান। জামাইকে চার লক্ষ টাকা যৌতুক দেবেন। মেয়েটি দেখতে খুব সুন্দরী, দরকার হলে ফটো পাঠাবেন।

    মুখে বিরক্তিসূচক শব্দ করে একনাথ বললেন— যতসব ভূঁইফোঁড় বড়লোক। টাকা দেখাচ্ছে। বংশগৌরব নেই, বড়ঘরে মেয়ে দিয়ে জাতে উঠতে চায়। উঁহু, বাদ দাও। —পাণ্ডে, দেখছ সমাজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে? বনেদী ঘরের লোক যারা তাদের হাতে পয়সা নেই, আর যাদের পয়সা আছে তাদের বংশগৌরব নেই। বিদেশী রাজা রোজ নতুন আইন তৈরি করছে, সাবেক যা কিছু ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। এসব কি ভাল?

    পাণ্ডে বললেন কিন্তু বাবুসাহেব, সময় বদলে যাচ্ছে, তার সঙ্গে পা ফেলে চলতে হবে তো। পরিবর্তন না হলে চলবে কেন? ভেবে দেখুন, সেকালে মানুষ গরুর গাড়ি চড়ে দেশ থেকে দেশান্তরে যেত, এখন রেলগাড়ি চড়ে যায়। এটা কি মন্দ?

    একনাথ বললেন–না না, এসব তোমার বাজে যুক্তি। রেলগাড়ি চড়ে চড়ুক তাতে কিছু আসে যায় না। কিন্তু সমাজের খুঁটি হল পরিবার বংশ। সেই খুঁটি যদি উপড়ে ফেলে দাও তাহলে কী থাকবে? সব লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে। কিছুক্ষণ ভুরু কুঁচকে বসে থেকে বললেন আমার ছেলে একটা মস্ত ভুল করেছিল, তার ফল সে পেয়েছে। আমি এখন সেই ভুল শোধরাতে চাই। কালির দাগ মুখে ফেলতে হবে।

    পাণ্ডে বললেন কিন্তু শুধু বংশই নয়, মানুষের ব্যক্তিগত সত্তাও তো আছে। স্বতন্ত্র সাধ আহ্লাদ, স্বাধীনতা— সবই কি বংশের জন্যে বিসর্জন দিতে হবে? সমাজ বলুন, বংশ বলুন, সবই তো মানুষের জন্যে

    কড়া সুরে একনাথ বললেন-না, বংশই হল সমাজের মূল, বংশ নিয়েই সমাজ দাঁড়িয়ে আছে।

    দুঃখিতভাবে মাথা নেড়ে পাণ্ডে বললেন—বাবুসাহেব, আপনার এ ধারণা বর্তমান যুগে একেবারে অচল। পৃথিবী দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে, এখন আর কেউ একা বিচ্ছিন্নভাবে থাকতে পারে না। সব মানুষ মিলিয়ে সমাজ, আমরা সবাই যেন এক পরিবারের মানুষ। নিজের বংশমর্যাদার অহংকারে কেউ যদি আলাদা থাকতে চায়, ক্ষতি তারই

    একনাথ বললেন— তোমার এসব যুক্তি আমি মানি না। সিংহ চিরদিন সিংহই থাকবে, কখনো শেয়ালের সঙ্গে কুটুম্বিতা করবে না। এই হল আমার কথা। যতদিন বেঁচে থাকব, আমার বাড়িতে এই রেওয়াজ চলবে, অন্য কারুর কথা খাটবে না।

    পাণ্ডে বিষণ্ণভাবে মুখ নীচু করে বসে রইলেন। একজন টেলিগ্রাফ পিওন এসে সেলাম করে দাঁড়াল। দেওয়ান প্রশ্ন করলেন—তার আছে?

    রসিদ সই করে দেওয়ান তার হাতে নিলেন, একনাথের পানে চাইলেন। একনাথ বললেন— খুলে দেখ, ভাল খবর কি মন্দ খবর।

    পিওন বলল–ভাল খবর হুজুর, বকশিশ দিতে হবে।

    পাণ্ডে খাম ছিঁড়ে টেলিগ্রাম পড়লেন ভাল খবর। সোমনাথ এম-এ পাস করেছে, ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছে।

    একনাথের উৎকণ্ঠিত মুখ আনন্দে ভরে উঠল—অ্যা! পাস করেছে! আমি জানতাম পাস করবেই। দেওয়ান, যাও, পিওনকে পঁচিশ টাকা বকশিশ দাও।

    পিওন বকশিশের বহর দেখে চোখ গোল করে দাঁড়িয়ে রইল। দেওয়ান পকেট থেকে পঁচিশ টাকার নোট নিয়ে পিওনকে দিলেন। পিওন আভূমি সেলাম করে চলে গেল।

    একনাথ টেলিগ্রামের দিকে হাত বাড়িয়ে বললেন—দেখি, দাও।

    একনাথ ইংরেজি জানেন না, তবু পরম যত্নে টেলিগ্রামটি চোখের সামনে রেখে তার রসাস্বাদন করলেন। গদগদ স্বরে বললেন–ছেলেটার বুদ্ধি আছে, কি বল?

    পাণ্ডে বললেন–সে আর বলতে! কোন্ বংশের ছেলে! ওর বাপও তো এই বয়সে এম-এ পাস করেছিল।

    একনাথ একটু থমকে গিয়ে বললেন—হ্যাঁ, তা বটে। সোমনাথ কোথায়? যাই, আমি নিজে গিয়ে তাকে খবরটা শোনাই। তার সঙ্গে বাজি ছিল— মুচকি হাসতে হাসতে একনাথ উঠে ঘরের বাইরে গেলেন।

    পাণ্ডে একটা নিশ্বাস ফেলে গম্ভীর মুখে জানলার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন, বাইরে আকাশের দিকে চেয়ে রইলেন। দেওয়ান তাঁর কাছে এসে বললেন— আকাশের পানে চেয়ে কী দেখছেন?

    ডাক্তার বললেন–সিঁদূরে মেঘ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশৈল-ভবন – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article বহু যুগের ওপার হতে – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }