Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অশ্বচরিত – অমর মিত্র

    লেখক এক পাতা গল্প469 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অশ্বচরিত – ১৭

    সতেরো

    সেই রাতের কথা কানাঘুষোয় উড়ছিল। বাতাসে ছড়িয়ে যাচ্ছিল। সুভদ্রা ধর্ষিতা হয়েছিল, আরও কয়েকজন চাষা বউ বে-আব্রু হয়েছিল সেই রাতে। তাদের কাউকে কাউকে দে-পাল ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল এক-দুদিনের মধ্যে। আত্মীয় ঘরে, আশপাশের গ্রামে, ভীমাপুর, মহাপাত্রপুর, কুসমাড়ে পাঠিয়ে দিয়েছিল চাষারা। পাণ্ডবকুমারও পাঠিয়ে দিতে চেয়েছিল সুভদ্রাকে তার বাপের ঘরে। সুভদ্রা যায়নি। কী খাবে সেখানে গিয়ে? আর সে ছাড়তে চাইছিল না পাণ্ডবকুমারকে। আরও আঁকড়ে ধরতে চাইছিল স্বামীকে। বাপ-মা না থাকলে বাপের ঘরও যে থাকে না তা বলছিল পাণ্ডবকুমারকে। তার ভয় হচ্ছিল বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে পাণ্ডবকুমার যদি তাকে না আনে। দে-পালের ভিটে তো যায় যায়। দে-পাল ছেড়ে চলে যায় এর ভিতরে পাণ্ডবকুমার, যদি যেতে হয় তাকে, তবে সে কোথায় খুঁজবে তার স্বামীকে তখন? তার বাপের ঘর অনেক দূর, বালিমুণ্ডা পেরিয়ে বালেশ্বরের পথে সেই গ্রাম। কী ভয় না পেয়েছিল সে? পাণ্ডবকুমার কি তাকে ত্যাগ করতে চাইছে বাপের ঘরে পাঠিয়ে দিয়ে?

    সেই রাতে যে কিছু হয়েছিল সেই খবর মহাপাত্রপুর, ভীমাপুর, কুসমাড় হয়ে আবার ফিরে আসছিল দে-পালে। ওই সব গ্রামে যেসব চাষাবউরা পালিয়ে গিয়েছিল ভয়ে, আশ্রয় নিয়েছিল ভয়ে, তারা ওখানে গিয়ে বর্ণনা করছিল সেই রাতের কথা। চাপা, ফিসফিসে গলায়, কাঁদতে কাঁদতে তারা বলছিল সেই ভয়ানক রাতের কথা। বলছিল ওই সব গ্রামের বধূ, কন্যাদের। লুকিয়ে বলেছিল। না বলে উপায় ছিল না। তারা স্বস্তি পাচ্ছিল না। তাদের কথা শুনে, তাদের কান্না শুনে মহাপাত্রপুর, কুসমাড়ের বধূরা কাঁদছিল। তারা কথাগুলো তাদের স্বামী-পুত্রদের বলেছিল। না বলে তারাও স্বস্তি পাচ্ছিল না। এইভাবে ওই সব গ্রামের পুরুষরা কথাগুলো জানলে তারা তা নিয়ে শোরগোল তুলছিল। চাপা শোরগোল ক্রমশ বড় হয়ে যেতে থাকে। জলের বৃত্তের মতো তা বাড়তে থাকে ক্রমশ। বালেশ্বরের একটি দৈনিক খবরটি ছেপে দিতেই, ভুবনেশ্বরের দৈনিক তা নিয়ে হইচই বাধিয়ে দেয়। এসব যখন হচ্ছিল, মহাপাত্রপুর, কুসমাড়ে গড়ে উঠেছিল দে-পাল রক্ষা সমিতি, তারা ধর্ষণ আর শ্লীলতাহানি নিয়ে যখন অভিযোগ পেশ করছে, সেই সময় পাণ্ডবকুমার বদলে যাচ্ছিল সুভদ্রার সামনে। পাণ্ডবকুমার তাকে বলছিল, একেবারে চুপ করে যেতে, যারা ওসব নিয়ে কথা তুলছে তাদের বিপদ আসন্ন। পুলিশ আর ঠিকাদারের লোকেদের সঙ্গে কথা হয়েছে তার। তারা বলছে পাণ্ডবকুমার যদি ওসব নিয়ে হইচই করে তাহলে পাণ্ডবকুমারকে ছেড়ে দেবে না তারা। পুলিশ কী না পারে। পাণ্ডবকুমার চুপ করে থাকলে তারই লাভ। ঠিকেদার বলেছে, পুলিশ বলেছে এখন নিশ্চিন্তে থাকতে পারে পাণ্ডবকুমার, তার ভিটে ভাঙবে না পুলিশ ঠিকেদার। কাজ হতে তো সময় লাগে।

    পাণ্ডবকুমারের সঙ্গে তখন সেই রাতের রক্তপায়ী শৃগালদের একটিকে দেখে ভীতা হংসীর মতো গুটিয়ে গিয়েছিল সুভদ্রা, উ কে?

    ঠিকেদার সরকারের লক।

    উ লক সি রাতে আসছিলা।

    পাণ্ডবকুমার চমকে উঠেছিল। সুভদ্রা আঁকড়ে ধরেছিল স্বামীকে, সি লক, হা জগন্নাথ। উ লকই মুকে থিকে ঘর উঠানে লিয়ে যায়, টানি লিয়ে যায় উ লক।

    পাণ্ডবকুমার বলে, উ লকের নাম মহান্তিবাবু, মহান্তিবাবু খুউব ভালো লক, তু কীসব বলিস, তুর মাথা খারাপ হুঁই গিছে।

    না, উ সি লক।

    তুরে কহিছি বিস্মরণ হ সব, উ লক সি লক লয়। পরদিন ঘুরে এসে বলল পাণ্ডবকুমার, মহান্তিবাবু কত বড় লক, বালেশ্বরে উয়ার কত বড় দালান!

    সুভদ্রা জিজ্ঞেস করে, কে কহিল উ সি লক লয়?

    মহান্তিবাবু নিজই কহিলা।

    তুমি উয়ারে কহিছিলা মুর কথা?

    হাঁ। পাণ্ডবকুমার বলল, সব বিস্মরণ হ, ইজ্জত তো ফিরা পাবিনি, উ লক কহিছে নোতন ভিটা দিবে বালিমঁড়ায়, টঙ্কা দিবে জমির, গাছের দাম দিবে বেশি, ঠিকাদার, পুলুশ, গরমিনের সার্বিয়ার সবার সঙ্গে আলাপ হইছে মুর, উয়ারা কহিছে চুপ করি রহিতে।

    তখন কেঁদে উঠেছিল সুভদ্রা, কী কহ গো? উ মোরে ছিঁড়া খাঁইছে, উ লক মোরে পেখম ধরে, মোর সব্বনাশ করে উ লক।

    ধমকে উঠেছিল পাণ্ডবকুমার, তুর লাজ নাই ছিনাল মাগি, ইসব কী কহিস? কী না কী করিছিল সি রাতে, মহান্তিবাবু লক ভালো।

    অবাক হয়ে পাণ্ডবকুমারকে দেখেছিল সুভদ্রা। তার মাথায় তখন আগুন। পাণ্ডবকুমার যে লোভে পড়ে গেছে তা বুঝতে পারছিল সুভদ্রা। পাণ্ডবকুমারকে চেনা যাচ্ছিল না। সুভদ্রা পাগলিনীর মতো ঘরের মেটে দেয়ালে মাথা ঠোকে।

    পরদিন লোকটা আবার এলো। এসে বসল উঠোনে পাতা খাটিয়ায়। পাণ্ডবকুমার উবু হয়ে তার সামনে, মাটিতে বসেছিল। লোকটা সিগারেট ধরাতে পাঁচটা কাঠি নষ্ট করেছিল। পোড়া কাঠি ধুলোয় ছড়িয়ে গিয়েছিল। সুভদ্রা ঘরের ভিতরে লুকিয়ে দেখছিল লোকটাকে। লোকটা হ্যা হ্যা করে হাসছিল, পাণ্ডবকুমার হাত কচলাচ্ছিল। পাণ্ডবকুমার আগের দিনই বলেছিল ঠিকেদারের কাছে কাজ পায় যদি, তবেই থাকতে পারবে নিজের ভিটেতে, এ ভিটে পরে ভাঙবে।

    সেদিন রাতে পাণ্ডবকুমারকে আবার জিজ্ঞেস করেছিল সুভদ্রা, তুমি মোর কথা বিশ্বাস করছনি, উ লক যদি আসে ই ভিটায় মু গলায় রশি দিব।

    পাণ্ডবকুমার থাবা মেরেছিল তার ঘাড়ে, নিলাজ মাগি, মোর সাথে তুই কীসব কহিস, বিস্মরণ হ।

    না, মু বিস্মরণ হবনি।

    পরদিন লোকটা আবার এসেছিল। সুভদ্রার মনে হয়েছিল লোকটা বোধহয় তার খোঁজ করতেই পাণ্ডবকুমারকে ধরেছে। কী সব্বোনাশ! তার স্বামী সব কেমন এড়িয়ে যাচ্ছে। মিথ্যে কথা বলছে। নাকি তার ভুল হচ্ছে। হয়তো ওই লোকটা নয়। ওর মতো অন্য কোনো লোক। কিন্তু গলার স্বর মিলে যাচ্ছে। সিগারেটের গন্ধটা পর্যন্ত মিলে যাচ্ছে। কী যে হচ্ছিল তার! তখন বাইরে থেকে পাণ্ডবকুমার ডাকে, পানিহ্ দিবে?

    জল! জল দিতে তো বেরোতে হয় তাকে। ওই লোকটার সামনে দাঁড়াতে হয়। কী করে যাবে সে? তার বুক হিম হয়ে যাচ্ছিল পাণ্ডবকুমারের পুনঃ পুনঃ ডাকে। শেষ পর্যন্ত সে সাহস সঞ্চয় করে উঠতে পারে না। তার তো ইজ্জত গেছে। কিন্তু তার হয়ে বলার কেউ নেই। স্বামীও বিপক্ষে। লুটেরার সঙ্গে হাসছে। তাকে সাহসী হতেই হবে। সে মাথায় কাপড় টেনে বেরোল কাঁপতে কাঁপতে। পাণ্ডবকুমারের কণ্ঠস্বর ক্রমশ উঁচুতে উঠে যাচ্ছিল। একমাথা ঘোমটা টেনে মুখ লুকিয়ে সে বেরোয়। জলের ঘটি আর গেলাস রেখে সে স্থির হয়ে দাঁড়িয়েছিল কয়েক দণ্ডের জন্য। ঘোমটার ভিতর থেকে লোকটাকে দেখে। পরিষ্কার দেখে। বাদামি চোখের মণি কি সে ভুলতে পারবে? লোকটা যেন কুঁকড়ে গেল এক পলকের জন্য, তারপর ঘাড় তুলল। ঘাড় তুলে তাকে দেখল। চোখে কি চোখ পড়ল? ঘোমটার নিচেই চোখ বন্ধ করে ফেলেছে সুভদ্রা। চেনায় কোনো ভুল নেই। সেই রাতের কথা কি ভুলে যাবে? যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন মনে থাকবে। এ্যস্ত পায়ে সুভদ্রা ফিরে আসে ঘরে। ঘরে ঢুকে কাঁপতে থাকে, সেই লক!

    পাণ্ডবকুমার বলল, না সি লক না।

    হাঁ, সি লক।

    পাণ্ডবকুমার আচমকা ক্রুদ্ধস্বরে বলে ওঠে, মু কহি সি লক না যখন সি লক না, আর যদি হয় সি লক, কী কঁইরব?

    কী কঁইরবা, সি তুমার কত্ত বড় সব্বোনাশ! গলা বুজে যায় সুভদ্রার, তুমি কি চিনো নাই সত্য, হাঁ তুমি কী কহ, উ লক কেনে ই উঠানে আসে?

    চুপ কর, লকে সন্দেহ কঁইরবে।

    কী সন্দেহ?

    তুই অশুদ্ধ হঁই গিছিস, মেয়্যামানুষ অশুদ্ধ হিলে এত কথা কহে?

    সুভদ্রা বলে, উ লক যেন ই ভিটায় না আসে।

    কেনে ভিটা কি তুর? পাণ্ডবকুমার তার হাত টেনে ধরে, চোখ বনবন করছে লোকটার, খুব রেগে গেছে, গর্জন করে ওঠে, উ ঠিকাদারের লক, কাজ দিবে, তুর যা হবার তো হইছে, ই লিয়ে কথা কহি যদি ভিটা ছাড়ি দিতে কহিবে, কামকাজও দিবে না, টঙ্কা মিলিবে না।

    বিনবিন করে কাঁদছিল সুভদ্রা। সেই প্রলয়ংকর রাতের পর সে ঘর থেকে বেরোয় না। ঘরের অন্ধকারে প্রায় লুকিয়ে থাকে। সে জানে যতই চাপুক পাণ্ডবকুমার, কথাটা রটে যাচ্ছে। মহাপাত্রপুরের লোক কজন খোঁজ করতে এসেছিল, পাণ্ডবকুমার তাদের রাস্তা থেকে বিদায় করেছে কিছু হয়নি বলে। কিন্তু মহাপাত্রপুরের লোকজন বিশ্বাস করেনি। শোরগোল উঠেছে। পাণ্ডবকুমার বদলে গেছে সেই রাতের পর। এ লোক সে লোক না যে তাকে সোহাগ করেছে কদিন আগেও। ধর্ষণের রাতের পর তাকে ছোঁয়নি পাণ্ডবকুমার, উপদেশ দিয়ে যাচ্ছে সবসময়। কথাটা রটলে বড়ই বিপদ। না রটলে সুবিধে। ঠিকাদারের লোক, পুলিশ বলছে এ নিয়ে শোরগোল না তুলে চুপ করে থাকলে আখেরে লাভই হবে। শোরগোল তুললে মেয়েমানুষের ইজ্জত কি বাড়বে? বরং আবার যাবে। মেয়েমানুষের ইজ্জত নেয়া কি কঠিন? দরকারে পুলিশ থানা হাজতে ঢুকিয়ে দেবে পাণ্ডবকুমারকে, তারপর ইজ্জত লুট করাবে মেয়েমানুষের। কী হবে শোরগোল তুলে? যে ইজ্জত গেছে তা কি ফেরত আসবে শোরগোল করলে? ঠিকাদার, পুলিশ এসব করে। পুলিশ না করলে ঠিকাদারের লোক করে। পুলিশ কখনো ঠিকাদারের বিপক্ষে যায় না, ঠিকাদার পুলিশকে মাসোহারা দেয়।

    সেই লোকটা এলো আর একদিন। সেদিন পাণ্ডবকুমার ঘরে ছিল। লোকটা তাকে ডাকতে পাণ্ডবকুমার হাত জোড় করে, ‘আসুন সীতারাম বাবু’ বলে বেরিয়ে গেল। খাটিয়া টেনে তাকে বসিয়ে সে ধুলোমাটিতে হাঁটু গেড়ে বসল। হেসে হেসে কথা বলতে লাগল। আবার তেষ্টা পেল লোকটার। পাণ্ডবকুমার ডাকল সুভদ্রাকে, পানিহ্ দিবে?

    সুভদ্রা চুপচাপ বসে থাকল। নড়েনি। পাণ্ডবকুমার ডাকল আরও দুবার, তারপর নিজে ঢুকে এলো ঘরের ভিতর। সুভদ্রাকে দেখল আগুন ভরা চোখে। নিজে ঘটি ভরা জল নিয়ে যেতে যেতে বলল, তুর তো ইজ্জতই নাই, কী ইজ্জতের ভড়ং করিস, মেয়্যামানুষ মেয়্যামানুষের মতো রহিবি, পানি দিতা কহিছি না, কহি নাই?

    পাণ্ডবকুমার লোকটাকে জল খাইয়ে তাকে নিয়েই বেরিয়ে গেল। ফিরতে সেই বেলা দুপুর। সুভদ্রার ভয় হচ্ছিল। সে বুঝতে পারছিল না বছর পাঁচের চেনা স্বামীকে। তাদের সন্তান হয়নি। কেন হয়নি বুঝতে পারছিল না, মানত করেছিল হেথা হোথা, লঙ্কেশ্বরী ঠাকুরানের কাছে, দূর চন্দনেশ্বরেও। কিন্তু সন্তানহীনতার জন্য পাণ্ডবকুমারের সোহাগ যে ছিল না তা নয়। আগের মতো না থাকলেও পাণ্ডবকুমার তার স্বামী হয়েই আছে তো। সে লোক বদলে গেল কবে? পাণ্ডবকুমারকে চেনা যাচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল এ তার স্বামী নয়, অন্য কেউ। অন্য কেউ তার স্বামী হয়ে ঘুরঘুর করছে চারপাশে। হায়! সেই পাণ্ডবকুমার গেল কোথায় যাকে নিয়ে সে মানত করতে গিয়েছিল চন্দনেশ্বর মন্দিরে?

    দুপুরে পাণ্ডবকুমারের অন্য মূর্তি। সে বলল, সুভদ্রার বড় ভুল হচ্ছে নিশ্চয়।

    না, মু ঠিক চিনিছি।

    পাণ্ডবকুমার বলে, উ লক তো জিজ্ঞেস করছিলা সি রাতে কী হইছিলা তাহলে কি উয়ার স্মরণ নাই কী হঁইছিলা?

    সুভদ্রা চুপ করে শুনছিল পাণ্ডবকুমারের কথা।

    পাণ্ডবকুমার বলছিল, উ লক, সীতারাম মহান্তি, কত ভালো লক, তুর প্রশংসা করছিলা।

    বুক হিম হয়ে যায় সুভদ্রার, কী কহ?

    উ কহিছিলা গেরস্তর বউ, মেয়্যামানুষের মাথার উর’ম কাপড় থাকা দরকার, তা হিলে তাহার বিপদ হতোনি।

    কী কহ?

    হাঁ, তুর সরম ছিলা কম! পাণ্ডবকুমার নির্লিপ্ত মুখে বলল, ইখন সরম হইছে, ইটা আগে হিলে অমন হতোনি।

    কী কহ! আর্তনাদ বেরিয়ে আসে সুভদ্রার মুখ দিয়ে।

    ঠিকই কহি, পানি যাচে লকে, পানি যে না দেয়, উয়ার পাপ হয়।

    উ তো শয়তান!

    তুর ভুল হইছে।

    না, কুনো ভুল নাই। সুভদ্রা ফুঁসে উঠেছে, তুমি টঙ্কা খাইছো, তুমি কি অমানুষ, তুমার মান নাই, তুমার পরিবারের সব্বনাশ হিলা, তুমি কিনা—

    চুপ কর। তার মুখ চেপে ধরেছিল পাণ্ডবকুমার।

    সুভদ্রা ছিটকে সরে গিয়েছিল। সে আর সহ্য করতে পারছিল না। বাদামি চোখের মণিটিকে সে ভুলতে পারছিল না। জোছনা রাতে খুব স্পষ্ট করে দেখেছিল সে লোকটাকে। তার কোনো ভুল হয়নি। গলার স্বর, কথা বলা সব মিলে গেছে। তার সব্বোনাশ করল যে লোক তাকে সে চিনতে পারবে না? কঠিন আঁধার থাকলেও চিনতে পারত। ঘোর অমাবস্যাতেও চিনতে পারত। তারার আলোতে চিনত। পৃথিবীর গায়ের আলোতেও চিনত। তাও যদি না থাকত নিজের চোখের আলোতে চিনত। নাক দিয়ে চিনত। গন্ধটা চিনে রাখত। সেই গন্ধই তাকে চিনিয়ে দিত। গন্ধ চিনিয়ে দিয়েছে। সুভদ্রা চিৎকার করে উঠেছিল, মোর সব্বনাশ করিছে, মুর ইজ্জত লিইছে, তুমি অরে ভিটায় লিয়ে আসো কেনে?

    চুপ কর।

    না, চুপ করিবনি। সুভদ্রা বেরিয়ে আসে ঘর থেকে। লাফ দিয়ে উঠোনে নামে, উ লক মোর ইজ্জত নিল, উ কিনা ভিটায় ফের আসে, উ লক ফের মোর ইজ্জত লিবে, তুমি কি পুরুষমানুষ, তুমি কি সেই লক, মোর সোয়ামি?

    থাম সুভদরা, অসত্য কহিসনি।

    অসত্য কহিব কেনে, হা হা তুমি কি অন্ধ। মু মেয়্যামানুষ, কী কহিব তুমারে?

    থাম। গর্জন করে উঠেছিল পাণ্ডবকুমার, তুর সরম নাই মাগি, তুর ইজ্জত নাই, কীসব কহিস, পাঁচকান হিলে তুই সমাজে রহিতে পারিবি?

    থোও তুমার সমাজ! গরগর করে উঠেছিল সুভদ্রা, তুমি উ লকেরে ই ভিটায় লিয়া আসো কেনে?

    মোর ভিটা মোর ইচ্ছা। পাণ্ডবকুমার তাকে ঠেলে ঘরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। সুভদ্রা চিৎকার করে উঠেছিল, হা জগন্নাথ মুর কী হিবে?

    সুভদ্রার চিৎকারে একটি দুটি লোক দাঁড়িয়ে পড়েছিল ভিটের সামনে। উঠোনেও এসে দাঁড়িয়েছিল কারা যেন। সেই মহাপাত্রপুরের মানুষ, ‘দে-পাল রক্ষা সমিতি’র লোক। তারা খোঁজ নিয়ে বেড়াচ্ছিল কী হয়েছে সেই রাতে। তাদের একজন এগিয়ে এসেছিল, কী হইছে?

    কিছু হয় নাই। পাণ্ডবকুমার বলেছে।

    না হইছিলা। চিৎকার করে এগিয়ে এসেছিল সুভদ্রা, কী হইছে কহ।

    পাণ্ডবকুমার আর চাপা দিতে পারেনি। আর পাণ্ডবকুমারের বউ সুভদ্রা যখন কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল, তার ক্রন্দনধ্বনি ছড়িয়ে পড়তে লাগল। সেই ধ্বনি তখন দে-পালে থাকা অন্য চাষাবউদের সাহস ফেরাল। তারা ঘর থেকে বেরিয়ে বলতে লাগল লাঞ্ছনার কথা। ঠিকাদার না পুলিশ, জানে না, তারা মেয়েমানুষ খুঁজে বেড়াচ্ছিল। টর্চ ফেলে ফেলে দেখছিল। তারা কি তাহলে সুভদ্রাকে খুঁজছিল? তারা বলেছিল, এ মেয়েছেলে নয়। তার মানে তারা বিশেষ কোনো মেয়েমানুষ খুঁজছিল সেই রাতে। সেই মেয়েমানুষ কি তাহলে সুভদ্রা? চাষিবউরা বলছিল, তাদের গায়ে হাত দিয়েছিল তারা। লাথি মেরেছিল, অশ্রাব্য ভাষা বলেছিল। চাষিবউরা নিশ্চিন্ত হয়েছিল যে সম্ভ্রম যায়নি কারও। তারা এসে ভিড় করল সুভদ্রার চারপাশে। তারা সুভদ্রার পাশে বসে কাঁদতে লাগল। একসঙ্গে কাঁদতে লাগল। সেই কান্নায় ভিটে জমি হারাতে হচ্ছে তার জন্য, নাকি ধর্ষিতা সুভদ্রার জন্য তা বোঝা না গেলেও তাদের কান্নায় শোক ছিল। গভীর শোক। বেদনা ছিল। গভীর বেদনা। তারা কাঁদতে কাঁদতে সুভদ্রার গায়ে মমতার হাত বোলাতে লাগল। তারা সুভদ্রার রুখু চুলে খোঁপা করতে করতে কাঁদতে লাগল। সুভদ্রার গায়ে হাত বুলোতে বুলোতে কাঁদছিল সেই রাতের কথা স্মরণ করে। পুলিশ ছিল আর ছিল কটা মানুষ। তারা পুলিশ হতেও পারে, না হতেও পারে। তারা নেশাচ্ছন্ন হয়ে পুলিশের মোটা টর্চের আলোয় মেয়েমানুষ পছন্দ করছিল। হায়! সমস্ত পল্লিটা সেদিন যেন বারবনিতা পল্লির মতো ভেবে বসেছিল পুলিশ আর ঠিকাদারের লোক। শেষ পর্যন্ত সুভদ্রাকে পছন্দ করেছিল। হায়! চাষিবউরা বিলাপ করতে লাগল। বিলাপ করতে করতে সুভদ্রাকে বলতে লাগল, ছাড়বিনি, লক যদি চিনে ফেলিস তো ছাড়বিনি সুভদরা, পাণ্ডবকুমার কী কহে?

    পাণ্ডবকুমার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আর পুলিশ সুপারের সামনে নির্লিপ্ত মুখে বলল হুজুর কুছু দেখি নাই, বালেশ্বর গিইছিলাম, ফিরতে পারিনি।

    কখন বাড়ি ফিরলে?

    আঁজ্ঞা ভোরবেলা!

    কী দেখলে।

    কুছু না, পরিবার নিদ যাইছিলা, নিদ থিকে উঠি খিল খুলি দিলা।

    তবে যে বউটি অভিযোগ জানিয়েছে?

    পাণ্ডবকুমার বলল, উ বড় লকের বেপার, উসব মিছিলউয়ালারা অসত্য কথা কহিছে, মোর পরিবার কহে নাই।

    কোথায় সে? ‘মানবাধিকার সংঘ’, ‘দে-পাল রক্ষা সমিতি’র লোক বলল।

    সে বাপ-ঘরে।

    ডাকো উহারে, বাপ-ঘর ঘিরে লিয়া আসো।

    মোর পরিবার ইত লোকের সুমুখে আসিবেনি।

    তুমি মিথ্যে বলছ।

    না সত্য কহিছি, ইসব বানাইছেন আপুনারা, মিছিলউয়ালারা, মেয়্যাছেলের ইজ্জত লিয়ে ইসব কী কথা!

    প্রমাণ হলো না। বারো দিন কেটে গিয়েছিল। ডাক্তারি পরীক্ষায় কিছুই মিলবে না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশকে জানানো হয়নি। আর ধর্ষিতার স্বামীই যখন না বলছে, ডায়েরি করছে না, তখন প্রমাণ তো হবেই না। ধর্ষিতা যে বয়ান দিয়েছিল মানবাধিকার সংঘ আর ‘দে-পাল রক্ষা সমিতি’র কাছে, তার সঙ্গে ধর্ষিতার স্বামীর বয়ান মিলছে না। না মিললে হবে কী করে? চাষিবউরা শুনে আবার কাঁদল যে যার ভিটের উঠোনে বসে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমি লিলি – লিলি চক্রবর্তী
    Next Article বাতাসবাড়ি জ্যোৎস্নাবাড়ি – অমর মিত্র

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }