Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অশ্বচরিত – অমর মিত্র

    লেখক এক পাতা গল্প469 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অশ্বচরিত – ৩৯

    ঊনচল্লিশ

    বেঙা ফেরেনি। সশরীরে ফেরেনি, লাশ হয়েও ফেরেনি। চার দিনেও না। না মানে বেঙার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়ে যাচ্ছে একটু একটু করে। কিন্তু এই সম্ভাবনা খুব ঝুঁকির। বেঙা যদি না ফেরে, তখন? তখন তো বেঙার মৃত্যুর একটি সম্ভাবনাও তৈরি হয়ে যায়। বেঙা মরেছে হয়তো, কিন্তু তার লাশ ফেরত দেয়নি সমুদ্র। এমন তো হতে পারে। অথচ সমুদ্র যা নেয় তা তো ফেরত দেয়ই, তাহলে বেঙাকে কেন ফেরত দেবে না? দিয়েছে হয়তো, কোনো দূর সমুদ্রতীরে। সমুদ্র তো কম বড় নয়। সমুদ্র যে কত বড় তার কোনো আন্দাজই নেই জেলেপাড়ার কোনো মানুষের। তারা সমুদ্রের গভীরে গিয়ে, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েও সমুদ্রের কোনো পরিমাপ করতে পারে না। সমুদ্রের অকূল বিস্তার তাদের কাছে অসীম, অনন্ত, মাথার ওপরের আকাশের মতো। তার চেয়েও বেশি। এমন সমুদ্রের ভিতরে কত কত দ্বীপ, দীর্ঘ উপকূল জুড়ে কত বসতি! কোথায় গিয়ে বেঙার লাশ আটকেছে তারই বা ঠিক কী। সুতরাং লাশ না ফেরা, লাশ না উদ্ধার মানে বেঙার মৃত্যু যে নয়, তা নয়। আবার তা যে বেঙার মৃত্যুর ইঙ্গিত, তাও তো নয়। ছটা নিখোঁজ মানুষের পাঁচটা লাশ পাওয়া গেলে, ষষ্ঠ দেহটি নিয়ে নানা রহস্য তৈরি হয়। সে জীবিত অথবা মৃত তা জানা যায় না। কেউ তাকে জীবিত কল্পনা করে, কেউ মৃত। আবার নিখোঁজ যদি হয়ে থাকে ধীবর, তবে তাকে নিয়ে নানা কল্পনা বাসা বাঁধে।

    বেঙার বউ পরীর কখনো মনে হচ্ছে লোকটা বেঁচে নেই। সমুদ্রে লঞ্চডুবির পর যে কজন বেঁচে ছিল, দুজন না তিনজন তারা ফিরে এসেছে। যারা ফেরেনি তারা মরেছে। মরাটাই স্বাভাবিক, তাই বেঙা মরেছেই, বাঁচেনি। কিন্তু মরলে তো বেঙার বডি পাওয়া যেত, যে বডি—লাশ দিয়ে প্রমাণ হতো যে সে মরেছে এবং তার জন্য দুর্ঘটনা বীমার যাবতীয় পাওনা পরীর হাতে এসে পড়ত। দুর্ঘটনা বীমা আছে, বিডিও অফিসের অনুদান আছে, সেসব পাওয়া যেত লাশ দেখিয়ে। বেঙা মরে যদি না ফেরে তবে পরীর কপাল আরও ভাঙবে। সে কী দিয়ে প্রমাণ করে তার স্বামী বেঁচে নেই? সে মৃত বেঙা ধীবরের স্ত্রী, দুর্ঘটনা—লঞ্চডুবিতে মরেছে বেঙা, বীমার টাকাটা তার হাতে আসুক—এই সব কথা সে দরখাস্তে বর্ণনা করাবে কী করে মুহুরিকে দিয়ে, তারপর কীভাবে সেই দরখাস্তে টিপ ছাপ দেবে বাঁ হাতের বুড়ো আঙুলে? তখন তো তাকে নিজের কাছেই জিজ্ঞেস করতে হবে বেঙা যদি ফিরে আসে নদীরামের মতো? নদীরাম ধীবর পাঁচ বছর বাদে ফিরেছিল। আশ্চর্য! নদীরামের বউ এই পাঁচ বছর প্রতিটি দিন সিঁথিতে সিঁদুর দিয়েছে, শাঁখাতে সিঁদুর ছুঁইয়েছে, বিডিও পঞ্চায়েত যায়নি দুর্ঘটনা—মৃত্যু বীমার টাকার জন্য। কোনো দরখাস্ত করেনি। সে যেন খুব ভালো করেই জানত নদীরাম ফিরবে। নদীরাম যে দূর সমুদ্রের পারে চট্টগ্রামে ভাসতে ভাসতে পৌঁছে গিয়ে বাংলাদেশের জেলখানায় আটক ছিল অনেকজন এ দেশি ধীবরের সঙ্গে তা যেন টের পেয়েছিল নদীরামের বউ। সে বলেছিল সে নাকি স্বপ্নের ভিতরে জেনেছিল নিখোঁজ স্বামী বেঁচে আছে। নদীরামের নিখোঁজ হয়ে পাঁচ বছর পরে ফিরে আসা এবং এই পাঁচ বছরে তার বউ, সরলার শাঁখা সিঁদুরে সধবা হয়ে থাকা—সব কেমন গল্পের মতো হয়ে গেছে জেলেপাড়ার মানুষের কাছে। সে কাহিনি কে না জানে, পরীও জানে। নদীরাম এখন বেঁচে নেই। বছর চারেক আগে বরফকল বন্ধ হয়ে গেল দুদিন বিদ্যুৎ না থাকায়, সেই গোনে ইলিশ পড়ল প্রচুর। সেই ইলিশ বরফ না পেয়ে চকচকে রুপোলি বরণ থেকে লালচে হয়ে শেষে পচতে আরম্ভ করল। পচন ধরা ইলিশ ঝাউবনে পুঁতে ফেলা হয়েছিল অনেক। আর সেই পচন থেকে জেলেপাড়ায় আন্ত্রিক রোগ ঢোকে গাধার পিঠে চেপে, রক্তমাখা ঠোঁট নিয়ে। মা শীতলা কত বাঁচাবে? নদীরাম আর তার বউ পরপর মরেছিল। নদীরামের ছেলে চাঁদভূষণ বেঁচে গিয়েছিল মরতে মরতে। এখন নদীরাম, সরলা বেঁচে থাকলে পরী আবার তাদের কথা শুনতে পেত। তারা বলতই বেঙা বেঁচে আছে। তারা, নদীরাম, সরলা বললে পরীর বিশ্বাস হতো। সে সরলার মতো স্বপ্ন দেখত বেঙাকে নিয়ে।

    নদীরামের বউ নাকি পাহাড় ঘেরা সমুদ্রকে স্বপ্নে দেখেছিল। নদীরামের বউ স্বপ্নের ভিতরে তার স্বামীকে কখনো পাহাড়-সমুদ্রের গায়ে দেখত, সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে নড়তে দেখত, কখনো দেখত জেলখানায়। জেনেছিল, সব দেখেছিল নাকি সে, দেখেছিল বলেই বুক চেপে বসে ছিল স্বামীর জন্য। যতদিন নদীরাম না ফিরছে, সে বলেওনি কাউকে স্বপ্নের কথা। এমনকি তার ছেলে চাঁদভূষণও জানত না। চাঁদভূষণ অবশ্য তখন ছোট ছিল, বছর পাঁচের। সে জানত তার বাবা সমুদ্রেই গেছে, ফিরবে মস্ত এক মাছ ধরে সেই মাছের পিঠে চেপে বেঙার বউয়ের এই সব কথা জানা। সে স্বপ্নে দেখতে চাইছে বেঙাকে। বেঙা স্বপ্নের ভিতরে আসছে না। আসছে নানা অদ্ভুত দৃশ্য, যার সঙ্গে বেঙার অজ্ঞাতবাসের কোনো সম্পর্ক আছে বলে জানে না পরী।

    পরী সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত অপেক্ষা করছে খবরের জন্য। জেলেপাড়ার কেউ এসে খবর দেবে যে বেঙার বডি পাওয়া গেছে। শেষ রাতের জোয়ারে বডি ফিরে এসেছে। জল সরে যাওয়ার পর বোল্ডারে আটকে রয়েছে আগের পাঁচজনের মতো। সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত অপেক্ষা করে পরী অন্ধকারে নিজে বেরোচ্ছে ঘর থেকে। তার হাতে একটা ছয় সেলের টর্চ। টর্চটি সায়েবকে দিয়ে কেনানো হয়েছিল। বিকেলের জোয়ার কেটে যাবে সন্ধের পর, তখন যদি লাশ এসে যায়? সেই লাশকে খুঁজে না বের করতে পারলে পরের জোয়ার তাকে আবার ভাসিয়ে নিয়ে যাবে অন্ধকারে। একবার এসে ফিরে গেলে বেঙার বডি আর ফিরবে না। আর না ফেরা মানে বেঙার মৃত্যু অপ্রমাণিত থাকা। বেঙার মৃত্যু অপ্রমাণিত থাকা মানে পরীর কপাল সত্যি অর্থে ভাঙা। কোনো টাকাই মিলবে না। নিরুদ্দিষ্ট মানুষকে কে ঘোষণা করবে মৃত? উদাহরণ তো সামনে রয়েছেই, নদীরাম পাঁচ বছর বাদে ফিরেছিল।

    বেঙার জন্য পরী বসে আছে সমুদ্রসৈকতের গায়ে, ঝাউবনের সীমানায়। জোয়ার সরছে। আর একটু বাদে সে নেমে যাবে অন্ধকার সৈকতে। খুঁজতে থাকবে বেঙাকে। বেঙার লাশ না ফিরলে বৈধব্য নেয়ার কোনো উপায় নেই পরীর। বৈধব্য নিয়ে মলিন মুখে বিডিও পঞ্চায়েতে দাঁড়ালেই নানা রকম টাকা জুটবে। এখন অনিশ্চিত অবস্থায় কোনো কিছুই করার উপায় নেই পরীর। রোখ ছেড়ে কাঁদতেও পারছে না। বেঙা যদি বেঁচে থাকে, তবে সেই কান্না তার অমঙ্গল করবে, অথচ বুক ফাটিয়ে যদি না কাঁদে সে তবে কীভাবে প্রমাণ হবে সে স্বামীহারা হয়েছে। বেঙার বডি যদি ফেরে, সে কাঁদতে কাঁদতে মাথা ফাটিয়ে ফেলবে। বেঙার লাশ ফিরলে সে এই সমুদ্রসৈকতে অনেক লোকের সমুখে শাঁখা ভাঙত, বালিতে ঘষে ঘষে পায়ের আলতা তুলত, কপালে বালি ঘষে ঘষে সিঁদুর তুলে কপাল রক্তাক্ত করে ফেলত। বেঙা হয় ফিরুক সশরীরে, নতুবা তার লাশ ফিরুক। নিরুদ্দিষ্ট জেলের বউ হয়ে থাকতে পারবে না পরী। পেটে খাবে কী? একটা সায়েব জুটেছিল বলে আর একটা জুটবে এমন কোনো কথা নেই। আর একটা জুটলেও তাকে নিয়ে থাকতে পারবে না পরী। কাউকে নিয়েই থাকতে পারবে না সে। সেটা অন্যায্য হবে। জেলেপাড়ার লোক তাকে পাড়া ছাড়া করবে। কিছু না থাক বেঙার ভিটেখানি তো আছে। আর সম্ভাবনা আছে অনেক টাকা পাওয়ার। সেই টাকা পেতে হলে পঞ্চায়েত দিয়ে প্রমাণ করাতে হবে, ঘোষণা করতে হবে বেঙা মরে গেছে, বেঙা বেঁচে নেই। পরী অন্য কারও রাখনি হয়ে গেলে ওই টাকা পাওয়ার সম্ভাবনাই থাকবে না। বেঙা থাকতে সায়েব ছিল, কেন ছিল? না তাকে রেখেছিল বেঙা, তাই ছিল। বেঙা না থাকলে পরীর সঙ্গে কেউ থাকতে পারবে না। সায়েব যদি ফিরে আসে জেলেপাড়ার লোক তাকে মেরে তাড়াবে। পরীর দুচোখ দিয়ে হু হু করে জল নেমে এলো। বেঙা তাকে কম ভালোবাসত না। বেঙা তাকে কম বিশ্বাস করত না, মরে গেলেও বেঙার অনুপস্থিতিতে পরী আর কারও দিকে মুখ তুলে চাইতে পারবে না। সে তাহলে মহাপাতকী হবে, নরকেও তার স্থান হবে না।

    বেঙার না ফেরা মানে নিরুদ্দিষ্ট হয়ে থাকার সম্ভাবনা যেমন তৈরি হচ্ছে, তেমনি বেঙার মৃত্যু সম্ভাবনাও ক্রমশ বাড়ছে। বেঙার না ফেরা মানে সে নদীরামের মতো অন্য কোনো দেশে চলে গেছে যে এমন কোনো কথা নেই। জেলেপাড়ার মধ্যে একমাত্র নদীরামই ভাসতে ভাসতে গিয়ে উঠেছিল বাংলাদেশি ট্রলারে। তারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল চট্টগ্রামে। সে কোন দিকে, কত দূরে তা জানে না পরী। নদীরামের ভাগ্য যে বেঙার হবে সে কথা কে বলবে জোর দিয়ে? বেঙার লাশ এখানে ফেরেনি, অন্য কোথাও, সমুদ্রের অচেনা কোনো তীরে তো ফিরতে পারে। ওড়িশার উপকূলে ফিরতে পারে। তালসারি, চাঁদবালি, চাঁদিপুরের দিকে ফিরতে পারে, জুনপুট, খেজুরির দিকে ফিরতে পারে। আবার না ফিরতেও পারে। সমুদ্রের মাছেরা, হাঙরেরা হয়তো সবটাই খেয়ে নিয়েছে তার। ভাবতেই পরীর বুক ভেঙে কান্না বেরিয়ে আসতে চাইছে। রোখ ছেড়ে, চিৎকার করে কেঁদে উঠতে ইচ্ছে হচ্ছে। কিন্তু তাতে যদি জীবিত বেঙা ধীবরের অমঙ্গল হয়? মৃত স্বামীর জন্য শোক যদি জীবিত স্বামীর ক্ষতি করে? বেঙা একসঙ্গে জীবিত ও মৃত হয়ে আছে। যে লোকের মৃত্যুর জন্য শোক করবে তার বউ, সেই লোক জীবিতও তো রয়েছে। পরীর মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে ভাবতে ভাবতে।

    এমন হতে পারে বেঙার লাশ ওড়িশার কোনো জায়গায় গিয়ে আটকেছে। সেখানকার লোক পচা লাশের গন্ধ সহ্য না করতে পেরে আবার জলে ঠেলে দিতে পারে। আবার পুলিশকে খবরও দিতে পারে। পুলিশ বেওয়ারিশ লাশের দায়িত্ব নিতে চায় না। এখানেও তো দেখেছে পরী তা। লাশ তুললে পুলিশের আঠারো সমস্যা। পুলিশই তখন জোয়ারের অপেক্ষায় থাকে। লাশ পাহারা দেয় কুকুরের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য। মাছ খেয়ে খেয়ে এজায়গার কুকুরগুলো রীতিমতো মাংসাশী, আমিষলোভী। জোয়ারে লাশ ঠেলে দেয়ার পর পুলিশ নিশ্চিন্ত হয়ে ফিরে যায়। বেঙার ভাগ্য এমন হতে পারে। ঘাটে ঘাটে তার লাশ হয়তো ঘুরছে।

    আর বেঁচে থেকে নদীরামের মতো অন্য দেশে না গিয়েও বেঙা না ফিরতে পারে হয়তো। নদীরাম ফিরেছিল। নদীরামের বউ ছিল, ছেলে চাঁদভূষণ ছিল, ভিটে ছাড়াও বিঘেটাক জমি ছিল, সেই জমিতে তরমুজ হতো। জমি, ভিটে, সংসারের টানে পাঁচ বছর বাদেও ছাড়া পেয়ে ফিরেছিল নদীরাম, কিন্তু বেঙা কীসের মায়ায় ফিরবে? বেঙা তো জানে ঘরে সায়েব আছে। সায়েব তার বউয়ের সঙ্গে লীলা করে, যেমন লীলা ছিল কৃষ্ণ-রাধিকায়। ভগবান আর মানুষের লীলা কি এক হতে পারে? বেঙা তার মনকে প্রবোধ দিত, কিন্তু ভিতরে ভিতরে কষ্ট পায়নি কে বলবে? বেঙা যে কোনো গোপন মুহূর্তে তাদের দেখে ফেলেনি তাই বা কে জানে? সায়েব টাকা দিয়ে বশ করেছিল তাদের। অভাবী সংসারে কুগ্রহের মতো এসে ঢুকেছিল। সায়েব নিজেই গেছে না বেঁচেছে পরী। এখন বেঙা ফিরলে তারা মন দিয়ে সংসার করবে। পেটে না খেয়েও সংসার করবে। আর বেঙা যদি না ফেরে, তার লাশ ফিরলে যে টাকা পাবে। পরী তা নিয়ে পুরী চলে যাবে। জগন্নাথদেবের মন্দিরে পড়ে থাকবে সমস্ত জীবন।

    বেঙা না ফিরলে বেঙার মৃত্যু একশ ভাগ সত্যি হবে না। তার বেঁচে থাকাও একশ ভাগ নিশ্চিত হবে না। বেঙা যদি বেঁচে থাকে, বেঁচে থেকে ভাসতে ভাসতে চাটগাঁ না গিয়ে সায়েবের দেশেও তো চলে যেতে পারে। সব সমুদ্রের সঙ্গে সব সমুদ্রের তো যোগ আছে। বেঙা তো বলত পরের জন্মে সায়েব হবে। ধলা রং হবে গায়ের, সোনালি চুল হবে তার, চোখের মণি নীল হবে, আর সেই সঙ্গে অনেক টাকা হবে। ইচ্ছে হলেই সে হরেকৃষ্ণ হরেরাম গেয়ে নাচবে, না ইচ্ছে হলে মেয়েমানুষ নিয়ে শুয়ে থাকবে। বেঙা নেশার ঘোরে এই সব বলত। তারও একটা রাধিকা হবে। ‘রাধিকা’! হায়! ‘রাধিকা’ এখন সমুদ্রের ধারে বসে কাঁদছে নিঃশব্দে। কদিন ধরে নিঃশব্দেই কাঁদছে পরী। এমনভাবে কাঁদছে যে কেউ টেরই পাচ্ছে না কাঁদছে সে। লঞ্চডুবির পরদিন সকালে যত বউ মেয়ে ছিল তাকে ঘিরে, তারা এখন কেউ নেই। তার শোকের অংশীদারি কতদিন নেবে প্রতিবেশীরা? তাও যদি নিরুদ্দিষ্টের জন্য সে গলা তুলে কাঁদত তার মঙ্গলামঙ্গলের কথা না ভেবে, তখন প্রতিবেশীরা তার পাশে এসে কান্না থামাতে চাইত। কান্না থামাতে এসে তার সহমর্মী হয়ে তারাও চোখ মুছত। জেলেপাড়ার মেয়েমানুষ, যাদের স্বামীরা লঞ্চডুবিতে নিখোঁজ হয়, মরে যায়, তারা কান্না চাপে না। নদীরামের বউ চুপ করে ছিল। আর এই পরী। নদীরামের বউ তো গোপনে স্বপ্ন দেখে সব সত্য জেনে গিয়েছিল, পরী কি তা জেনেছে? যদি জেনে থাকে তবে সে সমুদ্রের ধারে গিয়ে বসে আছে কেন? সে কেন অন্ধকারে টর্চ হাতে সমুদ্র-সৈকত ধরে হাঁটে বেঙার লাশ ফিরে পাওয়ার জন্য? নদীরামের বউ কী করত তা কারও মনে নেই। তবে কিনা সেও তো কাঁদত, কাঁদত না কি? হ্যাঁ কাঁদত। পরে বলেছিল উদ্বেগে কাঁদত। জেলখানা থেকে কবে বেরোতে পারবে তার স্বামী সেই দূরদেশে, তা ভেবে কাঁদত। পরী তেমন কান্না কাঁদছে না। এভাবে কাঁদে না। যার স্বমী হারিয়েছে সে বুক চাপড়ে কাঁদুক। জেলেপাড়ার পথ চলতি লোক, ঘরে বসা লোক যে যার জায়গা থেকে সেই কান্না শুনুক। ঠিক দুপুরে চিলের মতো কেঁদে কেঁদে নিঃস্ব হোক বেঙার বউ। লোকে তাদের কথা থামিয়ে শুনুক তার কান্না, বিলাপ। সেই বিলাপে পরী নিজের পাপগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করে দিক। তার আর সায়েবের পাপে যে বেঙা হারিয়ে গেল সমুদ্রের ভিতরে তা বলুক। জেলেপাড়ার লোকের যদি মাঝ রাতে স্বামী হারানো বউয়ের বিলাপ শুনে ঘুম না ভাঙে তাহলে পরীর শোকের মাত্রা টের পাবে কী করে তারা? পরীর কান্নার সঙ্গে মধ্যরাতের সমুদ্রের কান্না মিশে গেলে না শোক ছড়িয়ে যাবে ঝাউবনে, বাতাসে, বালিতে |

    পরী এখন অন্ধকার সৈকত ধরে টর্চ জ্বালাতে জ্বালাতে চলেছে পুব দিকে। টর্টের আলো বোল্ডারের খাঁজগুলো ছুঁয়ে যাচ্ছে। চাপা গলায় ডাকছে পরী, এলে নাকি, ওগো তুমি এলে, আসো যদি কহি দাও।

    পরী ভাবছে মৃতদেহটি তাকে ডাকবে। না ডাকলে অন্ধকারে সে না খুঁজেও পেতে পারে। পরী জানে আজকালের ভিতরে দেহটি ফিরে না এলে আর আসবে না। এখনই আসার সম্ভাবনা কমে গেছে অনেক। চার দিন ধরে মাছেরা কি খেয়ে ফেলেনি বেঙা ধীবরের দেহখানি? হাঙরে যদি টের পায়, কত সময় লাগবে খেয়ে ফেলতে? পরী কাঁদতে লাগল। পরী কাঁদতে কাঁদতে হাঁটতে লাগল, যদি বেঙার দেহ হাঙরেরা সব খেয়ে নেয়, স্বামীহারা হয়েও স্বামীর অপেক্ষায় বসে থাকতে হবে তাকে। বিধবা হয়ে সধবার মতো পথের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। যদি লোকটা নদীরামের মতো ফেরে? সমুদ্রে গেল, কিন্তু পথে পথে ফিরল। যে লোক সমুদ্রে নিখোঁজ হয়, সে আবার সমুদ্র পথেই ফেরে না। কবছর আগে লঞ্চডুবির জেলেরা উঠেছিল সাগরদ্বীপে। তারপর ফিরেছিল পথে পথে। বেঙা সেভাবে ফিরতে পারে ভেবে অভুক্ত থাকতে হবে পরীকে। কিন্তু বেঙা ফিরছে না। দুবছর,

    পাঁচ বছর কেন, দশ বছর বারো বছরেও ফিরবে না। বারো বছর কাটালে তবে না প্রমাণ হবে বেঙা মরেছে। তার শ্রাদ্ধ হবে তখন, পরী বিধবা হবে তখন। কিন্তু বেঙার পাওনাগণ্ডা তখন আর মিলবে না। কে হিসেব করে দেখবে তখন? লোকে তো ভুলেই যাবে লঞ্চডুবির কথা। বেঙা ধীবরের কথা। এই বারো বছরে আরও কত লঞ্চডুবি হবে, কতজন নিরুদ্দেশ যাবে তার ঠিক নেই। সেই হিসেবে বেঙার হিসেব মিশে যাবে। পার্টি, পঞ্চায়েত কিছুতেই বেঙারে মৃত ঘোষণা করবে না তার লাশ না পেলে। তাদের সামনে নদীরাম ধীবর যে রয়েছে। না থেকেও রয়েছে। সে যদি পাঁচ বছর বাদে ফিরতে পারে, বেঙাও পারবে। হায়! পরী কাঁদতে কাঁদতে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। তার আঁচল লুটোচ্ছে ভিজে বালিতে, খোলা চুল অন্ধকারে উড়ছে নরম হয়ে আসা সমুদ্র বাতাসে। বাতাস এখন একটু একটু একটু করে ফিরে যেতে আরম্ভ করেছে। দখিন থেকে যে বাতাসের স্রোত আসে তা প্রায় মিলিয়ে যাওয়ার মুখে! পরী পুব দিকে মোহনার পথে হাঁটছে। ওদিকে রামনগরের খাল এসে সমুদ্রে পড়েছে। ওই খাল দিয়েও বেঙার লাশ উত্তর দিকে চলে যেতে পারে জোয়ারের সময়, তারপর চড়ায় পড়ে থাকবে কোনো এক নির্জন জায়গায়। আকাশের শকুন ছাড়া কারও নজরে পড়বে না। এরকম তো হয়েছিল। পরীরা দেখতে গিয়েছিল সেই অজ্ঞাত পরিচয় মৃতের দেহ। তারপর তা আবার খালের জলেই ভাসিয়ে দেয়া হয়েছিল। তেমন যদি হয়ে থাকে? পরীকে এখন খালপাড় ধরে টর্চ জ্বেলে উত্তরে রামনগরের পথে হাঁটতে হবে। কিন্তু সে তো হবে এক অনির্দিষ্ট যাত্রা। সমুদ্রের বিপরীতে, স্থলভূমির দিকে।

    ভানু দাস এসেছিল খোঁজ নিতে। খোঁজ নিতে আসার সময় সে দেখেছিল অন্ধকারে টর্চ জ্বালিয়ে হেঁটে যাচ্ছে কেউ। সে যে বেঙার বউ তা জেলেপাড়ায় এসে শুনল ভানু। বেঙার লাশ খুঁজছে মেয়েমানুষটা। যদি মরে গিয়ে থাকে তো খুঁজতে হবেই। কিন্তু না মরে থাকলে? পরী কি ভালোভাবে জানে যে বেঙা মরেছে। বেঙা যদি না মরে থাকে তাহলে ও তো মরবে এবার পরীর খোঁজাখুঁজিতে।

    বুড়ো কুঁড়োরাম অন্ধকারে পাঁচজনকে নিয়ে বসে ছিল, ভানুকে সে বলল, কালো জল অনেক সময় খেয়ে নেয়, খেয়েই নিয়েছে বেঙারে।

    ভানু বলল, সেই মরুভূমির পাখির কিছু হলো?

    ওটা পাহাড়ের পাখিও হতে পারে। বুড়ো বলল।

    কেন?

    আমি পাহাড় দেখি নাই, মরুভূমিও না, পাখিটা অচেনা ছিল বটে।

    ভানু বলল, এখনও সেই কথা হচ্ছে?

    হবে তো, বেঙারে সমুদ্দুরে নিল, ও ছিল চাষা, হলো ধীবর। বিড়বিড় করে কুঁড়োরাম, শুনো ভানুরাম, তুমার কথাটা কি ঠিক?

    কী কথা?

    মরুভূমির নিচে বোশাখী পুন্নিমায় বোমা ফাটল, তারপর ঘুড়াটা পলাল?

    হ্যাঁ, তা তো সত্যি।

    বেঙাও কি তাই পলাল?

    ভানু বলল, কী জানি, আচমকা ঝড়বিষ্টি তো হয়েই যাচ্ছে, একটা লোক এসেছিল, দাঁতনে ঘর, এক দুপুরে ঝড় এসে সব উড়ায়ে নিয়ে গেল, আগুনের গোলার মতো ঝড়

    হাঁ, শুনিছিলাম বটে সি কথা।

    ভানু বলল, সুবর্ণরেখা নদী পর্যন্ত আকাশে উঠে গিয়েছিল।

    কী সব্বোনাশ!

    বেঙা যদি না ফেরে! ভানু বিড়বিড় করতে থাকে। আর তখন অন্ধকারে একজন গর্জন করে ওঠে, তুমি কী বলতে এলে কহ দেখি ভানুবাবু?

    ভানু বলে, পৃথিবীর কোথায় যে কী করছে মানুষ, কিছুই ধরা যাচ্ছে না, কীর’ম রোদ হচ্ছে বলো, কী তাপ, এসবের সঙ্গে বেঙার মরণের যোগ থাকতে পারে, নাও পারে, তবে কিনা মরণটা বড় বেদনার, তাকে আমরা চিনতাম কিনা।

    হাঁ, হাঁ! অন্ধকারে বেদনা করে পড়তে থাকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমি লিলি – লিলি চক্রবর্তী
    Next Article বাতাসবাড়ি জ্যোৎস্নাবাড়ি – অমর মিত্র

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }