Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    লেখক এক পাতা গল্প2485 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দি পেল হর্স – ১

    প্রথম অধ্যায়

    মার্ক ইস্টারব্রুকের কথা 

    এসপ্রেসো যন্ত্রটা ক্রুদ্ধ সর্পিণীর মতন হিস হিস শব্দে গজরাচ্ছিলো আমার ঠিক কাঁধের পিছনে। এ শব্দ আমার কাছে অশুভ বলে মনে হচ্ছিল। আমার মনে হয় আমাদের সময়কার সব শব্দের মধ্যেই রয়েছে এই একই অশুভের অনুমান। আকাশের বুকে জেট প্লেনগুলো দ্রুতগতিতে ক্রুদ্ধ আর্তনাদের ভীতি প্রদর্শন, সুড়ঙ্গ পথে আগুয়ান টিউব ট্রেনের ধীরগতির ভয়প্রদর্শনকারী গুম গুম শব্দ, বাড়ি ঘরদোরের ভিত নাড়িয়ে দেওয়া রাজপথে চলমান ভারি পরিবহণ ট্রাকগুলোর আওয়াজ…এমন কি এই যুগের রান্নাঘরের সাড়াশব্দ, যদিও সেই কাজগুলো মঙ্গলকর তবুও সেগুলো একধরনের সতর্কতা সূচকধ্বনি। কাপ ডিস ধোয়ার মেশিন রেফ্রিজারেটর সমূহ রান্নার প্রেসার কুকাররা ছিচকাঁদুনে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারস।

    ‘সাবধান’–এই সব যন্ত্রগুলো মনে হয় সবই আওড়ায়। তোমাদের সেবা করার জন্য তোমাদের হাতেই বন্দী আমি। আমার ওপর তোমাদের নিয়ন্ত্রণ যদি একবার খসে পড়ে…। এই সংসার এবং জগৎ সত্যিই বিপজ্জনক। আমার চোখের সামনে ধোঁয়া ওঠা কাপটা চামচ দিয়ে নাড়লাম। বড় সুন্দর এবং সুখকর গন্ধ। আর কি দেওয়ার আছে আপনাকে। পাকা কলা এবং লবণ মাখানো শুয়োরের মাংসের স্যাণ্ডউইচ আছে আপনাকে দেব কি? এই খাদ্যটা একেবারে আমার কাছে বিপরীতধর্মী। শৈশবের স্মৃতিতে আমার পাকা কলার কথা মনে পড়ে যায়। এ ছাড়া মাঝে মাঝে মদ্যপানের সাথে চিনি মেশানো পাকা কলার টুকরো মুখে ফেলি। লবণ মাখানো শুয়োরের মাংসের কথা মনে পড়লে ডিমের কথা মনে পড়ে যায়। তবে চেলসায় যখন আছি সেখানকার লোকেরা যেরকম খাদ্য খাবে ঠিক সেইরকম খাদ্য আমাকে খেতে হবে। কাজেই খাসা পাকা কলা আর লবণ মাখানো শুয়োরের মাংসের স্যাণ্ডউইচ খেতে আমি রাজি হয়ে গেলাম। আমি এখন চেলসার বাসিন্দা। আজ তিন মাস ধরে আমি আসবাব পত্র কিনে ফ্ল্যাট জোগাড় করেছি। সবদিক থেকে বিচার করতে গেলে আমি এখন একদম ভিনদেশী আহেলি আদমি। মুঘল আমলের শিল্পের উপর আমি একখানা বই লিখেছি। এই বই লেখার জন্য হ্যামস্টেড, ব্রুমসবেরি, স্ট্রেথাম বা চেলসাতে থাকা যায়। এই রকম সুবিধে, অসুবিধে সব জায়গাতেই আছে। আমার পোশাক পরিচ্ছদ ছাড়া, পারিপার্শ্বিক অবস্থা আমার ভাবনাচিন্তায় নেই। আর যেখানে আমি বসবাস করি সেই পাড়ার লোকেরা আমার সম্বন্ধে একদম উদাসীন। তাই আমি নিজের দেশেও আজ বন্দী হয়ে আছি। সব লেখকই মাঝে মাঝে আকস্মিক বিতৃষ্ণা মনে করেন। আমার মনও সেই সন্ধ্যেবেলায় বিতৃষ্ণায় ভরে উঠেছিল। মুঘল স্থাপত্যশিল্প, মুঘল সম্রাটগণ, মুঘল জীবনচর্চার পদ্ধতি এই আজব সমস্যাগুলো আমার মনের পটে ফুটে উঠেছিল। এগুলোতে আমার কিছু আসে যায় না। এদের সম্বন্ধে কেন আমি লিখছি? যে পৃষ্ঠাগুলো আমি লিখেছি সেগুলোর উপর আমি চোখ বুলাতে লাগলাম। মনে হলো সব লেখাই আমার বাজে। নিচুদরের লেখা আমার মনে কখনো কৌতূহলের স্থান নেয় না। হেনরি ফোর্ড বলেছিলেন ইতিহাস পলায়ন প্রবৃত্তি জাগায় এটা একেবারে সত্যি কথা। বিতৃষ্ণায় পাণ্ডুলিপিখানা সরিয়ে উঠে পড়লাম। ঘড়িতে তখন এগারোটা বাজে। ডিনার খেয়েছি কিনা সেটাও আমার একটা ভাবনা। না খেয়েছি তো এ্যাথেনাস হোটেলে। সে তো অনেকক্ষণ হয়ে গিয়েছে। উঠে গিয়ে ফ্রিজ খুলে দেখলাম কিছু শুকনো খাবার পড়ে আছে। সেই খাবার দেখেও ভক্তি আসে না। ওই খাবারের দিকে আর নজর দিলাম না। এ জন্যই কিংস রোডে বেরিয়ে পড়লাম। ঘুরতে ঘুরতে একটা কফির দোকানে এসে হাজির হলাম। দোকানের নামটা বেশ বড় হরফে লেখা বেশ জ্বলজ্বল করছে, লুইজি। তারপর লবণমিশ্রিত শুয়োরের মাংস ও পাকা কলার তৈরি স্যাণ্ডউইচ সামনে নিয়ে ভাবছি—আধুনিক কালের নানাধরনের ভয়ানক শব্দ আমাদের পারিপার্শ্বিক আবহাওয়ার উপরে প্রভাব ছড়াচ্ছে। ভাবছিলাম এদের সবগুলোর সাথে আমার শৈশবকালের দেখা ছায়া শরীরদের স্মৃতির কোথায় যেন একটা মিল রয়েছে। ধোঁয়ার মেঘের মধ্যে বন্দী বাক্স থেকে ডেভী জোনস আসছে। দরজা জানলাগুলো দিয়ে অশুভ শক্তি বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে, সৎপরী ডারমণ্ডকে আসতে বাধা দিচ্ছে, এ ছাড়া আরো রয়েছে কত নাম। তারা এর বদলে অপ্রতুল দর্শন যাদুদণ্ড দোলাচ্ছে। এবং সততারই পরিণামে হবে জয় সেই মন্ত্র মোটা গলায় আওড়াচ্ছে, এমনিভাবে অপরিহার্য মুহূর্তের গান আগে গাইছে—অথচ এর সঙ্গে ওর বিশেষ ছায়া শরীরের কাহিনীর কোনো যোগই নেই। সহসা মনে আসে, অশুভ সব সময় ছিলো, মনে হয় শুভর চেয়ে অশুভের আকর্ষণ অধিক। নিজেকে তাই অশুভ প্রকাশ করে, দেখায়, চমকে দেয় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আহ্বান জানায়। এটা হচ্ছে স্থায়িত্বকে অস্থায়িত্বের আক্রমণ। স্থায়িত্ব সবসময় জয়লাভ করবে। স্থায়িত্বই সৎপরী ডারমণ্ডের অতিপ্রচলিত কাহিনীকে বাঁচিয়ে রেখেছে—মোটা গলার স্বর, মন্ত্রপাঠ, অপ্রাসঙ্গিক কণ্ঠস্বর, পাহাড় থেকে নেমে আসা যাদুদণ্ড আসছে পুরানো পৃথিবী শহরের বুকে, যে শহরকে আমি ভালোবাসি-এই সব থাকা সত্ত্বেও বাঁচিয়ে রেখেছি। মনে হয় এই অস্ত্রগুলো খুবই দুর্বল কিন্তু তবু এই অস্ত্রগুলো অপরিহার্য থাকবে। শরীরের স্মৃতি সবসময় যেমন মিলিয়ে যাবে। সিঁড়িতে ওঠানামার যে ধাপ, সৎপরী ডারমণ্ডের আবির্ভাব, খৃষ্টধর্মের বিনয় প্ৰদৰ্শন এই সবগুলির আসার জন্য ঠেলাঠেলি নয়, আসছে সার বেঁধে, পাশাপাশি, বিরোধের সাথে। এখন আর গর্জনরত দানবকে চোখে পড়ছে না। বরং নজরে পড়লো একজন লোককে যার পরণে ছিলো লাল আঁটোসাঁটো পোশাক। এসপ্রেসোর হিস্ হিস্ আওয়াজ আমার কানে এল। এক পেয়ালা কফি দিতে বলে এক নজরে আমি চারিদিক দেখে নিলাম। আমার চারপাশে কি ঘটছে সেইদিকে আমি নজর দিই না। আমার এক বোন। বোন আমাকে দোষ দিয়ে বলে তুমি তোমার রচিত জগতে বুঁদ হয়ে থাক। বিবেকর চেতনায় আমার চারধারে কি ঘটছে তা দেখতে বসলাম। চেলসিয়ার কফিবারগুলোর ভিতর যে কি ঘটছে তা রোজই দৈনিক পত্রিকায় খবর হয়ে ওঠে। তাই আধুনিক জীবন সম্পর্কে জানার একটা সুযোগ আমার জীবনে এসেছে। এসপ্রেসোর ভিতরটা অন্ধকারে আচ্ছন্ন তাই সবকিছু নজরে পড়ে না। খরিদ্দাররা প্রায়ই সবাই যুবক-যুবতী। আমার ধারণা এরা সবাই হচ্ছে প্রজন্মের তলানি। আজকাল মেয়েদের দেখলেই মনে হয় সব মেয়েরাই নোংরা। মেয়েগুলো একটু নজরকাড়া গরম পোশাক-আশাক পরে এসেছে। ক-সপ্তাহ আগে বন্ধুদের সাথে খাওয়ার সময় এ ধরনের যুবতী মেয়ে আমার নজরে পড়েছিল। আমার পাশের চেয়ারে যে মেয়েটি বসেছিল তার বয়স কুড়ি হবে। মেয়েটি হলুদ রংয়ের পুলোভার পরে ছিল গরম রেস্তোরাঁর মধ্যে। আর পরে ছিল কালো রংয়ের স্কার্ট, কালো উলের মোজা, খাবার সময় সারাক্ষণ ঘাম ঝরছিল। তার দেহ ঘামে ভেজা, মাথায় বিচ্ছিরি গন্ধ, আমার বন্ধুদের কথায় মেয়েটি নাকি খুবই মনকাড়া। আমার কাছে নয়। একটা মাত্র প্রতিক্রিয়া আমার মনে হচ্ছিল একটা গরম জলভরা বাথটবে ওকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে হাতে একখানা সাবান গুঁজে দিতে। আর তাতে নিজের দেহটা পরিষ্কার করার জন্য অনুরোধ করতে। আমার এই ইচ্ছেটাই প্রমাণ করে সময়ের থেকে আমি কতটা ফারাক হয়ে গেছি। বোধ হয় বহুদিন বিদেশে থাকার জন্যই আমার এই অবস্থা হয়েছে। ভারতীয় মহিলাদের কথা মনে হতেই আমার মন আনন্দে ভরে গেল। তাদের মাথা ভরা কালো চুল। পরনে ভেজালবিহীন উজ্জ্বল রংয়ের শাড়ি, তালদোলায়মান তাদের হাঁটার ভঙ্গিমা। আমার এই আনন্দদায়ক স্মৃতি রোমন্থনের সুর কেটে গেল এক আকস্মিক তীব্র কন্ঠের চিৎকারে। আমার পাশের টেবিলে দুটি যুবতীর মধ্যে ঝগড়া বেঁধেছে। ওদের সঙ্গী যুবকেরা ওদের বিবাদ মেটাবার চেষ্টা করলেও সফল হলো না। তারা পরস্পরকে আক্রমণ করে তীব্র কণ্ঠে চিৎকার করছিলো। একটি মেয়ে অপর মেয়েটির গালে সজোরে চড় মারলো। দ্বিতীয় চেয়ার থেকে প্রথমাকে ঠেলে ফেলে দিল। মৃগী রুগীদের মতো গালাগালি করছে, জেলেনীদের মতো ঝগড়া করছে। একটি মেয়ের মাথায় মেকী চুলের খোঁপা। অন্য মেয়েটির মাথায় লম্বা সোনালি চুল। কি নিয়ে যে ওদের মধ্যে ঝগড়া বেঁধেছে তা ঠিক মতো বুঝতে পারলাম না। অন্য টেবিল থেকে সোল্লাসে চিৎকার আর বিড়ালের ডাক শোনা গেল।

    মার! লাউ ওকে ঠেসে ধর।

    কাউন্টারের ওধারে বসেছিল মালিক—ইতালিয়ানদের মতন দেখতে লিকলিকে চেহারা। মুখে একপাশে পোড়া দাগ। ওকে আমি লুইজি নামেই জানি। সে এবার মধ্যস্থতা করার জন্য ওদের কাছে এসে দাঁড়ালো আর গেঁয়োবুলিতে ধমক দিলো। —না এবার ছাড়। ছেড়ে দে। এক্ষুনি তোরা রাস্তার লোকজনকে ভেতরে টেনে আনবি দেখছি। পুলিশ ছুটে আসবে। বলছি, এবার থাম।

    কিন্তু সোনালি চুলওলা মেয়েটি লালচে মাথা মেয়েটির চুলের মুঠি ধরে সজোরে টানছে আর মেয়েটি চিৎকার করছে। তুই একটা মরদ চোর কুক্কুরী ছাড়া আর কিছু নোস। কুক্কুরী তুই। লুইজি আর মেয়েদুটোর সঙ্গীসাথীরা মেয়েদুটোকে জোর করে দুদিকে সরিয়ে দিলেন। সোনালি চুল মেয়েটির মাথায় বড় এক গোছা লালচে চুল ছিঁড়ে এল। সে খুশীতে উঠে এসে চুলের গোছা ধরে মাটিতে ফেলে দিল। রাস্তার দিকের দরজা দিয়ে পুলিশ ভেতরে ঢুকল। পরণে ছিল নীল রংয়ের উর্দি।

    দরজার সামনে দাঁড়িয়ে গম্ভীরভাবে আইনমাফিক ধমক দিলো। কি হচ্ছে এখানে। সঙ্গে সঙ্গে শত্রুপক্ষরা একত্রিত হয়ে গেল। মাথায় উঠল বিবাদবিস্বাদ। এই একটু হাসিঠাট্টার ব্যাপার আর কি। ওদের মধ্যে এক ছোকরা আওড়ালো। এছাড়া আর কিছু না। বললো লুইজি। বন্ধুবান্ধবরা একটু ঠাট্টা ইয়ারকি করছে। কথাবলার সঙ্গে সঙ্গে লুইজি পা দিয়ে ছেঁড়া চুলের গোছাটা কাছের টেবিলের নীচে ছুঁড়ে ফেলে দিল। প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়েদুটো পরস্পরের দিকে তাকিয়ে হাসলো। তৈরি করে নিল মেকী শান্তির আবহাওয়া।

    পুলিশ ভদ্রলোক প্রত্যেকের দিকে সন্দেহজনক দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিল। সোনালি চুল মেয়েটি বলল আমরা এক্ষুনি যাচ্ছি—চল দুপ। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরো অনেকে বেরিয়ে চলে গেল। ওদের বিষণ্ণ ভাবে চলে যেতে দেখল আইনরক্ষক। তার চোখের দৃষ্টি বলছিল ঠিক আছে এবারটা মাপ করে দেওয়া হল। ওদের উপর নজর রাখা হবে। ধীরে ধীরে আইনরক্ষক চলে গেল। লালচে মাথা মেয়েটির সঙ্গী বিল মেটাল। তুমি ঠিক আছো তো, মেয়েটি মাথার খোঁপা ঠিক করছিল, তাকেই শুধালো। লাউ তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করলো। একেবারে চুলের গোড়া থেকে ছিঁড়ে নিয়েছে। লাগেনি। মেয়েটি শান্ত কণ্ঠে জবাব দিলো। তার দিকে তাকিয়ে হেসে আবার বললে’—গোলমালের জন্য দুঃখিত লুইজি। দলের সবাই চলে গেল। বার এখন একদম ফাঁকা, পকেটে হাত ঢোকালাম পয়সা বার করার জন্য। ওদের চলে যাওয়ার পর দরজাটা বন্ধ হতে দেখেছিল লুইজি। বললো বেশ খেলোয়াড় মেয়ে দেখছি, ঠিক আছে। একটা ঝাঁটা দিয়ে লালচে চুলের গোছাটা ঝেঁটিয়ে কাউন্টারের বাইরে ফেলল।— বেশ যন্ত্রণা হয়েছে, বললাম। আমার এমন হলে আমি তো মরে যেতাম যন্ত্রণায়। লুইজি স্বীকার করলো—কিন্তু টমি খেলোয়াড় মেয়ে।

    মেয়েটাকে তুমি ভালোই চেনো দেখছি? ওহো, মেয়েটা বেশিরভাগ দিন সন্ধ্যেবেলায় এখানে আসে। টাকারটন ওর নাম। থমসিনা টাকারটন এটাই ওর পুরো নাম। কিন্তু এখানে সবাই ওকে টমি টাকার নামে জানে। ধনীর দুলালী। ওর বুড়ো বাপটা মরবার সময় ওর জন্য বহু টাকাকড়ি রেখে গেছে। অথচ দেখো এখানে সে কি করে বেড়াচ্ছে? এসেছে চেলসিয়াতে, ওয়াল্ডওয়ার্থ ব্রিজের দিকে আধাআধি গিয়েই একখানা বস্তির ঘরে থাকছে। চারধারে হৈ হৈ করে নেচে বেড়াচ্ছে, একদল ছোকরাছুকরির সাথে, ওরা সব একরকম কাজই করছে। ওদের অর্ধেক ছোকরাছুকরির হাতে টাকা পয়সা আছে, ওদের দেখে আমার মনে বড় কষ্ট হয়। চাইলে ওরা যেকোনো জাগতিক সুখ ভোগ করতে পারত। ইচ্ছে হলে থাকতে পারত রিজ হোটেল। অথচ যে জীবন ওরা বেছে নিয়েছে তাতে কত বিপদের ঝুঁকি, অসম্মানের লাথি। হ্যাঁ, সত্যি ওদের জন্য আমার কষ্ট হয়। তোমার পছন্দ তো ওর চলবে না। হ্যাঁ সে জ্ঞান আমার কাছে। বললো লুইজি—ওদের দেখে এটাই আমার ভাবনা, চলে যাওয়ার জন্য উঠেপড়ে শুধোলাম, কিসের জন্য ওদের এই লড়াই। টমি অন্য মেয়েটার বয়ফ্রেণ্ডকে বাগিয়ে নিয়েছে। বিশ্বাস করো, ওই ছোকরা এমন কিছু নয় যে এমন লড়াই করা সাজে। অন্য মেয়েটা সেটাই ভাবে, বললাম। ওহো। লাউ মেয়েটা বড় ভাবপ্রবণ, জবাব দিল লুইজি। এমনভাবে যেন ওকে সে সহ্য করেছে। আমার ধারণায় এটা ভাবপ্রবণতা নয়, কিন্তু আমি তা বললাম না।

    ****

    বোধহয় সপ্তাহ খানেক পরের ঘটনা। টাইমস পত্রিকায় মৃত ব্যক্তিদের নামের তালিকায় আমার নজর কাড়লো।

    টাকারটন : মৃত্যু হয়েছে অ্যাম্বারলির কালোফিল্ড নার্সিংহোমে দোসরা অক্টোবর। থমসিনা এ্যান, বছর কুড়ি বয়স—সারের অ্যাম্বারালির ক্যারিঙটা পার্কের প্রয়াত টমাস টাকারটন মহাশয়ের একমাত্র কন্যা। প্রাইভেট সমাধির ব্যবস্থা। ফুলের প্রয়োজন নেই। হতভাগিনী টমি টাকার জন্য আর ফুলের প্রয়োজন নেই। আর চেলসিয়ার জীবনচর্চায় আর কেউ তাকে অসম্মানের লাথি মারবে না। টমি টাকারের দুরবস্থা দেখে আজ মনে এক ক্ষণস্থায়ী বেদনা অনুভব করলাম। আমার মনে হয় যে আমার ধারণা সঠিক, একটা বিনষ্ট জীবন একথা বলবার আমি কে? হয়ত সে জীবন আমার এই নির্জন নিঃশব্দ আমার পণ্ডিত জীবন, বইগুলোর মধ্যে নিহিত, বাইরের জগৎ থেকে একেবারে বন্দী জীবন। তাই আমারই তো বিনষ্ট জীবন I দ্বিতীয়বার জীবনটা যেন হাত ফেরতা একটা বস্তু। এবার সদ্ভাবে শুধাই, জীবন থেকে সরে আমি কি অবহেলিত, বড় আজব ধারণা। অবশ্য সত্যিকথা অবহেলা আমি চাই না। কিন্তু আমার রোল। আমার তা প্রাপ্য। চিন্তাটি আজ আর একেবারেই ঈপ্সিত নয়। টমি টাকারের ভাবনা মনটাকে সরিয়ে নিয়ে উঠে লোখার কাজে নিয়োগ করলাম, আমার পিসতুতো বোন রোডা ডেস্পার্ডের লেখা একখানা চিঠি এখন আমার প্রধান ভাবনার বিষয়। অনুগ্রহ করে সে লিখেছে একটু দেখাতে। ওর এই কথাটা আমার মনে বিতৃষ্ণা জাগালো—একে আজ সকাল থেকে কাজে মন বসছে না। এখন একেবারে কাজ না করার একটা ছুতো পেয়ে গেলাম।

    বাড়ি থেকে বেরিয়ে কিংস রোডে একখানা ট্যাক্সি ধরলাম। মিসেস অ্যারিয়াডন অলিভার আমার বান্ধবী। ট্যাক্সি নিয়ে রওনা হলাম তার বাড়িতে। মিসেস অলিভার একজন নামকরা গোয়েন্দাকাহিনী লেখিকা। আর তার বাড়ির ঝি মিলি একটা সাক্ষাৎ ড্রাগন। বাইরের মানুষের হাত থেকে সে সব সময় তার কর্ত্রীকে পাহারা দেয়।

    স্রেফ ভুরু কুঁচকে একটা অকথিত প্রশ্নের ইঙ্গিত করলাম। সবেগে মাথা নাড়ালো মিলি। মিস্টার মার্ক বলল যে আজ সকাল থেকেই মেজাজ বিগড়েছে। আপনি হয়তো তার মেজাজ কিছুটা ঠান্ডা করতে পারবেন। সিঁড়ি ভেঙে তিনতলায় উঠলাম। হালকা হাতে দরজায় টোকা দিলাম। এবং অভ্যর্থনার পরোয়া না করেই ঢুকে পড়লাম ঘরে। মিসেস অলিভারের লেখার ঘরখানা বেশ বড়। ওয়ালপেপারে মোড়া যাযাবর পাখি ডালে বসে বাসা বানাচ্ছে। মিসেস অলিভারের মাথা প্রায় বিগড়ে গিয়েছে। সারাঘর পায়চারি করছে আর আপন মনে বক্‌ করছে। আমার দিকে একবার অনাগ্রহ ভাবে তাকাল। তারপর আবার আগের মতন পায়চারি করতে লাগল। তার দুচোখের দৃষ্টি ঝাপসা। চার দেওয়ালে আবদ্ধ দৃষ্টি। মাঝে মাঝে খোলা জানলা দিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে বাইরে। কখনও কখনও যন্ত্রণার দমক সহ্য করার জন্য সজোরে শ্বাস টানছে। কিন্তু কেন? যেন বিশ্বের দরবারে জানতে চাইলো মিসেস অলিভার — কেন বোকা লোকটা তক্ষুনি বললো না যে সে কাকাতুয়াটাকে দেখেছিল? কেন সে বলেনি? তার নজরে ওটা পড়েনি এমন তো হতে পারে না। কিন্তু যদি সে বলতো তবে তো সব কিছুই মিটে যেতো। একটা পথ নিশ্চয়ই আছে….নিশ্চয়ই আছে…।

    মিসেস অলিভার আর্তনাদ করলো, মাথায় বব করা পাকাচুলের মধ্যে আঙুল চালাতে লাগল। এবং একসময় পাগলির মতন চুলগুলো মুঠো করে ধরলো। তারপর সহসাই আমার দিকে সহজ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, হ্যালো মার্ক। মাথা আমার বিগড়ে যাচ্ছে। এবং তারপর নিজের অভিযোগের বৃত্তান্ত বলতে শুরু করলো।

    এই ধরো মণিকার কথা। তাকে যত নিখুঁত ভাবে গড়তে চাইছি সে কিনা কদাকার হয়ে উঠছে। এত বোকা মেয়ে…আবার কখনো নিজের মনের খুশিতে বিভোর। মণিকা…মণিকা কি? মনে হচ্ছে নামটা ভুল হবে। ন্যান্সি? এই নামটা কি পছন্দসই। আচ্ছা এই জোয়ান নামটা প্রত্যেকেই নিজেকে সবসময় জোয়ান বলে মনে করে। অ্যানি নামটা খাসা। আচ্ছা সুসান নামটা কেমন? না, একটা কাহিনীতে সুসান নাম রেখেছি। লুসিয়া? লুসিয়া? আমার বিশ্বাস লুসিয়া নামটা খুবই পছন্দসই। মাথা ভরা লালচে চুল। গোলগলা জাম্পার কালচে আঁটোসাঁটো কি? পায়ে কালচে রংয়ের মোজা, মানসিক উল্লাসের সাময়িক রেশটুকু প্রায় সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে গেল। মনে পড়ে গেল কাকাতুয়ার সমস্যার কথা। মিসেস অলিভার আবার ঘরময় পায়চারি শুরু করল। অন্যমনস্ক ভাবে টেবিল থেকে জিনিসপত্র নিয়ে অন্য জায়গায় রাখছে। চশমার খাপটা যত্ন করে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় রাখল। আগে ওখানে চীনাবাঁটের হাতপাখা রেখেছে। তারপরেই একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।

    বললো তুমি এসেছো আমি খুব খুশী হয়েছি। তুমি খুব খাসা তাই এমন কথা বললে। যে কেউ তো হতে পারত, কোনো বোকা মেয়েছেলে এসে আমাকে দিয়ে বাজারের দ্বারোদঘাটন করাতে চাইতো, কিংবা কোনো লোক এসে মিলির ইনস্যুরেন্সের কার্ড পরখ করতে চাইতো কিন্তু মিলি এই কার্ড বানাতে একেবারে অরাজী। কিংবা জলের কলের মিস্ত্রি কিন্তু সে এলে তো ভাগ্য সুপ্রসন্ন হতো না। কেউ আমার সাক্ষাৎকার নিতে আসতো আর এসেই নানা লজ্জাকর প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে যেত। ওরা সবসময় এই একই ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে। লেখিকার জীবন অবলম্বন করার অনুপ্রেরণা আপনি কি থেকে প্রথম পেয়েছিলেন। কতগুলো বই লিখেছেন। কত অর্থ উপার্জন করেছেন। এমনি আরো অনেক সব। এ-সব প্রশ্নের জবাব আমার একটাও জানা নেই। আর তাই আমাকে এ-সব প্রশ্নের সামনে বোকা বোকা দেখায়। এমন নয় যে এ সবে আমার কিছু এসে যায়। তবে কাকাতুয়ার সমস্যাটা আমার মাথা একদম বিগড়ে দিয়েছে। একটা কিছু সমাধান খুঁজে পাচ্ছো না। সমবেদনার সুরে বললাম, বোধহয় আমার এখন চলে যাওয়াই ভালো।

    না যেও না। একদিক দিয়ে তুমি আমার চিত্তবিক্ষেপ ঘটিয়েছো। এমন সন্দেহজনক প্রশংসা তবুও তা মেনে নিলাম।

    ধূমপান করবে না কি। নামকাওয়াস্তে অতিথি সৎকারে ইচ্ছে প্রকাশ করার জন্য শুধালো মিসেস অলিভার। তারপর বললো—দেখো কোথাও হয়তো পড়ে আছে প্যাকেটটা। ওই টাইপ রাইটারের ডালাটা খুলে দেখো তো একবার। ধন্যবাদ আমার নিজের কাছে সিগারেট আছে। একটা সিগারেট নাও। ওহো তুমি তো আবার ধূমপান করো না। আমি মদ্যপানও করি না। বললো মিসেস অলিভার, তবে মনে হয় করা উচিৎ ছিল। ঠিক ওই আমেরিকান গোয়েন্দাদের মতন। ওদের ঘরে মদের বোতল মজুত করা থাকে। মনে হয় এতেই ওদের সব সমস্যা দূর হয়ে যায়। তুমি তো জানো। মার্ক আমি ভাবতেও পারছি না যে কেমন করে এই বাস্তব জীবনে খুন করে পালিয়ে যেতে পারে। আমার মনে হয় যে মুহূর্তে তুমি কাউকে খুন করলে সেই মুহূর্তে সব কিছু ভয়ানকভাবে সুস্পষ্ট হয়ে পড়লো। বাজে কথা। তুমি এমন অনেক খুন করেছ। অন্তত পঞ্চান্নটা বললো মিসেস অলিভার। খুনের ব্যাপারটা একেবারে সহজ আর সরল। এই খুন গোপন করাটাই যত গোলমেলে আর কঠিন কাজ। বলছি, তুমি ছাড়া কেন অন্য লোক হবে। তুমি রয়েছো মাইলখানেক দূরে। সমাপ্ত প্রায় কাহিনীতে নয়। বললাম। আহা এতে আমার মনের উপর কত চাপ পড়ছে। বিষণ্ণ কণ্ঠে বলল মিসেস অলিভার। বলো তুমি কি চাও, ‘খ’ নামক লোকটা যখন খুন হলো তখন পাঁচ-ছ জন লোকের উপস্থিতি থাকা স্বাভাবিক নয় এবং তাদের প্রত্যেকেরই খ নামক লোকটাকে খুন করার উদ্দেশ্য ছিলো।—আর না হলে খ নামক লোকটা সকলের কাছে ঘোর অবাঞ্ছিত লোক এবং সে ক্ষেত্রে সে খুন হলে কি হলো না তা নিয়ে কেউ কিছু মনে করবে না এবং কে এ কাজ করেছে তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামাবে না। তোমার সমস্যা বুঝতে পেরেছি, বললাম, তবে পঞ্চান্ন বার যখন এ কাজ করতে তুমি সফল হয়েছো তখন আর এবারও এটা করার ব্যবস্থা করতে ঠিক পারবে।

    নিজের মনকে তাই বোঝাই, মিসেস অলিভার বলল, বার বার বলি, কিন্তু প্রতিবারই বিশ্বাস করতে পারি না। তাই যন্ত্রণায় ছট্‌ফট্ করি। আবার নিজের চুলের মুঠি আঁকড়ে ধরে ভীষণভাবে টানলো মিসেস অলিভার।

    কোরো না ও কাজ। চেঁচিয়ে বললাম—একেবারে গোড়াসুদ্ধ উপড়ে ফেলবে।

    বাজে কথা, জবাব দিলো মিসেস অলিভার—চুল শক্ত হয়। যদিও বছর চোদ্দ বয়সে ভয়ঙ্কর হাম হয়েছিলো, হাই টেম্পারেচার উঠেছিলো, তখন চুলগুলো গোড়া থেকে খসে পড়তো, মাথার সামনেটা একেবারে সব ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। দারুণ লজ্জাকর ব্যাপার। এবং আবার ঠিকমতন চুল গজাতে সময় নিয়েছিলো মাস ছয়েক। একটা মেয়ের কাছে এটা সাংঘাতিক ব্যাপার। মেয়েদের মনে এতে আঘাত লাগে।

    গতকাল নার্সিংহোমে মেরি দোলা ফনটেইনকে দেখতে গিয়ে এ কথাটাই ভাবছিলাম, আমার যেমন মাথা থেকে সব চুল উঠে গিয়েছিল তারও ঠিক তেমন ভাবে মাথা থেকে সব চুল উঠে যাচ্ছে। মেয়েটা বলল ভালো হয়ে উঠে সে মাথার সামনেটায় পরচুল পরবে। বয়স যখন ষাট হয়ে যাবে তখন আর মাথায় নতুন চুল গজাবে না এইটুকু আমার বিশ্বাস।

    কাল রাত্রিবেলা একটা মেয়ে অপর একটা মেয়ের মাথা থেকে একগোছা চুল ছিঁড়ে নিতে দেখেছি, বললাম আমি। জীবনে অভিজ্ঞতা লাভ করেছে এমন একজন মানুষের মতন আমার কণ্ঠস্বরে যে অহঙ্কারের সামান্য সুর ফুটে উঠেছে সে সম্বন্ধে আমার মন সচেতন ছিলো।

    কেন অস্বাভাবিক সব জায়গায় তুমি যাতায়াত শুরু করেছ? মিসেস অলিভার শুধালো।

    চেলসিয়ার একটা কফিখানায় ঘটেছিলো ব্যাপারটা।

    ওহো, চেলসিয়ার কথা বলছো, বলল, মিসেস অলিভার — আমার বিশ্বাস, সেখানে সব কিছুই ঘটে। আছে বিটানক আর স্পুটানিক। আছে অভিজাত আর বিটপ্রজন্ম। ওদের সম্পর্কে লিখতে গিয়ে ভুল করে ফেলি এই ভয়ে ওদের সম্বন্ধে আমি কিছু লিখি না। আমার মনে হয় যা তুমি জান তার উপর লাঠির খোঁচা দেওয়াই বেশি নিরাপদ। যেমন শত্রুপক্ষের জাহাজ অন্বেষণরত জাহাজে এবং ছাত্রাবাসগুলোয় যে সব লোক রয়েছে এবং কি সব ঘটছে হাসপাতালগুলোতে আর গীর্জার পরামর্শদাতাদের মধ্যে এবং বিক্রি বাট্টার কাজকর্মে—সঙ্গীত সম্মেলন সমূহে এবং কারখানার মেয়েগুলোর মধ্যে, আর সমিতিগুলোতে এবং হররোজ নারী যুবক ছোকরা আর ছুকরী যারা বিজ্ঞানের স্বার্থে এবং দোকানগুলোর কর্মচারী হয়ে সারাবিশ্ব জুড়ে ঘুরছে ফিরছে।..।

    এক টানা কথা বলতে বলতে হাঁফিয়ে উঠে থামলো মিসেস অলিভার। মনে হচ্ছে এদের সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা লাভ করা অনেকটা সুবিধাজনক—

    বললাম, একই কথা –

    তুমি যে কোনো দিন আমাকে চেলসিয়ার কফিখানায় সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারো—আমার অভিজ্ঞতাকে শুধু আর একটু বাড়াবার জন্যে। সতৃষ্ণভাবে বলল মিসেস অলিভার।

    যে দিনই বলবে নিয়ে যাব। আজ রাতে যাবে নাকি?

    না আজ রাতে নয়। লেখায় খুব ব্যস্ত কিংবা বলতে পারো লিখতে পারার জন্য খুব বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। লেখালেখির ব্যাপারে এটাই সবচেয়ে ক্লান্তিকর অবস্থা যদিও বাস্তবে প্রতিটি বস্তুই ক্লান্তিকর—যে মুহূর্তে তোমার মাথায় একটা ভাব দেখা দিল যা মনে হচ্ছে আশ্চর্যজনক একটা ভাব হয়ে উঠবে শুধু এটি ছাড়া। এবং তক্ষুনি তা শুরু না করে একেবারেই অপেক্ষা করা যায় না। আচ্ছা, আমাকে বলো তো মার্ক, তুমি কি ভাব যে, দূর থেকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কাউকে খুন করা সম্ভব?

    দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ বলতে তুমি কি বলতে চাইছো। একটা বোতাম টিপে ধরলো আর অমনি ছুটে চললো তেজষ্ক্রিয় মারণ রশ্মি।

    না—না—। কল্পবিজ্ঞানের কাহিনী নয়। আমার মনে হয় সন্দেহান্বিত হয়ে, মিসেস অলিভার থামল। তারপর বলল। আসলে আমি বলতে চাইছি ব্লাক ম্যাজিক (মারণ যন্ত্র)-এর কথা।

    মোমের পুতুল তৈরি করে তার গায়ে পিন ফোটানো, ওহো, মোমের পুতুল এখন শেষ হয়ে গেছে।

    মিসেস অলিভার অবজ্ঞাভরে বলল – কিন্তু আজব ঘটনা তো এখনও আফ্রিকা অথবা ওয়েস্টইণ্ডিজে ঘটে। লোকজনের মুখে এমন কাহিনী তো প্রায়ই শোনা যায়। কি ভাবে ওখানকার লোকজনের দেহ যায় কুঁকড়ে এবং তাদের মৃত্যু ঘটে। ভুদু…বা…জুজু…। যা হোক আমি যা বলতে চাইছি তা তুমি বুঝতে পেরেছো।

    বললাম যে এসবই এখন সংকেতপূর্ণ শব্দ প্রয়োগের শক্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রতারিত লোকটার কাছে সবসময় একটা ইঙ্গিতধর্মী শব্দ প্রয়োগ করা হয় যে, ওঝা তার মৃত্যুর পরোয়ানা জারি করেছে। বাকিটুকু শেষ করে লোকটার অবচেতন মনে।

    মিসেস অলিভার নাক ঝেড়ে বলে উঠলো, দ্যাখো, কেউ যদি আমার কাছে এসে বলে যে তোমার আয়ু ফুরিয়েছে এবং তোমার মরণ হবে। তাহলে তাদের আশা ব্যাহত করে আমি বড় আনন্দ লাভ করবো।

    হেসে বললাম—তোমার শরীরে শতাব্দীপ্রাচীন নির্ভেজাল পাশ্চাত্যের অবিশ্বাসধর্মী রক্তের ধারা অবহমান। না, পূর্ববিন্যাস নয়।

    তাহলে তুমি বলছো যে, এমনটা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে এত বেশি কিছু আমার জানা নেই যাতে এর বিচার আমি করতে পারি।

    তুমি নিজে কি ভাবছো। তোমার লেখা উপন্যাসের মধ্যে মারণযন্ত্রে খুন ঘটাচ্ছ।

    না—বাস্তবিক তা নয়। পুরনো পদ্ধতিতে ভালোজাতের ইঁদুর মারার বিষ অথবা আর্সেনিক হলেই আমার চলে যাবে। বিশ্বস্ত হাতে ভোঁতা অস্ত্র। সম্ভব হলে আগ্নেয়াস্ত্র একেবারেই নয়। আগ্নেয়াস্ত্রগুলো এখন খোলা হয়ে গেছে। আচ্ছা, তুমি নিশ্চয় আমার বইয়ের আলোচনা করতে আমার কাছে আসোনি।

    খোলাখুলি বলতে হলে বলবো না। আসল ঘটনা হলো আমার পিসতুতো বোন রোডা ডেসপার্ডে গীর্জায় একটা মিলন উৎসব করছে এবং…

    আবার। কক্ষণো নয়। বললো মিসেস অলিভার। এর আগের বার কি হয়েছিলো তা কি তুমি জান। মনে মনে আমি একটা খুনের ঘটনা খুঁজছিলাম, এবং প্রথম যে ঘটনা ঘটল তা হচ্ছে জলজ্যান্ত একটা মৃতদেহ। সে দুঃস্বপ্ন আমার এখনও কাটেনি।

    এটা কিন্তু খুনের অন্বেষণ নয়। একটা তাঁবুতে বসে তোমাকে কেবল তোমার বইগুলোতে সই করে দিতে হবে। ব্যাস। ঠিক কাঁটায় কাঁটায় পাঁচটায় শুরু হবে

    আচ্ছা – মিসেস অলিভারের কণ্ঠে সন্দেহের সুরও কাজ ঠিক করা যাবে। আমাকে উৎসবের উদ্ঘাটন করতে হবে না। অথবা বাজে বক্তৃতা দিতে হবে না তো, কিংবা মাথায় টুপি দিতে হবে না তো।

    তাকে নিশ্চিত করে জানালাম যে এ-সব কিছুই তাকে করতে হবে না। ব্যাপারটা শেষ হতে ঘণ্টাখানেক কিংবা ঘণ্টা দুয়েক সময় লাগবে। খোশামোদি সুর আমার গলায়।

    ওটা মিটে গেলে একটা ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

    না, মনে হয় বছরের এসময় আর ক্রিকেট ম্যাচ হবে না। বোধহয় ছেলেদের নাচ হবে। কিংবা হতে পারে আজব পোষাক পরার প্রতিযোগিতা…মিসেস অলিভারের বন্য চিৎকারে আমার কথা বাধা পড়লো।

    —ঠিক ওটাই। মিসেস অলিভার চেঁচিয়ে বললো—নিশ্চয়ই একটা ক্রিকেট বল। সে জানালা দিয়ে ওটা দেখেছিলো…শূন্যে লাফিয়ে উঠেছে…বলটাই তাকে অন্যমনস্ক করে ফেলেছিলো – এবং তাই সে কাকাতুয়ার নাম কখনও উল্লেখ করেনি। আহা, তুমি এসে কি ভালোই না করেছো মার্ক। তুমি অপূর্ব মানুষ।

    আমি তো একেবারেই বুঝতে পারছি না…।

    —বোধহয় তুমি পারছো না, কিন্তু আমি পারছি। বললো মিসেস অলিভার–দ্যাখো, এটা খুব জটিল ব্যাপার তবে এখন তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমি সময় নষ্ট করতে চাই না। তুমি বড় ভালো লোক, কিন্তু এখন তোমার চলে যাওয়াটাই আমার কাম্য। যাও এক্ষুনি।

    —নিশ্চয়। তাহলে উৎসবের ব্যাপারটা…।

    —আমি ভেবে দেখবো। এখন আমাকে বিরক্ত কোরো না। কোথায় যে আমার চশমা জোড়া এখন রাখলাম? সত্যি, যেভাবে জিনিসপত্র এমন উবে যায়…।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আনা ফ্রাঙ্ক-এর ডায়েরি

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }