Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অশ্বচরিত – অমর মিত্র

    লেখক এক পাতা গল্প469 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অশ্বচরিত – ১৬

    ষোলো

    মহাপাত্রপুর, দে-পাল, কুসমাড়ের জমি একসঙ্গে অধিগ্রহণ হয়নি। একটু একটু করে হয়েছে। সমুদ্রতীরের এক অংশ, দে-পালের উত্তর-পশ্চিম সেনাবাহিনীর দখলে তো ছিলই। কাঁটাতারে ঘেরা ছিল। চাঁদমারি ছিল ভিতরে। সমুদ্রে কামানের গোলা গিয়ে পড়ত। ওদিকটায় জেলে নৌকো তার অভ্যাসেই যেত না। এই অভ্যাস তো অনেক কালের। এখন জানা যাচ্ছে দে-পালের বাকি অংশটায় নোটিশ করা ছিল। সরকার তার প্রয়োজনে ভবিষ্যতে নেবে। এখন আরও জানা যাচ্ছে নোটিশ দেয়া ছিল মহাপাত্রপুর এবং কুসমাড়েও। ভীমাপুরেও ছিল নোটিশ। সেই সব নোটিশ প্রায় বছর ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ আগের। ভূমি অধিগ্রহণ দপ্তর বালেশ্বর থেকে নোটিশ পাঠিয়ে জানান দিয়েছিল মানুষকে যে, ওই সব জমি যেকোনো মুহূর্তেই সরকার দখল নেবে। কিন্তু সেই প্রাথমিক নোটিশের পর সরকার চুপচাপ হয়েছিল তো এত বছর। সেই পঁয়ত্রিশ বছর আগে যে উদ্বেগ ছড়িয়েছিল মানুষের ভিতর তা ক্রমে ক্রমে নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। তারা জানত সরকারের কখনো মনে হয়েছিল এই সব অঞ্চল অধিগ্রহণ করে কিছু করা যেতে পারে। পরে সরকার ভেবে দেখেছে তা করে লাভ নেই, সুতরাং পকিল্পনা ত্যাগ করেছে সরকার। ভূমি অধিগ্রহণের নোটিশে, ভূমি অধিগ্রহণের কথাই ছিল, তাতে কোন কারণে অধিগ্রহণ তা উল্লেখ করা হয়নি সেই সময়ে, সুতরাং মানুষজন জানতও না কেন নোটিশ পড়েছিল। কেউ কেউ বালেশ্বরে গিয়ে জেনে এসেছিল যে নোটিশটা সেনাবাহিনীর কারণে। আবার যারা তা জানিয়েছিল, তারা এ কথাও বলেছিল ওই রকম বহু জায়গায় বহু কারণে নোটিশ পড়ে, তারপর আর কাজ হয় না। প্রকল্প বাতিল হয়। এগোয় না কাজ, সুতরাং ওই নোটিশও যে উচ্ছেদের তা মনে করার কোনো কারণ নেই। মানুষজন চুপচাপ হয়ে গিয়েছিল সরকার তরফে আর কোনো চাঞ্চল্য না দেখে।

    তারপর তো এত বছর কেটে গেছে। এত বছরে পুরনো অনেক মানুষ চলেও গেছে। পঁয়ত্রিশ বছর আগে যারা জমি হারাবার ভয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে বালেশ্বর, কটক ছুটোছুটি করেছিল তাদের অনেকেই এখন বেঁচে নেই। যারা বেঁচে আছে অশক্ত হয়ে, তারাও গতায়ু মানুষের মতো বাকি জীবনটুকু নিরুদ্বেগ হয়েই কাটিয়ে দিতে পারবে ভেবেছিল। কিন্তু তা হয়নি। আচমকা দ্বিতীয় নোটিশ পড়ল এত বছর বাদে। তারপর তৃতীয় নোটিশ। খবরের কাগজে ঘোষিত হলো গ্রামসমূহের দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর। তখন জানা গেল দে-পালের যতটুকু দখলে ছিল সেনাবাহিনীর, তার চেয়ে বেশি অংশ পঁয়ত্রিশ বছর আগে গেজেট প্রকাশ করে, খবরের কাগজে ঘোষিত করে সরকার কাগজে-কলমে দখল নিয়ে নিয়েছিল। তখন নাকি ক্ষতিপূরণও নিয়েছিল অনেকে বালেশ্বর, ভুবনেশ্বরে গিয়ে। যারা নেয়নি তারা নিতে পারে তা এখনও। টাকা কোর্টে জমা আছে, কিন্তু আশ্চর্যের যে, তখন কাগজে- কলমে ভূমি অধিগ্রহণ দপ্তরের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা দপ্তর জমি বুঝে নিয়ে ফেলে রেখেছিল। ছুঁয়েও দেখেনি। আর তাই পুরনো, আদি বাসিন্দারা ধরে নিয়েছিল সরকার নেবে ভেবেছিল, কিন্তু নেবে না। ক্ষতিপূরণ দিয়েও কত জমি শেষ অবধি নেয় না সরকার, এ কথা তো বালেশ্বর গিয়ে তারা শুনে এসেছে। সরকারের কোনো আমলা হয় মনে করেছিল ওই জমি নিতে হবে, পরে অন্য আমলা ভেবেছে না নিলেও তো হয়। সরকারের টাকা কত দিকে কত ভাবে যায়, সুতরাং ক্ষতিপূরণের টাকাও হয়তো গেছে সেই ভাবে। জনসাধারণ জানে সরকারই মালিক, টাকার মালিক—সুতরাং ও টাকা গেলে কী হবে সরকারের? দে-পাল থাকবে দে-পালের মানুষের কাছেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো কী?

    শেষ পর্যন্ত, তা পঁয়ত্রিশ বছর বাদে হলেও দে-পাল থাকল না দে-পালের মানুষের কাছে। এই ঘটনা থেকে ধরা গেল যে, সরকারি চিঠি এমনি এমনি আসে না। সরকারি নোটিশ ফেলনা নয়। তার ভাষা বিবরণ প্রায় সবটাই অবোধ্য হলেও যে আইন এবং আইনের ধারা মোতাবেক নোটিশ বা চিঠি আসে তার ক্ষমতা অপরিসীম। ওই আইন বা আইনের ধারা বলে একশ-দুশ বছরের প্রাচীন বাসিন্দা, পরিবারকে উচ্ছেদ করা সহজ ব্যাপার। আর নোটিশে যাঁর স্বাক্ষর থাকে, বা যাঁর হয়ে যিনি স্বাক্ষর করেন জেলার সেই কালেক্টর বাহাদুরের ক্ষমতার কোনো শেষ নেই। তিনিই জেলার মাথা। তাঁর কথাই শেষ কথা। আর তিনি এমন কোনো কাগজে স্বাক্ষর করেন না যে কাগজ অগ্রাহ্য করা যায়। যে নোটিশ ছেঁড়া কাগজের ঝুড়িতে ফেলা যেতে পারে সেই নোটিশ কালেক্টর বাহাদুর কেন পাঠাবেন?

    পঁয়ত্রিশ বছর আগে কালেক্টর বাহাদুর যে নোটিশ পাঠিয়েছিলেন এই গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে, সেই নোটিশ সক্রিয় হলো এতদিন বাদে। এতদিন বাদে ধরা গেল বালেশ্বর গিয়ে পঁয়ত্রিশ বছর আগে যা জেনেছিল দে-পালের মানুষজন, তা অর্ধসত্য। কোনো প্রকল্প সরকার ত্যাগ করে বটে, কিন্তু বেশির ভাগ প্রকল্পই ত্যাগ করা হয় না। প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থ কমে গেলে ফাইল চাপা পড়ে থাকে অন্য ফাইলের নিচে। বরাদ্দ অর্থ এসে গেলে ফাইল জেগে ওঠে। আর একটি সত্য এই যে, প্রকল্প যদি বাতিল হয় তবে পূর্বের নোটিশ বাতিল করে কালেক্টর বাহাদুর নতুন নোটিশ পাঠান। পঁয়ত্রিশ বছর অনধিগ্রহণের কোনো নোটিশ যখন আসেনি, প্রকল্প জীবিতই ছিল। তার বলে দে-পাল চলে গেল সরকারের হাতে আচমকা আবার। আর যে জমি আগে কাগজে-কলমে দখল নিয়েছিল সরকার, যে জমি পঁয়ত্রিশ বছর আগে দখল নিয়ে ফেলে রেখেছিল সেনাবাহিনী সকলের অজ্ঞাতে, সেই জমির বেশির ভাগটাই ছিল সরকারের খাসজমি, তা এক সকালে খুঁটি দিয়ে কাঁটাতার দিয়ে দখলের কাজ আরম্ভ করলে গ্রামের মানুষের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের সংঘাত শুরু হলো।

    লোকে জানল এমনভাবে হয়। কী হয়? না, সরকারি কাজ হয়। পঁয়ত্রিশ বছর আগে কাগজে-কলমে কৃষিজমির দখল নিয়েও তা সরকার ফেলে রাখতে পারে। বিশেষত প্রতিরক্ষা দপ্তর, বিমানবাহিনী, বিমান পরিবহন, স্বাস্থ্য দপ্তর, এমনভাবে ফেলে রাখে। প্রয়োজনে ঘিরে নেয়। অথচ উপকূলের ওই জমির সবটা কিন্তু পঁয়ত্রিশ বছর আগে কৃষিযোগ্য ছিল না। ওই জমির ভিতর বালিয়াড়ি ছিল, কেয়াবন ছিল, বুনোগুল্মে ভর্তি অকৃষি জমি ছিল। জমি তো একভাবে চিরকাল থাকে না। কোনো জমিই না। এই পঁয়ত্রিশ বছরে প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাগুজে জমিতে পরিবর্তন হয়েছিল অনেক। বালিয়াড়ি ভেঙে, বালি সরিয়ে সেই জমি কৃষিযোগ্য করে তুলেছিল দখলিকার চাষা। কেয়াবন সাফ করে সেখানে চাষের ব্যবস্থা করেছিল চাষা। কোথাও ধান, কোথাও তরমুজ, কোথাও চিনাবাদাম। জমির রকমে ফসলও নানা রকম। ফসল ফলাতে ফলাতে ওই জমিতে ঘরও বেঁধেছিল কেউ কেউ। ঘর বেঁধে সংসার পেতেছিল। নারকেল গাছ বড় করেছিল, পুকুর কেটেছিল। পঁয়ত্রিশ বছরে বেশ কয়েকটি নারকেলকুঞ্জ তৈরি হয়ে গিয়েছিল দে-পালের ওই অংশে। ওটি ছিল চাষাপাড়া। যারা কোনো দিন নিজস্ব জমির মুখ দেখেনি তারা জমি পেয়েছিল ওখানে। খুব সরেস জমি। দে-পাল, কুসমাড়, মহাপাত্রপুর, ভীমাপুরের সবই পাল জমি। চর জমি। পয়স্থি হয়ে সমুদ্র থেকে ওঠা জমি। আরও পুবদিকে সুবর্ণরেখা থেকে ওঠা চর জমি। এই সমস্ত জমি কুমারী প্রায়। পেটে ফসল ধরল কবে যে জীর্ণ করে ফেলবে গর্ভাশয়? এই সমস্ত জমিতে যে ফসল হোক; ধান, পান, তরমুজ, চিনাবাদাম, যেখানে যেরকমে যা হোক, হয় অঢেল। অফুরন্ত। যেন বাতাসে বীজ উড়ে এলেই আপনা আপনি ফসল হতো। এসব জমির বয়স একশ থেকে দেড়শর বেশি নয়। মাটির পৃথিবীর বয়সের পরিপ্রেক্ষিতে তা আর কতটুকু? শদেড়েক বছর আগের এক প্রবল সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস, বন্যা এই বালিমুণ্ডা, বালিয়াপাল, বালেশ্বরে অনেক জমি তুলেছিল মোটা পলির আস্তরণ ফেলে। সেই জমিতে বানিগাছের জঙ্গল হলো। সেই জঙ্গল সাফ করে এই সমস্ত এলাকায় অনেকটা কৃষিজমির উৎপত্তি। সেই সব জমি পঁয়ত্রিশ বছর আগের নোটিশের সূত্র ধরে যখন দখল করতে এলো সরকারি সার্ভেয়রের দল, দে-পালের মানুষ সংঘাতে গেল। কেননা সংঘাতে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। সংঘাতে না গেলে তাদের ঘরবাড়ি, ধানজমি, তরমুজের খেত, চিনাবাদাম খেত, নারকেল বন, বরজ, কাজুবাদামের সামান্য চাষ, কাজু বাদামের হালকা বন, সব রাতারাতি ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছিল। সরকারি আদেশ মানে পুলিশের নির্দেশ। কেমন ছিল তা। দিন কুড়ি সময় দিয়েছিল পুলিশ; মিলিটারির জন্য ছাড়তেই হবে। কে বলেছিল সরকারি জমিতে ঘর বাঁধতে, চাষবাস করতে? সরকার তো বলেনি। জমির কোনো কাগজ আছে কারও কাছে? ছিল না। সবাই আশ্চর্য হয়ে তাকিয়েছিল পরস্পরের মুখের দিকে যে, জমির কোনো কাগজ তাদের কাছে নেই বলে পুলিশ চোখ রাঙাচ্ছে। তারা জানত সরকারি জমি। তারা কানাঘুষো শুনেছিল জমিতে নোটিশ পড়েছিল পঁয়ত্রিশ বছর আগে। সে আমলের মানুষ এখন আর কোথায়? তারা এও জানত যে, ওই নোটিশের কোনো মানে ছিল না। ওই নোটিশ তামাদি হয়ে গেছে। পঁয়ত্রিশ বছর ধরে কোনো নোটিশ সক্রিয় থাকে?

    তারা সবই ভুল জানত। এখন তা থানার মেজকর্তার চোখ রাঙানিতে সব বুঝতে পারছিল। তারা অনেকবার গেছে বালেশ্বরে, ওই জমি যদি লিজ পায় তো বেঁচে যায়। সরকার লিজ দিক তাদের, তারাও সরকারকে খাজনা দিয়ে অধিকার পাকা করে নেবে। কিন্তু লিজ আদায় করতে পারেনি। এত বছরেও সরকার লিজ দেয়নি কারণ ওই জমিতে নোটিশ পড়েছিল। বালেশ্বরে ল্যান্ড রেভিনিউ অফিস তখনও বলেছিল লিজ না নিয়ে তো চলছে। কেউ তো কাউকে উচ্ছেদ করছে না বা সরকার তো উচ্ছেদ করছে না, যে লিজ দলিল নিয়ে অধিকার পাকা করতে হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকারি লোকই তো এলো উচ্ছেদ করতে। থানার পুলিশ চোখ রাঙিয়ে নারকেলের কাঁদি ভেঙে, তরমুজের খেত তছনছ করে, চিনাবাদাম খেত মাড়িয়ে দখল নিতে লাগল। জমি যখন সরকারের, তখন জমির ফসলে তো সরকারি লোকের অধিকার। গ্রামের মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে তাড়া করল সার্ভেয়রের দল আর পুলিশকে। পুলিশ সাময়িক পালালেও, রাত্তিরে সেজেগুজে এলো গ্রামে। বন্দুক উঁচিয়ে ঘরে ঘরে টর্চ মারতে লাগল। পছন্দমতো মেয়েমানুষ খুঁজতে লাগল।

    দে-পালের লোকের সংঘাতে যাওয়া ছাড়া পথ ছিল না। মিলিটারির হাতে চলে যাচ্ছিল বহু বছরের শিকড়। সেই সূত্রে পুলিশ রাতে গাঁয়ে ঢুকে টর্চ মারতে মারতে ঘর থেকে টেনে বের করছিল জোয়ান পুরুষ। জোয়ান পুরুষ এবং যুবতীও। দুপুরে সার্ভেয়রের দলকে তাড়া করেছিল যারা, তাদের ভিতর মেয়েরাও তো ছিল। পুলিশ জানত, পুরুষগুলো ভয় পেতে পারে তাদের ঘরের মেয়েদের বে-আব্রু করে দিলে। কিন্তু বে-আব্রু সত্যিই পুলিশ করেছিল কি না, মেয়েদের ধর্ষণ করেছিল কি না পুলিশ এবং কাঁটাতার বসানোর ঠিকেদারের মাস্তান বাহিনী, সে কথা বলার মতো তো কেউ ছিল না। কোন মেয়ে তার লাঞ্ছনার কথা বলে? বলে না, বলতে পারে না বলেই তো ধর্ষণ, লাঞ্ছনাই পুলিশের হাতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

    ঘরে ঘরে টর্চ মেরে মেয়েমানুষ টেনে বের করে পুলিশ আর ঠিকেদারের লোক ভয়তাড়িত করে দিয়েছিল চাষাদের। সেই রাতের পর কাঁদতে কাঁদতে তারা বহুদিনের বসবাস তুলে, ঘরবাড়ি, গাছগাছালি, জমিজমা ছেড়ে সমুদ্রের মায়া ছেড়ে যাত্রা করে অন্যত্র। তাদের কেউ কেউ মহাপাত্রপুর, কুসমাড়, ভীমাপুরের দিকে গেল, কেউ কেউ গেল বালিমুণ্ডার পথে। হাইরোডের গায়ে ঝুপড়ি তুলল। নিরাবরণ ঘরে ঢুকে কাঁদতে লাগল। আশ্চর্য! এসবের পরেও কেউ কেউ থেকে গেল। মহাপাত্রপুর, কুসমাড়, ভীমাপুরের মানুষ তাদের পিছনে দাঁড়াল। একসঙ্গে মিছিল করল। সেই রাতের কথা কানে কানে রটতে লাগল।

    ভানু অবাক, এত কাণ্ড, বাবু কিছু জানে না?

    জানে। রামচন্দ্র বলে।

    বাবু কী বলেছিল?

    কহিছিলা ইসব নিয়া মাথা না ঘামাতে।

    ভানু বলল, বাবু তো মোরেও কিছু কহেনি।

    কহিবে কেনে, বাবুর কী? ই জায়গায় বাবুর চাষবাড়ি, আর তো কুছু লয়, টঙ্কা মিলি গিলা তো হই গিলা, বাবুর ভিটাও নাই ইখানে, মেয়াছেলাও নাই যে পুলিশ অসি বে-ইজ্জত কইরবে।

    সেটা ছিল ফাল্গুনের শেষ। রাতে শীত পড়ে, দিনে গরম। ধানমাঠ খাঁ খাঁ। তরমুজ ফলেছিল বালিজমিতে। খুব বড় হয়নি তখনও। তবু খেত পাহারায় ছিল কিছু মানুষ। পুলিশ ঢুকল বড় বড় টর্চ হাতে। সঙ্গে লোক ছিল। তারা ধর্ষণের রকম জানে। পুলিশ নিজে ধর্ষণ করেনি। তারা করেছিল। তবে তাদের ভিতরে প্লেন ড্রেসের পুলিশ ছিল কি না কে জানে? সমস্ত রাত ধরে তছনছ করে পুলিশ সবকিছু। খুব সাজানো গ্রাম ছিল খাস দে-পাল! সমস্ত রাত মত্ত হাতির মতো তারা ভেঙেছিল সবকিছু। সব জানা গেল পরদিন। পুরুষরা এসে বলল, এসব কথা না বলতে। পুলিশ যখন ওসব করেছে তবে আর থাকা যাবে না। কথাগুলো উড়ছিল খুব চাপা হয়ে দু-চার দিন ধরে, কিন্তু কেউ বলছিল না। প্রথমে বলেছিল সুভদ্রা। পাণ্ডবকুমারের বউ সুভদ্রা মুখ খুলল গাঁয়ের লোকের কাছে। সুভদ্রার খবর বালেশ্বর পৌঁছে গেল, ভুবনেশ্বর পৌঁছে গেল। খবরের কাগজের লোক ছুটে এলো দশ দিক থেকে। কী সাহস মেয়্যামানুষটার! রামচন্দ্র বিড়বিড় করছে।

    ডাক দেখি সুভদরারে।

    উ কহিবে না।

    কেন?

    ডরায় ইখন।

    ভানু বলল, আমি এখন বালিমুণ্ডা যাব না, ওকে ডাক।

    বালিমুণ্ডা যাওয়া হলো না। দূর দে-পাল, মহাপাত্রপুরের দিক থেকে মেঘ উঠল। সেই মেঘে আলো মরেই গেল প্রায়। মেঘ গর্জন করতে লাগল থেকে থেকে। বৃষ্টিও এলো দশ দিক ভাসিয়ে। সেই বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে রামচন্দ্র, ই জায়গায় মায়া বসি গিইছে, সব যদি গরমিন লিয়ে লেয় কুনথে যাবু? বাবু যদি কহে ইবার তু যা রামচন্দর, কী কইরব? হুটেল মোর পোষাবেনি।

    সুভদ্রার সমস্ত দিন সময়ই হয় না। আসলে সে এড়িয়ে যাচ্ছিল। রান্নাবান্না করে বৃষ্টির ভিতর তাল-পেখ্যা মাথায় কোথায় যে উধাও হয়ে গেল, দুপুরে খেয়েছে কি খায়নি তাও বোঝা গেল না। ফিরল সন্ধেয়। তখন চরাচরে অন্ধকার ঘন। কালো রঙের ওপর রং পড়ছে আরও কালো। মাথা অনেকখানি ঘোমটাতে ঢেকে সুভদ্রা বলে, নায়েব সবু জানে, মোকে কেনে কহিতে কহ মশায়?

    রামচন্দ্র বলে, আপন কথা আপনিই কহা ভালো।

    মাথা নাড়ে সুভদ্রা, বলে, কহিতে ঘিন্না লাগে, ডর লাগে, মোর সোয়ামি যাহা কহিছিলা উ ঠিকই ছিলা, সি রাতির কথা লুকাই গিলে মোকে ই যন্তন্না সহিতে হতোনি।

    ভানু বলল, তুমি যাও, তোমাকে বলতে হবে না!

    সুভদ্রা উঠে গেল। উঠে যেতে ভানু যেন নিশ্চিন্ত হলো। সত্যি তো সুভদ্রার মুখে তার লাঞ্ছনার কথা শুনত কী করে ভানু? মেয়েমানুষ তার লজ্জার কথা বলতে পারে? সুতরাং উঠে গিয়ে বসে আছে ঢালা বারান্দার আর একদিকে। হাঁটুতে মুখ গুঁজে পাথর। ঝিরঝিরিয়ে বৃষ্টি পড়ছিল। জোলো হাওয়া বইছিল। ভানুর আচমকা মনে পড়ল বিষ্ণু পাতরের কথা। সে কোথায়? এলো না সমস্ত দিন। রামচন্দ্ৰ শুনে বলল, কামকাজ মিলে গেছে তাই আসেনি, রোয়া বুনার কাল, ইখন তো কাজ অনেক, কেউ বসে থাকেনি।

    কিন্তু ও তো জমি বন্দোবস্ত নেয়ার জন্য দীঘা পর্যন্ত দৌড়েছিল?

    তা ঠিক, আবার আসিবেও, কিন্তু বেকার হউক, তখন আসিবে, আর ইখেনে বন্দোবস্ত লিয়া মানে পরে টঙ্কা মিলিবে গরমিন লিলে, সেই জন্য। ভানু আবার সুভদ্রার প্রসঙ্গ তোলে, তার কথা কি কহিবে নায়েব?

    হাঁ কহিব, কিন্তু কী যে কহি, উয়ার সোয়ামি ঘরে ছিলনি সি রাতে, ঘরে ফিরেনি, পাণ্ডবকুমার গিঁইছিলা বালেশ্বর, সি রাতে যে সি বালেশ্বর রহি যাবে ইমন কুনো কথাও ছিলনি, বালেশ্বরে কুনথে রহিবে পাণ্ডবকুমার? সি ছিল ফাগুন মাস, পুন্নিমের আটো দিন বাকি, জুছনা ছিলা, বাতাসে বাস ছিলা নিম পুষ্পর, কী শেতলই না ছিলা রাতখানি, সুভদরা হুঁকাইতে পারে নাই, উয়ারে ঘর থিকে টানি বাহিরে নি এলা তাহারা, সি বড় যন্তন্নার কথা।

    সোয়ামি কখন ফিরল?

    সকালা, ভোর ভোর, তখনও কানছিলা সুভদরা, রাতভর কানছিলা, পাণ্ডবকুমার ঘুরতে উয়ার পরে ঝাঁপাই পড়িলা, মুর সব্বোনাশ হই গিলা, তুমি কুনথে ছিলা রাতভর।

    রাতজাগা পাণ্ডবকুমার তখন হাত চাপা দিল বউয়ের মুখে, চুপ যা, লকে যেন না জানে, মেয়্যামানুষের ইজ্জত গিইছে ই কথা লকে জানলে বড় বিপদ, লকে তুরে দোষ দিবে, ঘর থিকে বাহার যাবিনি।

    সুভদ্রা বলল, থানায় যাবু ত?

    না, উয়াদের দলে পুলিশ ছিলা।

    থাকুক, তবু থানায় যাবু ত?

    পাণ্ডবকুমার মাথা নাড়তে লাগল, বলল, ঠিকাদার আর পুলুশের লক ইসব করিছে, তুই চুপ কর, ভুলি যা, থানায় গিয়া পুলুশের নামে কি ডায়রি দিব?

    কী হলো তখন?

    সুভদরা চুপ ইঁই গিলা, মেয়্যামানুষ তো বটে, ইজ্জত লুটের কথা কহে কী করে, আর পাণ্ডবকুমার তো ঘরে থাকে, বাহারে যায় ঘরে ফিরে, মাথা নাড়ে, কুনো কথা কহা যাবেনি, পুলুশ হাজতে ভরি দিবে কহিছে।

    কখন কহিলা? সুভদ্রা কান্না থামিয়ে জিজ্ঞেস করে।

    পাণ্ডবকুমার চুপ করে থাকে। কিছুই বলে না, তারপর একদিন দেখল তার স্বামী পাণ্ডবকুমারের সঙ্গে একটা লোক ভিটের উঠোনে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। সুভদ্রা ভয়ে হিম হয়ে যায়। মুখটা পরিষ্কার চেনা যায়।

    সত্যি বলছ? ভানু জিজ্ঞেস করে।

    হাঁ, সুভদরা ভঁরাই গিলা, লকটারে সি তো ভুলে নাই!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমি লিলি – লিলি চক্রবর্তী
    Next Article বাতাসবাড়ি জ্যোৎস্নাবাড়ি – অমর মিত্র

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }