Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অমৃতা – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প305 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অমৃতা – ১৬

    ১৬

    ভরা শ্রাবণে যখন শেহনাই-শামিয়ানা-শামি কাবাব সহযোগে শম্পা-সৌমিত্রর বিয়ে হয়ে গেল, তখন শম্পা অঝোরঝোরে কাঁদছিল। তার ইচ্ছে ছিল, মায়ের টাকা যেন একেবারে খরচ না হয়। রেজিস্ট্রি বিয়ে, কিন্তু মায়ের ইচ্ছে তা নয়। সৌমিত্রও এমনই অদ্ভূত, যে টোপর পরতে শতকরা নিরানব্বুই দশমিক নয় নয় জন বাঙালি বর প্রিয়জনদের ঘোল খাইয়ে দেয়, সেই টোপর পরতে সে রীতিমতো আগ্রহই প্রকাশ করল। সৌমিত্রর বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। সে মানুষ হয়েছে হস্টেলে হস্টেলে। পারিবারিক জীবনের প্রতি সামাজিকতার প্রতি তার ভী-ষণ টান। এটা সাধারণত হস্টেলি ছেলেদের হয় না। কিন্তু সৌমিত্রর দেখা গেল সামাজিক আনুষ্ঠানিক বিয়েটা খুব পছন্দ। তবে মায়ের টাকা বেশি খরচ হল না, সৌমিত্র বলল তার যে কজন আত্মীয় বন্ধুবান্ধব আছেন তাঁদেরও বিয়ের দিনেই আপ্যায়িত করা হবে। তার মেসোমশাই ও মাসতুতো বোন জামাইবাবু ব্যাপারটার ভার নিলেন। অর্ধেক খরচ সৌমিত্রই করল। পিচ রঙের কাঞ্জিভরম শাড়ি আর মায়ের গয়না স-ব পরে শম্পা সিঁথিময়ূর পরে আর পাঁচজন বাঙালি মেয়ের মতোই আলপনা কাটা পিঁড়িতে বসল। আশেপাশে তার জ্যাঠতুতোপিসতুতোরা। মামাতোরাও বেশ আগ্রহের সঙ্গেই যোগ দিয়েছেন দেখা গেল। বরটি খুব কোয়ালিফায়েড ও ভাল চাকরি করে তো? শম্পার মায়ের মান রাখতে দুই মামা মিলে একটা ভাল মুক্তোর সেট এবং মাইসোর সিল্ক উপহার দিলেন, বরকে আংটি। জ্যাঠামশাইরাও একটা বারোমেসে সোনার হার দিয়েছেন, বরের কোয়ালিফিকেশন এবং ভাল চাকরির খাতিরে। নিবেদিতার আনন্দ ও গর্বের সীমা নেই দেখা গেল। খালি শম্পা যে কেঁদে কেঁদে চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলছে তা কারওরই জানা হল না। প্রথমত কারওর মনেই হয়নি, এটা একটা খোঁজ নেবার বিষয়। কেউ তো তেমন আপনও নেই তাদের। দ্বিতীয়ত বিয়ের দিনে মেয়েদের কান্নাকাটি একটা স্বতঃসিদ্ধ ব্যাপার। সেই যে কবে থেকে চলে আসছে কান্নার ট্র্যাডিশন।

    বোন কাঁদেন বোন কাঁদেন খাটের খুরো ধরে

    সেই যে বোন গাল দিয়েছিল ভাতারখাকি বলে।

    আত্মীয়রা একটু খেয়াল করলে বুঝতেন ব্যাপারটা শম্পার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নয়। আজকাল মেয়েরা বিয়ে হতে অত কাঁদেও না, অনেকেই নিজের নির্বাচিত পাত্র বিয়ে করে, বাবা-মার নির্বাচিতকেও দেখতে-শুনতে পায়। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কাটা কিছুটা কম থাকায় তারা নিজেদের বিয়েটা মোটামুটি উপভোগই করে। তবে শম্পা কেন এত কাঁদছে?

    এ কথা শম্পাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলত যে সে কাঁদবে না তো কাঁদবেটা কে? সেই পাঁচ বছর বয়সে বাবা অকালে মারা যাবার পর সে আর তার মা পরস্পরের প্রগাঢ় বন্ধু। শম্পার খুব আশা ছিল, সৌমিত্রর যেহেতু কোনও পরিবার নেই, ডাফ স্ট্রিটের বাড়িতে সে থাকতে রাজি হবে। কিন্তু মা অনেক করে অনুরোধ করা সত্ত্বেও শম্পা অনেক কাকুতি-মিনতি করা সত্ত্বেও এবং পারিবারিক জীবনের প্রতি তার টান থাকা সত্ত্বে সৌমিত্র প্রস্তাবটা নস্যাৎ করে দিয়েছে। একেবারে নস্যাৎ। সে তার সাদার্ন অ্যাভেনিউয়ের ফ্ল্যাট থেকে কোথাও নড়বে না। এমন কী, শম্পার মা তাদের সঙ্গে বরাবর থাকুন এতেও তার আপত্তি। শম্পা জানে মা এ প্রস্তাবে রাজি হবে না, কিন্তু নিজের বিবেচনা বোধ থেকেও তো সৌমিত্র কথাটা বলতে পারত। বলল না দেখে শম্পা অগত্যা একটু ইঙ্গিতই দিল, —মা যে একা কী করে থাকবে— সে বলেছিল। সৌমিত্র তাতে বলল— কেন, বাড়ির অপর অংশেই তো তোমার জ্যাঠামশাইরা থাকেন! তা ছাড়া, এতদিন তো মা নিজেই নিজেকে দেখছিলেন। তুমি কি মনে করেছ তুমি মাকে দেখাশোনা করছিলে? হেসে বলল সৌমিত্র।

     

     

    —স্বীকার করছি মাকে আমার চেয়ে অনেক বেশি দায়িত্ব নিতে হয়েছে, কিন্তু শেয়ার করতে তো আমি ছিলাম! তা ছাড়া মায়ের শরীর-টরীর খারাপ হলে কে দেখত আমি ছাড়া? সঙ্গ বলেও তো একটা কথা আছে।

    সৌমিত্র বলেছিল— আমিও তো এতদিন একা থাকতাম!

    এর পর আর কী বলা যায়?

    বিয়ে করতে বসে শম্পার মনে হচ্ছে সে ভীষণ স্বার্থপর। মাকে সে একটা অন্ধকার ধোঁয়াশা-ভরা একলা জীবনের মধ্যে ফেলে চলে যাচ্ছে। ঠিক একটা পাখির ছানার মতোই সে উড়তে শিখেই ফুড়ুৎ।

    আরও একটা কারণ আছে। সেটা অবশ্যই অমৃতা। অমৃতা, তার বেস্ট ফ্রেন্ড, বলা যায় ফ্রেন্ড, ফিলসফার অ্যান্ড গাইড তার শ্বশুরবাড়ির ষড়যন্ত্রে নিখোঁজ হয়ে গেল। আর সে? সে? সে কী করছে? না বিয়ে করছে। দস্তুরমতো শানাই বাজিয়ে, বেনারসি পরে, পাত পেড়ে লোকজন খাইয়ে বিয়ে।

     

     

    সীমামাসি আর বিশ্বজিৎকাকুকেও কাঁচুমাচু মুখে তারা নেমন্তন্ন করতে গিয়েছিল। ওঁরা খুব খুশি দেখালেন। মানে, ওঁদের পক্ষে যতটা খুশি দেখানো সম্ভব।

    নিবেদিতা বলেছিলেন—আমাদের খুব খারাপ লাগছে ভাই। অমৃতার এখনও কোনও…

    সীমা বলেছিলেন— তাই বলে কি শম্পা বিয়ে করবে না? না—না খুব ভাল হয়েছে, নিজে দেখে শুনে বিয়ে করছে। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে। এটাই দরকার। এই দুটোই—নিজে দেখা-শোনা, আর নিজের পায়ে দাঁড়ানো।

    এসেছিলেনও ওঁরা। দুপুরে এসেছিলেন, লোকজনের ভিড়ের মধ্যে আসতে হয়তো সঙ্কোচ বোধ করেছিলেন। খুব অদ্ভূত উপহার নিয়ে এসেছিলেন ওঁরা। একটা তো শাড়ি, আর একটা ছোট্ট অ্যালবাম, তাতে শম্পা আর অমৃতার টু না থ্রি থেকে আরম্ভ করে প্রতি বছরের একটা করে স্কুলের গ্রুপ ফটো। কোনওটাতে ক্লাস-টিচারের সঙ্গে একাসনে বসে, কোনওটাতে পেছনে দাঁড়িয়ে। কিন্তু সব সময়ে দুজনে পাশাপাশি। গোলগাল বেবি-বেবি চেহারা থেকে সদ্য কৈশোরে পা রাখা দুই বন্ধু, যখন চেহারা, ব্যক্তিত্ব আলাদা হতে শুরু করেছে তখন পর্যন্ত। শেষ দিকের তিন-চারটে ফটো আবার শুধুই শম্পা আর অমৃতা, অমৃতা আর শম্পা, অমৃতা এক বিনুনি শম্পা দু বিনুনি, শম্পা স্কার্ট, অমৃতা মিডি। শম্পা শাড়ি অমৃতা সালোয়ার।

     

     

    ছবিগুলো দেখতে দেখতে সব মনে পড়ে যাচ্ছিল। সব। স-ব। কী ভাবে একবার অমৃতা অনেক নম্বর পেয়ে বাংলায় ফার্স্ট হয়েছিল বলে, শম্পা রাগে ফুঁসছিল— তুই আমাকে সব ক্লাস-নোটস দিসনি। না হলে দুজনের মার্কসের এত তফাত হয় কী করে? তোর সঙ্গে আর কখনও এক বেঞ্চে বসব না। তার রাগ আর জলভরা চোখ দেখে অমৃতা এত ভয় পেয়ে গিয়েছিল যে বাংলার দিদি রেণুদিকে গিয়ে বলেছিল— আচ্ছা, দিদি, আমার মার্কস একটু কমিয়ে দিলে হয় না?

    —মার্কস কমিয়ে দেব! কেন? —রেণুদি এত অবাক হয়ে গিয়েছিলেন যে, তাঁর মুখ দিয়ে কথা সরছিল না।

    অমৃতা ঢোঁক গিলে বলেছিল— না, মানে আমার বন্ধুদের থেকে অত বেশি নম্বর আমি কী করে পেতে পারি?

    —তুমি কি আমার জাজমেন্টকেই কোয়েশ্চন করছ? আচ্ছা স্পর্ধা তো তোমার!

    —কী ব্যাপার? —শেফালিদি, রেণুদির রাগ দেখে এসে দাঁড়িয়েছিলেন।

    সব শুনে শেফালিদি বলেছিলেন— আমি বুঝেছি রেণু, বন্ধুরা নয়। ওই শম্পাই ওর ঘোরতর বন্ধু। সে নিশ্চয় কান্নাকাটি করছে কম নম্বর পেয়ে।

     

     

    দুই দিদি মিলে ডেকে পাঠিয়েছিলেন শম্পাকে। সমস্ত ঘটনাটা বলেছিলেন। তার পর তাকে মৃদু তিরস্কার করেছিলেন। নম্বর পাও তোমরা যে যার মেরিটে, অমৃতা এবার খুব ভাল করেছে, তুমিও আসছেবার ভাল করার জন্যে খাটো। নিশ্চয় পাবে। আর শম্পা, অমৃতা তোমাকে কী ভীষণ ভালবাসে সেটা বুঝেছ তো! তোমার চোখের জল ওর সয়নি বলে ও রেণুর কাছে নিজের নম্বর কমাবার জন্যে দরবার করতে এসেছিল। এ রকম অনুরোধ আমরা জীবনে কখনও শুনিনি, এরকম ঘটনাও আর কোথাও ঘটেছে বলে জানি না।

    তবু তো শম্পা কীভাবে অমৃতাকে গঞ্জনা দিয়েছিল, তার কিছুই দিদিরা জানতেন না।

    বিশ্বজিৎকাকুও একদিন বলেছিলেন—শম্পা, তোর বাংলা ইংরেজির প্রশ্নোত্তর সব সময়ে অমৃতার দেখে নিয়ে লিখিস কেন রে? অমৃতা কি অঙ্কগুলো তোর দেখে দেখে করে? সব সিঁড়ি নিজে নিজে ভেঙে ভেঙে উঠতে হয়। না হলে শেখাটা ঠিক হয় না।

    এতেও শম্পার ভীষণ অভিমান হয়েছিল। সে বিশ্বজিৎকাকুর কাছে পড়তে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। একদিন স্কুল ছুটি হবার পর দেখে বিশ্বজিৎকাকু দাঁড়িয়ে আছেন ঘর্মাক্ত কলেবরে। শম্পাদের দেখে বললেন—চ, শম্পা অনেক দিন আমাদের বাড়ি যাস না।

     

     

    তখন অমৃতারা রমণী চ্যাটার্জিতে উঠে গেছে। শম্পার মাকে ওঁর অফিসে ফোন করলেন বিশ্বজিৎকাকু, তার পর ওদের দুজনকে নিয়ে গেলেন বাড়িতে। কী আদর! কী আদর! কী খাওয়া! কী খাওয়া! সীমামাসি সেদিন তাঁর সমস্ত জ্ঞান উজাড় করে রেঁধেছিলেন বোধহয়, শম্পা যা যা খেতে ভালবাসে।

    —কেন এতদিন আসিসনি রে? —বিশ্বজিৎকাকু জিজ্ঞেস করলেন খেতে বসে।

    শম্পা অপ্রস্তুতমুখে বলল—বড্ড দূর হয়ে যায় যে!

    —তা-ও তো হপ্তায় দু দিন করে আসতিস, এখন কি আর তোর উঁচু ক্লাসের অঙ্ক সায়েন্স পড়াতে পারছি না?

    শম্পা ভীষণ অপ্রস্তুত।

    অমৃতা বলল— তা নয় বাবা, মান হয়েছে মানিনীর।

    সীমামাসি তার মুখে মাছের চপ গুঁজে দিয়ে বলেছিলেন— কে মেরেছে কে বকেছে, কে বলেছে কী? তারপর কাকুর দিকে ফিরে বলেছিলেন—তোমাদের মাস্টারদের ওই বড্ড কড়া স্বভাব। একটা জিনিস জানবে ছেলেদের পড়ানো আর মেয়েদের পড়ানো এক জিনিস নয়। ছেলেদের তোমরা ঠেঙিয়ে শেখাতে পারবে। মেয়েদের বেলায় কিন্তু শেখাতে হবে ভালবেসে।

     

     

    অমৃতা চোরা চোখে চাইছিল শম্পার দিকে, মুখে মিটি মিটি হাসি৷ সেই হাসিটা এখন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে শম্পা। তার মুখের ওপর পানপাতা চাপা দেওয়া, সেই পানপাতার মধ্যে দিয়ে দেখতে পাচ্ছে অমৃতা অদূরে দাঁড়িয়ে আছে, একটা বিনুনি করা নীল চেকচেক একটা ধনেখালি শাড়ি পরা, শাদা ব্লাউজ, অমৃতা হাসছে মিটিমিটি—মান হয়েছে মানিনীর? তাই কান্না? দেখতে দেখতে হু হু করে জল পড়ে শম্পার মুখের সব মেকাপ ধুয়ে গেল। ফুলে ফুলে উঠছে বুক।

    এত স্পষ্ট কেন দেখতে পাচ্ছে সে অমৃতাকে? অমৃতা কি মারা গেছে? কথাটা মনে হতেই যেন ইলেকট্রিক শক লাগল তার বুকে। বিষ লাগতে লাগল শানাইয়ের সুর, কেটারারের খাবারের গন্ধ, জুঁইয়ের মালার সুবাস, নানান গয়নার কিঙ্কিণী, শাড়ির খস্‌খস্‌। ভুলে গেল সে সৌমিত্রের মুখ। কদিন পরেই আন্দামানে হানিমুন করতে যাবে সেই সুখ।

    কেউ বোধহয় নিবেদিতাকে খবর দিয়েছিল শম্পা ভীষণ কাঁদছে। নিবেদিতা জানেন শম্পার মাকে ছেড়ে যেতে, থাকতে হবে বলে দারুণ কষ্ট হচ্ছে। তাঁদেরও কষ্ট হয়েছিল। কিন্তু শম্পার মাতৃবিরহের প্রকৃতি আলাদা। তাঁরা যে কত বছর ধরে দুজন শুধু দুজনের। সেই নিভৃত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আর কোনওদিনও কারও সঙ্গে হবে না শম্পার, হতে পারে না। তিনি সব ফেলে তাড়াতাড়ি এলেন।

     

     

    —শম্পা এ কী করছিস? কাজল-টাজল সব ধেবড়ে গেছে, চোখের জলে মুখ ডোরা কাটা, এ কী?

    মায়ের নতুন গরদ-শাড়ির বুকে মুখ গুজে শম্পা বলল—মা আমার অমৃতার জন্যে ভীষণ মন কেমন করছে। আমি আর থাকতে পারছি না।

    অরিন্দম ঘোষ অনেক, অনেকক্ষণ বরযাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে বসে উসখুস করছিল। বরযাত্রীরা ভাবছে সে শম্পাদের পক্ষের লোক, শম্পার আত্মীয়রা ভাবছে সে বরযাত্রী। কে যে কী তা-ও সে আদৌ বুঝতে পারছিল না। বুঝে নিতে চেষ্টা করছিল। অমৃতা শম্পার খবর জানতে চায়। প্রথমটা চেয়েছিল উদাস ভাবে। একটিবার মাত্র উল্লেখ করেছিল। তারপর সে অরিন্দমকে সরাসরি অনুরোধ করে। সময় করে সে যেদিন আসতে পারল, দেখে বাড়িটার সদর দরজায় মাথায় লেখা— শম্পা ওয়েড্‌স সৌমিত্র। একবার ভাবল— এই তো খবর জানা হয়ে গেল। এবার ফিরে গিয়ে জানিয়ে দেওয়াই যায়— অমৃতা তোমার বন্ধু ওয়েড্‌স সৌমিত্র। জানাতে তার একটা নিষ্ঠুর আনন্দ হবে। যেন এতে করে বলা হয়ে যাবে— অমৃতা, সারা পৃথিবীতে কেউ তোমার জন্যে বসে নেই। সংসার চলছে তার নিজস্ব নিয়মে। তোমাকে সবাই ভুলে গেছে। তোমার জন্য বসে আছ—শুধু একলা আমি, অরিন্দম। তুমি একটু আমার দিকে ফেরো।

     

     

    কিন্তু এই সময়ে কে খবর দিল, কনে ভী-ষ-ণ কাঁদছে। সৌমিত্রর কোনও বন্ধুই বোধহয় বলল— ‘এই শুনলাম অনেক দিন ধরে মন দেওয়া-নেওয়া চলছে, কেমন মন দিলি রে সৌমিত্র, তোর বউ নাকি কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে!’ কথাটা শুনে সৌমিত্র টোপরটা পাশে খুলে রেখে, খুব স্মার্টলি হঠাৎ অন্তঃপুরের দিকে চলে গেল। অরিন্দম কৌতূহলী হয়ে বসে রইল, বসেই রইল, অন্তত আধঘন্টা পরে সৌমিত্র ফিরল, মুখটা উদাস।

    এক বন্ধু বলল—কী রে প্রসপেক্টটা একটু ফেরাতে পারলি?

    সৌমিত্র বলল— ওর ছোটবেলার বন্ধু হারিয়ে গেছে, তাকে আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভীষণ আপসেট হয়ে পড়েছে।

    বন্ধু বলল—বিয়ের লগ্নে বন্ধু? এহ্‌ সৌমিত্র, তোর হয়ে গেল।

    সৌমিত্র বলল— বাজে ফাজলামি করিস না। মেয়েটি ওর বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল। শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে হঠাৎ কীভাবে কোথায় সরিয়ে ফেলেছে। মনে হয় শী ইজ ডেড অ্যান্ড গন, বাই নাউ।

     

     

    ডেড অ্যান্ড গন—ডেড অ্যান্ড গন—মাথার মধ্যে ভীষণ একটা কষ্ট অনুভব করল অরিন্দম। অমৃতা মারা গেছে—এই খবরটা মিথ্যা, তবুও সে সইতে পারছে না সেটা। শম্পা তার বিয়ের মুহূর্তে অমৃতার জন্য কাঁদছে, আর কারও জন্য নয়। অমৃতার জন্য, অর্থাৎ ‘শম্পা ওয়েড্‌স সৌমিত্র’ এই সংবাদটা যতটা নিষ্ঠুর শোনাচ্ছিল, ততটা নিষ্ঠুর আর রইল না। কী গভীর তৃপ্তি। অমৃতা বেঁচে আছে। শম্পার স্মৃতি ও সত্তার মধ্যেও অমৃতা বেঁচে আছে। তার মনে হল, জীবনের এই শুভ মুহূর্তে শম্পাকে তাকে দেখতেই হবে। কে এই শম্পা যে বিবাহলগ্নে অমৃতার জন্য কাঁদে? সে উঠে পড়ে ভিড় ঠেলতে লাগল। এদিক ওদিক প্রশ্ন ছুড়তে লাগল—শম্পা কোথায়? শম্পা? —যেন সে শম্পার একজন বন্ধু। আর কাউকে এই বিয়ে বাড়িতে তো চেনে না। তাই, তা ছাড়াও উপহারটা তো তাকেই দিতে হবে। তাই সে শম্পাকে খুঁজছে।

    একজন নিবেদিতাকে খুঁজে আনল। নিবেদিতা বললেন—শম্পাকে ওর বোনেরা একটু সাজিয়ে দিচ্ছে। একটু অপেক্ষা করবেন? আপনি কি ‘উইল পাওয়ার’-এর?

    উইল পাওয়ারই বটে— অরিন্দমের সেই মুহূর্তে মনে হল— ইচ্ছাশক্তি। ইচ্ছাশক্তির কী প্রচণ্ড জোর। এত প্রবল তার আকর্ষণ; যে ঠিক সেই সময়টাই আপাত-উদাসীন অমৃতার শম্পার কথা জানতে ইচ্ছে হল, যখন শম্পার মনও অমৃতার জন্য উতলা! সে নিচু গলায় বলল—খুব ইমপর্ট্যান্ট একটা খবর এনেছি শম্পার জন্য। ভয় নেই, ভাল খবর। একটু যদি ডেকে দেন, খবরটা ভিড়ের মধ্যে দেওয়ার নয় কিন্তু।

     

     

    নিবেদিতার মুখের চেহারা এমন পাংশু হয়ে গেল যে তাকে আবার বলতে হল, —ভয়ের কিছু নেই।

    শম্পার মুখ পুরো ধুয়ে গিয়েছিল চোখের জলে। সৌমিত্র সেই অবস্থাতেই তার সঙ্গে দেখা করে—সৌমিত্র আমি বিয়ে করতে যাচ্ছি। অথচ অমৃতার কোনও খোঁজ নেই সে তখন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। অমৃতার কথা আগে শুনেছিল সৌমিত্র ঠিকই, কিন্তু অমৃতা যে এত গুরুত্বপূর্ণ শম্পার শান্তির জন্য তা আগে বুঝতে পারেনি। সে কনেকে প্রাণপণে শান্ত করবার চেষ্টা করে—ঠিক খোঁজ পাওয়া যাবে, দেখো, খারাপ কিছু তো শোনা যায়নি, তবে?

    —আজকালকার দিনে কেউ কাউকে খুন করে পুঁতে ফেললে কি আর খবর পাওয়া যায়?

    সৌমিত্র তখন মনে, বাচনে দৃঢ়তা এনে তাকে বলে— অত সোজা নয় শম্পা। কেঁদো না, কেঁদে কিছু করতে পারবে? আমি বলছি— তুমি ভাল খবর পাবে।

    এ-ও একরকম উইল পাওয়ার। হয়তো এই উইল পাওয়ারই অরিন্দমকে অন্দরে শম্পার খোঁজে টেনে আনল।

     

     

    বোনেরা শম্পার মুখ ধুয়ে, শুধু একটু পাউডার লাগিয়ে দিয়েছে। আর কোনও প্রসাধনের পুনরাবৃত্তি শম্পা কিছুতেই করতে চায়নি। নিবেদিতা গিয়ে মেয়েদের দঙ্গলকে ওঠালেন— শম্পা ‘উইল পাওয়ার’ থেকে একটি ছেলে তোর খোঁজ করছে, বলছে কী বলার আছে।

    উইল পাওয়ার? শম্পা শূন্যে হাতড়ায়? কে? শুক্লা, না রাঘবন? ব্যানার্জি? কে এল? কেন? কী খবর? তাদের প্রজেক্টটা কি ফিরে এল? একলা ঘরে অরিন্দমকে নিয়ে নিবেদিতা ঢুকলেন।

    কে? এঁকে তো চিনি না?—শম্পা ভাবল!

    অরিন্দম দেখল কচি বাঁশগাছের মতো তন্বী নমনীয় শ্যামলী একটি মেয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বিয়ের কনের সাজগোজ বলতে তেমন কিছু নেই, যেটুকুও বা আছে তাকে দখল করে রয়েছে এক বিপন্নতা। এক মানুষের জন্য আরেক মানুষের এই বিষাদ মানুষকে এক অদৃষ্টপূর্ব শ্রী দেয়, সেই শ্রী শিশির বিন্দুর মতো লেগে আছে মেয়েটির সমস্ত অবয়বে। সে স্তব্ধ হয়ে ভাবল, কেন যে এতদিন অমৃতা এর খোঁজ করেনি সেটাই তো এক বিস্ময়।

    সে সোজা শম্পার দিকে তাকাল, বলল— আমি অমৃতার কাছ থেকে আসছি।

    শম্পা এত অবাক হয়ে গিয়েছিল যে সে কথা বলতে পারছিল না। নিবেদিতাও। অরিন্দম বলল— আপনার বিয়েতে অমৃতা শুভেচ্ছা পাঠিয়েছে। আর ভালবাসা।

    —আপনি কে? অমৃতা কোথায়? কেন সে…

    শম্পা কথা শেষ করতে পারল না।

    অরিন্দম বলল—কাঁদবেন না, অমৃতা ভাল আছে। ওই মামলাটার কারণে ওর ঠিকানা, খবর কাউকে দেওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু আপনার কথা আলাদা। বিশেষত আজকের দিনে।

    —আপনি সত্যি কথা বলছেন তো?

    —মিথ্যা বলে আমার লাভ? ব্যাস এবার মন ভাল করে, হাসিমুখে বিয়ে করুনগে যান। আপনার বরটিও বেশ ভাল। বেশ ভাল লেগেছে আমার। আমারও শুভেচ্ছা রইল।

    সে হাতজোড় করে নমস্কার করে বাইরে বেরিয়ে এল। মা, মেয়ে দুজনেই এত অবাক, যে নিস্পন্দ হয়ে দাঁড়িয়ে। নিবেদিতা যে ভদ্রলোককে কোনও সৌজন্য দেখাবেন, খেয়ে যেতে বলবেন, সে সবের অবকাশ যখন এল তখন অরিন্দম বাইরে চলে গেছে। বিধবার মেয়ের বিয়ে, আত্মীয়স্বজন নিজেদের মজা লুটতেই ব্যস্ত। ভদ্রমহিলার হয়ে অতিথি-আপ্যায়নের মানসিকতাই নেই। তার ওপরে আবার বরের বাড়ির অচেনা লোকেরাও আছেন। তাঁদের আপ্যায়ন করবার জন্যে স্বয়ং বরের মাসতুতো বোন ভগ্নীপতি, মেসোমশাইও এসেছেন। দায়িত্ব ভাগ হয়ে গেলে আর দায় থাকে না। খালি মজা থাকে। সুতরাং অরিন্দম নির্বিবাদে মাঝের দালান উঠোন পেরিয়ে, বরাসনে আর একবার বরকে দেখে সদরের বাইরে চলে গেল।

    ‘শম্পা ওয়েড্‌স সৌমিত্র’ এখন পেছনে পড়ে গেছে। সে ছুটে চলেছে এক নতুন প্রভাতের দিকে। নব আনন্দে জাগো। উইল পাওয়ার উইল পাওয়ার। অমৃতার যা শরীর ও মনের অবস্থা তাতে কোনও মানুষের প্রেমে পড়া কি সম্ভব? কিন্তু এই সময় তো আর চিরকাল থাকবে না। পরিস্থিতি পাল্টে যাবে, অরিসূদনের শাস্তি হবে। অমৃতার পরীক্ষা হয়ে যাবে, তার সন্তান জন্মে যাবে, সে তার মা-বাবার নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে পারবে।

    ততদিন পর্যন্ত অরিন্দম অপেক্ষা করে থাকবে। দু পায়ে ইচ্ছা নিয়ে, যেন পদব্রজে নয়, দু ডানায় ভর করে সে উড়ে যেতে থাকে তার মারুতির দিকে। তার পর তার খেলনা গাড়ি উন্মুখ হাওয়ায় জোরে ছোটে। উইল টু পাওয়ার। উইল টু লাভ। উইল টু বি লাভড।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleউজান-যাত্রা – বাণী বসু
    Next Article একুশে পা – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Our Picks

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }