Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অশ্বচরিত – অমর মিত্র

    লেখক এক পাতা গল্প469 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অশ্বচরিত – ৩৩

    তেত্রিশ

    অনন্ত অবাক হয়ে তার মেয়েকে দেখেছিল দোতলা বাংলোর উঠোন থেকে। চিনতেই পারেনি, কী আশ্চর্য! এক ঝলমলে সাতরঙা ঘাঘরা চোলি পরে তার মেয়ে ব্যালকনিতে ঘুরছিল। ও যে তার মেয়ে তা সে বুঝবে কীভাবে? অত রং! মেয়ে কি অত সুন্দর! তার মানে তো কুন্তি, মানে তেলহীন রুক্ষ চুল, চুলের গোড়ায় কাপড়ের পাড় বাঁধা, মলিন মুখ, ময়লা শাড়ি জামা, হা-হুতাশে ভরা চেহারা। ব্যালকনিতে যে ঘুরছিল সে বড় সুন্দর! অত সুন্দর মেয়ে সমুদ্রতীরে দেখতে পাওয়া যায় সিজন টাইমে। চমৎকার সব গাড়ির ভিতর থেকে নেমে আসে তারা। হাসতে হাসতে দৌড়য়, ঘাঘরা তুলে, রং ছড়িয়ে। অনন্তর চোখ সরছিল না, ওই কি তার কুন্তি? না অন্য কেউ? ঘুম পাড়িয়ে তাকে এত বদলে দিয়েছে প্রেম সায়েব?

    তখন আকাশে মেঘের আস্তরণ ছিল। তা ভেঙে আচমকা সূর্যরশ্মি বেরিয়ে এসে পড়েছিল ঘাঘরা চোলির সাত রঙের ভিতরে বসানো চুমকি, আয়নায়। ঝলমল করে উঠেছিল মেয়ে। ঝিলমিল করছিল রং। ঠাকুরের জন্যই যেন অপেক্ষা করছিল প্রেম সায়েব। নেমে এসে তাদের টেনে নিয়ে গিয়েছিল ঝাউবনের দিকে। সেখান থেকে দেখা যাচ্ছিল না আর খোলা ব্যালকনিটিকে। তবু অনন্ত আচমকা ডেকে উঠেছিল, কুন্তি মা!

    কুন্তি কি শুনেছিল? মনে হয় শুনেছিল। অনন্ত সাড়া পায়নি কোনো, কিন্তু মনে হয়েছিল কুন্তি তাকিয়ে আছে ঝাউবনের দিকে। কী স্তব্ধ সেই দৃষ্টি! জাহাজওয়ালা প্রেম সায়েব ধমকে উঠেছিল তাকে, আগে ডিল শেষ হোক।

    কিছুই বোঝেনি অনন্ত। তার ভিতরে ভয় জেগে উঠেছিল। কুঁকড়ে যাচ্ছিল সে। জাহাজওয়ালার অদ্ভুত চেহারা। মাথার ফুরফুরে সাদা চুল ঝাউবনের বাতাসে উড়ছিল, ভাসছিল। মুখখানিতে কত যে প্রাচীনতা তার থই পাওয়া যায় না। চোখের চাহনিতে ছিল বরফ কঠিন শীতলতা। স্লিপিং গাউনের পকেটে হাত, মুখে চুরুট ধোঁয়া উড়ছিল। ঠাকুর তাকে প্রায় কুর্নিশ করতে করতে চলেছিল। জাহাজওয়ালা তার কাঁধে হাত দিয়েছিল। কী ঠাণ্ডা! ধীর গলায় বলছিল, বেবিকে সে কলকাতায় নিয়ে যাবে, সুইট বেবি, মেয়েটা খুব ভালো কাজ করে, তার এমন মেইডসার্ভেন্ট চাই, মেয়েটার সব ভার নিয়ে নিচ্ছে সে, মেয়ে নিয়ে চিন্তা করতে হবে না অনন্তকে, মেয়ে খুব সুখে থাকবে, মেয়ে যদি শান্ত হয়ে থাকে তবে সে তাকে রানি করে দেবে, টাকাপয়সা তার কম নেই, একা মানুষ, তার ছেলেরা সব দেশ-বিদেশে থাকে, তার সঙ্গে কেউ থাকে না, সবাই তাকে ভুলে গেছে, তার বউ বেঁচে নেই, অনন্ত কত টাকা নেবে?

    কী বলেছিল তখন অনন্ত? কিছুই বলেনি। বলতে পারেনি। সে ধরতে পারছিল না কী হতে যাচ্ছে। সে ঘুরে ঘুরে পিছনে ফিরছিল। ঝাউবনের আড়াল থেকে বাংলোর এক এক বিন্দু ঝিলমিল করে ভেসে উঠছিল, রঙের চিহ্ন জেগে উঠছিল মনে মনে ভাবছিল কত না সুন্দর তার মেয়েটি। অভাবী বাপ জানেই না তার মেয়ে কত রূপবতী! আহা! দেবীর মতো রূপ কুন্তির। কী ডাগর তার চোখদুটি! কীভাবে দূরে তাকিয়ে ছিল।

    ঠাকুর ডাকছিল তাকে, শুনছিস, সায়েব পনেরো হাজার দিচ্ছে।

    কেন? হতবাক হয়ে গিয়েছিল সে।

    কেন তা বুঝছে না কেন অনন্ত? মেয়েটাকে পছন্দ করেছে বুড়ো সায়েব, জাহাজে নিয়ে ঘুরবে। পঞ্চম ঠাকুর ভানুর কানের কাছে বিনবিন করছিল মশার ডাকের মতো। মেয়ের হিল্লে হয়ে যাবে সমস্ত জীবনের মতো। মেয়ে সৌভাগ্যবতী। এমন ভাগ্যবতী আর কখনো দেখেনি পঞ্চম ঠাকুর। অনন্তর হাতে টাকার দুটি বান্ডিল, একটি একশ, অন্যটি পঞ্চাশের, তুলে দিতে দিতে ঠাকুর বলছিল, আরও পাবে অনন্ত, পরে পাবে, মেয়ে রাজকন্যার মতো থাকবে।

    হাঁ হাঁ, মাথা দোলাচ্ছিল প্রেম মদনানি, রুপয়া যত নিবে হামি দিব।

    অনন্তর লোভ বাড়ছিল টাকার বান্ডিল হাতে নিয়ে। টাকার বান্ডিল নিয়ে তার বিশ্বাস হচ্ছিল না ওই টাকা তার। টাকার লোভ হচ্ছিল যেমন, তেমনি মেয়েকে দেখতে ইচ্ছে হচ্ছিল। আহা, মেয়েটাকে বুকে আঁকড়ে ধরবে সে। কিন্তু মেয়েকে দেখলই না ফেরার সময়। ব্যালকনিতে সে ছিল না।

    মেয়ের সঙ্গে কথা হলো? হলো। হয়েছিল তাই তো জানে কুন্তির মা। আসলে তো হয়নি। হয়নি যে সে কথা বলে কী করে অনন্ত? মদনানি সায়েব বলেছিল, পরে কথা হবে, মেয়ে নাকি আবার ঘুমোতে গেছে। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে মেয়ে সুন্দর হয়ে উঠছে। মেয়েকে নিয়ে যাবার আগে কথা কইয়ে দেবে। কিন্তু সে কথা মেয়ের মাকে বলেনি অনন্ত। টাকা দুই পকেটে নিয়ে সে ফিরছিল হাঁটতে হাঁটতে। তার কাছে আর কোনো টাকাই ছিল না যে ভ্যান রিকশায় উঠে ফিরবে। পঞ্চম ঠাকুর তো উলটো পথে কিয়াগেড়িয়ার দিকে চলে গেল

    মেয়ের মা, সরস্বতী বিনবিনিয়ে কাঁদছে ভানুর সামনে বসে। বলছে কী ভয় না পেয়েছিল সে সেই সকালে। যেন গন্ধ পেয়েছিল নাকে। খুব খারাপ গন্ধ! মায়ের মন! মা যেন কী আশঙ্কা করে বেরিয়ে পড়েছিল ঘরে তালা মেরে। তারপর অলঙ্কারপুর থেকে কোনাকুনি হাঁটতে আরম্ভ করেছিল। সি-ডাইকে উঠে দৌড়তে আরম্ভ করেছিল। আঁচল লুটোচ্ছিল, মাথার খোঁপা ভেঙে চুল উড়ছিল। কুন্তির মা বলে, কী তরাস না লেগেছিল ভানুদাদা, তরাসে ছুটছিলাম, টের পাচ্ছিলাম খারাপ কিছু হতে যাচ্ছে, পঞ্চম ঠাকুর সব্বোনাশ করতেই সক্কালে হাজির হইছে, ঠাকুর যেন যমদূত, উ যেন আন্ধার, মরণ, মরণের দিকে মোর ছাটিরে ঠেলে দিল রে। দীঘায় ঢুকতেই দেখি মেয়ের বাপ ফিরতেছে। সরস্বতী হামলে পড়েছিল স্বামীর ওপর, মেয়্যা কোনঠে?

    মেয়্যা ঘুমায়।

    দ্যাখো নাই?

    তখন অনন্তর খেয়াল হয়েছিল, সে সিধে হয়ে বলতে চেষ্টা করেছিল, দেখা তো হয়েছে, কথাও হয়েছে, ভালো আছে কুন্তি, খুব হাসছিল, খুব আনন্দে আছে ঘুড়ার নিকট।

    ঘুড়া মানে?

    অনন্ত বলেছিল, বুড়া জাহাজওয়ালাকে ঘুড়া মনে করেছিল তো কুন্তি, মাইতিবাবুর ঘোড়া।

    কীসব কও, মেয়্যা কী বলল?

    অনন্ত চুপ করে গিয়েছিল। দুই পকেটে দুটি বান্ডিল, নতুন নোট, খুব চকচকে মসৃণ। অনন্ত নোটের গায়ে গোপনে হাত বোলাচ্ছিল। তার দুই পকেটই ঝুলে পড়েছিল টাকার ভারে। অনন্ত তখন চাপা গলায় সরস্বতীকে বলেছিল তার পকেটে হাত দিয়ে দেখতে। একটা নয়, দুটো নয়, পনেরো হাজার। অনন্ত টাকার ভারে যেন বেঁকে গিয়েছিল, বউকে বলেছিল, টঙ্কা রাখি আগে, তারপর কথা বলব, রাখি কোথায় টঙ্কা, এত টঙ্কা দিল জাহাজওয়ালা!

    অত টঙ্কা কেনে দিল ভানুদাদা?

    ভানু জিজ্ঞেস করে, টাকা রেখেছ কোথায়?

    ঘরে, এমন থানে লুকাইছি, কেহ খুঁজ পাবেনি, জানেই বা কেডা?

    ভানু চাপা গলায় বলল, পঞ্চম ঠাকুর?

    সে তো পলাইছে।

    ঠাকুরানি?

    উ জানেনি, বেংকে রাখলি কথা উঠবে, আর মোর তো পাশবই নাই, পাশবই খুলতে গেলে সবু লকে জানি যাবে। বলল অনন্ত।

    ভানু বলে, কী হলো তারপর, বলে যাও।

    কী বলবে অনন্ত? অনন্তর বউ কপালে করাঘাত করে। সেই বা কী বলবে? টাকাই হলো সর্বনাশী। পকেটে হাত দিয়ে দুই বান্ডিল স্পর্শ করে শিহরিত হয়েছিল কুন্তির মা। অনন্ত তাকে পথ থেকেই ফিরিয়েছিল। ঘরে ফিরে টাকা লুকানোর জায়গা খুঁজতে কত সময় গেল। তারপর মনে পড়ল মেয়ের কথা! দুপুর গড়ালে হাঁড়িতে টাকা রেখে সেই হাঁড়ির মুখ সরা দিয়ে বেঁধে মাটিতে গর্ত করে রেখে মাটি চাপা দিয়ে বেরোল দুজনে মেয়ের খোঁজে। যত যায় দীঘার দিকে, টাকা টানে অনন্তকে। মাঝপথে গিয়ে অনন্ত বলে, কুন্তির মাকে একা যেতে। ঘর ছেড়ে যাওয়া ঠিক হবে না। কুন্তির মা সরস্বতী ভেবেছিল ফিরবে। তাকেও তো টানছিল টাকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেয়ের টান বেশি হলো। টাকার টানে অনন্ত সি-ডাইক থেকে নেমে আবার গৃহাভিমুখী হলো। আর মেয়ের টানে ছুটল তার মা দীঘার দিকে। কী সেই টান! চাঁদের যে টানে সমুদ্রের জল স্ফীত হয়, তেমনই টানল যেন অভাগী মেয়েটা। কপালে হাত রাখে সরস্বতী। সে ছুটেছিল বাংলো পর্যন্ত। গিয়ে দেখে সব শূন্য!

    মেয়েরে দ্যাখোনি?

    দুচোখ জলে ভিজে গেল, কুন্তির মা আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে মাথা নাড়ে। চলে গেছে তারা। কালঘুম ধরেছিল মেয়েটারে। শুধুই নাকি ঘুমোচ্ছিল কদিন ধরে, ঘুমন্ত মেয়েকে নিয়ে জাহাজগুলা চলে গেছে। সরস্বতী দেখেছিল সব জানালা বন্ধ, ব্যালকনি শূন্য, নিচের দরজায় বাইরে থেকে তালা। নেপালি দারোয়ানটা খোঁড়াতে খোঁড়াতে ঝাউবনের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসেছিল, তাকে দেখে অবাক হয়েছিল, জিজ্ঞেস করেছিল, কেয়া?

    জাহাজওয়ালা বাবু?

    চলে গেছে শুনে রোখ ছেড়ে কেঁদে উঠেছিল সরস্বতী। টের পেয়েছিল পনেরো হাজার টাকার রহস্যটি। তার কান্না শুনে দারোয়ান বিব্রত হয়ে বলেছিল, তুম রোঁতা কিঁউ, বাবুকা আড্রেস লাও, কলকাত্তা যাও।

    দারোয়ান একটা কার্ড দিয়েছিল। সেই কার্ডটি হাতে করে সন্ধে পর্যন্ত বাংলোর সামনের রাস্তায় বসেছিল সরস্বতী। তারপর অন্ধকারে ফিরেছিল একা। কী ছিল সেই অন্ধকার! কী ঘন, কী গম্ভীর, অতলস্পর্শী! টলতে টলতে একা একা ফিরেছিল সে। কী একাই না হয়েছিল! কেউ কোথাও ছিল না। মস্ত সমুদ্রবাঁধটিতে একটিও মানুষ ছিল না। একটা সময়ে সে বসে পড়েছিল বাঁধের ওপর। বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। মেয়েটাকে গর্ভের ভিতরে বাঁচিয়ে রাখার দিনগুলোকে মনে করছিল। আর তো কোনো সন্তানই বাঁচেনি, বেঁচে ছিল কুন্তি। হায় কুন্তি মা! বাঁধের মাটিতে মাথা ঠুকছিল সে একা একা। তারপর একসময় তার কান্না থেমেছিল। কত আর কাঁদতে পারে মানুষ! কান্নার শক্তিও তো চাই। নিঝুম অন্ধকারে একা বসে আকাশ পানে চেয়েছিল। তাকিয়ে দেখেছিল উত্তর-পুব আকাশ থেকে তারা খসে যেতে। মধ্যগগন থেকে আলোকপিণ্ড আকাশ চিরে যেন নেমে গেল দিগন্তে, ঝাউয়ের গভীর অন্ধকারে, আরও অন্ধকারে। চোখ বন্ধ করে ফেলেছিল সরস্বতী। তারা খসা শুভ নয়। অশুভ আশঙ্কায় কেঁপে উঠেছিল সে।

    মেয়েটা নেই। নেই-ই তো। ঘরে গেলে দেখবে মেয়ে নেই। দীঘার বাজারে গিয়ে দেখবে মেয়ে নেই। নতুন দীঘার বাংলোয় গিয়ে দেখবে মেয়ে নেই। নুনের খালারিতে গিয়ে দেখবে নেই মেয়েটা। বুক হা হা করছিল। চোখের ভিতরে শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার। মুছে গিয়েছিল তারা ভরা আকাশ, মুছে গিয়েছিল জগৎ, অন্ধকারের পৃথিবী। মেয়েটার সঙ্গে সবই যেন তার অস্তিত্ব থেকে মুছে যাচ্ছিল।

    ভানু বলে, চোখের দেখাও দেখতে পেলে না?

    না! ক্রন্দন ভরা গলায় ফুঁসে উঠল মেয়ের মা, বিচে দিঁইছে তো উয়ার বাপ।

    উ কথা কহিসনি কুন্তির মা।

    কেনে কহিবনি? ফোঁস ফোঁস করে মেয়ের মা।

    অনন্তর মাথা নেমে গেছে। সে কথা বলল না আর। টাকার লোভ কুন্তির মার হয়নি? হয়েছিল বলেই পনেরো হাজার টাকার সঙ্গে সে বাড়ি ফিরে গিয়েছিল। মেয়েকে তখন যদি দেখতে যেত, দেখা হতো। আর দেখা হলে হয়তো মা ধরে রাখতে পারত মেয়েকে। মা তো পেটে ওই মেয়ের ভার বয়েছিল।

    ভানু জিজ্ঞেস করে, কলকাতা যাবে?

    যাব। কুন্তির মা কেঁদে ওঠে, ঘুরায়ে লিয়ে আসব মোর কুন্তিরে।

    অনন্ত তার জামার বুক পকেট থেকে কার্ড বের করে। ভানুর হাতে দেয়। ভানু কার্ডটি উলটে-পালটে দেখে। আচমকা টেলিফোন নম্বরটা আবিষ্কার করে কার্ডের কোণে। দেখেই তার ভিতরে উত্তেজনা তৈরি হয়, ফোন নম্বর রয়েছে, কলকাতায় ফোন করি।

    ফোন করা যাবে! অনন্ত অবাক, মোরা তো ফোন করতি পারবনি।

    বুথে গেলে ওরাই লাইন ধরে দেবে, আচ্ছা চলো আমি যাব।

    তুমি তো যাবে ভানুবাবু, নাহলে কী করে হবে? অনন্ত বলে।

    ফোনে কথা বলা যাবে? জিজ্ঞেস করে মেয়ের মা।

    যাবে।

    কুন্তি কথা বঁইলবে?

    বলবে।

    তাহলে চলো ভানুদাদা। সরস্বতী উঠে দাঁড়ায়।

    তিনজনে হাঁটতে হাঁটতে ফোন বুথে এলো। সন্ধের পর অনেকটা পার হয়ে গেছে। অফ-সিজন, ট্যুরিস্ট কম। বুথে কোনো লোক ছিল না। ভানু কার্ডটা এগিয়ে দিয়ে লাইনটা ধরে দিতে বলে। লাইন পেতে সময় লাগে অনেক। তারপর বাজল ওদিকের ফোন। ভানুর হাতে রিসিভার দিয়ে বুথের ছেলেটি বাইরে গিয়ে সিগারেট ধরায়। ভানুর কানে বেজে যাচ্ছিল ফোনের শব্দ। কেউ ধরছে না। ভানু অনন্তকে ইঙ্গিত করে। অনন্ত মাথা ঝাঁকায়। ভানু দেখে অনন্তর মুখখানি ভয়ে ছোট হয়ে গেছে। মরা মাছের মতো চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে তার বউ সরস্বতী।

    ধাতব শব্দ বেজে যাচ্ছিল বহুদূরে। কটা নদী পেরিয়ে, কালিনগরের নদী, নরঘাটের হলদি নদী, কোলাঘাটের রূপনারায়ণ নদী, তারপর দামোদর, তারপর হুগলি নদী, এর ভিতর কত গঞ্জ, কত জনপদ, মাঠ, পুকুর, শস্যক্ষেত্র, কালো পিচঢালা হাইওয়ে—সব পেরিয়ে কলকাতার শত কলরোলের ভিতর থেকেও নিজেকে আড়াল করে ভানুর ডাক গিয়ে পৌঁছেছে জাহাজওয়ালার ঘরে। জাহাজের মতো কোনো বাড়িতে হয়তো। নতুবা কোনো জাহাজেই বোধহয়। একি খিদিরপুর ডকের জাহাজ, নাকি বজবজের গঙ্গায় ভাসা জাহাজ! একটাও মানুষ নেই! কেউ ধরবে না ফোন?

    কী হলো? অনন্ত দম আটকে জিজ্ঞেস করে।

    কেউ নাই।

    ও বাড়িতে ফোন গেছে?

    ও বাড়িতে কুন্তি রয়েছে?

    তাই তো থাকার কথা। বলতে বলতে ভানু টের পায় ফোনটি কেউ তুলল। ফোন তুলতেই, ভানু চাপা গলায় বলে ওঠে, হ্যালো, দীঘা থেকে বলছি, কুন্তি আছে, কুন্তিরে চাই, হ্যালো, হ্যালো…।

    ফোনটি কেটে গেল। লাইনটি কেউ রেখে দিল যেন একটি কথাও না বলে। লাইন যে কেউ তুলেছিল তা ধরা গেল ফোনের চার্জটি মুদ্রিত অক্ষরে আর একটি যন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসায়।

    ধরল না কেউ? অনন্ত জিজ্ঞেস করে।

    বুথের ছেলেটি ভিতরে এসে বিলটি ছিঁড়ে ভানুর হাতে দিতে দিতে বলে, কল হয়েছে, ওদিকে রিসিভ করেছিল।

    কথা বলল না তো! টাকা মিটিয়ে বিড়বিড় করতে করতে ভানু বেরিয়ে আসে। তাহলে ফোনটা কি মদনানি সায়েব নিজে তুলেছিল? নাকি কুন্তি? ভানু দেখছিল স্বামী-স্ত্রী তার দিকে চেয়ে আছে অধীর আগ্রহে। ভানু বলল, কাল সকালে কলকাতা যাব।

    যাবে? অনন্ত ভানুর হাত ধরে ফেলে।

    হ্যাঁ যাব, তুমি যাবে সঙ্গে?

    মেয়ের মা বলে, মুও যাব।

    ভানু না করল না। ঠিক হলো টাকা থাকবে ঘরে। মাটির নিচে যখন আছে, থাকুক। তারা কলকাতায় গিয়ে মেয়েকে নিয়ে এসে তারপর টাকা ফেরত দেবে। অত টাকা নিয়ে কলকাতা শহরে যাওয়া ঠিক হবে না। স্বামী-স্ত্রী আর অলঙ্কারপুরে ফিরল না। শুয়ে থাকল মাইতিবাবুর হোটেলের বারান্দায়। মাইতিবাবু ফিরল না। ভানুর ঘুম এলো না অনেক রাত্রি পর্যন্ত। ভানু কেন, কুন্তির মা-বাবাও ঘুমোল না। তারা বসে বসে কথা বলছিল। ঠাকুরানির কোনো সাড়া নেই। ভোর রাতে তিনজন বেরিয়ে পড়ল। বাসে কলকাতা শহরের দরজায়। হাওড়া স্টেশনে বাস এসে পৌঁছল বেলা বারোটা নাগাদ। শেষ ভাদ্রর রোদে শহর ঝাঁ ঝাঁ করছে। ট্যাক্সি নিল তিনজনে, নিউ আলিপুর চলো।

    ট্যাক্সি চলতে আরম্ভ করলে কাঁদতে লাগল কুন্তির মা, মেয়েটা বেঁচে আছে তো ও ভানুদাদা, হা ভগবান, পঞ্চম ঠাকুর কী সব্বনাশ করল মোর! কী হবে, ও ভানুদাদা?

    ট্যাক্সি ধীরে ধীরে গড়িয়ে যাচ্ছিল। চোখের সামনে শহরটা ফুটে উঠছিল। ব্রিজের নিচের নদীকে প্রণাম করল ভানু। নদীটা টানছে তাই এতবার দেখা হয়ে যাচ্ছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমি লিলি – লিলি চক্রবর্তী
    Next Article বাতাসবাড়ি জ্যোৎস্নাবাড়ি – অমর মিত্র

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }