Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আঁধার রাতের বন্ধু – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প113 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাত নম্বর খাদান

    হঠাৎই একটা ঘস ঘস শব্দ করে রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে পড়ল গাড়িটা৷ সুনন্দ তার পাশের ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, ‘কী হল?’

    ড্রাইভার বলল, ‘মনে হয় পিছনের একটা টায়ার ফেঁসে গেল!’

    সে নেমে পড়ল গাড়ি থেকে৷ সুনন্দও নীচে নামল৷ হ্যাঁ, পিছনের বাঁ পাশের টায়ারটা চুপসে গিয়েছে৷ সেদিকে তাকিয়ে সুনন্দ বলল, ‘টায়ারটা পুরোনো নাকি?’

    ড্রাইভার একটু আক্ষেপের সুরে বলল, ‘না স্যার, একদম নতুন টায়ার৷ কোলিয়ারির রাস্তা তো, ভারী ভারী ট্রাক চলে৷ লোহালক্কড়ের টুকরো পড়ে থাকে রাস্তায়, তাতেই মনে হয় ফেঁসে গিয়েছে৷ এ রাস্তায় এর আগেও একবার আমার এরকম হয়েছে৷’

    সুনন্দ প্রশ্ন করল, ‘এখান থেকে ম্যাকেঞ্জি কোলিয়ারি কত দূর?’

    ড্রাইভার দূরে অন্ধকারের দিকে আঙুল তুলে বলল, ‘ওদিকে ওই যে ওপাশে একটা টিলা দেখা যাচ্ছে, তার আর-একটু ওদিক থেকেই তো কোলিয়ারি শুরু হয়েছে৷’

    ড্রাইভার যেদিকে দেখাল, সুনন্দ তাকাল সেদিকে৷ আকাশে চাঁদ থাকলেও তার আলো কেমন যেন ম্লান৷ সেই আলোয় বেশ কিছু দূরে অস্পষ্ট কয়েকটা টিলা চোখে পড়ল সুনন্দর৷ গাড়ি যেখানে দাঁড়িয়ে পড়েছে সেখান থেকে জায়গাটা আধ মাইল মতো হবে৷ আর-একটু এগোলেই পৌঁছে যাওয়া যেত সেখানে৷ সুনন্দ ঘড়ির দিকে তাকাল, রাত ন-টা বাজতে চলেছে৷ কোলিয়ারিতে গিয়ে কাজ সেরে কাল ভোরেই কলকাতায় ফিরতে হবে৷ তার কোম্পানির সেই রকমই নির্দেশ৷ ড্রাইভার গাড়ির ডিকি খুলে যন্ত্রপাতি নামাতে শুরু করল চাকাটা পালটে ফেলার জন্য৷ সুনন্দ তাকে বলল, ‘তোমার কত সময় লাগবে?’

    ড্রাইভার বলল, ‘বেশিক্ষণ নয়, আধ ঘণ্টার মধ্যেই হয়ে যাবে৷’

    চারপাশে গুমোট গরম, আকাশে মেঘ আছে, তার আড়ালে মাঝে মাঝে ঢেকে যাচ্ছে চাঁদ৷ এখানে এর আগে কোনোদিন আসেনি সুনন্দ৷ সে যে কোম্পানিতে চাকরি করে তাদের বেশ কয়েকটা কয়লাখনি আছে এ অঞ্চলে৷ কোম্পানি তাদের গাড়িতে সুনন্দকে পাঠিয়েছে ম্যাকেঞ্জি খনি থেকে একটা রিপোর্ট সংগ্রহ করে হেড অফিসে জমা দেওয়ার জন্য৷ কোলিয়ারির ম্যানেজারের রিপোর্ট তৈরি করে রাখার কথা৷ সুনন্দ অফিসে তার উপরওয়ালার মুখ থেকে যতটুকু শুনেছে, তাতে সে জানতে পেরেছে যে, কোম্পানি সম্ভবত বন্ধ করে দেবে তাদের খনি৷

    হঠাৎই তার কানে এল একটা গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ৷ শব্দটা শুনে সুনন্দ ভালো করে ঠাওর করবার পর বুঝতে পারল, অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে রাস্তার পাশের মাঠের ভিতর দিয়ে একটা গাড়ি যেন এগিয়ে আসছে তাদের দিকে৷ গাড়িটায় কোনো আলো নেই, শুধু তার শব্দটা ক্রমশ এগিয়ে আসছে৷ শব্দটা কানে গিয়েছে সুনন্দর ড্রাইভারেরও, সে-ও উঠে দাঁড়িয়ে তাকাল সেদিকে৷ তারপর বলল, ‘মনে হয় একটা জিপ আসছে৷’

    গাড়ির ভিতর থেকে মুখ বাড়িয়ে এক ভদ্রলোক প্রশ্ন করলেন, ‘আপনারা কি ম্যাকেঞ্জি খনিতে যাওয়ার জন্য কলকাতা থেকে আসছেন?’

    তাঁর প্রশ্ন শুনে অবাক হয়ে গেল সুনন্দ৷ উত্তর দিল, ‘হ্যাঁ, আপনি?’

    গাড়ি থেকে নেমে পড়লেন ভদ্রলোক৷ তাঁর পরনে সাদা জামা-প্যান্ট৷ ভদ্রলোকের বয়স বছর পঞ্চাশ হবে৷ ভদ্রলোক সুনন্দকে নমস্কার করে বললেন, ‘আমি ম্যাকেঞ্জি কোলিয়ারির ম্যানেজার৷ কোম্পানির হেড অফিস থেকে তার পেয়েছি আপনি আসছেন৷ দেরি হচ্ছে দেখে আপনাকে খুঁজতে বেরিয়েছি৷’

    এই ভদ্রলোকের থেকেই সুনন্দর রিপোর্ট সংগ্রহ করার কথা৷ সুনন্দ ভদ্রলোকের কথা শুনে প্রতিনমস্কার জানিয়ে বলল, ‘আমি আগেই পৌঁছে যেতাম৷ আসলে দুর্গাপুরের কাছে একটা জ্যামে আটকে থাকতে হয়েছিল ঘণ্টা দুয়েক, তারপর এ পর্যন্ত এসে আবার গাড়িটা পাংচার হয়ে গেল৷’

    ভদ্রলোক বললেন, ‘এত দূর আসতে রাস্তায় নিশ্চয়ই আপনার খুব ধকল গিয়েছে৷ এদিকের রাস্তাঘাট তো বেশ ভাঙাচোরা৷’

    কথাটা ভুল বলেননি ভদ্রলোক৷ শেষ মাইল কুড়ি পথ আসতে আসতে সুনন্দর মনে হচ্ছিল, ঝাঁকুনিতে তার হাড়-পাঁজর যেন আলগা হয়ে যাচ্ছে৷ ভদ্রলোকের কথার জবাবে সুনন্দ বলল, ‘হ্যাঁ, একটু ধকল গেল৷’

    ভদ্রলোক বললেন, ‘আপনি বরং সামনের রাস্তাটুকু আমার জিপে চলুন৷ বেশিক্ষণের পথ নয়, মাত্র মিনিট পনেরো লাগবে৷’

    তাঁর কথা শুনে সুনন্দ তাকাল তার ড্রাইভারের দিকে৷ ড্রাইভার বলল, ‘আপনি ওঁর সঙ্গে চলে যান, আমি পৌঁছে যাব ওখানে৷’

    সুনন্দ ড্রাইভারকে বলল, ‘তুমি এই অন্ধকার রাস্তার মধ্যে গাড়ি নিয়ে একলা থাকবে নাকি! তার চেয়ে বরং গাড়িটা সারিয়ে নাও, তারপর এক সঙ্গেই যাওয়া যাবে৷’

    তার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গেসঙ্গেই সেই ভদ্রলোক বললেন, ‘ওর জন্য আপনার চিন্তা নেই, আমি একজন লোক এখানে রেখে যাচ্ছি৷’

    এই বলে তিনি ‘মংলু’ বলে একটা হাঁক দিতেই জিপের পিছন দিক থেকে নেমে এল একজন৷ লোকটি মনে হয় সাঁওতাল শ্রমিক গোছের, তার শরীরের কালো রং যেন মিশে গিয়েছে অন্ধকারের সঙ্গে৷ সে নীচে নেমে দাঁড়াবার পর তার ড্রাইভার বলল, ‘আপনি যান না, এরকম অন্ধকার রাস্তায় একলা থাকার অভ্যেস আমার আছে৷ তা ছাড়া ম্যানেজারসাহেব একজন লোক তো রেখেই যাচ্ছেন, আপনি ভাববেন না৷’

    যদিও ভদ্রলোক নিজেকে ম্যানেজার বলে পরিচয় দিচ্ছেন, আর সুনন্দর এই ভদ্রলোকের কাছ থেকেই রিপোর্টটা নেওয়ার কথা, কিন্তু ইনিই সত্যি সত্যি ম্যানেজার তো? অচেনা লোকের গাড়িতে চড়ে বসার আগে পরিচয় সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া দরকার৷ ভদ্রলোক বুঝতে পারলেন সুনন্দর মনের কথা৷ তিনি একটু হেসে সুনন্দকে বললেন, ‘এই অন্ধকার রাস্তার মাঝে হঠাৎ এসে হাজির হলাম বলে আপনি হয়তো ভাবছেন আমি সত্যিই ম্যানেজার কি না! আপনার ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করুন, ও আমাকে এর আগে দেখেছে৷’

    ড্রাইভার বলল, ‘হ্যাঁ স্যার, উনিই ম্যানেজারসাহেব৷ আগে যখন এখানে কোম্পানির সাহেবদের নিয়ে এসেছিলাম, তখন ওঁকে দেখেছি৷’

    সুনন্দ একটু লজ্জা পেল৷ সে ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, ‘ঠিক আছে, চলুন আপনার গাড়িতেই যাওয়া যাক৷’

    ভদ্রলোক মংলু নামের লোকটিকে সেখানে থেকে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে চেপে বসলেন জিপে৷ সুনন্দও তার নিজের গাড়ি থেকে ব্রিফকেসটা বের করে নিয়ে উঠে পড়ল জিপে৷ ভদ্রলোক চাবি ঘুরিয়ে গাড়ির ইঞ্জিন চালু করতেই গাড়িটা গোঁ-গোঁ শব্দ করে উঠল৷ গাড়ির মুখটা প্রথমে ঘুরে গেল, তারপর রাস্তা ধরে চলতে লাগল৷ গাড়িতে হেডলাইট নেই, সুনন্দ তাই প্রশ্ন করল, ‘লাইট ছাড়া আপনি গাড়ি চালাচ্ছেন কীভাবে?’

    ভদ্রলোক বললেন, ‘এ অঞ্চলের রাস্তাঘাট আমি হাতের তালুর মতো চিনি, অন্ধকারে তাই আমার কোনো অসুবিধে হয় না৷’

    সুনন্দ বলল, ‘আপনি নিশ্চয়ই অনেককাল আছেন এখানে?’

    ভদ্রলোক বললেন, ‘হ্যাঁ, অনেক দিন, তা প্রায় তিরিশ বছর হবে৷’

    সুনন্দর হঠাৎ খেয়াল হল ভদ্রলোকের নামটা এখনও পর্যন্ত জানা হয়নি৷ তাই বলল, ‘আচ্ছা আপনার নামটা কী?’

    ভদ্রলোক বললেন, ‘আমার নাম নীলমাধব মজুমদার৷ যদিও এ নামে আমাকে এখানে কেউ খুঁজে পাবে না৷ সকলেই আমাকে এখানে ম্যানেজারবাবু বলেই ডাকে৷ এ পরিচয়ের আড়ালে আমার আসল নামটাই হারিয়ে গিয়েছে৷’

    সুনন্দ কোনো কথা বলল না৷ বাইরের দিকে তাকিয়ে চুপচাপ বসে রইল৷ তার হঠাৎ চোখে পড়ল কিছুটা দূরে অন্ধকারে একটা রেখা যেন চিকচিক করছে৷ সুনন্দ প্রশ্ন করল, ‘ওটা কী?’

    গাড়ির স্টিয়ারিং ঘোরাতে ঘোরাতে নীলমাধব বললেন, ‘ওটাই হল দামোদর নদ, আমাদের খাদানের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে৷ খাদান কাকে বলে জানেন তো?’

    খাদান কয়লাখনির গর্তকে বলে সুনন্দ জানে সেটা৷ সে বলল, ‘হ্যাঁ বুঝি৷’

    টিলা থেকে নামতে শুরু করল জিপ৷ নীচে নেমে কিছু দূর এগোবার পরই সুনন্দ বুঝতে পারল তারা কোলিয়ারি অঞ্চলে ঢুকছে৷ মাঝে মাঝেই রাস্তার দু-পাশে ডাঁই করে রাখা আছে কয়লা, চোখে পড়ল বেশ কয়েকটা ওয়াগনও৷ কয়লার পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে কিছুটা এগিয়ে তারা ঢুকল একটা রাস্তায়৷ তার দু-পাশে খাপড়ার নীচু ছাদওয়ালা সার সার বাড়িঘর৷ মনে হয় শ্রমিকদের বস্তি৷ কিন্তু কোথাও কোনো আলো জ্বলছে না৷ লোকজনও চোখে পড়ছে না৷ মিনিট পাঁচেক চলার পর আবার বাঁক নিল গাড়ি৷ তারপর কয়লার স্তুপের মধ্যে দিয়ে আরও কিছুটা এগিয়ে গেল জিপটা৷ নীলমাধববাবু বললেন, ‘আমরা এসে গিয়েছি৷’

    ২

    গাড়ি থেকে ব্রিফকেসটা নিয়ে নেমে পড়ল সুনন্দ৷ নেমে পড়লেন নীলমাধববাবু৷ সামনেই দাঁড়িয়ে আছে বিরাট একটা পুরোনো আমলের বাড়ি৷ বাড়িটা দেখে সুনন্দর ধারণা হল, ভালো করে পরিচর্যা করা হয় না, বেশ কিছু ঝোপজঙ্গল জন্মে গিয়েছে বাড়ির চারপাশে৷ গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির দিকে এগোতে এগোতে নীলমাধববাবু বললেন, ‘সাহেবরা যখন প্রথম এখানে এসে খনি ব্যাবসা চালু করে, তখন এটাই ছিল খনির অফিসবাড়ি৷ এখন অবশ্য কয়েক বছর ধরে নতুন অফিসবাড়ি তৈরি হয়েছে তিন নম্বর খাদানের কাছে৷’

    সুনন্দ প্রশ্ন করল, তাহলে এ বাড়িটা?’

    সদর দরজার তালাটা খুলতে খুলতে নীলমাধববাবু বললেন, ‘আমি এ বাড়িটায় থাকি৷’

    ‘আপনি একলা থাকেন এখানে? আপনার ফ্যামিলি?’

    ভদ্রলোক বললেন, ‘সারা জীবন এই কয়লাখনির শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করতে করতেই সময় কেটে গেল, বিয়ে-থা আর আমার করা হয়নি৷ তাই বলতে পারেন ঠিক ফ্যামিলি বলতে যা বোঝায়, তা আমার নেই৷ খাদানে যে শ্রমিকরা কাজ করে, বলতে পারেন ওরাই আমার ফ্যামিলি৷’

    বাড়ির ভিতরটা অন্ধকার৷ দরজা খোলার পর নীলমাধববাবুর পিছন পিছন সুনন্দ একটা ঘর পেরিয়ে ঢুকল আর-একটা ঘরের মধ্যে৷ ঘরে ঢোকার পর একটা লন্ঠন জ্বালালেন৷ মৃদু আলো ছড়িয়ে পড়ল ঘরে৷ ঘরটা বেশ বড়ো, দেওয়ালের গায়ে দাঁড় করানো আছে সার সার লোহার আলমারি, সেলফ৷ তার মধ্যে গাদা করে রাখা আছে পুরোনো কাগজপত্র, ছেঁড়া ফাইল ইত্যাদি৷ ঘরের ঠিক মাঝখানে রাখা আছে একটা বড়ো টেবিল৷ তার এক পাশে একটা পুরোনো গদি-লাগানো চেয়ার, অন্য পাশে কয়েকটা হাতলওয়ালা কাঠের চেয়ার৷ টেবিলের উপর রাখা আছে কিছু ফাইলপত্র, পেপার ওয়েট, কলমদানি ইত্যাদি৷ লন্ঠনটা টেবিলে রেখে সুনন্দকে একটা চেয়ারে বসতে বলে, গদি দেওয়া চেয়ারটায় বসলেন নীলমাধববাবু৷ সুনন্দও ব্রিফকেসটা টেবিলের উপর রেখে একটা চেয়ারে নীলমাধববাবুর মুখোমুখি বসল৷ লন্ঠনের আলোয় সুনন্দ দেখতে পেল নীলমাধববাবুর মুখটা৷ তার চেয়ে তাঁর বয়স কিছুটা বেশি হবে বলে মনে হল সুনন্দর৷ তাঁর মাথার চুল পাতলা হয়ে এসেছে, সাদা ছোপ লেগেছে গোঁফে৷ তবে তাঁর মেদহীন শরীর দেখে মনে হল, ভদ্রলোক এখনও যথেষ্ট পরিশ্রম করেন৷ আরও একটা ব্যাপার লক্ষ করল সুনন্দ, ভদ্রলোকের চোখ-মুখের ভাব কেমন যেন বিষণ্ণ৷

    চেয়ারে বসার পর সুনন্দ কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে চলে গেল কাজের কথায়৷ নীলমাধববাবুকে বলল, ‘যে রিপোর্টটা আমার হাতে আপনার দেওয়ার কথা সেটা তৈরি তো? কাল বিকেলের মধ্যেই কিন্তু রিপোর্টটা আমাকে হেড অফিসে জমা দিতে হবে৷’

    নীলমাধববাবু বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি তৈরি করে রেখেছি৷’ এর পর তিনি টেবিলের একটা ড্রয়ার থেকে রেক্সিনমোড়া একটা কভার ফাইল বের করে এগিয়ে দিলেন সুনন্দর দিকে৷

    সুনন্দ ফাইলটা খুলল৷ একগোছা টাইপ করা কাগজপত্র রাখা আছে৷ কাগজপত্রগুলো অবশ্য কী, তা দেখার কোনো দরকার নেই সুনন্দর৷ তার উপর শুধু নির্দেশ আছে, ম্যানেজারের কাছ থেকে কাগজপত্রগুলো নিয়ে হেড অফিসে জমা দেওয়ার৷ ব্যস, ওই পর্যন্তই তার কাজ৷ তাই ফাইলটা আবার বন্ধ করে ফেলল সে৷ নিজের ব্রিফকেসে ফাইলটা রেখে দেওয়ার পর সুনন্দ তাকাল নীলমাধববাবুর দিকে৷ সুনন্দর আসল কাজ চট করে শেষ হয়ে গেল৷ এখন রাতে তার মাথা গোঁজার ব্যবস্থা কোথায় হয়েছে জেনে নিতে হবে নীলমাধববাবুর কাছ থেকে৷

    নীলমাধববাবু বললেন, ‘আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করব?’

    সুনন্দ বলল, ‘করুন৷’

    নীলমাধববাবু জিজ্ঞেস করলেন, ‘কোম্পানি কি খাদান বন্ধ করে দেবে?’

    তাঁর প্রশ্নের কী উত্তর দেবে ঠিক বুঝতে পারল না সুনন্দ৷ এ ব্যাপারটা সেও শুনেছে৷ তবে তার সত্যতা কতটা তা সুনন্দর জানা নেই৷ সবটাই শোনা কথা৷ তাই বলল, ‘কী জানি, সবই তো মালিকদের ব্যাপার৷’

    নীলমাধববাবু বিষণ্ণ হেসে বললেন, ‘আমি কিন্তু বুঝতে পারছি খাদান বন্ধ হয়ে যাবে, সে জন্যই রিপোর্টটা চেয়ে পাঠিয়েছে ওরা৷’ একটু থেমে নীলমাধববাবু প্রশ্ন করলেন, ‘আচ্ছা বলতে পারেন, খাদান যদি সত্যি সত্যি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে শ্রমিকদের কী হবে? এখানকার মাটি তো কালো পাথর, দিনের বেলায় বাতাস আগুন ছড়ায়, চাষবাস হয় না৷ খাদানের পারিশ্রমিকের উপর নির্ভর করেই বেঁচে আছে মানুষগুলো৷ কী হবে ওদের?’

    কথাগুলো অন্ধকার রাস্তায় দাঁড়িয়েও মনে এসেছিল সুনন্দর৷ সে বলল, ‘আপনি ওদের কথা খুব ভাবেন, তাই না?’

    নীলমাধববাবু বললেন, ‘হ্যাঁ, ওরাই তো আমার সবকিছু৷ ওদের নিয়েই তো জীবনটা কাটিয়ে দিলাম৷’

    সুনন্দ চুপ করে রইল৷ এ প্রসঙ্গে আর কিছু আলোচনা করা উচিত কি না বুঝে উঠতে পারল না৷

    আবার মুখ খুললেন নীলমাধববাবু৷ সুনন্দর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আপনি আমার একটা কাজ করে দেবেন?’

    তাঁর গলায় অনুরোধের স্পষ্ট সুর বুঝতে পারল সুনন্দ৷ জিজ্ঞেস করল, ‘বলুন, সম্ভব হলে করব৷’

    নীলমাধববাবু বললেন, ‘একটা কাগজ আপনাকে পৌঁছে দিতে হবে হেড অফিসে৷ একটা ক্ষতিপূরণের ব্যাপার আছে৷ খাদান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে যদি কাগজটা হেড অফিসে পৌঁছোনো যায়, তা হলে কিছু গরিব মানুষ আর ক-টা দিন হয়তো বাঁচতে পারে৷’

    সুনন্দ বলল, ‘ঠিক আছে, কাগজটা আপনার নাম করে হেড অফিসে জমা দিয়ে দেব৷’

    তার কথা শুনে ম্লান হাসি ফুটে উঠল নীলমাধববাবুর মুখে৷ তিনি বললেন, ‘ধন্যবাদ, খুব উপকার করবেন আপনি৷ কিন্তু কাগজটা তো এখানে নেই, অন্য জায়গায় আছে৷ আপনি কোনোদিন খাদান দেখেছেন?’

    সুনন্দ বলল, ‘না৷’

    নীলমাধববাবু বললেন, ‘দেখবেন নাকি খাদান? আপনাকে যে কাগজটা দেব সেটা সাত নম্বর খাদানের ভিতর রাখা আছে৷ চলুন, আপনার খাদান দেখাও হবে আর একা একা বসে থাকতেও হবে না৷’

    সুনন্দ অবাক হয়ে বলল, ‘রাতেও খাদানে কাজ হয় নাকি?’

    নীলমাধববাবু বললেন, ‘সব সময় না হলেও কোনো কোনো সময় হয়৷ এই মুহূর্তে তিরিশ জন শ্রমিক রয়েছে সেখানে৷’

    সে বলল, ‘ঠিক আছে চলুন, কিন্তু আমার গাড়িটা এখনও এল না৷’

    নীলমাধববাবু বললেন, ‘চিন্তা করবেন না, গাড়ি ঠিক চলে আসবে৷’

    ৩

    বাড়ির বাইরে বেরিয়ে সুনন্দ দেখতে পেল, চাঁদ ঢেকে গিয়েছে মেঘের আড়ালে৷ চারদিক অন্ধকার৷ আকাশের কোণে একবার বিদ্যুতের ঝিলিক চোখে পড়ল তার, হয়তো বৃষ্টি নামবে৷ অন্ধকার রাস্তায় সুনন্দকে নিয়ে হাঁটতে শুরু করে নীলমাধববাবু বললেন, ‘দেখবেন খনির ভিতর কী অসম্ভব পরিশ্রম করে শ্রমিকরা৷’

    অন্ধকারের মধ্যে মিনিট পাঁচেক চলার পর সুনন্দ যেখানে এসে হাজির হল, তার চারদিক ছোটো-বড়ো কয়লার পাহাড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে৷ একপাশে রাখা আছে সার সার ট্রলি৷ ওতেই কয়লা নীচ থেকে রেল লাইনের মতো লাইনের উপর দিয়ে ঠেলতে ঠেলতে উপরে আনা হয়৷ কাছেই একটা বড়ো ওয়াচটাওয়ার অন্ধকারে ভূতের মতো মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে৷ সামনেই একটা জায়গা উঁচু জাল দিয়ে ঘেরা৷ টর্চ জ্বাললেন নীলমাধববাবু৷ জালে ঘেরা জায়গাটার ভিতর ঢোকার জন্য একটা দরজা মতো আছে৷ সুনন্দ দেখল তার মাথার উপর লটকানো একটা টিনের সাইনবোর্ডে হিন্দিতে লেখা আছে ‘সাত নম্বর খাদান, ম্যাকেঞ্জি কোলিয়ারি’৷ জালে ঘেরা জায়গাটায় ঢোকার পর নীলমাধববাবু বললেন, ‘এ খাদানে লিফট নেই, পায়ে হেঁটে নামতে হবে৷ তবে আপনার কোনো ভয় নেই৷’ এই বলে তিনি টর্চের আলো ফেললেন সামনের জমির উপর৷

    সুনন্দ দেখতে পেল বিরাট একটা গহ্বর হাঁ করে আছে সেখানে৷ রেল লাইনের মতো ট্রলির লাইন এগিয়ে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছে সেই অন্ধকার গহ্বরের মধ্যে৷ নীলমাধববাবু টর্চ জ্বালিয়ে ঢুকলেন গহ্বরের মধ্যে, পিছনে সুনন্দ৷ ঢালুপথ ক্রমশ নীচের দিকে নেমে গিয়েছে৷ নামতে নামতে নীলমাধববাবু জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার কি ভয় করছে?’

    মনের ভিতর একটু ভয় ভয় করলেও সুনন্দ মুখে বলল, ‘না৷’

    আনুমানিক চার-পাঁচ-তলা বাড়ির সমান নীচে নামার পর যেন আলোক রেখা চোখে পড়ল সুনন্দর৷ অস্পষ্ট শব্দও যেন কানে আসতে লাগল৷ আর-একটু নীচে নেমে সুনন্দ হাজির হল একটা প্রায় সমতল জায়গায়৷ সে জায়গাটা ঠিক যেন নীচু ছাদওয়ালা বিরাট হলঘরের মতো৷ সেখানে দেওয়ালের গায়ে হলদেটে আলো জ্বলছে৷ লম্বা ধরনের ঘরটার শেষ প্রান্ত থেকে ভেসে আসছে ঠক ঠক শব্দ৷ কালো কয়লার দেওয়ালে গাইতি চালাচ্ছে শ্রমিকরা৷ নীলমাধববাবুর সঙ্গে সুনন্দ এগিয়ে গিয়ে দাঁড়াল৷ বেশ কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছে সেখানে৷ ওখানে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকটা সুড়ঙ্গও চোখে পড়ল সুনন্দর৷ তার ভিতর থেকেও গাঁইতি চালানোর ঠক ঠক শব্দ ভেসে আসছে৷ ঠিক যেন যন্ত্রের মতো কাজ করে চলেছে লোকগুলো৷ খনির ভিতর জ্বলতে থাকা ঘোলাটে আলোয় মনে হচ্ছে তারা যেন ঠিক মানুষ নয়, কালো ছায়ামূর্তি৷ কয়েক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার পর নীলমাধববাবু বললেন, ‘দেখছেন তো কত পরিশ্রম করে ওরা!’

    সুনন্দ বলল, ‘হ্যাঁ, সত্যিই অমানুষিক পরিশ্রম!’

    নীলমাধববাবু তারপর বললেন, ‘আসুন, কাজটা সেরে ফেলি৷’ এই বলে তিনি এগিয়ে গেলেন ঘরের একটা কোণের দিকে৷ সেখানে একটা অতি সাধারণ কাঠের টেবিল আর দুটো চেয়ার রাখা আছে৷ একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসলেন তিনি৷ সুনন্দও বসল একটা চেয়ারে৷ টেবিলের উপর একটা বাতি আর-একটা মোটা খাতা রাখা আছে৷ নীলমাধববাবু চেয়ারে বসে খাতাটা টেনে নিয়ে বললেন, ‘এটা হল হাজিরা খাতা, এখন যারা কাজ করছে তাদের নাম, ঠিকানা লেখা আছে৷’ এই বলে কাগজ, কলম বের করে খাতা থেকে কয়েকটি নাম-ঠিকানা টুকতে থাকলেন৷ সুনন্দ তাকিয়ে রইল তাঁর দিকে৷

    হঠাৎ পায়ের পাতায় কীসের স্পর্শ অনুভব করল সুনন্দ৷ নীচের দিকে তাকিয়ে সে দেখতে পেল, হঠাৎই যেন ঘরের মেঝেটা ইঞ্চি খানেক জলে ডুবে গিয়েছে৷ একটু আগেই তো মেঝেটা শুকনো খটখটে ছিল! তা হলে জল এল কোথা থেকে? পা-টা একটু উঠিয়ে বসল সুনন্দ৷ এক মনে লিখে চলেছেন নীলমাধববাবু৷ কয়েক মুহূর্ত পরই সুনন্দর মনে হল, আবার যেন জল ছুঁয়ে যাচ্ছে তার পা৷ হ্যাঁ সত্যিই, জল যেন কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই আরও ইঞ্চি খানেক উপরে উঠে এসেছে৷ নীলমাধববাবুর কোনো ভাবান্তর নেই৷ সুনন্দ দেখতে পেল টেবিলের নীচে নীলমাধববাবুর গোড়ালি পর্যন্ত জলে ডুবে গিয়েছে৷

    এবার সে বাধ্য হয়েই নীলমাধববাবুকে বলল, ‘এ কী, এত জল এসে গেল কীভাবে? আমার পা তো জলে ভিজে যাচ্ছে!’

    নীলমাধববাবু লিখতে লিখতে বললেন, ‘দামোদরের জল৷’

    সুনন্দ তাকিয়ে রইল নীলমাধববাবুর দিকে৷ কয়েক মুহূর্ত পর লেখা শেষ করে নীলমাধববাবু যখন উঠে দাঁড়ালেন, তখন জল আরও উপরে উঠে গিয়েছে৷ নীলমাধববাবু তাঁর কাগজটা হাতে নিয়ে বললেন, ‘ব্যস, কাজ শেষ, চলুন, ফেরা যাক৷’

    জল ভেঙে উপরে উঠছেন নীলমাধববাবু৷ তাঁর পিছন পিছন সুনন্দ৷ পথের মুখটায় একবার পিছনের দিকে ফিরে তাকাল সুনন্দ৷ ঘরের যেদিকে লোকগুলো কাজ করছে সেদিকটা বেশি ঢালু৷ সুনন্দ দেখতে পেল, তাদের হাঁটুর উপর পর্যন্ত ডুবে গিয়েছে জলে৷ তাদের ভ্রূক্ষেপ নেই, আগের মতোই গাইতি চালিয়ে যাচ্ছে তারা৷ প্রতি মুহূর্তেই জল যে বেড়ে চলেছে তা বুঝতে অসুবিধে হল না সুনন্দর৷ নীলমাধববাবুর পিছনে উঠতে উঠতে সুনন্দ বলল, ‘ঘরটা যে জলে ভরে গেল, লোকগুলো কি এখনও কাজ করবে?’

    কোনো উত্তর দিলেন না নীলমাধববাবু৷ চুপচাপ উঠতে লাগলেন৷ কয়েক মুহূর্ত পর সুনন্দ জিজ্ঞেস করল, ‘আপনাদের খাদানের জল বাইরে বের করার জন্য পাম্পের ব্যবস্থা নেই?’

    একটা অদ্ভুত হাসি হেসে জবাব দিলেন নীলমাধববাবু, ‘আছে, আছে৷ কিন্তু গোটা দামোদরটাকে তো আর পাম্প দিয়ে শুষে নেওয়া যায় না!’ এর পর একটু চুপ করে থেকে তিনি বললেন, ‘একটু দ্রুত পা চালাতে হবে৷ এখনই তো জল আমাদের পিছু ধাওয়া করবে৷’

    সুনন্দ অবাক হয়ে বলল, ‘মানে?’

    কোনো উত্তর দিলেন না নীলমাধববাবু৷ তিনি যেন বাতাসের বেগে উপরে উঠতে লাগলেন৷ তাঁর পিছন পিছন প্রায় ছুটতে শুরু করল সুনন্দ৷ আর তার মনে হতে লাগল, তাদের পিছন পিছন আরও কী একটা যেন উপর দিকে উঠে আসছে৷ কয়েক মিনিটের মধ্যেই খাদানের মুখটার ঠিক বাইরে বেরিয়ে এল সুনন্দ৷ বাইরে তখন শুরু হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টি৷ তাঁরা দু-জনের সঙ্গেসঙ্গে ভিজে গেলেন৷ বৃষ্টির মধ্যেই দাঁড়িয়ে নীলমাধববাবুর দিকে তাকিয়ে হাঁফাতে লাগল সুনন্দ৷ খনির ভিতর জলের ব্যাপারটা, আর কেন ঝড়ের বেগে নীলমাধববাবু উপরে উঠলেন, তা ঠিক বোধগম্য হচ্ছিল না সুনন্দর৷ কয়েক মুহূর্ত সুনন্দর দিকে তাকিয়ে থাকার পর নীলমাধববাবু টর্চ আর তাঁর কাগজটা হাতে দিয়ে বললেন, ‘আপনাকে অনেক কষ্ট দিলাম, কাগজটা কিন্তু দয়া করে পৌঁছে দেবেন৷ আমি এবার যাই!’

    সুনন্দ অবাক হয়ে বলল, ‘কোথায়?’

    নীলমাধববাবু বললেন, ‘এত দিন যাদের সঙ্গে কাটালাম তাদের কাছে৷’

    সুনন্দ কিছু বুঝে ওঠার আগেই নীলমাধববাবু ঢুকলেন খাদানের অন্ধকার গহ্বরে৷ ঠিক সেই সময় কাছেই কোথাও যেন প্রচণ্ড শব্দে বাজ পড়ল৷ চমকে উঠল সুনন্দ৷ বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে সে চিৎকার করে বলল, ‘নীলমাধববাবু শুনুন, এভাবে আপনি কোথায় যাচ্ছেন?’

    তার কথার কোনো উত্তর এল না৷ সুনন্দ টর্চটা জ্বালিয়ে আলো ফেলল খাদানের ভিতর৷ সে দেখতে পেল, জল প্রায় খাদানের মুখ পর্যন্ত উঠে এসেছে৷ মুহূর্তের জন্য একবার যেন নীলমাধববাবুকে দেখতে পেল সুনন্দ, আর তার পরেই তিনি নিমেষে হারিয়ে গেলেন জলপূর্ণ খাদানের গভীরে৷ সুনন্দ চিৎকার করে উঠল, ‘নীলমাধববাবু . . .!’ আর তার পরেই জ্ঞান হারাল সুনন্দ৷

    পরদিন সকালে কোলিয়ারির রেস্টরুমের বিছানায় জ্ঞান ফেরার পর সুনন্দ যখন উঠে বসল তখন সে দেখতে পেল, তার বিছানার সামনে দাঁড়িয়ে আছে তারই গাড়ির ড্রাইভার ও আর-একজন সাদা জামা-প্যান্ট পরা ভদ্রলোক৷ সেই ভদ্রলোক নিজেকে কোলিয়ারির ম্যানেজার বলে পরিচয় দিয়ে বললেন, ‘কী মশাই, আপনি সাত নম্বর খাদানের কাছে চলে গিয়েছিলেন কীভাবে! আপনার ড্রাইভার আর আমি অনেক খোঁজার পর আপনাকে পেয়েছি৷’

    তাঁর কথা শুনে সুনন্দ বলল, ‘আপনি ম্যানেজার৷ তাহলে নীলমাধববাবু?’

    তার কথা শুনে একটু চুপ করে থাকার পর ভদ্রলোক বললেন, ‘নীলমাধববাবুর সঙ্গে আপনার পরিচয় ছিল বুঝি? কিন্তু তিনি আর এখন নেই৷’

    ‘নেই মানে?’ সুনন্দ আবার জিজ্ঞেস করল৷

    ভদ্রলোক বললেন, ‘ঘটনাটা হয়তো আপনার জানা নেই৷ মাস তিনেক আগে গার্ড-ওয়াল ভেঙে দামোদরের জল এক রাতে ঢুকে পড়ে সাত নম্বর খাদানে৷ নীলমাধববাবু আর জনাতিরিশেক লোক তখন কাজ করছিলেন৷ তাঁরা কেউই আর বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেননি৷ সকলেরই সলিল সমাধি ঘটে৷ নীলমাধববাবুর পর আমি ম্যানেজারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি৷’

    এর পর ভদ্রলোক সুনন্দকে বললেন, ‘আপনি এখানে বিশ্রাম নিন৷ আপনার রিপোর্টটা তৈরি আছে৷ আমি অফিস থেকে সেটা নিয়ে আসছি৷’ বলে ভদ্রলোক ঘর ছেড়ে তড়িঘড়ি বেরিয়ে গেলেন৷

    কয়েক মুহূর্ত চুপচাপ বিছানায় বসে থাকার পর সুনন্দ সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তার ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করল, ‘মংলু বলে যে লোকটাকে কাল রাতে ম্যানেজারবাবু গাড়ি থেকে তোমার কাছে নামিয়ে দিয়েছিলেন, সে কোথায় গেল?’

    ‘আপনারা চলে যাওয়ার পর তার দেখা আমি আর পাইনি৷’ বলল ড্রাইভার৷ এর পর সে পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে সুনন্দর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘এ কাগজটা নিন, আপনার হাতে ছিল কাগজটা৷’

    কাগজটা হাতে নিয়ে সেটা খুলল সুনন্দ৷ তার মধ্যে লেখা আছে একটা নামের তালিকা৷ সে তালিকার মধ্যে মংলু বলেও একটা নাম আছে৷ আর তালিকার নীচে আছে একটা সই, নীলমাধব মজুমদার, ম্যানেজার, ম্যাকেঞ্জি কোলিয়ারি৷ কাগজটা যত্ন করে পকেটে রেখে দিল সুনন্দ৷ এ কাগজটা তাকে হেড অফিসে জমা দিতে হবে৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসূর্যমন্দিরের শেষ প্রহরী – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সূর্যমন্দিরের শেষ প্রহরী – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }