Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অশুভ সংকেত – কাজী মাহবুব হোসেন

    কাজী মাহবুব হোসেন এক পাতা গল্প211 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অশুভ সংকেত – ৮

    আট

    এডগারডো ট্যাসোনের জন্যে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটা ঠিক নরক বাসেরই সামিল। এই কারণেই সে এবং আরও অনেকে রোমের কভেনে যোগ দিয়েছিল। জন্মগত ভাবে সে পর্তুগীজ। তার বাবা ছিল জেলে। নিউফাউণ্ডল্যাণ্ডের সমুদ্রে কড়মাছ ধরতে গিয়ে মারা যায় তার বাবা। মাছের আঁশটে গন্ধই ট্যাসোনের একমাত্র শৈশব স্মৃতি। তার মায়ের শরীরেও মাছের গন্ধ ঠিক শাড়ির মতই জড়িয়ে থাকত। মায়ের মৃত্যুর কারণও ছিল মাছই। শক্তিতে কুলোয় না বলে আর কাঠের জোগাড় করতে পারত না সে–কাঁচা মাছই খেত। কাঁচা মাছের দেহে বাস করা জীবাণুর আক্রমণে মারা যায় সে। আট বছর বয়সেই এতিম অবস্থায় তাকে একটা ধর্মীয় মঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে নির্মম ভাবে মারধর করে পাপ স্বীকার করানোর পরে পরিত্রাণ দেয়া হয়। মাত্র দশ বছর বয়সে প্রভু যীশু যেন তার মনে দাগ কাটে সে ব্যবস্থা নেয়া হয়-তাতে তার পিঠের দাগগুলোও কিছু কম গভীর হয়নি।

    ধর্মভয়টা ট্যাসোনের ভিতর পিটিয়ে ঢুকানো হলেও সে গির্জার কাজেই নিজেকে নিয়োজিত করল। পরবর্তী আট বছর দিনরাত বাইবেল পড়ে মুখস্থ করে ফেলল সে। পড়াশোনা করে ঈশ্বরের কৃপা আর কোপ সম্পর্কে অনেক কিছুই শিখল ও, তারপর পঁচিশ বছর বয়সে পৃথিবীর মানুষকে নরকের আগুন থেকে রক্ষা করার ব্রত নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। ধর্মযাজক হয়ে ঈশ্বরের বাণী প্রচার আরম্ভ করল সে স্পেন আর মরক্কোতে। মরক্কো থেকে আফ্রিকার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে গেল। সেখানে অনেককেই সে ধর্মে দীক্ষিত করল। নিজে যেভাবে শিখেছিল, এদেরও সে একই পদ্ধতিতে শিক্ষা দিল। আফ্রিকান দীক্ষিত কিশোরদের মধ্যে একজন তার খুব অনুগত আর ভক্ত হয়ে উঠেছিল। অবৈধ একটা সম্পর্কও গড়ে উঠেছিল ওদের মধ্যে। ছেলেটার নাম টোবু, কিকুয় উপজাতীয়। ঘটনা জানাজানি হয়ে যাবার পর টোবুকে ধরে ঘটা করে তার দেহের প্রতিটি ইঞ্চি ছুরি দিয়ে ফালাফালা করে চেরা হয়, তারপর তার নিজের অণ্ডকোষ কেটে বের করে জোর করে তাকে খাওয়ানো হয়েছিল। ট্যাসোনকেও হন্যে হয়ে ওরা খুঁজেছিল কিন্তু সোমালিয়ায় পালিয়ে যেতে পেরেছিল সে। সোমালিয়ায় বসেই সে খবর পেয়েছিল তাকে না পেয়ে কিকুয়ুরা তার বদলে একজন ফ্রান্সিসকান ধর্মপ্রচারককে ধরে জীবন্ত অবস্থাতেই তার দেহের ছাল ছিলে নিয়ে না মরা পর্যন্ত মরুভূমির মধ্যে হাঁটতে বাধ্য করেছিল।

    সোমালিয়া থেকে ট্যাসোন জিবৌটি, এডেন, জাকার্তা হয়ে পালায়। ঈশ্বরের কোপদৃষ্টি পড়েছে তার ওপর এটা সে বেশ অনুভব করতে পারে। সে যেখানেই যায় আশেপাশে সব কিছু ছারখার হয়ে যায়—লোকজন মারা পড়ে। তার সব—সময়েই ভয়, এরপরেই বুঝি তার পালা। বাইবেল থেকেই সে জানে একবার ঈশ্বরের বিরাগভাজন হলে কারও রক্ষা থাকে না। আতঙ্কিত অবস্থায় এখানে ওখানে পালিয়ে বেড়াতে থাকে ট্যাসোন একটু আশ্বাস, একটু আশ্রয়ের আশায় নাইরোবিতে সে সৌম্যমূর্তি ফাদার স্পিল্লেট্রোর দেখা পেয়ে তার কাছেই নিজের সব পাপের কথা স্বীকার করল ফাদার স্পিল্লেট্টো তাকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রোমে নিয়ে এল। রোমেই শয়তানের শিষ্যত্বে দীক্ষা দেয়া হয় ট্যাসোনকে। ওই আস্তানায় কেবল মাত্র শয়তানের আর ভোগের পূজা করা হয়। এখানকার বেশির ভাগ লোকই খেটে খাওয়া মজুর শ্রেণীর মানুষ। কিন্তু কিছু পেশাদারি আর সমাজের শীর্ষস্থানীয় লোকজনও আছে এতে। বাইরে এরা সম্মানীয় ভাবে জীবন যাপ করে—কিন্তু ভিতরে ভিতরে এই আস্তানার সবারই একটা উদ্দেশ্য, সেটা হচ্ছে স সময়ে সব জায়গায় বিরোধ আর হানাহানি লাগিয়ে বেড়ানো। তাদের প্রভু শয়তানের আবির্ভাব না হওয়া পর্যন্ত এইভাবেই তারা চালিয়ে যাবে। দরকার মত ছোট ছোট দল পাঠানো হয় এখান থেকে বিভিন্ন দেশে গোলমাল পাকাবার জন্যে। এখান থেকেই লোক পাঠিয়ে আয়ারল্যাণ্ডে রোমান ক্যাথলিক আর প্রোটেস্ট্যান্টদের মধ্যে ধর্মীয় বিরোধ জিইয়ে রাখা হয়েছে। দুজন আইরিশ নান, এই আস্তানায় ওরা বা ‘আলক আর বা’আলাম বলে পরিচিত, এরা দুজনই আয়ারল্যাণ্ডে বোমাবাজির কাজে নিয়োজিত ছিল। বা’আলাম মার্কেট প্লেসে বোমা মারতে গিয়ে নিজেও মারা পড়ে। তার দেহ পাওয়া যায় ধ্বংসস্তূপের নিচে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায়। রোমে নিয়ে এসে তার দেহের অবিশিষ্টাংশ প্রাচীন এট্টুসকান কবরখানার পবিত্র ভূমিতে সমাহিত করা হয়। এর বর্তমান নাম এখন গ্রিপ ডি সান্ট অ্যাঞ্জেলো’। জায়গাটা রোমের উপকণ্ঠে অবস্থিত। বা’আলামের গুরুর প্রতি নিষ্ঠার জন্যে শ্রাইন অভ টেকুলকার নিচে তাকে কবর দেয়া হয়। এট্টুসকান পিশাচ দেবতার নিজস্ব এলাকা ওটা। প্রায় পাঁচ হাজার পিশাচ সাধক এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিল। ট্যাসোনের মনে খুব নাড়া দিয়েছিল এসব আনুষ্ঠানিকতা। এরপর থেকেই সে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্যে উঠে পড়ে লেগে যায়।

    ১৯৬৮ সালে আর একজন পাদরীর সাথে তাকে পাঠানো হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। এখানে তার কাজ ছিল কমিউনিস্ট ক্যামবোডিয়া থেকে একটা ভাড়াটে খুনীর দল নিয়ে ভিয়েতনামে ঢুকে সেখানকার যুদ্ধ-বিরতি চুক্তি বানচাল করা। ট্যাসোনের প্রবেশ করার কয়েকদিনের মধ্যেই উত্তর-দক্ষিণকে, আর দক্ষিণ—উত্তরকে দোষারোপ করতে আরম্ভ করল শান্তি ভঙ্গের দায়ে। এই ঘটনার পরপরই উত্তর ভিয়েতনামের লি ডক থো শান্তি চুক্তিতে তাঁর অবদানের জন্যে তাঁকে যে নোবেল প্রাইজ দেয়া হয়েছিল তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন প্রকৃত অর্থে শান্তি কোনদিনই আসেনি। তবে ওই পুরস্কার হেনরি কিসিঞ্জার ঠিকই গ্রহণ করেন। তাঁর নিজের ব্যর্থতার প্রতি অন্ধ অবজ্ঞা মুক্তি আর গণতন্ত্রকে আরও দূরে ঠেলে দিতে সাহায্য করল। সফল হল ট্যাসোনদের উদ্দেশ্যই।

    অনেক আনন্দ করা হল আস্তানায়। ট্যাসোন দেখল সে এরই মধ্যে লীডার হয়ে উঠেছে। আফ্রিকায় গোলমাল আর অসন্তোষ বেশ পাকিয়ে উঠেছে, ট্যাসোনের ওই দেশ সম্বন্ধে অনেক কিছু জানা আছে বলে তাকেই সেখানে পাঠাল স্পিল্লেট্টো। ট্যাসোনের সাহায্যে আন্দোলনের মাধ্যমে পাগলা ইদি আমিন ক্ষমতায় এল। এক বছর সে ইদি আমিনের সাথেই থাকল। সাদা বলে তাকে আমিন খুব একটা বিশ্বাস করত না, তবু নানান ফন্দি করে পরিস্থিতি বেশ খানিকটা ঘোলা করে দিয়ে ফিরে এল ট্যাসোন!

    এসব সফল কাজের ফলেই পৃথিবী জোড়া সব শয়তানের উপাসক রোমকেই তাদের হেড অফিস বলে স্বীকার করে নিল। চারদিক থেকে টাকা-পয়সা আসতে আরম্ভ করল। রোম—ক্যাথলিক বিশ্বাসের গোড়া; রোম—পশ্চিমী কমিউনিজমের কেন্দ্র; আর রোমই শয়তানের শিষ্যদের পীঠস্থান। উত্তেজনাপূর্ণ একটা পরিস্থিতি।

    এই রকম সময়েই, যখন পৃথিবী জোড়া আন্দোলন, যুদ্ধ আর গোলমাল চলছে, যখন পাপী বিধর্মীর দল অত্যন্ত শক্তিশালী, ঠিক তখনই বাইবেলের বক্তব্য অনুযায়ী পৃথিবীর ইতিহাস হঠাৎ বদলে যাবে। এই সময়েই পৃথিবী সৃষ্টির প্রথম থেকে আজ পর্যন্ত তৃতীয় বারের মত ধুরন্ধর শয়তানের আবির্ভাব হবে। এর আগে দুবার সে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ধর্মপ্রাণ সতর্ক মানুষেরা ঠিকই খুঁজে বের করে তাকে হত্যা করে তার অপচেষ্টা বানচাল করে দেয়। কিন্তু এবারে বিফল হবে না সে সময়টাও উপযুক্ত, আর তাছাড়া ভাল করে আঁট-ঘাট বেঁধেই নামবে সে এবার।

    সঙ্গত কারণেই ফাদার স্পিল্লেট্টো তার বিশাল যুগান্তকারী দুরভিসন্ধিকে কার্যকর করার জন্যে ট্যাসোনকে তিনজনের একজন হিসাবে বেছে নিয়েছিল। অত্যন্ত ভক্তি আর নিষ্ঠার সাথে লোকটা আজ পর্যন্ত তার সব আদেশ পালন করে এসেছে। আদেশ পালনের খাতিরে নিরপরাধ লোককে খুন করতেও তার হৃদয় বিন্দুমাত্র বিচলিত হয়নি।

    একটা পরিবার নির্বাচন আর বাচ্চা বদলের ভার নিয়েছিল স্পিল্লেট্টো নিজে সিস্টার মারিয়া টিরেসার (বা’আলকের সেই সময়ে ব্যবহৃত নাম) ওপর গর্ভধারণ করিয়ে বাচ্চার জন্ম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করানোর ভার পড়েছিল। আর ট্যাসোনের ওপর ভার পড়েছিল সব প্রমাণ নষ্ট করে দেহগুলোকে কবর দেয়ার।

    পুরো উদ্যমে কাজে নেমেছিল ট্যাসোন। তার বয়স যে বাড়ছে এটা সে বেশ উপলব্ধি করতে পারে আজকাল। হয়ত এটাই তার শেষ সুযোগ, ভাল কাজ দেখাতে পারলে সে স্মরণীয় আর শ্রদ্ধেয় হয়ে থাকবে চিরদিনের পাপী জগতে। একদিনের সেই অবহেলিত এতিম ট্যাসোন আজ নির্বাচিতদের একজন! শয়তান স্বয়ং হয়েছে তার বন্ধু—দোসর। কিন্তু পরের দিকে কেমন যেন দুর্বল হয়ে পড়তে লাগল সে। পিঠের দাগগুলোতে অসহ্য ব্যথা হয় রাতে। সরারাত ঘুম হয় না—আর যেদিন ঘুম হয় দুঃস্বপ্ন দেখে সে।

    স্বপ্নে প্রায়ই সে দেখে সেই কিকুয়ু ছেলে টোর করুণ মিনতি জানাচ্ছে তাকে—তার সাহায্য চাইছে ছেলেটা। আরও দেখে চামড়া ছাড়া একটা লোক। চামড়া ছিলে ফেলা মুখে বসানো দুটো ভাসাভাসা চোখ। মরুভূমিতে হাঁটতে হাঁটতে লোকটা ঠোঁট বিহীন মুখের গর্ত দিয়ে চিৎকার করে তাকে দয়া করতে বলছে। আরও দেখে সে শৈশবের দৃশ্য-বীচে সে বসে রয়েছে তার বাবার ফিরে আসার অপেক্ষায়। আর তার মা’কে দেখে মরণাপন্ন অবস্থায় বিছানায় শুয়ে ক্ষমা চাইছে এভাবে এত ছোট বয়সে ট্যাসোনকে একা ফেলে তার মরে যেতে হচ্ছে বলে। সেই রাতে জেগে উঠে দু’হাতে মুখ ঢেকে অনেকক্ষণ কাঁদল সে। ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা চাইল বারবার। আবার যখন ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ল তখন স্বপ্নে দেখল যীশু তার খাটের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। ট্যাসোনের পাশে হাঁটু গেড়ে বসে তিনি তাকে অভয় বাণী শোনালেন। বললেন এখনও সময় আছে। সে যদি সত্যিই অনুতপ্ত হয়, তবে স্বর্গের দরজা তার জন্যে খোলাই থাকবে।

    স্বপ্নগুলো ভীষণ ভাবে নাড়া দিল ট্যাসোনকে। কিছু একটা আন্দাজ করে স্পিল্লেট্টো সরাসরি তাকে নিজের অফিসে ডেকে পাঠাল। ট্যাসোন জানে সে ভালমতই জড়িয়ে গেছে এর সাথে—এখন সরে দাঁড়াতে চাইলে তার জীবন বিপন্ন হবে। তাই সে আশ্বাস দিল কাজ ঠিক মতই সম্পন্ন করবে সে। তবে তার অসুবিধা যা সেটা হচ্ছে তার শারীরিক যন্ত্রণা। পিঠে ব্যথার কথা উল্লেখ করল সে। ট্যাসোনকে একগাদা খাবার বড়ি দিল স্পিল্লেট্টো। এরপর থেকে ওষুধ খেয়ে ঝিম মেরে থাকত বলে কোনরকম দুঃস্বপ্নই আর তাকে বিব্রত করেনি।

    অবশেষে এল জুনের সেই রাত। ৬-৬-৬, অর্থাৎ জুন মাসের ছয় তারিখে সকাল ছয়টা। ঘটনাগুলো ট্যাসোনের জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মনে থাকবে। প্রসব বেদনায় মা-টা ককিয়ে উঠছে বারবার। মিস্টার মারিয়া টিরেসা তাকে ঈথার প্রয়োগ করে চুপ করাল। জরায়ু ছিঁড়ে বেরিয়ে এল তার বিরাট আকৃতির সন্তান। স্পিল্লেট্রোর দেয়া পাথরটা নিয়ে কাজ শেষ করল ট্যাসোন। পাথর দিয়ে জন্তুর মাথাটা সে ছেঁচে ছাতু করে দিল। মানুষের সন্তান নিয়ে যা করতে হবে এতে তার একটু মহড়াও হয়ে গেল। কিন্তু যখন নবজাত শিশুটাকে তার কাছে নিয়ে আসা হল, ইতস্তত করতে লাল সে—অপূর্ব সুন্দর দেখতে বাচ্চাটা। পাশাপাশি শোয়া দুটো বাচ্চার দিকে চাইল সে। একটা রক্ত মাথা, মাথায় অস্বাভাবিক রকম ঘন চুল; অন্যটা কোমল, শুভ্র, সুন্দর—পরিপূর্ণ বিশ্বাসে নীল চোখে তারই দিকে চেয়ে রয়েছে বাচ্চাটা। কি করতে হবে জানাই ছিল তার, তাই করল সে। কিন্তু ভাল মত শেষ করতে পারেনি, তাই কাজটা আবার করতে হল তাকে। কাঠের বাক্সটা খুলে থর্নের ছেলের মাথায় আবার আঘাত করার সময় ফুঁপিয়ে উঠল সে। মুহূর্তের আবেগে তার একবার ইচ্ছা হয়েছিল বাচ্চাকে কোলে তুলে নিয়ে ছুটে অনেক দূরে নিরাপদ কোন জায়গায় পালিয়ে যায়, কিন্তু দেখল ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে। এখন আর বাচ্চাটার সুস্থ হবার কোন আশাই নেই—হাতের পাথরটা এল সজোরে নেমে বাচ্চার মাথার ওপর আবার, আবারও। নিথর হয়ে গেল শিশু 1

    ট্যাসোনের গাল বেয়ে যে জলের ধারা নেমেছিল তা রাতের আঁধারে কারও চোখে পড়েনি। সেই রাতের পর থেকে আস্তানার কেউ আর ট্যাসোনকে দেখেনি সকালেই পালিয়ে যায় সে রোম ছেড়ে। চার বৎসর এভাবে কাটে ওর। বেলজিয়ামে সে একটা ওষুধের দোকানে কাজ নেয়। তার পিঠের ব্যথার জন্যে তো বটেই, সে কি করে এসেছে সেটা ভোলার জন্যে তার ড্রাগের প্রয়োজন ছিল। একাই বাস করত সে, কারও সাথে কোন কথা বলত না। শেষে পিঠের ব্যথা এমন পর্যায়ে চলে গেল যে বাধ্য হয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হল। হাসপাতাল থেকে ওরা জানাল সাংঘাতিক ধরনের টিউমার হয়েছে তার। ওষুধে সারবে না, আর অপারেশনও করা যাবে না কারণ একেবারে মেরুদণ্ডের ওপরই হয়েছে টিউমারটা।

    মরণ ঘনিয়ে এসেছে ট্যাসোনের। অনুতাপ আর অনুশোচনায় ভরে উঠল তার মন। প্রভু ক্ষমাশীল। সে ঠিক করল সে যে ক্ষমার যোগ্য এটা প্রমাণ করার জন্যে যা করেছে তার প্রতিকার করার আপ্রাণ চেষ্টা করবে। সক্ষম হলে হয়ত প্রভুর ক্ষমা পাবে সে।

    তার যেটুকু শক্তি অবশিষ্ট আছে সব একত্রিত করে সে ইসরাইলের পথে রওনা হল। বুগেনহাগেনকে তার খুঁজে বের করতেই হবে। সৃষ্টির প্রথম থেকেই একটা সম্পর্ক আছে শয়তানের সাথে ওই নামের। এই বুগেনহাগেন পরিবারেরই একজন ১০৯২ খ্রিস্টাব্দে শয়তানের প্রথম সন্তানকে খুঁজে পেয়ে হত্যা করেছিল। আবারও ১৭১০ খ্রিস্টাব্দে একজন বুগেনহাগেনই দ্বিতীয় বারের মত শয়তানের সন্তানকে খুঁজে পেয়ে তাকে অলৌকিক শক্তির সাহায্যে ধ্বংস করে। এই বংশের সবাই ধর্মপ্রাণ আর অলৌকিক শক্তির অধিকারী। শয়তান যেন পৃথিবীর বুকে বিচরণ করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখা এই পরিবারের একটা নৈতিক দায়িত্বের মত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    বুগেনহাগেনের শেষ বংশধরকে খুঁজে বের করতে সাত মাস সময় লেগে গেল ট্যাসোনের। মাটির তলায় এক দুর্গের মত আস্তানায় অজ্ঞাতবাসে দিন কাটাচ্ছে সে। ওখানে ট্যাসোনের মত সে-ও মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন গুনছে। বার্ধক্যের জরা আর নিজের বিফলতা তাকে জর্জরিত করছে মানসিক দিক থেকে। সে জানে সময় ঘনিয়ে এসেছে কিন্তু শয়তানের পুত্রকে সে বাধা দিতে অক্ষম।

    পুরো ছয়ঘন্টা সময় কাটাল সে বুগেনহাগেনের সাথে, সব কথাই তাকে খুলে বলল ট্যাসোন। সে নিজে এতে কি অংশ নিয়েছিল সে কথাও বাদ দিল না। সব শুনে হতাশায় মাথা নিচু করে বসে রইল বুড়ো বুগেনহাগেন। ট্যাসোন বারবার তাকে অনুরোধ করতে লাগল একটা কিছু করার জন্যে। কিন্তু বুগেনহাগেন জানাল তার পক্ষে এই দুর্গ ছেড়ে বাইরে কোথাও যাওয়া অসম্ভব। ছেলেটার সাথে সরাসরি যোগাযোগ আছে এমন কাউকে তার কাছে নিয়ে আসতে পারলে তবেই সে সাহায্য করতে পারবে।

    নিজের দিন ঘনিয়ে আসছে বুঝতে পেরে ট্যাসোন সোজা লণ্ডনে চলে আসে। ইচ্ছা, যদি কোনভাবে রবার্ট থর্নের সাথে দেখা করে তাকে বুঝিয়ে ইসরাইলে নিয়ে যাওয়া যায়। ট্যাসোন অহরহ প্রার্থনা করে ঈশ্বরের কাছে যেন তিনি তার প্রতি একটু কৃপা দৃষ্টি রাখেন। অবশ্য সে এটাও জানে যে শয়তানের নজর পুরোপুরিই আছে তার ওপর। তাই থর্নকে খুঁজে বের করে তার কাজ শেষ করতে না পারা পর্যন্ত নিজেকে জীবিত রাখার জন্যে সব রকম সাবধানতা সে অবলম্বন করেছে। কাজ শেষ করতে পারার আগেই যদি সে শয়তানের হাতে মারা পড়ে তবে তার আর স্বর্গে যাবার কোন সম্ভাবনা থাকরে না।

    সোহোতে তার ভাড়া করা ফ্ল্যাটটাকে একেবারে গির্জার মতই পবিত্ৰ দুৰ্গ বানিয়ে ফেলেছে ট্যাসোন। আত্মরক্ষার জন্যে ব্যবহার করেছে সে বাইবেলের বাণী। দেয়ালের প্রতিটি ইঞ্চি, এমন কি দরজা জানালা পর্যন্ত সব সে সম্পূর্ণ মুড়ে দিয়েছে বাইবেলের পাতা দিয়ে। পুরোটা ঢাকতে সত্তরটা বাইবেল দরকার হয়েছে তার। সারা ঘরে অসংখ্য ক্রস ঝুলিয়েছে নানান অ্যাঙ্গেলে। তার নিজের গলায় ঝুলানো ক্রসে বসানো আয়নার টুকরোগুলো যতক্ষণ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে, মাত্র ততক্ষণই সে সাহস করে বাইরে থাকে।

    রবার্টের সাথে প্রথম সাক্ষাতে বিফল হয়ে হন্যে হয়ে সে সবখানেই তার পিছু নেয়া আরম্ভ করেছে—যদি কোনমতে একটু কথা বলার সুযোগ মিলে যায় এই আশায়। সেদিন চেলসীতে অপেক্ষাকৃত গরীব বাসিন্দাদের জন্যে নতুন বাড়ি-ঘর তৈরি করার একটা প্রকল্পের উদ্বোধন শেষ করে সাধারণ মানুষের মন জয় করার জন্যে তারের বেড়ার কাছে এগিয়ে এসে রবার্ট সবার সাথে হাত মেলাচ্ছে। অনেক লোক দাঁড়িয়ে আছে তারের বেড়ার ওপাশে। হঠাৎ চমকে উঠল রবার্ট। একটা হাত তার টাই আর শার্টের সামনের দিক শক্ত করে খামচে ধরে তাকে টেনে নিয়ে এল একেবারে বেড়ার ধারে।

    ‘আগামীকাল,’ অ্যামব্যাসেডরের ভয়ে বিস্ফারিত চোখের দিকে চেয়ে বলল ট্যাসোন। ‘একটায়, কিউ গার্ডেনে…’ হাঁপাচ্ছে সে।

    ‘শার্ট ছাড়।’

    ‘মাত্র পাঁচ মিনিট, এরপরে আর কোনদিন দেখবেন না আমাকে।’

    ‘হাত সরাও বলছি…

    ‘আপনার স্ত্রী বিপদে আছেন। আপনি না এলে মারা পড়বেন তিনি।’

    জোর করে শার্ট ছাড়িয়ে নিয়ে একটু পিছিয়ে গেল রবার্ট। পাদরীকে আর কোথাও দেখা গেল না আশেপাশে। হতভম্ব ভাবে বেড়ার ওপরে দাঁড়ানো অপরিচিত মুখগুলোর দিকে শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে দাঁড়িয়ে রইল সে। ক্যামেরার ফ্ল্যাশবাল্বগুলো চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে তার। মনে মনে অনেক ভেবেছে রবার্ট ওই পাদরীর ব্যাপারে। সে না গিয়ে পুলিশে খবর দিয়ে ওকে গ্রেপ্তার করাতে পারে, কিন্তু তাতে রবার্টকে বাদী হিসেবে কোর্টে হাজির হতে হবে। ব্যাপারটা জানাজানি হবে। খবরের কাগজগুলোতে একটা পাগলের প্রলাপ নিয়ে ফেনিয়ে ফাঁপিয়ে রসিয়ে লেখার ধুম পড়ে যাবে। রবার্ট সেটা কখনই হতে দিতে পারে না। লোকটা যে কি বলবে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। তবে তার কথাবার্তা সব ডেমিয়েনের জন্ম সম্পর্কিত। আর ওখানেই রবার্টের লুকোবার কিছু রয়েছে। লোক পাঠিয়ে টাকা দিয়ে বিদায় করা যায় ওকে কিন্তু তাতে আবার বাইরের একজনকে জড়াতে হবে।

    ফটোগ্রাফার হেবার জেনিংসের কথা ভাবল সে একবার। হেবার যার খোঁজ করছে রবার্ট তার খোঁজ পেয়েছে—কথাটা টেলিফোন করে জানাতে গিয়েও আবার নিজেকে সংযত করল সে। কাগজের লোককে জড়ানোর চেয়ে বিপদজনক আর কিছু হতে পারে না। কারও সাথে কথা বলে মনটা একটু হালকা করতে পারলে ভাল হত। আসল কথা পাদরী কি বলবে শুনতে ভয় পাচ্ছে সে।

    সকালে নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে বাসা থেকে বের হল রবার্ট। কোথায় লাঞ্চ করবে—এমনি সব অবাঞ্ছিত প্রশ্ন এড়াবার জন্যে সকালে অফিসেই গেল না সে। ঠিক সাড়ে বারটায় কিউ গার্ডেনে পৌঁছে গাড়ি পার্ক করে অপেক্ষা করতে লাগল সে। একটা বাজতেই গাড়ি থেকে নেমে পার্কে ঢুকল রবার্ট। তাকে যেন কেউ চিনতে না পারে এজন্যে গায়ে রেইন কোট চাপিয়েছে, আর চোখে কালো গগল্‌স্‌। অল্প খুঁজেই দেখতে পেল সে পাদরীকে। একা একটা বেঞ্চের ওপর বসে আছে। একবার ভাবল ফিরে যায়—কিন্তু আবার ভাবল লোকটা বলেছে দেখা না করলে ক্যাথির মৃত্যু হবে। যদিও সেটা একেবারেই অসম্ভব, তবু। মনস্থির করে ঘুরে সামনের দিক থেকে এগিয়ে গেল সে ধর্মযাজকের দিকে।

    হঠাৎ রবার্টকে আসতে দেখে চমকে উঠল ট্যাসোন। ঘামে ভিজে উঠেছে ওর মুখ-চেহারা দেখে মনে হয় যেন অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে তার। সামনে এসে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করল রবার্ট।

    ‘পুলিশ নিয়ে আসাটাই আমার উচিত ছিল,’ রূঢ় ভাবে বলল সে।

    ‘ওদের সাহায্যে কাজ হবে না আপনার।‘

    ‘সে যাক—কি বলার আছে বল।’ ট্যাসোনের চোখ দ্রুত মিটমিট করল কয়েকবার, হাত দুটো থরথর করে কাঁপছে। অসহ্য ব্যথা সহ্য করার চেষ্টা করছে সে।

    ‘যখন জু’রা ফিরবে জায়নে…’ ফিসফিস করে বলল পাদরী।

    ‘কি?’

    ‘যখন জু’রা ফিরবে জায়নে, সারা আকাশ জুড়ে দেখা দেবে একটা ধূমকেতু, আর পবিত্র রোম যখন জাগবে—তখনই আপনাকে আমাকে—সবাইকে মরতে হবে।‘

    ধক্ করে উঠল রবার্টের বুকের ভিতরটা। লোকটা বদ্ধ পাগল। একটা কবিতা থেকে আবৃত্তি করছে সে। সম্মোহিত ভাব তার মুখে—গলাটা অস্বাভাবিক চড়া।

    ‘অনন্ত সাগর থেকে উঠবে সে। দুই তীরে থাকবে সৈনিক যোদ্ধার দল। ভাইয়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরবে ভাই—মানুষের আর অস্তিত্ব থাকবে না এর পরে।’

    পাদরীর দেহের প্রতিটি অঙ্গ থরথর করে কাঁপতে আরম্ভ করল।

    ‘এ সবই তো বাইবেলের ব্যাখ্যার বইয়ে লেখা আছে।’ ঝাঁঝের সাথে বলল রবার্ট।

    ‘আমি এখানে ধর্মীয় বক্তৃতা দিতে আসিনি।’

    ‘তুমি বলেছিলে আমার স্ত্রী বিপদে আছে।’

    ‘মেগ্‌গাইডোর শহরে যান,’ বলে উঠল ট্যাসোন। ‘জেস্রীল শহরে গিয়ে বুগেনহাগেনের খোঁজ করুন। একমাত্র সেই বলতে পারবে বাচ্চাটাকে কিভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হবে।’

    ‘শোন…’

    ‘যে বাঁচার জন্যে ভেড়ার (যীশুর প্রতীক) আশ্রয় না নেবে, তাকেই ছিড়ে ছিন্ন—ছিন্ন করবে পশু (শয়তান)।’

    ‘চুপ কর!’ ধমক দিল রবার্ট।

    চুপ করল ট্যাসোন। কাঁপা হাতে ভুরুর ঘাম মুছল সে।

    ‘তুমি বলেছিলে আমার স্ত্রী বিপদে আছে, সেইজন্যেই এসেছি আমি,’ বলল থর্ন।

    ‘দিব্যদৃষ্টিতে একটা দৃশ্য আমি…

    ‘আমার স্ত্রী …’

    ‘তিনি গর্ভবতী।’

    থমকে গেল রবার্ট হতবুদ্ধি হয়ে গেছে সে। ‘ভুল করছ তুমি।’

    ‘আমার বিশ্বাস তাঁর পেটে বাচ্চা এসেছে।’

    ‘অসম্ভব! এমন হলে আমি জানতাম।

    ‘সে বাচ্চাটাকে জন্মাতে দেবে না। পেটে থাকতেই তাকে মেরে ফেলবে ও।’

    ব্যথায় ককিয়ে উঠল পাদরী—অসহ্য ব্যথা হচ্ছে তার পিঠে।

    ‘কি, বলছ কি তুমি?’ দম বন্ধ করে জিজ্ঞেস করল রবার্ট।

    ‘আপনার ছেলে মিস্টার থর্ন, শয়তানের সন্তান সে। গর্ভে থাকতেই সে বাচ্চাটাকে হত্যা করবে, তারপর হত্যা করবে আপনার স্ত্রীকে। অবশেষে যখন সে নিশ্চিত হবে যে আপনার সব কিছু উত্তরাধিকার সূত্রে সে পাবে তখন আপনাকেও হত্যা করবে!’

    ‘থাম, যথেষ্ট হয়েছে।’

    ‘….আপনার সম্পদ আর শক্তি নিয়েই সে পৃথিবীতে মিথ্যার রাজত্ব বিস্তার করবে। তার প্রতিটি নির্দেশ আসবে সরাসরি শয়তানের কাছ থেকে…’

    ‘মাথা খারাপ তোমার,’ ধমকে উঠল রবার্ট।

    ‘ওকে মারতেই হবে, মিস্টার থর্ন!’

    হাঁ করে শ্বাস নিল পাদরী—এক ফোঁটা জল বেরিয়ে এল তার চোখ দিয়ে, থর্ন চেয়ে রয়েছে ওর দিকে— নিথর হয়ে গেছে সে।

    ‘মিস্টার থর্ন, দয়া করে…’ কেঁদে ফেলল লোকটা।

    ‘তুমি পাঁচ মিনিটের কথা বলেছিলে…’ মনে করিয়ে দিল রবার্ট।

    ‘মেগ্‌গাইডোর শহরে যান,’ অনুনয় করে বলল ট্যাসোন। ‘সময় থাকতে বুগেনহাগেনের সাথে দেখা করুন।‘

    মাথা নাড়ল থর্ন। ট্যাসোনের মুখের সামনে আঙুল তুলে বলল, ‘তোমার যা কথা ছিল সব শুনেছি আমি, এবার তুমি শোন। যদি আর কোনদিন তোমাকে দেখি তবে তোমাকে পুলিশে দেব আমি।’

    ঘুরে গটমট করে হাঁটা ধরল রবার্ট। কান্নাজড়িত স্বরে তাকে পিছু ডাকল ট্যাসোন।

    ‘আপনার সাথে নরকে দেখা হবে আমার, মিস্টার থর্ন, সেখানেই আমরা একসাথে আমাদের শাস্তি ভোগ করব।’

    চলে গেল রবার্ট। দুহাতে মুখ ঢেকে বসে রইল পাদরী—কান্না সামলাবার চেষ্টা করছে সে। কিন্তু থামছে না তার কান্না। সব শেষ হয়ে গেল—ব্যর্থ হয়েছে সে। স্বর্গে যাবার সব পথ তার রুদ্ধ হয়ে গেল।

    ধীরে ধীরে দাঁড়াল ট্যাসোন। চারদিকে চেয়ে দেখল পার্ক একেবারে জনশূন্য। চারদিকে কেমন যেন একটা অশুভ স্তব্ধতা বিরাজ করছে। ক্ষীণ একটা শব্দ কানে এল তার–আস্তে আস্তে জোরাল হচ্ছে সেটা। স্বর্গীয় গানের (OHM) শব্দ ওটা। শব্দ আরও বেড়ে উঠতেই দুহাতে গলায় ঝুলানো ক্রসটা খামচে ধরে ভীত ভাবে এদিক ওদিক চাইল সে। আকাশটা দ্রুত অন্ধকার হয়ে আসছে, বাতাসের বেগ ও বাড়ছে। অল্পক্ষণের মধ্যেই প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়ায় গাছের কাণ্ডগুলো বাঁকা হয়ে শাসাতে লাগল ট্যাসোনকে।

    এগিয়ে চলল সে। রাস্তায় উঠে নিরাপদ বোধ করতে চাইছে। হঠাৎ ঘূর্ণি বাতাস ঘিরে ধরল তাকে। কাগজ, পাতা আর ধুলো তার পায়ের কাছে ঘুরতে শুরু করল। ধুলো বালির আঘাতে তার চোখ দুটো ছোট হয়ে গেছে— হাঁপাচ্ছে সে। জোরাল বাতাস ঝাপটা দিচ্ছে তার চোখে মুখে। রাস্তার ওধারে একটা গির্জা চোখে পড়ল ট্যাসোনের। ফুটপাথ থেকে রাস্তায় নেমে ওদিকে এগোতেই উল্টো দিক থেকে ঝড়ের প্রচণ্ড ঝাপটা বাধা দিল তাকে। ঝুঁকে পড়ে বাতাস ঠেলে এগিয়ে চলল সে। ওমের শব্দ এখনও তার কানে বাজছে, সাথে বাতাসের আর্তনাদও যোগ দিয়েছে। ধুলোর মেঘ আর বাতাসের শব্দের মাঝে ছুটন্ত ট্রাকটার উপস্থিতি টেরই পেল না ট্যাসোন। টের পেল যখন ওটা রাস্তায় চাকার ঘর্ষণের প্রচণ্ড শব্দ তুলে তার থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূর দিয়ে ঘুরে গিয়ে একটা পার্ক করা গাড়িকে চ্যাপ্টা করে ল্যাম্প পোস্টে ধাক্কা খেয়ে কাত হয়ে স্থির হল।

    হঠাৎ করেই থেমে গেল বাতাস। লোকজন চিৎকার করতে করতে ছুটে গেল ট্রাকের দিকে। ট্রাক-ড্রাইভারের মাথাটা সামনের দিকে ঝুলে পড়েছে, ফোঁটা ফোঁটা রক্ত পড়ছে জানালার ওপর। মেঘ গুড়গুড় করছে আকাশে—মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্যাসোন ফুঁপিয়ে উঠল ভয়ে। চারদিক আলো করে গির্জাটার পিছন দিকে একটা বাজ পড়ল। ঘুরে এক ছুটে আবার পার্কে ফিরে এল সে। আর একটা বাজ পড়ার শব্দের সাথে সাথে ঝমঝম করে বৃষ্টি নামল। দিশেহারা হয়ে ছুটতে আরম্ভ করল সে, কড়-কড়-কড়াৎ শব্দে বাজ পড়ছে তার আশেপাশে। বাজের আঘাতে একটা গাছ ফেটে চৌচির হয়ে পড়ল তার পাশেই। ভয়ে কাদায় পিছলে পড়ে গেল সে। আকাশ থেকে বিদ্যুতের লকলকে ছোবলগুলো যেন বারবার তাকে ছোঁয়ার জন্যে নেমে আসছে। চেষ্টা করে উঠে দাঁড়াল ট্যাসোন। আবার বাজ পড়ল। এবার ওটা পড়ল পার্কের একটা বেঞ্চের ওপর। বেঞ্চটা টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে ম্যাচের কাঠির মত জ্বলতে লাগল তার বাম পাশে। একটা ফুল গাছের সারি মাড়িয়ে ডানদিকে ছুটল সে। আবার আঘাত হানল বাজ। সামনের একটা ডাকবাক্সের ওপর পড়ল সেটা। বাক্সটা লাফিয়ে উঠল শূন্যে; সারডিনের খোলা টিনের মত চিরে উল্টে গেছে বাক্সের লোহার পাত।

    সজল চোখে ক্রুদ্ধ আকাশের দিকে চেয়ে টলতে টলতে এগিয়ে গেল ট্যাসোন। জোর-বৃষ্টি নেমেছে, ফোঁটাগুলো তার মুখে বিধছে। ভিজে চোখে জলের পর্দা ভেদ করে শহরটা ঝাপসা দেখতে পাচ্ছে ও। লণ্ডনের রাস্তার সব লোকজন বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার জন্যে আশ্রয় খুঁজে নিয়েছে। বাড়ি ঘরের জানালা টপাটপ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একজন মহিলা শিক্ষয়িত্রী পুরানো আমলের জানালা বন্ধ করার পোল নিয়ে জানালা বন্ধ করার চেষ্টা করছে; ক্লাসের ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীরা চেয়ে দেখছে। মহিলা ট্যাসোনের নামও শোনেনি কোনদিন—সে জানত না অদৃষ্ট তাদের এমন একটা যোগাযোগ ঘটাবে। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে ট্যাসোন তাঁর দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল। হাঁ করে শ্বাস নিতে নিতে উদ্দেশ্য-বিহীন ভাবে ছুটছিল ট্যাসোন। বজ্রপাতের ভয় আর এখানে নেই—সেসব পিছনে ফেলে এসেছে সে। একটা মোড় ঘুরে ওই দালানের ঠিক নিচেই দাঁড়াল ও একটু বিশ্রাম নেয়ার জন্যে। আর চলছে না তার দেহ, বুকের ভিতরটায় কে যেন ছুরি দিয়ে খোঁচাচ্ছে। হঠাৎ উপর থেকে হাত ফসকে পোলটা নিচে নেমে এল জেভেলিনের মাটিতে নেমে আসার ভঙ্গিতে ট্যাসোনকে এফোঁড় ওফোঁড় করে ঘাসের মধ্যে মাটিতে গেঁথে গেল ওটা। একটু পিছন দিকে হেলে মৃতদেহটা দাঁড়িয়েই রইল; পোলটা ঠেকা দিয়ে রেখেছে ওকে।

    হঠাৎ করেই বৃষ্টি থেমে গেল। স্কুলের চারতলার ওপর থেকে জানালা দিয়ে নিচে উঁকি দিয়েই শিক্ষয়িত্রী গলা চেরা চিৎকার দিয়ে উঠল। পার্কের অন্যধারে রাস্তার লোকজন ধরাধরি করে ট্রাক ড্রাইভারের মৃতদেহটা নিচে নামাল। স্টিয়ারিং—এর ধাক্কায় কপালে রক্ত জমাট বেঁধে দাগ হয়ে রয়েছে।

    মেঘ সরে গিয়ে সূর্যের আলো বেরিয়ে এল শান্তি নিয়ে। পাদরীর চারপাশে কয়েকজন লোক জড়ো হয়ে অবাক চোখে পোলে গাঁথা ট্যাসোনকে দেখছে। একটা বড় মাছি তার হাঁ করা মুখটার ওপর বারবার গিয়ে বসছে।

    .

    পরদিন সকালে নাস্তা খেতে বসেছে ক্যাথি আর রবার্ট। হর্টন এসে খবরের কাগজটা দিয়ে গেল। ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার সময়ে হর্টন লক্ষ্য করল কর্ত্রীর মুখ গোমড়া। মানসিক ডাক্তারকে দেখাতে আরম্ভ করার পর থেকে যতই দিন যাচ্ছে তার মুখ ততই গম্ভীর হচ্ছে। বেশ একটা মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে সে, তা বেশ পরিষ্কার বোঝা যায়। আরও পরিতাপের বিষয় এই যে ছেলেটা এখন তার সান্নিধ্য চায়। দিনের পর দিন অক্লান্ত চেষ্টার ফল। কিন্তু এখন ক্যাথিই পালিয়ে বেড়ায়, যখন ডেমিয়েন তার খোঁজ করে, আশেপাশে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না তাকে।

    ক্যাথির নিজের জন্যে ডাক্তারের কাছে যাওয়াটা হয়ত ভুলই হয়েছে। থিরাপি নেয়ার পরে এখন সে আরও বিব্রত আর অসহায় বোধ করছে। আগে সে জানত সে কি ছিল—কিন্তু এখন সে আর নিজেকে চিনতে পারে না। সামনে কোন ভবিষ্যৎ সে আর দেখতে পায় না এখন। সামান্য কিছুতেই ভয়ে একেবারে কুঁকড়ে যায়। টেলিফোন বেজে ওঠা, টাইমার বেজে ওঠা, কেতলীর হুইসেল সবই যেন কিছু দাবি করছে ওর কাছে। সহ্যের প্রায় শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে ক্যাথি।

    আজ তার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল। ডেমিয়েন আজকাল সবসময়ে ক্যাথির আশেপাশেই ঘুরঘুর করে আর এটা ওটা করে তার মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করে। এই মুহূর্তে সে একটা চাকাওয়ালা খেলনা নিয়ে ট্রেন চালাচ্ছে আর মুখ দিয়ে ট্রেনের শব্দ তুলে ক্যাথির চেয়ারে ধাক্কা লাগাচ্ছে বারবার।

    ‘মিসেস বেলক?!’ হাঁক দিল ক্যাথি।

    রবার্ট তার উল্টোদিকের চেয়ারে বসে খবরের কাগজে চোখ বোলাচ্ছিল। ক্যাথির কণ্ঠস্বরে রাগের ভাব লক্ষ্য করে চমকে মুখ তুলে চাইল সে।

    ‘কি হয়েছে?’ উদ্বিগ্ন ভাবে জানতে চাইল রবার্ট।

    ‘ডেমিয়েন বেশি শব্দ করছে—অসহ্য লাগছে আমার।’

    ‘এমন কিছু গোলমাল তো…’

    ‘মিসেস বেল্‌ক।’ আবার ডাকল ক্যাথি।

    প্রায় দৌড়ে প্রবেশ করল বিশাল-আকৃতি মহিলা।

    ‘জ্বী?’

    ‘ওকে এখান থেকে নিয়ে যাও,’ আদেশ দিল ক্যাথি।

    ‘খেলছে খেলুক না?’ আপত্তি জানাল রবার্ট।

    ‘আমি বলছি ওকে নিয়ে যাও!’ চিৎকার করল ক্যাথি।

    ‘জ্বী, মেম সাহের।’

    হাত ধরে ডেমিয়েনকে বাইরে নিয়ে গেল মিসে বেল্ক। রবার্টের চোখে পড়ল যাবার আগে ছেলেটা ঘুরে একবার তার মায়ের দিকে চেয়ে দেখল আহত চোখে। ক্যাথির দিকে হতাশ চোখে চাইল রবার্ট। মাথা নিচু করে খাওয়ায় মন দিয়ে চোখাচোখি হওয়া এড়িয়ে গেল ক্যাথি।

    ‘তুমি সন্তান কেন চেয়েছিলে, ক্যাথি?’

    ‘লোকের চোখে ভাল দেখাবে, তাই।’

    ‘কি?’

    ‘হ্যাঁ, কেউ কোনদিন এমন কথা শুনেছে যে একটা সুন্দর পরিবারে একটা সুন্দর বাচ্চা নেই? সেই জন্যে আমাদের একটা বাচ্চার দরকার ছিল।’

    নীরবেই কথাটা হজম করল রবার্ট। ভিতরে ভিতরে মস্ত হোঁচট খেয়েছে সে।

    ‘ক্যাথি…’

    ‘কথাটা সত্যি কিনা? আমরা কোনদিনই ভাবিনি ছেলেকে মানুষ করার কাজটা কেমন হবে। কেবল ভেবেছি খবরের কাগজে খবরটা কেমন চমক আনবে।’

    বোকার মত চোখ তুলে ক্যাথির দিকে চাইল রবার্ট। এবার সে-ও তার চোখেচোখে চেয়ে রইল।

    ঠিক কিনা বল?’ জিজ্ঞেস করল থর্ন-গিন্নী।

    ‘তোমার ডাক্তার কি এসব শেখাচ্ছে তোমাকে?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘ওর সাথে তাহলে আমার একটু কথা বলা দরকার।’ খুব কঠিন স্বরে কথা কয়টা বলল রবার্ট।

    ‘হ্যাঁ, তারও তোমাকে বলার কিছু কথা আছে।’

    তার গলার স্বরে রবার্ট টের পেল এর পরে আরও কিছু আসছে।

    ‘কি ব্যাপারে আলাপ করতে চান তিনি?’ জিজ্ঞেস করল রবার্ট। ‘আমাদের একটা সমস্যা আছে, রবার্ট।’

    ‘…কি, বল?’

    ‘আমি আর সন্তান চাই না, কোনদিনও না।’

    আরও কিছু শোনার আশায় ক্যাথির মুখের দিকে চেয়ে রইল রবার্ট।

    ‘তোমার কোন আপত্তি নেই তো?’

    ‘তুমি যদি চাও তবে তাই হবে।’

    ‘তাহলে অ্যাবর্শনে তোমার আপত্তি নেই?’

    বরফের মত জমে গেল রবার্ট। অবাক বিস্ময়ে তার মুখ হাঁ হয়ে গেল।

    ‘আমি গর্ভবতী, রবার্ট, মাত্র গতকাল জেনেছি আমি।‘

    নীরবতা নেমে এল কিছুক্ষণের জন্যে। রবার্টের মাথা ভোঁ ভোঁ করছে।

    ‘আমার কথা শুনছ তুমি?’ জিজ্ঞেস করল ক্যাথি।

    ‘হ্যাঁ, কিন্তু তা কি করে সম্ভব?’

    ‘ওটা কয়েলের ব্যাপার—কোন কোন সময়ে ওটা ঠিকমত কাজ করে না।’

    ‘তাহলে তুমি সত্যিই অন্তঃসত্ত্বা?’

    ‘বেশি দিন হয়নি।’

    ছাইয়ের মত সাদা হয়ে গেছে রবার্ট। হাত দুটো কাঁপছে তার টেবিলের দিকে চেয়ে বসে আছে সে।

    ‘কাউকে বলেছ তুমি?’

    ‘একমাত্র ডাক্তার গ্রীয়ার জানে।‘

    ‘তুমি ঠিক জানো?’

    ‘আমি আর একটা বাচ্চা চাই কিনা?’

    ‘তা না, সত্যিই তোমার পেটে বাচ্চা এসেছে?’

    ‘হ্যাঁ।’

    নিথর হয়ে বসে রইল বরার্ট। শূন্য দৃষ্টি। পাশের টেলিফোনটা বেজে উঠল হঠাৎ। যন্ত্রচালিতের মতই রিসিভার তুলে নিল রবার্ট।

    ‘হ্যাঁ, বলুন?’ গলা চিনতে না পেরে বলল সে। টেলিফোনে কথা শুনতে শুনতে বিব্রত ভাবে ক্যাথির দিকে একবার চাইল ও, ‘কি? কে বলছেন? হ্যালো, হ্যালো?’ কিন্তু ততক্ষণে রেখে দিয়েছে লোকটা।

    ‘কি বলল?’ জিজ্ঞেস করল ক্যাথি।

    ‘বলল আজকের কাগজ পড়তে…’

    ‘কেন, কাগজে কি আছে?’

    ‘জানি না, কেউ টেলিফোন করে কেবল বলল আজকের কাগজটা যেন ভাল করে পড়ি।

    কাগজের ভাঁজ খুলে আবার দেখতে আরম্ভ করল রবার্ট। প্রথম পাতার ছবিটার দিকে নজর পড়ল তার। ছবিটা ভাল করে লক্ষ্য করেই একেবারে পাথর হয়ে গেল সে।

    ‘কি হল? বল…বল?’ অস্থির ভাবে জিজ্ঞেস করল ক্যাথি। কোন জবাব না পেয়ে রবার্টের হাত থেকে কাগজটা টেনে নিয়ে ছবিটা দেখল সে। একজন পাদরীর ছবি—জানালা বন্ধ করার পোলে গাঁথা। নিচে লেখাঃ ধর্মযাজকের দুঃখ—জনক অপঘাতে মৃত্যু।

    রবার্টের দিকে চেয়ে সে দেখল তার স্বামী রীতিমত কাঁপছে। কিছুই বুঝতে না পেরে সে তার হাত ধরল। একেবারে ঠাণ্ডা।

    ‘রবার্ট!’

    চেয়ার ছেড়ে উঠে দরজার দিকে রওনা হল রবার্ট।

    ‘তুমি চেন ওকে?’

    কোন জবাব না দিয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল রবার্ট। আবার ছবিটার দিকে তাকাল ক্যাথি। বিবরণটা পড়তে পড়তেই থর্নের গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বেরিয়ে যাবার শব্দ শুনতে পেল সে। পুরোটা পড়েও আগা মাথা কিছুই বুঝল না ও। রবার্টের অফিসে ফোন করে সে বলে রাখল রবার্ট অফিসে এলেই যেন তাকে ফোন করে। দুপুরের পরও যখন রবার্ট তাকে ফোন করল না তখন বোঝা গেল অফিসেই যায়নি সে। ফোন করে ডাক্তার গ্রীয়ারকেও পেল না ক্যাথি—তার সেক্রেটারি জানাল অত্যন্ত ব্যস্ত আছেন ডাক্তার, এখন ফোন ধরতে পারবেন না। ক্যাথি পরের ফোনটা করল হাসপাতালে, অ্যাবর্শনের সব ব্যবস্থা ঠিক করে ফেলল সে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅশুভ সংকেতের পর – কাজী মাহবুব হোসেন
    Next Article ক্যাপ্টেন ব্লাড – রাফায়েল সাবাতিনি

    Related Articles

    কাজী মাহবুব হোসেন

    অশুভ সংকেতের পর – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    কাজী মাহবুব হোসেন

    শেষ অশুভ সংকেত – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    কাজী মাহবুব হোসেন

    খুনে মার্শাল – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    কাজী মাহবুব হোসেন

    নিঃসঙ্গ অশ্বারোহী – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    কাজী মাহবুব হোসেন

    ক্ষ্যাপা তিনজন – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }