Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অশ্বচরিত – অমর মিত্র

    লেখক এক পাতা গল্প469 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অশ্বচরিত – ২২

    বাইশ

    নেশায় এলিয়ে গিয়েছিল শ্রীপতি মাইতি। চোখ বুজে গিয়েছিল তার। সমস্ত শরীর নিথর হয়ে গিয়েছিল। আচমকা সব একসঙ্গে জেগে উঠল। ঘুম ভেঙে গেল। জেগে উঠে শ্রীপতি দেখল ঘোর অন্ধকার। তার ঘুমের ব্যবস্থা পাকা করে গেছে ভানু! যেন জানে তার শরীর কখন কী চায়? শ্রীপতি অন্ধকারে বসে হাসে, এই শরীরটা তার নিজের, না ভানু দাসের? হাসতে হাসতেই চমকে উঠে সে জানালার দিকে তাকিয়ে। ওই যে তার ঘোড়া। ওই যে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে দাঁড়িয়ে থাকত। কী আশ্চর্য! কখন এলো? নিজে নিজে ফিরে এলো? নাকি ভানু দাসই খুঁজে আনল বালিমুণ্ডা থেকে? নাকি কুহকিনী কোকিলা মুক্ত করে দিয়েছে ওকে? আহারে, কুহকিনী তোকে নিংড়ে নিয়েছে! কুহকিনীর মায়ায় যে-পুরুষ ভোলে, সে, পুরুষ কি আর পুরুষ থাকে? তার সব নিঙড়ে ছিবড়ে করে ফেলে দেয় না! তবে হ্যাঁ, কোকিলা বড় সুন্দরী। কালোর ভেতরে অমন সুন্দর মেয়েমানুষ খুব বেশি দেখেনি শ্রীপতি। কেমন বুনো বুনো ভাব! কাছে গেলেই মনে হয় জঙ্গলে বৃষ্টি হয়ে গেছে। গন্ধ উঠছে মাটি থেকে। সেই গন্ধ ছড়িয়ে যাচ্ছে বনময়। ঠিক তাই! ভারতী, মধুমিতারা কেউ না কোকিলার কাছে। পারলে কোকিলাকে আলাদা ঘর বানিয়ে দেয় শ্রীপতি। পর্নকুটির বানিয়ে দেয়। সেখানে থাকুক কুহকিনী। তার কুহকে ভুলে শ্রীপতি ছুটে যাক। পারলে বালিমুণ্ডার চাষবাড়িতে রেখে দেয় শ্রীপতি কিন্তু সেই চাষবাড়ির আয়ুও যে ঘনিয়ে এসেছে। সরকার নিয়ে নিলে কোকিলা যাবে কোথায়? তাহলে বনে ছেড়ে দেবে। বনের পাখিকে খাঁচায় পুরেছে গৌরমোহন মদরঞ্জিওয়ালা। কোকিলাকে বনে ছেড়ে দিলেই আবার ফিরে আসবে কপালকুণ্ডলা। শ্রীপতির দুচোখ মায়ায় ভরে যায়। আহারে, তোরে কিনা গৌরমোহন তার ঘরে তুলল, আর সেই রাগে তুই আমার পক্ষিরাজকে কুহকে বন্দি করলি। আর সেই পক্ষিরাজ খুঁজতে খুঁজতে ভানু কিনা দেখে আসে চাঁদবালি পুড়ছে।

    যাক! নিশ্চিন্ত হয়েছে শ্রীপতি। ছাড়া পেয়েছে পক্ষিরাজ। আহা, কত রোগা হয়ে গেছে। কুহকিনী তাকে যেন গিলে খেয়েছিল। অমন রূপবান ঘোড়া, তাকে নেবে ছাড়া কাকে নেবে? শ্রীপতি চাপা গলায় ডাকে, ফিরে এলি?

    এলাম। ঘোড়া জবাব দেয়।

    কুহকিনীর পাল্লায় পড়েছিলি?

    ঘাড় কাত করে পক্ষিরাজ, হ্যাঁ।

    ও আরব দেশের মেয়েমানুষ, সাবধান, আবার টানবে।

    পক্ষিরাজ গা ঝাড়া দেয়, বলে, আমি কী করব?

    কেন?

    সবদিক খোলা, যেদিক দিয়ে পারে টানে।

    শ্রীপতি বলল, কোথায় গিছিলি?

    চোদ্দবেড়িয়া।

    সে কোথায়?

    যেখেনে সুবর্ণরেখা নদী মিশেছে সমুদ্রের সঙ্গে, চাঁদবালির কাছে, আশ্বিন মাসে সে জায়গা কী সুন্দর!

    আশ্বিন কই, এ তো শ্রাবণ।

    আমি বলছি আশ্বিনের কথা, মনে আছে?

    শ্রীপতি বলল, আছে।

    খুব বর্ষার পর সেই বর্ষা যখন থামল, আকাশ পরিষ্কার, যত মেঘ উঠেছিল সমুদ্দুর থেকে, সব বৃষ্টি হয়ে ভাসিয়ে দিয়েছে পৃথিবী, মনে পড়ে?

    পড়ে মনে। নিঃঝুম হয় শ্রীপতি। কোন নাম বলল যেন, চোদ্দবেড়িয়া? ভানু তো চোদ্দবেড়িয়া থেকে উদ্ধার করে এনেছে পক্ষিরাজকে ক’বার। আশ্বিন মাস, বর্ষা শেষে পৃথিবী সেজে উঠেছে। ধুলোময়লা সব বৃষ্টির জলে ধুয়ে সাফ। বাতাস ঠাণ্ডা, নরম। কমাস বৃষ্টির জন্য মাটির ভিতর থেকে কী যেন বেরোয় তখন? কী বেরোয়? না, হাজার হাজার সাদা ঘোড়া, পক্ষিরাজ। কাশফুলে চোদ্দবেড়িয়ার চরটা ছেয়ে যায়। আর সবুজ ঘাস! এত ঘাসের, এত সবুজের সমারোহ কেউ দেখেনি।

    শ্রীপতি বলল, রোগা হয়ে গেছিস।

    পক্ষিরাজ হাসল যেন, অন্ধকার মুখে হাসিটা যেন আরও অন্ধকার।

    শ্রীপতি বলল, তোর খোঁজে ভানু কত দিক না যাচ্ছে।

    পক্ষিরাজ ঘাড় কাত করে, জানি।

    আছে এক মদরঞ্জিওয়ালা, নাম তার গৌরমোহন, তার মদরঞ্জিতে যত খাটুনি তত আয় নেই, সেও গেল তোরে খুঁজতে।

    পক্ষিরাজ ঘাড় কাত করে, জানি।

    ঘরে আছে কোকিলা বধূ একা।

    তাও জানি।

    একা বলে তোকে ছেড়ে দিল কুহকিনী?

    কী জানি!

    ছিলি কোথায়?

    কী জানি?

    ঘুমিয়ে ছিলি নাকি?

    হয়তো তাই, মনে হয় যেন তাই।

    কবে, সেই বৈশাখ মাসে গেলি, তারপর ঘুমিয়ে কাটালি?

    বোধহয় তাই, কিছুই মনে নেই।

    সত্যি! শ্ৰীপতি মাইতি ফিসফিস করল।

    সত্যি।

    কিছু মনে নেই?

    না।

    কোথায় ছিলি জানিসনে?

    না।

    শ্রীপতি বলল, কুহকে অমন হয়।

    পক্ষিরাজ হাসে, কী হয়?

    যেমন তোর হয়েছে।

    কী হয়েছে মাইতিবাবু?

    কী হয়েছে। শ্রীপতি মনে করতে চায় কী হয়েছে। মনে পড়ে তো অন্য কথা। সেই যে ভানু বলেছিল, সেই যে চোদ্দবেড়িয়া গেল পক্ষিরাজ। হেই, তোর কি মনে পড়ে চোদ্দবেড়িয়ার কথা, সেই যেখানে সুবর্ণরেখা নদী…। পক্ষিরাজ হাসে। স্পষ্ট হাসির শব্দ শুনল শ্রীপতি মাইতি, আমি ছাড়া কে চেনে চোদ্দবেড়িয়া?

    শ্রীপতি বলল, তোর মনে পড়ে?

    পক্ষিরাজ আবার হাসে, জিজ্ঞেস করে, তুমি জানো শ্রীপতিবাবু?

    শ্রীপতি মগ্ন হয়। জানে সে। মনে পড়ে। মনের ভিতর ছেয়ে যায় চোদ্দবেড়িয়ার আকাশ। আকাশে বকের পালকের মতো মেঘ উড়ছে। চরের কাশফুল যেন হাজারটা ডানা মেলা বক। পাখা মেলে উড়ন্ত ভঙ্গি তাদের। আর পায়ের নিচে যে ঘাস…।

    ঘাসের ভিতর গুটি গুটি লাল ভেলভেট রঙের লালবিবি পোকা ঘুরে বেড়ায়। সবুজে, সিঁদুরে ফোটায়, নীল ডোরায় ডোরায় চিত্র-বিচিত্র গঙ্গাফড়িং লাফ দিয়ে ঘাসের ওপরে খেলা করে। গুটি গুটি এগোয় সবুজ কাচপোকারা। তাদের সবার কী ফুর্তি! লালবিবির, গঙ্গা ফড়িংয়ের, কাচপোকার, সবার সঙ্গে সবার খেলা।

    একবার ঘুরতে ঘুরতে ঘোড়াটা গিয়ে পড়েছিল তার ভিতরে। শ্রীপতি গেছে বালিমুণ্ডায় চাষবাড়িতে, ভানু ঘোড়ার পিঠে চেপে চলল চন্দনেশ্বর। ভানুর মাথায় নীল পাগড়ি, গায়ে সাদা জামা, নতুন ধুতি। ও যাচ্ছে চন্দনেশ্বর নয়, যেন জগৎ সফরে বেরিয়েছে।

    ভানু গেল চন্দনেশ্বরে। শিবের পুজো দিল। মানতও ছিল ওর। তারপর চুল ফেলে ন্যাড়া হয়ে হত্যে দিল ভগবানের কাছে। আমি, পক্ষিরাজ, তখন দাঁড়িয়েছি হাটের কাছে একটা চালার ধারে। হাটের গন্ধ ভালো লাগছিল না।

    এই সময় ন্যাড়া মাথায় ভানু ফিরল। মাথায় পাগড়ি। উঠে বসল আমার পিঠে। কোথায় যাবে, কোথায়? বাংলায় না ওড়িশায়? আমার ভিতরে তখন অন্য এক আকাঙ্ক্ষা জেগে উঠেছে।

    ঘোড়ার মুখে ফুটে উঠেছিল দুর্দমভাব। পৌরুষের চিহ্ন। ও গা ঝাড়া দিল। লেজ ঝাপটে নিল। ঘাড়টা ঘুরিয়ে নিল। হাঁ করে নিঃশ্বাস টানতে লাগল। কোথায় যেন যাবে? বৃষ্টির মেঘ উধাও হয়ে আকাশে কারা যেন ভেসেছে। সাদা পক্ষিরাজ। বাতাসে কেমন ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব।

    ভানু ফিরতে চায় তখন। কোথায় ফিরবে? দীঘায়! আমি পক্ষিরাজ। আমি কন্থক। আমার দেহটা তখন ফুলছে। নাহ্, ওদিকে নয়। দৌড়াই পশ্চিমে। পশ্চিমে আর পশ্চিমে। নাকে টেনে নিচ্ছি পৃথিবীর ঘ্রাণ। চোখে যেন কী ভেসে উঠছে। মন কোনো দিকে যেন লাফ দিয়ে ছুটছে। সমুদ্র থাকল বাঁয়ে, দক্ষিণে। আমি যাই পশ্চিমে। কেয়াঝোপ, ঝাউবন, পিচরাস্তা, মেঠো রাস্তা, বালির স্তূপ, বালিয়াড়ি আর বালির দেশ পার হয়ে ঘণ্টা দেড়েকের ভিতর পৌঁছে গেছি স্বর্গে। স্বৰ্গ চোদ্দবেড়িয়া।

    ভানু! না পিঠে নেই, উলটে পড়ে গেছে। কী বেগেই না ছুটেছিল পক্ষিরাজ! হাওয়ার মতো আছড়ে পড়েছে চোদ্দবেড়িয়ায়।

    তারপর? শ্রীপতি জিজ্ঞেস করল।

    সব তো জানো তুমি মাইতিবাবু।

    কী হলো তখন? শ্রীপতি জিজ্ঞেস করে।

    আমি তো তখন চোদ্দবেড়িয়ায় ঢুকে পড়েছি মাইতিবাবু। আহা, কী সে জায়গা, তুমি ভুলে গেলে সব!

    মাথা নাড়ে শ্রীপতি, না, তবে আবার বলো।

    পক্ষিরাজ ফিসফিস করে, কী আশ্চর্য! এখনও মনে পড়লে গা কাঁপে।

    বলে যা। চাপা গলায় বলে শ্রীপতি।

    হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে এ আমি কোথায় এলাম? একটা নয়, দুটো নয়, কত কত ঘোড়া। কত রকমের চেহারা। মাদি, মদ্দা, ওরা সব এলো কোত্থেকে! আর এত সাদা কাশফুল! ঐ তো দূরে সমুদ্র। নীল, কী নীল! গর্জন শোনা যায়। আর এই নদী! এর নাম স্বর্ণরেখা! কত কত বড়! ফুলে ফেঁপে একাকার। টলমল করছে জল। নদী সমুদ্র মিশে নদীও নেই সমুদ্রও নেই, মহাসিন্ধু হয়ে গেছে। সবুজের মেলা এই চরে। ঘাস খেতে এসেছে আরও কত ঘোড়া। কে যেন এগিয়ে আসছে আমার দিকে। একটা ঘুড়ী, তাই না!

    ঘর কোথায়? পক্ষিরাজ জিজ্ঞেস করে।

    হিনাড়ি, গিরিমশায়ের বাড়ি।

    কোত্থেকে আসা হলো? পক্ষিরাজ জিজ্ঞেস করে।

    ভোগরাই। আর একটা ঘোড়া জবাব দেয়।

    আর তুমি?

    এলাম রানীশাহী থেকে।

    হাসতে হাসতে সব লুটোপুটি খাচ্ছে। ডিগবাজি, আনন্দ ফুর্তি! ঘাস মুখে নিয়ে দৌড়চ্ছে। কাশের জঙ্গলে গিয়ে লাফ দিয়ে কাশফুল হয়ে যাচ্ছে। হামলে পড়ছে কেয়ার ঝোপে, সবুজ ঘাসে। এ ওর মুখে মুখে কথা বলছে, কানে কানে ফিসফাস। গান! আহা, বাতাসে লাফ দিয়ে উঠছে হিনাড়ির সেই রূপসী ঘুড়ীটা। একেবারে সাদা। গায়ে কোথাও কোনো অন্য রকম ছিটে নেই। শুধু কপালে একটা, দুটো, তিনটে, বাদামি ফোটা।

    হ্যাঁ, হিনাড়ির সেই ঘুড়ীটাও পালিয়ে এসেছে। সব্বাই পালিয়ে এসেছে। তারা বছর বছর আসে এই চরে। এখানে পালিয়ে এসে কদিন খুব ফুর্তি করে। ফুর্তি করতে করতে দিন পার করে। আর এই আশ্বিনের দিন যে খুব ছোট। কত তাড়াতাড়ি তার আয়ু ফুরিয়ে বেলা নেমে যায়। তখন ঘোড়ারা চরের ঘাসের ওপর দাঁড়িয়ে সমদ্রের দিকে চেয়ে থাকে। পালতোলা মাছের নৌকো, লঞ্চের আলো, শব্দ, সমুদ্রের ঐ দূর কিনারায়। জাহাজের সার্চলাইটে সকলে চমকে ওঠে। আকাশের তুলতুলে মেঘে অবাক হয়ে যায়। তাতে আবার জ্যোৎস্না। চাঁদের আলোয় সেই রূপসী কেমন মায়াবতী হয়ে ওঠে।

    শ্রীপতি বলল, তারা সব কুহকিনী।

    ওরা কী সুন্দর! গুনগুন করে পক্ষিরাজ।

    রূপবতী?

    হ্যাঁ।

    ওই রূপই সব্বোনাশী।

    আহা, মনে পড়ে যে, খুউব মনে পড়ে। শুধু কি ওই রূপসী ঘুড়ী, আকাশে যে মেঘ ছিল!

    বলো, বলে যাও। শ্রীপতি ফিসফিস করে।

    সেই যে মেঘেরা! সোনালি মেঘ, সাদা মেঘেরা আসলে আমাদের দোসর নীল পক্ষিরাজের সাদা ডানা। ঝুপ করে নেমে পড়বে এখানে। আর নামতেই রাত ফুরিয়ে যাবে। তখন শুধু খেলা আর খেলা, আনন্দের ভিতরে চৌপাট হয়ে যাওয়া। এই রকম ভাবতে ভাবতে ঘোড়াদের চোখ জুড়িয়ে আসে। রাত বয়ে যায়।

    তারপর কী হলো? শ্রীপতি জিজ্ঞেস করে।

    সব তো তুমি জানো। পক্ষিরাজ বলে।

    ভানু, ভানুকে জিজ্ঞেস করলে সব জানা যাবে, ভানু জানে। শ্রীপতি বলে।

    ন্যাড়া মাথা ভানু যে কী করে খবর পেল আমি আছি চোদ্দবেড়িয়া, কে যে ওকে খবর দিয়েছিল ঘোড়ারা পালিয়ে যায় ওখানে।

    কী অদ্ভুত! শ্ৰীপতি বলে।

    হ্যাঁ, পালিয়ে যাওয়ার জায়গা, যার পালায় তারা ওখানে যায়, ওখান থেকে কেউ পালায় না।

    কী হলো বলো। শ্রীপতি ডাকে।

    ভানু গিয়ে হাজির হলো সেই চরে, আমাকে ঠিক চিনে ফেলল।

    হিনাড়ির ঘুড়ীটা জিজ্ঞেস করল, কে?

    মালিকের লোক।

    নিতে এসেছে?

    সেই রূপসী দূর থেকে দেখতে থাকে ভানুকে। তারপর বিড়বিড় করে বলে, প্রথম প্রথম এই রকম হয়, আমাদেরও হয়েছিল, বড় দড়ির ফাঁস দিয়ে আটকে ফেলেছিল আমাকে। এখন আর পারে না, বুঝেও গেছে একেবারে পালাচ্ছি না, ফিরে তো যাব।

    ভানু কত ডাকল! ঘোড়াটা সাড়া দিল না। ভানু তখন ধরতে গেল। পারল না, আমি তখন পালিয়ে গেছি লাফ দিয়ে। এই মস্ত চরভূমিতে ভানু আমার সঙ্গে কতক্ষণ যুঝবে। পারে না। ফিরে যায়।

    ভানু গেল দীঘায়। ততক্ষণে শ্রীপতি ফিরে এসেছে। শ্রীপতিকে নিয়ে আর একটা দশাসই লোক সঙ্গে ভানু চলল চোদ্দবেড়িয়া। কিন্তু চোদ্দবেড়িয়া যেতে হলো না।

    তখন উত্তরের হাওয়া আসতে আরম্ভ করেছে। শুকনো ঠাণ্ডা বাতাস। গায়ের জল, ঘাসের রস, পৃথিবীর রস শুষে নিয়ে সেই বাতাস চলে যায় অনন্ত নীলের দিকে। সেই সময় ঘোড়ারা দেখে কাশবনের রং মরে যাচ্ছে, ঘাস আর ফুলের গায়ে পড়ছে পোড়া পোড়া ছোপ। গাছের পাতারা নড়ছে না। কেয়াঝোপে পুরু করে ময়লা জমতে শুরু করেছে। সেই সময়ে ঘোড়ারা চর ছাড়তে আরম্ভ করে। তৃপ্ত হয়েছে সকলে। তৃপ্তির চিহ্ন চোখেমুখে, এবার আবার লোকালয়ে।

    তাহলে ও শুধু আশ্বিনের স্বর্গ?

    হ্যাঁ।

    পরে আর থাকা গেল না?

    না।

    আশ্বিনে ওখানে পালায়?

    হ্যাঁ, তুমিও আসতে পারো মাইতিবাবু।

    হিনাড়ির কুহকিনীর জন্য? হা হা করে হাসে শ্রীপতি, কোকিলা কি থাকবে ওখানে?

    সে কে?

    যে বন্দি করেছিল তোকে।

    পক্ষিরাজ বলে, তারে তো চিনিনে। সে কি কোকিলার চেয়েও রূপসী?

    কে?

    হিনাড়ির ঘুড়ী।

    কী জানি! কোকিলাকে তো দেখিনি।

    বন্দি করেছিল তোরে?

    মনে নেই।

    কুহক করেছিল?

    মনে নেই, পক্ষিরাজ বলে, মনে আছে, ভানুবাবুর সঙ্গে ফাঁস নিয়ে আসছে একটা ষণ্ডামার্কা লোক, কী স্বাস্থ্য! দেখলে ভয় করে।

    ষণ্ডামতো লোকটা একটা শক্ত দড়ির ফাঁস নিয়ে যাচ্ছিল ভানু আর শ্রীপতির সঙ্গে, যেতে যেতে সে বলল, এ বড় বদ অভ্যেস, মাদি ঘোড়ার পাল্লায় পড়লে ও না ফিরতেও পারে।

    শ্রীপতি ক্ষেপে গিয়ে বলল, সামাল দিতে পারিসনি!

    ভানু তখন হেসে বলল, আমি জানি ওখানে এখন একটাও মাদি নেই, অশ্ব ঠিক ফিরবে, ফিরবে, না হয় থাকবে।

    ঠিক এই সময়ে ওরা দেখল দূরের বালির পথ ধরে ঘোড়াটা আসছে। ঘাড় উঁচু করে দেখছে চারদিক।

    ষণ্ডা লোকটা ফুঁসে উঠল, ফাঁসটা দুলিয়ে নিয়ে শ্রীপতিকে জিজ্ঞেস করল, ধরে ফেলব, আপনার অশ্ব তো বটে।

    শ্রীপতি দেখল লোকটার দুই উরু ফুলে উঠেছে। দুই চোখ ঠেলে বেরোচ্ছে। লোকটা ছুটে যেতেই শ্রীপতি আটকাল, না, ও আসছে?

    হ্যাঁ, ঘোড়াটা ফিরছে তাদের দিকে। চিনেও তো অন্য পথে যাচ্ছে না। খুব আস্তে আস্তে হাঁটছে। চাকচিক্য ফিরছে। আর সেই দুর্দম বেগ নেই। খ্যাপা স্বভাব নেই। তৃপ্তিতে শ্লথ।

    খুব আস্তে আস্তে এসে ও ধরা দিল। কিন্তু পরের বছর ওই আশ্বিনের প্রথমেই আবার ছুটে গেল চোদ্দবেড়িয়ার আকাশ নামানো চরে, ঘাসের ভিতর, কাশফুলের ভিতর।

    শ্রীপতি হাসে, আবার গেলি!

    আশ্বিনে যে হিনাড়ির মেয়েছেলেটা ডাকে বাবু, সারা বছর মনে পড়ে না, ওই সময়ে মনে পড়ে।

    এবার তো আশ্বিন ছিল না।

    ছিল না! বিস্মিত হয় পক্ষিরাজ, তাহলে কী ছিল?

    তুই জানিসনে?

    না তো! কেঁদে ওঠে শ্রীপতি মাইতির ঘোড়া।

    সে তো ছিল বৈশাখ মাস।

    হ্যাঁ, হ্যাঁ বৈশাখ, ওইটাই তো ধন্দ বাবু, বৈশাখ মাসে কী করে পালায় সে! এগিয়ে এলো ভানু, আমার মাথায় কিছুতেই ঢোকে না।

    শ্রীপতি বলল, সে কই?

    কে, কার কথা জিজ্ঞেস করছেন?

    পক্ষিরাজ।

    আমিও তো সেই কথা জিজ্ঞেস করি, গেল কোথায় আমার কন্থক?

    এই তো ছিল। বলল শ্ৰীপতি।

    এই না, অনেক আগে ছিল বলতে পারেন।

    তুই সর দেখি জানালা থেকে। শ্রীপতি ধমকে ওঠে।

    ভানু বলল, একটা কথা বলতে এলাম।

    কী কথা?

    ভানু বলল, আজ রাতে আপনি কি হোটেলে থাকবেন বাবু?

    কেন?

    থাকুন না, আজ রাতটায় খুব দুর্যোগ। ভানু হাসতে থাকে।

    শ্রীপতি মাথা নাড়ে, উঁহু, সরে যা জানালা থেকে।

    ভানু সরে যেতে শ্রীপতি মাইতি দেখল বালি-স্তূপটা শূন্য। কেউ নেই। কে ছিল ওখানে? পক্ষিরাজ? শ্রীপতি দেখল আকাশ কালো হয়ে মেঘ নেমে এসেছে অনেক নিচে। অন্ধকার রাতটাই মেঘের মতন ছড়িয়ে আছে।

    শ্রীপতি বলল, তুই দেখিসনি?

    কী দেখব?

    অশ্ব, পক্ষিরাজ, ছিল যে এখানে।

    হা হা করে হাসে ভানু, আমারে দেখেছেন।

    চোওপ! গর্জন করে ওঠে শ্রীপতি। ভানুটা খুব শয়তান। ভানুটা হাসছে। হেসেই যাচ্ছে। ঘোড়াটার জন্য মন যে খারাপ করবে সে, তার উপায়ও নেই। ভানু তার চোখ ঢেকে দিয়ে হা হা করছে।

    শ্রীপতি গর্জন করতে চায়, সরে যা সামনে থেকে।

    তখন তো কেউ থাকবে না, ঘোড়া না থাকুক ঘোড়াপালক ছন্দক আছে এখন।

    চোওপ, ওসব কথা বলবিনে।

    ভানু বলল, আমারে দেখে ঘোড়াটার কথা মনে পড়ে না বাবু?

    তুই কে?

    কন্থক আমার কাছেই তো রয়েছে এত যুগ।

    তোর সব মিথ্যে।

    তাহলে কন্থকও সত্যি নয়।

    গর্জন করতে চায় শ্রীপতি আবার, সরে যা।

    ভানু বলল, আমি ছাড়া তোমার ঘোড়া মিথ্যে বাবু, আমার ঘোড়া ছাড়া আমি মিথ্যে, কতকাল ধরে আছি, তখন আকাশে ফুটত সোনালি মেঘ, সে মেঘ আর তো ফুটতে দেখি না। আহা! কী দিন ছিল বাবু, নীল গগন, সোনালি মেঘ, রুপোলি রোদ, নরম বাতাস, দুধের মতো জোছনা। ও মশায়, তখন আকাশে বাতাসে ভগবান, রাজপুত্র মহামানব হয়ে গেছেন। তিনি ভালোবাসিতে কহিলেন, মোরা ভালোবাসিলাম, কন্থক আর ছন্দক, মনে পড়ে বাবু?

    বাবু শ্রীপতি মাইতি তার জানালায় নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমি লিলি – লিলি চক্রবর্তী
    Next Article বাতাসবাড়ি জ্যোৎস্নাবাড়ি – অমর মিত্র

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }