Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    লেখক এক পাতা গল্প2485 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২. ডাঃ টমাস

    ডাঃ টমাস

    ডাঃ টমাস বেশ রূপবান পুরুষ। গায়ের রং ধবধবে সাদা। তিরিশ বছর বয়স। চোখেমুখে সর্বদাই একটা চমকে ওঠা অভিব্যক্তি। কিন্তু ভদ্রলোক যে অত্যন্ত বুদ্ধিমান লোক, অচিরেই লিউক তার প্রমাণ প্রায়। ডাঃ টমাসের চেম্বারে আসার অজুহাতে হিসেবে লিউক নিজের গেটে বাতের কথা বলে। ওর অসুখের কথা শুনে টমাস যে ওষুধ দেন তা হার্লি স্ট্রীটের বিখ্যাত বিশেষজ্ঞ মাত্র সপ্তাহখানেক আগে দিয়েছিলেন।

    লিউক বললো–ধন্যবাদ। শুনে আশ্বস্ত হলাম যে আমার অসুখটা সেরে যাবে।

    ডাঃ টমাস হেসে বললেন–না, না, তেমন বিপদ আছে বলে মনে হয় না মিঃ ফিস উইলিয়াম্।

    লিউক বললো–সে যাই হোক, আপনি কিন্তু আমাকে বেশ নিশ্চিন্ত করলেন।

    আসলে আপনার এই অসুখে কোনো রকম জটিলতা নেই।

    আমি তো ভেবেছিলাম যে, এই গেঁটে বাতের প্রকোপে জবুথবু হয়ে একেবারেই অথর্ব হয়ে যাবো।

    লিউক তাড়াতাড়ি বললো–পুরুষ মানুষেরা সাধারণতঃ এ ভাবেই খুব তাড়াতাড়ি অথর্ব হয়ে পড়ে।

    ডাঃ টমাস প্রশ্ন করলেন–আপনি ম্যাজিক নিয়ে একখানা বই লিখেছেন না মিঃ ফিস উইলিয়াম?

    লিউক আশ্চর্য হয়ে বললো–আপনি এ কথা কি করে জানলেন?

    তিনি বললেন–আমাদের এখানকার মত জায়গায় সব খবরই তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ে; তার কারণ আমাদের প্রসঙ্গ বড়ই অল্প।

    একদিন হয়তো শুনবেন যে আমি স্থানীয় মৃত আত্মাদের আর ডাইনীদের ডেকে ধরাতলে এনেছি।

    আপনার কথাটা কিন্তু বেশ তাৎপর্যপূর্ণ!

    কেন?

    ইতিমধ্যেই আপনার সম্পর্কে গুজব রটেছে যে আপনি না কি টমি পিয়ার্সের প্রেতাত্মাকে এনেছেন।

    পিয়ার্স? ও, সেই ছেলেটি যে জানলা থেকে পড়ে গিয়েছিলো?

    হা।

    আমি ভেবে পাচ্ছি না একথা কী করে রটলো; আমি সেই উকিল ভদ্রলোকের কাছে প্রসঙ্গটা করেছিলাম–কী যেন নাম–অ্যাবট।

    হ্যাঁ, অ্যাবটের কাছ থেকেই গল্পটা রটেছে।

    তা হলেই বুঝুন।

    আপনি নিজে ভূতে বিশ্বাস করেন?

    না, তবে আকস্মিক অথবা বীভৎস মৃত্যুর ক্ষেত্রে নানা রকম অদ্ভুত লক্ষণের কথা জানি–সে সম্পর্কে আমি বেশি আগ্রহী। যেমন ধরুন, প্রচলিত আছে যে, কোনো খুন হওয়া তোক নাকি তার কবরে বিশ্রাম করতে পারে না। আমি ঠিক বুঝতে পারি না যে এসব কথা লোকে কী করে ভাবতে পারে!

    টমাস্ বলেন–আজকাল বেশির ভাগ লোকই এই সমস্ত গল্প বিশ্বাস করে না।

    বেশ প্রশান্তিময় আপনাদের এই গ্রাম। কোনো দুষ্কার্য হবার মত জায়গা এটা নয়;তবে হতে পারে যদি কেউ সেই ছোট্ট টমিকে জানলা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে থাকে।

    মনে হচ্ছে ছেলেটা একেবারে নচ্ছার ধরনের ছিলো, ওকে এই দুনিয়া থেকে সরানো হয়তো বা জনহিতকর কাজ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে।

    তা হয়তো সত্যি; তবে এই ধরনের জনহিতকর কাজ করাতো আর সম্ভব নয়।

    লিউক বললো–আপনার কি মনে হয় না যে বেছে বেছে অপ্রয়োজনীয়দের অপসারণ সমাজের পক্ষে মঙ্গলদায়ক?

    তা কথাটা মন্দ বলেননি।

    লিউক বলে–অর্থাৎ আপনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। আমি কিন্তু দিচ্ছি। কোনো মানুষ যদি প্রগতির বিরুদ্ধে কাজ করে, আমার মতে তাকে অপসারণ করা উচিত।

    ডাঃ টমাস বলেন–স্বীকার করেছি। কিন্তু কোনো মানুষ উপযুক্ত আর কোনো মানুষ উপযুক্ত নয় তার বিচার কে করবে?

    লিউক স্বীকার করে-সেটা একটা কঠিন কাজই বটে।

    ডাঃ টমাস বলেন–আমার কাজ হচ্ছে স্বাস্থ্যহীনের স্বাস্থ্য ফিরিয়ে দেওয়া এবং আমি স্বীকার করছি যে, সেটাই একটা প্রচণ্ড রকম দুরূহ কাজ।

    লিউক বললো–আচ্ছা, তর্কের খাতিরে ধরা যাক যে মৃত হ্যাঁরী কার্টার

    ডাঃ টমাস চমকে উঠলেন–কার্টার? আপনি সেই সেভেন স্টারএর বাড়িওয়ালার কথা বলছেন?

    হ্যাঁ, সেই লোকটাই। আমি লোকটাকে চিনি না। তবে আমার বোন মিস কনওয়ে ওর সম্বন্ধে বলেছিলেন।

    হ্যাঁ, ও খুব মদ খেতো, বউ-মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতো।

    তার মানে ও বিদায় হওয়ায় পৃথিবী ভারমুক্তই হয়েছে?

    এ কথাটা খুব একটা অযৌক্তিক নয়।–টমাস মন্তব্য করলো।

    ও নিজে পড়ে না গিয়ে কেউ যদি ধাক্কা দিয়ে ওকে নদীতে ফেলে দিয়ে থাকে, তাহলে বলতে হবে যে সে একরকম জনহিতকর কাজই করেছে।

    টমাস বললো–আপনি যেসব পদ্ধতির কাজ বলছেন,সেখানকার লোকজনদের ওপর প্রয়োগ করেছেন?

    লিউক হেসে বললো–না, না, এটা আমার অভিমত। কখনও প্রয়োগ করে দেখিনি।

    হঠাৎ লিউক বললো–বলুন তো, আপনি নিজে কখনো এমন লোক দেখেছেন যাকে দেখে খুনী বলে মনে হয়েছে?

    টমাস তীব্রস্বরে বলে উঠলেন–সত্যিই কী অসাধারণ প্রশ্ন!

    তাই কি? একথাটা কি অস্বীকার করতে পারেন যে, একজন ডাক্তারকে কত রকমের বিচিত্র চরিত্রের লোকজন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে হয়? তাঁর পক্ষে একজন নেশাগ্রস্ত খুনী চিনে বের করা তুলনামূলক ভাবে অনেক সহজ।

    রাগত স্বরে টমাস বলেন–খুন করা যাদের নেশা তাদের সম্পর্কে আপনার জ্ঞান দেখছি একেবারেই মামুলি। কিন্তু আমি আপনাকে বলছি শুনে রাখুন, নেশাগ্রস্ত খুনীকে চিনতে পারা দুনিয়ার কঠিনতম কাজের মধ্যে একটি।

    আপনি ঠিক বলছেন কি?

    নিশ্চয়ই ঠিক বলছি। একজন নেশাগ্রস্ত খুনী যখন খুন করে, সে তখুন ধরে নেয় যে, সে আত্মরক্ষার্থে খুন করছে। অবশ্য এমন খুনীও আছে, যারা আপনার আমার মত স্বাভাবিক এবং সাধারণ মানুষ।

    আপনি হয়তো একদিন আবিষ্কার করে বসবেন যে আমি নিজেই গোটা পাঁচ ছয় খুন করেছি।

    ডাঃ টমাস হাসলেন–আমার মনে হয় না তেমন ঘটনা ঘটবে মিঃ ফিৎস উইলিয়াম।

    দুজনেই হেসে উঠলো।

    লিউক দাঁড়িয়ে উঠে নমস্কার করে বললো–আমি আপনার অনেকটা সময় নষ্ট করে দিলাম।

    ঠিক আছে, আমি মোটেই ব্যস্ত নই। বাইরে কারুর সঙ্গে কথা বলতে পারলে বেশ ভালো লাগে।

    আমিও ভাবছিলাম যে–হঠাৎ লিউক থেমে যায়।

    কিছু বলছিলেন?

    মিস কনওয়ে যখন আমাকে এখানে পাঠান তখন আমাকে বলেছিলেন যে আপনি অত্যন্ত মেধাবী লোক।

    নিজের প্র্যাকটিস আরম্ভ করার দিক থেকে একেবারে খারাপ নয়–ভালো অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়।

    কিন্তু এমন একটা আবদ্ধ জায়গায় কি জীবন কাটিয়ে দিতে পারবেন? শুনেছি, আপনার অংশীদার ডাঃ আম্বলবির খুব একটা উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিলো না? আচ্ছা, উনি নিশ্চয়ই এখানে বহুদিন বাস করেছেন?

    বলতে গেলে সারাজীবন।

    লিউক পরিহাসের সুরে বলল–শুনেছি উনি খুব সুন্দরী একটি মেয়ে রেখে গেছেন।

    টমাস বললেন–তা–ঠিকই শুনেছেন।

    তারপর বললেন–আমরা যে অপরাধতত্ত্ব নিয়ে কথা বলছিলাম, তার ওপর লেখা একখানা ভালো বই আপনাকে আমি দিতে পারি। বইখানা জার্মান ভাষায় অনুবাদ, Kreuzheimmer-এর হীনতা এবং অপরাধ।

    লিউক বললো-ধন্যবাদ।

    ডাঃ টমাস বইখানা বের করে লিউকের হাতে দিয়ে বললেন–এই নিন। এর কোনো কোনো বিষয় সত্যিই খুব চমকপ্রদ। যদিও বিষয়গুলির বেশির ভাগই কেবলমাত্র মতামত সর্বস্ব, কিন্তু বেশ মজাদার; যেমন ধরুন, ফ্রাঙ্কফুর্টের কসাই Menzheld-এর ছোটোবেলাকার জীবন। তারপর আর একটা অধ্যায় আছে খুনী নার্স Anna Helm-এর ওপর, খুব ভালো লাগবে।

    লিউক বললো–ওকে যখন পুলিশ ধরলো, তার আগেই ডজনখানেক খুন নির্ঘাৎ করে ফেলেছিলো।

    ডাঃ টমাস বললেন–হ্যাঁ, ওর ব্যক্তিত্বের মধ্যে একটা সহানুভূতি মাখানো ভাব ছিলো। ছেলেমেয়েদের প্রাণ দিয়ে দেখাশোনা করতো; আবার তাদের পর পর মৃত্যুতে একেবারে ভেঙ্গে পড়তো। অদ্ভুত মনস্তত্ত্ব।

    আমার ভাবতে আশ্চর্য লাগে যে এই সমস্ত লোক কী করে খুনখারাপি করে সেরে যেতে পারে।

    খুব একটা আশ্চর্যের কিছু নয়; ব্যাপার খুবই সহজ।–ডাঃ টমাস বললেন।

    কী সহজ?

    সেরে যেতে পারা।–তারপর হেসে বললেন–কেবল মাত্র যদি সাবধান হওয়া যায়। আসল কথা সাবধান হতে পারাটা। একজন বুদ্ধিমান লোক কখনোই এ সমস্ত ব্যাপারে ভুল করবে না এবং ভুল না করলেই সেরে যেতে পারে।

    কথা শেষ করে ডাঃ টমাস ঘরের ভেতর ঢুকে গেলেন।

    নিজেকে একজন বুদ্ধিমান লোক ভাবতো লিউক আর ডাঃ টমাসকে ভেবেছিলো সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন একজন লোক। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে সেই ধারণা পালটে গেল। ডাক্তারের এ শিশুসুলভ হাসি–কোনো পাকা বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের।

    ***

    মিসেস পিয়ার্সের জবানবন্দী লিউকের ফুটবল খেলার পাতা খুললেই আক্ষেপ হয় যে, একটুর জন্যও একশো কুড়ি পাউণ্ডের বাজিটা জিততে পারলো না। মিসেস পিয়ার্স ওর এইকথায় সহানুভূতি জানিয়ে বলেন যে, তার স্বামীও এভাবে মাঝে মাঝেই নিরাশ হয়ে থাকেন। এইরূপ কথোপকথনের দ্বারা দুজনের মধ্যে একটা বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

    মিসেস পিয়ার্স বলেন–মিঃ পিয়ার্স ফুটবল খেলায় একজন অদম্য উৎসাহী, আর যেমন বললাম –বহুবার হতাশও হয়েছেন। তবে কপালে না থাকলে জেতা যায় না।

    লিউকও এই কপালতত্ত্বে আন্তরিক সায় দিয়ে বলে–যখন আসে তখন কষ্ট দুঃখ সব একসঙ্গে হাত ধরাধরি করে আসে।

    কথার মতো একটা কথা বলেছেন–আমি মর্মে মর্মে একথা জানি। মিসেস পিয়ার্স বলেন–বিশেষ করে যে মহিলার স্বামী আর আট ছেলেমেয়ে নিয়ে ঘর আর আটটির মধ্যে দুটিই কবরের তলায়–সে কথা ভালো করেই জানে।

    লিউক বলে–সে তো জানবেই। আপনার ছেলে-মেয়েদের মধ্যে দুজনই বুঝি মারা গেছে?

    মিসেস পিয়ার্স বলেন–একটি তো মাত্র এই মাসখানেক আগেই গেল।

    আহা, বড়ই দুঃখের ব্যাপার তো?

    শুধুই দুঃখের কী বলছেন? কী যে দারুণ আঘাত পেয়েছিলাম। টমি যে এভাবে চলে যাবে, একথা ঘুণাক্ষরেও চিন্তা করিনি। বেঁচে থাকতে ও আমায় অনেক জ্বালিয়েছে, কিন্তু এভাবে চলে গেল?

    সমবেদনা জানিয়ে লিউক প্রসঙ্গটা ভালো মেয়ে এমা থেকে টমিতে সরিয়ে আনলো।

    আপনার ছেলে বুঝি অল্পদিন আগেই মারা গেছে?

    হ্যাঁ, একটা দুর্ঘটনা ঘটলো–যে বাড়িতে আমাদের লাইব্রেরি–সেই বাড়ির জানলা সাফ করছিলো। আর পা হড়কে সেই উঁচু থেকে পড়ে গেল।সেই দিনকার ঘটনার বর্ণনা দেন মিসেস পিয়ার্স।

    লিউক জিজ্ঞেস করে–আচ্ছা, কেউ কি একথা বলেছে যে, ওকে জানলার আলসেতে দাঁড়িয়ে নাচানাচি করতে দেখা গেছে?

    মিসেস পিয়ার্স বললেন–অল্পবয়সী ছেলেরা বয়স অনুযায়ীই আচরণ করবে; তাই নিয়ে খুঁত খুঁতে স্বভাবের মেজর হর্টন অত হৈ চৈ না করলেই পারতেন।

    মেজর হর্টন?

    হ্যাঁ, এক দঙ্গল কুকুর নিয়ে ভদ্রলোক থাকেন। দুর্ঘটনা ঘটার পর উনি বলেন যে টমি খুব অসাবধান ছিলো; কিন্তু আমার মন বলে যে ও নিশ্চয়ই হঠাৎ কিছু একটা দেখে এতই চমকে উঠেছিলো যে টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যায়। তবে এই বয়সের ছেলেরা এমনটা তো হয়ই–কিন্তু ওর মনটা খারাপ ছিলো না।

    না না, সে তো ছিলোই না; তবে কথা কি জানেন মিসেস পিয়ার্স? আমরা এই মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোকেরা প্রায়ই ভুলে যাই যে আমরাও একদিন ছোটো ছিলাম।

    একটু হেসে লিউক জিজ্ঞেস করে–যাদের কাছে কাজ করতো তাদের সঙ্গে বুঝি দুষ্টুমি করতো?

    মিসেস পিয়ার্স উত্তর দেন-ও তাদের নিয়ে একটু মজা করতো-ব্যস এইটুকুই। আমাদের হাসাবার জন্য ও কখনও বা মিঃ এলসওয়ার্দির কখনও বা চার্চের পরিচালক মিঃ হবসের গলার নকল করতে তাদের মতো কথা বলতো। আবার কখনও বা বাগানের মালীদের কাছে গিয়ে খোদ লর্ডের অনুকরণ করে ওদের হাসাতো। এজন্যই তো লর্ড ওকে ছাঁটাই করেছেন; তবে ওর ওপর কোনো রাগ-বিদ্বেষ ছিলো না। পরে লর্ড নিজেই ওকে আর একটা চাকরি যোগাড় করে দিয়েছিলেন।

    কিন্তু আর কেউ ওর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতো না?

    না তা করতো না। কারও নাম করা উচিত নয়; তবে যেমন ধরুন মিঃ অ্যাবট সবার সঙ্গেই খুব ভালো ব্যবহার করেন; ওঁকে নিয়ে কথা বলা উচিত নয়।

    টমি কি ওঁর সঙ্গে কোনো ঝামেলায় পড়েছিলো।

    মিসেস পিয়ার্স বলেন–ঠিক তা নয়, তবে কথা হচ্ছে যে, যেসব কাগজপত্র খুব প্রয়োজনীয় এবং গোপনীয়, তেমন কাগজপত্র টেবিলের ওপর না রাখাই ভো উচিত–অন্ততঃ আমি তো তাই বুঝি।

    লিউক বলে–সে তো নিশ্চয়ই।

    খুব খাঁটি কথা। আমারও ওই একই কথা; মিঃ পিয়ার্সও এই কথাই বলেন। টমি কিন্তু সেইসব কাগজপত্র পড়েও দেখেনি।

    আচ্ছা, ওগুলো কী ছিলো? উইল?

    না না, ওসব নয়। তেমন কিছু দরকারী কাগজ নয়–একটা ব্যক্তিগত চিঠি, একজন মহিলার লেখাটমি নামটা পর্যন্ত দেখেনি। তাইতো বলি, তুচ্ছ একটা ব্যাপার নিয়ে এতটা হৈচৈ না করলেই হতো।

    মিঃ অ্যাবট বুঝি সহজেই সব কিছুতে দোষ ধরেন? লিউক জিজ্ঞেস করে।

    তাই তো মনে হয়। শুনেছি ভদ্রলোকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করাটা বেশ শক্ত। এই তো দেখুন, ডাঃ আম্বলবির সঙ্গে দারুণ খটাখটি ছিলো, দুজনের সম্পর্ক ছিলো যেন একেবারে সাপে-নেউলে। কিন্তু এখন যদি মিঃ অ্যাবটের সেই সমস্ত কথা মনে পড়ে, তাহলে নিশ্চয়ই ওঁর খুব খারাপ লাগবে কারণ, মারা গেলে তার ওপর আর রাগ বিরক্তি দেখাতে নেই; অথচ দেখুন, রূঢ় কথা একবার বলে ফেললে তা তো আর ফেরত নেওয়া যায় না।

    লিউক বললো-খুবই সত্যি কথা। আম্বলবিকে কঠিন কথা বলা আর তার মৃত্যু; আবার টমির সঙ্গে খারাপ আচরণ করা–তার কয়েকদিন পরে সেও মারা গেল। আমার মনে হয়, এ ধরনের পর পর দুটো অভিজ্ঞতার ফলে মিঃ অ্যাবট ভবিষ্যতে নিজের জিভকে সংযত করবেন।

    মিসেস পিয়ার্স বললেন–সেভেন স্টারস-এর হ্যারী কাটার জলে ডুবে মরবার কয়েকদিন আগে ওর সঙ্গেও দারুণ কথা কাটাকাটি হয়েছিলো। তবে এর জন্য মিঃ অ্যাবটকে দোষ দেওয়া যায় না। হতভাগী মিসেস কার্টার! কী কষ্ট করেই সে ওর সঙ্গে ঘর করতো! কার্টার মারা যাওয়ায় একদিক থেকে ওর ভালোই হয়েছে।

    কার্টারও একটা মেয়ে রেখে গেছে না?

    মিসেস পিয়ার্স বলেন–ও এই কথা। কিন্তু আমি কিছুতেই গুজব ছড়াবো না।

    আগ্রহভাবে লিউক অপেক্ষা করলো।

    আমি কখনোও বলি না যে একমাত্র কথার কথা ছাড়া আর কিছু আছে। লুসী কার্টার একদিক থেকে দেখতে শুনতে বেশ ভালো মেয়ে। তবে লোকে যা বলে তাও তো অস্বীকার করা যায় না–বিশেষ করে কার্টার গিয়ে ওর বাড়িতে এমনভাবে গালমন্দ আর চেঁচামেচি করার পর।

    লিউক বললো–মিঃ অ্যাবটকে দেখলেই মনে হয় যে ভদ্রলোক অল্পবয়স্কা সুন্দরী মেয়েদের খুবই পছন্দ করেন।

    মিসেস পিয়ার্স বলেন–সব পুরুষের ক্ষেত্রেই একথা খাটে। তা সত্ত্বেও যে ভদ্রলোক–সে ভদ্রলোকই থাকে; তবে শেষ পর্যন্ত সবই লোকের চোখে পড়ে। এমন ছোটো জায়গায় কিছুই গোপন থাকে না।

    লিউক বলে–এই জায়গাটা কিন্তু খুব সুন্দর; একেবারে নিষ্পাপ বলে মনে হয়। আপনাদের এখানে তো জমকালো এক নতুন ইনস্টিটিউট রয়েছে।

    মিসেস পিয়ার্স বললেন–লোকে অবশ্য বলে যে বাড়িটা খুব সুন্দর। আমাদের মহামান্য লর্ড সাহেব এই জায়গাটার জন্য অনেক কিছুই করেছেন, এ কথা আমরা সবাই জানি।

    প্রশ্ন করে লিউক–কিন্তু ওঁর প্রচেষ্টা খুব একটা সার্থক হয়নি, তাই না?

    শত হলেও উনি তো আর মিস ওয়েনফ্লিট বা মিস কনওয়ের মত অভিজাত ভদ্র নন। অবশ্য উনিই এখন লর্ড সাহেব হয়েছেন–ধনী হয়েছেন, কিন্তু তাতেই কি সব হয়, বলুন?

    না, তা হয় না।

    এইসব কথা বললাম বলে কিছু মনে করবেন না। আমি জানি যে আপনি ওই ম্যানর হাউসে থাকেন এবং একটা বই লিখছেন। তবে আপনি তো মিস কনওয়ের আত্মীয়; আর সেটাই হলো আসল কথা। মিস কনওয়ে ওই অ্যাশম্যানরের মালকিন হবেন শুনে আমরা সবাই খুব আনন্দিত।

    দেখতেই পাচ্ছি যে আপনারা তাতে যথার্থ আনন্দিত।

    লিউক এবার বিদায় জানিয়ে হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিলো।–এই হতচ্ছাড়া গ্রাম আমাকে যেন গ্রাস করতে বসেছে। দেখতে কেমন সুন্দর, শান্ত হাসিখুশী, নিষ্পাপ–অথচ এখানেই একের পর এক বিচিত্র খুনের প্রবাহ বয়ে চলেছে। না কি আমি নিজেই পাগল হয়ে গেলাম?

    ও একবার অপাঙ্গদৃষ্টিতে হাই স্ট্রীটের দিকে তাকালো। ওর কাছে সবই যেন কেমন অসত্য বলে মনে হলো। আপন মনে ও বলে উঠলোনা, এসব ঘটনা ঘটা সম্ভব নয়। তার পরমুহূর্তেই আবার ভাবলো এখানে সব কিছুই ঘটা সম্ভব; খুন, জখম, নিষ্ঠুরতা, ডাইনীতত্ত্ব–সবই এখানে সম্ভব।

    মাথা তুলে লিউক দূরে তাকিয়ে দেখতে পেলো দুটো অস্পষ্ট দেহ চলেছে। দূরত্ব সত্ত্বেও ও দুজনকেই চিনতে পারলো। একজন এলসওয়ার্দি অপরজন ব্রিজেট। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছিলো যেন ওরা দুজন এক স্বপ্নরাজ্য থেকে নেমে এসে নিঃশব্দে ঘাসের ওপর দিয়ে বেড়ালের মত লাফিয়ে চলেছে। এইভাবে দেখে ওর ব্রিজেট সম্পর্কে অদ্ভুত পুরানো অনুভূতিই আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো।

    নিজের মনে ও বললো–আমাকেই ডাইনীতে পেয়েছে! এ আর কিছুই নয়–ডাইনীর প্রভাব!

    নিশ্চল হয়ে ও দাঁড়িয়ে রইলো। ওকে এক অদ্ভুত ভাবনা নিথর করে দিলো। প্রশ্ন জাগলো ওর মনে–এই রহস্যের কিনারা কে করতে পারবে? কাউকে দেখতে পাচ্ছি না।

    ***

    রোজ আম্বলবি

    লিউক পেছনে সামান্য শব্দ হতে চমকে একেবারে ঘুরে দাঁড়ালো। একটি অপরূপ সুন্দরী মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটি সামনা সামনি হতেই যেন কতকটা বিব্রত হয়ে পড়লো।

    প্রশ্ন করলো মেয়েটি–আপনিই মিঃ ফিৎস্ উইলিয়াম?

    হ্যাঁ,আমিই

    আমার নাম রোজ আম্বলবি। ব্রিজেট বললো যে, আমার বাবার পরিচিত কয়েকজনকে আপনি চেনেন।

    লিউক আমতা আমতা করে বললো–সে বহুদিন আগের ব্যাপার। আপনার বাবার বিয়ের আগে তারা ওঁকে চিনতেন–উনি তখন পূর্ণবয়স্ক যুবক ছিলেন।

    রোজ আম্বলবি নিরাশ হয়ে বললো–আপনি তো একটা বই লিখছেন তাই না?

    হ্যাঁ, এই আর কি–গ্রাম্য আচার-বিচার সংস্কার ইত্যাদির ওপর ছোটোখাটো একটা নোট লিখছি।

    শুনে কিন্তু মনে হচ্ছে যে বইটা দারুণ হবে।

    মোটেই না, বরঞ্চ ঘোলা জলে ডোবার মতোই এক নৈরাশ্যময় ব্যাপার হবে।

    না না, তা কেন হতে যাবে?

    লিউক হেসে রোজ আম্বলবিকে বললো–কেউ কেউ আছে যারা একটা উৎসাহোদ্দীপক বিষয়েও একেবারে জলো করে ফেলে, আমি তাদেরই একজন।

    কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে তেমনটি হবে কেন?

    তা জানি না, তবে আমার মনে হচ্ছে তেমনই একটা কিছু হবে।

    রোজ আম্বলবি হেসে বলে–আচ্ছা আপনি এই সংস্কার, কুসংস্কারে বিশ্বাস করেন?

    খুব কঠিন প্রশ্ন-উত্তর দেওয়া শক্ত। তবে কথা হচ্ছে যে, বিশ্বাস না থাকলেও তাতে উৎসাহ থাকতে বাধা নেই।

    তা অবশ্য নেই।-রোজ বলে।

    আপনি নিজে এসব বিশ্বাস করেন?

    না, না, আমার বিশ্বাস নেই; তবে সুসময়, দুঃসময় মানি।

    সরাসরি লিউক প্রশ্ন করে–ভাগ্য?

    দুর্ভাগ্য–সৌভাগ্য–এসব মানি। দেখুন না, পরপর কত লোক মারা গেলেন। এই তো মাত্র সেদিন বাবা চলে গেলেন, মিস পিঙ্কারটন গাড়ি চাপা পড়লেন, সেই ছোট্ট ছেলেটা জানলা থেকে পড়ে গেলো; এই সব চোখে দেখে আমার মনে হয় এই জায়গাটার ওপর দুগ্রহ ভর করেছে।

    আপনি তাহলে ঘটনাগুলিকে এভাবে দেখছেন?

    আমি জানি যে এগুলো বাজে ধারণা; বাবা হয়তো এমনিতেই মারা যেতেন–কিন্তু হঠাৎই চলে গেলেন। তার ওপর আবার মিস পিঙ্কারটনও গেলেন। উনি কয়েকটা কথা বলেছিলেন। –শিউরে উঠলো রোজ আম্বলবি।

    উনি কী বলেছিলেন? ভদ্রমহিলা খুব হাসিখুশি স্বভাবের ছিলেন।

    রোজ বলল–আপনি চিনতেন? ওঁকে আমার খুব ভালো লাগতো। কিন্তু আমার অনেক সময় সন্দেহ হতো যে ওঁর মাথায় কোনো গণ্ডগোল আছে কি না।

    কেন?

    কারণ উনি প্রায়ই কতকগুলো অদ্ভুত কথা বলতেন। সর্বদা ওঁর একটা ভয় ছিলো যে, বাবার একটা কিছু বিপদ ঘটবে। আমার কিন্তু মনে হয় মিঃ লিউক যে, ওঁর একটা তৃতীয় চোখ ছিলো; এবং এ থেকেই হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন যে, বাবার একটা বিপদ-আপদ ঘটবে।

    লিউক বলে–কখনো কখনো মানুষ ভবিষ্যৎকে দেখতে পায় এবং ঐ দেখতে পাওয়াটা সব সময়ে ভুতুড়ে কাণ্ড নয়।

    আমার তাই মনে হয়।

    লিউক বলে–দুশ্চিন্তা করবেন না। যা ঘটার ঘটে গেছে। অতীতের জন্য দুর্ভাবনা করে কোনো লাভ নেই।

    তা ঠিক, কিন্তু রোজ ইতস্ততঃ করে বলে–আপনার বোনের জন্য আমার চিন্তা হয়।

    আমার বোন? ব্রিজেট?

    হ্যাঁ, মিস পিঙ্কারটনও ওকে নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলেন। ব্রিজেটের জীবন নিয়ে ওঁর একটা আতঙ্ক ছিলো।

    লিউক ঘাবড়ে গেলো। সেই লোকটার সঙ্গে ব্রিজেট একা আসে। এলসওয়ার্দির কুৎসিত মাংসল হাত দুখানা ওর মানস চক্ষে, ভেসে ওঠে, না না,-এ হতে পারে না। এলওয়ার্দি একজন সাধারণ দোকানদার–কারও ক্ষতি করার মত শক্তি ওর নেই।

    বুঝতে পেরে রোজ বললো-এলসওয়ার্দিকে আপনার ভালো লাগে?

    একেবারেই না।

    জিওফ্রে মানে, ডাঃ টমাসও ওকে পছন্দ করেন না।

    আপনি?

    আমিও না। দেখলেই কেমন বিকট মনে হয়। শুনেছি ডাইনীদের মাঠেও নাকি কি সব অদ্ভূত পুজো-পার্বণ করে আর তাতে ওর অনেক বন্ধু লণ্ডন থেকে এসে যোগ দেয়। টমি পিয়ার্স ছিলো ওদের একজন চেলা।

    প্রশ্ন করে লিউক–টমি পিয়ার্স?

    হা!

    এসব কবেকার ঘটনা?

    অনেক দিন আগের–মনে হয় গত মার্চ মাসের।

    এই গ্রামে যা কিছুই ঘটতো, তার সবকিছুর মধ্যেই টমি পিয়ার্স থাকতো।

    ও দারুণ কৌতূহলী ছিলো; সব কিছুই ও জানতে চাইতো।

    শেষকালে ও বোধ হয় একটু বেশি জেনে ফেলেছিলো–গম্ভীর হয়ে লিউক বললো।

    রোজ বললো–ও অতি জঘন্য চরিত্রের ছেলে ছিলো।

    তার মানে ওর মৃত্যুতে কেউ খুব একটা দুঃখিত হয়নি?

    আমার তো তাই মনে হয়।

    শুনেছি তাঁর দুঃখ ভুলবার জন্য আরও ছ-ছজন বিদ্যমান। ভদ্রমহিলার জিভখানা কিন্তু খুব জোরালো।

    হা, অত্যন্ত বেশি কথা বলে।

    ওঁর দোকান থেকে কটা সিগারেট কিনে এখানকার প্রতিটি লোকের নাড়ি-নক্ষত্র আমার জানা হয়ে গেছে।

    রোজ বলে–এ সমস্ত জায়গার এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় দোষ–সবাই সবার সব কিছু জানে।

    লিউক বলে–না না, তা হতেই পারে না। একজনের সবটুকু সত্য অন্য আর একজন কখনোই পুরোপুরি জানতে পারে না।

    রোজ বলে–সত্যি কথাই বলেছেন।

    এমন কি একজনের নিকটতম পরমাত্মীয় সব কথা জানতে পারে না।

    রোজ বলে–আপনার কথাই ঠিক; তবে এসব ভয় পাইয়ে দেবার মত কথা আর বলবেন না।

    এতে আপনি ভয় পান?

    রোজ বললো–পাই। তারপর হঠাৎ বললো–এবার আমায় ফিরতে হবে। আপনার যদি সময় হয়-একবার আমাদের বাড়িতে আসুন না।

    তারপর রোজ আম্বলবি চলে গেল।

    লিউক বেশ কিছুক্ষণ অপসৃয়মাণ রোজের দিকে তাকিয়ে রইল। বড় একা মনে হলো নিজেকে। কিন্তু ও নিজেকে প্রশ্ন করলো–এই ইচ্ছে আমার হলো কেন? একথা সত্যি যে রোজ আম্বলবি মাত্র অল্প কদিন আগে ওর বাবাকে হারিয়েছে, কিন্তু ওর মা আছে-তা ছাড়া আছে একজন সুদর্শন এবং প্রতিষ্ঠাবান পুরুষও যার বাগদত্তা। তাহলে লিউক ফিৎস্ উইলিয়াম, তোমার এই মহৎ বাসনার কারণ কী? এ কি পুরুষের চিরন্তন রক্ষকের ভূমিকা? কিন্তু আজকাল এটা একেবারেই অচল। ভিক্টোরিয়ান যুগের ভাবধারা এই আধুনিক যুগে আঁকড়ে থাকার নামই অস্বাভাবিকতা।

    লিউক নিজেকে বললো–সে যাই হোক, মেয়েটিকে আমার ভালো লেগেছে। টমাসের মত ধূর্ত আর চতুর লোকের পক্ষে ও একেবারেই বেমানান।

    তারপর লিউক রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ থেমে গেল। লিউক দেখল এলসওয়ার্দি সেই পথেই আসছেন। এলসওয়ার্দি বলল

    ও, মিঃ ফিৎস্ উইলিয়াম! নমস্কার, নমস্কার।

    প্রত্যুত্তরে লিউক নমস্কার জানিয়ে বলে–প্রাকৃতিক শোভা দেখছিলেন বুঝি?

    এলসওয়ার্দি বললো-না না, তা নয়। আমি প্রকৃতিকে সযত্নে এড়িয়ে চলি। আমি সর্বান্তঃকরণে বিশ্বাস করি যে প্রকৃতিকে এড়াতে না পারলে কোনো লোকই নিজেকে উপভোগ করতে পারে না।

    কিন্তু তা কী করে সম্ভব?

    পথ আছে। এমন সুন্দর ছোট্ট জায়গায়ও আনন্দ পাবার মতো বহু রকমের উপায় আছে, আর সেই উপায়ও আমার জানা আছে। আমি জীবনকে উপভোগ করি মিঃ ফিৎস্ উইলিয়াম।

    সে তো আমিও করি।

    একটা কথা বলি শুনুন। মানুষের চরিত্রে পরিপূর্ণ সুস্থতা এবং স্বাভাবিকতা একটা ভয়ানক রকমের একঘেয়েমী।

    কতকটা কুষ্ঠরোগীর বাঁকা চাহনির মতো। যোগ করে লিউক।

    খুব ভালো কথা বলেছেন; আপনার বুদ্ধির ধার আছে। সে যাই হোক্, আপনি বেড়াতে বেড়িয়েছেন সুতরাং আপনাকে আর আটকে রাখবো না।

    আপনার যেমন অভিরুচি–লিউক কথাটা বলে একটু ঝুঁকে বিদায় জানায়।

    নিজের মনে লিউক ভাবে–আমি বোধহয় বড্ড বেশি কল্পনাপ্রবণ হয়ে উঠেছি–আসলে লোকটা একটা প্রথম শ্রেণীর গাধা।

    আরও তাড়াতাড়ি পা চালায় ও। যখন ও রোজ আম্বলবির সঙ্গে কথা বলছিলো, তখন মেঘশূন্য আকাশে সূর্যের আলো ছিলো; এখন আবার বেশ ঘন হয়ে মেঘ করেছে।

    লিউক রাস্তার কোণে এসে বাঁক নিতেই একটা সবুজ মাঠে এসে পড়লো। ও শুনেছে, এই মাঠটাকে ডাইনীদের চারণভূমি বলা হয়।

    ও ব্রিজেটকে দেখে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। লিউক প্রায় ছুটে ব্রিজেটের কাছে পৌঁছলো।

    ব্রিজেট?

    ব্রিজেট মুখ তুলে লিউকের দিকে তাকালো। ওর মুখখানা দেখে লিউকের বুকের ভেতরটা মুচড়ে ওঠে। ওকে দেখে মনে হচ্ছিলো যেন ও অন্য আর এক দুনিয়ায় বাস করছে।

    লিউক বলল–তুমি–তুমি ভালো আছো তো?

    কোনো উত্তর দিলো না ব্রিজেট। লিউকের মনে হলো যেন ওর প্রশ্নটা সুদূর পথ অতিক্রম করে ব্রিজেটের কাছে তখনও পৌঁছয়নি।

    ব্রিজেট কিছুক্ষণ পর উত্তর দিলো–আমি তো ভালোই আছি। ভালো না থাকার মতো, কিছু কি হয়েছে?

    হেসে উঠলো লিউক–আমি নিজেই কি আর জানি যে, কী হয়েছে? তবে হঠাৎ তোমার সম্পর্কে একটা দুশ্চিন্তা দেখা দিলো।

    কেন?

    সব ব্যাপারেই আমার মাত্রা জ্ঞানটা একটু কমে গেছে, ঘণ্টা খানেকের জন্যেও তুমি যদি আমার চোখের আড়াল হও আমার তখন মনে হয় যে, এরপর হয়তো দেখবো তোমার মৃতদেহটা যে-কোনো খানা-খন্দে পড়ে আছে–যেমন নাটক বা গল্পে হয়ে থাকে।

    ব্রিজেট বললো–কিন্তু নায়িকারা কখনো খুন হয় না।

    তা হয়না, কিন্তু মাঝপথে লিউক থেমে যায়।

    তুমি যেন কী বলতে চাইছিলে?

    না, কিছু না।

    নিজের কথার সূত্র ধরে ব্রিজেট বলে যায়-নায়িকারা নানারকম বিপদের সম্মুখীন হতে পারে কিংবা ঘরের মধ্যে আটকে রেখে বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে হত্যা করবার চেষ্টাও হতে পারে। এমনকি জলে ডুবিয়ে পর্যন্ত খুন করার চেষ্টাও সম্ভব–কিন্তু তারা কখনোই মারা যেতে পারে না।

    লিউক বলে–এটাই কি সেই ডাইনীদের মাঠ?

    হ্যাঁ।

    লিউক ওকে বললো–এখন তোমার হাতে একগাছি ঝাটা দরকার।

    ধন্যবাদ। মিঃ এলসওয়ার্দিও প্রায় এইরকমই একটা কথা বলছিলেন।

    তার সঙ্গে তো আমার একটু আগেই দেখা হলো।

    তুমি কি তার সঙ্গে কোনো কথা বলেছে?

    হ্যাঁ, আমার মনে হয় ও আমাকে রাগাবার চেষ্টা করছিলো?

    তুমি রেগেছিলে?

    লিউক বললো–লোকটা কেমন যেন অদ্ভুত। কখনো মনে হবে যে, ও একটা নেহাই বাজে লোক। আবার মনে হয় যতটা বাজে ভাবা যায় ততটা বাজে নয়।

    ব্রিজেট লিউককে বললো-তোমারও একথা মনে হয়েছে?

    তুমি তাহলে আমার সঙ্গে একমত?

    হ্যাঁ।

    ব্রিজেট বলে–ভদ্রলোক সত্যিই যেন কেমন বিচিত্র ধরনের। আমার মনে হয় যে এখানে যদি সত্যি সত্যিই কোনো খুনী থাকে, তাহলে তাকে আমি চিনতাম। গভীর ভাবে অনুধাবন করবার চেষ্টা করেছি–কে সেই লোক? একটা সত্যিই যে–যেই হোক না কেন সে একজন উন্মাদ।

    লিউক বললো তুমি কি একথা বিশ্বাস করো না যে, একজন আততায়ী ঠিক তোমার আমার মতই সুস্থ ও স্বাভাবিক হতে পারে?

    না, এ জাতীয় খুনী তা হবে না। আমার যতদূর ধারণা–এই খুনী একজন উন্মাদ আর সে ধারণা থেকেই এলসওয়ার্দির ওপর আমার সন্দেহ হয়েছে।

    তুমি লক্ষ্য করেছে ওর হাত দুটো কি কুৎসিত?

    হাত দুটো ওর সাদা নয়–কেমন যেন সবুজ।

    দেখে তাই মনে হয় বটে। তবে তাকে তুমি খুনী সাব্যস্ত করতে পারো না।

    সে তো ঠিকই। দরকার-অকাট্য প্রমাণের।

    লিউক বললো–প্রমাণ! এই প্রমাণেরই সবচেয়ে বড় অভাব। লোকটা অত্যন্ত সতর্ক, একজন চতুর খুনী! চতুর উন্মাদ!

    আমি তোমার কাজে খানিকটা সাহায্য করবার চেষ্টা করছিলাম।

    এলসওয়ার্দির ব্যাপারে?

    হ্যাঁ, আমার মনে হলো, এলসওয়ার্দিকে কায়দা করতে তোমার চেয়ে আমি ভালো পিরবো এবং আমি আরম্ভও করেছি।

    কী করলে বলো।

    আমার ধারণা, কতকগুলো বাজে ধরনের বন্ধুবান্ধব নিয়ে তৈরি ওর একটা চক্র আছে। কিছুদিন পর পর তারা সব এখানে আসে উৎসব করতে।

    আমার মনে হয়, ওরা কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করে নেচে নেচে শয়তানের পুজো করে।

    ওই রকমই করে এবং তাতে ওরা দারুণভাবে মেতে ওঠে।

    লিউক বলে–আমিও কিন্তু একটা খবর দিতে পারি। টমি পিয়ার্স এই উৎসবের সঙ্গে জড়িত ছিলো। ওর ভূমিকা ছিলো একজন ছোটোখাটো যাজকের।

    এ ঘটনা তাহলে ওর জানা ছিলো?

    তা ছিলো।

    তোমার কি মনে হয়, ও এসব ঘটনা লোকের কাছে বলে বেড়াতো?

    হয়তো বলতো; তা না হলে বলে দেবার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করতো।

    ব্রিজেট বললো–সমস্ত ব্যাপারটাই যেন কেমন অবাস্তব বলে মনে হয়। কিন্তু এলসওয়ার্দির কথা মনে হলেই এমন অবাস্তব ঘটনার কার্যকারণ খুঁজে পাওয়া যায়।

    ঠিক বলেছো।

    এ পর্যন্ত যতগুলো খুন হয়েছে, তার মধ্যে দুজনের সম্পর্কে একটা যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া গেল–টমি পিয়ার্স আর অ্যামি গিব।

    সেই মাতাল আর আম্বলবি–এই দুজনেরও কি এই ঘটনার সঙ্গে যোগাযোগ ছিলো?

    আপাততঃ কিছু খুঁজে পাচ্ছি না।

    মাতালের সঙ্গে হয়তো নেই, তবে আম্বলবিকে সরাবার একটা উদ্দেশ্য থাকলেও থাকতে পারে।

    ব্রিজেট বলে–খুবই সম্ভব। আমার আজ সকালের প্যাটো কিন্তু বেশ ভালোই কাজে এসেছে। আমি সকালেই বললাম যে, আমার এক প্ৰ-মাতামহীকে ডাইনীবিদ্যা চালাবার জন্য প্রায় পুড়িয়ে মারবার ব্যবস্থা হয়েছিলো, তারপর আর কথা নেই–আমাকে একেবারে নিজের দলের বলে ধরে নিয়েছে। আমার তো মনে হয় যে, ওদের পরবর্তী উৎসবে ও হয়তো আমাকে নিমন্ত্রণ করে বসবে।

    দোহাই ব্রিজেট, একটু সাবধানে থেকো।

    ব্রিজেট লিউকের দিকে তাকালো। লিউক বললো–কিছুক্ষণ আগেই আমার আম্বলবির মেয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিলো। আম্বলবির মেয়ে বলেছিলো যে, মিস পিঙ্কারটন তোমার সম্পর্কে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন।

    লিউকের কথা শুনে ব্রিজেট ধপ করে বসে পড়লো।

    কী বললে? আমায় নিয়ে মিস পিঙ্কারটনের উদ্বেগ ছিলো?

    রোজ আম্বলবি তো সেই কথাই বললো।

    রোজ আম্বলবি বললো?

    হ্যাঁ।

    ও আর কী বলেছে?

    আর কিছু না।

    তোমার ঠিক মনে আছে তো?

    হুবহু।

    কিছুক্ষণ চুপ করে ব্রিজেট বললো-তাহলে এই ব্যাপার।

    মিস পিঙ্কারটনের আস্ববিকে নিয়ে উদ্বেগ ছিলো এবং ভদ্রলোক মারাও গেলেন। এখন শুনি তোমায় নিয়েও তার দুশ্চিন্তা ছিলো—

    হেসে উঠলো ব্রিজেট। হঠাৎ হাত হাত-পা ঝাড়া দিয়ে দাঁড়িয়ে বললো-ভেবো না, শয়তান তার নিজের ব্যাপারে খুব হুশিয়ার থাকে।

    ***

    মেজর হর্টনের পারিবারিক জীবন

    লিউক একটা চেয়ারে বসে বললো–বেশ ভালো ব্যবস্থাই করে দিয়েছেন; তবে আপনার অনেকটা সময় আমার জন্য নষ্ট হলো।

    মিঃ জোনস বললেন–ও কিছু নয় মিঃ ফিৎস্ উইলিয়াম–আমাদের এখানে কোনো বাইরের লোক এলে আমরা খুব আনন্দিত হই।

    আপনাদের এই জায়গা কিন্তু ভারী অদ্ভুত। নানারকম আচার-বিচার আর সংস্কারের আড়তখানা।

    মিঃ জোনস বললো যে, কুসংস্কার দূর করার জন্য যে উপযুক্ত শিক্ষার প্রয়োজন, তেমন শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন নেই।

    মিঃ জোনস্ লিউকের কথায় একটা আঘাত পেয়ে বললেন–লর্ড হুইটফিল্ড এখানকার জন্য প্রচুর করেছেন; এখানকার ছেলেমেয়েদের যাতে কোনো অসুবিধায় না পড়তে হয় সেদিকে দৃষ্টি রেখে উনি নানারকম সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করেছেন।

    ওঁর শৈশবের বঞ্চনা কিন্তু এই বিপুল সম্পদ আয়ত্ত করার পথে বাধা হয়নি।–লিউক বললো।

    ওঁর যোগ্যতা ছিলো, তাই সব বাধা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন।

    যোগ্যতা না ভাগ্য?

    একই প্রসঙ্গের জের টেনে লিউক বলে–এই কার্টারের কথাই ধরুন না। ও হয়তো পুরো সপ্তাহের সাতদিনের মধ্যে ছদিনই রাতে মত্ত অবস্থায় সেই পুলের ওপর দিয়ে ফিরতো; অথচ দেখুন, হঠাৎ এক রাতে পা হড়কে নদীতে পড়ে প্রাণটা দিলো। সেই একই ব্যাপার–কপালের লেখা।

    ম্যানেজার বললেন–কিছু কিছু লোকের তাতে মঙ্গলই হয়েছে।

    তার মানে?

    মানে ওর স্ত্রী এবং মেয়ে বেঁচে গেছে।

    তা অবশ্য ঠিক।

    একজন কেরানী হাতে কাগজপত্র নিয়ে ঢুকলো। লিউককে দিয়ে দুএকটা সই করিয়ে ওর হাতে চেকবই দিলো। লিউক চেকবইটা হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো।

    অনেক উপকার করলেন। এবারের ডারবীর খেলায় আমার ভাগ্যটা সুপ্রসন্ন ছিলো। আপনি কিছু পেয়েছেন না কি?

    মিঃ জোনস্ বললেন উনি জুয়া খেলেন না–তার কারণ, মিসেস জোস্ ঘৌড়দৌড় বিশেষভাবে অপছন্দ করেন।

    এখান থেকে কেউ যান কি?

    মেজর হর্টন যান, উনি পাকা রেসুড়ে। এছাড়া, মিঃ অ্যাবটও প্রায়ই যান।

    লিউক ব্যাঙ্ক থেকে বেরিয়ে একটা সিগারেট ধরালো। ওর সন্দেহভাজন তালিকা থেকে মিঃ জোকে বাদ দেওয়াই সমীচীন মনে করলো। সে যাই হোক এখানে আসার পরিশ্রম বৃথা যায়নি লিউকের। উকিল মিঃ অ্যাবট এবং মেজর হর্টন–দুজনেই ডারবী খেলার দিন উইচউডে ছিলেন না। সুতরাং দুজনেই সেদিন লণ্ডনে গিয়ে মিস পিঙ্কারটনকে চাপা দেওয়ার সুযোগ ছিলো।

    যদিও লিউক ডাঃ টমাসকে আর সন্দেহ করে না–তবুও ওর মনে হলো যে, সেদিন যদি ডাঃ টমাস উইচউডেই থেকে থাকেন তা হলে ও যেন আরও খুশী হয়।

    এবার রইলো এলসওয়ার্দি। এলসওয়ার্দি কি ডারবী খেলার দিন উইচউডেই ছিলো? যদি তাই হয় তাহলে ওর ওপর থেকে সন্দেহটা অনেক হাল্কা হয়ে যায়।

    নিজের গাড়িটা নিয়ে লিউক হাই স্ট্রীটের পিওয়েল গ্যারেজের দিকে রওনা হলো। গাড়িটার দুএকটা দোষ সারাবার ছিলো। লিউক একজন মিস্ত্রী দিয়ে গাড়িটা ঠিক করাতে করাতে গাড়ির ত্রুটি নিয়ে কথা বলতে লাগলো।

    কে যেন দূর থেকে ডাকলো-জিম, একবার এদিকে এসো।

    জিম হারভে! তাহলে এই সেই ছেলে যে অ্যামিকে ভালোবেসেছিলো। ছেলেটি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ফিরে এলো।

    লিউক জিজ্ঞেস করলো–এবারের ডারবী খেলায় কিছু পেলেন?

    না স্যার, ক্ল্যারিগোল্ডের ওপর বাজি ধরেছিলাম।

    দ্বিতীয় জুজুবের ওপর খুব বেশি কেউ বাজি ধরেনি তাই না?

    ঠিকই বলেছেন। কাগজে যারা ভবিষ্যদ্বাণী করে, তারা পর্যন্ত বলেছিলো যে জুজুবের জেতার কোনো সম্ভাবনা নেই।

    লিউক বললো–ঘোড়দৌড় খুব অনিশ্চিত খেলা; কখনো ডারবীর খেলা দেখেছেন?

    না স্যার, তেমন কপাল থেকে আসিনি।

    সহানুভূতি জানিয়ে লিউক বিদায় নিলো। তালিকা থেকে জিম হারভেও বাদ পড়লো। লিউক বাড়ির পথ ধরলো। আগের বারের মতো এবারেও একই জায়গায় মেজির হর্টনের সঙ্গে দেখা হলো।

    আমার নাম হর্টন-মেজর হর্টন। কালকে আপনার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি মানর হাউসে। টেনিস খেলার আমন্ত্রণ, মিস কনওয়ে আমন্ত্রণ করেছেন। উনি আপনার বোন–তাই না?

    হা।

    লিউক বললো–সুন্দর কুকুর–কী বলেন? কিন্তু এটা মেয়ে। আমার পছন্দ বুলডগ। এই তো কাছেই আমার বাড়ি–আসুন না, একটু বিয়ার-টিয়ার খাবেন?

    রাজী হয়ে লিউক হাঁটতে আরম্ভ করলো মেজরের সঙ্গে। বাড়িতে দরজায় তালা ছিলো না; দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে একটা ঘরের ভেতর দিয়ে ওরা কুকুরের গন্ধে ভরা ছোটোখাটো একখানা ঘরে পৌঁছলো। ঘরের প্রতিটি দেওয়ালে সারি সারি বইয়ের তাক। বইয়ের তাকে তাকে বিভিন্ন সাইজের রুপোর কাপ সাজানো। ম্যাণ্টপেসের ওপর একখানা বড় তেলরঙে আঁকা ছবি।

    লিউকের দৃষ্টি অনুসরণ করে মেজর বললেন–ইনি আমার স্ত্রী–একজন সত্যিকারের মহীয়সী মহিলা; মুখে কী দারুণ অভিব্যক্তি লক্ষ্য করেছেন?

    লিউক বললো-হা, দারুণ!

    মেজর লিউকের দিকে একটা বিয়ারের গ্লাস এগিয়ে দিয়ে একই কথার পুনরুক্তি করলেন,–একজন সত্যিকারের মহীয়সী-বছরখানেক হলো আমায় ছেড়ে চলে গেছেন, তারপর থেকে আমি আর আগের আমি নেই।

    লিউক বললো-তাই না কি?

    মেজর একটা চেয়ার দেখিয়ে লিউককে বললেন–ওটার ওপর বসুন।

    নিজেও একখানা হুইস্কির গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে বললেন–ওঁর মৃত্যুর পর থেকে আমি অনেক বদলে গেছি।

    লিউক বলে–আপনি নিশ্চয়ই ওঁর অভাব বোধ করেন?

    মেজর বললেন–পুরুষদের প্রতি পদক্ষেপেই স্ত্রীর প্রয়োজন; স্ত্রী না থাকলে তারা একেবারে উচ্ছন্নে যায়।

    কিন্তু একথা—

    আরে ভাই, আমি জেনেশুনেই বলছি একথা। তবে সব বিয়েই প্রথম দিকটা সুখের হয় না। কিন্তু আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যায়। তবে তার জন্য দরকার উপযুক্ত শৃঙ্খলাবোধ। জীবনের সব স্তরেই শৃঙ্খলাই হচ্ছে আসল। আপন মনে মেজর বলে চলেন–মেয়েরা অতি বিচিত্র প্রাণী। কখনো কখনো মনে হয় যে, অন্যকে আনন্দ দেবার মত কোনো ক্ষমতাই ওদের নেই; কিন্তু একথা সত্যি যে, ওরা পুরুষকে সোজা রাখতে পারে।

    কোনো মন্তব্য না করেই লিউক শুনে যায়।

    মেজরের প্রশ্ন–বিয়ে করেছেন?

    না।

    যখন করবেন তখন বুঝতে পারবেন। তবে একটা কথা জেনে রাখুন–বিবাহিত জীবন অতি মধুর।

    আজকালকার পাইকারী হারে বিবাহ-বিচ্ছেদের যুগে কারও কাছ থেকে বিয়ের প্রশস্তি শুনতে খুব ভালো লাগে।–লিউক বললো।

    আরে দূর! আজকালকার প্যানপেনে ছেলেমেয়েদের কথা আর বলবেন না। কোনোরকম প্রতিকূল অবস্থার সামনে ওরা দাঁড়াতেই পারে না-বীরত্ব বলতে কিছু নেই ওদের।

    তবে একটা কথা; লিডিয়ার মতো মহিলা হাজারে একজন মেলে। ওকে এখানে সবাই খুব ভালোবাসতো আর শ্রদ্ধাও করতো।

    তা তো বটেই?

    ও কোনোরকম অসভ্যতা বরদাস্ত করতো না। আমাদের বাড়িতে একবছরের মধ্যে ঝি-চাকর-পাঁচক মিলে পনেরো জনের বদল-ফেরত হয়েছে। ভেবে দেখুন সংখ্যাটা-পনেরো জন।

    ঝি-চাকরদের সঙ্গে না বনলে পত্রপাঠ ঘাড় ধরে বিদায় করাই ছিলো ওঁর একটা বিশেষ পদ্ধতি।

    সবসময়ই কি তাই করতেন?–প্রশ্ন করে লিউক।

    ঠিক তা নয়, বেশির ভাগই নিজেরাই বিদায় নিতো–লিডিয়া বলতো যে, এটাই সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।

    বুদ্ধিটা খুবই ভালো, তবে এর ফলে কখনো কোনো অসুবিধায় পড়েননি?

    আমার ব্যক্তিগত কোনো অসুবিধা হয় না। তবে অসুবিধায় পড়লে তাও করতে হয়, উপায় তো নেই।

    উনি বুঝি খুব দুর্বল ছিলেন?

    মেজর বললেন–ওর খুব উদ্যোগ ছিলো, সহজে কোনো কিছু ও ছেড়ে দিতো না; কিন্তু বেচারা কি ভোগাই না ভুগলো। ডাক্তাররা পর্যন্ত বুঝতে পারলো না–আর ডাক্তারগুলোও হয়েছে যতসব অকর্মার ধাড়ী। এই আম্বলবির কথাই ধরুন না–এখানে সবাই ভাবতো যে, ও বুঝি খুব ভালো ডাক্তার। আমিও মুখের ওপর স্পষ্ট বলে দিয়েছিলাম যে ওকে দিয়ে চলবে না। এরপরই টমাসকে দেখাই।

    তাকে আপনার পছন্দ হয়েছিলো?

    সব মিলে মিশে সে বেশ চালাক-চতুর লোক। লিডিয়াকে যদি কেউ বাঁচাতে পারতো, তো টমাসই পারতো। দিন দিন বেশ ভালোর দিকেই যাচ্ছিলো–হঠাৎ একদিন বেড়ে উঠলো।

    খুব কষ্ট হতো?

    খু-উ-ব। গ্যাস্ট্রাইটিস হয়েছিলো কিনা, দারুণ যন্ত্রণা। শহীদের মতো মৃত্যুকে তিলে তিলে বরণ করে নিলো। দুজন হাসপাতালের নার্স রেখেছিলাম; সব সময় রোগীর জন্য এটা চাই, ওটা চাই করে অস্থির করতো। এই হাসপাতালের নার্সগুলোকে আমি একেবারেই সহ্য করতে পারি না।

    লিউক জিজ্ঞেস করলো–আচ্ছা উইচউডে মিসেস হর্টনের অনেক বন্ধু-বান্ধব ছিলো?

    মেজর বললেন–এখানকার লোকজন খুবই ভালো। হুইটফিল্ড তার নিজের বাগানের আঙুর, পিছ পাঠিয়েছিলেন। তাছাড়া মাঝেমাঝে আমাদের গ্রামের দুই বুড়ী–হনরিয়া ওয়েনফ্লিট আর ল্যাভিনিয়া পিঙ্কারটনও এসে ওর মাথার কাছে বসে থাকতেন।

    মিস পিঙ্কারটন বুঝি প্রায়ই আসতেন?

    হ্যাঁ, ভদ্রমহিলা একেবারেই বুড়ী। তবে মহিলা বড় ভালো ছিলেন। তবে দারুণ খুঁতখুঁতে।

    ঘাড় নাড়ে লিউক।

    মেজর বলতে থাকেন–এখানে বেশির ভাগই মহিলা–ভালো করে এক হাত গলফ খেলার মতো সঙ্গী পর্যন্ত পাওয়া দুষ্কর।

    কেন, অ্যান্টিক দোকানে কম বয়সের এক ভদ্রলোক আছেন, তিনি কেমন?–প্রশ্ন করে লিউক।

    মেজর বললেন–ওকে দিয়ে গল হয় না–একেবারে মেয়েলী স্বভাবের লোক।

    উনি কি অনেকদিন ধরে উইচউডে আছেন?

    তা–বছর দুই হবে। একদম বাজে লোক। কিন্তু মজার কথা হলো যে, লিডিয়া ওকে পছন্দ করতো।

    লিউক জিজ্ঞেস করলো–আচ্ছা, স্থানীয় সলিসিটার অ্যাবট কেমন লোক? আইনের ব্যাপারে কি খুব ঝানু? আইনের ব্যাপারে ওঁর কাছে গেলে কেমন হয়।

    সবাই বলে যে ও বেশ উঁদে উকিল, তবে আমার ভালো জানা নেই। আমার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিলো একবার। আমার মতে, লোকটা খুব অভদ্র; অবশ্য তাতে ভালো উকিল হতে বাধা নেই।

    তা তো ঠিকই–তবে আমিও শুনেছি যে, ভদ্রলোক বেশ ঝগড়াটে স্বভাবের এবং এখানকার বহু লোকের সঙ্গেই সদ্ভাব নেই।

    আম্বলবির সঙ্গে ওর ঝগড়ার কথা শুনেছেন?

    ওদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিলো?

    একেবারে তুলকালাম, তবে আমি তাতে মোটেই আশ্চর্য হইনি। আম্বলবিটা ছিলো একটা প্রথম শ্রেণীর গবেট।

    ওঁর মৃত্যুটা কিন্তু খুব দুঃখের।–বলে লিউক।

    কার? আম্বলবির? হ্যাঁ, তা ঠিক–সাধারণ বুদ্ধির অভাব। রক্ত বিষাক্ত হওয়া অত্যন্ত মারাত্মক। এ থেকেই বোঝা যায় ও কোনো দরের ডাক্তার ছিলো।

    লিউক কোনো মন্তব্য না করে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে উঠে পড়লো।

    দুপুরের খাওয়ার সময় হয়ে গেছে?–হ্যাঁ তাইতো। আপনি যেন কোথায় ছিলেন? মেয়াংস্ট্রেটে? ওদিকটায় কখনো যাওয়া হয়ে ওঠেনি। শুনলাম, এখানকার লোকদের আচারবিচার নিয়ে একটা বই লিখছেন?

    হ্যাঁ, তা একখানা

    মেজর বলেন–এই ব্যাপারে আপনাকে আমি বেশ মজার কিছু কিছু ঘটনা বলতে পারি। আমি যখন ভারতবর্ষে ছিলাম–আরেব্বাস!

    মেজর হর্টনের মতো অ্যাংলো-ইণ্ডিয়ানদের অতি মুখরোচক বিষয় হলো–ভারতীয় ফকির, আম, দড়ির খেলা ইত্যাদির গল্পে। দশ মিনিট ধরে এসব গল্প শুনে লিউক এবার রাস্তায় পা বাড়ালো।

    হঠাৎ লিউকের মনে হলো, ভদ্রলোক কি সত্যিই ব্যথিত, না কি সবটাই একটা বড় ধাপ্পা?

    ***

    শক্তি পরীক্ষা

    সেদিন বিকেলবেলায় টেনিস খেলা উৎরোলো বেশ ভালোভাবেই। সবসুদ্ধ আটজন খেলোয়াড় –লর্ড হুইটফিল্ড নিজে, ব্রিজেট, লিউক, রোজ আম্বলবি, মিঃ অ্যাবট, ডাঃ টমাস, মেজর হন এবং ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের মেয়ে হেটি জো–মেয়েটি সব সময়ে কারণে-অকারণে হাসে।

    সেদিন বিকেলবেলায় দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় একদিকে লর্ড হুইটফিল্ড এবং রোজ আর অন্যদিকে লিউক এবং ব্রিজেট পরপর তিনটে গেম খেললো–ফলাফল হলো সমান-সমান। কিন্তু তিনটে গেমের পর হঠাৎ যেন লিউকের খেলাও খুলে গেল; ফলে ওদের দল অচিরেই পাঁচ-তিনে জিতলো, আর এর ফলে লর্ড হুইটফিল্ডের মেজাজও গেল বিগড়ে। এরপর থেকেই ব্রিজেটের খেলা নেমে গেল হাস্যকর পর্যায়ে। বল মারা নিয়ে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিও হলো এবং ফলাফলও তেমনটাই হলো–লিউকরা আট-ছয়তে হারলো।

    লিউকের কাছে ব্রিজেট ক্ষমা চায়।–আমি সত্যিই খুব দুঃখিত! একেবারে যেন হতক্লান্ত হয়ে পড়েছি।

    লিউক ব্রিজকে বললো–তোমাদের শাক-সজির বাগানটা একটু দেখিয়ে দাও তো?

    শাক-সজির বাগান দিয়ে কী হবে?

    বাঁধাকপির পাতা খেতে ইচ্ছে করছে।

    কচি মটরশুটিতে কাজ চলবে?

    আরোও ভালো হবে।

    টেনিস কোর্ট থেকে বেরিয়ে ওরা দুজনে তরকারির বাগানে এলো।

    ব্রিজেট বললো–নাও, প্রাণভরে এবার মটরশুটি খাও।

    লিউক বললো–তুমি অমন বিশ্রী করে খেললে কেন?

    ব্রিজেট বললো–আমি তো বলেছি যে, দুঃখিত; আমি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। তাছাড়া, আমার টেনিস খেলা কিছু উল্টোপাল্টা।

    উল্টোপাল্টা হওয়ারও একটা সীমা আছে যতটা তুমি দেখাতে চেয়েছো ততটা কিছুতেই হতে পারে না। কিন্তু কেন এমন করলে?

    খুব সহজ কারণে; আমার আগেই ভাবা উচিত ছিলো যে গর্ডন হেরে যাওয়া পছন্দ করে না।

    কিন্তু আমার দিকটা ভেবেছো? আমি যদি জিততে চাই?

    হে আমার প্রিয় বন্ধু তোমার চাওয়া না চাওয়া আমার কাছে আদৌ মূল্যবান নয়।

    হেঁয়ালী না করে একটু পরিষ্কার করে বলবে?

    শোন, কেউ নিজের রুজি রোজগারের সঙ্গে ঝগড়া করে না–গর্ডন আমার জীবিকা, তুমি তা নও।

    এবার লিউক একেবারে ফেটে পড়ল–ঐ সৃষ্টিছাড়া বিদ্ঘুটের মধ্যে তুমি কী এমন দেখলে যে ওকে বিয়ে করতে চাইছো? কেন তোমার এই মতিচ্ছন্নতা?

    কারণ, ওর সেক্রেটারী হিসেবে আমি মাইনে পাই সপ্তাহে ছপাউণ্ড; যখন স্ত্রী হবো তখন সব কিছুর অধীশ্বরীও হবো আমি নিজে।

    কিন্তু তখন তোমার কাজটা হবে কিঞ্চিৎ অন্য ধরনের।

    ব্রিজেট বলে–সংসারের প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় নিয়েই কি অতি নাটুকেপনা করবে? তুমি যদি ভেবে থাকো যে গর্ডন তার বউয়ের প্রেমে হাবুডুবু খাবে, তাহলে খুব ভুল করবে। ও একেবারেই বাচ্চাদের মতো–ওর দরকার একজন মা-স্ত্রী নয়। ও চায় এমন একজনকে, যে সর্বদা ওর আশেপাশে থাকবে, ওর সব বড় বড় কীর্তিকাহিনীর কথা মন দিয়ে শুনবে।

    তোমার জিভটা বড়ই অশালীন।

    ব্রিজেট বলে–আবার ভুল করছে। আমি নিজেকে রূপকথা দিয়ে ভোলাই না–নিজের অবস্থা সম্পর্কে আমি সচেতন। তোমার অতি সেকেলে মনটা হয়তো ভাবছে যে, আমি কি জঘন্য এক জীব–যে টাকার জন্য নিজেকে বিক্রী করেছে এবং এই ভাবনাটাই তোমার কাছে আত্মপ্রসাদের মতো।

    তুমি একটি আস্ত সুচতুর শয়তান।

    নির্বোধ শয়তান হওয়ার থেকে চতুর শয়তান হওয়া ঢের ভালো।

    তাই না কি?

    ঠিক তাই। আমার ভালোভাবেই সেটা জানা আছে।

    কী জানো?

    আমি জানি একজন পুরুষমানুষকে ভালোবাসতে হলে কি অসীম মূল্য দিতে হয়। তুমি জনি কর্নিশকে চেনো? ওর জন্য একেবারে পাগল ছিলাম। বিয়ের কথাও ছিলো একেবারে পাকা। কিন্তু কী হলো? এক গোলগাল উত্তরে বিধবাকে বিয়ে করবার জন্য আমাকে ঝেড়ে ফেলতে ওর মোটেই অসুবিধা হয়নি। এমন একটা জব্বর উদাহরণ একজনের প্রেমরোগ সারাবার পক্ষে বেশ ঝাঁঝালো ওষুধ।

    লিউক বললো–তা হয়তো সত্যি।

    হয়তো নয়, তা-ই সত্যি। প্রশ্ন করে লিউক-তুমিও কি সেই একই সেকেলে মনের পরিচয় দিচ্ছো না?

    ব্রিজেটের দিকে লিউক অপাঙ্গদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে; ওর চোখে-মুখে এক অব্যক্ত ব্যথা ফুটে ওঠে–যেন ওর ভেতরটা জ্বলে-পুড়ে যাচ্ছে। ও বলে,-সত্যিই আমার অধিকার আছে–একান্ত অধিকার–শুধু তোমার ওপর। কী যেন বলছিলে তখন যে, ভালোবাসা এত তীব্র যেন আঘাত করে?

    ব্রিজেট অবাক হয়ে প্রশ্ন করতে চায়–তুমি!

    হ্যাঁ, খুব আশ্চর্য হচ্ছে না? এমন একটা ঘটনা শুনে বেদম হাসি পাচ্ছে? আমি এখানে এলাম একটা বিশেষ কাজ নিয়ে। তুমি এসে দাঁড়ালে; তোমাকে দেখামাত্রই আমার মধ্যে কি যেন একটা হয়ে গেল–অনেকটা মন্ত্রমুগ্ধের মতো হয়ে গেলাম। তুমি আমাকে একেবারে গ্রাস করে ফেলেছো। তুমি যদি হুকুম করো যে–এই মুহর্তে একটা ব্যাঙ হয়ে যাও।তৎক্ষণাৎ একটা ব্যাঙ হয়ে লাফাতে আরম্ভ করবো।

    ব্রিজেটের দিকে লিউক এগিয়ে আসে।

    ব্রিজেট কনওয়ে, আমি তোমায় পাগলের মতো ভালোবাসি। যাকে আমি বালোবাসি, আমি চাই না তার একটা ভুড়িওয়ালা জবুথবু লোকের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যাক।

    তুমি আমাকে কী করতে বলো?

    আমার কথা হয়তো হেসেই উড়িয়ে দেবে–কিন্তু আমি নাচার। তোমার উচিত ওকে বাদ দিয়ে আমাকে বিয়ে করা।

    এ কথা শুনলে কে না হাসবে? তবু তো আকাশ ফাটিয়ে হাসিনি। আশ্চর্য! গর্ডনের মতো তুমিও হেরে গেলে রেগে যাও?

    হঠাৎ ব্রিজেটের কাঁধ দুটো করে লিউক ঝাঁকুনি দেয়।–তোমার মুখে কি কিছুই বাধে না?

    আমার প্রতি তোমার আকর্ষণ যতই তীব্র হোক না কেন, একথা কিন্তু সত্যি যে তুমি আমায় খুব একটা পছন্দ করো না।

    তোমায় আমি একেবারেই পছন্দ করি না।

    ব্রিজেট বলে–দেশে ফিরে এসেই বিয়েথা করে স্থিতু হবে–এমন একটা আশা নিয়েই তো তুমি ফিরেছিলে?

    হাঁ।

    নিশ্চয়ই আমার মত একজনকে নিয়ে নয়?

    তোমার মত মেয়ের কথা আমার চিন্তায় ছিলো না।

    আমি জানি ছিলো না–তোমার এই ধাতটাকে আমি খুব ভালো করেই চিনি।

    আহা ব্রিজেট, তোমার কি দারুণ বুদ্ধি!

    তোমার দারুণ পছন্দ হলো একটা শান্তশিষ্ট ভালো মেয়ে–যে পা থেকে মাথা পর্যন্ত নির্ভেজাল ইংরেজ।

    অহো! বড়ই মধুর দৃশ্য!

    সুন্দর–সে আমি জানি। চলো টেনিস কোর্টে ফেরা যাক।

    এবার তোমার শেষ কথাটা বলতে পারো।

    থমকে দাঁড়ায় দুজনেই। লিউক ব্রিজেটের কাঁধ থেকে হাতটা সরিয়ে নেয়। দুজনের চোখে মুখেই কি যেন এক না-বলা অভিব্যক্তি।

    ব্রিজেট আচমকা ঘুরে তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে চলে গেল। পৌঁছানো মাত্র পরের গেমটা শেষ হলো।

    ব্রিজেট একটু জেদই করে–আমি বড্ড ক্লান্ত, আর খেলতে পারছি না। তুমি আর মিঃ ফিৎস্ উইলিয়াম, মিস জোস্ আর মেজর হর্টনের বিরুদ্ধে খেলো।

    কিন্তু কিছুতেই রোজ রাজী হয় না; শেষে চারজন পুরুষ নিজেদের মধ্যে জুটি বেঁধে খেলতে নামে। তারপর আসে চা।

    কদিন আগে লর্ড হুইটফিল্ড ওয়েলারম্যান ক্রেইৎস রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে গিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিলেন ডাঃ টমাসের কাছে এবং যথারীতি নিজেকে জাহির করলেন।

    বুঝতেই পারছেন যে, আমায় একটা কাগজ চালাতে হয়।–লর্ড বললেন-কাগজে কী বেরোবে, তার মান সম্পর্কে আমায় সদা সতর্ক নজর রাখতে হয়। এই যুগটাই হচ্ছে গিয়ে বিজ্ঞানের যুগ এবং এই বিজ্ঞানকে জনসাধারণের কাছে সহজপাচ্য করে দেওয়াও আমার একটা পবিত্র দায়িত্ব।

    কিন্তু তাতে ফললাভ অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করীর মতো হতে পারে।–ডাঃ টমাস ঘাড় ঝাঁকিয়ে বলেন।

    এমন ভাবে আমাদের কাজ করতে হবে যাতে বিজ্ঞানকে আমরা সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পারি।-বলেই চলেন লর্ড–অর্থাৎ, প্রতিটি মানুষকে হতে হবে বিজ্ঞানসম্মত।

    অর্থাৎ গবেষণা সচেতন হতে হবে।-ব্রিজেট গম্ভীর ভাবে বলে ওঠে।

    যা দেখে এলাম, তার প্রত্যেকটিই দেখবার মতো, বোঝবার মতো ব্যাপার। আমি অবশ্য ওয়েলারম্যানকে বলেছিলাম একজন সাধারণ কর্মচারী সঙ্গে দিতে; কিন্তু তা কিছুতেই শুনলেন। শুধু তাই নয়, আমার কাগজে এ সম্পর্কে প্রথম লেখাটা উনি নিজে লিখবেন বলে কথাও দিলেন। ব্রিজেট আলোচনার গতি বুঝতে পেরে প্রসঙ্গ পাল্টাবার জন্য প্রস্তাব করে–আর দুএক হাত খেললে কেমন হয়?

    খেলা শেষ হলে সবাইকে বিদায় জানিয়ে রোজ চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। লিউকও পেছনে প্রস্তুত হয়।

    চলুন, আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দিই। আপনার সঙ্গে গাড়ি আছে? ব্যাটগুলো আমায় দিন।

    না না, আমায় পৌঁছে দিতে হবে না। এই তো কাছেই আমার বাড়ি।

    তা হোক, আমার নিজেরই একটু হাঁটতে ইচ্ছে করছে।

    এতক্ষণ কি আপনার খুব খারাপ লাগছিলো?

    বাঃ, আপনি বুঝেও কি চমৎকার না বোঝার ভান করতে পারেন। আমার মনে হচ্ছে, যেন মেঘাচ্ছন্ন এক অন্ধকার রাজ্য থেকে স্বচ্ছ ঝলমলে আলোর দেশে এলাম।

    এ কথা কিন্তু আন্তরিকভাবে সত্যি। আমরা যখন ম্যানর থেকে বেরোই তখন কিন্তু আকাশ ভরা মেঘ ছিলো; অথচ দেখুন কোথায় উড়ে গেলো সেই মেঘ।

    কী আশ্চর্য, দেখুন, দুদিক থেকেই এটা সত্যি। দুনিয়াটা দেখছি এখনও বেশ বাসোপযোগী।

    ঠিক বলেছেন।

    মিস আম্বলবি, আপনার দুএকটা ব্যক্তিগত ব্যাপারে একটু নাক গলাতে পারি?

    আপনার মতো লোক কখনও তা করতে পারে না।

    আমার সম্পর্কে অতটা উচ্চাশা রাখবেন না। আমি বলছিলাম কি-ডাঃ টমাস কিন্তু খুব ভাগ্যবান লোক।

    রোজ বললো–আপনিও তাহলে শুনেছেন?

    কেন? এটা কি গোপন ব্যাপার? তাহলে কিন্তু আমি যথার্থই লজ্জিত।

    রোজ বলে–তা নয়, তবে আমাদের এ অঞ্চলে কিছুই গোপন থাকতে পারে না।

    তাহলে এ কথা সত্যি যে, আপনি ডাক্তারকে বিয়ে করছেন?

    স্বীকার করে রোজ–তবে আমরা এ কথা কখনো সামাজিক ভাবে ঘোষণা করিনি। বুঝতেই পারছেন, মাত্র কদিন হলো বাবা মারা গেছেন–এই সময়ের বিয়ের কথা বলা অত্যন্ত শ্রুতিকটু মনে হবে।

    আপনাদের এই ব্যাপারে আপনার বাবার অমত ছিলো?

    ঠিক অমত নয়–তবে কতকটা তাই।

    লিউক বলে–উনি বোধহয় ভাবতেন যে, এখনো বিয়ে করার বয়স আপনার হয়নি।

    মুখে সেই কথাই উনি বলতেন।

    লিউক এবার সরাসরি প্রশ্ন করেন–আপনার কি মনে হয়, ওঁর অমত করার অন্য কোনো কারণ ছিলো?

    রোজ বললো–হ্যাঁ, বাবার আচার-আচরণে এটা স্পষ্ট ছিলো যে উনি–উনি জিওফ্রেকে ঠিক পছন্দ করতেন না।

    ওঁরা কি পরস্পরের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতেন?

    কখনো কখনো এ কথাও মনে হতো।

    এবং, আমার মনে হয় আপনি ওঁর অত্যন্ত প্রিয়জন ছিলেন–তাই আপনাকে হারাবার ভয়ও ছিল।

    ঠিক তা নয়, বাবা আর জিওফ্রে–ওঁরা দুজনেই দুজনের একেবারে বিপরীত এবং কখনো কখনো ওঁদের মধ্যে প্রচণ্ড মতবৈষম্য দেখা দিতো। জিওফ্রে এই ব্যাপারটা বেশ ভালোভাবেই নিতো কিন্তু ওর ওপর বাবার অনমনীয় মনোভাবের জন্য ও যেন কেমন মনমরা হয়ে থাকতো। আমার বাবা কখনো ওকে বুঝতেই চেষ্টা করেননি।

    আচ্ছা, এমন কিছু নেই তো যার ফলে হয়তো আপনার বাবা ওঁকে সঠিক কারণেই অপছন্দ করতেন? যেমন ধরুন, জিওফ্রের কি অতিরিক্ত পরিমাণে মদের নেশা বা রেসখেলা–এসব ছিলো?

    না না, জিওফ্রের এসব দোষ কিছুই নেই। রেস খেলার ও কিছুই বোঝে না। আমার ধারণা ডারবীতে কোনো ঘোড়াটা প্রথম হলো তাও জানে না।

    আশ্চর্য! আমি কিন্তু ডারবী খেলার দিন এপসমে ডাঃ টমাসকে পরিষ্কার দেখেছি।

    রোজ বললো–আপনার মনে হলো আপনি জিওফ্রেকে দেখেছেন? কিন্তু তা একেবারেই অসম্ভব। প্রথমতঃ ওর যাবার উপায়ই ছিলো না কারণ ও সেদিন প্রায় সারাদিনই অ্যাশওয়াল্ড, গ্রামে ছিলো একটা ডেলিভারী কেস নিয়ে।

    কী অদ্ভুত স্মরণশক্তি আপনার।

    হেসে বলে রোজ-আমার বিশেষ করে মনে থাকার কারণ, ওই বাচ্চাটার ডাকনাম রাখা হয়েছে জুজুব।

    ঘাড় নাড়ে লিউক।

    তাছাড়া, রেস খেলা জিওফ্রের দারুণ একঘেয়ে লাগে, ও একদম সহ্য করতে পারে না। যাগে ওসব আলোচনা–আমাদের বাড়ি আসবেন না? মা কিন্তু আপনাকে দেখলে খুশী হবেন।

    কী করে জানলেন?

    ওকে নিয়ে রোজ একটা ঘরে ঢুকলো। একজন ভদ্রমহিলা একটা চেয়ারে জবুথবু হয়ে বসে আছেন।

    মা, ইনিই মিঃ ফিৎস উইলিয়াম।

    মিসেস আম্বলবি দাঁড়িয়ে নমকার করলেন। রোজ ঘরের বাইরে চলে গেল।

    আপনি আসাতে খুব ভালো লাগছে মিঃ ফিৎস্ উইলিয়াম। রোজ বলেছিলো যে, আপনার কোনো কোনো বন্ধু না কি আমার স্বামীকে চিনতেন।

    আজ্ঞে হ্যাঁ, মিসেস আম্বলবি।

    আপনার সঙ্গে আমার স্বামীর দেখা হলো না–যদি হতো, দেখতেন কী সুন্দর চরিত্রের মানুষ। ডাক্তার হিসেবে ছিলেন অতি মহৎ। যে সমস্ত রোগীদের জন্য ডাক্তাররা জবাব দিতেন, তাদের পর্যন্ত সারিয়ে তুলেছেন স্রেফ ব্যক্তিত্বের গুণে।

    লিউক বলে–আমি ওঁর সম্পর্কে অনেক গল্পও শুনেছি। সবাই ওঁকে খুব শ্রদ্ধা করতো।

    আপনি কি বিশ্বাস করেন মিঃ ফিৎস্ উইলিয়াম যে, এই দুনিয়াটা একটা শয়তানের কারখানা?

    একথা শুনতে লিউক প্রস্তুত ছিলো না। ওর কাছে কথাটা একটু আচমকাই মনে হলো। হয়তো কোনো কোনো ক্ষেত্রে কথাটা সত্যি।

    না, আমার প্রশ্ন–আপনি নিজে জানেন কি না? আপনার চারিদিকে সর্বদা শয়তান ঘুরে বেড়াচ্ছে–আপনি সে সম্পর্কে সচেতন? এবং, এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত আছেন? আমার স্বামী জানতেন এবং তিনি সর্বদা ন্যায় বিধানের জন্য লড়তেন।

    আন্তরিকতার সঙ্গে লিউক বলে–আমি জানি।

    তিনি জানতেন যে আমাদের এই জায়গায় কি ঘৃণ্য একটা শয়তানী চক্র ছিলো।–বলতে বলতে মিসেস আম্বাব কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। তিনি বললেন–কিছু মনে করবেন না।–লিউকের দিকে হাত বাড়িয়ে বললেন–এখানে যতদিন আছেন, সময় করে মাঝে মাঝে আমাদের বাড়ি আসবেন। রোজ আপনাকে খুব পছন্দ করে। আপনি এলে ওর খুব ভালো লাগবে।

    আমারও ওকে ভালো লাগে। ওর মতো ভালো মেয়ে আমি স্মরণকালের মধ্যে খুব কমই দেখেছি।

    ও খুব যত্ন নিয়ে আমাকে দেখাশোনা করে।

    ডাঃ টমাস খুব ভাগ্যবান পুরুষ।

    লিউকের হাত ছেড়ে দিয়ে উনি বলেন–হ্যাঁ, তবে আমি যেন বুঝে উঠতে পারছি না।

    লিউক বিদায় নিয়ে চলে এলো। বাড়ি ফেরবার পরে ওর ওখানকার আলাপ আলোচনাগুলো সারাক্ষণ মনে আসছিলো। মিসেস আম্বলবির কথাগুলো ওর মনে পড়লো।–এখানে একটা শয়তানী চক্র আছে।বার বার একথা বলে উনি কি বোঝাতে চাইছিলেন? এ কি শুধুই স্বামীর শোকে সন্তপ্ত মনের বিকার না আরও তাৎপর্যময়?

    উনি কি কিছু জানেন? তার স্বামী মৃত্যুর আগে যা জানতেন–তেমন কিছু?

    লিউক মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে–এই রহস্য আমাকে ভেদ করতেই হবে।

    নিজের মনকে শাসন করে ও ব্রিজেটের সঙ্গে সেদিনকার দৈত-যুদ্ধের ঘটনাটা মন থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।

    ***

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আনা ফ্রাঙ্ক-এর ডায়েরি

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }