Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অমৃতা – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প305 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অমৃতা – ২০

    ২১

    যে ভোররাতে অমৃতার সন্তান জন্মাচ্ছিল, দোলা সে সময়ে বিছানায় খালি এপাশ ওপাশ করছিল। সারা রাত ঘুমোতে পারেনি, এই ভোরেও ঘুম দূর অস্ত্‌। উঠে সে এক গ্লাস জল খেল। সঙ্গে সঙ্গে প্রবল বমির ধমকে তার সারা শরীর কাঁপতে লাগল। মাথা ঘুরতে লাগল। ‘মা’ বলে একটা আর্ত চিৎকার করে সে মাটিতেই শুয়ে পড়ল।

    তার মা ঘুমের মধ্যে শুনতে পেলেন সেই ডাক। যেন দুঃস্বপ্ন দেখে তাড়াতাড়ি উঠে বসলেন। সেই মুহূর্তে আবার ডাকটা এলো—‘মা-আ-আ’ এবার আরও আস্তে, কিন্তু নির্ভুল। তিনি ছুটে গেলেন পাশের ঘরে। একঘর হড়হড়ে বমির মধ্যে দোলা নিস্পন্দ হয়ে শুয়ে আছে।

    —দোলা। দোলা!—তিনি প্রাণপণে দোলাকে তুলে বিছানায় শোয়ালেন, মুখ হাত এক দফা মুছিয়ে দিলেন। আস্তে আস্তে জামাকাপড় বদলে দিলেন। একটু জল খাওয়ালেন। দোলা পাশ ফিরে তাঁকে আঁকড়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ল। যেন শুধু এই মাতৃস্পর্শটুকুর জন্যেই তার ঘুম অপেক্ষা করছিল।

    আস্তে মেয়ের আলিঙ্গন ছাড়িয়ে তিনি উঠে মেঝে পরিষ্কার করলেন, বমির মধ্যে কঠিন বস্তু প্রায় নেই-ই। খালি জল, খালি জল, আর গলনালির ভেতরের স্বাভাবিক হড়হড়ানি। ফিনাইল দিয়ে ধুলেন সব। কী হল মেয়েটার। ইদানীং খাওয়া আরও কমে গেছে। জন্ডিস হল না কি? কপালে হাত দিয়ে দেখলেন জ্বর আছে কি না।

    সকাল দশটা। খাবার টেবিলের দুদিকে মুখোমুখি বসে আছেন দুজনে। স্বামী আর স্ত্রী। একটু আগেই ডাক্তার তাঁদের মেয়েকে দেখে চলে গেছেন। বাড়ির ডাক্তার। সব কিছুতেই আগে ওঁকে ডাকা হয়।

    —কী হল বলুন তো? রক্ত-টক্তগুলো পরীক্ষা করাতে হবে না কী?

    —রক্ত নয়, ইউরিন।

    —ইউরিন? ইউরিনারি কোনও ইনফেকশন… বাবা সব্যসাচী বললেন।

    —না ইনফেকশন নয়, ডাক্তার বললেন, আ অ্যাম শিওর, তবু টেস্টটা করাব। শি হ্যাজ কনসীভ্‌ড্‌।

    সেই থেকে সব্যসাচী আর সুমনা মুখোমুখি বসে আছেন। দোলা ঘুমোচ্ছে। তাঁরা বসে আছেন। কারও মুখে রক্ত নেই। অফিস যাবার জোগাড় নেই, স্কুল যাবার জোগাড় নেই। কয়েক মিনিটের মধ্যে যেন ইলেকট্রিক শকে তাঁদের আপাদমস্তক ঝলসে গেছে।

     

     

    অনেকক্ষণ পর সব্যসাচী বললেন—তুমি কিছু জানতে না? এটা আমায় বিশ্বাস করতে হবে?

    —কী জানব?

    —কারও সঙ্গে ওর কোনও অ্যাফেয়ার চলছে কি না।

    —তুমি জানো, আই, উই অ্যাবসলুটলি ট্রাস্ট হার। কিছু হলে ও আমাকে বলবে— এটাই তো প্রত্যাশিত? আই কান্ট টেক ইট সব্যসাচী। আই কান্ট টেক ইট ফ্রম হার।

    —আশ্চর্য! তবে কি ওকে কেউ রেপ করল?

    —সেটাও কি ও চেপে রাখবে? রাখবার কথা? বলতে বলতে সুমনার চোখ দিয়ে টপ্‌টপ্‌ করে বড় বড় ফোঁটা ঝরে পড়তে লাগল।

    —এত দেখছে চারদিকে, এত শিখছে! স্কুল কলেজে এ সব সোজাসুজি শেখায় না ঠিকই। তবু তো ঠারে ঠোরে ওরা শিখেই যায়! টি.ভি দেখছে দিনরাত্তির! সুমনার গলা যেন বন্ধ হয়ে আসছে।

     

     

    —তোমার নজর রাখা উচিত ছিল।—সব্যসাচী ঠোঁট চেপে রূঢ়ভাবে বললেন।

    —একশোবার। কালো হয়ে যাচ্ছে, রোগা, ভাল করে খায় না, অন্যমনস্ক। সন্ধে পেরিয়ে বাড়ি ফেরে প্রায়ই। কিন্তু নাকের গোড়ায় পরীক্ষা, এ সব তো হবেই! হতেই পারে!

    —কী হবে এখন? সব্যসাচী বললেন।

    —প্রথম কথা জানতে হবে ব্যক্তিটা কে!

    —ইটস আ ডেলিকেট কোয়েশ্চন ….

    সুমনা বললেন—ও বোধহয় জানেও না ওর কী হয়েছে। হঠাৎ জানলে বা হঠাৎ কিছু জিজ্ঞেস করলে যদি সাইকলজিক্যাল কিছু …

    —কড়া হলে চলবে না—সব্যসাচী বললেন—যদিও ইচ্ছে করছে বেধড়ক ঠ্যাঙানি দিই।

     

     

    —প্লি-জ—ককিয়ে উঠলেন সুমনা—বলেনি যখন তখন এটা খুব গোলমেলে ব্যাপার হতে পারে। কোনও আধবুড়ো প্রোফেসর, কি বিবাহিত কেউ, কিংবা ক্লাসের কোনও ছেলে যার কোনও চালচুলো নেই। আচ্ছা—তিলক বলে ছেলেটা তো মাঝে মাঝেই ফোন করত!

    —করত! তো সে তো চঞ্চল, নিশান, আরও কী কী সব নামের বন্ধু আছে ওর।

    —তিলক একটু বেশি করত!

    —ট্রাস্ট! বিশ্বাস! কাউকে করতে নেই সুমনা, এই বয়সের ছেলেমেয়েকে তো একেবারেই না। মা-বাবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, সব কথা আলোচনা হয় …এ সব স্রেফ যাকে বলে বকোয়াস। এজেড পিপ্‌ল আর এজেড, দা ইয়াং আর ইয়াং, দেয়ার ইজ নো পসিবিলিটি অফ এনি কমিউনিকেশন।

    —‘মা-আ’—দোলার ঘর থেকে আবার ডাক ভেসে এল।

     

     

    —দেখো, কী চাইছে!

    সুমনা গিয়ে দেখলেন দোলা উঠে বসে আছে, দু হাত দিয়ে মাথা টিপে ধরেছে।

    —কী হল? মাথার যন্ত্রণা?

    —না, ভীষণ ঘুরছে। কী হল বলো তো—স্পন্ডিলোসিস? এমন নিষ্পাপ ভঙ্গিতে সে বলল কথাটা যে সুমনার সেই মুহূর্তে মনে হল ডাক্তার একটা ভুল করেছেন। তিনিও খুব সরল মুখ করে বললেন—তোর পিরিয়ড ঠিকঠাক নিয়মিত হচ্ছে তো?

    —আমি একটু ইরেগুলার, জানোই তো! আগের মাসে হয়নি।

    এই সময়ে ফোনটা বাজল। দোলা উঠতে যাচ্ছিল, সুমনা আটকালেন।

    সব্যসাচী ধরলেন ফোনটা।

     

     

    —আমি তিলক বলছি। দোলাকে একটু দেবেন?

    —দোলা একটু অসুস্থ। ঘুমোচ্ছে। কিছু বলার আছে?

    —হ্যাঁ, অমৃতার আজ ভোররাতে ডেলিভারি হয়েছে। আমরা সবাই গিয়েছিলাম। আবার বিকেলে যাব। দোলা এল না দেখে …

    —শোনো … তুমি একবার আমাদের বাড়ি এসো।

    —আমি? আপনাদের? ডোভার লেনে, না?

    —উঁহু নিউ বালিগঞ্জ। ঠিকানাটা লিখে নাও।

    —আজ পারব না মেসোমশাই, কাল ‘উজ্জীবন’ নার্সিংহোম হয়ে যাব। অমৃতাকে এখন আমরা রোজই … আপনাদের অসুবিধে হবে না তো?

     

     

    —কিচ্ছু না, কিচ্ছু না …

    তিলক এল নীচের তলায়। দোলা জানতেও পারল না। ভী-ষণ দুর্বল শরীর। মাথা ঘুরছে, প্রতিদিন সকালে বমিও হচ্ছে একটু একটু। কাঠ-বমি যাকে বলে।

    সে শুয়ে শুয়ে কানে ওয়াকম্যান লাগিয়ে রবিশংকর-মেনুহিন শুনছে।

    তিলককে চা এবং প্রচুর খাবার দিয়েছেন সুমনা।

    তিলক হেসে বলল—দোলা বুঝি আপনাদের বলেছে আমি ভী-ষণ পেটুক?

    জোর করে একটু হাসলেন ওঁরা।

    সব্যসাচী বললেন—খুব বন্ধু তো তোমরা! প্রায়ই ফোন করো, একসঙ্গে বেড়াতে-টেড়াতেও যাও নিশ্চয়ই। খুব হালকাভাবে বললেন তিনি কথাটা।

     

     

    তিলক মুখে একটা ফিশফ্রাই তুলছিল, একটু কামড় দিয়ে বলল—হ্যাঁ আমাদের গ্রুপটা মানে আমি, চঞ্চল, লাবণি, দোলা, অমৃতা আমরা খুব ক্লোজ। তবে কফিহাউজ কিংবা য়ুনিভার্সিটি ক্যানটিন … আর কোথাও যাবার সুযোগই পাইনি … যা পড়ার চাপ! বাব্‌ব্বাঃ। মাঝে মাঝে এক্সকারসানের কথা হয় আবার ধামাচাপা …।

    —না আমি বলছি। ডোন্ট মাইন্ড, তোমার কোনও গার্লফ্রেন্ড নেই?

    তিলক একটু অবাক হয়ে গেল, মুখে সেটা প্রকাশ করেও ফেলল—আমার গার্লফ্রেন্ড? বাংলার ছেলেদের কোন গার্ল পাত্তা দেবে, মেসোমশাই! তা এই কথা জিজ্ঞেস করতে আপনি আমায় ডেকে …

    —না… না… তুমি অত আপসেট হয়ো না! তোমার না হয় গার্লফ্রেন্ড এখনও হয়নি। কিন্তু তোমার বন্ধুদের আর কারও? ধরো, দোলার?

    এইবারে ব্যাপারটা বুঝল তিলক। এই জন্যে। এখন, দোলা যা গোপন করে গেছে সেটা ফাঁস করা বন্ধু হিসেবে তার উচিত কী? সে একটু দ্বিধায় পড়ে গেল, তারপর বলল—থাকলে দোলাই আপনাদের বলবে। তাই না? শী ইজ আ গ্রোন-আপ গার্ল।

     

     

    —শোনো—সুমনা ব্যাকুল হয়ে বললেন এবার—দোলা ইজ ইন গ্রেভ ডেঞ্জার। যদি কিছু জানো, আমাদের কাছে লুকিও না, প্লিজ—তিনি তিলকের দ্বিধাটা টের পেয়েই বললেন।

    —মাসিমা, আমি দোলাকে একটি ছেলের সঙ্গে দেখেছি। প্লিজ দোলাকে বলবেন না আমি বলেছি, আমার ভী-ষণ বাজে লাগছে এটা বলতে হচ্ছে বলে।

    —বলব না, তুমি যা জানো বলো।

    —ছেলেটা আমাদের চেনা কেউ না। য়ুনিভার্সিটার না। কিন্তু খু-ব হ্যান্ডসাম চেহারা। ফিলমের হিরোদের মতো … কিংবা বলতে পারেন মডেলদের মতো।

    —নাম জানো না?

    —উঁহু, একদিন দোলাকে এ নিয়ে ঠাট্টা করেছিলাম, ভী-ষণ রেগে গেল। ট্যাকসি থেকে গড়িয়াহাটের মোড়ে ওকে নামিয়ে দিয়ে চলে গেল একদিন। আরেকটা কথা মাসিমা, দোলা কিন্তু ক্লাসে খুব, খু-ব ইরেগুলার।

     

     

    তিলক চলে গেলে আবারও দুজনে বসলেন মুখোমুখি। একটা সূত্র পাওয়া গেল। ক্ষীণ একটা সুতো। সুমনা হঠাৎ বললেন—তিলক বলে যে ছেলেটা প্রায়ই ফোন করে সে কিন্তু এই তিলক নয়।

    —কেন?

    —তার গলা একেবারে অন্যরকম। কথা বলবার ধরনও আলাদা। এই তিলক তো টিপিক্যাল একটা কলেজের ছেলের মতো চ্যাঁ-চ্যাঁ করে কথা বলে। যে ফোন করে তার গলা বেশ ভাল, পুরুষালি, খুব মার্জিত ভঙ্গি। ছেলেমানুষি নেই একদম।

    —দোলা! দোলা শুনতে পেল না তার কানে ওয়াকম্যান, কিন্তু দোলা দেখতে পেল মা এসে দাঁড়িয়েছে। মুখ খুলে কিছু বলছে। সে ওয়াকম্যানটা খুলে রাখল৷ মায়ের হাতে একটা রিপোর্ট। ডেফিনিটলি রক্ত আর ইউরিন পরীক্ষার।

    —দোলা—মা বলল, মায়ের গলা কাঁপছে,—ছেলেটা কে? যার সঙ্গে তুই ট্যাকসি করে ঘুরে বেড়াস?

     

     

    দোলার মুখ শুকিয়ে গেল। সে ঢোঁক গিলে বলল—কে বলেছে?

    —অনেকেই দেখেছে, অনেকেই বলেছে—এই ভিড়ে ভর্তি শহরে এসব লুকোনো যায় না। দোলা, তোমার ইউরিন রিপোর্ট বলছে তুমি কনসীভ করেছ মাস দুয়েকের মতো।

    রক্তশূন্য মুখে দোলা কিছু বলতে গেল বারবার, মুখে কথা ফুটল না। অবশেষে সে উপুড় হয়ে পড়ল বিছানার ওপর। যেন খরগোস নিজের বিবরে মুখ লুকিয়েছে। কিন্তু পেছনটা উন্মুক্ত। যে-কেউ থাবা মেরে তুলে নিতে পারে।

    তার পাশে বসে সুমনা আস্তে আস্তে বললেন—আমাদের বলনি কেন দোলা? আমরা তোমার বাবা-মা কী দোষ করেছি তোমার কাছে?

    কোনও উত্তর এল না।

    —তোমাকে কীভাবে আমরা বিশ্বাস করেছি, চিরকাল, কীভাবে শিক্ষা দিয়েছি, বন্ধুর মতো মিশেছি—তা তো তুমি জান। তবে?

     

     

    এবার দোলার উপুড় শরীর থরথর করে কাঁপতে লাগল। সে কোনও মতে বলল—তোমরা ওকে অ্যাপ্রুভ করতে না। পার্থদার মতো বড় কিছু নয়… তা ছাড়া ও কিছুদিন লুকিয়ে রাখতে বলেছিল…

    —‘ও’ বলেছিল বলে তুমি ‘আমাদের’ কাছে গোপন করলে? মা বাবাকে গোপন করতে বলে যে ছেলে, তোমার বোঝা উচিত ছিল সে ভাল নয়।

    —না, না, ও ভাল, কিছুদিন সময় চাইছিল, এরিয়া ম্যানেজার হয়ে যাবে তারপর!

    —ইতিমধ্যে সে এই কাণ্ড বাধিয়ে বসল?

    দোলা লালমুখে নখ খুঁটতে লাগল।

    —ইন এনি কেস, কে ছেলেটি? কী নাম?

    —অমিতাভ সেনগুপ্ত। শুধু সেন লেখে। পার্থদা চেনে।

    —পার্থ? পার্থ জানে ব্যাপারটা?

    —না, না, পার্থদাদের অফিসের স্টিমার পার্টিতে আলাপ হয়েছিল।

    —পার্থ? হ্যাললো পার্থ দত্ত, আছে? হ্যাঁ দিস ইজ হিজ ফাদার-ইন-ল’। ইয়েস ইট ইজ ভেরি-ভেরি আর্জেন্ট।

    —ইয়েস, বাবা, কী ব্যাপার?

    —অমিতাভ সেনগুপ্ত বা সেনকে চেন? তোমাদের অফিসের স্টিমার পার্টিতে এসেছিল?

    —অমিতাভ সেন? কীরকম একটু যদি ডেসক্রাইব করেন…

    —তোমার শালির সঙ্গে এত ভাব জমিয়ে ফেলল, আর তুমি এখন ডেসক্রিপশন চাইছ? হাউ ডু আই নো? তোমার রেসপনসিবিলিটি। তোমার জানার কথা।

    তাঁর গলার স্বরে রাগ গোপন রইল না আর।

    পার্থ বোধহয় কিছু মনে করল। করতেই পারে। বলল—ঝুলনকে জিজ্ঞেস করে বলব। এনিওয়ে কী হয়েছে? অ্যাফেয়ার?

    —এসে শুনো।

    ঝুলন আর পার্থ সন্ধেবেলায় এল। ওদের নীচেই বসালেন সব্যসাচী। সুমনা সর্বক্ষণ ওপরে দোলাকে পাহারা দিচ্ছেন।

    পার্থ বলল—হ্যাঁ আমরা দুজনে মিলে প্লেস করতে পারছি। ছেলেটি খুব সম্ভব আমাদের অ্যাকাউন্ট্যান্টের শালা, সে-ই যদি হয় তো আমাদের অ্যাকাউন্ট্যান্ট বলছেন—একটা অত্যন্ত ইরেসপনসিব্‌ল ছোকরা। অমন চেহারা, স্মার্টনেস শিক্ষা-দীক্ষা নিয়েও বছরের পর বছর ওষুধের সেলস পার্সন হয়ে আছে। কাজে মন নেই। খালি সিনেমা, থিয়েটার, গার্লফ্রেন্ড, মিউজিক। যা রোজগার করে স-ব উড়িয়ে দেয়। চেহারা দেখে যদি আপনারা পাত্র পছন্দ করে থাকেন তো ঠকবেন। পরিবার ভালই। মা সেতার-টেতার বাজান, বাবাও কোন বড় কোম্পানিতে পার্চেজে আছেন। তিনিও ওইরকম, উন্নতি করতে, খাটতে খুবই অনিচ্ছুক।

    —কিন্তু আমাদের কোনও উপায় নেই পার্থ। ওরই সঙ্গে দোলার বিয়ে দিতে হবে। দোলা আর কাউকেই বিয়ে করবে না।

    —আমি একটু বুঝিয়ে দেখব বাপি?—ঝুলন বলল।

    —নাঃ আর উপকার তোমাকে করতে হবে না। স্টিমার পার্টি বলে বোনকে নিয়ে গেলে, একটু নজর পর্যন্ত রাখলে না। কার সঙ্গে মিশল, কার সঙ্গে কথা বলছে … ছিলে কোথায় ঝুলন? ছি, ছি …

    পার্থ পরে বিরক্ত হয়ে ঝুলনকে বলেছিল—একটা বাইশ তেইশ বছরের মেয়ে তাকে কি পাহারা দিয়ে রাখতে হবে নাকি? তোমার বাবা-মার মাথা খারাপ হয়েছে। আমাদের কী দোষ?

    অনেক চেষ্টা চরিত্র করে অমিতাভ সেনগুপ্তর বাবা-মাকে যদি বা খুঁজে পাওয়া গেল, অমিতাভকে আর পাওয়া যায় না।

    টাউনসেন্ড রোডে, ওদের বাড়িতে গিয়ে প্রস্তাবটা রাখতে অমিতাভর বাবা আকাশ থেকে পড়লেন।

    —অমুর বিয়ে দেব? বিয়ে করে দায়িত্ব নেবার মতলবই ওর নেই। কী দেখে আপনারা ভুললেন? চেহারা?

    —আমরা ভুলিনি। আমাদের ছোট মেয়ে।

    —তাই বলুন। এখন আমার ছেলে ভুলেছে কি না দেখতে হয়।

    —দেখুন। সে কোথায়?

    —সে ট্যুরে গেছে। ওষুধের কম্প্যানির সেলসম্যান। মাঝে মাঝেই এদিক-ওদিক যেতে হয়।

    দোলাদের বাড়ির দোতলার ঘরে একা অমিত ও দোলা। অমিত বলল—দোলা, আমাকে প্রেশারাইজ করাটা আমার ঠিক পছন্দ হচ্ছে না।

    —মানে? এই অবস্থাকে তুমি প্রেশারাইজ করা বলছ?

    —দেখো এসব ঘটনা ঝোঁকের মাথায়, ঘোরের মাথায় ঘটে যায়। কিন্তু ঘোরটা উভয় পক্ষেরই।

    —মানে?

    —তোমার সম্মতি না থাকলে কি আমি …

    —বন্ধুর শূন্য বাংলো-বাড়িতে দুপুর কাটাবার প্ল্যানটাও কি আমার? আমার দায়িত্ব …? বলতে বলতে ফ্যাকাশে হয়ে যেতে থাকল দোলা, তার আবার বমি পাচ্ছে। সেই প্রবল উকি দিয়ে দিয়ে কাঠবমি। কিছুক্ষণ মুখ ঢেকে সে নিজেকে সামলাল। যখন হাত সরাল, তখন সমস্ত মুখ টকটকে লাল হয়ে গেছে।

    —কী হয়েছে তোমার, দোলা? অমিতের গলায় যেন দুশ্চিন্তা টের পাওয়া যাচ্ছে।

    —জানো না কী হয়েছে? তোমাকে তো বলা হয়েছে! হয়নি?

    —দোলা প্লিজ, এম. টি. পি করিয়ে নাও। কেন শুধু শুধু কষ্ট পাবে? আমি এখনও প্রস্তুত নই। এতটা দায়িত্ব …

    দোলার সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ে গেল অমৃতার কেস। সে এম. টি. পি করতে রাজি হয়নি বলে কী ভাবে তাকে ..

    —তুমি যদি পুরুষ হও, তাহলে যে মুহূর্তে একটি মেয়ের সঙ্গে ইনভলভ্‌ড হয়েছ, সেই মুহূর্ত থেকে তোমার দায়িত্ব এসে যায়। তুমি কি আমাকে নিয়ে খেলা করছিলে তবে? এ কী মারাত্মক খেলা? … থেমে থেমে কথাগুলো বলল দোলা। ভেতরটা তার ত্রাসে দুঃখে ক্ষোভে কাঁপছে। কিন্তু এগুলোই তার পক্ষে সবচেয়ে কঠিন কথা। বলে ফেলে তার চোখ উপচোতে লাগল।

    —আই লভ য়ু, দোলা, প্লিজ ডোন্ট মিসআন্ডারস্ট্যান্ড মি, শুধু আমার অবস্থাটা তোমাকে বুঝতে বলছি।

    —আর যদি না বুঝি? যদি আমার মা বাবা না বোঝেন?

    —অগত্যা … আর কী বলব? এম. টি. পি আজকাল এত সোজা, বিশেষত তোমার এই স্টেজে। পরীক্ষাও তো তোমার সামনেই …

    — ‘অগত্যা’? ‘অগত্যা’ কথাটার মানে কী? —দোলার গলার স্বরে একটা অবাঞ্ছিত কর্কশতা একটা তীক্ষ্ণতা এসে গেল। যেন সে হঠাৎ একটা অতলস্পর্শ খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে, ঝুলছে। পেছনে রিভলভার হাতে খুনি, তার মাথা কিংবা হৃৎপিণ্ড লক্ষ করে অস্ত্র তুলেছে।

    —আমি বুঝতে পারছি, তুমি বুঝবে না, দোলা, আসলে তুমি ভাবছ …

    —কী ভাবছি?

    —না থাক্।

    এটা সকালের ঘটনা। দুপুরে আজও অফিস-স্কুল গেলেন না সব্যসাচী সুমনা কেউই, দুজনেই এই প্রথম অমিতাভকে দেখলেন। জামাই করলে ঘর আলো হয়ে যাবে, তাঁরা সত্যি-সত্যিই অবাক হয়ে গেছেন এই সিনেমা-সম্ভব রূপ দেখে। এ যেন সত্যি নয়। রুপোলি পর্দা থেকে কেটে নামিয়ে আনা হয়েছে। কথাবার্তাও অত্যন্ত মার্জিত, নম্র, সপ্রতিভ, অথচ পরিশীলিত। একমাত্র অপরাধ তার তেমন ভালো-নয় চাকরি, আর তার অখ্যাতি বা কুখ্যাতি। তার নিজের বাবা, জামাইবাবু পর্যন্ত তার সম্পর্কে বীতশ্রদ্ধ৷ মায়েরা ছেলেদের দোষ দেখতে পান না। কাজেই, অমিতাভর মা আর কী করে সোজাসুজি তার নিন্দা করেন। তিনি বলেছিলেন—অমিত একটু শিল্পীস্বভাবের ছেলে। এরা ভাল গৃহস্থ হয় না। বিয়ে যদি দেন, তা হলে নিজেদের দায়িত্বে দেবেন। পরে আমাদের দোষ দিতে আসবেন না।

    সব্যসাচীর রাগ হয়ে গিয়েছিল, তবু রাগ চেপে বলেন—আপনি নিজেই তো একজন শিল্পী, তা আপনারও শিল্পীস্বভাব নিশ্চয়ই। তার জন্য আপনার গৃহস্থালির কোনও ক্ষতি হয়েছে?

    ভদ্রমহিলা, নাম কৃষ্ণা সেন, বললেন—পুরুষ আর মেয়েদের মধ্যে আকাশপাতাল তফাত। আমার স্বামীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি অবশ্য স্বীকার করবেন না, যে আমার সেতার, তার জন্য রেওয়াজ, জলসা, রেডিও, দূরদর্শন—এসব ওঁকে কখনও সখনও অসুবিধেয় ফেলে, উনি অসন্তুষ্ট হন। কিন্তু আমার বদলে ‘উনি’ যদি শিল্পী হতেন তাহলে আমাকে চব্বিশঘণ্টা ঘরে-বসা আইডিয়াল গৃহিণীও হতে হত, আবার কিছু রোজগারপাতিও করতে হত। শিল্পীর আয়ে সংসার চলে না তো! আর দেখুন অমুর ব্যাপারটা হচ্ছে, ও শিল্পীস্বভাব, কিন্তু শিল্পী নয়। ও না শিখেও ভাল গান গায়, অভিনয় করতে পারে, স্প্যানিশ গিটার বাজিয়ে গান গেয়ে আসর মাতিয়ে দেবে, কিন্তু ও অস্থির, চঞ্চল, কিছুতে লেগে থাকতে পারে না, সবসময়েই একটা হেথা নয়, হেথা নয়, অন্য কোনখানে ভাব। নাও, য়ু ডিসাইড।

    এখন ওঁরা আলোচনা করছেন—অমিতাভ বিয়ের পাত্র হিসেবে আদৌ অভিপ্রেত কি। মেয়ের অবস্থার জন্য তাড়াহুড়ো করে বিয়ে দিলে, মেয়েটা যদি সারাজীবন অসুখী হয়? এ তো আর আগেকার কাল নয় যে কুমারী গর্ভিণীকে আইনমাফিক গর্ভপাত করানো যাবে না!

    সুমনা বললেন—এই গর্ভপাতের সাইকলজিক্যাল এফেক্ট মেয়ের ওপর কী হবে, একবার ভেবেছ? পরে যখন ওর বিয়ে দেওয়া হবে, এ ঘটনা লুকিয়ে দিতে হবে, ধরা পড়ে যেতেই পারে, আর দোলা যা মেয়ে ও ঠিক বলে ফেলবে। তখন …

    সব্যসাচী গম্ভীরভাবে বললেন—তা যদি বলো, গোপন করতে তোমার মেয়ে যে ভালই জানে, লোকের চোখে ধুলো দেবার চালাকি যে সে চমৎকার আয়ত্ত করে ফেলেছে, তা তো প্রমাণিতই হয়ে গেছে সুমনা! এ সব কথা আর কেন?

    এম. টি. পি-র কথাতে কিন্তু দোলা ভয়ে বাঁশপাতার মতো কাঁপতে লাগল। মুখ রক্তহীন। সে শুধু কোনওমতে বলতে পারলে—মা, ওটা তো টিউমার নয়, একটা বাচ্চা … আমার … আমার মা … তারপর দু হাতে মুখ ঢেকে সে তার পড়ার টেবিলে মাথা গুঁজল।

    —ছেলেটি? তোমার ওই অমিতাভ? ও-ও তো একই কথা বলছে? ও-ও চায় না।

    —ওরা ছেলে মা, বোঝে না এ সবের ইমপর্ট্যান্স, ফীলিং নেই। ওর একমাত্র আপত্তি টাকা-পয়সার। ফ্যামিলি সাপোর্ট করবার মতো আর্থিক অবস্থা ওর এখন নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleউজান-যাত্রা – বাণী বসু
    Next Article একুশে পা – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Our Picks

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }