Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    লেখক এক পাতা গল্প2485 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪. অনুসন্ধান শুরু হল

    ১৪.

    দুদিন পর অনুসন্ধান শুরু হল। ফরেনোর এক মধ্যবয়সী ভদ্রলোক এ তদন্তের জন্য মনোনীত হয়েছেন। যেমন কুটিল চাউনি, তেমন জটিল জেরা।

    ডাক্তারের সাক্ষাৎ থেকে জানা গেল শেকড় বাকড়ে প্রাপ্ত ক্ষার যুক্ত রাসায়নিক রক্তের সঙ্গে মিশে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে। এর পর ডঃ ফ্রাঙ্কলিন সাবলীল ভাবে যে সাক্ষ্য দিলেন তাতে পুলিশ সন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি বললেন যেখানে বোতলে ক্যালাবার জাতীয় বিষাক্ত গাছের সারাৎসার ছিল, সেখানে তা নেই। জল ভরা আছে। তিনি এ বোতল সাত-আট দিন হল স্পর্শও করেনি। তার ল্যাবের দুটো চাবির মধ্যে একটা থাকে মিস হেস্টিংসের কাছে। যদিও তার স্ত্রী মাঝে মাঝে আত্মহত্যার কথা বলতেন তবুও এত মানসিক শক্তি তার ছিল না। অসুস্থ বলেও তিনি মৃত্যুর রাতে বেশ খোসমেজাজেই ছিলেন।

    এর পর নার্স ক্লাভেন বললেন, উনি মাঝে মাঝে বলতেন স্বামীর বোঝা হয়ে তিনি বেঁচে থাকতে চান না।

    কেন? এ নিয়ে কি তার স্বামীর সঙ্গে কোনো বাগবিতণ্ডা হয়েছিল?

    না, না। আসলে ওনার জন্যই ওর স্বামী বিদেশে এক চাকরী গ্রহণ করতে পারেননি। এজন্য মাঝে মাঝে দুঃখ পেতেন।

    একথাও ফ্রাঙ্কলিন জানতেন?

    না, মনে হয় না।

    আচ্ছা কখনও কি ওনার কোনো কথায় মনে হয়েছে যে উনি আত্মহত্যা করতে পারেন?

    নিজেকে শেষ করে দিতে পারলেই ভালো হয়, এরকম কথাই উনি মাঝে মাঝে বলতেন।

    তিনি কি কখনও বলেছেন কি ভাবে নিজের জীবন নষ্ট করতে চান?

    না। ভাসাভাসা বলতেন। আচ্ছা ডঃ ফ্রাঙ্কলিনের সঙ্গে কি আপনিও একমত যে উনি মৃত্যুর রাতে হাসিখুশি ছিলেন?

    হ্যাঁ, তবে সামান্য উত্তেজিত ছিলেন, আপনি কি এমন কোনো বোতল দেখেছেন যা ওষুধ না হয়ে অন্য কিছু হতে পারে?

    না। তবে তিনি সেদিন এক পেগ বারগাণ্ডি মদ খেয়েছিলেন।

    কোথায় পেলেন?

    নিজের কাছেই রাখতেন।

    আচ্ছা আপনার কি মনে হয়, ঐ ওষুধটা ঐ মদের সঙ্গে মিশে গেছে?

    অসম্ভব নয়। হয়তো মিশিয়েও নিতে পারেন।

    আচ্ছা বোতল নিয়েছেন ধরে নিলে, নেওয়ার পর তিনি কোথায় ফেলতে পারেন?

    ওয়েস্ট পেপার বাস্কেটে, জানালা দিয়ে ছুঁড়ে বা ধুয়ে আলমারিতে রেখে দিতে পারেন। ওখানে অনেকগুলো শিশি বোতল আছে যা আমরা অন্য কাজে লাগাই।

    শেষবারের মতন তাকে কখন দেখেছেন?

    যখন ওষুধ দিতে যাই। সামান্য উত্তেজিত ছিলেন। তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন এই রকম হলে কিনা জানতে চাইলে, ক্লাভেন বলেন, ঠিক বলতে পারি না।

    বয়েড ক্যারিংটনকে দেখে মনে হল বেশ আঘাত পেয়েছেন। তিনি বললেন, যখন রাতে তিনি তাস খেলছিলেন তখন কোনো হাতাশার ভাব দেখা যায়নি।

    জুডিথকে ডাকাতে ও বলল, ল্যাবে কেউ যে ক্যালাবার গাছের বিষাক্ত সারাৎসারটা সরিয়েছে সে সম্পর্কে তার কোনো সম্যকজ্ঞান ছিল না।

    এর পর এরকুল পোয়ারো। তিনি বললেন মৃত্যুর আগের দিন রাতের আলোচনায় তার মনে হয়েছে, তিনি ছিলেন নিঃস্বার্থ মহিলা, স্বামীর জন্য গভীর প্রেম, স্বামী স্বনামখ্যাত হোক এরকমও তিনি চাইতেন। তাই তিনি চাইতেন নিজের স্বাস্থ্যের জন্য চিরকালের জন্য সরে যেতে।

    আচ্ছা দশই জুন যখন আপনি ল্যাবরেটরির খোলা দরজার সামনে বসে ছিলেন তখন কি ওনাকে ওখান থেকে বেরিয়ে আসতে দেখেছিলেন?

    হা।

    হাতে কিছু ছিল?

    একটা ছোট্ট বোতল লুকিয়ে আনছিলেন, ঠিক লক্ষ্য করেছেন?

    হা।

    আপনাকে দেখে কোনো ভাবান্তর হয়েছিল?

    একটু চমকে গিয়ে ছিলেন মাত্র। তারপর ফরেনোর রিপোর্ট থেকে জানা গেল এখন স্থির সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয়। সবার রায় একসঙ্গে শোনার পর সিদ্ধান্তে আসা গেল অপ্রকৃতিস্থ অবস্থার জন্য তিনি নিজের জীবন শেষ করে দিয়ে দেন।

    পোয়ারোর সঙ্গে যখন মিলিত হলাম তখন ওকে কারটিস সেবা করছিল।

    কারটিস চলে যেতে বললাম, সত্যিই কি তুমি মিসেস ফ্রাঙ্কলিনকে বোতল হাতে নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখেছিলেন?

    তুমিও কি তা দেখনি বন্ধু?

    না। কখনও নয়।

    হয়তো তুমি লক্ষ্য করনি প্রিয়তম।

    এ তুমি কি বলছ এ যে অসম্ভব। তুমি কি সত্যি বললে?

    কেন? মিথ্যে বলেছি মনে হয়।

    তোমাকে কখনই অবিশ্বাস করতে পারি না।

    তোমার কথায় হেস্টিংস আঘাত পেলাম। তাহলে এখন আমায় অবিশ্বাস করছ কেন?

    হঠাৎ বলি, এ আমি কখনই বিশ্বাস করব না যে তুমি হলফ নিয়ে সাক্ষী দেবে।

    এ মোটেই হলফ নিয়ে সাক্ষ্য নয়। কারণ সাক্ষ্য দেবার সময় আমাকে দিয়ে কোনোরকম শপথ করিয়ে নেয়া হয়নি।

    তাহলে তুমি মিথ্যে বলছ, তোমায় আজও আমি বুঝে উঠতে পারলাম না।

    কোনো জিনিষটা?

    তোমার সাক্ষ্য, তোমার বলা, এইসব।

    হায় বন্ধু কী আর বলব। তাহলে তুমি কি চেয়েছিলে জুরীরা সব আত্মহত্যা বলে রায় দিক?

    মনে হয় হেস্টিংস তুমি বর্তমান অবস্থার সঙ্গে পা মিলিয়ে চলতে পারছ না। আসলে আমি ও তুমি সবাই জানি এটা হত্যা।

    তাহলে এত একটা সাংঘাতিক ব্যাপারকে তুমি ধামাচাপা দিতে চাইছ?

    পোয়ারো শুধু বলল, আগেই তোমাকে বলেছি হত্যাকারী শুধু ধূর্তই নয়, নির্মমও। এটা একটা হত্যা। এখনকার মত একটা হত্যার ঘটনা শেষ হল। এবার আমরা ঘটনার গভীরে প্রবেশ করব ও এক্স-এর মুখোমুখি হব।

    যদি এর মধ্যে আরেকটি হত্যা ঘটে যায়?

    আপাততঃ সেরকম সম্ভাবনা নেই।

    .

    ১৫.

    মিসেস ফ্রাঙ্কলিনের তদন্ত শেষ হবার পর তার শ্রাদ্ধ শান্তি হয়েছিল। ওনার অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ার দিন এক কুশ্রী মহিলা হঠাৎ আমায় বলেছিলেন–আপনাকে আমি চিনি–কী বলেন চিনি না?

    থতমত খেয়ে বলছিলাম, মানে–ইয়ে, তিনি বলে গেলেন, মনে নেই যেবার বৃদ্ধা ইঙ্গলথর্পকে তার স্বামী খুন করেছিল, এবারও সেইরকম কিছু হতে পারে।

    রেগে গিয়ে বলেছিলাম, শুনেছেন তো এটা একটা আত্মহত্যা। কিন্তু উনি বললেন, জানেন তো স্বামীর সঙ্গে ওনার বনিবনা ছিল না, যেখানে স্বামীই ডাক্তার-এরপর কারটিসের সঙ্গে দেখা হতে সে বলল, মনে হয় স্যারকে একবার ডাক্তার দেখানো ভালো। ছুটে গিয়ে পোয়ারোকে বলতেই, ও আশ্চর্যভাবে আপত্তি জানাল। যে পোয়ারো এমনি সামান্য সর্দি কাশিতেও ডাক্তার দেখাতো। রেগে গিয়ে বলল, কত নামী ডাক্তার দেখিয়েছি, হাওয়া বদল করেছি। কিন্তু কি হল তাতে, বরঞ্চ মাঝে যেটুকু সুস্থ ছিলাম তাও হারিয়ে এলাম। আসলে বন্ধু আমার প্রাণবায়ু ধীরে ধীরে শেষ হয়ে আসছে।

    আসলে কারটিস বলছিল–

    কি বলছিল কারটিস? হার্ট অ্যাটাকের কথা, হেস্টিংস দুঃখ কোরো না। এই জীবনের এই শেষ হত্যার ঘটনা। আমি শেষ করে যেতে চাই। এখনও আমি পাঁচজন সুস্থ ব্যক্তির চেয়ে একটু বেশিই করতে পারি। আমার অঙ্গ পঙ্গু হলেও মস্তিষ্ক পঙ্গু নয়।

    সেদিনের মতন ওর ঘর ছেড়ে চলে এলাম।

    ঠিক পরের দিনই পোয়ারো আবার ডাক্তারের প্রসঙ্গ তুলল। ভাবছি ডঃ ফ্রাঙ্কলিনকে দেখাবো।

    ফ্রাঙ্কলিন। অবিশ্বাসী দৃষ্টি আমার চোখে।

    অবাক হওয়ার কিছু নেই। উনিও তো ডাক্তার। তাছাড়া এখানে একসঙ্গে আছি। আমার ধাত ওনার অজানা হয়। বাইরের ডাক্তারের চেয়ে উনিই ভালো।

    ফ্রাঙ্কলিন চিকিৎসা জগতের সঙ্গে এখন সম্পর্কহীন। আর পোয়ারোর মতন খুঁতখুঁতে লোক কিনা ওকেই বেছে নিল।

    ফ্রাঙ্কলিন পোয়ারোকে দেখা করার পথে আমি সংগোপনে আলোচনার জন্য আমার ঘরে টেনে নিয়ে গেলাম।

    কেমন দেখলেন?

    একজন অসাধারণ মানুষ। তা জানি। স্বাস্থ্য কেমন দেখলেন? ওহ স্বাস্থ্য! শরীরে পদার্থ বলতে কিছু নেই, তিনি এখন ডাক্তারী চিকিৎসার বাইরে।

    কম্পিত কণ্ঠে বলি অর্থাৎ আপনি! উনি সব জানেন, যে কোনো সময়ে মারা যেতে পারেন, কিন্তু ওনার সঙ্গে কথা বলে ভীষণ উৎকণ্ঠিত মনে হল। একটা কী কাজ হাতে নিয়েছেন, সেটা শেষ না করে ইহজগৎ থেকে যেতে চান না, কী কাজ আপনি জানেন?

    হা।

    ওনার কথা শুনে মনে হল বাঁচা মরা ওনার নিজের উপর নির্ভর করছে।

    কোনোভাবেই কি রোগ সারানো যায় না?

    সম্ভব নয়। যেভাবে হার্ট থেকে রেহাই পেতে অ্যাসিল নাইট্রেট ক্যাপসুল খাচ্ছেন। তার পরই একটা মজার কথা বললেন–প্রত্যেকটি মানুষের জন্য তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে, তাই না?

    বোধহয় তাই।

    ওর সঙ্গে মনে হয় আমাদের এইখানেই পার্থক্য।

    বিরক্ত হয়ে বলি, বাঁচা মরা সম্পর্কে এমন ঠুনকো ধারণা তো, ডাক্তার হয়েছিলেন কেন?

    আমাদের শুধু রোগ সারানো কাজ নয়, রোগের জীবাণু উৎপাদন করাও আমাদের সাধনা। ফ্রাঙ্কলিনকে দেখে মনে হল স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি নতুন উদ্যমে গবেষণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    আচ্ছা আপনার আর জুডিথের মধ্যে মিলের চেয়ে অমিলটাই বেশি না?

    না! আমার তা মনে হয় না, আমি একটু বেশি কাজের ভার দিয়ে ফেলাতে হয়তো ও এইরকম হয়েছে। হঠাৎ একটু থেমে উনি বললেন, এবার আমি সত্যি মুক্ত বিহঙ্গ। যা ইচ্ছে তাই করতে পারি। ভাবছি সেই চাকরীটা নেব।

    সেই আফ্রিকায়?

    হা। আসলে আমার কোনো ভণ্ডামি নেই, স্ত্রী মারা গেছে বলে যে সব ছেড়ে দেব, ভালোবেসে বিয়ে করেছি বলে ওর কথায় ওঠা বসার বান্দা আমি নই। নিজের পছন্দসই ভাবে : আমি বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাই। আমি বারবারার পছন্দ-অপছন্দ সবদিকে নজর রাখতাম।

    আপনি আপনার স্ত্রীর মৃত্যু নিছক মৃত্যু নয় জেনেও বিচলিত নন?

    এবার চিন্তিত মনে হল তাকে। বললেন, হুঁ হতে পারে ও আত্মহত্যা করেনি, এটা ওর ধাত নয়।

    তা হলে কী আপনার–ওসব নিয়ে আমি কিছু জানাতে বা বলতে চাইনা। বুঝেছেন?

    অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম।

    বারবারার মৃত্যুর পর নরটন একটু বেশি চুপ হয়ে গিয়েছিলেন। কারো সঙ্গে কথা বলতেন না। যেন সবসময় চিন্তায় কুঁদ হয়ে আছেন।

    তিনি তার মাথার চুল খাড়া করে বলতে লাগলেন, কোনো জিনিষটা ভালো বা মন্দ তা চট করে বলে দেওয়া যায়। কিন্তু যেটা সাধারণের মধ্যে পড়ে না, সেটার বেলায় বিচার করা মুস্কিল। ধরুন, যদি কেউ কারোর চিঠি ভুলবশত পড়ে ফেলে তখন কি করবে সে?

    উত্তরে বলি, কী আর করবে, গর্হিত কাজ হলেও ক্ষমা চেয়ে নেবে।

    একটু ভেবে নরটন বলেন, যতটা সোজা ভাবছেন ততটা নয়। আসলে আমি ঠিক আপনাকে বোঝাতে পারছি না। হয়তো চিঠির মধ্যে এমন কিছু থাকতে পারে যা অন্যের কাছে বেশি মূল্যবান। আসলে আমি যেটা বলতে চাই সেটা অন্য কিছু। চিঠির কথা বলে আমি আপনাকে ব্যাপারটা শুধু বোঝাতে চেষ্টা করছিলাম। ধরুণ এমন কোনো কথা আপনি জেনেছেন যাতে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য আছে যা কাউকে না কাউকে বলা জরুরী হয়ে পড়ে। বললেন, ধরুন, কেউ যদি দরজার চাবির ফুটো দিয়ে কিছু দেখে ফেলে।

    চাবির ফুটো! পোয়ারোর কথাটা মনে পড়ে।

    নরটন বলে চলল, আসলে চাবিটা আটকে গিয়েছিল, তাই খুলতে গিয়ে আপনি আচমকা কিছু দেখে ফেলেছেন।

    আমি ঘুরে প্রশ্ন করি আপনি কি বলতে চাইছেন?

    আপনি দূরবীণ দিয়ে সেদিন এমন কিছু দেখেছিলেন যা আপনার দেখা উচিত হয়নি।

    -বললাম।

    আঁ, আপনি কি করে এটা অনুমান করলেন।

    বললাম, এর সঙ্গে কি মিসেস ফ্রাঙ্কলিনের মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক আছে?

    না, সোজাসুজি বলতে গেলে কিছু নেই। আবার থাকতেও পারে। এর বেশি আমায় কিছু আর জিজ্ঞেস করবেন না।

    কি করি, জানাও প্রয়োজন অথচ ওনাকে বেশি চাপ দিতেও পারছি না। বললাম এবিষয়ে আপনি পোয়ারোর সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

    পোয়ারো? শত হলেও তিনি বিদেশী।

    বললাম, উনি আপনার সব কথা শুনবেন, নিশ্চয়ই সদুপদেশও দেবেন।

    পোয়ারোকে ঘটনার বর্ণনা দিতেই বিস্মিত হয়ে বলল, সাংঘাতিক, চটপট বলে ফেললো।

    সব ঘটনা বিস্তারিতভাবে বললাম।

    হঠাৎ পোয়ারো আমার হাত চেপে ধরে বললেন, উনি একথা কাউকে বলেননি তো?

    অবাক হয়ে বললাম, মনে হয় না।

    দেখো হেস্টিংস একথা উনি আকারে ইঙ্গিতে বললেও বিপদ।

    বিপদ!

    হা। ও যেন সন্দেহ না করে এইরকম ভাবে একটা ব্যবস্থা কর যাতে আজ বিকেলেই আমার সঙ্গে দেখা করে। আচ্ছা সেদিন কে ছিল বললে?

    এলিজাবেথ কেলি।

    .

    ১৬.

    পোয়ারোর সঙ্গে দেখা করার কথা নরটনকে বলতে উনি বললেন, মনে হয় আপনাকে বলেও কথাটা ঠিক করিনি।

    আশাকরি আমাকে ছাড়া আর কাউকে বলেননি?

    না।

    এরপর যখন আমি উঁচু ঢিবিটার উপর বসতে যাই ওখানে মিস কেলিকে দেখে একটু অবাক হই। আমাকে দেখে বললেন, নতুন কিছু ঘটল নাকি?

    না, না, ওসব কিছু নয়। মনে হচ্ছে আজ বৃষ্টি হবে–কথার কথা বললাম।

    হ্যাঁ, আমারও তাই মনে হয়। তারপর আমরা সামনের দিকে তাকিয়ে চুপ করে রইলাম। তারপর পোয়ারোর দুঃখের কথা বলতে উনি বললেন, তাহলে আমি যে এখানে একেবারে একা হয়ে যাব।

    সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, কেন জুডিথ আছে তো।

    ওতো নিজের কাজ নিয়ে থাকে। আমার কে আছে?

    কেন মিঃ নরটন আপনাকে দেখবেন।

    উনি শুধু আমার বন্ধু মাত্র। আমার এক বোন হত্যাকারী না হলেও, বিকৃত মস্তিষ্ক। অসম্ভব!

    কিন্তু আপনিই তো বলেছিলেন, ম্যাগী খুন করতে পারে না।

    অনেকে মনে করে। আর এই মনে করাটা অনেক সময় সত্য হয়ে যায়।

    আমি শান্ত কণ্ঠে বলি, আপনার বোন, আপনার বাবাকে খুন করেনি।

    কে বলছে একথা, বিস্ফারিত চোখে উনি জানতে চান।

    সময় হলে প্রমাণ দেব, উত্তেজিত হবেন না।

    বাড়ির কাছাকাছি বয়েডের সঙ্গে দেখা হতে উনি বললেন, আজই এখানে আমার শেষ দিন, কালই চলে যাচ্ছি।

    কোথায়? ন্যাটনে? হয়তো ভালোই হবে।

    হা। বোধহয় তাই। আসলে এ বাড়িটা দিনকে দিন ভুতুড়ে হয়ে উঠেছে। যেখানে একবার খুন হয়েছে সেখানে আবার ঘটতে পারে। মিসেস লাটরেল মোটেই আত্মহত্য করার মতন মেয়ে না।

    হু-তবে ও নিয়ে আর আলোচনা না করাই ভালো।

    আপনি না চাইলেও আমি করব, শুধু জনের জন্যই ওর একমাত্র দুঃখ। আমার মনে হয় ওর মৃত্যুর জন্য ওর স্বামীই দায়ী। উনি খুনী প্রমাণিত হলে আমি মোটেই আশ্চর্য হব না।

    এটা নিশ্চয়ই কথার কথা।

    মোটেই নয়। যদিও যেভাবে ওর মৃত্যু হয়েছে তাতে এটা প্রমাণ করা মুস্কিল, কিন্তু আমি গোপন সূত্রে কিছু আভাস পেয়েছি।

    কী সেই গোপন সূত্র?

    কাউকে বলবেন না, নার্স ক্লাভেন।

    কে!

    চেঁচাবেন না। ওই সব বলেছে।

    শুনেছিলাম উনি রোগীকে দেখতে পারতেন না, কিন্তু এখন বলছেন ফ্রাঙ্কলিনকে।

    হা। সেই শেষকৃত্যের সময়ই তো উনি কর্মচ্যুত হয়ে বিদায় নিয়েছেন।

    হতে পারে। তীক্ষ্ণ স্বরে বলি, কিন্তু ওর সাক্ষ্যতেই তো পুলিশ একে আত্মহত্যা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাছাড়া পোয়ারোও ওনাকে একটা বোতল নিয়ে আসতে দেখেছিল।

    আরে মশাই মেয়েরা নয় তেলের, নয় নখ পালিশ ইত্যাদি নানা কাজে বোতল ব্যবহার করে। ওসব অঙ্গের ভূষণ। কি বোতল নিয়ে আসছিল কে বলতে পারে?

    খলনায়কের মত হন্তদন্ত হয়ে এলারটনকে আসতে দেখা গেল।

    পোয়ারোর ক্ষুরধার বুদ্ধির জোরেই আমার বিশ্বাস যে এক্স কে ও বার করবেই।

    সেদিন খাওয়ার আগে পোয়ারোর কাছে যেতেই ও বলল, যদি আমার কিছু হয়?

    হায় বন্ধু, তুমি কি ডঃ ফ্রাঙ্কলিনের কথা মনোযোগ দিয়ে শোননি? আজ তোমায় বলি এক্স এর সামনে আমি এখন প্রতিরোধের দেওয়াল, যে করেই হোক, আমাকে টপকে যেতে হবে ওকে।

    একথার মানে কি পোয়ারো? এক্স বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ চতুর ও ধূর্ত। ও ভাবতে পারে যদি আমার স্বাভাবিক মৃত্যুর দু-চার দিন আগে আমার মৃত্যু ঘটে যায়, তাহলে ওর সুবিধেই হবে।

    তাহলে কি হবে পোয়ারো? আকুল হয়ে বলি।

    যুদ্ধে কর্নেল মারা গেলে তার দ্বিতীয় পদাধিকারী হয়। তুমিও তাই হবে।

    না, বন্ধু না।

    আমি কিন্তু নিশানা রেখে যাব। যাতে তুমি সত্যের কাছাকাছি পৌঁছবে।

    জানি না, নিজেকে পীড়ন করে তুমি কি সুখ পাও।

    এ আমার জীবনের গভীরতাবোধ। কিন্তু আমার উপর আস্থা রাখো। আমার রেখে যাওয়া নিশানায় তুমি সত্যের আলোয় পৌঁছবে।

    .

    ১৭.

    অনেক দিন পরে আবার সবাই খাবার টেবিলে বেশ আনন্দে ছিলাম। সবাইকে যেন ভালো বেশ খুশী দেখাচ্ছিল।

    মিসেস লাটরেল তাসের প্রস্তাব রাখতে আমরা খেলতে বসলাম, আবহাওয়াও ভালো ছিল। হঠাৎ নরটন বললেন, পোয়ারোর সঙ্গে অনেকদিন দেখা হয়নি। উনি কেমন আছেন দেখে আসতে যাচ্ছেন।

    বললুম, এখন কথা বলা মনে হয়, ওনার স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো হবে না।

    নরটন আমার ইঙ্গিত বুঝে বললেন, খুব বেশি বিরক্ত করব না। একটা বই চেয়েছিলেন ওটা দিয়েই চলে আসব।

    আমাকে নরটনের পিছনে পিছনে যেতে দেখে বয়েড বললেন, মিঃ হেস্টিংস আপনি ফিরে আসছেন তো?

    নিশ্চয়ই। নরটনের সঙ্গে গেলাম, দু-চারটে কথা বলেই বিদায় নিলাম। আমরা আরো কিছুক্ষণ তাস খেলোম।

    রাত এগারোটা বাজতে পনেরোয় আমি শুতে গেলাম। পোয়ারো নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে পড়েছে। মনে করে আর দেখা করলাম না।

    সবে মাত্র বিছানায় উঠেছি দরজায় কার টোকা দেবার শব্দে আহ্বান জানাই, ভেতরে আসুন। কেউ না আসাতে আলো জ্বেলে দেখি নরটন দরজা খুলে নিজের ঘরে ঢুকলেন। মাথা চুলকোতে চুলকোতে ঘরে গিয়ে দরজায় তালা দিলেন শুনতে পেলাম।

    নরটন কী প্রতিরাতেই এমন করেন না আজ পোয়ারোর কাছে কোনো সাবধান বাণী শুনে এমন করলেন? বিছানায় শুয়ে স্বস্তি এল না।

    প্রাতঃরাশে যাওয়ার আগে পোয়ারোর সঙ্গে দেখা করলাম। বললাম, কেমন আছো, বুড়ো খোকা?

    আছি, এখনও বেঁছে আছি।

    যন্ত্রণা নেই তো?

    না।

    নরটন কি সব কথা বলল?

    হ্যাঁ।

    কী বললে? কী দেখেছে?

    সেকথা তোমায় বলা ঠিক হবে না। দ্বিধাগ্রস্ত গলায় বলল, বললেন তিনি দুজনকে সেখানে

    বুঝেছি। আর বলার দরকার নেই।

    জুডিথ আর এলারটন।

    উতলা হয়ো না বন্ধু। মোটেই জুডিথ আর এলারটন নয়।

    নয়? তবে?

    আজ নয় কাল বলব, একটু চিন্তা করে, গুছিয়ে নিয়ে বলব।

    বারবারার হত্যা রহস্যে এ কী কোনো সাহায্যে আসবে?

    হুঁ। মাথা নাড়লও। তারপর বলল যাও, প্রাতঃরাশ সারো, আর কারটিসকে পাঠিয়ে দাও।

    নরটন তখনও প্রাতঃরাশে আসেনি বলে অপেক্ষা করতে হল।

    বয়েডের সঙ্গে দেখা হতেই বললাম, নরটনকে দেখছি না?

    দেখুন গে মৌজ করে ঘুমোচ্ছে।

    আমরা একসঙ্গে ওনাকে ডাকতে উপরে গেলাম। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় দু-একবার ঘা দিলাম।

    কিন্তু কোনো সাড়া নেই।

    পরিবেশটা যেন থমথমে হয়ে উঠল। যখন কোনো সাড়া পেলাম না, তখন ছুটলাম কর্নেল লাটরেলের কাছে। মিসেস লাটরেল বললেন, দরজা ভেঙে ফেলতে হবে। যাও শীগগির।

    দরজা ভেঙে ভেতরে দেখি এক কঠিন মৃত্যুর চিত্র। রাতের পোষাক পরে। দরজার চাবিটা ছিল পকেটে, হাতে ছোট পিস্তল, কপালের মাঝে এক ছোট্ট রক্তাক্ত গর্ত।

    পোয়ারো কী ভেবে তাড়াতাড়ি বলে উঠল, কী হয়েছে নরটনের? মৃত! কেমন করে? কখন?

    সবাই বলছে আত্মহত্যা, কারণ কাল রাতে আমি ওকে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করতে দেখি।

    সত্যিই তুমি ওকে দেখেছিলে?

    হা। ভদ্রলোকের ওই বিচিত্র রাতের পোষাক জঙ্গলে গেলেও আমি চিনতে পারব।

    হুঁ। রাতের পোষাক। যে কোনো লোকই ঐ রকম পোষাক পরতে পারেন কী, ঠিক নয়?

    যে কেউ ওর চলার ভঙ্গী নকল করতে পারে।

    হুঁ, হতে পারে। তবে কি বলতে চাও আমি নরটনকে দেখিনি?

    না, তেমন কিছু বলতে চাই না, আমি বিশ্বাস করি না, এটা আত্মহত্যা, এটা সুপরিকল্পিত হত্যা।

    একটা ঘোরের মধ্যে নিচে নেমে এলাম, বিদায় বন্ধু বিদায় নরটনের এই দুটো কথা আমার মনে বাজছে। কারণ কারটিস যখন তার প্রভুর সেবা করতে ঢুকেছিল, তাকে সে জীবিত পায়নি। আগেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে…..।

    এরকুলের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই আর্থার হেস্টিংসেরও মৃত্যু হয়ে গেছে। তাই আর কিছু লেখার প্রবৃত্তি নেই। শুধু আসল ঘটনাটি জানিয়ে যাই

    অন্য সকলের মতন হার্ট অ্যাটাকেই তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। শুধু হার্টের জন্য, যে অ্যাসিল নাইট্রেটের শিশিটা ব্যবহার করত সেটা পাওয়া যায়নি। তবে কি কেউ এটা সরিয়ে দিয়েছে?

    কিন্তু এটা নিশ্চিত যে পোয়ারোর মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। বারবারা, নরটনের মৃত্যুর মতও তার মৃত্যুও অস্বাভাবিক, কেন, কোনো উদ্দেশ্যে ওদের খুন করা হল?

    নরটনের মৃত্যুতে পুলিশী তদন্তে জানা গেল, মানুষ আত্মহত্যা করার সময় তার কপালের ঠিক মাঝখানে গুলি ছুঁড়তে পারে না। কিন্তু মৃত্যুর দিনের নরটনের যে চিত্র দেখা গিয়েছিল তাতে আত্মহত্যার সপক্ষে যুক্তি যায়। তথ্য, নিদর্শন, জুরীর রায়, পিস্তল সব থেকে প্রমাণ হল এ নিছকই আত্মহত্যা।

    পোয়ারোর ঘরে এলাম। যে বাক্সে কল্পিত এক্স-এর কাগজগুলি রাখা ছিল সেগুলো বার করলাম। কিন্তু বাক্স খুলে দেখি সেখানে কাগজের ছিটে ফোঁটাও নেই। কিন্তু সব কাগজগুলো পোয়ারো এখানেই রেখেছিল। হয় পোয়ারো নিজে নষ্ট করেছে কাগজগুলো। নয় এক্স-এর হাত এখন পর্যন্ত পৌঁচেছে।

    হঠাৎ পোয়ারোর নিশানার কথা মনে পড়ল। বাক্সে কাগজগুলো না থাকলেও সেখানে দুটো বই ছিল। একটি শেক্সপীয়রের ওথেলোর সুলভ সংস্করণ অন্যটি সেন্ট জন আরভিনের নাটক জন ফার্গুসন। এই নাটকের তৃতীয় অঙ্কের আরম্ভে দুটো পাতার মাঝখানে একটুকরো কাগজ দিয়ে দৃষ্টি গোচর চিহ্ন দেওয়া রয়েছে।

    অনেকক্ষণ বসে থাকার পর মনে হল হয়তো নাটকের কোনো সংলাপে পোয়ারো রেখে গেছে পথের নিশানা। শব্দের মধ্যে নিঃশব্দ ইঙ্গিত।

    কিন্তু কোনো লাইনেও দাগ কাটা দেখতে পেলাম না। এই অঙ্কে যুবক ফার্গুসন যে তার বোনকে নষ্ট করেছে সে মানুষের খোঁজ করছে। কিন্তু পোয়ারো কেন এই নাটকের বই রেখে গেল। তারপর

    পরের অংশ যেতে একটা টুকরো কাগজ বই থেকে পড়ল যেখানে লেখাছিল –আমার ভৃত্য জর্জের সঙ্গে কথা বোলো।

    এই তো ইঙ্গিত।

    প্রিয়তম বন্ধুকে এখানে সামধিস্থ করলাম, সঙ্গে ছিল জুডিথ, মিস কেলি, ও বয়েড। এখানে জুডিথ একেবারে অন্য রকম। ও আমায় একসময় বলল, আমি আর এখানে থাকছি না বাবা, হয়তো দুঃখ পাবে। কিন্তু না বললেই নয়। আমি ডঃ ফ্রাঙ্কলিনের সঙ্গে আফ্রিকায় চলে যাচ্ছি।

    না, এ হতে পারে না, অসংখ্য যুক্তি দেখালাম। কিন্তু ও প্রতিবাদ করল না। শেষে সামান্য হেসে বলল, ভুল করছ বাবা, আমি যাচ্ছি ফ্রাঙ্কলিনের স্ত্রী হয়ে, সহকারী হয়ে নয়।

    তাহলে এলারটন?

    আমায় অবাক হতে দেখে ও বলল, ওর সঙ্গে তেমন ঘনিষ্ঠতা কোনোদিনই ছিল না। আসলে আমি জানতে দিতে চাইনি আমার সঙ্গে ওর সম্পর্ক।

    কিন্তু তোমাকে যে এলারটনের সঙ্গে ঝোঁপের ধারে ঘনিষ্ঠ হতে দেখলাম। নির্লজ্জের মত বললাম।

    মাঝেমাঝে ওরকম ঘটে যাবে। তবে কি নরটন সেদিন দুজনকেই একসঙ্গে দেখেছিল? না, না, আমার সন্তান এমন জঘন্য কাজ করতে পারে না। সেদিন কি উনি এই কথার জন্য ঘর থেকে জুডিথকে ডেকেছিলেন?

    হঠাৎ আমার চিন্তা এক নতুন মোড় নিল, তাহলে কি এখন এক্স সুদুর নীহারিকা আর জুডিথ-বিয়োগান্তক ঘটনার নায়িকা? হা ঈশ্বর!

    .

    ১৮.

    এবার ইস্টবোর্নে বসে কাহিনী লিখছি। এখানে জর্জের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। পোয়ারোকে ও ভালোভাবে জানত। পোয়ারোর মৃত্যু সংবাদ দিতে দুঃখিত হল। জিজ্ঞেস করলাম, পোয়ারো কি কোনো সংবাদ রেখে গেছে তোমার কাছে?

    আপনার জন্য স্যার? না তো? অবশেষে বললাম, তোমার বাবার অসুখ করলে তুমি যদি শেষ পর্যন্ত ওর কাছে থাকতে তাহলে ভাল হত।

    আপনার কথা ঠিক বুঝতে পারছি না স্যার–বিস্ময়াভিভূত হয়ে আমাকে জর্জ বলল, আমাকে তো উনিই ছাড়িয়ে দিয়েছেন, আসলে আমাকে উনি চাকরী থেকে বরখাস্ত করেননি। বলেছিলেন কথা হয়েছিল, দরকার হলেই আমাকে উনি ডাকবেন।

    কিন্তু কেন একাজ করবে জর্জ?

    আমি ঠিক জানি না। আমি কোনোদিন প্রভুর বিরুদ্ধাচারণ করিনি। এটা আমার স্বভাব বিরুদ্ধ। আমি ওনাকে যথেষ্ট সমীহ করতাম।

    হুঁ ঠিক তাই।

    স্যারের মতন লোক দ্বিতীয় দেখা যায় না। যেমন সাজগোেজ, আর ওনার গোঁফের কথা কি বলব?

    আচ্ছা উনি কি গোঁরে মত চুলেও কলপ লাগাতেন?

    না, চুলে কোনোদিন না। তাহলে এই বয়সে ঐ রকম চুল কালো ছিল ওর।

    আসলে ধৃষ্টতা মাফ করবেন, উনি পরচুলা ব্যবহার করতেন।

    একটু আহত হলাম। একজন ভৃত্য যা জানে আমি ওর নিকটতম, প্রিয়তম বন্ধু হয়ে তা জানি না। যতদূর স্যার মনে পড়ে, কারটিসকে বহাল করার সময় আমায় উনি সাময়িকভাবে চলে যেতে বলেছিলেন।

    তুমি থাকতে কারটিসকে কেন কাজ দিতে যাবেন?

    কিছু বলতে পারব না স্যার। হয়তো কারটিস আমার চেয়ে শক্তিমান, শুনেছি একসময় ও মানসিক হাসপাতালে সহকারীর কাজ করত।

    তাহলে কি কারটিসই খুনের পর খুন করেছে? এর কথাতো আমি ভাবিনি।

    .

    যবনিকা

    ক্যাপ্টেন আর্থার হেস্টিংস এর সংযোজন–এক আইনজীবী একদিন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানালো যে, তার মক্কেল স্বর্গীয় মঁসিয়ে পোয়ারোর শেষ ইচ্ছানুযায়ী একটি মোহরাঙ্কিত লেফাফা আপনার হাতে তুলে দিতে চাই।

    এরকুল পোয়ারোর স্বহস্ত লিখিত পাণ্ডুলিপি :

    প্রিয় বন্ধু আমার,

    যখন তুমি এই লেখা পড়বে, তখন আমার মৃত্যুর চার মাস অতিক্রম হয়েছে, নিজের সঙ্গে অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে, আমায়–এই সব লিখে রেখে যাওয়া ঠিক হবে কিনা! শেষ পর্যন্ত ভেবে দেখলুম, লিখে যেতে হবে, কারণ কাউকে না কাউকে স্টাইলসের এই দ্বিতীয়বারের ঘটনার অন্তনিহিত গূঢ় রহস্যাবলীর সঠিক মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তবুও আমি সম্পূর্ণ অনুমান নির্ভর বিবেচনা করছি। এই চিঠি পড়া পর্যন্ত সে সময় চলে গেছে তার মধ্যে তোমার নিশ্চয়ই মনে পড়বে এমন কিছু অযৌক্তিক ধ্যান ধারণার সৃষ্টি হয়ে থাকবে যা এই চিঠি পড়ার পর নিজেই অনুশোচনায় পীড়িত হবে, যা ভেবেছ তা শুধুমাত্র কল্পনা বিলাসমাত্র।

    কিন্তু প্রিয় আমার, তবু আমাকে বলতে হবে যে, একটু বুদ্ধি খরচ করলে নিশ্চয়ই সত্য তুমি অনুধাবন করতে পারতে। তোমার মধ্যে যে সম্ভাবনা আমি সবসময় লক্ষ্য করেছি এবং তা যদি না হয়ে থাকে তার জন্য দায়ী সুকোমল এবং সব কিছুতেই নিশ্চিন্ত ভাবে সিদ্ধান্ত হয়ে ওঠা তোমার এই মন।

    তোমার জানা উচিত ছিল, নরটনের হত্যাকারী কে? দোষ দেব না যদি না বুঝতে পেরে থাকো বারবারা ফ্রাঙ্কলিন কিভাবে নিহত হল। কে হত্যাকারী? শেষেরটা তোমার কাছে চরম আঘাত হানতে পারে।

    তবে প্রথম থেকেই শুরু করা যাক। তোমাকে আমিই স্টাইলসে ডেকে আনি, বিশেষ প্রয়োজন বলে, তোমাকে আমি আমার চক্ষু কর্ণ হতে বলেছিলাম। যদি যথার্থতা অনুধাবন করে থাকো ভালো। আমি যা যা দেখতে বা শুনতে চাই, তুমি শুধু তাই দেখবে বা শুনবে। এই ঘটনা আদ্যোপান্ত আমি ঠিক ভাবে তোমাকে বলিনি বলে তুমি অনুযোগ করেছে। কারণ আমি এক্স সম্পর্কে নিজেই বেশি অগ্রসর হতে পারিনি। এবার প্রথমে এক্স সম্পর্কে কিছু আলোচনা করা যাক। তোমাকে যে বিক্ষিপ্ত ঘটনার সারসংক্ষেপ দেখিয়েছিলাম সেখানে যে ব্যক্তি অপরাধী বা অপরাধ করে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, সেই একাজ করেছে বলেছিলাম। এই এক্স তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বা পরোক্ষ ভাবে জড়িয়ে ছিল। তুমিই তখন সিদ্ধান্ত করে বসলে তাহলে এক্সহ এ কাজ করেছে।

    কিন্তু বন্ধু একটু মন দিয়ে ভেবে দেখো, সেই ঘটনাগুলোতে এক্স এর উপস্থিতি ছাড়া অপরাধ ঘটা সম্ভব হতো না। কেবলমাত্র যদি কোনো ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশে এ কাজ করে থাকে অথবা একদল অপরাধ সংক্রান্ত মামলা করে এমন ওকালতি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে থাকে, তাহলেই হয়তো একজন মাত্র লোকই এই বিভিন্ন এবং বিচ্ছিন্ন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকা সম্ভব। এখানে আমরা একটা কৌতূহলোদ্দীপক এমন একটি ঘটনা দেখতে পাচ্ছি যার সঙ্গে তুলনা করা চলে সেই রাসায়নিক সংমিশ্রণের ব্যাপারটা, যেখানে দুটি পদার্থের মধ্যে একটি অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় যায় ফলে তার প্রকৃত চেহারাটা পাল্টে যায় একমাত্র তৃতীয় কোনো পদার্থের উপস্থিতিতে। অথচ সেই তৃতীয় পদার্থটির কোনো পরিবর্তন হয় না বা তার মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় না। এক্স এর বেলায়ও ঠিক এইরকম ঘটেছে।

    আমার শেষ জীবনের এই অপরাধীর বুদ্ধি কলাকৌশল। সে পরোক্ষভাবে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার ফলে, কেউ তাকে ধরতে পারছে না। রহস্য সমাধানের জন্য ওথেলোর চমকপ্রদ রেখাচিত্র দেখতে পাচ্ছি সেখানে এক্স এর সমাধান মেলে। সেখানে ডেসডেমনা, ক্যাসিও এবং ওথেলোর মৃত্যুর পেছনে ছিল ইয়াগোর চাতুরি, পরিকল্পনা, বুদ্ধিমত্তা। কেউ তাকে ধরতে পারেনি। কিন্তু তার রুমালটির জন্য সে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ল।

    ঠিক এইরকম চতুরতা দেখা যায় জন ফার্গুসন নাটকের তৃতীয় অঙ্কে। যেখানে নির্বোধ কুটি জন অন্যকে অনুপ্রাণিত করছে সেই লোকটিকে হত্যা করতে থাকে সে মনে প্রাণে ঘেন্না করে। সবার মধ্যেই একটা অপরাধ বোধ কাজ করে। আমাদের এক্স এর চাতুর্য সেখানেই, যেখানে সে কাউকে হত্যা করার জন্য উত্তেজিত করছে না কিন্তু সুচতুরভাবে মনের সুকোমল বৃত্তিগুলোকে কলুষিত করে হত্যা করার একটি সুন্দর প্রবণতা সৃষ্টি করে দিচ্ছে হত্যাকারীর অন্তরে।এক্স জানে কখন কোথায় ঠিক সময়মত ঠিক কথাটি ব্যবহার করা দরকার। মনে আছে নিশ্চয়ই তোমার বেলায়ও হয়েছিল….

    এবার তোমার মনে হবে অনেক সময় আমার সৎ যুক্তি পরামর্শ তোমার পছন্দ হয়নি। হ্যাঁ, বন্ধু! এটা শুনতে বিসদৃশ লাগলো, হাস্যকর মনে হচ্ছে, শুধু তাই নয় একটি দণ্ডই অপরাধ করতে যাচ্ছে কে না এরকুল পোয়ারো, যে কিনা চিরকাল মানুষের হত্যার বিরুদ্ধে লড়েছে, মনুষ্য জীবনকে স্বর্গীয় আশীর্বাদ বলে মনে করেছে–সেই আমি শেষ জীবন পর্যন্ত এই জীবন শেষ করলাম একটা নিটোল হত্যা করে! হয়তো নিজের ওপর অত্যাধিক বিশ্বাস, ন্যায়পরায়ণতাই অবশেষে আমার অন্তিম লগ্নে এমন একটি সমস্যার মুখোমুখি অমায় দাঁড় করালো। এর দুটো কারণ। এক আমার চিরকালের সাধনা নিরীহ মানুষকে রক্ষা করা, দুই যে করেই হোক হত্যা ঘটতে না দেওয়া। হয়তো দ্বিতীয় কারণটাই আমাকে ঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ করালো। যখন ভাবছি করব, না করব না, ঠিক তখনই মিসেস লাটরেলের ঘটনাটা ঘটল….।

    তখন তুমি নরটনকে এ ব্যাপারে সন্দেহ করেছিলে। আর তোমার এ সন্দেহ মোটেই অসঙ্গত হয়নি। আমি নরটনের অতীত জীবন থেকে জানতে পেরেছি ও এক জবরদস্ত মহিলার পুত্র ছিল। ফলে হুকুম পেলে কাজ করতে ও দ্বিধা করবে না। তাছাড়া বাল্যাবস্থায় পা খোঁড়া থাকায় কোনো খেলায়ও যোগ দিতে পারেনি। বড় হয়ে একটা বীরের মতন কাজ করব–এ জিনিসটা সকলের মধ্যেই কাজ করে। কেউ কাপুরুষের বদনাম মাথায় নিতে ভালোবাসে না। যখন ছোট বেলা মৃত খরগোস দেখে নরটন অসুস্থ হয়ে পড়েছিল এবং ছেলেদের ঠাট্টা তামাসার পাত্র হয়েছিল, তখনও প্রতিজ্ঞা করেছিল ও এমন নির্দয়তার কাজ করে দেখাবে যাতে প্রমাণ হয় ও-কতটা নিষ্ঠুরও হতে পারে। এটা ও সারা জীবনের দ্বারা বুঝতে পেরেছিল ঠিক সময় মতো। পরিবেশ অনুযায়ী উপযুক্ত কথা যদি কারোর মনে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া যায় তাহলে তাকে দিয়ে অনেক কিছু করানো যায়। এই ভদ্রলোকটি ধর্মকামী হওয়ায় মনের মধ্যে স্নেহ-মমতা-ভালোবাসা পাওয়ার একটা অতৃপ্তি ছিলই। তাই মাদকদ্রব্যের নেশার মত শিকারের সন্ধানে ঘুরে থাকেন।

    যে পাঁচটি খুনের ঘটনা তোমায় পড়িয়েছি তার প্রত্যেকটিতে তিনি একই ধরনের অংশ গ্রহণ করেছেন। তিনি এথারিটনকে চিনতেন, এক গ্রীষ্মে তিনি রিগনের সঙ্গে থেকেছেন এবং প্রগাঢ় বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছেন। জাহাজে ভ্রমণ করতে গিয়ে ফ্রেডা ক্লে-এর সঙ্গে সখ্যতায় আবদ্ধ হন। তিনি ফ্রেডাকে খুড়ীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী করে তোলেন এবং খুড়ীর মৃত্যুতে যে তার অগাধ সুখ তাও বুঝিয়ে দেন। তারপর লিচফিল্ড পরিবারের বন্ধু হন।

    এরপর আমি ওর পিছু নিই। যখন উনি নরটন পরিবারের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন, তখন বিপদের গন্ধ পাই, ফ্রাঙ্কলিন পরিবারও নরটনের পরিণত কূটবুদ্ধির শিকার হন। আবার জুডিথ যখন দেখল ফ্রাঙ্কলিন নয়, এলারটনকে নিয়ে তুমি ভাবছ, তখন ও তোমাকে আরো বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিল, কারণ জুডিথ সহানুভূতি বা অনুকম্পা সহ্য করতে পারে না। তখন সুযোগ বুঝে নরটন ফ্রাঙ্কলিনকে টোপ গেলাবার চেষ্টা করল, কিন্তু সেদিকে পা না দিয়ে ফ্রাঙ্কলিন নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকল। তাই সুবিধে হবে না বুঝতে পেরে ও জুডিথের পঙ্গু অথর্ব মানুষের পৃথিবীতে থাকবার অধিকার নেই মতটাকে কাজে লাগিয়ে দিল। যদি বারবারা বেঁচে না থাকে তাহলে ওর আর ফ্রাঙ্কলিনের মিলনের কোনো বাধা থাকবে না।

    তোমার মনে থাকবে একবার ও উচ্চস্বরে এমন কোনো কথা বলেছিল যাতে তুমি মনে করেছিলে হয়তো কর্নেল লাটরেল শুনতে পাবেন। কিন্তু ওটাকেই নরটন কাজে লাগিয়েছিল। আর বয়েড রসিয়ে যে গল্প লাটরেলকে বলেছিল ওটা আসলে নরটনের কাহিনী। এখানে নরটন বয়েডকে তার পাতা ফাঁদে জড়িয়ে দিলেন। ঐ যে গুলিটা মিসেস লাটরেলকে বিদ্ধ করল তাতে তিনি ওনাকে আহত করতেই চেয়ে ছিলেন। কারণ উনি ওনার মিসেসকে খুবই ভালোবাসতেন। তাই নরটন এখানে বিশেষ সাফল্য লাভ করল না।

    এরপর তুমি ওর শিকার। তুমি এক স্নেহময়, শোকে মুহ্যমান, বিবেকবান পিতা তাই জুডিথের ব্যাপারে তোমাকে এলারটনের উপর রাগিয়ে দিয়ে একটা নিটোল হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নিতে চেয়েছিল। ও এলারটনের অতীত জীবন সম্পর্কে বলে তোমাকে বিশ্বাস করিয়ে দিয়েছিল ও সব মানুষের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। তাই সেদিন ঢিবির পাশে মেয়েদের জামা দেখে তুমি ভেবেছিলে জুডিথ আর এলারটন। তুমি রাগের মাথায় জানতেই পারলে না যে সেদিন লণ্ডনে যাবার কথা ছিল নার্স ক্লাভেন ও এলারটনের। কারণ এলারটনের মতন পুরুষের পক্ষে একটা মেয়ে নিয়ে চলে না। সেখানে জুডিথও খেলার পুতুল মাত্র। কিন্তু জুডিথের পরের দিনের সকালের কথা শুনেই মনে করেছিলে, ও ওর মত পরিবর্তন করেছে। এটাও নরটনের একটা কূট চাল।

    সেদিন তুমি ক্ষিপ্ত থাকায় এলারটনের সঙ্গে মিলিত হতে দেখে ভেবেছিলে জুডিথ কিন্তু ও ছিল নার্স ক্লাভেন। তোমাকে সঙ্গে সঙ্গে ওখান থেকে টেনে এনে ও তোমাকে কাজে লাগিয়ে দিয়েছিল। আর তুমি তখনই সঙ্কল্প করলে যে এলারটনকে মারা ছাড়া তোমার পক্ষে জুডিথকে বাঁচানো সম্ভব নয়।

    গভীরভাবে ভাবলে তুমিও বুঝতে পারবে কেন আমি জর্জকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি? কেন আমি একজন ভালো ডাক্তার ডেকে শরীর পরীক্ষা করাচ্ছি না? আসলে আমি চেয়েছিলাম এমন একজনকে পাশে রাখতে যে আমার সব কথা বিশ্বাস করবে। তুমি বিশ্বাস করেছিলে ঈজিপ্ট থেকে আসার পর আমার শরীর আরো খারাপ হয়েছে। আসলে তা নয়। ঐ পঙ্গু, অথর্ব আমার ভান মাত্র। খুঁড়িয়ে হলেও আমি দিব্যি চলাফেরা করতে পারতাম।

    তাই যখন দেখলাম কারটিস নিচে, এলারটন বাথরুমে এবং তোমার অপছন্দ অনুযায়ী দরজার ফুটো দিয়ে ভেতরের সব দেখে বুঝলাম, তুমি করতে যাচ্ছে। তাই তখন কাজে নেমে গেলাম। কারটিসকে দিয়ে তোমায় ডেকে পাঠিয়ে তোমার মাথা যন্ত্রণা জেনে চকলেটের রসে ঘুমের বড়ি দিয়ে তোমায় খাইয়ে দিলাম।

    তুমি আমার প্রিয়তম বন্ধু। আর ঐ জন্য তুমি ঠিকানা ফাঁসির কাঠে ঝুলবে আর, ঐ শয়তানটা দাঁত বার করে হাসবে।

    আমি জানতাম এবার আমায় কাজে নামতেই হবে। কারণ আমি কবে আছি কবে নেই, তার কোনো ঠিক নেই। তাই হত্যার অপরাধবোধ আমায় চিরকাল পীড়ন করবে না।

    এবার বারবারার মৃত্যুর কথা ধরা যাক, এর কারণ তুমিই যে ওর হত্যাকারী।

    অবাক হয়ো না। বারবারা, জুডিথ ও ফ্রাঙ্কলিনের মধ্যে যে এক চতুর্থ কোণ বিরাজ করছে তা কেউ ধরতে পারিনি।

    তাহলে শোন, বারবারা এমন কিছু সুন্দরী নয়। সতেরো, আঠারো বছর বয়সে বয়েডের শৌর্য ও প্রাচুর্য বিহ্বল করলেও ফ্রাঙ্কলিনের মত কৃতি ছাত্রের প্রস্তাবে বিয়ে করতে রাজী হয়েছিল। বারবারা ভাবতো জন একদিন কৃতীবিজ্ঞানী হবে কিন্তু বাস্তবে তা রূপায়িত হওয়া সম্ভব নয়। তাই যখন প্রৌঢ় বয়েডের সঙ্গে এখানে দেখা হল তখন ফ্রাঙ্কলিনের মৃত্যু হলে বয়েডের সঙ্গে ঘর বাঁধার এক স্বপ্ন তার মনে এল। এখানেও নরটন উপস্থিত।

    আসলে মিসেস ফ্রাঙ্কলিন নিজের মৃত্যুর কথা বললেও, মনে মনে চাইতেন কি করে জনকে শেষ করা যায়। তাই ছল করে উনি জানালেন কিভাবে প্রয়োজন হলে উনি নিজের উপর পরীক্ষা চালান। আমাদের বোঝা উচিত ছিল জনের জন্যই আসলে উনি এভাবে মরণফাঁদ পাতছিলেন। তাই তাড়াতাড়ি কাজটা সারতে চাইছিলেন কারণ, জীবনের আরো বেশি দিন বাকি নেই। ওদিকে নার্স ক্লাভেন জনকে মোহিত করতে চাইছিলেন। কিন্তু জন অন্য ধাতের মানুষ হওয়ায়, ক্লাভেন বয়েডকে তখন আকর্ষণ করল। এইজন্যই বারবারা আরো মরিয়া হয়ে উঠেছিল।

    তাই একদিন কফির আসর ঠিক করে নিজের পেয়ালা কাছে রেখে, জনের পেয়ালাটা রাখলেন বুক সেলফের পাশে। হঠাৎ ধূমকেতু দেখার ধাঁধায় তুমি বুক সেলফ থেকে ছন্দ মেলাতে শেক্সপীয়ার তুলে নিলে। কিন্তু ছন্দ পতন ঘটল। ফলে দুজনের কফি বদল হয়ে যায় এবং অপরাধীই বিষাক্ত পানীয় পান করে।

    কিন্তু মিসেস ফ্রাঙ্কলিনের মৃত্যু আত্মহত্যা না হয়ে অন্যরকম ভাবে হলে জুডিথের ঘাড়ে চাপত। কাজেই বাধ্য হয়ে আমাকে সাক্ষ্য দিতে হল আত্মহত্যা। কিন্তু এই আত্মহত্যা বলে প্রমাণিত ঘটনাটাতে নরটন একমাত্র খুশী হয়নি। যখন বুঝলেন সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে তখন এক নতুন পথের সন্ধান করছিল। তাই ফ্রাঙ্কলিন ও জুডিথকে ডেকে অশান্তির ভয়ে তখন তা চেপে গিয়েছিলেন। এটা প্রকাশ হলে বারবারার মৃত্যু নতুন ভাবে হত্যা কিনা প্রমাণ করার ভাবনা শুরু হত।

    তাই অবস্থা বুঝেই আমি তোমার মারফৎ নরটনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই। সেদিন সাক্ষাতে আমি ওকে ওর সব পরিচয় জানিয়ে দিলাম, ও অস্বীকার করল না এতে। বললাম আসুন আমরা একসঙ্গে বিষপান করে পৃথিবী থেকে বিদায় নিই। কিন্তু মুচকি হেসে বললেন, আমি আপনার জন্য নির্দিষ্ট কাপটিই বেছে দিতে চাই। আপনার আপত্তি আছে। আপত্তি জানালাম না। কারণ দীর্ঘদিন ঘুমের ওষুধ পান করার ফলে ধীরে ধীরে আমার প্রতিরোধ শক্তি গড়ে উঠেছে, তাই নরটন আমার পাত্রটি ও আমি ওর পাত্রটি পান করলাম। আমার পাশেই হার্টের স্ট্রাইপ নাইন টনিক থাকে যা ঘুমের ওষুধের বিষময় ফল সময় মত নিলে নষ্ট করে দিতে পারে।

    নরটনের প্রতিক্রিয়া সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল। আমি ঠিক যে ভাবে বসে জানলা দিয়ে বাইরের আকাশ দেখতাম সেভাবে ঐ জায়গায় ওকে বসিয়ে দিই। কারটিস আমি ভেবে ওকে শুইয়ে দেয় যেহেতু আমার পরচুলা ও গোঁফটি নকল বলে হয়তো। কারটিস চলে যেতে নরটনের মতন পোষাক চাপিয়ে সাদা চুল, গোঁফ নিয়ে সোজা ওর ঘরে চলে যাই। তোমার খুঁটিয়ে দেখার সময় নেই বলে আমাকে বুঝতে পারনি।

    এবার সবার থেকে লুকিয়ে রাখা পিস্তলটা কাজে লাগিয়ে ওর রাতের পোষাক পরিয়ে শুইয়ে দিলাম। আর ওর হাতে পিস্তল ও পকেটে চাবিটা দিলাম। নরটনের পিস্তল আছে জানলেও আমার পিস্তল আছে, একথা জর্জও জানতেন না।

    আসলে আমি খেলিয়ে খেলিয়ে নরটনকে হত্যা করতে চেয়েছিলাম। অবশেষে তাকে আমি হত্যা করেছি কিন্তু তাকে কোনো আঘাত বা কষ্ট দিইনি। তাই গভীর নিদ্রায় ওকে হত্যা করেছিলাম। তোমার বোঝা উচিৎ ছিল।

    এবার বলি যদি জুডিথ ফ্রাঙ্কলিনকে বিবাহ করে তাহলে ওরা সুখী হবে, তুমি ওদের বাধা দিও না। আর এ কাহিনী পড়া শেষ হলে সোজা মিস কেলির কাছে চলে যাবে, ও লিচফিল্ড। বলো, ওর পিতার খুনী ওর বোন নয় নরটন।…একবার পুলিশে চাকরীর সময় একজনকে গুলি করে হত্যা করেছিলাম যে ছাদে বসে এক নিরীহ পথচারীকে, অবিশ্রান্ত গুলি চালিয়ে যাচ্ছিল।…. তাই ঐ ভাবেই নরটনকে হত্যা করে নিরীহ মানুষের প্রাণ বাঁচালাম।….

    শেষে বলি আমি ইচ্ছে করেই হার্টের ওষুধের শিশিটা ফেলে দিয়েছিলাম যাতে জীবনের লোভ এসে আমার চিরকালের সকর্মকে কলঙ্কময় করে দেয়।

    সেসব কত সুখ স্মৃতিময়…।

    হ্যাঁ। কত স্মৃতি বিজরিত মধুর সব দিন

    (এরকুল পোয়ারোর স্মৃতিচারণ এখানেই শেষ।)

    ক্যাপ্টেন আর্থারের শেষ সংযোজন….

    হ্যাঁ, পোয়ারো ঠিকই বলেছে। গুলির চিহ্ন… সুন্দর সামঞ্জস্য….এগুলো দেখে আমার জানা বা বোঝা উচিত ছিল।

    আশ্চর্য! এতদিন পরে সে দিনের কালো যবনিকা সরে গেল চোখের সামনে থেকে….সেই চিহ্ন! নরটনের কপালের ঠিক মাঝখানে যে ক্ষতচিহ্ন….সে তো আর কিছু নয়…কেন্টনের পরশ ছোঁয়া চিরন্তন এক কলঙ্কচিহ্ন!….

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আনা ফ্রাঙ্ক-এর ডায়েরি

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }