Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অমানুষ – শক্তিপদ রাজগুরু

    শক্তিপদ রাজগুরু এক পাতা গল্প203 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অমানুষ – ৪

    ৪

    ভাই-বোনের সংসারের সেই নীরব একটা ছন্দ ঠিকমতোই রয়ে গেছে। অশ্বিনীবাবু অবশ্য বোনের বিয়ে দিতে চেষ্টা করেছিলেন। লেখাই রাজি হয়নি। তার মনের অতলে একটা স্বাতন্ত্র্য রয়ে গেছে। তাই বোধহয় অন্য কাউকে মেনে নিতে পারেনি।

    আরও বলেছিল লেখা—তোমাকে ফেলে যাব কোথায় দাদা? এই তো শরীর তোমার। বাত, ক্রনিক ব্রংকাইটিস সবই তো ধরিয়েছ। তোমার পেছনে কে থাকবে?

    অশ্বিনীবাবু তবু বলেছেন—তাই বলে নিজের জীবনটাকেই বরবাদ করবি?

    হাসে লেখা—বরবাদ কই? বেশ তো আছি! স্কুল, ডাক্তারখানা—সব কিছু নিয়ে বেশ আছি দাদা। এখান থেকে কোথাও আমি যেতে চাই না।

    লেখা তবু পুজো-আচ্চা নিয়ে থাকে। ভোরবেলাতে বেশ কিছু সময় ওরই পেছনে যায়। কী পুজো তা জানেন না। অশ্বিনীবাবু, তবে দেখেছেন শ্রীরামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ আরও অনেকের ছবি আছে। তাঁদের সামনে বসে চোখ-বুজে জপ-তপ করে লেখা। সে বলে, ওতে মনের জোর বাড়ে।

    লেখার জীবনে ওগুলোও যেন একটা অবলম্বন। সব নিয়ে সে দিনের সময়টুকু ভরিয়ে রেখেছে।

    রাত হয়ে গেছে। সারা বাড়ি নিঃঝুম। ভুবনবাবুরা ফিরে গেছেন। অশ্বিনীবাবুও খেয়ে-দেয়ে শুয়ে পড়েছেন। লেখার সারাদিনের পর একটুকু অবকাশ মেলে।

    মধুর কথা মনে পড়ে। আগেকার দেখা, চেনা সেই কিশোরটি আজ আমূল বদলে গেছে কী প্রচণ্ড আঘাতে।

    লেখার কৈশোরের দিনগুলোও মনে পড়ে। এমনি কলকল্লোল-মুখর পরিবেশ, এমনি তারা-জ্বলা রাত্রি সব মিলিয়ে লেখার মনে সেই স্মৃতিগুলো ভিড় করে আসে। একটি ভালো লাগার স্মৃতি। লেখা আর মধু আগে তারাও স্বপ্ন দেখেছিল দুজনে। আজ সেই স্বপ্ন কোথায় নিঃশেষে হারিয়ে গেছে।

    .

    রাতের অন্ধকারে ভুবনবাবু মধুসূদনকে নিয়ে থানায় ফিরেছেন। মধু বারান্দায় উঠে জামাটা খুলতে যাবে—ভুবনবাবু শুধোন—কী হবে?

    মধু বলে—চাবকাবেন না? ওটাই তো আপনার অনলি মেডিসিন।

    ভুবনবাবু ওর দিকে তাকালেন। মধু একটু অবাক হয়। ভুবনবাবু বলেন,

    —বসো, কথা আছে তোমার সঙ্গে।

    —কথা বলবেন? আমার সঙ্গে? ততক্ষণে ওপাশে প্লেটে মাংস-রুটি এসে গেছে। বলেন ভুবনবাবু,

    —খেয়ে নাও। আমি বাসা থেকে আসছি।

    ভুবনবাবু ভেতরে চলে গেলেন। মধুর সব ভাবনাগুলো কেমন জট পাকিয়ে যায়। ভুবনবাবু যেন বিচিত্র একটি মানুষ।

    .

    সারা বসতে নেমেছে রাত্রির জমাট অন্ধকার। কুয়াশার পুরু পর্দাটা ভারী হয়ে ওঠে। বাতাসে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে মত্ত-নদীর গর্জন।

    লেখা এই পরিবেশকে চেনে। মধুসূদন যেন এই বন্য আদিম রাত্রির আরণ্যক বিভীষিকাময় একটি জীব। ওরা তাকে বদলাতে চেষ্টা করছে।

    লেখার হাসি পায়। জানে মধুসূদন অমনিই থাকবে।

    ঠাণ্ডা পড়লে অশ্বিনী ডাক্তারের বাতের ব্যথাট চাগিয়ে ওঠে। তিনিও খেয়ে-দেয়ে শুয়ে পড়েছেন। রাতের অন্ধকারে লেখার ঘুম আসে না। এমনি রাত-নির্জনে নিজের কথাগুলো মনে ভিড় করে আসে। একক, অবচেতন মনকে লেখা শুধু কাজ আর সেবার কাঠিন্য দিয়ে চেপে রেখেছে।

    আশপাশে দেখেছে সেই বঞ্চনা। তার মনে হয় ভুবন দারোগা জানে না মধুসূদনের সব কথা। নিজের অজ্ঞাতেই লেখার কঠিন মনে রাতের অন্ধকার ভুলে-যাওয়া ঘটনাগুলোকে সারবন্দি করে তার মনে এনেছে। সেগুলোকে মনে করতে চায় না সে।

    নিজের জীবন আজ ভিন্ন পথে নিয়ে চলেছে লেখা। ওই সমস্যা, প্রশ্নের কথা সে ভাবতে চায় না। ঠাণ্ডা জোলো হাওয়া আসছে জানলার ফাঁক দিয়ে। লেখার ক্লান্ত দেহ-মন বিশ্ৰাম চায়। ঘুম নামে তার চোখের পাতায়–নিবিড় ঘুম।

    .

    ভুবনবাবু মধুর সম্বন্ধে ভেবেছেন। বোঝাতে চেষ্টা করেন তাকে—একটু ভালোভাবে থাকতে চেষ্টা করো। ঠিকদারিই করো। আমিও বলেছি ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকে। আমতলির ওদিকে বাঁধে কাজ হবে, নতুন আবাদে। এখানের জমিদার ছিলে–হোক না শরিকান সম্পত্তি। তবু তো জমিদার ছিলে! আর আজ যদি এমনি মাতলামি-গুণ্ডামি করে বেড়াও, লোকে কি বলবে?

    মধুসূদন কী ভাবছে। তার কাছে ভুবনবাবুর কথাগুলো একটু বিচিত্র ঠেকে। অনেক দারোগা দেখেছে সে। তারা এতদিন তার সঙ্গে যা ব্যবহার করেছে, সেটা অত্যন্ত বেদনাদায়কই। হুমকি দিয়ে শাসন করবার চেষ্টা করেছে। দাবিয়ে রাখতে চেয়েছে তাকে।

    আগেকার একজন দারোগা তাকে ফৌজদারি কেসে জড়িয়ে মাসকয়েক জেলবাস করিয়েও ছেড়েছে। সেই যন্ত্রণাগুলোকে সে ভোলেনি। তার মনের অতলে আছে একটা কাঠিন্য, বাধা পেলে সে দুর্বার হয়ে ওঠে।

    তাই মধুসূদন ওদের সেই শাসনকে তুচ্ছ করেছে বারবার, আর তার এই দস্যিপনা বেড়ে গেছে। তার কাছে মনে হয়েছে মদটাই সবচেয়ে বড়ো জিনিস—আর মদ খেলেই তার মাথার পোকাগুলো নড়ে ওঠে। সারা রক্তে নেশা জাগে। সজীব মাংসের নেশা। এ-ছাড়া কোনো কাজেই সে লাগেনি। ওদের ঘৃণা কুড়িয়ে বেঁচে থাকাটা তার সত্যি ভালো লাগে না। মনের অতলে ঝড় ওঠে। সেই যন্ত্রণাটাকে ভোলবার জন্যই সে নেশা করে। এই দাপট দেখিয়ে ওদের সেই অবহেলাটাকে জয় করবার বৃথা চেষ্টাই করেছে। অবশ্য কিছুই এসে যায় না মধুসূদনের। সব কিছুকে অগ্রাহ্য করতে চায় মধুসূদন।

    ভুবনবাবু বলেন—কথাটা তাহলে ভেবে দেখো।

    .

    রাত নেমেছে।

    মধুসূদনকে নিয়ে ব্যাপারটা অনেকদূরে গড়িয়েছে বলেই বোধহয়। পদা আর যতিলাল দুজনে হাট থেকে খবর পেয়েছে। গদাই পানওয়ালা জানায়,

    —তোদের গুরুকে এইবার বেন্দাবন দেখাচ্ছে ভুবন দারোগা।

    ওরাও ভাবনায় পড়ে। তাই এদিক-ওদিক ঘুরে গুরুর খোঁজ না পেয়ে এইখানেই এসেছে। পদা বলে,

    —গুরুর গায়ে হাত দিলে জান খেয়ে লিব মাইরি। আমরা কি মরে গেছি র‍্যা?

    চল তো—

    দুই মূর্তি অন্ধকারেই থানার দিকে এগিয়ে যায়। থানার কাছে গিয়ে থামল ওরা। যতিলাল অন্ধকারে উঁকি দিয়ে দেখতে থাকে।

    —কে! কে ওখানে?

    ভুবনবাবু অন্ধকারে ছায়ামূর্তি দুটোকে দেখে হাঁক পাড়েন। মধুও দেখেছে ওই দুটি প্রাণীকে। তাই বলে,

    —আমারই লোক ওরা। কই রে পদা

    ওরা দুজনে এগিয়ে আসে। জুল জুল করে তাকাচ্ছে নিরীহ গোবেচারি দুটি প্রাণী।

    ওদের দেখে মধু বলে—তা’হলে চলি দারোগাবাবু!

    ভুবনবাবু বলেন—ওই কথাই রইল। চিঠি দিয়ে দোব, কাল সকালেই চলে যাও বসিরহাটে।

    .

    পদা, যতিলালও অবাক হয়। থানার বাইরে এসে ওরা শুধোয়, ভুবন দারোগা মাংস খাওয়াল, ব্যাপার কি গুরু?

    মধুর কাছে সব ভাবনাগুলো কেমন জট পাকিয়ে যায়। ও বলে—তাই তো দেখলাম। বুঝলি পদা, ভাবছি কাজ-কম্মোর ধান্দাই দেখব এবার। সবাই বলছে দেখি একবার চেষ্টা করে।

    পদা বলে,–দ্যাখো, তবে শ্লা ধাতে টিকবে তো?

    —দেখতে হবে। কালই যাব ভাবছি। দেখি একবার! বুঝলি, ধনেখালিও একঘেয়ে লাগছে। সবাই বলে ভালো হ! ধ্যাত্তেরি, সুনীতিসুধা শুনে শুনে কান-পচে গেল। তাই ভাবছি চল বাদাবনের ধারে। দেখা যাক সেখানেই কী হওয়া যায়।

    .

    ওরা তিনজনেই এসেছে শহরে। মধুসূদনের চেহারাটা ভদ্রই। এখনও এত অত্যাচারের পরও পোশাক পরলে তাকে বড়োঘরের ছেলে বলেই মনে হয়।

    ভুবনবাবুর চিঠিখানা নিয়ে ইরিগেশন অফিসে যেতে অফিসার ভদ্রলোক চেয়ারটা দেখিয়ে দেন,

    —বসুন! ভুবনবাবুর কাছে আপনার কথা সব শুনেছি। চা খান—

    মধু কিছু বলবার আগেই চা এসে যায়। মধুর ব্যাপারটা স্বতন্ত্র ঠেকে। তরুণ ইঞ্জিনিয়ার বলেন—আমরাও কাজ করতে চাই। শুনেছি আগে অনেক কিছুই চলত এখানে, আর তাঁর ফল ভোগ করত ওই গরিব চাষিরা। ভেড়ির চিহ্নই থাকত না তুফানের জলে। আজ তাই আমরাও কাজ চাই মধুবাবু। আপনিই পারবেন, এখানকার মানুষ।

    মধুসূদন অবাক হয়,

    —এসব কথা ঠিক সত্যি বলছেন তো স্যার? ওই আসল কাজের কথা! না পাঁয়তারা কষছেন মাইরি?

    ভদ্রলোক রাগলেন না, উলটে হো-হো করে হেসে ওঠেন। মধু অবাক হয়। দু-একজন ওভারসিয়ার, কনট্রাক্টারও আছেন। ভদ্রলোক ওঁদের কাজের নির্দেশ দিয়ে চলেছেন সামনের বিরাট ম্যাপে লাল-নীল পেন্সিলের দাগ এঁকে। মধু দেখে ভদ্রলোক ওসব এলাকা ঘুরেছেন।

    তিনি বলেন,

    —না, না। ঠিকই বলছি। পার্ট কাজ করুন, আমি দেখতে যাব, সেইটার বিল পেমেন্ট হয়ে যাবে। আবার কাজ করুন। আমরা কাজ চাই, সে কাজের লোক কই?

    মধু বলে—ঠিক আছে। কাজ করব।

    ও যেন বুকে বল-ভরসা পায়। ওর মনের মধ্যে একটা সতেজ ভাব জেগে ওঠে ও দেখিয়ে দেবে সে-ও কাজ করতে পারে।

    অফিসার ভদ্রলোক ওর কঠিন তেজদৃপ্ত মুখখানার দিকে তাকিয়ে থাকেন। মনে হয় এ পারবে ওই কাজ করতে। একজনও যদি ঠিকমতো কাজ করে, অন্য ঠিকাদারদের তাহলে সেইমতো কাজ করতে হবে। তাই বলেন—করুন! আমাদেরও সব সাহায্য নিশ্চয়ই পাবেন। বিনুবাবু, এঁকে আমতলির দিকে কাজটাই দেবার ব্যবস্থা করুন। কাগজপত্র সই-সাবুদ করে যান। আর কাজ শুরু করার প্রথম মাসেই পার্ট পেমেন্ট নেবেন। তবে বর্ষার আগেই—

    মধু বলে ওঠে—তা জানি স্যার! বাঁধ আপনার বর্ষার আগেই হয়ে যাবে, যদি আপনাদের ওই ওভারসিয়ারের দল বেগড়বাই না করে। আর ওদেরও বলে দেবেন, যেন মধু চৌধুরীর পেছনে না লাগে—ব্যস! কাজ বাজিয়ে নেবেন। এই বর্ষাতেই ওখানে চাষ-আবাদও শুরু হয়ে যাবে। বলে দেবেন ওদের।

    ভদ্রলোক তাকিয়ে দেখছেন মধুকে। মনে হয় কঠিন দুর্বার একটি মানুষ। বাদাবনের সব কাঠিন্য দিয়ে ও তৈরি, তাই ওই পরিবেশে ওর মতো লোকই কাজ করতে পারবে। ভদ্রলোক বলেন,

    —আপনি কথা দিলে তা রাখতে পারবেন, এ বিশ্বাস আমার আছে।

    মধুসূদন নিজেকে আজ নতুন করে চিনছে। সই-সাবুদ করে খুশি মনে বের হয়ে এল সে। তখন দুপুর হয়ে গেছে।

    বাইরে অপেক্ষা করছিল তার বিশ্বস্ত দুজন অনুচর। পদা আর যতিলাল, ওরা এতদিন মধুসূদনের সঙ্গে রাতের অন্ধকারে দুস্তর গাঙ পাড়ি দিয়ে টানা-মালের কারবার করেছে। কঠিন সাহসী দুটো মানুষ। মধুকে দেখে ওরা এগিয়ে আসে—কি হল গুরু?

    মধু বলে—এবার আর অকাজ নয়, শালারা কাজ চাপিয়ে দিল ঘাড়ে। বলে, ঘুষ-ঘাষ লাগবে না আর, কাজ করুন। আমতলির নতুন আবাদের ভেড়ি পত্তন করতে হবে, টাকার জন্য ভাবনা নেই।

    —মাইরি! পদা লাফিয়ে ওঠে।

    ওরাও যেন কাজ করে ভালোভাবে বাঁচতে চেয়েছিল। টানা মালের কারবার করা এখন বিপদের হয়ে উঠেছে। সেদিন পুলিশের লঞ্চ থেকে গুলি খেতে খেতে বেঁচে এসেছে। শুধু পুলিশই নয়, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সও এখন কড়া হয়ে উঠেছে। যতিলাল মধুর পায়ের ওপর বসে পড়ে বলে—পায়ের ধুলো দাও, গুরু। এবার দেখিয়ে দোব কাজ কাকে বলে! তবে গুরু, ফেরার পথে একটু মাল-টালের ব্যবস্থা করো মাইরি।

    হাসে মধুসূদন—কাজ করবি, মাল খেলে যে কাজের ক্ষতি হবে বাবা।

    —কোন শ্লা বলে উ-কথা? যে রাঁধে সে কি চুল বাঁধে না গুরু? মাল আর কাজ দুটোকে এক করে লুবো দেখবা।

    পদা আমতা আমতা করে, সাহস করে কথাটা বলতে পারেনি সে। তবে দু-এক ঢোঁক হলে তার আপত্তি নেই। তাই বলে,

    —তাছাড়া শুভ কাজের মুখপাতে ওটার দরকার যি গো!

    নখালির গঞ্জে হাওয়ায় খবরটা ভেসে ওঠে। মহিমবাবুর মুহুরিই খবরটা পৌঁছে দিয়েছে আগেকার লঞ্চে গিয়ে। পারঘাটার ওপরই খালের ধারে মহিমবাবুর গুদামের ওপাশে সাজানো বাংলোয় ওদের আড্ডা জমে মাঝে মাঝে। ছোট্ট ধনেখালির মধ্যে আড্ডা বসার জায়গা কম। তাই এখানেই জমা হয় ওরা বিকালের দিকে।

    বাঁধের ধারে রেইন্ট্রি গাছগুলোয় বিকেলের সোনা-হলুদ আলোর আভা পড়ে।

    সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ওদের পাতাগুলো বুজে আসে যেন এক ব্যর্থ কান্নার রেশ নিয়ে, বাতাসে ছড়িয়ে থাকে তখনও শিরীষ ফুলের মিষ্টি-উদাস গন্ধ।

    মহিমবাবুর ওখানেই অশ্বিনী ডাক্তার, ব্লক অফিসার আরও দু-একজন এসে বসেছেন। বিকেল নামছে। আজ হাটের কলরব নেই। দু-চারজন লোক যাতায়াত করে। গাঙের ঘাটে নৌকোর ভিড় নেই। এক একটা মাছ ধরার নৌকো যাতায়াত করে মাত্র

    মহিমবাবুই বলে—মুহুরি ফিরে এসেছে বসিরহাট থেকে, সে-ই বলল কথাটা। মধুসূদন নাকি কাজ নিয়েছে, আমতলির ভেড়ির কাজ

    অশ্বিনী ডাক্তার চুপ করে কী ভাবছেন। মহিম ওই খবরে যে খুশি হয়নি তা তার কথাতেই বোঝা যায়। ব্লক অফিসার বলেন—নিলে বটে, তবে করবে কি? পারবে কাজ তুলতে?

    মহিমবাবুও জানে সে কথাটা। তবুও দেখাতে চায় যেন মধুর সেই-ই হিতাকাঙ্ক্ষী। মহিমবাবু বলে—তা পারবে হয়তো!

    ভুবনবাবুকে আসতে দেখে মহিমবাবুই জানায় কথাটা,—মধুকে তবে আপনিই সযুত করলেন কৌশলে।

    —কেন?

    মহিমবাবু খবরটা দেয়। ভুবনবাবু খুশি হন। তিনিও এইটা চেয়েছিলেন। তাই বলেন,—কাজ দিলে সে-কাজ ও করবেই মহিমবাবু। ওকে যতটুকু চিনেছি তাতে মনে হয়েছে, ও অনেস্ট আর বিশ্বাসী। কোথায় একটা ভুল আর জ্বালা ওর মনে রয়ে গেছে। সেইটা ভাঙতে পারলেই ওর মধ্যেকার আসল মানুষটা বের হয়ে আসবে।

    হাসে মহিমবাবু,

    —দেখা যাক; আপনার তো ওর সম্বন্ধে অনেক আশা।

    ভুবনবাবু বলেন,

    —সেটা অমূলক নয়। দেখবেন, হি উইল বি এ ম্যান। খাঁটি একটা মানুষ। ভুল ধারণা রয়ে গেছে ওর মনে, আমি সেটাকে বদলে দিতে চাই। সমাজের গলদগুলোও মিথ্যে নয়; ও হয়েছে তারই বলি।

    অশ্বিনী ডাক্তার ওঁর কথাগুলো শুনছেন।

    বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। ভুবনবাবু বলেন—দেখবেন, ও বদলে যাবে। কাজের লোক হবে, ওর সেই ব্যক্তিত্ব আছে। হি ক্যান কম্যান্ড!

    ঘাটের ধারে লোকজন জমেছে। গাঙের বুকে ঢেউ তুলে সাদা লঞ্চটা ফিরছে বসিরহাটের দিক থেকে। সভ্যজগতের খবর নিয়ে আসছে ও। পাখিগুলো দিন শেষের পড়ন্ত বেলায় কলরব করে চলেছে।

    মহিমবাবু মনে মনে খুশি হয়েছে। তবু মধুসূদন এখান থেকে সরে যাবে। মহিমবাবুরও সাহস বাড়বে। তাকে বাধা দেবার কেউ থাকছে না।

    মহিমবাবু লেখার স্কুলের জন্য কিছু টাকা দিতে চায়, আর ওই টাকাটা সে দেবে লেখার জন্যই। কোথায় একটা চাপাপড়া দুর্বলতা জেগে ওঠে মহিমবাবুর মনে এতদিন সেই কাজটা করতে বেধেছিল ওই মধুসূদনের জন্যই। ও চলে গেলে সেই বাধা আর থাকবে না। মহিমবাবুই হবে এখানকার মুকুটহীন সম্রাট। লেখার দিকেও এগোতে পারবে সে।

    আর ভুবনবাবু খুশি হয়েছেন। তবু একটা সমস্যার সমাধান হবে। তাই বলেন তিনি—কাজ ও করবেই। আর দেখবেন, ভালোভাবে কাজ করবে ও।

    মহিমবাবু বলে—আপনার কথা কতদূর ফলে দেখি!

    লঞ্চটা থেমেছে ঘাটে। লোকজন নামছে। গদাইয়ের পানের দোকানের সামনে কাদের দেখে চমকে ওঠেন ভুবনবাবু

    তিনমূর্তি নেমেছে লঞ্চ থেকে। টলছে তিনজনে, যে কোনো মুহূর্তে ছিটকে পড়বে ভেড়ি থেকে গাঙের জলে। জড়িত কণ্ঠে গান গাইছে মধুসূদন, জামায় পানের পিকের লাল দাগ। হাত দিয়ে শূন্যপথে কী ধরবার বৃথা চেষ্টা করছে আর গান গাইছে—দেখা হইল না রে সই, নতুন

    বয়স কালে।

    মহিমবাবু বলে ওঠে—ওই যে ভুবনবাবু, আপনার কাজের লোকদের নমুনা দেখুন! ভুবনবাবু চমকে উঠেছেন ওদের দেখে। মধুসূদনও দেখেছে ওঁদের। তাই ওই অবস্থাতেই টলতে টলতে এইদিকে এগিয়ে আসে। অশ্বিনী ডাক্তার গজ গজ করেন—ননসেন্স! হতচ্ছাড়া কোথাকার!

    মহিমবাবু জোর গলায় জানায়,—ওই যে ভুবনবাবু, আপনার আইডিয়াল কাজের লোকদের হালখানা চিনে রাখুন। ওইটিই ওদের আসল পরিচয়।

    ভুবনবাবু অবাক হন। পদা আর যতিলাল টলতে টলতে এগিয়ে আসে ভেড়ির ওপর। তাদের দুটোকে ধরে মাঝখানে মধুসূদন, তারও তখন তুরীয় অবস্থা। এগিয়ে এসে দুটো হাত এক করবার চেষ্টা করে বলে—নমস্কার দারোগাবাবু, পেসিডেনমশাই। শালারা বলে কী না কাজ করতে হবে! অনেস্ট ওয়ার্ক। গছিয়ে দিলে মাইরি কাজটা। এখন যাও শালা বাদাবনের ধারে বসে গেড়ি বাঁধোগে। ঝুট ঝামেলা! বুঝলেন দারোগাবাবু, শ্লা মধুসূদনকে খুব ফেরে ফেলেছেন মাইরি। ভালো হওয়ার ঠ্যালা অনেক। অ্যাই পদা, টলবি না বানচোত। বুঝলেন ডাক্তারবাবু, পদা আর যতে শার পেটে দু-ঢোক পড়লেই ব্যস—আউট। আমি শ্লা কিলিন দু-বোতল ষাট ডিগ্রি কালিমাৰ্কা মেরে দেখুন, ঠিক আছে। পথটা কোনদিকে রে বাবা? সব যে খাল আর ডোবা, যাচ্চলে! ভুবনবাবু তিন মূর্তির দিকে তাকিয়ে অবাক হন। কাজের নমুনা যা দেখেছেন আজ, তাতে ঘাবড়ে গেছেন তিনি।

    মধু বলে—কিছু ভাববেন না। হবে ভেড়ি, ঠিক হয়ে যাবে। কালই চলে যাচ্ছি লোকজন নিয়ে। অ্যাই যতে, ঠিক হয়ে চল। কাল দেখা হবে স্যার। নমস্কার—

    ওরা চলে গেল।

    ভুবনবাবু বলেন—কী ব্যাপার হে? ভরাডুবি করে দেবে নাকি মদ গিলে!

    মহিমবাবু হাসছে। ও চেয়েছিল শুধু মধুকে এখান থেকে সরিয়ে দিতে। মধু ঠিকেদারির কাজে নাম করুক, তা সে চায়নি। তাতে মহিমবাবুরই ক্ষতি হবে বেশি। ভালো কাজ দেখালে অন্য কাজগুলোও তার হাত-ছাড়া হয়ে যাবে। তাই মধুসূদনের এই ব্যাপারে সে খানিকটা নিশ্চিন্ত হয়েছে। তবু আশ্বাস দেয় কৃত্রিম সহানুভূতির সঙ্গে—ও সব ঠিক হয়ে যাবে। নেশা কমালেই মধু কাজ করতে পারবে।

    মধুসূদন একা ফিরছে বাড়ির দিকে। তখনও মাথাটা ঝিম ঝিম করছে। কেমন যেন অস্বস্তি বোধ করে। পথে কয়েকটা কাজ সারতে দেরি হয়ে যায়।

    আজ মনে হয় ধনেখালির এই গঞ্জ, ওই হাটতলা, পারঘাটা সবই কেমন সুন্দর। সে এই জীবনের সঙ্গে মিশিয়ে আছে। এই ধনেখালি থেকে বেশ কয়েক মাসের মতোই চলে যেতে হবে। তাই বোধহয় আজ এখানের সব কিছুই ভালো লাগে।

    ডাক্তারখানার পাশ দিয়ে চলেছে, খোলা জানলা থেকে একফালি আলো এসে পড়েছে রাস্তার ওপর, কাকে দেখে দাঁড়াল মধুসূদন।

    লেখা বাইরের দিকে এসেছিল। এই আবছা অন্ধকারে সে-ও মধূসূদনকে এখানে দেখে দাঁড়িয়ে পড়েছে। সামনে যাবার পথ নেই, মধুসূদন সেখানে দাঁড়িয়ে আছে।

    লেখা অস্পষ্ট আলোয় ওর দিকে তাকাল। মুখ-চোখ ওর থমথমে, চোখদুটো সর্বদাই লালচে হয়ে থাকে মধুর, গায়ে নিশ্বাসে বিশ্রী টক-টক মোদো গন্ধ। সর্বদাই নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে লোকটা। তাই তাকে ঘৃণা করে লেখা।

    একদিন অতীতে এমনি জানোয়ার সে ছিল না। লেখা তখনও চিনত মধুসূদনকে। কাছারিবাড়ির তখন বোলবোলাও খুব। চারিদিকে তাদের নামডাক। সারবন্দি ধানের গোলা—তারই আড়ালে তারা লুকোচুরি খেলত!

    সেই কিশোর মধুসূদনকে চিনত লেখা। দুজনে কোনো কোনোদিন হাটতলার নিজের গাঙ দিয়ে নৌকো বেয়ে যেত। কালো নিথর গাঙের জলে সন্ধ্যা নামত, তারাগুলো দোল খেত সেই জলে। ভয় করত লেখার।

    —ফিরে চল মধু। ফিসফিসিয়ে উঠত সে।

    মধু হাসত—বড়ো গাঙে যাব। বুঝলি ছোটো গাঙ থেকে বড়ো গাঙ, তারপর বাদাবন পার হয়ে সাগরে যেতে ইচ্ছে করে।

    চমকে উঠত লেখা,—অ্যাই! কোনোদিন আর তা’লে আসব না তোর সঙ্গে। মধু লক্ষ্মীটি, ফিরে চল। দাদা বকবে—

    মধু সেদিন কিশোরী একটি মেয়ের কালো ডাগর চোখে সেই ভয়ের ছায়াটুকু দেখে মজা পেত। ব্যাকুল হয়ে উঠত লেখা।

    —মধু!

    কত দিন কত সন্ধ্যার স্মৃতি কিশোর-জীবনের দিনগুলোকে ভরিয়ে রেখেছে। সেই সুন্দর ছবিটাকে কে যেন আজ কালি ঢেলে ধেবড়ে বিকৃত করে দিয়েছে। আজকের দিনের ওর এই কদর্য রূপটাকে ঘৃণা করে লেখা। মধুসূদন যেন কী প্রচণ্ড আঘাত আর জ্বালায় ধীরে ধীরে এমনি জানোয়ারে পরিণত হয়েছে। ওকে দেখে দাঁড়াল মধু। বলে—চিনতেই পারছ না মাইরি?

    লেখা জবাব দেয়,—চিনে দরকার নেই। রাত হয়েছে, বাড়ি যাও। নিজেকে যা করে তুলেছ, তাতে অপরে কেন, তুমি নিজেই নিজেকে আর চিনতে পারবে না।

    মধুসূদন ওর দিকে তাকাল। ওর সম্বন্ধে লোকের মনের এই ধারণাটার কথা উঠলেই রেগে ওঠে সে। লেখার কথায় রেগেছে, তবু রাগটাকে চেপে বলে,

    —চলে যাচ্ছি ধনেখালি থেকে। আবাদের নীচেকার বাদাবনে গিয়ে থাকব।

    লেখা জবাব দেয়,–সেইখানেই থেকো। বাদাবনেই থাকা মানায় তোমার। এখানে নয়।

    মধুসূদন হয়তো ভেবেছিল ওর কাছে একটু সহানুভূতি, এতটুকু দরদ পাবে সে। তার অবচেতন মন এত নরকের মধ্যে থেকেও একজনের সম্বন্ধে অন্য ধারণা পোষণ করেছিল। কিন্তু লেখার কথায় একটু হতাশই হয়েছে সে।

    চটে ওঠে। দুনিয়ার কোথাও তার পাবার এতটুকু ঠাঁই নেই। জেনেশুনেও মধুসূদনের লোভী মন হয়তো ভুল করেই কিছু পেতে চেয়েছিল। ওর কথায় জবাব দেয় সে—এখানে দ্যাবতা-দেবীদের লীলাখেলা চলছে, চলুক। আমি শ্লা অসুর কিনা, থাকলে মজা মারার সুবিধে হচ্ছিল না, তাই বিদেয় কর বানচোতকে। ঠিক আছে, চালাও পানসি! শুধু দেখে যাই বাবা।

    মধুর নেশাটা চটে গিয়েছিল ঠাণ্ডা হাওয়ায় আর হঠাৎ মনের সেই স্বাভাবিক অবস্থায় এসে পড়েছে। তাতে দুঃখই বেড়েছে। ওসব কিছু সে ভুলতে চায়। তাই পকেট থেকে মদের ছোটো বোতলটা বার করে গলায় ঢালতে থাকে।

    —পথ ছাড়! লেখা ওকে কঠিন স্বরে ধমকায়।

    মধু বলে—পথ তো ছেড়েই দিয়েছি বাবা। পথের ধারে দাঁড়িয়ে একটু গলা ভেজাব, তাই সইবে না? তোমার সুনীতি-সুধার চেয়ে এই বিপিনবাবুর কারণ-সুধার ধার অনেক বেশি। একটু গিলে দেখবে? চিরকাল তো যৌবনে যোগিনী হয়েই রয়েছে; যমরাজকে গিয়ে কি জবাব দেবে, অ্যাঁ? চলি, আবার ‘অ্যাংরি’ হচ্ছো কিনা!

    মধু টলতে টলতে চলে গেল। জড়িত কণ্ঠে সে গাইছে :

    জীবন আমার বিফলে গেল
    কোনও কাজেই লাগল না গো…
    লেখা অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে।

    মধুসূদনের সেই বেসুরো গলার গান ভেসে আসে। লোকটাকে ঘৃণা তো করেই লেখা, বিজাতীয় ঘৃণা। তবু মনে হয় একদিন সত্যিই অনেক সুন্দর ছিল সে। সব কী এক বেদনার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

    .

    লেখা বারান্দার দিকে এগিয়ে যায়। জমি থেকে বেশ কয়েক ধাপ উঁচুতে কাঠের মাচামতো করা বারান্দা। সামনে মহিমবাবুকে অন্ধকার থেকে বের হয়ে এগিয়ে আসতে দেখে লেখা একটু অবাক হয়। লোকটাকে অনেকদিন থেকেই চেনে সে। আজ হঠাৎ ওকে এই সময় আসতে দেখে অবাক হয়েছে সে।

    দেখেছে ধাপে ধাপে কোনখান থেকে কোথায় এসে উঠেছে। লোভী—ধূর্ত মানুষটার চাহনিতে লোভ আর ক্ষুধা। লেখা ওকে এড়াবার জন্যই বলে—দাদা একটু আগে এসে খেয়ে-দেয়ে শুয়ে পড়ছেন! কাল সকালে বরং আসবেন।

    মহিম ঘোষাল হাসল মাত্র। ওই হাসিটুকুতে ফুটে ওঠে মনের ভেতরের কদর্য লোভী রূপটা লেখার মনে হয় মধুসূদনকে তবু চেনা যায়, কিন্তু মহিমবাবু তার চেয়েও ভয়ানক, তার চেয়েও কৌশলী আর হিংস্র।

    মহিমবাবু বলে—তোমার কাছেই এসেছিলাম লেখা। মানে—তোমার সঙ্গেই কথা ছিল!

    -–কেন? লেখা একটু অবাক হয়। ওর মুখে-চোখে কাঠিন্য ফুটে ওঠে।

    মহিমবাবু বলে—ডাক্তারখানা আর স্কুলের কথাটা ভেবে দেখলাম লেখা, যদি কিছু টাকা দেওয়া যায়—ভালোই চলবে। কথাটা বলব ভাবছিলাম। আমিও চাই—তুমি আমি দুজনে স্কুলটা গড়ে তুলি।

    লেখা জবাব দেয়—রাত হয়ে গেছে। এখন ওসব কথা আলোচনা করার সময় হবে না। পরে একদিন আসবেন, দাদার সঙ্গে কথাবার্তা বলবেন ও বিষয়ে

    লেখা আর দাঁড়াল না। ওর মুখের ওপর কথাগুলো ছুড়ে দিয়ে চলে গেল বারান্দা পার হয়ে ওপাশের ঘরে। ওর দরজা বন্ধ করার শব্দ কানে আসে।

    অন্ধকারে দাঁড়িয়ে মহিম ঘোষাল হাসছে। ও জানে মধুসূদনও চলে যাচ্ছে এখান থেকে। মহিম ঘোষালের চারে ও মাছ আসবেই। আর কী করে খেলিয়ে তাকে তুলতে হবে—সেটা মহিমের জানা আছে।

    .

    টর্চের একফালি আলো জ্বেলে মহিম ওর বাংলোর দিকে এগোল। বাদাবনের কাছাকাছি অঞ্চল, সাপখোপের ভয়ও আছে। সাবধানী মহিম ঘোষাল চলেছে ওই অন্ধকারে। বাতাসে ওঠে জোয়ার-মত্ত নদীর কলোচ্ছ্বাস। বন্য আদিম প্রকৃতি যেন ফুঁসছে, গজরাচ্ছে এই ঘুমন্ত জনবসতের আকাশে-বাতাসে।

    মধুসূদন স্কুলের দিক থেকে আসছে অন্ধকারে। কালই চলে যাচ্ছে, তাই কিছু জিনিসপত্তর গস্ত করে নৌকোয় তোলার ব্যবস্থা করে ফিরছে। হঠাৎ টর্চের আলো দেখে দাঁড়াল। মহিমবাবু ডাক্তারখানার দিক থেকে ফিরছে। আবছা আলোয় দেখা যায়, ও যেন লেখার সঙ্গে কী কথা বলতে গিয়েছিল।

    মধুর নেশা ছুটে গেছে। নেশা করলেও তার জ্ঞান হারায় না। তাই অন্ধকারে দাঁড়িয়ে ওর কথাগুলো শুনছে সে।

    মহিমবাবুর এই নজর দোষের কথা সে জানত, কিন্তু ও এসেছে লেখার কাছে টাকার লোভ দেখাতে।

    লেখাও তাকে হাঁকিয়ে দিয়েছে। অন্ধকারেই হাসি আসে মধুর। বোদা মুখ করে মহিম ঘোষাল সরে আসছে।

    তার আগেই মধুসূদন বের হয়ে এসেছে পথের ওপর। অন্ধকারে মহিমকে দেখে দাঁড়াল সে।

    —অ্যাই যে মহিমবাবু, এদিকে?

    মহিমবাবু চমকে উঠেছে ওর সামনে পড়ে। মধুর কথায় বলে—একটু কাজে এসেছিলাম।

    —তা বেশ! মধু চৌধুরী রাত-বিরেতে ছোঁ-ছোঁ করে বেড়ায় সব শ্লা-ই জানে, আপনাদের মতো লোকের অবশ্যি সেসব দোষ নেই। কী বলেন?

    মহিম ওর সেই ভয়টাকে চেপে হাসবার চেষ্টা করে। ওসব কথা এড়াবার জন্যই বলে, – মন দিয়ে এইবার কাজ-কর্ম করো হে। ভালো চান্স পেয়েছ শুনলাম।

    মধু ওর দিকে চাইল। ঠাণ্ডায় কেমন গলাটা শুকিয়ে আসছে। শীতও লাগছে।

    মধু কঠিন চাপা স্বরে জানায়,—যাচ্ছি বটে, তবে তোমার উপরও নজর রাখার ব্যবস্থা করব মহিম। বেগড়বাই দেখলে-

    মহিম অন্ধকারে ঘাবড়ে গেছে। তাই হাসবার চেষ্টা করে—আরে কী যে বলো। চলো চলো, কতদিন থাকবে না—একটু আমার ওখান হয়ে যাবে।

    মহিম মধুকে চটাতে সাহস করে না। তবু ব্যাপারটা সহজ করার জন্য ওর সঙ্গে চলেছে। মহিমবাবু আর মধুসূদন ফিরছে বাড়ির দিকে। মধুসূদনের শূন্যপ্রায় বাড়িটায় ফিরে যেতে মন চায় না। রাত অনেক হয়ে গেছে। জলো-হাওয়ায় রাতের কুয়াশা মিশেছে। নদীর বুকে ঝাপসা ওই কুয়াশার আবরণ ঢেকে দিয়েছে সব কিছুকে। শিরীষ গাছের পাতা থেকে শিশির জমা জলকণা ওদের গায়ে পড়ছে, কন কন করে ওঠে।

    মধুসূদন বলে—খুব তো হিতোপদেশ দিলেন পেসিডেনমশাই, ঘরে মাল-টাল আছে? দ্যান না দু-ঢোক! এমন রংদার নেশাটা’ কোনদিকে ছুটে গেল!

    প্রেসিডেন্টবাবুকে এসব এক-আধটু রাখতে হয়। নিজে কালে-ভবিষ্যে এখন খায় মহিম। কিন্তু লোকজন তো আসে নানা রকমের, ওটা থাকেই। তাই মহিম ঘোষাল বলে—দিচ্ছি চলো। কিন্তু বাপু, হাটে-গঞ্জে ওই গুণ্ডামি বন্ধ কর। ভুবন দারোগাকে কথা দিইছি। তাছাড়া আজই ফৌজদারি কেসে জড়িয়ে তোমাকে চালান দিতে পারত। আমাদের কথায় ছেড়ে দিল। ভালো হও বাপু। কত বড়ো বংশের ছেলে তুমি!

    মধু বিরক্ত হয়ে ওঠে—তত্ত্ব-কথা ছাড় দিকি মাইরি! দুনিয়া যেন রাতারাতি ভালো মানুষের ভিড়ে-ভরে গেল দেখছি! মাল দেবে তো দাও, না-দাও চললাম মাতনের ওখানে। না হয় দেখি কাছাকাছি পাঁচির বাড়িতেই যদি মেলে কিছু। কথা দিয়েছি, ব্যস! দেখব ভালো লাগে ভালো হব, না লাগে যেমন আছি তেমনই থাকব। কারও বাড়া ভাতে ছাই তো দিইনি, অন্যায়ও করিনি। ভালো হও, ভালো হও! আরে বাবা, একি ডাল-ভাত যে গিলে ফেল্লাম কপ করে! বুঝেসুঝে, ভাবে-চিন্তে দেখতে হবে তো?

    .

    মধুসূদনের অস্তিত্বটুকু ধনেখালির বুক থেকে মুছে গেছে। কয়েকমাস হল লোকটা বাদাবনের আবাদে গেছে ভেড়ি বাঁধার কাজ নিয়ে। খুশি হয়েছে এখানের অনেকে।

    মহিমবাবুর গোলায় আর বাওয়ালিদের মধ্যে মদ গিলে মারামারিও বাধে না। পারঘাটের ইজারাদার খুদু নস্কর আনমনে হুঁকো টানে, আর মাটির ভাঁড়ে পারানির পয়সা ফেলে। নিরুপদ্রবে দিন কাটছে সবাকার।

    বাওয়ালিদের বউ-ঝিরাও যেন বেঁচেছে। শান্তি পেয়েছে তারা। ওদের মরদরা ঘরে থাকে না। রাতের অন্ধকারে আসত সেই লোকটা মদ গিলে, ওর দু’চোখ লাল, পা-টলমল করে। জড়িত কণ্ঠে দরজায় ধাক্কা দিয়ে খিস্তি করত মধু।

    ওরা ভয়ে কাঁপত। তবু দরজা খুলতে হত। না হলে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে আগুন ও লাগিয়ে দিতে পারে লোকটা। এক-একটি আতঙ্কের রাত পার হত তারা। ওদের সবকিছু যেন ওই মাতাল লোকটা লুট করে নেবার জন্য বুনো জানোয়ারের মতো ঘুরত।

    ওরা শান্তি পেয়েছে। শান্তি নেমেছে এই ধনেখালির জনপদে, এখানকার মানুষের মনে।

    কেউ কেউ মধুর জন্য দুঃখও করে। মাতন-বউ মাঝে মাঝে আনমনা হয়ে মধুসূদনের কথা ভাবে।

    .

    অশ্বিনী ডাক্তারও শান্তি পেয়েছেন। এখন মামুলি রোগী ছাড়া আর বিশেষ ঝামেলা নেই। লেখার স্কুল—তার হাসপাতালের কাজকর্মও চলছে।

    সন্ধ্যার পর থানার বারান্দায় আড্ডা জমে। ওঁরা অনেকেই আসেন। মহিমবাবু বলে – খুব চাল চেলেছেন কিন্তু দারোগাবাবু, ছোঁড়াটাকে এত সহজে এখান থেকে হটানো যাবে, তা ভাবিনি।

    ভুবনবাবুর মনে পড়ে মধুসূদনকে। খবরও পান। কাজ-কর্ম মন দিয়ে করাচ্ছে। কুলি, জন-মজুরের অভাব হয় না তার। নিজেই নৌকোয় করে এদিক-এদিক ঘুরে কাজ তদারক করছে। ওর স্বভাবটা যেন খানিকটা বদলেছে।

    ফরেস্ট অফিসার বলেন,

    মধুকে এখান থেকে আর ক-দিন পর সরাবেন স্যার? বর্ষার সময় তো ফিরে আসবে আবার। ততদিনে ও তো ধার-কাছের জঙ্গলের হরিণ আর রাখবে না।

    হাসেন ভুবনবাবু,

    —তা দু-একটা মারবে বইকি! তেমনি একটা বাঘও তো মেরেছে মশাই। নতুন বসতে লোকজন শুনেছি মধুকে ছাড়তে চায় না।

    —যেদিন চিনবে সেদিন আর চাইবে না। মহিমবাবু বলে।

    তবু মনে হয় ধনেখালির জীবনে একটা অঙ্গ-স্তব্ধ হয়ে গেছে।

    অশ্বিনী ডাক্তার বলেন,

    —বদলাতেও পারে। ভালো ঘরের ছেলে তো হাজার হোক।

    অশ্বিনী ডাক্তার মধুসূদনের আগেকার দিনগুলো দেখেছেন, তাই এখনও তিনি ওর সম্বন্ধে আশা রাখেন।

    .

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজীবন কাহিনি – শক্তিপদ রাজগুরু
    Next Article পটলা সমগ্র – শক্তিপদ রাজগুরু (দুই খণ্ড একত্রে)

    Related Articles

    শক্তিপদ রাজগুরু

    শক্তিপদ রাজগুরু সাহিত্যের সেরা গল্প

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    মেঘে ঢাকা তারা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    পটলা সমগ্র – শক্তিপদ রাজগুরু (দুই খণ্ড একত্রে)

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    জীবন কাহিনি – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    পরিক্রমা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    তিল থেকে তাল – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }