Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অ্যালেক্স – পিয়ের লেমেইত

    পিয়ের লেমেইত এক পাতা গল্প320 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অ্যালেক্স – ১০

    অধ্যায় ১০

    চারদিন। চারদিন পার হয়ে গেলেও তদন্তে এখনো কোন অগ্রগতি নেই। ফরেনসিক বিভাগ থেকেও তেমন কিছু পাওয়া যায়নি, আর সাক্ষীদের অবস্থাও বেশ করুণ। কেউ হয়তো কোন একজায়গায় সাদা ভ্যান দেখেছিলো, অন্য কোথাও তা হয়ে যায় নীল। আরো এক জায়গায় একজন তার নারী প্রতিবেশী হারানোর খবর দেয়, খোঁজ নিয়ে দেখা যায় সে অফিসের কাজে ব্যস্ত। আবার আরেক লোক তার স্ত্রীকে খুঁজে পাচ্ছে না, পরবর্তিতে দেখা যায় সে তার বোনের বাসায় গিয়েছিলো, অথচ তার স্ত্রীর বোন আছে স্বামী জানতোই না!!

    এই কেসে নতুন এক অফিসারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। টগবটে এক যুবক যেন তারুণ্যের প্রতিনিধিত্ব করছে। মিডিয়াতে এই খবর ছাপিয়েছে, কিন্তু অন্যান্য খবরের আড়ালে তা চাপা পড়ে গেল। তারা অপহরণকারীকে তো ধরতেই পারেনি, তার উপর যোগ হয়েছে ভিক্টিমকে এখনো চিহ্নিত করতে না পারার ব্যর্থতা। ঘটনাস্থলের আশেপাশে নিখোঁজ প্রতিটি মানুষের তথ্য নেয়া হয়েছে, যার কোনোটাই ভিক্টিমের সাথে খাপ খায় না। ক্যামিল আস্তে আস্তে সার্চ এড়িয়া বাড়িয়ে একসময় পুরো প্যারিস শহরে খোঁজ লাগিয়েছে, কিন্তু তাতেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গত কয়েকদিন থেকে শুরু করে গত কয়েক সপ্তাহ এমনকি গত কয়েক মাস আগে নিখোঁজ মহিলা সম্পর্কে খবর নিয়েছে, কিন্তু ফলাফল ওই শূন্যই।

    “তার মানে দেখা যাচ্ছে মেয়েটাকে কেউ চেনে না। চারদিন হয়ে গেল অথচ কেউ রিপোর্ট করলো না। তাকে নিয়ে চিন্তা করার মত কেউ নেই নাকি?”

    এখন প্রায় দশটা বাজে। তিনজন একটা খালের সামনে বসে আছে। ইন্টার্ণ এক ছেলেকে অফিসের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে এসেছে ক্যামিল। ডিনার করার তাগিদা অনুভব করছে তারা। কিন্তু কোন রেস্টুরেন্টে যাবে তা ঠিক করতে পারছে না ক্যামিল। আদতে তার নাম মনে নেই, রেস্টুরেন্টের নাম মনে রাখার চেয়ে নিজের দাঁত টেনে তোলা অধিকতর সহজ কাজ মনে হয় তার কাছে। আর লুইসকে যে বলবে তাও সম্ভব না, কেননা সে এমন কোনো রেস্টুরেন্টে যাবার কথা বলবে যা তার সাধ্যের বাইরে। আরম্যান্ডের কথা আর কী বা বলার আছে, সর্বশেষ সে কবে খেয়ে গিয়েছিলো কে জানে? তবে একটা ব্যাপারে সবাই নিশ্চিত যে অন্য কারো টাকায় খেয়েছে সে। তাই এতো না ভেবে ক্যামিল সিদ্ধান্ত নিলো লা মেরিন এ যাবে।

    একটা সময় ছিলো যখন তারা একে অপরের সাথে প্রচুর সময় কাটাতো। অনেক কথাবার্তা হতো, আর কাজ শেষে একসাথে ডিনার করতে যেতো। বিল দেয়ার কাজটা ক্যামিলই করতো। আরম্যান্ডকে নিয়ে যাওয়া মানেই, তার বিল দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে যাওয়া। আর লুইসকে দিয়ে বিল দিতে গেলে আরেক ঝামেলা, কেননা সে একজন পুলিশ অফিসার, তার কাছে এতো টাকা শোভা পায় না।

    তিনদিন আগেও যা ভাবেনি আজ তাই হয়েছে, পুরোনো টিম ফিরে পেয়ে ক্যামিল বেশ খুশি। ডিনার শেষ করে তারা অফিসে ফিরছে।

    “আমি ঠিক বুঝলাম না। তাই বলে কেউ তাকে খুঁজবে না? তার বাসায়? অফিসে? তার হাজব্যাণ্ড? বন্ধুবান্ধব? কেউই না? এমনও কি সম্ভব? অবশ্য এমন বড় শহরে কে কার খোঁজ রাখে।” হতাশা জড়ানো কণ্ঠে বলল ক্যামিল।

    একেকজন কথা বলার পর নেমে আসছে অদ্ভুত নীরবতা, এটা নতুন কিছু নয়, তাদের সব আলাপালোচনাই এমন হয়ে থাকে। সবাই নিজ নিজ বৈশিষ্ট্যে মূর্তমান–কেউ চিন্তাশীল, কেউ অন্তর্মুখী আবার কেউ ক্ষুরধার বুদ্ধিমান।

    “তুমি কি প্রতিদিন তোমার বাবাকে দেখতে যেতে?”

    না। মোটেও না, মাঝে মাঝে দু’সপ্তাহেও একবার যাওয়া হতো না ক্যামিলের। তার বাবা নিজের বাসায় মৃত অবস্থায় পড়ে ছিল এক সপ্তাহ। তার বাবার একটা গার্লফ্রেণ্ডও ছিলো, যে তার লাশ প্রথম আবিষ্কার করে এবং বাকিদেরকে জানায়। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার দুইদিন আগে ক্যামিল তাকে প্রথমবার দেখে। সবসময় তার বাবা মহিলাকে নিছক পরিচিত বলে পরিচয় দিলেও, মেয়েটা যাওয়ার সময় বাসা থেকে এতো পরিমাণ জিনিস নিয়ে যায়, যা নিতে গাড়ির তিন ট্রিপ লাগে। আকৃতিতে ছোট আর গোলাপী গালওয়ালা মহিলা দেখতে অনেকটা কুঁচকে যাওয়া আপেলের মত। তার শরীরে ল্যাভেন্ডারের গন্ধ। এই মহিলাই যে তার বাবার বিছানায় মায়ের স্থান দখল করেছে, তা সে কল্পনাই করতে পারে না। দুজ’নে সম্পূর্ণ আলাদা। দু’জনেই ভিন্ন পৃথিবীর, সম্ভবত ভিন্ন গ্রহেরও। সে এখনো এই ভেবে অবাক হয় যে তার মা আর বাবার মাঝে মিলটা কোথায় ছিলো? কোথাও না। তার মা ছিল একজন চিত্রশিল্পী আর বাবা একজন কেমিস্ট। মা বাবার সম্পর্ক আদতে কি ছিল তা এখনো তার কাছে অমীমাংসিত এক রহস্য। কিছুদিন পর ক্যামিল খবর পেলো সেই কুঁচকে যাওয়া আপেল তার বাবার সম্পত্তির এক বিশাল অংশ নিয়ে ভেগেছে। এরপরে আর কখনোই তাকে দেখা যায়নি।

    “আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু আলাদা। আমার বাবা একাই একটা বাসায় থাকতো। কেউ যদি না চায় তাহলে তো আর তাকে জোর করে আনা সম্ভব না। এভাবেই একদিন একা একাই মারা যায়, কিছুদিন পর পাওয়া যায় শুধু নিথর দেহ,” বলল আরম্যান্ড।

    এই চিন্তা ধাঁধাঁয় ফেলে দিলো ক্যামিলকে। সে কোন এক জায়গায় পড়া এক গল্প বলা শুরু করলো। জর্জ নামের এক লোক-যে অনেকটা পরিস্থিতির শিকার হয়ে এক নির্মম ঘটনার জন্ম দেয়। পাঁচ বছর ধরে সে নিখোঁজ ছিলো। তার প্রতিবেশীদের ধারণা সে হাসপাতালে ভর্তি, বাড়ির প্রহরীও তাই জানতো। তার বাড়ির গ্যাস, বিদ্যুত, পানি সবকিছুর লাইন কেটে দেয়া হয়। পাঁচ বছর পরে ২০০১ সালে, তার ফ্ল্যাটে ঢুকে পাওয়া যায় তার কঙ্কাল।

    “আমি এই লেখাটা পড়েছিলাম…” বলে শিরোনাম মনে করার চেষ্টা করলো ক্যামিল।

    “এডগার মরিন এর লেখা, এতোটুকু মনে আছে আমার।”

    “টুওয়ার্ডস এ পলিটিকস অফ সিভিলাইজেশন,” আত্মবিশ্বাসের সুরে বলল লুইস। বাম হাত দিয়ে নিজের চুলগুলো পেছন দিকে ঠেলে দিয়ে ক্যামিলকে জিজ্ঞেস করলো, “কী যেন বলছিলে?”

    প্রশ্ন শুনেই সে হেসে বলল, “আবারো একত্রিত হতে পেরে বেশ ভালই লাগছে, কি বলো?”

    “এই কেস দেখে আমার অ্যালিসের কথা মনে পড়ছে,” বলল আরম্যান্ড।

    কেসটা একটু অদ্ভুতই ছিল বটে। মেয়েটার নাম ছিল অ্যালিস হেজেস, একটা খালের পাশে তার লাশ পাওয়া যায়। কিন্তু লাশ পাওয়ার পর তিন বছর পেরিয়ে গেলেও তার কোন হদিস বের করা যায়নি। এক সময় সবাই এই কেস নিয়ে আশা ছেড়ে দেয়। কিন্তু এভাবে কোন পরিচয় ছাড়াই মেয়েটা হারিয়ে যাবে এটাও তো মেনে নেয়া যায় না। মনে সবসময় খচখচ করতে থাকে এ ধরনের কেসগুলো। হয়তো কোন দিন সেন্ট-মার্টিনের সবুজাভ পানির দিকে তাকিয়ে মনে পড়বে মেয়েটার কথা। এভাবে চাইলেই কাউকে ভোলা যায় না। তার জীবন যেন সমুদ্রের এক ফোঁটা পানির মত।

    যে কেস নিয়ে দুইদিন আগেও চরমবিরক্ত ছিল ক্যামিল, এখনো সেই কেস নিয়েই আছে, কেউ তাকে এ ব্যাপারে কিছু বলছেও না। লা গুয়েন ফোন করে ক্যামিলকে জানিয়েছে মোরেল চলে এসেছে। এই কথা শুনে রেগে গেল ক্যামিল আর বলল, “ওই বালের মোরেলের নাম আমার সামনে উচ্চারণ করবেন না।”

    ক্যামিল শুরু থেকেই জানতো একবার কোন কেসে ঢুকে গেলে তা শেষ করেই ছাড়বে। তাই একপ্রকার জোর করেই লা গুয়েন তাকে এই কেসের দায়িত্ব দেয়। এর জন্য তাকে ধন্যবাদ দিবে কিনা তাই ভাবলো সে। আর তাছাড়া, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে এই কেসের গুরত্বও এখন অনেকটা কমে গেছে। অপহরণকারীকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি, আর ভিক্টিমের ব্যাপারেও তেমন কোন তথ্য নেই। শুধু প্রত্যক্ষদর্শীর কথা থেকে এইটুকু জানা গেছে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত ভ্যানটা সাদা, আর ভিক্টিমের বমি থেকে জানা গেছে তার খাওয়া সর্বশেষ খাদ্য তালিকা। তা তদন্ত কাজ আগানোর জন্য খুব একটা সহায়ক নয়। এখনো কোন লাশ পাওয়া যায়নি। এর জন্যেই লুইস আর আরম্যান্ডকে সাথে নিয়ে মাঠে নেমেছে ক্যামিল। লা গুয়েন এই ভেবে খুশি যে ক্যামিল আবারো কাজে ফিরেছে, তার পুরোনো টিম নিয়ে, এই কেস সমাধান না হলেও তার সমস্যা নেই। আসল কাজ তো ক্যামিলকে মাঠে ফিরিয়ে আনা।

    ডিনারের পর হাঁটা শুরু করলো তারা। খালের পাশের একটা বেঞ্চে বসলো তিনজন আর আশেপাশের লোকজন দেখতে লাগলো- এখানে প্রেমিক যুগল যেমন আছে, তেমনি আছে বয়স্ক লোকজন যারা কুকুর নিয়ে হাঁটছে।

    ক্যামিল ভেবে দেখলো তার টিমটা বেশ অদ্ভুত। একদিকে আছে ক্রিসাসের (লিডিয়া রাজ্যের রাজা) মতো ধনী লোক, অন্যদিকে আছে কৃপনতার জন্য ক্রুজ ম্যাকডাক (কার্টুন চরিত্র) হওয়ার যোগ্য একজন। অবশ্য আমি নিজেও এখন টাকা-পয়সার নাগাল পাচ্ছি, এই ভেবে হাসলো সে। কয়েকদিন আগে তার হাতে এক খাম আসে, কিছু লোক তার মায়ের আঁকা ছবিগুলো নিলামে তুলতে চায়। কিন্তু সে এখনো খামটা খোলেনি।

    “আচ্ছা। তার মানে তুমি জিনিসগুলো নিলামে দিচ্ছো না। আমার ধারণা এটাই ভাল হবে।”

    “ওহ তাই নাকি। তুমি আমার জায়গায় হলে তো সবই রেখে দিতে, তাই না?”

    “আমি কি তা বলেছি নাকি? শুধু ছবিগুলো রেখে দিলে ভাল হতো।” একটু নিচুস্বরে বলল আরম্যান্ড।

    “তুমি এমনভাবে বলছো, এটা যেন রাজার ধন-দৌলত!!!”

    “তা না হলেও, পারবারিক সম্পদ তো।”

    কখনো কোন ব্যক্তিগত আলাপে অংশ নেয় না লুইস। বরাবরের মত সেখান থেকে উঠে চলে গেল। ক্যামিল আবার অপহরণ প্রসঙ্গে ফিরে এলো।

    “ভ্যানের মালিক সম্পর্কে কোনো তথ্য পেয়েছো?” জিজ্ঞেস করলো সে।

    “এক ছিঁটেফোঁটাও না,” নিরাশ ভঙ্গিতে জবাব দিলো আরম্যান্ড।

    তাদের হাতে থাকা একমাত্র সূত্র ভ্যানের একটা ছবি। মি.বার্টিনাক এর সি.সি.টি.ভি. ফুটেজ থেকে পাওয়া সেই ছবি বিশ্লেষণ করে তারা ভ্যানের মডেল আর প্রস্তুতকারকের নাম বের করতে পেরেছে। এমন গাড়ি আছে প্রায় দশহাজার। ফরেনসিন বিভাগ ছবির নামের সাথে মিলে এমন তিনশ চল্লিশটা কম্বিনেশন খুঁজে পেয়েছে। লুইস আর আরম্যান্ড এই নামগুলোই ক্রস চেক করে দেখছে।

    তাদের ঝামেলা আরো বেড়ে গেছে এরই মাঝে। কেননা এই ধরনের ভ্যান প্রায়ই কেনাবেচা হয়। এই সীমাহীন চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে তারা, কেননা প্রত্যেকটা লোককে খুঁজে বের করা, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা, এককথায় অসহ্য…তবে একজন একটু আলাদা। কাজ যত বেশি, খুঁজে পাওয়া যত কঠিন ঠিক ততোটাই ‘খুশি’ আরম্যান্ড। অবশ্য এই মুহূর্তে যে আনন্দ নিয়ে সে কাজ করছে, ‘খুশি’ শব্দটাও তার মনের ভাব বোঝানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

    “এভাবে কাজ করলে তো এক সপ্তাহ লেগে যাবে ভ্যান মালিককে খুঁজে বের করতে,” বলল ক্যামিল।

    এমন সময় তার ফোন বেজে উঠলো। সেই ইন্টার্ণ ফোন করেছে, সে এতোটাই উত্তেজিত যে তোতলাচ্ছে এবং ক্যামিলের কড়া নির্দেশও ভুলে গেছে।

    “বস? অপহরণকারীকে খুঁজে পাওয়া গেছে, তার নাম ট্র্যারিক্স। আমরা এক্ষুণি তার অবস্থান জানতে পেরেছি। আপনি দ্রুত চলে আসুন।”

    অধ্যায় ১১

    খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে অ্যালেক্স। শরীর দুর্বল, মানসিক অবস্থাও খুব একটা সুবিধার না। খাঁচায় আবদ্ধ শরীর আর মনটা যেন বহুদূরে কোথাও চলে গেছে। এমন জায়গায় এক ঘণ্টা থাকা মানেই মৃত্যু। তবুও সে বেঁচে আছে, যদিও বেঁচে থাকার ইচ্ছা ক্রমশই কমে যাচ্ছে। এমন আবদ্ধ জায়গায় থেকে পাগলপ্রায় অবস্থা তার। কতদিন ধরে এখানে আটকা পড়ে আছে তাও জানে না।

    ভেতর থাকা আসা গোঙানিকেও এখন পাত্তা দেয় না সে। নিচুস্বরে কাঁদে, অবশ্য এখন কাঁদারও শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। বাক্সের দেয়ালে নিজের মাথা নিজেই বাড়ি দেয়, মাথা ফেটে রক্ত ঝরে, বিলাপ করে কাঁদে, তবুও থামে না। এভাবে বেঁচে থাকা অসহনীয় হয়ে উঠেছে, এর চেয়ে মৃত্যুই সহজ সমাধান তার কাছে।

    লোকটা যখন আসে তখন গোঙানি থামিয়ে দেয় অ্যালেক্স। একের পর এক প্রশ্ন করে তাকে, যদিও জানে যে তার কাছ থেকে প্রশ্নের উত্তর পাবে না। আদতে সে চলে গেলে ভীষণ একলা বোধ হয় তার। এখন সে বুঝতে পারে, জিম্মিদের কতটা কষ্ট করে দিন পার করতে হয়। একাকী থাকার ভয় দূর করার জন্য মাঝে মাঝে তার ইচ্ছে করে লোকটাকে থাকতে বলবে, ভাবটা এমন যেন সে উপস্থিত থাকলে তাকে কেউ মারতে পারবে না।

    আদতে ঘটনা তার উল্টো। স্বেচ্ছায় নিজেকে আঘাত করছে অ্যালেক্স। কেউ তাকে উদ্ধার করতে আসবে না, এই ব্যাপারে সে নিশ্চিত। তাই, ধুকে ধুকে মরার চেয়ে একবারেই সব শেষ হয়ে যাক। এই শরীরের উপর নিজের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই তার। সারা শরীর প্রসাব আর বমিতে ভর্তি, বিকট গন্ধ বের হচ্ছে, যা নিজেই সহ্য করতে পারছে না। বাক্সের অমসৃণ অংশে নিজের পা ঘষতে শুরু করলো, নিজের শরীরের উপর ঘেন্না ধরে গেছে। এই শরীর নিয়ে বাঁচতে চায় না, তাই ব্যথা যত বাড়লো তত জোরে নিজের পা ঘষতে লাগলো। সরু কাঠের টুকরা তার পায়ে ঢুকে গেল, তবুও থামলো না। সারা শরীরে ব্যথার আলোড়ন যেন নিজেকে শেষ করে দেয়ার উৎসবে হাওয়া দেয়। ক্ষত থেকে রক্ত বের না হওয়া পর্যন্ত নিজের উপর অত্যাচার চালিয়ে গেল।

    এই পৃথিবীতে সে একা। কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসবে না।

    মারা যেতে আর কতক্ষণ? মরদেহ খুঁজে পেতে কত সময় লাগবে? লোকটা কি লাশ গুম করে ফেলবে? কোন জায়গায় পুঁতে ফেলবে? করলেও কোথায় করবে? এইসব ভাবনায় ডুবে গেল অ্যালেক্স। প্রায়ই নানান দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে উঠে; প্লাস্টিকে মোড়ানো নিজের দেহ, গহিন এক বন, নিশুতি রাত, কেউ একজন তার দেহ ছুঁড়ে ফেলে দিলো। নিজের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে ভয়ে শিউরে ওঠে সে।

    নিজের ভাইয়ের কথা মনে পড়লো তার। ভাইয়ের সাথে কেমন সম্পর্ক ছিল তা মনে করার চেষ্টা করলো। ভাইয়ের কাছে সবসময়ই ঘৃণার পাত্র ছিল সে। তাকে একদমই সহ্য করতে পারতো না। সাত বছরের বড় ভাইয়ের কাছ থেকে কখনোই আদর পায়নি, বরং কথায় কথায় অপমানের শিকার হতে হয়েছে। প্রায়ই ভাইয়ের হাতে মার খেতে হতো তাকে। একদিন ঘুমের ঔষুধ খাওয়ার সময় তার ভাই দেখে ফেললে হাত থেকে কেড়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করে, “এটা কী?”

    ভাবটা এমন যেন সে তার ভাই না, তার পিতা, তার বস, অথবা এমন কেউ যার হাতে নিজের জীবন সঁপে দিয়েছে অ্যালেক্স।

    “এটা কী খাচ্ছিলে তুমি?” রাগান্বিত স্বরে জিজ্ঞেস করলো তার ভাই।

    তার চোখ যেন কোটর থেকে বেরিয়ে আসছে। ছোট থেকেই এমন রগচটা স্বভাব তার। অবস্থা বেগতিক দেখে অ্যালেক্স তার ভাইয়ের চুলে আলতো করে হাত বুলাতে লাগলো। কিন্তু বিধিবাম, অ্যালেক্সের হাতে থাকা আংটিতে তার চুল আটকে যায়, চুলে টান লাগতেই যেন আরো তেঁতে ওঠে সে। তার গালে ঠাস করে এক চড় বসিয়ে দেয়। অ্যালেক্স তা নীরবে সয়ে নেয়।

    অ্যালেক্স হারিয়ে গেলে তার ভাই…তার ভাই কিছুটা মানসিক শান্তিই পাবে। বিন্দুমাত্র খোঁজ করবে না তার জন্য, বরং তিন চার মাস পর সামান্য বিস্মিত হলেও হতে পারে।

    আর তার মায়ের কথা না বললেই নয়। মায়ের সাথেও তার সম্পর্ক উষ্ণ নয়। তিন চার মাস পর সে কল করলে তাদের মাঝে কথা হয় নতুবা হয় না। তার মা ভুলেও কল করে না।

    আর বাবা…বাবা থাকলে হয়তো ভালই হতো। বাবা থাকলে হয়তো তার নিখোঁজ হওয়ার পর পাগলের মত খুঁজতো, তাকে বাঁচাতে আসতো। সে নিজেও জানে না তার বাবা থাকলে কী হতো। এই নিয়ে আর ভাবতেও চায় না।

    অ্যালেক্স তার কাজের কথা ভাবলো। তার চাকরী অস্থায়ী, কেবলই একটা অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করে কিছুদিন ছুটি কাটাচ্ছিলো। দুই তিন মাস আরাম আয়েসে কাটানোর মত টাকা জমানো ছিল তার। তাই সব ব্যস্ততা দূরে ঠেলে জীবনটাকে একটু অন্যভাবে গোছাচ্ছিলো, নিজের কিছু স্বপ্ন পূরণের তাগিদ অনুভব করছিলো। কিন্তু নতুন কাজ পাওয়ার আগেই তাকে অপহরণের শিকার হতে হলো। কাজে থাকলে হয়তো কোন সহকর্মী তার খবর নিতো, কিন্তু এখন সেই সুযোগও নেই।

    তার কোন প্রেমিক নেই, কোন স্বামী নেই। কেউই নেই।

    অ্যালেক্সের মাথায় এখন কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে; মৃত্যুর আগে আর কয়দিন সময় পাবে? মৃত্যুর স্বাদ কেমন? স্বর্গ আর পৃথিবীর মাঝে কীভাবে পরিত্যক্ত মরদেহে পচন ধরে?

    হুট করেই তার মাথায় যেন কিছু একটা বিস্ফোরিত হলো, কিছু খুঁজে পাওয়ার আনন্দে চোখ জ্বলজ্বল করে উঠলো। মাথায় ঘুরপাক খাওয়া একটা প্রশ্নের পোকা, কেবলি তাকে মুক্তি দিলো। এখন লোকটাকে চিনতে পেরে, শরীরে আলাদা একটা শিহরণ অনুভব করলো সে।

    লোকটা প্যাসকেল ট্র্যারিক্স এর বাবা।

    তাকে দেখার পর থেকেই অ্যালেক্সের মাথায় বিষয়টা আসি আসি করেও আসছিলো না। এমন নয় বাপ বেটা দেখতে একই রকম, বরং এদের মাঝে এতোটাই পার্থক্য বিদ্যমান যে, কেউ এই কথা বিশ্বাসই করবে না। তবুও অ্যালেক্স তাকে চিনতে পেরেছে, তার নাকের সাথে প্যাসকেলের নাকের মিল আছে। আর এই ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই তার মাঝে নতুন এক ভয় জেঁকে বসলো। কেননা সে আসলেই তার মরণ দেখতে চায়, আর এর পিছনে যথেষ্ট কারণ আছে, এটা ভালভাবেই বুঝতে পারছে অ্যালেক্স।

    তার নিঃশব্দ আগমন অ্যালেক্সকে আরো ভীত করে তুললো। সারস পাখির মত গলা উঁচু করে তাকে দেখার চেষ্টা করলো, তবে তার আগেই কাঠের বাক্স দুলতে শুরু করলো। বাক্সটা নিচে নামতে নামতে একসময় থেমে গেল। এমন সময় তাকে এক নজর দেখতে পেলো সে। লোকটা দেয়ালের দিকে পিঠে দিয়ে তার দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রশিটা দেয়ালের কাছে বেঁধে তার দিকে এগিয়ে গেল। অ্যালেক্স একদৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে, এইবার তার চোখে অন্যকিছু দেখতে পেলো। সে অন্য দিকে তাকিয়ে আছে, আর এমনভাবে হাঁটছে যেন মেঝেতে ল্যান্ডমাইন পোঁতা আছে। একেবারে চোখের সামনে আসার পর প্যাসকেলের মত তার চোখেমুখেও সেই একগুঁয়ে ভঙ্গিমা দেখতে পেলো অ্যালেক্স।

    বাক্স থেকে দুই মিটার দূরে থেমে গেল সে। অ্যালেক্স তার দিকে তাকিয়ে আছে; সে পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করলো, এমন সময় মাথার উপরের দিকে খচখচ শব্দ শুনতে পেলো। ঘুরে দেখার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো। এমন চেষ্টা হাজার বার করেও সফলতা পায়নি সে।

    হাতছোঁয়া দূরত্বে ফোনটা ধরে রেখে, তার দিকে তাকিয়ে হাসলো লোকটা। এমন হাসির মানে সে জানে, অশুভ কিছু অপেক্ষা করছে তার জন্য। এমন সময় ছবি তোলার ক্লিক ক্লিক শব্দে আবারো ঘুরে তাকানোর চেষ্টা করলো সে। হুট করেই সামনে থাকা ঝুড়িটা তার মনোযোগ কেড়ে নিলো ঝুড়িটা এমনভাবে নাড়াচাড়া করছে যেন ওটা জীবিত কোন কিছু।

    দ্রুতই সে বুঝতে পারলো ঝুড়ির ভিতর আর যাই থাকুক, ডগ ফুড নেই। তার ধারণাকে সত্যি প্রমাণ করার জন্যেই কিনা একটা ইঁদুর বেরিয়ে এলো ঝুড়ির ভেতর থেকে। একটু পরেই দেখা গেল দুটি ছায়া এগিয়ে আসছে তার দিকে। এবার সে বুঝতে পারলো একটু আগে কিসের শব্দ হচ্ছিলো। ইঁদুর দুটো কাঠের টুকরোর মাঝ দিয়ে উঁকি দিলো। বড় বড়, কালো চোখ ইঁদুরগুলোর।

    এখন সব বুঝতে পারলো অ্যালেক্স।

    তার খাওয়ার জন্য না, বরং ইঁদুরগুলোকে আকর্ষণ করার জন্যেই ডগ ফুড রেখে যেতো ওই লোক।

    সে তাকে মারবে না। মারবে এই ইঁদুরগুলো।

    অধ্যায় ১২

    রাস্তার ধারেই একটা ক্লিনিক, যা একসময় বহির্বিভাগের রোগী দেখার জন্য ব্যবহৃত হতো। উনিশ শতকে তৈরি এই বিল্ডিং সুবিশাল দেয়ালে ঘেরা, অনেক দিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলো। এটাকেই ঘষামাজা করে ব্যবহার করছে একটা নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

    প্রায় দুই বছর ধরে খালি পড়ে আছে জায়গাটা; শিল্প-কারখানার জন্য বরাদ্দকৃত পতিত জমি। কাজ শুরুর আগ পর্যন্ত কোম্পানী একজন সিকিউরিটি গার্ড রেখেছে, যাতে করে গৃহহীন, ছিন্নমূল আর অবৈধ অধিবাসীরা আশ্রয় গড়তে না পারে। বিল্ডিং এর নিচ তলায় সিকিউরিটি গার্ডের থাকার জন্য ছোট একটা রুম আছে। কাজ শুরু হতে আর চার মাস বাকি, এর মাঝের সময়টুকু দেখভালের দায়িত্ব তার।

    তেপ্পান্নো বছর বয়সি জ্যঁ পিয়েরে ট্রারিক্স, ক্লিনিকের সাবেক পরিচ্ছন্নকর্মী। ডিভোর্সড। পূর্বে কোন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ নেই।

    ফরেনসিক বিভাগ থেকে সরবরাহ করা নামগুলোকে ঘেটে ভ্যান মালিকের খোঁজ বের করেছে আরম্যান্ড। লাগরাঞ্জ, আগে চুক্তিতে পি.ভি.সি জানালা লাগানোর কাজ করতো, দুই বছর আগে অবসর নিয়েছে। আর তখনি নিজের যাবতীয় জিনিসপত্র বিক্রি করে দিয়েছে। ভ্যানটা কিনে নিয়েছিলো ট্র্যারিক্স। লাগরাঞ্জের নামটা স্প্রে দিয়ে ঢেকে ভ্যানটা ব্যবহার করছিলো সে। আরম্যান্ড স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানায় ব্যাপারটা, আর তাদেরকে মিলিয়ে দেখতে বলে। নিজের ডিউটি শেষ করে বাসায় ফিরছিলো সার্জেন্ট সায়মন, জীবনে প্রথমবারের মত মোবাইল ফোন না থাকার জন্য আফসোসে পুড়লো। পুনরায় পুলিশ স্টেশনে গিয়ে জানালো যে ক্লিনিকের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ভ্যান, সি.সি.টি.ভি ফুটেজ এর সাথে মিলে গেছে। কিন্তু ক্যামিল এতেও সন্তুষ্ট না, যুদ্ধ শুরুর আগে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে চায়। আরেকজন অফিসারকে পাঠালো ওই এলাকায়। ছবি তোলার মতো যথেষ্ট আলো ছিল না, কিন্তু সমস্যা হলো ভ্যানটাই সেখানে নেই। বরাবরের মত ট্র্যারিক্স বাসায় ছিল না। ঘরে কোন আলোও নেই, মনে হচ্ছে ভূতের বাড়ি।

    ফাঁদ তৈরি, লোকটা আসবে আর ওমনি খপ করে তাকে ধরে ফেলা হবে। সাদা পোশাকে অফিসাররা চারপাশ ঘিরে রেখেছে। পালানোর কোন সুযোগ নাই। সবকিছু ঠিকঠাক মতো এগুচ্ছিলো, এমন সময় সেখানে হাজির হলো লা গুয়েন আর তার সাথে তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট।

    মেইন গেট থেকে প্রায় একশ মিটার দূরে মিটিং সারলো তারা। ত্রিশোর্ধ্ব ম্যাজিস্ট্রেটের নাম ভিডার্ড। হালকা পাতলা গড়ন, মুখে বিষণ্নতার ছাপ, গায়ে পিনস্ট্রিপড স্যুট, বোতামগুলো স্বর্ণের। সর্বোপরি আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট। এদের দেখে মনে হয় এরা স্যুট, টাই পড়ে জন্ম নিয়েছে। এমনিতে বেশ সুদর্শন, চেহায়ার একটা প্লে-বয় ভাব আছে- তবে এখন দেখতে মনে হচ্ছে কোন ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর সেলসম্যান, যে একইসাথে রাজনীতিবিদ হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তার ভবিষ্যৎ যেন আরেকজন লোথারিওর কথা মনে করিয়ে দেয়।

    আইরিন যখনই এমন পুরুষ দেখতো, তখন হেসে হেসে ক্যামিলকে বলতো, “বাহ। লোকটা তো বেশ হ্যান্ডসাম। আমি যে কেন এমন একজন হাজব্যাণ্ড পেলাম না?”

    তার উপর লোকটা একটা ঘটিরাম, সম্ভবত উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত গুণ, ক্যামিলের তাই ধারণা। তার যেন প্রচুর তাড়া, জায়গাটাকে তছনছ করে ফেলতে চায় এখনি। এই মুহূর্তে ট্র্যারিক্স এর উপর আক্রমণ করতে চায়, নিশ্চয়ই তার বংশে কোন তিন তারকা বিশিষ্ট জেনারেল আছে।

    “এটা সম্পূর্ণ হাস্যকর। আমরা মোটেও তা করতে পারি না।”

    এমন একজন লোকের সামনে শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্যামিলের আরেকটু সতর্ক হওয়া দরকার ছিলো। ম্যাজিস্ট্রেটকে আরেকটু সম্মান দেখানো উচিৎ ছিলো। কিন্তু এই বালের ম্যজিস্ট্রেট, পাঁচ দিন ধরে বন্দী এক জিম্মির জীবনের কোন মূল্যই নেই তার কাছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে লা গুয়েন এগিয়ে এলো, “আপনি যেমনটা দেখছেন স্যার, কম্যান্ড্যান্ট ভেরহোভেন মাঝে মাঝে মেজাজ হারিয়ে ফেলে। আপনি কিছু মনে করবেন না। তবে আমার মনে হয় কি এখনি আক্রমণ না করে অপরাধীর জন্য অপেক্ষা করাটাই উত্তম।”

    এসব কথায় কোন কাজ হলো না। ম্যাজিস্ট্রেট নিজেকে ভয়ডরহীন আর এক কথার মানুষ হিসেবে প্রমাণ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সে বলল, “আমার মতে এখনি আমরা বিল্ডিং ঘেরাও করে ভিক্টিমকে মুক্ত করি, এরপর অপরাধীর জন্য ফাঁদ পেতে রাখবো।” নিজের কথায় বেশ সন্তুষ্ট মনে হলো তাকে। সবার নীরবতা তাকে আরো উৎসাহিত করে তুললো, তাই আবারো বলল, “এভাবেই সে ফাঁদে পড়ে যাবে।”

    “আপনি কীভাবে জানলেন যে ভিক্টিম ভেতরেই আছে?” বিদ্রুপাত্মক ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলো ক্যামিল

    “তুমি কীভাবে জানলে যে এই লোকই অপহরণকারী?” প্রত্যুত্তরে বলল ভিডার্ড

    “কারণ আমরা মিলিয়ে দেখেছি অপহরণের সময় এই ভ্যান ঘটনাস্থলে ছিলো।”

    “আচ্ছা তার মানে এই লোকই অপহরণকারী।”

    লা গুয়েন পরিস্থিতি ঠাণ্ডা করার জন্য কী বলবে তাই ভাবছে। এরই মাঝে ভিডার্ড আবারো বলে উঠলো, “আমি তোমার অবস্থান বুঝতে পারছি ভেরহোভেন, কিন্তু দিনকাল অনেক পরিবর্তন হয়েছে।”

    “ওহ, আচ্ছা তাই নাকি? বলুন দেখি শুনি?”

    “এমন কাঠখোট্টাভাবে বলার জন্য আমি দুঃখিত, কিন্তু আমরা এখন আর অপরাধীর দিকে নজর দেই না, ভিক্টিমের জীবনটাই মুখ্য।”

    বিজয়ির ভঙ্গিমায় সবার দিকে তাকিয়ে সে আবারো বলল, “অপরাধীকে খুঁজে বের করা অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো ভিক্টিমকে জীবিত উদ্ধার করা, কেননা তাদের কারণেই আমাদের সৃষ্টি।”

    ক্যামিল বলার জন্য মুখ খুললেও, কিছু বলার আগেই ম্যজিস্ট্রেট গাড়িতে চড়ে বসলো। হাতে থাকা মোবাইল ফোন দেখিয়ে লা গুয়েনকে বলল, “আমি এক্ষুণি আর.এ.আই.ডি কে ফোন করছি।”

    এই লোক তো গণ্ডমুর্খ,” লা গুয়েনকে বলল ক্যামিল।

    ম্যাজিস্ট্রেট তখনো লা গুয়েনের পিছনেই, এই কথাগুলোও তার কানে গেল। কিন্তু শুনেও না শোনার ভান করে কথাটা এড়িয়ে গেল। আর এদিকে লা গুয়েন ব্যাকআপ টিমকে জানিয়ে রাখলো। কেননা তারা যখন ভিক্টিমকে বাঁচানোর জন্য ভেতরে অবস্থান করবে, তখন যদি ট্র্যারিক্স চলে আসে। এক ঘণ্টার মাঝে সব কিছুর ব্যবস্থা হয়ে গেল।

    *

    রাত ১:৩০

    ক্যামিলের নির্দেশে বিল্ডিং এর চাবি যোগাড় করা হলো খুব দ্রুত, কেননা জরুরী প্রয়োজনে লাগতে পারে এই চাবি। আর.এ.আই.ডি স্কোয়াডের কমিশ্যাঁর নোবার্টও এখন উপস্থিত সেখানে, যদিও ক্যামিল তাকে চেনে না। লোকটার ব্যক্তিত্বের কারণে কেউ তাকে কখনো পুরো নাম জিজ্ঞেস করার সাহস পায়নি। তার মনে হলো এই লোক এমন পরিস্থিতি হাজারবার মোকাবেলা করেছে।

    ছবি আর ম্যাপ দেখে নোবার্ট তার স্কোয়াডের সদস্যদেরকে চারভাগ করে গুরুত্বপূর্ণ চারটি পয়েন্টে পাঠিয়ে দিয়েছে। একটা ইউনিট অবস্থান নিয়েছে ছাদে, আরেকটা বিল্ডিং এর মেইন গেটে, আর বাকি দুই ইউনিট বাইরে ‘ক্রিমিনাল ব্রিগেড’ বিল্ডিং এর চারপাশ ঘিরে রেখেছে। ক্যামিল একটা টিমকে পাঠিয়েছে বিল্ডিং এর অন্যান্য তিনটা প্রবেশপথে। আর চতুর্থ টিম বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে যাওয়া ড্রেন গুলোর ওইদিকে নজর রাখছে।

    কমিশ্যাঁর নোবার্ট এখন বেশ সতর্ক। তার নিজের দক্ষতা সম্পর্কে বেশ ভালভাবেই জ্ঞাত সে, তাই ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে বিন্দুমাত্র ভড়কে যায় নি। ম্যজিস্টেট যখন তাকে জিজ্ঞেস করলো, “তুমি কি বিল্ডিং থেকে ভিক্টিমকে মুক্ত করে আনতে পারবে?” বেশ কিছুক্ষণ বিল্ডিং এর ম্যাপ ঘেটে সে বলল, “হ্যা। অবশ্যই পারবো।” লোকটার দায়িত্বশীল আর স্পষ্টবাদী ভূমিকা, ক্যামিলের বেশ পছন্দ হলো। লোকটাকে মনে ধরে গেল তার।

    ভিক্টিম যখন ভেতরে বন্দী, তখন ট্র্যারিক্সের জন্য অপেক্ষা করাটা বেশ হতাশাজনক। তবুও ক্যামিলের মনে হলো এটাই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। নোবার্ট এক পা পিছিয়ে গেল, আর ম্যাজিস্ট্রেট এক পা এগিয়ে এলো।

    “অপেক্ষা করলে কী ক্ষতিটা হচ্ছে?” ক্যামিল জিজ্ঞেস করলো।

    “ সময়।”

    “পুরো ব্যাপারটা সতর্কতার সাথে সমাধান করলে কী ক্ষতি হবে?”

    “হয়তো কারো জীবন।”

    লা গুয়েনও এখন ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে একমত। হঠাৎ করে ভীষণ অসহায় বোধ করলো ক্যামিল, তার পাশে কেউ নেই। এখনই সবাই বিল্ডিং এ প্রবেশ করবে। বিল্ডিংয়ের চারপাশ ঘিরে রাখা এক সদস্যের সাথে যোগাযোগ করলো সে।

    “কী দেখতে পাচ্ছো তুমি?” জিজ্ঞেস করলো ক্যামিল।

    সে সদস্য কী বলবে তাই খুঁজে পেলো না। কোন উত্তর না পেয়ে বিরক্ত ক্যামিল তাকে আবারো একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলো।

    “আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি না, তবে কিছু সাইট মেশিনারী, বিল্ডিং তৈরির রড, কয়েকটা ডেমোলিউশন মেশিন। আর হ্যা, একটা খননকারী মেশিন।”

    এই খননকারী মেশিনের ব্যাপারটা ক্যামিলকে ভাবিয়ে তুললো।

    এদিকে অপারেশন শুরু হয়ে গিয়েছে, লা গুয়েনও তাদের পিছু নিয়েছে। ক্যামিল নিচেই থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নিলো। এখনো ব্যাপারটা নিয়ে ভাবছে সে। লাইটের ফ্ল্যাশ জ্বলে উঠলো, তার মানে বিল্ডিং এর ভেতরে প্রবেশ করেছে তারা। অপারেশন শুরু হলো ঠিক ১:৫৭ মিনিটে।

    “তার মানে প্রতিনিয়ত মানুষের আসা যাওয়া আছে এখানে।” একা একাই বলে উঠলো ক্যামিল। পাশে থাকা লুইস জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থেকে বোঝার চেষ্টা করলো।

    “বিল্ডিং এর কাজ শুরু করার পূর্বে এইসব যন্ত্রপাতি আনা হয়। এখানে শ্রমির,

    ইঞ্জিনিয়ার সহ আরো নানা ধরণের লোক কাজ করবে। কাজের তদারকি করতে মালিকপক্ষ আসবে। মোট কথা মানুষের আনাগোনা এখানে বেশি। তার মানে…”

    “তার মানে ট্র্যারিক্স এখানে ভিক্টিমকে আটকে রাখবে না।”

    ক্যামিল কিছু বলার সুযোগ পেলো না, কেননা ট্র্যারিক্সের সাদা ভ্যান ততক্ষণে চলে এসেছে।

    এরপরে সবকিছুই অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটলো। লুইস গাড়ি স্টার্ট দিলো, ক্যামিল তাতে চড়ে বসলো। ট্র্যারিক্সের পিছু ধাওয়া করতে করতে রেডিওর মাধ্যমে অন্যান্য টিমকেও অপরাধীর অবস্থান জানিয়ে দিলো ধারাভাষ্যকারের মত একের পর এক টিমকে জানাতে লাগলো সে। অপরাধীর ভ্যানটা বেশ পুরোনো মডেলের- তা থেকে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে, এটাকে বাতিল মালই বলা চলে। এক্সিলারেটর চেপেও এই ধোঁয়ার কারখানা ঘণ্টায় সত্তুর মাইলের বেশি বেগে ছুটতে পারবে না। আর তা ছাড়া সে কোন ফর্মুলা ওয়ান ড্রাইভারও না। নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে একটু দ্বিধান্বিত থাকায় মুল্যবান কিছু সময় নষ্ট করলো ট্র্যারিক্স, আর এই সুযোগে তাদের গাড়ি আরো কাছে চলে আসলো। পিছনে থেকেও লুইস বেশ খুশি, কেননা সে জানে অপরাধীকে ঘিরে ধরতে আর কিছু মুহূর্তের অপেক্ষা বাকি শুধু। ইতিমধ্যে স্কোয়াডের বড় গাড়ি গুলো রওনা হয়ে গিয়েছে। এরইমাঝে একটা গাড়ি ডানে, আরেকটা গাড়ি বামে থেকে সাদা ভ্যানের পাশাপাশি চলছে। পালাবার কোন পথ নেই। অপেক্ষা শুধু সঠিক সময়ের।

    এমনসময় লা গুয়েন ক্যামিলকে ফোন করলো, “তাকে ধরতে পেরেছো?”

    “প্রায়,” উচ্চস্বরে জিজ্ঞেস করলো ক্যামিল, “আর তোমার ওইদিকের কী অবস্থা?”

    “যেভাবেই হোক একে পালাতে দেয়া যাবে না ক্যামিল। আমরা এখানে কিছুই পায়নি।”

    “আমি জানতাম।”

    “মানে?”

    “না। কিছু না।”

    “আমি আবারো বলছি আমরা ভেতরে কিছুই পাইনি, তুমি শুনতে পাচ্ছো? আমরা একদম খালি হাতে ফিরেছি।”

    আজকের রাতের ঘটনাগুলোকে কয়েক অংশে ভাগ করা যেতে পারে। প্রথম ঘটনাটা অনেকটা এমন, ফ্লাইওভারের উপরেও তারা অপরাধীর পিছু ছুটছে। হুট করেই কর্কশ আর্তনাদ করে ভ্যানটা থেমে গেল। ক্যামিল সহ বাকিরা গাড়ি থামিয়ে সুবিধাজনক পজিশন নিলো। ক্যামিল পিস্তল বের করে তৈরি, অপরাধী ভ্যান থেকে নেমে পালাতে গেলে কী বলবে তাও ঠিক করে রেখেছে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ট্র্যারিক্স ভ্যান থেকে নেমে রেলিং এ বসলো, তার মুখের ভাবটা এমন যেন তাদেরকে সামনে এগুতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।

    এরপরে কী ঘটবে তা সবারই জানা। রেলিং এ বসে পা ঝুলিয়ে দিলো সে। দৃঢ়পায়ে আগত পুলিশ অফিসারদের দিকে তাকিয়ে আছে, তার দিকে অস্ত্র তাক করা। মুহূর্তের মাঝে রেলিং এ দাঁড়িয়ে নিজের হাত দুটো ছড়িয়ে দিলো। একবার পিছনে তাকিয়েই শূন্যে ঝাঁপিয়ে পড়লো।

    তারা রেলিং এর কাছে পৌছানোর রাস্তায় ভারী কিছু পতনের শব্দ, ট্রাকের আঘাতের শব্দ, সময়মত থামতে না পারা গাড়িগুলোর ধাতব শব্দ পাওয়া গেল।

    ক্যামিল নিচে তাকিয়ে দেখলো রাস্তায় জ্যাম লেগে গিয়েছে। গাড়িগুলোর হেডলাইট জ্বলছে, আর এর সাথে যোগ হয়েছে হর্ণের বিকট শব্দ। দ্রুতগতিতে ফ্লাইওভার থেকে নেমে ঘটনাস্থলে গেল ক্যামিল। আর্টিকুলেটেড লরির নিচে চাপা পড়েছিলো ট্র্যারিক্স। শরীরের অর্ধেকাংশ দেখতে পেলো ক্যামিল, খুলি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে, রাস্তায় পিচ জুড়ে রক্ত ছড়িয়ে আছে।

    দ্বিতীয় ঘটনাটা ঘটলো ঠিক বিশ মিনিট পর। পুরো রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বেষ্টনী দ্বারা। এরইমাঝে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে পুলিশ, ফরেনসিক বিভাগের সদস্য, অগ্নি নির্বাপণ কর্মীসহ আরো অনেকে। ক্যামিল আর তার সহকর্মীরা এখন ফ্লাইওভারের উপরে। লুইস অপরাধীর ভ্যান চেক করছে, আরম্যান্ড তাকে অপরাধী সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য জানাচ্ছে। আর এদিকে ক্যামিল ট্র্যারিক্সের ফোন চেক করছে, যা কোনরকমে লরির চাকা এড়িয়ে গেছে।

    ফোন ঘেটে ছয়টা ছবি পাওয়া গেল। একটা কাঠের বাক্স যার প্রতিটি কাঠের টুকরো সমদূরত্বে অবস্থিত, বাক্সটা মেঝে থেকে কয়েক মিটার উপরে ঝুলানো। এর ভেতরে বন্দী একজন নারী, সম্পূর্ণ নগ্ন, বয়স কম, ত্রিশের কাছাকাছি। তার চুল তেল চিটচিটে, ময়লা। ছোট একটা জায়গায় গাদাগাদি করে আছে, কেননা বাক্সটা তার জন্য যথেষ্ট নয় দেখেই বোঝা যাচ্ছে। প্রতিটি ছবিতেই ফটোগ্রাফারের দিকে তাকিয়ে আছে সে। চোখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট, চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে গেছে। তার চোখ যেন জ্বলজ্বল করছে, দেখেই বোঝা যাচ্ছে এই মেয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় দেখতে বেশ, কিন্তু এখন তাকে ভয়াবহ দেখাচ্ছে। আর এই সুন্দরী মেয়েটাই ধুঁকে ধুঁকে মারা যাচ্ছে শীঘ্রই।

    “ফিলেটে” লুইস বলল।

    “কী? কী বললে?” জিজ্ঞেস করলো ক্যামিল।

    “খাঁচাটা দেখছো না? এটা ‘ফিলেটে’।” ক্যামিলকে দ্বিধান্বিত দেখে সে আরো যোগ করলো, “এটাতে বসাও যায় না, শোয়াও যায় না। এটা মূলত একাদশ লুইসের সময়ে ভার্দুনের বিশপকে অত্যাচারের জন্য তৈরি করা হয়। তাকে দশ বছর বন্দী করে রাখা হয়েছিলো। বেশ কাজে দেয় এই পদ্ধতি। মাংসপেশীতে খিঁচুনি ধরা সহ আরো নানা জটিলতায় ভুগে একসময় পাগল হয়ে যায় বন্দী।”

    মেয়েটার এই অবস্থা দেখে যে কারো মাথা ঘুরে যাবে। আর সর্বশেষ ছবিতে মেয়েটার মুখের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও বাক্সের উপরে তিনটে ইঁদুরও চোখে পড়েছে ক্যামিলের।

    লুইসের দিকে ফোনটা এমনভাবে ছুঁড়ে দিলো যেন তার হাত পুড়ে যাচ্ছে।

    “ছবিগুলো কখন আর কবে তোলা হয়েছে চেক করো।”

    প্রযুক্তির ব্যাপারে ক্যামিল একটু পিছিয়ে। লুইসের মাত্র চার সেকেন্ড লাগলো খুঁজে বের করতে।

    “শেষ ছবি তিনঘণ্টা আগে তোলা হয়েছিলো।”

    “কললিস্ট চেক করো।”

    “শেষ কল করা হয়েছিলো দশ দিন আগে।”

    তার মানে মেয়েটাকে অপহরণ করার পর একটা কলও করা হয়নি।

    পিনপতন নীরবতা নেমে এলো তাদের মাঝে।

    কেউ জানে না মেয়েটাকে কোথায় আটকে রাখা হয়েছে। যে জানতো সে একটু আগেই লরির নিচে চাপা পড়ে মারা গেছে।

    ট্র্যারিক্সের মোবাইল থেকে দুটো ছবি সিলেক্ট করলো ক্যামিল, যার মাঝে ইঁদুর থাকা ছবিটাও আছে। একটা মেসেজ লিখে ম্যাজিস্ট্রেট আর লা গুয়েনকে পাঠালো, “অপরাধী তো মারা গেছে। এখন আমরা কীভাবে ভিক্টিমকে খুঁজে পাবো? আপনিই পথ দেখান পারলে!!!”

    অধ্যায় ১৩

    চোখ খুলেই অ্যালেক্স দেখতে পেলো তার মুখ থেকে কয়েক সেন্টিমিটার দূরে একটা ইঁদুর, তাকিয়ে আছে তার দিকে। এতো কাছে থাকার কারণে ইঁদুরটাকে স্বাভাবিকের চেয়ে চার-পাঁচ গুণ বড় দেখাচ্ছে।

    চিৎকার করে উঠলো সে, এই শুনে ভয়ে বাক্স থেকে বেরিয়ে প্ৰথমে ঝুড়িতে গেল ইঁদুরটা, এরপরে একদম রশিতে উঠে গেল। নিজের গোঁফ ঝাকি দিলো যেন পরিস্থিতি আঁচ করতে চাইছে, আর এখান থেকে কী পাবে তাই ভাবছে। আরো জোরে চিৎকার করলো সে, কিন্তু কোন লাভ হলো না। ইঁদুরটা সরাসরি তার দিকে তাকিয়ে আছে। গোলাপী নাক, দ্যুতিময় চোখ, মসৃণ শরীর, সাদা লম্বা গোঁফ আর লেজ যার শেষ সীমা দেখা যাচ্ছে না। অ্যালেক্সের সারা শরীর যেন অবশ হয়ে আসছে, শ্বাসও ঠিকমতো নিতে পারছে না। আরো চিৎকারের চেষ্টা করলো, কিন্তু ক্রমেই শক্তি হারানো একসময় তাও করতে পারলো না। অনেকক্ষণ একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইলো।

    তার থেকে চল্লিশ সেন্টিমিটার উপরে দুলতে লাগলো ইঁদুরটি। হুট করেই ঝুড়ির কাছে গিয়ে নিজের খাবার খাচ্ছে, আর মাঝে মাঝে তাকে দেখছে। দৃশপট থেকে কিছু সময়ের জন্য উধাও হয়ে আবারো তার সামনে এলো। প্ৰায় ত্রিশ সেন্টিমিটার লম্বা ইঁদুরটা প্রাপ্তবয়স্ক, ভাব-ভঙ্গিমায় বোঝা যাচ্ছে বেশ ক্ষুধার্ত। খাবার শেষ করে তার দিকে এগুতে লাগলো, যেন বুঝতে পেরেছে সে কোন বাঁধা দিতে পারবে না। ইঁদুরকে এগুতে দেখে আরো কুকড়ে গেল সে, নিজের দুর্গতির কথা ভেবে চোখ বন্ধ করে ফেললো। কয়েক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো তার চোখ থেকে। কিছুক্ষণ পর কোন সারাশব্দ না পেয়ে চোখ খুললো, দেখতে পেলো কোন ইঁদুর নেই। যা ক্ষণিকের জন্য হলেও তাকে স্বস্তি দিলো।

    *

    প্যাসকেল ট্র্যারিক্সের বাবা। লোকটা কীভাবে তাকে খুঁজে পেলো? অ্যালেক্সের ব্রেন ঠিকমতো কাজ করলে হয়তো এর উত্তর খুঁজে পেতো, কিন্তু এখন তার মাথায় যা আছে তার সবই যেন কিছু স্থির চিত্র, কেমন একটা খাপছাড়া ভাব, কিছুই মিলছে না। আর তা ছাড়া এখন এইসব ভেবেই কী লাভ? বাঁচতে হলে লোকটার সাথে সমঝোতা করতে হবে। বিশ্বাসযোগ্য কোন গল্প ফাঁদতে হবে, যাতে লোকটা ছেড়ে দেয় তাকে। আগে এখান থেকে বের তো হোক, তারপর অন্য কিছু ভাবা যাবে। নিজের মাথায় থাকা যাবতীয় তথ্য একাট্টা করার চেষ্টা করলো, কিন্তু তখনি থেমে যেতে হলো। আরেকটা ইঁদুর চলে এসেছে।

    এটা আগেরটার চেয়ে আরো বড়। সম্ভবত সবচেয়ে বড় সাইজের। কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে সরাসরি অ্যালেক্সের মাথার কাছে এসে থামলো। অ্যালেক্সের চিৎকারেও কোন ভ্রুক্ষেপ করল না। এটার লেজ এতোটাই বড় যে কাঠের টুকরার মাঝ দিয়ে তার ঘাড়ের কাছে চলে এসেছে।

    সে আবারো চিৎকার করে উঠলো। ইঁদুরটা তিন-চারবার বাক্সের এপাশ থেকে ওপাশে দৌড়াতে লাগলো। অ্যালেক্স ইঁদুরের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর সতর্ক নজর রাখছে, হার্টবিট বেড়ে গেছে, ঘনঘন শ্বাস নিচ্ছে।

    তার শরীর দিয়ে প্রসাব, পায়খানা আর বমির গন্ধ বের হচ্ছে। অনেকটা পঁচা মাংসের গন্ধের মতন।

    ইঁদুরটা নাক দিয়ে তাই শুঁকছে।

    উপরের দিকে তাকালো সে। আরো দুইটা ইঁদুর নেমে আসছে উপর থেকে।

    অধ্যায় ১৪

    বিল্ডিংয়ের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ফিল্মের ক্রুরা দখল করে নিয়েছে। আর.এ.আই.ডি স্কোয়াডের সব সদস্য চলে গেছে, ফরেনসিক সদস্যরা তাদের উপস্থিতির প্রমাণ দিতে এখানে ওখানে নানা জিনিস ফেলে রেখেছে। বিল্ডিং এর পুরো চত্বর আলোয় ঝলমল করছে, এখন যে মধ্যরাত তা বোঝার কোন উপায় নাই, বিন্দুমাত্র ছায়া দেখা যাচ্ছে না কোথাও। হাঁটাচলা করার জন্য সাদা আর লাল রঙের টেপ দিয়ে আলাদা জায়গা করে দেয়া হয়েছে, যাতে করে কোন প্রমাণই নষ্ট না হয়।

    অপহরণের পর মেয়েটাকে এখানে আনা হয়েছিলো কিনা, সেই ব্যাপারটাই খতিয়ে দেখছে তারা।

    ঘটনাস্থলের আশেপাশে লোকজন জমা হয়ে গিয়েছে, আরম্যান্ডের বেশ পছন্দ এই ধরনের জটলা। এমন জটলা তার সিগারেটের উৎস। অন্যান্য অফিসার এসে লোকজনকে সরানোর আগেই, দু নম্বরি করে সে আগামী চার দিনের রসদ যোগাড় করে ফেলেছে।

    বিল্ডিং এর চত্বরে দাঁড়িয়ে সিগারেটে সুখটান দিচ্ছে আরম্যান্ড, সিগারেট পুড়তে পুড়তে এখন তার হাতে তাপ লাগছে। এতে তার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই, দার্শনিক ভঙ্গিতে একদিকে তাকিয়ে আছে।

    “আচ্ছা। আমার ধারণা ম্যাজিস্ট্রেটকে এখন আর পাওয়া যাবে না,” ব্যঙ্গ করে বলল ক্যামিল।

    আরম্যান্ড কিছু বলতে চেয়েও থেমে গেল, এখনো দার্শনিক ভঙ্গিমায় অবিচল আছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিশ্চুপ থাকার এক অদ্ভুত গুণ আছে তার।

    “আসলে বেচারার ভাগ্যই খারাপ। প্রতিদিন তো আর অপরাধীরা লরির নিচে চাপা পড়ে না। হুট করেই উদয় হয়ে, পরিস্থিতি আঁচ না করে নায়ক সাজতে চেয়েছিলো শালা ম্যাজিস্ট্রেট,” বলে থামলো ক্যামিল।

    ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের ঘড়ির দিকে তাকালো সে। আরম্যান্ড এখনো নিশ্চুপ, জুতার ফিতের দিকে তাকিয়ে আছে। লুইসকে কোন একটা বিষয় নিয়ে চিন্তিত দেখা যাচ্ছে।

    “হয়তো ব্যাটা এখন নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। আর তা ছাড়া সারাদিন এমন বালের কাজ করলে, কার না ঘুম পাবে।”

    সিগারেটের শেষাংশ ফেলে দিলো আরম্যান্ড।

    “আচ্ছা, তাহলে আমি যেন কী বলছিলাম?” ক্যামিল জিজ্ঞেস করলো।

    “না। কিছু না। আমরা কি এখন হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবো? কাজে নামবো না?” আরম্যান্ড প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো বাকি দুই সহকর্মীর দিকে।

    ক্যামিল তাকে জানালো যে তারা এখন ট্র্যারিক্সের বাসায় যাবে। ছোটখাট বাসা, রুমগুলো গোছানো, ক্রোকারিজগুলোও বেশ গুছিয়ে রাখা, যন্ত্রপাতি গুলো হার্ডওয়ার দোকানের মত করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। বিয়ারের মজুদের কথা না বললেই নয়, পুরো নিকারাগুয়া শহরকে ভাসিয়ে দেয়া যাবে। এছাড়া আর তেমন কিছু নেই, কোন কাগজপত্র নেই, কোন বই নেই, একটা নোটপ্যাডও নেই।

    কৌতুহল জাগানিয়া একটা জিনিস অবশ্য পাওয়া গেছে: একটা টিনএজারের বেডরুম।

    “ট্র্যারিক্সের ছেলে প্যাসকেলের রুম এটা,” লুইস বলল।

    বাসার অন্যান্য রুম থেকে এই রুম কিছুটা আলাদা। ধূলার আস্তরণ দেখেই বোঝা যায়, অনেকদিন ধরে পরিস্কার করা হয় না। এক কোণায় পড়ে আছে ওয়্যারলেস সুবিধাযুক্ত একটা এক্স-বক্স ৩৬০, আর পুরোনো মডেলের একটা কম্পিউটার। কোন অদক্ষ হাতে মনিটরের কিছু অংশ যে মোছা হয়েছিলো, তার ছাপ সুস্পষ্ট। ইতিমধ্যে একজন হার্ড-ড্রাইভ চেক করা শুরু করে দিয়েছে।

    “গেমস, গেমস আর গেমস। সাথে অবশ্য ইন্টারনেট সংযোগও আছে,” হার্ড ড্রাইভ পরীক্ষা করা টেকনিশিয়ান বলল।

    ক্যামিল শুনছে আর আলমারি থেকে বের করা কিছু ছবি দেখছে।

    “পর্ণ সাইট…শুধু ভিডিও গেমস আর পর্ণ সাইটই পাওয়া গেল। আমার ছেলেও অবশ্য এমন,” আবারো বলল টেকনিশিয়ান।

    “ছত্রিশ…”

    কথাটা শুনেই সবাই জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে লুইসের দিকে তাকালো।

    “ট্র্যারিক্সের ছেলের বয়স ছত্রিশ,” বলল লুইস।

    “ঠিক আছে। তাহলে তো ঘটনা একটু ভিন্ন,” একটু বিস্মিত দেখা গেল টেকনিশিয়ানকে।

    “আর কিছু পাওয়া গেল?” জিজ্ঞেস করলো ক্যামিল।

    “কিছু মেইল পাওয়া গেছে। কিন্তু মেইলের ভাষা…”

    “তোমার ছেলেও কি এমন?”

    একটু বিরক্ত হতে দেখা গেল টেকনিশিয়ানকে, বারবার একই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

    মনিটরের দিকে তাকালো ক্যামিল। লোকটা বেশ ভালো একটা জিনিস খেয়াল করেছে। মেইলের ভাষা খুবই সংযত এবং বানানও একদম শুদ্ধ।

    লুইসের কাছ থেকে গ্লাভস নিয়ে পড়লো সে। ড্রয়ার থেকে পাওয়া বাপ- বেটার একটা ছবির দিকে তাকিয়ে আছে। কয়েকমাস আগে তোলা একটা ছবি। ছেলেটা দেখতে অতোটা সুদর্শন নয়, লম্বা নাক, উচ্চতা বেশ ভাল, রোগা-লিকলিকে শরীর, চেহারায় বখে যাওয়া ভাব স্পষ্ট। বাক্সে আটকা পড়া মেয়েটার কথা মনে পড়লো তার। এই ছেলেকে মোটেও ওই মেয়ের সাথে মানায় না, কেননা মেয়েটা বেশ সুন্দরী।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleক্যামিল – পিয়ের লেমেইত
    Next Article আইরিন – পিয়ের লেমেইত

    Related Articles

    পিয়ের লেমেইত

    আইরিন – পিয়ের লেমেইত

    September 13, 2025
    পিয়ের লেমেইত

    ক্যামিল – পিয়ের লেমেইত

    September 13, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }