Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অশ্বচরিত – অমর মিত্র

    লেখক এক পাতা গল্প469 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অশ্বচরিত – ৩০

    তিরিশ

    বারান্দায় মাদুরে বসেছিল ভাইবোন। গৌরমোহন আর ঊষা। ভানু আগে, তার পিছনে শিবরাম ঢুকল ভিতরের উঠোনে। ভানু দেখল ভাইবোনের মুখ ষাট পাওয়ারের আলোর নিচে রক্তহীন হয়ে গেল আচমকা। ভানুর মনে হলো শিবরামের কথা যেন ওরা দুজনে বেশ ভালোভাবেই শুনেছে। কী যেন আলাপ করছিল ভাইবোনে, কথা বন্ধ হয়ে গেল। মাথা নিচু করে ভিতরে ঢুকে যায় শিবরাম। শিবরাম ভিতরে ঢুকতে ঊষাও ঢুকল। ভানু বসল গৌরমোহন মদরঞ্জিওয়ালার পাশে। চুপচাপ। বারান্দায় কোনো কথা নেই। কথা ভিতরেও নেই। নীরবতা থমথম করতে লাগল। এত স্তব্ধ চারপাশ যে দূরের নদীর ছলচ্ছল যেন টের পেতে লাগল ভানু। ঘাড় তেরচা করে আকাশে তাকিয়ে আছে সে। ধ্যানমগ্ন হয়েছে যেন গৌরমোহন। ভানু অনন্ত এক নৈঃশব্দ্যকে অনুভব করছিল যেন। আকাশ থেকে লম্বা করে পুব হতে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে একটি আলোর টুকরো ছুটে যেতে দেখা গেল। ওদিকে, দূর অন্ধকারে সমুদ্র আছে কোথাও। সমুদ্রে পড়েছে উলকা! ভানু যেন সেই

    পতনের শব্দ শুনতে পায়।

    বহুক্ষণ বাদে গৌরমোহন বলে, ঘোড়াটা মিলল না?

    ভানু চমকে ওঠে, মিলবে না?

    কী জানি! গৌরমোহন বিড়ি ধরায়। ধোঁয়া উড়িয়ে দেয় বারান্দার বাইরের অন্ধকারে। উঠল। উঠে বারান্দার আলোটি নিভিয়ে দিয়ে এলো। ঘন অন্ধকার ব্যাপ্ত হলো সর্বত্র। কী অন্ধকার! ভানু বলল, ওই দিন মরুভূমির নিচে অ্যাটম বোমা ফেলেছিল, জানো কি?

    তাই তো! গৌরমোহন বলল, মনে তো ছিল না, তুমি সেই পূর্ণিমার কথা বলছ তো, কী আশ্চর্য! মিঠাই বিলি হলো, পরদিন আবির মাখাল আমাকে।

    ভানু তখন সুরেন কুণ্ডুর কথাটি বলল। শুনে গৌরমোহন বলল, তাহলে তো নতুন করে খুঁজতে হয় ভানুবাবু।

    হুঁ, আর একটা কথা কি জানো?

    কী?

    কথাটা বলেছিল সুভদ্ৰা বউ।

    কার বউ?

    ভানু বলল, ও বলেছিল ওই দিন দুপুরে চাঁদবালির আকাশ পুড়িয়ে সমুদ্রে কী যেন ছুটে গিয়েছিল, আকাশ কালো হয়ে গেল, জ্বলে গেল যেন।

    কোন দিন?

    সেই বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন।

    কী ওটা?

    রকেট।

    সে কী?

    ক্ষেপণাস্ত্র বলে, কথাটা ভুলেই গিছলাম, তখন কিছু মনেই হয়নি, এমনকি সুরেন কুণ্ডু বলার পরও মনে পড়েনি, এখন মনে পড়ল।

    কেন মনে পড়ল?

    আকাশ দিয়ে তারা খসে যাচ্ছে দেখে মনে হলো কথাটা।

    এ সময় তারা খসে যায়, কিন্তু সুভদ্রা কে?

    সে অনেক বলতে হবে, পরে শুনো, কিন্তু ঘোড়াটা যদি না এসে থাকে এদিকে, অবনী মৃধা লোকটা বলল কেন?

    কোনো কোনো লোক অমন থাকে।

    কীরকম থাকে? ভানু জিজ্ঞেস করে।

    গৌরমোহন চুপ করে থাকে। ভানুর মনে হয় অবনী মৃধা লোকটি ইচ্ছে করেই তাকে ওই রসুলপুরের নদীর দিকে পাঠিয়েছে। লোকটা কে? লোকটা কী বলতে চায়? লোকটা কি বলতে চায় তার কন্থক এই শান্ত দৌলতপুর, দরিয়াপুর, রসুলপুরের নদী, খোলা আকাশ, নরম বাতাসে এসে ঘুমিয়ে পড়েছে। বিশ্রাম নিচ্ছে ক্লান্ত ঘোড়াটি? এই জায়গা তো বিশ্রামের উপযোগী। আহা, কী স্নিগ্ধতা জড়িয়ে রয়েছে এর অন্ধকারে, এর নীল জ্যোৎস্নায়! জ্যোৎস্নায় ভুঁইয়ের ওপর পড়ে থাকা গাছের ছায়াটি কী সুন্দর! ভানু কিছুটা দেখে, কিছুটা কল্পনা করে। সে বলে, মদরঞ্জিওয়ালা, কাপালকুণ্ডলা বইটা কি আছে এ বাড়িতে?

    কেন?

    এখানে বসে পড়তাম, পড়ে শোনাতাম।

    কে শুনত?

    ভানু বলল, অন্ধকার, আর অন্ধকারে সে।

    সে কে? গৌরমোহনের গলার স্বর কেঁপে যায়।

    তোমার কোকিলা।

    তুমি যাও না তার নিকট, সে তোমাকে খুব মানে, ঘোড়াওয়ালা বলে হি হি করে হাসে।

    ভানু বলল, খুব গুণী কইন্যা তোমার কোকিলা, চাও না কপালকুণ্ডলা বইটা। তাহলে তো আলো জ্বালাতে হয় আবার।

    ভানু বুঝল তাও তো সত্যি। আলো ছাড়া পড়া হবে কী করে? আর আলো জ্বললে বারান্দার এই অন্ধকার, আকাশের এক কোণে শীর্ণ চাঁদের আবছা হলুদ আলোর বিভা, সব মুছে যাবে। বারান্দা থেকে, উঠোন থেকে বেরিয়ে তারা নদীর দিকে চলে যাবে।

    ভানু বলল, আমরা রাতে আলো জ্বালাই কেন?

    আমরা মানে? গৌরমোহন হকচকিয়ে যায়।

    মানুষ কেন সন্ধে হলে পাখির মতো কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়ে না, ও মদরঞ্জিওয়ালা?

    গৌরমোহন বলল, তা’লে কী হতো?

    ভানু বলল, ঘোড়াটা পালাত না. ওকে হারিয়ে আমি যে কী করি!

    কে বলল, এসব?

    মনে হলো তাই বললাম। হাসল ভানু।

    আলোটা জ্বলে ওঠে। ভানু ভাবছিল জ্বলবে। তার কথাটি কি ভেতরে যায়নি? ঊষা কিংবা শিবরাম শোনেনি? ঊষা দাঁড়িয়ে আছে হাতে একটি বাঁধানো বই নিয়ে। বইটি মাদুরে রেখে দূরে গিয়ে বসল, মদরঞ্জিওয়ালার বোন।

    ভানু বইটি হাতে নেয়। জীর্ণ হয়েছে, কত পুরনো! বহুবার পাতা খোলা হয়েছে, বহুবার বহু হাতে ঘুরেছে বইটি। ভানু বইটি চোখের সামনে মেলে ধরল। শিবরাম দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে এবার বলল, আমি পড়ি?

    ভানু বলল, পড়ো তাহলে আমি অন্ধকার পাই দুচোখ বুজে।

    শিবরাম বইটি নিতে ঊষা উঠল। ভিতরে চলে গেল। গৌরমোহন দেখল তা, বলল, ও ভিতরে বসে শুনবে।

    শিবরাম আরম্ভ করল :

    ‘প্রায় দুইশত পঞ্চাশ বৎসর পূর্বে একদিন মাঘ মাসের রাত্রি শেষে একখানি যাত্রীর নৌকা গঙ্গাসাগর হইতে প্রত্যাগমন করিতেছিল…।’

    ভানু চোখ বুজতে বুজতে দেখল গৌরমোহন তাকিয়ে আছে শিবরামের মুখের দিকে। শিবরাম মগ্ন স্বরে এক একটি বাক্য শোনাচ্ছে। গৌরমোহন কি শুনছে না? মনে হচ্ছে শিবরামের মুখের দিকে তাকিয়ে গৌরমোহন অন্য কথা ভাবছে। কার? কোকিলার? গৌরমোহন কি জানে শিবরাম মনে মনে কোকিলাকে শোনাচ্ছে। শিবরাম কি কল্পনায় কোকিলা বধূকে অনুভব করছে দূরের অন্ধকারে, বিজনে? শিবরামের কণ্ঠস্বর শ্রুতিগোচর হয়। শুনতে শুনতে ভানু দাসের দুই চক্ষু মুদে আসে। তখন ‘শিশিরাকাশে নক্ষত্রমণ্ডলী নীরবে ফুটিতে লাগিল, যেমন নবকুমারের স্বদেশে ফুটিতে থাকে, তেমনি ফুটিতে লাগিল। অন্ধকার সর্বত্র জনহীন;–আকাশ, প্রান্তর, সমুদ্র, সর্বত্র নীরব, কেবল অবিরল কল্লোলিত সমুদ্র- গর্জন আর কদাচিৎ বন্য পশুর রব। তথাপি নবকুমার সেই অন্ধকারে, হিমবর্ষী আকাশ, আকাশতলে বালুকা স্তূপের চতুর্পার্শ্বে ভ্রমণ করিতে লাগিলেন। কখনো উপত্যকায়, কখনো অধিত্যকায়, কখনো স্তূপতলে, কখনো স্তূপশিখরে ভ্রমণ করিতে লাগিলেন।…

    ভানু দাস যেন তন্দ্রার ঘোরে সব দেখতে পায়। কতদিন বাদে তারা ফোটার মতো করে তার সম্মুখে ফুটে উঠছিল সম্মোহনি শব্দের আলোকবিন্দু। কতকাল বাদে, যেন কত যুগ বাদে উচ্চারিত মন্ত্রের মতো শব্দরাজি তার কানের ভিতরে প্রবেশ করে সমস্ত শরীর স্তব্ধ করে দিচ্ছিল। ভানুর মাথা হেলে পড়ে। ভানু স্পষ্ট দেখে সেই অরণ্যময়, সৈকতময়, সমুদ্র উপকূল। সূর্যাস্ত হয়ে এলো প্রায়। বালিয়াড়ির ধবল শিখরমালায় ধীরে ধীরে ছায়া বিস্তৃত হচ্ছিল। একটু বাদে সব বিলীন হয়ে যাবে। সমুদ্র, জলরাশি, সৈকতভূমি, অরণ্য সব একই অন্ধকারে শূন্য হয়ে যাবে। শুধু রয়ে যাবে কলকল্লোল। রয়ে যাবে তরঙ্গভঙ্গ প্রক্ষিপ্ত ফেনার রেখা। শ্বেতপুষ্পে গ্রথিত মালার ন্যায় ধবল ফেনারেখা নীল অন্ধকারে নীল জলমণ্ডলে একমাত্র দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। ভানু দেখতে পায় অস্তগামী দিনমণির সুবর্ণ আলোকরশ্মি নীল জলের একাংশে রক্তরাগ মণির বিভায় ফুটে উঠেছে। শ্রীপতি মাইতির ঘোড়াটি বেরিয়ে এলো অরণ্য থেকে। বালিয়াড়ির গা ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে সে। ভানু দেখতে পেল প্রদোষকাল সন্নিকটে। দিবাবসান আসন্ন। নীলাম্বুরাশি প্রবল হয়ে উঠছে ক্রমশ। সমুদ্র-গর্জন আর সমস্ত শব্দকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছিল। ভানু ঘাড় ঘুরিয়েছে কী এক দীর্ঘশ্বাসে। তারপর! ‘ফিরিবামাত্র দেখিলেন অপূর্ব মূর্তি! সেই গম্ভীরনাদি বারিধি তীরে সৈকতভূমে অস্পষ্ট সন্ধ্যালোকে দাঁড়াইয়া অপূর্ব রমণী মূৰ্তি!”

    কে, কোকিলা বধূ ঐ?

    কোকিলাই। আধো তন্দ্রার ঘোরে শিবরামের কপালকুণ্ডলা পাঠ কানে আসছিল। তন্দ্রাচ্ছন্নতায় সেই অপূর্ব রমণীকে দর্শন করে ভানু বলে, ঘোড়াটি কোথায় গেল কিছু খোঁজ হলো না, সেদিন ছিল বুদ্ধ পূর্ণিমা, কুমারের জন্মদিন কন্তুকের মনে ছিল!

    উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে আকাশ জ্বলে উঠল। সহস্র সূর্যের আলোয় আকাশ যেন ঝলসে পুড়ে গেল। দাউ দাউ করে জ্বলতে লাগল আকাশ সমুদ্র। তেজস্ক্রিয় ধূমরাশি, নিকষকালো ধূম, জলতল, সৈকতভূমি থেকে মাথার আকাশ পর্যন্ত ব্যাপ্ত হয়ে গেল। আকাশের যত তারা নিবে গেল সব। বিস্ফোরণে ছুটতে আরম্ভ করল কন্থক। তার সর্বাঙ্গ গলে যাচ্ছে, পুড়ে যাচ্ছে, পুচ্ছ কেশর রক্তাভ আগুনের গ্রাসে পড়ে মুছে যাচ্ছিল ক্রমশ। ভানু ডাকল, কোকিলা হে, আমার কন্থক? ভানু কোকিলার দিকে চেয়ে আছে।

    ‘অনন্তর সমুদ্রের জনহীন তীরে, এইরূপে বহুক্ষণ দুইজনে চাহিয়া রহিলেন। অনেকক্ষণ পরে তরুণীর কণ্ঠস্বর শুনা গেল। তিনি অতি মৃদু স্বরে কহিলেন, “পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?”

    ভানুর ঘাড় আরও কাত হয়ে গেল। গৌরমোহন অস্ফুট স্বরে বলল, ঘুমিয়ে পড়েছে।

    তাহলে বন্ধ করি? শিবরাম বইখানি কপালে ঠেকায়।

    পরদিন সকালে গৌরমোহন ট্রেকারে তুলে দিল ভানুকে, বলল, মীরগোদা ঘুরে যেও।

    কাঁথি, রুপশ্রী সিনেমা হলের কাছে ঘুরঘুর করতে করতে ভানু ঠিক করতে পারছিল না মীরগোদা যাবে কি না। গৌরমোহন নেই, কোকিলা, যুবতী বধূ একা ঘরে রয়েছে ওই নির্জন, প্রাচীন মরুভূমি প্রায় সাগরকূলে, তার যাওয়া কি ঠিক হবে? গৌরমোহন কেমন মানুষ, বউ ফেলে রেখে ভগ্নীর ঘরে গিয়ে বসে আছে। কোনো দরকার আছে বলে মনে হয় না। হয়তো আছে শিবরামের বউ গৌরমোহনের ভগ্নীর ডাকে গৌরমোহন গেছে। শিবরামের মনের বাসনা কি ঊষা জানে? জানে হয়তো, তাই তাকে পাঠাল নাকি গৌরমোহন মীরগোদায়? নানা রকম ভাবনাচিন্তায় ঘুরপাক খেতে খেতে ভানু কাঁথি থেকে বাস ধরে দীঘার পথে রামনগর নামল, তারপর সেখান থেকে ভ্যান রিকশায় উঠে চলল মীরগোদা হাটে। হাটবার নয়, তাই শূন্য চালা, ঘুমন্ত কুকুর আর তাস খেলায় মগ্ন জনাকয় অলস ব্যাপারী ছিল। ভানুকে তারা দেখল, কোনো কৌতূহল প্রকাশ করল না। ভানুকে হয়তো চেনে। দীঘায় যাদের যাওয়া-আসা, তারা চিনবে না কেন। ভানু চলল মদরঞ্জিওয়ালার কুটীরে। ডান ধারে বালির স্তূপ, ঝাউ জঙ্গল, বালির ঢেউ রেখে, প্রাচীন সমুদ্রচিহ্ন রেখে দিয়ে পৌঁছল গৌরমোহনের বাড়ি। আছ নাকি কোকিলা বধূ, আছ, আমি ঘোড়াওয়ালা ভানু দাস এলাম।

    ঘুমোচ্ছিল কোকিলা। ঘরের আগল বন্ধ ছিল। দরজা খুলে ঘুমভাঙা চোখ ডলতে ডলতে, গায়ের আঁচল তুলতে তুলতে বেরোল দাওয়ায়। ভানুকে দেখে সে ভাবলেশহীন, দাওয়ার কোণ থেকে মাদুর টেনে দিতে দিতে বলল, জানতাম, তোমারে পাঠাবে জানতাম, তা দেরি হলো কেনে?

    জানতে! ভানু তো অবাক। বসল মাদুরে।

    মনে হচ্ছিল কদিন ধরে, তুমার আসার দিন হয়ে গেছে।

    সে কী কথা, আমি তো নিজেই জানতাম না আসব।

    খুব জানতে! কোকিলা বলে, ঘোড়াটারে কি খুঁজে পেলে হে?

    না, কিন্তু একজন খবর দিল…। ভানুর মনে পড়ল অবনী মৃধার কথা। অবনী মৃধা খবর দিল তাই না সে দৌলতপুরের দিকে গেল। গেল বলেই না গৌরমোহনের সঙ্গে দেখা হলো। দেখা হলো বলে শিবরামকে চিনল সে। রসুলপুরের নদী, শিবরামের আত্মউন্মোচন, সব হলো। কিন্তু অবনী মৃধা লোকটা কে? কেন তাকে মিথ্যে বলে দৌলতপুরে পাঠিয়েছিল? উদ্দেশ্যটা কী? চেনে নাকি তাকে কোকিলা? অমন নাম শুনেছে কখনো? গায়ে পড়ে আলাপ করল ভানুর সঙ্গে। বুদ্ধ পূর্ণিমার রাতে ঘোড়াটা উধাও হয়েছে শুনে, আর ঐদিনেই পোখরানের বালির নিচে…।

    কোকিলা শুনে অবাক, কী বলছ ঘুড়াওয়ালা?

    ভানু বলল, এই সত্যটি জানা ছিল না, জানলাম তো বজবজে গিয়ে।

    কোকিলা বলে, কী আশ্চর্য! আমি তো জানি, মোর তো সব জানা ভানুদাদা, পরদিন হাট ছিল, কুনোদিন যে লক পেপার আনেনি, লিয়ে এলো একখানা, আর তার মাথায় সবুজ রঙের আবির, মিঠাই লিয়ে এলো গৌরদাদা।

    বলল না তো আমারে।

    স্মরণ করায়ে দিয়েছ বোমা ফাটানোর কথা?

    হ্যাঁ, বলেছি তো।

    কী বলল?

    শুনল শুধু, কিছুই তো বলল না।

    মনের দুঃখে আছে মদরঞ্জিওয়ালা।

    দুঃখটা কী? জিজ্ঞেস করে ভানু।

    তা সে জানে, তুমি যদি দেখতে, কী আনন্দ লকটার সেদিন, পেপারটা রয়েছে ভিতরে, আমি ছবি দেখলাম, ও কিছু কিছু পড়ে শুনাল।

    ভানু ঠোঁট কামড়ায়, তুমি পড়তে পারো না?

    না। বিষণ্ন মুখে জানায় কোকিলা।

    তুমি এত সুন্দর আঁকতে পারো পড়তে জানো না?

    আঁকা তো শিখিনি, দেখে হয়েছে।

    কী করে?

    বাহ্, এই যে আশমান, বনজঙ্গল, নদী, সমুদ্দুর, মাঠ গাছপালা ইসব চিনতে তো লক লাগেনি ভানুদাদা, এই যে আলো, রোদ্দুর, মেঘ, বিষ্টি, সন্ধে ইসব চিনতে তো লক দরকার হয়নি ঘুড়াওয়ালা, এই যে লাল, নীল, হলদে, সবুজ, বেগুনি, কমলা, তুঁতে নীল রং, রামধনুকের সাত রং, ইসব তো আপনাআপনি চিনা হয় ভানুদাদা, কিন্তু ‘ক’ বলতে গেলেও লক লাগে, জুছনা চিনি বটে, নীল জল চিনি, নীল জুছনা চিনি, কিন্তু ‘ক’ কাগজে তা লিখা থাকলি চিনতা পারবনি, আর গৌরদাদা তো শিখাল না।

    তুমি শিখবে বলেছিলে?

    বলি নাই, কিন্তু সে তো জানে মু ‘ক’ চিনিনি, ‘খ’ চিনিনি।

    ভানু দীর্ঘশ্বাস ফেলল, তারপর হেসে কোকিলার বিমর্ষ ভাবটি উধাও করে দেয়, তুমি তো আসলটাই চেনো, রং চেনো, আমি রং কানা।

    তুমি রং কানা, বিশ্বাস করি না।

    তাই তো বটে, রঙের নাম জানি, রঙের চেহারাটি জানি, ভিতরটা অন্তরটা কি জানি? রঙের রূপ জানি না, রং কেমন কথা বলে তা জানি না।

    কোকিলা বধূ বলে, থাক উসব কথা, বলি সেই কার কথা যেন বলছিলে, অবনী মিরধা না কেডা, কী হলো বলো।

    সে কেন মিথ্যে বলে পাঠাল আমারে দৌলতপুর?

    কথাটা তো সত্যিও হতে পারে। বলল কোকিলা, সে হয়তো দেখেছিল তুমার ঘুড়াটারে, দিখতেও তো পারে।

    ভানু চুপ করে থাকে। ভানু দুচোখ বন্ধ করে। কোকিলা বধূ, তুমি কি বুঝবে শূন্যপৃষ্ঠ অশ্ব কন্থককে নিয়ে আমি ফিরেছিলাম কপিলাবস্তু নগরে। অশ্বটির সব ছিল, ভূষণ ছিল, শ্রী ছিল না। যে পথ আমরা এক রাত্রে পার হয়েছিলাম কুমারকে নিয়ে, কপিলাবস্তুর রাজপুত্রকে নিয়ে, সেই পথে ফিরেছিলাম আট দিন ধরে। শ্রীহীন পৃথিবী, জীর্ণ, বলহীন হয়ে গিয়েছিল আমার ঘোড়া। তবু তো সেই ঘোড়াটি ভগবানের স্মৃতি। তাকে নিয়ে বাঁচতাম। কন্থক আমাকে ছেড়ে গেল তো আমি কী করে বাঁচি!

    কী বলো তুমি ভানুদাদা?

    ভানু বিড়বিড় করে, কন্থকের হ্রেষারব শুনে তুমি তো ভাবলে রাজপুত্র ফিরে এসেছে, আসলে কেউ ফেরেনি!

    কী বলো তুমি?

    ছন্দক মাথা নত করে দাঁড়াল, কন্থকও, রাজপুত্রের মহানিষ্ক্রমণ হয়েছে।

    এসবের মানে কী?

    ভানু হাসল, তারপর আচমকা জিজ্ঞেস করে, শিবরাম কেন কোকিলার কথা জিজ্ঞেস করে বারবার?

    কোকিলা চমকে ওঠে, ভানু শোনে, সে যেন বলে, কী কহ তুমি ছন্দক?

    ঠিকই কহি।

    কোকিলা বলে, তবে শুনে রাখো মদরঞ্জিওয়ালা ব্যতীত মোর কেহ নাই, কেহ নাই।

    তা আমি জানি।

    তবে যে কহ লকটার কথা?

    সে লোক যে কথা বলেছে আমারে তা যদি শুনতে!

    কী কথা?

    ভানু বলল, থাক, সে যদি তোমারে না বলে, আমি কেন বলি?

    সে কি আসবে? গলার স্বরে বেদনা ও আর্তি ফুটে ওঠে।

    তা তো আমি জানিনে।

    যদি দেখা হয়, না আসিতে কহি দিয়ো ভানুদাদা, আমার আঁকা টাঁকা সব নষ্ট করি দিবে অই শিবরাম।

    তুমি বলছ?

    হ্যাঁ, তুমি ঘুড়াটার কথা বলো, কী যেন বলছিলে, সিটাই কহ, ঘুড়াটা তুমার কী ছিল, ঘুড়ার মালিক তো হুটেলওয়ালা।

    আমি যে ওর সঙ্গী, সেই কতকাল আগে থেকে।

    কতকাল?

    ভানু বলে, যেদিন আমাদের ত্যাগ করে রাজপুত্র জন্ম-মৃত্যু খুঁজতে বেরিয়ে গেল, সেদিন থেকে, মনে আছে তোমার কোকিলা বধূ?

    কোকিলার চোখে জল এলো। কেন এই অশ্রুবিন্দু তা কি কোকিলা জানে? এখন সে মদরঞ্জিওয়ালার বউ, পেটে ভাত, গায়ে কাপড় জোটে না, কিন্তু এমন কি ছিল বহু বহু বর্ষ আগে, সেই রাজ অন্তঃপুরে? রাজদাসী হলেও তো ছিল সেই কুমারের দাসী, ভগবানের পা ধুইয়ে দিত সে, মনে পড়ে তা?

    কোকিলা কাঁদছিল। কিছুই বুঝতে পারছিল না ছন্দকই বা কে, কাকেই বা ফেলে রেখে এলো ঘোড়াটা? শূন্যপৃষ্ঠ নিয়ে গেলই বা কোথায়?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমি লিলি – লিলি চক্রবর্তী
    Next Article বাতাসবাড়ি জ্যোৎস্নাবাড়ি – অমর মিত্র

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }