Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অশ্বচরিত – অমর মিত্র

    লেখক এক পাতা গল্প469 Mins Read0
    ⤶

    অশ্বচরিত – ৫১

    একান্ন

    ঘোড়াটা হাঁটছিল। সে বুঝতে পারছিল আশ্বিন আসেনি, আকাশ নীল হয়নি, কাশফুল ফোটেনি, বাতাস ঠাণ্ডা হয়নি, সমুদ্র শান্ত হয়নি—সব তার ভুল। সে বুঝতে পারছিল বর্ষা আসেইনি তো বর্ষার অবসান হবে কী করে? যে বৈশাখের ভিতরে ছিল সে, সাঁতরাপুর থেকে যে বৈশাখের পথে হেঁটে এলো মালিক শ্ৰীপতি মাইতিকে পিঠে চাপিয়ে কঠিন রোদে ধুঁকতে ধুঁকতে, সেই বৈশাখই রয়ে গেছে। কালবৈশাখীর মেঘ জমেছিল, সেই মেঘে বৃষ্টি হয়েছিল, সেই বৃষ্টি শেষ হয়ে গেছে, বর্ষার মেঘ এখন সমুদ্রের অতলে, তাদের ঘুম ভাঙেনি।

    ঘোড়াটা বুঝতে পারছিল বড় ভুল হয়ে গেছে। আশ্বিনকে যেন সে স্বপ্নের ভিতরে দেখেছিল। আকাশ তাকে ঘোর মায়ায়, বিভ্রমে ফেলেছিল সেই পূর্ণিমার রাতে। সে এবার অনুভব করছিল যে বৈশাখ তাকে ঘিরে আছে তা আরও নিদয়া, কঠিন। যে পৃথিবীর পথে সে চলেছে সে যেন এক আগুনের পৃথিবী। ঘোড়াটা ছায়া চাইছিল, ছায়া পেলে দাঁড়ায়। দাঁড়িয়ে থাকে। দাঁড়িয়ে থাকে অনেকক্ষণ, অনেক সময়, অনেক মাস। সে পথ খুঁজছিল। কোন পথে গেলে পেয়ে যাবে চন্দনেশ্বর মন্দির, তারপর নতুন দীঘা, তারপর শ্রীপতি মাইতির হোটেল? সে মালিকের কাছে ফিরতে চাইছিল। এখন, এই এত শত বছর ধরে তার অভ্যাস বদলে গেছে, যদিও কখনো কখনো রাজপুত্রের স্মৃতি, সারথি ছন্দকের স্মৃতি, নদীতীরের স্মৃতি, বনভূমির স্মৃতি ফিরে আসে আচমকা, কিন্তু তা যে তাকে নদীতীরে, বনভূমিতে, অশ্বযূথে নিয়ে যাবে না, বুনো ঘোড়ার পালে ফিরিয়ে দেবে না, সে কি তার অজানা? এই তো খুঁজে বেড়াচ্ছে হিনাড়ির গিরিমশায়ের পালিতা কন্যাটিকে, সেই রূপসীকে, যাকে সে সন্তান দিয়েছিল, আবার দেবে, সেই কামনায় না বাতাসের বেগে ছুটে এসেছিল চোদ্দবেড়িয়ার চরে। মনের বেগে ছুটে এসেছিল বুনো ঘোড়ার পালের দিকে। আশ্বিনে যখন চোদ্দবেড়িয়ার চর চারপাশের নানা ঘোড়ার ডাকে, নানা ঘোড়ার ফুর্তিতে প্রাণময় হয়ে ওঠে, তখন তাদের ভিতরে হারানো স্মৃতি ফিরে আসে। অতীতের শৌর্য, বীর্য প্রাণময়তা জেগে ওঠে। এখন সে নিঃসঙ্গ। নিঃসঙ্গ ঘোড়াটির কিছুই মনে পড়ে না। মাথার ভিতরে কিছুই থাকে না আর। সে শ্রীপতি মাইতির হোটেলের কথাও যেন ভুলে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে সব। যেমন পথ হারিয়েছিল সে, তেমনিভাবে হারিয়ে যাচ্ছিল পথের চিহ্নগুলো, চেনা পথ অচেনা পথের ভিতরে ঢুকে যাচ্ছিল। সে বিষণ্ন হয়ে এদিক-সেদিক দেখছিল। যদি সখীদের কাউকে দেখা যায়। ভোগরাই, রানিশাহী, হিনাড়ি, দেউলপোতা, কত জায়গার ঘোড়ারা সব আসত। সেই সব ঘোড়ারা কই? কোথায় তারা? ঘোড়াটা ডেকে উঠল, চিঁহি চিঁহি করে ডাকছিল, ভোগরাই, রানিশাহীর পক্ষিরাজের দল, তোমরা কোথায়, তোমাদের টানে ছুটে এলাম, তোমরা কেউ নেই, সবুজ চরখানি বালি ধূসর। বাতাসে বালি উড়ছে। ঘূর্ণী হচ্ছে। তপ্ত বাতাসে চোখের ভিতরটা জ্বালা জ্বালা করছে। ঘোড়াটা হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছল এক গাঁয়ে। গাঁ মানে কটা ঘর। পথের ধারে শিশুরা খেলছিল। কত সময়, কত দিন, কত বছর, কত যুগ বাদে মানুষের মুখ দেখল সে। দেখে তার আশা জাগল, মানুষ যখন তাকে চিনিয়ে দেবে মালিকের বাড়ির পথ। হয় সাঁতরাপুর, না হয় দীঘা। হয় দীঘা, না হয় হিনাড়ি, গিরিমশায়ের বাড়ি, রূপসী ঘুড়ীটা আছে সেখানে, যে তাকে ডাক দিয়েছিল পূর্ণিমার রাতে। ছেলেপুলেদের দেখে শীর্ণকায় কন্থক ডেকে ওঠে, হিনাড়ি কোন দিকে? গিরিমশায়ের বাড়ি?

    ছেলেরা হইহই করে ওঠে, ঘোড়া, ঘোড়া, কোথাকার ঘোড়া?

    কন্থক তার পরিচয় দিল আকাশের দিকে ঘাড় উঁচিয়ে। তা শুনে ছেলেরা চিৎকার করতে লাগল খেলা ভুলে, বলতে লাগল, ঘোড়া ঘোড়া, রাজপুত্রের ঘোড়া মানে অশ্বমেধের ঘোড়া!

    ধর ঘোড়া, ধর ঘোড়া, অশ্বমেধ যজ্ঞের ঘোড়া ছেড়েছে রাজা!

    ঘোড়া, ঘোড়া, ঘোড়া! রব উঠতেই নিঝুম গ্রামখানি জেগে উঠতে লাগল। ঘোড়াটি দাঁড়িয়ে ছিল একটি সাঁইবাবুলের ছায়ার নিচে কোনো রকমে। ছায়াটা বড় ছোট, সূর্য মাথায় উঠেছে, ছায়া আরও ছোট হয়ে আসছে। ঘোড়াটা শুনছিল অশ্বমেধ যজ্ঞের কথা। ঘোড়াটা শুনছিল রাজার কথা। তাকে নাকি ছেড়েছে রাজা পৃথিবী পরিক্রমায়। সেই জন্ম যেন রাজপুত্র গৌতমের জন্মের বহু আগে, হিংসায় ভরা পৃথিবী তখন। যজ্ঞের ঘোড়া ধরলেই যুদ্ধ লাগবে। ঘোড়াটা অলস দৃষ্টিতে ছেলেপুলেদের দেখছিল। রাজার ঘোড়া বলতে তার ভিতরে ঈষৎ তেজিভাব জেগেছে। তার যেন মনে পড়ে যাচ্ছিল অশ্বমেধ যজ্ঞটির কথা। কবে কোন কালে, কোন পুরাণের পৃথিবীতে সে বেরিয়েছিল যজ্ঞের ঘোড়া হয়ে। সেই স্মৃতি ফিরে আসছিল। সেই স্মৃতি শৌর্যের এবং বেদনার। মনে পড়ে সব, কত প্রাচীন দিনের কথা তা, সে ছিল রাজার ঘোড়া। অতি সুলক্ষণযুক্ত ঘোড়াটির গায়ের রং মেঘের মতো। মেঘবরণ ঘোড়াটির মুখখানি সোনালি হলুদ, দুই পাশের দুই পাঁজরে অষ্টমী তিথির দুই চাঁদ যেন ভেসে আছে! তার সমস্ত শরীর বিদ্যুৎপ্রভ, পেটের রং কুন্দফুলের মতো সাদা, চরণ হরিৎ বর্ণ, কানদুটি সিঁদুর রাঙা, তার জিহ্বা যখন দেখা যায়, মনে হয় প্রজ্বলিত অগ্নি বুঝিবা। দুটি চোখ সূর্যের মতো তেজময়, তার সর্ব অঙ্গে সুগন্ধ। সে ছিল অতি বেগবান। তার কপালে জয়পত্র বাঁধা। তার পিছনে পিছনে চলেছে রাজার সৈন্য। যে রাজ্যে ঢুকবে ঘোড়া, সেই রাজ্য যজ্ঞাধিপতি রাজার অধীন হয়ে যাবে।

    এ তো একা এসেছে, সৈন্যসামন্ত কই? কে যেন বলে ওঠে

    হা হা করে হাসে কে যেন, বলল, লুকিয়ে আছে, ঘোড়াটাকে ধর।

    যজ্ঞের ঘোড়া সত্যি?

    যজ্ঞের ঘোড়া, যজ্ঞের ঘোড়া। রব উঠল। বালকদের চিৎকারে নিঝুম গ্রামখানি জেগে উঠতে লাগল। কারা যেন ছুটে এলো কোথা থেকে। তাদের পাকানো গোঁফ, রক্তাভ চোখ, মাথায় গেরুয়া পাগড়ি, দেহখানি দানবের মতো। ঘোড়াটিকে দেখে তারাও চিৎকার করে ওঠে, অশ্বমেধের ঘোড়া, না হলে ঘোড়া আসবে কেন, এবার যুদ্ধ লাগবে।

    : যুদ্ধের জন্য তো আমরা বসে আছি।

    : যুদ্ধ না হলে দাঙ্গা হবে।

    : দাঙ্গার জন্য বসে আছি কতকাল।

    : যুদ্ধ হবে, যুদ্ধ হবে, অনেক দিন সহ্য করা হয়েছে, আর সহ্য করা হবে না, যুদ্ধ, যুদ্ধ, ঘোড়াটিকে ধর, যুদ্ধ হবে।

    : মানুষ মরবে যে।

    : মরুক, কতদিন মানুষ মরেনি, কতদিন আনন্দ হয়নি! আটকাও ঘোড়াটাকে, রায়ট লাগাও ঘোড়া আটকে।

    কিন্তু এ কি সত্যিই অশ্বমেধের ঘোড়া? এ তো শাস্ত্রমতে সুলক্ষণযুক্ত নয়। এ তো মেঘবরণ নয়, সোনাবরণ মুখ নেই, চন্দ্র চিহ্ন নেই শরীরে। পেটে ঘা। অলক্ষুনে ঘোড়া, এ ঘোড়া পাঠাল কে?

    হা হা করে হাসে একটা লোক, যবনের ঘোড়া, যবন মালিক হতে পারে ওর।

    ধর ঘোড়াটাকে, আটকা। বলে ধেয়ে আসতে লাগল লোকগুলো। এখন টের পেল কন্থক বিপদ সামনে। তার শরীরে বেগ এলো। ঝিমিয়ে পড়া শরীর বিপদের ভয়ে টানটান হলো। ছুটল সে। সে ছুটতেই পিছনে ছুটে আসতে লাগল লোকগুলো, অশ্বমেধের ঘোড়া, মার, মার, ধর, ধর, যুদ্ধ লেগে যাবে, যুদ্ধ।

    যুদ্ধ, যুদ্ধ, যুদ্ধ না হলেও যুদ্ধ! রব উঠতে লাগল। সেই রব পরিব্যাপ্ত হলো চতুর্দিকে। চারদিকে কথা উঠতে লাগল, অশ্বমেধের ঘোড়া ঢুকেছে, যুদ্ধ লাগল বলে। অশ্বমেধের না হলে যবনের ঘোড়া, তাহলেও যুদ্ধ। যুদ্ধ না হোক যুদ্ধের বাতাস বইবে। ঢিল মারতে মারতে ঘোড়াটার পিছনে ছুটে আসছিল মানুষজন। তারা সবাই ঘোড়াটাকে মেরে ফেলতে চায়। কতদিন মানুষ মারা হয়নি, ঘোড়াটাকে মেরে সেই মানুষ মারার যজ্ঞ আরম্ভ হোক। ঘোড়াটা ছুটছিল, বেগবান হয়ে উঠছিল ক্রমশ।

    ঘোড়াটা বুঝতে পারছিল যদি ধরা পড়ে, মৃত্যু অনিবার্য। তার মৃত্যুর পরেই লেগে যাবে দাঙ্গা। দাঙ্গার একটা সূত্র চাই। যে কোনো সূত্র। দাঙ্গার কোনো যুক্তি চাই না, আরম্ভের কোনো একটা উপায় চাই। সেই উপায়টা হলো তার প্রাণ। সে যবনের ঘোড়া, না যজ্ঞের ঘোড়া এই নিয়ে কথা উঠল বলে। এরই ভিতর রব উঠেছে, যবনের ঘোড়া, যজ্ঞের ঘোড়া। যবন…! যজ্ঞ…!

    সে তো কন্থক। এখন না হয় অশক্ত হয়েছে, কিন্তু সে তো সেই ঘোড়া যার রক্তে আছে অরণ্য, নদীতীর, আমুদরিয়া, সিরদরিয়া নামে দুই নদীর বাতাস, তৃণভূমির সুঘ্রাণ। সে ছিল রাজপুত্রের প্রিয়তম অশ্ব। সে কৃষ্ণবর্ণের না হোক, তার শরীরে, তলপেটের কাছে সোনালি একটি চিহ্ন তো রয়েছে। সরু চাঁদের মতো। সেই চিহ্নই তো বলে দেয়, তার স্মৃতিতে অশ্বমেধ যজ্ঞ আছে। কোনো এক পুরাণদিনে সে ছিল মেঘবর্ণ, বিদ্যুৎপ্রভাযুক্ত বেগবান অশ্ব। সে রাজার মহিমা, শৌর্য প্রচারে বেরিয়ে পড়েছিল জগৎ পরিক্রমায়। তার রাজা হবেন সসাগরা পৃথিবীর অধিপতি। এর চেয়ে আনন্দ কী হতে পারে? রাজা করেছেন নিরানব্বইটি যজ্ঞ, শততম যজ্ঞের কথা শোনাতে শোনাতে সে পার হয়ে যাচ্ছে নদী, পাহাড়, অরণ্য, শস্যভূমি, গ্রাম, নগর, রাজ্য, রাজধানী। একটি বৎসরকাল গেল পরিক্রমায়। ফিরে এলো সে বৎসর অতিক্রান্ত হলে।

    সে ছুটছিল। ছুটতে ছুটতে পার হয়ে যাচ্ছিল কত গ্রাম! কত শস্যহীন শস্যক্ষেত্র। কত ঊষরভূমি, বালুকাময় প্রান্তর। মনে পড়ে যাচ্ছিল সে ফিরল রাজধানীতে। বিজয়ী অশ্বকে বরণ করল পুরনারীরা। সে ফিরল দেশজয়ের খবর নিয়ে। বিজয়ী অশ্বকে যজ্ঞস্থলে নিয়ে গেল পুরোহিতরা। তারপর!

    ঘোড়াটি দেখল সে কোনো এক অরণ্যে ঢুকেছে। কোন অরণ্য জানে না। সে হাঁপাচ্ছিল। জিভ বেরিয়ে এসেছিল। প্রজ্জ্বলিত অগ্নির মতো ছিল যে জিহ্বা, তা এত করুণ হতে পারে জানা ছিল না। লালা ঝরছিল একনাগাড়ে। লালায় ভিজে যাচ্ছিল বালি, মাটি।

    সে টের পাচ্ছিল যে বালিতে সে অভ্যস্থ, সেই বালি নেই পায়ের নিচে। যে অরণ্য তার স্মৃতিতে আছে যুগযুগান্ত ধরে, সেই অরণ্যের সঙ্গে এই অরণ্যের মিল নেই। সে দেখছিল চারপাশে কাঁটাগাছ ফণিমনসার ঝাড়। এত বড় বড় কাঁটাগাছের ঝোপ সে আগে দেখেনি। তার মাথায় ঘোলাটে রোদ। আকাশ হয়ে উঠেছিল ধূম্রবর্ণ। সে দেখছিল দূরে কোথাও যেন মেঘ উঠছে। লোকজনকে দেখা যাচ্ছিল না, কিন্তু তাদের কণ্ঠস্বর কানে জেগে ছিল। যুদ্ধ না হয় দাঙ্গা, দাঙ্গা না হয় যুদ্ধ। অশ্বমেঘের ঘোড়াটি গেল কোথায়? লোকজন হইহই করছিল, ওই যে আবার। আকাশ কালো হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ লেগে গেল! যুদ্ধের জন্য মানুষ অধীর হয়ে উঠেছে।

    ঘোড়াটি নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। সে যে ভেবেছিল অরণ্যে ঢুকেছে, আসলে তা নয়। তার মনে অরণ্যের ভাব জেগেছিল। মনে মনে অরণ্যকে আকাঙ্ক্ষা করেছিল সে। অরণ্যই তাকে বাঁচাতে পারে। সে লুকিয়ে পড়তে পারে অরণ্যে। সে দূরের ধূম্রবর্ণ আকাশের দিকে চেয়ে ছিল। আহা! মেঘ থেকে যদি বৃষ্টি নামে সে বেঁচে যেতে পারে। কিন্তু সে যদি সত্যিই অশ্বমেধ যজ্ঞের জন্য প্রদত্ত হয়ে থাকে, তবে!

    রাজার ঘোড়ার অধিকার নিলেন যজ্ঞের পুরোহিত। তার মনে পড়ে যাচ্ছিল সব। তাকে স্নান করানো হলো, তাকে শুদ্ধ করে যজ্ঞের যূপকাষ্ঠের দিকে নিয়ে যাচ্ছে পুরোহিতের দল। পুরোহিত ঘোষণা করছেন, রাজা হয়েছেন রাজ চক্রবর্তী, পৃথিবীর অধীশ্বর। রাজা নিবেদন করছেন এই বেগবান অশ্বকে দিগ্বিজয়ী ইন্দ্রের প্রতি। তারপর! তার আর মনে নেই, সে দেখেছিল এক ভীষণ খড়্গগ। সূর্যের আলোয় সেই খড়্গগ জ্বলে উঠেছিল অগ্নির ন্যায়। সেই স্বর্ণাভ খড়্গগখানি রক্তের লোভে নেমে আসছে তার ওপর। সে কেঁদে উঠেছিল ভয়ে। এইটুকু!

    কী হয়েছিল তারপর? সে শুনেছিল হয়তো, নাকি জেনেছিল অন্য কোনো জন্মে। মৃত অশ্বটিকে নিয়ে বসে আছেন রাজমহিষীরা। অশ্বের বক্ষঃস্থল বিদীর্ণ করে হৃদয়খানি তুলে এনে যজ্ঞে দগ্ধ করতেন পুরোহিত। সেই দগ্ধ হৃদয়ের ঘ্রাণ নিতেন রাজা। রাজমহিষীরা গোপনে হয়তো চোখের জল ফেলতেন। অশ্বের মৃত শরীর নিয়ে সমস্ত রাত বসে আছেন তাঁরা। এক মহিষী অন্যজনকে বলছেন বেগবান অশ্বের শৌর্যের কথা। কথাগুলো।

    ঘোড়াটির ভয় হচ্ছিল। সে ডাকছিল আকাশের মেঘকে। মেঘ এসে তার পৃথিবীকে শীতল করতে পারে। তার পায়ের নিচে আগুন, মাথার ওপরে আগুন, তার চতুর্দিকের অগ্নিবলয় তাকে অধিকার করেছিল ক্রমশ। তার ভিতরে মানুষের কণ্ঠস্বরগুলো ঢুকে পড়ছিল দ্রুত। ঘোড়াটিকে ধরতে যারা এসেছিল তারা তাকে খুঁজে বের করতে চাইছিল। ঘোড়াটিও মানুষগুলোকে খুঁজে না পেয়ে অবাক হচ্ছিল। তাকে যারা মারতে এসেছে, তারা কোথায়? তারা কি পিছনে, সামনে, দক্ষিণে, বামে? কোনো দিকেই তাদের না দেখে যখন সে নিশ্চিন্ত হচ্ছিল সে শব্দের বিভ্রমে পড়েছে, তখন আবার গর্জন শুনতে পেল, কোথায় সেই যবন ঘোড়া?

    কোথায় সেই যজ্ঞের ঘোড়া?

    সে জানে এক মহামানবকে আলোর পথে সে নিয়ে গিয়েছিল। ফিরেছিল শূন্য হয়ে। সে জানে না সে যজ্ঞের ঘোড়া কি না। সে জানে না সে যবনের ঘোড়া কি না। অথচ মানুষের গর্জনে তার মনে হচ্ছিল সে হয় যজ্ঞের ঘোড়া, না হয় যবনের ঘোড়া। যজ্ঞের ঘোড়াকে মরতে হবে, পুরোহিত তাকে বধ করবে, তার দেহ নিয়ে রাজমহিষীরা চোখের জল ফেলবে, আর যবনের ঘোড়া হলে তাকে খণ্ড খণ্ড করে ছড়িয়ে রেখে যাবে হত্যাকারীর দল! মরতে তাকে হবেই। তার পিছনে ঘাতকরা জোট বেঁধেছে, না মেরে তাকে ছাড়বে না। সে উত্তাপের হাত থেকে বাঁচার জন্য ধূমাবতী আকাশের দিকে ধেয়ে যেতে চায়। কী গভীর কালো ওই বর্ণ। মেঘের চেয়েও কালো এই ধূম্রবর্ণ। আর পারছিল না ঘোড়াটি।

    সে টলছিল। তার পা বসে যাচ্ছিল বালিতে। এত বালি এলো কোথা থেকে? এ কি সমুদ্র শুকিয়ে যাওয়া বালুকারাশি? এত বালি, এত গভীর বালুকাসমুদ্র সে আগে দেখেনি। এত উত্তাপও যেন আগে কখনো অনুভব করেনি। বালির প্রতিটি কণা যেন অগ্নিকণার মতো পুড়িয়ে দিচ্ছে তার দেহ। আগুনের স্রোতে তার গায়ের চামড়া যেন ঝলসে যাচ্ছিল। সে আকাশে ঘাড় উঁচিয়ে মেঘ দেখতে চায়। বালির সমুদ্র ছেয়ে যাচ্ছিল মেঘে। মেঘ যেমন দিগন্ত থেকে ওঠে জলসমুদ্রে, এও তো তেমনই। মেঘের ছায়া যেমন জলে পড়ে, এও তো তেমনই। বালির রং বদলে কালো হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু উত্তাপ বাড়ছিল ক্রমশ। আরও তাপ, আরও তাপ লোহা গলে যাওয়ার মতো তাপ উঠছিল ধরিত্রী-গর্ভ থেকে, পৃথিবী গলে যাচ্ছিল হয়তো ধরিত্রী-গর্ভে। সেই সময় আবার গর্জন উঠল, যজ্ঞের ঘোড়া, না যবনের ঘোড়া? সে থরথর করে কাঁপছিল। তার মনে পড়ছিল…

    আমি কোথায়? কেঁদে উঠল সে। এই কি আমার পৃথিবী? নদী, পর্বত, সমুদ্র, মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস! আলোর পৃথিবী কি এই? হে রাজপুত্র, আমাদের বিসর্জন দিয়ে তুমি সর্বস্বত্যাগী হলে। এই পৃথিবী হিংসায় পূর্ণ-দুঃখের সমুদ্র, ব্যাধির ফেনায় বিকীর্ণ, জরার তরঙ্গে উদ্বেল, মৃত্যুর উগ্রতায় ভয়ংকর। তুমি সেই হিংসার পৃথিবীতে রেখে গেছ ছন্দক আর কন্থককে। হে কুমার, তুমি কি দেখতে পাচ্ছ না আমার পায়ের নিচে তপ্ত বালুকাসমুদ্র, মাথার ওপরে ধূমাবতী আকাশ, আমার পিছনে হত্যাকারীর দল। হে গৌতম শাক্য সিংহ, এ আমি কোথায় এলাম? আমার যে শুধু তোমার কথা মনে পড়ে, সারথির কথা মনে পড়ে, তুমি কি ভুলে গেছ সব? এই যে আকাশে ফুটত সোনালি রঙের মেঘ, তার নিচে সারথি আর তুমি, হে সারথি ছন্দক!

    কে যেন আবার হাঁকল যবনের ঘোড়া। কে যেন ডাকল যজ্ঞের ঘোড়া। তোমাকে বধ করে তোমার ঝলসানো হৃদয়ের ঘ্রাণে রাজা পৃথিবীর অধীশ্বর হবেন। যবনের ঘোড়া, তুমিই বা কোথায়? তোমাকে হত্যা করেও রাজা হবেন দিগ্বিজয়ী। যবনের ঘোড়ার রক্তে শুদ্ধ হবেন রাজ চক্রবর্তী। কন্থক ছুটল। কালো মেঘের দিকে ছুটল। সে মেঘের দিকে এগোতেই বর্ষণ শুরু হলো। কালো বৃষ্টি ঝরে পড়তে লাগল মেঘ থেকে। এই সেই বৃষ্টি যা হিরোশিমা ভাসিয়ে দিয়েছিল বহু বর্ষ আগে এই সেই মেঘ যে মেঘ হিরোশিমার আকাশ ছেয়ে ফেলেছিল অভিশপ্ত দিনটিতে, যে মেঘ এখনও মাথার ভিতরে বহন করে চলেছে মানুষ, হিরোশিমার মানুষ। কৃষ্ণবর্ষণ চারদিক অন্ধকার করে দিল। কৃষ্ণজলধারা নেমে আসছিল বালুকাসমুদ্রের ওপর। ঘোড়াটি অন্ধ হয়ে গেল। তার গায়ের রোম খসে খসে যেতে লাগল। তার কেশর ঝরে যেতে লাগল, পুচ্ছ ঝরে যেতে লাগল। সে ছুটতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ল। নাকমুখ দিয়ে গলগল করে রক্ত বেরিয়ে এলো। রক্তের লাল রং বাইরে বেরিয়েই কালো হয়ে গেল। ঘোড়াটি উঠতে চাইছিল। তার জিভ বেরিয়ে আসে। জিভ তেজস্ক্রিয় বাতাসে খসে যেতে থাকে। সে ধরতে পারে কালো আগুনের সমুদ্রে সে ঘুরপাক খাচ্ছে। ঋতু বদল হয়নি, শুধু সে ভুল করেছিল। ভুল তো হয়েই থাকে। প্রকৃতির এমন জাদু আছে বলেই প্রাণ আছে। প্রাণ থাকে। কিন্তু সেই ভুল কোথায় নিয়ে এলো যে তাকে!

    শেষবারের মতো দৌড়তে গিয়ে ঘোড়াটা উলটে পড়ে যায়। আবার ওঠে। আবার পড়ে। বালির সমুদ্রে সে ডুবছিল আর উঠছিল। বালিতে, আগুনে স্নান করতে থাকে সে। অন্ধ চোখ দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা জল বেরোতে থাকে। ওই জল ব্যতীত আর কোথাও জলের চিহ্ন নেই এই হিরোশিমায়। চোদ্দবেড়িয়া মুছে গেছে, কপিলাবস্তু মুছে গেছে, সমুদ্ৰ মুছে গেছে, মুছে গেছে জ্যোৎস্না রাত্রি I

    অন্ধ ঘোড়াটি তবু উঠে দাঁড়ায়। তার কেশর পুড়ে গেছে, পুচ্ছ পুড়ে গেছে, গায়ের চামড়া পুড়ে গেছে, সব রোম ঝরে গেছে। তাকে আর চেনা যাচ্ছিল না যজ্ঞের ঘোড়া বলে, যবনের ঘোড়া বলে।

    অন্ধ ঘোড়াটি হাঁটছিল। বালিতে ডুবে ডুবে মুখ তুলছিল। তার মনে পড়ছিল আশ্বিনের কথা। কাশফুলের কথা। মেঘের কথা। জ্যোৎস্নার কথা। গিরিমশায়ের ঘুড়ীটির কথা। রাত্রি হয়ে এলো। আকাশ কালো। একটিও তারা নেই, চাঁদ নেই। কোথাও কোনো আলো নেই। শুধু তার মাথার ভিতরে বুদ্ধদেবের মতো প্রেমময় চাঁদ ছিল। আলো ছিল। চাঁদ আর আলোর স্মৃতি ছিল। সমুদ্র ছিল, বাতাস ছিল, সবুজ তৃণভূমি ছিল। ছিল সেই রাজপুত্র যার মাথায় মাথায় চলত সোনালি রঙের মেঘ, শ্বেতকবুতর উড়ত যে মেঘে, সেই মেঘের দিনগুলো স্মৃতিতে আছে। কন্থক মরে যেতে যেতে উঠে দাঁড়াতে চাইছে।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমি লিলি – লিলি চক্রবর্তী
    Next Article বাতাসবাড়ি জ্যোৎস্নাবাড়ি – অমর মিত্র

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }