Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আঁধার রাতের বন্ধু – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প113 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ধূর্জটিবাবুর প্ল্যানচেট

    পলাশ বলল, ‘কিরে নিলু, পর পর চারটে ট্রেন চলে গেল৷ অনির্বাণ তো এখনও এল না? এদিকে তোর ধূর্জটিবাবুরও কোনো পাত্তা নেই! তিনি আবার বাঘমুণ্ডি পাহাড়ে পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসতে চলে গেলেন না তো?’

    নিলু বলল, ‘দেখ পলাশ, সিদ্ধপুরুষদের নিয়ে মজা করবি না৷ বাঘমুণ্ডি নয়, উনি অমাবস্যা রাতে তারাপীঠের মহাশ্মশানে পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসে শবসাধনা করেছিলেন৷ উনি যখন কথা দিয়েছেন, তখন নিশ্চয়ই আমাদের নিতে আসবেন৷ তুই মোবাইলে আর এক বার ট্রাই কর অনিবার্ণকে৷ ও আবার ঘাবড়ে গেল না তো? শ্যামবাজারের পাঁচ মাথার মোড়ে বসে প্ল্যানচেট-ভূত-প্রেত নিয়ে মজা করা, আর এখানে এসে সত্যিকারের প্রেতসিদ্ধ জ্যোতিষীর মুখোমুখি প্ল্যানচেটে বসা, এ দুইয়ের মধ্যে অনেক তফাত!’

    নিলুর খোঁচাটা বুঝতে অসুবিধে হল না পলাশের৷ ও বলল, ‘ঝড়বৃষ্টির মধ্যে হয়তো কোথাও আটকে গিয়েছে৷ ওর কথার দাম আছে৷ আর ও যে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে সাহসি ছেলে, তা তো তুই জানিস৷’ এই বলে সে পকেট থেকে মোবাইল বের করে বৃষ্টির ছাঁট থেকে বাঁচার জন্য প্ল্যাটফর্মের শেডের আর একটু ভিতরে এসে দাঁড়াল৷ অনির্বাণকে রিং করার চেষ্টা করে কানে দিয়ে কয়েক মুহূর্ত পর সেটা আবার কান থেকে নামিয়ে নিল পলাশ৷

    নিলু প্রশ্ন করল, ‘কী হল?’

    পলাশ জবাব দিল, ‘নেটওয়ার্ক ফেলিওর এখনও৷ যা ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে কখন নেটওয়ার্ক পাওয়া যাবে কে জানে?’

    তার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গেসঙ্গেই কড়াৎ কড়াৎ শব্দে কাছেই কোথাও যেন বাজ পড়ল৷ সারা প্ল্যাটফর্ম কেঁপে উঠল সেই শব্দে৷ আর কিছুক্ষণ পরই সন্ধ্যে নামবে৷ বৃষ্টিরও বিরাম নেই৷ ঝাপসা হয়ে যাওয়া বাইরের দিকে তাকিয়ে পলাশ বলল, ‘ধূর্জটিবাবুর বাড়ি এখান থেকে কত দূর?’

    নিলু জবাব দিল, ‘গাড়িতে আধ ঘণ্টার পথ৷ উনি গাড়ি নিয়ে আসবেন বলেছেন৷’ এরপর সে বলল, ‘অনির্বাণ না এলে প্রেস্টিজ পাংচর হয়ে যাবে আমার৷ আসলে উত্তেজনার বশে তোদের কথাটা ওঁকে বলা আমার উচিত হয়নি৷ ব্যাপারটা উনিও সিরিয়াসলি নিয়েছেন৷ এখন তো আমাদের ফিরে যাওয়ারও উপায় নেই৷ ওঁর বাড়িতে রাতে খাবারের ব্যবস্থা করে রেখেছেন উনি৷ এখানে এসে ফিরে যাওয়া মানে ওঁকে অসম্মান করা৷ তা ছাড়া উনি বড়োমামার বন্ধুমানুষ৷ বড়োমামা শুনলেও রাগ করবেন৷’

    পলাশ তার কথার জবাবে কিছু বলল না৷ একটু দূরে প্ল্যাটফর্মের মধ্যে একটা চায়ের দোকান দেখিয়ে বলল, ‘চল, ওখানে একটু চা খাই৷ বেশ ঠান্ডা লাগছে৷’

    ওরা দু-জন এর পর গিয়ে হাজির হল চায়ের দোকানের সামনে৷ দোকানদারকে চা দিতে বলে পলাশ বাইরের বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগল, অনির্বাণ এল না কেন? কলকাতা থেকে বৃষ্টির দিনে তাদের এই নবাবগঞ্জে আসা বলতে গেলে তো তার জন্যই!

    পলাশদের নবাবগঞ্জে আসার কারণটা একটু খুলে বলা যাক৷ পলাশ, নীলকান্ত অর্থাৎ নিলু, অনির্বাণ, এরা সকলেই শ্যামবাজারের বাসিন্দা এবং কাছেই গণেন্দ্র মিত্র লেনের ‘যুগের পথিক’ ক্লাবের সদস্য৷ প্রত্যেকেই ওরা কলেজ ছাত্র অথবা সদ্য পাশ করে বেরিয়েছে কলেজ থেকে৷ শরীরচর্চা, খেলাধুলো, লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিত তাদের আড্ডার আসর বসে গণেন্দ্র মিত্র লেনের ঘুপচি ক্লাবঘরে৷ দিন দশেক আগে এমনই এক বর্ষার সন্ধেয় ক্লাবঘরে বসে গল্প করছিল তারা৷ শুধু তিন জন নয়, ঋজু, অসীম, তপন, ভোলা, আরও অনেকে সেদিন হাজির ছিল সেখানে৷ এসব আড্ডা যেমন হয়, এক প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হতে হতে অন্য প্রসঙ্গ চলে আসে, ঠিক তেমনই কী একটা কথা আলোচনা করতে করতে হঠাৎ কে যেন তুলে বসল আত্মা নিয়ে কথা৷ শুরু হল আত্মা-প্রেতাত্মা আছে কি না তাই নিয়ে সনাতনী তর্ক৷

    নিলুর আত্মা-টাত্মার ব্যাপারে প্রচণ্ড বিশ্বাস৷ সে হঠাৎ বলল, ‘আমার বড়োমামার বন্ধু জ্যোতিষী ধূর্জটি চক্রবর্তী, যাঁর কাছে আমি হাত দেখাই, তিনি প্ল্যানচেটে আত্মা নামাতে পারেন৷ আমার বড়োমামা এ ঘটনা নিজের চোখে দেখেছেন৷’

    অনির্বাণ প্রেসিডেন্সির ফিজিক্সের ছাত্র, ঘোর যুক্তিবাদী৷ নিলুর কথাটা শোনার সঙ্গেসঙ্গেই সে চেপে ধরল তাকে৷ বলল, ‘যখন সুনীতা উইলিয়াম মহাশূন্যে পায়চারি করে এলেন, সে সময় দাঁড়িয়ে কেউ আত্মা নামাচ্ছেন, এ কথা বিশ্বাস করতে হবে? আসলে এসব ব্যাপার হল ধান্দাবাজ লোকদের লোক ঠকিয়ে পয়সা কামানোর কৌশল৷’

    ব্যস, শুরু হয়ে গেল জোর তর্ক৷ যারা হাজির ছিল, তারা ভাগ হয়ে গেল প্ল্যানচেটের মাধ্যমে আত্মা নামানো যায় কি না এই নিয়ে৷ পলাশেরও আত্মা-টাত্মায় বিশ্বাস নেই৷ স্বাভাবিক ভাবে সেও সেদিন অনির্বাণের পক্ষ নিয়েছিল৷ অনেক যুক্তি, পালটা যুক্তির পরও যখন সিদ্ধান্তে পৌঁছোনো গেল না, তখন ভোলা একটা প্রস্তাব দিল৷ সে বলল, ‘নিলু গিয়ে ধূর্জটিবাবুকে রাজি করাক প্ল্যানচেটে আত্মা নামিয়ে দেখানোর জন্য৷ তিনি যদি সত্যিই তা পারেন, তাহলে সকলেই ব্যাপারটা মেনে নেব৷ তবে এর মধ্যে একটা কন্ডিশন আছে৷ প্ল্যানচেটে মিডিয়াম অর্থাৎ যার মাধ্যমে আত্মা নামানো হয়, সেই মিডিয়াম করতে হবে অনির্বাণকে৷ তাহলেই প্রমাণ হয়ে যাবে আত্মা নামানোর ব্যাপারটা সাজানো কি না!’

    সেদিনের এই আলোচনা অন্য দিনের মতো শুধু আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি৷ অনির্বাণ আর নিলু দু-জনেই সিরিয়াসলি নিয়েছিল বিষয়টা৷ পরদিনই নিলু তার বড়োমামাকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হয়েছিল ধূর্জটিবাবুর বউবাজারের চেম্বারে৷ সব কথা শোনার পর প্ল্যানচেটের ব্যাপারে রাজি হয়ে গেলেন ধূর্জটিবাবু৷ তবে তিনি বললেন, নিলু, অনির্বাণ ও আর-একজন অর্থাৎ মোট তিন জনকে আজ এই আষাঢ় মাসের অমাবস্যার দিন তাঁর নবাবগঞ্জের বাড়িতে আসতে হবে৷ তাঁর বাড়িতে অন্য কেউ থাকে না৷ ফলে উভয় পক্ষের কোনো অসুবিধে হবে না৷ সেখানে রাত্রিবাস করে পরদিন কলকাতা ফিরতে পারবে নিলুরা৷ তাঁর আমন্ত্রণেই পলাশ আর নিলু বিকেলের ট্রেনে নবাবগঞ্জ প্ল্যাটফর্মে এসে নামল৷ কিন্তু কলকাতায় একটা কাজ সেরে অন্য ট্রেনে অনির্বাণের এখানে আসার কথা থাকলেও তার দেখা নেই৷ বৃষ্টির মধ্যে প্ল্যাটফর্মে অনির্বাণের জন্য এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছে পলাশরা৷ ধূর্জটিবাবুও তাদের এখনও নিতে আসেননি৷

    চা খাওয়া হয়ে যাওয়ার পর পলাশ এক বার তার রিস্টওয়াচের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ছ-টা তো বাজল৷ আর আধ ঘণ্টার মধ্যে যদি দু-জনের কেউ না আসেন, তাহলে ডাউন ট্রেন ধরে ব্যাক করব৷ আমরা দু-জন অনেকক্ষণ অপেক্ষা করছি৷ আমাদের কেউ দোষ দিতে পারবে না৷’

    পলাশের কথা শুনে একটু চিন্তা করে নিলু বলল, ‘ঠিক আছে, তাহলে তাই হবে!’

    কথাটা বলল বটে, কিন্তু ঠিক সেই সময় একটা কালো রঙের অ্যাম্বাসাডর গাড়ি এসে প্ল্যাটফর্মের বাইরে রেলিংয়ের ধার ঘেঁষে দাঁড়াল৷

    গাড়িটা দেখেই নিলু বলে উঠল, ‘ওই যে, ধূর্জটিবাবু এসে গিয়েছেন৷ ওটা ওঁর গাড়ি, আমি চিনি৷’

    গাড়ি থেকে বৃষ্টির মধ্যে বাইরে নেমে ছাতা খুললেন ধুতি-পাঞ্জাবি পরা, চোখে সোনালি ফ্রেমের চশমা এক লম্বা-চওড়া ভদ্রলোক৷ তিনি উঠে এলেন প্ল্যাটফর্মে৷ তাঁকে দেখে প্রথমে নিলু আর তার পিছন পিছন পলাশ এগিয়ে গেল তাঁর দিকে৷ ভদ্রলোক এসে দাঁড়ালেন শেডের নীচে৷ নিলুরাও এসে দাঁড়াল তাঁর সামনে৷

    ভদ্রলোকের বয়স মনে হয় ষাটের কাছাকাছি হবে৷ ফরসা রং, টিকোলো নাক, দু-হাতে অনেক আংটি৷ পলাশ আর নিলুকে এক বার ভালো করে দেখে নিয়ে তিনি নিলুর উদ্দেশে বললেন, ‘আমি কলকাতা থেকে ফিরছি, তাই আসতে দেরি হয়ে গেল৷ তা তোমরা দু-জন কেন? আমি তো তিন জনকে আসতে বলেছিলাম৷ আর এই কি সেই ছেলে, যে মিডিয়াম হতে চায়?’ গম্ভীর স্বরে এই কথাগুলো বলে ধূর্জটিবাবু তাকালেন পলাশের দিকে৷

    নিলু বলল, ‘না না, এ সে নয়৷ এর নাম পলাশ৷ আমরা দু-জন একসঙ্গে এসেছি৷ অন্য ট্রেনে এসে এখানে আমাদের সঙ্গে মিট করার কথা অনির্বাণের৷ কিন্তু এক ঘণ্টা ধরে ওর জন্য আমরা অপেক্ষা করছি৷ ও এখনও এল না৷ মোবাইল কানেকশনও কাজ করছে না৷’

    তার কথা শুনে ভদ্রলোক কয়েক মুহূর্ত কী যেন ভাবলেন৷ তারপর বললেন, ‘তোমরা দু-জনই বরং আমার সঙ্গে চলো৷ আমি হিউম্যান সাইকোলজি বুঝি৷ সম্ভবত সে ভয় পেয়েছে৷ সে আসবে না৷ মেঘ যত গর্জায় তত বর্ষায় না৷ সন্ধ্যে নেমে আসছে৷ জল-কাদায় বেশ কিছুটা পথ যেতে হবে আমাদের৷ তার উপর আমার গাড়ির একটা হেডলাইট আবার ভেঙে গিয়েছে আজ৷’ এই বলে তিনি তাকিয়ে রইলেন নিলুদের দিকে৷

    নিলু বলতে যাচ্ছিল, ‘কিন্তু অনির্বাণ যদি পরের ট্রেনে এখানে এসে পৌঁছোয় তখন কী হবে?’ কিন্তু তার আগেই প্ল্যাটফর্মের মাইকে ঘোষণা শোনা গেল, ‘বিশেষ ঘোষণা! ঝড়বৃষ্টিতে কুতুবপুর স্টেশনে গাছ পড়ে ওভারহেড তার ছিঁড়ে যাওয়ায় আপ লাইনে রাত দশটা পর্যন্ত কোনো ট্রেন চলবে না৷ যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে এই সংবাদ জানানো হচ্ছে৷’

    ঘোষণাটা শুনে ধূর্জটিবাবু বললেন, ‘এর পর তার আসার আর কোনো সম্ভাবনা নেই৷ আর যদি সে কোনোভাবে এখানে এসে হাজির হয়, আর যদি তার আমার বাড়ি যাওয়ার সত্যি ইচ্ছে হয়, তাহলে যেকোনো ভ্যানরিকশাকে বললেই সে আমার বাড়ি নিয়ে যাবে৷’ এ কথাগুলো বলে তিনি পলাশদের উত্তরের অপেক্ষা না করে, ‘এসো’, বলে হাঁটতে শুরু করলেন তাঁর গাড়িতে যাওয়ার জন্য৷

    পলাশ আর নিলু একবার পরস্পরের দিকে তাকিয়ে অগত্যা ধূর্জটিবাবুকে অনুসরণ করল৷ গাড়িতে উঠে ধূর্জটিবাবু চালকের আসনে বসলেন৷ পলাশরা বসল তাঁর পিছনের আসনে৷ গাড়িতে ওঠার সময় প্রায় ভিজে গেল পলাশরা৷ গাড়ি স্টার্ট নেওয়ার প্রায় সঙ্গেসঙ্গেই যেন ঝুপ করে অন্ধকার নামল বাইরে৷ একটা হেডলাইটের আলোয় খানাখন্দে ভরা মেঠোপথ দিয়ে বর্ষার অন্ধকারে ধূর্জটিবাবুর গাড়ি ছুটল তাঁর বাড়ির দিকে৷

    মিনিট কুড়ি পর ধূর্জটিবাবুর বাড়ির সামনে এসে পৌঁছোল পলাশরা৷ একটা মাঠের ঠিক মাঝখানে একলা ভূতের মতো দাড়িয়ে আছে পুরোনো ধাঁচের দোতলা বাড়িটা৷ কোনো আলো আসছে না বাড়ির ভিতর থেকে৷ গাড়িতে একটিও কথা বলেননি ধূর্জটিবাবু৷ পলাশের মনে হল, হয় তিনি গভীরভাবে কিছু ভাবছেন, নয় স্বভাবজাতভাবেই তিনি গম্ভীর মানুষ৷ গাড়ি থেকে নামার সময় তিনি শুধু বললেন, ‘এখানে এখনও ইলেকট্রিসিটি নেই৷ তবে একটা রাত, তোমাদের আশা করি তেমন অসুবিধে হবে না৷’

    পলাশরা গাড়ি থেকে নামতেই ঘাসজমিতে জমে থাকা জলে তাদের পায়ের পাতা ডুবে গেল৷ বৃষ্টি একটু ধরেছে ঠিকই, তবে বাতাস এখনও বইছে৷ মাঠের চারপাশ থেকে ভেসে আসছে ব্যাঙের ডাক৷ জলের মধ্যে ছপ ছপ শব্দে পা ফেলে পলাশরা তাঁর পিছন পিছন উঠে এল বাড়ির বারান্দায়৷ পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটা ছোটো টর্চ বের করে সেটা জ্বালিয়ে চাবি দিয়ে একটা ঘরের দরজা খুললেন তিনি৷ তারপর ঘরের ভিতর ঢুকে একটা লন্ঠন জ্বালিয়ে তাদের দু-জনকে সে ঘরে বসতে বলে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন৷ ঘরটা পুরোনো হলেও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন৷ একটা পুরোনো আমলের পালঙ্ক আছে ঘরটায়৷ বিছানার উপর বসে নিলু বলল, ‘সম্ভবত এই ঘরেই আমাদের আজ রাত কাটাতে হবে৷’

    পলাশ কোনো জবাব দিল না৷ সে ভাবতে লাগল, অনির্বাণ এল না কেন? সত্যি কি সে ভয় পেয়ে গেল?

    মিনিট তিনেকের মধ্যেই একটা পাথরের থালায় মিষ্টি আর জল নিয়ে ঘরে ঢুকলেন ধূর্জটিবাবু৷ থালা আর জলের গ্লাস পালঙ্কের পাশে একটা টেবিলের উপর রাখলেন৷ ‘তোমরা এগুলো খেয়ে নাও৷ আমি ততক্ষণ সান্ধ্য-আহ্নিক সেরে আসি৷’ এই বলে তিনি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন৷

    পাথরের থালায় বেশ বড়ো বড়ো অনেক মিষ্টি৷ সেই দুপুর বেলা খেয়ে বেরিয়েছে পলাশরা৷ মিষ্টিগুলো দেখে তাদের খিদে পেয়ে গেল৷ তারা খেতে শুরু করল৷

    সান্ধ্য-আহ্নিক সেরে যখন ধূর্জটিবাবু আবার পলাশদের ঘরে এলেন, তখন তাদের খাওয়া শেষ৷ তিনি পলাশদের বললেন, ‘চলো, এবার অন্য ঘরে গিয়ে বসে কথা বলি৷’

    সে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে সবাই গিয়ে হাজির হল বাড়ির এক প্রান্তে, একটা ঘরে৷ সেই ঘরের ঠিক মাঝখানে একটা কাঠের তেপায়া টেবিলের উপর একটা ছোটো মোমবাতি জ্বলছে৷ আর সেই টেবিলের চারদিকে সাজানো আছে চারটে কাঠের চেয়ার৷ এ ছাড়া অন্য কোনো আসবাব নেই সেই ঘরে৷ ঘরটায় আরও একটা দরজা আছে৷ ঘরে ঢুকে সেই দরজাটাও খুলে দিলেন ধূর্জটিবাবু৷ বাড়ির পিছন দিকের মাঠ থেকে একঝলক ভেজা বাতাস এসে ঢুকল ঘরের ভিতর৷ টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে বসলেন ধূর্জটিবাবু৷ তাঁর কথামতো সেখানে অন্য দুটো চেয়ারে পাশাপাশি বসল পলাশ আর নিলু৷ চেয়ারে বসার পর এক বার তাদের দিকে ভালো করে দেখলেন ধূর্জটিবাবু৷ পলাশের মনে হল তিনি যেন তাদের জরিপ করে নিলেন৷ ফাঁকা চেয়ারটা দেখিয়ে গম্ভীর গলায় তিনি বললেন, ‘একটা চেয়ার তোমাদের সেই বন্ধুর জন্য নির্দিষ্ট ছিল৷ কিন্তু সে তো এলই না৷ চার জন না হলে প্ল্যানচেটে বসা যাবে না৷ আমি ভেবেছিলাম তোমাদের কথার দাম আছে৷ তাই তোমাদের এখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম৷ এখন বুঝলাম . . .৷’

    তাঁকে কথা শেষ করতে না দিয়ে প্রসঙ্গটা এড়াবার জন্য নিলু বলল, ‘প্ল্যানচেটে বসা না গেলেও আপনার মতো সিদ্ধপুরুষের কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু জানার আছে৷ আচ্ছা, পঞ্চমুণ্ডির আসনে কীভাবে শবসাধনা করা হয় তা একটু শোনাবেন? আমার খুব জানার ইচ্ছে৷’

    কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থাকার পর গম্ভীর কন্ঠে ধূর্জটিবাবু বললেন, ‘তাহলে এসব কথাই বলি শোনো৷ তোমরা যে সাধনার কথা শুনতে চাইলে, তা অতি কঠিন সাধনা৷ লাখে একজন তন্ত্রসাধকের এই সাহস হয়৷ অনেকের মৃত্যুও হয়েছে এই সাধনা করতে গিয়ে৷ প্রথমে সংগ্রহ করে আনতে হয় কোনো লাশ৷ মহাশ্মশানে অমাবস্যার রাতে সেই লাশের উপর পঞ্চমুণ্ডির আসন পেতে বসতে হয়৷ সঙ্গে রাখতে হয় মাটির ভাঁড়ে চালভাজা আর নরকরোটিতে সুরা৷ মন্ত্রোচ্চারণে প্রেতাত্মা এসে প্রবেশ করে সেই শরীরে৷ জীবন্ত হয়ে ওঠে লাশ৷ বীভৎস চিৎকার করে মাঝে মাঝে সে বলে ওঠে, ‘দে, দে, আমার বড়ো খিদে পেয়েছে৷’ তখন একমুঠো চালভাজা আর সুরা তার মুখে ঢেলে দিয়ে শান্ত করতে হয় তাকে৷ এ সময় কেউ ভয় পেয়ে গেলে তার নির্ঘাত মৃত্যু! লাশের উপর পাতা আসনে শক্ত হয়ে বসে চামুণ্ডা মন্ত্র জপ করতে হয়৷ সে মন্ত্রও অত্যন্ত কঠিন৷ মন্ত্রের জোরে বশে থাকে প্রেতাত্মা৷ মন্ত্রে সামান্য ভুলচুক হলে যে বুকের উপর বসে আছে, তাকে ছিটকে ফেলে দিয়ে উঠে দাঁড়াবে সেই লাশ৷ তারপর . . .৷’ এই পর্যন্ত বলে হঠাৎ চুপ করে গেলেন ধূর্জটিবাবু৷

    পলাশরা ডুবে গিয়েছিল তাঁর গল্পের মধ্যে৷ তিনি থামতেই নিলু উত্তেজনা চাপতে না পেরে বলে উঠল, ‘তারপর? তারপর?’

    তার কথার কোনো জবাব না দিয়ে পিছন দিকের খোলা দরজার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘বাইরে থেকে একটা শব্দ আসছে না?’

    তাঁর কথা শুনে কান খাড়া করল পলাশরা৷ হ্যাঁ, একটা শব্দ৷ দরজা দিয়ে বাইরে অন্ধকারে কিছু দেখা যাচ্ছে না৷ কিন্তু মনে হচ্ছে, কে যেন মাঠের জমা জলে ছপ ছপ শব্দে পা ফেলে বাড়িটার দিকে এগিয়ে আসছে৷ ক্রমশই শব্দটা এগিয়ে আসতে লাগল৷ বলতে গেলে সে যেন আসছে পলাশরা যে ঘরে বসে আছে সেই ঘর লক্ষ করেই৷ সকলেই তাকিয়ে রইলেন দরজার দিকে৷ দরজার একদম কাছে এসে থেমে গেল শব্দটা৷ কয়েক মুহূর্ত কোনো সাড়াশব্দ নেই৷ তার পরই দরজার বাইরে অন্ধকার থেকে ফুটে উঠল একটা মানুষের অবয়ব৷ ঘরের ভিতর উঁকি মারল একটা মাথা৷ তা দেখে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে ধূর্জটিবাবু বলে উঠলেন, ‘কে! কে তুমি?’

    আর তার পরেই আগন্তুককে চিনতে পেরে নিলু চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে উল্লাসে ধূর্জটিবাবুর উদ্দেশে বলল, ‘ও হল আমাদের সেই বন্ধু, যার আসার কথা ছিল!’

    ধূর্জটিবাবু যেন একটু অবাক হয়ে গেলেন৷ অবশ্য পলাশ আর নিলুও অবাক হয়ে গিয়েছে৷ সে যে এভাবে এখন হাজির হবে, তারা কেউ আশা করেনি৷ ধূর্জটিবাবু বললেন, ‘এসো, ভিতরে এসো৷’

    ঘরের ভিতর পা রাখল অনির্বাণ৷ সে একদম কাকভেজা৷ জল চুঁইয়ে পড়ছে মাথা থেকে৷ ঘরে ঢুকে একটু হেসে সে বলল, ‘আমার আসতে একটু দেরি হয়ে গেল৷ অনেক কষ্ট করে আসতে হল তো!’

    পলাশ বলল, ‘আমরা তো ভেবেছিলাম তুই আর এলিই না৷ অনেকক্ষণ আমরা প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করেছি তোর জন্য৷’

    অনির্বাণ পকেট থেকে একটা রুমাল বের করে মাথা মুছতে মুছতে বলল, ‘আমি যখন আসব বলেছি, তখন আসবই৷ তাই তো এত কষ্ট

    করেও . . .৷’

    ধূর্জটিবাবু এবার বললেন, ‘দাঁড়িয়ে কেন? চেয়ারে বোসো!’

    মাথা মুছে অনির্বাণ এসে বসল পলাশের পাশের চেয়ারটায়৷ এত ভিজেছে যে, মোমের আলোয় তার মুখ যেন রক্তশূন্য বলে মনে হচ্ছে৷ সে বসার পর ধূর্জটিবাবু তার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তুমিই কি মিডিয়াম হতে চেয়েছিলে? তোমার নাম কী?’

    অনির্বাণ প্রথমে ঘাড় নেড়ে জানাল, ‘হ্যাঁ৷’ তারপর বলল, ‘আমার নাম তাতাই৷’

    অনির্বাণ হঠাৎ তার ডাকনামটা বলল কেন, তা বুঝতে পারল না পলাশ৷ তার নাম শোনার পর ধূর্জটিবাবু বললেন, ‘তুমি কি জানো, যে মিডিয়াম হয়, অনেক সময় কোনো শয়তান আত্মা মিডিয়ামকে ছেড়ে যাওয়ার সময় তার ক্ষতি করে দিয়ে যায়?’

    অনির্বাণ তাঁর কথার উত্তরে বলল, ‘ক্ষতি করে মানুষেরা, আত্মা নয়৷ কোনো আত্মা আমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না৷’

    ধূর্জটিবাবুর দিকে তাকিয়ে একটু যেন রুক্ষ স্বরেই কথাগুলো বলল অনির্বাণ৷

    তার কথা শুনে ধূর্জটিবাবু কয়েক মুহূর্ত স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে গম্ভীর স্বরে বললেন, ‘বাঃ, তোমার সাহস আছে দেখছি! তবে বেশি সাহস ভালো নয়!’

    অনির্বাণ তাঁর কথার কোনো জবাব দিল না৷

    ধূর্জটিবাবু এর পর নিলুর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তোমাদের বন্ধু যখন এসেই পড়েছে, তখন আর পঞ্চমুণ্ডির আসনের গল্প বলে সময় নষ্ট করে লাভ নেই৷ তোমাদের অবিশ্বাসী বন্ধু নিশ্চয়ই ভিতরে ভিতরে উদগ্রীব হয়ে উঠেছে প্ল্যানচেটে বসার জন্য৷ বৃষ্টির মধ্যে এতটা পথ ভিজে এসেছে মিডিয়াম হবে বলে!’ এই বলে তিনি যেন মৃদু কটাক্ষ করলেন অনির্বাণকে৷

    অনির্বাণ তাঁর কথা শুনে বলল, ‘হ্যাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন৷ সময় নষ্ট করে লাভ নেই৷ আমাকে আবার ফিরে যেতে হবে৷’

    এ কথা শুনে পলাশ বলল, ‘সে কী রে? তুই আবার এই বৃষ্টিতে ফিরে যাবি?’

    অনির্বাণ একটু বিষণ্ণভাবে পলাশকে বলল, ‘না রে, আমার এখানে রাতে থাকা হবে না! অনেক লোকজন এসেছে বাড়িতে৷ আমাকে ফিরতেই হবে!’

    ধূর্জটিবাবু বললেন, ‘ঠিক আছে, তাহলে বরং শুরু করা যাক৷ দরজা দুটো বন্ধ করে দিতে হবে এবার! তবে প্ল্যানচেটে বসার আগে একটা কথা তোমাদের বলে দিই৷ কারও হার্ট দুর্বল থাকলে কিন্তু প্ল্যানচেটে না বসাই ভালো৷ দুর্ঘটনা ঘটলে আমাকে কিন্তু কেউ দোষ দিয়ো না!’

    তাঁর কথা শেষ হতেই অনির্বাণ একটা বাঁকা হাসি হেসে বলল, ‘আমাদের সকলেই হার্ট ঠিক আছে৷ আপনার হার্ট ঠিক আছে তো? আপনি নিজে ভয় পাচ্ছেন না তো?’

    তার কথা শোনামাত্রই হঠাৎ যেন দপ করে জ্বলে উঠল ধূর্জটিবাবুর চোখ দুটো৷ তিনি কী যেন বলতে গিয়েও নিজেকে সংবরণ করে নিলেন৷ মৃদু হেসে শুধু তিনি বললেন, ‘যে পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসে শবসাধনা করে, সে কোনো প্রেতাত্মাকে ভয় পায় না৷’

    নিলু উঠে গিয়ে দরজা দুটো বন্ধ করে এল৷ টেবিলের একদম কাছে চেয়ারগুলো আরও এগিয়ে নিয়ে বসল সকলেই৷ মোমটা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে৷ তার মৃদু আলোয় চেয়ারে বসে থাকা পলাশদের ছায়াগুলো কাঁপছে৷ চারপাশে কোনো শব্দ নেই৷ সকলে ঠিকভাবে বসার পর কয়েক মুহূর্ত অনির্বাণের দিকে তাকিয়ে ধূর্জটিবাবু বললেন, ‘তোমরা আমার মতো এইভাবে দু-হাতের আঙুলগুলোকে টেবিলের উপর আলতো করে ছুঁইয়ে রাখো৷ আমি আলো নেভাবার পর কেউ কোনো কথা বলবে না৷ শুধু একমনে চিন্তা করবে পরিচিত কোনো মৃত ব্যক্তির কথা৷’

    পলাশরা তাঁর দেখাদেখি টেবিলের উপর আঙুল রাখল৷ আঙুল রাখতে গিয়ে পলাশের আঙুল মুহূর্তের জন্য ছুঁয়ে গেল তার পাশে বসা অনির্বাণের হাতের পাতা৷ পলাশের মনে হল, বৃষ্টিতে ভিজে অনির্বাণের হাত যেন বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে!

    ধূর্জটিবাবু সকলের মুখের দিকে তাকিয়ে এক ফুঁয়ে মোমবাতিটা নিভিয়ে দিলেন৷ সারা ঘরে নেমে এল জমাটবাঁধা অন্ধকার৷ সকলেই এক মনে চিন্তা করতে লাগল পরিচিত কোনো মৃত মানুষের কথা৷

    নিস্তব্ধ অন্ধকার ঘর৷ মিনিট পাঁচেক পর পলাশের মনে হল, টেবিলটা যেন থরথর করে একবার কেঁপে উঠল৷ আর তারপরই শোনা গেল ধূর্জটিবাবুর গম্ভীর অথচ চাপা কন্ঠস্বর, ‘আপনি কি এসেছেন? এসে থাকলে টেবিলে একবার শব্দ করুন৷’

    টেবিলটা আরও একবার কেঁপে উঠল৷ তারপর একটা পায়ায় শব্দ শোনা গেল, ঠক!

    পলাশের একটু ভয় করল এবার৷ ধূর্জটিবাবুর গলা শোনা গেল, ‘তাহলে আপনি এসেছেন! আপনার নাম কী?’

    পলাশের পাশে বসে থাকা অনির্বাণের গলায় প্রথমে একটা ঘড়ঘড় শব্দ শুরু হল, তারপর একটা অস্পষ্ট স্বর শোনা গেল, ‘আমার . . . নাম . . . অ . . .৷’

    নামটা স্পষ্ট শোনা গেল না শেষ পর্যন্ত৷ ‘আপনার ঠিকানা কী?’ এর পর প্রশ্ন করলেন ধূর্জটিবাবু৷

    আবার সেই ঘড়ঘড় শব্দ শোনা গেল অনির্বাণের গলা থেকে৷ তারপর একটা ভাঙা ভাঙা স্বরে সে ধীরে ধীরে বলল, ‘সাতাত্তর, গণেন্দ্র মিত্র লেন, শ্যামবাজার, কলকাতা . . .৷’

    ঠিকানাটা শুনেই প্রথমে একটু চমকে উঠল পলাশ৷ আরে, এ তো তাদের দুটো বাড়ি পরেই অনির্বাণের বাড়ির ঠিকানা! ‘অ’ তা হলে অনির্বাণ৷ অনির্বাণ তা হলে কায়দা করেই তার ডাকনাম বলেছে ধূর্জটিবাবুকে৷ আসলে সে প্ল্যানচেটে বসে নাটক করে ঠকাতে চাইছে ধূর্জটিবাবুকে৷ ব্যাপারটা ভেবে ভয় কেটে গিয়ে হাসি পেয়ে গেল তার৷ হাসি চেপে রেখে সে ধূর্জটিবাবু আর অনির্বাণের কথাবার্তা শুনতে লাগল৷

    তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার কি খুব কষ্ট হচ্ছে?’

    ‘হ্যাঁ, খুব কষ্ট . . . খুব কষ্ট . . .৷ কোমরটা একদম ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছে!’ অনির্বাণের গলার স্বর যেন অনেক দূর থেকে ভেসে আসছে৷

    অনির্বাণ পারে বটে অভিনয় করতে৷ মনে মনে ভাবল পলাশ৷

    ধূর্জটিবাবু বললেন, ‘ও, তার মানে অপঘাতে মৃত্যু হয়েছে আপনার? কীভাবে?’

    ‘একটা গাড়ি . . . একটা গাড়ি চাপা দিল আমাকে . . . সব শেষ . . .৷’ জবাব দিল অনির্বাণ৷

    ‘কী গাড়ি ছিল সেটা? বাস না লরি?’

    ‘না, না, বাস নয়, একটা . . . একটা . . . অ্যাম্বাসাডর . . .৷ আজ দুপুরে . . . পার্ক সার্কাসের মোড়ে . . .৷’

    এর পর সে কী বলল ঠিক বুঝতে পারল না পলাশ৷

    ধূর্জটিবাবু তার কথা শুনে বলে উঠলেন, ‘তার নম্বর কত ছিল?’

    পলাশের মনে হল, প্রশ্নটা করার সময় তাঁর গলাটা যেন কেঁপে উঠল৷ কয়েক মুহূর্তের নিস্তব্ধতা৷ তারপরই অনির্বাণের স্পষ্ট উত্তর শোনা গেল, ‘ডব্লু বি কিউ ৫৫৫৫৷’

    তার কথা শোনার সঙ্গেসঙ্গেই অন্ধকারের মধ্যে প্রচণ্ড জোরে আর্তনাদ করে উঠলেন ধূর্জটিবাবু৷ তারপর দুম করে একটা শব্দ হল৷ পলাশের মনে হল ধূর্জটিবাবু যেন চেয়ার থেকে মাটিতে পড়ে গেলেন৷ পরক্ষণেই প্রচণ্ড জোরে হাসতে শুরু করল অনির্বাণ৷

    ব্যাপারটা কী হল ঠিক বুঝতে পারল না পলাশ বা নিলু৷ হাসতে হাসতে অনির্বাণ বলল, ‘দেখ, দেখ, তোদের পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসা সিদ্ধপুরুষ নিজেই কেমন ভয় পেয়ে গেলেন৷’ তারপর সে হাসি থামিয়ে বলল, ‘কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনে হয় তোর বিশ্বাসই ঠিক নিলু!’

    তার কথা শেষ হওয়ার পর আবার ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল৷ হঠাৎ কীভাবে যেন ঘরের একটা দরজা শব্দ করে খুলে গেল৷ একঝলক ঠান্ডা বাতাস ঢুকল ঘরের ভিতর৷

    পলাশ বলল, ‘ধূর্জটিবাবু, ও ধূর্জটিবাবু! আপনার কী হল? অনির্বাণ, অ্যাই অনির্বাণ?’

    কিন্তু কারও কোনো শব্দ পাওয়া গেল না৷ নিলুও তাদের নাম ধরে ডাকল৷ তারপর পকেট থেকে একটা লাইটার বের করে জ্বালল৷ মৃদু আলোয় তারা দেখতে পেল মাটিতে পড়ে আছেন ধূর্জটিবাবু৷ তাঁর মুখ দিয়ে গাঁজলা বেরোচ্ছে৷

    কিন্তু অনির্বাণ ঘরের মধ্যে নেই৷ তার চেয়ার খালি৷ নিলু লাইটার দিয়ে মোমের টুকরোটা জ্বালিয়ে দিল৷ ধূর্জটিবাবুর পাঞ্জাবির পকেট থেকে টর্চটা ছিটকে পড়েছিল মেঝের উপর৷

    পলাশ সেটা চট করে কুড়িয়ে নিয়ে নিলুকে বলল, ‘তুই ধূর্জটিবাবুকে দেখ৷ আমি দেখি অনির্বাণ কোথায় গেল? সে এভাবে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল কেন?’

    ঘর ছেড়ে খোলা দরজা দিয়ে বারান্দায় বেরিয়ে এল পলাশ৷ টর্চ জ্বালিয়ে সে দেখতে পেল, কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে ধূর্জটিবাবুর গাড়িটা৷ টর্চের আলো মাঠের বেশি দূরে যাচ্ছে না৷ আর কিছু দেখা যাচ্ছে না মাঠে৷ বারান্দাতেও সে নেই৷

    বারান্দা থেকে মাঠে নেমে কয়েক পা এগিয়ে টর্চের আলো চারপাশে ঘোরাতে ঘোরাতে চিৎকার করে বলে উঠল পলাশ, ‘অনির্বাণ, অ্যাই অনির্বাণ, তুই কোথায় গেলি?’

    ঠিক সেই সময় পলাশের পকেটে বেজে উঠল মোবাইলটা৷ কানে দিতেই ওপাশ থেকে মোবাইলে ভেসে এল পলাশদের বন্ধু অসীমের গলা, ‘কে পলাশ? আমি অসীম বলছি৷ তোরা যেখানে আছিস সেখান থেকে এখনই কলকাতায় ফিরে আয়৷ খুব জরুরি৷ অনেকক্ষণ ট্রাই করার পর তোদের ধরতে পারলাম!’

    পলাশ বলল, ‘কেন, কী হয়েছে?’

    কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে অসীম বলল, ‘অনির্বাণ আর নেই৷ আজ দুপুরে পার্ক সার্কাসের মোড়ে একটা অ্যাম্বাসাডর তাকে . . .৷’

    আর বলতে পারল না অসীম৷ কান্নায় ভেঙে পড়ল৷

    পলাশ তাকে চিৎকার করে বলল, ‘কী বলছিস তুই? অনির্বাণ তো এক্ষুনি . . .৷’

    কথাটা শেষ করতে পারল না পলাশ৷ উত্তেজিতভাবে তার টর্চ ধরা হাতটা নাড়াতে গিয়ে টর্চের আলোটা যেন হঠাৎ আটকে গেল কিছু দূরে দাঁড়ানো ধূর্জটিবাবুর অ্যাম্বাসাডরের নম্বর প্লেটের উপর৷ পলাশ দেখতে পেল, সেখানে জ্বলজ্বল করছে গাড়ির নম্বরটা ‘ডব্লিউ বি কিউ ৫৫৫৫’!

    টর্চটা খসে পড়ল তার হাত থেকে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসূর্যমন্দিরের শেষ প্রহরী – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সূর্যমন্দিরের শেষ প্রহরী – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }