Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    লেখক এক পাতা গল্প2485 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দি পেল হর্স – ৪

    চতুর্থ অধ্যায়

    থিয়েটার হল ওল্ড ভিক্ থেকে বেরিয়ে এলাম। সঙ্গী আমার বান্ধবী হারসিয়া রেডক্লিফ। ‘ম্যাকবেথ’ নাটকের অভিনয় দু’জনে মিলে দেখতে গিয়েছিলাম। রাস্তায় আমাদের গাড়ি দাঁড় করানো। বাইরে তখন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির মধ্যে রাস্তা পার হওয়ার সময় হারসিয়া কটু কণ্ঠে মন্তব্য করলো। যে দিন ওল্ড ভিকে থিয়েটার দেখতে আসি সেদিন বৃষ্টি পড়তে শুরু করে এটা এমনি ধরনের একটা বস্তু।

    ওর ঐ রকম ধারণায় আমি সায় দিতে পারলাম না। আমি বললাম যে সে কেবল বৃষ্টির দিনগুলির কথা মনে করে রাখে। ও ঠিক সূর্যঘড়ির বিপরীত একটা সামগ্রী।

    আমি যখন গাড়ির ক্লাচে চাপ দিচ্ছিলাম তখনি আবার বলে উঠল। এই গিন্দবোর্নে আমার দিনগুলো সৌভাগ্যে ভরে গেছে। এখানে নিখুঁত ছাড়া আমি কিছুই ভাবতে পারি না—কারণ আজকাল সব কিছুই নিখুঁত। সঙ্গীত—চমৎকার ফুলের বাগান—সাদা সাদা ফুলে ভরা গাছের সার।

    আমরা গিন্দবোর্ন এবং গান সম্বন্ধে আলোচনা করলাম কিছুক্ষণ।

    হঠাৎ হারসিয়া বলে উঠলো—আমরা কি ডোভারে প্রাতঃরাশে যাচ্ছি না। তবে খাব কি?

    —ডোভারে। তোমার ভাবনা কি অস্বাভাবিক। ওখানে গিয়ে আমরা ফ্যান্টাসিতে ঢুকবো। ম্যাকবেথ নাটকের এমন রক্তক্ষয়ী ঘটনা আর বিষণ্ণতা সমৃদ্ধ সুন্দর অভিনয় দেখার পর সত্যিকারের ভালো খাদ্য আর পানীয় প্রয়োজন। শেক্সপীয়ার আমাকে সব সময় ক্ষুধার্ত করে তোলে।

    —হাঁ। ওয়াগনারাও তাই করেন। কভেন্ট গার্ডেনে বিশ্রামের সময় ভাজা স্যালমন মাছের স্যাণ্ডউইচ মনে কোনো দাগ রাখতে দেয় না। ডোভারের কথা বলছি কারণ ও দিকেই তো তুমি গাড়ি চালাচ্ছো।

    মাঝে মাঝে লোককে ঘোরাপথে যেতে হয় সেটা বোঝাতে চাইলাম।

    —কিন্তু তুমি তো বেশ ঘুরছো, তুমি পুরানো কেস্ট রোড থেকে অনেকটা দূরে চলে এসেছো।

    এখন দেখলাম হারসিয়ার কথাই ঠিক, চারধারের পরিবেশ নিরীক্ষণ করলাম। ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে বললাম, এখানে এলে আমার কেমন যেন গোলমাল হয়ে যায়।

    হারসিয়া স্বীকার করলো—সত্যিই গোলমেলে। ওয়াটারলু স্টেশনের চারধারে ঘুরে ঘুরে মরতে হয়।

    অবশেষে ওয়েস্টমিনিস্টার সেতুর কাছাকাছি সফল ভাবে পৌঁছবার পর আমরা আবার কথাবার্তা শুরু করলাম।—এই কিছু সময় আগে ম্যাকবেথ নাটকের অভিনয় সম্বন্ধে আমরা আলোচনা করছিলাম। আমার বান্ধবী হারসিয়া। সে এক সুন্দরী যুবতী। তার বয়স ২৮ বছর বীরের মতন তার দেহের গড়ন। গ্রীক দেশের রমণীর মতো তার দেহ এবং নিখুঁত। মাথাভরা কোঁকড়া চুলের ঢাল তার কাঁধের উপর উপছে পড়ছে। আমার বোন সব সময় তার নাম উল্লেখ করার সময় বলে যে সে মার্কের বান্ধবী।

    এমন প্রশ্নের আদলে কথাটা সে আওড়ায় যে আমি আর বিরক্তি প্রকাশ করতে পারি না কোনো সময়।

    ফ্যান্টাসি রেস্তোরাঁ আমাদের দুজনকে ভিতরে আহ্বান জানিয়ে যেন আনন্দ প্রকাশ করলো। পরিচালক যে সে আমাদের দুজনকে গোলাপী রঙের মখমল ঢাকা দেওয়ালের ধারে একখানা টেবিলে বসালো। ফ্যান্টাসি এমনি একজন যে সে জনপ্রিয় হওয়ার যোগ্য। টেবিলগুলো বেশ কাছাকাছি রাখা। আমরা চেয়ারে বসতেই পাশের টেবিলের লোকেরা খুশি মনে অভ্যর্থনা জানালেন।

    ডেভিড আরডিংলি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের লেকচারার। সে তার সঙ্গিনীর সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিল। মেয়েটি দেখতে খুবই ভালো। মাথায় চুল খুব সুন্দরভাবে বাধা। একটা কোণ করে চুল কুন্তলগুলি যেন তার ব্রহ্মতালুর দিকে উর্ধ্বমুখী। বলতে বেশ অবাক লাগছে মেয়েটিকে বেশ মানিয়েছে।

    বড় বড় নীল চোখের তারা আর ওষ্ঠদ্বয় ঈষৎ বিস্ফারিত—যেন আধখোলা একটা ফুলের কুঁড়ি। ডেভিডের অন্য আর মেয়ের মতন এই মেয়েটিও ফাজিল। ডেভিড একজন নামকরা চতুর যুবক। বাস্তবে ডেভিড অল্প বয়সের মেয়েদের নিয়ে মজা লুটে বেড়ায়। সে সবসময় খুশিতে সময় কাটাতে ভালোবাসে।

    —গলায় বেশ জোর দিয়ে বলল, এটি আমার আদরের কুকুর ছানা। ওই মার্ক আর হারসিয়াকে দেখো। ওরা দারুণ গম্ভীর আর নাক উঁচু। তুমি একবার চেষ্টা করে ওদের পাশে বসো এবং দেখো। আমি বাজি ফেলে বলতে পারি তুমি যেন শেক্সপীয়ার কিংবা ইবসেনের মানস চরিত্র।

    —ওল্ড ডিক মঞ্চে ম্যাকবেথের অভিনয়, বলল হারসিয়া।

    —ব্যাটসনের প্রযোজনা সম্পর্কে তোমার কি ধারণা?

    —আমার ভালো লাগে, জবাব দিল হারসিয়া—মঞ্চের আলোকপাত মনে আগ্রহ এবং এমন সুন্দরভাবে অভিনীত পানভোজনের দৃশ্য আমি এর আগে কখনও দেখিনি।

    —ওহো, কিন্তু ডাইনীদের ব্যাপার কি বলো?

    —ব্রেসকট। বললো হারসিয়া এবং আর একটু যোগ করলো। তারা তো রয়েছেই ডেভিড সায় দিলো।

    মনে হচ্ছে একটা ছায়ামূর্তি হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে আসছে। বললো, যে—ওরা সবাই লাফালাফি করছে এবং প্রত্যেকেরই আচরণে ফুটে উঠেছে তিন ভাঁজা করা দৈত্য রাজার আদল। তুমি আশা না করে থাকতে পারো না যে, এবার খাস একটা পরী সাদা পোশাকে সেজে মঞ্চে ঢুকবে আর মোটা গলায় আওড়াবে।

    তোমার দুষ্টুবুদ্ধি হবে না জয়ী। শেষের সেদিনে, এই ম্যাকবেথ, যে নাকি হাজির হবে সেখানে।

    আমরা সবাই খুব জোরে হাসলাম। ডেভিড কিন্তু হাসির রোল শুনে আমার দিকে তীব্র দৃষ্টিতে তাকালো। আর ঝাঁঝালো গলায় শুধালো—কি ভাবছো তুমি?

    কিছু না। অন্যায় এবং দৈত্যরাজ সম্বন্ধে আমি মনে মনে ভাবছিলাম। হাঁ…আর ভাবছিলাম সপরী সম্পর্কেও।

    —তোমার সদ প্রস্তাবটি কি?

    —ওহো চেলসিয়ার কফিখানায়।

    —তুমি কত চালাক আর স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছো আজকাল মার্ক, তাই না? সব কিছুই ঘটছে চেলসিয়ার পরিবেশে। ওখানেই উত্তরাধিকারিণীরা অসুবিধার মধ্যে রয়েছে, বিবাহ সঙ্কট চললে। কাজেই পপিকে ওখানে থাকতে হবে, তাই না খুকু?

    পপি তার বড় বড় দুচোখ মেলে তাকালো।

    —চেলসিয়া যেতে আমি ঘৃণা বোধ করি। আমি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি ফ্যান্টাসিকে। এমন মনোরম সুস্বাদু খাবারদাবার। প্রতিবাদ করে পপি বললো।

    —তোমার পক্ষে সেটাই ভালো পপি। সত্যি কথা বলতে কি চেলসিয়ায় খাওয়ার মতন রেস্ত তোমার নেই। মার্ক, তুমি এবার ম্যাকবেথ ও জঘন্য ডাইনীদের সম্বন্ধে আরো কিছু বলো। তাহলে প্রযোজনার কাজে নামলে কিভাবে ডাইনীদের অভিনয় করাবো তা জানতে পারবো।

    ডেভিড অতীতে অভিনেতা সংঘের নামকরা সদস্য ছিল।

    —আচ্ছা, কি ভাবে?

    —আমি ওদের খুবই সাধারণ রূপ দেবো। ঠিক ধূর্ত, শান্ত বৃদ্ধাদের মতন রূপ। আর হাবভাব হবে গ্রামাঞ্চলের ডাইনীদের মতো।

    —কিন্তু আজকাল তো দেশে কোনো ডাইনীর অস্তিত্ব নেই? অবাক চোখে তার দিকে তাকালো পপি।

    —তুমি একথা বলতে পারছো কেননা তুমি লণ্ডন শহরে বসবাস করা মেয়ে।

    ইংল্যাণ্ডে গ্রামে এখনও একজন করে ডাইনী আছে। পাহাড়ের তৃতীয় কুটিরখানাতেই তো রয়েছে বৃদ্ধা মিসেস ব্লাক। ছোট বাচ্চাদের নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে যে তারা যেন বৃদ্ধাকে বিরক্ত না করে। আর মাঝে মাঝে বৃদ্ধাকে ভাজা পিঠে পাঠানো হয়।

    বলতে বলতে অর্থবহ ভাবে আঙুল নাড়ালো, বারেক থেমে বললো – তুমি যদি বৃদ্ধাকে আবার বিরক্ত করো তবে তোমার গাইগরুগুলো দুধ দেওয়া বন্ধ করবে। তোমার আলুচাষ করা মার খাবে, অথবা ক্ষুদে জনির গোড়ালি যাবে মুচড়ে। কাজেই তোমাকে বৃদ্ধা মিসেস ব্লাকের নজরে থাকতে হবে। মুখে কেউ কিছু বলতে চায় না…তবে সবাই একথা জানে।

    —তুমি ঠাট্টা করছো।

    পপি ভিজে গলায় বললো, না আমি ঠাট্টা করছি না। আমি ঠিক বলছি, তাই না মার্ক?

    —দেশে শিক্ষাপ্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এ-সব কুসংস্কার একেবারে উৎখাত হয়ে গেছে। জোর গলায় হারসিয়া বললো।

    —দেশের গ্রামগুলোতে তা হয়নি। তুমি কি বলো মার্ক?

    —আমার মনে হয় তুমি ঠিকই বলছো। বললাম ধীরে ধীরে—যদিও আমি ঠিক ভাবে জানি না।

    গ্রামের পরিবেশে আমি খুবই বেশিদিন ছিলাম না।

    —বুঝতে পারছি না কিভাবে তুমি সাধারণ বৃদ্ধাদের দিয়ে ডাইনীর অভিনয় করাতে চেষ্টা করছো।

    ডেভিডের আগের বক্তব্যের প্রতিবাদ করে বললো হারসিয়া—নিশ্চয়ই ওদের ঘিরে ছিলো অতি প্রাকৃতিক এক পরিবেশ।

    ডেভিড একবার জবাব দিলো, ওহে একবার ভাবো, এটাকে বরং পাগলামি বলা যায়। কেউ যদি মাথার চুলে খড় কুটো গুঁজে ঘুরে বেড়ায়, পা টেনে টেনে হাঁটে, পাগলের মতন দেখায় তাকে, তবে সেটা ভয়ানক ভীতিজনক হয়ে ওঠে। কিন্তু আমার কাছে একবার আমাকে মানসিক রোগীদের হাসপাতালে এক ডাক্তারের কাছে একটা খবর নিয়ে যেতে হয়েছিল, আমাকে একখানা ঘরে বসানো হয়েছিল। সেই ঘরে বসে একজন সুন্দর মহিলা দুধে চুমুক দিচ্ছিল। মহিলা নিয়মমাফিক আবহাওয়া সম্পর্কে মন্তব্য করলো। তারপরই সহসা একটু সামনে ঝুঁকে মৃদু কণ্ঠে শুধালো :

    —আচ্ছা, ওই ফায়ারপ্লেসের আড়ালে তোমার বাচ্চাটাকে কি কবর দেওয়া হয়েছে? এবং তারপর মাথা দোলাতে দোলাতে বললো—ঠিক ঘড়িতে তখন বারোটা বেজে দশ মিনিট, একই টাইমে রোজ ঘটনাটা ঘটে। এমন ভান করেছো যে তুমি যেন তার রক্ত দেখোনি।—এমন ঠান্ডা গলায় ঘটনাটা বলেছিল। শিরদাঁড়াটা ভয়ে শির শির করে উঠলো।

    —সত্যিই কি কেউ ফায়ারপ্লেসের আড়ালে কবর দিয়েছিলো? পপি জানতে চাইলো।

    ডেভিড তার কথায় কান না দিয়ে বলতে লাগলো :

    প্ল্যানচেটের মাধ্যমে অশরীরী আত্মাকে ডেকে কথা বলা যায়। সেই সময় ঘর অন্ধকার হয়ে যাবে। ঘরের দরজায় টোকা পড়বে। অশরীরীক পায়ের আওয়াজ জাগবে। আত্মা এসে বসবে। তারপর ঘরে ফিরে সে মাছ-ভাত খাবে। মনে হবে যেন সে একজন সাধারণ মহিলা। হাসি, খুশি মানুষ

    —তাহলে ডাইনী সম্বন্ধে এটাই তোমাদের ধারণা। বললাম—ঠিক সেই তিনটে স্কটিশ বুড়ির মতন–বুড়িদের দিব্য দৃষ্টি ছিল—গোপনে তারা কৌশল অভ্যাস করতো। একটা হাঁড়ির উপর তাদের জাদুমন্ত্র আওড়াতো। অশরীরীক আত্মার সাথে কথা বলত। অথচ তারা একদম সাধারণ জীবন যাপন করতো। এইরকম জীব ছিল এই তিন কুড়ি, হাঁ এটা রীতিমতন মনকে প্রভাবিত করে।

    যদি কোনো অভিনেতা দিয়ে এমন অভিনয় করাতে পারো। সে শুকনো গলায় বলে উঠল। হারসিয়া।

    —ওখানেই তো কিছু বলার আছে। ডেভিড কথাটা মেনে নিল। যদি পাণ্ডুলিপিতে কোনোরকম মত্ততা দেখাবার কথা থাকে তবে অভিনেতা সঙ্গে সঙ্গে ছুটতে চাইবে শহরের দিকে। মঞ্চে যদি মৃত্যুর দৃশ্য থাকে তবে একি অবস্থার সৃষ্টি হয়। কোনো অভিনেতাই সম্পূর্ণ নিথর অবস্থায় মৃত ব্যক্তির মতন লুটিয়ে পড়তে পারে না। তাই তাকে যন্ত্রণায় কাতরাতে হয়। ছটফট করতে হয়, দু চোখ ঘোরাতে হয়, হাঁফাতে হয়, বুক মাথা খামচে ধরে তাকে অভিনয় করে দেখাতে হয়।

    অভিনয়ের কথা বলছো, ফিল্মের অভিনীত ম্যাকবেথ সম্বন্ধে তোমার ধারণা কি? এ ব্যাপারটায় সমালোচকদের দারুণ মতভেদ রয়েছে।

    আমার ধারণা এটা দারুণ অভিনয়। হারসিয়া বললো—নিশি পাওয়া অবস্থায় হাঁটার দৃশ্যের পরই ডাক্তারের সঙ্গে সেই দৃশ্য সেই কথা—তুমি কি অসুস্থ মনকে সারিয়ে তুলতে পারো না। আমি এর আগে যা কোনোদিন ভাবিনি তাই তিনি অভিনয়ে আজ ফুটিয়ে তুলেছেন। আর সত্যি সত্যি তিনি ডাক্তারকে বলেছেন তাঁর মৃত্যু ঘটাতে। তবু তিনি তাঁর স্ত্রীকে ভালোবাসতেন। তিনি অভিনয় দিয়ে তাঁর মনের ভয় এবং ভালোবাসার মধ্যেকার দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তুলেছেন। এরপর তোমার মৃত্যু হওয়া উচিত। কথাগুলি তিনি যেভাবে বলেছেন এই রকম বলবার ধরন আমি জীবনে কখনও শুনিনি।

    —আজকের দিনে এইরকম তাঁর অভিনয় দেখলে শেক্সপীয়ারও কিছুটা অবাক হয়ে যেতেন। শুকনো গলায় বললাম।

    —ডেভিড বললেন এবং সন্দেহ করলেন। বুরবেজ কোম্পানী এর মধ্যেই তাঁর আত্মার তৃষ্ণা কিছুটা মেটাতে পেরেছে।

    হারসিয়া বিড় বিড় করে বললেন—প্রযোজক যা কিছু করেছে সেটাই তো লেখকের কাছে একটা চিরন্তন বিস্ময়।

    —সত্যিই কেউ বেকনকে ডাকেনি শেক্সপীয়ার লিখতে? শুধালো পপি।

    —ও মতবাদ আজকাল একেবারেই অচল। সমবেদনার্দ্র কণ্ঠে বললো ডেভিড—তুমি কি জানো বেকন সম্পর্কে?

    —পপি বিজয়ীর মতো বললো তিনি বারুদ আবিষ্কার করেছিলেন। আমাদের দিকে তাকালেন ডেভিড।

    —বুঝছো তো এই মেয়েটাকে আমি কেন ভালোবাসি? বললো সব সময় সে আজব আজব জিনিস জানতে পারে। রজার নয়। ফ্রান্সিস আমার ভালোবাসার মানুষ।

    —খবরটা আমার মনে কৌতূহল জাগাচ্ছে হারসিয়া বললো—ফিল্মিং তৃতীয় খুনের অভিনয় করছে। এর কি কোনো নজীর আছে?

    ডেভিড জবাব দিলো-আমারো তাই বিশ্বাস। তখনকার দিনে এর যথেষ্ট সুযোগ ছিল। কোনো ছোটখাটো কাজ করানোর দরকার হলে পেশাদার খুনী পাওয়া সম্ভব ছিল। এটাই মজার ব্যাপার আজকালকার দিনেও এই রকম পেশাদার খুনী পাওয়া যায়।

    হারসিয়া প্রতিবাদ করলো। গুণ্ডার দল, বদমাশের বাহিনী যাই বলো না কেন তারা শেষ হয়ে গেছে। যাদের কথা বলতে চাইছি তারা গুণ্ডার দল নয়। নয় সমাজবিরোধী কিংবা নয় অপরাধ রাজ্যের মস্তান, ডেভিড বললো। তারা একদম সাধারণ মানুষ, তারা কারো হাত থেকে মুক্তি পেতে চায়। এরা ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী, মস্ত ধনী। এমিলি চাচী বড় বেশিদিন বেঁচে রয়েছে, ওই কদাকার স্বামী।—সে নাকি সব কাজে বাধা দেয়। কাজটা তাহলে কত সহজে সুষ্ঠুভাবে হয়ে যাবে যদি হ্যারোডাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলতে পারো— তোমাদের দলের দুজন খুনীকে কি পাঠাতে পারবে।

    আমরা সবাই হেসে উঠলাম।

    —কিন্তু যে কোনো লোক এ কাজ করতেই পারে তাই না? পপি বললো।

    আমরা তার দিকে তাকালাম।

    —আচ্ছা পুতুল মেয়ে কিভাবে তারা পারে। শুধালো ডেভিড।

    —আমি বলছি, এ কাজ চাইলে লোকজনরা করতে পারে। তোমরা তো বলছো লোকজনরা আমাদের পছন্দ করে। আমার বিশ্বাস এ কাজটিতে খুব খরচা পড়ছে।

    পপির গোলগাল দু’চোখে নিষ্পাপ কৌতূহলের দৃষ্টি স্পষ্ট—তার অধরযুগল অর্ধ বিস্ফারিত।

    —তুমি কি বলতে চাইছো? কৌতূহলী প্রশ্ন ডেভিডের। পপিকে কিছুটা হতভম্ব মনে হল।

    —ওহো! আমার মনে হচ্ছে আমি একটা গোলমাল করে ফেলেছি। আমি বলতে চাইছি পেল হর্সের কথা। এ ধরনের একটা ব্যাপার।

    —পেল হর্স—একটা রঙচটা ঘোড়া সে আবার কি ধরনের ঘোড়া? পপি লজ্জায় মাথাটা নত করলো।

    —কথাটা বলে ফেলে বোকা বনে গেলাম। লোকের মুখে কথাটা শুনে ভুলবশত বলে ফেলেছি।

    —হয়ত ওটা একধরনের ঘোড়ার গাড়ী হবে। ডেভিড মনে সান্ত্বনা জানানোর জন্য বলল।

    ****

    আমরা সবাই জানি একটা জিনিসের কথা শোনবার পর চল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে যদি জিনিসটা চোখে পড়ে যায় তবে এই ঘটনাটা মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় একটা তাজ্জব ব্যাপার। পরের দিন সকালবেলাই প্রমাণ পেলাম—

    —ফ্লাক্স ম্যান–৭৩৮৪১

    টেলিফোনের মধ্যে হাঁফের টান শোনা গেল। তারপর হাঁফাতে হাঁফাতে একজন উদ্ধত ভাবে বললো—ব্যাপারটা আমি ভেবে দেখছি আমি এখুন আসছি।

    দারুণ ভাবে মনে মনে ভাবতে লাগলাম।

    —চমৎকার। একটুক্ষণ ভেবে বললাম, এটা এটা কি….?

    —যা হোক কণ্ঠস্বর আবার ধ্বনিত হলো—বাজ দু বার আঘাত হানে না।

    —তুমি কি বলছো সঠিক নম্বরটা জানতে পেরেছো?

    —নিশ্চয় পেরেছি। তুমি তো মার্ক ইস্টারব্রুক তাই না?

    —ঠিক ধরেছো –বললাম শ্রীমতী অলিভার।

    কণ্ঠস্বরে বিস্ময় ঝরে পড়লো। আমি যে কে ছিলাম তা কি জানতে না? এ কথাটা আমি একেবারেই ভাবিনি। রোডার ভোজসভা ছিল সেটা। আমি যাবো এবং মহিলা চাইলে বইয়ে সই করবো।

    —তোমার পক্ষে সেটা চমৎকার কাজ করা হবে। অবশ্যই, ওরা তোমাকে থাকতেও দেবে।

    —দলের লোকজনেরা থাকবে না, থাকবে কি? আশঙ্কিত কণ্ঠে শুধালো শ্রীমতী অলিভার।

    —এ ব্যাপারের ধরন তো তোমার জানা, মহিলা বলতে লাগলো—লোকজন আমার কাছে আসছে আর শুধাচ্ছে আমি কিছু লিখছি কিনা এখন। যদিও তারা দেখছে যে, না লিখে এখন আমি হয় ঝাঁঝালো পানীয় আর না হয় টমেটোর রস পান করছি। এবং বলে, ওরা আমার লেখা বই পড়তে খুব ভালোবাসে।—অবশ্য এ ধরনের কথা শুনতে ভালো লাগে যদিও এর সঠিক জবাব আমি কখনও দিতে পারিনি। ধরো যদি বলি, বড় খুশী হলাম, কথাটা যেন শোনায়, আপনার সাথে দেখা হওয়াতে খুশি হলাম। এটা একটা মামুলি কথা। অবশ্য এটাও ঠিক যে, তুমি ভাবতে পারছো না ওরা চাইবে আমি বাড়ি থেকে বেরিয়ে পিঙ্ক হর্সে গিয়ে কিছু একটা পান করবো।

    —পিঙ্ক হর্স সেটা আবার কি?

    —হাঁ, পেল হর্স, বলছি, এটা একটা মদের দোকান। ওদের মদের দোকানে যেতে ঘেন্না করে। কিন্তু এক চুমুক মদ পানের জন্য আমার মন দারুণ ছট্‌ফট্ করছে।

    — আচ্ছা, এই পেল হর্স বলতে তুমি কি বোঝাতে চাইছো?

    —ওখানে এই নামে একটা ভাঁটিখানা আছে, তাই না? ওটার নাম হয়তো পিঙ্ক হর্সও হতে পারে তাই তো? কিংবা ভাটিখানাটা ওখানে না হয়ে অন্য কোথাও হতে পারে। এটা স্রেফ আমার কল্পনা। অনেক জিনিসই আমি কল্পনা করে নিতে পারি।

    —কোকাটু কেমন আছে? তার খবর কি? শুধালাম।

    —কোকাটু? শ্রীমতী অলিভার—আমার মনে হয় তোমার মাথা বিগড়ে গেছে কিংবা মন খারাপ বা আর কিছু হয়েছে। তাই বলছো পিঙ্ক হর্স কোকাটু আর ক্রিকেট বলগুলো।

    শ্রীমতী অলিভার ফোন নামিয়ে রাখলো। দ্বিতীয় দফায় বলা পেল হর্স শব্দটা নিয়ে ভাবছিলাম আর ঠিক তখনি টেলিফোনটা বেজে উঠলো।

    এবার একজন নামকরা আইনবিদ মিস্টার গোমস হোয়াইট ফোন করেছিলেন—তিনি আমাকে জানালেন যে, আমার পালিতা মা লেডি হেসকথ ডিউবয়ের উইল মোতাবেক আমি তাঁর তিনখানা ছবি বেছে নিতে পারি।

    —অবশ্য এগুলো যে বিশেষ মূল্যবান তা নয়, হতাশ বিষণ্ণ কণ্ঠে বললেন মিস্টার গোমস হোয়াইট—তবে শুনেছি জীবিত অবস্থায় আপনি তার ছবিগুলো সম্পর্কে প্রশংসা করেছিলেন।

    —মহিলা ভারতীয় দৃশ্যের কয়েকখানা চমৎকার জলরঙ ছবি এঁকেছিলেন, বললাম – আপনি এ সম্বন্ধে আগে আমাকে একখানা চিঠি লিখেছিলেন। কিন্তু আমি সে চিঠির কথা একদম ভুলে বসে আছি।

    —ঠিক তাই হয়েছে। বললেন মিস্টার গোমস হোয়াইট—

    কিন্তু দলিলের ইচ্ছাপত্র সরকারি ভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এবং সম্পত্তির তত্তাবধায়কদের মধ্যে আমিও একজন – আমরা সবাই এখন তাঁর লণ্ডন শহরের বাড়ির জিনিসপত্রগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করছি। যদি নিকট ভবিষ্যতে কোনো একদিন আপনি এলিসমিয়ার স্কোয়ারে যেতে পারেন…।

    —এবার আমি উঠবো। বললাম, বুঝতে পারলাম, কাজ করার পক্ষে সকালটা বড় প্রতিকূল।

    ****

    খান তিনেক জলরঙা ছবি বগলদাবা করে ঊনপঞ্চাশ নম্বর এলিসমিয়ার স্কোয়ার থেকে বেরোচ্ছি এমন সময় বিপরীত থেকে আসা এক ভদ্রলোকের সঙ্গে দোরগোড়ায় আমার ধাক্কা লাগলো। লজ্জিত কণ্ঠে ক্ষমা চাইলাম—ক্ষমা পেলাম। একখানা ট্যাক্সি দাঁড় করানোর জন্য হাত তুলতে গিয়ে একটা কথা মনে পড়ে গেলো এবং সঙ্গে সঙ্গে মুখ ফিরিয়ে জোরালো গলায় শুধালাম।

    —আরে। করিগ্যান না?

    —হাঁ, আর তুমি, তুমি তো মার্ক ইস্টারব্রুক। অক্সফোর্ডে পড়বার সময় জিম করিগ্যান আর আমি ছিলাম সতীর্থ—কিন্তু মনে হয় বছর পনেরো আগে আমাদের মধ্যে শেষ দেখাসাক্ষাৎ হয়েছিলো।

    —মনে হচ্ছে তোমায় আমি চিনি, কিন্তু ঠিক কোথায় দেখেছি তা মনে পড়ছে না একদম। বললো করিগ্যান—মাঝে মাঝে তোমার লেখাটেখা পড়ি, এবং সে সব পড়তে যে ভালো লাগে তাও জানাচ্ছি।

    —তোমার কি খবর? যেমন ইচ্ছে ছিলো তেমনি ভাবে রিসার্চ করছো তো?

    একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো করিগ্যান-কদাচিৎ। রিসার্চের কাজ নিজের মনের মতন করা বড় খরচ সাপেক্ষ। অবশ্য কোনো লাখপতি বা কোটিপতিকে ধরতে না পারলে এ কাজ করা যায় না।

    —যকৃতের জীবাণু তাই না?

    —কি জব্বর স্মরণ শক্তি। না যকৃতের জীবাণু নিয়ে আর পরীক্ষানিরীক্ষা করছি না। ক্ষুদ্রান্তের গ্রন্থি থেকে নির্গত সারের গুণাগুণ পরীক্ষানিরীক্ষা করার আগ্রহ আজকাল আমাকে পেয়ে বসেছে। তুমি জানো না এসবের সঙ্গে প্লীহার যোগ রয়েছে। বাইরে থেকে মনে হয় এদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।

    কথাগুলো সে বলেছিলো যেন সে একজন উদ্দীপ্ত বিজ্ঞানী।

    —তাহলে তোমার বিশেষ উদ্দেশ্য কি?

    করিগ্যান ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে জানালো—যে দেখো আমি একটা সিদ্ধান্তে এসেছি ঐগুলো মানুষের আচরণকেও প্রভাবিত করে থাকে। মোট কথায় বলতে গেলে এরা যেন মোটরের ব্রেকে লাগানোর তরল তৈলাক্ত পদার্থের মতন কাজ করে। তরল তৈল ব্যবহার না করলে কোনো নিয়ন্ত্রক যন্ত্রপাতি কাজ করে না। আমি কেবল বলতে পারি মানব দেহে এই রস স্রাবের ঘাটতি হলে সে একজন অপরাধী হয়ে উঠতে পারে।

    সজোরে শিস্ দিয়ে বললাম—তাহলে আদিম পাপের ক্ষেত্রে কি ঘটছে?

    —বাস্তবিক এটা কি? বললো ডাক্তার করিগ্যান—লোকজনরা এটা পছন্দ করবে না, তারা করবে কি? দুর্ভাগ্যের কথা এ ব্যাপারে কাউকে আমি আগ্রহী করে তুলতে পারি না। তাই এখন আমি উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের একজন পুলিশ সার্জেন। খুবই মজার কাজ। ওখানে নানা ধরনের অপরাধী নজরে পড়ছে। আমার সাথে আমার বাড়িতে গিয়ে কি লাঞ্চ খাবে। না কি তোমাকে নিয়ে দোকানে ঢুকে তোমাকে বিরক্ত করবো।

    —তাই আমি চাই। কিন্তু তুমি তো ওখানে যাচ্ছো। করিগ্যানের পিছনে ওর বাড়ির দিকে ইঙ্গিতে ঘাড় নাড়লাম।

    —না, ঠিক তা নয়। জবাব দিলো করিগ্যান—আমি একবার ওখানে যাবো।

    —ওখানে বাড়ির কেয়ার টেকার ছাড়া আর কেউ নেই।

    —আমিও তাই ভাবছিলাম। কিন্তু লোভি হেসকেথ ডিউবয় সম্পর্কে পারলে কিছু কিছু খবর আমি সংগ্রহ করতে চাই।

    তবে আমার মনে হয় ও বাড়ির কেয়ার টেকারের চেয়ে মহিলা সম্পর্কে অনেক বেশি খবর আমি তোমাকে দিতে পারবো। মহিলা ছিলেন আমার ধর্ম মা। তিনি আমাকে লালন পালন করেছিলেন।

    —সত্যিই কি তিনি তাই করেছিলেন? এটা সৌভাগ্যের কথা। কোথায় খাওয়ার জন্য আমরা ঢুকবো। লোনডেস স্কোয়ারের কাছেই একটা খাবার ঘর আছে। ওখানে সমুদ্রজাত উপাদান দিয়ে বিশেষ ধরনের স্যুপ তৈরি হয়। সেই ছোট্ট খাবারঘরে ঢুকে আমরা চেয়ারে বসলাম—ফরাসী নাবিকদের মতন পোশাকপরা ফ্যাকাসে মুখ এক ছোকরা স্যুপের ডেকচি আমাদের সামনে এনে বসলো। স্যুপ থেকে তখন ধোঁয়া উড়ছে।

    স্যুপ চেখে বললাম—চমৎকার। করিগ্যান, এবার বলো তুমি বৃদ্ধা মহিলা সম্পর্কে কি জানতে চাও? এবং ঘটনাক্রমে কেন জানতে চাও?

    একটু চিন্তা করে বললাম-মহিলা ছিলো প্রাচীনপন্থী। একেবারে ভিক্টোরিয়ান যুগের মতন আচার আচরণ মহিলার। একটা নগণ্য দ্বীপভূমির প্রাক্তন গভর্নরের বিধবা এই মহিলা ধনী আর আয়েসী রমণী। শীতকালে এসটোরিল এবং এ ধরনের বিদেশভূমিতে ভ্রমণ করতে অভ্যস্ত। তাঁর বাড়িখানা যেন একটা রহস্যপুরী, ভিক্টোরিয়ার যুগের আসবাবে ভরা এবং একেবারে জঘন্য সেকেলে রূপোর নক্সাকাটা সে সব আসবাবপত্র। নিঃসন্তান মহিলা বাড়িতে একজোড়া লোমশ কুকুর পুষেছিলো। নিজের সন্তানের মতন তাদের ভালোবাসেন। রক্ষণশীল মতবাদে বিশ্বাসী। সদাশয় হলেও তিনি স্বৈরতান্ত্রিক। নিজের পছন্দমতন জীবনচর্যায় অভ্যস্ত। বলো, তাঁর সম্বন্ধে আর তুমি কি জানতে চাও?

    করিগ্যান জবাব দিলো-ঠিক জানি না কেউ তাকে কোনো দিন ব্ল্যাকমেল করেছিলো কিনা? তুমি তা বলবে কি?

    ব্ল্যাকমেল করা? বিস্মিত হয়ে উত্তেজিত কণ্ঠে বললাম—এর চেয়ে অস্বাভাবিক কিছু আমি কল্পনা করতে পারছি না। এসব কি ব্যাপার? আমি তখনি ফাদার গোরম্যানের খুন হওয়ার ব্যাপারটা জানতে পারলাম। চামচটা টেবিল থেকে নামিয়ে রেখে শুধালাম। এই নামের তালিকাটা কি দেখেছো? এখানা কি তুমি পেয়েছো?

    —আসল তালিকাটা পাইনি। তবে নামগুলো লিখে নিয়েছি। এই দেখো। পকেট থেকে নাম লেখা কাগজখানা বার করে আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো। কাগজখানা হাতে নিয়ে দেখতে লাগলাম।

    —পারকিনস? দুজন পারকিনসের কথা আমি জানি। নৌবাহিনীতে যোগ দিয়েছিল আর্থার পারকিনস। আর একজনের নাম হচ্ছে হেনরি পারকিনস–সে সরকারি দপ্তরে কাজ করেন। ওরসিরদ-মেজর ওরসিরদ একজন নাবিক। স্যাণ্ডফোর্ড— শৈশবকালে স্যাণ্ডফোর্ড ছিলেন আমাদের গীর্জার বৃদ্ধ যাজক। হারমণ্ড সওয়ার্থ? না টাকারটন—। বলতে বলতে থামলাম বারেক –টাকারটন…মনে হয় তুমি থমসিনা টাকারটনের কথা বলছো না?

    কৌতূহলী করিগ্যান আমার দিকে তাকিয়ে শুধালো—এটুকুই আমার জানা। আচ্ছা মহিলা কে? তিনি কি করেন?

    —এখন কিছুই করেন না। সপ্তাহখানেক আগে খবরের কাগজে তাঁর মৃত্যুর খবর ছাপা হয়েছিল।

    —তাহলে এসব খবর শুনে কোনো সুরাহা হলো না। নামের তালিকার উপর নজর বুলাতে বুলাতে বললাম—শা। আমি শা নামের একজন দাঁতের ডাক্তারকে জানি। আর জিরোম শা তো একজন অভিজাত ও নামজাদা লোক। দেলা ফন্টেন নামটা আমি সম্প্রতি শুনেছি। কিন্তু কোথায় শুনেছি তো আমার মনে পড়ছে না। করিগ্যান। এসব খবর থেকে তোমার কি কোনো সাহায্য হবে?

    —আমি একেবারেই তা ভাবছি না। তোমার নামও তালিকায় রয়েছে এটা বড় দুর্ভাগ্যের কথা।

    —হতে পারে। এর সঙ্গে ব্ল্যাকমেলের সম্পর্ক রয়েছে তা তুমি ভাবছো কেন?

    —গোয়েন্দা ইনসপেক্টর লেজুনের প্রস্তাব এটা। মনে হচ্ছে এটা হওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আরো সম্ভাবনা থাকতে পারে। এটা মাদক দ্রব্যের চোরা চালানকারীদের নামের তালিকা হতে পারে কিংবা হতে পারে নেশাগ্রস্থদের তালিকা অথবা গোপন চক্রীদের নামের তালিকা। আসলে যে কোনো একটা তালিকা হওয়া সম্ভব। তবে এ ব্যাপারে একটা জিনিস নিশ্চিত যে, এই তালিকাটা হাতানোর জন্য একজন মানুষকে খুন করা খুবই জরুরি হওয়া সম্ভব।

    কৌতূহলী হয়ে শুধালাম।—তোমার কাজের সাথে পুলিশের যেটুকু সম্পর্ক রয়েছে সে সম্বন্ধে কি জানতে তুমি সব সময় আগ্রহ দেখাও?

    মাথা নেড়ে সে জবাব দিলো—সব সময় যে আগ্রহ দেখাই তা বলতে পারি না। অপরাধীর চরিত্র জানতেই আমি আগ্রহী। জানতে আগ্রহী তার অতীত জীবনের পটভূমি, আর বয়সবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তার শিক্ষালাভের ইতিবৃত্ত এবং জানতে আগ্রহী তার দেহের বিভিন্ন গ্রন্থিসংস্থানের অবস্থা। হাঁ এসবই আমি জানতে চাই।

    —তাহলে এই নামের তালিকাটা সম্পর্কে তুমি জানতে এত আগ্রহী কেন?

    —জানতে পারলে আমার পক্ষে খুব ভালো হত। আস্তে আস্তে বললো করিগ্যান। বোধ হয় ঐ তালিকায় আমার নামটা রয়েছে। করিগ্যানদের ব্যাপার তাই। নিজে একজন করিগ্যান তাই অন্য আর একজনে করিগ্যানকে উদ্ধার করতে চাই।

    —উদ্ধার করতে চাও? তাহলে নিশ্চয় এটা উৎপীড়িতদের নামের তালিকা উৎপীড়নকারীদের তালিকা নয়। কিন্তু এটা যে কোনোও একটা দলের তালিকাও হতে পারে?

    —একেবারে ঠিক কথাই বলছো তুমি। এ ব্যাপারে আমার পক্ষে খুব আগ্রহ দেখালে বিদ্‌ঘুটে অবস্থার সৃষ্টি হবে। মনে হয় মনের অবস্থা একটা আবেগ। মনে হয় ফাদার গোরম্যানের সম্পর্কে কিছু করার কথা। তার সাথে আমার ঘন ঘন দেখা না হলেও জানতাম ফাদার মানুষ হিসাবে খুব সুন্দর ছিলেন। প্রত্যেকেই তাকে ভালোবাসতেন এবং শ্রদ্ধা করতেন। কঠোর জঙ্গী মনোভাবপূর্ণ লোক ছিলেন। এই নামের তালিকাটি তিনি জীবন মৃত্যুর সাথে যুক্ত বলে মনে করতেন আর এই কথাটা তিনি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। …

    পুলিশ কি আততায়ীর কোনো হদিশ পায়নি?

    —হাঁ সে দীর্ঘ কাজের ফিরিস্তি। সেদিন যে মহিলা তাঁকে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য ডেকেছিলো তার অতীত জীবনের খবরাখবর জানবার চেষ্টা করছে পুলিশ।

    —কে সেই মহিলা?

    —ওপর থেকে বিচার করলে মহিলার কাজের মধ্যে কোনো রহস্য নজরে পড়ে না।

    মহিলা বিধবা, আমাদের ধারণা মহিলার স্বামী ঘোড়দৌড়ের সাথে যুক্ত ছিলো, কিন্তু কাজটা বেআইনী নয়। মহিলা নিজে একটা ব্যবসা সংস্থায় কাজ করতো। ক্রেতাদের সম্পর্কে সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা এবং অন্যরাও প্রায় কিছুই বলতে পারেনি। উত্তর ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ার থেকে মহিলা এখানে এসেছিলেন, মহিলার নিজস্ব বলতে কিছুই ছিলো না–এর এটাই বিদ্‌ঘুটে ব্যাপার।

    কাঁধ নাচিয়ে বললাম—এ ধরনের আচরণ আরো অনেকের জীবনে ঘটে থাকে। এটাই তাদের জীবনচর্চার পদ্ধতি। তাদের জীবনটা সত্যই একাকীত্বের জগৎ।

    —হাঁ তুমি যখন বলছো তখন সেটাই সত্য।

    —যা হোক তুমি কি সে জন্যই খোঁজখবর নিতে শুরু করেছ?

    —কেবল এধার ওধার একটা খোঁজখবর নিচ্ছি। হেসকেথ ডিউবয় নামটাও সচরাচর শোনা যায় না…। কথাটা শেষ না করেই সে থামলো, কিন্তু তুমি যা আমাকে বললে তাতে মনে হচ্ছে এখান থেকে কোনো সূত্র পাওয়া সম্ভব নয়।

    —না, কোনো মাদকাসক্ত লোক বা মাদক চোরাচালানকারীর খোঁজ ওখানে পাওয়া যাবে না। নিশ্চিত কণ্ঠে জানালাম। এটাও সঠিক যে, পাবে না কোনো গোপনচক্রীর হদিস। শুধু একটা কলঙ্কশূন্য জীবনের অস্তিত্ব ওখানে ছিল। যাকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হত। তাই ভাবতেই পারছি না যে এই নামের তালিকার মধ্যে মহিলার ভয় পাবার মত কি আছে। মহিলা তার সোনাদানা সব ব্যাঙ্কে রেখেছিল সেগুলোও লুট করে নেবার ভয় তার ছিল।

    —অন্য কোনো হেসকথ ডিউবয়ের কথা কি শুনেছো? তাদের ছেলের কথা?

    —না সন্তানটন্তান তার কিছু ছিল না। মনে হয় ঐ মহিলার একজন বোনের ছেলে ও আরেকজন বোনের মেয়ে আছে। কিন্তু তাদের পদবী ভিন্ন ছিল। মহিলার স্বামী ছিল পরিবারের একমাত্র সন্তান।

    আমি যে তার খুব সাহায্য করেছি একথাটা করিগ্যান আমাকে রুক্ষ কণ্ঠে বললো। নিজের হাতের ঘড়িটায় নজর বুলিয়ে নিয়ে খুশি খুশি গলায় জানালো সে, এখন তাকে একজন জেরা করবে। তারপর করিগ্যান চলে গেল। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে ঘরে ফিরে গেলাম। কিন্তু কিছুতেই আমার কাজে মন বসছিল না। তাই শেষের দিকে ডেভিড আরডিংলিকে আমি ফোন করলাম।

    —কে ডেভিড? আমি মার্ক কথা বলছি। আচ্ছা সেদিন তোমার সাথে গিয়ে একটা মেয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। তার ডাক নাম পপি। তার পোশাকি নামটা বলতো।

    —আমার বান্ধবীকে মনে ধরেছে। তাই না? ডেভিডের কণ্ঠস্বরে খুশির ঝিলিক। আমি রসিকতা করে বললাম, তোমার হাতে তো অনেক রয়েছে। একজনকে তুমি নিশ্চয়ই ছাড়তে পারবে।

    —বুড়ো খোকা, তুমি নিজেই তো ওজনদার লোক। মনে হচ্ছে তুমি মেয়েটার প্রেমে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছো।

    গভীর ভাবে জড়িয়ে গেছি, এটা একটা বিরক্তিকর মন্তব্য। তবু মনে হলো এই মন্তব্যটা আমার মনে আঘাত হানলো। হারসিয়ার সঙ্গে আমার সম্পর্কটাকে খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করল। এবং কথাটা কেন আমার মনকে হতাশ করে তুলেছে? মনে মনে সব সময় আমি তো এ ইচ্ছে পালন করছি যে, একদিন হারসিয়ার সাথে আমার বিয়ে হবে,… আমি তো জানি তার চেয়ে আমি আর কাউকে পছন্দ করি না ও ভালোবাসি না। আমাদের মধ্যে অনেক কিছুর মিল আছে।

    কেন যে আমার এত হাই তোলার ইচ্ছে তার কারণ ভাবতেই পারছি না…ও আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনের ছবিটা যেন আমার দৃষ্টির সামনে ছড়ানো।

    আমি আর হারসিয়া আমাদের দুজনের ভালোলাগার একটা অভিনয় দেখতে চলেছি। সঙ্গীত ও অভিনয় এই দুটো নিয়ে মেতে উঠেছি। হারসিয়া যে আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

    আমার অবচেতন মন থেকে একটা বিদ্রূপ কণ্ঠ শয়তানের বাচ্চা যেন বলে উঠলো, কিন্তু এতে যথেষ্ট মজা নেই। আমার মন আহত হলো।

    —কি ঘুমতে যাচ্ছ? শুধালো ডেভিড।

    —নিশ্চয় না। সত্যি কথা বলতে কি তোমার বান্ধবী পপিকে আমার চিত্তাকর্ষক মনে হচ্ছে।

    —ভালো কথা একটু একটু করে তার সব পরিচয় প্রকাশ পাচ্ছে। ওর আসল নাম হচ্ছে প্যাসেলা স্টারলিং এবং মেফেয়ারে একটা ফুলের দোকানে সে কাজ করে। জানতো তিনটে মরা ডালের সাথে একটা টিউলিপ বাঁধা পাপড়িগুলো পিছন দিকে পিন দিয়ে আটকানো, সঙ্গে একটা শুকনো দাগে ভরা লরেন্স পাতা। দাম তিন গুণ।

    আমাকে ডেভিড ঠিকানা দিল।

    সদাশয় জ্যাঠামশায়ের মতন বলল, যাও এবার মেয়েটাকে নিয়ে ফূর্তি করতে পারবে এবং মজা লুটতে পারবে। মেয়েটি কিছুই বুঝতে পারছে না যে তার মাথায় বুদ্ধিসুদ্ধি কিছুই নেই। যা তুমি বলবে তাই সে বিশ্বাস করে নেয়। সে মনে প্রাণে একজন ধর্মপরায়ণ, কোনো রকম মিথ্যে আশা আমি দেখাই না। ডেভিড ফোন ছেড়ে দিল।

    ****

    ফ্লাওয়ার স্টাডিজ লিমিটেডের প্রবেশ পথ পেরিয়ে কম্পিত দেহে ভিতরে ঢুকলাম। হলুদ রঙের গার্ডেনিয়া ফুলের দম বন্ধ করা সুগন্ধ প্রায় আমাকে ঠেলে ঘর থেকে বার করে দিলো। বিবর্ণ সবুজ ডালপালা আঁকা পোশাকপরা ঠিক পপির মতন দেখতে এক দঙ্গল মেয়ে আমাকে গোলমালে ফেলে দিলো।

    অবশেষে আমি তাকে চিনতে পারলাম, সে একটা ঠিকানা লিখেছিল। কিন্তু একটা বানান লিখতে অসুবিধায় পড়েছিল, সেই বানানটা হলো ফরটেস্কু ক্রিসেন্ট। একসময় সে ঠিকানা লিখে পাঁচ পাউন্ড নোটের ভাঙানি দিয়ে পপি একটু সোয়াস্তি লাভ করলো।

    আর তখুনি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললাম, সেদিন রাতে আমাদের দেখা হয়েছিল, সঙ্গে ছিল ডেভিড আরডিংলি। পপি আমার মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর চিৎকার করে বলল হ্যাঁ মনে পড়েছে।

    সহসা দ্বিধা এবং সন্দেহ আমার মনে জেঁকে বসল। বললাম, তোমাকে কয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই। মনে হয় কিছু ফুল কিনে নিলে আমার পক্ষে সুবিধা হবে। তাই না?

    ঠিক যেন আসল জায়গায় চাপ দেওয়া হয়েছে তাই পপি বলে উঠল, আমাদের দোকানে কিছু চমৎকার গোলাপ রয়েছে। টাটকা। আজই আনা হয়েছে।

    —বোধ হয় এই হলুদ রঙের গোলাপগুলো তাই না? নজরে পড়লো চারিদিকে গোলাপ ফুল সাজানো। জানতে চাইলাম ওগুলোর দাম কত?

    —দারুণ, দারুণ সস্তা। মৃদু কণ্ঠে পপি জবাব দিল। এক একটা মাত্র পাঁচ শিলিঙ।

    আবেগে আমার মনের ভিতরটা ফুলে উঠলো। বললাম, গোটা ছয়েক কিনবো।—প্রত্যেকটার সঙ্গে দারুণ দারুণ এক ধরনের পাতা বাঁধা আছে।

    বিশেষ ধরনের পাতাগুলো সন্দেহের চোখে দেখতে লাগলাম। পাতাগুলো প্রায় শুকিয়ে আমার মত অবস্থা হয়েছে। ওগুলোর বদলে টাটকা ফার্ন পাতায় বাঁধা গোলাপগুলো বেছে নিলাম। অবশ্য এর জন্য স্পষ্টভাবেই আমার অবস্থা পপির দৃষ্টিতে একটু হেয় হলো।

    পপি তখন বিব্রত ভাবে ফার্ন পাতায় জড়ানো গোলাপগুলো আমার জন্য বাঁধছিলো। ঠিক তক্ষুনি বললাম, তোমাকে আমি কিছু প্রশ্ন করতে চাই। সে দিন সন্ধ্যাবেলা তুমি পেল হর্সের কথা বলেছিলে।

    দারুণ ভাবে চমকে উঠলো পপি, ফার্ন পাতায় জড়ানো গোলাপ ফুলগুলো তার হাত থেকে মেঝেতে পড়ে গেল।

    —এই পেল হর্স সম্বন্ধে তুমি কি আরো কিছু বলতে পারো?

    আনত দেহ সোজা করে শুধালো পপি, কি যেন বলছিলে?

    —তোমার কাছ থেকে পেল হর্স সম্বন্ধে জানতে চাইছি।

    —পেল হর্স? কি বলছো তুমি?

    সেদিন সন্ধ্যাবেলায় তুমিই তো বলেছিলে।

    —এ ধরনের কোনো কথা যে বলেনি সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। পেল হর্স সম্বন্ধে আমি কোনোদিন কিছু শুনিনি।

    —কেউ তোমাকে এ সম্বন্ধে কিছু বলেছিল—সে লোকটা কে? পপি খুব দ্রুত ভাবে শ্বাস টেনে এই কথাটা বলেছিল।

    —তুমি কি বলছো আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমাদের খরিদ্দারের সঙ্গে এত কথা বলার অধিকার নেই। আমার পছন্দ করা গোলাপ ফুলগুলো কাগজে মুড়ে পপি আমার হাতে দিয়ে বললো—এগুলোর মোট দাম পঁয়ত্রিশ শিলিঙ। গুঁজে দিয়ে অন্য আর একজন খরিদ্দারের দিকে চলে গেল।

    ধীরে ধীরে দোকান থেকে বেরিয়ে এলাম। কয়েক পা এগোতে মনে মনে হিসাব করলাম। যে পপি হিসাবে ভুল করেছে। ফার্ন পাতায় জড়ানো গোলাপ ফুলগুলোর এক একটার দাম সাত এবং ছয় কাজেই সে আমাকে বেশি অর্থ ফেরৎ দিয়েছে। হিসাবে ও ভুল করেছে এ থেকে বুঝতে পারলাম যে, তার মন অন্য দিকে নিবদ্ধ ছিলো।

    ফিরে গেলাম দোকানে। সেই সুন্দর অচেনা মুখখানা ও বড় বড় দুটো নীল চোখ দেখলাম। ঐ চোখ দুটোতে কি যেন রহস্য জড়িয়ে রয়েছে। মনে মনে আওড়ালাম—ভয় পেয়েছে। ভয়ে সিটিয়ে রয়েছে…কিন্তু কেন? কেন?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আনা ফ্রাঙ্ক-এর ডায়েরি

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }