Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আওরঙ্গজেব : ব্যক্তি ও কল্পকথা – অড্রি ট্রুসকে

    লেখক এক পাতা গল্প142 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নীতিপরায়ণ মানব ও নেতা

    ধর্মভক্তি ও ক্ষমতা

    সম্রাট [আওরঙ্গজেব] একটি দোয়া লিখে সেটিকে [বন্যার] পানিতে নিক্ষেপ করলেন। সাথে সাথেই পানি কমতে শুরু করল। খোদাভক্ত সম্রাটের দোয়া খোদা কবুল করলেন, দুনিয়া আবারো শান্ত হলো ।
    –ভীমসেন স্যাক্সেনা, আওরঙ্গজেব বাহিনীর এক হিন্দু সৈনিক, লিখেছেন ফারসিতে

    অন্য সব মোগল শাসকের মতোই আওরঙ্গজেব মুসলিম হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, জীবনজুড়ে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ধর্মের অনুশীলন করেছেন। অনেক আগে মারা যাওয়া সম্রাটদের মনের ভাবনা সম্পর্কে জানা অসম্ভব। তবে তাদের কর্মের ওপর ভিত্তি করে মনে হতে পারে যে আওরঙ্গজেব তার পূর্বসূরিদের চেয়ে বেশি ধার্মিক ছিলেন। তিনি তার পূর্বপুরুষদের চেয়ে অনেক বেশি নিয়মিত নামাজ পড়তেন। আর মদ্যপান ও আফিম থেকে বিরত ছিলেন। এই দুটি নেশায় মোগল পরিবারের অনেক পুরুষ সদস্য মারা গেছেন। ১৬৬০ এর দশকে আওরঙ্গজেব কোরআনে হাফেজ হন। শেষ বয়সে তিনি নামাজের টুপি সেলাই করতেন, নিজ হাতে পবিত্র কোরআনের অনুলিপি প্রস্তুত করতেন। এসব কাজ তিনি করতেন ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ।

    তবে আওরঙ্গজেব ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনোভাবেই বিশুদ্ধবাদী ছিল না । বরং তিনি সারা জীবন প্রখ্যাত হিন্দু ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সাথে পরামর্শ করেছিলেন, যেমনটি করেছিলেন তার পূর্বসূরি মোগল সম্রাটেরা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৬৮০-এর দশকে আওরঙ্গজেব বৈরাগী হিন্দু শিব মঙ্গলদাস মহারাজের সাথে ধর্মীয় আলোচনা করেন, ওই সন্ন্যাসীকে বিপুল উপহার প্রদান করেন। সম্রাটের সাথে ইসলামি সুফি সম্প্রদায়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এটিও ছিল দীর্ঘ দিন ধরে অনুসরণ করা মোগল ঐতিহ্য। এর প্রমাণ পাওয়া যায় মহারাষ্ট্রের একটি চিশতি দরগায় তার কবর হওয়ার মধ্যে। একটি ছবিতে দুই ছেলেকে নিয়ে রাজস্থানের আজমিরে মইনুদ্দিন চিশতির (মৃত্যু ১২৩৬) দরগায় যেতে দেখা যায় আওরঙ্গজেবকে। ছবিটি সম্ভবত ১৬৮০ সালের দিকের (চিত্র ৫)। ইসলাম সম্পর্কে আওরঙ্গজেবের বিশ্বাসের মধ্যে অনেক তাবিজ-কবজের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একবার যুদ্ধের সময় তিনি দোয়া-দরুদ লিখে সেগুলো রাষ্ট্রের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়া ঝান্ডা ও পতাকায় গেঁথে দিয়েছিলেন।

    আওরঙ্গজেব প্রায়ই তার নিজের ও অন্যদের কল্যাণের জন্য প্রকাশ্যে তার ধর্মভক্তি প্রকাশ করতেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যুদ্ধ পতাকায় দোয়া দরুদ লিখে সেলাই করার কথা বলা যায়। তিনি কাজটি করতেন তার ও তার সৈন্যদের দৃষ্টিতে জয় নিশ্চিত করার জন্য। সম্রাট একবার দোয়া লিখে বন্যার পানিতে নিক্ষেপ করেছিলেন। ভীমসেন স্যাক্সেনার ভাষায় এতে পানি হ্রাস পেয়েছিল। আরেক ইতিহাসবিদ লিখেছেন, যুদ্ধের মধ্যেই তিনি তার ধর্মনুরাগ প্রকাশ করার লক্ষ্যে নামাজ পড়ার জন্য ঘোড়া থেকে নেমে গিয়েছিলেন। তিনি কাজটি করেছিলেন তার সৈন্যদের এই আত্মবিশ্বাস বাড়াতে যে আল্লাহ তাদের পক্ষে আছেন। আওরঙ্গজেব হতে চাইতেন ভালো মুসলিম এবং তা অন্যদের দেখাতেও চাইতেন ।

    মুসলিম শাসক হিসেবে আওরঙ্গজেবের ধর্মীয় আদর্শ দাবি করত যে তিনি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন, তার নাগরিকদের সুরক্ষা দেবেন। তিনি তার নাতি আজিমুশ্বানের কাছে লেখা এক পত্রে লিখেছেন : ‘তুমি ইহকাল ও পরকালের সুখের উৎস হিসেবে প্রজাদের সুরক্ষা প্রদানকে বিবেচনা করতে পারো।’ তবে ইসলামের সাথে তার প্রকাশ্য সম্পর্ক নিয়ে সম্রাট বারবার সমস্যায় পড়তেন । দুটির মধ্যে সঙ্ঘাতের সৃষ্টি হলে আওরঙ্গজেব সাধারণত রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বেদীতে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা বলি দিতেন, যদিও এ ধরনের সিদ্ধান্ত তার বুকে ভারী বোঝা হয়ে থাকত ।

    —

    পিতাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ও তাকে অর্ধ দশকেরও বেশি সময় আটকে রেখে ইসলামি বিধান লঙ্ঘন করেছিলেন আওরঙ্গজেব। আমি আগেই বলেছি, মক্কার শরিফ এই রায় স্পষ্টভাবে দেন। তিনি আওরঙ্গজেবের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দেন যে শাহ জাহান জীবিত থাকা পর্যন্ত হিন্দুস্তানের বৈধ শাসক হিসেবে তাকে স্বীকৃতি দেবেন না। মক্কার শরিফের মন পরিবর্তনের চেষ্টায় কখনো বিরাম দেননি আওরঙ্গজেব। এতে মনে হয়, মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের অনুমোদনের অভাব মোগল সম্রাটকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। ১৬৬৬ সালে শাহ জাহান ইন্তিকাল করলে সমস্যাটির আপনা-আপনি সমাধান হয়। তবে এর মধ্যবর্তী সাড়ে সাত বছরের ইসলামি নীতিমালার লঙ্ঘনের জন্য আওরঙ্গজেবকে অত্যন্ত চড়া মূল্য দিতে হয়েছিল।

    এর কয়েক দশক পর এক ইউরোপিয়ান পর্যটক অভিমত প্রকাশ করেছেন যে আওরঙ্গজেবের মদ্যপানসহ ‘কঠোর সংযম’ ছিল তার পিতার প্রতি করা তার আগেকার পাপের প্রায়শ্চিত্ত। এই সূক্ষ্ম যোগসূত্র নির্ভুল হোক বা না হোক, খুব সম্ভবত অবৈধ মুসলিম রাজা হিসেবে আওরঙ্গজেবকে চিহ্নিত করার কারণেই তিনি আরো নিবেদিতপ্রাণ মুসলিমে পরিণত হতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। ঐকান্তিকতার সাথে পবিত্র কোরআন মুখস্ত করা, পবিত্র কোরআনের অনুলিপি তৈরী করাসহ তার আরো সুস্পষ্ট ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হওয়ার ঘটনা ঘটে তার সিংহাসনে আরোহণের পর। এখানে, আওরঙ্গজেবের ধার্মিকতা রাষ্ট্রীয় নীতিতে তেমন প্রভাব ফেলেনি যেভাবে তার রাজকীয় অভিজ্ঞতা তার ধার্মিক জীবনে পরিবর্তনকে উদ্দীপ্ত করেছিল।

    তার শাসন পরিক্রমার ধারায় ইসলামি ধর্মীয় আদর্শ ও মোগল রাষ্ট্রীয় স্বার্থের মধ্যে আরো নানা সঙ্ঘাতের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রায় সব ক্ষেত্রেই আওরঙ্গজেব রাষ্ট্রীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিতেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৬৮৬ সালের বিজাপুর অভিযানকালে বিজাপুরের ধর্মবিদদের একটি দল আওরঙ্গজেবের কাছে গিয়ে এই যুক্তিতে অবরোধ তুলে নিতে বলেন যে একই মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা অন্যায়। আওরঙ্গজেব অনড় থাকেন, তিনি বিজাপুরের পতন না হওয়া পর্যন্ত তার নৃশংস কৌশল কঠোরভাবে প্রয়োগ করেন। সম্রাট তারপর বিজাপুরি প্রাসাদের কিছু দেয়ালচিত্র মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন এটা বোঝাতে যে মোগল ধর্মীয় রাষ্ট্রের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ছবিগুলো পৌত্তলিকতাবিষয়ক!

    তিনি যখন মনে করতেন, কোনো কাজ সাম্রাজ্যের স্বার্থ পূরণ করবে তখন আওরঙ্গজেব এমনকি আগে অনুমোদিত ইসলামি নীতিমালার সাথেও আপস করতেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৭০০ সালে মারাঠা শক্ত ঘাঁটি সাতারা দুর্গ অবরোধের সময় মোগল সৈন্যরা ৯ হিন্দু ও চার মুসলিমকে আটক করে। আওরঙ্গজেবের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রণীত আইনি গ্রন্থ ফতোয়া-ই-আলমগিরি অনুযায়ী এক মোগল বিচারক চার মুসলিমকে তিন বছর করে কারাদণ্ড ও ইসলাম গ্রহণ করার শর্তে হিন্দুদেরকে মুক্তির রায় দেন। এই সাজা ছিল বেশ নমনীয়। এতে অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ায় আওরঙ্গজেব ওই বিচারককে ‘অন্যভাবে রায় দিতে বলেন, যাতে রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া না হয়।’ সূর্যোদয়ের আগেই বিদ্রোহী সবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

    —

    ইসলামের প্রাজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ তথা আলেম সমাজ আওরঙ্গজেবের প্রয়োজন অনুযায়ী ধর্মীয় বিবেকজনিত দ্বিধা ত্যাগ করার আগ্রহের ব্যাপার নিয়ে অন্ধ হয়ে থাকেনি পূর্ববর্তী মোগল শাসকদের মতো আওরঙ্গজেবও তার পুরো রাজত্বকালে আলেমদের, বিশেষ করে কাজি হিসেবে তাদের ভূমিকার সাথে সঙ্ঘাতে জড়িয়েছেন। সিংহাসন দখল করেই তিনি প্রধান কাজি হিসেবে আবদুল ওয়াহাবের নাম ঘোষণা করেন। এর কারণ হলো, তার পূর্ববর্তী প্রধান কাজি পিতাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আওরঙ্গজেবের পাপ এড়িয়ে যাননি। কয়েক দশক পর আবদুল ওয়াহাবের ছেলে (তিনিও ছিলেন কাজি) শায়খুল ইসলামের সাথে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এই কাজি ইসলামি দেশ বিজাপুর ও গোলকুন্ডা দখল ও অনেক মুসলিমকে হত্যার বিষয়টি অনুমোদন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। শায়খুল ইসলাম অল্প সময়ের মধ্যেই পদত্যাগ করে হজে চলে যান। রাজকীয় নিয়মের সাথে সামঞ্জস্য নিয়ে চলতে অস্বীকৃতিকারী ব্যক্তিকে অপসারণ করার জন্য এটি ছিল মোগলদের দীর্ঘ দিন ধরে অনুসরণ করা ব্যবস্থা।

    আকবরের আমল থেকেই মোগল শক্তির মধ্যে ভারসাম্য বিধানে অন্যতম উপাদান ছিল আলেম সমাজ। আকবর এই সম্প্রদায়ের অধিকতর কঠোর সদস্যদের বিদ্রূপ করতেন, কয়েকজন সোচ্চার ব্যক্তিকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিলেন। আকবরের অনুকরণে আওরঙ্গজেবও তার সিংহাসন আরোহণের বিরোধিতাকারী শাহ জাহানের প্রধান কাজির মতো আলেম সমাজের সমস্যা সৃষ্টিকারী সদস্যদের অসন্তুষ্ট করার ঊর্ধ্বে ছিলেন না। তবে সম্ভব হলে আলেমদের প্রশান্ত রাখার জন্য আওরঙ্গজেব তাদের সাথে নমনীয় আচরণ করতেন, বিশেষ করে তাদের জন্য আয়ের ব্যবস্থা করে দিতেন ।

    আওরঙ্গজেব ফতোয়া-ই-আলমগিরি লেখার জন্য অনেক জ্ঞানী মুসলিমকে অর্থ প্রদান করেছিলেন। ১৬৬৭ থেকে ১৬৭৯ সালের সময়কালে এটি রচনা করা হয়েছিল। আওরঙ্গজেবের আমলে আলেমরা জনসাধারণের নৈতিক চরিত্র সংশোধনের দায়িত্বেও ছিলেন, জিজিয়ার কর তারাই আদায় করতেন । ১৬৭৯ সালের শুরুতে আওরঙ্গজেব তার সাম্রাজ্যে সামরিক সেবা না দেওয়ার বিপরীতে জিজিয়া কর আরোপ করেন। রাজপুত ও মারাঠা রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা, ব্রাহ্মণ ধর্মীয় নেতাদের এই কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তবে সাধারণ জৈন, শিখ ও অন্যান্য অমুসলিমের জন্য তা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়। জিজিয়া কর মোগল সাম্রাজ্যে প্রায় ১০০ বছর বাতিল ছিল। আওরঙ্গজেবের এটি পুনঃজীবিত করার একটি কারণ ছিল এর সংগ্রহের দায়িত্বে আলেমদের নিয়োজিত করার জন্য। তাত্ত্বিকভাবে জিজিয়ার ফলে আলেমদের মধ্যে বিশেষ করে যারা যথার্থ ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে মোগল সাম্রাজ্যকে চিহ্নিত করে সম্রাটদের ধর্মীয় আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহে ভুগতেন তাদের মধ্যে আওরঙ্গজেবের খ্যাতি বাড়াতেও সহায়ক হয়েছিল।

    আওরঙ্গজেবের অনেক অভিজাত (এদের মধ্যে ছিলেন অনেক প্রখ্যাত মুসলিম ও রাজপরিবারের সদস্য, যেমন আওরঙ্গজেবের বড় বোন জাহানারা ) দুর্বল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে জিজিয়া নিয়ে তীব্র বিদ্রূপ করেছিলেন। এই কর অনেক হিন্দুকেও কষ্ট দেয়। আওরঙ্গজেবকে লেখা এক কঠোর সমালোচনামূলক পত্রে (এটি হয় শিবাজি কিংবা ১৬৫২-১৬৮২ সাল পর্যন্ত মেবার শাসনকারী রাজপুত শাসক রানা রাজ সিং লিখেছিলেন) জিজিয়াকে ফালতু হিসেবে অভিহিত করেছিলেন এই যুক্তিতে যে এটি আকবরের আমল থেকে মোগল নীতির ভিত্তি হিসেবে বিরাজমান সুলেহ কুল (সবার জন্য শান্তি) ধারণার পরিপন্থী।

    বাস্তবে, জিজিয়া পুনঃবহাল শক্তিশালী আলেমদের ওপর আওরঙ্গজেবের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়নি। সমসাময়িক অনেক ঘটনায় জিজিয়া সংগ্রহে অনিয়মের চিত্র পাওয়া যায়। সংগৃহীত অর্থের একটি বড় অংশই লোভী সংগ্রহকারীদের পকেট থেকে বের হয়নি। এ ধরনের চুরি বন্ধ করতে অক্ষম ছিলেন আওরঙ্গজেব।

    নৈতিক তদারকি

    রাজা হলেন গরিবের রাখাল, এমনকি যদি তিনি তার মহিমা দিয়ে তাদের ভীতও করেন।
    রাখালের জন্য ভেড়া থাকে না। ভেড়ার সেবা করার জন্যই রাখালের অস্তিত্ব থাকে ।
    –সাদি, গুলিস্তাঁ

    আওরঙ্গজেবের তার আদর্শের সাথে আপস করতে ইচ্ছুক থাকলেও বাদশাহ তার প্রজাদের প্রতি পিতৃমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গির বাধ্যবাধকতাকে সমর্থন করতেন । তিনি মনে করতেন যে তার সাম্রাজ্যে বসবাসকারী সবার কেবল দৈহিকই নয়, তাদের নৈতিক কল্যাণের দায়িত্বও তার। সে অনুযায়ী তিনি তার সাম্রাজ্যে বসবাসকারীদের নৈতিক জীবনযাপন করতে তাদেরকে উৎসাহিত, এবং এমনকি জবরদস্তিও করতেন ।

    আওরঙ্গজেব নিজেকে নীতিপরায়ণ নেতা হিসেবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে ন্যায়বিচার ও নৈতিকতাবিষয়ক ইসলামি আদর্শ সামনে আনতেন। তার পিতৃসুলভ প্রবণতা গড়ে ওঠেছিল সাদির গুলিস্তাঁর (গোলাপ উদ্যান) মতো ফারসি নীতিবাদী গ্রন্থাবলীতে পাওয়া রাজাদের দুঃখদায়ক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। এসব সতর্ক রাজা শাসন করতেন ভালোই, তবে ধারণা করা হতো, তাদের বেশির ভাগই ছিলেন সবচেয়ে পাপাচারপূর্ণ স্বৈরাচার। উল্লেখ্য, আওরঙ্গজেব হিন্দু ও মুসলিম সবারই কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি ধর্ম নির্বিশেষে সব প্রজার জন্য একই ধরনের আচরণবিধি প্রণয়ন করেছিলেন। কিছু ঘটনায় দেখা যায়, তিনি একটি ধর্মীয় গ্রুপের নির্দিষ্ট ইস্যুগুলোর সমাধান করছেন, যদিও তিনি কার্যত সবার জন্য প্রযোজ্য নীতিই তাতে প্রয়োগ করছেন।

    মোগল ভারতে বসবাসকারীদের মধ্যে নীতিপরায়ণতা প্রচারের জন্য আওরঙ্গজেব যেসব সবচেয়ে সাধারণ ধরনের রাষ্ট্রীয় নীতি প্রয়োগ করেছিলেন, সেগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল নানা নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ! আওরঙ্গজেব তার রাজত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে অ্যালকোহল, আফিম, পতিতাবৃত্তি, জুয়া, উস্কানি সৃষ্টিকারী ধর্মীয় লেখালেখি, ধর্মীয় উৎসব সার্বজনীনভাবে উদযাপনসহ বিভিন্ন পাপাচার সীমিত বা নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন। মুহতাসিবদের (সেন্সর) দায়িত্ব ছিল নৈতিক বিধিমালা প্রয়োগ করা, প্রতিটি নগরীতে আলেমদের অনেকে এই কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ ধরনের বিধিনিষেধের যৌক্তিকতা ও লক্ষ্য ছিল অভিন্ন : জনসাধারণ ও ব্যক্তির জীবনবিধান। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট মৌলিক উদ্বেগগুলোও অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্দীপনা সৃষ্টি করত। এগুলোই তাত্ত্বিকভাবে নীতিপরায়ণ ও নিরাপদ রাজ্য হিসেবে মোগল ভারতকে তৈরীতে হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল। আওরঙ্গজেব দৃঢ়ভাবে এই মনোভাব পোষণ করতেন যে নৈতিকতা হলো রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ও শাসিতদের কল্যাণ সুরক্ষিত রাখার শাসকের বৃহত্তর কর্তব্যের আওতাভুক্ত বিষয়।

    —

    আওরঙ্গজেব তার পুরো সাম্রাজ্যে অ্যালকোহল পান হ্রাস করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার আমলে যেসব উল্লেখযোগ্য নীতি ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছে, তার মধ্যে এটি একটি। অ্যালকোহলকে ব্যাপকভাবে অনৈস্লামিক হিসেবে নিন্দা করা হতো, মোগল সম্রাটেরা অ্যালকোহল পানে নিরুৎসাহিত করার জন্য ধর্মীয় নীতির আলোকে সোচ্চার ছিলেন। উদাহরণ হিসেবে জৈন সন্ন্যাসী শান্তিচন্দ্রের কথা বলা যায়। তিনি ১৫৯০ সালের দিকে আকবরের ‘অ্যালকোহল নিষিদ্ধ করা’ নিয়ে আলোচনা করে বলেছিলেন যে ‘এটি সার্বজনীনভাবে নিষিদ্ধ হওয়া উচিত।’ জাহাঙ্গীরও অ্যালকোহল নিষিদ্ধ করেছিলেন (যদিও তিনি ছিলেন পুরো মাত্রায় মদ্যপ)। এই নিষেধাজ্ঞা বারবার আরোপ করায় মনে হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা ছিল অকার্যকর।

    বিফল হওয়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও আওরঙ্গজেব তার পূর্বপুরুষদের অনুকরণ করে মদ ও তাড়ি বিক্রি সীমিত করার চেষ্টা করেন। ফরাসি পর্যটক ফ্রাসোয়া বার্নিয়ারের সাক্ষ্য অনুযায়ী মদ ছিল ‘জেন্টিল ও মোহামেতান [হিন্দু ও মুসলিম] উভয় আইনেই নিষিদ্ধ,’ এবং দিল্লিতে তা সহজলভ্য ছিল না। তবে সাধারণভাবে, আওরঙ্গজেবের ভারতবর্ষে অ্যালকোহল গলধঃকরণ ছিল ব্যাপক অষ্টাদশ শতকের প্রথম দিকে আওরঙ্গজেবের দরবারে ইংরেজ রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম নরিস সাক্ষ্য দিয়েছেন, আসাদ খান (১৬৭৬ থেকে ১৭০৭ সময়কালে প্রধান উজিড়) ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তার কাছে ‘কড়া মদের চেয়ে প্রিয় আর কিছু নেই এবং হাতের কাছে পেলে তারা প্রতিদিন তা পান করেন। সে অনুযায়ী, আসাদ খানের কাছে কিছু মদ ও পছন্দের পানপাত্র (যা দিয়ে কড়া পানি’ গলধঃকরণ করা যাবে) পাঠিয়ে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন ।

    আওরঙ্গজেব ব্যক্তিগতভাবে অ্যালকোহল পান করতে অস্বীকৃতি জানালেও তিনি জানতেন, তার কর্মকর্তাদের মধ্যে খুব কম লোকই তার উদাহরণ অনুসরণ করেন। গালগল্প ও অতিরঞ্জনের প্রকট দুর্বলতাসম্পন্ন নিকোলি মানুচি লিখেছেন যে আওরঙ্গজেব একবার উত্তেজিতভাবে অভিমত প্রকাশ করেন যে হিন্দুস্তানে মাত্র দুজন মদ পান করেন না। এদের একজন হলেন তিনি ও অন্যজন হলেন প্রধান কাজি আবদুল ওয়াহাব। তবে মানুচি গোপনীয়তা ফাঁস করে তার পাঠকদের জানিয়েছেন : ‘কিন্তু আবদুল ওয়াহাবের ব্যাপারে [আওরঙ্গজেব] ভুল ছিলেন। কারণ আমি তাকে প্রতিদিন এক বোতল করে স্পিরিট (ভিনো) পাঠাতাম। তিনি তা পান করতেন গোপনে, যাতে সম্রাট তা বুঝতে না পারেন। ‘

    আওরঙ্গজেবের জারি করা অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ছিল আফিম উৎপাদন ও ব্যবহারের হ্রাস করা । এগুলোও একই ধরনের ব্যর্থ পরিণতি বরণ করে।

    —

    আওরঙ্গজেব অনেক ধর্মীয় ছুটির সার্বজনীন উদযাপন সীমিত করেন। এসব বিধিনিষেধ সব ধর্মের লোকজনকেই প্রভাবিত করেছিল। কারণ আওঙ্গজেব তার সাম্রাজ্যের সব প্রধান ধর্মের উৎসব নিয়ন্ত্রিত করেছিলেন এবং আজকের দিনের অনেক ভারতীয়ের মতো তখনও ভারতীয়রা একের পবিত্র দিনগুলো অন্যরাও পালন করত।

    আওরঙ্গজেব তার শাসনকালের অষ্টম বছরে ফারসি নববর্ষ নওরোজ, মুসলিমদের ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আজহা ‘বড় ধরনের জাঁকজমকভাবে পালনের’ ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেন। একই সময় তিনি হিন্দুদের হলি ও দিওয়ালি এবং মুসলিমদের মোহররম উদযাপনের সাথে সম্পৃক্ত হইচই হ্রাস করার চেষ্টা করেন। আওরঙ্গজেবের এসব হুকুম জারি করার আংশিক কারণ ছিল এই যে তার কাছে হইচয়ের বাড়াবাড়ি বিতৃষ্ণাকর মনে হয়েছিল । জননিরাপত্তার বিষয়গুলোও সম্ভবত তার এই উদ্যোগ গ্রহণের পেছনে কাজ করেছিল।

    মধ্য যুগের ভারতবর্ষে ধর্মীয় উৎসবগুলো প্রায়ই পরিণত হতো বিপজ্জনক বিষয়ে। উদাহরণ হিসেবে ভীমসেন স্যাক্সেনার কথা বলা যায়। তিনি মহারাষ্ট্রের ত্রিমবাকে প্রতি ১২ বছর পরপর হওয়া একটি বিশাল উৎসবের কথা বলেছেন (তিনি সম্ভবত কুম্ভ মেলার কথা উল্লেখ করেছেন)। সন্ন্যাসীদের সশস্ত্র দলগুলো এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে জড়ো হয়ে একে অন্যের বিরুদ্ধে লড়াই করত। এতে অনেকে হতাহত হতো। ভারতবর্ষ সফরকারী ফরাসি পর্যটক জ্যাঁ ডি থেভেনট বলেছেন, ১৬৬৬-৬৭ সময়কালে গোলকোন্ডায় মোহররম উদযাপন (তাতে হিন্দু ও মুসলিম উভয়ে অংশ নিত) এতই উন্মাদনাপূর্ণ হয়ে পড়েছিল যে সহিংসতা হওয়াটাই সাধারণ ব্যাপারে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। ১৬৬৯ সালে বুরহানপুরে মোহররম উৎসবের সময় ৫০ জন নিহত ও ১০০ জন আহত হয় । মোগল ভারতবর্ষে চুরি ও অন্যান্য অপরাধও ব্যাপকভাবে হতো ধর্মীয় উৎসবের সময়। যেমন গুজরাতের হলি উৎসবকারীদের বিশাল আগুন জ্বালানোর জন্য কাঠ চুরি করার প্রবণতা ছিল। আওরঙ্গজেব ১৬৬০-এর দশকের মাঝামাঝিতে এই প্রথা দমন করার জন্য তার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। একইসময় তিনি হলি ও দিওয়ালি উভয় উৎসবে অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের বিরুদ্ধে নির্দেশও দিয়েছিলেন ।

    আওরঙ্গজেব ধর্মীয় উৎসবগুলোতে প্রচুর মদ্য পান করে উন্মাদ হওয়া ও অবৈধ আচরণ করা হ্রাস করেছিলেন, তবে এ ধরনের উৎসব পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। বস্তুত, শাসনকালের প্রথম দিকে ইতোপূর্বে হিন্দু উৎসবগুলোর ওপর আরোপ করা কর হ্রাস করে এসব উৎসবকে উৎসাহিত করেছিলেন। বিপুলসংখ্যক উদাহরণে দেখা যায়, আওরঙ্গজেবের পুরো শাসনকালে লোকজন সার্বজনীন অবকাশ যাপনের সময়গুলোতে অংশগ্রহণ অব্যাহত রেখেছিল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৬৯০-এর দশকের শেষ দিকেও অনেক ইউরোপিয়ান পর্যটক ও হিন্দু লেখক হলি উদযাপনের কথা লিখেছেন। এমনকি আওরঙ্গজেবের নিজের সন্তানেরা পর্যন্ত অমুসলিম ধর্মীয় উৎসবগুলোতে অংশ নিত। আওরঙ্গজেব তার জীবনের শেষ দিকে লেখা এক চিঠিতে তার ছেলে মোয়াজ্জেমকে নওরোজ উৎসবে অংশগ্রহণ করার জন্য কঠোর শাস্তি দিয়েছিলেন। আওরঙ্গজেব এই প্রাচীন প্রথাকে কিংবদন্তীপ্রতীম হিন্দু শাসক বিক্রমাদিত্যের অভিষেক উদযাপন স্মারকও মনে করতেন ।

    —

    নৈতিক আচরণ উন্নয়নের এজেন্ডার অংশ হিসেবে আওরঙ্গজেব চেষ্টা করেছিলেন তার প্রজাদের, বিশেষ করে মুসলিমদের মধ্যে ধর্মতাত্ত্বিক ঝোঁক গড়ে তুলতে । সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামে ধর্মান্তরিত করাবিষয়ক তার কথিত এজেন্ডা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়ে থাকেন আওরঙ্গজেব। কিন্তু বাস্তবে আওরঙ্গজেবের সরকার কখনো হিন্দুদের বা অন্য কোনো ধর্মের লোকদের মধ্যে ব্যাপক ধর্মান্তরের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। তবে কেউ কেউ ইসলাম গ্রহণ করার তাগিদ অনুভব করেছিল।

    ইসলামে ধর্মান্তরের ফলে অনেকে মোগল ক্রমপরম্পরার উচ্চতর ধাপে উঠতে পারত, জিজিয়া কর আদায়কারীসহ মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত অনেক চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হতো। অবশ্য, ধর্মান্তরের ফলে লোকজনকে আওরঙ্গজেবের অনুসন্ধানের আওতায়ও নিয়ে আসত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৬৯৯ সালে এক চিঠিতে দুই ব্যক্তির নিন্দা করেন এ কারণে যে তারা ‘তাদের ইসলামে ধর্মান্তর নিয়ে দম্ভ করছে এবং সম্রাটের বিরুদ্ধে কথা বলছে। আওরঙ্গজেব তাদেরকে ‘অধার্মিক লোক’ (বেদিন) হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আন্তরিকতা না থাকায় উভয়কেই কারারুদ্ধ করার আদেশ দেন তিনি |

    সার্বিকভাবে আওরঙ্গজেবের ভারতবর্ষে খুব কম হিন্দুই ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। রাজদরবারে আসা নিয়মিত বুলেটিনগুলোতে অতি সামান্য সংখ্যক ধর্মান্তরের খবর আসত, অনেক সময় সম্পর্কিত ব্যক্তিদের নামও থাকত, এদেরও বেশির ভাগ ছিল নিম্ন পর্যায়ের রাষ্ট্রীয় কর্মী।

    আওরঙ্গজেব অবশ্য মুসলিম প্রজাদের ব্যাপারে অনেক বেশি সক্রিয় ছিলেন। তিনি তাদের ধর্মের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চেয়েছেন বেশি, বিশেষ করে আহমদ সরহিন্দির (মৃত্যু ১৬২৪) নির্বাচিত কিছু লেখার ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করেছিলেন। সরসিন্দি ছিলেন সুফি নকশবন্দি তরিকার সদস্য। তিনি তার তীব্র বিতর্কমূলক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত ছিলেন। তার ওই দৃষ্টিভঙ্গি মুসলিমদের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ বাড়িয়ে দিয়েছিল। সরহিন্দি জাহাঙ্গীরের রাজত্বের শেষ দিকে ইন্তিকাল করলেও তার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে শাহ জাহানের শাসনকালে। তার গ্রন্থ কোনো কোনো মাদরাসা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, অনেকে ক্রমবর্ধমান হারে তাকে মুজাহিদ (সংস্কারক), এমনকি নবি হিসেবেও বিবেচনা করতে থাকে। সমসাময়িক ইউরোপিয়ান শক্তিগুলো যেভাবে গ্রন্থরাজি সেন্সর করত, সে তুলনায় আনুষ্ঠানিক হাতিয়ারের অভাব ছিল মোগল সাম্রাজ্যে। কিন্তু আওরঙ্গজেব ১৬৮০-এর দশকে সরহিন্দিকে আলাদা করে রাখেন, তার কিছু ধর্মতাত্ত্বিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ রচনা নিষিদ্ধ করেন।

    অনেক সময় আওরঙ্গজেব নির্দিষ্ট কিছু মুসলিম গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। এসব গ্রুপের মতবাদ ইসলাম সম্পর্কে তার ভাষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৬৪০-এর দশকে আওরঙ্গজেব তখনো ছিলেন গুজরাত পরিচালনার দায়িত্বে থাকা যুবরাজ, আহমদাবাদের মোগল সৈন্যরা মাহদাবি সম্প্রদায়ের (সহস্রাব্দবাদী এই সম্প্রদায় পনের শতকের শেষ দিকে ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠিত হয়) কয়েক ডজন সদস্যকে হত্যা করে। মাহদাবিদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ছিল। সম্ভবত এ কারণেও তাদের প্রতি এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। এর ৪০ বছর পর, তখন তারা তাদের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থান পরিবর্তন করে ফেলেছে, মাহদাবিদের একটি প্রতিনিধিদল রাজদরবারে আওরঙ্গজেব ও প্রধান কাজিকে বোঝাতে সক্ষম হন যে তারা নিরীহ, মূলধারার মুসলিম!

    আওরঙ্গজেব বিচ্যুত বিবেচিত অরাজনৈতিক মুসলিম সম্প্রদায়গুলোর ওপরও চড়াও হয়েছিলেন। যুবরাজ থাকার সময় তিনি শিয়া সম্প্রদায়ের শাখা ইসমাইলি বোহরাদের লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন। তিনি তাদের এক নেতাকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দিয়েছিলেন। আওরঙ্গজেব তার পুরো রাজত্বকালে ইসমাইলি বোহরাদের হয়রানি করেছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তিনি তার শাসনকালের অষ্টম বছরে বোহরা মসজিদগুলোতে সুন্নিদের মতোই দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার নির্দেশ দেন। তিনি কয়েক দশক পরও রাজকীয় বাহিনীর সৈন্যরা এই সম্প্রদায়ের সদস্যদের মাঝে মাঝেই গ্রেফতার করত।

    —

    পূর্ববর্তী মোগল শাসকদের মতো আওরঙ্গজেবও জনকল্যাণের নামে কোন কোন জিনিসের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে এবং ব্যক্তিগত অভিরুচির ব্যাপার হিসেবে কোনগুলোকে ছাড় দেওয়া হবে সে ব্যাপারে সতর্ক সীমারেখা টেনেছিলেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সঙ্গীতও ব্যক্তিগত অভিরুচির বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। সাধারণভাবে মনে করা হয়ে থাকে, আওরঙ্গজেব তার পুরো সাম্রাজ্যে সঙ্গীত নিষিদ্ধ করেছিলেন। এ ভুল ধারণাটির অপনোদন করেছেন ক্যাথেরিন স্কোফিল্ডের মতো বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু তা সত্ত্বেও লোকরঞ্জক ধারণার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়নি। আওরঙ্গজেব তার নিজের দরবারে সামান্য কিছু ধরনের সঙ্গীত সীমিত করেছিলেন।

    সম্ভবত আরো মজার ব্যাপার হলো, আওরঙ্গজেব কখনো তার আমলে অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যঙ্গমূলক কবিতা নিষিদ্ধ করেননি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, শেষ বয়সে সরকারি কর্মকর্তা কামগর খানের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে জনৈক কবি আদি রসাত্মক একটি কবিতা রচনা করেছিলেন। অপমানিত কামগর খান এতে বাদশাহের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। আওরঙ্গজেব জবাবে বলেন, ‘এই কবি আমাকে নিয়েও [ব্যঙ্গ কবিতা রচনা করতে ছাড়েনি। আর এর বিপরীতে আমি তার পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দিয়েছি, যাতে [এজন্য হলেও] আর সে এ কাজ না করে, কিন্তু এর পরও সে [ব্যঙ্গ] রচনা কমায়নি।’ আওরঙ্গজেব তখন আবেদনটি খারিজ করে কামগর খানকে উপদেশ দেন, ‘আমাদের উচিত হবে আমাদের সংবেদনশীলতা অবদমিত করে সম্প্রীতিতে বসবাস করা।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – অজেয় রায়
    Next Article ঈশ্বরের বাগান – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }