Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অসি রায়ের গপপো – সৈয়দ মুজতবা আলী

    সৈয়দ মুজতবা আলী এক পাতা গল্প26 Mins Read0
    ⤷

    একি অপূর্ব প্রেম

    একি অপূর্ব প্রেম

    জন্মভূমির টানে দেশে গিয়েছিলাম।

    সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে দেশছাড়া। গ্রামছাড়া।

    ছেলেদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করব, বড় করব এই চিন্তা করেই বাবা দেশের বিশাল জায়গা জমি, ঘরবাড়ী সব অল্পদামে বিক্রী করে চলে আসেন শহরে।

    তারপর আর কি। দেখতে দেখতে যুদ্ধ থেমেছে, ভারত স্বাধীন হয়েছে। বছরগুলো ঝরা পাতার মত খসে খসে পড়েছে।

    আমি শহরে থেকে বড় হয়েছি, লেখাপড়া শিখেছি। কলকাতার বড় সরকারী অফিসে চাকরী করেছি। আর এখন রিটায়ার করার পর কেবল ঘুরে বেড়ানোর কাজ নিয়েছি।

    ভবঘুরে জীবন।

    কেবল প্রকৃতির কোলে বসে নৈসর্গিক দৃশ্য দেখে বেড়ান। উপভোগ করা শ্যামলী মায়ের অবদান, আর ক্যামেরা বন্দী করে রাখা প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য।

    নিজের খামখেয়ালির এই ঝক্কি বাড়ীর কাউকে পোয়াতে হয় না। মাসকাবারি পেনশনের টাকাটা সবটাই তুলে দিই বাড়ীর হাতে। ফলে বাড়ীর সবাই খুশী। আর আমি হাত খরচের জন্য, এই ঘুরে বেড়ানোর জন্য সামান্য কিছু নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। কখনও রাজস্থানের উদয়পুরে, কখনও মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহ, কখনও সিমলা, কখনও জম্মু কাশ্মীর বা হরিদ্বার হৃষিকেশ ইত্যাদি।

    তা রিটায়ারের পর বারোটা বছরে কত না দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়ালাম। কত ছবি তুললাম। কত নিঝরিনীর ঝরে যাওয়া জলের ছবি, পাহাড় পর্বতে সূৰ্য্য ওঠার বা সূর্য ডোবার দৃশ্য। মন্দির বা দেবস্থানের পুরোনো সেই সব টেরাকোটার ছবি তুললাম। কিন্তু তবু যেন মন আর ভরে না। রাতে ঘুম হয় না। কেবলই ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ট্রেনে চেপে কোথায় যেন চলে যাই। কোথায় নামি জানি না। কোন কোন দিন কলকাতা বা দিল্লীর ফাইন আর্টস একাডেমীতে নিজের তোলা ছবি খুঁজে বেড়াই।

    দিল্লী থেকে ফিরতি পথে সত্যি একদিন একটা নির্জন ছোট্ট স্টেশনে নেমে পড়লাম। কর্ড লাইনের পোড়াবাজার।

    তারপর আর কি। লেভেল ক্রসিংয়ের ওধারে গিয়ে বাঁয়ের রাস্তাটা ধরে হাঁটতে থাকলাম গ্রামের দিকে।

    সামনেই একটা ছোট্ট কাঠের পুল। সাঁকো।

    কাঠের পুলটা পেরিয়ে সামনে সরু রাস্তা। ধানক্ষেত।

    ধানক্ষেতের আল ধরে এগোলে মেঠো বড় রাস্তা। এবার হাঁটতে থাকি উত্তরমুখ করে।

    ওই ত দূরে মাঠ পেরিয়ে শ্যামল বনানী ঘিরে গ্রামটা দেখা যাচ্ছে–যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

    পথ চলতে চলতে দেখি কোন চাষী এই সাত সকালে কেমন করে ডোঙ্গায় পা দিয়ে জল হেঁচছে। আলু ক্ষেতে জল দিচ্ছে। কোথাওবা কোনো চাষী মাঠে লাঙ্গল দিচ্ছে আর গরুর পিঠে ছড়ি মারছে আর মুখে আউরিয়ে যাচ্ছে হ্যাট হ্যাট হ্যাট।

    ও দিককার ওই গ্রামটার নাম যেন কি–হ্যাঁ ধেমুয়া। লোকে ধেমো বলেই ডাকে। একটু এগোলেই একটা উঁচুমত ঢিবি রাস্তার ধারে। ঢিবিটার ওপর ক’টা লোক উনুনে খেজুর পাতা পুরে দিয়ে বড় বড় হাঁড়িতে জাল দিচ্ছে। হ্যাঁ, খেজুর রস জাল দিয়ে ওরা গুড় তৈরী করছে।–ঝোলা গুড়, পাটালি গুড়।

    ছোটবেলায় গ্রামে থাকতে কতবারই না ওই ঢিবিতে উঠে-ওদের গুড় তৈরী করা দেখেছি। তখন ওদের উনুনের পাশে আমরা ২/৫ জন যারাই বসে থাকতাম তাদের হাতে ওরা ওই গরম গুড় ধরিয়ে চাখতে বলত। কি রে ধোঁ গন্ধ হয়নি তো?

    আমরা গুড় চেখে বলতাম না চাচা, ধোঁ গন্ধ হয়নি। খুব ভাল টেস্ট হয়েছে।

    রহিম চাচার মুখটা জ্বল জ্বল করে উঠত। যাক এত পরিশ্রম তাহলে সার্থক। এবার তবে কলসীতে ভরে ফেলা যাক। এসব স্মৃতি কথা আজও যেন চোখের সামনে ভাসছে।

    ঢিবিটায় উঠতে ইচ্ছা করছিল।

    কিন্তু ওখানে গেলে এই ৫০ সাল বাদে ওদের কেউ কি আমাকে চিনতে পারবে! হয়ত সে রহিম চাচাই নেই, মরে গেছে। যাকগে আর খানিকটা হাঁটলেই নিজের গ্রামে পৌঁছে যাব। ওই ত দূরে দেখা যাচ্ছে সেই ছায়া সুনিবিড় তাল, সুপুরি, আম গাছে ঘেরা সেই আমার গ্রাম, আমার জন্মভূমি মাকালপুর। টিনের ছাউনী দেওয়া ঘরটা এখান থেকে ভালই দেখা যাচ্ছে।

    বাবা শঙ্কর প্রসাদ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে, স্বাধীনতার ২/৫ বছর আগে দেশের সব বাড়ী জমি গোবর্ধন রায়কে বিক্রী কোবলা করে দিয়ে শহরে চলে আসেন। আমার তখন কতই বা বয়স দশ বার বছর হবে।

    বাবা মায়ের মুখেই শুনেছি দেশের বাড়ী ঘর বিক্রী করলেও মা কালীর মন্দির আর মা মনসার ঢিবিটা বিক্রী করেননি। সেই স্মৃতি ঘেরা রাস্তা দিয়েই হাঁটতে হাঁটতে পেরিয়ে এলাম কতটা পথ।

    দু পাশে ধানের জমি। সবুজ হলদে গাছে সোনালী ধানের শীষ ধরেছে। হাওয়ায় দুলছে শীষগুলো। আগে এই সব মাঠে একবারই ধান চাষ হোত। কেবল মাত্র বর্ষার জলে। আর এখন পাম্পের দৌলতে জল তুলে সেচ লাগিয়ে বছরে ধান তুলছে তিনবার। তবু ধান চালের আকাল আর গেল না। বাজারে আলুর দাম দশ, চাল দশ, বার, পনের টাকা কেজি।

    গরীব চাষীদের যে দুরবস্থা আগেও ছিল এখনও তাই রয়ে গেছে।

    হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়লাম বারাসাতের মাঠে।

    ছোট্ট বেলায় এখানেই সবাই মিলে ফুটবল খেলতাম, ঘুড়ি ওড়াতাম, হাডু-ডু প্রতিযোগিতায় নাম দিতাম।

    বাঁ পাশে নতুন পুকুর।

    পুকুরের পাড়টা বড় উঁচু। পাড়ে তখনও যেমন কুল, বাবলা, বেল গাছ, রাম তুলসী, আশ শ্যাওড়া ভেরান্ডা গাছে ভৰ্ত্তি থাকত আজও তেমনি আছে।

    ছোটবেলায় নতুন পুকুরের পাড়ে উঠতে বেশ মজা লাগত। যেন পাহাড়ে উঠছি। তখন নতুন পুকুরের পাড়ে একটা বিশাল কদবেলের গাছ ছিল। এখন আর নেই।

    এক সাধুবাবার মাথায় ছিল বিরাট জটা জুটো।হিমালয়েসিদ্ধিলাভ করে এই কদবেল তলায় এসে নিশ্চিন্তে আস্তানা গেড়ে ছিলেন। পরে উঠে যান ত্রিবেণীতে। সেখানে কালীনাথ আশ্রম স্থাপন করেন।

    সাধুবাবা এখানে এসে মাটিতে একটা চৌকো গৰ্ত্তকরে যজ্ঞ করতে শুরু করেন। হোম যজ্ঞ শেষ হলে পরে সন্ধ্যার প্রাক্কালে একবারই অন্ন গ্রহণ করতেন। অন্ন গ্রহণের পূর্বে সাধুবাবা একটা খাম্বাজি হাঁক ছেড়ে ডাকতেন–আয় আয় শিবা আয়। আয় শিবা আয় আয়। তারপর কোথা থেকে দলে দলে সব শেয়ালেরা বন থেকে বেরিয়ে একটা সাড়া দিত–হুক্কা হুয়া, হুক্কা হুয়া। পরে সবাই এসে সাধুবাবার যজ্ঞবেদী ঘিরে জড় হয়ে দাঁড়াত।

    গ্রামের জমিদারবাবু সাধুবাবার অলৌকিক ক্রিয়া কর্মে সন্তুষ্ট হয়ে সাধুবাবার জন্য একটা পাকা যজ্ঞবেদী বানিয়ে দেন। সেই যজ্ঞবেদীটা এখনও রয়েছে।

    শিয়ালেরা এসে দাঁড়ালে পর সাধুবাবা গাওয়া ঘিয়ে তৈরী করা লুচি আর হালুয়া দিয়ে শিবদের সেবা করতেন। পরে ওরা চলে গেলে সাধুবাবা স্বপাকে রান্না করে অনুগ্রহণ করতেন।

    উঁকি দিয়ে দেখতে ইচ্ছা করল বেদীটা। কিন্তু যা জঙ্গল ঢুকতেই ভয় করতে লাগল। যজ্ঞবেদীর চারপাশে বাবলা আর রামতুলসীর বন, ঝোপঝাড়।।

    নতুন পুকুরের সেই নিথর সবুজ জলটা দেখা যাচ্ছে ওপর থেকে। আজও তেমনি চক চক করছে। যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। কিরে কেমন আছিস। বড় রোদুর উঠছে। আয় আমার জলে ডুব দিয়ে স্নান করে একটু শীতল হয়ে যা।

    পাড়ের ওদিকটা দিয়ে নেমে জলের কিনারায় পৌঁছালাম। জুতো খুলে পুকুরের জলে নেমে হাত মুখ ধুয়ে নিলাম। আঃ কি ঠাণ্ডা জল! পায়ের নীচে সাদা, হলুদ বালি। একটুকুও কাদা নেই। পুকুরের এদিক ওদিকে শ্যাপলা শালুক পদ্মে ভর্তি। আর আছে কলমী লতা। তাতে নীল রঙের ফুল ফুটেছে।

    পাড়ের উত্তর-পূর্ব কোণে দেখা যাচ্ছে একটা টালির ঘর। আগে তো এটা ছিল না। কেউ বা হয়তো জবর দখল করে কুঁড়েবানিয়েছে।

    মাঝ পুকুরে একটা বড় রাজহাঁস চরে বেড়াচ্ছে।

    একটা মেয়েকে দেখা গেল। সাদা থান পরা। মেয়েটা ডাকছে আয় আয় চই চই। দেখলাম মেয়েটার ডাকে সাড়া দিয়ে প্যাক প্যাক শব্দ করতে করতে মাঝ পুকুর থেকে ডাঙায় উঠে গেল রাজহাঁসটা।

    হাতে বায়নাকুলার। সেটাকে চোখে লাগিয়ে দেখতে লাগলাম। রাজহাঁসটা জল থেকে উঠতেই মেয়েটা ওর গলায় মাথায় হাত বুলিয়ে কত না আদর করল। নিজের শাড়ীর আঁচল দিয়ে হাঁসের পিঠ ও পেটটা মুছিয়ে দিল। হাঁসটা গলা লম্বা করে মেয়েটার মুখে মুখ দিয়ে আদর করতে লাগল। মেয়েটার হাতে একটা থালা। থালায় করে হাঁসটার জন্য কি যেন নিয়ে এসেছিল। হাঁসটা তার হলুদ ঠোঁট দিয়ে মহানন্দে সেগুলো সব খেয়ে নিল। খাওয়া শেষ হতে মেয়েটা হাঁসটাকে কোলে করে টালির ঘরে ঢুকে গেল।

    দৃশ্যটা অপূর্ব লাগল। যাতে ভুলতে না পারি তার জন্য টেলিলেন্স দিয়ে সবটাই ক্যামেরায় বন্দী করলাম। ..

    এবার পাড় থেকে নেমে ওদিককার রাস্তা ধরে গ্রামের সেই বিক্রী করে দেওয়া বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।

    ওইতো দেখা যাচ্ছে সেই পটুল গাছটা।

    একটা মিষ্টি আমের গাছ। মা নাম দিয়েছিল পটুল। ছোট্ট ছোট্ট হলুদ রঙের পেয়ারাফুলির মত আম অসংখ্য ঝুলত আমের সময়। এখনও হয় কি না জানি না। কি মিষ্টি সেই আম!

    কিন্তু ওদিককার সেই আম বাগানটা তো দেখছি না।

    বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। হায় ভগবান একি জন্মভূমি দেখতে এলাম! শৈশবের স্মৃতি ঘেরা সে সব ঘরবাড়ী আমবাগান এ সব কই। আমবাগানের বদলে ওখানে হাল চালাচ্ছে ক’জন চাষী। মনে পড়ে শৈশবের কত স্মৃতি। ছোট্টবেলায় ঝড় উঠলেই ওই আমবাগানে ছুটতাম আম কুড়াতে। টিপ টপ করে পাকা আম পড়ত এ গাছ ও গাছ থেকে। গ্রামের কত ছেলে মেয়েই না এসে কোঁচড় ভৰ্ত্তি করে আম কুড়োত, বাড়ী নিয়ে যেত। তখন কেউ বারণ করত না।

    তারপর গ্রামে তো এলাম।

    কিন্তু কে আর আমায় চিনবে। আর আমিই বা কাকে খুঁজে পাব যার সঙ্গে দাঁড়িয়ে দুটো কথা বলব।

    পটুলের আম তলাতেই ছিল মা মনসার ঢিবি। ঢিবিটা আজও আছে। একটা বিশাল মনসাগাছ হয়ে রয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে পৃথিবীর সেই প্রাচীনতম গাছের বংশধরের একটা এই ঢিবিতে আজও বিদ্যমান।

    একটু দাঁড়িয়ে মা মনসাকে স্মরণ করে প্রণাম করলাম।

    এবার সামনের আলুক্ষেতটা পেরোলেই টিনের সেই ঘরটা। যেটা দূরে রেললাইন থেকে নজরে আসছিল। ওটাই আমাদের পৈতৃক বসত বাটি। এত বছর পরেও ও ঘরটার কোন পরিবর্তন হয়নি কেন কে জানে।

    ওপাশে দাঁড়িয়ে মা কালীর মন্দির।।

    শিব কালী একই ঘরে প্রতিষ্ঠিত। কি জানি এখনও পূজো হয় কি। মন্দিরের মাথার চুড়োতে গজিয়ে উঠেছে বিশাল বটবৃক্ষ। গাছের শেকড় বাকড় দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে মন্দিরটাকে জাপটে ধরে আছে।

    মন্দিরে একটা দরজার পাল্লা নেই।

    দেখলাম মায়ের মূৰ্ত্তিটা, আর পাশে শিবলিঙ্গ এখনও বিরাজিত। দু’চারটে জবা ফুলও চড়ান রয়েছে মায়ের পায়ে।

    মাকে স্মরণ করে প্রণাম করে উঠতেই দেখি এক বৃদ্ধা ভদ্রমহিলা বলছেন কে বাবা তুমি। তোমাকে তো চিনলাম না।

    বললাম আমার নাম অজিত। ডাক নাম রেণু। বাবা মার কাছে শুনেছি এটাই নাকি আমার জন্মস্থান। কতদিন আগে বাবা এ সব বিক্রীবাটা করে চলে যান। তা জন্মভূমি দেখার সময় পাইনি এতদিন। তাই একবার দেখতে এলাম। তা মা আপনি?

    ও মা! তুমিই রেণু। এস বাবা এস। ঘরে এস। আমি তোমার বড় জেঠিমা হই। বড় কর্তা ছোট কর্তা দুজনেই গত হয়েছে। পড়ে আছি আমরা দুই বুড়ী আর নাতি নাতনীরা। এসো বসো।

    প্রণাম করলাম জেঠিমাকে। বুঝলাম ইনিই গোবর্ধন জেঠার স্ত্রী। এনাদের হাতেই বাবা সব তুলে দিয়ে গেছেন শুধু ঠাকুর থান দুটি ছাড়া।

    বাড়িতে বসে জলযোগ করতে করতে দেখলাম ছোটবেলার দেখা সেই সব ঘর বাড়ীর কোনটার চিহ্ন নেই। কোথায় সেই বিশাল উঠোন। কোথায় সেই কলতলা, টিউবওয়েল। সেই খড়ের চালের বড় ঘর। কোথায়ই বা সেই সব মরাই, চেঁকিশাল, পায়রা ঘর। উঠোনের সেই বিরাট ক্রোটনগাছটাও আর নেই। এ সবের বদলে ছোট্ট এক চিলতে উঠোনের এপাশে ওপাশে খুপরি খুপরি ঘর বাড়ী, রান্নাঘর বাথরুম।

    বড় জেঠিমা, ছোট জেঠিমা দুজনেই এসে বলল তা এ বেলা খেয়ে যাচ্ছ তো? দুটি শাক ভাত খেয়ে যাও। এসেছ যখন দুদিন থেকে গেলেও কোন অসুবিধা হবে না।।

    জেঠিমাদের প্রথম অনুরোধে জলযোগটা সারলাম। আর বললাম জেঠিমা থাকা, খাওয়ার জন্য চিন্তা করবেন না। এই তো বেশ, মিষ্টি খেলাম। এবার উঠব। গ্রামটা একটু ঘুরে দেখব। কেউ আমাকে চিনতে পারে কিনা। পরে একদিন ফের আসব। আচ্ছা জেঠিমা বাবার মুখে শুনেছি যোগিন কাকা বলে একজন আমাদের সব জমিজমা দেখা শোনা করত। তার দেখা পাব কোথায় বলতে পারেন?

    ও তুমি যোগিনের কথা বলছ। হ্যাঁ ও তো এখনও বেঁচেই আছে। তবে খুবই বুড়ো হয়ে গেছে। ওর। দুই বাপ বেটিতে এখন নতুন পুকুরের ওই পাড়ে একটা ঘর বেঁধে বাস করছে। তা যাও না, গেলেই দেখা পাবে যোগিনের।

    তোমার বাবার ডান হাত ছিল ওই যযাগিন। ক্ষেত খামার চাষবাস একাই সামলাত বয়েসকালে। এখন আর কিছুই পারে না। তারপর ওর মেয়েটা বিধবা হবার পর আরও ভেঙে পড়েছে। একটা ছেলে থাকলে বরং বাপকে দেখত।

    ঠিক আছে আজ আসি জেঠিমা। দেখি যোগিন কাকার সঙ্গে দেখা হয় কিনা।

    দুঃখ বেদনা আর হতাশা নিয়ে জন্মভূমি দেখার সখ মিটিয়ে গেলাম আবার নতুন পুকুরের পাড়ে।

    পুকুরের স্বচ্ছ জলে যোগিন কাকার টালির ঘরের ছায়া পড়েছে। জল তরঙ্গে কুঁড়ে ঘরের ছায়া তরঙ্গায়িত হচ্ছে। আর দুলছে আমার মন। আবার কি দেখব শুভ্র বসনা থান পরা সেই যুবতী কন্যাকে। আর সেই লম্বা গ্রীবাধারী রাজহংসটাকে।

    ডাকলাম দূর থেকে।

    যোগিন কাকা বাড়ী আছো? যোগিন কাকা।

    –কে? কে ডাকে বাইরে। দেখত মা শ্যামলী। শ্যামলী এল। শ্যামলীর কোলে সেই বড় রাজহাঁসটা। বলল কাকে চান?.

    বললাম যোগিন কাকাকে। বলো শঙ্কর বাবুর ছেলে রেণু এসেছে উত্তরপাড়া থেকে। তোমায় ডাকছে।

    আর কিছু বলতে হলো না। দড়ির একটা খাঁটিয়ায় শুয়ে ছিল যোগিন কাকা। পাশে রেডিও বাজছিল।

    আমার কথা শুনতে পেয়ে নিজেই উঠে এসে বলল কে এসেছিস? রেণু এসেছিস? আয় বাবা ভেতরে আয়। তারপর খবর কি বল। কেমন আছিস তোরা সব। বাপরে কত বড় হয়েছিস। তারপর বাবা মা সব কে কেমন আছে বল। আমার কথা তোদের এখনও মনে আছে। দেখছি।

    বসলাম দড়ির খাটিয়াতে।

    বললাম কি করছিলে যোগিন কাকা?

    যোগিন কাকা বলল–কি আর করব খবর শুনছিলাম আর কি।

    আমি বললাম–তুমি কেমন আছো বলো। কিন্তু তুমি তো ওদিককার তেঁতুল তলায় মনসা টিবির কাছে থাকতো তা এখানে উঠে এলে কি করে?

    যোগিন কাকা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল সে অনেক কথা। তোরা চলে যাবার পর গোবর্ধন বাবুরা আমার ওই বসত ভিটেটুকুও কেড়ে নিল। জোর করে ঘর বাড়ী ভেঙ্গে দিল। ওই ভিটেতে ওরা আলুক্ষেত করেছে। আর তোদের সেই সখের আমবাগানটা, সেটা বিক্রী করে দিয়ে গাছ কাটিয়ে চাষবাস করছে অন্য লোক। গ্রাম পঞ্চায়েত ওদের হাতে। অনেক কষ্টে গ্রামের আর দশজনার সুপারিশে নতুন পুকুরের পাড়ে মাথা গোঁজবার এই জমিটুকু পেয়েছি।

    তারপর জিজ্ঞাসা করলাম তা এটা কে হয়, তোমার মেয়ে?

    –হাঁ, ওটা আমার শ্যামলী মা। বড় দুঃখী।

    ছেলেবেলাতেই ওর মা মারা যায়। তারপর একটু ডাগর হতেই একটা ভাল পাত্র দেখে ওর বিয়ে দিয়েছিলাম। ঘরজামাই করেছিলাম ছেলেটাকে। দুটিতে কি ভাবইনা ছিল। কি মিল মিশ। সব সময় আনন্দে আর স্ফূৰ্ত্তিতে ডগমগ থাকত দুজনে।

    যোগিন কাকা বলতে লাগল–সারাদিন ক্ষেতে খামারে, মাঠে কত কাজই না করত। ধান বোনা, ধান কাটা, ধান ঝাড়া এ সবই করত। সখ করে ওরা দুটো রাজহাঁস পুষেছিল। কিন্তু অতসুখ সইল না অভাগীর কপালে। ক্ষেতে কাজ করতে করতে কালকেউটেতে কাটল জামাইটাকে। বুক ফাটা কান্নায় ভেঙে পড়ল মেয়েটা। জামাইকে বাঁচাতে রোজা, হাসপাতাল সবই করেছিলাম। কিন্তু বাঁচলো না। যোগিন কাকা কাপড়ের খুঁট দিয়ে চোখের জল মুছল।

    এর অল্প ক’দিন পরেই শ্যামলীর রাজহাঁসটাও মারা গেল।শ্যামলী আরও ভেঙে পড়ল। তারপর কত বার বলেছি ওকে। ওসব থান পরা ছাড়। রঙীন পর। মনটাকে শক্ত কর। বললে আমি তোর আবার বিয়ের চেষ্টা করব।–তা মেয়ে আমার মোটেই রাজী নয়।

    একবার মেলা দেখতে গিয়ে দুজনে একটা ছবি উঠিয়েছিল। মেয়ের আমার, ওই জামাইয়ের ছবিটাই সম্বল। এই সবই খবর। তা রেণু বাবু এতদিন পরে জন্মভিটে দেখার কথা মনে পড়ল। দেরী করে ফেলেছিস বাবা, বড় দেরী করে ফেলেছিস। এ সব জমি জায়গা বিক্রী বাটা না করে যদি এখানে থেকেই লেখাপড়া করতিস তবে দেশের বাড়ীর এই জমির এ হাল হোতনা। এখন এখানকার জমির দাম কত হয়েছে জানিস। পাঁচ হাজার টাকা করে কাঠা। আর তোর বাবা সব কিছু ঘুচিয়ে অকারণ চলে গেল।

    বললাম যোগিন কাকা এবার তুমি থামো। আমি আর কিছু শুনতে চাই না। আমি আমার স্বপ্নের, শৈশবের সেই জন্মভিটেটুকু দেখতে এসেছিলাম এই শেষ বয়সে। তা যা দেখলাম তাতে আমার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। এখন বুঝছি না এলেই ভাল করতাম।

    শ্যামলী এল চা নিয়ে। বলল আপনার চা।

    চায়ের প্লেটটা হাতে তুলে নিয়ে বললাম–শ্যামলী তোমার সঙ্গী সাথীটি কোথায় গেল?

    শ্যামলী বুঝতে পারল না।

    যোগিন কাকা বুঝিয়ে দিল। রেণু বলছে তোর রাজহাঁসের কথা। তাই তো বাবাজী?

    ঠিক তাই।

    শ্যামলী বলল–ওই যে আমার বিছানায় শুয়ে ঘুম মারছে। শ্যামলী গিয়ে রাজহাঁসটাকে কোলে তুনে নিল। হাঁসটা শ্যামলীর কোল থেকে নেমে ওর গলায় মুখে বুকে ঠোঁট ঠেকিয়ে চুম্ দিল।

    ইত্যবসরে আমি স্বভাবসুলভ চরিত্রে শ্যামলীকে আর তার সঙ্গী সাথীকে ধরে রাখলাম আমার ক্যামেরায়। শ্যামলী আপত্তি কবেনি ছবি তোলাতে। হ্যাঁ সেই আলোকচিত্র গুলোরই বিশেষ একখানা ছবি এবার স্থিরচিত্র প্রদর্শনীতে প্রথম স্থান পেয়েছে। পেয়েছে আন্তর্জাতিক সম্মানও। What a mysterious love it is? সত্যি এ কি অপূর্ব প্রেম।

    যোগিন কাকা বলেছিল শ্যামলী মা তার নিজের মানুষকে হারিয়ে শ্যামলকেনিয়ে (ওই রাজহাঁসকেনিয়ে) দিনরাত পড়ে আছে।কি বিচিত্র ওদের প্রেম।

    ⤷
    1 2
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদেশে বিদেশে – সৈয়দ মুজতবা আলী
    Next Article দ্বন্দ্বমধুর – সৈয়দ মুজতবা আলী

    Related Articles

    সৈয়দ মুজতবা আলী

    চাচা কাহিনী – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    পঞ্চতন্ত্র ১ – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    ময়ূরকণ্ঠী – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    দ্বন্দ্বমধুর – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    দেশে বিদেশে – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    শবনম – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }