Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আঁধার রাতের বন্ধু – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প113 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জগবন্ধুর হারমোনিয়াম

    অনেকদিন ধরেই জগবন্ধু একটা হারমোনিয়াম কিনবেন বলে ভাবছিলেন, জগবন্ধু যে গানবাজনা করেন তা কিন্তু নয়, তবে ওসব শুনতে তাঁর খুব ভালো লাগে৷ মাঝে মাঝে হয়তো গুনগুন করে কোনো গানের কয়েক কলি আনমনে গেয়েও ফেলেন তিনি৷

    একদিন যখন অফিস ছুটির সময় জগবন্ধু এরকম গুনগুন করছিলেন, তখন সরখেলদা পিছন থেকে এসে পিঠ চাপড়ে বললেন, ‘বাঃ, জগবন্ধু তোমার গানের গলাটা তো মন্দ নয়৷ একটা হারমোনিয়াম কিনে বাড়িতে রেওয়াজ করলে তো পারো৷ একলা মানুষ, এতে তোমার সময়ও কেটে যাবে৷’

    তার কথা শুনে জগবন্ধু লাজুক হেসে বলেছিলেন, ‘কী যে বলেন দাদা, আমার গলা শুনে হয়তো লোকে বাড়িতে ঢিল ছুড়বে৷’

    জগবন্ধু মুখে যাই বলুন না কেন, সরখেলদার কথাটা কিন্তু মনে ধরেছিল তাঁর৷ কিন্তু হারমোনিয়াম আর কেনা হয়ে উঠছিল না৷

    সেদিন শনিবার৷ এমনিতেই অফিস হাফ ছুটি, তার ওপর টিভিতে ভারত-পাকিস্তানের ওয়াড-ডে৷ তাই অফিস আজ শুনশান৷ অফিস ছুটি হওয়ার কিছু আগেই বেরিয়ে পড়েছিলেন জগবন্ধু৷ হাঁটতে হাঁটতে নিউ মার্কেটের মধ্যে দিয়ে ফেরবার সময় হঠাৎই চোখে পড়ে গেল দোকানটা৷ সাইনবোর্ডে লেখা আছে-ইসমাইল কনসার্ট, এখানে পুরাতন বাদ্যযন্ত্র ক্রয়-বিক্রয় করা হয়৷

    সাইনবোর্ড চোখে পড়তেই জগবন্ধুর মনের ইচ্ছাটা মাথা চাড়া দিয়ে উঠল৷ সেদিন পকেটে বেশ কিছু বাড়তি টাকাও ছিল৷ জগবন্ধু ঢুকে পড়লেন দোকানের ভিতরে৷ দোকানদার একজন হাসিখুশি মধ্যবয়সি মানুষ৷ জগবন্ধু হারমোনিয়ামের কথা বলতেই পাশের একটা ঘরে নিয়ে গেলেন তাঁকে৷ সেই ঘরে নানা ধরনের হারমোনিয়াম রাখা আছে৷

    বেশ কয়েকটা হারমোনিয়াম দেখবার পর শেষে একটা পছন্দ হল জগবন্ধুর৷ সেটা কিন্তু অন্যগুলোর চেয়ে ছোটো আকারের৷ অনেকটা, বৈষ্ণবরা যে-হারমোনিয়াম গলায় ঝুলিয়ে নামসংকীর্তন করে সেই ধরনের৷ জিনিসটা খুব হালকাও, বাক্সের ভিতর ভরা থাকলে অনায়াসে হাতে ঝুলিয়ে বাড়ি নিয়ে যাওয়া যায়৷ দোকানদারকে জিনিসটার দাম মিটিয়ে দিয়ে পথে নেমে একটা ট্যাক্সি ধরলেন জগবন্ধু৷ তারপর শিয়ালদা থেকে ট্রেন ধরে, ঘণ্টা দুয়েক পরে যখন নিজের স্টেশনে নামলেন তখন বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে৷

    স্টেশন থেকে জগবন্ধুর বাড়ি বেশ কিছুটা দূরে৷ হেঁটে যেতে মিনিট চল্লিশ সময় লাগে৷ হারমোনিয়ামটা হাতে ঝুলিয়ে যখন তিনি স্টেশনের বাইরে রিকশা স্ট্যান্ডে উপস্থিত হলেন তখন স্ট্যান্ডে একটাও রিকশা দেখতে পেলেন না৷ বোধ হয় তারাও আজ কোথাও খেলা দেখতে বসে গেছে৷ অগত্যা হারমোনিয়ামের বাক্সটা হাতে ঝুলিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা লাগালেন জগবন্ধু৷ বাড়ির সামনে যখন তিনি পৌঁছোলেন তখন সাতটা বাজতে চলেছে৷ সামনেই পুজো আসছে৷ বাতাসেও যেন তার একটা আমেজ৷ তাই হারমোনিয়ামের বাক্সটা নিয়ে এতটা পথ হেঁটে আসলেও কোনো ক্লান্তি বোধ হল না জগবন্ধুর৷

    বাড়ির ঠিক সামনের ল্যাম্পপোস্টটার নীচে এসে প্রতিদিনের মতো একটু দাঁড়ালেন তিনি৷ তারপর পকেট থেকে চাবি বের করে বাড়ির ভিতরে ঢুকলেন জগবন্ধু৷ বাড়িটা জগবন্ধুর ঠাকুরদার আমলের, ওপর-নীচ মিলিয়ে গোটা আষ্টেক ঘর৷ অনেকেই জগবন্ধুকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, একলা এত বড়ো বাড়িতে না থেকে অন্তত নীচের তলাটায় একটা ভাড়াটে বসিয়ে দিতে৷ কিন্তু জগবন্ধুর মন সায় দেয়নি তাতে৷ একলা দিব্যি আছেন তিনি৷ কত টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে বসিয়ে নিজের শান্তিভঙ্গ করতে তিনি মোটেই রাজি নন৷

    একলা থাকতে তাঁর কোনো অসুবিধাই হয় না৷ প্রতিদিন সকালে গোপালের মা এসে বাড়ি ঘরদোর পরিষ্কার করে রান্না করে দিয়ে যায়৷ রোজ সকাল ন-টার সময় অফিস যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরোবার আগে রাতের ভাত-ডাল-তরকারি ফ্রিজের মধ্যে ঢুকিয়ে রেখে যান, ফলে রাতে ফিরে রান্নাবান্নার ঝঞ্ঝাট আর পোহাতে হয় না জগবন্ধুকে৷

    সেদিন রাতে বাড়ি ফিরে এসে তাড়াতাড়ি খেয়েদেয়ে শুয়ে পড়লেন জগবন্ধু৷ কাল রবিবার, সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে সপ্তাহের বাজারটা সেরে ফেলতে হবে৷ বিছানায় শোওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই চোখে ঘুম নেমে এল৷

    মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল জগবন্ধুর৷ তাঁর কেন জানি মনে হতে লাগল কোথা থেকে একটা হারমোনিয়ামের মিষ্টি সুর ভেসে আসছিল এতক্ষণ৷ ঘুম ভাঙার সঙ্গেসঙ্গেই সেটা হারিয়ে গেল৷ সেই সুরের রেশ কিন্তু এখনও জগবন্ধুর কানে বাজছে৷ বিছানা থেকে নেমে আলোটা জ্বালালেন তিনি৷ খাটের পাশে টেবিলের ওপর হারমোনিয়ামটা রাখা আছে৷ তার পাশে রাখা ঢাকা দেওয়া জলের গ্লাসটা তুলে নিয়ে এক গ্লাস জল খেলেন তিনি৷ তারপর আলো নিভিয়ে আবার শুয়ে পড়লেন৷

    পরদিন ভোরে উঠে চোখমুখ ধুয়ে, চা খেয়ে হাতে বাজারের থলে নিয়ে বাজারের দিকে পা বাড়ালেন জগবন্ধু৷ কিছুদূর যাওয়ার পর দেখলেন তাঁর পাড়ার গোপীনাথবাবু বাজার করে ফিরছেন৷ গোপীনাথবাবুকে তিনি একটু এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন৷ কারণ গোপীনাথবাবু একবার কথা বলতে শুরু করলে আর থামতে চান না৷ তা ছাড়া বৃদ্ধ গোপীনাথবাবুর সব কিছুতেই ব্যাপক কৌতূহল৷ আজ একেবারে সামনাসামনি পড়ে গেলেন৷ জগবন্ধুকে দেখতে পেয়েই গোপীনাথ বললেন, ‘কী হে জগবন্ধু, কাল রাতে দেখলাম তুমি একটা বাক্স নিয়ে বাড়ি ফিরলে, কোথাও বেড়াতে গিয়েছিলে বুঝি?

    জগবন্ধু উত্তর দিলেন, ‘না কোথাও যাইনি৷ হাতে একটা হারমোনিয়ামের বাক্স ছিল৷’

    গোপীনাথ আবার প্রশ্ন করলেন, ‘তা তোমার সঙ্গের লোকটি কে ছিল? তাকে তো আগে কখনো দেখিনি৷’

    জগবন্ধু বললেন, ‘কই, আমার সঙ্গে তো কেউ ছিল না৷’

    জগবন্ধুর কথা শুনে গোপীনাথ আশ্চর্য হয়ে বললেন, ‘সে কী হে! কাল স্পষ্ট দেখলুম-তুমি যখন বাক্স হাতে বাড়ি ফিরলে, তখন তোমার পেছন পেছন একজন লোক এল, তুমি যখন ল্যাম্পপোস্টের তলায় দাঁড়ালে সেও তখন তোমার পেছনে গিয়ে দাঁড়াল৷ তারপর তুমি যখন দোর খুলে ভিতরে ঢুকলে, সেও তোমার সঙ্গে ভিতরে ঢুকে গেল৷ আর তুমি বলছ কিনা তোমার সঙ্গে কেউ ছিল না! দেখো জগবন্ধু, আমি বুড়ো হয়েছি ঠিকই, চোখে আমার চশমাও আছে, তা বলে এতটা ভুল দেখার মতন অবস্থা আমার এখনও হয়নি৷’

    এই বলে গজগজ করতে করতে বাড়ির পথ ধরলেন গোপীনাথবাবু৷ ওনার কথার কোনো মাথামুণ্ডু বুঝতে না পেরে এরপর জগবন্ধুও এগোলেন বাজারের দিকে৷

    দুপুর বেলা খাওয়া-দাওয়া সেরে টেবিলের ওপর থেকে হারমোনিয়ামটা নিয়ে পাশের ঘরের তক্তপোশে গিয়ে বসলেন জগবন্ধু৷ হারমোনিয়ামটার বেশ বয়স হয়েছে বোঝা যায়৷ তার জায়গায় জায়গায় পালিশ উঠে গেছে৷ বহু ব্যবহারে ফলে রিডগুলো স্থানে স্থানে কিছুটা খয়েরি রঙের হয়ে গেছে৷ হারমোনিয়ামটা যে এত পুরোনো তা কাল দোকানের আলো-আঁধারের মধ্যে জগবন্ধু ঠিক বুঝতে পারেননি৷ তাই এখন হারমোনিয়ামটা দেখে কিছুটা মুষড়ে পড়লেন৷ ক্লিপ থেকে বেলোটা খুললেন তিনি৷ অমনি একটা হালকা মিষ্টি গন্ধ এসে নাকে লাগল৷ তারপর রিডের ওপর হাত বোলাতেই যেন সুরের রামধনু খেলে গেল ঘরের ভিতর৷ জগবন্ধু অবাক হয়ে গেলেন তাই শুনে৷ এত মিষ্টি শব্দ যে এর থেকে হতে পারে, তা ভাবতে পারেননি তিনি৷

    ছোটোবেলায় তাঁর মামাবাড়িতে একটা হারমোনিয়াম ছিল৷ একবার সেখানে মার সঙ্গে গিয়ে সা-রে-গা-মা-টা শিখেছিলেন তিনি৷ দু-একবার চেষ্টা করার পর তিনি দেখলেন সেটা এখনও ভোলেননি৷ সারা দুপুরটা মেতে রইলেন হারমোনিয়ামটা নিয়ে৷

    আস্তে আস্তে বিকাল হয়ে গেল৷ জগবন্ধুর আবার আজ একটা বিয়ের নিমন্ত্রণ আছে নৈহাটিতে৷ তাই তিনি হারমোনিয়ামটা বন্ধ করে উঠে পড়লেন৷

    রাত দশটা নাগাদ নিমন্ত্রণ খেয়ে জগবন্ধু যখন রিকশা থেকে পাড়ার মোড়ে নামলেন, তখন দেখলেন সামনের একটা দোকানে বারোয়ারি পুজো কমিটির ছেলেগুলো আড্ডা মারছে৷ তাদের দেখে জগবন্ধুর মনে পড়ল আজ তাদের চাঁদার টাকাটা দেবেন বলে কথা দিয়েছিলেন৷ টাকাটা দেওয়ার জন্য তিনি এগিয়ে গেলেন তাদের দিকে৷ চাঁদাটা দিয়ে তিনি যখন তাঁর বাড়ির দিকে এগোতে যাচ্ছেন, ছেলেদের মধ্যে একজন বলে উঠল, ‘দাদা যে সংগীত সাধনা করেন, তা তো আমাদের জানা ছিল না৷ এবার আমাদের পূজামণ্ডপে আপনাকেও গাইতে হবে কিন্তু৷’

    জগবন্ধু ভাবলেন আজ দুপুর বেলা যখন তিনি হারমোনিয়াম নিয়ে বসেছিলেন, তখন হয়তো তারা বাড়িতে গিয়েছিল৷ নীচ থেকে তাদের ডাক হয়তো তিনি শুনতে পাননি৷ এই ভেবে জগবন্ধু তাদের বললেন, ‘ও, দুপুর বেলা তোমরা আমরা বাড়িতে গিয়েছিলে বুঝি? আসলে আমি তো ওপরের ঘরে বসে বাজাচ্ছিলাম, তাই তোমাদের ডাক শুনতে পাইনি৷’

    জগবন্ধুর কথা শুনে ছেলেটা বলল, ‘না না, দুপুর বেলায় নয়, সন্ধ্যা নামার একটু পরেই আমরা আপনার বাড়ি গিয়েছিলাম৷ ওই যখন লোডশেডিং হয়েছিল৷ শুনতে পেলাম আপনি দোতলার ঘরে বসে হারমোনিয়াম বাজাচ্ছেন৷ আমরা বেশ কয়েকবার ডেকেছিলাম আপনাকে৷ আপনি বোধ হয় শুনতে পাননি৷ এমনিতেই লোডশেডিং, তার ওপর আপনি তো আর চাঁদা না দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার লোক নন, তাই আর আপনাকে ডাকাডাকি করিনি৷’

    ছেলেটার কথা শুনে জগবন্ধুর মাথার ভিতরটা কেমন গুলিয়ে গেল৷ তিনি তো আজ বিকালের পর থেকে বাড়িতেই ছিলেন না, তাহলে তিনি সন্ধ্যার পর হারমোনিয়াম বাজালেন কীভাবে! মুখে কিছু না বলে বাড়ির দিকে পা চালালেন৷

    আগের দিনের মতন সেদিনও মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেল জগবন্ধুর৷ তাঁর যেন মনে হতে লাগল কোথা থেকে হারমোনিয়ামের শব্দ ভেসে আসছে৷ বিছানাতে শুয়ে শুয়ে তা শুনতে লাগলেন৷ সুরটা যেন তাঁর মনের মধ্যে কেমন একটা নেশা ধরিয়ে দিচ্ছে৷

    কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পর জগবন্ধু বুঝতে পারলেন সুরটা ভেসে আসছে তাঁর পাশের ঘর থেকে৷ কিন্তু তিনি ভয় পেলেন না৷ মনের মধ্যে কেমন একটা অস্বস্তি হতে লাগল৷

    বিছানা ছেড়ে উঠে পড়লেন জগবন্ধু৷ তারপর আস্তে আস্তে পা টিপে টিপে ঘর থেকে বারান্দাতে বেরিয়ে পাশের ঘরের দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন৷ বুঝতে পারলেন তাঁর অনুমান সত্যি৷ হারমোনিয়ামের শব্দটা আসছে ঘরের ভিতর থেকেই৷ ঘরের দরজাটা খোলা৷ সামনে ভারী পরদা ঝুলছে৷ এ অঞ্চলে চোরের উপদ্রব নেই বলে সাধারণত দোতলার ঘরের জানলা-দরজা খোলাই থাকে৷ পরদার ফাঁক দিয়ে উকি মারতেই জগবন্ধু এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে পেলেন৷ ঘরের ভিতর আলো জ্বালা না থাকলেও খোলা জানলা দিয়ে এক ফালি চাঁদের আলো এসে পড়েছে ঘরের ভিতর৷ সেই আলোতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে একজন বৃদ্ধ লোক তক্তপোশের ওপর বসে মাথা নীচু করে একমনে বাজিয়ে চলেছে হারমোনিয়ামটা৷ পরনে তার ধবধবে সাদা চুড়িদার-পাঞ্জাবি, আর মাথায় ছোট্ট একটা কাপড়ের তিনকোনা টুপি৷

    হঠাৎ লোকটা মুখ তুলে তাকাল দরজার দিকে, অমনি জগবন্ধুও সরে দাঁড়ালেন দরজার পাশ থেকে৷ কিন্তু সে মনে হয় দেখতে পেয়েছে জগবন্ধুকে, কারণ হারমোনিয়ামের শব্দটা সঙ্গেসঙ্গেই থেমে গেল৷

    কয়েক মুহূর্ত চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলেন জগবন্ধু৷ তারপরই পরদা সরিয়ে আচমকা জ্বেলে দিলেন ঘরের আলোটা৷ বিদ্যুতের আলোতে ঝলমল করে উঠল সারা ঘর৷ কিন্তু সে-ঘরের মধ্যে কেউ কোথাও নেই! শুধু একটু হালকা আতরের গন্ধ ছড়িয়ে আছে ঘর জুড়ে৷ আর হারমোনিয়ামের বেলোটা খোলা অবস্থায় রয়েছে৷

    কিছুক্ষণ সেই ঘরে দাঁড়িয়ে থাকার পর ঘরের আলো নিভিয়ে নিজের ঘরে শুতে চলে গেলেন জগবন্ধু৷ পরদিন ভোরে যখন তাঁর ঘুম ভাঙল, রাতের ঘটনাটাকে নেহাতই স্বপ্ন বলে ধরে নিলেন তিনি৷

    দিন সাতেকের জন্য অফিসের কাজে বাইরে গিয়েছিলেন জগবন্ধু৷ কিন্তু সেখান থেকে ফেরবার সময় এক বিপত্তি হল৷ ট্রেনের মধ্যে থেকে ব্রিফকেসটা খোয়া গেল জগবন্ধুর৷ টাকাপয়সা তাতে না থাকলেও কিছু জামাকাপড় আর বাড়ির চাবির গোছাটা ছিল তার মধ্যে৷ অতএব তালা না ভাঙলে বাড়িতে ঢোকা সম্ভব নয়৷ তাই বাড়িতে ঢোকবার সময় পাড়ার একটা ছেলেকে ডেকে নিয়ে এসে সদর দরজার, শোওয়ার ঘরের ও রান্নাঘরের তালাটা ভাঙলেন তিনি৷ অন্য ঘরগুলো বন্ধই রইল৷

    জগবন্ধু ভাবলেন ডুপ্লিকেট চাবিগুলো ঘরের কোথাও রাখা আছে কি না খুঁজে দেখবেন৷ সেগুলো যদি পেয়ে যান তাহলে আর তালাগুলো ভেঙে নষ্ট করতে হবে না৷ কিন্তু নানা কাজের চাপে চাবিগুলো আর খুঁজে বার করা হয়ে উঠল না৷ তা ছাড়া ঘরগুলোতে খুব বেশি প্রয়োজনীয় জিনিস না থাকায়, ঘরগুলো খোলার জন্যে খুব একটা তাগিদও অনুভব করলেন না৷ তাই ঘরগুলো বন্ধ অবস্থাতেই পড়ে রইল৷ হারমোনিয়ামের কথাটা প্রায় ভুলেই গেলেন৷

    একদিন গোপীনাথবাবু তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘মাঝে মাঝে রাতের বেলাতে যে ভদ্রলোককে তোমার ছাদে দেখতে পাই, তিনি তোমার কে হন?’

    অনিদ্রার রুগি, চোখে মোটা কাচের চশমা আঁটা, গোপীনাথবাবুর প্রশ্ন জগবন্ধুর কাছে অবান্তর মনে হওয়াতে তার কোনো উত্তর দেননি তিনি৷

    মাস দুয়েক কেটে গেছে৷ বেশ শীত পড়েছে এবার৷ দরজা-জানলা বন্ধ করে সেদিন রাতে লেপমুড়ি দিয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েছিলেন জগবন্ধু৷ অনেকদিন পর আবার হঠাৎই মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেল জগবন্ধুর৷ তাঁর কানে এসে বাজতে লাগল হারমোনিয়ামের সুর৷ তবে সেই সুর, সেই ধ্বনি কেমন যেন বিষাদ মাখা৷ লেপমুড়ি দিয়ে সেই শব্দ শুনতে লাগলেন জগবন্ধু৷ কিছুক্ষণ পর থেমে গেল সেই শব্দ৷ আর তারপরই জগবন্ধুর মনে হল তাঁর ঘরের মধ্যে কেউ যেন প্রবেশ করেছে৷ মুখের ওপর থেকে লেপটা সরিয়ে ফেললেন তিনি৷ অন্ধকার ঘরে কাউকে দেখা যাচ্ছে না ঠিকই, কিন্তু তার নিশ্বাস ফেলার শব্দ যেন স্পষ্টই শুনতে পেলেন৷ আরও অনুভব করলেন, একটা মিষ্টি আতরের গন্ধ যেন ছড়িয়ে পড়েছে সারা ঘরে৷

    জগবন্ধুর আজকে সত্যি ভয় ভয় করতে লাগল৷ হাত বাড়িয়ে জগবন্ধু খাটের পাশে রাখা টেবিলল্যাম্পটা জ্বালিয়ে দিতেই হালকা নীল আলোয় ভরে গেল সারা ঘর৷ জগবন্ধু দেখলেন তাঁর পায়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সেই বৃদ্ধ লোকটা! যাকে তিনি একদিন পাশের ঘরে চাঁদের আলোতে হারমোনিয়াম বাজাতে দেখেছিলেন৷

    জগবন্ধুর গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসতে লাগল৷ তিনি শুধু একদৃষ্টিতে চেয়ে রইলেন তার দিকে৷ খাটে শুয়ে লোকটির মাথা থেকে হাঁটু পর্যন্ত স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন৷ আজও তার পরনে একই পোশাক৷ শুধু সেদিনের থেকে আজ তাকে অনেক বেশি বৃদ্ধ বলে মনে হচ্ছে৷ করুণ দৃষ্টিতে সে চেয়ে রয়েছে জগবন্ধুর দিকে৷

    বৃদ্ধের ঠোঁট এবার নড়তে শুরু করল৷ জগবন্ধুর মনে হল তার কন্ঠস্বর যেন বহুদূর থেকে ভেসে আসছে৷ সে কী বলছে তা কানে শুনলেও মাথায় নিতে পারছিলেন না জগবন্ধু৷ কারণ আতঙ্কে তখন তাঁর বুদ্ধি লোপ পাওয়ার অবস্থা৷

    লোকটা কথা বলেই চলেছে৷

    কয়েক মিনিট কেটে যাওয়ার পর কিছুটা ধাতস্থ হলেন জগবন্ধু৷ তাঁর মনে হল লোকটা আর যাই করুক তাঁর কোনো ক্ষতি করবে না৷ তিনি এবার মন দিয়ে বৃদ্ধ কী বলছে তা শোনার চেষ্টা করলেন৷ ততক্ষণে বৃদ্ধের কথা বলা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে৷ শুধু শেষের দিকের কয়েকটা কথা কানে এসে বিঁধল তার, ‘বাবুজি, হামার সারা জিন্দেগির কামাই উও হারমনির অন্দর রাখা আছে, লেকিন আজ হামার ঘরে বাচ্ছালোগ একটা রোটির জন্য ভিখ মাঙছে৷ উও হারমনি আপনি ওদের ওয়াপস করে দিন বাবুজি৷ নেহি তো সব ভুখা মরে যাবে৷’

    কথা শেষ হওয়ার পর কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল লোকটা৷ জগবন্ধুর মনে হল লোকটার চোখের কোলে যেন জল চিকচিক করছে৷ এরপর মাথায় হাত ছুঁয়ে জগবন্ধুকে কুর্নিশ করে অন্ধকারের মধ্যে আস্তে আস্তে মিশে গেল লোকটা৷

    ভোর বেলাতেই একজন লোক ডেকে এনে পাশের ঘরের তালাটা ভেঙে ফেললেন জগবন্ধু৷ দু-তিন মাসের অব্যবহারের ফলে বেশ কিছুটা ধুলো জমেছে ঘরে৷ কিন্তু হারমোনিয়ামটা দেখে অবাক হয়ে গেলেন তিনি৷ তার ওপর একটুও ধুলোর আস্তরণ নেই৷ কেউ যেন যত্ন করে মুছে রেখেছে সেটা৷

    হারমোনিয়ামটা নিজের ঘরে নিয়ে এলেন জগবন্ধু৷ তারপর দরজা-জানলা ভালো করে খুলে দিয়ে পরদা সরিয়ে দিলেন তিনি৷ সকালের আলোতে ঝলমল করে উঠল সারা ঘর৷ সেই আলোতে ভালো করে হারমোনিয়ামটা দেখতে লাগলেন তিনি৷ হঠাৎ তাঁর নজরে পড়ল হারমোনিয়ামের গায়ে এক জায়গায় পালিশ চটে গিয়ে কয়েকটা সংখ্যা যেন ফুটে উঠেছে৷ একটা ন্যাকড়া জলে ভিজিয়ে এনে সেখানটাতে ভালো করে ঘষতেই পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠল পরপর সাতটা সংখ্যা৷

    জগবন্ধু এবার আরও ভালো করে দেখে বুঝতে পারলেন হারমোনিয়ামের প্রত্যেকটা রিডই অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংখ্যা দ্বারা চিহ্নিত করা৷ কিন্তু তারা এতই ক্ষুদ্র যে সাধারণ অবস্থাতে তাদের বোঝাই যায় না৷ অনেক চেষ্টার পর সংখ্যাগুলোকে মোটামুটি উদ্ধার করতে পারলেন জগবন্ধু৷ তারপর হঠাৎ কী মনে হতে সেই সাতটা সংখ্যা মিলিয়ে পরপর রিড টিপতেই হারমোনিয়ামের নীচের দিকের একটা অংশ ফাঁকা হয়ে গেল৷ বেরিয়ে পড়ল একটা খোপ৷ জগবন্ধু তার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে বার করে আনলেন একটা ছোটো চামড়ার থলে৷ থলেটা টেবিলের ওপর উপুড় করতেই তার মধ্যে থেকে বেরিয়ে এল অনেকগুলো ছোটো ছোটো ভাঁজ করা বিবর্ণ হয়ে যাওয়া কাগজের টুকরো৷

    একটা ছোটো কাগজের টুকরো হাতে তুলে নিলেন জগবন্ধু৷ দীর্ঘদিন থাকার কারণে কাগজের টুকরোগুলো একদম নষ্ট হতে বসেছে৷ অতি সাবধানে একটা টুকরোর ভাঁজ খুলে চমকে উঠলেন তিনি৷ আসলে সেগুলো হল ব্রিটিশ সরকারের আমলের ভাঁজ করা একশো টাকার নোট৷ জগবন্ধু গুনে দেখলেন মোট একশোটা আছে৷ অর্থাৎ সেই সময়কার দশ হাজার টাকা! কিন্তু আজকে এই নোটগুলো হয়তো-বা বাজে কাগজের মতনই মূল্যহীন৷

    কিছুক্ষণ সেগুলো নিয়ে চুপচাপ বসে রইলেন জগবন্ধু৷ নোটগুলো যখন তিনি থলের মধ্যে ভরে রাখতে যাবেন, তখন তার মধ্যে আর-একটা জিনিস দেখতে পেলেন৷ জিনিসটা হল একটা ছোট্ট কাপড়ের পুঁটলি৷ তার ভেতর থেকে বের হল এক ছড়া মালা৷ হলদেটে হয়ে গেলেও মালাটা যে মুক্তোর তা বুঝতে কোনো অসুবিধা হল না৷ মালায় একটা ছোট্ট লকেটও আছে৷ লকেটের পিছনে একটা নাম ইংরেজিতে খোদাই করা৷ ‘আহম্মদ নাজাফি’৷ জগবন্ধুর মনে হল এই নামটা যেন তিনি কোথাও দেখেছিলেন বা শুনেছিলেন৷ কিন্তু অনেক ভাবার পরও মনে করতে পারলেন না৷

    জগবন্ধু সেদিন ট্রেনে উঠে চুপচাপ জানলার পাশে বসেছিলেন৷ বারবারই খালি ‘আহম্মদ নাজাফি’ নামটা তাঁর মাথার মধ্যে ঘুরে-ফিরে আসছে৷ পাশে বসে এক ভদ্রলোক অনেকক্ষণ ধরে পকেট ট্রানজিস্টারে খেলার রিলে শুনবার চেষ্টা করছিলেন৷ কিন্তু কিছুতেই সেন্টারটা ঠিকমতন ধরতে পারছিলেন না৷

    অনেকক্ষণ চেষ্টার পর লোকটা বিরক্ত হয়ে অন্য একটা সেন্টার ধরলেন৷ সেখানে গানের আসর হচ্ছে৷ জগবন্ধুও শুনতে শুনতে চললেন সেই গান৷ একটা গান শোনাবার পর ঘোষিকা বললেন, ‘এবার আপনাদের একটা কাওয়ালি গান পরিবেশন করব৷’ ‘কাওয়ালি’ শব্দটা কানে আসবার সঙ্গেসঙ্গেই জগবন্ধু যেন লাফিয়ে উঠলেন৷ এবার তাঁর সব মনে পড়ে গেছে৷ কিছুদিন আগে তিনি এক দৈনিক সংবাদপত্রে কাওয়ালি গায়কদের নিয়ে একটা প্রবন্ধ পড়েছিলেন৷ তাতেই লেখা ছিল বিখ্যাত কাওয়ালি গায়ক আহম্মদ নাজাফির সম্বন্ধে কিছু কথা৷

    শিয়ালদাতে ট্রেন থেকে নামবার পর জগবন্ধু ট্যাক্সি ধরে ছুটলেন সেই সংবাদপত্রের অফিসের দিকে৷ সেখান থেকে তিনি একটা ঠিকানা পেলেন৷

    ঠিকানার সূত্র ধরে দু-দিন অনেক ছোটাছুটির পর অবশেষে জগবন্ধু এসে উপস্থিত হলেন পার্ক সার্কাসের এক বস্তিতে৷ সেখানে আলম নাজাফি বলে একটা নাম খোঁজাখুঁজি করতেই একজন দেখিয়ে দিল একটা খাপরার চালওলা বাড়ি৷ সেই বাড়ির সামনে নোংরা মাটিতে বেশ কয়েকটা ছোটো ছোটো বাচ্চা ছেলে-মেয়ে খেলা করছে৷ জগবন্ধু সেখানে গিয়ে দাঁড়াতেই একজন বছর তিরিশের যুবক কাশতে কাশতে বাইরে বেরিয়ে এল৷ জগবন্ধু তার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলেন তার নামই আলম নাজাফি৷

    জগবন্ধু বেশ কিছুক্ষণ তার সঙ্গে কথা বলার পর সে জগবন্ধুকে নিয়ে ঘরের ভেতরে গেল৷ ঘরের ভেতরে অভাবের চিহ্ন সুস্পষ্ট৷ ঘরের এক কোণে নোংরা বিছানার ওপর শুয়ে আছেন তার অন্ধ বৃদ্ধা মা৷ আর মেঝেতে খেলা করছে রোগা রোগা দুটো শিশু৷

    আলম জগবন্ধুকে এনে দাঁড় করাল একটা নোনাধরা দেওয়ালের সামনে৷ সেই দেওয়ালে টাঙানো আছে অনেকদিনের পুরোনো বিবর্ণ হয়ে যাওয়া একটা ছবি৷ ছবিটা হল আলম নাজাফির পিতামহের ছবি৷ ইনিই ছিলেন লক্ষ্ণৌ-এর বিখ্যাত কাওয়ালি গায়ক আহম্মদ নাজাফি৷

    ছবির মানুষটি মধ্যবয়সের হলেও তাঁকে চিনে নিতে অসুবিধা হল না জগবন্ধুর৷ এই লোক আর সেই মানুষটি একই ব্যক্তি, যিনি ক-দিন আগে এক রাতে এসে দেখা দিয়েছিলেন জগবন্ধুকে৷

    এরপর আলমকে সঙ্গে করে ঘরের বাইরে এলেন জগবন্ধু৷ আলমের মুখ থেকে শুনলেন এই বিখ্যাত গায়কের বংশধরদের বর্তমান করুণ অবস্থার কথা৷ ভাগ্যের পরিহাসে কীভাবে লক্ষ্ণৌ-এর হাভেলির পরিবর্তে আজ তাদের ঠিকানা হয়েছে পার্ক সার্কাসের এই বস্তি৷ এখানেই ছোটো ছোটো শিশু ও বৃদ্ধা অন্ধ মাকে নিয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে আলম৷ ঘটি-বাটি যা ছিল, সব বিক্রি হয়ে গেছে৷ এমনকী আহম্মদ নাজাফির শেষ স্মৃতি হারমোনিয়ামটাও, কয়েক মাস আগে ছেলের অসুখের কারণে মাত্র দুশো টাকায় নিউমার্কেটের এক দোকানে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছে সে৷ এসব কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ল আলম৷

    পরদিন আলমকে সঙ্গে করে বউবাজারের এক পরিচিত সোনার দোকানে গেলেন জগবন্ধু৷ মালাটা সেখানে বিক্রি করে পেলেন তিরিশ হাজার টাকা৷ সম্পূর্ণটাই তিনি তুলে দিলেন আলমের হাতে৷ আর পুরোনো নোটগুলো একটা কিউরিও শপে বিক্রি করে পাওয়া গেল হাজার কুড়ি টাকা৷ সেই টাকাটা তিনি আলমের ছেলে-মেয়েদের জন্য ব্যাঙ্কে জমা করে দিলেন৷ কিছুদিনের মধ্যে জগবন্ধু আলমের জন্য নিজের অফিসে একটা ছোটোখাটো কাজেরও ব্যবস্থাও করে ফেললেন৷

    আলম যেদিন তার অফিসে কাজে যোগদান করল, সেদিন প্রচণ্ড খুশিমনে বাড়ি ফিরলেন জগবন্ধু৷ তারপর তাড়াতাড়ি খেয়ে-দেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লেন৷ মাঝরাতে সেদিনও আবার হারমোনিয়ামের শব্দে জেগে উঠলেন তিনি৷ তার মনে হতে লাগল ঘরের মধ্যে যেন এক অদ্ভুত সুর ছড়িয়ে পড়ছে৷ সে সুর বিষাদের নয়, সে যেন দ্রুত ছন্দের সুরের রামধনু৷ জগবন্ধু ভেসে যেতে লাগলেন সেই সুরের প্লাবনে৷ অবশেষে একসময় বন্ধ হল সেই সুর, আর সঙ্গেসঙ্গেই মিষ্টি গন্ধে ভরে উঠল ঘর৷ জগবন্ধু বুঝতে পারলেন আজ আবার তিনি এসেছেন৷ আজ আর তাঁর ভয় করছে না৷ টেবিল ল্যাম্পটা জ্বালিয়ে বিছানার ওপর উঠে বসলেন তিনি৷ দেখলেন সেদিনের মতো আজও তাঁর ঘরের ভিতর এসে দাঁড়িয়েছেন সেই মানুষটি৷ আজও তাঁর চোখে জল, কিন্তু সে জল দুঃখের নয়, আনন্দের৷ খুশিতে যেন ঝলমল করছে তার মুখ৷ জগবন্ধুর দিকে চেয়ে কপালে হাত ঠেকিয়ে একবার কুর্নিশ করলেন তিনি, তারপর আস্তে আস্তে মিলিয়ে গেলেন৷

    পরদিন জগবন্ধু আলমের বাড়ি গিয়ে ফিরিয়ে দিয়ে এলেন হারমোনিয়ামটা৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসূর্যমন্দিরের শেষ প্রহরী – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }