Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অশুভ সংকেত – কাজী মাহবুব হোসেন

    কাজী মাহবুব হোসেন এক পাতা গল্প211 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অশুভ সংকেত – ৩

    তিন

    হেবার জেনিংস—কুম্ভরাশির লোক। ইউরেনাস যখন চাঁদের সাথে মিলিত হয়ে উঠতির দিকে, ঠিক সেই সময়েই ওরা হেবারের ওপর প্রভাব ফেলেছে। নোংরা থাকার জন্যে যেমন কারও কারও নাম আছে, কিন্তু হেবার ওদের সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। সাংবাদিক জগতে ওকে সহ্য করা হয় কেবল ওর নিষ্ঠা আর কষ্ট সহিষ্ণুতার জন্যে। ইঁদুর ধরার জন্যে বিড়াল ধৈর্য ধরে বসে থাকে, হেবারও তেমনি ঘাপটি মেরে বসে থাকে দিনের পর দিন বিশেষ কোন ছবি তোলার জন্যে। তার ছবির ধারাই অন্য রকম, যেমন: ইউক্যালিপটাস গাছের ওপর চড়ে শক্তিশালী টেলি-লেন্স দিয়ে তোলা মারসেলো ম্যাসট্রোয়ানির টয়লেটে বসে থাকার ছবি; কুইন মাদারের পায়ের কড়া তোলানোর ছবি; বা জ্যাকুলিনের নিজের ইয়টের রেলিং ধরে বমি করার ছবি। এগুলোই তার রত্ন ভাণ্ডার। কেমন করে যেন টের পায় ছবির জন্যে কখন কোথায় অপেক্ষা করতে হবে। চেলসিতে একটা এক কামরার ফ্ল্যাটে সে থাকে—পকেট প্রায় সব সময়েই থাকে গড়ের মাঠ ছবি নিয়ে গবেষণা আর চিন্তা-ভাবনা করা তার একটা নেশা।

    ইদানীং লণ্ডনের অ্যামবাসেডরকে সে টার্গেট করেছে। রবার্ট থর্ন যে তার নিষ্কলুষ মহাপুরুষের খোলসের নিচে আর পাঁচজনের মত সাধারণ রক্তমাংসের মানুষ ছাড়া আর কিছুই নয়, এটা তার প্রমাণ করাই চাই। তার ধারণা উপর থেকে জল যতই পরিষ্কার দেখাক না কেন ঠিক জায়গায় খুঁজলে তার তলায় পাক পাওয়া যাবেই। সে কি গোপনে অশ্লীল ম্যাগাজিন কেনে? অথবা তার কি অবৈধ সম্পর্ক আছে কোন নারীর সাথে? নাকি লোকটা মদ খেয়ে বৌ পেটায়, বা আর কিছু? এসব প্রশ্ন আনাগোনা করে হেবারের মনে। কোনদিনই হয়ত সে জবাব পাবে না এসব প্রশ্নের, কিন্তু আশা ছাড়েনি সে। লেগে থাকতে পারলে একটা না একটা কিছু সে বের করতে পারবে বলেই তার ধারণা।

    আজকে হেবার যাচ্ছে পেরিফোর্ডে থর্নের প্রাসাদে। সেখানে অনেক গণ্যমান্য লোকের সমাবেশ হবে। কিন্তু ওদের ছবি তোলার উদ্দেশ্যে নিয়ে ওখানে যাচ্ছে না সে। তার আসল উদ্দেশ্য পরিবেশটার সাথে ভাল করে পরিচিত হয়ে নেয়া। কোন্ জানালার দিকে নজর রাখা দরকার, কোন্ কাজের লোককে টাকার লোভ দেখিয়ে কেনা যাবে, ইত্যাদি খোঁজখবর নিতে হবে তাকে।

    সকালে উঠেই সে তার ক্যামেরাগুলো চেক করে নিল, টিসু কাগজ দিয়ে লেন্স পরিষ্কার করে ফেলল। তারপর একটা ফোঁড়া টিপে গলিয়ে ওই কাগজ দিয়ে পুঁজ মুছল। আটত্রিশ বছর বয়স হয়েছে তার কিন্তু এখনও নোংরা থাকার দরুন খুজলি—পাঁচড়া তার লেগেই আছে। এই কারণেই হয়ত সে ক্যামেরার পিছনে মুখ ঢেকে ঘুরে বেড়াবার পেশাটা বেছে নিয়েছে। মাঝারি ধরনের গড়ন হলেও তার পেশিতে কোন ভাঁজ নেই। বাইরে থেকে যেটুকু ভাঁজ দেখা যাচ্ছে সেটা কাপড়ের ভাঁজ বিছানার পায়ের দিকে স্তূপ করে রাখা দলা পাকানো জামা-কাপড় থেকে বেছে পরেছে বলে!

    ঘর থেকে বেরুবার আগে টেবিলের ওপর ছড়ানো অগোছাল কাগজগুলোর ভিতর থেকে এমবস করে ছাপানো নিমন্ত্রণের চিঠিটা খুঁজে বের করে সাথে নিল সে। ওটা ডেমিয়েনের চতুর্থ জন্মদিনের দাওয়াত।

    বাসে বসে দুপাশে সুন্দর উপভোগ্য গ্রাম্য দৃশ্য দেখতে পাচ্ছে সে। একটা গাঁজা ভরা সিগারেটে দম দিয়ে মাথার জট ছাড়িয়ে হালকা করে নিল হেবার। অল্পক্ষণ পরই সে দেখতে পেল রাস্তাটাই ছুটতে আরম্ভ করেছে, আর বাসটা দাঁড়িয়ে আছে।

    থর্ন এলাকার এক মাইল আগে থেকেই পুলিশকে যাত্রীদের পরিচয় দেখে নিয়ে যানবাহনগুলোকে নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে পার্ক করার নিদের্শ দিতে দেখা গেল। বোকার মত বাইরে দিকে চেয়ে বসে রইল হেবার। পুলিশ ওর পরিচয় পত্র দুবার করে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিল ওটা জাল নয়। গার্ড আর পুলিশদের এই অপমানজনক আচরণ, তার গাঁ-সওয়া হয়ে গেছে। একটু পরিপাটি জামা কাপড় পরলেই তার এই অনাদর আর হজম করতে হয় না—কিন্তু এটা তার অস্ত্র। নোংরা আর অগোছাল থাকলে সহজে কেউ ওকে চিনতে বা মনে রাখতে চায় না, তাই সে-ও নিরিবিলি অলক্ষ্যে থেকে অন্য সবাইকে লক্ষ্য করার সুযোগ পায়।

    শেষ পর্যন্ত বিশাল কাঁচা লোহার গেট দিয়ে পথ দেখিয়ে ভিতরে নিয়ে যাওয়া হল ওকে। ঘন ঘন কয়েকবার চোখ মিটমিট করে গাঁজার নেশাটা কাটিয়ে নেয়ার চেষ্টা করল হেবার। সামনেই দেখল বিরাট এলাকা জুড়ে আনন্দ মেলা বসেছে। মাঠে রঙ আর প্রাণচাঞ্চল্যের সাড়া। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তাঁবুগুলোর আশেপাশে ছুটোছুটি করছে, ইতস্তত ফেরিওয়ালারা বুড়ির চুল, সিরায় ডুবানো আপেল আর মিষ্টি খাবার ফেরি করছে। কিন্তু ওদের গলার স্বর ছাপিয়ে শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন চরকা আর মেরি-গো-রাউণ্ডের অরগ্যান আর ব্যাণ্ডের বাজনা। বাজনার তালে তালে চরকায় হাঁস আর গোলাপী ঘোড়ায় চড়ে বাচ্চারা উপরে নিচে ওঠানামা করতে করতে মহা আনন্দে ঘুরছে। হাত দেখে ভাগ্য গণনার তাঁবুও পড়েছে একটা–লণ্ডনের অনেক মহারথীকেই ওটার সামনে ভিড় করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। কয়েকটা ট্রেনিং পাওয়া টাট্টু ঘোড়া ছাড়া হয়েছে মাঠে। এমন কি একটা ছোট্ট হাতিকেও দেখা যাচ্ছে রঙের বড় ফোঁটায় সজ্জিত হয়ে বাচ্চাদের হাত থেকে চিনাবাদাম নিয়ে খাচ্ছে আর ছেলেমেয়েরা ভয় খুশি মেশানো কণ্ঠে উত্তেজিত ভাবে চিৎকার করছে। চারদিকে ফাটোগ্রাফারদের দেখা যাচ্ছে একটার পর একটা ছবি তুলে যাচ্ছে ব্যস্তভাবে, কিন্তু হেবারের কাছে এগুলো তুলে রাখার মত কোন ছবিই নয়।

    ‘ব্যাপার কি, বন্ধু? ফিল্ম শেষ হয়ে গেছে?’

    হেরল্ড নিউজের হোবি তাড়াহুড়ো করে তার ক্যামেরায় আর একটা ফিল্ম ভরছে হট-ডগ স্টলের টেবিলটার পাশে দাঁড়িয়ে। হেবার ধীর পায়ে এগিয়ে কিছু খাবার তুলে নিল টেবিলের ওপর থেকে

    ‘বারুদে আগুন লাগার অপেক্ষায় আছি,’ বিরক্তিভরে জবাব দিল হেবার। ‘বুঝলাম না। অর্থাৎ?’

    ‘ব্যাপার দেখে মনে হচ্ছে বাচ্চাটা রবার্ট থর্নের বিশাল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী নয়, স্বয়ং যীশু!’

    ‘তোমার ভালর জন্যেই বলছি এমন সুযোগ হেলায় হারিও না, এরকম সমাবেশ রোজ রোজ হয় না।’

    ‘কি দরকার? প্রয়োজন হলে তোমার কাছ থেকেই ছবি কিনে নিতে পারব আমি।’

    ‘সবার থেকে আলাদা কিছু তুলবে তুমি, এই তো?

    ‘ঠিক ধরেছ।’

    ‘তোমার জন্যে শুভেচ্ছা রইল! জেনে রাখ মোনাকোর এধারে এমন সম্ভ্রান্ত পরিবার খুব কমই আছে।’ ফ্লিম ভরা শেষ করে ব্যস্ত ভাবে এগিয়ে গেল হোবি।

    স্কুপ—হ্যাঁ, এটাই হেবারের স্বপ্ন। সাধারণ ছবিগুলোর দাম আছে বটে, কিন্তু অমূল্য ছবির জন্যে তাকে ঢুকতে হবে অন্দরে—একেবারে মূলে। তেমন ছবি হলেই সে পাবে সত্যিকার মর্যাদা আর সম্মান।

    ‘ন্যানি,···এই যে ন্যানি,’ দূর থেকে হোবির গলার স্বর শোনা গেল। এই দিকে চাও।’ ভিতর থেকে ট্রলির ওপর বসানো বিরাট বার্থ ডে কেকটা ঠেলে নিয়ে আসছে চেসা। সবার দৃষ্টি আকৃষ্ট হল ওদিকে।

    ডেমিয়েনের ন্যানি চেসা সঙের পোশাক পরেছে। পাউডার দিয়ে মুখ সাদা করে জমকাল আর চটকদার রঙ মেখেছে। ফটোগ্রাফাররা তার চারপাশে ভিড় করে ছবি তুলছে। ছবি তোলা বেজায় পছন্দ চেসার বোঝাই যায়। ছবির জন্যে বিভিন্ন পোজ দিচ্ছে সে ডেমিয়েনকে সাথে নিয়ে। জড়িয়ে ধরে চুমো খাবার সময়ে তার মেকআপ যে বাচ্চাটার গালে মুখে লেগে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সেদিকে খেয়াল নেই ওর। কেকের ওপর চারটে রঙিন মোমবাতি জ্বলছে। কেউ একজন সন্দেহ প্রকাশ করল ডেমিয়েন এক ফুঁ দিয়ে সবকটা মোমবাতি নেভাতে পারবে কিনা (বার্থ ডে-তে সেটা নিয়ম। যত বয়স ততগুলো জ্বলন্ত মোমবাতি থাকবে, আর যার জন্মদিন তাকে এক দমে ফুঁ দিয়ে সব কয়টা নেভাতে হবে)। হেবারের চোখ ঘুরছে সবার ওপর। অল্প দূরেই দাঁড়িয়ে আছে অ্যামব্যাসেডরের স্ত্রী, লক্ষ্য করল হেবার। একটা অসমর্থনের ভাব ফুটে উঠছে তার মুখে। এক মুহূর্তের জন্যে তার মুখোশের অন্তরাল থেকে বেরিয়ে এসেছিল সে—ক্ষিপ্র হাতে হেবার একটা ছবি তুলে নিল পরক্ষণেই মধ্যমণি হয়ে উঠল ক্যাথি, তার চেহারা থেকে অসন্তুষ্টির ভাব মিলিয়ে গেল। ধীর পায়ে সামনে এগিয়ে এল সে।

    ‘হাত দেখাতে নিয়ে চল ওকে,’ কেউ একজন বলে উঠল। ‘আমরা জানতে চাই বড় হলে ও কি হবে।’ জটলাটা ন্যানি আর তার পরাণের ধন ডেমিয়েন সহ ভাগ্য গণনার তাঁবুর দিকে এগিয়ে চলল।

    তাড়াতাড়ি এগিয়ে এল ক্যাথি। ‘আমি নিচ্ছি ওকে,’ ওকে কোলে নেয়ার জন্যে হাত বাড়াল সে।

    ‘আপনার কষ্ট করতে হবে না, ম্যাডাম—আমিই নিচ্ছি ওকে,’ সপ্রতিভ ভাবেই প্রস্তাব দিল চেসা।

    ‘না, আমিই নেব,’ বলে হাসল ক্যাথি।

    মুহূর্তের জন্যে ওদের চোখাচোখি হল। অত্যন্ত ভালবাসে ন্যানি ডেমিয়েনকে কিন্তু ক্যাথি প্রায় ছিনিয়ে নিল তাকে চেসার কাছ থেকে। ভিড় করে লোকজন এগিয়ে গেল। কেউ লক্ষ্য করল না ব্যাপারটা, তবে হেবারের চোখ ভিউ ফাইণ্ডারে ছিল, সে ঠিকই দেখল। সবাই এগিয়ে গেল; ন্যানি একা দাঁড়িয়ে রইল নিজের জায়গায়। ক্লাউনের সাজ তাকেই ব্যঙ্গ করছে এখন, তার এই পরিত্যক্ত রিক্ত অবস্থায় ঝটপট দুটো ছবি তুলে নিল হেবার। ধীর পায়ে তরুণী ফিরে গেল ঘরের দিকে।

    ভাগ্য গণনার তাঁবুর সামনে এসে সবাইকে বাইরে দাঁড়াতে বলে ক্যাথি ঢুকল ভিতরে। ভিড় ছেড়ে তাঁবুর স্বল্প অন্ধকার পরিবেশে এসে হাঁফ ছাড়ল ক্যাথি

    ‘এই যে, খোকা বাবু!

    কালো ঘোমটা পরা একটা মেয়ে একটু গলা কাঁপিয়ে কথা কয়টা বলল। ডাইনী বুড়ির অনুকরণে কথা বলছে মেয়েটা। ওর দিকে একবার চেয়েই ভয়ে শক্ত করে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরল ডেমিয়েন। ‘ভয় নেই ডেমিয়েন,’ হেসে বলল ক্যাথি। ‘এটা ভাল ডাইনী—তাই না?’ প্রশ্ন করল ক্যাথি।

    ‘অবশ্যই,’ বলে উঠল মহিলা। ‘তোমার কোন ক্ষতি করব না আমি।’

    ‘তোমার ভাগ্যে কি আছে তা বলে দেবে ও,’ অভয় দিল ক্যাথি।

    ‘কই, হাতটা বাড়িয়ে দাও দেখি?’

    কিন্তু ডেমিয়েন কোন কথাই মানতে রাজি না, সে তার মায়ের গলা শক্ত করে ধরেই থাকল। মহিলা তার রবারের মুখোশ খুলে ফেলল। মুখোশের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল একজন হাস্যোজ্জ্বল তরুণীর মুখ।

    ‘এই যে দেখ–আমি আসলে একজন মানুষই। তোমার কোনই ক্ষতি করব না আমি।’

    এবার আশ্বস্ত হয়ে ডেমিয়েন হাত বাড়িয়ে দিল। সবুজ টেবিলটার এ পাশে ডেমিয়েনকে নিয়ে বসল ক্যাথি।

    ‘ওহ্, কি সুন্দর নরম একটা হাত। বোঝাই যাচ্ছে চমৎকার ভবিষ্যৎ আছে তোমার।’ কিন্তু হাতের দিকে চেয়ে স্তম্ভিত হয়ে বসে রইল সে কিছুক্ষণ। তারপর বলল, ‘দেখি অন্য হাত?

    অন্য হাত বাড়িয়ে দিল ডেমিয়েন। হাত দুটোর দিকে বোকার মত ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল মেয়েটা।

    কি হল? এমন করছ কেন?’ প্রশ্ন করল ক্যাথি।

    ‘আমার জীবনে আমি হাজারও হাত দেখেছি, কিন্তু এমন হাত কখনও জামার চোখে পড়েনি।’

    ‘কেন? ওর হাতে কি আছে?’

    ‘দেখুন, এই হাতে ব্যক্তিত্বের কোন রেখা নেই। কেবল আছে কয়েকটা ভাঁজ।’

    ‘কী?’ ক্যাথিও চেয়ে দেখল। ‘আমার কাছে তো অস্বাভাবিক কিছু মনে হচ্ছে না?’

    ‘ও কি কোনদিন আগুনে পুড়েছিল?’

    ‘অবশ্যই না!’ একটু রোষের সাথেই জবাব দিল ক্যাথি।

    ‘নিজের হাতটা একবার দেখুন।…এই যে দাগগুলো একজনের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে। বিভিন্ন মানুষের হাতে বিভিন্ন দাগ থাকে।’

    নিজের হাতের দিকে চেয়ে দেখল ক্যাথি। ডেমিয়েন নিজেও তার হাত খুঁটিয়ে দেখছে—বুঝতে পারছে না তার দোষটা কোথায়। অস্বস্তিকর নীরবতায় কাটল মিনিট খানেক।

    ‘দেখুন ওর আঙুলের ডগাগুলো কেমন মসৃণ। মনে হয় না ওর হাতের টিপ নিলে কোন ছাপ পড়বে।

    ভাল করে পরীক্ষা করে দেখে ক্যাথি বুঝল মেয়েটা মিথ্যে বলেনি।

    ‘যা হোক, এই ছেলে যদি ব্যাঙ্ক লুটও করে কেউ কোনদিন ওকে ধরতে পারবে না।’ হাল্কা রসিকতা করে পরিবেশটাকে সহজ করতে চেষ্টা করে হেসে উঠল মেয়েটা।

    ‘তুমি কি ওর ভাগ্য বলতে পারবে?’ ছোট্ট হাত দুটোর দিকে চেয়ে একটু বিব্রতভাবে জানতে চাইল ক্যাথি।

    ‘অবশ্যই,’ জবাব দিল মেয়েটা।

    ‘তাহলে বল। সে জন্যেই এসেছি আমরা।

    বাচ্চার হাতটা আবার নিজের দিকে টেনে নিল মেয়েটা। কিন্তু ঠিক এই সময়ে বাইরের থেকে একটা চিৎকারের শব্দে বাধা পেল ও। ডেমিয়েনের ন্যানী চেসার গলা। দূর থেকে চিৎকার করছে সে।

    ‘ডেমিয়েন, ডেমিয়েন!’ চিৎকার করছে চেসা। ‘বেরিয়ে এসো। তোমাকে একটা মজার খেলা দেখাব।’

    ভবিষ্যদ্বাণী করতে গিয়েও থমকে গেল মেয়েটা। ক্যাথির মত সে-ও টের পেয়েছে ওই ডাকের মাঝে আছে অলক্ষুণে কিছুর আভাস।

    ‘ডেমিয়েন, বেরিয়ে এসো,’ আবার চিৎকার করল চেসা। ‘দেখ তোমার জন্যে কি মজার একটা খেলা দেখাই আমি।

    ডেমিয়েনকে কোলে নিয়ে তাঁবু থেকে বেরিয়ে এল ক্যাথি। বাইরে বেরিয়েই বাড়ির দিকে নজর গেল ওর। বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে আছে চেসা, হাতে মোটা এক গোছা দড়ি। দড়িটা উপর দিয়ে টেনে দেখাল সে, দড়ির ফাঁস তার নিজের গলায়। নিচে লোকজন জড়ো হয়ে সবাই অবাক হয়ে চেয়ে দেখছে উপর দিকে। সঙের জামা পরা মেয়েটা ছাদের ধারের দিকে এগিয়ে এল, হাত দুটো সামনের দিকে তুলে ধরেছে, যেন পানিতে ডাইভ দেবে এমন ভঙ্গি।

    ‘চেয়ে দেখ ডেমিয়েন,’ চিৎকার করে বলল সে। ‘এই সবই তোমার জন্যে!’ হঠাৎ সবাইকে বিস্মিত করে দিয়ে ঝাঁপ দিল সে। দেহটা নিচে নামতে নামতে দড়ির টানে প্রচণ্ড এক ঝাঁকি খেয়ে থেমে গেল মাঝপথে। মাথাটা একপাশে হেলে গেল। নীরবে শূন্যে ঝুলতে থাকল তার অসাড় দেহটা।

    বাড়ির সামনে সবাই বজ্রাহতের মত চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। মেরি-গো—রাউণ্ডের বাজনার তালে তালে দেহটা মৃদু মৃদু দুলছে। নারী কণ্ঠে চড়া সুরে আর্তনাদ করে উঠল কেউ। ক্যাথির স্বর—কয়েকজনে মিলে অনেক কষ্টে তাকে চুপ করিয়ে ঘরের ভিতর নিয়ে গেল।

    .

    নিজের ঘরে একা বসে ডেমিয়েন চেয়ে রয়েছে বাইরের দিকে। সবাই চেয়ে দেখছে পুলিশ কিভাবে সিঁড়ি লাগিয়ে দড়ি কেটে দেহটা নিচে নামায়। লোকটার হাত ফস্কে দেহটা নিচে পড়ে গেল, মাথাটা জোরে ঠুকে গেল পাকা জায়গাটার ওপর। নিথর দেহটা দেখা যাচ্ছে, খোলা চোখে আকাশের দিকে চেয়ে আছে। রঙ মাখ মুখটা দেখে মনে হয় যেন হাসছে।

    .

    চেসার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আগের কয়দিন আকাশ থমথমে থাকল। মাঝে মাঝে দূর থেকে বজের ক্রুদ্ধ গর্জন শোনা গেল। বেশিরভাগ সময়ই ক্যাথি কাটাল তাদের অন্ধকারে ঘেরা বৈঠকখানায়। চোখে শূন্য দৃষ্টি। অনুসন্ধানে জানা গেছে প্রচুর পরিমাণে অ্যালার্জির ওষুধ বেনাড্রিল খেয়েছিল মেয়েটা। কেন যে মেয়েটা আত্মহত্যা করতে গেল এমনভাবে তা কিছুই বোঝা গেল না। রিপোর্টারদের হাত থেকে বাঁচার জন্যে নিজেদের যতটা সম্ভব গুটিয়ে নিয়েছে ওরা দুজনেই। রবার্ট অফিসে যায়নি আর এর মধ্যে সে ভয় পাচ্ছে তার স্ত্রী হয়ত ঘটনার পরে অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়বে।

    ‘ঘটনাটা নিয়ে খুব বেশি ভাবছ তুমি,’ সন্ধ্যায় বৈঠকখানায় ঢুকে বলল রবার্ট। ‘এমন তো নয় যে সে আমাদের আপন কেউ ছিল?’

    ‘তা-ই ছিল,’ শান্ত কণ্ঠে জবাব দিল ক্যাথি। ‘সারা জীবনই আমাদের সাথে থাকবে বলেছিল ও আমাকে।’

    জবাব না দিয়ে কেবল নীরবে মাথা নাড়ল রবার্ট।

    হয়ত সে তার মত পাল্টে ছিল?’ রূঢ় হতে চায়নি রবার্ট, কিন্তু তার কথাগুলো ছুরির মতই বিঁধল ক্যাথির বুকে। মুখ তুলে রবার্টের দিকে চাইল সে। ‘মাফ কর,’ বলে উঠল সে আবার। ‘তোমাকে এই অবস্থায় দেখে আমার বড় কষ্ট হচ্ছে, ক্যাথি।’

    ‘আমার দোষেই এটা ঘটেছে, রবার্ট।’

    ‘তোমার দোষ?’ অবাক হয়ে প্রশ্ন করল রবার্ট

    হ্যাঁ, পার্টিতেই ঘটেছিল এটা।’ শুনতে শুনতে রবার্ট এগিয়ে এল ক্যাথির দিকে—তার চোখে ফুটে উঠেছে এর জন্যে দুঃখ আর উদ্বেগ। ‘সবাই ওকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিল, হিংসায় মরে যাচ্ছিলাম। নিজে মধ্যমণি হবার জন্যে ওর কাছ থেকে ডেমিয়েনকে কেড়ে নিয়েছিলাম আমি।

    ‘নিজের প্রতি অবিচার করছ তুমি, মেয়েটার মাথায় একটু দোষ ছিল।’

    ‘আমারই কি নেই?’ ফিসফিস করে বলল ক্যাথি। নইলে সবার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে আমি এমন উদগ্রীব হব কেন?’ এইটুকু বলে নীরব হয়ে গেল ক্যাথি। আর বলার কিছু নেই তার। রবার্টের হাতের ওপর মাথা রেখে চোখ বুজে পড়ে রইল সে। অল্পক্ষণ পরেই ঘুমিয়ে পড়ল ক্যাথি। আগে যখন লিব্রিয়ান খেত সে তখন ঠিক এইভাবে ঘুমাত, লক্ষ্য করল রবার্ট। চেসার মৃত্যু কি তাকে আবার সেই পর্যায়ে নিয়ে গেল? প্রায় আধঘন্টা ওই ভাবেই বসে থেকে ক্যাথিকে কোলে তুলে বিছানায় নিয়ে গেল সে।

    *

    পরদিন ক্যাথি ডেমিয়েনকে নিয়ে চেসার ফিউনারেলে গেল। শহরের বাইরে একটা ছোট্ট কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অত্যন্ত অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে সমাধা হল সব কাজ। মেয়েটির গুটিকয়েক আত্মীয়স্বজনই কেবল এসেছে। রবার্ট আসতে রাজি হয়নি। ক্যাথিকেও আসতে মানা করেছিল সে। কিন্তু ক্যাথি শোনেনি। মেয়েটাকে সত্যিই ভালবাসত সে, তাই না এসে পারেনি।

    গোরস্থানের বাইরে কয়েকজন রিপোর্টার উঁকি-ঝুঁকি মারছে। শেষ মুহূর্তে এমব্যাসি থেকে দুজন মেরিনকে পাঠিয়ে দিয়েছে রবার্ট। ওরাই গেটে থেকে রিপোর্টারদের ঠেকাচ্ছে, ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। কালো একটা বর্ষাতি গায়ে দিয়ে হেবারও এসেছে। দূরে গাছের ফাঁকে সে তেপায়ার ওপর খুব শক্তিশালী লেন্সের একটা ক্যামেরা বসিয়ে তৈরি হয়ে আছে। লেন্সের ভিতর দিয়ে সব খুঁটিয়ে লক্ষ্য করছে সে, একে একে সবার মুখ দেখল সে, আত্মীয়েরা সবাই কাঁদছে, ক্যাথি শোকে মুহ্যমান, পাশেই দাঁড়িয়ে ডেমিয়েন অস্থিরভাবে এদিক ওদিক চাইছে। ওর চোখ বিরাট মাঠের ওপরই ঘোরাফেরা করছে বেশি।

    হেবারের নজর ডেমিয়েনের দিকে। ঠিক সময় মত শাটার টেপার জন্যে প্রস্তুত হয়ে রয়েছে সে। হঠাৎ ডেমিয়েনের চোখেমুখে ভয়ের চিহ্ন ফুটে উঠেই আবার মিলিয়ে গেল। একদৃষ্টে সে চেয়ে রয়েছে গোরস্থানের একটা বিশেষ কিছুর দিকে। ওই ঠাণ্ডা আর বৃষ্টির মধ্যেও ওর মুখের ভাব প্রশান্তিতে ভরে উঠেছে, যেন কেউ এই ঠাণ্ডার ভিতরেও তার দেহে তাপ জোগাচ্ছে। ওর দৃষ্টিপথ লক্ষ্য করে ক্যামেরা ঘুরিয়ে সেদিকে খুঁজে দেখল হেবার, কিন্তু পাথরের স্মৃতি-ফলক ছাড়া আর কিছুই নজরে পড়ল না তার। কি যেন একটু নড়ে উঠল—কালো ঝাপসা একটা বস্তু। লেন্স ঘুরিয়ে ফোকাস করতেই পরিষ্কার হয়ে গেল সব। একটা জন্তু—কুকুর। মুখটা ছুঁচোল, চোখ দুটো খুব কাছাকাছি বসানো। নিচের চোয়ালটা খোলা, ঝুলে রয়েছে, ভিতরের সাদা এক সারি তীক্ষ্ণ দাঁত দেখা যাচ্ছে। সবার অলক্ষ্যে স্থির হয়ে বসে জন্তুটা একাগ্রদৃষ্টিতে সামনের দিকে চেয়ে রয়েছে। ক্যামেরায় রঙিন ছবি না ভরার জন্যে নিজের ওপর রাগ হল হেবারের। ওর হলুদ চোখ দুটো সাদা কালো ছবিতে ঠিক ধরা পড়বে না। ছবি তুলে নিল সে। ক্যামেরা ঘুরিয়ে বাচ্চারও কয়েকটা ছবি তুলল হেবার।

    সকালটা সার্থক হয়েছে আজ। তল্পিতল্পা গুটিয়ে নিল হেবার সন্তুষ্ট মনে। তবু কেমন যেন একটা অস্বস্তি খচখচ করছে তার মনে। ঘাড় ঘুরিয়ে যেখানে কফিনটা কবরে নামানো হচ্ছে সেদিকে চাইল সে। ডেমিয়েন আর সেই কুকুরটাকে অনেক ছোট দেখাচ্ছে দূর থেকে কিন্তু ওদের মধ্যে যে একটা নীরব যোগাযোগ আছে তা স্পষ্ট অনুভব করা যায়।

    পরদিন আবার নতুন উদ্যমে বৃষ্টি নামল। এই বৃষ্টি মাথয় করেই পৌঁছল মিসেস বেল্‌ক। মহিলা আইরিস, বিশাল দেহ তার। থর্নদের গেটে পৌঁছেই নিজেকে নতুন ন্যানি বলে পরিচয় দিল। দারোয়ান তাকে অপেক্ষা করতে বলে নিয়ম মত ভিতরে খবর পাঠাতে চেয়েছিল-কিন্তু তেমন পাত্রীই নয় মিসেস বেল্‌ক, ঠেলে সোজা ভিতরে ঢুকে এল সে। তার ব্যবহারে কোন জড়তা নেই। তার চালচলনই এমন যে তার আশেপাশের লোকজনের ওপর আধিপত্য আর প্রভাব বিস্তার করে ফেলে।

    ‘জানি শক্ত সময় গেছে আপনাদের,’ বারান্দায় উঠে ওভার কোট খুলতে খুলতে বলল মিসেস বেল্‌ল্ক। ‘তাই ও নিয়ে আলোচনা করে আপনাদের মনের ভার বাড়াতে চাই না আমি। কিন্তু একটা কথা না বলেও পারছি না, অমন হাড্ডিসার তরুণী ন্যানি রাখলে বিপদ ঘটতে বাধ্য।’

    তার চলাফেরায় চারপাশে একেবারে বাতাস উঠে যায়। রবার্ট আর ক্যাথি দুজনেই হতভম্ব হয়ে গেছে মিসেস বেলুকের নিশ্চিন্ত নিশ্চিত হাবভাবে।

    ‘ভাল ন্যানি চেনার সবচেয়ে ভাল উপায় কি জানেন?’ হাসিমুখে বলে চলল বেল্‌ল্ক, ‘বুকের মাপ! কবুতরের মত বুকওয়ালা মেয়েরা আজ আসে কাল যায়। একটু ঝুলে পড়া আমার মত ভারি বুকের মেয়েরাই শেষ পর্যন্ত টেকে। হাইড পার্কে একটু ঘুরে দেখলেই বুঝবেন আমার কথাটা কত সত্যি।’

    নিজের সুটকেসটা হাতে তুলে নেয়ার জন্যে একটু থামল বেল্‌ক

    ভাল কথা, ছেলেটা কোথায়?’

    ‘আমি দেখিয়ে দিচ্ছি,’ সিঁড়ির দিকে ইঙ্গিত করে বলল ক্যাথি।

    আপনার আসার দরকার নেই, আমি নিজেই ওকে খুঁজে পরিচয়ের পালাটা সেরে নেব।’

    নতুন লোকজনের সাথে সহজে মিশতে পারে না ডেমিয়েন–ও একটু লাজুক প্রকৃতির।’

    কিচ্ছু ভাববেন না আপনি—আমি ঠিকই ওর সাথে ভাব করে নেব।’

    ‘আমার মনে হয়…’

    ভুল ধারণা, এক্ষুনি প্রমাণ করে দিচ্ছি।’

    কথা শেষ হওয়ার আগেই তরতর করে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে আরম্ভ করে দিয়েছে বেল্‌ক। তার বিশাল দেহ চোখের আড়ালে চলে গেল। নীরবে চোখাচোখি করল থর্ন দম্পতি। একটু অনিশ্চিত ভাবে সম্মতিসূচক ভঙ্গি করল রবার্ট।

    ‘মেয়েটাকে বেশ পছন্দ হয়েছে আমার,’ বলল ক্যাথি।

    আমারও। কোথায় পেলে ওকে?’

    ‘আমি? আমি তো ঠিক করিনি ওকে?’ অবাক হয়ে বলে উঠল ক্যাথি। ‘আমি তো ভাবছিলাম তুমিই জোগাড় করেছ।’

    বিভ্রান্তির মাঝে একটু চুপ করে থেকে রবার্ট উপর দিকে চেয়ে ডাকল, ‘মিসেস বেল্‌ক?’

    তেতলার সিঁড়ির প্রায় মাথায় পৌঁছে গেছে সে ততক্ষণে। ঝুঁকে পড়ে গলা বাড়িয়ে জবাব দিল সে, ‘বলুন?’

    মানে…আমরা ঠিক বুঝতে পারছি না তুমি এখানে কিভাবে…।’

    ‘কেন? ট্যাক্সিতে করে! ওকে আমি বিদায় করে দিয়েছি গেট থেকে।’

    ‘না, সে কথা বলছি না— আসলে, তোমাকে আমাদের এখানে কে পাঠাল।’

    ‘এজেন্সি।’

    ‘এজেন্সি?’

    ‘হ্যাঁ, ওরা কাগজে দেখেছে আপনার ন্যানির মৃত্যুর খবর, তাই তারা আমাকে বদলি হিসেবে পাঠিয়েছে।’

    যুক্তিটা একটু আষাঢ়ে গল্পের মত শোনালেও লণ্ডনের চাকরির বাজারে যে—রকম প্রতিযোগিতা তাতে এটা অসম্ভব কিছু নয়।

    ‘খুব যত্নবান বলতে হবে!’ মন্তব্য করল রবার্ট।

    ‘আমরা ফোন করে নিশ্চিত জেনে নেয়ায় আপত্তি নেই তো তোমার?’ জিজ্ঞেস করল ক্যাথি।

    ‘কোন আপত্তি নেই, এখনই ফোন করে জেনে নিন,’ জবাব দিল মেয়েটা। ‘আমি না হয় ততক্ষণ বৃষ্টির মধ্যে বাইরেই অপেক্ষা করি?’

    ‘না, না…’ ব্যস্ত হয়ে বলে উঠল রবার্ট।

    আমাকে দেখে কি বিদেশী গুপ্তচরের মত মনে হচ্ছে আপনাদের?

    ‘না, তা মনে হয়নি,’ হেসে ফেলল রবার্ট।

    ‘কিছুই বলা যায় না,’ বলল মোটা মেয়েটা। ‘হয়ত আমার গার্ডলে টেপ রেকর্ডার ফিট করা আছে। একজন সুন্দর তরুণ মেরিনকে পাঠিয়ে দিন ওপরে ভাল করে চেক করে দেখবে?’

    সবাই হেসে উঠল। মিসেস বেলুকের হাসির আওয়াজই সবচেয়ে বেশি শোনা গেল।

    ‘ঠিক আছে তুমি যাও,’ বলল রবার্ট, ‘আমরা পরে একসময় ফোন করে জেনে নেব।’ টেলিফোন নাম্বার জানাল মিসেস বেল্‌ক সহজ ভঙ্গিতে।

    ড্রইং রূমে চলে এল রবার্ট আর ক্যাথি। ফোনে ক্যাথি খোঁজ নিল মিসেস বেল্‌কের পেশাগত যোগ্যতা সম্পর্কে। ট্রেনিং আর অভিজ্ঞতা দুই-ই আছে তার। এজেন্সি থেকে ওরা উচ্চ প্রশংসা করল। কেবল একটা ব্যাপার ঠিক পরিষ্কার হল না, তা হচ্ছে ফাইল অনুযায়ী মিসেস বেল্‌কের রোমে থাকার কথা। তবে এমন হতে পারে যে কিছু তথ্য বাদ পড়ে গেছে, ফাইলে তোলা হয়নি। ফোন রেখে দিয়ে রবার্টের দিকে চাইল সে তারপর দুজনেই কাঁধ ঝাঁকিয়ে খুশিমনে ভাগ্যকে মেনে নিল। দেখতে একটু বেঢপ হলেও প্রাণবন্ত আর হাসিখুশি আছে মহিলা।

    উপরে, হাসি মিলিয়ে গেছে মিসেস বেলুকের মুখ থেকে। জলে ভরা ঝাপসা চোখে চেয়ে আছে সে জানালার ধারে বিছানায় ঘুমন্ত ডেমিয়েনের দিকে। বোঝাই যাচ্ছে জানালার ধারে থুতনি রেখে বৃষ্টি দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে ছেলেটা। সামনে দাঁড়িয়ে বেলকের থুতনি থরথর করে কেঁপে কেঁপে উঠছে। মন্ত্রমুগ্ধ আর অভিভূত সে। ঘুম ভেঙে ধীরে ধীরে চোখ মেলে চাইল ডেমিয়েন তার ন্যানির দিকে। আড়ষ্ট হয়ে জানালায় পিঠ ঠেকিয়ে সোজা হয়ে বসল সে।

    ‘ভয় নেই, ছোট-বন্ধু,’ ফিসফিস করে কাঁপা গলায় বলল বেল্‌ক। ‘আমি তোমাকে রক্ষা করার জন্যেই হাজির হয়েছি।’

    বাইরে কড় কড় কড়াৎ শব্দে বজ্রপাত হল। দুই সপ্তাহ অনবরত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅশুভ সংকেতের পর – কাজী মাহবুব হোসেন
    Next Article ক্যাপ্টেন ব্লাড – রাফায়েল সাবাতিনি

    Related Articles

    কাজী মাহবুব হোসেন

    অশুভ সংকেতের পর – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    কাজী মাহবুব হোসেন

    শেষ অশুভ সংকেত – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    কাজী মাহবুব হোসেন

    খুনে মার্শাল – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    কাজী মাহবুব হোসেন

    নিঃসঙ্গ অশ্বারোহী – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    কাজী মাহবুব হোসেন

    ক্ষ্যাপা তিনজন – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }