Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অলাতচক্র – তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়

    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প277 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২১. পাখির ডাক ভেসে এল

    হঠাৎ পাশের একটা গাছ থেকে পাখির ডাক ভেসে এল। একটু আশ্চর্য হয়ে ওপরে। তাকালাম। গত কয়েকদিন বনের ভেতর পাখিদের শব্দ শুনতে পাইনি। সেই অপার্থিব স্তব্ধতা কাটিয়ে প্রথম এই ডাক পরিবেশের বিষণ্ণতা অনেকখানি দূর করে দিল। হ্যাঁ, ওই যে পাতার আড়ালে বসে রয়েছে পাখিটা, কী পাখি বুঝতে পারা যাচ্ছে না, কিন্তু পাখি বটে। যাক্, তাহলে পাখিরা ফিরে আসতে শুরু করেছে। ভাল।

    মৃত্যুঞ্জয়ের দিকে তাকিয়ে বললাম—বাহিরগাছিতে আর পরে জয়তলা গ্রামে তোমার নাম বলেছিলে অমরজীবন। নামটা বদলে গেল কী করে?

    —দুটো নামের মানেই তো এক, তাই না? নাম একটা যা হোক হলেই হল—

    তারপর চারদিকে তাকিয়ে প্রসঙ্গ বদলাবার ভঙ্গিতে বলল-ঝড়বৃষ্টি কিন্তু ধরে আসছে, দেখেছেন? আর বাড়বে না। বিকেলের দিকে সূর্যও বেরিয়ে আসবে।

    বললাম তোমার বিষয়ে যে আমি আগে থেকেই জানি তা আর আমার কোম্পানির লোকেদের বললাম না, বুঝলে? এরা অবাক হয়ে যাবে, বুঝবে না। এটা গোপনই থাক।

    আমরা ফিরে এলাম তাঁবুর কাছে। মেজকর্তা বললেন—আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে আসছে। কুলি পেলে একবার চেষ্টা করে দেখা যেত–

    মৃত্যুঞ্জয় বলল—সেটা বোধহয় উচিত হত না। যিনি বাতাস কমিয়েছেন তার কাছে অবাধ্যতা করা ভাল নয়। তাহলে আবার দুর্যোগ ঘনিয়ে আসবে, আমিও আর একই ব্যাপার নিয়ে দুবার বলতে পারব না—

    মেজকর্তা অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে বললেন—আরে! তুমি কি পাগল নাকি? ঝড়বাদল তুমি কমালে?

    —না, না! আমি কমাবো কেন? যে কমায় তাকে বললাম, সে যা করবার করল। নইলে আপনাদের খুব অসুবিধা হত।

    মেজকর্তার মুখে ব্যঙ্গ আর অবিশ্বাস মেশানো হাসি ফুটে উঠল।

    তাঁর দিকে তাকিয়ে মৃত্যুঞ্জয় বলল—আপনার বিশ্বাস জন্মানোর দায়িত্ব আমার ওপরে নয়, আর ভেলকি দেখানো তো একেবারেই নিম্নমার্গের ব্যাপার। কিন্তু আপনি কর্তার ক্ষমতায় সংশয় প্রকাশ করছেন, আমার একটা কিছু তো করা উচিত–

    মেজকর্তা বললেন–কর্তা কে?

    —আমিও ঠিক জানি না। দেখিনি তো কখনও। তবে কর্তাই সব। আচ্ছা, আপনি। একটা সিগারেট ধরান না কেন—

    —সিগারেট ধরাবো? কেন? হঠাৎ সিগারেট ধরাবো কেন?

    মৃত্যুঞ্জয় বলল—কোন কারণ নেই। আপনি চেষ্টা করলেও পারবেন না, তাই বলছি–

    —সে কী! সিগারেট ধরাতে পারবো না কেন?

    —দেখুন চেষ্টা করে।

    মেজকর্তা ধরেই নিয়েছেন তিনি পাগলের সঙ্গে কারবার করছেন। তার সঙ্গে কিছু কৌতূহলও এসে মিশেছে। পাগলকে খুশি রাখাই ভালো এই সাব্যস্ত করে তিনি পকেট থেকে সিগারেট আর দেশলাই বের করলেন। কিন্তু কিছুতেই ধরাতে পারলেন না।

    ঠোটের ফাঁকে সিগারেট নিয়ে যতবার দেশলাই জ্বাললেন ততবারই একটা দমকা হাওয়ার ঝাপটা এসে কাঠিটা নিভিয়ে দিল। দুবার…তিনবার..চারবার…প্রতিবারই কেবলমাত্র দেশলাই-এর কাঠি জ্বলবার মুহূর্তে বাতাসের ঝাপটা আসছে, পর মুহূর্তেই চারদিক আবার শান্ত হয়ে যাচ্ছে।

    মুখে বিস্ময় নিয়ে মেজকর্তা মৃত্যুঞ্জয়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তার মুখে আর অবিশ্বাসের চিহ্ন নেই।

    মৃত্যুঞ্জয় বলল—চমকাবেন না, এর মধ্যে যাদুর খেলা কিছুই নেই। কর্তার কাছে ঠিকমতো প্রার্থনা করতে পারলে এসব আপনা আপনিই হয়ে যায়।

    এবার আর মেজকর্তা জিজ্ঞাসা করলেন না—কর্তা কে?

    মৃত্যুঞ্জয় বলল—কাজে বাধা দিচ্ছি বলে আমাকে শত্রু ভাববেন না। এই যে আমার হাতের কাঠিটা দেখছেন, এটা হল ওই ওপরের বড়কর্তার সব কিছু মাপবার গজকাঠি। এ দিয়ে মাপলে যে কোন জায়গার ভালো-মন্দ দোষ-গুণ সব বলে দেওয়া যায়। তা আপনাদের কাজের জায়গা মাপতে গিয়ে দেখলাম মাপটা হারিয়ে যাচ্ছে। শুরু করছি এক। জায়গায়। কিন্তু কোথাও গিয়ে থামছে না। তাছাড়া এখানকার জমিও মানুষের কোলাহলকে বরদাস্ত করবে না।

    মেজকর্তা বললেন—সেটা তুমি কী করে বুঝলে?

    –বা রে, আমি মাটি শুকে দেখলাম যে! এ জায়গায় অতীতে কোন মানুষ কখনও বাস করেনি। ভবিষ্যতেও করবে না। মাটি খুঁকে ওসব বোঝা যায়–

    আমাদের খুব বেশি বোঝাবার দরকার ছিল না। ব্যাখ্যার অতীত ভয়ঙ্কর দুর্যোগ। আশ্চর্য স্বপ্ন দেখা, বনস্পতির অন্তর্ধান, বিশুয়ার জীবন থেকে কয়েক ঘণ্টা সময় হারিয়ে যাওয়া—এসব আমাদের মনের ওপর একটা কালো ছায়া বিস্তার করে রেখেই ছিল, তার ওপরে কুলিদের পলায়ন কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব করে তুললো। এসব আবছা কথা কোম্পানিকে যে রিপোর্ট দেওয়া হবে তাতে লেখা যায় না। কিন্তু পুরনো এবং পাকা। কর্মচারীরা রিপোর্ট লেখার নানারকম কায়দা জানেন। বাস্তব অসুবিধেগুলোকে তুলে ধরে মেজকর্তা রিপোর্ট লিখে কাজ বন্ধ করে দিতে পারবেন, কিন্তু তার মুখ দেখে বড় মায়া লাগলো। দক্ষ ও বুদ্ধিমান মানুষ দুর্বোধ্য, ব্যাখ্যাহীন প্রহেলিকার মুখোমুখি হলে তার মুখভারের কী করুণ আর বিপন্ন অবস্থা হয় তা দেখলাম। মেজকর্তা নিজের তাবুতে ঢুকে গেলেন। আমরা আবার হাঁটা শুরু করে ওপাশের জঙ্গলে গিয়ে পড়লাম।

    আমি জিজ্ঞাসা করলাম—মৃত্যুঞ্জয়, এত পাখি মারা পড়ছিল কেন বলতে পারো? সিমডেগাতে, আসবার পথে সাম পাহাড়টোলির কাছে–কী ব্যাপার বল তো? এর কি কোনো মানে আছে?

    মৃত্যুঞ্জয় আমার দিকে তাকালো, বলল—মানে তো আছেই। ঠিক সময় থেমে না গেলে পাসাং মারার অনুচরেরা সব একসঙ্গে বেরিয়ে আসতো, কেউ তাদের সামলাতে পারতো না। খামোখা কিছু নিরীহ মানুষের প্রাণ যেত। আমি কর্তার কাছে দরবার। করেছিলাম, আপনারাও কাজ বন্ধ করা ঠিক করলেন, তাই ব্যাপারটা মিটে গেল, পাখি মরাও বন্ধ হয়ে গেল। পাসাং মারার অনুচরেরা সব আবার ফিরে গেছে মাটির তলার অন্ধকারে। এখানে ওখানে মাটিতে গর্ত দেখলেই বুঝতে পারবেন।

    আমি বললাম—গর্ত? গর্ত কী রকম!

    —অশুভ শক্তির সাঙ্গো-পাঙ্গরা বাধা পেলে তাড়াতাড়ি অন্ধকার পাতালে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে। যেখান দিয়ে তারা মাটিতে ঢোকে সেখানে একটা করে সাপের গর্তের মত ছোট গর্ত তৈরি হয়। দেখলে অবিকল ছুঁচো বা সাপের গর্ত বলে ভুল হবে—

    সবই বুঝলাম, কিন্তু মৃত্যুঞ্জয় বিরাট ধাঁধা ধরিয়ে দিল। এরপর থেকে মাটিতে অত্যন্ত নিরীহ আর স্বাভাবিক গর্ত দেখলেও মনে হবে এইখান দিয়ে পাসাং মারার ছায়া-জগতের অনুচর মাটির তলায় প্রবেশ করেছে। বললাম—কিন্তু বিশুয়ার যে অনেকখানি সময় হারিয়ে গেল, তার কী হবে?

    মৃত্যুঞ্জয় বলল—সময় হারায় না, তার চলার একটা নিত্য ছন্দ আছে। বিশুয়ার ব্যক্তিগত সময়টা একটু ধীর করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে অন্য সবার সময় যতটা কেটেছে, বিশুয়ার ততটা কাটেনি। একে কালস্তম্ভন বলে। এমন করা যায়–

    —কিন্তু বিশুয়ার সময়ের গতি ধীর করে দিল কে?

    —আবার সেই একই বিপদে ফেললেন। এর সঠিক উত্তর আমি জানি না। হয়তো পাসাং মারা, হয়তো বা অন্য কোন শক্তি, যে শক্তি এখানে মানুষের অনুপ্রবেশ চায় না। এখানে যা যা ঘটেছে সবই মানুষকে ভয় দেখিয়ে নিরস্ত করবার জন্য।

    এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক কিছু বলবার ছিল। ফাদার ও ব্রায়েন বলেছিলেন, পাখিকে ক্রিশ্চান বিশ্বাস অনুযায়ী কোথাও কোথাও ঈশ্বরের দূত বলে মনে করা হয়। পাখির মড়ক কোনো অমঙ্গলের আগাম সূচনা দেয়। কিন্তু সুদূর ইউরোপের মাটিতে জন্মানো এক লোকায়ত বিশ্বাসের সঙ্গে এই বিহার আর উড়িষ্যার প্রান্তবর্তী অরণ্যের কি যোগাযোগ আছে? কিংবা হয়তো প্রকৃতির কোনো কোনো নিয়ম পৃথিবীর যে কোন প্রান্তেই এক। সে জন্যই তারানাথের মুখে শোনা রাম গাঙ্গুলীর গল্পের মত এখানেও বিশাল বৃদ্ধ নারিকেল গাছ হঠাৎ হাওয়ায় উবে যায়।

    মৃত্যুঞ্জয় তার হাতের ছড়িটা নিয়ে ফিরে যাচ্ছে তাবুর দিকে। মাঝে মাঝে থেমে গিয়ে। কাঠিটা দিয়ে মাটিতে কী মেপে দেখছে। তার অপস্রিয়মাণ চেহারার দিকে তাকিয়ে মনে হল এই বিশাল জগতের তুচ্ছাতিতুচ্ছ তৃণখণ্ড থেকে অনাদ্যন্ত মহাকাশে জ্বলন্ত নক্ষত্রের দল পর্যন্ত একটা অদৃশ্য, কিন্তু অত্যন্ত বাস্তব আত্মীয়তার সূত্রে গ্রথিত। প্রাত্যহিকতার। মায়ায় সত্যের এই অগ্নিময় জ্বলন্ত রূপ আমাদের চোখে পড়ে না। কলকাতা শহরের উপগলির এঁদো মেসের ঘর নয়, সমস্ত বিশ্বের বিচিত্র বিস্ময়পূর্ণ পরিধিই আমারও জীবনের পরিধি, জ্বলন্ত নক্ষত্ৰবেষ্টিত সত্যের অলাতচক্র। মৃত্যুঞ্জয় অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছে, এইবার সে ঝোপের ওধারে বাঁক ফিরবে। গলা একটু উঠিয়ে ডাকলাম—মৃত্যুঞ্জয়!

    সে ফিরে তাকালো। বলল—কী?

    বললাম—শুনে যাও! দরকার আছে।

    মৃত্যুঞ্জয় এসে সামনে দাঁড়ালো। বললাম—একটা কথা হঠাৎ মনে পড়ে গেল, তাই ডাকলাম।

    —কী?

    —সিমডেগা আসবার সময় রাউরকেল্লা এক্সপ্রেসে তুমি আমাদের সঙ্গে ছিলে, তাই? মাঝপথে হঠাৎ কোথায় উধাও হয়ে গিয়েছিলে? তোমার মুখ দেখতে পাইনি যদিও তবু আমি নিশ্চয় করে জানি সে অন্য কেউ নয়–

    মৃত্যুঞ্জয় চুপ করে রইল।

    মেঘ কেটে যাচ্ছে মাথার ওপরে। আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি সেখানে সামান্য এক ফালি মেঘভাঙা রোদুর এসে পড়ল। এই অদ্ভুত আলোটা আমাকে ছোটবেলা থেকে ভারি। মুগ্ধ করে, যেন কোন্ রূপকথার দেশের ছবি ভেসে ওঠে মনের মধ্যে। সে এমন এক জগৎ যেখানে সবই সম্ভব, যেখানে যুক্তি-তর্কের বিচারে সত্যের নির্ণয় হয় না। সেই আলোতে অদ্ভুত দেখাচ্ছে মৃত্যুঞ্জয়ের মুখ।

    আমার দিকে তাকিয়ে ছিল মৃত্যুঞ্জয়। এবার সে বলল–ঠিক ধরেছেন। জীবন আর জগৎ অনেক বড়, হিসেব কষে তার কূল খুঁজে পাবেন না। যুক্তি আর তর্ক তো সেই অনন্তকে মাপবার জন্য মানুষের একটা অসহায় প্রচেষ্টা। সত্যিকারের মাপকাঠি চাই–

    —সে মাপকাঠি কী করে পাওয়া যায়?

    –কারো কারো কাছে থাকে। যেমন এইটে–

    মৃত্যুঞ্জয় তার হাতের লাঠিটা দেখাল। এইরকম সরু লাঠি বা কঞ্চি দিয়েই সে মাঝে মাঝে মাপ-জোক করে অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলে বটে। যেমন করেছিল বাহিরগাছি গ্রামে সেই কবে। বললাম—এটা কি বিশেষ কোনো গাছের ডাল?

    মৃত্যুঞ্জয় হেসে বললনা না, তা কেন হবে! শাস্ত্রে ব্রহ্মস্ত্রের কথা পড়েছেন তো? ঐ নামে আসলে কোন অস্ত্র ছিল না। ব্রহ্মাস্ত্র একটা তেজ বা শক্তির নাম। উপযুক্ত লোক প্রয়োজন হলে এক টুকরো ঘাস তুলে নিয়ে মন্ত্র পড়ে তাতে ব্রহ্মাস্ত্রের অধিষ্ঠান ঘটাতেন। সেই তৃণখণ্ড শত্রুর দিকে ছুঁড়ে দিলে নিমেষে তা সবকিছু ছারখার করে দিত। এও তাই।

    আবছা আবছা কিছু বুঝলাম, অনেক কিছুই পরিষ্কার হল না। বললাম—তুমি কে

    মৃত্যুঞ্জয়?

    সে হেসে বলল—তা কি আমি নিজেই জানি? কী যেন একটা কাজ আছে আমার, সেটাই করে বেড়াই। কাজ হয়ে গেলে ফিরে যাবো।

    –কোথায় ফিরে যাবে?

    —বিশ্বাস করুন, তা আমি ঠিক করে জানি না। এই যে এত মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে পৃথিবীতে, এরা কি জানে কোথা থেকে এসেছে বা কোথায় ফিরে যাবে? আমিও তাদেরই মতো। আচ্ছা, একটু ওদিকে যাই।

    মুহূর্তে মুহূর্তে উন্নতি হচ্ছে আবহাওয়ার। এ যেন আরো বিস্ময়কর। মেঘ করে অন্ধকার ঘনিয়ে এসে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে দুর্যোগ শুরু হওয়াকে তবু কোনরকমে মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু সেই ঘনঘোর দুর্যোগ কাটবার যে স্বাভাবিক ছন্দ আছে তাকে অগ্রাহ্য করে এই অলৌকিক উন্নতি ভয় ধরিয়ে দেয়।

    তাঁবুতে ফিরে এলাম। মেজকর্তা একটা টেবিল টেনে বসে কী লিখে চলেছেন। পাশেই দুটো চেয়ারে অসিতবাবু আর নির্মলবাবু বসে। আমাকে দেখে অসিতবাবু বললেনওয়েদার কী দারুণভাবে ইম্প্রুভ করে গেল, না?

    লিখতে লিখতেই মেজকর্তা বললেন—তা করল বটে, কিন্তু এখানে আমরা কাজ করব না, বুঝলেন? তারই রিপোর্ট লিখছি।

    বললাম—সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন?

    —সিদ্ধান্ত নেবে কোম্পানি, আমি আমার মতামত জানাচ্ছি মাত্র। রিপোর্টে কী লেখা হচ্ছে জিজ্ঞাসা করতে খুব ইচ্ছে করছিল, কিন্তু আমি অধস্তন কর্মচারী, ওপরওয়ালার রিপোর্টের বিষয়বস্তু সম্বন্ধে প্রশ্ন করার অধিকার আমার নেই। মেজকর্তা কিন্তু নিজেই বললেন—এখানকার সব অভিজ্ঞতার কথা লেখা যাবে না, লিখলাম এখানে জলের অসুবিধা, নদী আর ঝরনা প্রায়ই শুকিয়ে যায়, কাজের জন্য কুলি পাওয়া কঠিন—কথায় কথায় তারা কাজ ছেড়ে চলে যায়। ওইসঙ্গে জায়গাটার ভূপ্রকৃতির অসুবিধার কথা কিছু নির্মলবাবু ঢুকিয়ে দেবেন, যাতে রিপোর্ট বেশ মজবুত হয়। মোট কথা কাজ এখানে করা যাবে না।

    সার্ভেয়ার সাহেব কী বলতে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ তাঁবুর ঠিক বাইরে দ্রুত ধাবমান পায়ের শব্দ শোনা গেল। পরমুহূর্তেই বিশুয়া আর ডহরু লোহার একসঙ্গে তাঁবুতে ঢুকে হাঁপাতে লাগল। তাদের চোখমুখ রীতিমত উত্তেজিত দেখাচ্ছে।

    মেজকর্তা বললেন কী হয়েছে? এত দৌড়োদৌড়ি কীসের?

    বিশুয়া বলল—জিপ স্টার্ট নিয়ে নিয়েছে!

    ডহরু বলল—বড় পাথরটা আবার আগের জায়গায় ফিরে এসেছে।

    দুটোই জবর খবর। মেজকর্তা দাঁড়িয়ে উঠে বললেন— জিপ স্টার্ট নিয়েছে সেটা খুব ভাল খবর, কিন্তু তাতে আমি অবাক হচ্ছি না। যন্ত্রপাতি মাঝে মধ্যে এরকম অদ্ভুত আচরণ করে থাকে। তবে পাথরটা ফিরে এসে থাকলে—আচ্ছা, চল, দেখি গিয়ে ব্যাপারটা–

    জলধর পণ্ডাও খবর পেয়ে আমাদের সঙ্গে এসে জুটল। আমরা দল বেঁধে চললাম পাথর দেখতে।

    সত্যিই অবাক কাণ্ড। মাটির ওপরে যে ঘসটানো দাগ তৈরি করে সরে গিয়েছিল পাথরটা, আবার সেই দাগ বরাবর আগের জায়গায় ফিরে এসেছে!

    বিপুলকায় জগদ্দল পাথর। কে এমন অনায়াসে খেলা করছে এটাকে নিয়ে?

    মেজকর্তা বললেন কী জলধর, তুমি তো অভিজ্ঞ লোক, তোমার কী মনে হয়?

    জলধর হাতজোড় করে বলল—আমার কিছু মনে হয় না কর্তা। কর্তা, চলুন আজই। আমরা এখান থেকে চলে যাই। ডহরু ঠাণ্ডা মাথার লোক, তারও অবস্থা দেখুন–

    সত্যিই, বিপদে অবিচল ডহরু লোহারেরও মুখ শুকিয়ে গিয়েছে।

    নির্মলবাবু বললেন—আজ বিকেলের মধ্যে তুমি রওনা হতে পারবে?

    —নিশ্চয় পারব কর্তা। সিমডেগা যাবার সময় প্রায় সবকিছুই গুছিয়ে রেখে গিয়েছিলাম। এ ক-টা তবু ভাঙতে আর কতটুকু সময় লাগবে?

    তাই ঠিক হল শেষ পর্যন্ত। নিজেদের জিনিসপত্র গুছিয়ে নিতে আমাদের বেশিক্ষণ লাগল না। সব ঠিকঠাক করে আমরা খেতে বসলাম, খেয়ে উঠে পনেরো মিনিট বিশ্রাম করে রওনা দেওয়া যাবে।

    খেতে খেতে মেজকর্তা বললেন—এই পাহাড়-জঙ্গলের মধ্যেই অন্য কোথাও আবার আমাদের জায়গা খুঁজে নিতে হবে কারখানার জন্য। অসুবিধার জন্য জায়গা বদলাচ্ছি। কাজ বন্ধ করছি না–

    হঠাৎ তিনি থেমে গিয়ে বললেন সেই লোকটা কোথায় গেল? মৃত্যুঞ্জয়? সে খেতে বসল না আমাদের সঙ্গে?

    আমরা পরস্পরের মুখের দিকে তাকাতে লাগলাম। সত্যিই তো! কোথায় গেল মৃত্যুঞ্জয়? তাকে তো দেখছি না।

    অসিতবাবু বললেন-বোধহয় সে আলাদা খেতে বসেছে ডহরুদের সঙ্গে। যাবে আর কোথায়–

    কিন্তু ডহরু তখনও খেতে বসেনি, জলধর আর বিশুয়াদের খেতে দিয়ে সে পরিবেশন করছিল। ডিমের ঝোল দেওয়ার জন্য আমাদের কাছে আসতেই মেজকর্তা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন—ডহরু, মৃত্যুঞ্জয়কে খেতে দিয়েছ তো? ঐ যে, ঐ নতুন লোকটা–

    —না বাবু। সে তত খেতে বসেনি। বনের মধ্যে বেড়াচ্ছে হয়তো। এরা উঠুক, সে ফিরে এলে আমি তার সঙ্গে বসবো।

    , কিন্তু মৃত্যুঞ্জয় আর ফিরে এল না। সে যেন বাতাসে মিলিয়ে গিয়েছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করা হল, অনেক দেরি হয়ে গেল আমাদের রওনা দিতে, কিন্তু মৃত্যুঞ্জয়কে পাওয়া গেল না। যেমন রহস্যময় তার আবির্ভাব, তেমনই রহস্যময় তার অন্তর্ধান।

    সিমডেগার দিকে যখন আমাদের লরি আর জীপ ছাড়ল, বনের ফাঁকে ফাঁকে তখন ঝিকিমিকি বেলা। যেন কার নির্দেশে আকাশ থেকে দুর্যোগের শেষ চিহ্নটুকুও মুছে গিয়ে বেশ ঝকঝকে নীল বেরিয়ে গিয়েছে। ভিজে মাটি এরই মধ্যে শুকিয়ে উঠেছে অনেকখানি। যে কোন জায়গায় কিছুদিন বসবাস করলে, এমন কি সেখানে অনেক দুঃখজনক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে থাকলেও, সে জায়গাটা ছেড়ে চলে আসবার সময় মন কেমন করে। জিপ ছেড়ে দেওয়ার পর পেছন ফিরে শেষবার তাকিয়ে দেখলাম আমাদের কদিনের অস্থায়ী ঘর-গেরস্থালি।

    জয় দেবতা পাসাং মারা! তুমি থাকো, আমরা চললাম।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleতারানাথ তান্ত্রিক – তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article রম্যরচনা ৩৬৫ – তারাপদ রায়

    Related Articles

    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়

    তারানাথ তান্ত্রিক – তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 22, 2025
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়

    কাজল – তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 22, 2025
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়

    তৃতীয় পুরুষ – তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }