Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প599 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. বাংলোয় ফিরে এসে

    বাংলোয় ফিরে এসে অর্জুন দেখল, লছমন বাগানে কাজ করছে। স্টেফি দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে জঙ্গল দেখছেন। কাছে যেতে স্টেফি বললেন, মুশকিল হয়েছে। মি. সোম বললেন, এখান থেকে ইউ এস এ-তে কুরিয়ার করা যাবে না। তার জন্যে শহরে যেতে হবে।

    কুরিয়ারে কী পাঠাবে?

    ওই পাতাগুলো। ইউনিভার্সিটি স্পেসিমেন দেখতে চাইছে। একটু আগে মেল এল। আমি পাতাগুলোর ফোটো তুলে স্ক্যান করে পাঠিয়েছি। তাতে তো ওরা বুঝবে না।

    তুমি তো ঠিকঠাক পাতা পাওনি এখনও। ওটা পেলেই পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে। কিন্তু স্টেফি, দেখছ তো, বিশল্যকরণী এখানে একটু ওখানে একটু ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছে। যদি ওর রস সত্যি কাজে লাগে তা হলে তো তোমার প্রচুর পাতা নিয়মিত লাগবে।

    ঠিক কথা। এখানকার মাটি, আবহাওয়ার সঙ্গে মিল আছে এমন জায়গা বেছে নিয়ে ওখানে বিশল্যকরণীর চাষ করব। বিশাল বাগান তৈরি করতে তো অসুবিধে নেই। স্পনসররা খরচ মিটিয়ে দেবে। স্টেফি বললেন।

    বাঃ। উইস ইউ গুড লাক।

    অর্জুন ঘরে গিয়ে দেখল অমল সোম চেয়ারে বসে বই পড়ছেন। সে পাশে বসে লোকটার ব্যাপারে যা জেনেছে তা খুলে বলল। সব শুনে অমল সোম বললেন, নির্ভেজাল বেড়ানো দেখছি তোমার পছন্দ নয়। কিন্তু লোকটা যে সত্যি কথা বলছে তার প্রমাণ কী?

    কোনও প্রমাণ নেই। তবে ওই অবস্থায় বিশ্বাসযোগ্য মিথ্যে বললে যত বড় অভিনেতা হতে হয়, লোকটা বোধহয় তত বড় অভিনেতা নয়।

    .

    দুপুরের খাওয়া শেষ হলে স্টেফি আবার বিশল্যকরণী পাতার সন্ধানে বেরোতে চাইলেন। মেজর সেজেগুজে তৈরি। অর্জুন জানাল, তার পায়ে একটু ব্যথা হয়েছে, রেস্ট নিতে চায়। অমল সোম তাকে অব্যাহতি দিলেন। দুপুর সওয়া দুটোয় ওঁরা বেরিয়ে গেলেন। তিনজনেই লাঠি জোগাড় করে নিয়েছেন। স্টেফির হাতে একটা ঝোলা।

    লছমন ওদের যাওয়া দেখছিল ভানুপ্রসাদের পাশে দাঁড়িয়ে। সে জিজ্ঞেস করল, আপনি যাবেন না বাবু?

    নাঃ। ওই পাতা খুঁজতে আমার ভাল লাগবে না।

    কী পাতা বাবু?

    ভালুপ্রসাদ তাকে বুঝিয়ে বলল মেমসাহেব কী কারণে অতদুর থেকে এসেছেন!

    হাসল লছমন, দুর! ওই পাতা দিয়ে যদি এত বড় কাজ করা যেত, তা হলে এতকাল বনেবাদাড়ে পড়ে থাকে? কবে সাফ হয়ে যেত। যাকগে, মেমদের মাথায় অদ্ভুত সব চিন্তা ঘোরে। একবার একটা সাহেব এসেছিল কীভাবে পাখি ডিমে তা দেয় তার ফোটো তুলতে। লম্বা গাছগুলোয় উঠে দিব্যি ঘণ্টার পর-ঘণ্টা বসে থেকে ফোটো তুলল। কিন্তু ফিরে যাওয়া ওর ভাগ্যে লেখা ছিল না।

    কেন?

    ঘাড় মটকে মেরে দিয়েছিল কেউ।

    কে?

    জানি না। পুলিশ লাশ নিয়ে গিয়েছে, খুনিকে ধরতে পারেনি।

    হঠাৎ অর্জুন ভানুপ্রসাদের দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি বিরিয়ানি রাঁধতে পারো?

    চেষ্টা করতে পারি। কিন্তু এখানে বিরিয়ানির মশলা তো নেই। তা ছাড়া মাংস আনা দরকার। ভানুপ্রসাদ বলল, ওসব জিনিস রাজাভাতখাওয়াতেও পাওয়া যাবে কি না জানিনা।

    লছমন বলল, কে বলল পাওয়া যায় না? সব পাবে ওখানে।

    ভানুপ্রসাদ মাথা নাড়ল, এই জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে একা যাওয়া-আসা করতে পারব না।

    ঠিক আছে। লছমন, তোমার তো সব চেনাজানা। তুমি সঙ্গে যাও। মেমসাহেব এসেছেন আমেরিকা থেকে, ওঁকে ভাল খাওয়ানো দরকার। অর্জুন বলল।

    কিন্তু! লছমন দ্বিধায় পড়ল, আমি বাংলো ছেড়ে যাব কী করে? মালিকের নিষেধ আছে। ওই যেদিন মাইনের টাকা দিতে লোক আসে, সে-ই সব বাজার করে আনে।

    আরে, তোমার মালিক তো অমলদার পরিচিত। কিছুক্ষণের জন্যে আমাদের কাজে বাইরে গেলে নিশ্চয়ই তিনি রাগ করবেন না। ততক্ষণ আমি তোমার হয়ে পাহারা দিচ্ছি। অর্জুন বলল।

    তবু রাজি হচ্ছিল না লছমন। কিন্তু ভালুপ্রসাদ তাকে নিচু গলায় কিছু বলতে সে মত বদলাল। লছমন বলল, ঠিক আছে, বলছেন যখন, যাচ্ছি। সন্ধের আগেই ফিরে আসব। আপনি একটু বেশি টাকা দিয়ে দেবেন। হাতে টাকা নেই, কেরাসিন তেল কিনতে হবে।

    অর্জুন ভানুপ্রসাদকে উপরে ডেকে নিয়ে গিয়ে শ’চারেক টাকা দিয়ে বলল, দেখে-শুনে নিয়ে এসো। বেশি দেরি কোরো না।

    ওরা গাড়ি নিয়ে চলে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল অর্জুন। চারধার কী ভীষণ চুপচাপ, ঝিঁঝির শব্দও শোনা যাচ্ছে না। এই জনমানবশূন্য পৃথিবীতে লছমন একা থাকে কী করে? লছমন যে এত সহজে যেতে রাজি হবে তা ভাবেনি অর্জুন। ভানুপ্রসাদ নিশ্চয়ই ওকে কোনও পানীয়ের লোভ দেখিয়েছে। সেই পানীয় পান করে নেশাগ্রস্ত হয়ে না পড়ে ওরা! ভানুপ্রসাদকে সতর্ক করা যেত, কিন্তু ইচ্ছে করেই সে না বোঝার ভান করেছে।

    .

    সকালে যেদিকটায় যাওয়া হয়েছিল সেদিকে না গিয়ে উলটো দিকের জঙ্গলে ঢুকেছিলেন ওঁরা। ভয় পাওয়া একটা বুনো শূকর প্রায় ওঁদের গায়ের কাছ দিয়ে এমনভাবে ছুটে গিয়েছিল যে, মেজর চিৎকার করে উঠেছিলেন, কী হচ্ছে কী!

    সেটা শুনে স্টেফি হেসে গড়িয়ে পড়েছিলেন। আরও কিছুক্ষণ পরে অমল সোম একটা বিষাক্ত সাপ মারলেন। মেরে বললেন, না মেরে উপায় ছিল না! নইলে আমি মারা পড়তাম।

    মেজর হাঁটতে হাঁটতে জিজ্ঞেস করলেন, স্টেফি, আফ্রিকা আর এই ডুয়ার্সের জঙ্গলের মধ্যে কোনটা বেশি ভয়ংকর বলো তো?

    আমি কখনও আফ্রিকায় যাইনি।

    তা হলে তোমার একবার যাওয়া দরকার। ইন দ্য ইয়ার নাইনটিন এইট্টির শীতকালে আমি প্রথম মাসাইমারায় যাই।

    মেজর! চাপা গলায় সতর্ক করলেন অমল সোম।

    ওঃ। এটা সত্যি ঘটনা!

    দাঁড়িয়ে গেলেন অমল সোম, তার চেয়ে সত্যি ঘটনা হল, কাছাকাছি কোনও জন্তুর দল আছে। হাতি বা বাইসন মনে হচ্ছে। গন্ডারও হতে পারে।

    মাই গড!

    আমাদের ওদিকে আর এগোনো ঠিক হবে না।

    কিন্তু আমরা তো এখনও একটাও স্পেসিমেন পেলাম না। স্টেফি বললেন।

    পেয়ে যাবে। ধৈর্য ধরো। অমল সোম কথাগুলো বলেই দেখলেন একটা বিশাল গঁড় কুড়ি গজ দূরত্বে গাছের ডাল সরাচ্ছে। তিনি চাপা গলায় বললেন, পিছন দিকে দৌড়োও। নইলে সবাই মারা যাব।

    মেজরও দৃশ্যটি দেখেছিলেন। তাকে ওই মোটা শরীর নিয়ে আগে দৌড়োতে দেখা গেল। জঙ্গলে শরীর আটকে যাচ্ছে, ছড়ে যাচ্ছে হাত-মুখ। পিছনে একাধিক হাতির চিৎকার। মেজর পিছিয়ে পড়ছিলেন। তার মনে হচ্ছিল, হৃৎপিণ্ড লোহার বলের মতো হয়ে গলার কাছে উঠে এসেছে। বরং স্টেফি দ্রুত তাদের ছাড়িয়ে চোখের আড়ালে চলে গেলেন। মেজর আর দৌড়োতে পারছিলেন না। ওঁর অবস্থা দেখে অমল সোম বললেন, গাছে উঠতে পারবেন?

    ক্যান ট্রাই। ফ্যাসফেসিয়ে বললেন মেজর।

    বাঁ দিকের একটা গাছের ডাল নীচে পাওয়ায় তাই ধরে মেজরকে নিয়ে কোনওমতে উপরে উঠলেন অমল সোম। তারপর সেটায় রেখে আর একটা উপরের ডালে উঠে এলেন। শেষ পর্যন্ত যে দূরত্বে পৌঁছোলেন সেখানে হাতির শুড় পৌঁছোনো সম্ভব নয়। মেজর কথা বলতে গিয়েও থেমে গেলেন। একটার পর-একটা হাতি গাছের তলায় জড়ো হয়ে গিয়েছে। নেতা হাতিটি উপরের দিকে মুখ করে শুড় নাচাল কয়েকবার। রাগে চিৎকার করল। একবার এগিয়ে এসে মোটা গাছের গুঁড়িতে ধাক্কা দিয়ে বুঝল, ওই গাছ ওপড়ানো তার পক্ষে সম্ভব নয়।

    এতক্ষণে মেজরের গলায় স্বাভাবিকতা ফিরে এল, উই আর সেফ।

    অমল সোম কিছু বললেন না।

    আপনি কিছু বলছেন না যে?

    দয়া করে শক্ত হাতে ডালটা ধরে থাকুন।

    আছি। কিন্তু আজ একটা ব্যাপারে আর কোনও সন্দেহ থাকল না।

    কী ব্যাপারে?

    আমার পূর্বপুরুষ অবশ্যই হনুমান কিংবা ওইজাতীয় বনমানুষ ছিলেন। এই বডি নিয়ে কীভাবে উঠে এলাম বলুন তো? মেজর যেন নিজের পিঠ চাপড়ালেন।

    হাতিগুলো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ধীরে ধীরে চোখের আড়ালে চলে গেল।

    নামতে পারবেন? অমল সোম জিজ্ঞেস করলেন।

    কেন?

    আশ্চর্য! মেয়েটার কথা ভুলে গেলেন? ও যে সেই দৌড়ে চলে গেল, কোথায় গেল, বাংলোয় পৌঁছোতে পারল কি না, খোঁজ নেবেন না?

    শিয়োর। মাথা নাড়লেন মেজর, কিন্তু নামব কী করে? নীচের দিকে তাকালেই তো মাথা ঘুরছে।

    অমল সোম ওঁকে নামাবার চেষ্টা করলেন। নীচের ডালটায় পৌঁছে শেষ রক্ষা হল না। হুড়মুড়িয়ে নীচে পড়লেন মেজর। পড়ে স্থির হয়ে গেলেন। তাঁর পাশে চলে এসে অমল সোম জিজ্ঞেস করলেন, কী হল? অজ্ঞান হয়ে গেলেন নাকি?

    না। চোখ বন্ধ করেই মেজর বললেন, শরীরে ক’টা ফ্র্যাকচার হয়েছে বুঝতে চাইছি।

    একটাও হয়নি। অত চর্বি ভেদ করে হাড় পর্যন্ত আঘাত পৌঁছোবে না। চলুন, মেয়েটার খোঁজ করি। যদি বাংলোর পথ ধরে তা হলে ঠিক আছে, কিন্তু যদি উলটো দিকের জঙ্গলে ঢুকে যায় তা হলে বিপদে পড়তে পারে। অমল সোম বললেন।

    খোঁজাখুঁজি আরম্ভ হল। চিৎকার করে ওঁরা ডাকতে লাগলেন, স্টেফি! স্টেফি!

    কিন্তু কোনও সাড়া পাওয়া গেল না। মেজর বললেন, নিশ্চয়ই বাংলোয় ফিরে গিয়েছে। আজকালকার মেয়ে, তার উপর আমেরিকান, ও ভুল করবে না।

    অমল সোম দাঁড়ালেন। তিনি নিজেই বাংলোটা কোন দিকে ঠাওর করতে পারছিলেন না। স্টেফি তো দৌড়োচ্ছিল, ওর পক্ষে ভুল করা খুবই স্বাভাবিক।

    .

    জানলা দিয়ে নয়, একেবারে নদীর ধারে দাঁড়িয়ে অর্জুন চেঁচিয়ে ডাকল, বাদল, চলে এসো। তিনবার ডাকার পরে একমুখ সন্দেহ নিয়ে বাদল নামের লোকটা বুনো ঝোঁপ ছাড়িয়ে উঠে দাঁড়াল। অর্জুন তাকে দেখতে পেয়ে হাত নাড়ল।

    কোনওরকমে নদী পার হয়ে এল বাদল। ও খুব আতঙ্কিত তা বুঝতে পেরে অর্জুন বলল, ভয়ের কিছু নেই। এখন বাংলো খালি। লছমন বাজারে গিয়েছে। এসো।

    লোকটাকে নিয়ে দোতলায় উঠে এল অর্জুন। বলল, এখানে চারটে ঘর। সব ঘরেই আমাদের কেউ না কেউ থাকে। তুমি পিছনের বারান্দায় থাকবে। এসো।

    রান্নাঘরের মধ্যে দিয়ে পিছনের বারান্দায় বাদলকে নিয়ে এল অর্জুন। তারপর জিজ্ঞেস করল, তোমার সেই বিছানা কোথায়?

    ওখানেই পড়ে আছে।

    ওঃ। যাও, চটপট নিয়ে এসো। এই বারান্দায় শোবে তুমি। রোদ, বৃষ্টি গায়ে লাগবে না। বাথরুমের দরকার হলে ওই দরজায় আস্তে আস্তে শব্দ করবে। ভানুপ্ৰসাদ আমাদের ড্রাইভার, ও-ই এখন রান্না করছে, ওকে তোমার কথা বলে রাখব। ও শব্দ শুনে দরজা খুলে দিলে চটপট বাথরুম করে আসবে। খাবার ঠিক সময়ে ভানুপ্রসাদ দেবে। কিন্তু খেয়াল রেখো, ওর সঙ্গে গল্প। করবে না। অর্জুন বুঝিয়ে বলতে বাদল মাথা নাড়ল। তারপর দ্রুত নেমে গেল বাংলো থেকে।

    মিনিটদশেক পর লোকটা যখন ফিরে এল বগলে ভাঁজ করা বিছানা নিয়ে, তখন অর্জুন জিজ্ঞেস করল, এত দেরি হল?

    নদীতে জল বাড়ছে। দেখুন, পাজামা ভিজে গিয়েছে। তারপর হাঁড়িটাড়িগুলো এমন জায়গায় লুকিয়ে রেখে এলাম, যা কেউ খুঁজে পাবে না। উনুনটা ভেঙে মাটি চাপা দিতে হল। আমি ওই বারান্দায় চলে যাই? বাদল জিজ্ঞেস করল।

    হ্যাঁ, যাও। মনে রেখো কোনও শব্দ করবে না।

    বাদল এগোচ্ছিল, কিন্তু অর্জুন জিজ্ঞেস করল, ওই লোকটার নাম কী?

    কোন লোক?

    যাকে ওরা কিডন্যাপ করেছিল, যার প্রাণ তুমি বাঁচিয়েছিলে।

    বিজয়বাবু, বিজয়াদ গুপ্তা।

    কোথায় বাড়ি?

    শিলিগুড়ি। বহুত বড় ব্যবসাদার।

    ঠিক আছে, চলে যাও। আমি এপাশ থেকে দরজা বন্ধ করে দিচ্ছি। ভালুপ্রসাদ যে ঘরে শুচ্ছে সেই ঘরের দরজা দিয়ে বাদলকে পিছনের বারান্দায় বের করে দিয়ে দরজাটা আবার বন্ধ করে দিল অর্জুন।

    মেজর বা স্টেফির এই বারান্দায় আসার প্রয়োজন হবে না। সরাসরি পথও নেই। অমলদার ক্ষেত্রেও তাই। একমাত্র ভানুপ্রসাদ জানবে, ওকে না জানিয়ে বাদলকে এখানে রাখার উপায় নেই। খাবার দেবে কে?

    অর্জুন বারান্দায় পায়চারি করতে গিয়ে দেখল, স্টেফির ঘরের দরজা খোলা।

    সে দরজাটা বন্ধ করতে গিয়ে ভিতরের দিকে তাকাতেই ল্যাপটপটাকে দেখতে পেল। ওরকম মূল্যবান জিনিস খোলা জায়গায় ফেলে গিয়েছেন স্টেফি? অবশ্য এই গভীর জঙ্গলের মধ্যে চুরি করতে কেউ আসবে না, এটাও ঠিক। অর্জুন ঘরে ঢুকে ল্যাপটপটা তুলতে গিয়ে একটু থমকাল। তারপর ওটা খুলে মিনিটতিনেক চেষ্টা করতেই মুখে হাসি ফুটল তার। না, বাদল মিথ্যে বলেনি। মিসিং পার্সন ইন নর্থবেঙ্গল, কারেন্ট মান্থ-এ বিজয়াদ গুপ্তার নাম ফুটে উঠেছে। শিলিগুড়ির বিখ্যাত কনস্ট্রাকশন কোম্পানির মালিক, তিনটে চা-বাগানের শেয়ারহোল্ডার মি. গুপ্তাকে কেউ বা কারা ডুয়ার্সের জয়ন্তী বাংলো থেকে কিডন্যাপ করে নিয়ে গিয়েছে। যদি কেউ মি. গুপ্তার সন্ধান দিতে পারে, তা হলে তাকে পাঁচ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। যোগাযোগ করুন। এক, ডি এস পি, শিলিগুড়ি, ও সি রাজাভাতখাওয়া। দুই, করমচাঁদ . গুপ্তা, বাবুপাড়া, শিলিগুড়ি। টেলিফোন ২৫৯২০০৩।

    ল্যাপটপ বন্ধ করে ওটাকে আলমারির মধ্যে রেখে শিলিগুড়ির নাম্বার ডায়াল করল অর্জুন। একটু পরেই রিং শুরু হল। তারপর হিন্দিভাষী একজন সাড়া দিলেন, হেল্লো।

    করমচাঁদজি আছেন?

    বলতেছি।

    নমস্কার। আমি অর্জুন। সত্যসন্ধান করা আমার নেশা এবং পেশা।

    কী সন্ধান?

    আপনি ঠিক বুঝবেন না। আপনার আত্মীয় বিজয়াদ গুপ্তার খবর পেয়েছেন?

    না। আপনি, আপনি জানেন?

    আমি খবর পেয়েছি তিনি ভুটান সরকারের পুলিশের হেফাজতে আছেন। আপনারা দার্জিলিং-এর এস পি-কে বলুন ভুটান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে।

    দাদা বেঁচে আছে তো?

    কিডন্যাপারদের হাত থেকে পালিয়েছেন বলে মারা যাওয়ার আশঙ্কা কম। ঠিক আছে। রাখছি।

    দাঁড়ান, দাঁড়ান। আপনার ঠিকানা দিন!

    অর্জুন উত্তর না দিয়ে লাইন কেটে দিল। ল্যান্ডলাইনে ফোনটা করেছিল বলে করমচাঁদ তার মোবাইল নাম্বার পাবে না।

    দরজা ভেজিয়ে বাইরে আসতেই ওঁদের দেখতে পেল অর্জুন। ক্লান্ত, বিধ্বস্ত অবস্থায় অমল সোম আর মেজর গেটের দিকে এগিয়ে আসছেন। চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, প্রচণ্ড ধকল গিয়েছে ওঁদের উপরে। সে দ্রুত নেমে দূরত্বটা পেরিয়ে গেট খুলে জিজ্ঞেস করল, কী হয়েছে আপনাদের? স্টেফি কোথায়?

    অমল সোম বললেন, খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছি। হাতির দলের সামনে পড়ায় আমরা দৌড়ে পালিয়েছিলাম। স্টেফিও দৌড়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে ও আমাদের দলছাড়া হয়ে যায়। এতক্ষণ ধরে খোঁজাখুঁজি করেও ওর হদিশ পেলাম না। ভেবেছিলাম, স্টেফি বাংলোয় ফিরে এসেছে। নাঃ, আবার খুঁজতে বেরোতে হবে।

    মেজর হাঁপাচ্ছিলেন, ওকে খুঁজে বের করতেই হবে। নইলে কোন মুখে ওদেশে ফিরব?

    কিন্তু এত বড় জঙ্গলে খুঁজে দেখা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আপনি ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টকে বলুন। ওরা চিরুনিতল্লাশি করে ওঁকে বের করতে পারবে, অর্জুন বলল।

    অমল সোম বললেন, এদিকে সন্ধে হতে তো দেরি নেই। দেখি, ডি এফ ও-কে ফোন করি। সেলফোনের নাম্বার টিপলেন অমল সোম। কানে চেপে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে যন্ত্রটির দিকে তাকিয়ে বললেন, যাচ্চলে। সব সাদা।

    অর্জুন বলল, নাম্বারটা বলুন। আমারটা দিয়ে চেষ্টা করি।

    অর্জুনের ফোনে ডি এফ ও-কে পাওয়া গেল। অমল সোেম তাকে স্টেফির সমস্যা জানালেন। ডি এফ ও বললেন, উনি দেখছেন কী করা যেতে পারে।

    এই সময় ভানুপ্রসাদের গাড়ি ফিরে এল। অমল সোম জিজ্ঞেস করলেন, এরা কোথায় গিয়েছিল?

    খাবারদাবার কিনতে। অর্জুন বলল।

    মেজর বললেন, স্টেফি না ফেরা পর্যন্ত আমরা কেউ কিছু খাব না।

    ভানুপ্রসাদ স্টেফির ব্যাপারটা শুনে বলল, চলুন সাব। আমরা খুঁজে দেখি। মেমসাহেব রাস্তা হারিয়ে নিশ্চয়ই কাছাকাছি আছেন।

    লছমন বলল, গিয়ে কোনও লাভ হবে না।

    ভানুপ্রসাদ তাকাল ওর দিকে, কেন?

    এই জঙ্গলে হারিয়ে গেলে কেউ আর ফিরে আসে না। লছমন বলল, জঙ্গল গিলে ফেলে তাকে। আর এক ঘণ্টার মধ্যে রাত নেমে যাবে। আপনারাও ফেরার পথ খুঁজে পাবেন না।

    মেজর খেপে গেলেন, মার্ডারার? মোস্ট সাসপিসিয়াস ক্যারেক্টার!

    অর্থ বুঝল কি না সেই জানে, লছমন তার ঘরের দিকে চলে গেল।

    অর্জুন ভানুপ্রসাদকে নিয়ে জঙ্গলে ঢুকল। চিৎকার করে স্টেফিকে ডাকছিল সে। ভানুপ্রসাদ চেঁচাচ্ছিল, মেমসাব! মেমসাব! কোনও সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। ক্রমশ জঙ্গলের ভিতরে ছায়া ঘন হয়ে আসছিল। ভানুপ্রসাদ বলল, আর এখানে থাকা ঠিক হবে না। রাত্রে তো খুঁজে পাব না। যদি মেমসাব না আসেন, কাল ভোরে চলে আসব জঙ্গলে।

    কথাটা যুক্তিপূর্ণ।

    .

    বিরিয়ানি রান্না স্থগিত হল। ক্রমশ অন্ধকারে চারপাশ ডুবে যেতে ভানুপ্রসাদ চা এনে দিল তাঁদের। তাতে চুমুক দিয়ে অর্জুনের খেয়াল হল, বাদলের কথা এখনও বলা হয়নি ভানুপ্রসাদকে। এই সময় বারান্দায় লছমনকে দেখা গেল। অর্জুন জিজ্ঞেস করল, কী চাই?

    আপনারা আমার উপর রাগ করছেন স্যার, কিন্তু আমি আপনাদের সতর্ক করে দিয়েছিলাম। আমার কথা শুনে যদি চলে যেতেন, তা হলে মেমসাহেব বেঁচে যেতেন। দুটো হাত বুকের উপর জড়ো করে বলল লছমন।

    তোমার ধারণা মেমসাহেব মারা গিয়েছেন?

    জিভ বের করল লোকটি, ছি ছি। তবে মন তো সবসময় কু ডাকে।

    কী বলতে এসেছ?

    শুনলাম, বিরিয়ানি হবে না আজ। ভালই করেছেন। আমি বলি কী, তাড়াতাড়ি যাই হোক কিছু খেয়ে শুয়ে পড়ুন। ভোরের আগে কেউ দরজা খুলবেন না।

    কেন? অর্জুনের কপালে ভাঁজ পড়ল।

    মানুষের রক্ত পান করলে তেনারা ভয়ংকর হয়ে ওঠেন। তখন বাইরে আসাই ভাল। কোন মানুষের রক্ত কারা পান করল?

    আপনি কি ভাবছেন মেমসাব বেঁচে আছেন?

    এই জঙ্গলে পথ হারিয়ে সারারাত কেউ বেঁচে থাকতে পারে না। চিতা না খাক, নেকড়ে শেষ করে দেবে। আর তেনাদের খপ্পরে পড়লে তো কথাই নেই।

    তখন থেকে তেনারা তেনারা করছ, তেনাদের নাম কী?

    রাত নামলে ওই নাম উচ্চারণ করতে নেই। আচ্ছা, ভানুপ্রসাদকে বলবেন আমার জন্যে রাতের খাবারের দরকার নেই। আমি ঘরের দরজা বন্ধ করে চিড়ে-মুড়ি খেয়ে শুয়ে পড়ব। লছমন কপালে আঙুল ছুঁইয়ে নেমে গেল বারান্দা থেকে।

    অর্জুন বসার ঘরে ঢুকল। অমল সোম তাকালেন। মেজর দু’হাতে মুখ ঢেকে বসে আছেন।

    অমল সোম বললেন, মেয়েটা যদি গাছে উঠতে পারে তা হলে বিপদে পড়বে না।

    বিপদে পড়বে না! খিঁচিয়ে উঠলেন মেজর, কেন? গাছে সাপ নেই? পাইথন একটা মোষ গিলে ফেলে, মানুষ তো ছার!

    কিন্তু এই রাতে ডি এফ ও-কে জানানো ছাড়া আমরা আর কী করতে পারি?

    আমরা এখন থানায় গিয়ে ডায়েরি করতে পারি। পুলিশ যদি এখনই স্টেফির খোঁজে জঙ্গলে সার্চ করে তা হলে ওকে পেয়ে যাবই। মেজর বললেন।

    এই সময় ভানুপ্রসাদ গাড়ি চালিয়ে আমাদের নিয়ে যাবে থানায়? জিজ্ঞেস করে দেখুন। অমল সোম কাঁধ নাচাতেই অর্জুন তার সেলফোন বের করে নাম্বার টিপল। রিং হল। অর্জুন সাড়া পেতেই কথা বলল, নমস্কার। আমি অর্জুন বলছি। চিনতে পারছেন? ধন্যবাদ। এখন আমরা একটা ফরেস্টের লাগোয়া বাংলোয় আছি। বাংলোটার মালিক শিলিগুড়ির ব্যবসায়ী সুধাংশুশেখর দত্ত। রাজাভাতখাওয়া থেকে জয়ন্তী যাওয়ার রাস্তায় এসে বাঁ দিক ধরে এখানে পৌঁছোনো যায়। আমরা চারজন ছিলাম। একজন মহিলা, তিনি আমেরিকান, গবেষণার কাজে এসেছেন। আজ জঙ্গলে গিয়ে মহিলা হারিয়ে যান। না না, হাতির ভয়ে পালিয়ে আসছিলেন সবাই, মহিলা বোধহয় রাস্তা ভুল করেছেন! ওঁর নাম স্টেফি। যদি লোকাল থানাকে ইনফর্ম করেন, ওঁরা ওঁকে খুঁজে বের করতে পারে। একটানা কথাগুলো বলে গেল অর্জুন। তারপর ওপাশের কথা শুনল। ফোনের লাইন কেটে দিয়ে অর্জুন বলল, জলপাইগুড়ির এস পি সাহেবের সঙ্গে কথা বললাম। উনি নোট করে নিয়েছেন। এটাই ডায়েরি বলে ট্রিট করা হবে। উনি এখনই লোকাল থানাকে নির্দেশ দিচ্ছেন কাজ শুরু করতে।

    সোফায় বসে অর্জুন বলল, আমার বিশ্বাস, কালই স্টেফিকে পেয়ে যাব।

    কী করে বিশ্বাস হচ্ছে? মেজর জিজ্ঞেস করলেন।

    এই জঙ্গলে হিংস্র প্রাণী আছে বটে কিন্তু কোনও ম্যানইটার নেই। থাকলে সেই খবর আমরা জলপাইগুড়িতে বসে জানতে পারতাম। যাকগে, আপনারা যখন জঙ্গলে গিয়েছিলেন তখন আমি একটি লোককে সাহায্য করেছি। অর্জুন বলল।

    অমল সোম তাকালেন, কিছু বললেন না।

    অর্জুন বলল, পিছনে যে নদী রয়েছে তার পরেই পাহাড় শুরু। ওটা ভুটানের। ওই পাহাড়ে ভুটান সরকারের পুলিশ খুব সতর্ক নয়। তার ফলে ভারতীয় উগ্রপন্থীরা ওখানে আশ্রয় নিয়ে এখানে হামলা চালায়। ওরা বড়লোক ভারতীয়দের কিডন্যাপ করে ভুটানে নিয়ে গিয়ে মোটা টাকা দাবি করে। টাকা পেলে ছেড়ে দেয়। যাকে আমি সাহায্য করেছি সে পাকেচক্রে ওদের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ইদানীং মানাতে পারছিল না। কয়েকদিন আগে ওরা শিলিগুড়ির এক মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীকে কিডন্যাপ করে জয়ন্তী থেকে। মোটা টাকা মুক্তিপণ চায়। কিন্তু ওদের কপাল খারাপ হওয়ায় একদিন ভুটানি পুলিশ। পথভুল করে ক্যাম্পের কাছে চলে আসায় ওরা পালাতে বাধ্য হয়। এই লোকটিকে নির্দেশ দেয় মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীকে মেরে ফেলতে। সেই নির্দেশ পালন করেনি লোকটা। ব্যবসায়ীর প্রাণ সে বাঁচিয়ে দেয়। সম্ভবত ভুটানি পুলিশের হেফাজতে আছে ব্যবসায়ী। কিন্তু লোকটি ভয় পাচ্ছে উগ্রপন্থীরা এবার তাকে মেরে ফেলবে। ফলে সে জঙ্গলে জঙ্গলে পালিয়ে বেড়িয়ে এখানে চলে আসে। লছমনের সঙ্গে ওর পরিচয় ছিল। কিন্তু উগ্রপন্থীদের ভয়ে লছমন ওকে বাংলোয় আশ্রয় দেয়নি। নদীর ওপারের জঙ্গলে লুকিয়ে থাকতে বলেছে। রোজ চাল-আলু দিয়ে আসে লোকটাকে। ওদিকে সাপের উপদ্রব বেশি থাকায় উগ্রপন্থীরা আসতে ভয় পায়। তারা লছমনকে বলেছিল জঙ্গলে নজর রাখতে। মাঝে মাঝে রাত গম্ভীর হলে ওরা এখানে আসে। লছমন তাই লোকটাকে অন্য কোথাও চলে যেতে চাপ দিচ্ছিল। আমাদের বলেছিল বাংলোয় না থাকতে। কারণ, উগ্রপন্থীরা চায় বাংলোটা ফাঁকা থাক। আমি লছমনকে ভানুপ্রসাদের সঙ্গে বাজারে পাঠিয়ে লোকটাকে এই বাংলোয় তুলে এনেছি। পিছনে বারান্দায় আছে লোকটা। ও যে এখানে আছে তা লছমন জানে না।

    পিছনে শব্দ হতেই অর্জুন ঘাড় ঘুরিয়ে ভানুপ্রসাদকে দেখতে পেল। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে অর্জুনের কথাগুলো শুনছিল সে।

    গুড জব। লোকটার নাম কী? অমল সোম জিজ্ঞেস করলেন।

    বাদল।

    লোকটাকে এখানে আসতে বলল। মেজর বললেন।

    আজই না। ও ঘাবড়ে যেতে পারে। অর্জুন উঠল, ভানুপ্রসাদ, তুমি তো সব শুনেছ। সাবধান, লছমন যেন জানতে না পারে।

    কেউ জানবে না সাহেব।

    চলো। তোমার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিচ্ছি।

    নিঃশব্দে দরজা খুলতেই দেখা গেল বারান্দার ভিতরের কোণে জড়সড় হয়ে শুয়ে আছে লোকটা। অর্জুন নিচু গলায় ‘বাদল’ বলে ডাকতেই ধড়মড়িয়ে উঠে বসল সে। হাতে সেই কাটারি। অর্জুন বলল, শোনো, এর নাম ভানুপ্রসাদ। যখন যা দরকার হবে ওকে ডেকে বলবে।

    মাথা নেড়ে নীরবে হ্যাঁ বলল বাদল।

    ভানুপ্রসাদ জিজ্ঞেস করল, চা খাবে?

    বাদলের মুখ হাসিতে ভরে গেল। দ্রুত মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল।

    অর্জুন ইশারায় ভানুপ্রসাদকে ঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে বলল, বেশি ভাব করার দরকার নেই। খেয়াল রেখো, বারান্দায় যেন আলো না পড়ে।

    ভুটানের পাহাড়ে উগ্রপন্থীরা ক্যাম্প করেছে এই খবর কলকাতার কাগজে ছাপা হয়েছে। ভারত সরকারের চাপে পড়ে ভুটান সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে। বর্ডার পেরিয়ে বিদেশি রাষ্ট্রে গেলে ধরা পড়ার ভয় নেই বলে তারা বহালতবিয়তে রয়েছে। অমল সোমের সঙ্গে অর্জুন এই ব্যাপারে কথা বলছিল। মেজর বসে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।

    রাত বাড়ছে। ভানুপ্ৰসাদ আজ চিকেন আর ভাত বানিয়েছিল। তাই খেয়ে সবাই যে-যার ঘরে চলে গেলে অর্জুন অন্ধকার বারান্দার এক কোণে এসে দাঁড়াল।

    কী ভাবছ?

    অর্জুন দেখল, অমল সোম তার পিছনে এসে দাঁড়ালেন।

    বুঝতে পারছি না। অস্বস্তি হচ্ছে।

    হুম। আমি তোমার কথা শোনার পর অন্য কিছু ভাবছি। স্টেফি যদি উগ্রপন্থীদের হাতে পড়ে, তা হলে ভয়ানক বিপদ হবে। ও আমেরিকান, জানামাত্র ওরা প্রচুর টাকা মুক্তিপণ চাইবে।

    বোধহয় সেই ভয় নেই। ওরা থাকে ভুটানের পাহাড়ে। নদী পেরিয়ে এদিকে আসে বিশেষ পরিকল্পনা থাকলে। স্টেফি জঙ্গলে পথ হারিয়েছে। তার সঙ্গে ওদের দেখা হওয়া সম্ভব নয়।

    লেট্‌স প্রে দ্যাট।

    অর্জুন কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেল। কাল রাতের লোকদুটো গেট খুলে ঢুকছে। ভিতরে এসে বাংলোর দিকে তাকাল। বাংলোর কোনও ঘরে আলো জ্বলছে না। ওরা ধীরে ধীরে বাংলোর পিছন দিকে চলে গেল।

    অর্জুন অমল সোমকে বলল, কিচেনের জানলায় চলুন।

    নিঃশব্দে জানলার পাশে এসে শব্দ না করে সেটা ঈষৎ খুলতেই গলা শুনতে পেল। তুই আমাদের সঙ্গে দু’নম্বরি করছিস লছমন!

    বিশ্বাস কর আমি কিছু জানি না।

    আজ বিকেলে ওকে ওই নদীর ওপারে আমাদের একজন দূরবিনে দেখেছে। ওখানে কেউ থাকলে তুই জানতে পারবি না?

    তা হলে আজই এসেছে।

    ওখানে কোথায় লুকিয়ে থাকা যায় জানিস?

    জানি।

    চল, গিয়ে দেখি।

    এই রাত্রে? ওখানে সাপ আছে।

    তুই আগে যাবি। সাপ থাকলে তোকে কামড়াবে।

    অত্যন্ত অনিচ্ছায় লছমনকে দেখা গেল ওদের নিয়ে নদীর দিকে যেতে।

    অমল সোম জিজ্ঞেস করলেন, উগ্রপন্থীদের লোক?

    তাই তো মনে হচ্ছে। চলুন, নীচে যাই।

    কী করতে চাও?

    ওই দু’জনকে আটকালে জানা যাবে ওরা আজ স্টেফিকে পেয়েছে কি না। অর্জুন বলল, তা ছাড়া বাদলের প্রাণ বাঁচাতেও ওদের আটকানো দরকার। আমি ভানুপ্রসাদকে ডাকছি। ওর সাহায্য দরকার হবে।

    অর্জুন ভালুপ্রসাদকে ডাকতে গেল। অমল সোম দেখতে পেলেন, একটা টর্চের আলো জ্বেলে কেবল তিনটে ছায়ামূর্তি নদী পার হচ্ছে। এখন নদীর জল সম্ভবত বেড়ে গিয়েছে। কারণ, ওদের পার হতে সময় লাগল। ওপারে পৌঁছে তিনজনই চোখের আড়ালে চলে গেল। অমল সোম বুঝলেন, ওরা জঙ্গলের ভিতরে ঢুকে গেল।

    ইতিমধ্যে ভানুপ্ৰসাদকে নিয়ে চলে এসেছে অর্জুন। অমল সোম বললেন, তুমি নিশ্চয়ই ওদের আটকাতে চাও। কীভাবে? ওরা সশস্ত্র কি না তা তুমি জানো না।

    অন্ধকারের সুযোগটা নেব। ওরা দু’জন। আমি আর ভালুপ্রসাদ যদি আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়ি, তা হলে লোক দুটোকে কবজা করতে পারব। ওদের অস্ত্র থাকলেও বের করতে পারবে না।

    নদীর ধারে চলে এসে গাছের আড়ালে দাঁড়াল ওরা। হঠাৎ ওপার থেকে চেঁচামেচি ভেসে এল। একজন খুব উত্তেজিত হয়ে গালাগালি দিচ্ছে। তারপরেই দেখা গেল একজনকে ঠেলতে ঠেলতে বাকি দু’জন নদীতে নামল। সেই দু’জনের একজন টর্চ ধরেছে বলে মুখ পরিষ্কার হচ্ছিল না। অমল সোম বললেন, লছমনকে গালাগাল দিচ্ছে কেন?

    ওরা নদী পার হচ্ছিল। অর্জুন বলল, ওরা লছমনের দেখানো জায়গায় বাদলকে খুঁজে পায়নি। নিশ্চয়ই ওকে এখন অবিশ্বাস করছে।

    ভানুপ্রসাদকে বোধহয় আগেই বুঝিয়ে দিয়েছিল অর্জুন। সে দ্রুত ওপাশের আড়ালে চলে এল। ওরা নদীর এপারে পৌঁছে গিয়েছে এর মধ্যে। একজন বলল, তুই বেইমানি করেছিস লছমন। বেইমানদের কী সাজা দেওয়া হয় তা তুই জানিস! শেষবার জিজ্ঞেস করছি, কোথায় লুকিয়ে রেখেছিস বাদলকে?

    আমি জানি না, বিশ্বাস কর। আজ দুপুরেও ওকে ওখানে দেখেছিলাম। পাথরের উনুনে রান্না করেছিল। ওগুলো তুলে নিয়ে কোথায় হাওয়া হয়ে গিয়েছে।

    জানিস না। জোরে ধাক্কা মারতেই উপুড় হয়ে পড়ে গেল লছমন।

    দ্বিতীয় লোকটি বলল, বাদলকে এই বাংলোর ভিতরে লুকিয়ে রাখেনি তো?

    আমার তাই সন্দেহ হচ্ছে। আগে ব্যাটাকে বেঁধে ফ্যাল, তারপর খুঁজে দেখব। ওর ঘরে গিয়ে দ্যাখ, নিশ্চয়ই দড়ি পাবি।

    প্রথম লোকটার কথা শুনে দ্বিতীয় লোকটা চোখের আড়ালে চলে যেতেই ভানুপ্রসাদ বিদ্যুৎগতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ল। অর্জুন চটপট মুখ চেপে ধরল লোকটার। ওর কোমর থেকে দিশি রিভলভার বের করে শাসাল, আওয়াজ করলেই মেরে ফেলব।

    লোকটাকে উপুড় করে ওরই জামা দিয়ে এমনভাবে বেঁধে ফেলল অর্জুন যে, নড়তে-চড়তে পারছিল না আর। দ্বিতীয় লোকটা দড়ি নিয়ে ফিরে এসেই আক্রান্ত হল। তাকেও বেঁধে ফেলতে অসুবিধে হল না। লছমন মাটিতে বসে ফ্যালফ্যাল করে ব্যাপারটা দেখছিল। অর্জুন তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, এদের তুমি চেনো? এরা কারা?

    লছমন চোখ বন্ধ করে মাথা নাড়ল, না।

    সঙ্গে সঙ্গে তার চুলের মুঠো ধরে দাঁড় করিয়ে দিয়ে অর্জুন বলল, ওরা তোমাকে আজ শেষ করে দেবে জানা সত্ত্বেও তুমি সত্যি কথা বলবে না?

    লছমন জবাব না দিয়ে অন্যদিকে তাকাল। অর্জুন হাসল, বেশ, তা হলে ওদের বলে দিচ্ছি, বাদলকে চাল-আলু তুমি সাপ্লাই দিতে। তোমরা দুজন একসময় একসঙ্গে জেল খেটেছিলে।

    আপনি, আপনি জানলেন কী করে? লছমন বিভ্রান্ত।

    জানি। এরা ওই দলের লোক, যারা ব্যবসায়ীদের কিডন্যাপ করে। অর্জুন বলল, হ্যাঁ কি না?

    মুখে শব্দ না করে মাথা নেড়ে ‘হ্যাঁ’ বলল লছমন।

    লোক দুটোকে বসিয়ে দেওয়া হল। দু’জনের দুটো হাত পিঠের দিকে টেনে বাঁধা হয়েছে। দুটো পা শক্ত করে বেঁধেছে ভানুপ্রসাদ। এবার অমল সোম এগিয়ে এলেন, তোমরা তো সাধারণ সদস্য। কেউ নেতা নও। আমরা যা জিজ্ঞেস করব তার উত্তর দিলে তোমাদের ছেড়ে দিতে পারি।

    লোক দুটো কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাল না।

    অজুর্ন জিজ্ঞেস করল, বিজয়চাঁদ কোথায় আছেন?

    দ্বিতীয়জন মাথা নাড়ল, আমি জানি না।

    তুই?

    প্রথমজন বলল, ক্যাম্পে ছিল। আমরা যখন ক্যাম্প ছেড়েছিলাম তখন লোকটা বাদলের হেফাজতে ছিল। বাদল জানে।

    বাদলকে খুঁজছিস কেন? মেরে ফেলবি ওকে?

    ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

    কীভাবে?

    বিজয়চাঁদকে ছেড়ে দিয়েছে। নিশ্চয়ই বিজয়চাঁদ ওকে টাকার লোভ দেখিয়েছে।

    তোদের দলের বাকিরা এখন কোথায়?

    ওপারে। এখান থেকে দেড়মাইল দূরে। আমরা আজই এখান থেকে অন্য জায়গায় চলে যেতাম, কিন্তু…! বলেই থেমে গেল দ্বিতীয়জন।

    কিন্তু কী? অর্জুন ধমকাল।

    প্রথমজন বলল, অনেক বলে ফেলেছিস তুই!

    না, মানে…! দ্বিতীয় লোকটির মুখে ভয় ফুটল।

    অমল সোম তার হাত তুলে নিয়ে কনুই-এর নীচে চাপ দিতেই লোকটা আর্তনাদ করে উঠল। অমল সোম হাত সরিয়ে বললেন, মুখ না খুললে তোমার হাত চিরজীবনের জন্যে অসাড় করে দেব।

    আজ সন্ধের সময় একটা নতুন মুরগি পেয়ে গিয়েছি আমরা। সাদা মেমসাব। শেষ রাত্রে নেতা এসে ওকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ঠিক হবে। আমরা এখানে থাকব, না সরে যাব। যা জানি বলে দিলাম। আমি আর পারছি না। গলায় কান্না মিশল লোকটার।

    কেন?

    এ একটা জীবন? চোরের মতো পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। টাকা যা আসছে তা আমরা কেউ চোখে দেখতে পাচ্ছি না। ওসব নাকি অস্ত্র কিনতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

    অমল সোম উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর নির্দেশে ওদের মুখে কাপড় গুঁজে হাত পা বাঁধা অবস্থায় লছমনের ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে শিকল তুলে দেওয়া হল।

    ভানুপ্রসাদ লছমনকে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করল, এর কী হবে?

    সঙ্গে সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়ল লছমন, আমি ওদের ভয়ে সবসময়। মিথ্যে কথা বলেছি। এখানে থাকলে ওরা আপনাদের বিপদে ফেলতে পারে মনে করে চলে যেতে বলেছি, ভূতের ভয় দেখিয়েছি। আমায় মাপ করুন।

    অমল সোম বললেন, তুমি বাংলোর বারান্দায় গিয়ে বসো। ওখান থেকে নামবে না।

    অর্জুন লছমনকে নিয়ে বাংলোর বারান্দায় চলে এল। লছমন কাতর গলায় বলল, বাবু, আমাকে ছেড়ে দিন। এখনই যদি এখান থেকে না পালিয়ে যাই

    তা হলে মারা পড়ব।

    কীভাবে?

    ওরা ফিরে না গেলে দলের লোকেরা খুঁজতে আসবেই।

    পুলিশকে ওদের কথা আগে জানাওনি কেন?

    মাথা নাড়ল লছমন, পুলিশকে জানালে ওরা ঠিক খবর পেয়ে যেত। হাতজোড় করল সে, আপনারাও ভোর হলে এখান থেকে চলে যান বাবু।

    তুমি ভিতরে এসো।

    হারিকেনের আলোয় বাদলকে দেখে ভূত দেখার মতো অবস্থা লছমনের। কোনওরকমে বলল, তু-তুই! তুই এখানে?

    আমি ওকে জঙ্গল থেকে নিয়ে এসেছি। না আনলে ওর কী অবস্থা হত তুমি জানো। যাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে গিয়েছিলে তারা নিশ্চয়ই ভালবাসার কথা বলত না।

    তুই ওদের পথ দেখিয়ে নিয়ে গিয়েছিলি? প্রায় চিৎকার করে উঠল বাদল।

    আঃ। চেঁচিয়ো না।

    না নিয়ে গেলে ওরা আমাকে মেরে ফেলত! লছমন মিনমিনে গলায় বলল।

    তুই আমাকে খতম করতে ওদের নিয়ে গিয়েছিলি?

    যা হওয়ার তা হয়েছে, এখন বাঁচতে চাস তো এখান থেকে পালিয়ে চল।

    আমি তোর সঙ্গে কোথাও যাব না।

    অর্জুন বলল, মান-অভিমান করে লাভ নেই।

    অমল সোম ঘরে ঢুকলেন, নাঃ। ও দুটোকে উপরে নিয়ে আসাই ভাল। লছমন যেমন নীচে থাকে তাই থাক। ওর সঙ্গে ভানুপ্রসাদ থাকবে, যাতে পালাতে না পারে। যদি ওই দুটোর সন্ধানে কেউ ঢোকে তা হলে লছমন বলবে সে কিছুই জানে না, কোনও লোক আজ রাত্রে বাংলোয় ঢোকেনি।

    ভোরের আগেই আসতে পারে। অর্জুন বলল, কাল তিনজন এসেছিল। আজ এই দু’জন ফিরে না গেলে তৃতীয় ব্যক্তি এদের সন্ধানে আসতে পারে।

    ভানুপ্ৰসাদ আর লছমন একে-একে ওই দু’জনকে উপরে নিয়ে এসে পিছনের বারান্দায় শুইয়ে রাখল। অমল সোম বাঁধনগুলো আরও শক্ত করে দিলেন। লছমন আর ভানুপ্রসাদ নীচে নেমে গেলে অমল সোম বললেন, আর রাত জেগে লাভ নেই। শুয়ে পড়া যাক!

    অর্জুন বলল, কিন্তু স্টেফিকে উদ্ধার কীভাবে করবেন?

    যেভাবেই করো, আজ রাত্রে নিশ্চয়ই তা করা সম্ভব নয়। কাল সকালে ভাবা যাবে। আর এ ব্যাপারে বাদল বোধহয় আমাদের সাহায্য করতে পারবে।

    বাদল? কীভাবে?

    কাল সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাক অর্জুন।

    অমল সোমের কথা শেষ হওয়ামাত্রই একটা হালকা গর্জন কানে এল। বাদল দৌড়ে কাছে এসে বলল, বোধহয় বাঘ!

    নিজের ঘরে যেতে যেতে অমল সোম বললেন, অর্জুন, মেজরকে পাশ ফিরিয়ে শুইয়ে দাও। চিত হলেই ওঁর নাক থেকে বাঘের আওয়াজ বের হয়!

    না। ওই রাত্রে কেউ আর এই বাংলোয় ঢোকেনি। যতই বিছানায় শুয়ে থাক, ঘুম ভেঙে ছিল বারবার। যখন ভোর হল, জঙ্গলে পাখিরা তুমুল চেঁচামেচি শুরু করল, তখন অর্জুন বারান্দায় বেরিয়ে এল। লছমনের ঘরের দরজা ভেজানো। একটা অস্বস্তি নিয়ে দরজা ঠেলতেই ভানুপ্রসাদকে দেখতে পেল। পাশ ফিরে ঘুমোচ্ছে। লছমন নেই। দ্রুত নদীর ধারে এসে চারদিকে তাকাল। না, কোথাও তার চিহ্ন নেই। ফিরে গিয়ে ভানুপ্রসাদকে কয়েকবার ডাকতেই সে চোখ খুলল। অর্জুনকে দেখে ধড়মড়িয়ে উঠে বসল।

    অর্জুন জিজ্ঞেস করল, লছমন কোথায়?

    ও তো ওপাশে শুয়ে ছিল।

    কখন শেষবার দেখেছ।

    রাত্রে।

    চারপাশ খুঁজে দ্যাখো তো।

    ভালুপ্রসাদ খুঁজতে বের হল। বাংলোর ভিতরে লছমন নেই। গাড়ির কাছে গিয়ে মুখ শুকিয়ে গেল তার। ফিরে এসে বলল, সাহেব, কাল গাড়ির চাকা খোলার চেষ্টা করেছিল কেউ!

    খুলতে পেরেছিল?

    না।

    একটু আলগা করতে পেরেছিল।

    লোকটা চেয়েছিল গাড়িটাকে অকেজো করে আমাদের বিপদে ফেলতে।

    কী হয়েছে? বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন অমল সোম।

    ব্যাপারটা জানাল অর্জুন।

    এরকম কিছু ঘটতে পারে তা আমাদের ভাবা উচিত ছিল। লছমন চেয়েছিল যাতে গাড়ি নিয়ে আমরা ওকে খুঁজতে বেরোতে না পারি। ও নিশ্চয়ই গভীর রাত্রে জঙ্গলের পথ ধরবে না। গিয়েছে আলো ফুটতে। তোমরা খানিকটা যাও গাড়ি নিয়ে। যদি বেশিদূর যেতে না পারে ও, দ্যাখো। অমল সোম ভিতরে চলে গেলেন।

    চাকা টাইট করে ভানুপ্ৰসাদ অর্জুনকে নিয়ে বের হল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ওরা গভীর জঙ্গলে মোড়া কাঁচা রাস্তা ধরে যাচ্ছিল। এখনও রোদ নরম, তাই জঙ্গলের ভিতরে ঘন ছায়া নেতিয়ে রয়েছে। কিছু দূর যাওয়ার পর ব্রেক চেপে গাড়ি থামাল ভানুপ্রসাদ। পাশের জঙ্গলের ভিতর দিয়ে একটা পায়েচলা পথ চলে গিয়েছে। সেটা দেখিয়ে ভানুপ্রসাদ বলল, কাল লছমন রাজাভাতখাওয়ায় যাওয়ার সময় বলেছিল, ওই পথ দিয়ে খুব তাড়াতাড়ি রাজাভাতখাওয়ায় যাওয়া যায়।

    অর্জুন সামনের দিকে তাকাল। রাস্তা এখানে বেশ কিছু দূর পর্যন্ত সোজা। লছমনকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। গাড়ি থেকে নামল অর্জুন, চলো, খানিকটা হেঁটে দেখে আসি।

    গাড়িটাকে রাস্তার একপাশে রেখে ভানুপ্রসাদ সঙ্গী হল। সরু পথ, দু’পাশের গাছগুলোর ডাল-পাতা তার অনেকটাই দখল করে রেখেছে। সেগুলো সরিয়ে হাঁটতে অসুবিধে হলেও, ওরা চেষ্টা করছিল দ্রুত চলতে। মিনিটদশেক হাঁটার পর জঙ্গল যখন আরও বেশি গভীর, তখন পথ বাঁক নিল। সেখানে পৌঁছোতেই চিৎকার করে উঠল ভানুপ্রসাদ, সাব!

    ওকে লক্ষ করে মুখ ফেরাতে দৃশ্যটা দেখতে পেল অর্জুন। মানুষটা মাটিতে পড়ে, আছে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে। একটু কাছে যেতে লছমনকে চিনতে অসুবিধে হল না। ওর বুক-পেট ফেটে চেপটে গিয়েছে মাটিতে। দুটো পা-ই মুচড়ে ছোট হয়ে গিয়েছে। রক্তে মাটি লাল হয়ে আছে এখনও। কোনও মানুষের পক্ষে এভাবে হত্যা করা সম্ভব নয়।

    ভানুপ্রসাদ ফিসফিসিয়ে বলল, হাতি, হাতি ওকে মেরেছে। ওই দেখুন!

    কিছুটা দূরে পড়ে থাকা হাতির বিষ্ঠা দেখাল ভানুপ্রসাদ।

    সেলফোন বের করে অমল সোমকে ফোন করল অর্জুন, জঙ্গলের ভিতরে লছমনের ডেডবডি পড়ে আছে। মনে হচ্ছে হাতির সামনে পড়েছিল। একেবারে স্ম্যাশড। ব্যাপারটা পুলিশকে জানানো দরকার। আপনি যদি বলেন আমরা এখান থেকে থানায় গিয়ে জানিয়ে আসতে পারি।

    তার দরকার নেই। আমি ফোনে এস পি-কে বলছি। জায়গাটা ঠিক কোথায়?

    আমি কয়েক মিনিট পরে গাড়ির রাস্তায় ফিরে গিয়ে আপনাকে জানাচ্ছি।

    মনখারাপ হয়ে গেল অর্জুনের। এখানে আসার পরে লোকটার সঙ্গে তার ঠকাঠকি লাগছিল বটে, কিন্তু এভাবে মরে যাবে কল্পনা করেনি। লোকটা ক্রিমিনাল নয়, স্রেফ উগ্রপন্থীদের ভয়ে ওরকম আচরণ করছিল।

    হাঁটতে হাঁটতে ভানুপ্রসাদ বলল, ও যদি গাড়ির রাস্তায় যেত তা হলে এভাবে মরতে হত না। প্রাণ বাঁচানোর জন্যে শর্টকাট পথ ধরে মারা পড়ল বেচারা!

    বড় রাস্তায় পৌঁছে জায়গাটার বর্ণনা অমল সোমকে সেলফোনে জানিয়ে দিল অর্জুন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালপুরুষ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article আগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }