Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অশ্বচরিত – অমর মিত্র

    লেখক এক পাতা গল্প469 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অশ্বচরিত – ৪৫

    পঁয়তাল্লিশ

    একটু আগে এই ঘরে প্রলয় হয়ে গেছে। চিৎকার, কান্না, গর্জন সব মিলেমিশে একাকার হয়েছিল। এখন সব নিঝুম। ভারতী মেঝের ওপর দেয়ালের কোণে বসে আছে।

    শ্রীপতি বাইরে গেছে। আবার এসেছে আবার গেছে। এখন রাত কম হল না। সমুদ্র ছাড়া সব অতল ঘুমে তলিয়ে। শ্রীপতি চুপচাপ বসে ছিল, ভারতীর চোখে চোখ রাখতে পারছে না। মনে হচ্ছে ভারতী তার মনের কথা পড়তে পারছে। কী ভাবছে শ্রীপতি তা টের পাচ্ছে ভারতী। শ্রীপতির মন যে উড়ু উড়ু হয়েছে তা জেনে ফেলেছে ভারতী।

    আর ভারতী! কোটরে ঢোকা চোখ নিয়ে হাঁ করে শ্রীপতির দিকে চেয়ে আছে। চোখের পলক পড়ে না। সে কিছুই ধরতে পারছে না। শ্রীপতি যে তার থাকবে না তা কল্পনাতেও আসে না। শ্রীপতি তার অবলম্বন। শ্রীপতিকে খড়কুটোর মতো ধরে রাখতে চাইছে ভারতী।

    কাল থেকে আজ। ঝড়ের মতো কেটে যাচ্ছে। কিছু শ্রীপতির লক্ষে, কিছু অলক্ষে। সব কথা কেউ জানে না। একজন দুজন একটু আধটু। কাল দুপুরে মা আর বউ যে হাসপাতালে গেছে এ খবর সে পাবে কোত্থেকে? তখন তো শ্ৰীপতি বালিসাই। ভানু কোথায় জানে না। শ্রীপতি মীরগোদা যাবে যাবে করে বালিসাই গিয়েছিল রামনগর পার হয়ে।

    সেই সময় মধুমিতা আর তার শাশুড়ি হাসপাতালে ডাক্তারকে ধরে পড়েছে। কী ব্যাপার? ভারতী, ওই নার্স, ও শ্রীপতি জানাকে তুক করেছে, সিস্টার, যিনি দেবীর প্রতিমূর্তি হবেন, তিনি একটা পরপুরুষের রক্ষিতা হয়ে যান কী করে?

    হ্যাঁ, হতে পারে, মেয়েমানুষটা তো বেজন্মা, বংশপরিচয় নেই, আদাড়ে- বাদাড়ে কুড়িয়ে পাওয়া বাচ্চা, তাই—।

    ডাক্তার দুহাতে বাধা দিয়েছে শ্রীপতির মায়ের মুখকে, প্লিজ ওসব কথা বলবেন না, খুব খারাপ, খুব খারাপ।

    বয়স্ক মানুষটা সদাশয়। ভালো মানুষ। তিনি এই সব কথায় বিপন্ন বোধ করেছেন। বাস্টার্ড! হতে পারে কেন তাই-ই, সত্যিকারের জন্মসূত্রহীন। হারানো মেয়ে হতে পারে। বুড়ো মানুষটি বারবার রিকোয়েস্ট করেছেন, এসব আমাকে বলবেন না, এসব আমার এখতিয়ারে নেই, পার্সোনাল ব্যাপার।

    কিন্তু শ্রীপতির বউ আর মা হাল ছাড়েনি। মধুমিতার চোখ ছলছল করে ওঠে, সে ডাক্তারের হাত ধরে ফেলেছে, আপনি না দেখলে আমরা যে মরে যাব, আমার স্বামী, বাচ্চা সব যাবে, পুরুষমানুষ খেয়ালে মেয়েমানুষ পুষুক, তা পুষতে পারে, সেটা ভয়ের নয় ডাক্তারবাবু, ওখেনে মন মজে না, ফুর্তি হয়। কিন্তু মেয়েমানুষ যদি পুরুষ রাখে, সে পুরুষের আর বেরোবার উপায় নেই, ডাইন তুক করেছে, আপনার ভারতী নার্স ডাইনি।

    ডাক্তার পায়চারি করছেন তখন। শেষ অবধি তিনি আর পারেননি, বলেছেন, ঠিক আছে, মিস চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে দেখব আমি, ঠিকই তো, বউ বাচ্চা সব আছে, তবু কেন মিস চৌধুরীর ওখানে পড়ে থাকবে? খুব খারাপ খুব খারাপ, ভারতীর সরে আসা দরকার।

    শ্রীপতির মা মাত্রা যোগ করেছে, নার্সের যদি স্বভাব এমন ধারা হয়, তবে হাসপাতালে রুগি আসে কী করে? বেটাছেলে রুগি হলেই ভেড়া হয়ে যাওয়ার ভয়, নার্স মাগি তুক করে নেবে।

    এই কথাই গতকাল রাতে ডাক্তার সান্যাল ভারতীকে বলেছে। ভারতীর নাইট ডিউটি ছিল। ডাক্তার সান্যাল বললেন, তুমি যদি ট্রান্সফার চাও আমি চেষ্টা করতে পারি, ব্যবস্থা করব, তোমার এই জায়গা থেকে চলে যাওয়া উচিত, তোমার নামে খারাপ কথা আমি শুনতে পারব না।

    ভারতী নিশ্চুপ হয়ে গেছে।

    সান্যাল জিজ্ঞেস করেছেন, তোমার লাইফ হিস্টোরি সব্বাইকে বললে কেন?

    ভারতী জবাব দেয়নি। নীরবে তার কাজ করেছে। মাঝ রাতে ঘরে চলে এসেছে। এসে ঘুমিয়েছে কি চুপ করে থম মেরে বসে ছিল তা ভারতী চৌধুরীই জানে। আজ ডিউটিতে যায়নি ভারতী। সকাল থেকে ঘর বার করেছে। না ঘুমনো চোখদুটোয় লালচে আভা, চঞ্চলতা বেড়েছে।

    ঠিক বিকেলে শ্রীপতি কেন সব্বাইকে একসঙ্গে পেয়ে যায় সে। শ্রীপতি যাচ্ছিল হোটেলে, ওর মা আর বউ আসছিল এদিকে। ভারতী দুইয়ের মাঝখানে গিয়ে পড়েছে।

    ও মা আমার এখানে একটু আসবে, কথা আছে।

    ও মধুমিতা আমার এখানে একটু আসবে, কথা আছে।

    ও মা তোমার ছেলেকে নিয়ে এসো।

    ওরা তিনজনেই চমকে গেছে। কণ্ঠস্বরটা কেমন যেন। শ্রীপতি থাকতে চাইছিল না। বউকে সামনে রেখে ও ভারতীর সঙ্গে সহজ হয়ে কথা বলতে পারবে না। আর কথারই বা কী আছে, সে ভারতীকে ছাড়তে চায়। অনেক হয়েছে, আর না, মা বউ ডাক্তারের কাছে গিয়ে তার কাজটাই করে দিয়েছে। এ সুযোগ শ্রীপতি ছাড়বে কেন? মায়ের কাছে শুনেছে সে, সে এড়াতে চায়, কাজ আছে, পরে হবে।

    শ্রীপতির মা বলে, না বাছা সময় নেই।

    কিন্তু ভারতী ছাড়ে না, এসো না তোমরা, এসো।

    রাস্তার ভিতরে গোলমাল পাকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। ভারতীর পিছনে পিছনে এসে উঠেছে তার কোয়ার্টারে। মধুমিতা দাঁতে দাঁত চেপে আছে। ঠোঁট কামড়ে ধরছে বারবার। শ্রীপতি গোলমালের ভয় করছিল। শ্রীপতির মা খুব শক্ত, বলছে, বাছা, কী বলার তাড়াতাড়ি বলো, মন্দিরে যাব।

    মধুমিতা হিসহিস করেছে, এলে কেন মা? বাজারি মেয়েমানুষের ডাকে আসতে হবে?

    আহা। শ্রীপতি থামাতে চায় বউকে।

    কথাগুলো ভারতীর কানে গেছে কি না ধরা গেল না। সে খুব শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করল, ও মা, তোমরা কী বলে এসেছ? সে কথার ভারে যেন বারবার নুয়ে পড়ে।

    মধুমিতা চুপ করে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। শ্রীপতির মা বুঝে গেছেন ব্যাপারটা। বৃদ্ধা বলে ওঠেন, ভুল কিছু নয়। তুমি আমার ছেলেকে ছাড়ো মা, সংসার তো হয়নি তোমার, লোকেরটা ভাঙো কেনে?

    ভারতী থমকে যায়, তারপর আবার বলে, মা তোমরা, ওই কথা বলে আসতে পারলে! তোমাকে মা বলে ডেকেছিলাম।

    ছেঁদো কথা ছাড়ো। তুমি লোকটাকে তুক করেছ, চলে যাও এখেন থেকে, চলে যাও। আবার হিসহিস করে ওঠে মধুমিতা।

    এত সব কথার ভিতরে শ্রীপতি চুপচাপ।

    ওগো তুমি কিছু বলবে না? আমার নামে কীসব বলে এসেছেন এঁরা, ডাক্তারবাবু বললেন।

    শ্রীপতি কী বলতে গিয়ে চুপ করে যায়। কিন্তু মধুমিতা যেন ঝাঁপিয়ে পড়ে, এগিয়ে এসে এক থাপ্পড়ে প্রায় শুইয়ে দিয়েছে ভারতীকে, লজ্জা করে না। বাজারি মেয়েমানুষ তো বাজারে যা, মোর সোয়ামিকে টানিস কেনে? লাইনে গে দাঁড়া…!

    ভারতী পড়তে পড়তে টাল সামলায়। তারপর তীব্র আর্তনাদ করে ওঠে, তুমি আমাকে মারলে! সে ঘুরে শ্রীপতির দিকে তাকিয়েছে। শ্রীপতি তখন মাকে আর বউকে বলছে, চলে যাও, চলে যাও, এটা ভালো হচ্ছে না, ভদ্রলোকের মতো হচ্ছে না।

    মা ফুঁসে উঠেছে, আজ একটা কিছু হয়ে যাক।

    ভারতী একবার শ্রীপতির দিকে তাকায়, একবার মধুমিতার দিকে, বিড়বিড় করে বলে, আমাকে মারলে, ওগো তুমি কিছু বলবে না? তুমি কিছু বলো। বলতে বলতে দুহাতে কান চাপে ভারতী।

    তুমি আমার ছেলেকে ছাড়ো, তারপর কথা, না ছাড়বে তো থানায় যাব আমি, মন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে তোর চাকরি খাব, নার্সগিরি করিস না কী করিস তা জানাব। শ্রীপতির মা বলল।

    ঘটনা অনেকক্ষণ গড়ায়। শেষ অবধি মধুমিতা আর শ্রীপতির মা টানতে টানতে শ্রীপতিকে নিয়ে বেরিয়ে যায়। ভারতী ওখেনে বসে থাকে। বহুক্ষণ বাদে শ্রীপতি আবার ঘুরে আসে। শ্রীপতির ঘুরে আসার কারণ আছে। ভারতীকে বুঝিয়ে যদি বদলি নেয়ানো যায়। ব্যাপারটা দশকান হওয়া তো শ্রীপতি মাইতি হোটেলওয়ালার পক্ষেও ভালো না। দিন দিন এসব নিয়ে গোলমাল হলে তার ব্যবসাও মার খাবে। ভারতী যদি নিজে থেকে সম্পর্ক শেষ করে চলে যায় তো শ্রীপতি বাঁচে। এক মেয়েমানুষে কতদিন রুচি থাকে। আর এ তো পাগলির মতো হয়ে যাচ্ছে দিন দিন!

    ভারতী আস্তে আস্তে জিজ্ঞেস করেছে, সব সম্পর্ক শেষ। শ্রীপতি ভারতীকে চুপ করে থাকতে বলে, রেস্ট নাও।

    ভারতী বারবার জানালার কাছে গিয়ে মেঘ দেখে, আস্তে আস্তে বলে, আমাকে সবাই একঘরে করে রেখেছে। কেউ কথা বলে না। দোকানপাট বাজারঘাটে সব মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। লোকে কী করে জানল আমি পড়ে পাওয়া মেয়ে। জন্মের ঠিক নেই। তোমার মা বউ বলে বেড়াচ্ছে এসব, কীরকম অদ্ভুত চোখে লোকে তাকায়।

    শ্রীপতি চুপচাপ। ভারতীর জীবনের কথা শুনে ও কষ্ট পেয়ে মাকে বলেছিল। তখন সম্পর্কটা সকলের ভিতর সুন্দর। মা সবে হাসপাতাল থেকে ফিরেছে। মা কষ্ট পেয়েছিল। মায়ের চোখে জল ছিল। আহা, বড় দুঃখী ওই নার্সটা। কী সেবাই না করল, ও আমার মেয়ের মতো। এখন মার মনে দুঃখ নেই। মা ঘেন্না করছে ভারতীকে তার ছেলেকে সরিয়ে আনার জন্য।

    চাদ্দিকে শুধু ফিসফাস গুঞ্জন, আমার জন্মের ঠিক নেই, আর আমি তোমার কী যেন! বলতে পারছি না—তোমার বউ আমাকে চড় মারল। তুমি কিছু বললে না?

    শুনতে পাচ্ছ হো হো ফুর্তির শব্দ। একটা মানুষকে ঘিরে কত মজা! ওগো তুমি কিছু বললে না, তোমার বউটা আমাকে -?

    শ্রীপতির কিছু বলার নেই। ভারতী মেঝেতে বসে বারবার কেঁপে কেঁপে উঠছে। মাথাটা চেপে ধরছে। মাথায় রাশি রাশি চুলের ভিতরে ওর ছোটখাটো মুখখানি ঢেকে গেছে।

    তুমিও খুব মজা পেয়েছিলে তাই না! বেজন্মা, জন্মের ঠিক নেই যার। আত্মীয়স্বজন কেউ নেই, একা মেয়েমানুষ, তার সঙ্গে অনায়াসে মেশা যায়। তার মান অপমানের দায় থাকে না তোমার।

    শ্রীপতির মুখ কালো হয়ে যায়, বলে, চুপ করে থাকো, বড় বেশি বাড়াবাড়ি করছ! কণ্ঠস্বরে একটু ঝাঁজ।

    ভারতী হাঁ করে শ্রীপতির দিকে চেয়ে থাকে। তারপর হাসে। হাসতে হাসতে একেবারে স্বাভাবিক হয়ে যায়, ঠিকই তো, আর আমারই অন্যায় হয়েছে! আমি চলে যাব, তাই-ই ভালো, কী বলো?

    শ্রীপতি বলে, অনেক দিন হলো তো, আমি তো তোমার জন্য মা বউ ত্যাগ করতে পারব না, বরং তুমি বদলি নিয়ে চলে যাও, জীবনে এরকম হয়।

    হয়! ভারতী শান্ত, কত কিছু হয় তাই না।

    শ্রীপতি মাইতি দেখছিল কী শান্ত হয়ে বসে আছে ভারতী। চেহারার জেল্লাটা এখন একটু ঝরে গেছে। যখন দেখেছিল প্রথম এই মেয়েকে, তখন আকর্ষণ ছিল শরীরে। কী মায়াবতী, স্নিগ্ধ চোখদুটি! মুখখানিতে ঢলোঢলো ভাব ছিল। শরীরখানি ছিল কী সুন্দর! শ্রীপতি সহজেই ঝুঁকে পড়েছিল। এখন মনে মনে কোকিলার কথা ভাবছে। যেদিন দেখেছে কোকিলাকে, শ্রীপতির সব টান ছিঁড়ে গেছে এখান থেকে।

    শ্রীপতি দেখছিল, কেমন স্তব্ধ হয়ে বসে আছে ভারতী, কোথাও কোনো কম্পন নেই যেন। ভারতীর পুরনো চোখদুটিই আছে, সেই রকম, সেই মায়া, সেই চোরা চাহনি! শ্ৰীপতিকে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হয়। না হলে ওই চোখের মায়ায় পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই চোখই তো সব্বোনাশ করেছিল তার। সব্বোনাশ কেন হবে? ভারতী নিজেকে কী সহজেই না নিবেদন করেছিল শ্রীপতির কাছে। কী আশ্চর্য! অত সহজেই যে পেয়ে যাবে তা ভাবেনি শ্রীপতি। কী মোহময় দুপুর ছিল সেটি। শ্রীপতি প্রায় সবটাই ভুলে গেছে। আবছা মনে পড়ে।

    ভারতী ফিসফিসিয়ে বলল, তাহলে আমি চলে যাব?

    আমি তো নিজের সংসার ভাঙতে পারব না। বলতে বলতে শ্রীপতি বোঝে এসব ছেঁদো যুক্তি। তার সংসার ভাঙছে কই? ভাঙবে না। কোনো দিন ভাঙবে না। ভেঙে মধুমিতা যাবে কোথায়? পুরুষমানুষ এসব করে। মধুমিতা যে ভারতীকে অপমান করে যেতে পারে, ভারতীর গায়ে হাত তুলতে পারে তা তো তারই প্রশ্রয়ে। শ্রীপতি যদি রুখে দাঁড়ায় মধুমিতার সাহসই হবে না ভারতীর সামনে দাঁড়ানোর। শ্রীপতি যেমন চায় তেমনই করবে মধুমিতা। মধুমিতা টের পেয়েছে শ্রীপতির মন ঘুরছে, এতদিনের ক্ষোভ মধুমিতা উগড়ে দিচ্ছে। এতদিনের অপমান, হীনম্মন্যতার শোধ নিচ্ছে মধুমিতা এইভাবে ভারতীকে অপমান করে। শ্রীপতির মনে হয় আর এক- দু’দিন মধুমিতা যদি ঢোকে এর কোয়ার্টারে, ভারতী এই সমুদ্রতীর ছেড়ে পালাবে। শ্রীপতির হাসতে ইচ্ছে করছে। মধুমিতা কি ভেবেছে শ্রীপতি আর পত্নীঅন্ত প্রাণ হবে? হা হা হা…কী করে হবে শ্রীপতি পত্নীঅন্ত? তার যে মনই নেই মধুমিতায়। মধুমিতা যদি পারে ভারতীর সঙ্গে চুলোচুলি করে ওকে তাড়াক।

    ভারতী নিশ্চুপ জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রীপতি ভাবছিল উঠে যাবে কি না। কিন্তু কৌতূহলে বসেই আছে।

    বাইরে এখন মহা অন্ধকারের পৃথিবী। কার্তিকের হিমেল রাত। ভারতী দুটো হাত বাড়িয়ে বাতাস নিয়ে আসে তার মুখের কাছে। ওর মাথার ভিতরটা ঝনঝন করে বেজে উঠছে। সেই যে মেয়েটা মীনাক্ষী। মীনাক্ষীই তো। উঁহু সে তো এই ভারতীই! বসে বসে রোগা হয়ে গেল। গাল ভেঙে গেল, চোখ বসে গেল! আর সেই ছেলেটা, যাকে একদিন কয়েক ঘণ্টা অন্ধকার দেখছিল সে! কী নাম যেন? দীপক! হাওয়া উঠছে! আহ্! কত বাতাস। জানালা দরজা হাট আলগা হয়ে বাতাস তুমুল হয়ে উঠেছে। ফুলপাহাড়ির বাঁধের ওধারে একটা মস্ত শিমুলগাছ ছিল। হাওয়ায় হাওয়ায় তুলো উড়ে আসত না! মেয়েগুলো ছাতে লুটোপুটি হয়ে সেই তুলো ধরত। কে বেশি ধরতে পারে!

    তারপর আমাকে পুলিশ হোমে ফেরত দিল। সিঁদুর পরেছিলাম! ঘষে ঘষে সিঁদুর তুললাম। আবার কতকাল বাদে! ঠিক সেই বাতাস এলো যেন। লাল, হলুদ, নীল, সবুজ, আকাশটা ফেটে সেই সব রং বেরোতে লাগল! শিমুল তুলোগুলো আকাশে উঠে মেঘ হয়ে গেছে। নীলের ওপরে তুলো উড়ছে। আমি আসল পৃথিবীতে এলাম। সমুদ্রতীর, পুরুষমানুষ, আত্মীয়। আকাশে ফেটে ফেটে রং পড়ছে! মীনাক্ষী! নামটা যেন বড় ভুল!

    হাসতে হাসতে শক্ত হয়ে যায় ভারতী। শিরা ধমনি আর চামড়ায় ঘেরা দেহটা কাঁপতে কাঁপতে উলটে পড়ে মেঝেতে। মাথাটা ঠুকে যায়। শ্রীপতি লাফিয়ে ওঠে, কী হলো?

    ঘরে অল্প ওয়াটের বাল্ব। গুমোট ভাব, ধুলোর গন্ধ। শ্রীপতি কী করবে ভেবে না পেয়ে, জলের কুঁজোটা নিয়ে এসে গড়িয়ে দেয় জল। ভারতী ভক ভক করে বাতাস নিচ্ছে। মুখ গহ্বর হাঁ হয়ে গেছে। আলজিব পর্যন্ত দেখা যায়।

    শ্রীপতি বিপন্ন হলো। এখন তো ডাক্তার ডাকতে হয়। সে দ্রুত স্নান ঘরে ঢুকে মগ ভর্তি জল এনে ভারতীর মুখে ছিটোতে থাকে। জ্ঞান না ফিরিয়ে সে যায় কীভাবে? কোনো মায়া আর নেই ভারতীর ওপর, তা সত্ত্বেও গোপন কোনো টান তো রয়ে গেছে এখনও। যে চোখের মায়ায় সে এগিয়ে গিয়েছিল এই নারীর দিকে, সেই চোখদুটিই এখন যেন ভয় দেখাচ্ছে তাকে। চোখের পাতা বুজিয়ে দিতে চায় শ্রীপতি। মরামাছের মতো ড্যাবডেবিয়ে চেয়ে আছে ভারতী। শ্রীপতির নিজেকে অসহায় মনে হতে থাকে। সে ভারতীর পাশে উবু হয়ে বসে তার শ্বাস-প্রশ্বাস লক্ষ করতে থাকে। চোখ ধীরে ধীরে খুঁজে যায়। ঘুমিয়ে পড়ছে যেন ভারতী। শ্রীপতি এবার যাবে। কিন্তু না ডেকে যায় কীভাবে? দরজা খোলা রেখে তো যাওয়া যায় না। ভারতীকে অস্ফুটস্বরে ডাকতে থাকে সে। চোখদুটি বহুক্ষণ বাদে যেন খুলে যেতে থাকে।

    ভারতী ঘুমঘোরে সাড়া দেয়, কী বলছ?

    আমি এবার যাব।

    না থাকো, আর একটু।

    কাজ আছে।

    কোনো কাজ নেই। ভারতী তার দিকে পাশ ফিরে শোয়, কীরকম অদ্ভুত চোখে তাকায়, তাকে দেখতে থাকে। অচেনা মানুষ দেখলে যেমন চোখের ভাব হয় তেমনি ভাব ফুটে ওঠে যেন—শ্রীপতির মনে হয় তাই। শ্রীপতিরও যেন অচেনা মনে হয় ওই দৃষ্টি, সে ডাকল, ভারতী!

    ভারতী ডাক শোনে না, নিস্পন্দ হয়ে গেছে চোখদুটি। শ্রীপতির আচমকা মনে হয় চোখ চেয়েই ঘুমোচ্ছে যেন ভারতী। নাকি জেগে আছে? সে ভারতীর গায়ে হাত ছোঁয়ায়। কোনো সাড়া নেই। আবার ডাকে অনুচ্চ গলায়।

    শ্রীপতি কোনো জবাব না পেয়ে থম মেরে বসে থাকে। একবার ভাবে ঝাঁকুনি দিয়ে জাগিয়ে দেবে ভারতীকে। কিন্তু পারে না। এই যে চেয়ে আছে ভারতী। এখন তো মনে হচ্ছে আগের মতোই জেগেই আছে। জেগে আছে, তার কথা শুনতে পাচ্ছে না। শ্রীপতি আবার ডাকে। এবারও সাড়া পায় না। সাড়া না পেয়ে বসে থাকে।

    সেই সময় ভারতীর চোখে স্পন্দন আসে। চক্ষুমণি যেন নড়ে উঠল। কালো মণিটি চোখের কোণে প্রায় লুকিয়ে গিয়েছিল, ধীরে ধীরে তা আঁখি গহ্বরের মধ্যখানে স্থিত হয়। শ্রীপতির মনে হলো ঘুম ভাঙছে, অথবা জ্ঞান ফিরছে ভারতীর। শ্রীপতি অপেক্ষা করতে থাকে। ভারতী উঠুক, উঠে দরজা বন্ধ করুক। সে চিরকালের মতো ভারতীকে ছেড়ে যাবে। চিরকালের মতো ছেড়ে যাবে বলে শ্রীপতি একটু সময় দিচ্ছে ভারতীকে। চিরকাল অনেক, অনেক সময়, অনেক বছর, অনেক ঘণ্টা, অনেক দিন। বিপুল সময়পুঞ্জ। আর এই অপেক্ষাটা তার তুলনায় সামান্য, গণনায় আসে না এমন ক্ষুদ্র এই সময়। এটুকু ভারতীর জন্য ব্যয় করতেই পারে শ্রীপতি। আর ভারতীও যেন তা জেনে সময়টিকে দীর্ঘ করতে চাইছে জাগরণে, অজাগরণে, জ্ঞানে, অজ্ঞানে, চেয়ে থাকায়, না চেয়ে থাকায়। কী আশ্চর্য! চক্ষুমণিটি আঁখি গহ্বরের মধ্যস্থলে এসে আবার নিশ্চল হয়েছে। শ্রীপতির ওপরে নিবদ্ধ সেই দৃষ্টিরেখা। শ্রীপতি এমনভাবে দেখছে যেন কোনো মৃতের চোখ। মৃতের চোখ সচল হলে যে বিস্ময় অধিকার করে জীবিতকে সেই বিস্ময় শ্রীপতিকে গ্রাস করছে একটু একটু করে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমি লিলি – লিলি চক্রবর্তী
    Next Article বাতাসবাড়ি জ্যোৎস্নাবাড়ি – অমর মিত্র

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }